আমার প্রিয় পোস্ট

আস সালাম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক

স্পেনের কিছু ইতিহাস, মুর মুসলিমদের সভ্যতা, উথ্থান/পতন এবং একটি পেন্ডিং এপোলজি

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১১

শেয়ারঃ
0 32 0

স্পেন। ইউরোপের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংগ। এখানে একদিকে যেমন হয়েছে ইউরোপের প্রথম সভ্যতার উৎকর্ষ, অন্যদিকে ঘটেছে ইনকুইজিশনের মত বর্বরতা। সব মিলিয়ে স্পেনের ইতিহাস তাই বহুমাত্রিক, যা পাঠকদের আগ্রহী করে তোলে। নিতান্ত উদাসীন হলেও আপনি হারিয়ে যেতে চাইবেন স্পেনের বৈচিত্রময় অতীতে, মিশে যেতে চাইবেন সেখানকার মানুষদের জীবন ধারার সাথে। আমার এই সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে পঞ্চম থেকে পঞ্চদশতম শতকের কথাই মূলত স্থান পেয়েছে, যা সবচেয়ে বেশী বৈচিত্রময় বলে আমার বিশ্বাস।






পঞ্চম শতকের স্পেন: ভিসিগোথ শাসনে নির্যাতনে পিষ্ট প্রজাকূল

পঞ্চম শতকের কথা।

স্পেন তখন শাসিত ছিল ভিসিগোথদের দ্বারা। ভিসিগোথদের সংক্ষেপে "গোথ" বলা হত, যাদের মূল আবাস স্থল জার্মান। তারা ছিল আরিয়ান ক্রীষ্চান। বেদুইন এই জাতিটি বংশ পরষ্পরায় বিভিন্ন দেশ জয় করে তাতে বসতি স্থাপন করে, যাদের মাঝে স্পেন ছিল একটি। স্পেনে যতদিন আরিয়ান ভিসিগোথদের শাসন ছিল, ততদিন সেখানকার পরিবেশ ছিল ইহুদী অধিবাসীদের প্রতি সহনশীল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় যখন ৫৮৯ খ্রীষ্টাব্দে স্পেনের ভিসিগোথ রাজা রেকারেড ক্যাথলিক বিশ্বাস গ্রহন করেন। ক্যাথলিকদের বিশ্বাস আরিয়ানদের থেকে অনেকটাই আলাদা, যদিও দুটো গোত্রই ক্রীশ্চান। ভিসিগথ রাজাদের ক্যাথলিক হবার পর থেকে রাজকার্যে চার্চের প্রভাব বেড়ে যায়। সাথে সাথে ইহুদীদের উপর নেমে আসে অন্ধকার এবং নির্যাতন। কাট ছাট করে দেয়া হয় তাদের ধর্ম পালনের অধিকার। নাগরিক অধিকারও হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। যার ফলে প্রায় ৯০০০০ ইহুদী ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয়, তা স্বেচ্ছায়ই হোক, কিংবা জোরপূর্বকই হোক। নির্যাতনের এই ধারাবাহিকতায় ৬৩৩ খ্রীষ্টাব্দে স্পেনের সমস্ত ইহুদীদের ব্যাপটাইজড করার পরিকল্পনা হল [৮][১০]। পরবর্তী ভিসিগোথ শাসনে এসব বিষয়ে কিছুটা শিথিলতা এলেও ইহুদীরা নিষ্পেষনের যাতাকল থেকে আর মুক্ত হয় নি। ফলশ্রুতিতে ইহুদীদের অর্থনীতিতে নেমে আসে ব্যপক ধ্বস, কারন তাদের পক্ষে অন্যদের সাথে বানিজ্য করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

এভাবেই চলতে লাগল ৭১১ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত।

মুরদের স্পেন বিজয়, ভিসিগোথদের পরাজয়:

৭১১ সাল। স্পেনের ভিসিগোথ রাজা তখন রডারিক।

রডারিক খুব অল্প সময়ের জন্য স্পেন শাসন করতে পেরেছিলেন। তারপরেই পরাজিত হন মুরদের কাছে।


মুরদের হাতে রাজা রডারিকের পতন ঘটে কি করে?

মিশরীয় ইতিহাসবিদ ইবনে আবদুল হাকিম ভিসিগোথদের পতন প্রেক্ষাপটের যে বর্ননা দেন তা মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে যুগ যুগ ধরে গান, কবিতা গল্পের মাধ্যমে জনপ্রিয় লোকগাথা কিংবদন্তী হিসেবে প্রচলিত হয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।


স্থানীয় স্পেনিশ নেতা জুলিয়ান তার কন্যাকে পাঠান রডারিকের দরবারে পড়াশোনার জন্যে। কিন্তু রডারিক তাকে ধর্ষন করে। যার ফলে জুলিয়ান ক্ষিপ্ত হয়ে মুসলিম নেতাদের অনুরোধ করেন রডারিকের পতন ঘটানোর জন্য।


উপরোল্লিখিত লোকগাথা মুসলিমদের মাঝে জনপ্রিয় হলেও সার্বিক ভাবে তা ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি। রডারিকের পক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো অসম্ভব কিছু নয়, কিন্তু শুধু এই একটি ঘটনার কারনে রডারিক তার সমর্থন হারান নি। রডারিক তার আশে পাশের নেতাদের সমর্থন হারিয়েছিলেন অনেকগুলো কারনে। [১]

রডারিকের ক্ষমতা আরোহন ছিল বিতর্কিত। রডারিকের আগে রাজা ছিলেন উইটিজা, যার উত্তরাধিকার ছিল স্পেনের সিংহাসনের দাবীদার। কিন্তু ক্যাথলিক চার্চের বিসপবৃন্দ উইটিজার সন্তানদের পরিবর্তে মনোনীত করে রডারিককে। যা উইটিজার বংশধরদের ক্রুদ্ধ করে তোলে। উইটিজারা পালিয়ে জুলিয়ানের কাছে আশ্রয় নেয়। জুলিয়ান সব রকমের সাহায্যের অংগীকার দিয়ে তৎকালীন উমাইয়া গভর্নর মুসা ইবনে নুসায়েরকে অনুরোধ করেন রডারিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে। তার প্রেক্ষিতে মুসা তার জেনারেল তারিক বিন জিয়াদের উপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত করেন।

রডারিক একদিকে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার, অন্যদিকে প্রজা বৎসল না হবার জন্যে সাধারনের সমর্থন লাভে ব্যর্থ। যার কারনে তার বিপুল সৈন্যবাহিনী থাকলেও তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল পরিষ্কার। অন্যদিকে মুর জাতি ভিসিগোথদের মতই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা বেদুইন জাতি, তার উপর মুসলিম হবার ফলে আরবদের সহযোগিতা প্রাপ্ত। তাই জেনারেল তারিক বিন জিয়াদ মাত্র ৭০০০ সৈন্য নিয়ে রডারিকের লক্ষাধিক সৈন্যের বিরুদ্ধে লড়ে মোটামুটি অনায়াসে বিজয়ী হন এবং স্পেন দখল করেন। এভাবেই পতন ঘটে স্পেনের সর্বশেষ ভিসিগোথ রাজা রডারিকের।

জেনারেল তারিক ছিলেন একজন মুর নব্যমুসলিম। তিনি যেহেতু একজন অনারব, তাই ধারনা করা হয় আরবী "তারিক" নামটি তার প্রকৃত নাম নয়। [২] তবে তার প্রকৃত নাম যাই হোক না কেন, ইতিহাসে তিনি তারিক নামে পরিচিত হয়ে আছেন। মাত্র সাত বছর সময়কালের মধ্যে তারিক ও মুসার অন্যান্য জেনারেল বৃন্দ পুরো স্পেনকেই মুরদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসেন। তারিকের পরবর্তী জীবনকাল সম্পর্কে নিশ্চিত করে খুব বেশী কিছু জানা যায় না। কয়েকজন ইতিহাসবিদ তারিক ও তার সেনাদলকে আরব, মুর এবং সুদানীজদের মিশ্রন বলে অভিহিত করেছেন।

স্পেন বিজয়ী তারিকের বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক দিন:

৩০শে এপ্রিল, ৭১১ খ্রীষ্টাব্দ।

তারিক তার সৈন্যদের নিয়ে স্পেনে পৌছে প্রথমে একটি পাহাড়ের ধারে অবতরন করেন। যা পরবর্তীতে "জাবাল তারিক" বা "তারিকের পাহাড়" নামে পরিচিত হয়। এই "জাবাল তারিক" থেকেই "জিব্রাল্টার" শব্দটি এসেছে। অবতরনের পর পরই তিনি তার সব নৌকা জাহাজ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। হতবুদ্ধি হয়ে একজন সেনা জানতে চাইল, "এখন আমরা কি করে ফিরব?" তারিক শান্তভাবে জবাব দিলেন, " ফিরে যাবার জন্য তো আমরা আসিনি। হয় বিজয়, নতুবা ধ্বংস।"

সৈন্যদের উদ্দেশ্যে দেয়া তারেকের সেই ঐতিহাসিক বক্তিতার কিছু অংশ ছিল নিম্নরূপ:

"হে আমার যোদ্ধাগন। কোথায় তোমরা পালাবে? তোমাদের পেছনে সাগর, সামনে শত্রু। তোমাদের আছে কেবল সাহস এবং ধী শক্তি। মনে রেখো এদেশে তোমরা সেই এতিমদের চেয়েও হতভাগা যাদের লোভী মালিকদের সাথে টেবিলে বসতে হয়। তোমাদের সামনে শত্রু, যাদের সংখ্যা অগন্য। কিন্তু তোমাদের শুধু তলোয়ার ব্যতিরেকে কিছুই নেই। তোমারা বেচে থাকতে পারবে যদি শত্রুর হাত থেকে নিজেদের জীবনকে ছিনিয়ে আনতে পার। ভেবোনা আমি তোমাদের সাথে থাকবো না। আমিই সবার সামনে থাকব, এবং আমার বাচার সম্ভাবনাই সবচেয়ে ক্ষীন।"

এই বক্তিতায় উজ্জীবিত হয় তারেকের সেনাদল। প্রানপন যুদ্ধের দ্বারা স্পেনের মাটিতে রডারিকের অগনিত সেনাদলকে পরাজিত করে স্পেনের বুকে তারা স্থাপন করে মুরদের রাজ্য। মুরদের কাছে ভিসিগোথ সর্বশেষ রাজা রডারিকের পতন ঘটে। স্পেনের নামকরন হয় "আন্দালুসিয়া"।

এখানে দেখুন আন্দালুসিয়ার ম্যাপ:



(কৃতজ্ঞতা: Click This Link)

মুর জাতি আসলে কারা?

ক্লাসিক্যাল গ্রীক এবং রোমান ইতিহাসবিদগন কৃষ্ণ বর্নের পূর্ব আফ্রিকার যাযাবর জাতিকে "বারবার" নামে অভিহিত করেছেন। "বারবার" থেকে বাংলায় "বর্বর" এবং ইংরেজী "barbaric" শব্দ গুলো এসেছে, যা এই জাতির যুদ্ধপ্রিয়তাকে প্রকাশ করে। বারবারদের একটি অংশকে "মুর" বলেও সম্বোধন করা হয়, যারা মিশর থেকে মরক্কো পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এরা উত্তর আফ্রিকাতেও প্রভাবশালী হয়। গ্রীক "মোরস" শব্দের অর্থ কালো, যেখান থেকে "মুর" শব্দটি এসেছে। মুর নামকরনের প্রকৃত কারন তাদের কৃষ্ণকায় গাত্রবর্ন, যা এদেরকে ইউরোপিয়ানদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্টে্র অধিকারী করেছিল। মুরদের প্রসংগে ক্রীশ্চান সূত্র, বিশেষত আলফানসুর প্রিমেরা ক্রিকা জেনারেল লিখেছে, "তাদের মুখ যেন পিচের মত কালো।" বিভিন্ন সূত্রে এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে, পনের শতকের পূর্বের মুরদের গাত্র বর্ন বাদামী কালো, অথবা কৃষ্ণ কালো। আফ্রিকার এই যাযাবর জাতিটি ভিসিগোথদের মতই বারবার গোত্রীয় এবং বেদুইন যোদ্ধা জাতি। [৪] মুসলিম ইতিহাসবিদগন অবশ্য দাবী করেন, "মুর" নামটি আসলে হেয় অর্থে প্রচলন করা হয়েছে। সে যাই হোক, স্পেন বিজয়ী জাতিটিকে বর্ননার জন্যে "মুর" বর্তমানে প্রচলিত একটি শব্দ। বৃক্ষের পরিচয় যেমন করে থাকে ফলে, তেমনি মুররাও বিজ্ঞান সভ্যতায় তাদের অবদানের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে রেখে গেছে গৌরবময় চিহ্ন। মুরদের শাসনকালে স্পেনের সভ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে "when the moors ruled europe" নামের ১ ঘন্টার ভিডিওটি নীচের লিংক থেকে দেখতে পারেন। (Click This Link)। [৩]

মুর রাজ্যের বৈশিষ্ট্য:

মুর শাসিত স্পেনের সভ্যতা ও উন্নতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সামহোয়ারে বেশ কিছু পোস্ট বিভিন্ন সময়ে এসেছে। নীচের পোস্টটিতে যেসব বর্ননা দেয়া হয়েছে, তার কোন কিছুই অতিরন্জ্ঞিত নয়।
Click This Link

মুর শাসিত আন্দালুসিয়াতে ক্ষমতায় ছিল উমাইয়া রাজবংশ। এ সময়টাতে কর্ডোভা হয়ে উঠে ইউরোপের সবচাইতে মনোরম শহর। প্রায় ৫০০০ মিল ছিল শুধু কর্ডোভাতেই, যেখানে ইউরোপে একটিও ছিল না। ইউরোপের ৯৯ ভাগ লোক যেখানে ছিল অশিক্ষিত, সেখানে কর্ডোভাতে ছিল ৮০০ পাবলিক স্কুল। তৎকালীন ইউরোপে গোসলখানাকে হারাম বলে গন্য করা হত, অথচ কর্ডোভাতে ছিল ৯০০ পাবলিক বাথ। দশম শতকে কর্ডোভাতে ছিল ৭০০ মসজিদ, ৬০০০০ প্রাসাদ, ৭০ টি লাইব্রেরী যার সবচেয়ে বড়টিতে ছিল ৬০০০০০ বই। অন্যদিকে সে সময়কার ক্রীশ্চান ইউরোপে সবচেয়ে বড় লাইব্রেরীতে ৪০০ এর বেশী ম্যানুস্ক্রীপ্ট ছিল না। ১৪০০ শতকের শেষে ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসে ছিল মাত্র ২০০০ টি বই। তৎকালীন আন্দালুসিয়ায় প্রতি বছর ৬০০০০ পুস্তিকা, কবিতা, সংকলন ইত্যাদি প্রকাশিত হত, যেখানে স্পেন এখন প্রতি বছর ৪৬৩৩০ বই প্রকাশ করে থাকে (১৯৯৬ সাল পর্যন্ত)।
(সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Al-Andalus)


নীচে আন্দালুসিয়ার উইন্ডমিলের ছবি (উইকিপেডিয়া থেকে নেয়া) যা তৎকালীন মুর শাসিত স্পেন থেকে পরবর্তীতে ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রচলিত হয়:




এখানে উল্লেখ্য মুর জাতি বার্বার গোত্রভুক্ত হলেও তারা অন্যান্য বার্বারদের মত ধর্মীয় স্বাধীনতা দিতে অস্বীকার করে নি। এর মূল কারন ছিল তাদের ধর্ম ইসলাম। অমুসলিমদের প্রতি সহনশীলতার উৎস কোরানের দুটো আয়াত। "লা ইকরাহা ফিদ্বীন" (দ্বীনের বিষয়ে কোন জবরদস্তি নাই: বাকারা ২:২৫৬)। এবং "ওয়ালাও শাআ রাব্বুকা লা আমানা মান ফিল আরদি কুল্লুহুম জামিয়ান আফা আনতা তুকরিহুন্নাসা হাত্তা ইয়াকুনু মুমিনিন।" (আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?: ইউনুস : ৯৯)। যার ফলে পৃথিবীর বুকে সব ধর্মের মানুষের জন্য তৎকালীন স্পেন হয়ে রইল ধর্মীয় সহনশীলতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে।

মুর শাসনকাল ছিল ইহুদীদের স্বর্নযুগ। চিকিৎসক, দার্শনিক, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনীসহ নানান পেশায় ছিল তাদের গৌরবময় পদচারন। তার পেছনে ছিল কর্ডোভার আমীর আবদুর রহমানের ইহুদী কাউন্সিলর হাসদাই ইবনে শাপরুতের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা [৫]। হাসদাই ছিলেন চিকিৎসক এবং কুটনীতিক। আন্দালুসিয়ার ইহুদী দার্শনিকদের একজন ছিলেন কর্ডোভার বিখ্যাত মোসেস মাইমুনাইডস, যিনি একাধারে রাবাই, চিকিৎসক, এবং দার্শনিক হিসেবে স্পেন, মরক্কো এবং মিশরে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। অন্যান্য মুসলিম দার্শনিকদের মত তিনিও এরিস্টটল দিয়ে প্রভাবিত ছিলেন।
(http://en.wikipedia.org/wiki/Maimonides)। মাইমুনাইডস স্পেনের মুরদের শাসন প্রসংগে ছিলেন, "ইহুদীরা মুসলিমদের স্পেন দখলকে ৭১১ খ্রীষ্টাব্দে স্বাগতম জানায়। মুসলিমদের বিজয়ের সাথে সাথেই ইহুদীদের স্বাধীনতা ও স্বর্নযুগের সূচনা হয়। তারা সাফল্যের সাথে প্রশাসনে, চিকিৎসা শাস্ত্রে, সাহিত্যে ও বিজ্ঞানে অনুপ্রবেশ করতে পারে। [৬]" ।


