somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষার ক্ষেত্রে অন্তত যৌক্তিক হউন, প্লিজ প্লিজ প্লিজ

২১ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জনপ্রিয়তা মায়াবী এক ঘাতক । ব্যক্তিগতভাবে আমি জনপ্রিয়তা পছন্দ করি । (যদিও মূল্যবান লোকের কাছ থেকে । ) এবং হ্যাঁ, অন্যে জনপ্রিয়তা পাইলে আমারও ঈর্ষা হয় । ব্লগে পোস্ট লেখলে সেটা যখন অন্য কেউ তাদের প্রিয় পোস্টের তালিকায় রাখে , আমার ভালো লাগে । যাদের পোস্ট শত শত লোক প্রিয় তালিকায় রাখে তাদের দেখে ঈর্ষা লাগে ।

কিন্তু এই পোস্টটা সেইসব ঈর্ষা সম্পর্কে কিছু না । পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অন্য কিছু করতে পারি না পারি শিক্ষার ক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে সঠিক জিনিস শিক্ষা দেয়াতে । এবং যতটা সম্ভব বিনামূল্যে । বাংলাদেশে অন্যসব শিক্ষা যাই হোক, গণিত আর বিজ্ঞান শিক্ষার অবস্থা ভয়াবহ । আমাদের পাঠ্যপুস্তকের মান কিন্তু বেশ ভালো । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এইগুলা যারা পড়ায় । আমাদের সমাজে যারা অন্য কোন পেশায় কিছু করতে পারে না তাদের প্রবণতা থাকে শিক্ষকতায় যাওয়ার । যদিও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটা এরকম নয়, কিন্তু মূলত ভালো শিক্ষক সবচে বেশি দরকার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে । সেইখানের শিক্ষকদের অবস্থা ভয়াবহ । দেশে থাকতে কয়েকটা কোচিং সেন্টারের সববিষয় পড়ানো শিক্ষকদের জ্ঞানের পরিধি আর যৌক্তিক চিন্তার দৈন্য দেখে শিউরে উঠেছিলাম ।

মূলত গণিত বলি পদার্থবিদ্যা বলি, বা মানব জ্ঞানের যেকোন শাখার কথাই বলি (নন্দনতত্ত বা শিল্পকলা বাদে) দুইটা হাঁড়ের উপর প্রতিষ্ঠিত । যুক্তি এবং গাণিতিক পদ্ধতি । এই দুইটাকে এক করে গাণিতিক যুক্তি বলা যায় । এইকারণে অনেক উন্নত দেশে কেবল গণিত পারলে যেকোন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ভর্তি হওয়া যায় ।

গণিত উপরের দিকে যেতে যেতে কঠিন থেকে কঠিনতর হইতে থাকে । কিন্তু যেকোন শাস্ত্রে অন্তত জ্ঞানার্জন করতে পারার জন্য বা নূন্যতম বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা বুঝার জন্য যতটুকু গণিত বুঝতে হয় সেইটা খুব কঠিন কিছু না , এবং এটা মোটামুটি শিক্ষিত সবারই বুঝা উচিৎ । না বুঝলে এখন থেকে বুঝার চেষ্টা করা উচিৎ । সবচে বেশি উচিৎ শিক্ষকদের । কারণ পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক বৈজ্ঞানিক চিন্তার পদ্ধতি শিখাইতে না পারলে দিন দিন পিছন দিকে হাঁটা বাধ্য ।

যাইহোক, এই পোস্ট লেখার প্রেরণা দুইটা পোস্ট থেকে । একটা আকাশ_পাগলার ছাগলামি মার্কা পোস্ট , "বিজ্ঞানের থিওরি, টাইম মেশিনের সম্ভাবনা, নাস্তিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর" , আরেকটা লেসার নামে এক ব্লগারের E=mc2 এর বীজগাণিতিক প্রমাণ । মেজাজ খারাপ হৈছে বেশি টাইম মেশিনের পোস্ট শত শত লোকের প্রিয় পোস্টের তালিকায় দেইখা । ছাগল পাগল বাদ দিলেও বেশ কিছু ডিসেন্ট লোকের প্রিয় তালিকায়ও দেখলাম ।

