somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি জনিত সমস্যা।
আমি চমকে ফিরে তাকাই। দেখি, সারাহ।

"কি ব্যপার সারাহ?"

"তোমার কাছে একটা ব্যপার জানতে চাইছিলাম। এই যে অনার কিলিং, এটার সাপোর্ট ইসলামের কোথা থেকে এসেছে?"

ওহ। সে বিরক্তিকর প্রসংগ আবারো। পশ্চিমে পা দেয়ার পর থেকেই ক্রমাগতএর মুখোমুখি হচ্ছি। মুহুর্তে মেজাজ চড়ে যায় সপ্তমে। কিন্তু সেটা তো আর প্রকাশ করা যায় না। তাই ঠান্ডা মাথায় নিজেকে শান্ত রেখে জবাব দিলাম,

"আমিও ভাল মত জানি না। শুধু পত্রিকার পাতায় পড়েছি। যা জানি তা হল পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে এটা টিকে আছে।"

"সাপোর্ট কোথা থেকে আসে?"

"সাপোর্ট আবার কোথা থেকে আসবে? পাকিস্তানের সামন্ত তান্ত্রিক ব্যবস্থাই দায়ী। আরো শুনেছি তুরষ্ক সহ আরো কিছু দেশে রয়েছে। কই, আমাদের দেশে তো নেই।"

"সে তো বাংগালী মুসলিমেরা অনেক লিবারেল। কিন্তু তুমি বলছ সত্যিই ইসলামে এরকম কিছু নেই?"

"আমাদেরও নানা সমস্যা রয়েছে। যৌতুক, এসিড মারা - এসব। চিন্তা করে দেখ তো এসিড মারা কি রকম ভয়াবহ। বছরের পর বছর ধরে আমাদের দেশে এভাবে সন্ত্রাস হচ্ছে। আমার কাছে তো এটা অনার কিলিং এর চেয়ে কম ভয়ংকর মনে হয় না। আমি কিন্তু এই অনার কিলিং এর নাম আমি পশ্চিমে এসে প্রথম শুনি। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে এটা আবার কারোকারি নামে পরিচিত। কারো বলে ছেলেটিকে আর কারি বলে মেয়েটিকে। পাকিস্তানে তো অনার কিলিং এর বিরুদ্ধে আইন রয়েছে। তবে এখনও সেখানে রয়ে গেছে অনার কিলিং। " এক নিঃশ্বাসে আমি কথাগুলো শেষ করি।

সারাহ ঘটনা ব্যখা করল। কয়েকদিন আগে একটা খুন হয়েছে। পরিবার মিডল ইস্ট থেকে আসা। মেয়ের বয়ফ্রেন্ড ছিলো বলে বাপ-ভাই দুজনে মিলে মেয়েটাকে খুন করেছে। স্বভাবতই ঘটনাটি মিডিয়াতে আলোড়ন তুলেছে।

"দেখ, এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক থাকলে তো সব মুসলিম দেশেই সেটা হত। কই, আমি তো আমাদের দেশে এরকম শুনিই নি। যদিও আমাদের নারী নির্যাতনের কোন মাত্রা নেই।" আমি জবাব দেই।

কাজ থাকায় সারাহর সাথে সেদিনের আলোচনা আর বেশী আগায় নি। শুধু সারাহর একার নয়, বরং এখানকার সব সাধারন মানুষের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি একই রকম স্টেরিও টাইপড ধারনা । সাথে সাথে ইসলামের প্রতি। অনার কিলিং সহ নারীর প্রতি হাজারোটা সন্ত্রাসের লীলাভূমি হল মুসলিম দেশগুলো । এবং সেটা মুসলিমদের বিশ্বাসের সাথে জড়িত। মুসলিম দেশ, ইসলাম নিয়ে এসব নেগেটিভ ধারনা যেন তাদের মাথায় সিন্দাবাদের ভূতের মত গেথে বসে আছে।

৯/১১ এর পরে মধ্যপ্রাচ্যের এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের মানবাধিকার লংঘন, সন্ত্রাস জনিত যে কোন ঘটনা এখানকার সংবাদ মাধ্যম গুলোতে খুব সাড়া জাগানো ভাবে পরিবেশিত হয়। পশ্চিমে যে ক্রাইম কিংবা সমস্যা নেই - তা নয়। পশ্চিমে পা দেয়ার পরে আমি অনার কিলিং এর কথা যেমন প্রথম শুনতে পাই, তেমনি সাইকোপ্যাথ জাতীয় খুনের খবরও জীবনে প্রথম দেখি। টেড বান্ডি, জেফরি ঢামারদের মতন সাইকোপ্যাথদের কথা যখন টিভিতে দেখি, তখন আমি বাকরূদ্ধ হয়ে ভাবতে থাকি কি করে একজন অতি অসাধারন মেধাবী ছাত্রের পক্ষে এরকম সাইকোপ্যাথ হওয়া সম্ভব। বলাবাহুল্য, এদের প্রথম শিকার নিরীহ নারীরা। এছাড়া টিন এজ প্রেগনেন্সি, সেক্সুয়ালী টান্সমিটেড ডিসিজের সমস্যা তো আছেই। মুসলিম দেশের সামাজিক ব্যবস্থা যদি অনার কিলিং এর পরিবেশ তৈরী করে থাকে, তবে পশ্চিমের সমাজ ব্যবস্থাও কি তাদের সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী নয়? পশ্চিমের এইসব সমস্যার ভিক্টিম যে কেবল কম নয়, সেটা তো পরিসংখ্যানই বলে দেয়। কিন্তু মুসলিম দেশগুলোকেই যেন টেনে আনা হয় বার বার নারীর প্রতি সন্ত্রাসের প্রকৃষ্ট উদাহরন হিসেবে।

আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, তাতে ক্ষতি কি? নারীর প্রতি বৈষম্য আর সহিংসতা যে মুসলিম দেশে প্রচুর সংখ্যায় ঘটে থাকে তাতো মিথ্যা নয়। সংবাদ মাধ্যম যদি তা ফোকাস করে তবে তো তা বরং জনসচেতনতা বাড়াবে। ফলশ্রুতিতে মুসলিমরা নিজেদের দেশের সমস্যা সমাধানে আরো বেশী মনোযোগী হবে, আরো বেশী যত্নবান হবে। সুতরাং পশ্চিমে যদি এসব নিয়ে তোলপাড় হয়, তবে সেটাকে বরং আমাদের মোবারকবাদ জানানো উচিত।

আমি এর সাথে আংশিক একমত পোষন করব। পুরোটা নয়। এসব প্রচারনার ফলে যে মুসলিমরা কিছুটা হলেও সচেতন হচ্ছে - সেটা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও একতরফা প্রচারনা, কিংবা অতিরন্জ্ঞিত কথন - কোনটাই প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরে না, কিংবা সার্বিকভাবে মংগলময় হতে পারে না। মুসলিমদেশগুলো নিয়ে এত বেশী নেগেটিভ প্রচারনাতে হয়ত আমাদের সচেতনতা বাড়ছে, আমরা নিজেদের সমস্যার সমাধানে আগ্রহী হচ্ছি, কিন্তু ক্ষতি হয়ে যায় অন্যভাবে - আমরা হারাচ্ছি বিদেশীদের বিশ্বাস। চাকুরীতে, সামাজিকভাবে সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নিগৃহীত হবার কিংবা বৈষম্য সৃষ্টির অজুহাত হিসেবে দাড় করানো হয় এসব ঘটনাকে। কুর্দীদের প্রতি সাদ্দামের সীমাহীন জুলুম নির্যাতনকে যেমনি করে সামনে টেনে হয়েছিলো ইরাক আক্রমনের বৈধতা দেবার জন্যে, তেমনি করে মুসলিম দেশগুলোতে ঘটে যাওয়া এই নারী বিরোধী ঘটনা গুলো দিয়ে চলতে থাকে সাধারনের মনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি বিরূপতাকে উস্কে দেয়া। ফলশ্রুতিতে টার্গেট হয়ে যায় সব ধরনের মুসলিম - হোক না যতই লিবারেল আর প্রগতিশীল।

পশ্চিমে ইসলাম বিদ্বেষের সর্বশেষ উদাহরন হিসেবে আপনারা দেখেছেন স্যাটানিক ভার্সেস আর দ্য জুয়েল অব মেদীনা জাতীয় বইগুলোতে আল্লাহর রাসুল (সা) আর উম্মুল মুমিনীনদের নিয়ে অশোভন কটাক্ষ করার অপপ্রয়াস। কাল্পনিক ঘটনা পরিবেশনের মাধ্যমে ইসলামের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের সম্মানহানির দুরভিসন্ধি স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমদের আহত করেছে। ইসলাম বিদ্বেষের একই রকম আরেকটি প্রয়াস ছিল "সাবমিশন" নামে একটি ম্যুভি। এই ছবিটির পরিচালক ছিলেন বি্খ্যাত চিত্রকর ভিনসেন্ট ভ্যান গগের নাতি থিও ভ্যান গগ। আর স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন সোমালিয়ান মুসলিম বংশোদ্ভূত আয়ান হিসরী আলী, যিনি পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করেন এবং হল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ছবিতে ইসলামকে দেখানো হয় পশ্চাদপদ, অনগ্রসর এবং নারীর প্রতি অবমাননাকর একটি ধর্ম হিসেবে। ইসলাম এবং ন্যুডিটির অবস্থান পরস্পর বিপরীতমূখী। অথচ এই ছবির প্রথমেই দেখা যায় স্বচ্ছ পোশাকে প্রায় বিবসনা এক নারী মুখে নেকাব এটে নামাজে দন্ডায়মান। পুরো ছবিটিতে কোরানের আয়াত বিভিন্ন ইস্যুতে সামনে টেনে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখা করা হয়। যা চরমপন্থী এবং বিষেদগারে পরিপূর্ন। অত্যন্ত উস্কানীপূর্নভাবে নির্মিত এই ম্যুভি শুধু মুসলিমদের বরং যে কোন বিবেকবান মানুষকে আহত করবে। পরবর্তীতে একজন মুসলিম যুবক কর্তৃক দুঃখজনক ভাবে থিও ভ্যান গগ নিহত হন। (যা অবশ্যই নিন্দনীয়)। হিরসীকে আত্মগোপন করে থাকতে হয় বেশ কিছু দিন। মুসলিমদের সমালোচনায় আবারো শোরগোল উঠে চারিদিকে। মিডিয়াতে সরব হয়ে উঠে অনেকে। যা প্রকারান্তরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায়। তবে পরবর্তীতে ডাচ সরকারের আয়রন লেডী রিটা ভ্যানডর্ক তার ইমিগ্রেশন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ায় সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় হিরসীকে। অনেকটা তসলিমাকে নিয়ে বাংলাদেশ/ভারতে যা হয়েছে তার অনুরূপ।