স্পেনের তৎকালীন সভ্যতা, সংস্কৃতির সাথে যে মানুষটির নাম অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে রয়েছে, তিনি হলেন আবু আল ওয়ালিদ মোহাম্মদ ইবনে রুশদ, সংক্ষেপে ইবনে রুশদ। কর্ডোভান দার্শনিক ইবনে রুশদ তার যুক্তিভিত্তিক মতবাদের মাধ্যমে ইউরোপে রেনেসার বীজ বপন করে যান। ধর্ম বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত এবং যুক্তিবাদ দিয়ে প্রভাবিত দুই পক্ষের মধ্যেকার দৃশ্যমান পার্থক্য প্রসংগে তিনি বলেছেন, "ঐশীবানী এবং যুক্তি দর্শন - দুটোই সত্য, যদিও সত্য অনুধাবনের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। দার্শনিকরা যদি ঐশী বানী ব্যাখায় ভুল করে থাকেন, তবে তাদের সে ভুল ক্ষমার যোগ্য।" ইমাম গাজালীর বিখ্যাত বই "তাহাফুত আল ফালাসিফা" ("দার্শনিকদের আত্মঘাত") কে চ্যালেন্জ্ঞ করে তিনি রচনা করেন "তাহাফুত আল তাহাফুত আল ফালাসিফা" ("দার্শনিকদের আত্মঘাতের ধ্বস")। ইমাম গাজালীর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে তিনি ব্যাখা করে যান গাজালীর যুক্তির দুর্বলতা। তিনি বলেন, গাজালী প্রসংগ না তুলে ধরে বিচ্ছিন্নভাবে দর্শনের কিছু অংশ বেছে নিয়ে তাকে অপব্যাখা করতে চেয়েছেন।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে রুশদের চিন্তাধারায় নারীবাদের প্রভাব দেখা যায়। ইবনে রুশদ বলেন, "নারীর মেধার বিকাশে আমাদের সমাজ কোন সহায়তা দেয় না। তাদের গন্তব্য যেন শুধু সন্তান জন্ম দেয়া এবং তার প্রতিপালন। দায়িত্ব সীমাবদ্ধ করে দেয়ার ফলে তাদের যোগ্যতার উপরে এসেছে আঘাত। এর ফলে দেখা যায় নারীদের মধ্যে নেই কোন দক্ষতা, তারা গাছপালার মত জীবন যাপন করে এবং তাদের জীবন শুধু স্বামীর জন্যই উৎসর্গীত। এটা সমাজের জন্য অনাকাংখিত, কেননা নারীর সংখ্যা পুরুষের দ্বিগুনেরও বেশী, অথচ তারা নিজস্ব শ্রমের মাধ্যমে জীবনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ।" ইবনে রুশদের মত দার্শনিকদের কারনে তৎকালীন আন্দালুসিয়া ছিল নারীর ক্ষমতায়নের কেন্দ্রবিন্দু। (Click This Link)

ইবনে রুশদের দর্শন চিন্তা সামগ্রিকভাবে মুসলিম সমাজে গ্রহন যোগ্য হয় নি। তিনি ঐশী বানীকে কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়াই সবার উপরে স্থান দিয়েছেন, এটা সত্য। ঐশীবানীর মহাত্ম্যকে সবার উপরে স্থান দিয়ে দার্শনিকদের অনুধাবনে ভুল থাকার বিষয়টিও মেনে নিয়েছেন। তবে ঐশীবানীর আক্ষরিক অর্থ না নেয়া সহ কিছু বিষয়কে তিনি স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিয়েছেন। তিনি "মহাবিশ্ব অসৃষ্ট" বিষয়ক এরিস্টটলের মতবাদকে ইসলামের দ্বারা ব্যাখা করার চেষ্টা করেন, যেখানে মুসলিম, ইহুদী আর ক্রীশ্চানরা বিশ্বাস করে বিশ্ব একটি সৃষ্ট বস্তু। গ্রীক দর্শনকে এভাবে ইসলামের আলোকে ব্যাখা করার প্রয়াস সাধারনের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে গ্রানাডার গ্রান্ড মসজিদের সামনে জন সমক্ষে তাকে পাথর মারা হয়। খলিফা রুশদের পৃষ্ঠপোষক হলেও জনতার চাপের মুখে নত হয়ে রুশদের কিছু বই পোড়ানোর নির্দেশ দেন। তখনকার আন্দালুসিয়াতে "মালিকি" মতবাদ ছিল জনপ্রিয়, এবং খলিফার প্রয়োজন ছিল মালিকি জুরিস্টদের সমর্থন। (Click This Link)।


মুরদের পতন এবং ফার্ডিনান্ড/ইসাবেলার গ্রানাডা বিজয়:

১৬ ই জুলাই, ১২১২ সাল।

স্পেনের বুকে এই দিনটি ছিল একটি গুরুত্ব বহ টার্নিং পয়েন্ট। পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো সব একত্রিত হয়ে মুর রাজ্যের সাথে চরম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে মুরের অধিপতি সুলতান নাসিরের পতন ঘটায়। তার আগের বছর, অর্থ্যাৎ ১২১১ সালে মুর অধিপতি সুলতান নাসির পার্শ্ববর্তী ক্রীশ্চান রাজ্যে এক হামলা চালান, যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষের সবাই ঐক্যবদ্ধ হন। পোপ ডাক দেন ক্রুশেডের। মুর সুলতানের পক্ষে ছিল আফ্রিকান বেশ কিছু অংশ: মরোক্কো, আলজেরিয়া, টিউনিসিয়া, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ আলফানসুদের পক্ষে ছিল পর্তুগাল ও স্পেনের উত্তরাংশের সমর্থন। এই বেদনাদায়ক যুদ্ধের ময়দান সিক্ত ছিল মুসলিমদের হাটুসম রক্তের মাধ্যমে। ১২১২ সালে আলফানসু এবং তার সহযোদ্ধাদের কাছে পরাজয়ের পরে আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি মুর রাজ্য। এর পরের ইতিহাস পরাজয়ের ইতিহাস। একের পর এক মুর মুসলিম অধ্যুষিত শহরগুলোর পতন ঘটতে থাকে। ১২৩৬ সালে বৃহত্তম রাজধানী শহর কর্ডোভার দখল নেন কাস্টিলের রাজা ফার্ডিনান্ড। ফার্ডিনান্ড সেভিল দখল করেন ১২৪৮ সালে এবং জেইন দখল করেন ১২৪৬ সালে।


২রা জানুয়ারী, ১৪৯২ সাল।

পরাজয়ের ধারায় সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৪৯২ সালের ২রা জানুয়ারী। গ্রানাডার শাসক আবু আবদুল্লাহ, যিনি ববদিল নামে স্পেনে পরিচিত,
ফার্ডনান্ড ও ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হন। সেই সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবসান ঘটে মুর সাম্রাজ্যের।

আমেরিকা বিজয়ী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন এই আত্ম সমর্পন অনুষ্ঠানে। তিনি লেখেন, "ইয়োর হাইনেস কর্তৃক মুরদের কাছ থেকে গ্রানাডা দখলের পর আমি শহরের দুর্গ আল হামরার টাওয়ারে রাজকীয় ব্যানার দেখেছি।"

ববদিলের এই আত্ম সমর্পন ছিল শর্তাধীন, বা চুক্তি ভিত্তিক যা "ক্যাপিচুলেশন অব গ্রানাডা" নামে পরিচিত। ১৪৯১ সালের ২৫ শে নভেম্বরের এই চুক্তিতে ৬৭ টি ধারা অন্তর্ভূক্তি হয়, যাতে গ্রানাডার মুসলিম ও অন্যান্য অধিবাসীদের ধর্মীয়, ভাষাগত, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার সুরক্ষিত হয়। চুক্তিটি দেখুন। Click This Link

কিন্তু হায়!! এর পরবর্তী ইতিহাস ছিল করুন। কুখ্যাত আল হামরা ডিক্রির মাধ্যমে ইহুদীদের চার মাসের মধ্যে স্পেন ত্যাগে বাধ্য করেন ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ড (http://en.wikipedia.org/wiki/Alhambra_Decree)। এই আল হামরা ডিক্রি শেষ পর্যন্ত ১৯৬৮ সালে ভ্যাটিকান কর্তৃক বাতিল হয়। চুক্তি শর্ত বাস্তবায়ন না করে উল্টো ১৫০১ সালের মধ্যে মুসলিমদের দুটো চয়েস দেয়া হয় : ব্যাপটাইজ, অথবা বহিষ্কার। প্রায় সবাই ক্রীশ্চান হল, যারা মরিস্কো নামে পরিচিত(http://en.wikipedia.org/wiki/Moriscos) । কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মরিস্কোদের বিশ্বাসঘাতকতা ধরা পড়ল যে এদের অনেকে উপর দিয়ে ক্রীশ্চান হলেও ভেতরে ভেতরে ইসলাম ধর্মের প্রতি বিশ্বস্ত। পরবর্তীতে মরিস্কোদেরকেও স্পেন থেকে বহিষ্কার করা হয়।


মুরদের পতনের কারন কি?

