বুয়েটে আমার দেখা রাজনীতি - পর্ব ২
১১ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:০২
গত কিস্তি "বুয়েট স্মৃতিচারন" ( Click This Link) লেখার পর আজ মনে হচ্ছে লেখাটা আসলে অসম্পূর্ন রয়ে গেছে। অনেক টুকরো ঘটনার কিছুই সেখানে লেখা হয় নি। যা লিখেছি তার বাইরে রাজনীতি সংক্রান্ত আরো বহু ঘটনা আমার স্মৃতিকে আলো করে আছে। তার কিছু কিছু ঘটনা না বলাটা অন্যায় হয়ে যায়।
বুয়েট স্মৃতিচারনের গত কিস্তিতে ছাত্র লীগকে আমাদের সময়ে বুয়েটের দুর্বলতম ছাত্র সংগঠন বলে উল্লেখ করেছিলাম। এতে কোন ভুল আছে বলে মনে করি না। একমাত্র সংখ্যালঘু কিছু ছাত্র ব্যতীত সাধারন ছাত্রদের মাঝে লীগের কোন জনপ্রিয়তা কখনও দেখিনি। যে জনপ্রিয়তা ইউনিয়ন, ছাত্রদল, এমন কি জাসদের পর্যন্ত ছিল। তবে ছাত্র লীগের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপের কথা স্মৃতিতে অম্লান। সে ঘটনা ছাত্রলীগকে লাইম লাইটে নিয়ে এসেছিলো। তখন বুয়েটে কনভোকেশনের আয়োজন চলছে। স্মরনকালের প্রথম কনভোকেশন। বেশ বড় সড় আয়োজন। প্রেসিডেন্ট আসবেন। সবাইকে সার্টিফিকেট দেবেন। এই কনভোকেশনের সময় প্রেসিডেন্টের বুয়েট সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হল ক্যাম্পাসে ছাত্র লীগের প্রতিবাদ মিছিল, আন্দোলন।তাদের দাবী রাজাকার রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রতিহত করতে হবে। নইলে কনভোকেশন করতে দেয়া হবে না। আমরা রুদ্ধ শ্বাসে অপেক্ষা করছি কি হয় দেখার জন্য। সত্যিই কি কনভোকেশন পন্ড হবে? না, তা হয় নি শেষ পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস আসেন নি। বুয়েট কতৃপক্ষের অনুরোধে কনভোকেশনে প্রধান অতিথি হন খালেদা জিয়া। বুয়েট কতৃপক্ষ কনভোকেশন নিয়ে কোন ঝামেলায় জড়াতে চান নি। আর এদিকে রাজাকার প্রেসিডেন্টকে প্রতিহত করার কৃতিত্ব দাবী করে ছাত্রলীগ বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা চালায়। সেসময়টা ক্যাম্পাসে লীগের বেশ তৎপরতা দেখা যায়।
আগেই বলেছি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতৃত্বই ইউকসুতে বেশী সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব করেছে। তবে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়ে স্ক্যান্ডাল একেবারে কম ছিল না। বিশেষত এক বি এন পি সাংসদের নামে স্ক্যান্ডাল শুনেছিলাম সে নাকি টেন্ডারের হিসাব মেলাতে পারছিল না। যার ফলে কতৃপক্ষ তার সার্টিফিকেট আটকে দেয়। পরে হিসাব মেলানোর পর তার ডিগ্রি দেয়া হয়। এটা শুনে আমার বেশ অবাক লেগেছিল। উনাকে আমি দেখেছিলাম বেশ ভদ্র হিসেবে। এত ভদ্র একজনের বিরুদ্ধে কি করে এমন অভিযোগ উঠতে পারে?
