সালাম সবাইকে (মডারেটেড ব্লগ)

পশ্চিমা বিশ্বে সমসাময়িক ইসলামী ব্যক্তিত্ব - ইভন রিডলী

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

ইসলাম যেভাবে রিডলীর জীবনে আলো হয়ে এলো:

"তুমি কি জানো এই ব্যপারটি শুধু যে বিশ্বাসের সাথে জড়িত তাই নয়, বরং তা সম্পূর্ন জীবনের সাথে জড়িত। আজকে এই ক্ষনিকের ভাবনায় এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"

তালিবান এক সৈন্য যখন ইভনকে ইসলাম গ্রহন করার আহ্বান জানায় তখন কিছুক্ষন নীরব থেকে ইভন এই উক্তিটি করেন। যখন ইভন এই কথাগুলো বলছিলেন তখন তিনি তালিবানদের বন্দীশিবিরের একজন বন্দিনী। তিনি জানেন না তার ভাগ্যে কি আছে আগামীকাল। তিনি শুধু জানেন তখনও তিনি জীবিত। বন্দী শিবিরই কি তবে হবে তার শেষ ঠিকানা? নাকি তিনি ফিরে যেতে পারবেন তার প্রিয় জন্মভূমি ইংল্যান্ডে।

জীবন মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষনে থাকলেও রিডলী সাহস ও বুদ্ধি হারা হন নি। তালিবান সৈন্যটি যখন তাকে ইসলাম গ্রহনের আহ্বান জানায় তখন তিনি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে যান। তিনি ইসলাম গ্রহনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। এদিকে তালিবানদের সম্পর্কে খুব ভাল ভাবে মগজ ধোলাই দেয়া হয়েছে আফগানিস্তানে আসার আগেই। তাই কি বলবেন সে মুহুর্তে তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। সরাসরি "না" শোনার মানসিকতা কি তালিবান সৈন্যটির আছে? "না" শোনার সাথে সাথে যে রিডলীর দিকে বন্দুক তাক হয়ে যাবে না, সেই বা কে জানে? রিডলী ভাবতে লাগলেন কি বলা যায়। একেকটি মুহুর্ত মনে হচ্ছে যেন একেকটি যুগ। রিডলীর শেষ পর্যন্ত তার উচু গলা নামিয়ে নিলেন। করলেন সেই উক্তিটি:

"তুমি কি জানো এই ব্যপারটি শুধু যে বিশ্বাসের সাথে জড়িত তাই নয়, বরং তা সম্পূর্ন জীবনের সাথে জড়িত। আজকে এই ক্ষনিকের ভাবনায় এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"

আশ্চর্যের ব্যপার হল তালিবান সৈন্যটি তা মেনেও নিল। রিডলী বললেন,

"আমি যখন ফিরে যাব নিশ্চয়ই আমি এ নিয়ে পড়াশোনা করব। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি সত্য অনুসন্ধানই হবে আমার সর্ব প্রথম কাজ।"

তালিবান সৈন্যকে দেয়া সে কথা রিডলী রেখেছিলেন। ফিরে গিয়ে তিনি ইসলাম নিয়ে রিসার্চ করতে লাগলেন। তিনি তার নিজের কাছে স্বচ্ছ থাকার জন্যই তালিবান সৈন্যটির কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রেখেছিলেন - অর্থাৎ ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করেছিলেন। যেদিন বুঝতে পারেন সত্য কি, আর দেরী না করে সে সত্যের আলোকে নিজেকে আলোকিত করলেন। হয়ে গেলেন ইসলামের আরেক সেনানী।


তালিবানদের হাতে ধরা পড়ার শ্বাসরুদ্ধকর মুহুর্তগুলো:

রিডলী আফগানিস্তানে যখন পা রাখেন তখন তিনি সান ডে এক্সপ্রেসে সাংবাদিক। সে সময়টায় আর দশজনের মত তিনিও বোরখাবৃত আফগান রমনীদের নির্যাতিতের প্রতিভু মনে করতেন। সে নিয়ে আর্টিক্যাল লেখাই ছিল তার উদ্দেশ্য। কিন্তু ২০০১ সালের টুইন টাওয়ারে হামলার পরপর আমেরিকার আফগান নীতির কারনে তালিবান সরকার তার দেশে পশ্চিমা বিরোধী অভিযান শুরু করে। মোল্লা ওমর ঘোষনা দেয়, "পশ্চিমাদের কাউকে কোন আফগান আশ্রয় দিলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।" যার ফলে রিডলী আপাদমস্তক বোরখা পরিহিত হয়ে চলাফেরা করতে থাকেন। সাংবাদিকের জীবন বলে কথা। কিন্তূ শেষ রক্ষা হলো না। এক কাফেলার সাথে যাওয়ার পথে বাহন পশুটির লাফালাফির কারনে তার বোরখা সরে যায়। স্থির হতেই দেখলেন এক সুদর্শন তালিবান তার দিকে এক নয়নে তাকিয়ে। তিনি বুঝতে পারলেন ধরা পড়ে গেছেন। আশ্চর্যের বিষয়, তার মুখ থেকে হতাশা বা ভীতিজনক কোন কথা বের হল না, বরং তিনি তালিবান সৈন্যটিকে বলে উঠলেন, "মাই গুডনেস। ইউ লুক গরজিয়াস।"

এরপর শুরু হয় বন্দীদশা। তিনি নিজেও জানেন না তার ভাগ্যে কি আছে। তবে তালিবানরা প্রথম থেকেই তার সাথে খুব একটা খারাপ ব্যবহার করেনি। এটিই তাকে প্রথম ইসলামের প্রতি আগ্রহী করে তুলে। তালিবানদের সম্পর্কে তার যেরকম ধারনা ছিল তাতে রিডলীর কাছে এটা একেবারেই বেমানান যে কোন তালিবান তার সাথে কথা বলবে। ফলে তালিবানদের সম্পর্কে প্রচলিত কথার অনেক কিছুই রিডলীর কাছে বিসদৃশ ঠেকছিল। রিডলী তালিবান সৈন্যটিকে কথা দেন ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করবেন।

রিডলী তালিবানদের হাতে ধরা পড়ার কাহিনীটি প্রান্জ্ঞল ভাষায় যখন বর্ননা করছিলেন আমরা শ্রোতারা তখন মন্ত্রমুগ্ধের মত গিলছিলাম। রিডলী বলছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহুর্তগুলো আর আমরা পুরো অডিটোরিয়াম যেন চলে গেছি সেই মোল্লা ওমরের আফগানিস্তানে।স্থানী্য় একটি অনুষ্ঠানে তার তালিবান বন্দী শিবিরের অভিজ্ঞতা বলার ফাকে ফাকে রিডলী কিছু জোকস করছিলেন। যেমন, ফিমেল আন্ডার গার্মেন্টস দেখে তালিবান সৈন্যরা কেমন বিব্রত হয়েছিলো ইত্যাদি। শেষে হাসতে হাসতে মন্তব্য করলেন, "এই যুদ্ধের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। আমেরিকান সৈন্যরা এসে ফিমেল আন্ডার গার্মেন্টস দেখালেই তালিবানরা পরাজয় মেনে নিত।"

এরপর রিডলী জানালেন কেন তিনি এন্টি ওয়ার ক্যাম্পেইন করছেন। তিনি বলছিলেন, "আমেরিকার বোমা যখন আমাদের উপর পরে সেই বোমা ছিল নির্বিচার বোমা। আমরা যারা শান্তিবাদী তারা রেহাই পাইনি। পায় নি শিশুরা। কেউ নয়। বোমা চেনে না কে সন্ত্রাসী আর কে সন্ত্রাসী নয়। তাই সেদিনের পর আমি ঠিক করি আমি হব যুদ্ধ বিরোধী একজন।"

শেষ কথা:

রিডলী তার যুদ্ধ বিরোধী অবস্থানের জন্য হয়েছেন সমালোচিত। বিশেষত আল-জাজিরা থেকে তার চাকুরিচ্যুতি সম্ভবত এ কারনেই হয়ে থাকে। আর এটি গোটা মুসলিম বিশ্বে আল-জাজিরার বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরী করে।

