বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি জনিত সমস্যা।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩৬
"আচ্ছা বলো তো...........।"
আমি চমকে ফিরে তাকাই। দেখি, সারাহ।
"কি ব্যপার সারাহ?"
"তোমার কাছে একটা ব্যপার জানতে চাইছিলাম। এই যে অনার কিলিং, এটার সাপোর্ট ইসলামের কোথা থেকে এসেছে?"
ওহ। সে বিরক্তিকর প্রসংগ আবারো। পশ্চিমে পা দেয়ার পর থেকেই ক্রমাগতএর মুখোমুখি হচ্ছি। মুহুর্তে মেজাজ চড়ে যায় সপ্তমে। কিন্তু সেটা তো আর প্রকাশ করা যায় না। তাই ঠান্ডা মাথায় নিজেকে শান্ত রেখে জবাব দিলাম,
"আমিও ভাল মত জানি না। শুধু পত্রিকার পাতায় পড়েছি। যা জানি তা হল পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে এটা টিকে আছে।"
"সাপোর্ট কোথা থেকে আসে?"
"সাপোর্ট আবার কোথা থেকে আসবে? পাকিস্তানের সামন্ত তান্ত্রিক ব্যবস্থাই দায়ী। আরো শুনেছি তুরষ্ক সহ আরো কিছু দেশে রয়েছে। কই, আমাদের দেশে তো নেই।"
"সে তো বাংগালী মুসলিমেরা অনেক লিবারেল। কিন্তু তুমি বলছ সত্যিই ইসলামে এরকম কিছু নেই?"
"আমাদেরও নানা সমস্যা রয়েছে। যৌতুক, এসিড মারা - এসব। চিন্তা করে দেখ তো এসিড মারা কি রকম ভয়াবহ। বছরের পর বছর ধরে আমাদের দেশে এভাবে সন্ত্রাস হচ্ছে। আমার কাছে তো এটা অনার কিলিং এর চেয়ে কম ভয়ংকর মনে হয় না। আমি কিন্তু এই অনার কিলিং এর নাম আমি পশ্চিমে এসে প্রথম শুনি। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে এটা আবার কারোকারি নামে পরিচিত। কারো বলে ছেলেটিকে আর কারি বলে মেয়েটিকে। পাকিস্তানে তো অনার কিলিং এর বিরুদ্ধে আইন রয়েছে। তবে এখনও সেখানে রয়ে গেছে অনার কিলিং। " এক নিঃশ্বাসে আমি কথাগুলো শেষ করি।
সারাহ ঘটনা ব্যখা করল। কয়েকদিন আগে একটা খুন হয়েছে। পরিবার মিডল ইস্ট থেকে আসা। মেয়ের বয়ফ্রেন্ড ছিলো বলে বাপ-ভাই দুজনে মিলে মেয়েটাকে খুন করেছে। স্বভাবতই ঘটনাটি মিডিয়াতে আলোড়ন তুলেছে।
"দেখ, এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক থাকলে তো সব মুসলিম দেশেই সেটা হত। কই, আমি তো আমাদের দেশে এরকম শুনিই নি। যদিও আমাদের নারী নির্যাতনের কোন মাত্রা নেই।" আমি জবাব দেই।
কাজ থাকায় সারাহর সাথে সেদিনের আলোচনা আর বেশী আগায় নি। শুধু সারাহর একার নয়, বরং এখানকার সব সাধারন মানুষের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি একই রকম স্টেরিও টাইপড ধারনা । সাথে সাথে ইসলামের প্রতি। অনার কিলিং সহ নারীর প্রতি হাজারোটা সন্ত্রাসের লীলাভূমি হল মুসলিম দেশগুলো । এবং সেটা মুসলিমদের বিশ্বাসের সাথে জড়িত। মুসলিম দেশ, ইসলাম নিয়ে এসব নেগেটিভ ধারনা যেন তাদের মাথায় সিন্দাবাদের ভূতের মত গেথে বসে আছে।