বুয়েটের শক্ত প্রশাসনের কারনে ভাংচুরের রাজনীতি খুব বেশী হতে পারে নি কখনই। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আছে। শিবিরের কিছু ছেলের বিছানা বই পোড়ানো হয়েছে। যেটা বুয়েটের জন্য লজ্জাকর। সব সময় এসব ঘটনার সঠিক বিচার করা সম্ভব নয়। কিছু ঘটনা বিচারের বাইরে রয়ে যায়।
আরো অনেক কিছুই মনে পড়ছে এখন। মনে পড়ছে বুয়েটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুলোর কথা। ইউকসুর সার্থকতা এখানে। বেশ ভাল রকম প্রোগ্রাম করত ইউকসু। একবার কোন এক প্রোগ্রামে নূরুল উলা স্যার এসেছিলেন। প্রোগ্রামটা অবশ্য ইউকসুর ছিল কিনা তা মনে করতে পারছি না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা এবং সেই অভিজ্ঞতার বলছিলেন। তার এক ফাকে তিনি বুয়েটের পরিবেশের বেশ প্রশংসা করছিলেন। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পর যখন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে দালাল ধর দালাল মার দালাল খোজ এরকম অভিযান চলছে, তখন বুয়েট নাকি একদম শান্ত। বুয়েটে পাকিস্তানপন্থীরা কখনই মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের বিরক্ত করে নি, আবার উনারাও কখনও পাকিস্তানপন্থীদের উপর চড়াও হন নি। বুয়েটের এই পরিবেশ সব সময়ই চমৎকার, সমঝোতাপূর্ন।
শেষ একটি স্মৃতি কথা দিয়ে ইতি টানছি আমার বুয়েট রাজনীতি বিষয়ক স্মৃতিচারন। বুয়েটে শক্ত প্রশাসনের মাঝেও শিবির বিরোধিতা কিছু কম ছিল না। শিবিরকে কোন তৎপরতা চালাতে দিত না বামপন্থী ছাত্ররা। তো সেরকম একজন বামপন্থী ছেলে ছিল আবার আমার ক্লাশের। সে শিবির বিরোধিতার জন্য বিখ্যাত ছিল। তার ফলে শিবির কর্মীরা সবাই তাকে ভাল মত চিনত। বুয়েট শেষে পরবর্তীতে ছেলেটার বিয়ে হয় আমার খুব ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীর বোনের সাথে। সেই বান্ধবী আর তার বোনের ফ্যামিলি আবার মোল্লা টাইপ। জামাত ঘেষা হতে পারে, আমি ততটা জানি না। ঘটনাক্রমে একবার সেই বান্ধবীর বাসায় আবার ছেলেটির সাথে দেখা হয় আমার। দেখি সে পুরো অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। অসম্ভব ধার্মিক হয়েছে। শিবিরের প্রতি পুরোনো বিরূপভাব তেমন একটা নেই। অনেক সহনশীল হয়েছে। এদিকে সেই আসরে আবার উপস্থিত ছিলেন তখনকার সময়ের বুয়েটের শিবিরের প্রেসিডেন্ট। তিনিও ভালই চিনতেন এই ছেলেকে। আমি উনাকে জানালাম ছেলেটির অভাবনীয় পরিবর্তনের কথা। আমার মত উনিও খুব অবাক হয়েছিলেন। এরকম পরিবর্তন খুব অপ্রত্যাশিত। মানুষ যে কিভাবে বদলায় তা দেখলে হতভম্ব হতে হয়। মানুষ আল্লাহর এক অদ্ভূত সৃষ্টি।
আর লিখছি না। আজকের মত সমাপ্তি টানছি
(এই লেখার মন্তব্য মডারেটেড)
এই লেখাটি এখানে প্রকাশিত (Click This Link)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে কেন যেন মনে হচ্ছে ছাত্র রাজনীতির সেই পরিচ্ছন্ন ভাবটি এখন আর নেই। শিবিরের সমস্যা তো অবশ্যই আছে, কিন্তু এরকম অন্যায়ভাবে বিরোধিতা আগে ততটা করতে পারেনি। এখন হয়ত সেরকম নেই।
আর ছাত্র দলের এই পরিনতি দুঃখজনক। রুহুল ভাই ছিলেন রাজশাহী বোর্ডের ফার্স্ট। আর এখন এই ছাত্র দল মেধাহীন?????????????
