somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সাময়িক বিরতি
যথারীতি দোয়া চাইনা । সবাই ভালো থাইকেন । ১৬ তারিখে কথা হবে আবার । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28893952 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28893952 2009-01-07 00:14:33
একটি বাংলা সিনেমার পুলিশীয় রম্য
গোল বাধাইল গাঁয়ের চৌধুরিদের কন্যা দুর্গন্ধমেদিনী ।

"ঘোষেদের বাড়ীর বউ-ঝিরা না শহরের মত জামা পরে না গাঁয়ের মত । দুইএর মাঝামাঝি পড়িয়া তাহারা তালগোল পাকাইয়া ফেলিয়াছে ।" গাঁয়ের সুভাষিণী বলিয়া পরিচিত বৃটিশরাজ প্রদত্ত রাজা বাড়ীর বউ অধরা তাহা নিয়া টিটকারি করিতেছিল দেখিয়া লৈথুর মাথা বোধহয় গোলাইয়া গেল । পাক্কা বদমাশটির মত বলিয়া উঠিল, "আপনার এত জ্বলুনি কেন গো দিদি । বাঁদরখোলা লেগে গিয়েছে নাকি আজ ওখানটায় ।" অধরা যারপরনাই অপমানিত বোধ করিলেও লৈথুর মাথা আজ হয়ত ঠিক নাই ভাবিয়া , নিজ চরকায় তেল দাওগে ঠাকুরপো বলিয়া অন্দরে চলিয়া গেলেন ।

চৌধুরিদের কন্যা দুর্গন্ধমেদিনী দীর্ঘকাল শহরে পড়ালেখা করিয়া মাত্র কমাস হৈল গাঁয়ে ফিরিয়া আসিয়াছে । গাঁয়ে আসিয়াই নতুন বধূ হইয়া আসা অধরা বৌদির বড়ই নেওটা হইয়া উঠিল সে কদিনেই । প্রায় সারাদিনই এ বাড়ি আসিয়া বসিয়া থাকে । অধরা বোদির সাথে গল্প করে । আজ সে বাড়ীর ভিতরেই ছিল । অধরা দি তাহাকে ঘরে রাখিয়া পালেদের বাড়ীর ছোট বউএর সাথে কথা বলিতে গেলে লৈথু বদমাশটার ঘটনাটা ঘটে । দুর্গন্ধমেদিনী হয়ত শুনিতে পায়নাই ভাবিয়া অধরা তাহাকে কিছু বলিতে চাইল না । কিন্তু গোঁ ধরিয়া সে ঠিকই বলাইয়া ছাড়িল । কি মনে করিয়া প্রণাম করিয়া বৌদির পায়ের ধূলাটি শিরোধার্য করিয়া কহিল এর প্রতিশোধ লইবই । তুমি দেখে নিও বোদি । আরে পাগলি করিস কি করিস কি বলিয়া হাঁহাঁ করিয়া উঠিলেও দুর্গন্ধমেদিনীকে থামানো গেলো না ।

গাঁয়ে নতুন আসিবার পরে প্রথম প্রথম দুর্গন্ধমেদিনীর কথাকে কেহ তেমন গুরুত্ব দিত না । এ গাঁয়ের লোকগুলোই কেমন যেন এরকম । নতুন কাহারো কথা তা সে যতই ভারী হোক না কেন কানে তুলিতে চায় না । সেবার এক ইঁচড়েপাকা ছোকড়া তাহাকে অপমান করিয়া কথা বলিলে কত দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়াছে দুর্গন্ধমেদিনী, কোথাও বিচার পায় নাই । কাঁদিয়া কাটিয়া পর্যন্ত বলিয়াছে । কাহারো ঘুম ভাঙাইতে পারে নাই । তারপর হইতে নিজের কর্মপন্থাটি সংশোধন করিয়া লইয়াছে সে । একটু হাসিটি ঢঙটি রঙটি করিলেতো আর নিজের শরীর খসিয়া পড়িবে না । তাহাতে যদি লোকে তাহার কথায় কান দেয় মন্দ কি । তারপর হইতে গাঁয়ের মাথাওয়ালদের সাথে সে একটু হাসিটি ঢঙটি রঙটি করিয়া কথা বলে । বুঝুক বা না বুঝুক মাথাওয়ালাদের কথা হৈলে তা যা বলেছেন দাদা, এক্কেবারে শতভাগ ঠিক কথা বলিয়া গদগদ ভাব দেখায় । গাঁয়ের মাথাওয়ালারাও শহরে পড়ালেখা করা মেয়ের প্রশংসা , তদুপরি উপরি হিসাবে খন্ডকালীন রঙটি ঢঙটি পাইয়া আকর্ণলম্বিত হাসি সহকারে গর্বিত বোধ করে । এইরুপে একটি ভালো প্রভাব বলয় এরই মধ্যে তৈরী করিয়া লইয়াছে দুর্গন্ধমেদিনী । সেই ইঁচড়েপাকাটিকে পাওয়া যাইলে এখন সে তাহার চৌদ্দপুরুষের খবর করিয়া দিতে পারিত । কিন্তু বদমাইশটাকে পাওয়া যাইবার কোনোই সম্ভাবনা নাই দেখিয়া ধীরে ধীরে তাহার রাগ সব গিয়া পড়িল লৈথু হারামজাদাটার উপর । আজ সেসব তিলে তিলে উসুল করিবার লগ্নটি আসিয়াছে ।

নাওয়া খাওয়া ঘুম ভুলিয়া গাঁয়ের মোড়লের কাছে নালিশের পর নালিশ জানাইতে লাগিল দুর্গন্ধমেদিনী । মোড়ল ব্যাস্ত মানুষ , কাহার বউকে কে কি বলিয়াছে জাতীয় তুচ্ছ ব্যাপারে তিনি জড়াইতে চান না । সুতরাং ব্যাপারটিকে বড় করিতে হইবে বলিয়া ঠিক করিল দুর্গন্ধমেদিনী । সে ও তাহার ঢঙ রঙএর মাথাওয়ালা বন্ধুরা মিলিয়া আলাদা আলাদাভাবে নালিশ লইয়া যাইতে লাগিল মোড়লবাড়ী । তাহাতেও কাজ হয় না । ইংরাজিতে নালিশ পাঠাইল । লৈথুর স্বভাবটাই উচ্ছন্নে যাওয়া বলিয়া বুঝাইতে লাগিল ঘরে ঘরে ঘুরিয়া । বাঈজি বাড়ীতে গিয়া সে বাঈজির সাথে কিসব নোংরা কথা বলিয়া বেড়াইয়াছে তাহার হুবহু বর্ণনাও নিয়া আসিল ঢঙরঙের বন্ধুরা । গাঁয়ের বৌঝিরা দাঁতে-জিভ কাটিল । রাম রাম । একি কলিযুগ আসিল । বাঈজি বাড়ীতে কেহ যে ধর্মালোচনার জন্য যায় না একথাটি কিন্তু কেহ বলিল না ।

সামনাসামনি দরবার না করিলেও মোড়ল ঠিকই বুঝিয়াছিলেন ঘটনা কি । দুর্গন্ধমেদিনী মেয়েটি গাঁয়ের সব মাথাওয়ালাদেরও দলে ভিড়াইয়া ফেলিয়াছে । এখন তাহাদের বিরুপ করিতে গেলে গাঁয়ে মাতব্বরী বজায় রাখাই দায় হইয়া দাঁড়াইবে । আবার সামনাসামনি সালিশ বসাইতে গেলে কাহারো গলা টিপিয়া না ধরার নীতিটি লইয়া লোকের টিটকারির মুখে পড়িতে হইবে । লাঠিয়ালকে ডাকিয়া তাই তিনি যথার্থ নির্দেশটি দিয়া দিলেন । দুর্গন্ধমেদিনী বা কারো সহিত এই নিয়া আলাপে মাতিলেন না ।

পরদিন সকালে দীঘিরপাড়ের বটগাছটায় গামছা দিয়া গলা প্যাঁচানো লৈথুর লাশটি পাওয়া যাইলে, গাঁয়ের লোক আনন্দমিছিল বাহির করিলো । বদমাশটার উপযুক্ত শাস্তি হইয়াছে বলিয়া বৌ-ঝিরা খিড়কির দরজা হৈতে নেত্রী দুর্গন্ধমেদিনীর উদ্দেশ্য হাত নাড়াইলো । আনন্দ মিছিলেই ব্যাটারা যাহারা তাদের সাথে ছিল না তাহাদের উদ্দেশ্য লিঙ্গ এবং শরীরের তাবৎ নোংরা বলিয়া পরিচিত জায়গাগুলার উপমা দিয়া গালাগালি করিলেও গাঁয়ের বৌঝিরা বা দুর্গন্ধমেদিনী তাহা কানে তুলিল না । পুরুষ মানুষ অমন একটু করেই ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28892914 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28892914 2009-01-04 17:43:51
কাশেমের দুঃস্বপ্ন
- মাগীগো তলের জ্বালা আর কমে না । এক লেইত পুলাপাইন ঘরে তাও ওগো খালি চুলকায় । আর মাইনষের ঘুমান লাগবো না । খালি মাগীগো পাছরাপাছরি হুনলেই চলবো ।

ঐপারের আওয়াজটা একটু কমে । বেড়ার কাঁপুনি একটু ধীর হয় । তারপর আবার শুরু । মিনিট দুই পরে সব ঠান্ডা হৈলে এইবার ঐপাশ থাইকা আসে চিক্কুর ।

- হ খানকিগো ভাতার মাউরা এরলাইগ্যা মাইনষেরডি সহ্য করতারে না । মাইনষের বাইত্যে বাইত্যে ঘুইরা লাঙ চরাইয়া তলের জ্বালা কমাইয়া আইলে ঘরে আর কি করব । হিজরা ভাতারের লগে কি আর করবো ।

মাস তিনেক আগে হৈলেও এই কথার পর কাশেম বউ এর চুল চাইপ্যা ধৈরা তিন চাইরডা থাপ্পর লাগাইয়া দিত । তরে না কৈছি খানকি মাইনষের বাসায় কাম করতে যাওন লাগবো না । লাগলে না খাইয়া থাকুম । পুলাপানরে এতিমখানায় দিয়া দিমু । তাও বাইত্যে বাইত্যে লাঙ চরাইতে যাস কিল্লাইগা । কিন্তু এখন সেইটা পারে না । হেইবার তরকারি বেচনের খুপরিডা পুলিশে ভাইঙা দিয়া যাওনের পর ভাড়ায় রিকশা চালাইয়া না খাইয়া থাকনেরও বন্দোবস্ত হয় না । ছোবান সাবের বাসায় সুলতানার মা কাম লওনের পর থাইকা অন্তত এক বেলা ভালাবুরা খাওন জুটতাছে । কাশেমের যেই শইল, একদিন রিকশা টানলে দুইদিন থাকে বুকের ব্যাথা মাজার ব্যাথা । গাধীর মত এই বাড়ি হেই বাড়ি খাইটা বউডা তাও একটু খাওন জুটাইতাছে । যেইদিন ছোবান সাবের বাসায় তরকারির টানাটানি থাকে হেইদিন ভালোমত খাওন হয় না তার । আইজকা ঐ কারণেই একটু উণা পেট নিয়া ঘুমাইছিল । রাইতে রিকশা জমা দিয়া আইসা দেখে তরকারি ভালা না । নিজের আর সুলতানার মার মিজাজ তখন থাইকাই একটু গরম । তার মইধ্যে খাওনের সময়ও পাশের ঘর থাইকা চকির ক্যাঁচক্যাঁচ আর বেড়ার কাঁপুনি শুনতে হৈছে ।