এইখানে ক্ল্যারিফাই করে নেই, এই পোস্টের বিরুদ্ধে আমার নাস্তিকতা উদ্ভূত কোন অভিযোগ নাই । অনেস্টলি । ত্যানা প্যাঁচায়া পিছলাইয়া কেউ বিশ্বাস আঁকড়াইয়া থাকলে সেইটারে অত গুরুত্ব দেয়ার কিছু নাই । একবার একটা প্যারোডি লেখছি (যেটা আসলে পোস্টের কন্টেন্টের কারণে না, বরং কমেন্টে পর্বতপ্রতিম অজ্ঞতা আর মহাশূণ্যিক ছাগলামির জন্য) সেইখানেই শেষ হইতো । কিন্তু এই পোস্ট এবং তার সাথে সম্পর্কিত আরো অনেকের প্রতিক্রিয়া আরো গভীর জিনিসের সাথে সম্পর্কিত । আমাদের দেশের বিভিন্ন বালছাল কোম্পানি, ডেস্টিনি, ইউনিপেটু ইউ এবং আরো শতশত প্রতারক কোম্পানির দ্বারা মানুষের প্রতারিত হওয়া , মেট্রিকে চমৎকার রেজাল্ট করা ছাত্র/ছাত্রীটা ইন্টারে অনেক পড়ালেখা করেও সেকেন্ড ক্লাস পাওয়া, বা ভার্সিটিতে গিয়া পুরাই আব্দুল হইয়া যাওয়া, এইগুলার অনেকগুলার পিছনেই সবচে বড় কারণ যৌক্তিক বা গাণিতিক চিন্তার একেবারে মৌল জিনিসগুলা না বুঝা ।

টাইম মেশিনের পোস্টে মূল ঘাপলা জায়গা হৈলো


এইখান থেকে দেখা যাইতেছে গতি বাড়াইতে থাকলে দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য যেই সময় লাগে সেইটা কমতে থাকে । যেটা ঠিক । এখন, বেগের বিপরীতে সময়ের গ্রাফ আঁকলে সেটা কিরকম হয় দেখা যাক ।

এইগ্রাফ থেকে দেখা যাইতেছে বেগ বাড়তে থাকলে সময় কমতে থাকে কিন্তু এক্স অক্ষে যত দূরেই যাওয়া যায় এইটা কখনোই শূণ্য বিন্দুতে পৌঁছায় না । তার মানে যত জোরেই যাওয়া হোক কখনোই শূণ্য সময়ে কোথাও যাওয়া তো সম্ভবই না , ঋণাত্নকতো পরের ব্যাপার । (আপেক্ষিকতা তত্তের আলাপে পরে আসা যাক)

এখন অন্য অনেক রকম সম্পর্কেই বেগ বাড়ার সাথে সময় কমতে পারে , যেমন নিচের উদাহরণ দেখা যাক ।


এইখানে মাঝখানে গোল্লাটা পার হৈলে V এর বিপরীতে t এর মান ঋণাত্নক হৈতে থাকে । কিন্তু এইখানে সম্পর্কটা ধরা হৈছে এইরকম t = K-V [K ধ্রুব], যেটা টোটাল ননসেন্স ।

এই পার্টটুক পার হৈলে এরপর যা খুশি তা বলা যায় । এইজন্য এর পরে সান্তা ক্লস, স্প্যাগেটি মনস্টার, বালছালবাবা, সবকিছুরে সম্ভাব্য ধরা যায় , সেইটা কেউ ধরতে চাইলে যাক । কিন্তু শিশুদের ভুল শিখাবেন না প্লিজ । গাণিতিক যুক্তি সঠিকভাবে শিক্ষা দিন । কোনকিছু নিয়া ডিলুশনে ভুগতে চাইলে ভুগেন । সেইটারে গণিত বলবেন না । কেউ বললে তার ভুলটা তারে ধরায়া দেন ।

এইবার আসা যাক , লেসার এর পোস্টে । এই লোক প্রথমেই আকাশ থেকে ডিম পাড়ছে , স্থিতিশক্তি নাকি এইরকম


এইখানে দুই নম্বর সমীকরণে বস্তুর বেগের জায়গায় আকাশ থেকে নিয়া আসছে আলোর বেগ c

ঐটা বাদ দিলেও শেষের দুইলাইনে দেখানো হইছে সে প্রথম সমীকরণটা কিভাবে নিয়া আসা হইছে । এইখানে ভুল হৈলো
১ । ত্বরণ a=v/t হৈলে যে কন্ডিশন কল্পনা করা হৈতাছে সেইখানে বাই ডিফল্ট আদিবেগ = ০, শেষ বেগ v এবং এই বেগে পৌঁছাইতে সময় লাগছে t এবং বস্তুটা সমত্বরণে চলতেছে । কিন্তু আবার প্রতিপাদনের জায়গায় ব্যবহার করা হৈছে v=s/t
যেটা হবে ঐ ক্ষেত্রে যেখানে কোন ত্বরণ নাই, অর্থাৎ সমবেগের জন্য একটা বস্তু সমবেগ আর সমত্বরণে একসাথে চলতে পারেনা । ত্বরণ থাকা মানেই বেগ সময়ের সাথে পরিবর্তন হচ্ছে । আর সমবেগ মানে হচ্ছে বেগের কোন পরিবর্তন নাই ।

২ । স্থিতিশক্তি জমা হয় বলের বিপক্ষে (ঘর্ষণ ছাড়া, ঘর্ষণের পক্ষে বিপক্ষে যেভাবেই কাজ করা হোক না কেন স্থিতিশক্তি জমা হবে না) কাজ করা হৈলে , বল দিয়া কাজ করলে স্থিতিশক্তি জমা হয় না । যেমন অভিকর্ষের বিপরীতে কিছু একটাকে উপরে উঠানো হৈলে তার মধ্যে স্থিতিশক্তি জমা হবে, কিন্তু উপর থেকে কিছু একটা অভিকর্ষের কারণে নামলে সেখানে কোন স্থিতিশক্টি জমা হবে না ।

এখন পরের পার্টে আসা যাক । এই লোক প্রথম থেকে কমেন্টে ক্যালকুলাসে ভুল আছে এইসব বালছাল কমেন্টে বলছে । অথচ সে বীজগাণিতিক যেই প্রতিপাদন বলতেছে সেইখানে ক্যালকুলাসের একটা ফান্ডামেন্টাল উপপাদ্য প্রয়োগ করতেছে, সেইটা হৈলো টেলরের উপপাদ্য

যেটার একটা অনুস্বিদ্ধান্ত এইরকম

1/1-x = 1+x+x^2+x^3+x^4+.............
যেখানে শর্ত হচ্ছে x এর পরমমান একের চাইতে ছোট হৈতে হবে । এখন এক্স যদি একের চাইতে খুবই ছোট হয় তখন 1+x রেখে বাকিগুলা বাদ দিয়ে দেয়া যায় । কারণ একের চাইতে ছোট সংখ্যা যত ছোট হৈতে থাকে ততই তার ঘাতগুলার মান কমতে থাকে এবং ঘাতগুলাতেও স্কয়ার এর চাইতে কিউবের মান অনেক কম, কিউবের চাইতে ফোর্থ পাওয়ারের মান কম । ইনফ্যাক্ট স্কয়ার থেকে শুরু করে পরের সবগুলা যোগ করলেও শূণ্যের কাছাকাছি কিছু হবে । এইজন্য ঐগুলারে বাদ দেয়া ।

যাইহোক, এত কথা বলার কারণ হৈলো , শিক্ষার ক্ষেত্রে নিজস্ব কুসংস্কার, নিজে না বুঝে কারো কাছ থেকে শুনা কথা এইসব জিনিস সহ্য করার কোন উপায় নাই । আজকে ঘোরপ্যাঁচ দিয়া আপনার আল্লার পক্ষে বা ভগবানের পক্ষে কেউ যুক্তি দিয়া দিলে সেইটা বৈলা কালকেই আপনি ভরা মজলিশে হাসির পাত্র হৈবেন ।

কিন্তু আমার এত কষ্ট করার কারণের মধ্যে উপরের কারণটা মাত্র ১ ভাগ । বাকি ৯৯ ভাগ হৈলো সবার কাছে গাণিতিক, যৌক্তিক চিন্তার কাঠামোর ভয়াবর প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব উপলব্ধ করার জন্য । নিজেদের সন্তান, ছোটভাইকে ভুলজিনিস শিখাবেন না, শিখায়া তার জীবনের সাফল্যের হারকে সূচকীয় হারে কমায়া দিবেন না । আমাদের দেশের তেমন কোন সম্পদ নাই আরব বিশ্বের মত যে আমরা খালি বৈসা বৈসা বেঁচে খাবো । আমাদের যদি কিছু করতে হয়, করতে হবে মেধা আর প্রযুক্তির জোরে । আর এইগুলা স্বচ্ছ যৌক্তিক চিন্তা আর গণিত ছাড়া অকল্পনীয় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:১৮
১৮টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×