অবশ্য ইউনিয়নেও অনেক বোর্ড স্ট্যান্ড/ অনার্স হোল্ডার ছিলেন। মেধাবী হয়ত ওদেরই বেশী ছিল।
লেখক বলেছেন: ইউকসু বন্ধ করাটা সমর্থন করতে পারলাম না। সন্ত্রাস বন্ধ করা ঠিক আছে।
ধন্যবাদ পোস্টে মন্তব্য করার জন্য।
বিশেষ করে শিবিরের কোনো অস্তিত্ব চোখে পড়ে নাই।তবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবতে আর শিবির কে প্রতিহত করার জন্যে পোস্টারিং হতে দেখেছি অনেকবার ।
লেখক বলেছেন: ইউকসু না থাকায় কোন সিস্টেম্যাটিক রাজনীতি মনে হয় নেই।
আমাদের সময় তো ইউকসু কেন্দ্রিক রাজনীতি ছিল। তাছাড়া এখন তো জরুরী অবস্থা চলছে।
শিবির সম্পর্কে আমাদের সময়েও একই ব্যপার ঘটেছে। রুম পোড়ানো বা ঐ জাতীয় ঘটনা ছাড়া শিবিরের তেমন কোন সাড়া শব্দ পেতাম না। সামগ্রিক ভাবে শিবির ছিল মূল স্রোত থেকে কিছুটা আলাদা। এদের বেশীর ভাগই সাধারন ছাত্রদের সাথে মিশতে পারত না।
না, সামগ্রিক ভাবে ছাত্র রাজনীতি ততটা নেগেটিভ ছিল না আমাদের সময়ে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
লেখক বলেছেন: সেটা বুঝতে পারছি।
কিন্তু কেন? কেন ছাত্র রাজনীতিতে এত বেশী বিশৃংখলা? সম্ভবত মূল রাজনীতির কালো টাকা, পেশী শক্তির প্রভাব ছাত্র রাজনীতিতেও এসে পড়েছে। এই যে ছাত্র দলের প্রেসিডেন্ট, তার নাকি পাজেরো জিপ আছে। আর এত দিন বিদেশ থেকেও আমরা সবচেয়ে সস্তা টয়োটা চালাই। যেখানে এ দেশে গাড়ী ছাড়া চলাফেরা করা যায় না।
চিন্তা কর অবস্থা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেহরাব মন্তব্যের জন্য।
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন:
আমি দুঃখিত, আপনাকে মাইনাস দিলাম, বুয়েটের রাজনীতি নিয়ে আমি লিখতে পারি নি, কিন্তু আপনি স্পষ্টধারণা দিতে সমর্থ হননি, স্মৃতিচারণ করেছেন, কোন সংশ্লেষণ দাড় করাতে পারেন নি
লেখক বলেছেন: ঠিক। বিশ্লেষনী লেখার জন্যে যতটা জ্ঞান দরকার ততটা আমার নেই। আমি তো দূর থেকে রাজনীতি দেখেছি। আর ছাত্রী হলে তো রাজনীতি ছিল শুন্য।
শুধু এজন্য মাইনাস? তাতে অবশ্য সমস্যা নেই।
আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
পারভেজ বলেছেন:
আপনার লেখাটা পড়ে একটু নস্টাজিক হয়ে পড়লাম! ৯২ থেকে ৯৯। ৭ টি বছর কেটেছে এই ক্যাম্পাসে! সৌভাগ্য কিম্বা দুর্ভাগ্য কিনা জানিনা, সক্রিয় রাজনীতি আর আন্দোলনের ভেতরই কেটেছিল পুরো সময়টা! অবশ্য বুয়েটে ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হওয়া আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার মধ্যে তফাত আছে! আমি ছিলাম হল সংসদে। কিন্তু অন্তর্দলীয় নোংরামির কারনে কখনো মুলধারার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছে হয়নি! এখনো মনে পরে একজন ছাত্রলীগের ছেলে বা বামপন্থিদের সাথে যত স্বাচ্ছন্দে মিশতে পারতাম, নিজেদের দলীয় ছেলেদের সাথে মিশতে অসস্তি লাগতো। মনে হতো মুখে এক অন্তরে আরেক! আরেকটা কারন ছিল। স্থাপত্যের ছাত্র হিসাবে প্রকৌশলের ছেলেমেয়েদের সাথে একটা দুরত্ব তো ছিলই। যদিও আমার ৭ বছরের হল জীবনে হলের ভেতরে কখনো সেটা অনুভব করিনি। খালি ৯৭ এ এসে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনের সময় সব কিছু খুব প্রকট ভাবে প্রকাশ পেল!