সুলতানার মারে বেলাউজ খুলতে দেইখা একটু ডর খায় কাশেম । সারাদিন রিকশা টাইনা এমনেই শইল্যের বেদনার চোটে কাহিল । তার উপর পেটও উণা । তাও এখন মানা করনের সাহস হয় না । ঘরে খাওন জুটানি শুরু করার পর থাইকা অহন বউ এর কথাও হুনন লাগে তার মাঝে মইধ্যে । আইলসামি নিয়া উপরে উঠলেও তেমন জমে না । সুলতানার মা নিজেই জোরে জোরে চকি কাঁপায় অনেকক্ষণ ।

বউ তার কিঞ্চিৎ পড়ালেখা করইন্যা মাইয়া । লেখতে পড়তে পারে । হিসাব কিতাবও বুঝে খানিক । তরকারি বেচনের সময় বউই আগ্রহ কৈরা হিসাব রাখত । কুনসময় কুনডা ভালো হৈব এইসব পরামর্শ দিত । বেডা মাইনষের কামে মাইয়া মাইনষের এত খবরদারি কিয়ের বৈলা পরায়াই বউয়ের গায়ে হাত তুললেও বউয়ের পরামর্শে খারাপ কুনোদিন হৈতে দেখে নাই কাশেম । একটু ট্যাকাও জমা শুরু করছিল হাতে । সুলতানা আর মোজাম্মেলরে ইশকুলেও দিছিল । পুলিশে দুকান ভাইঙা দেওনের পর থাইকা দুইমাস ঘরে বইসা বইসা জমাইন্যা ট্যাকা সব শেষ হৈলে শেষে গ্যারেজ থাইকা রিকশা নিয়া নামলেও নুন আন্তে পান্তা ফুরানির অবস্থা আর শেষ হয় না । সুলতানার মা মাইনষের বাড়ীতে ছুডা কাম শুরু করনের সময় তাই আর মানা করনের মুরোদ থাকেনা । সুলতানা মোজাম্মেলের ইশকুল বন্ধ কৈরা দিতে কৈছিল কাশেম । বউ তার হুনলো না । এক বাড়ী দুই বাড়ী কৈরা চাইর চাইরডা বাড়ীর কাম নিল । নিজের শইল শেষ কৈরা দিবো তাও পুলাপাইনরে কামে লাগাইবো না । অগোরে পড়ালেখা করাইয়াই যাইব । মায়া লাগে মাঝে মইধ্যে বউডার লাইগা । নিজে সে একদিন রিকশা নিয়া বাইর হৈলে তিনদিন বৈসা থাকে । আর বউডা আল্লার তিরিশটা দিন সকাল আটটায় বাইর অয় সন্ধ্যায় ফিরা আসে । আইসা আবার রান্ধন বাড়ন নিয়া বয় ।

ছোবান সাবের বাড়ীত কাম নেওনের পর পাশের ঘরগুলার মাইনষের টিটকারির মুখে কাশেমের নিজেরও একটু সন্দেহ জাগে । কামের বেডিরে এত খাতির করে কিল্লাইগা । চাইরডা বাড়ীর কামতো আগেও করছে সুলতানার মা । মাস শেষে হাজার পনরশ ট্যাকার বাইরে আর একমুঠ চাইলও জুটে নাই কুনোদিন । বস্তির চান্দা আর পুলাপাইনের ইশকুলের বেতন পেরাইভেট মাস্টেরের ট্যাকা দেওনের পর একটা ট্যাকাও থাকতো না । দিন চলত হেই একপেট আধপেট খাইয়াই । আর অহন দুইদিন পরপর মাছ মাংসতো আছেই মাজে মইধ্যে চাইল ডাইলও ধার নিয়া আইসা আর শোধ দেওন লাগে না । ছোবান সাবের বউ জিগায়ও না নাকি কুনোদিনও । মাইনষের টিটকারি মারনের কারণ আছে । চিপা চিপা এই ফুডা বেড়ার ঘরগুলানের অবস্থা আর বিশটা ঘর মিলা দুইডা গ্যাসের চুলা । কার পাইল্যাতে কি সবাই জানে । ছোবান সাবের তিনতিনডা জুয়ান পুলা । মাইনষে টিটকারি মারবো না ক্যান । বউ আবার তার গায়ে গতরেও কম না । ধুয়া শাড়ি জামা পিনলে সিনেমার নায়িকাগো মতন লাগে । তয় অনেক প্যাদানির পরও বউয়ের মুখ থাইকা কিছু বাইর করতারে নাই । ছোবান সাবের এক পুলাতো দেশেই থাকে না । আরেক পুলা ইনভাসিডির হলে থাহে । শুক্কুর শনিবারেও আয়ে মাসে একদিন দুইদিন । আরেকটা ঘরে থাকলেও সকালে বাইরায় সন্ধ্যায় আইয়ে । সুলতানার মা নিজেই নাকি চিনে না ঠিকমত । আর ছোবান সাব নিজে ধার্মিক মানুষ । আল্লা বিল্লা নিয়াই আছেন । শুক্কুর শনিবার ঘরে থাইকলেও টিভির ঘর থাইকা বাইর হন খালি মসজিদে যাওনের সময় । গেল কোরবানে গোস কাটতে গিয়া দেইখা আইছে কাশেম । বউয়ের কথা মিছা না ।

ঠিকঠাকমতই হয়ত চলত সব । প্যাঁচ লাগাইলো মরার এক্সিডেনে । সায়েদাবাদ রেললাইনের উপ্রে এক ট্যারাকের ধাক্কায় চোখের সামনে মালিকের রিকশাডা ভাইঙা চুরমুচুর হৈয়া গেলো । ঠিক করাইতে লাগলো চাইর হাজার ট্যাকা । হেই ট্যাকা এলাকার একটা কোঅপারেটিভ থাইকা নিয়া পড়লো আরেক প্যাঁচে । ডেলি একশ ট্যকা কৈরা অগোরে দিলে , মালিকের ট্যাকা একশ দিলে নিজের ঘরের থাইকা বালডাও থাকে না । তাও ডেলি দিতে পারলে নাইলে শুধ হৈয়া যাইত এদ্দিনে । কিন্তু মরার শইল একদিন চালাইলে তিনদিন অবশ থাকে । দুইমাস ধৈরা দিয়াও হেইদিন কয় আরো নাকি আষ্ট হাজার ট্যাকা বাকি । গেরাম ঢাকার লগে হওনে বউ দিলো আরেক পরামর্শ । গেরামিন ব্যাংক থাইকা পনর হাজার ট্যাকা নিয়া অগো আষ্ট হাজার ট্যাকা শুধ দিয়া বাকিডি দিয়া পুরান মুরান কুনোরকম একটা রিকশা কিনতে কয় ।

গেরামিন ব্যাংকের পনর হাজার ট্যাকা নিয়া কোঅপারেটিভ এ গেলে অরা কয় এদ্দিনে ট্যাকা নাকি এগার হাজার হৈছে । ঐডি দিয়া আহনের পরতো আর কিছুই থাকে না । চাইল এক বস্তা আড়াই হাজার ট্যাকায় কিন্না দাঁত কেলাইতে কেলাইতে ঘরে আইলে বউ শুরু করলো খ্যাচর খ্যাচর । অসহ্য হৈয়া আইলে বউয়ের পাছায় লাত্থি মাইরা ঘর থাইকা বাইর হৈয়া যায় । হেইদিন অবশ্য সুলতানার মা বেশিক্ষণ মিজাজ ধৈরা রাখতারে না । লগে আনা দুই সের গরুর গোস রানতে যায় ফোঁপাইতে ফোঁপাইতে । ফিরা আইসা মসলার গন্ধে মনডা ভালা হৈয়া যায় তার । রাইতে বিছনায় বউর কাছে মাফ চায় । দুইন্যাদারির চাপে মুনডা খারাপ থাকে বেশিরভাগ সময় । বউয়ের কষ্টও যে বুঝেনা তা না । তয় মিজাজডা ধৈরা রাখতে পারে না সবসময় । দুই দফা উপরে উডনের পরে ফিসফিস কৈরা কথা কয় শেষরাইত পর্যন্ত দুইজন । গেরামিন ব্যাংকের কিস্তির ট্যাকাও দেওন লাগবো অহন থাইকা প্রতিদিন একশ কৈরা । মালিকের জমার ট্যাকা দেওন লাগলে ঝামেলা লাইগা যাইব । বউ কয় ঋণ যহন একবার হৈছেই, আরো দশ হাজার ট্যাকা আরেক নামে গেরামিন ব্যাংক থাইকা লইয়া নিজের একখান রিকশা নামাইলে শুধ করতে দেরী লাগবো না । বউয়ের সাহস দেইখা ডর খায় কাশেম । তাও রাজী হৈয়া যায় । মনডা ভালা আইজ । বউডার উপরেও মায়া লাগে ।

পাংখার মত চলে নয়া রিকশা । জরি টরি দিয়া সাজাইন্যা রিকশাডা আগলাইয়া আগলাইয়া রাখলেও ট্যাকা শুধ দেওনে গতি করতারে না বিশেষ । হেই দুই নামের দুই কিস্তি দিতে দিতেই অবস্থা কাহিল । ছোবান সাবের বাসায় কামডা না লৈলে এদ্দিনে না খাইয়া থাকতেও খবর হৈয়া যাইত । ট্যাকা যত শুধ করে খালি হুনে বাড়েই । হপ্তায় হপ্তায় ট্যাকা দিতে গেলেই হুনে হপ্তার ট্যাকা পুরা হয় নাই । আরো বেশি কৈরা দেওন লাগবো । কুনো হপ্তায় না গেলে গেরাম থাইকা সুলতানার মার ভাই মুবাইল করে ছোবান সাবের বাসায় । ধমক মারে । গেরামিন ব্যাংকের লুকজন নাকি তারে শাসাইয়া যায় ।