ইসলামের মূল বিষয় যেমন সংগীত ইত্যাদি নিয়ে গায়ক সামি ইউসুফের সমালোচনা করে রিডলী একটি আর্টিকেল লিখেন। সামি পাল্টা জবাব দেন। সে বিতর্কটি তখন আমাদের মুসলিমদের মাঝে বেশ আলোড়ন তৈরী করে। রিডলীর "পপ কালচার ইন দ্য নেম অব ইসলাম" শিরোনামে লেখাটিতে রিডলী সামির বিরুদ্ধে গান নিয়ে বাড়াবাড়ির অভিযোগ করেন। সামিও উত্তর দেন এই বলে যে, না তিনি কোন ভুল কিছু করছেন না।

যে বোরখার বিরুদ্ধে ঘৃনা নিয়ে তিনি আফগানিস্তানে যান, সে বোরখার ব্যপারে পশ্চিমা দৃষ্টিভংগির ত্রুটিগুলো নিয়ে একটি আর্টিক্যাল লেখেন ওয়াশিংটন পোস্টে। তিনি নিজেও বর্তমানে হিজাব আবৃত।


 

 

  • ৩৯ টি মন্তব্য
  • ৩৮৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৪ জনের ভাল লেগেছে, ৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৫৪
comment by: হাশেম পোদ্দার বলেছেন: আগে + দিয়া যাই পরে আইসা পড়ুমনে।
২. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৩৭
comment by: মিরাজ বলেছেন: ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:০৫

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

৩. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:১৮
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: ধন্যবাদ এরকম লেখা আরো চাই
৪. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৪৪
comment by: আহমেদ মুসা বলেছেন: আপা এখন কোথায় আছেন? মানে জানতে চাচ্ছিলাম কোথাও চাকরিরত আছেন কি না? লেখা বরাবরের মত সুস্বাদু হয়েছে। +++
৫. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৪১
comment by: একেমন দেখা বলেছেন: সুন্দর। ভাল লিখার জন্য অনেক অনেক মোবারকবাদ।
৬. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৫৫
comment by: অন্যরকম বলেছেন: প্লাঁচ করলাম!


তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি আমিও একটি ফিচারে পড়েছিলাম! ধন্যবাদ আরও ইনটারেস্টিং ঘটনা শেয়ার করার জন্য। তবে আরও ডিটেইলস আশা করচি!
৭. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:১৩
comment by: আওরঙ্গজেব বলেছেন: সালাম,
এমন সুন্দর একটি বিষয় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
৮. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৪
comment by: উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে।
৯. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০২
comment by: কোলাহল বলেছেন: খুবই ভাল লাগল। আপনি এত লেখার সময় পান কি করে !
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:০৭

লেখক বলেছেন: ছুটি ছিল তাই। এখন অনেকদিন হ্য়ত বিরতি।

১০. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:১২
comment by: "কুদরত আলী" বলেছেন: বেশ বেশ তালিবানদর প্রদর্শিত ইসলাম গ্রহন। বেশ বেশহ
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:২২

লেখক বলেছেন: তলিবানদের উসিলায় কেউ ইসলাম কবুল করলে আপনার খারাপ লাগে কেন?

১১. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:০৫
comment by: আবূসামীহা বলেছেন: সময়ের কিছু সাহসী মানুষ প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে দাঁড়াতে কখনো পিছপা হননা। সন্ত্রাসবাদ আর চরমপন্থার অভিযোগের কারনে গোটা উম্মাহ্‌র রাজনৈতিক আর বুদ্ধিবৃত্বিক নেতৃত্ব যেখানে appologist/pacifist এর ভূমিকা নিয়েছে, সেখানে এই মহিয়সী নারী সত্য প্রকাশ করতে একটু ভয় পাননা।
আল্লাহ্‌ তাঁর মর্যাদাকে বাড়িয়ে দিন। আমীন!
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:১৫

লেখক বলেছেন: আমিও তাই প্রার্থনা করি। আমিন।

১২. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:০১
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: ...ফিরে গিয়ে তিনি ইসলাম নিয়ে রিসার্চ করতে লাগলেন। যেদিন বুঝতে পারেন সত্য কি, আর দেরী না করে সে সত্যের আলোকে নিজেকে আলোকিত করলেন। হয়ে গেলেন ইসলামের আরেক সেনানী।...