এখানে উল্লেখ্য, আমি নিজেও আফ্রিকাতে নারীদের অবস্থান শোচনীয় বলে বিশ্বাস করি। অশিক্ষা, কুশিক্ষায় অনগ্রসর আফ্রিকান ক্ষমতাহীন নারীদেরকে সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে চিত্রিত করা হয়, তা হয়ত বানোয়াট নয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা সেরকমটিই বলে। পাশের বাসার ভাবী একবার বলছিলেন কানাডায় এদের অবস্থার কথা। কানাডায় সোশাল প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে কুমারী/অবিবাহিত মাতাদের কিছু ভাতা দিয়ে থাকে। একবার সেই অফিসে এক আফ্রিকান মুসলিম নারী যান ভাতা আনতে। সেখানকার কর্মরত মহিলাও তাকে চেপে ধরেন, "দেখো, মুসলিম মেয়েরা তো বাইরের কারো সাথে সম্পর্কে জড়ায় না। নিশ্চয়ই তোমার স্বামী আছে।" জেরার মুখে মেয়েটা প্রায় কেদে স্বীকার করে, "হ্যা। আমি বিবাহিত। আমার স্বামী আমাকে এখানে পাঠিয়েছে কুমারী/অবিবাহিত মাতৃত্বের ভাতার জন্য। সে আরো কয়েকটা বিয়ে করেছে।"

এই হল অবস্থা। মানুষের মর্যাদা নিয়ে বেচে থাকার অধিকার এদের কতটুকু আছে সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু ইসলামকে এই সমস্যার মূল হিসেবে চিত্রিত করা আদৌ গ্রহনযোগ্য নয়। সেক্ষেত্রে পশ্চিমেই বা কি করে এত নারী সহিংসতার মূখোমুখি হয়ে থাকে?

তবে যে বিষয়টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার দাবী রাখে তা হল, এই পরিস্থিতিতে আমাদের করনীয় বিষয় কি? আমরাই বা কি এর প্রেক্ষিতে খুব বিবেচনা প্রসূত আচরন করছি। আমার জবাব হবে, না। আমরা তা মোটেও করছি না। এবং সে কারনেই পশ্চিমে ইসলামের এবং মুসলিমদের বিরোধীরা নিজেদের অবস্থান গেথে নিতে পেরেছে। আমাদের অবিবেচক আচরনের কারনে তসলিমা নাসরীন আর আয়ান হিরসী আলীদের অবস্থান পশ্চিমে সুদৃঢ় হয়ে থাকে। শেষ একটি উদাহরন দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানছি।

আগেই বলেছি, মুসলিম দেশের নারী বিরোধী কিছু ঘটনা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সংবাদ মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। সেরকম একটি ঘটনা ছিল মুখতার মাই সংক্রান্ত ঘটনা। মুসলিম দেশে ধর্ষনের বিচার হয় না - এই প্রপাপাগান্ডার সমর্থকরা উদাহরন হেসেবে বেছে নেন মুখতার ঘটনাকে। সেরকম প্রচারনা কি কোন ভিত পেত যদি সঠিকভাবে এই ঘটনার বিচার কার্য সম্পন্ন হত? শুধু তাই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ পর্যন্ত মুখতারের বিপক্ষে অবস্থান নেন। আমাদের মুখ লুকোবার কোন জায়গা থাকে না - ধরনী কেন দ্বিধা হয় না। এমন কি মুখতার নাকি কোন এক পর্নো প্রমোটারদের কাছ থেকে স্বীকৃতি নিয়েছিলেন - সেরকম আলোচনাও দেখেছি অন্তর্জালে। অথচ যে আলোচনাটি চলতে পারত তা হল, কেন একটি মুসলিম দেশে অধিকার হারানো এক মেয়ের প্রতি সুবিচার হতে পারে না।

যতদিন না আমরা আমাদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে সচেতন হব, ততদিন পাশ্চাত্যে আমাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখোমুখি হবেই।

সবাইকে ধন্যবাদ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28868873 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28868873 2008-11-14 03:36:55
একতরফা নির্বাচন প্রসংগে Click This Link), অন্যটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে।

এখানে উল্লেখ্য আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচনে অখুশী নয়। তারা ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছে কিছু দল নির্বাচনে না এলে কোন সমস্যা নেই। আর এই সরকার যেহেতু ৭ই নভেম্বরের ছুটি বাতিল করে ১৫ ই অগাস্টের ছুটি পুনর্বহাল সহ অনেক ইস্যুতে আওয়ামী এজেন্ডার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে, সেজন্য একতরফা নির্বাচনের আওয়ামী দাবীর প্রতি তারা হয়ত একাত্মতা প্রকাশ করবে।

বি এন পি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অবশেষে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন চেয়েছেন। বি এন পির এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই। ব্যক্তিগত ভাবে আমিও মনে করছি এই নির্বাচন কমিশনের দ্বারা কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিএনপিকে চিঠি দেয়া সংক্রান্ত বহু বহু ঘটনা, "আমি আপনাদের আন্দোলনের ফসল" বলে আওয়ামী লীগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে সিইসি শামসুল হুদার পক্ষপাত সুস্পষ্ট। ১৮ ই ডিসেম্বরের নির্বাচন করার যোগ্যতা বা দক্ষতা কোনটাই এই নির্বাচন কমিশনের নেই। তাদের আচার আচরনে ইতিমধ্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। বি এন পির উচিত হবে সিইসি বিরোধী এই অবস্থানে দৃঢ় অটল থাকা। কারন নির্বাচন কোন সহজ ব্যপার নয়। অদক্ষ কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট কোন নির্বাচন কমিশন দিয়ে সেটা পরিচালনা সম্ভব নয়। এই নির্বাচন যদি কলংকিত হয় তবে সামনের কোন নির্বাচন গ্রহনযোগ্য হবে কিনা সেটাই তখন বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা দেবে। সুতরাং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবীতে অটল থাকাটাই বিএনপির বর্তমান করনীয়। নির্বাচন হোক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাক। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে বি এন পির মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত হবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28866974 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28866974 2008-11-10 00:47:51
দ্য লাস্ট লাফ
এবারের ভার্জিনিয়া নীল দিয়ে আকা - ৬৪এর পরে এই প্রথম। এরকম একটি নয়, বরং অনেক উদাহরন গড়ছে।

টিভিতে বার বার দেখছি স্মিত হাস্যরত ওবামাকে। আত্মবিশ্বাসী এক ভবিষ্যৎ তরুন প্রেসিডেন্ট।

শুভ হোক ওবামার পথ চলা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28864873 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28864873 2008-11-05 09:44:45
মাদ্রাসার ছাত্রদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রসংগে
বাংলাদেশে মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রতি নাক উচু প্রগতিশীলদের বৈরী মনোভাব নূতন কিছু নয়, বরং প্রথাগত। যতই মেধার পরিচয় দিক না কেন, তাদের দৌড় মাদ্রাসা পর্যন্তই - এই বিদ্রুপাত্মক মনোভাব পোষন করে থাকেন আমাদের প্রগতিশীল গ্রুপ। এটা অবশ্যই সত্য যে, প্রগতিশীলদের সাথে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রুপগুলোর বিদ্বেষ বিনা কারনে কিংবা একদিনে তৈরী হয় নি। বিশ্বাস ও অনুভূতির পরস্পর বিরোধী অবস্থান থেকে আজকের এই পারস্পরিক মুখোমুখি অবস্থান। নিউটনের সূত্র "এভরি একশন হ্যাজ এন অপোজিট রিএকশন" ফর্মূলায় বিদ্বেষ যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রগতিশীলদের অভিযোগ, তাদের মুক্তবুদ্ধির চর্চায় অন্যায় অযৌক্তিক বাধা হয়ে দাড়িয়েছে স্বল্প বুদ্ধির মধ্যযুগীয় মানসিকতার এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দাবী করে আসছে ইসলামী সংস্কৃতির প্রতি ধর্ম নিরপেক্ষ প্রগতিশীলদের সুস্পষ্ট অবজ্ঞাকে - মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল নন। যার ফলে ঘুনে ধরা বিশ্বাস নিয়ে দুই পক্ষ রয়েছে একটা কঠোর মুখোমুখি অবস্থানে। আরো হতাশাব্যন্জ্ঞক হল, কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন নি সম্পর্কের এই বরফ গলানোর জন্য। বিশেষত প্রগতিশীল গ্রুপ এদের কোন ছাড় দিতে একবারে প্রস্তুত নন, বরং সম্পূর্ন প্রতিহত করার পক্ষপাতী। যুদ্ধ ঘোষনার যে আহ্বান তাতেও ধ্বনিত হয় একই সুর, "আমাদের যুদ্ধ এমন এক গোষ্ঠীর সাথে ওরা বোঝে না ফুল কি, সংস্কৃতি কি, গান কি, কবিতা কি"। তবে সে যুদ্ধে কোন পক্ষই যে পুরো সফল হতে পারেন নি, তা নির্বাচন সহ অনেক ইস্যুতে ইতিমধ্যেই প্রমানিত।

মাদ্রাসর বিরোধীরা নানাভাবে চেষ্টা করেছে এই শিক্ষাকে কলুষিত করতে। এই বিরোধিতা যত না পাশ্চাত্য থেকে এসেছে, তার চেয়ে বেশী এসেছে মুসলিম দেশ থেকে। মাদ্রাসাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয় সন্ত্রাসবাদের সাথে। জংগিবাদসহ আরো অনেক অপরাধের সাথে। দাবী করা হয় বাংলাদেশ সহ মুসলিম দেশগুলোতে হাজারে বিজারে গড়ে উঠা মাদ্রাসাই নাকি জংগীবাদের মূল কারন। অথচ এর কোনটিই প্রমানিত সত্য নয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সেই বিখ্যাত আর্টিক্যাল "দ্য মাদ্রাসা মিথ" (Click This Link) লেখায় সুস্পষ্ট ভাবে দাবী করা হয়, মাদ্রাসা নয় বরং সাধারন শিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যেই রয়েছে বেশী সন্ত্রাসী। (We examined the educational backgrounds of 75 terrorists behind some of the most significant recent terrorist attacks against Westerners. We found that a majority of them are college-educated, often in technical subjects like engineering)। মাদ্রাসা শিক্ষাকে জংগিবাদের কোন হুমকি নয় বলে দাবী করা হয়। জলন্ত আগুনে যেন পড়ে পানি। আর কোন ভাষা থাকে না মাদ্রাসা বিরোধীদের।

এই সব ইতিহাস কারো অজানা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির এমন কিছু শর্ত দেয়া হল যার ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা অনেকগুলো বিভাগে আবেদন করার যোগ্যতা হারাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ সংক্রান্ত সংবাদটি পড়ে প্রথমেই যে প্রশ্নটি মনে এসেছে তা হল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শর্তারোপ কি সে চিরায়ত মাদ্রাসা বিরোধী মনোভাবের বহিপ্রকাশ মাত্র? মাদ্রাসা বিরোধী এই সর্বশেষ পদক্ষেপ কি অতি পরিচিত সে ধারাকেই অনুসরন করেছে?

এই প্রশ্ন আরো বদ্ধমূল হয় যখন পত্রিকায় প্রাক্তন ভিসি মনিরুজ্জামান মিয়ার বক্তব্য পড়ি : ৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের অপব্যাখা করা হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ঠেকানোর জন্যে। আমি যখন ভর্তি বন্ধের সংবাদটি পত্রিকায় পড়ছিলাম তখনই কেন যেন আমার মনে পড়ে যায় আয়েন্দেসহ সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের নেতাদের অনুসৃত নীতির কথা। এসব সমাজতান্ত্রিক দেশে মাঝারী মানের কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিকশিত হতে পারে না কারন সরকারের বেধে দেয়া হাজারোটা শিকলসম নীতিমালার কারনে। যার ফলে উঠে দাড়াতে পারে না কোন ব্যবসা শিল্প, বিকশিত হতে পারে না পুজির পথ। আমেরিকা সহ মুক্ত বিশ্বের দেশগুলো যার সম্পূর্ন বিপরীত অবস্থান নিয়ে থাকে। ফলশ্রুতিতে এসব দেশ হয়ে উঠেছে মুক্ততার প্রতীক, অপার সম্ভাবনাময়। যোগ্যতা প্রমান করতে পারলে মুক্ত বিশ্বের ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র এক গ্রেড টপকে সহসাই চলে যায় পরের গ্রেডে। যে কেউ যে কোন স্কুল থেকে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে যদি স্যাট বা অন্য স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট গুলোতে ভাল করতে পারে। পাবলিক, প্রাইভেট, হোম স্কুলিং - সবগুলোই স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা। এডমিশন টেস্ট থাকে না তবে শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিচিত্রতা পরীক্ষিত হয় স্যাট বা সেরকম স্ট্যান্ডার্ড টেস্টের মাধ্যমে। যাকে বাংলাদেশের এডমিশন টেস্টের সাথে তুলনা করা যায়। মেধার বিকাশের সবরকম সহায়তা প্রদানে রাষ্ট্র যেন অংগীকারাব্দ্ধ।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বন্ধ করা হল তা আরেকবার দেখা যাক। যুক্তি দেখানো হয়েছে সাধারন শিক্ষা থেকে আসা ছেলে মেয়েরা যেখানে ২০০ নম্বরের বাংলা, আর ২০০ নম্বরের ইংরেজী পড়ে আসে, সেখানে মাদ্রাসা ছাত্ররা ১০০ নম্বরের বাংলা এবং ১০০ নম্বরের ইংরেজী কোর্স পড়ে আসে। কিন্তু এসব যুক্তি কি ধোপে টেকে? এই প্রিরিকুইজিটের অর্থ কি? একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন প্রি রিকুইজিট দেয়া হয়? প্রিরিকুইজিট দেয়ার কারন কি এই নয়, যে ছাত্ররা যাতে সফল ভাবে এই কোর্স কমপ্লিট করতে পারে?

আমার কথাই ধরা যাক। আমি যখন আমেরিকাতে একটি স্কুলে ভর্তি হই তখন একটি কোর্স নেই। পরে আমাদের পারফরম্যন্স দেখে সেই কোর্সে পরবর্তীদের জন্য প্রিরিকুইজিট আরোপ করা হয়। আমাদের যেহেতু সেই কোর্স বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল এবং টিচারকে যেহেতু অনেক ব্যাকগ্রাউন্ড বুঝাতে হচ্ছিল, সে কারনে পরবর্তীতে প্রিরিকুইজিট দেয়া হয় সিনিয়র লেভেলের একটি কোর্স। প্রিরিকুইজিট দেয়ার মানে এই নয় যে কেউ সেই কোর্স নিতে পারবে না বা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না। প্রিরিকুইজিটের অর্থ আমাদের আগে সেসব কোর্স নিয়ে পরবর্তী কোর্সের প্রিপারেশন শেষ করতে হবে।

মাদ্রাসা ছাত্ররা এতদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছে। তারা কি রকম পারফরম্যান্স করে আসছে তার উপর নির্ভর করে আদৌ শর্ত আরোপের কোন প্রয়োজন আছে কিনা। যে ইংরেজী নিয়ে এত কথা, মজার ব্যপার হল ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে সেই ইংরেজীতে ৩০ পয়েন্টে ২৮.৫ পেয়ে "গ" তে ফার্স্ট এবং "খ"তে সেকেন্ড হয় আবদুল্লাহ আল আমীন নামে এক মাদ্রাসার ছাত্র। সুতরাং এখন পর্যন্ত এমন কোন যুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না যাতে মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য শর্ত আরোপ করে বিশ্ব বিদ্যালয়ের দুয়ার বন্ধ করতে হবে।

আরো ব্যাখা করছি। আর্কিটেকচার এডমিশন টেস্ট যারা দিয়েছেন তারা জানেন কি পরিমান ড্রইং লাগে এডমিশন টেস্টের জন্য। এই বিভাগের পড়ার অন্যতম যোগ্যতা হল ড্রইং এ পারংগমতা। এডমিশন টেস্টের প্রশ্ন সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই করা হয়। অথচ একে পরীক্ষার শর্ত হিসেবে রাখা হয় নি। আমি ড্রইং এর কিছুই জানতাম না। অথচ আমিও টে্স্টে অংশ গ্রহনের যোগ্য ছিলাম। কিন্তু যেই বুঝতে পেরেছি এডমিশন টেস্টে গোল্লা ছাড়া কিছু কপালে নেই (ড্রইং জানি না বলে), অমনি আর পরীক্ষা দেই নি। সুতরাং যেখানে এডমিশন টেস্ট রয়েছে, সেখানে কেন নূতন করে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করতে হবে? মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্য কিনা তা দেখার জন্য তো এডমিশন টেস্ট নামের ফিল্টার তো রয়েছেই। অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা কি বৈষম্যের পর্যায়ে পড়ে না? অথচ বৈষম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলনীতির বিরোধী।

মাদ্রাসা শিক্ষা সরকার অনুমোদিত একটি শিক্ষা ব্যবস্থা। এই শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেদের জন্য ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়, যেটি কিনা জনগনের অর্থে পরিচালিত, বন্ধ করে দেয়া শুধু অযৌক্তিক নয়, বরং অন্যায়ও বটে। সেই শুভ বুদ্ধির প্রত্যাশায় রইলাম।

সবাইকে ধন্যবাদ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28863831 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28863831 2008-11-03 03:10:28
হুমায়ূন আহমেদকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারলাম না।
প্রথমেই বলে রাখছি আমি হুমায়ূন আহমেদের লেখার ভীষন ভক্ত ছিলাম একটা বয়সে। বিয়ের পর পর যখন বর দেখত তার নূতন বউটি তার দিকে মনোযোগ দেবার পরিবর্তে হুমায়ূন আহমেদের বই নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ে থাকে, তখন সে খুব বিরক্ত হত। সাহিত্যের দিকে আবার আমার কর্তার ঝোক খুব বেশী কখনই ছিল না। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে এমন কি আছে যে সেটা নিয়ে রাতদিন পড়ে থাকতে হবে - এই ছিল তার ভাবনা। এমন কি একদিন রাগের চোটে বইসুদ্ধ ছিড়ে ফেলে। চিন্তা করুন! বাংলাদেশ থেকে আম্মা মেইল করে আমেরিকাতে আমায় বই পাঠায় আমি পড়তে ভালবাসি বলে, আর সে সেই বই বিরক্তি সহকারে ছিড়ে ফেলে!! বলা বাহুল্য আমার কর্তা হুমায়ূন আহমেদকে চরম অপছন্দ করতেন শুধুমাত্র আমি উনার বই গোগ্রাসে গিলতাম বলে। কিন্তু তার জন্য অতি দুঃখজনক এই বিরক্তি তাকে বয়ে নিতে হয়েছে বহু দিন, কারন তার ছোট ভাই বোনেরাও ছিল হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাগল।

সে অতীত কবেই ফেলে এসেছি। এখন হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে সেই ক্রেজ আর নেই। বই পড়ার অভ্যাসও আগের মত নেই। অনেকটাই বদলে গেছি। এখনকার জীবনে আমি ধর্মাচরন মেনে চলার চেষ্টা করি। কতটুকু তাতে সফল জানি না। অন্তত মন মানসিকতা সেভাবেই তৈরী হয়ে আছে। এই মানসিকতা আমার পরিবারের সবার মাঝেই রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে গত এক বছর ধরে ছেলে পড়ছে হিফজ। মেয়েও স্কার্ফ পড়ে যায় পাশের ইসলামিক স্কুলে পড়তে। সাধারন ধর্মভীরু একটি পরিবার, যাদের কর্মকান্ডে ধর্ম মিশে থাকে ওতপ্রোতভাবে। যে পরিবারে গানের ক্যাসেট বাজে না, বাজে কোরানের ক্যাসেট।

সম্প্রতি দেশে বাউল ভাস্কর্য সরানো হল। পত্র পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে চলছে তুমুল আলোচনা। খুব স্বাভাবিক। কারন এটা ঠিক বাউলের মূর্তির উপর দিয়ে একা যায় নি। গিয়েছে পুরো ভাস্কর্য শিল্পের উপর। কারন এর ফলে যে প্রশ্নটি হুমকি দিয়ে মাথা তুলে দাড়িয়েছে তা হল: মুসলিম দেশে বাউল ভাস্কর্য আসলে কতটা নিরাপদ।

প্রশ্নটা খুব যৌক্তিক। কারন আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি একটি দেশের সংস্কৃতি সে দেশের মানুষের মন মানসিকতা দিয়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। মুসলিমদেশ গুলোতে ধর্ম জেকে আছে অনেক বেশী প্রতাপ নিয়ে। যদিও ধর্মীয় নেতাদেরকে মানুষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মর্যাদা দেয় নি, তবুও রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব সুষ্পষ্ট। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্মের ভূমিকাকে আমরা অস্বীকার করতে পারে না। তাই যদি হয়, তবে কি ভাস্কর্য শিল্পের কোন ভবিষ্যত আমাদের মাঝে নেই?

এটা একটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে ইসলাম পৌত্তলিকতাকে অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হাদীসে কোরানে সব জায়গাতেই এর প্রতিফলন স্পষ্ট। এতবেশী মূর্তি বিরোধী বর্ননা রয়েছে যে, মুসলিম মাত্রই হয়ত ধরে নেবেন ইসলাম চিত্র, মূর্তি - এসবের চরম বিরোধী। সেরকম ধারনা পাওয়া বিচিত্র কিছু নয়, বরং স্বাভাবিক। যার ফলশ্রুতিতে আজকে যারা ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনে রয়েছেন তারা এইসব সাধারন ধর্মভীরু মানুষের সমর্থন যে পাবেন - তাতে সন্দেহ নেই। কারন এইসব ধর্মভীরুরাও বিশ্বাস করে বসে আছেন ইসলাম মূর্তির ব্যপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়। চিত্র শিল্পকে নিরুৎসাহিত করে।

হুমায়ূন আহমেদের লেখাটি ছোট। এটি ইসলামের কোন বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করে না। কারন ইসলামের কোন বিধান প্রতিষ্ঠিত করতে চাই ব্যপক গবেষনা, ব্যপক অনুসন্ধান। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি স্বীকার করছি, উনার লেখাটি আমার মনে একটি বিরাট প্রশ্ন একে দিয়েছে। পবিত্র কাবায় মা মেরীর ছবি প্রতিষ্ঠিত ছিল এত বছর !!!!!!!!!!!!!! এটা কতটুকু সত্য!!! তাহলে আমরা যে জানি "যে ঘরে প্রানীর ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতা পর্যন্ত আসে না" - এই জানা কতটুকু সত্য? কাবায় যদি মা মেরীর ছবি থাকতে পারে তবে সাধারন ছবিতে নিষেধাজ্ঞা কি করে আসতে পারে?

এই প্রশ্নটুকু দিয়ে বিশাল এক সংশয় অন্তত তিনি তৈরী করে দিয়েছেন আমার ভেতরে। তার লেখা থেকে প্রাপ্ত এই তথ্যটা আমাকে আরেকবার ভাবতে বাধ্য করল। আমি হয়ত আবারো বসব পড়ার জন্যে, জানার জন্যে। আগে চিত্র শিল্পের প্রতি যে মনোভাব ছিল, সেই একই মনোভাব এখন আর হয়ত থাকবে না। সেজন্যে উনাকে ধন্যবাদ জানানোটা প্রয়োজন বোধ করছি।

সেই সাথে আপনাদেরকেও ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্যে


[এ ব্যপারে ইনকিলাবে একটি প্রতি উত্তর লেখা ছাপা হয়েছে যাতে মা মেরী ছবি রাখা সংক্রান্ত সেই হাদীস বেত্তাকে অগ্রহনযোগ্য দাবী করা হয়েছে। Click This Link ]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28861738 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28861738 2008-10-29 21:26:38
তুষারাবৃত শ্বেত পৃথিবী - স্মৃতিতে স্থান করে নেয়া একটি অনুভূতি
সেই আমার বরফ দেখার প্রথম অনুভূতি। এরপরে আরে শীত এসেছে। প্রতিবারই বরফ পড়েছে। স্কিডিং, বরফে গাড়ী আটকে যাবার ভয়াবহ অভিজ্ঞতাও হয়েছে। বরফের রাস্তায় স্কিডিং এ গাড়ী ঘুরে যায় নিজের মত করে। ড্রাইভারের নিয়ন্ত্রন থাকে না। ভয়ংকর সে অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই যথেষ্ঠ। বরফের চাই এর মাঝখানে গাড়ী নিয়ে বসে অসহায় আমি - এরকম কতই তো হল। পশ্চিমের শীতের রাস্তায় তো এসব অতি সাধারন কিছু ঘটনা।

এই সব সত্ত্বেও আমি বরফকে ভালবাসি। ভালবাসি এই পাতাশূন্য গাছের শীতকে। তাই এবারেও শীতকে জানাই স্বাগতম।

(এই পোস্ট টি মডারেটেড নয়)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28859651 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28859651 2008-10-25 20:39:28
ইসলাম ও মূর্তি : সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিয়ে অলস ভাবনা
আমি লালনের মূর্তি সরানো বিষয়ক সংবাদ এই সামহোয়ারেই দেখতে পাই। পত্রপত্রিকায় এ সংবাদ তেমন কোন গুরুত্ব নিয়ে ছাপা হয়েছে কিনা কে জানে। অন্তত আমার চোখে পড়েনি। আমি অবশ্য ইত্তেফাকসহ গুটিকয়েক পত্রিকাই পড়ে থাকি। কয়েক নজর চোখ বুলানো মাত্র। না, সেখানে এই সংবাদটি তেমন গুরুত্ব পায় নি। গুরুত্ব সহকারে হেড লাইন হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই চোখে পড়ত।

মূর্তি সরানোর বিষয় নিয়ে তো অনেকেই অনেক কথাবার্তা বলেছেন। আমি এখন আর নূতন করে কি বলব। আমার বক্তব্য, মন্তব্য এই ব্লগে খুব যে আদৃত হয়, তাও নয়। ব্লগীয় মানুষের একরাশ বিরক্তি উৎপাটন ছাড়া আর কোন ফল পাওয়া যাবে - এই বিশ্বাস নিজের উপর আমার নেই। আর তাছাড়া আমি দিন এনে দিন খাই টাইপের সাধারন ছা পোষা মধ্যবিত্ত এক মানুষ। আমার সময় কাটে সংসারের ভাবনায়, চাকুরীর ভাবনায়। কি করে সন্তানদের মানুষ করব, সে চিন্তায়। দেশে কোথায় কি হয়ে গেল - সেটা দিয়ে আমার মত মানুষের কিই বা এসে যায়। ক্ষমতাহীন ছা পোষারা শুধু সংবাদ পড়েই যায় - এর বাইরে তেমন কিছু করতে পারেনা। তার উপরে আবার আমি প্রবাসের হাজারো সমস্যায় জর্জরিত।

তাও কিছু বিষয় নিয়ে লেখার তীব্র বাসনা থেকেই আমার এই পোস্টের অবতারনা। প্রথমেই বলে রাখছি, আমার এ লেখা লালনের মূর্তি সরানো সম্পর্কিত নয়। লালনের মূর্তি থাকবে কি সরবে - সে নিয়ে আমার খুব উচ্চ বাচ্য নেই। আমি মূর্তি স্থাপনার বিরুদ্ধে, কিন্তু এও জানি যে পৃথিবীর সব কিছু আমার ভাল লাগার মত করে হবে না। সুতরাং এই মূর্তি থাকল কি সরে গেল - সেটা আমাকে খুব বেশী বিচলিত করে না। এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষেত্রে নিজের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে আমি পুরোপুরিই সচেতন। তাই কার মূর্তি কোথায় থাকবে বা না থাকবে - তার ব্যপারে নির্লিপ্ত ভূমিকা নেয়াটাই শ্রেয় ভাবছি। মধ্যবিত্তের স্বাভাবিক গা বাচানো মানসিকতা আর কি।

আরেকটু ব্যাখা করি। আমরা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গনতন্ত্র মানেই সংখ্যা গরিষ্ঠের মতামতকে বেশী গুরুত্ব দেয়া। যার ফলে আমরা উন্নত বিশ্বে ক্রিসমাসে ছুটি পেলেও ঈদে পাই না। এটাই সত্য। এই বাস্তবতা অন্য সংখ্যা লঘুদের মেনে নেয়ার কোন বিকল্প নেই। তাই বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষ যদি মূর্তি স্থাপনার বিষয়টি মেনে নেয়, তবে আমি বাস্তবতার হাতে নিজেকে সমর্পন করা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না।

এরও ব্যতিক্রম আছে। সংখ্যাগুরু হলেও যে সব সময় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়, তা কিন্তু নয়। এই বিষয়টি আসলে অনেকটাই প্রভাব প্রতিপত্তির উপর নির্ভরশীল। যার জ্বলন্ত প্রমান তুরষ্ক। তুরষ্কে জাস্টিস এন্ড ওয়েলফেয়ার পার্টি হিজাব ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়। মানুষের কাছে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ স্কার্ফধারী নারীদের অফিসে, স্কুলে পুনর্বাসন করবে। কিন্তু না। তারা পারছে না হিজাবের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। সেখানে বাধ সেধেছে সেনাবাহিনী। বিরোধীদের যুক্তি, নারীরা যারা হিজাব করে না, তাদের অধিকার অনুভূতি ব্যহত হবে যদি হিজাবিনীদের অফিস করার অনুমতি দেয়া হয়। তাদের অধিকার ও অনুভূতিকে সম্মান জানাতেই নাকি হিজাব বিরোধী এরকম সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এটাই হল বাস্তব। কে কখন প্রভাবশালী হবে তা আমাদের জানা নেই। আমার মত ছা পোষা মানুষেরা তা নির্ধারন করেনা। যার ফলে এইসব নিয়ে আলোচনায় এই মুহুর্তে যাবার কোন ইচ্ছে আমার নেই। আমার এই পোস্টের মূল প্রসংগ দুইটি। এই দুইটি বিষয়েই আমি আলোচনা করতে চাই। আপনারা মন্তব্যও করবেন এই দুইটি ইস্যুতে। প্রসংগ দুটি হল:

১। ইসলাম মূর্তির ব্যপারে কি বিধান দেয়?

২। নিয়ম তান্ত্রিক আন্দোলন না করে মোল্লাদের এই আস্ফালন কেন?

আমার ধারনা ছিল মূর্তির ব্যপারে সবাই একমত যে ইসলাম মূর্তিকে প্রচন্ড ভাবে নিরূৎসাহিত করে। কিন্তু তারপরেও দেখছি কেউ কেউ এ ব্যপারে এখনও সন্দিহান। তাদের জন্য আমার উচিত ছিল মূর্তি বিরোধী হাদীস গুলো সংকলন করা। কিন্তু এই মুহুর্তে হাতের কাছে সেসব নেই। হাদীসগুলো বেশ বিখ্যাত। "আমি মূর্তি ভাংগার জন্যে প্রেরিত হয়েছি" - এরকম বেশ অনেক হাদীস। ইসলাম অনলাইনের এই লিংকটি যারা ইন্টারেস্টেড তারা দেখতে পারেন। যাতে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্তিকে সম্মান দেখাতে মূর্তি তৈরীকে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। Click This Link

এতো গেল সম্মান দেখাতে মূর্তি বানানোর বিধান। পুরাকীর্তির বিষয়ে অবস্থান কিছুটা ব্যতিক্রম। ফেরাউনকে একটি নিদর্শন হিসেবে ভবিষ্যৎবানী দেয়া হয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট অতীত কর্মকান্ডের এসব নিদর্শন সংরক্ষন ইসলাম শুধু অনুমতিই দেয় না, বরং ক্ষেত্র বিশেষে উৎসাহিত করে। যেটা বাধা দেয় তা হল ব্যক্তি বিশেষের মূর্তি নির্মান যা সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে। আর সম্মানের উদ্দেশ্যে নির্মিত ব্যক্তি মূর্তি ব্যতীত শিশুতোষ খেলনার ক্ষেত্রে ইসলামের একই বিধান প্রযোজ্য নয়, বরং কিছুটা আলাদা। যার অনুমোদন বিভিন্ন হাদীসে এসেছে। সেসব নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই পোস্ট জাম্বো সাইজের হয়ে যাবে। সারাংশ যা তা হল, পূর্ন শরীরের ব্যক্তি মূর্তির কোন অনুমোদন ইসলামে নেই।

লিংকে যেহেতু বিধান নিয়ে আলোচনা রয়েছে তাই আমি আর সে বিষয়ে এর চেয়ে বেশী বিস্তারিত কিছু বলছি না। আর আমি তো কোন ইসলামিক স্কলার নই। তাই আমার নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা খুব দ্রুতই প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে। সেজন্যে আপাতত ক্ষান্ত দিচ্ছি।

দ্বিতীয় যে ইস্যুটি নিয়ে সবার মাথা ব্যথা, তা হল, মোল্লারা কেন নৈরাজ্য তৈরী করে বার বার। মোল্লাদের প্রতিবাদ কেন এরকম সহিংস আর অসহিষ্ণু? কেন তারা বার বার একই আচরন করে থাকে।

বলা উচিত, আমিও যে কোন ধরনের সহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধে। সেটা মোল্লারাই করুক, কিংবা নন-মোল্লারা। কোন ভাংচুর বা নৈরাজ্য কোন অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়। সেটা যেই করুক না কেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, মোল্লাদের এই ভায়োলেন্ট প্রতিবাদ কি তাদের নিজস্ব মূল্যবোধ আর শিক্ষার সাথে কোন ভাবে জড়িত?

এই নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রথমেই আমার স্মৃতিতে একটা ঘটনা চমকে গেল। অনেক আগের কথা। বুশের বিভিন্ন নীতি তখন বিভিন্ন রাষ্ট্রে প্রবল সমালোচনার ঝড় তুলেছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান তো বটেই - ইন্দোনেশিয়া সহ আরো অনেক দেশে বেশ বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে। দেখা গেল সৌদি আরবে এরকম কোন কিছু হচ্ছে না। রাষ্ট্রদূত বন্দরকে জিজ্ঞাসা করা হল, কি ব্যপার? সৌদিরা যে প্রতিবাদ মিছিল বের করছে না? বন্দর উত্তর দিয়েছিলেন, "দেখুন। এরকম মিছিল মিটিং ঠিক সৌদি কালচার নয়। আমাদের মানুষেরা এরকম করে থাকে না। তবে আমরা তাদের চোখে অসীম ঘৃনা দেখতে পাচ্ছি। সেটা আমাদের অজানা নয়।"

এই ঘটনা এই জন্য উল্লেখ করা যে কখন কোথায় মানুষ কি ভাবে প্রতিবাদ করবে তা মূলত সংশ্লিষ্ট এলাকার সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে থাকে। বাংলাদেশে যেহেতু সহিংসতা একটি প্রচলিত কালচার, মোল্লারা তাই সেটাতে অভ্যস্ত। এদেশে সরকার বদলের সাথে সাথে চর দখলের কায়দায় চলে হল দখল, প্রকাশ্যে জুতা পেটা করা হয় বিরোধী মতাবলম্বনকারীদের, এমন কি শুধুমাত্র হরতাল সফল করার জন্য যাত্রীবাহী বাসে দেয়া হয় আগুন। এইসব ঘটনা যত না মোল্লারা ঘটিয়েছে, তার চেয়েও অনেক অনেক বেশী ঘটিয়েছে নন-মোল্লারা। সুতরাং মোল্লাদের এই সহিংস আস্ফালন তাদের বাংলাদেশী চরিত্রের স্বাভাবিক বহিপ্রকাশ মাত্র। মোল্লাদের গায়ে বাংলাদেশী গন্ধ রয়েছে বলেই কথায় কথায় তারা নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছে।

উপসংহার বেশী দ্রুত হয়ে গেল। তবে আর লেখার ইচ্ছে নেই। ব্যস্ততার কারনে ড্রাফটেও রাখলাম না। তাই আপাতত এইটুকুই রইল।

ধন্যবাদ সবাইকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28856738 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28856738 2008-10-19 07:41:37
বিভিন্ন ব্লগ সাইটের তুলনামূলক কিছু পর্যালোচনা Click This Link ) লিখেছিলাম খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে। কিভাবে সামহোয়ারে এলাম। ব্লগিং শুরু করলাম, কিভাবে কিক আউট হলাম এবং কি করে প্যাচালীতে এলাম। এর মাঝে শুরু হয়েছে নূতন ব্লগ "আমার ব্লগ" (http://www.amarblog.com)। এদিকে আমি সামহোয়ারে ব্লগিং এ আসার আগেই সচলায়তন নামে আরেকটি ব্লগিং সাইট যাত্রা শুরু করেছিলো (http://www.sachalayatan.com)। আমার আজকের এ লেখাটিতে আমি এই চারটি ব্লগ সাইট নিয়ে আমার চিন্তা ভাবনা আপনাদের সাথে ভাগ করব। অবশ্য অবশ্যই এই আমার সম্পূর্ন নিজস্ব ভাবনা। যার সাথে আপনারা দ্বিমত পোষন করলেও করতে পারেন। সেটাই বরং স্বাভাবিক।

সামহোয়ারে যখন লেখা শুরু করি তখন আমি একেবারে আনকোরা। টাইপ করতে খুব কষ্ট হত। এমন কি ড্রাফট করতেও পারতাম না। ফলে একটা লেখা কষ্ট করে লিখে তাড়াতাড়ি পোস্ট করে দিতাম। লেখাটা যে এডিট করা যায় সেটা বুঝতে আমার লাগে বেশ অনেক দিন। যাক, এক সময় দেখি মোটামুটি শিখে গেছি বাংলা লেখা, ব্লগ লেখা। মুখস্ত হয়ে গেছে কি বোর্ডের লে আউট। পোস্ট দিতে তেমন অসুবিধা হয় না।

সামহোয়ার ব্লগারদের যত ধরনের অপশন দিয়ে থাকে তা আর কোন ব্লগ সাইট দেয় বলে আমার জানা নেই। প্রিয় পোস্ট, কমেন্ট মডারেশন, ব্লক লিস্ট, পোস্ট প্রথম পাতায় না দেয়ার অপশন সহ হাজারোটা সুবিধা সামহোয়ারকে করেছে অনন্য। এইসব সুবিধা যে কোন ব্লগারের জন্য সামহোয়ারের মূল আকর্ষন। এত বেশী ফিচার আর কোথাও নেই।

ইদানিংকালে আগের চেয়ে অনেক ছিমছাম হয়েছে সামহোয়ার। বাংলাদেশ বিরোধী, কিংবা বাংলাদেশের গৌরবময় অতীতকে হেয়কারী পোস্টের সংখ্যা অনেক কমেছে। ফ্লাডিং, গালিগালাজও আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী নিয়ন্ত্রনে। যদিও ব্লগ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ, অমুক ব্লগার পর্নো সাইটের পরিচালক ইত্যাদি ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা পোস্ট এখনও চোখে পড়ে। তবু সামগ্রিকভাবে এখনকার পরিবেশ মোটামুটিভাবে সাধারন ব্লগারদের অনুকূলেই বলা চলে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সামহোয়ারে আমার ব্লগিং জীবন খুব সুখকর হয় নি। আমি জানি না এটা আমার সমস্যা কিনা। তবে আমি আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি এই সমস্যাটা আমার শুধু সামহোয়ারেই হয়েছে। অন্য কোথাও হয় নি। সামহোয়ারে এতদিন ব্লগিং করার পরে যা বুঝতে পারলাম তা হল, আমি কখনই সেখানে শান্তিতে ব্লগিং করতে পারবে না। আমি মনে করিনা আমার চিন্তাধারা সম্পূর্ন অযৌক্তিক। কিন্তু এখানকার অধিকাংশ ব্লগাররাই আমার সম্পর্কে বোধ করি উল্টোটাই মনে করে। অবশ্য আগেই বলেছি, অন্য ফোরামে আমার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ন অন্য রকম। তবে অন্যান্য ফোরাম তো আর সামহোয়ারের মত এত বিশাল নয়!!!! তাই কোন সিদ্ধান্তে পৌছুতে পারি না। কে জানে, হ্য়ত দেশের বাইরে এতদিন আছি বলে দেশের অনেক মূল্যবোধই আমার কাছে এখন অপরিচিত।

সামহোয়ার থেকে যেবার প্যাচালীতে আসি, তখন প্যাচালী ছিল খা খা বিজন ভূমি। তবে আশার আলো যা ছিল তা হল, ব্লগাররা সবাই প্যাচালীর নিজস্ব ব্লগার এবং উন্নত রুচিবোধ সম্পন্ন। ফলে আমার দুর্বলতা, মানবীয় সীমাবদ্ধতা তারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। আমিও কিছুটা আশ্বস্ত হই এই ভেবে যে এখানে হয়ত আমার অসুবিধা হবে কোন। আজ এত দিন পরে প্যাচালীতে অনেক নূতন ব্লগার এসেছে। কিন্তু সেই রুচিবোধ এখনও অটুট। এখনও ব্লগারদের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আগের মতই রয়েছে। এজন্য কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্লগাররাও ধন্যবাদ পেতে পারেন। ছোট্ট একটি উদাহরন দিতে পারি। আমি সামহোয়ারের প্রচুর লেখা প্যাচালীতে শেয়ার করেছি। সবাই খুশী হয়েছে। কিন্তু প্যাচালীর কোন লেখা সামহোয়ারে শেয়ার করতে গেলে কেউ না কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেই। কেন অন্য সাইটের লিংক দেই ইত্যাদি। প্যাচালীর ব্লগারদের এই মানসিক উদারতা অনন্য।

তবে প্যাচালীতে অনেক সময় অনেকেই অনেক রকম কমপ্লেন করেছেন। দেখা যায়, অনেকেই লগ ইন করতে না পারার সমস্যায় ভোগেন। এটা নাকি আই পি ব্যান সংক্রান্ত জটিলতা থেকে সৃষ্ট। কিছুদিন আগে নকল নিক সংক্রান্ত জটিলতা Click This Link থেকে কিছু নিক আই পি ব্যান হয় । তারপরে প্রচুর ব্লগার অভিযোগ করছে লগ ইন সমস্যা নিয়ে। সেক্ষেত্রে আই পি ব্যান না করাটাই যুক্তি যুক্ত। শুধু নিক ব্যান করে তার আই পিকে সন্দেহের লিস্টে রাখা যায়।

একাধিক ছবি দেয়া নিয়ে প্যাচালীতে কিছু সমস্যা হয়েছে। যার ফলে অনেকের পোস্ট প্রথম পাতা থেকে সরানো হয়েছে। এর সমাধান আশু কাম্য। মোদ্দা কথা, ব্লগের অপশন কিছুটা কম মনে হওয়াটাই প্রধান সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। আর ভাল দিক হল, গোছানো মডারেশন। যার ফলে সাইটের ছিমছাম ভাবটি স্পষ্ট।

এত গেল সামহোয়ার আর প্যাচালীর কথা। এই দুটো সাইটে লিখি বলে এই সাইট সম্পর্কে বেশী জানি। কিন্তু আমার ব্লগ আর সচলায়তন সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা বলতে গেলে শূন্য। দুই এক দিন মাঝে মাঝে ভিজিট করেছি। আমার পর্যবেক্ষন হল, "আমার ব্লগে" আমি কোন নূতন ব্লগার দেখিনি। নূতন ব্লগারদের আকৃষ্ট করার ব্যর্থতা খুব স্পষ্ট। সামহোয়ারের সেই পুরোনো ব্লগারদের আনাগোনাই মূলত সেখানে। অবশ্য আমার স্বল্প সময়ের পর্যবেক্ষনে ভুল থাকা বিচিত্র নয়।

এছাড়া মডারেশনবিহীন হওয়ায় "আমার ব্লগে" পরিবেশ নষ্টকারী কিছু পোস্ট আসে। এসব সত্ত্বেও সাইটটির দ্রুত জনপ্রিয়তা ঈর্ষনীয়। এটাই এই ব্লগের প্রথম সাফল্য। আর বেশ কিছু ভাল লেখা / আলোচনা প্রথম পাতায় রয়েছে। যা প্রথম নজরে মানুষকে আকৃষ্ট করে। আমি অন্ততপক্ষে আকৃষ্ট হয়েছি। মধ্যবিত্তের সেন্টিমেন্টের উপস্থিতি সেখানে রয়েছে।

আর সচলায়তনে গেলাম কয়েকবার। লেখার মান, পরিবেশ দুটোই উন্নত। আর তাদের নিজেদের ব্লগারও রয়েছে। তবে বহু দল মত মানসিকতার অভাব খুব স্পষ্ট। এই গনতান্ত্রিক মানসিকতার অনুপস্থিতি পীড়াদায়ক। ফলে সাইট টিতে জমপেশ আলোচনা নেই। সাথে সাথে সাইট টি তেমন আগ্রহ তৈরী করে না। মধ্যবিত্তের সেন্টিমেন্টও উপেক্ষিত। তবে মান সম্পন্ন লেখার উপস্থিতি দৃষ্টি নন্দন।

সবশেষে একটা লাইন দিয়ে শেষ করছি আজকের এই লেখা। এই চারটি সাইটের মধ্যে সেরা কোনটি?

অবশ্যই সামহোয়ার। অন্তত আমার মতে।

লেখাটি প্যাচালীতে প্রকাশিত (Click This Link)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28848836 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28848836 2008-09-28 07:50:50
ওবামা/ ম্যাককেইন বিতর্কের সারমর্ম
ল্যাপটপ কোলে নিয়ে তার বিবরন লেখার চেষ্টাও করলাম। ভাল হয় নি বুঝতে পারছি। তাও চেষ্টা। দেখুন এই লিংকে।
Click This Link

এখন বলুন আপনাদের মত। আমি কি কি পয়েন্ট বাদ দিয়েছি। আপনাদের কাকে বেশী সপ্রভিত মনে হল।

ম্যাককেইন খারাপ করেন নি। কিন্তু আমার কাছে ওবামার কথাগুলো বেশ ভাল লেগেছে।

আপনাদের কি মত।

পরীক্ষা মূলক ভাবে এই পোস্টের মন্তব্য মডারেটেড নয়। বরং সরাসরি প্রকাশ হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28848435 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28848435 2008-09-27 09:04:02
না, ধন্যবাদ নয়, রইল হৃদয় নিংড়ানো অব্যক্ত শুভ কামনা
কিছুদুর ড্রাইভ করে বুঝলাম আমার আশংকা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। চাকা পাংচার হয়েছে মাঝ রাস্তায়। একটা ঠান্ডা শীতল স্রোত আমার ভেতর দিয়ে বয়ে গেল। কি করে বাসায় ফেরব এবার। এই এক বছরের কম বয়েসী মেয়ে নিয়ে? সাড়ে পাচের ছেলে নিয়ে?

কোন মতে রাস্তার একপাশে গাড়ীটা পার্ক করলাম। আল্লাহ আল্লাহ করে পার্স চেক করলাম। "ট্রিপল এ"র কার্ডটা পাওয়া যায় যদি। সেটা পাওয়া গেলে তাও একটা গতি হয়। সেক্ষেত্রে ওদের কল করে গাড়ীর একটা হিল্লা করা যায়। কিন্তু হতাশ হলাম। নাহ, কপাল সব দিক দিয়ে খারাপ। পার্সে কার্ড নেই। কার্ডটাও ফেলে এসেছি। এমন কি সেল ফোনও আনিনি। আহাম্মকীর চূড়ান্ত।

মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে চাইলাম। কি করতে পারি এখন? দেখলাম, একটা অসম্ভব সম্ভাবনাই শুধু সামনে একমাত্র অপশন। হেটে কারো বাড়ী যাওয়া। সবচেয়ে কাছের যে প্রতিবেশী তার বাসায় যেতেও কমপক্ষে আধা ঘন্টা নেবে। এই গাড়ীবহুল ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে কি করে আমি দুই বাচ্চা নিয়ে হাটব। ভাবতে ক্লান্ত বোধ করলাম। কিন্তু উপায় নেই। সেটাই করতে হবে। রওনা হবার প্রস্তুতি নিলাম। মেয়েকে কোলে নিলাম। ছেলেকে বললাম, আমার জামা ধরে হাটতে।

শুরুর প্রস্তুতি নিতেই একটা কান্ড ঘটল। সাই করে একজন আমার পাশে এসে গাড়ী পার্ক করল। গাড়ীর দরজা খুলে বলল, "কি, চাকা পাংচার?"

"হ্যা" আমি মাথা নাড়লাম।

"তোমার স্পেয়ার চাকা আছে।"

"থাকতে পারে। আমি চেক করিনি।" জবাব দিলাম।

"চাবি দাও। ট্রাংক খুলব।"

চাবি দিলাম। সে স্পেয়ার চাকা বার করল। আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, "আধা ঘন্টা লাগবে চাকা বদলাতে। অপেক্ষা কর।"

"কি বলছ? তুমি বদলাবে? এত কষ্ট করবে?"

"তুমি আমার বোনের মত। তোমার জন্য না হয় এইটুকু করলাম।"

আমাকে বিষ্ময়ে ফেলে দিয়ে সে ম্যানুয়ালী চাকা বদলানো শুরু করল!!! কি কষ্টের সে কাজটি। একটা অজানা অচেনা কারো জন্য কেউ এরকম করতে পারে - এ তো শুধু নাটক গল্পেই হয়ে থাকে। বাস্তবে কি কখনও হয়?

বাস্তবে হল। কোন উল্লেখ যোগ্য টুলস ছাড়া ম্যানুয়াল লেবারে সে স্পেয়ার চাকা লাগাল। আমি দাড়িয়ে দেখলাম। কথার ফাকে ফাকে জানলাম আফ্রিকা থেকে এখানে সে এসেছে ভাগ্যের সন্ধানে। মুসলিম। এখনও খুজছে কাজ। সুবিধা করতে পারেনি।

পেরিয়ে গেল বেশ খানিক ক্ষন। লাগানো হয়ে গেল চাকা। এবার বলল, "তুমি যাও আমি পেছনে পেছনে আসছি। আগে চালিয়েছ স্পেয়ার চাকা।"

"না।"

"তিরিশের উপরে স্পীড উঠাবে না।"

আমি মাথা নাড়লাম। আস্তে আস্তে স্টার্ট দিয়ে চালানো শুরু করলাম। ভেতরে ধুক ধুক শব্দ হতে লাগল। কতক্ষন পরে বাসায় পৌছলাম। দেখলাম, বাসায় শেষ পর্যন্ত পৌছুতে পেরেছি। কেমন অবিশ্বাস্য মনে হল।

নেমেই দেখলাম ছেলেটার গাড়ীও পেছনে এসে থেমেছে।

ধন্যবাদের কথা প্রথমে মনে এল। কিন্তু পারলাম না তাকে ধন্যবাদ দিতে। ছোট খাটো সাহায্যে ধন্যবাদ দেয়া যায়। কিন্তু জনবহুল রাস্তায় গড়ী থামিয়ে টুলস ছাড়া ম্যানুয়ালী স্পেয়ার চাকা লাগিয়ে যে ছেলে পিছে অনুসরন করে আসে আমি ঠিকভাবে পৌছেছি কিনা তা দেখার জন্য, সে ছেলেকে ধন্যবাদ জানানো যায় না। তাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম কি তা আমার জানা নেই।

এবার বাসায় ফেরার পালা। "চল আমার বাসায়", বলতে চাইলাম।

কিন্তু বাধা দিল আজন্ম লালিত সংস্কার। খালি বাসায় এই পচিশ ছাব্বিশ বছরের একটা ছেলেকে নেয়া যায় না। ইতস্তত করলাম। খানিকটা ক্লান্ত, হতাশ আর হতবিহ্বল লাগছিল। শেষে আমার ভদ্রতা বোধ বিজয়ী হল। আমি বললাম, "বাসায় এসে চা খাও। ওদের বাবাকে কল দিচ্ছি। ও এখনই চলে আসবে।"

কিন্তু সমস্যার সমাধান দিল সে নিজেই।

"আমি ভীষন ব্যস্ত। স্যরি। তোমার বাসায় যেতে পারছি না।"

আমিও চাপাচাপি করলাম না। কি দরকার। সে তো আমাকে স্বার্থহীনভাবেই সাহায্য করেছে।

আবারো চাইলাম ধন্যবাদ দিতে।

পারলাম না। মুখে আটকে গেল। চেয়ে চেয়ে দেখলাম তার প্রস্থানকে।

শুধু হৃদয়ের ভেতরটাতে রয়ে গেল এক অপরিসীম কৃতজ্ঞতাবোধ। যার প্রকাশ শুধু নীরব প্রার্থনায়। হে করুনাময়, তুমি তোমার অপরিসীম করুনাধারা তার উপরে ঢেলে দাও। তোমার অনুগ্রহে তাকে সিক্ত কর।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28844293 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28844293 2008-09-17 10:57:55
আমার অভিজ্ঞতায় জন হপকিন্সের ট্যালেন্ট সার্চ প্রোগ্রামের কথা
টেস্ট দেয়াটাও ছিল বহু ঝক্কির। এই টেস্ট দিতে হলে চাই অন্য টেস্টে ৯৮% স্কোর। ভাগ্য ভাল ছিল। ক্যাট, অর্থ্যাৎ ক্যালিফোর্নিয়া এচিভমেন্ট টেস্টে আমার ছেলে আবদুল্লাহ ম্যাথ পার্টে ৯৮% স্কোর করেছিল। সেটা দিয়ে চেষ্টা করলাম। ভাগ্য ছিল প্রসন্ন। রেজিস্ট্রেশন করা গেল। সাত্ত্বনা পেলাম। যাক, অন্তত টেস্ট দিতে পারবে। সেটাই বা কম কি? একটা বাধা তো সামনে থেকে গেল।

পরীক্ষার ঠিক আগে আগে একটা স্যাম্পল প্রশ্ন পেলাম হপকিন্স থেকে। প্রশ্ন থাকে এদের দুই ক্লাশ উপরের স্ট্যান্ডার্ডের। প্রশ্ন দেখে প্রাকটিস করানোর কথা ভাবলাম। কিন্তু সে গুড়ে পড়ল বালি। এক ভাবী, যার ছেলে এই পরীক্ষা দিয়েছিল, তার কাছ থেকে জানলাম এই পরীক্ষার জন্য আর কোন প্র্যাকটিস ম্যাটেরিয়াল নেই। হপকিন্স থেকে যা পাঠিয়েছে ততটুকু ছাড়া আর কিছু কোথাও পাওয়া যায় না। এই পরীক্ষার জন্য আলাদা করে প্রিপারেশনের কোন ব্যাপার নেই।

পরীক্ষার সময় এল। পরীক্ষা দিল। ফলাফল অপ্রত্যাশিত ছিল না। ম্যাথ পার্টে ৯০ এর উপরে স্কোর করেছে। অর্থ্যাৎ শতকরা ৯০ ভাগ ছেলে তার নীচে। আমেরিকানদের ম্যাথের জ্ঞান একটু নীচের দিকে। তাই সেটাতে এশিয়ানরা এগিয়ে থাকে স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু ল্যাংগুয়েজ আর্টস এ আমার ছেলে তেমন সুবিধা করতে পারে নি। সেটাতে আবার আমেরিকানদের জয় জয়কার।

সে বছর ট্যালেন্ট হতে পারল না। কি আর করা। পরের বছরের জন্য প্রস্তুতি নিলাম। এর মধ্যে আমার চেষ্টা চলল ল্যাংগুয়েজ আর্টস নিয়ে। বিভিন্ন বই দিয়ে প্র্যাকটিস তাকে করালাম। কিন্তু সেবারও একই অবস্থা। ম্যাথে কোয়ালিফাই করলেও, ল্যাংগুয়েজ আর্টসে নয়।

নাহ, এবার পেতেই হবে। জেদ চেপে গেল। চলল প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে স্কুলে স্পেলিং বি প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়ে সেও কিছুটা আত্মবিশ্বাসী। সবমিলিয়ে আমার মনে হচ্ছিল সে এবার অবশ্য অবশ্য দুটোতেই নির্বাচিত হয়ে ট্যালেন্ট হবে। তৃতীয় বারের মত সে ট্যালেন্ট সার্চের পরীক্ষা দিল।

শেষ পর্যন্ত আনন্দময় সংবাদটি আমার জীবনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিল। সে ট্যালেন্ট হল। যদিও ল্যাংগুয়েজ আর্টস এ ন্যুনতম নম্বর পেয়ে কোয়ালিফাই করেছে। তাতে কি। ট্যালেন্ট তো হয়েছে। যার বর্ননা রয়েছে এই পোস্টে (Click This Link)

তবুও ভাগ্যের বিড়ম্বনা যেন লেগেই থাকে। ট্যালেন্ট অনুষ্ঠানের দিনে জন হপকিন্সে আমরা পৌছালাম বেশ দেরী করে। বাল্টিমোরের রাস্তায় আমরা হারিয়ে প্রায় আধা ঘন্টা দেরীতে পৌছি। ততক্ষনে তার নাম ডাকা শেষ। এত খারাপ লাগল আমার। পরে অবশ্য কর্তৃপক্ষকে ধরে আমরা তার নাম আবার ঘোষনা করাই। সে স্টেজে যায়। কিন্তু ভাগ্য এবারও বিড়ম্বিত। দেখলাম ক্যামেরা আনতে ভুলে গেছি। ট্যালেন্টের ছবি আর তোলা হল না।

ট্যালেন্ট হবার সুবাদে সামারে এবার একটা রাইটিং কোর্স নিতে দিল। অসম্ভব বেশী টিউশন। অনলাইন কোর্স অথচ টিউশন প্রায় ৮০০ ডলার। আমার সামর্থ্য সীমিত হলেও এই টাকাটা জোগাড় করলাম। না, কোর্সটা বিফলে যায় নি। খুবই চমৎকার। অনেক কিছুই সে শিখেছে। সেই কোর্সের অংশ হিসেবে সে কয়েকটি লেখা লিখে। যার একটি কবিতা রয়েছে এখানে। Click This Link

যা হোক, অবশেষে শেষ হল তার প্রোগ্রাম। সেদিন তার শেষ এসাইনমেন্টটায় চোখ বুলালাম। একটি গল্প লিখেছে। পারিবারিক আবহে রচিত। এত চমৎকার হয়েছে। পড়ে খুব ভাল লাগল। ছেলের এই একটি কোর্সের অভিজ্ঞতায় এতটুকু বলতে পারি জন হপকিন্সের ট্যালেন্ট সার্চ প্রোগ্রাম একটি অতুলনীয় প্রোগ্রাম, মেধার বিকাশে যা অসম্ভব সহায়ক। আমার মত মধ্যবিত্তের হাত দিয়ে এতগুলো টাকা চলে গেলেও কোর্সের কার্যকারিতায় আমি সন্তুষ্ট ।

লেখাটি প্যাচালীতে একটু অন্যভাবে প্রকাশিত (Click This Link)

আজ এ পর্যন্তই। সবাইকে ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্য। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28843193 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28843193 2008-09-14 21:30:26
দেশ কোন দিকে যাচ্ছে?
তারেকের সাথে এরকম আচরন নিন্দনীয়, ঘৃন্য। তবে তারেকের আহত হওয়াকে কেন্দ্র করে আজকের ঘটনার অরাজকতায় আরেকটি দুঃসংবাদ রয়েছে। আজকের ঘটনার সহিংসতায় নিহত হয়েছেন নিরপরাধ একজন মানুষ। তার জন্য কাকে দায়ী করা উচিত সে সম্পর্কে কোন আলোচনায় যাব না। তবে এটা বলতে হয়, এরকম হতাহতের সংখ্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল কম নয়। ৯৫ এ আওয়ামী লীগের সহিংস আন্দোলনে নিহত হয়েছিল কয়েক শত। আজকের এই নিহত মানুষটিকে দেখে সেই ভয়ংকর সময়গুলোর কথা মনে পড়ছে। আরো মনে পড়ছে ২৮ শে অক্টোবরের কথা। আর কত রক্ত শুধু এক নির্বাচনের জন্য? নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেই এরকম পরিস্থিতি তৈরী হয়। ক্ষমতাসীনরা তাদের মত করে সব কিছু চায়। তাদের তল্পিবাহকদের ক্ষমতায় দেখতে চায়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ তা প্রতিহত করে। মাশুল গোনে সাধারন মানুষ। ভোগান্তি যায় সাধারন মানুষের। রাজায় রাজায় যুদ্ধ, উলু খাগড়ার প্রানান্ত।

আবারো কি দেশ এগিয়ে যাবে এক অচলাবস্থার দিকে?????????????

নাই বা হল সুষ্ঠু নির্বাচন।

তার জন্য কি আবারো রাজপথ হবে রক্তাক্ত?????????

লেখাটি আলোচনাসহ পাবেন: এখানে (Click This Link)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28835260 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28835260 2008-08-26 17:57:07
স্বপ্নময় বিকেল স্বপ্নময় অতীত
ফোন জিনিসটা আমার খুব পছন্দের নয়। খুব একটা ফোন ধরিনা। আনসারিং মেশিনে বেজে উঠে নানা মেসেজ। খুব কাছের কেউ করলে পরে ফোন করি। মানুষ উপেক্ষা পছন্দ করে না। তাই আমাকে ফোন করার মত খুব বেশী কেউ নেই। খুতখুতে স্বভাবের এই আমি দূরত্ব রেখে চলি বলে অন্যরাও আমাকে বিরক্ত করে না। কিছু কিছু মানুষ সমালোচনা করে তবে আমার নির্লিপ্ততায় এক সময় উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।

সেদিন কি মনে করে ফোনের শব্দে ঘাড় ঘুরালাম।

"হ্যালো"

"কেমন আছিস?"

"চিনতে পারছি না। নাম বলুন।"

"রুনিয়া।"

"কোন রুনিয়া?"

"কয়টা রুনিয়াকে চিনিস তুই? তোর স্কুলের ক্লাশমেট।"

"ওহ রুনিয়া। কতদিন পরে। কেমন আছিস? কোথায় আছিস?"

"আছি অষ্ট্রেলিয়াতে।"

"আমার নম্বর পেলি কোথায়?"

"কালামদের কাছ থেকে। কালাম আমার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছে। তোদের ওখানেই তো থাকে।"

"হ্যা। ওকে চিনেছি। এক বাসায় দেখা হয়েছে। যাক কষ্ট করে ফোন করলি। এবার বল কি করছিস।"

"চাকুরি। পার্মানেন্ট হয়েছে।"

"গুড নিউজ। নিশ্চয়ই হোয়াইট কালার।"

"অফ কোর্স। কি মনে করিস আমাকে? অড জব করব?"

"না তা মনে করিনি। আমি কি বেকুব নাকি। তোর একাডেমিক পারফরমেন্স কি আমি ভুলে গেছি না কিরে?"

"তোর খবর কি? তুই কি এখনও স্কার্ফ পড়িস?" আমাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিল।

"হ্যা, ওটা এখনও আছে। আগে তোর কথাটা শেষ কর। তোর কয় বাচ্চা?"

"বাচ্চা নেই।"

"নেই মানে? খোলাসা করে বল। কি সমস্যা, কবে সমস্যা টের পেলি - এইসব।"

"তুই জানিস না? কালাম বলে নি?"

"কি জানব? কি বলবে? আর কালামদের সাথে আমাদের ততটা দেখা হয় না। ওরা একটু দূরে থাকে।"

"অপুর সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।"

আমি হতভম্ব। একেবারে অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। কি বলব বুঝে উঠতে না পেরে জানতে চাইলাম, "কবে? রিসেন্টলি?"

"না অনেক আগে। বাদ দে ওসব। তোর কথা বল।"

শুরু করলাম আমার কথা। কিন্তু কোথায় যেন ছন্দপতন হয়ে গেল। আমি কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছিলাম না। রুনিয়ার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল বৌভাতের আসরে। আমি ফাজলামি করছিলাম, "তোর বর তো মনে হচ্ছে খুব রোমান্টিক। আমারটার মত গবেট না।"

"চুপ কর। আমার সামনে এসব মিথ্যা চলবে না।"

কত সে স্মৃতি। পিকনিকে গিয়ে একসাথে মাঠের উপরে দৌড়ানো, ক্লাসে প্রক্সি দেয়া। সব কিছু যেন প্লে ব্যাক হতে লাগল। আবারও বিষন্নতা আমায় ছেয়ে গেল। মনে পড়ল রুনিয়ার অনার্স ক্লাশমেট হাবিবের কথা। একবার ভাবলাম হাবিবের কথাটা বলি, "হাবিবকে ফিরিয়ে দিয়ে তুই খুব ভুল করেছিস।"

পরে চুপ করে গেলাম। ষোল বছর আগের একটি প্রসংগ কবর থেকে তুলে আনার মানে হয় না। সেদিন তো আমরাই মাথা নেড়ে বলেছিলাম, "প্রশ্নই আসে না রুনিয়া। ওটা এক নাম্বারের একটা ফ্লার্ট। এইসব হ্যাংলা রোমিও টাইপের ছেলেদের কখনও গুরুত্ব দিতে নেই।"

শুধু তাই নয়, হাবিবের জন্য রুনিয়ার কোন অনুভূতি কোন কালেই ছিল না। আজকে হয়ত হাবিবের কথা তুললে সে চিনতেই পারবে না।

তারপরেও হাবিবের আপসেট মুখটা মনে পড়ল। চরম ইরিটেটিং টাইপের হতে পারে কিন্তু রুনিয়াকে কখনই অসম্মান করত না।

খুব বেশী দূর কথা এগোল না। আমি শুধু হ্যা হ্যা করে গেলাম। তানপুরার তার যেন ছিড়ে গেছে। শত চেষ্টাতেও সে তারকে বাজানো গেল না।

ফোন রেখে আমি মূর্তির মত বসে রইলাম। কে জানত জীবন এরকম উল্টে যাবে। মনে হল এই তো সেদিন। খালাম্মাকে বলছি, "খালাম্মা, বিয়ে কি রুনিয়াকে দিয়েছেন? না গয়নাগাটিকে? আপাদ মস্তক গহনায় আবৃত রুনিয়াকে দেখে তো জুয়েলারী দোকানের শো পিস মনে হচ্ছে।"

খালম্মা হাসছেন।

বৌভাতে রুনিয়ার লাজুক হাসি দেখে বলেছিলাম, "শুধু মানুষটিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবে না। আমাদের কথাও মনে রাখতে হবে। আমি কিন্তু তোদের মনে রেখেছি।"

সব কিছুই তাহলে মিথ্যা। মরিচীকা। ভাবনার গহীন অতলে হারিয়ে গেলাম। আবারো সেই পুকুর নদী সব ভেসে উঠল আমার সামনে যেখানে আমাদের নিত্য বিকেল কেটে যেত হাস্য ক্রীড়ায়।

বেশী ক্ষন ভাবনায় ডুবে থাকতে পারলাম না। আম্মূ বলে চিৎকার দিয়ে ঘরে ঢুকল আমার দুই সন্তান। আমি জেগে উঠে তাদের জড়িয়ে ধরলাম। এক মুহুর্তে ভুলে গেলাম রুনিয়ার কথা।

কিন্তু ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না। আজ ব্লগের পাতায় সেই কাহিনী ধরে রাখলাম।

লেখাটির লিংক Click This Link

(বলা ভাল নামধাম সব কাল্পনিক।) ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28831741 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28831741 2008-08-17 10:27:41
বুয়েটে আমার দেখা রাজনীতি - পর্ব ২ Click This Link) লেখার পর আজ মনে হচ্ছে লেখাটা আসলে অসম্পূর্ন রয়ে গেছে। অনেক টুকরো ঘটনার কিছুই সেখানে লেখা হয় নি। যা লিখেছি তার বাইরে রাজনীতি সংক্রান্ত আরো বহু ঘটনা আমার স্মৃতিকে আলো করে আছে। তার কিছু কিছু ঘটনা না বলাটা অন্যায় হয়ে যায়।

বুয়েট স্মৃতিচারনের গত কিস্তিতে ছাত্র লীগকে আমাদের সময়ে বুয়েটের দুর্বলতম ছাত্র সংগঠন বলে উল্লেখ করেছিলাম। এতে কোন ভুল আছে বলে মনে করি না। একমাত্র সংখ্যালঘু কিছু ছাত্র ব্যতীত সাধারন ছাত্রদের মাঝে লীগের কোন জনপ্রিয়তা কখনও দেখিনি। যে জনপ্রিয়তা ইউনিয়ন, ছাত্রদল, এমন কি জাসদের পর্যন্ত ছিল। তবে ছাত্র লীগের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপের কথা স্মৃতিতে অম্লান। সে ঘটনা ছাত্রলীগকে লাইম লাইটে নিয়ে এসেছিলো। তখন বুয়েটে কনভোকেশনের আয়োজন চলছে। স্মরনকালের প্রথম কনভোকেশন। বেশ বড় সড় আয়োজন। প্রেসিডেন্ট আসবেন। সবাইকে সার্টিফিকেট দেবেন। এই কনভোকেশনের সময় প্রেসিডেন্টের বুয়েট সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হল ক্যাম্পাসে ছাত্র লীগের প্রতিবাদ মিছিল, আন্দোলন।তাদের দাবী রাজাকার রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রতিহত করতে হবে। নইলে কনভোকেশন করতে দেয়া হবে না। আমরা রুদ্ধ শ্বাসে অপেক্ষা করছি কি হয় দেখার জন্য। সত্যিই কি কনভোকেশন পন্ড হবে? না, তা হয় নি শেষ পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস আসেন নি। বুয়েট কতৃপক্ষের অনুরোধে কনভোকেশনে প্রধান অতিথি হন খালেদা জিয়া। বুয়েট কতৃপক্ষ কনভোকেশন নিয়ে কোন ঝামেলায় জড়াতে চান নি। আর এদিকে রাজাকার প্রেসিডেন্টকে প্রতিহত করার কৃতিত্ব দাবী করে ছাত্রলীগ বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা চালায়। সেসময়টা ক্যাম্পাসে লীগের বেশ তৎপরতা দেখা যায়।

আগেই বলেছি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতৃত্বই ইউকসুতে বেশী সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব করেছে। তবে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়ে স্ক্যান্ডাল একেবারে কম ছিল না। বিশেষত এক বি এন পি সাংসদের নামে স্ক্যান্ডাল শুনেছিলাম সে নাকি টেন্ডারের হিসাব মেলাতে পারছিল না। যার ফলে কতৃপক্ষ তার সার্টিফিকেট আটকে দেয়। পরে হিসাব মেলানোর পর তার ডিগ্রি দেয়া হয়। এটা শুনে আমার বেশ অবাক লেগেছিল। উনাকে আমি দেখেছিলাম বেশ ভদ্র হিসেবে। এত ভদ্র একজনের বিরুদ্ধে কি করে এমন অভ