এর মইধ্য একদিন সুলতানার মা ছোবান সাবের বাসায় হুইনা আহে ইনুচ সাব আর গেরামিন ব্যাংক নাকি লুবেল না কিজানি একটা পুরস্কার পাইছে । কুটি কুটি ট্যাকা । চার দোকানে একদিন টিভিতেও দেখে । হেই সপ্তায় কিস্তির ট্যাকা দেওনের লাইগা গেরামে গিয়া গেরামিন ব্যাংকের বেডাডারে কয় আফনাগো ইনুচ সাব নাকি কি জানি পুরস্কার পাইছে কুটি কুটি ট্যাকার । আমগোরে একটু মাফ -সাফ করবো নাকি এইবার । উল্টা মা-বাপ তুইলা গালি দেয় বেডা । ট্যাকা ঠিকঠাকমত না দিলে মামলা করনের হুমকি দেয় । আহনের সময় চিকনা মাইয়াডার কতা হুইনা গা জইল্যা যায় কাশেমের । চিকনি কয় গেরামিন ব্যাংক এখন একটা ইন্টানেশেনাল খ্যাতি পাইছে । আফনেরা গ্রাহকরাতো এমুন ছিরা লুঙি জামা পিনলে চলবো না । পরের হপ্তায় একটা সুন্দর দেইখা লুঙি কিনে কাশেম । চিকনির কতায় শইল জইলা গেলেও তার এমুন পঙ্খীরাজের মত রিকশার লগে ছিরা ময়লা লুঙিডা আসলেই মানায় না ।

কিন্তু গেরামিন ব্যাংকের বেডাডার কতায় ডর ঢুইকা যায় কাশেমের মইধ্যে । কিস্তি ঠিকমত দিতে না পারলে তার নয়া রিকশা বেইচা দিতে হৈব বৈলা হুমকি দিছে হেইদিন ।

আধপেটা খাইয়া আবার ঘুমাইলেও হেইরাইতে আপেল আঙুর কমলা কিংবা কোরমা বিরানির স্বপ্ন দেখে না কাশেম । উল্টা দেখে পঙ্খীরাজের মত রিকশা চালাইয়া পলাইতে চাইতাছে সে । কালো গাড়ী নিয়া পিছে পিছে গেরামিন ব্যাংকের লুক অল্পসময়ের মইধ্যেই ধৈরা ফেলে তারে । রিকশা ফালাইয়া এইবার সে দৌড়ায় । রিকশাডা টেরাকের মইধ্যে তুইলা নিয়াও তার পিছপিছ দৌড়ায় কেন বুঝে না । একবার পিছন ফিরা দেখে চা'র দোকানে টিভিতে দেখা ইনুচ সাব একলাই তারে দৌড়াইতাছে । উষ্ঠা খাইয়া নয়া লুঙিডা খুইলা গেলে ল্যাঙটাই দৌড়ায় কাশেম । ইনুচ সাবের লগের লুকেরা সেইডাও তুইলা নেয় । গায়েও তার কিছু নাই । তারপরও পিছে পিছে দৌ্ড়ায় ইনুচ সাব একলা । পিছন ফিরা দেখে ইনুচ সাবের মুখে হাসি । মুখে হাসি নিয়া তাইলে তাড়া করে ক্যান ? প্রাণপনে দৌড়ায় কাশেম । পিছ ফিরা দেখে ইনুচ সাবের নজর তার হোগার দিকে ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28892684 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28892684 2009-01-04 01:41:54
একা জীবনের ছোটখাট যন্ত্রণাসমূহ উল্টানো গেন্জিটারে ভাও কৈরা পরলাম । কি যন্ত্রণা ভিতরের দিকের সেলাইগুলা বাইরের দিকে । আসলে গেন্জি ঠিকই ছিল , উল্টা কৈরা তারপর পরছি ।


চাবি, মোবাইল, মানিব্যাগ নিয়া দোকানে গেছি । আইসা দরজায় চাবি ঘুরাইয়া দেখি দরজা খোলে না । হায় হায় ভিতরে চোর ঢুইকা বইসা আছে নাকি ? আবার চাবি ঘুরাইয়া দেখি দরজা খুলল । দরজা খোলা রাইখাই গেছিলাম । বাইরে থাইকা খুলতে গিয়া উল্টা তালা আটকাইছিলাম ।


ক্ষুধা অসহ্য হৈয়া আসলে রান্না করতে গেলাম । রাইস কুকারে ভাত চড়াইয়া মাংস রান্না করলাম । শেষ হৈলে রাইস কুকার খুইলা দেখি ওমা ভাত কই চাইলের জায়গায় চাইল রৈয়া গেছে । রাইস কুকারের সুইচ টিপি নাই ।


সকালে ঘুম থাইকা উইঠা চা গরম করমু ওভেনে । চায়ের গেলাস খুইজা পাইনা । পাইলাম না তো পাইলামই না । আরেক পুলার গেলাসে চা ঢাইলা ওভেনের দরজা খুইলা দেখি আমার গেলাস । চা ভর্তি । কাইলকা বিকালে ওভেনে চা দিয়া আইসা ঘরে যে ঢুকছি আর খেয়াল আছিল না ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28892105 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28892105 2009-01-02 18:36:04
অর্থহীন একপদীসমূহ অদ্ভূত বাতাসেরা সব চারপাশে, বেয়াড়া রাত, বেয়াড়া শীত ।

প্রেম এক সাতরঙা সর্বনাশ ।

সভ্যতা, একের সঙ্গম একশর ফাঁকা শীৎকার ।

মরা নদী , পাথর গড়ায়, টোকা লাগে কি তোমার দরজায় ?

ঘুমে গেছে জলফোঁটা, ঘুমে গেছে বেলাজ রাত, মুখার্জি তবু তোমার নাচ ?

স্মৃতি এক হাইওয়ে, বাসের চাকায় যুবক ব্যাঙ, ঘ্যাঁচ ।

ছাদ ফুঁড়ে বৃষ্টিফোঁটা, বাটি নয় পেতে দিই মুখ ।

পাতাদের দুঃখ আছে, পতঙেরও, আমারই শুধু খালি লাগা ।

মেরিলিন নাচে-কুদে মনিটরে, হেরে যায় মায়াবতী ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28891758 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28891758 2009-01-01 20:02:16
ঘুমহীন রাতের কবিতা তোমার প্রথম প্রেমের চোখ হয়ে যায়
জল গড়ায়, পাথর, নদী
বাদামি পাতাদের স্রোত পার হয়
পার হয় অর্থহীন একেকটা সকাল
ঘুমহীন একেকটা রাতের
নির্বোধ কংক্রিট সিলিং , সেখানে
পর্দাভেদী আলো আর অক্ষিগোলকের অন্ধকার,
ভেতরবাড়ীতে ইরেবুস, তোমার নদীতে নির্মম হেডেস
সিলিং এ ছায়ারা
স্ম্বতির এবং স্বেচ্ছাবিস্মৃতির
সমস্ত বস্তুর, চরাচর পাখি নদী নক্ষত্র
ভোর দিন দুপর
দিগভেদী হাইওয়ে তাতে একেলা দোয়েল তার একেলা ছায়া ।

সিলিং এ ফাঁসের মন্ত্রণা ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28891435 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28891435 2009-01-01 04:40:08
এইটা কি নয়া বছরের উপহার
হগ্গলরে লয়া বছরের শুভেচ্ছা ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28891296 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28891296 2009-01-01 00:09:49
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী- শেষ পর্ব
মাস ছয়েক পরে আমার বিয়ার জন্য মাইয়া দেখা শুরু হয় । নিজে কিছু না কৈলেও বয়সসীমা বাইধা দিই । সতের বছরের উপরে হৈলে হৈব না । মাদরাছার মাইয়াও চলব না । আম্মা মাইনা নেন । আব্বার কাছে কেউ জিগায় না ।

বিয়ার দিন ফুন কৈরা রাশেদাআপার সাথে শেষ কথা বৈলা নিই । মুবাইল থাইকা নাম্বারগুলা ডিলিট করি ।

রাইতে ঘরে গিয়া বেকুবের মত খাড়াইয়া থাকি কিছুক্ষণ । থিতু হওনের সুযোগ নিয়া একজন আইছে জীবনে । ইচ্ছা করে তারে ভালো কোনো কথা কই । মাথার ভিতরে খুইজা কিছু পাই না । রাশেদাআপা কিংবা মিলিরে দেয়া অনেক ডাইলগ মনে আসে । কিন্তু সেইগুলা এইখানে কৈতে ইচ্ছা করেনা ।

বউরে বলি , নামায পড়নি তুমি ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28888985 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28888985 2008-12-28 01:33:39
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-২০
বাড়ীতে গিয়া দেখি ঐখানে লাইগা আছে আরেক ভেজাল । খোদেজার শ্বশুরবাড়ী থাইকা লুক আসছে । খোদেজা উল্টাপাল্টা আচরণ শুরু করছে । জামাইর দিকে হান্ডি-পাতিল ছুইড়া মারে । লুকজনের সাথে আবোলতাবোল কথা কৈতাছে । বুকের মইধ্যের মোচড় মাইরা উঠে আমার । তাইলে কি এই পাগলামি বংশগত নাকি । আব্বার এক জ্যাঠারে নাকি শেষ বয়সে এই রুগে ধরছিল বৈলা শুনছিলাম । সেই সিলসিলা কি আবার শুরু হৈল ? তাইলেওতো আব্বারটা নাহয় ঠিকাছে । কিন্তু খোদেজা অল্প বয়স্কা পিচ্চি মাইয়া । এই বয়স থাইকাই যদি শুরু হয় তাইলেতো কপালে শনি আছে । তাড়াতাড়ি ওরে শ্বশুর বাড়ী থাইকে আমগো বাড়ীতে আইনা চিকিৎসা শুরু করি । মোটামুটি একই রকম চিকিৎসা । কিন্তু খোদেজা বেশ তাড়াতাড়িই স্বাভাবিক হৈয়া আসে । ডাকতর কয় হিস্টিরি নাকি কি জানি হৈছিল । এই বয়সের মাইয়াগো নাকি এইটা স্বাভাবিক ব্যাপার । তয় গেরামের মাইনষে সবাই কৈতাছিল জ্বিনের আছর । আমি কানে তুলি নাই । জ্বিনের খাইয়া দাইয়া অনেক কাম আছে জুয়ান মাইয়াগো ডিস্টাব করা ছাড়াও ।

ভেজালে ভেজালে রাশেদাআপার সাথে ঠিকমত কথা কওনের সুযোগ পাইলাম দশ/বার দিন পর । তারে খুইলা কৈলাম ঢাকার ঘটনার কথা । উনার উপরে রাগ কৈরাই এই কাম করছি বৈলা চালাইয়া দিলাম । রাশেদাআপা যতটা অবাক হৈব মনে করছিলাম ততটা অবাক হৈলেন না । ঝাড়ি টাড়ি হালকা দিলেন অবশ্য । কিন্তু ক্যান জানি মনে হৈল ঝাড়িতে ততটা জোর নাই । অধিকার নাই । আমি চাইছিলাম তার প্রতিক্রিয়া তীব্র হোক । ভয়ংকর রাগ করুন । অধিকার নিয়া কথা কউক । কিন্তু তার কিছুই হৈল না । বরং উনার প্রতিক্রিয়া অনেক ঠান্ডা । মিজাজ আরো গরম হৈয়া যায় আমার । আমি আরো ডেসপারেট হৈয়া যাই । বলি আমি আরো এইরকম করতাম চাই । আবার সেই একই ধরণের প্রতিক্রিয়া পাই । হালকা ভাবে মানা করা । সিনেমার ডায়ালগের মত শুনাইতে থাকে আমার শেষের কথাগুলা । উত্তর ঠিকই দেন কিন্তু একটু উত্তাপে ঘাটতি থাইকা যায় । টের পাই । মেজাজ গরম করে ফুন করা বন্ধ কৈরা দিই ।

শিরিন ভাবীর সাথে ফুনে আজাইরা আলাপ চালাই দুয়েকদিন । কিন্তু ঐদিকে আমার সাহস করে না । খালেদার মত আরেকটা বেঁকা হাসি সহ্য করনের ক্ষমতা এখনো হয় নাই । ঐ হাসি এখনো আমারে দুঃস্বপ্নের মত তাড়া কৈরা ফিরতাছে । যদিও ঢাকায় মনে হৈছে আমি ভালই ঠিকঠাক হৈয়া যাইতাছি কিন্তু ঐটারে বিশ্বাস করনের মত যথেষ্ঠ কারন নাই । ট্যাকা দিয়া কিনা জিনিস খাঁটি হওনের সম্ভাবনা থাকে বেশি । কিন্তু ভালোবাসা ট্যাকা দিয়া কিনাটা হয় উল্টা । মুখোশ পরাইন্যা । অভিনয় । দোকানদার হিসাবে এই জিনিস আমার হাঁড়ে হাঁড়ে জানা । আমিতো বেচাকিনার জগতেরই লুক ।

এমন এক বিরক্তিকর দিনে ক্যামনে ক্যামনে যেন কয়েক হাত ঘুইরা একটা মহিলার নাম্বার পাই । ফুনের বিভিন্ন নাম্বার আদান প্রদানের একটা বন্ধু মহল গৈড়া উঠছে আমার এরই মইধ্যে । বিভিন্ন ক্যাটাগরির মইধ্যে থাইকা ফাউল মাইয়াদের নাম্বারগুলা হাতবদল হয় বেশি । এইহাত সেইহাত হৈয়া নাম্বারডা আমার হাতে আইলো । ফুন ধইরা হ্যালো বললে আমি কৈলাম আফনে কে । আপনার কারে দরকার ? কৈলাম দরকার তো আফনারেই । মিয়া, ফাইযলামি করার আর জায়গা পান না, নাম্বার পাইছেন কৈ ? কৈলাম ফাইযলামি করার আসলেই জায়গা নাই দেইখাই ফুন করলাম । ঐপাশ থাইকা খিলখিল হাসির শব্দ শুনি । বুঝলাম সম্ভাবনা আছে ।

মিলির সাথে কথা আমার দিনদিন বাড়তে থাকে । অবশ্য নামডা নিয়া সন্দেহ আমার এখনো কাটে নাই । এরই মধ্যে তার হাজবেন্ড নিয়া তিন ধরনের কথা শুনা হৈয়া গ্যাছে । একবার কয় হাজব্যান্ড অন্য এক জায়গায় বিয়া করছে , তাগো নিয়া থাকে চিটাগাং । আরেকদিন কৈল হাজবেন্ড কুয়েতে থাকে । আবার আরেকদিন কয় হাজবেন্ড ঢাকায় চাকরি করে , মাসে দুই তিনবার আসে । জাহান্নামে যাক হাজবেন্ড । আমি বুঝি নিশ্চয়ই কুনো গোলমাল আছে । সেইটা নিয়া সন্দেহ নাই । সিনেমার ডাইলগ মারতে থাকি সমানে । নিজের জীবনে ইতিহাস খুইলা কই । সেন্সর কৈরা অবশ্য । মিলির জীবনের ইতিহাস শুনি । কিন্তু বিশ্বাস করতে ভরসা পাই না । হয়ত ঐ পক্ষও আমার কথা পুরাপুরি বিশ্বাস করে না । ঐটা নিয়া তেমন চিন্তা নাই আমার । কথা বিশ্বাস করানো উদ্দেশ্য না আমার । উদ্দেশ্য অন্য জায়গায় ।

রাশেদাআপারে ফুনে বলি আমার নতুন পীরিতের কথা । একটু হিট দিতাম চাই । কিন্তু কেমন জানি মনে হয় হিট লাগতাছে না । আমি আরও মিলির সাথে জড়াইয়া যাই । একদিন দেখা করার প্রস্তাব দিই । মিলি কয় না সম্ভব না কুনোমতেই । আমি বুঝি খুব সম্ভব । ওর কথার মইধ্যে থাইকা আসল উদ্দেশ্য বাইর করা নেয়াটা শিইখ্যা গেছে এর মইধ্যে । ওর বাড়ী বাতিসা । তাই ঠিক করি চৌদ্দগ্রামে দেখা করমু । কোলে একটা বাচ্চা নিয়া মিলি আসে । পালকিতে একটা সিনেমাও দেখি দুইজনে । ওর বাড়ী যাইতে চাই আমি সেইদিনই । কিন্তু মিলি মানা করে । বাড়ীতে শ্বাশুড়ী নাই , জা আছে একজন । তার কাছে বৈলা আসছে পিচ্চিরে নিয়া ডাকতর দেখাইতে যাইতাছে । ঠিক করি অন্য একদিন যামু । মিলির এক মামা থাকেন ছৌদিতে । চালানের জিনিস দিতে আইছি বৈলা যামু ।

ফেনীতে এক দামি কসমেটিকের দোকান থাইকা বিদেশি শ্যাম্পু আর সুনো কিনা সেইগুলারে প্যাকেট কৈরা একদিন মিলির বাড়ীতে চৈলা যাই । ফুনে কথা বৈলাই যাই । মিলির জা আসে দেখা করতে । আমি চৈলা যাই বলি উনার সামনেই । মিলি কয় না, যাওন চলবো না , দুপুরে খাইয়া যাইবেন । আমি বুঝি ঘটনা কি । না যাইতেই হৈব কৈতে কৈতে আমি থাইকা যাই । ঘরের পিছন দিকে রান্নাঘরে চৈলা যায় মিলি রান্না করতে । একটু পরে উইঠা আমিও যাই । বাড়ীতে ফিরি বিকালে । একটু খুশি একটু অনুতাপ নিয়া । নিজের মর্দামির উপর একটু একটু কৈরা বিশ্বাস ফিরা আসতাছে দেইখা একটু খুশি । দোযখের ডরে একটু অনুতাপ ।

মাইঝা ভাই ফুন কৈরা খবর দেন তিনি আর সাইঝা ভাই দুইজনেই একসাথে দেশে ফিরতাছেন সামনের মাসের পরের মাসে । আম্মা গোঁ ধরেন পরপর দুই সপ্তাহে দুইজনেরই বিয়া দিতে হৈব । আমি মনে মনে একটু খুশিই । তবু খরচ নিয়া চিন্তা লাইগা যায় । দুইজনেই ফুন কৈরা ট্যাকার ব্যাপারে আশ্বাস দিলে শুরু হৈয়া যায় বউ খোঁজা ।

দুই ভাইয়ের বিয়ার সময় লোকসমাগম দেইখা মনে হয় আব্বার পাগলামি আবার উইঠা যায় । এইবার অবশ্য বেশি উল্টাপাল্টা করনের আগেই , ইনজেকশন দিয়া উনারে শান্ত বানানো হয় । বিয়ার কয়েকদিন পরে তাবলীগে চৈলা যান আব্বা । ফিরা আসেন আকাম কৈরা । ফেনীতেই এক তাবলীগের মজলিস থাইকা দরবেশরে যৌতুকবিহীন কম দেনমোহরের বিয়া পড়াইয়া বৌ নিয়া আসেন । একটু হাউকাউয়ের পরে আম্মা মাইনা নেন । তয় দরবেশের বৌ আমগো ঘরে থাকেনা । তার বাপ ফেনীর আড়ৎদার । ভাই নাই । দুই বইন তারা । বাপের বাড়ীতেই থাকবো মাইয়া ।

মিলির বাড়ীতে আরো দুইবার যাই । প্রতিবার আইসা রাশেদাআপারে খুইলা বলি ঘটনা । তার মইধ্যে একটু রাগের উৎপত্তি দেখতে চাই । দেখা হয় না । দিনদিন আরো ঠান্ডা হৈতে থাকেন, আরো গুটাইয়া নিতে চান । ফুনে কথা কিন্তু তেমন কমে না । একদিন ফুন কৈরা মিলি আমারে আর ফুন কর‌তে মানা কৈরা দিলে এবং কয়েকদিন পরে ফুন বন্ধ কৈরা দিলে রাশেদাআপার সাথে ফুনে কথা আবার বাইড়া যায় আমার । সিনেমার ডাইলগ বাইড়া যায় ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28888979 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28888979 2008-12-28 01:16:59
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৯
আব্বার পাগলামি শুরু হৈল মেঝ ভাই ছৌদি যাওনের বছরখানেক পর । একদিন অনেকটা হঠাৎ কৈরাই । রুযার শেষ দশদিনে ফেনীর এক মসজিদে তাবলীগের সাথিগো লগে এতেকাফে বসছিলেন । ঈদের দিন বাড়ীতে আইস শুরু করলেন পরকালের মাগফিরাত এবং নাযাত সংক্রান্ত লেকচার । প্রথমে আমরা কেউ তেমন গুরুত্ব দিই নাই । এইরকম লেকচার তিনি প্রায়ই মারেন । আম্মা আছেন অসীম ধৈর্য নিয়া শুনেন । আইজকাল আমার কাছে তেমন একটা মারতেন না লেকচার । মারলেও এদিক সেদিক একটা কথা বৈলা আমি উইঠা যাইতাম । অনেকদিন হয় কিছু বলেন না এখন আর । কিন্তু ঈদের পরদিন আমি এইরকম একটা লেকচারের মাইঝখানে দোকান খুলতে যাইতাছি বৈলা উঠতে গেলে ধমক দিয়া আমাকে বসাইয়া দিলেন । আরো কিছুক্ষণ পর আমি উইঠা গেলে আমারে শুরু করলেন দৌড়ানি । হঠাৎ ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া আমি দৌড়ামু কিনা বুঝতে পারলাম না । ধৈরা ফেইলা আমারে এক ধাক্কায় দিলেন পুকুরে ফালাইয়া । ছুড পুলাপান হাসতে ছিল । ওদেরকে চুপ করতে বৈলা আমি পুকুর থাইকা উঠতে উঠতে তিনি স্বাভাবিক মাইনষের মত হাইটা মসজিদের দিকে চৈলা গেলেন । কিছু বুঝলাম না ।