দারুন ভালো লাগলো...সত্যের ওপর পর্দা পরে রয়েছে...চাইলেই তাকে উন্মোচিত করা যায়...
১৩. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২০
comment by: সাঈফ শেরিফ বলেছেন: প্রায় অর্ধযুগ আগের বাসি গল্প। প্রথম আলো তে এসেছিল। রিডলি কিন্তু তালেবানদের পছন্দ করে বা করতেন, এটা পুরোপুরি ভুল। তিনি তার অপছন্দের কথাই বলবেন। ইসলাম গ্রহন কিছুটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

যাই হোক তিনি দেখতে কিন্তু বেশ।
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫০

লেখক বলেছেন: আমি তো কোথাও বলিনি তিনি তালিবানদের পছন্দ করতেন। তবে যে স্টেরিও টাইপড ধারনা তাকে দেয়া হয়েছিল তালিবানদের সম্পর্কে তা ছিল ভুল।

আর আমি আমার দেখা রিডলীর বক্তব্য অংশ তুলে ধরেছি। তা প্রথম আলোতে কি করে যাবে। তিনি যখন এখানে আসেন, আমিও তখন তার বক্তব্য শুনতে যাই। হোক না আগের, তাও তার নিজের মুখ থেকে শোনা অনেক বেশী থ্রিলিং।

১৪. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩৮
comment by: কণা বলেছেন: উনার সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি "পপ কালচার ইন দ্য নেম অব ইসলাম" লেখাটির মধ্য দিয়ে. . . অসাধারণ এক মহিলা ।


ধন্যবাদ লেখাটির জন্য + :)

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও পড়ার জন্য ধন্যবাদ

১৫. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৫৮
comment by: মুনশী বলেছেন:


ধন্যবাদ দিলাম খালাম্মা
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:২০

লেখক বলেছেন: ওকে। ধন্যবাদ গ্রহন করা হল।

১৬. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪৯
comment by: ফারজানা১৬ বলেছেন:
তালেবানদেরকে নিয়ে সরাসরি আফগানদের সাথে আমার কথাবার্তা নিয়ে একটা পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে।তাই বিস্তারিত কমেন্ট করছিনা।
প্রথমে আমার ধারনা ছিল তালেবান রা আসলে মিডিয়ার তথ্য সন্ত্রাসের শিকার, ইসলামের কথা বলছে তাই ওদের উপর এত আক্রোশ মিডিয়ার।তাই ওদের প্রতি আমার একটা সিম্প্যাথি ছিল। কিন্তু এখন তালেবানদের ব্যাপারে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত সম্পূর্ন নেগেটিভ। ইসলামকে ওরা চূড়ান্ত রকম বর্বরতার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।- প্লীজ, মিডিয়া থেকে শুনে নয়, সরাসরি তালেবানদের অত্যাচারের শিকার বেশ কিছু আফগানের সাথে কথা বলার পর বলছি। তাছাড়া মরুভূমির মানুষ হওয়ার কারনে প্রকৃতিগতভাবেই ওরা নিষ্ঠুর প্রকৃতির।

ওরা ওদের দেশের জন্যে যুদ্ধ করতেই পারে। ওরা ওদের দেশ বাইরের সৈন্যদের হাতে কেন তুলে দিবে? আমরা দেইনি, ওরাও দিবেনা। কিন্তু সমস্যা হল, ওদের যুদ্ধটা আমাদের মত অনেক সাধারন মুসলিমের কাছে ইসলামের যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মনে করছি তালেবানরা ইসলামের ধারক।

ইম্পর্ট্যান্ট কথা হল- তালেবানরা মুসলিম, কিন্তু তাদের কাছে ইসলাম নেই।

ইভন রিডলীর সম্পর্কে কোনো কমেন্ট করছিনা। হতে পারে তিনি সত্যিকার ইসলামের ধারক কোনো তালেবানের সাক্ষাত পেয়েছিলেন। বা হতে পারে পরবর্তীতে তার বস্তুনিষ্ঠ স্টাডি তাকে ইসলাম গ্রহনে সহায়তা করেছে। হতে পারে অনেক কিছু। তবে আমি যেহেতু জানিনা আসলে কী তাই সে সম্পর্কে নো কমেন্টস।


০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: ইভন একজন সাধারন যোদ্ধা তালিবানের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তিনি কোথাও তালিবানদের সমর্থন করেন নি। তিনি করেছেন বুশ-ব্লেয়ারের বিরোধিতা এই ভাবে যে, তালিবানদের নিন্দা করার আগে বুশ-ব্লেয়ারের নিজের দিকটা দেখা উচিত।

তিনি তার নিজের কাছে স্বচ্ছ থাকার জন্যই তালিবান সৈন্যটির কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রেখেছিলেন - অর্থাৎ ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করেছিলেন।

১৭. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:১৫
comment by: উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আমার পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আমি তালিবানদের কি চোখে দেখি?

আমার তালিবানদের উপর কোন কালেই কোন সিম্প্যাথি নাই। নীচে তালিবানদের কিছু সুস্পষ্ট ইসলাম বিরোধী কাজ:

১। ইসলাম কাউকে মুরতাদ ঘোষনার অনুমতি দেয় না। অন্যদিকে তালিবানরা প্রতিপক্ষ কাজাকদের কাফের/মুরতাদ হিসেবে গন্য করত।

২। দাড়ি রাখাসহ সাধারন সুন্নাহ গুলো ইসলামী আইনের আওতাভূক্ত নয়। তারা তাই করেছিল।

৩। মেয়েরা বাইরে গেলে নানান রকমের কটুক্তি করত। যা ইসলাম সমর্থন করে না কারন শোয়াইবের দুজন কন্যার পানি আনার ঘটনা কোরানে বর্নিত।

৪। মানবতা বিরোধী কাজ তো আছেই।

এগুলো সত্য।

তবে মিডিয়ায় দেখা তালিবান আর বাস্তবে দেখা তালিবান হয়ত এক নয়। বাস্তবের তালিবান পূর্নাংগ, মিডিয়ার তালিবান খন্ডিত।
১৮. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:১৯
comment by: "কুদরত আলী" বলেছেন: শেষ লাইনে কি বলতে চাইলেন বুজাইয়া কন আপা
০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:২৯

লেখক বলেছেন: মিডিয়াতে বা সেকেন্ড হ্যান্ড নলেজে কখনও সম্পূর্ন ছবি পাওয়া যায় না, যা পাওয়া যায় নিজের সরাসরি অভিজ্ঞতায়।

১৯. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:



পোস্টে রিডলীর কথাই প্রধান আলোচ্য। তালেবানরা যে সত্যকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছে, তা এসেছে প্রাসঙ্গিক হয়ে।

তালেবানরা তো সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নক। জিওগ্রাফীক্যাল ইনফ্লয়েন্স রয়েছে তাদের চরিত্রে। ওরা বাই নেচার দুর্ধর্ষ টাইপ। পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশের পাঠানগুলো একই রকম। ইসলামী শরীয়া মোতাবেক আচরণবিধির চাইতে ওরা পাঠানী রেওয়াজকে গুরুত্ব দেয় বেশি। ব্যাক্তিগতভাবে আলাপ করেই ওদেরকে বুঝেছি।




আর তালেবানদেরকে ইসলাম এ্যালার্জি মিডিয়া যে অতি মাত্রায় নিগেটিভলি তুলে ধরেছে এটাও সত্য।
০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সারোয়ার ভাই। আসলে আফগান সমস্যা আসলে জাতিগত সমস্যা। অনেক জাতি একসাথে থাকলে যা হয় আর কি।

২০. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
comment by: "কুদরত আলী" বলেছেন: ফারজানা তো ফারসট হ্যান্ড কমেনট দিলো

ফারজানা১৬ বলেছেন:
তালেবানদেরকে নিয়ে সরাসরি আফগানদের সাথে আমার কথাবার্তা নিয়ে একটা পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে।তাই বিস্তারিত কমেন্ট করছিনা।
প্রথমে আমার ধারনা ছিল তালেবান রা আসলে মিডিয়ার তথ্য সন্ত্রাসের শিকার, ইসলামের কথা বলছে তাই ওদের উপর এত আক্রোশ মিডিয়ার।তাই ওদের প্রতি আমার একটা সিম্প্যাথি ছিল। কিন্তু এখন তালেবানদের ব্যাপারে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত সম্পূর্ন নেগেটিভ। ইসলামকে ওরা চূড়ান্ত রকম বর্বরতার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।- প্লীজ, মিডিয়া থেকে শুনে নয়, সরাসরি তালেবানদের অত্যাচারের শিকার বেশ কিছু আফগানের সাথে কথা বলার পর বলছি। তাছাড়া মরুভূমির মানুষ হওয়ার কারনে প্রকৃতিগতভাবেই ওরা নিষ্ঠুর প্রকৃতির।

ওরা ওদের দেশের জন্যে যুদ্ধ করতেই পারে। ওরা ওদের দেশ বাইরের সৈন্যদের হাতে কেন তুলে দিবে? আমরা দেইনি, ওরাও দিবেনা। কিন্তু সমস্যা হল, ওদের যুদ্ধটা আমাদের মত অনেক সাধারন মুসলিমের কাছে ইসলামের যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মনে করছি তালেবানরা ইসলামের ধারক।

ইম্পর্ট্যান্ট কথা হল- তালেবানরা মুসলিম, কিন্তু তাদের কাছে ইসলাম নেই।

২১. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:০২
comment by: উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: এ নিয়ে আর আলোচনা নয়। আমার লেখা রিডলীকে নিয়ে। সেটা না করে এখন তালিবানদেরকে আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু করা হয়েছে। আর কিছু বলতে চাইছি না। রিডলীর স্পীচ আমার কাছে ভাল লেগেছিল। ব্যস। এটি আপনাদের কাছে যদি ভাল না লাগে তবে না লাগবে। সবার সব কিছু ভাল নাও লাগতে পারে।
২২. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:০৫
comment by: "কুদরত আলী" বলেছেন: আলোচনা বন্ধ হওয়াতে বিমল আনন্দ পাইলাম
২৩. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:০৮
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


ছি ছি রে কুদরত আলীর মাথায় এতো উকুন!!!!
২৪. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১০
comment by: "কুদরত আলী" বলেছেন: ছালুয়ারে উকুন কমেনটে বিমল আনন্দ পাইলাম
২৫. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৫৮
comment by: ফারজানা১৬ বলেছেন:
কুদরত আলী দেখি আমার কমেন্টকে ব্যবহার করতে একটা ট্রাই দিয়েছিল!
উম্মু আব্দুল্লাহ, আমার মনে হয় আমার কমেন্টের নীচে আপনার যে কমেন্টটা তা এরকম স্পষ্টভাবে আপনার লেখার শুরুতে ব্র্যাকেটে বা অন্য কোনোভাবে লেখার মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে ভুল বুঝাবুঝির সুযোগ থাকবেনা।
০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:১১

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে তাই করব।

০২ রা জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:১৯

লেখক বলেছেন: আসলে ইভন রিডলী অনেক পরিচিত মুখ। তার বিশ্বাস তিনি খোলামেলা ভাবেই বলে থাকেন। তার নিজস্ব সাইট রয়েছে। সুতরাং তার দর্শন জানতে চাইলে যে কেউ সেখানে যেতে পারেন।

আমি এই লেখাটি আমার দেখা তার স্পীচের উপর ভিত্তি করে লিখেছি।

২৬. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৩০
comment by: নীরব পাঠক বলেছেন: ইভান রিডলি ওয়েবসাইট হল http://www.yvonneridley.org/
পপ কালচার ইন দি নেম অফ ইসলাম এর লিংক হল Click This Link

আগ্রহীরা দেখতে পারেন।
লেখককে ধন্যবাদ! এই মহিয়সী নারীকে ইসলাম গ্রুপের কাছে এত সুন্দরভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।
জাযা-কাল্লাহু খাইর!
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।

 

 


শুধুই শুন্যতা।

পরম করুনাময়, আমায় সাহায্য কর......................................
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৫১৭২