স্বপ্নময় বিকেল স্বপ্নময় অতীত
১৭ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:২৭
প্রবাস জীবনে সময় যেন সোনার হরিন। সারাক্ষন এটা ওটা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। বাচ্চাদের দৌড়ঝাপ, সংসারের টুকিটাকি কাজে সময় কোন ফাক দিয়ে পেরিয়ে যায় টেরও পাই না। মাঝে মাঝে সামারে বিকেলটা কিছুটা ফুরফুরে মুডে থাকি। বাচ্চাদেরকে নিয়ে তাদের বাবা পার্কে যায়। শুধু তখনই আমি একা নিজের মত কিছু অবসর পাই। সে সময়টা হয়ে পড়ে একান্ত আমার। রকিং চেয়ারে দুলতে দুলতে আবেশে সময়টা পার করে দেই। কত যে দুষ্প্রাপ্য আমার এই অবসর!!!
ফোন জিনিসটা আমার খুব পছন্দের নয়। খুব একটা ফোন ধরিনা। আনসারিং মেশিনে বেজে উঠে নানা মেসেজ। খুব কাছের কেউ করলে পরে ফোন করি। মানুষ উপেক্ষা পছন্দ করে না। তাই আমাকে ফোন করার মত খুব বেশী কেউ নেই। খুতখুতে স্বভাবের এই আমি দূরত্ব রেখে চলি বলে অন্যরাও আমাকে বিরক্ত করে না। কিছু কিছু মানুষ সমালোচনা করে তবে আমার নির্লিপ্ততায় এক সময় উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।
সেদিন কি মনে করে ফোনের শব্দে ঘাড় ঘুরালাম।
"হ্যালো"
"কেমন আছিস?"
"চিনতে পারছি না। নাম বলুন।"
"রুনিয়া।"
"কোন রুনিয়া?"
"কয়টা রুনিয়াকে চিনিস তুই? তোর স্কুলের ক্লাশমেট।"
"ওহ রুনিয়া। কতদিন পরে। কেমন আছিস? কোথায় আছিস?"
"আছি অষ্ট্রেলিয়াতে।"
"আমার নম্বর পেলি কোথায়?"
"কালামদের কাছ থেকে। কালাম আমার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছে। তোদের ওখানেই তো থাকে।"
"হ্যা। ওকে চিনেছি। এক বাসায় দেখা হয়েছে। যাক কষ্ট করে ফোন করলি। এবার বল কি করছিস।"
"চাকুরি। পার্মানেন্ট হয়েছে।"
"গুড নিউজ। নিশ্চয়ই হোয়াইট কালার।"
"অফ কোর্স। কি মনে করিস আমাকে? অড জব করব?"
"না তা মনে করিনি। আমি কি বেকুব নাকি। তোর একাডেমিক পারফরমেন্স কি আমি ভুলে গেছি না কিরে?"
"তোর খবর কি? তুই কি এখনও স্কার্ফ পড়িস?" আমাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিল।
"হ্যা, ওটা এখনও আছে। আগে তোর কথাটা শেষ কর। তোর কয় বাচ্চা?"
"বাচ্চা নেই।"
"নেই মানে? খোলাসা করে বল। কি সমস্যা, কবে সমস্যা টের পেলি - এইসব।"
"তুই জানিস না? কালাম বলে নি?"
"কি জানব? কি বলবে? আর কালামদের সাথে আমাদের ততটা দেখা হয় না। ওরা একটু দূরে থাকে।"
"অপুর সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।"
আমি হতভম্ব। একেবারে অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। কি বলব বুঝে উঠতে না পেরে জানতে চাইলাম, "কবে? রিসেন্টলি?"
"না অনেক আগে। বাদ দে ওসব। তোর কথা বল।"
শুরু করলাম আমার কথা। কিন্তু কোথায় যেন ছন্দপতন হয়ে গেল। আমি কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছিলাম না। রুনিয়ার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল বৌভাতের আসরে। আমি ফাজলামি করছিলাম, "তোর বর তো মনে হচ্ছে খুব রোমান্টিক। আমারটার মত গবেট না।"
"চুপ কর। আমার সামনে এসব মিথ্যা চলবে না।"
কত সে স্মৃতি। পিকনিকে গিয়ে একসাথে মাঠের উপরে দৌড়ানো, ক্লাসে প্রক্সি দেয়া। সব কিছু যেন প্লে ব্যাক হতে লাগল। আবারও বিষন্নতা আমায় ছেয়ে গেল। মনে পড়ল রুনিয়ার অনার্স ক্লাশমেট হাবিবের কথা। একবার ভাবলাম হাবিবের কথাটা বলি, "হাবিবকে ফিরিয়ে দিয়ে তুই খুব ভুল করেছিস।"
পরে চুপ করে গেলাম। ষোল বছর আগের একটি প্রসংগ কবর থেকে তুলে আনার মানে হয় না। সেদিন তো আমরাই মাথা নেড়ে বলেছিলাম, "প্রশ্নই আসে না রুনিয়া। ওটা এক নাম্বারের একটা ফ্লার্ট। এইসব হ্যাংলা রোমিও টাইপের ছেলেদের কখনও গুরুত্ব দিতে নেই।"
শুধু তাই নয়, হাবিবের জন্য রুনিয়ার কোন অনুভূতি কোন কালেই ছিল না। আজকে হয়ত হাবিবের কথা তুললে সে চিনতেই পারবে না।
তারপরেও হাবিবের আপসেট মুখটা মনে পড়ল। চরম ইরিটেটিং টাইপের হতে পারে কিন্তু রুনিয়াকে কখনই অসম্মান করত না।
খুব বেশী দূর কথা এগোল না। আমি শুধু হ্যা হ্যা করে গেলাম। তানপুরার তার যেন ছিড়ে গেছে। শত চেষ্টাতেও সে তারকে বাজানো গেল না।
ফোন রেখে আমি মূর্তির মত বসে রইলাম। কে জানত জীবন এরকম উল্টে যাবে। মনে হল এই তো সেদিন। খালাম্মাকে বলছি, "খালাম্মা, বিয়ে কি রুনিয়াকে দিয়েছেন? না গয়নাগাটিকে? আপাদ মস্তক গহনায় আবৃত রুনিয়াকে দেখে তো জুয়েলারী দোকানের শো পিস মনে হচ্ছে।"
খালম্মা হাসছেন।
বৌভাতে রুনিয়ার লাজুক হাসি দেখে বলেছিলাম, "শুধু মানুষটিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবে না। আমাদের কথাও মনে রাখতে হবে। আমি কিন্তু তোদের মনে রেখেছি।"
সব কিছুই তাহলে মিথ্যা। মরিচীকা। ভাবনার গহীন অতলে হারিয়ে গেলাম। আবারো সেই পুকুর নদী সব ভেসে উঠল আমার সামনে যেখানে আমাদের নিত্য বিকেল কেটে যেত হাস্য ক্রীড়ায়।
বেশী ক্ষন ভাবনায় ডুবে থাকতে পারলাম না। আম্মূ বলে চিৎকার দিয়ে ঘরে ঢুকল আমার দুই সন্তান। আমি জেগে উঠে তাদের জড়িয়ে ধরলাম। এক মুহুর্তে ভুলে গেলাম রুনিয়ার কথা।
কিন্তু ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না। আজ ব্লগের পাতায় সেই কাহিনী ধরে রাখলাম।
লেখাটির লিংক Click This Link
(বলা ভাল নামধাম সব কাল্পনিক।) ।
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন:
লেখক বলেছেন: মন্তব্য নেই? পড়ার ধন্যবাদ টুকু রইল।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
হুমম ...... ভালো লাগলো লেখাটা। তবে ডিভোর্স মানেই সব কিছু শেষ হয়ে গেলো তা আমি মনে করি না। যদি বনিবনা না হয় তাহলে ঝামেলা না পাকিয়ে জেন্টালম্যানের মত সেপারেট হয়ে যাওয়াই ভালো........ কোন মানে হয় না মনের বিরুদ্ধে কষ্ট করে সারা জীবন একসাথে থাকা....... সময় থাকতে আলাদা হয়ে গেলে হয়তো নতুন করে আবার শুরু করা যায়.......
অবশেষে ভালো লাগলো .... ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: আপনার কথাগুলো অবশ্যই ঠিক। তবে আমরা যারা কাছের তাদের খুব কষ্ট হয়।
ধন্যবাদ আপনাকেও।
বিডি আইডল বলেছেন:
সুন্দর লাগল...+ দিলাম
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: শব্দটা হবে কলার। স্যরি। দক্ষ শ্রমিকের চাকুরী।
লেখক বলেছেন: আসলে কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই হোয়াইট জবের। সম্মান, বেতন বেশী - এইসব।
প্রচেত্য বলেছেন:
আপনার এ লেখাটি যখন পড়ে শেষ করলাম, একবার মনে হল এই বুঝি মনে পড়ে যাচ্ছে ঘটে যাওয়া সব অতীত স্মৃতিগুলো, না ঠিক তা হলনা, নিজেকে শক্ত করে বেধে রাখলাম নিজ অবস্থানে, কিছুতেই মনে করতে দিলাম না ..............আপনার সাবলীল উপস্থাপনা বরাবরই সুপাঠ্য
শুভকামনা রইলল
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে পড়ার জন্য, মন্তব্যের জন্য।
শুভ কামনা আপনার জন্যেও।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
@গাজী মো: সাইফুল ইসলাম :জব এক ধরনের শস্য দানা, যেমন চাল, গম এই রকম আরকি।
তো এই জব আবার দুই ধরনের, "অড জব" আর "হোয়াইট জব"। "অড জব" একটু কালচে রংয়ের হয় আর "হোয়াইট জব" একটু পরিস্কার সাদাটে হয়। যেমন ধরেন, আমাদের শেষে আছে না, "লাল আটা" আর "সাদা আটা" ....... হা হা হা
এখনও না বুঝলে আরেকবার আওয়াজ দিয়েন
লেখক বলেছেন: চমৎকার ব্যখা দিয়েছেন। মনে হয় না কোন কনফিউশন আছে।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়েছেন বলে।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
সবার সবগুলো বিকেল স্বপ্নময় হয়ে টিকে থাকুক....
লেখক বলেছেন: তোমার বিকেল তো এখনও স্বপ্নময় হবার কথা নয়। বিকেল কাটা উচিত আড্ডা আর হৈ চৈ দিয়ে।
আমার বিশ্বাস সেভাবেই কাটে। আজকের এই সময় হয়ে যাবে কালকের স্মৃতি।
পথিক৪১৭ বলেছেন:
পুরোনো কিছু কথা মনে করায় দিলেন। +
লেখক বলেছেন: স্মৃতি নিয়েই আমি। আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: হ্যা। পুরোনো লেখা। তবে ভুলক্রমে মুছে ফেলেছিলাম। তাই আবার দিলাম
ধন্যবাদ আপু তোমাকে।
লেখক বলেছেন: আবার পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
আচ্ছা, ঐ বিয়ের গয়নাগাটি নিয়ে আসছেতো সাথে?
(স্যারি আপু, লেখাটা পড়ার পরে সবার আগে এই কোশ্চেনটাই মাথায় আসছে
লেখক বলেছেন: হাহ আপু, ঠিক প্রশ্ন। ওটা আমার মাথায় এসেছিলো। তবে ব্যপার কি জানো, সে যেরকম বেতন পায় তাতে সে গয়নাগাটি ফেলে আসলেও কিছু না।
ত্রিভুজ বলেছেন:
হুমমম.....
হলদে ডানা বলেছেন:
কোথায় যেন পড়লাম একবার লেখাটা . . .! !
লেখক বলেছেন: আপনি পড়ে থাকলে প্যাচালীতে পড়েছেন। সামহোয়ারে অনেক আগে দিয়ে আবার ড্রাফট করি।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
আড্ডা আর হৈ চৈ.... ? মোটামুটি অপরিচিত... তাই এ সম্পর্কিত যে দুচারটা অভিজ্ঞতা আছে, তাকে স্বপ্নময়ই বলা যায় লেখক বলেছেন: লেখা পড়ে সেরকম মনে হয় না.............
নীরব পাঠক বলেছেন:
রিপোষ্ট নাকি? এরকম একটা লেখা আগে আপনার ব্লগেই পড়েছিলাম বলে মনে হয়।
লেখক বলেছেন: হ্যা। বেশ আগে। তারপরে ভুলে ড্রাফট করে ফেলি। আবার পড়েছেন। ধন্যবাদ।
কেএসআমীন বলেছেন:
হুমম... ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না...
লেখক বলেছেন: ঠিক ধরেছেন।
বোকামাষ্টার বলেছেন:
পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায় ... ...
লেখক বলেছেন: পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
প্রবাল গ্রুপটা কি চলতেছে.. নাকি সব মডারেটররা ব্লগিং ছেড়ে দিয়েছেন, জানেন ?
লেখক বলেছেন: কোন আইডিয়া নেই। ওখানে যাওয়াও কম হয়। সদস্যরা আর তো কেউ তেমন নেই। চতুরভূজ, সারোয়ার ভাই নেই। আর কোলাহল আর আবাবিল তো অনিয়মিত।
কেএসআমীন বলেছেন:
ভাল্লাগলো...আপনার "দেশ কোন দিকে যাচ্ছে" পোস্টে মন্তব্য করতে চেয়েছিলাম কিনতু বিফল হলাম। কেন?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
ওটার প্রয়োজনীয়তা মনে হয় শেষ হয়েছে। আর রাজনৈতিক বিষয়ে বিতর্কের কোন শেষ নেই। আমার পক্ষ থেকে অসুবিধা হল কেউ মন্তব্য করলে আবার আমাকে মডারেট করতে হয়, জবাব লিখতে হয়। ঐ পোস্টের জন্য আর এগুলো করতে ইচ্ছা হচ্ছে না। তাই আর কোন মন্তব্য সেই পোস্টে নিচ্ছি না।


