একজন রক্ষনশীল হয়ত বলবেন, "ইসলাম থেকে দূরে চলে যাওয়াই এর আসল কারন। তারিক তো স্পেনে ইসলামী মূল্য বোধ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এরপর সেখানকার রাজা বাদশারা যেভাবে বিলাসিতা, পাপাচারে মত্ত হয়ে যান, পর্দা উঠিয়ে দেন, তাতে পতনের কি বাকী থাকে?" আপনি যদি প্রগতিশীল হন তাহলে এই টিপিক্যাল কথা শুনে বিরক্ত লাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু রক্ষনশীলদের এরকম মনোভাব একেবারে অযৌক্তিক নয়। মুরদের পতনের মূল কারন ছিল জাতীয়তাবাদের বিলুপ্তি। একটি ভূখন্ডের অখন্ডতা রক্ষার জন্য জাতীয়তাবাদের আঠার কোন বিকল্প নেই। আন্দালুসিয়ার পরিবেশটি ছিল কিছুটা ভিন্নতর। এখানে ছিল আরব, অনারব মুর সহ বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মিশ্রন। যার ফলে জাতীয়তাবাদের মূল উপাদান ভাষা ও সংস্কৃতি ছিল দুর্বল গাথুনিতে গাথা। এদের ধর্ম ছিল এক, কিন্তু সে মূল্যবোধ ছিল উপেক্ষিত। যদিও আল্লাহর রাসুল (সা), অনারবের উপর আরবের কিংবা কালোর উপর সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই বলে ঘোষনা দিয়েছেন, বাস্তবক্ষেত্রে এই অধিবাসীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল। এছাড়া কেন্দ্রে ছিল আব্বাসীয় শাসন, যেখানে আন্দালুসিয়ায় চলছিল উমাইয়া শাসন। কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বারোয়ারী সংস্কৃতির আন্দালুসিয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী যারা পাশের ক্রীশ্চান শক্তিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম। কিন্তু উমাইয়া শাসক আবদের রহমান শিল্প সংস্কৃতি, বিজ্ঞানের উন্নতির দিকে খেয়াল রাখলেও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি মনোযোগী ছিলেন না। সব মিলিয়ে মুরদের পতন হয়ে উঠে অবশ্যম্ভাবী।

স্পেনের ক্ষমা প্রার্থনা:


স্পেনের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া বহিষ্কারের জন্য রাজা জুয়ান কার্লোস ইতিমধ্যে ইহুদীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। একবার ১৯৯২ সালে ইসরাইলের সংসদে এবং দ্বিতীয়টি টলেডোর সিনাগগে। কিন্তু মুসলিমদের দাবী সত্ত্বেও তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন নি। যদিও তিন মিলিয়ন মুসলিমকে বহিষ্কার করা হয়, যারা পার্শ্ববর্তী মরক্কোতে আশ্রয় নেয়। ইবনে হাকিম নামে একজন মরোক্কান বলেন, "আমার পরিবারে ১৪টি স্পানিশ নাম রয়েছে এবং আমরা স্প্যানিশ বলি। হারানো সে হোমল্যান্ডের জন্য আমরা এখনও ভালবাসা ধরে রেখেছি। আমি আশা করি না এত বছর পরে সে বাড়ী ও জমি ফেরত পাব। তবে আমাদের নৈতিক শক্তির বিজয় দেখতে চাই।" ইতিহাসবিদ গিবসন এ প্রসংগে লিখেছেন, "মুসলিমদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে সাড়া দেয়া প্রয়োজন। নাকি গ্রানাডার মুসলিমরা সেখানকার ইহুদীদের চেয়ে হীনতর?" (Click This Link)


===========================================

কিছু রেফারেন্স:

১। Click This Link

২। http://en.wikipedia.org/wiki/Tariq_ibn_Ziyad

৩। http://en.wikipedia.org/wiki/Moors

৪। গোল্ডেন এজ অব দ্য মুর: Click This Link ibn ziyad black&f=false

৫। Click This Link

৬। Click This Link

৭। ভিসিগোথ শাসনে ইহুদীদের ভয়ানক অবস্থার পুরো বর্ননা রয়েছে এখানে (সূত্র: http://libro.uca.edu/vcode/visigoths.htm) ।

৮। http://en.wikipedia.org/wiki/Visigoths

৯। http://en.wikipedia.org/wiki/Reccared

১০। Click This Link



১১। Click This Link



১২। Click This Link

১৩। Click This Link


১৪। Click This Link

১৫। Click This Link ibn ziyad black&f=false


১৬। Click This Link


১৭। Click This Link

১৮। Click This Link

১৯। Click This Link


২০। Click This Link

 

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৮
সুধাসদন বলেছেন: আপু, একটা কাজের লেখা লিখেছেন। প্লাসের বিনিময়ে পছন্দের তালিকায় সংযুক্ত করলাম।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেক কষ্ট হয়েছে লেখাটির জন্যে। প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। অনেক দিন ড্রাফটে ছিল। শেষে বিরক্ত হয়ে যা আছে তাই পোস্ট করি চিন্তা করে পোস্ট করতে গিয়ে দেখি ছবি আসছে না।

যা হোক, বহু গরমিল সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত পোস্ট করতে পারলাম। আপনাদের পড়ার জন্যে। আর আমার ইতিহাস জ্ঞানটাকে ঝালাই করতে।

ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল।

২. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৩
জোবাইর বলেছেন: তথ্যসমৃদ্ধ লেখার জন্য সহস্র ধন্যবাদ।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও পোস্ট পড়ার জন্যে।

৩. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৮
ম্যাভেরিক বলেছেন: সুন্দর ও পরিশ্রমী লেখা।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ রইল।

৪. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৯
বিডি আইডল বলেছেন: বিশাল তথ্য সমৃদ্ধ লেখা...++
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

৫. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫১
বন্ধু-কথন বলেছেন: পোষ্টে প্লাস।
আপনার পেসান্স আর কষ্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমরা ইতিহাসকে জানি না বলেই তা থেকে অনুপ্রাণিত হই না। আপনার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

বিডি আইডল বলেছেন: বিশাল তথ্য সমৃদ্ধ লেখা - একমত। প্রিয়তে থাকল, ইনশাআল্লাহ একটু ফ্রি হলেই সময় নিয়ে পড়বো।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটিও উৎসাহব্যন্জ্ঞক। ধন্যবাদ।

৬. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৪
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:



শিবিরের আইডি ফোরামে দেখলাম আপনি ইতিহাস জানেন কম?

যাই হোক এই রকম কপি পেষ্ট মার্কা পোষ্ট ইমন জুবায়ের ভাইও দেয় প্রতিদিন,

তবে ধন্যবাদ।

একটা ডকুও দেখা যাক, When the Moors Ruled in Europe
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৩

লেখক বলেছেন: আই ডি ফোরামে যিনি আমার মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন তিনি তার দৃষ্টিভংগি ব্যাখা করেছেন। আমি যেসব রেফারেন্স ঘেটেছি তার উল্লেখ উপরে রয়েছে। আমার মনে হয় না আমার লেখাটিতে তথ্যগত কোন ভুল রয়েছে, কারন আমি প্রচুর রেফারেন্স ঘেটেছি। সমন্বয়ও করা কোন কঠিন কাজ নয়। যেমন, আমি লিখেছি বর্বররা এসেছে পূর্ব আফ্রিকা থেকে, যেখানে উইকিতে লেখা আছে এরা উত্তর আফ্রিকান। আমি আবার রেফারেন্স ঘাটলাম। দেখলাম পূর্ব আফ্রিকান বার্বাররা পরে উত্তর আফ্রিকাতে শক্ত অবস্থান নেয়।

কোন ভুল বুঝাবুঝি না হবার জন্য এবার মোটামুটি লাইন বাই লাইন রেফারেন্স গুলো দিয়েছি। কোন স্পেসিফিক তথ্যগত ভুল থাকলে সেটা উল্লেখ করুন। ফোরামে না হলেও নিজস্ব ব্লগে আমি সাধারনত জবাব দিয়ে থাকি।


ম্যুভিটার আমি দেখেছি এবং উপরের লেখাতে রেফার করেছি।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৫

লেখক বলেছেন: কপি পেস্ট মার্কা পোস্ট অবশ্যই। ইতিহাস আমি বানাই না। ইতিহাস শুধু ঘাটতে পারি।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৩
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:


আরে এই পোষ্ট নাতো, আইডি ফোরামে আপনার এই পোষ্ট পড়ি নাই।

ছয় সাত দিন আগে গিয়েছিলাম , দেখলাম আপনি অনলাইনে তারপর আপনার প্রোফাইলে ক্লিক করে দেখলাম আপনার সাপ্রতিক মন্তব্য ও পোষ্ট দেখায়, ওখান হতে বিভিন্ন পোষ্ট ও কমেন্ট দেখলাম তাই উপরের মন্তব্য করলাম।

ওটাকে গীবতফোরাম ও বলা যায়।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫০

লেখক বলেছেন: আচ্ছা বুঝলাম। ধন্যবাদ।

৯. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৪
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম। তথ্যবহুল পোস্ট।