ইচ্ছা আছে আরো লেখার!!
লেখক বলেছেন: আপনার অভিজ্ঞতা জানার অপেক্ষায় রইলাম। বিশেষত আপনি যখন আমার চেয়ে খুব বেশী জুনিয়র নন।
লেখক বলেছেন: তাড়াহুড়ায় আপনার মন্তব্যের ছোট জবাব লিখে চলে যাই। আপনি যখন সক্রিয় কর্মী ছিলেন তখন আপনার লেখা অনেক বেশী চমৎকার হবে। লিখে ফেলুন একটা আর্টিক্যাল।
আর আর্কির সাথে আমাদের কিছুটা দূরত্ব তো থাকবেই। আমরা বেসিক্যালি সাইন্স আর আর্কিটেকচারের বিষয় তো আর্টস বা শিল্পকলা।
আমি অবশ্য আমার হল জীবনে আর্কিটেকচার ব্লকে ছিলাম বলে তাদের সাথেই বেশীর ভাগ সময় কেটেছে।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।
র্যাভেন বলেছেন:
জামাত শিবিরকে সমর্থন করে এইডা স্বীকার করার মত সতসাহসটুকু খুব কম জামাতিই এই ব্লগে দেখাইতে পারছে
লেখক বলেছেন: একমত হলাম না। হলদে ডানা, নিপু পাওয়ারফুল সহ অনেক কেই দেখেছি কর্মী পরিচয় দিতে।
এটা অপ্রাসংগিক মন্তব্য। এরকম মন্তব্য আর করবেন না প্লীজ।
লেখক বলেছেন: এটা ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় দিয়েছি। সব জায়গায় তো আর খোলাখুলি আলোচনা সম্ভব নয়। আর এই পোস্ট ঠিক আলোচনা পোস্ট ও নয়।
মাইনাস দিয়েছেন তবে পোস্টের বিষয় বস্তুর জন্য দেন নি বলে ভাল লাগল।
আপনাকে ধন্যবাদ।
সাজিদ শাহরিয়ার বলেছেন:
বুয়েটে ছাত্রলীগ আমাদের সময়ে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।মুকি আর তার চেলাদের দৌরাত্নে বুয়েটে ছাত্রদলের মোটেই সুনাম ছিল না। পলাশীবাজারে আর হলের দোকানে(উদাহরণস্বরুপ, আলমের দোকান)চাঁদাবাজি করে আর বুয়েটের টেন্ডারবাজি করে বুয়েটের সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট করেছিল এই মুকি নেতৃত্বাধীন ছাত্রদল। যার চূড়ান্ত ফলশ্রুতি সনি হত্যা।আর শিবির তো সবসময়ই ছদ্মবেশে রাজনীতি করার চেষ্টা করত।সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ছেলেদের দেখেছি নোংরামির উর্দ্ধে থেকে রাজনীতি করতে। আর এটাও সত্যি, জাতীয় রাজনীতিতে বুয়েটের ছাত্ররাজনীতির তেমন কোন প্রভাব নেই যেমন আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক রাজনীতির।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। জাতীয় রাজনীতিতে বুয়েটের প্রভাব নেই, আছে ঢাবির - এটা কেন যেন মানতে পারলাম না।
এই রকম টেন্ডারবাজির জন্যই বোধ করি বি এন পি মার খেয়েছে।
সাজিদ শাহরিয়ার বলেছেন:
জাতীয় রাজনীতিতে বুয়েটের ছাত্ররাজনীতির প্রভাব আছে এমন একটা উদাহরণ দিতে পারবেন?
