হুমায়ূন আহমেদকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারলাম না।
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:২৬
[সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদের বাউল ভাস্কর্য নিয়ে লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। আমার এই লেখাটি উনার লেখা পড়ার পর নিজস্ব অনুভূতির বর্ননা।]
প্রথমেই বলে রাখছি আমি হুমায়ূন আহমেদের লেখার ভীষন ভক্ত ছিলাম একটা বয়সে। বিয়ের পর পর যখন বর দেখত তার নূতন বউটি তার দিকে মনোযোগ দেবার পরিবর্তে হুমায়ূন আহমেদের বই নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ে থাকে, তখন সে খুব বিরক্ত হত। সাহিত্যের দিকে আবার আমার কর্তার ঝোক খুব বেশী কখনই ছিল না। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে এমন কি আছে যে সেটা নিয়ে রাতদিন পড়ে থাকতে হবে - এই ছিল তার ভাবনা। এমন কি একদিন রাগের চোটে বইসুদ্ধ ছিড়ে ফেলে। চিন্তা করুন! বাংলাদেশ থেকে আম্মা মেইল করে আমেরিকাতে আমায় বই পাঠায় আমি পড়তে ভালবাসি বলে, আর সে সেই বই বিরক্তি সহকারে ছিড়ে ফেলে!! বলা বাহুল্য আমার কর্তা হুমায়ূন আহমেদকে চরম অপছন্দ করতেন শুধুমাত্র আমি উনার বই গোগ্রাসে গিলতাম বলে। কিন্তু তার জন্য অতি দুঃখজনক এই বিরক্তি তাকে বয়ে নিতে হয়েছে বহু দিন, কারন তার ছোট ভাই বোনেরাও ছিল হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাগল।
সে অতীত কবেই ফেলে এসেছি। এখন হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে সেই ক্রেজ আর নেই। বই পড়ার অভ্যাসও আগের মত নেই। অনেকটাই বদলে গেছি। এখনকার জীবনে আমি ধর্মাচরন মেনে চলার চেষ্টা করি। কতটুকু তাতে সফল জানি না। অন্তত মন মানসিকতা সেভাবেই তৈরী হয়ে আছে। এই মানসিকতা আমার পরিবারের সবার মাঝেই রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে গত এক বছর ধরে ছেলে পড়ছে হিফজ। মেয়েও স্কার্ফ পড়ে যায় পাশের ইসলামিক স্কুলে পড়তে। সাধারন ধর্মভীরু একটি পরিবার, যাদের কর্মকান্ডে ধর্ম মিশে থাকে ওতপ্রোতভাবে। যে পরিবারে গানের ক্যাসেট বাজে না, বাজে কোরানের ক্যাসেট।
সম্প্রতি দেশে বাউল ভাস্কর্য সরানো হল। পত্র পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে চলছে তুমুল আলোচনা। খুব স্বাভাবিক। কারন এটা ঠিক বাউলের মূর্তির উপর দিয়ে একা যায় নি। গিয়েছে পুরো ভাস্কর্য শিল্পের উপর। কারন এর ফলে যে প্রশ্নটি হুমকি দিয়ে মাথা তুলে দাড়িয়েছে তা হল: মুসলিম দেশে বাউল ভাস্কর্য আসলে কতটা নিরাপদ।
প্রশ্নটা খুব যৌক্তিক। কারন আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি একটি দেশের সংস্কৃতি সে দেশের মানুষের মন মানসিকতা দিয়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। মুসলিমদেশ গুলোতে ধর্ম জেকে আছে অনেক বেশী প্রতাপ নিয়ে। যদিও ধর্মীয় নেতাদেরকে মানুষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মর্যাদা দেয় নি, তবুও রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব সুষ্পষ্ট। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্মের ভূমিকাকে আমরা অস্বীকার করতে পারে না। তাই যদি হয়, তবে কি ভাস্কর্য শিল্পের কোন ভবিষ্যত আমাদের মাঝে নেই?
এটা একটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে ইসলাম পৌত্তলিকতাকে অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হাদীসে কোরানে সব জায়গাতেই এর প্রতিফলন স্পষ্ট। এতবেশী মূর্তি বিরোধী বর্ননা রয়েছে যে, মুসলিম মাত্রই হয়ত ধরে নেবেন ইসলাম চিত্র, মূর্তি - এসবের চরম বিরোধী। সেরকম ধারনা পাওয়া বিচিত্র কিছু নয়, বরং স্বাভাবিক। যার ফলশ্রুতিতে আজকে যারা ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনে রয়েছেন তারা এইসব সাধারন ধর্মভীরু মানুষের সমর্থন যে পাবেন - তাতে সন্দেহ নেই। কারন এইসব ধর্মভীরুরাও বিশ্বাস করে বসে আছেন ইসলাম মূর্তির ব্যপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়। চিত্র শিল্পকে নিরুৎসাহিত করে।
হুমায়ূন আহমেদের লেখাটি ছোট। এটি ইসলামের কোন বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করে না। কারন ইসলামের কোন বিধান প্রতিষ্ঠিত করতে চাই ব্যপক গবেষনা, ব্যপক অনুসন্ধান। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি স্বীকার করছি, উনার লেখাটি আমার মনে একটি বিরাট প্রশ্ন একে দিয়েছে। পবিত্র কাবায় মা মেরীর ছবি প্রতিষ্ঠিত ছিল এত বছর !!!!!!!!!!!!!! এটা কতটুকু সত্য!!! তাহলে আমরা যে জানি "যে ঘরে প্রানীর ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতা পর্যন্ত আসে না" - এই জানা কতটুকু সত্য? কাবায় যদি মা মেরীর ছবি থাকতে পারে তবে সাধারন ছবিতে নিষেধাজ্ঞা কি করে আসতে পারে?
এই প্রশ্নটুকু দিয়ে বিশাল এক সংশয় অন্তত তিনি তৈরী করে দিয়েছেন আমার ভেতরে। তার লেখা থেকে প্রাপ্ত এই তথ্যটা আমাকে আরেকবার ভাবতে বাধ্য করল। আমি হয়ত আবারো বসব পড়ার জন্যে, জানার জন্যে। আগে চিত্র শিল্পের প্রতি যে মনোভাব ছিল, সেই একই মনোভাব এখন আর হয়ত থাকবে না। সেজন্যে উনাকে ধন্যবাদ জানানোটা প্রয়োজন বোধ করছি।
সেই সাথে আপনাদেরকেও ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্যে
[এ ব্যপারে ইনকিলাবে একটি প্রতি উত্তর লেখা ছাপা হয়েছে যাতে মা মেরী ছবি রাখা সংক্রান্ত সেই হাদীস বেত্তাকে অগ্রহনযোগ্য দাবী করা হয়েছে। Click This Link ]
লেখক বলেছেন: Click This Link
নিবিড় বলেছেন:
হুমমম.....কোন স্টেট এ আছেন?
লেখক বলেছেন: বিভিন্ন লেখায় সেটা রয়েছে। খুজে নিন।
রাঙা মীয়া বলেছেন:
প্রথম কথা হচ্ছে , মা মেরী সাধারন কেউ নয় । আপনার বক্তব্য স্পস্ট নয়।
লেখক বলেছেন: কোনটা স্পষ্ট নয়। আমি তো শুধু একটা ধন্যবাদ দিলাম।
কাঙাল বলেছেন:
আপনার ধীরে ধীরে বোধোদয় হচ্ছে, দেরীতে হলেও.... এটা জেনে ভাল লাগছে...যা সত্য তা-ই প্রতিষ্ঠিত হবে একদিন, তাই না আপা?
লেখক বলেছেন: বোধোদয়ের বয়স মনে হয় পেরিয়ে এসেছি......................
কারন এর ফলে যে প্রশ্নটি হুমকি দিয়ে মাথা তুলে দাড়িয়েছে তা হল: মুসলিম দেশে বাউল ভাস্কর্য আসলে কতটা নিরাপদ।
-------------------
মুসলিম দেশ নিয়া প্রশ্ন উঠে নাই। প্রশ্ন উঠছে মৌলবাদী আর ধর্ম ব্যাবসায়ীদের দৌরাত্ব্য নিয়া।
পারভেজ বলেছেন:
ওনার লেখাটি আমি পড়েছি। ইচ্ছে ছিল এটার প্রসঙ্গ ব্লগে নিয়ে আসার। কিন্তু সীমিত জ্ঞানের কারণে আর সাহস করিনি। আপনার অনুসন্ধান যেন সফল হয়। আমার মনে হয়েছে এ বিষয়ে আমরা আসলেই অনেক সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করি। বিষয়টি তুলে আনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
মুর্তজা হাসান খালিদ বলেছেন:
ধর্ম বিষয়ে ভালো জানলে ধর্ম সেভাবে পালনও করতে সেই লেখক
কথাটা বুঝি নাই। সেই লেখার লিংক দেয়া নাকি?
লেখক বলেছেন: Click This Link
আনোভা বলেছেন:
লেখাটি আমি পড়েছি।তিনি তার বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু বই এর উল্লেখ করেছেন ।আশা করি সেই বইগুলি পড়লে অনেক অজানা বিষয় জানা যাবে।ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
অপ্সরা বলেছেন:
আপনিও বই লিখলে আপনার পাঠক সংখ্যাও কম হতনা বলে আমার বিশ্বাস। অনেক সুন্দর করে লিখেছেন।আমি মনে প্রাণে একজন শিল্পী বলতে পারেন। শিল্প নিজে কতটুকু জানি জানিনা তবে শিল্পকলা আমার পছন্দের একটা বিষয়।ধর্মের ব্যাপারে গোড়ামী নেই কোনো। আমি বিশ্বাসী মানব ধর্মে।প্রতিটি ধর্মই মানুষের খুব প্রয়োজন ও উপকারে সৃষ্টি হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।যাই হোক ধর্মতত্ব নিয়ে কথা বলবার মত গিয়ান আমার এখনও হয়নি। ইহজীবনেও হবে কিনা সন্দেহ আছে।তবে লালন মূর্তি/ ভাস্কার্য্য ভেংগে ফেলাটা মোটেই আমার পছন্দ হয়নি। মূর্তি/ ভাস্কার্য্য ধর্ম অধর্ম সব কিছুর উর্ধে লালনের ভাস্কার্য্যটি এক ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবেও দাড়িয়ে থাকতে পারতো।পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ইতিহাস শুধুই কি বই এর পাতা ছাড়া আর কোথাও কোনোভাবে ধরে রাখার অধিকার আমাদের নেই?
লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আপনার শিল্পীসত্ত্বার পূর্ন বিকাশ ঘটুক - এটা কাম্য।
মুর্তজা হাসান খালিদ বলেছেন:
তিনি ইবনে ইসহাকের যে গ্রন্থটির ইংরেজি ভার্সনের কথা উল্লেখ করেছেন সে গ্রন্থটির মূল আরবি থেকে বাংলা কোনো ভার্সনেই এ কথাটি নেই। মূল গ্রন্থটি হলো সীরাতে ইবনে হিশাম
লেখক বলেছেন: যে প্রশ্নটির জবাব জানা জরূরী তা হল, সত্যিই কি এরকম ছবি কাবায় ছিল এতদিন?
আরিফুর রহমান বলেছেন:
হুমায়ুন আহমেদ তথ্যটা নিজে উদ্ভাবন করেননাই। তিনি একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র থেকেই এনেছেন:সুত্রটি.. মহানবীর (সা.) প্রথম জীবনীকার ইবনে ইসহাকের (আরব ইতিহাসবিদ, জন্ন: ৭০৪ খৃষ্টাব্দ মদিনা, মৃত্যু: ৭৬৭ খৃষ্টাব্দ বাগদাদ) লেখা দি লাইফ অব মোহাম্মদ গ্রন্থ থেকে।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বইটি অনুবাদ করেছেন আলফ্রেড গিয়োম (প্রকাশকাল ২০০৬, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫৫২)।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জীবন ব্যাবস্থাকে হুজুররা, পীররা (সবাই নন, তবে বেশীরভাগ) নিজেদের স্বার্থমত করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন শতসহস্র বছর ধরে।
আমি খুব অবাক হয়ে দেখি!!!!! একটা মাদ্রাসার ছেলে পবিত্র কোরআন এর মানে বুঝে পড়ে না!!! এরা তেমন একটা বইপত্রও পড়ে না!!! পড়ে জঙ্গী-মার্কা চটি বই!!!!!!! আপনারা কে কে আমার সাথে একমত হবেন জানিনা, তবে আমার অভিজ্ঞতা এমনই
বুঝতে পারলাম আপনি "মাতা মেরীর ছবি"র ব্যাপারটা নিয়ে অনেক বেশী প্রভাবিত।কিন্তু নবীজী যে ৩৬০ টি মূর্তি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন এটা কি আপনার মনে দাগ কাটে না?নাকি এটা আগে থেকেই জানতেন?হুমায়ূন আহমেদের যুক্তিটা কি শেষমেষ তাঁর পক্ষে থাকলো?
লেখক বলেছেন: থাকল। কারন ৩৬০ টা মূর্তি সেখানে উপাসনার নিমিত্তে ছিল। মা মেরীর ছবি শুধুই ছবি। কিছুটা পার্থক্য আছে।
যদি তথ্য সঠিক প্রমানিত হয়, তবে তা ছবির ব্যপারে ইসলামের বিধান দেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে পারে।
লেখক বলেছেন: এখন সেই ছবি নেই বুঝলাম। কিন্তু কখনও কি ছিল?
দ্বীপবালক বলেছেন:
হুআহমেদও দেখি বিরাট ইসলামিক স্কলার! কইত্থেইকা যে এরা এইসব আবিষ্কার করে?
লেখক বলেছেন: আপনি আমার শ্রদ্ধাভাজন। তবে এক্ষেত্রে কিন্তু আমি দ্বিমত পোষন করলাম। এখানে তথ্য দেয়া হয়েছে একটি বই থেকে। দায় বর্তায় সেই বই এর উপরে।
নুশেরা বলেছেন:
আপনি ভাল লেখেন। এই সুবাদে যে বইগুলো পড়বেন, এখানে তার আলোচনা করবেন আশা করি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। চেষ্টা থাকবে।
রাজর্ষী বলেছেন:
সুতরাং জানার অনেক কিছু বাকি আছে আমাদের অনেকেরই।
লেখক বলেছেন: অবশ্যই।
বিডি আইডল বলেছেন:
বই পড়ে কিছু পেলে জানাবেন
লেখক বলেছেন: তা করব। একই অনুরোধ আপনাকে।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
ভাল্লাগলো +
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
"ধন্যবাদ, আপনার মন্তব্যটি পোস্ট করা হয়েছে । এই পোস্টের মন্তব্য মডারেটেড বিধায় তা এখানে প্রকাশ পেতে কিছুটা সময় নিতে পারে । আপনার মন্তব্যটি পুনরায় পোস্ট না করে, অপেক্ষা করুন ।"এইটাও ভাল্লাগলো
লেখক বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যটাও ভাল্লাগলো। খুব হাসলাম মন্তব্য পড়ে।
নীরব পাঠক বলেছেন:
হুমায়ুন আহমেদের লেখাটা পড়লাম! এ অভিনব তথ্য এই প্রথম পড়লাম। যে ছবি রাসুল (সাঃ) সরাতে নিষেধ করলেন, খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলেও ছিল বলে ওনি দাবী করেছেন, সেটা সরানোর মত সাহস হল কার? এ ইতিহাসটুকু বলবেন কি? ইসলামের সাথে মুর্তির বিরোধ জন্ম থেকেই। ইবরাহিম (আঃ) কি মুর্তি ভাঙেন নাই? মুসা (আঃ) কি মুর্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন নাই? মক্কা বিজয়ের ঘটনা তো সবারই জানা! সবচেয়ে বড় কথা ইসলাম শিখতে হয় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে, সন্দেহজনক স্থান থেকে শিখতে গেলে ভুল শেখার সম্ভাবনা রয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ জনপ্রিয় লেখক, নাট্যকার হতে পারেন, কিন্তু কিছুতেই ইসলামী পন্ডিত এমনকি ইসলামের সপক্ষের লোকও নন। তাই তার দেয়া তথ্য কতটুকু নির্ভরযোগ্য তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার। আদৌ ওরকম তথ্য ঐ বইয়ে আছে কিনা? সীরাত ইবনে ইসহাকের বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়।
লেখক বলেছেন: তিনি তো বইয়ের পাতার নম্বর দিয়ে দিলেন। ইসলামের মূর্তি বিরোধী অবস্থানের কথা তো প্রকাশ্য সত্য।
আরেকটা কথা। ইসলাম সব মূর্তিকে নিষিদ্ধ করেনি। যে মূর্তি সাধারন ভাবে কারো অবয়ব পূর্নভাবে প্রকাশ করে না এবং যা ব্যক্তির সম্মানার্থে নির্মিত হয় না, সেসব মূর্তি নিষিদ্ধ হবার পর্যায়ে পড়ে না। আমার আগের লেখার লিংক দেখুন।
নীরব পাঠক বলেছেন:
আবার আসলাম! হুমায়ুন আহমেদ যে বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছেন সে সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন Click This Link
অন্য জায়গা থেকে ইবনে ইসহাকের লেখা সীরাত পড়লাম কিন্তু ঐ তথ্যটা পেলাম না Click This Link
রাসুল (সাঃ) এর নির্ভরযোগ্য জীবনী এই সাইটে পাবেন http://www.theprophetmuhammad.org/
অবশেষে শুভ কামনা রইল। ওয়াসসালাম
লেখক বলেছেন: আপনার জন্যেও শুভ কামনা। ওয়াস সালাম।
রাফা বলেছেন:
ভাষ্কর্য এবং মুর্তি পুজার ব্যাপারে যে পার্থক্য রয়েছে আশা করি ইসলামি স্কলাররাই তা পরিস্কার করবেন।ধন্যবাদ ,অনুধাবন করে এরকম একটি পোষ্ট দেওয়ার জন্য।ধিরে হলেও আপনাদের বোধদয় হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
বিবেক সত্যি বলেছেন ২০০৮/১০/২৯ ২৩:০৮:৩৪মানুষ তার বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অভিলাষ আর নিজের জন্য লাভজনক হবে এমন চিন্তাধারাকে জায়েজ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালায ... আপাতত, এটা শেখা গেলো....
____________________
নীরব পাঠক বলেছেন: হুমায়ুন আহমেদের লেখাটা পড়লাম! এ অভিনব তথ্য এই প্রথম পড়লাম। যে ছবি রাসুল (সাঃ) সরাতে নিষেধ করলেন, খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলেও ছিল বলে ওনি দাবী করেছেন, সেটা সরানোর মত সাহস হল কার? ..................
আমি মূলত: এইটুকুন জানতে বেশি আগ্রহী । কে সেই ব্যক্তি যিনি কাবা থেকে মরিয়ম আ: এর ছবি সরানোর দু:সাহস করেছেন ....
_____________________
এখানে আরোকটা মন্তব্য জমা রেখে যাই , .........
মাহমুদ রহমান বলেছেন ২০০৮/১১/০১ ০৮:২৮:১৫
........................
“ হে ঈমানদার লোকেরা! কোন ফাসেক তোমাদের নিকট যখন কোন খবর নিয়ে আসবে তখন তা যাচাই করে নেবে যাতে তোমরা অজ্ঞাতসারে অন্য মানুষদের ক্ষতি না করো এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে না পড়ো”। (সুরা হুজরাতঃ আয়াত ৬)
লেখক বলেছেন: "আমি মূলত: এইটুকুন জানতে বেশি আগ্রহী । কে সেই ব্যক্তি যিনি কাবা থেকে মরিয়ম আ: এর ছবি সরানোর দু:সাহস করেছেন ...."
বিবেক সত্যি, কাবার ডিজাইন অনেক বার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান নকশা সম্ভবত হাজ্জাজ বিন ইউসুফের (আমি সিউর নই)।
জেমসবন্ড বলেছেন:
আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে যে সত্যই মাতা মেরীর ছবি ওখানে ছিল, কারণ থাকলে আরও আগে জানতে পারতাম , খ্রীষ্টানরাও এটা নিয়ে রেফারেন্স দিত , লাফালাফি করত .নিচের লিংকটি পড়ে দেখতে পারেন, মূর্তি নিয়ে ইসলাম কি বলে জানার জন্য ।
Click This Link
লেখক বলেছেন: সন্দেহ আমারও। কারন বাইজেনটাইনদের ছবি পৌত্তলিকরা কেন রাখবে? তবুও খতিয়ে দেখা দরকার।
ত্রিভুজ বলেছেন:
উন্মু আব্দুল্লাহ.. আপনাকে একটা পোস্ট পড়ে দেখার অনুরোধ করলাম-Click This Link
ওখানে মূলত একটা পিডিএফ ফাইল আছে.. লিংকটাও দিয়ে গেলাম
Click This Link
হুমায়ূন আহমেদের কথা ঠিক নয়। পোস্টটা মুছে ফেলুন অথবা পোস্টের নিচে বোল্ড করে এই তথ্যটা লাগিয়ে দিন যে "হুমায়ূন আহমেদ এই বিষয়ে ভুল বলেছেন"
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ত্রিভুজ, ধন্যবাদ। আমি লেখাটা পড়েছি। ভাল লেখা।
কিন্তু পোস্ট মোছার ব্যপারটাতে একমত হলাম না। এই পোস্ট ছিল বলেই তো ইনকিলাবের তথ্য সমৃদ্ধ লেখাটা পেলাম।
তিনি একটা বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছিলেন। সেটা ভুল ছিল না। যা গুরুত্বপূর্ন তা হল, রেফারেন্সটা দুর্বল এবং গ্রহনযোগ্য নয়। আমারও সেরকমই মনে হচ্ছিল। কারন এত এত চিত্র বিরোধীর বর্ননার ছড়াছড়ি - এ সব কিছুর তাহলে ব্যখা কি?
তবে পোস্ট এডিট করে সেই পিডিএফ ফাইলের লিংকটা দিচ্ছি।
মুনিয়া বলেছেন:
আপু কেমন আছেন?আমি চিত্র/ভাস্কর্য প্রেমী মানুষ। রিলিজিয়ন কে আলাদা করে দেখি না লাইফ থেকে। অবশ্য এই বিষয়ে নলেজ ও কম।
তবে কি মনে হয জানেন? ইসলাম কখনো ইলজিক্যাল কিছু চাপায় না।
মূর্তিকে পূজা করা ইসলামে নিষেধ। আল্লাহর কোন শরিক কল্পনা করাও তাই।
কিন্তু নেহায়েত সৌন্দর্যকে ভালবেসে কোনকিছুর প্রতিকৃতি তৈরি করলে সেটাকে হারাম বলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?
আমার তো মনে হয় না অনিন্দ্য সুন্দর যুগান্তকারী ভাস্কর্য দেখলেও কোন মুসলিম তার প্রেমে পড়ে পূজায় লিপ্ত হবে।
লেখক বলেছেন: আপু, অনেক দিন পরে দেখে খুব ভাল লাগছে।
ভাস্কর্য প্রেমী তো আমিও। এই আমেরিকাতে চার প্রেসিডেন্টের মাথা নিয়ে যে ভাস্কর্যটি আছে সেটার আমি ভক্ত।
ইসলাম তো সব ব্যপারে সীমারেখা বেধে দেয়। মূর্তির ব্যপারে একটু বেশী। কারন মূর্তিকে পূজা করার ইতিহাস তো প্রাচীন।
আংশিক শারীরিক অবয়বের মূর্তি - যার উপর ততটা নিষেধাজ্ঞা নেই, সেটার চর্চা করা যেতে পারে। আমরা পোশাক, খাওয়া - সব ব্যপারে যদি ইসলামের সীমারেখাকে গুরুত্ব দেই, তবে এ ব্যপারটিও কেন তার বাইরে থাকে।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
ইনকিলাবে যা বলা হয়েছে তা হল, ছবি নষ্ট না করার বিষয়টি ইবনে ইসহাক বর্ননা করেন নি। বরং বর্ননা করেছেন, আযরাকী নামক এক হাদীস বেত্তা। আযরাকী কোন নির্ভরযোগ্য হাদীস বেত্তা নন। বুখারী, হাতিম সহ কেউই তার হাদীস নেন নি। বরং অন্য হাদীস গ্রন্থ আবু দাউদ, বায়হাকী সহ (যা অনেক বেশী নির্ভরযোগ্য), তাতে ছবি নষ্ট করার কথা এসেছে।ইনকিলাবকে ধন্যবাদ তথ্যগুলো তুলে ধরার জন্য।
ত্রিভুজ, আলোচনাই পারে কোন বিষয়ে সত্য তুলে ধরতে এবং বিভ্রান্তি দূর করতে। এই জন্য আমি সব পক্ষকেই ধন্যবাদ জানাই।
ইঊসুফ সুলতান বলেছেন:
এতদিন আমার মন্তব্য দেয়ার অধিকার ছিল না। আজ হল। যাক, উম্ম আব্দুল্লাহ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমার লেখাটা এনালাইসিস করে সারকথাটা তুলে ধরার জন্যে। বাই দা ওয়ে, আপনার নিক টা আরবী ব্যকরণ হিসেবে 'উম্মু আব্দিল্লাহ' হবে। উম্মু আব্দুল্লাহ ভুল হবে। অবশ্য নামের ভুল তো কোন সমস্যা না। তাই, রাখতে পারেন, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে সেই প্রথম দিন থেকেই ভুল টা বারবার লাগছে। দুঃখিত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে তথ্যের জন্য।
জটিল বলেছেন:
লেখক বলেছেন: থাকল। কারন ৩৬০ টা মূর্তি সেখানে উপাসনার নিমিত্তে ছিল। মা মেরীর ছবি শুধুই ছবি। কিছুটা পার্থক্য আছে।যদি তথ্য সঠিক প্রমানিত হয়, তবে তা ছবির ব্যপারে ইসলামের বিধান দেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে পারে।
লালনের মুর্তি যারা ভেঙ্গেছে তারা কি ভেবেছিল এটা উপাসনার জন্যে , আহাম্মকের দল সব । তাদের জন্যে থুতু রইল একদলা ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লিংকের জন্য।
দুটো লেখায়ই পড়লাম....জানলাম অনেক কিছুই...
আবারো ধন্যবাদ।



















অনলাইনে থাকলে লিঙ্কটা দেবেন?