শুভকামনা রইলো।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভ কামনা।

১০. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২১
দিগন্ত বলেছেন: স্প্যানিশরা এখনও মূর বিতাড়নকে ভিকট্রি ডে হিসাবে পালন করে। মূরদের না তাড়ালে ওদের দাবীমত ওরা আজকের স্পেন হতে পারে না। মূররা পালিয়ে গিয়েছিল মরক্কো/আলজিরিয়াতে। এখন মরক্কো/আলজিরিয়ার সাথে স্পেনের তুলনা করলে মনে হয় স্প্যানিশরাই ঠিক।

তবে মূরদের কাছে ক্ষমা না চাওয়ার স্প্যানিশ কারণ হল যে মূররা কেউই স্প্যানিশ ছিল না, তারা বহিরাগত ছিল। এই কারণ কেন ইহুদীদের জন্য প্রযোজ্য নয় তা আমার ধারণায় নেই।

পরাজয়ের কারণ হল বিজ্ঞান। পঞ্চদশ শতকে ইউরোপীয়রা আধুনিক বিজ্ঞানে উন্নতি শুরু করে দিয়েছিল, যা মূররা তখনও ধরে উঠতে পারেনি। তাই এর আগের ক্রুসেডে খ্রীষ্টানরা কচুকাটা হলেও স্পেনে সমানে সমানে যুদ্ধে জিতে গেছে। আরো পাঁচশ বছর পরে এখন আর ক্রুসেড হবার মত অবস্থাই নেই - কারণ যুদ্ধ সমানে সমানে হয়।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২০

লেখক বলেছেন: খুব আশ্চর্য বিষয়। চুক্তি ভংগ করে একটি বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে এজন্য বহিষ্কার করা যে, সুদূর অতীতে ৮০০ বছর পূর্বে তোমার পূর্বপুরুষ ছিল বহিরাগত। আটশ বছর ধরে একটি ভূমিতে বসবাস করার পরেও কাউকে "বহিরাগত" মনে করাটা বর্নবাদী পরিচয়। কি হবে এখন যদি ভারতীয়রা বহিরাগত দাবী করে আর্য আর অনার্যদের মাঝে বিভেদ শুরু করে দেয়!!

বিজ্ঞানের উন্নতি যে পরাজয়ের কারন তা আমার মনে হয় নি। বরং তখনকার স্পেনে চলছিল ইনকুইজিশনের মত বর্বরতা, যা অন্যদিকেই ইংগিত করে।

১১. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২১
দিগন্ত বলেছেন: লেখা তথ্যবহুল ও ভাল ... আগের কমেন্টে বলা হয়নি।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১২. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১১
রিয়াজ উল বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম...পরে পড়ে দেখবো।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৩. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১২
পিটার প্যান বলেছেন: তিনি (ইবন রুশদ) "মহাবিশ্ব অসৃষ্ট" বিষয়ক এরিস্টটলের মতবাদকে ইসলামের দ্বারা ব্যাখা করার চেষ্টা করেন, যেখানে মুসলিম, ইহুদী আর ক্রীশ্চানরা বিশ্বাস করে বিশ্ব একটি সৃষ্ট বস্তু।

--- ইন্টেরেস্টিং তথ্য। মহাবিশ্বকে সৃষ্টিকর্তা সৃস্টি করেননি এটা বলার পর তাকে কি আর মুসলিম বলা যায়?
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২১

লেখক বলেছেন: ইবনে রুশদ বা আরো যেসব মুসলিম দার্শনিক এরিস্টটল দিয়ে প্রভাবিত ছিলেন, তারা বিভিন্ন ভাবে এরিস্টটলকে ব্যাখা করতে চেয়েছেন। ইবনে রুশদ ও তার দর্শন নিয়ে আমি পরবর্তীতে একটি লেখা দাড় করাতে চাই। আপাতত আমি ইবনে রুশদ নিয়ে পড়াশোনা করছি।

১৪. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৮
বন্ধু-কথন বলেছেন: @পিটার প্যান:
Click This Link
সময় নিয়ে এইখানে একটু দেখতে পারেন।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৫

লেখক বলেছেন: লিংকটা কিসের সেটা কি একটু বলতে পারেন। কেন যেন আমার কম্পিউটার থেকে ওটাকে দেখতে পাচ্ছি না।

১৫. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৩
ফারহান দাউদ বলেছেন: গৌরবময় এক সভ্যতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। পোস্ট কেউ পড়লে খুব ভাল লাগে।

১৬. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৯
বন্ধু-কথন বলেছেন: @ রিপ্লাই টু কমেন্ট#১৪ -
video.google.com/videoplay?docid=5289081445493804871#

এই ভিডিওতে ডিস্কাশন টপিক আলাদা, কিন্তু প্রথম ৩০ মিনিটে ইয়াসির কাদহি ভিন্ন থিওলজির সাথে ইসলামের মিশ্রণ সম্পরকে সামারাইজ করেছেন।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। দেখা যাচ্ছে।

১৭. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০৯
নুভান বলেছেন: স্পেনে মুসলমানদের পরাজয়ের মূল কারন বলে আমার যা মনে হয় তা হল, অন্তঃকলহ। স্পেনের আরবরা নিজেদের বড় মনে করত বারবার অথবা স্প্যানিশ কনভার্টেড মুসলিমদের থেকে। আবার একএক ট্রাইব অন্য ট্রাইবদের পছন্দ করত না। এ কারনে উমাইয়্যা সম্রাট তার দেহরক্ষি হিসেবে ইউরোপিয়ান স্লাভ মুসলমানদের রাখাতেন, বিশ্বস্ত বলে। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল উমাইয়া খেলাফতের বিলুপ্ততা। কারন এর পরপর-ই স্পেনের মুসলিম সম্রাজ্য বহু খন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে ও নিজেরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থেকে, অনেক সময় আরাগোনিজ ও কাটালান খৃষ্টান রাজ্যের সহযোগিতায়। যদিও আলমোহাডরা পরে উইনিফায়েড স্পেন বানাতে চেয়েছিলো, কিন্তু আর লাভ হয়নি। এই অন্তঃকলহের মাশুল তাদের হাড়ে হাড়ে দিতে হয়েছিলো।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: হ্যা। নিজেদের মধ্যেকার কলহই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাড়ায়। ইতিহাসের সে অংশটি আমি লেখায় আনিনি, কারন লেখাটি এর মধ্যেই বেশ বড় হয়েছে।

১৮. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৭
দাম বলেছেন: যাই হোক আমরা আবার স্পেন দখল করে নিব।

যাই হোক লেখাটা অনেক কাজে দিবে। +
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭

লেখক বলেছেন: দখল করে নেয়া সম্ভবত জাতিসংঘের রেজুলিউশনের বিপরীত।

দখল নয়, বরং সংখ্যালঘুর মর্যাদা নিয়ে মুসলিমরা ইউরোপে যেন বসবাস করতে পারে। ইদানিং ইউরোপে মুসলিমদের নাগরিক অধিকার নিয়ে বিভিন্ন খবর আসে যা উদ্বেগজনক।

১৯. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২০
প্রবাস কন্ঠ বলেছেন: স্পেনে মুরদেরকে স্প্যানিশ ভাষায় মরো বলা হয়। দক্ষিন অঞ্চলের স্প্যানিশরা সকল মুসলমানদেরকে মরো বলে থাকে। Fiesta de Moro (মুসলমানদের স্মরনে উৎসব) এই বছর আমি আংশগ্রহন করেছিলাম, আমার লিংকটা ঢু মারতে পারেন।
http://prothom-aloblog.com/users/base/jakir/280

যদি কিছু মনে না করেন আপনার এই লেখাটা http://bangla71.net/ -এ ছাপাতে চাই।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫

লেখক বলেছেন: নিশ্চয়ই সাইটে রাখতে পারেন যদি চান। তবে লেখাটিকে তাড়াহুড়া করা পোস্ট করার কারনে অনেক ছোট খাট ভুল থাকতে পারে। সেজন্য আগামী এক সপ্তাহ লেখাটিকে এডিট করছি।

২০. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৫১
অলস ছেলে বলেছেন: দাম বলেছেন: যাই হোক আমরা আবার স্পেন দখল করে নিব। !:#P !:#P !:#P

ভালো লেগেছে।
১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২১. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৬
এস বাসার বলেছেন: চমৎকৃত হলাম আপনার পোষ্ট পড়ে। অনেক কষ্ট করে যে লিখেছেন তা বুঝতে পারছি।

ধন্যবাদ।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

২২. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৭
হতবুদ্ধি বলেছেন: সেটাই, ফিরে দেখার সময় এসেছে।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০৮

লেখক বলেছেন: পোস্ট পড়া এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২৩. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৭
নাজনীন১ বলেছেন: " চুক্তি শর্ত বাস্তবায়ন না করে উল্টো ১৫০১ সালের মধ্যে মুসলিমদের দুটো চয়েস দেয়া হয় : ব্যাপটাইজ, অথবা বহিষ্কার। "

এটা দেখে আমার মনে একটা প্রশ্ন এলো, মুসলিমরা যখন স্পেন শাসন করছিলো তখনকি ইহুদী আর খ্রিস্টানদের কি জিজিয়া কর দিতে হয়েছে? এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন?


রাণী ইসাবেলা যখন গ্রানাডা দখল করে সেসময়ে নাকি হাজার হাজার কোরআন পোড়ানো হয় মুসলিমদের সামনে, তখনই ভোগ-বিলাসে মত্ত গাফেল মুসলিমদের টনক নড়ে যে এতোদিন তারা কি করে এসেছে, কিন্তু তখন অনেক দেরী......


আর মুসলিমদের কাছে ক্ষমা না চাওয়ার কারণ মনে হয়, একসময় মুসলিমরা তাদেরকে পরাজিত করেছিল, তাই এটা শোধ। কিন্তু ইহুদীরা পুরো সময়ই খ্রিস্টান বা মুসলিমদের অধীনে ছিল।

পরিশ্রমসাধ্য লেখা। ধন্যবাদ।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৭

লেখক বলেছেন: সে সময়কার জিজিয়ার বিষয়টি আমি খুব জানি না। সম্ভবত দিয়েছে। তবে অন্যান্যদের সময়েও ট্যাক্স দিতে হত। বরং মুসলিমরা খুব বেশী জিজিয়া কারো কাছ থেকে রাখত না। যাই হোক, আমি ভালভাবে জেনে না হয় বলব।

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৫

লেখক বলেছেন: স্পেনে ইসলামী বই পোড়ানো সহ অনেক রকমের কান্ড হয়েছে। ইসাবেলা অবশ্য কাউকেই ছাড় দেন নি। স্প্যানিশ ইনকুইজিশনের শিকার ছিল সবাই।


কিছুদিন আগে স্পেন মরিস্কোদের জন্য সহজতর অভিবাসন নীতি গ্রহন করেছে।

২৪. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৪
অণুসন্ধানী বলেছেন: পতনের ঘটনা আরো একবার ঘটতে ধরেছিল ১০৯০ সালের দিকে। সেইবার রক্ষা করেছে ইঊসুফ বিন তাসফিন।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৫

লেখক বলেছেন: হ্যা, সেবার খন্ড রাজ্যের মুসলিম শাসকরা ইউসুফ বিন তাশফিনকে আমন্ত্রন জানায়। এ বিষয়ে সেভিলের তখনকার শাসক মুতামিদের বক্তব্য ছিল:

"আমি আমার উত্তরসূরীদের কাছে বিশ্বাসঘাতক হিসাবে চিহ্নিত হতে চাই না এই বলে যে আমি তাদেরকে অবিশ্বাসীদের শিকার হতে দিয়েছি। আমি চাই না মুসলিমরা আমাকে তাদের অভিশাপের বিষয় বস্তু বানাক। আমি বরং আফ্রিকাতে উট চড়াব, তাও কাস্টিলে শুকরের রক্ষক হতে চাই না।"


তার ছেলে প্রিন্স রাশিদ যখন ইউসুফ বিন তাশফীনকে আমন্ত্রন জানাতে বাধা দিয়েছিলেন তখন মুতামিদ তার এই বিখ্যাত উক্তিটি করেন।

(সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Yusuf_ibn_Tashfin)

মুতামিদ তার কথা রেখেছিলেন। তিনি আর শাসক হিসেবে থাকতে পারেন নি। তিনি ছিলেন তার রাজবংশের সর্বশেষ শাসক। পরবর্তীতে ইউসুফ বিন তাশফীন আল মোরাভিদ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাফল্যের সাথে শাসন করলেও তার পরবর্তী বংশধররা তেমন সফল ছিলেন না।

২৫. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৩
বিবেক সত্যি বলেছেন: ব্লগ-পড়লাম.. অনেক ভালো লাগলো..সত্যি সত্যি...

ইউসুফ-বিন-তাশফীন
লেখক : নসীম হিজাজী

৪০০ বা ৪৫০ পাতার বই.. এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলছিলাম... বইটা তিনবার পড়েছি.. উপন্যাস তো.. তাই :-) .. স্পেনের শুরু থেকে শেষ.. পুরোটা ছিলো... ষড়যন্ত্র-অলসতা-বেকুবি-বিলাসিতা-কাপুরুষতা....... বইটা পড়ার সময়ে আফসোসে হাত কামড়াতে ইচ্ছা হয়...
২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৮

লেখক বলেছেন: স্পেনের ইতিহাস আসলেই খুব বৈচিত্রময়।

ভাল থাকবে।

২৬. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২২
মিতক্ষরা বলেছেন: স্পেনের ইতিহাস কতই না বৈচিত্রময়।
২৭. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১০
সুন্দরম বলেছেন: পোস্টে প্লাস এবং আমার একমাত্র পোস্টটি পড়ার অনুরোধ নইলে পিচ্চি গোস্বা হইবো। ভালো থাকেন
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৮

লেখক বলেছেন: পড়লাম। রেটিং ও মন্তব্য - সবই দিলাম।

ভালো থাকবেন।

২৮. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৫
সুন্দরম বলেছেন: ধন্যবাদ আপু, পিচ্চি খুশি হইছে
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: আমিও খুশী।

২৯. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৯
সুন্দরম বলেছেন: আন্দালুসিয়ার চির হরিৎ বনভূমের কবি লোরকা সমস্ত পৃথিবীর হৃদয়-মন কাঁপিয়েছেন।
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩২

লেখক বলেছেন: লোরকার বিষয়ে কোন লিংক আছে কি?

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩১. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৫
হোদল রাজা বলেছেন: রেফারেন্সসহ দারুন ইতিহাস!
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩২. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৭
সুন্দরম বলেছেন: লোরকার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এই লিংকে-
Click This Link
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৫৬

লেখক বলেছেন: ইন্টারেস্টিং। ধন্যবাদ।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩৪. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৫
হোসাইন১৯৫০ বলেছেন:


কি বলে ধন্যবাদ দিব ? ভাষা জানা নেই । গণহত্যা , যুদ্ধশিশু , যুদ্ধ নিয়ে চবিতে এক গবেষণা কর্মের সাথে জড়িত ছোটখাট মানুষ আমি । গ্রাণাডা মাসাকার , মুর আর মরিস্কো এক্সপালসান , রিকনকুইস্টার মত জঘণ্য বিষয়গুলো প্রথমবার যখন পড়েছিলাম , তখন , অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি । আজ আপনার লেখা পড়ে আবার চোখটা ভরে উঠল । ধন্যবাদ ।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। লেখাটি লেখার সময় আমি অনুভূতি টানতে চাইনি। তবুও দেখছি ঘটনার কারনে তা এসে গেল।

৩৫. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০১
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: ইতিহাস আর সময়কাটানোর প্রিয় টপিকস তাই আপনার পোস্ট ও প্রিয়তে সরাসরি
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: আমারও। খুব মজা পাই অতীতে বিচরন করতে।

৩৬. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫২
সাতকরা বলেছেন: স্পেনে ইটা চায় স্বাধীনতা যদিও ওরা বলে টেররিস্ট আর বার্সিলোনার অনেক মানুষ চায় স্বাধীনতা। জিব্রালটার,মিলেলিয়া,সুয়েটা এদিক গুলো আপনার লেখাতে আসলে আরও ভাল হত যদিও আপনি ভাল লিখেছেন ধন্যবাদ।
http://en.wikipedia.org/wiki/ETA
http://www.youtube.com/watch?v=ace9bNGlHOc
http://www.youtube.com/watch?v=BElS3enEO5s
২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: আরো লিখতে হলে আরো পড়তে হবে। পড়ার কাজটা খুব সহজ নয়। তার উপর লিখতে হলে গভীর ভাবে পড়তে হয়, সেটা আরো কঠিন।

৩৭. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৫
দ্বীপবালক বলেছেন: ভাল লিখা। তবে কিছু তথ্য বিভ্রান্তি আছে।
২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: ১৩০০ বছর আগের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি অস্বাভাবিক বা অসম্ভব কিছু নয়। সব রকমের সতর্কতা সত্ত্বেও হাদীসের মত পবিত্র বিষয় নিয়ে যদি হাজারটা অভিমত্ আসতে পারে, তবে সাধারন ইতিহাসে সেরকমটা থাকাও বিচিত্র কিছু নয়। এটুকু মেনে নিয়েই ইতিহাস রচনা হয়ে থাকে।

ধন্যবাদ।

৩৮. ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
সাতকরা বলেছেন: স্পেনীশ ইটা মুক্তিযোদ্বা নাকি টেররিস্ট কার কি মনে হয়?
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৫৩

লেখক বলেছেন: ইটা নামটা আগে কখনও শুনিনি। শুধু অংক কষতে গিয়ে গ্রীক এই অক্ষরের সাথে পরিচয়।

৩৯. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৬
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: স্পেনের ইতিহাস পড়া মানেই রোম খাড়া হয়ে যাওয়া , রক্ত গরম হয়ে যাওয়া , অনেক গর্ব হওয়া , অনেক দুঃখ পাওয়া , তারপর অনুশোচনা...... আফসোস অতঃপর রাগ হওয়া!!!!

আপু , তোমাকে ফেইসবুকে এড করি , হু ? :-)
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫২

লেখক বলেছেন: স্পেনের ইতিহাস সেরকমই ..................


ফেসবুকে আমি যে লগ ইন করি না আপু। এড করা বা না করা তো সমান ...........।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪১. ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০৫
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: তারপরো... করইনা আপা! প্লিয ......
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭

লেখক বলেছেন: হাহ..........

দেখা যাক, কখনও যদি সুমতি হয়........।

ভাল থাকবে আপু।

৪২. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৫৮
লালসালু বলেছেন: আপাতত শোকেসে রেখে দিলাম পরে পড়ব।
০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪৪. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৭
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:



@দিগন্ত, আপনার কথামত সব বহিরাগত লোকদের হত্যা ও বহিস্কৃত করা হোক, আমেরিকান আর অস্ট্রেলিয়ানদের মেরে আর বহিস্কৃত করে রেডইন্ডিয়ানদের আর এবরোজিয়ানদের দিয়ে দেওয়া হোক।

আপনি সম্মত আছেন?



আপনার জন্যে এটা খাঁটে, দ্যা গ্রেটেস্ট এনিমি অফ নলেজ ইজ নট ইগনোরেন্স, ইটস এ ইলুশান অফ নলেজঃ স্টেফিন হকিং
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৬

লেখক বলেছেন: সভ্য সমাজ এরকম বহিষ্কার নিন্দার ঝড় তোলে।

৪৫. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৯
নুভান বলেছেন: @দিগন্তঃ স্পেনে মুসলমানদের পরাজয়ের মূল কারন বিজ্ঞান, এটা বলাটা ভূল হবে। কারন খৃষ্টানরা যখন থেকে রিকনকোয়েস্টা শুরু করেছে, তখন তারা মোটামুটি ভাবে জংলী ছিল বলা যায়। মূল সমস্যা ছিলো ভয়ানক প্রাসাদ ষড়যন্ত্র আর গোত্রগত অন্তর্কলহ। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আমার যা মনে হয়েছে তা হলো, উমাইয়্যা সম্রাজ্যের যোগ্য উত্তরসূরী না থাকায় তার পতন। যা আগের কমেন্টে বলা হয়েছে ও লেখক বলেছেন। যদি বিজ্ঞানের কথা বলেন তবে তুর্কি খেলাফতের মূল কারন বিজ্ঞান বলতে পারেন।

মজার ব্যাপার হল স্পেনের মুরদের স্পেনের কোন খৃষ্টান রাজা এক্সপেল করতে চায়নি। কারনটা খুব সহজ, মুররা ছিলো সভ্য ও দক্ষ শ্রমিক। তখন স্পেনের রাজার হাতে ছিলো প্রচুর পরিমানে আমেরিকান স্বর্ণ ও রৌপ্য, যা দিয়ে মুর শ্রমিক দিয়ে প্রাসাদ, চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা ও অনুবাদকদের দিয়ে পুস্তক ট্র্যান্সলেশন করানো হত। কিন্তু পুর্বে তুর্কিদের হাতে বাইজান্টাইন পতনের পরেই পোপ বাবাজির মাথার ঘায়ে কুত্তা পাগল অবস্থা হয়, আর তখন-ই নির্দেশ দেয়া হয় সকল মুসলিমদের খৃস্টান হতে হবে নয়তো বহিস্কার, এর পর অনেকে লুকিয়ে ইসলাম চর্চা করতো যাদের মরিস্কো বলা হয়। ১৫৬৭ সালের দিকে ডন জুয়ান ও রাজা ফিলিপ ২ মিলে ইহুদি মরিস্কোদের এথনিক ক্লিনজিং শুরু করে আর তা ১৬০২ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিলো।
এখানে আরেকটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন, মুসলমানদের উত্তর আফ্রিকাতে নির্বাসন দিলেও ইহুদীদের উদ্ধার করার জন্য সে সময় অটোম্যান তুর্কি সম্রাট তার শ্রেষ্ঠ বারবোসা নাবিক বিশাল নৌবহর নিয়ে আসে ও ইহুদীদের রাশিয়ায় রিলোকেট করে, যার কারনে সে সময়ের ইহুদীরা তুর্কি সম্রাটের প্রতি প্রচন্ড কৃতজ্ঞ ছিলো।
যা হোক, সেই ইহুদীদের বংশধরেরাই কিন্তু আবার ১৯৪৮ সালের পর প্যালেস্টাইনিদের সরিয়ে দিয়ে ইসরায়েল দখল করে (সে সময় বেশীরভাগ ইহুদী ছিলো সেই রাশান ইহুদীরা)। ইতিহাসের কি নির্মম খেলা। যে মুসলমানেরা তাদের একসময় রক্ষা করেছিলো, তাদের প্রপ্য সন্মান ইহুদীরা দিলো এভাবে !
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৬

লেখক বলেছেন: অনেক কিছুই আমার জানা ছিল না। ধন্যবাদ।

৪৬. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৫
বন্ধন ১৯৮৩ বলেছেন: খুবই ভালো লাগলো। স্পেন এর স্বপ্ন দেখি. স্পেন এর প্রতি আমার দুর্বলতা সেই ছোটবেলায় ছিল। এখনো আছে। স্পেন এর কাহিনী, ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্থাপত্য আমাকে খুবই টানে............ঘোর লাগা, ঘোর লাগা ভাব!

সরাসরি প্রিয়তে। অধের্ক পড়েছি। বাকিটুকু পরে পড়বো, ইনশাল্লাহ।

ধন্যবাদ +
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। সত্যিই ঘোর লাগা ইতিহাস।

৪৭. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৮
জাতি জানতে চায় বলেছেন: পড়তে দারুন লাগলো! মাঝে মাঝে একটু শর্ট হয়ে গেছে মনে হয়, সমস্যা বলতে এতটুকুই! তবে অসাধারন খাটতে হয়েছে আপনাকে! ধন্যবাদ
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২৪

লেখক বলেছেন: শর্ট হয়েছে? আমার তো মনে হল একটু বেশীই লম্বা করে ফেলেছি।

ধন্যবাদ।

৪৮. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫০
আট আনা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। এতকিছু একসাথে জড়ো করা অনেক শ্রমসাপেক্ষ ব্যাপার। রেফারেন্সগুলার জন্য প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম।

দাম সাহেবের সাদ্দামীয় বক্তব্যে চমৎকৃত হৈলাম। পরে 'দখল' করতে গিয়া প্রতিপক্ষের দৌড়ানি খাইয়া জুম্মার নামাজের পরে মিছিলে 'জিহাদ' এর ডাক দেয়া হৈবে। আপনার জাতিসংঘের সনদের জবাবটাও ছেলেভুলানো টাইপের হৈছে।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:২৮

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে পড়ার জন্যে এবং মন্তব্য করার জন্যে।

আমার জবাব ছেলেভুলানো টাইপের হয়েছে? অযৌক্তিক নিশ্চয়ই নয়।

ব্লগে অনেক ধরনের মন্তব্য আসে। এবসার্ড মন্তব্য গুলো সামাল দেবার বিষয়ে আমি একেবারে আনাড়ী।

ভাল থাকুন।

৪৯. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৬
আট আনা বলেছেন: অযৌক্তিক হয়নি, তবে আপনার জবাবটা মিসইন্টারপ্রিটেট হবে অনায়াসেই। ইসলাম সম্বন্ধে জানেনা এমন কেউ আপনার জবাব শুনলে বুঝবে যে ইসলামে এভাবে দখল করাকে বৈধ করা আছে বা উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি হওয়াতে মুসলিমরা নিজেদের রিস্ট্রেইন করে রেখেছে। আপনার উচিৎ ছিল সেটা ক্ল্যারিফাই করা।

হুমম ধন্যবাদ ভাল থাকর চেষ্টা করবো। :)
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:০৭

লেখক বলেছেন: ও আচ্ছা। কিছুটা ধরতে পারলাম। তবে ব্যাপারটা কি জানেন? জাতিসংঘ সনদ মেনে চলাটাও ইসলামের মূলনীতির মধ্যে পড়ে। যেহেতু আজকের বিশ্বে সব মুসলিম দেশ জাতিসংঘের সদস্য, তাই সে সনদ মানতে তারা বাধ্য। যার উৎস মায়েদার প্রথম আয়াত:

"মুমিন গন, তোমরা তোমাদের অংগীকার পূর্ন কর।"

৫০. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৫৫
দিগন্ত বলেছেন: কারন খৃষ্টানরা যখন থেকে রিকনকোয়েস্টা শুরু করেছে, তখন তারা মোটামুটি ভাবে জংলী ছিল বলা যায়।

অবশ্যই, কিন্তু সেই রিকনকোয়েস্টা সফল হত না যদি মূররা বিজ্ঞানের দিকে ঝুঁকত। কার্যত রিকনকোয়েস্টা শেষ হবার সময় রেনেসাঁসের শুরু হয়ে গেছে।

"সে সময় বেশীরভাগ ইহুদী ছিলো সেই রাশান ইহুদীরা"

এটাও মনে হয় ঠিক নয়, বেশিরভাগ ছিল জার্মান, পোলিশ আর অস্ট্রিয়ান। রাশিয়ানরা আরো পরে এসেছে। আমাদের কোম্পানীর (মাইক্রোসফট) সিইও স্টিভ বামার রাশিয়ান ইহুদী, তবে তাদের ইসরায়েলে যেতে হয়নি।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৯

লেখক বলেছেন: জ্ঞান বিজ্ঞানের বিষয়টি মানতে পারছি না। রিকনকুয়েস্তার অনেক বছর পর পর্যন্ত স্প্যানিশ ইনকুইজিশন ছিল। যা রেনেসা কনসেপ্টের ঠিক উল্টো। এদিকে মুসলিমরা পিছিয়ে গেলেও তখনও বিজ্ঞান বিমূখ হয় নি।

বরং মুরদের নিজেদের ভেতরকার কলহ এবং বিচক্ষনতা হীনতাই তাদের পতন ত্বরান্বিত করেছিল।

৫১. ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:০২
দিগন্ত বলেছেন: @দিগন্ত, আপনার কথামত সব বহিরাগত লোকদের হত্যা ও বহিস্কৃত করা হোক, আমেরিকান আর অস্ট্রেলিয়ানদের মেরে আর বহিস্কৃত করে রেডইন্ডিয়ানদের আর এবরোজিয়ানদের দিয়ে দেওয়া হোক।

তাহলে তো ব্রিটিশদেরও দেশে রেখে দেওয়াই উচিত ছিল, কি বলেন? লাইনটা বড় অস্পষ্ট - তাই না? রেডইন্ডিয়ানদের ক্ষমতা থাকলে নিশ্চই আজকের আমেরিকয়ানদের দেশ থেকে দখলদার হিসাবে বের করে দিত, যেমন আমরা দিয়েছি ব্রিটিশদের।
৫২. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:৪০
দিগন্ত বলেছেন: রিকনকুয়েস্তার অনেক বছর পর পর্যন্ত স্প্যানিশ ইনকুইজিশন ছিল। যা রেনেসা কনসেপ্টের ঠিক উল্টো।

ঠিক কথা, কিন্তু রেনেসাঁ কনসেপ্ট ছাড়াও টেকনলজিতে উন্নতি করে ফেলেছিল ইউরোপ। ১৪৪০ সালের ছাপাখানা আবিষ্কার একাই ইউরোপকে বাকি পৃথিবীর থেকে কয়েকধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
২১ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৩৬

লেখক বলেছেন: তা সত্য। কিন্তু তারপরেও স্পেনে পরাজয়ের কারন হিসেবে জ্ঞান বিজ্ঞানের বিষয়টিকে ফ্যাক্টর ভাবা কতদূর যায়, যেখানে তখনও ক্রুসেডারদের দাপট অনেক বেশী ছিল। যারা উদারপন্থীদের ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে।

০৬ ই মে, ২০১০ ভোর ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

০৯ ই মে, ২০১০ রাত ২:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫৬. ২৬ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:৩০
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: পোস্টে প্লাস। স্পেনের অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত। তবে উপসংহারে একমত নই-
**************************************************
মুরদের পতনের কারন কি?

১।
একজন রক্ষনশীল হয়ত বলবেন, "ইসলাম থেকে দূরে চলে যাওয়াই এর আসল কারন। তারিক তো স্পেনে ইসলামী মূল্য বোধ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এরপর সেখানকার রাজা বাদশারা যেভাবে বিলাসিতা, পাপাচারে মত্ত হয়ে যান, পর্দা উঠিয়ে দেন, তাতে পতনের কি বাকী থাকে?"

২।
মুরদের পতনের মূল কারন ছিল জাতীয়তাবাদের বিলুপ্তি। একটি ভূখন্ডের অখন্ডতা রক্ষার জন্য জাতীয়তাবাদের আঠার কোন বিকল্প নেই। আন্দালুসিয়ার পরিবেশটি ছিল কিছুটা ভিন্নতর। এখানে ছিল আরব, অনারব মুর সহ বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মিশ্রন। যার ফলে জাতীয়তাবাদের মূল উপাদান ভাষা ও সংস্কৃতি ছিল দুর্বল গাথুনিতে গাথা। এদের ধর্ম ছিল এক, কিন্তু সে মূল্যবোধ ছিল উপেক্ষিত। যদিও আল্লাহর রাসুল (সা), অনারবের উপর আরবের কিংবা কালোর উপর সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই বলে ঘোষনা দিয়েছেন, বাস্তবক্ষেত্রে এই অধিবাসীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল।

৩।
কেন্দ্রে ছিল আব্বাসীয় শাসন, যেখানে আন্দালুসিয়ায় চলছিল উমাইয়া শাসন। কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বারোয়ারী সংস্কৃতির আন্দালুসিয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী যারা পাশের ক্রীশ্চান শক্তিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম। কিন্তু উমাইয়া শাসক আবদের রহমান শিল্প সংস্কৃতি, বিজ্ঞানের উন্নতির দিকে খেয়াল রাখলেও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি মনোযোগী ছিলেন না। সব মিলিয়ে মুরদের পতন হয়ে উঠে অবশ্যম্ভাবী।
**************************************************

১।
সকল ব্যার্থতার কারণ হিসেবে ইসলামী মহৌষধ!

২।
স্পেনীয় মুসলিম জাতি বলে আদৌ কখনোই কিছু ছিলো না। মুসলিম সাম্রাজ্য একেবারে শুরু থেকেই খলীফা ওমরের ঘোষণাবলে আরব অনারব বিধর্মী ভাগে বিভক্ত ছিলো এবং এদের মাঝে সুস্পষ্ট বৈষম্য ছিলো।

৩।
চরম ভুল কথা। সেনাবাহিনী যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলো। মূল কারণ সীমাহীন প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং সংস্কার থেকে দূরে সরে গাজ্জালীর গোড়া পন্থায় ফিরে যাওয়া। শেষের দিকে মুর রাজাদের গোয়ারের মত যুদ্ধ সেটাই প্রমাণ করে।

শেষ কথা।
জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ধারাবাহিকভাবে চরম উন্নত না হলে আগা-গোড়া বৈরী একটা পরিবেশে কোনো দখলদারই টিকতে পারেনা। এমনকি লাখো-লাখো সেনা দিয়েও না। (যেখানে মুররা বরাবরই সংখ্যালঘু ছিলো) এটা তারই উদাহরণ।
০১ লা আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:৫৩

লেখক বলেছেন: প্রথমেই পোস্ট পড়া এবং মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।

আসলে উপসংহারটাও বলা চলে অনেকটা কপি পেস্ট। মানে অনেক কয়েকটি সাইট থেকে তাদের দেয়া মতামতের উপর নির্ভর করে আমার উপসংহার টানা।

আপনার বিশ্লেষনের সাথে সুস্পষ্ট দ্বিমত। স্পেন মূলত মুর শাসিত এবং নিয়ন্ত্রিত ছিল, তারাই সংখ্যাগুরু। আজকের যুগেও তারা মুর নামেই পরিচিত। এরা পরে মূলত মরক্কো ও আরো কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও গায়ের রং পুরো আলাদা হয়ে গিয়েছে।

স্পেনে মুসলিম শাসন নানা দিক দিয়ে গুরুত্ববহ। একটি সময় যখন বিজিতের সম্পদ লুন্ঠনেই ছিল দখলদার বাহিনীর কৃতিত্বের পরিচয়, তখন মুর জাতি স্থাপন করে উদারতা এবং সহিষ্ণুতার অনন্য দৃষ্টান্ত। যার ফলে স্পেনে মুরদের পতন হলেও তাদের দর্শন, চিন্তাধারা হয়ে থাকে চিরস্থায়ী, ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৫৭. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০৭
সপ্নীল বলেছেন: অগুনিত প্লাস সুন্দর আর তথ্যবহুল পোস্টের জন্য। আমি ইতিহাস খুব ভাল জানিনা তবে পড়তে ভালবাসি।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৪১

লেখক বলেছেন: অগুনতি সব ধন্যবাদ আপনার জন্যেও। আপনাদের সমালোচনা কিংবা ভাল লাগার অনুভূতি আমার জন্য প্রেরনাদায়ক হিসেবে কাজ করে।

৫৮. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:১৯
েশখসাদী বলেছেন:

.....ধন্যবাদ । আরো বিস্তারিত লেখলে ভালো হতো ।
১০ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: হয়ত বা।

ধন্যবাদ।

৫৯. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৮
মেঘলা আকাশ ও বিষন্ন মন বলেছেন: বস অসাধারন লেখছেন !!

এই এক লেখাতেই আমি আপনার ভক্ত হয়ে গেলাম।

প্লাস ও সরাসরি প্রিয়তে নিলাম।

আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।
০২ রা এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনার জন্য শুভ কামনা। ভাল থাকুন। সবসময় হাসি খুশী থাকুন।

৬০. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৩৫
আগামি বলেছেন: লেখাটা আমিও শোকেসে নিলাম।
৬১. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৫৬
স্মৃতির নদীগুলো এলোমেলো... বলেছেন: অসাধারন পস্ট। পড়তে ভালোলাগছিলো। অনেক ধন্যবাদ। :)

 

মোট সময় লেগেছে ১.২০৬৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে ধন্য করেছ, তা মনে করো না।
বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন। (হুজুরাত:১৭)
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