লেখক বলেছেন: বুয়েটের আহামরি প্রভাব আছে এটা আমিও বিশ্বাস করি না, তবে ঢাবির আছে - সেটাও মনে করি না।
আর ৯০ এ বুয়েটের শিক্ষকদের পদত্যাগ গুরুত্বপূর্ন ঘটনা ছিল। ঢাবি শিক্ষকদের পরের দিন বুয়েটের টিচাররা সবাই পদত্যাগ করে।
র্যাভেন বলেছেন:
এটা অপ্রাসংগিক মন্তব্য। এরকম মন্তব্য আর করবেন না প্লীজ।প্রথম প্রাসংগিক মনতব্য টা না ছাপালেতো পরের মনতব্যটা অপ্রাসংগিক মনে হবেই
লেখক বলেছেন: সে মন্তব্যটাও অপ্রাসংগিক ছিল।সাথে সাথে ভদ্রতাও ছিল অনুপস্থিত।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
বুয়েটে ছাত্রফ্রন্টের যেটা আছে, নিতান্তই অন্ত:সারশুন্য দাপাদাপি । শুনতে খারাপ লাগতে পারে, তবুও বলি, ফ্রন্টের মিছিল হয় মাঝে মধ্যেই । সেখানে উপস্থিত থাকে প্রধানত আহসানউল্লাহ হলের হিন্দু ব্লকের ১৫-২০ জন ছাত্র । ছাত্রদলের অবস্থা এখন আসলেই খারাপ । ০২ ব্যাচ বিদায় নেয়ার সময় পরবর্তী নেতৃত্ব তৈরী করে দিয়ে যেতে পারেনি ।
শিবিরের প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কাজ দেখা না গেলেও মসজিদ/পিকনিক/ এসবের মাধ্যমে কর্মকান্ড রয়েছে ।
ছাত্রলীগ এখন সবচেয়ে সংগঠিত । ছাত্রদলের অনুপস্থিতির সুযোগটা এরা কাজে লাগাচ্ছে ।
লেখক বলেছেন: বামপন্থীদের দুরাবস্থার কথা আমিও শুনেছি। সেই জাদরেল ইউনিয়ন এখন কর্মী শূন্য।
শিবিরের কথাটা এভাবে বলা আমার ঠিক হয় নি। কারন শিবিরকে তো আসলে প্রতিহত করা হয়। সুতরাং তাদের কর্মী সমর্থক কম থাকাটা বিচিত্র কিছু নয়।
ছাত্রদলের ব্যপারটা দুঃখজনক অবশ্যই। সম্ভবত মূল বি এন পির মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি আসল ফ্যাক্টর।
তবে একটা জিনিস বোঝা গেল। সার্বিক ভাবে ছাত্র রাজনীতি সাধারন ছাত্রদের কাছে অপছন্দনীয়। যেটা আমাদের সময় সেরকম ছিল না।
পারভেজ বলেছেন:
"আমরা বেসিক্যালি সাইন্স আর আর্কিটেকচারের বিষয় তো আর্টস বা শিল্পকলা।"হা হা হা !!!!