৯/১১ এর পরে মধ্যপ্রাচ্যের এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের মানবাধিকার লংঘন, সন্ত্রাস জনিত যে কোন ঘটনা এখানকার সংবাদ মাধ্যম গুলোতে খুব সাড়া জাগানো ভাবে পরিবেশিত হয়। পশ্চিমে যে ক্রাইম কিংবা সমস্যা নেই - তা নয়। পশ্চিমে পা দেয়ার পরে আমি অনার কিলিং এর কথা যেমন প্রথম শুনতে পাই, তেমনি সাইকোপ্যাথ জাতীয় খুনের খবরও জীবনে প্রথম দেখি। টেড বান্ডি, জেফরি ঢামারদের মতন সাইকোপ্যাথদের কথা যখন টিভিতে দেখি, তখন আমি বাকরূদ্ধ হয়ে ভাবতে থাকি কি করে একজন অতি অসাধারন মেধাবী ছাত্রের পক্ষে এরকম সাইকোপ্যাথ হওয়া সম্ভব। বলাবাহুল্য, এদের প্রথম শিকার নিরীহ নারীরা। এছাড়া টিন এজ প্রেগনেন্সি, সেক্সুয়ালী টান্সমিটেড ডিসিজের সমস্যা তো আছেই। মুসলিম দেশের সামাজিক ব্যবস্থা যদি অনার কিলিং এর পরিবেশ তৈরী করে থাকে, তবে পশ্চিমের সমাজ ব্যবস্থাও কি তাদের সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী নয়? পশ্চিমের এইসব সমস্যার ভিক্টিম যে কেবল কম নয়, সেটা তো পরিসংখ্যানই বলে দেয়। কিন্তু মুসলিম দেশগুলোকেই যেন টেনে আনা হয় বার বার নারীর প্রতি সন্ত্রাসের প্রকৃষ্ট উদাহরন হিসেবে।
আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, তাতে ক্ষতি কি? নারীর প্রতি বৈষম্য আর সহিংসতা যে মুসলিম দেশে প্রচুর সংখ্যায় ঘটে থাকে তাতো মিথ্যা নয়। সংবাদ মাধ্যম যদি তা ফোকাস করে তবে তো তা বরং জনসচেতনতা বাড়াবে। ফলশ্রুতিতে মুসলিমরা নিজেদের দেশের সমস্যা সমাধানে আরো বেশী মনোযোগী হবে, আরো বেশী যত্নবান হবে। সুতরাং পশ্চিমে যদি এসব নিয়ে তোলপাড় হয়, তবে সেটাকে বরং আমাদের মোবারকবাদ জানানো উচিত।
আমি এর সাথে আংশিক একমত পোষন করব। পুরোটা নয়। এসব প্রচারনার ফলে যে মুসলিমরা কিছুটা হলেও সচেতন হচ্ছে - সেটা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও একতরফা প্রচারনা, কিংবা অতিরন্জ্ঞিত কথন - কোনটাই প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরে না, কিংবা সার্বিকভাবে মংগলময় হতে পারে না। মুসলিমদেশগুলো নিয়ে এত বেশী নেগেটিভ প্রচারনাতে হয়ত আমাদের সচেতনতা বাড়ছে, আমরা নিজেদের সমস্যার সমাধানে আগ্রহী হচ্ছি, কিন্তু ক্ষতি হয়ে যায় অন্যভাবে - আমরা হারাচ্ছি বিদেশীদের বিশ্বাস। চাকুরীতে, সামাজিকভাবে সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নিগৃহীত হবার কিংবা বৈষম্য সৃষ্টির অজুহাত হিসেবে দাড় করানো হয় এসব ঘটনাকে। কুর্দীদের প্রতি সাদ্দামের সীমাহীন জুলুম নির্যাতনকে যেমনি করে সামনে টেনে হয়েছিলো ইরাক আক্রমনের বৈধতা দেবার জন্যে, তেমনি করে মুসলিম দেশগুলোতে ঘটে যাওয়া এই নারী বিরোধী ঘটনা গুলো দিয়ে চলতে থাকে সাধারনের মনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি বিরূপতাকে উস্কে দেয়া। ফলশ্রুতিতে টার্গেট হয়ে যায় সব ধরনের মুসলিম - হোক না যতই লিবারেল আর প্রগতিশীল।
পশ্চিমে ইসলাম বিদ্বেষের সর্বশেষ উদাহরন হিসেবে আপনারা দেখেছেন স্যাটানিক ভার্সেস আর দ্য জুয়েল অব মেদীনা জাতীয় বইগুলোতে আল্লাহর রাসুল (সা) আর উম্মুল মুমিনীনদের নিয়ে অশোভন কটাক্ষ করার অপপ্রয়াস। কাল্পনিক ঘটনা পরিবেশনের মাধ্যমে ইসলামের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের সম্মানহানির দুরভিসন্ধি স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমদের আহত করেছে। ইসলাম বিদ্বেষের একই রকম আরেকটি প্রয়াস ছিল "সাবমিশন" নামে একটি ম্যুভি। এই ছবিটির পরিচালক ছিলেন বি্খ্যাত চিত্রকর ভিনসেন্ট ভ্যান গগের নাতি থিও ভ্যান গগ। আর স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন সোমালিয়ান মুসলিম বংশোদ্ভূত আয়ান হিসরী আলী, যিনি পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করেন এবং হল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ছবিতে ইসলামকে দেখানো হয় পশ্চাদপদ, অনগ্রসর এবং নারীর প্রতি অবমাননাকর একটি ধর্ম হিসেবে। ইসলাম এবং ন্যুডিটির অবস্থান পরস্পর বিপরীতমূখী। অথচ এই ছবির প্রথমেই দেখা যায় স্বচ্ছ পোশাকে প্রায় বিবসনা এক নারী মুখে নেকাব এটে নামাজে দন্ডায়মান। পুরো ছবিটিতে কোরানের আয়াত বিভিন্ন ইস্যুতে সামনে টেনে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখা করা হয়। যা চরমপন্থী এবং বিষেদগারে পরিপূর্ন। অত্যন্ত উস্কানীপূর্নভাবে নির্মিত এই ম্যুভি শুধু মুসলিমদের বরং যে কোন বিবেকবান মানুষকে আহত করবে। পরবর্তীতে একজন মুসলিম যুবক কর্তৃক দুঃখজনক ভাবে থিও ভ্যান গগ নিহত হন। (যা অবশ্যই নিন্দনীয়)। হিরসীকে আত্মগোপন করে থাকতে হয় বেশ কিছু দিন। মুসলিমদের সমালোচনায় আবারো শোরগোল উঠে চারিদিকে। মিডিয়াতে সরব হয়ে উঠে অনেকে। যা প্রকারান্তরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায়। তবে পরবর্তীতে ডাচ সরকারের আয়রন লেডী রিটা ভ্যানডর্ক তার ইমিগ্রেশন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ায় সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় হিরসীকে। অনেকটা তসলিমাকে নিয়ে বাংলাদেশ/ভারতে যা হয়েছে তার অনুরূপ।
এখানে উল্লেখ্য, আমি নিজেও আফ্রিকাতে নারীদের অবস্থান শোচনীয় বলে বিশ্বাস করি। অশিক্ষা, কুশিক্ষায় অনগ্রসর আফ্রিকান ক্ষমতাহীন নারীদেরকে সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে চিত্রিত করা হয়, তা হয়ত বানোয়াট নয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা সেরকমটিই বলে। পাশের বাসার ভাবী একবার বলছিলেন কানাডায় এদের অবস্থার কথা। কানাডায় সোশাল প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে কুমারী/অবিবাহিত মাতাদের কিছু ভাতা দিয়ে থাকে। একবার সেই অফিসে এক আফ্রিকান মুসলিম নারী যান ভাতা আনতে। সেখানকার কর্মরত মহিলাও তাকে চেপে ধরেন, "দেখো, মুসলিম মেয়েরা তো বাইরের কারো সাথে সম্পর্কে জড়ায় না। নিশ্চয়ই তোমার স্বামী আছে।" জেরার মুখে মেয়েটা প্রায় কেদে স্বীকার করে, "হ্যা। আমি বিবাহিত। আমার স্বামী আমাকে এখানে পাঠিয়েছে কুমারী/অবিবাহিত মাতৃত্বের ভাতার জন্য। সে আরো কয়েকটা বিয়ে করেছে।"
এই হল অবস্থা। মানুষের মর্যাদা নিয়ে বেচে থাকার অধিকার এদের কতটুকু আছে সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু ইসলামকে এই সমস্যার মূল হিসেবে চিত্রিত করা আদৌ গ্রহনযোগ্য নয়। সেক্ষেত্রে পশ্চিমেই বা কি করে এত নারী সহিংসতার মূখোমুখি হয়ে থাকে?
তবে যে বিষয়টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার দাবী রাখে তা হল, এই পরিস্থিতিতে আমাদের করনীয় বিষয় কি? আমরাই বা কি এর প্রেক্ষিতে খুব বিবেচনা প্রসূত আচরন করছি। আমার জবাব হবে, না। আমরা তা মোটেও করছি না। এবং সে কারনেই পশ্চিমে ইসলামের এবং মুসলিমদের বিরোধীরা নিজেদের অবস্থান গেথে নিতে পেরেছে। আমাদের অবিবেচক আচরনের কারনে তসলিমা নাসরীন আর আয়ান হিরসী আলীদের অবস্থান পশ্চিমে সুদৃঢ় হয়ে থাকে। শেষ একটি উদাহরন দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানছি।
আগেই বলেছি, মুসলিম দেশের নারী বিরোধী কিছু ঘটনা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সংবাদ মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। সেরকম একটি ঘটনা ছিল মুখতার মাই সংক্রান্ত ঘটনা। মুসলিম দেশে ধর্ষনের বিচার হয় না - এই প্রপাপাগান্ডার সমর্থকরা উদাহরন হেসেবে বেছে নেন মুখতার ঘটনাকে। সেরকম প্রচারনা কি কোন ভিত পেত যদি সঠিকভাবে এই ঘটনার বিচার কার্য সম্পন্ন হত? শুধু তাই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ পর্যন্ত মুখতারের বিপক্ষে অবস্থান নেন। আমাদের মুখ লুকোবার কোন জায়গা থাকে না - ধরনী কেন দ্বিধা হয় না। এমন কি মুখতার নাকি কোন এক পর্নো প্রমোটারদের কাছ থেকে স্বীকৃতি নিয়েছিলেন - সেরকম আলোচনাও দেখেছি অন্তর্জালে। অথচ যে আলোচনাটি চলতে পারত তা হল, কেন একটি মুসলিম দেশে অধিকার হারানো এক মেয়ের প্রতি সুবিচার হতে পারে না।
যতদিন না আমরা আমাদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে সচেতন হব, ততদিন পাশ্চাত্যে আমাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখোমুখি হবেই।
সবাইকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আমাদের কারনেই আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তবে আমি আশাবাদী। সমস্যার সমাধান আমরা ইনশাল্লাহ করতে পারব।
বিডি আইডল বলেছেন:
মিডিয়ার বিষয়টি জটিল। এর পিছনের কলকাঠি নাড়ানো লোকজন আরো বেশী জটিল।তবে যে প্রশ্নটা আমি সবসময়ই করি, পশ্চিমা মিডিয়া মুসলমানদের ভালো বলবে এটা আমরা আশা কেন করি? এতগুলো মুসলিম দেশ মিলিয়েও একটা সমমানের বিকল্প মিডিয়া কি গড়ে উঠতে পারেনা?
সে পর্যন্ত ক্ষান্ত।
লেখক বলেছেন: একমত। অন্যের উপর আশা করা বাতুলতা। নিজেদের সবকিছু নিজেদেরকেই গোছাতে হবে।
মুকুট বলেছেন:
ভালো লাগলো লেখাটা! আসলে অনেকই ইসলামকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে! অনেক কিছু ধর্মের দোহাই দিয়ে করা হচ্ছে, যা আদৌ ধর্মে নেই! ইসলাম ধর্মে কোথাও বোমা মেরে, পশুরমত মানুষ মারার বিধান নেই যা অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামের নামে করছে! এতে কলুষিত হচ্ছে মানবতা আর শান্তির ধর্ম ইসলাম! আর আমাদের আর একটা ব্যর্থতা হচ্ছে আমরা মিডিয়া সন্ত্রাসের শিকার! এর মানে এই নয় যে, আমরা ধোয়া তুলসিপাতা! কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে যেভাবে অনাচার হচ্ছে আমাদের চেয়ে বেশী না হলেও কম না! কিন্তু ইসলাম/মুসলমানদের টাই বেশী ফোকাসে আসছে, ওদেরটা গুরুতর হলেও আড়ালে থেকে যাচ্ছে বা কম আসছে..............! সব আসলে দেখা যাবে সকল ধর্মেরই কিছু মানুষ নিজ নিজ ধর্মকে কলুষিত করছে! কোন ধর্মের সন্ত্রাস ও নিকৃষ্ট কাজের হুকুম দেয়া নাই! মানুষ নিজের স্বার্থেই ধর্মকে বিকৃতরুপে ব্যবহার করছে!ধিক এই সকল বিকৃত মানসিকতার ও ধর্ম ব্যবসায়ী মানুষকে সে যে ধর্মেরই হোক না কেন! ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: একমত মুকুট ভাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
বেশ আগের ছবি। এখন কোথাও পাওয়া যাবে কিনা কে জানে।
ত্রিভুজ বলেছেন:
ভাল লেখা.. কিন্তু কয়েকটা পয়েন্টে সম্ভবত আপনার ধারনা পরিষ্কার না। যেমন একটা লাইন আছে, "পশ্চিমে যে ক্রাইম কিংবা সমস্যা নেই - তা নয়।"এটা দিয়ে কি পশ্চিমাদের ধোঁয়া তুলসি পাতা থেকে একটু খারাপ বুঝালেন? তুলনামূলক ভাবে পশ্চিমারা আমাদের থেকে হাজারগুন অপরাধপ্রবণ। আমাদের এখানে অন্তত ঘূর্নিঝরের ভেতরে পানিবন্ধী মানুষকে কেউ খুন বা ধর্ষন করতে যায় না। কিছুদিন আগে আমেরিকার একটা স্টেটে কি হয়েছিলো আপনার জানার কথা। আর আমেরিকার কোন সিটিতে কোন কারণে ইলেকট্রিসিটি ঘন্টা খানেকের জন্য চলে গেলে যে ভয়াভয় লুট-পাটটা হয় সেটা আমাদের এখানে হলে কি হতো কল্পনা করে দেখুন...! মূলত ওদের শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা ও কঠিন সব আইন কানুন এবং তুলনামূলক কম দূর্নীতিবাজ পুলিশি ব্যবস্থা (অন্তত সাধারণ পাবলিকের ক্ষেত্রে)-র জন্য সিকিউরিটি বা অন্য বিষয়গুলো বেশী ভাল মনে হয়। আসলে বাস্তব চিত্র পুরোই ভিন্ন....
আর অপরাধ প্রবনতাকে মুসলিম হিন্দু দিয়ে বিচার করার কোন অবকাশ নেই.. এটা একটা স্থানের সিস্টেমের উপর নির্ভর করে বাড়ে কমে.. কিছুদিন আগে এক জড়িপে দেখা গিয়েছে সিঙ্গাপুরের মানুষ সবচেয়ে বেশী নারী নির্যাতন করে (সোজা বাংলায় বউ পিটায়)। সিঙ্গাপুর মুসলিম এরিয়া নয়।
"যতদিন না আমরা আমাদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে সচেতন হব, ততদিন পাশ্চাত্যে আমাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখোমুখি হবেই।"
এই লাইনটা অনর্থক...! পশ্চিমারা এমন কোন সভ্য জাতি নয় যে তাদের কাছে আমাদের ভামূর্তি নিয়ে এত চিন্তিত হতে হবে। যে পশ্চিমারা আমাদের উপমহাদেশে এসে টয়লেট ব্যবহার করা শিখেছে তাদের কাছ থেকে সভ্যতার সার্টিফিকেট নেয়ার দরকার নাই। অর্থনীতি সভ্যতার মানদন্ড হিসেবে মানতে আমি নারাজ!
লেখক বলেছেন: ত্রিভুজ, দুঃখজনক বাস্তবতা হল পশ্চিমের উপর আমরা অনেক বেশী নির্ভরশীল, কিন্তু পশ্চিম সেরকম নয়। যার ফলে আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে ভাবতে হয় এদেশে টিকে থাকার কথা। সেজন্য এদেশে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে আমাদের অনেক বেশী ক্ষতির সম্মূখীন হতে হয়। উল্টোটা কখনও হয় না।
পশ্চিম সভ্য কিনা তা তো আপেক্ষিক বিষয়। কিন্তু তারা শৃংখলা আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। সে স্বীকৃতি তো দিতেই হবে।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
লেখাটি ভালো লাগলো।আমাদের জন্মযুদ্ধের সেই ১৯৭১ এর কথাই ধরুন, ইসলামে মালে গনিমত জায়েজ আছে বলে জামায়াতে ইসলামী নারী ধর্ষনকে সমর্থন করেছে, জিহাদের কথা বলে হত্যাকে সমর্থন করেছে। এর জন্য কি ইসলামকে দায়ী করা যাবে ? যাবে না। যাবে যারা ইসলামমে ব্যবহার করছে। এ ব্যপারে জামায়াতে ইসলাম সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
এ ধরনের কাজ সুষ্পস্ট অন্যায়। অন্যায়ের বিচার হোক।
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন:
অন্যরকম লেখা , ভাল লাগল ।কিছু ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে দ্বিমতও করি , তাদের সাজেশন অনুযায়ী কি ধর্মকে মডিফাই করা উচিত কিনা । তারা জানে ভুল , তাদের ভুল ভাঙানোর জন্য আরও বড় ভুল করে বসি কিনা ?
তারপরও , ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। দ্বিমত পোষনের জন্য ধন্যবাদ। তবে দ্বিমতের পয়েন্টগুলো ফোকাস করলে ভাল লাগত।
মুসলিম দেশে মানবাধিকার লংঘন জনিত ইস্যুতে কাউকে সমালোচনার সুযোগ না দেয়াটা সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা।
আর ইসলামকে মডিফাই করা যায় না। মুসলিমরা এমনটি করতে পারে না।
নিবিড় বলেছেন:
পুরো ব্যাপার টাই একটা ক্রিয়েশন ..একদিকে রক্ষণশীলতা আর এক দিকে অতিরিক্ত লিবারেলিসম এইসবের জন্য দায়ী ..।দায়ভার এড়ানো সম্ভব না..গোটা মুসলিম জাতিকে এক হতে হবে এর দায় বইতে ..।কিন্তু তারা কখনও এক হতে পারবে কি?
লেখক বলেছেন: সে তো আমারও প্রশ্ন। তবে মানবাধিকার ইস্যুতে অন্তত মুসলিমদের আরো সচেতন হওয়া উচিত।
প্রজ্ঞা বলেছেন:
ওরে বাবা! কি ছবি দিয়েছেন!! এখনই তো ভয়ে পালাচ্ছিলাম.....। কিন্তু আপনাকে দেখে আবার রয়ে গেলাম..........।লেখাটা সুন্দর। অর্ধেক পড়েছি, বাকিটা পরে পড়ব।
লেখক বলেছেন: সময় নিয়েও যে পড়েছেন সেটা জেনে ভাল লাগছে। আর মন্তব্যের ধন্যবাদ তো আছেই।
পারভেজ বলেছেন:
পড়েছি আগেই , কিন্তু মন্তব্য করতে গিয়ে মনে হলো খুব বেশী কিছু জানা নেই। তবে এটা ঠিক আমরা ইসলামে নারী যে অধিকারটুকু পায়, সেটা মোটেই দিতে পারিনি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
নীরব পাঠক বলেছেন:
আপা! চমৎকার লাগল। আধুনিক বিশ্বের সাধারন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সমস্যাটিকে বাস্তবসম্মত ও নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। ওয়াসসালাম
লেখক বলেছেন: সালাম আপনাকেও। সব সময় আমার লেখা পড়ে যান, খুব ভাল লাগে।
রাফা বলেছেন:
তৃতীয় বিশ্ব সহ অধিকাংশ মুসলিম দেশে শিক্ষার অভাবই এ ধরনের অপরাধ সংগঠিত হওয়ার প্রধান কারন।আমাদের দুর্বলতা আমাদেরই কাটিয়ে উঠতে হবে।আমাকেও মাঝে মাঝে বিরুপ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।যেমন বলা হয় কোন ধর্ম প্রচারকই যুদ্ধ বিগ্রহের পক্ষে ছিলনা ।অথচ মহানবী (সঃ )এর ব্যাপারে ওহুদের যুদ্ধ ,বদরের যুদ্ধ সহ বিভিন্ন যুদ্ধের উদাহরণ দেওয়া হয় এবং বলা হয় এখান থেকেই নাকি সন্ত্রাস ও জিহদের শুরু অর্থাৎ তাদের কাছে জেহাদ এবং সন্ত্রাস সমার্থক।
লেখক বলেছেন: খোলা মন নিয়ে পড়লে সবাই বুঝতে পারে ওসব যুদ্ধ আসলে অনেকটা চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ। ইসলাম শান্তির ধর্ম - এটা সত্য।
লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন বলে খুশী হলাম।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
পারভেজ ভাই এর মন্তব্য আমারো ...
লেখক বলেছেন: পড়ার ধন্যবাদ রইল।
কোলাহল বলেছেন:
পড়লাম সবার মন্তব্যসহ। মানবাধিকার ইস্যুতে মুসলিম স্কলারদের আরেকটু সচেতন হওয়া দরকার।
লেখক বলেছেন: আপনার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ছিল পীড়াদায়ক। আজ মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগল।
একমত আপনার সাথে।
মু্ক্ত মানব বলেছেন:
ভালো লেখা। শুভেচ্ছা নিন।আত্নসমালোচনা করতে সাহস লাগে, সে সাহস আমাদের মাঝে আরও সন্চারিত হো'ক। আমিন।
লেখক বলেছেন: আমিন।



















আপু, কাকতলীয় ব্যাপার। আজকে সকাল থেকে আমার ভীষন মন খারাপ এইসব ব্যাপার নিয়েই।... আপু, রেগে গেলেই সব সমাধান হয়ে গেলোনা। একবারও কি ভেবে দেখেছেন, মেয়েদেরকে নিয়ে এইসব সমস্যা কেনো কথিত মুসলিম দেশগুলোতেই বেশী? জানি, ইসলাম নয়, ট্র্যাডিশন এবং কালচার-ই দায়ী। ...... তারপরও কিন্তু থেকে যায়। ............... অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু মাথা কেমন প্যাঁচ খেয়ে আছে। ......... আমাদের এইসবের আসল কারন বের করার জন্যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে স্টাডি এবং রিসার্চ করা দরকার। নট ফর ডিফেন্ডিং ইসলাম, ইভেন নট ফর পোট্রেয়িং টু বি ওয়ান অব দ্য সো কল্ড ওপেন মাইন্ডেড,...... ফর সেলফ আইডেনটিটি। ......... কী লিখতে কী লিখলাম। ...... চারপাশে এতসব লজিক আর এন্টীলজিক...... চারপাশের মাথামোটা খাইয়ে দাইয়ে শরীর দেখিয়ে রুপ দেখিয়ে বেড়ানো মেয়েদের মত হলেই মনে হয় ভালো ছিলো......... ভাল্লাগছেনা আপু। সত্যি ভাল্লাগছেনা আজকাল। ............