এইভাবে শুরু হৈলেও দুই তিনদিনের মইধ্যে আব্বার পাগলামি চুড়ান্ত পর্যায়ে উঠল । পরদিন ভোররাতে ঘুম থাইকা উইঠা কাউরে কিছু না বৈলা চৈলা গেলেন দুই গেরাম দক্ষিণে আমার জ্যাঠাত বৈনের শ্বশুরবাড়ী । জ্যাঠাত বৈনের দুই পুলা । তের আর এগার বয়স । ঐ দুইটারে ঘুম থাইকা উঠাইয়া মসজিদে নিয়া গেলেন । আসার পথে কি কারণে জানি আবার ঐ দুইটারে দৌড়ানি শুরু করলেন । ওরা অন্য পথে ঘুইরা আমাগো বাড়ীতে আইসা খবর দিলে, বুঝলাম আর হাতপা গুটাইয়া বৈসা থাকনের সময় নাই । দরবেশ আর আমি দুইজনে মিলা বাইর হৈলাম উনারে খুঁজতে । মাইর টাইর খাইয়া কুনোরকমে ধৈরা বাইন্ধা বাড়ীতে নিয়া আইলে শুরু হৈল আম্মার বকবকানি । আব্বা উল্টাপাল্টা কাজ করলেও কথা নাকি অসংলগ্ন কৈতাছেন না । সেটা একদিক দিয়া ঠিকও বটে । কুরানের আয়াত, বিভিন্ন হাদিস, ওলি আউলিয়াগো জীবনের বিভিন্ন ঘটান সমারে বকবক কৈরা যাইতাছেন । কিন্তু সব কিছুরইতো সময় আছে, অবস্থা আছে । সব অবস্থায় সবকিছুতো খাটে না । আম্মার বকাবকির মূল কথা হৈল আব্বারে ধৈরা বাইন্ধা রাইখলে বদ্দোয়া পড়বো । অতএব উনারে ছাইড়া দে । কথা কওয়া শেষ হৈলে এমনিতেই থাইমা যাইব । কিন্তু অবস্থা বেগতিক । আমরা খুইজা ফিরতাছি এর মইধ্যেই আরো কয়েকজনের সাথে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বৈলা আসছেন সেই খবর আইতে লাগল । ফেনী নিয়া গেলাম আম্মার কথার বিরুদ্ধে । মানসিক ডাক্তারের কাছে । পাওয়ারফুল ঘুমের ঔষধ দিয়া শেষ পইর্যন্ত আব্বারে শান্ত করা গেল ।

পাগলামির ঝামেলায় সপ্তাহখানেক রাশেদাআপার সাথে ফুনে কথা কৈতে না পাইরা আমার ভিতরে জৈমা গেছিল অনেক কথা । আব্বা শান্ত হওনের পরে সপ্তাহখানেক দোকানদারি অনেকটা দুনিয়াদারি ছাইড়াই কেবল ফুনে কথা বলা শুরু করি । রাহেলার নজরে পইড়া যাই । রাহেলা আমার ছুড বৈন । খোদেজার পরে । খোদেজার মতই কেলাশ এইট পার হৈতে না পাইরা ঘরে বেকার আজ দুই বছর । বেকার বলাডা অবশ্য ঠিক না । আম্মার বয়স হৈছে । খোদেজা ফাঁকিবাজ । ভাবীর শইল্যে সারা বছর সমস্যা । আমাগো বিশাল পরিবারের কামকাজ ধরতে গেলে একাই চালাইতাছে । রাহেলা যে মুবাইলের ব্যাপারস্যাপার বুঝে আমি জানতাম না । একদিন আমার কাছ থাইকা ফুন নিলো বান্ধবীরে ফুন করার জৈন্য । ফিরাইয়া দেওনের সময় কয় , রাশেদাআপার সাথে এত কথা কিয়ের আপনার । শুইনা একটু টাসকি খাই আমি । কল লিস্ট দেখাও শিখছে তাইলে । না , উনার মাইয়ার অসুখ ডাকতরের কাছে নিয়া গেছিলাম । ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম বুঝে না দেইখা বারবার খাওয়ানির সময় ফুন কৈরা জিজ্ঞাসা করে , এই ধরণের ধুনফুন বৈলা কথা কাটানির চেষ্টা করি আমি । নিজের কাছেই হাস্যকর লাগে । কিন্তু আকামতো হাছাই করছি । যুক্তিতো আসলেই নাই । চৈলা যাওনের সময় রাহেল কয় ঔষধ খাওয়ানির নিয়ম শিখাইতে কি এক ঘন্টা লাগে নাকি । আরেকটু টাশকি খাই আমি ।

রাশেদাআপারে ফুন কৈরা রাহেলার ঘটনা কই । উনি কন তাইলে তো সব্বনাশ । রাহেলার ঠোঁটকাঁটা । মাইয়াডারে নিয়া সমস্যা হৈল উচিৎ কথা কৈতে ডরায় না । আম্মা এইজন্য দুইচোক্ষে দেখতে পারেন না ওরে । প্রায়ই বকাবাদ্যি করেন । ডরাই আমিও কিঞ্চিৎ ওরে , কিন্তু রাশেদাআপারে বলি সমস্যা নাই, অত বুঝবো না । কিন্তু কয়েকদিন রাশেদাআপার একটু গুটাইয়া যান ।

এর মইধ্যে খোদেজার বিয়া হৈয়া যায় অনেকটা আড়ম্বরবিহীন । দুরের আত্নীয়দের কাউকেই আনা যায় না । কাজগুলা আগাইতাছে দেইখা আমার একটু ভাল্লাগে । যেই অবস্থা থাইকা শুরু করছি সংসারের হাল ধরা তার তুলনায় এখনকার অবস্থা যে কারো মতেই অনেক ভালো । ধার কর্যগুলা ঠিকঠাকমত কিলিয়ার করা হয় নাই ঠিককথা । কিন্তু মাথার উপরে জইমা থাকা কাজগুলাতো সিরিয়াল হৈতাছে । দোকানডা আরেকটু ভালোভাবে গুছানির চিন্তা করি আমি । আয়ের পথ বাড়ানি দরকার । নিজের কিছু জমাইনা ট্যাকা হাতে নিয়া উড়নচন্ডী সাইঝা ভাইরে ছৌদি পাঠানির চিন্তা করি । মেম্বার ছাবের সাহাইয্যে আর নিজের জমা ট্যাকা মিলাইয়া একটা ব্যবস্থা খাড়াইয়া যায় ।

নিজের জীবনে সুখের দেখা মাগার পাইলাম না এখন পইর্যন্ত । রাশেদাআপারে নিয়া আর কিছুতেই আগানো যাইতাছে না । গেরামের পাব্লিকরে উনার যেই ভয় তার চাইতে বেশি ভয় রাহেলারে । ফুনে ঠিকমত কথাই কৈতে চাননা এখন । মাঝে মাঝে মনে হয় রাহেলার ঘটনা উনারে না বললেই এক ভালো হৈত । আমারকি অধিকার নাই একটু সুখের ? হালার দুইন্যায় এত নিয়ম কানুনের বাহার, এত লোকলজ্জা সমাজের ডরভয় এইগুলার যাতাকলে আমার মত মাইনষের কি অবস্থা এইডা কেউ ভাবে না ক্যান ?

সাইঝাভাইরে পেলেনে তুইলা দেয়ার জৈন্য ঢাকা যাই আমি আর খুরশিদ । ঢাকায় মামা খালাদের বাসা আছে । কিন্তু গত কয়েকবছরে পাওনা ট্যাকটুকা নিয়া ঝামেলার কারণে কারো সাথে সম্পর্ক খুবেকটা ভালো নাই । জীবনে প্রথম হোটেলে থাকি তিনজন । ফেলাইটের দিন ফিরা যাওনের সময় খুরশিদ কয় ঢাকা আইছসতো অনেক দিন পর । চল একদিন থাইকা ঘুইরা টুইরা যাই । সারাদিন দুইবন্ধু মিলা চিড়িয়াখানা চন্দ্রিমা উদ্যান সংসদ ভবন ঘুইরা দেখি । চন্দ্রিমা উদ্যানের গাছে গাছে জোড়া দেইখা আমার খালি হিংসা লাগে । নিজেরে খালি খালি লাগে ।

রাইতে হোটেলে থাইকা পরদিন ফিরা যামু বৈলা ঠিক করি । পায়েরখোলা মাদরাছার হুজুর খুরশিদ রাইত নয়টার দিকে প্রস্তাব করে রুমে ভাড়া মাগি আননের । আকাশ থাইকা পড়ি আমি । ধুর । ছিছি কি কইস এইসবের পরে , হাফ-গিরস্ত মাইয়াও নাকি আছে শুইনা শেষে রাজি হৈয়া যাই আমি ।

খুরশিদের পরে ঘরে ঢুইকা আমি কি কমু বুইঝা উঠতে পারি না । জানি ঘটনা ক্যামনে কি । কিন্তু কিছু একটাতো কৈতে হয় । মাইয়ারে জিগাইলাম, নামায পড়নি তুমি ?
-------------------------------------------------
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৮
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28888324 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28888324 2008-12-26 19:33:11
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৮
হাজিয ভাই মেম্বার হওনের পরে টুকটাক কন্টেকটারির কামও শুরু করি আমি । আমাগো গেরামের রাস্তাঘাট সব কাঁচাই আছিল । পাকা করনের মত বড় কামে হাত দেওনের মুরোদ আমার আছিল না । কাঁচা রাস্তারই টুকটাক সংস্কার করনের কাজ পাই একটা । ভালো পরিমান লাভ হৈতে থাকে । গেরামের বিভিন্ন বিচার সালিশে ডাক পড়ে আমার । হাফিয ভাইয়ের সাথে সেইগুলাতে যোগ দেওনে গেরামে একটু সম্মান বাড়ে । হাফিয ভাইয়ের বাড়ী্তে আসা-যাওয়াও বাড়ে । শিরিন ভাবী মহিলা মাদরাছায় পড়াশোনা করা মাইয়া । গেরামের সাধারণ মাইয়াগো তুলনায় ইসমার্ট । কথাবার্তায় সপ্রতিভ । তার লগে ঠাট্টা কৈরা মজা আছে । বুঝেন ভালো । তাকে আমার অনেকটা আয়েশার মতই মনে হয় । তয় কুলে পুলা থাকা সত্বেও আয়েশার মত তার শাড়ীতে বাচ্চা পুলাপানের মুতের গন্ধ নাই । একদিন হাফিয ভাইয়ের বাড়ীতে গিয়া , দেখি উনি নাই । আসলে থাকার সম্ভাবনা কম জাইনাই গেছিলাম । ভিতরের ঘরে গিয়া দেখি খাটে কাইত হৈয়া বাচ্চারে বুকের দুধ খাওয়াইতেছেন । ফাইযলামি কৈরা বলি সব কি বাচ্চাই খাইব নাকি ? আর মাইনষে কি উপাস দিবো ? শিরিন ভাবী বলেন, আর মাইনষে খাইতে না চাইলে আমি কি করমু । মনে হয় হাফিয ভাইয়ের কথা কৈলেন । তাও আমার একটু সাহস বাড়ে ।

অঞ্চল জুইড়া মিডেলিস্টে যাওনের হিড়িক শুরু হৈছে অনেক আগেই । আমাগো পরিবারে মুরোদ নাই বৈলা বড় ভাইয়ের বাইরে কাউরে পাঠানো যায় নাই । বড় ভাই তাও যে দুইবার গেছিলেন তাও কেবল তিন মাসের লাইগা । এখন বিভিন্ন খাতে আমার হাতে একটু ট্যাকা আসা শুরু করলে , মেঝ ভাইরে ছৌদি পাঠানোর ব্যবস্থা করার চিন্তা আসে মাথায় । যদিও টুকটাক কর্জ আবার করতে হয় , তারপরও সেইগুলা মাইনা নিয়া মেঝ ভাইরে পাঠাইয়া দেই । ছয় মাসের মইধ্যে মেঝ ভাই বড় ভাইরেও নিয়া যান । আমার ঘরে লুকজন কমতে থাকে । ছুড ভাইডিরে দোকানে বসাইয়া দেওনের পরে আমার হাতে অবসর সময় জমতে থাকে । এরই মইধ্যে মুবাইল ফুন চৈলা আইসছে গেরামের মাইনষের হাতে হাতে । মাইঝা ভাই ছৌদি যাওনের মাস ছয়েক পরে আমিও একখান খরিদ কইরলাম । ঘরে ঘরে মুবাইল থাকাতে বাকীর ট্যাকার জৈন্য এখন আমার বাড়ীতে বাড়ীতে যাওন লাগে হয় না আগের মত অত বেশি । পরথম পরথম একটু ঝামেলা হৈলেও অল্পদিনের মইধ্যেই নাম্বার ছেইব করা , মিছকল দেয়া, অপরিচিত নাম্বারে ফুন কৈরা মাইয়ামানুষ হৈলে খাজুইরা আলাপ করার মত প্রাথমিক জিনিসগুলা শিখা ফালাই ।

শিরিন ভাবীর সাথে মুবাইলে আলাপ আমার জৈমা উঠে । উনার দাম্পত্য জীবনের খুটিনাটি টুকটাকও আমি জানা শুরু করি । হাফিয ভাইয়ের সাথে কাইজ্যা বা মিলমিশের খবর, কুথায় গেল না গেল এইসব হাবিজাবি নিয়া অনেক কথা হয় । পিচ্চির শইল খারাপ করলে আমারে খবর দেন ডাকতরের কাছে নিয়া যাওয়ার জন্য । হাফিয ভাই ব্যস্ত মানুষ , অত সময় নাই উনার । আমি সাহায্য করাতে উনি উল্টা খুশিই হন । উনি না থাকনের সময়েই আমি বেশিরভাগ সময় যাওয়া শুরু করি । শিরিন ভাবীর সাথে এখন মশকরাও করা হয় বেশি । কখনো গিয়া উনার পাশে শুইয়া থাকি । পরথম পরথম একটু গাঁইগুই করলেও এখন তেমন কিছু কন না । কিন্তু এর বেশি যাইতে আমার সাহস হয় কম । আস্তে আস্তে দুইজনের রাইটের কাজকারবার নিয়া আলাপ হৈতে আরম্ভ করলে আমার সাহস বাড়ে একটু । আন্জা কৈরা ধরা একটু দুধে হাত দেওয়াতে আপত্তি করেন না ভাবী ।

এর মইধ্যে হঠাৎ দেশ জুইড়া বোমা ফাটা শুরু করে । নানান জায়গায় । এমন সব দলের নাম আইসতে থাকে যাগো কথা জীবনে কখনো শুনি নাই । মোন্তাজির আইসা একদিন শরিয়ত দলের খালি রসিদ সবগুলা লৈয়া যাই । ওরে জিগাই , এই অরাজকতার খবর কিছু জানে নাকি । মোন্তাজির খোলাসা কৈরা কিছু কয় না । খালি কয় আল্লার আইন প্রতিষ্ঠা করনের কাম অত সোজা না । অনেক নাম নিয়া অনেকে তাগো নিজেগো মত কাম কৈরা যাইতাছে । পদ্ধতি একেকজনের একেকরকম হৈলেও সবার মূল উদ্দেশ্য এক । তয় গোপনীয়তা এখন নাকি খুব দরকার । কাম গুছাইয়া আননের আগে পুরাপরি প্রকাশ পাইলে সমস্যা আছে । আমারে বলে পরের নির্দেশ না পাওন পইর্যন্ত শরিয়ত পার্টির কথা আর কাউরে না কৈতে । আলুচনাও করনের দরকার নাই । এইগুলা ঠিক হৈতাছে না বলাতে মোন্তাজির খেইপা যায় । ঠিক বেঠিক অত তাড়াতাড়ি বলনের কি হৈল । বেদাতি আইন দিয়া বিচার চালাইলে সেই বিচার আল্লার মোমিন বান্দা কখনো মাইনা নিতে পারে না । তোর ইমান দুর্বল বৈলা তুই সরাসরি প্রতিরোধ করতাছস না ঠিকাছে । কিন্তু যারা নিজের জীবন কুরবানি কৈরা বেদাতি আদালতের প্রতিবাদ করতাছে তাগো কামরে ভুল কৈলে নিজের ইমান নিয়া টানাটানি লাগবো । আমাগো বড়বড় সাথীরা পেপারে পত্রিকায় এইগুলা জানেনা বৈলা কৈতাছে কিল্লাইগা জিগাই মোন্তাজিররে । মোন্তাজির কয় এইগুলা উপরের লুকজন ঠিক করতাছে কখন কিভাবে কারে সমর্থন করতে হৈব । সবকিছু গুছগাছ হওনের আগ পইর্যন্ত মুখে তালা মাইরা থাকতে কয় আমারে । মুখেতো আমি এমনিতেও তালা মাইরা আছি । নিজের জীবনরে গুছগাছ করতে করতেই আমার অবস্তা কেরাসিন । মোন্তাজিররে সেই কথা কই না । ওরে বলি আইচ্ছা ঠিকাছে । এরপর মোন্তাজির আসেনা অনেকদিন । একটা ফুন নাম্বার দিয়া গেছিল । পরেরদিন ফুন কৈরাই দেখি ঐটা নাকি বন্ধ । ওর খোঁজ পাওন যায় না আর । দেশ জুইড়া শুরু হওয়া ঘটনা নিয়া আমার সন্দেহ কাটে না । সাধারণ মাইনষের উপর হামলা মাইনা নিতে আমার কষ্ট হয় । আবার আল্লার আইন প্রতিষ্ঠার লাইগা সংগ্রাম করা ইমানদারদের উপর রাগ করতেও কষ্ট হয় । ভাগ্য ভালো আমার ফিল্ডে গিয়া কাম করন লাগতাছে না আমার । দুনিয়াদারির মায়া এখনো কাটে নাই আমার । শিরিন ভাবীর লগে মশকরা করার মজা এখনো কাটে নাই ।

একদিন দুপুরে হাফিয ভাইয় বাড়ীতে গিয়া শিরিন ভাবীর পাশে শুইয়া টুকটাক কথা কৈতাছি । শিরিন ভাবী কয় মিজাজ একটু খারাপ আছে । তোমার ভাইর লগে কাইজ্যা করছি কাইল রাতে । ঘটনা কি জিগাই আমি । ঘটনা তেমন কিছু না । কাইল রাইতে শুইয়া আছিলাম । ঘুম প্রায় আইসা যায় এরকম অবস্থা । তোমার ভাই আইসা শুরু করল খোঁচানি । আমি কই আইজকা থাক । হেয় শুনল না । ওমা পরে কাপড় খুইলা দুই মিনিটের মইধ্যেই শেষ । মিজাজ গেলো চেইতা । দিলাম আইচ্ছমত বোকা । কৈলাম আইজকা থাইক শুনলা না । খোঁচাইয়া তুললা , অথচ আমার শুরু হৈতে না হৈতেই তোমার শেষ । এইরকম হৈলে খোঁচাইলা কিল্লাইগা । মনের মইধ্যে কু-ডাক শুরু হৈয়া যায় আমার । খালেদার কথা মনে হয় । একটু পিছাইয়া আমি উইঠা যাই বিছানা থাইকা । আত্নবিশ্বাসের অবস্থা এমনিতেই বারোটা আমার । আবার ঝাড়ি খাওনের মত অবস্থা নাই । ভাবীরে মিজাজ ঠান্ডা করতে বৈলা আমি বাইর হৈয়া যাই ।
এইখানে গুতা দিয়া হুদাহুদি শিং না ভাঙনের কাম ।

মুবাইলে রাশেদা আপারে ফুন কৈরা তার সাথে খাজুইরা আলাপ করি , সেই ভালো । রাশেদা আপা আমার লতায়পাতায় চাচাত বৈন । জামাই শিপে কাম করত । মাস ছয়েক আগে কি একটা দুর্ঘটনায় মারা যান । ছুড একটা মাইয়া নিয়া এখন বাপের বাড়ীতেই আলাদা একটা ছুড ঘরে থাকেন । তার কাছ থাইকা ফুনে শইল্যের বিভিন্ন না জানা ব্যাপার স্যাপার শিখি আমি ।
--------------------------------------------------
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৭
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28887865 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28887865 2008-12-25 19:07:32
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৭
মোন্তাজির বলে দ্বীন কায়েমের বড় কামে এইসব ছুডখাড বিরোধ ভুইলা যাইতে হৈব । অন্তত দ্বীন পুরাপুরি কায়েম হওন পইর্যন্ত । একবার আল্লার আইন চালু হৈলে তারপর মজলিসে শুরার মাইধ্যমে এইসব টুকিটাকি সমস্যার সমাধান বাইর করা যাইব । তখন যারা শুরার স্বিদ্ধান্ত মানব না তাগো বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওন যাইব । এখন তো জাহেলি সরকারের বেদাতি বেশরিয়তি আইনের লাইগা এইসব ব্যাপার তো দুরের কথা কাদিয়ানি আহমদিগোরেও কিছু কওন যায় না । আল্লার আইন একবার প্রতিষ্ঠিত হৈলে কাদিয়ানিয়া পলানির জায়গা পাইব না । ইছলামে মাইয়ালুকের শাসনের বিরুদ্ধে কড়া মানা আছে ঠিক কথা । কিন্তু একটা বড় উদ্দেশ্য সামনে নিয়া ছুটখাট উল্টা কাম করতে নবিরই অনুমতি আছে । সাহাবারা এইরকম করছেন তার অনেক উদাহরণ আছে । দ্বীন কায়েমের বৃহত্তর উদ্দেশ্য মিছা কওনও জায়েয আছে । তয় নিয়ত ঠিক থাকন লাগবো । অন্তর পরিষ্কার থাকন লাগবো । একই উদ্দেশ্য নিয়া অনেক ভাগে অনেকে কাজ করতাছে । অরা সব আমাগো ভাই । একই পথের মোজাহিদ ।

আশেপাশের গেরামে আমার পরিচিতি হৈয়া যায় বিএমপি হুজুর বৈলা । আমাগো অঞ্চল থাইকা নমিনেশন বিএনপির লুক পায় বৈলা আমার কাজ করন লাগে ধানের শীষের পক্ষে । তাই এই পরিচয় জুটে । আমি তেমন একটা পাত্তা দিই না । কেউ কেউ খ্যাপায় বেডির দলের জৈন্য আমি ভুট চাই কিল্লাইগা বৈলা । তাগোরে বলি দুইডা রাস্তা যখন খালি, একটাতে গু আরেকটাতে মুত । কুনডাতে যাবা মিয়া । সবাই কয় মুতেরডাতে । আমি কই তাইলে বুঝ এইবার আমি কিল্লাইগা বেডির পক্ষে ভুট চাই । দোকানে লুকজন সদাইপাতির লাইগা আইলে আমি তাগোরে বুঝাই । বিগতদিনে আল্লাওয়ালা লুকের বিরুদ্ধে দাড়িটুপিওয়ালা লুকের বিরুদ্ধে কি অইত্যাচার নির্যাতন চলছে তার ছবি দেখাই , পেপার কাটিং দেখাই । যদিও আমি নিজে কিছু দেখিনাই তাও মোন্তাজিরের কাছ থাইকা সেইসব কথা শুইনা আমার গায়ের লোম খাড়া হৈয়া গেছিল । আমার গলায় তাই দরদের ঘাটতি থাকেনা লুকজনরে বুঝানির সময় । বুড়া লুকজনরে বুঝানি যায় । যেইগুলি মসজিদে গিয়া পইড়া থাকেন নামাযের এক ঘন্টা আগে থাইকা সেইগুলিরে । জুয়ান পুলাপাইন খালি ফাইজলামি করে । কথার মাইঝখানে উল্টাপাল্টা কথা শুরু কৈরা দেয় । একদিন সকালে গিয়া দেখি দোকানের পিছনের বেড়াতে দা দিয়া কোপ দেয়ার দাগ । চুরি সাধারণত হয় না আমাগো এইখানে । কেউ ইচ্ছা কৈরা করছে । দোকানে ঘুমানির ব্যবস্থা করি । পরদিন থাইকা দোকানেই ঘুমাই ।

ইলেকশনের দিন দোকান চালু রাখলেও ছুড ভাইডিরে বসাইয়া দিয়া আমি ঘুরি পুরা গেরামে ঘুরি । মহিলাগো লগে আমার চেনাজানা অনেকদিন থাইকাই । বাকীর ট্যাকার জৈন্য যাইতে হয় নাই এমন ঘর খুব কম । সবার কাছে দ্বীনের পক্ষ থাইকা ভুট চাই । সন্ধ্যা থাইকা শুরু হয় রেজাল্ট শুননের পালা । পাশের চা দোকানে টিভি চালাইন্যা । দোকানে থাইকাই বুঝা যায় কুনডাতে কেডা জিততাছে । পরথম দিকে দুরুদুরু বুক নিয়া দেখলেও আস্তে আস্তে খালি আমার দলেরই জিতার খবর আসা শুরু করে । সারারাইত চায়ের দোকান খুলা থাকে । আমিও খুলা রাখি আমার দোকান । দুইতিন সপ্তাহ পইর্যন্ত ইলেকশনের দিনরে আমরা ঈদের দিন বৈলা ডাকি ।

মোন্তাজির আসে ইলেকশনের কয়েক সপ্তাহ পর । ইলেকশন নিয়া ওর দেখি তেমন উৎসাহ নাই । আমি অনেক উৎসাহ নিয়া কথা কৈলেও কয়েক কথার পর কথা আগায় না । মোন্তাজিররে আমি বলে শরিয়ত পার্টির পরের কামের কথা । মোন্তাজির কয় শরিয়ত পার্টি তার নিজের উদ্দেশ্য নিয়া কাম কৈরা যাইব । ইলেকশনের কাম ভালোভাবে গেছে । কিন্তু এইটা শরিয়ত পার্টিন মুল এজেন্ডা না । কাম হৈয়া গ্যাছে বৈলা বৈসা থাকলে চলব না । নিয়মিত পার্টি মেম্বারগো থাইকা চাঁদা নেয়া হৈতাছে কিনা, রসিদে সই নেয়া হৈতাছে কিনা জিগায় । ইলেকশনের কামে পুরা মনোযোগ দিয়া দেয়াতে সেইদিকে আমার খেয়ালই ছিল না । ঠিক করি কয়েকদিনের মইধ্যেই আবার কাম শুরু করতে হৈব । কিন্তু পার্টির পেলানের কিছু কয় না মোন্তাজির । আমারে আমার কাম ঠিকমত কৈরা যাইতে বলে । সে নিজেও নাকি তেমন ভালোমত কিছু জানে না । ফিলিস্তিনে একসাথে যুদ্ধ করা মোজাহিদগো অনেকেই ফিরা আইসা দলে যুগ দিতাছে । উপরের কমিটি ঠিক করব কখন কি করন যায় । নিচের দিকে খবর আইতে আরো অনেক সময় লাগবো ।

পুরান কামে আমার আবার নতুন কৈরা লাগতে হয় । চাঁদা উঠানিটা তেমন কিছু না । কারে কাছে আমি একবারে বেশি দুইবার চাই না । ট্যাকা নিয়া সমস্যা নাই সেইটা মোন্তাজির এইবারও বৈলা গেছে । খালি দরকার হৈল সমর্থন আর রসিদে সই । বাকীর ট্যাকা উঠানির লাইগাতো আমি গেরামে গেরামে এমনিতেই ঘুরি । মোন্তাজির বৈলা গ্যাছে মহিলাগোরেও কৈতে শরিয়ত পার্টির কথা । আমি তেমন বেশি কাউরে কই না । সবার কাছে কৈয়া বেইল পাওন যাইব না । মোন্তাজিরতো আর সব খবর জানে না । বিকালে মাঝে মইধ্যে গেরামে বা গেরামের বাইরে গেলে লুকজনের কাছে বলি । তাও নামায পড়া বা মাথায় টুপি নাই এইরকম লুকজনের কাছে দাওয়াত দেওনের সাহস করি না । গেরামের মাদরাছার উসিলায় যাগো লগে টুকটাক পরিচয় আছে তাগো সাথেই বেশি আলুচনা করি এইগুলা নিয়া ।

প্রায় বচ্ছরখানেক চৈলা যায় এমন কাজে । এর মইধ্যে খুরশিদ এর মাদরাছা থাইকা মাঝখানের এক বচ্ছর না পাওনের পর আবার বড় ভাইরে পাঠানির ব্যবস্থা করন যায় । সেইবারে অবশ্য ট্যাকা পয়সা নিয়া হিসাবে আমি মনে হয় একটু বেশিই গোলমাল কৈরা ফেলি । মাদরাছারে শেষ পইর্যন্ত কিছু দেওন যায় না । মাটির ঘর ভাইঙা ইটের ঘর করনের কামে অনেক ট্যাকার এদিক সেদিক হৈয়া যায় । মোহতারাম ছাবের সেই পন্চইশ হাজার এখনো শুধ করা হৈল না । তাও কিছু বড় বড় কাম করা গেছে দেইখা আমার একটু নিঃশ্চিন্ত লাগে ।

এর মইধ্যে মাইঝা ভাইর এক পুরান দুস্তের সাথে খাতির হৈয়া যায় আমার । মাইঝা ভাই কুনো এক কারণে এক বচ্ছর খারেজি মাদরাছায় পড়ছিলেন । সেই সময়ের দুস্ত । আমি তখন গেরামের মাদরাছায় । বাল গজাইছে মাত্র । অত বেশি মনে নাই সেইসব কথা । হাফিয ভাইর বাড়িও গেরামের অন্য দিকে । বেশ কয়েক বচ্ছর ছৌদিতে থাইকা আইসা এখন ফেনীতে ফার্নিচারের দোকান করেন বড় ভাইয়ের লগে । বিয়াও করছেন দেড় বচ্ছরখানেক আগে । আমাগো সাথে তেমন পরিচয় নাই বৈলা জানি নাই । খারেজি মাদরাছায় থাকনের সময় শিবিরের সাথে যুক্ত আছিলেন । এখন পুরাতন কানেকশন গুলা আস্তে আস্তে আবার খুইজা বাইর করতাছেন । উনার বাড়িতেও আসা যাওয়া শুরু হয় মাসখানেকের মইধ্যেই ।

ভাবীর সাথে আমার খাতির হৈয়া যায় কয়েকদিনেই ।
--------------------------------------------------
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৬
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28886948 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28886948 2008-12-23 23:13:40
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৬
অনেক কথা জমা দুই বন্ধুর । রাইতে খাওনের পরে দুই বন্ধু আর দুই খালত ভাই চাইরজন মিলা রেললাইনে গিয়া বসি । ছৌদির কাহিনী শুনি মাহবুবের কাছ থাইকা । অনবরত কথা কৈয়া চলে মাহবুব । তার তিতা অভিজ্ঞতার কথা । বড় ভাইজানের বর্ণনার লগে কুনো মিল নাই । আরবের লুকজনের বাটপারি, প্রতারণা, ঘৃণার শিকার হৈতে হৈতে পরথম দুইবচ্ছরই চৈলা যায় মাহবুবের ঠিকমত একটা পেশায় সুস্থির হৈতে । বাড়ীতে অত টান নাই বৈলা এইদিকে তেমন কুনো সমস্যা হয় নাই । খালি ট্যাকা পয়সা নিয়া ঝামেলা নিয়া করলে এক কথা ছিল । কিন্তু আইনি কাগজপত্র পাসপোর্ট এইসব নিয়া পইর্যন্ত পদে পদে ঝামেলা । পদে পদে আটকাইয়া দেয় । মিছকিন বৈলা কথায় কথায় গালি দেয় । ভিক্ষা করতে গেছি ঐখানে মনে করে । হোমমেইড হিসাবে যেইসব মাইয়ারা যায় ঐগুলারে বাপপোলা সবাই যৌনদাসির মত ব্যবহার করে । আমার বিশ্বাস হয় না সবকথা । আরবের পাকপবিত্র মানুষ এইকাম করতে পারে না । হয়ত মাহবুব যেইখানে গেছিল সেইখানের এক দুইজন খারাপ আছিল । তাও নিজ চোখে যেহেতু দেখি নাই তর্ক করার কুনো চান্সতো নাই ।

মাহবুব আইছে ওর বিয়ার দাওয়াত দিতে । সামনের শুক্কুরবার বিয়া । এক বাপের এক পুলা । ঝামেলা নাই ঘরে । আর আমার মাথার উপরে আরো তিনজন । মাহবুবরে বিয়ার দাওয়াত দিতে যাওনের সময় হয়ত মাহবুবের পুলা মাইয়ার লাইগা সম্বন্ধ খুজনের টাইম হৈয়া যাইব । মাহবুব রে বলি যাব, অবশ্যই যাব । ওর আব্বা আম্মার শরীর সাস্থ্যের কথা জিগাই । আমার ছাত্রী দুইডার কথা জিগাই । দুইডাই এখন ইশকুলে যায় । ফাইভে একটা আরেকট সিক্সে । আয়েশার কথা জিগানির লাইগা আমার দিল হাঁসফাঁস করে । কিন্তু মাহবুব কুনোদিন আয়েশার সাথে আমার পরিচয় করাইয়া দেয় নাই । আমি যে আয়েশারে চিনি সেইডাও সে জানে না । কেমনে জিগাই । একবার মনে হয় মাহবুব নিজে থাইকা যেহেতু কিছু কয় না তাইলে হয়ত আয়েশার খারাপ কিছু হয় নাই । আছে ভালই । আবার মনে হয় খারাপ স্মৃতি মনে করতে চায় না বৈলা যদি চুপ কৈরা থাকে মাহবুব । সেইডাও তো হৈবার পারে । দোটানায় কিছুক্ষণ থাইকা শেষে জিগাইয়াই ফালাই । আয়েশার বিয়া হৈছে । পুলা আছে দুইডা । একটা হাঁটে । আরেকটা অখনো কুলে । হাঁফ ছাইড়া বাঁচি । অনেক আকাঙ্খিত একটা সুখবর পাইছি এমন একটা অনুভুতি হয় মনে ।

খালত ভাইডির কুনোটারে রাজী করাইতে পারলাম না । ওরা যার যার জায়গায় চৈলা গেলো । একাই গেলাম মাহবুবের বিয়াতে । মাহবুবের আম্মার সামনে যাইতে বেশ লইজ্জা লাগতেছিল । বেচারির এমন নিঃস্বার্থ স্নেহের বিপরীতে আমি মিথ্যা বৈলা পলাইলাম । আবার মনে হয় খারাপওতো করি নাই । উনাদেরকে লইজ্জার হাত থাইকা বাঁচানির জন্যই না পলাইছি । আয়েশার সাথে দেখা হয় । সন্তান কোলে । অচিন দ্বীপের সুগন্ধ এখন ওর চাইরপাশে ভুরভুর করে না । উল্টা বাচ্চা পুলাপানের মুতের গন্ধ ওর শাড়ীতে । কুলের বাচ্চাডারে কুলে নিই । আয়েশা বলে কেমন আছেন চুরা হুজুর । আমি কই কি চুরি করলাম আবার ? চুরের মত পলাইয়া চৈলা গেলেন , চুরা কমুনা তো কি কমু । আয়েশার মন এখনো আগের মতই বুদ্ধিমতী , চঞ্চল আছে । দেইখা ভালো লাগে আমার । নিঃস্বার্থভাবে কুনোপ্রকার কুচিন্তা ছাড়াই ভালো লাগে ।

জীবনে মনে হয় পুনঃর্মিলনীর স্রোত শুরু হৈল আমার । মাহবুবের বাড়ী থাইকা আসার কয়েকদিন পরে একদিন বিকালে মোন্তাজির আইসা হাজির । হালকা খোঁড়াইতে খোঁড়াইতে । বোমার ইসপ্লিন্টার নাকি কি জানি একটা ঢুকছিল ডাইন পায় । মোন্তাজিরের সেই কোমল চেহারা নাই । চোখেমুখে একটা রুক্ষতা । গালভরা চাপ দাঁড়ি বুকের প্রায় অর্ধেক পইর্যন্ত । পা আহত হওয়ার পর মোজাহিদরা কৈছে চৈলা যাইতে । মোন্তাজিররে কৈ কয়েকদিন থাইকা যাইতে । কথাবার্তা কমু । থাকেনা । এইদেশে শরিয়তী আইন চালু করার জৈন্য একটা পার্টির সাথে কাম করতাছে । বিভিন্ন জায়গায় যাইতে হয় । লুকজনরে দাওয়াত দিতাছে । আল্লার আইন প্রতিষ্ঠার জৈন্য জানমাল কুরবানী করার জৈন্য লুকজন জোগাড় করতাছে । ওর মোজাহিদী জীবনের কাহিনী শুনতাম চাই । তেমন কিছু কয় না । তাও টুকটাক যা কিছু কয় বেশিরভাগই আমি বুঝি না । আরব বলতে আমি জাইনতাম মক্কা মদিনা তায়েফ এইসব । মহরমের ঘটনা থাইকা কারবালা কুফা আর ছুডকালের উপসাগরীয় যুদ্ধ থাইকা কুয়েত বাগদাদ তেহরান এইসব । ফিলিস্তিন ইসরায়েল জেরুজালেম এইগুলার নাম শুনতাছি মাত্র কয়েক বচ্ছর ধৈরা । গাজা, রিফুজি কেম্প, নহর আল বারেদ এইগুলা নামগুলা জীবনে শুনি নাই । গাজায় নাকি যুদ্ধ হয় লুকজনের ঘর থাইকা । ঘরে থাকলে সুবিধা , ইহুদিরা ইচ্ছামত গুল্লি মারতে পারে না । সাধারণ মাইনষের উপরে পড়লে সারা বিশ্ব থাইকা চাপ পড়ে । মানুষ ঘরের মইধ্যে খাইতাছে দাইতাছে গোসল করতাছে হাগতাছে মুততাছে লাগাইতাছে এর মাইঝখানেই নাকি যুদ্ধ চলে । দ্বীনের রাস্তায় শহিদ হৈয়া যাইতে অগো ডরভয় নাই ।

আমার জীবনে কুনো রাজনৈতিক ডাইমেনশন আছিল না । ভাত কাপড় জুগাইতেই শইল শেষ, আবার দেশ দুইন্যার কথা ভাবমু কখন । আল্লার আইন শ্রেষ্ঠ আইন সেইটা জানি । আল্লার আইন মাইনা চললে অভাব অভিযোগ , দাঙা হাঙাম, চুরি চামারি এইসব কিছুই থাকবনা জানি । তয় আল্লার নবির সাহাবিগো মত ইমানের জোর আমগো নাই যে তার জৈন্য জানমাল কুরবানি কৈরা লড়াই করমু । তয় মোন্তাজির কয় যুদ্ধক্ষেত্রে জানমাল কুরবানি কৈরা যে সবাইরে লড়তে হৈব এমুন কুনো কথা নাই । যুদ্ধ গঠন করার একটা ব্যাপার আছে । এখন দুইন্যাতে অনেক প্যাঁচ । নবি-সাহাবিগো জমানা এখন নাই । মোজেজার আশা করন যায় , তয় খালি ঐটার আশায় বৈসা থাকলে চলব না । নিজেগো সামর্থ্যের মইধ্যে যা আছে করন লাগবো । নিয়ত দিয়া শুরু । নিয়ত কৈরা ফালাই আমি ।

সপ্তাহখানেক পরে বেশকিছু চাঁদার রসিদ নিয়া মোন্তাজির আসে । এর মইধ্যে অনেকের লগে কথা বৈলা রাখছি আমি । মাদরাছার পুরানা বন্ধুবান্ধব আশেপাশে যারা আছে তারা, মোহতারাম ছাব , সাধারণ মানুষ কয়েকজনের লগেও কথা হৈছে । লগে থাকব বৈলা আওয়াজও দিছে অনেকে । মোন্তাজির কয় খালি মুখের আওয়াজে তো হৈব না । সদস্য চাঁদা নেওন লাগবো মাসে মাসে । বেশি না তিরিশ ট্যাকা । গেরামের মানুষজন কিপটা, দিতে চাইব না আমি কই । মোন্তাজির কয় ট্যাকা দেওনডা বড় কথা না । রসিদ এ সই থাকলেই হৈব । ট্যাকা নিয়া আসলে তেমন চিন্তা নাই । ট্যাকা বাইরে থেকে যেগুলা আইতাছে ঐগুলাতেই অনেক । সই লইয়া যা পারে দিতে কইবি । তিরিশ ট্যাকা লিখলেই হৈব । এক্কেরে না দিলেও জোরাজুরি করনের দরকার নাই । রসিদগুলা থাকলেই হৈব । তাইলেতো কাম অনেক সোজা হৈয়া যায় আমার । ঘরের চৌদ্দ জনের নামে চৌদ্দডা রসিদ লেইখা ফালাই আমি । ট্যাকা দিইনা ।

গেরামে, পাশের গেরামে বিকালে বিকালে ঘুইরা পরিচিত লুকজনরে বুঝাইয়া কই আমি শরিয়ত কমিটির নিয়তও বাস্তবায়ন পদ্ধতির কথা । কুরান হাদিস থাইকা বুঝাই আল্লার জমিনে আল্লার আইন ছাড়া যে কুনো শান্তি নাই হেই কথা । পন্চাইশটার উপরে রসিদ লেখা হৈয়া যায় । ট্যাকা যদিও দেড় দুইশর বেশি না । দুই সপ্তাহ পর মোন্তাজির আবার আইলে রসিদগুলা ওরে দিই । সামনে নির্বাচন । শরিয়ত দলের পেলান বর্ণনা করে মোন্তাজির ।

কামে আমারেও নাকি নামতে হৈব ।
--------------------------------------------------
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৫
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28886814 http://www.somewhereinblog.net/blog/iqramrtn/28886814 2008-12-23 18:37:05
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৫
ছুডকালে মনে করতাম বিয়া করলেই পুলাপান হয় । ক্যামনে কি জানতাম না । তারপরে মনে করতাম একলগে রাইতে শুইলে মনে হয় পুলাপান হয় । আব্বা আম্মারে দেখতাম রাইতে একলগে শোয় । যাগোই বিয়া হয় তাগোরেই দেখতাম রাইতে একলগে শোয় । বাল গজানির পর খুরশিদ এর কাছ থাইকা শিখলাম ক্যামনে কি করলে