শিল্পকলা কিনা জানিনা!! কিন্তু কেউ যদি বলে ছলা কলা!! তাহলে আপত্তি নাও করতে পারি!!
যাইহোক আপনাকে দেখে লেখার আগ্রহ পেলাম আপু!!
একটু গ্রাউন্ড ওয়র্ক করে লিখতে হবে! স্মৃতি যাতে প্রতারণা না করে!!
লেখক বলেছেন: স্মৃতি প্রতারনার সম্ভাবনা তো আছেই। তাও লিখি। ৫ ভাগ হয়ত ভুল হবে। বাকী ৯৫ ভাগ তো ঠিক থাকবে।
আমি আর্কিটেকচারে পড়তে চেয়েছিলাম। তবে ড্রইং এ গোল্লা মার্কা পারফরম্যান্স থাকায় টেস্ট দিতে যাই নি।
যাক, ইন্জ্ঞিনিয়ারিং খারাপ লাগে নি।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
ছাত্র ইউনিয়ন নামে বুয়েটে কিছু নাই । ছাত্রফ্রন্ট আছে । ছাত্রদলের ব্যাপারটার সাথে মূল বিএনপির সমস্যাটা খুব একটা রিলেটেড না । এটা শুরু হয়েছিলো বিশ্বকাপ দেখা + পরীক্ষা পেছানো নিয়ে বুয়েটে বড় ধরনের ঝামেলাটা হবার সময়ে । তখন ছাত্রদের প্রকাশ্য নেতৃত্বে ছিলো ছাত্রদল ০২ ব্যাচ । ভাংচুর-আন্দোলনে সবাই-ই ছিলো কিন্তু অন্য সংগঠনের নেতারা সেরকম ফোকাসড ছিলোনা বলে শোকজ করা হয়েছিলো অধিকাংশই ছাত্রদলের ছেলেদের । এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার এরাই ছিলো মুল শিকার । তখন থেকেই....
লেখক বলেছেন: খেলা দেখা নিয়ে পরীক্ষা পেছানো আর তাহলে হয় না। যাক, এই বাজে ব্যপারটি তাহলে শেষ হয়েছে।
আমি ফ্রন্টে নজরুল ,রশীদ হলের অনেক ছেলে কে দেখেছি।
আমার এক বন্ধু আছে মুনিম ।৫ ওয়াক্ত নামাজ পরে এবং ফ্রন্ট করে
লেখক বলেছেন: বাম ধারার ছেলে মেয়েদের ধর্মকে অবজ্ঞা করতে আমিও দেখেনি।
কাঙাল বলেছেন:
চালিয়ে যান আফা
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্য।



















ছাত্রদলের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে অবৈধ পরীক্ষা পেছানোর আন্দোলন, ছুটির দাবিতে মিটিং মিছিল, ভাংচুরে তারা ছিল সিদ্ধ হস্ত। শিবিরের বিরুদ্ধে বামদের আক্রমণ ছিল দেখার মত। নিজেদের কক্ষে গোপন সমাবেশ করলেও গোটা হল কাপিয়ে হৈ চৈ আক্রমণ ফেলে দিত বাম রা। নিজেদের কক্ষে কার্ল মার্কস, লেনিনের বিশাল ফটো ঝুলিয়ে নামায কালাম পড়তো এদের কেউ কেউ।
কোন ঠাসা হয়ে থাকা শিবির রা হল বুয়েটে এতটাই নিরীহ গোছের জীব যে ওদের দেখে অনেক সাধারন ছাত্র বিভ্রান্ত হত শিবিরের আসল শিবিরীয় রূপটা দেখা দেখে বঞ্চিত হয়ে, যেটা অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়।
সনি মারা যাবার পর থেকে ইউকসুর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ, হল সংসদ নির্বাচন বলে কিছু নেই বুয়েটে। আমি অসম্ভব শ্রদ্ধা করি কর্তৃপক্ষে এ যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে।