somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... হারিকেন আইরিন ও আমরা
এই মুহুর্তে মনে পড়ছে বাংলাদেশের উপকূলের মানুষদের কথা। এরকম ঘূর্নি ঝড় যাদের নিত্য সহচর।

আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29439892 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29439892 2011-08-28 13:25:00
এই মুহুর্তে মন্ত্রী সভার রদবদল কাম্য নয়
ব্যর্থ মন্ত্রীদের পদত্যাগ চাই - বলা চলে এখনকার হট টপিক। কারন রয়েছে যেগুলো অবশ্যই যৌক্তিক।

তারপরেও আমার ভাবনা ভিন্ন।


না, এই মুহুর্তে কোন রদবদল চাই না, যদিও ব্যর্থ মন্ত্রীরা সম্পূর্নই ব্যর্থ।

আমি সবসময়ই দলছুট বক। সেজন্য ব্লগে বহু গালি গালাজ মাইনাস সবই পেয়েছি। কিন্তু এসব সত্ত্বেও কখনই দলে ভিড়তে পারলাম না।

কেন রদবদল চাই না?

কারন তাতে সরকার দুর্বল বলে প্রতীয়মান হবে।

তাতে ক্ষতি কি?

ষড়যন্ত্রকারীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। চেইন অব কমান্ড ভেংগে যেতে পারে। সরকার রাষ্টের উপর স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রন হারাতে পারে। সেই ব্যর্থ রাষ্টের পরিনতি ব্যর্থ মন্ত্রীদের পরিনতির চেয়ে অনেক ভয়াবহ।

এমনিতেও কি ব্যর্থ রাষ্টের দিকে যাচ্ছে না?

তা যাচ্ছে। জনমনের ক্ষোভ যে কোন সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। কিন্তু মন্ত্রীদের বাদ দেয়া হলে তাতে স্বয়ং সরকারে অসন্তোষ ও মতবিরোধ দেখা দিতে পারে, যা আরো খারাপ পরিনতি ডেকে আনতে পারে।

গাফফার চৌধুরী ইন্দিরা গান্ধীর উদাহরন টেনে এনেছেন। ইন্দিরা জয়নারানয়ের পরামর্শকে অগ্রাহ্য করে ঠকেছেন।

তাহলে আমি আরেকটি উদাহরন তানি।

এই উদাহরন আমাদের প্রিয় ইমামে আজম ইমাম আবু হানিফার। তিনি ছিলেন অসাধারন বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সৎ একজন ফকীহ। একদা খলিফা মনসুর তাকে বিচারকের পদ গ্রহন করতে বলেন। কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন পদ নিতে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খলিফা তাকে "মিথ্যুক" বলে দাবী করেন। ইমাম সাথে সাথে জবাব দেন, " তার মানে আমি সঠিক। একজন মিথ্যুক কি করে বিচারক হতে পারে।" শেষে খলিফা তাকে কারাগারে বন্দী করেন। সেখানেই নির্যাতন সয়ে সয়ে একসময় মারা যান। অসম্ভব জনপ্রিয় এ ব্যক্তিত্বের জানাজায় প্রায় ৫০০০০ মানুষ হাজির ছিলেন।

সরকারের হাতে প্রচুর নির্যাতন সয়েছেন ইমাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সরকার পতনের আন্দোলনকে অনেকটা নিরুৎসাহিত করে ফতোয়া দিয়েছিলেন, " ইমাম বা রাষ্ট্রনায়ক ফাসিক ফাজির হলেও, তাদের নেতৃত্ব বৈধ।" এ ফতোয়ার জন্য অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন ইমাম। তার বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে এই বলে সমালোচনা করত যে তিনি ফাসিকের নেতৃত্ব মেনে (?) নিয়েছেন। তিনি সেসময়টায় অনেক প্রভাবশালী ছিলেন, তাই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তার দেয়া এ ফতোয়া সমালোচিত হয়েছিল।

আমিও ইমামের এই ফতোয়ার সমর্থক।

সরকারকে এমন অবস্থায় দেখতে চাই না যাতে করে রাষ্ট যন্ত্রটির অস্তিত্ব হয়ে পড়ে বিপন্ন।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29439281 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29439281 2011-08-27 08:57:35
বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে জিওফ বয়কটের বিরক্তিকর বিরূপ মন্তব্য
Click This Link

বাংলাদেশ নিয়ে জিওফ বয়কেটর মন্তব্য শুধু ঔদ্ধত্যপূর্নই নয়, বরং অসত্য। তিনি লিখেছেন, "বহু অর্থ ("জিলিয়ন") ব্যয় করার পরেও বাংলাদেশের খেলার কোন উন্নতিই হয় নি। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পরে এত অর্থ কেউ ব্যয় করেনি, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের একবিন্দু উন্নতি হয় নি। তাদের কিছু ব্যটিং ছিল ভয়ংকর।" অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড এবং হল্যান্ডের খেলার প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, "আয়ারল্যন্ড এবং হল্যান্ডে অনেক কম লোক ক্রিকেট খেলে অথচ তারা সবাইকে বিনোদন দিয়েছে।" তিনি এই দুটি দেশকে সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

আমি ক্রিকেট ফ্যান নই। জীবনের নানা ব্যস্ততায় ক্রিকেটের গুরুত্ব আমার কাছে অনেক নীচের প্রায়োরিটিতে থাকে। অন্যদিকে একই বিষয় আমার কিশোর ছেলের কাছে সত্য নয়। যত কিছুই থাকুক, রাত জেগে ক্রিকেট সে দেখবেই যদিও যে দেশে থাকে সে দেশের মাটিতে ক্রিকেট মোটেই জনপ্রিয় নয়। পাচ দিন ব্যাপ্তীর এই খেলা আমেরিকার মত ব্যস্ত জীবন যাত্রার দেশে জনপ্রিয় হবে কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন। তবুও তার এই অতি আগ্রহের পেছনে জড়িয়ে আছে একটি নাম, "বাংলাদেশ" - তার পূর্ব পুরুষ কিংবা পূর্বনারীর দেশ। মাঝে মাঝে আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে নানা ইতিহাস বলি। এও বলি তৎকালীন কোচ গর্ডন গ্রীনিজ চান নি বাংলাদেশ ২০০০ এ টেস্ট স্ট্যাটাস পাক। যার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন বিসিসিবি চেয়ারম্যান তানভীর মাজহার তান্না গর্ডন গ্রীনিজকে "বেহায়া বেশরম" বলে ডেকেছিলেন। দুই বছর বাংলাদেশে থেকে বাংলা বুঝতে পেরেছিলেন গ্রীনিজ, খুব কষ্টও পেয়েছিলেন। আমেরিকায় মানুষ ভাবাবেগ নয় বরং যুক্তি এবং বাস্তবতা দিয়ে চালিত। তো আমার ছেলেই আমার দেখা একমাত্র মানুষ যে আমার মতই মনে করে গর্ডন গ্রীনিজ ভুল বলেন নি, আরো পথ পারি দিয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া উচিত। কিন্তু সে এও মনে করে, স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। এখন বাংলাদেশ স্ট্যাটাসের সম্পূর্ন কোয়ালিটিতে রয়েছে। পূর্ব পুরুষ/নারীর দেশ বলে নয়, নিজের বিবেচনা বুদ্ধিতেই সে বাংলাদেশের অর্জনের প্রতি হয়েছে শ্রদ্ধাশীল। বিবেচনাবোধ সম্পন্ন মানুষদের অধিকাংশই এরকমটি বিশ্বাস করবেন বলে আমার ধারনা।


জিওফ বয়কট যে বাংলাদেশের প্রতি বিতৃষ্ণ এটা বুঝতে খুব বুদ্ধিমান হওয়া লাগে না। তিনি "জিলিয়ন" শব্দটি লিখেছেন। কি করে জানলেন যে বাংলাদেশ "জিলিয়ন" ডলার খরচ করেছে? কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারলেও তারা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। অথচ তিনি এসব ধর্তব্যেই আনেন নি। তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি কেনিয়ার সমালোচনা করেছেন। অথচ আয়ারল্যান্ড এবং হল্যান্ডের বিষয়ে তিনি রীতিমত উদার।

অবশ্য বাংলাদেশের বিষয়ে তার মন্তব্য বিনা চ্যালেন্জ্ঞে যায় নি। হোয়াটমোর নামে একজন মন্তব্যকারী তার কড়া সমালোচনা করেছেন এই বলে যে, "এই বাংলাদেশ টিমই তো নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ তে গুড়িয়ে দিয়েছে।" তারপর লিখেছেন, "তুমি ক্রিকেটে এমন কেউ নয়। মন্তব্য করার আগে নিজের দিকে তাকাও। তুমি তোমার প্রথম পনের ম্যাচে এভারেজ করেছে ১৫, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চেয়েও খারাপ অবস্থা। ৩৯ বছর বয়েসে তুমি ১৫ তম একদিনের ম্যাচ খেলেছ।
অন্যদিকে বাংলাদেশী স্কোয়াডের এভারেজ বয়স ২৩ মাত্র। কিছু সময় তো বাংলাদেশকে দিতে হবে।"

হোয়াটমোরকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সই সমালোচনাকারীদের মুখ বন্ধ করে দিতে পারবে। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। মুখ বন্ধ হোক সমালোচনাকারীদের। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29356484 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29356484 2011-04-03 23:08:18
বোধের সংকীর্নতা, ড:ইউনুসের উদ্দেশ্যে কিছু কথা
সামহোয়ারের কি বোর্ডে আজ কতদিন পরে হাত দেয়া। আজকাল সামহোয়ারকে নিতান্ত পানসে মনে হয়। পরিচিত ব্লগারদের টিকি তো নেইই, অন্যদিকে মাইনাস বাটনের অভাব বোধ করছি ষোল আনা। লেখা দিলে যদি "মাইনাস"ই না পেলাম - সে লেখা যে মানুষকে আলোড়িত করল কিনা তা কি করে বুঝব। বিশেষত আমার মত অপছন্দের ব্লগারদের তো আর কেউ প্লাস দিয়ে ধন্য করবে না। বরং মাইনাসটা থাকলে বোঝা যায় লেখার কতটুকু ধার।

আজকের এ লেখা অবশ্য উদ্দেশ্য মূলক। নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশই এ লেখার উদ্দেশ্য। মানুষ যে শুধু শরীরে সীমাবদ্ধ তাই নয়, মন মানসিকতাতেও সে বন্দী। এই আমি, যে কিনা ড:ইউনুসের চরম ভক্ত একজন, সেও বিরক্ত হয়ে গিয়েছি ড:ইউনুসের গ্রামীন প্রীতি দেখে। করজোড়ে অনুরোধ করছি: ড:ইউনুস আপনি নিজের সম্মান বজায় রাখুন। সরকারের সাথে দর কষাকষিতে যাবেন না। ছেড়ে দিন গ্রামীন।

সুদ একটি বিধ্বংসী ব্যবস্থা। চক্রবৃদ্ধি সুদের কারনে দরিদ্র হয় আরো দরিদ্র, সর্বস্বান্ত। জুয়ায় মানুষ সবকিছু হারায় একেবারে, আর সুদে হারায় ধীরে ধীরে। এসব কারো অজানা নয়। তারপেরও পৃথিবীর ব্যাংক বীমা সব চলে সুদের ভিত্তিতে। কারো জন্য যা টাকা আশীর্বাদ, অন্যের জন্য সে টাকা রক্তচোষা।

পৃথিবী যেখানে চলে সুদে, সেখানে একজন ব্যক্তিকে সুদের কাঠগড়ায় আমি দাড় করাতে চাই না। তাই প্রধানমন্ত্রী যখন "রক্তচোষা" বলে বিদ্রুপ করেন ড:ইউনুসকে তখন বিরক্তিবোধে তা উড়িয়ে দিতে হয়। বলতে ইচ্ছে হয়, "তো গ্রামীনের এই ব্যবসা রক্তচোষা হলে সরকারের কেন অংশীদারীত্ব সেখানে রয়েছে।"

আমি গ্রামীনের সুদ নিয়ে আপাতত কিছু বলছি না। আওয়ামী লীগ নেতারা যতই বলুক, ড:ইউনুসের প্রতি তাদের শত্রুতার উৎস সুদী কারবার নয়। আদর্শও নয়, কারন ড:ইউমুস আপাদমস্তক একজন ধর্ম নিরপেক্ষ ব্যক্তি। এই দ্বন্দ্ব স্বার্থের।

ড:ইউনুসকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনি নোবেল পেয়ে দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন - এটা একটি দিক। অন্য দিকটি হল তার মানুষের প্রতি তার ভালবাসা। তার লেখা একটি ইংরেজী বই আমার কর্তা পড়ছিলেন এবং আমাকে দুই পাতা পড়ে শুনিয়েছিলেন। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম, মানুষের প্রতি, বিশেষত নারীদের প্রতি তার সহমর্মিতা ও ভালবাসায়। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি এ ভালাবাসা পুরোপুরি খাদমুক্ত।

এই সরকার ড:ইউনুসকে আদালতে পর্যন্ত তলব করেছে। কি কারন? হাস্যকর সব কারন। তিনি নাকি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বলেছেন। অথচ রাজনীতিবিদেরা সংসদ কক্ষে যেসব ভাষা প্রয়োগ করে তাতে কোন দোষ হয় না। এইসব দেখে সাধারন মানুষের কিছু করার নেই: যেন কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেধেছি কুলো।

সরকারের কাছ থেকে এরকম আচরনে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু কষ্ট পাই যখন দেখি ড:ইউনুসের পক্ষ নিয়ে বিদেশী কূটনীতিবিদেরা এমন সব মন্তব্য করে যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়েই টানাটানি পড়ে যায়। ড:ইউনুসের জীবনে পাওয়ার কোন সীমা নেই, তিনি সর্বোচ্চ যে সম্মানসূচক পুরষ্কার তা পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন আপামর জনগনের ভালবাসা। এর পরেও এক গ্রামীনের পদ ধরে রাখার জন্য যে দর কষাকষি চলছে তা রীতিমত বিরক্তিকর। এতে করে ড:ইউনুস কি নিজেকে সরকারের চেলা চামুন্ডাদের পর্যায়ে নিজেকে নামিয়ে আনছেন না?

ড:ইউনুস, প্লীজ আপনি স্বেচ্ছায় সরে দাড়ান। আপনার জীবনে অনেক অর্জন রয়েছে, গ্রামীন সে তুলনায় নস্যিমাত্র। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29354529 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29354529 2011-03-31 21:06:20
কেন এত বেশী আধুনিক বৃটিশ ক্যারিয়ার নারীরা ইসলাম গ্রহন করছেন? - ইভ আহমেদ
লেখিকা ইভ আহমেদ: মুসলিম হিসেবে বড় হয়ে পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করেন

[কিছুদিন আগে ডেইলী মেইলের এই লেখাটি আমাকে ফরোয়ার্ড করা হয়। লেখাটির লেখিকা একজন প্রাক্তন মুসলিম নারী ইভ আহমেদ (উপরের ছবি), যিনি মুসলিম হিসেবে লালিত হয়ে পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন। লেখাটির বাংলা অনুবাদ নীচে দিচ্ছি। অনুবাদের দুর্বলতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।]

Click This Link

======================================

গত উইকএন্ডে টোনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা তার ইসলাম গ্রহনের কথা ঘোষনা দেন। সাংবাদিক লরেল বুথ তার এই বিশ্বাস গ্রহন করাকে ইরানের পবিত্র অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত করেন। আরো অনেক আধুনিক বৃটিশ নারীর মত তিনিও একজন যিনি ইসলাম গ্রহন করলেন। এখানে নীচের লেখায় লেখিকা ইভ আহমেদ, যিনি মুসলিম হিসেবে বড় হয়ে পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করেন, এই ধর্মান্তরের কারন ব্যাখা করছেন।


আমার ছেলেবেলার অধিকাংশ সময় আমি ইসলামকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। লন্ডনে ইংলিশ মা এবং পাকিস্তানী মুসলিম বাবার ঘরে আমার জন্ম। আর আমি বাবার সন্তান হিসেবে প্রশ্নাতীত ভাবে তার বিশ্বাস অনুযায়ী বড় হই।

কিন্তু অন্তরে আমি একে ঘৃনা করতাম। আঠার বছর বয়েসে যেদিন আমি ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে বাড়ী ছাড়লাম, সেদিনই আমি একে পরিত্যাগ করলাম। আমার ধারনা হয়েছিল, মুসলিম মানেই হচ্ছে "না" শব্দটির বার বার পুনরুক্তি।

আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের মেয়েদের জন্য এত বেশী বিষয় নিষিদ্ধ ছিল যা আমার সাধারন ইংলিশ বান্ধবীদের জন্য অনুমিত ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছিল যা কিছু আনন্দজনক তার সবকিছুই আমাদের মত মেয়েদের জন্য হারাম, বা নিষিদ্ধ। খুব বেশী নিয়মকানুন ছিল, যেমন বাশী বাজানো যাবে না, চুইং গাম খাওয়া যাবে না, বাইক চড়া যাবে না, টপ অব দ্য পপস দেখা যাবে না, কোন প্রশ্ন করা যাবে না কিংবা জবাব দেয়া যাবে না। কুকুর রাখা যাবে না যেহেতু তারা অপরিচ্ছন্ন।

এসব নিয়ম কানুন আমার বাবা আমাদের উপরে চাপিয়ে দেন যার ফলে আমি ধারনা করে নেই এসব নিয়ম কানুন ভাল মুসলিম হবার জন্য শর্ত বিশেষ। যার ফলে এটা বিষ্ময়কর নয় যে, যখনই আমি স্বাধীনতা পাবার বয়েসে পৌছাই তখনই আমি এই পুরো প্যাকেজকে পরিত্যাগ করি এবং ইসলামকে আমার পিঠ দেখাই। যত যাই হোক, একজন আধুনিক স্বাধীন বৃটিশ নারী কি করে এ ধরনের জীবনকে মেনে নিতে পারে?

যা হোক, এর বিপরীত দেখা গেল অনেক ক্ষেত্রে, যার শেষ বিষ্ময়কর ধর্মান্তরী হলেন টোনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা লরেল বুথ। আর এদিকে আমার অতীতের সাথে সম্পর্ক চুকিয়ে দেবার পরে আমি আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করছিলাম বৃটিশ নারীদের অধিক মাত্রায় ইসলাম ধর্মের দিকে ঝুকে পরার বিষয়টি। তেতাল্লিশ বছর বয়েসী ব্রডকাস্টার এবং সাংবাদিক বুথ বলেছেন, তিনি যখনই বাড়ীর বাইরে যান তখনই হিজাব পরে মাথা ঢাকেন, প্রতিদিন পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং যখনই পারেন তখনই মসজিদে যান। ছয় সপ্তাহ আগে কুম শহরে ফাতেমা আল মাসুমেহ এর মাজার জিয়ারতের সময়েই তিনি মুসলিম হবার ইচ্ছা পোষন করেন এবং বলেন, "আজ মংগলবার সন্ধ্যা, এবং আমি বসে এই আত্মিক নেশাকে অনুভব করছি আনন্দ ও খুশীর সাথে।" ইরানে তার এই আত্মিক জাগরনের পূর্বে তিনি ইসলামের বিষয়ে সহানুভূতি সম্পন্ন ছিলেন এবং প্যালেস্টাইনে উল্লেখযোগ্য সময় কাজ করেন। "আমি সবসময়েই এ বিষয়টি যে শক্তি ও শান্তি দেয় তাতে মুগ্ধ ছিলাম।"



লরেল বুথ: শেরী ব্লেয়ারের সৎ বোন যিনি ইরানের পবিত্র অভিজ্ঞতা থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন

আমি বিষ্মিত হই কি করে নারীরা এমন একটি ধর্মের দিকে আকৃষ্ট হতে পারে যা আমাকে এমন নীচু অবস্থানে থাকার অনুভূতি দিয়েছিল। কি করে তাদের ইসলাম সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা আমার চেয়ে এত বেশী আলাদা হতে পারে?

সোয়ানসেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেভিন ব্রাইস, যিনি শ্বেতাঙ্গদের ইসলামে ধর্মান্তর নিয়ে গবেষনা করছেন, বলেছেন, "এসব নারীরা এই মিছিলের অংশ মাত্র"। তিনি ব্যাখা করেন, "তারা জীবনের গভীর অর্থের প্রতি আগ্রহী, এবং গভীর ভাবে চিন্তা করে। এদের বাইরে অন্যান্য নারীরা ইসলাম গ্রহন করে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার জন্যে, যেমন মুসলিম স্বামী ও তাদের পরিবারকে খুশী করার জন্যে - মসজিদ-নামাজ-রোজার প্রতি তাই আগ্রহী নয়।"

আমি অনেক ভাবে বাছাই করে কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ পশ্চিমা ধর্মান্তরিত নারীর সাথে কথা বলি আমার ফেলে আসা বিশ্বাসকে পুনরায় পরীক্ষার জন্যে। তেতাল্লিশ বছরের ক্রিস্টিন বেকার, প্রাক্তন এমটিভির উপস্থাপিকা যিনি এক সময়ে উদার পশ্চিমা স্টাইলের জীবন যাপন করেছেন, যে জীবনের জন্য আমি এক সময়ে উন্মূখ হয়েছিলাম - তিনি সেই জীবনকে ফিরিয়ে ইসলামের প্রতি অনুগত হয়েছেন। কারন কি? তার জবাব, আমার এক সময়কার কাঙখিত "যা খুশী" এই উদার সমাজ আজ আমার কাছে লেফাফা দুরস্ত এক শূন্যতা বলে প্রমানিত হয়েছে।



এমটিভির উপস্থাপিকা ক্রিস্টিন বেকার মাইক জগারের সাথে (আশির শেষ দিকে)

ক্রিস্টিনের জীবনের মোড় ঘোরানো মুহুর্ত ছিল যখন সে ১৯৯২ সালে সাবেক পাকিস্তানী মুসলিম ক্রিকেটার ইমরান খানের সাথে ডেটিং করছিল। ইমরান তাকে পাকিস্তানে নিয়ে যায় এবং সে তখন সেখানকার মানুষের উষ্ণতা এবং আত্মিকতায় অভিভূত হয়ে যায়। ক্রিস্টিন বলেন, "যদিও আমাদের সম্পর্ক টেকসই ছিল না, তবুও আমি মুসলিম বিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনা করি এবং পরবর্তীতে ধর্মান্তরিত হই। আমার চাকুরীর কারনে
আমি সারা দুনিয়া ঘুরি এবং রক স্টারদের ইন্টারভিউ নেই, তাতেও আমার অন্তরে শূন্যতা থেকে যায়। এখন, সবশেষে, আমি তৃপ্তি পেয়েছি কারন ইসলাম আমাকে জীবনের অর্থ দান করেছে।"

"পশ্চিমে আমরা সবসময়ই কৃত্রিম কারনে ক্লান্ত হয়ে থাকি, যেমন, কি ড্রেস পড়ব। ইসলামে সবার লক্ষ্য উচু গন্তব্যের দিকে। সবকিছুই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য করা হয়ে থাকে। এটা সম্পূর্ন আলাদা মূল্যবোধের জীবন।"


ক্রিস্টিন বেকার: ইসলাম জীবনকে পবিত্র করেছে

"আমার এই লাইফস্টাইল সত্ত্বেও আমি ভেতরে শূন্যতা অনুভব করেছি এবং অনুভব করতে পেরেছি মুসলিম হওয়াটা কতটুকু স্বাধীনতার বিষয়। শুধু মাত্র একজন বিধাতার অনুসরন জীবনকে পবিত্র করে। তুমি সমস্ত ক্রেজের পিছনে ছুটছ না।"

"আমি জার্মানীতে একটি প্রোটেস্ট্যান্ট পরিবারে বড় হই, যারা খুব ধার্মিক ছিল না। আমি ড্রিংক করতাম এবং পার্টিতে যেতাম, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমাদেরকে ভাল হয়ে চলতে হবে কারন পরকাল রয়েছে। আমরা আমাদের নিজেদের কর্মের জন্য দায়ী।"

ভাল সংখ্যক নারীর ক্ষেত্রে, ইসলামের সাথে তাদের প্রথম পরিচয় মুসলিম বয়ফ্রেন্ডদের সাথে ডেটিং এর মাধ্যমে। এসেক্সের ডেগেনহামের ৩১ বছর বয়েসী লিন আলী স্বীকার করেছেন যে তিনি ছিলেন টিপিক্যাল পার্টি লাভিং টিন এজার। তিনি বলেন, "আমি বাইরে যেতাম এবং বন্ধুদের সাথে মাতাল হতাম, শরীর প্রকাশকারী কাপড় পরতাম এবং ছেলেদের সাথে ডেট করতাম। আমি পার্ট টাইম কাজ করতাম তবে মূলত ক্লাবেই কাটাতাম। ক্রীষ্টান হিসেবে আমি কিছুটা প্রার্থনা করতাম তবে আমি গডকে একজন ডাক্তার হিসেবেই নিয়েছিলাম আমার জীবনের সমস্যাগুলো ঠিক করার জন্যে। কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি জবাব দিতাম আমি ফাস্ট লাইফ এনজয় করি।"

কিন্তু যখন তার বয়ফ্রেন্ড জাহিদের সাথে ইউনিভার্সিটিতে পরিচয় হল তখন নাটকীয় ঘটনা ঘটল। সে বলছিল, "জাহিদের বোন আমাকে ইসলাম সম্পর্কে ধারনা দিল এবং তা যেন আমার জীবনের সাথে খাপে খাপে মিলে গেল। আমি জানি, সব কিছুর উপরে রয়েছে আমার নিজের অনুসন্ধিৎসা। আমি জীবনে যা খুজছিলাম তা হার্ড ড্রিংকিং পার্টি স্টাইল দিয়ে পূরন হচ্ছিল না।"

লিন ১৯ বছর বয়েসে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। "সেদিন থেকে আমি হিজাব পরা শুরু করি।" সে ব্যাখা করছিল, "এবং এখন আমি সাধারনের মাঝে কখনও চুল দেখাই না। বাসায় আমার স্বামীর সামনে সাধারন ওয়েস্টার্ন পোশাকে থাকলেও বাইরে এভাবে যাই না।"


লিন আলী: দিনে পাচ বার নামাজে সুখী

সাম্প্রতিক কালের একটি ইয়োগোভ সার্ভেতে বলা হয়েছে অর্ধেকেরও বেশী বৃটিশ নাগরিক ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনায় বিশ্বাসী - ইসলাম চরমপন্থা, নারী নির্যাতন এবং লিংগ বৈষম্যকে উৎসাহিত করে। একজন জিজ্ঞেস করতে পারেন কি কারনে এরা নিজেদের সেদিকে নিয়ে গিয়েছেন?

স্ট্যাটিসটিকস এটাও বলে যে মুসলিম ধর্মান্তর শুধু বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা নয়, বরং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যত যাই হোক, ইসলাম পৃথিবীর সবচাইতে ক্রমবর্ধমান ধর্ম এবং শ্বেতাঙ্গরাই এই গল্পের গুরুত্ববহ বাহক।
কেভিন ব্রাইস বলেন, "এভিডেন্স বলছে পশ্চিমে নারী কনভার্ট পুরুষ কনভার্টের তুলনায় দ্বিগুন।"

আরো বলা চলে, এই নারী ধর্মান্তরগন প্রায়শই তাদের বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করতে আগ্রহী - বিশেষত হিজাবে। অন্যদিকে মুসলিম হিসেবে বেড়ে ওঠা নারীরা বরং হিজাবকে অপছন্দ করে। "সম্ভবত এভাবে নিজেদের বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করার কারনে এরা বেশী দৃষ্টি আকর্ষন করে থাকেন এবং শ্বেতাঙ্গ মুসলিমরা জন্ম মুসলিমদের চেয়ে বেশী বৈষম্য রিপোর্ট করেন।" ব্রাইস বলেন, "যেটা ক্রিস্টিন বেকারের ক্ষেত্রে হয়েছে। বেকার বলেছিলেন, "জার্মানীতে রয়েছে ইসলামোফোবিয়া। আমি ধর্মান্তর হবার পরে আমার চাকুরী হারাই। আমার বিরুদ্ধে প্রেস প্রচারনা চালানো হয়েছে এ ধারনা দিয়ে যে সমস্ত মুসলিমরা টেরোরিস্টদের সমর্থন করে। আমি নিন্দিত হই। এখন আমি এনবিসি ইউরোপের উপস্থাপিকা।"

"আমি নিজেকে একজন ইউরোপিয়ান মুসলিম মনে করি যারা জন্ম মুসলিমদের চেয়ে আলাদা। আমি একজন মরক্কানকে বিয়ে করি। কিন্তু এ বিয়ে টেকেনি কারন সে আমার উপর অনেক রেসট্রিকশন চাপায়। সে তো এভাবেই বড় হয়েছে। একজন ইউরোপিয়ান মুসলিম হিসেবে আমি প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন করি, কোনকিছু অন্ধ ভাবে মেনে নেই না।"

"কিন্তু আমি মুসলিম কমিউনিটির উষ্ণতা এবং আতিথেয়তাকে ভালবাসি। মুসলিমদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে ভাল জায়গা হল লন্ডন, যেখানে চমৎকার ইসলামিক কালচার রয়েছে এবং আমি এ নিয়ে সুখী। ""

"কেউ কেউ নিজেকে কমিউনিটির সাথে সংযুক্তির জন্য আকৃষ্ট হয়ে থাকে - যে মূল্যবোধ পাশ্চাত্যে ক্ষয়ে গিয়েছে।" ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের সিনিয়র লেকচারার হাইফা জাওয়াদ বলেন। যিনি শ্বেতাঙ্গ ধর্মান্তরের উপরে পড়াশোনা করছেন।

"আজকের ঘুনে ধরা সমাজে জীবনের সব ক্ষেত্র থেকে নারী এবং বৃদ্ধদের প্রতি প্রথাগত শ্রদ্ধা কমে যাওয়ায় অনেকে দুঃখবোধ করেন। এই মূল্যবোধগুলো কোরানে প্রতিফলিত হয়েছে যা মুসলিমদের মেনে চলতে হয়।" ব্রাইস আরো বলেন।

এই মূল্যবোধই কর্নওয়ালের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়েসী ইয়োগা শিক্ষিকা ক্যামিলা লেল্যান্ডকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেছে। দুই বছর বয়েসী কন্যা ইনায়ার সিঙ্গল মাদার ক্যামিলা নারীবাদী এবং বুদ্ধিবাদী মনোভাবের কারনে মধ্য বিশের দিকে ইসলাম গ্রহন করেন।


ক্যামিলা লেল্যান্ড, ৩২ বছর বয়েসী: ওয়েস্টার্ন পোশাকে

তিনি বলেন,"আমি জানি নারীবাদী এবং ইসলাম - এ দুটো শব্দের একত্র উচ্চারনে মানুষ বিষ্মিত হবে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে ইসলাম নারীকে সমতা দিয়ে থাকে এবং সেটা যে সময়ে এই ধর্ম জন্ম নেয় সেই সময়কার পুরুষতান্ত্রিক ধারনার বিপরীত।"

"মানুষ ভুল করে সংস্কৃতিকে ধর্মের সাথে গুলিয়ে। হ্যা, অনেক মুসলিম সমাজে নারীদের নিজস্ব কোন স্বাধীনতা নেই, কিন্তু আমি যখন বড় হই তখন পশ্চিমা সমাজ দিয়ে আরো নির্যাতিত বোধ করি।"

তিনি বলেন, "নারীদের উপর অব্যহত চাপ রয়েছে ড্রিংক এবং সেক্সের ক্ষেত্রে পুরুষের মত আচরন করার। এর সত্যিকার কোন মানে নেই। ইসলাম অনুযায়ী, তুমি যদি কোন সম্পর্ক শুরু কর তবে তা হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি। "


ক্যামিলা লেল্যান্ড, ৩২ বছর বয়েসী: মুসলিম পোশাকে যিনি ইসলাম গ্রহন করেন নারীবাদী ও বুদ্ধিবাদী মনোভাবের কারনে

সাউথহ্যাম্পটনে বড় হওয়া ক্যামিলার বাবা ছিলেন সাউথ হ্যাম্পটন ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের পরিচালক এবং মা ছিলেন হোম ইকোনোমিকসের শিক্ষিকা। ক্যামিলার ইসলাম নিয়ে আগ্রহ শুরু হয় স্কুল থেকে। সে পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডল ইস্ট স্টাডিসের উপরে মাস্টার্স ডিগ্রি নেয়। কিন্তু সিরিয়াতে কাজ করার সময়ে সে আত্মিক অনুপ্রেরনা পায়। কোরানের অধ্যয়নের পরে সে ইসলাম গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়। তার এ সিদ্ধান্ত বন্ধু ও পরিচিত মহলে বাধাপ্রাপ্ত হয়। "মানুষ এটা ভেবে অবাক হয় একজন শিক্ষিত মিডল ক্লাস শ্বেতাঙ্গ নারী কি করে ইসলাম পছন্দ করতে পারে।" ক্যামিলা বলে।

যদিও ক্যামিলা নিজের বিশ্বাসে অটল, সে আর জনসমক্ষে হিজাব পরে না। কিন্তু অন্য কয়েকজন এরকম নারী বলেছে হিজাবকে তারা স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে দেখে থাকে।

লিন আলী মনে করেন সেই স্মরনীয় রাতের কথা, "আমি আমার বন্ধুর ২১তম জন্মদিনে একটি বারে যাই। আমি শালীন পোশাকে হিজাব পরা অবস্থায় ছিলাম। দেখতে পেলাম অন্যরা কি করে নিজেদের প্রদর্শনে ব্যস্ত। তারা ছিল মাতাল, প্রলাপকারী এবং সুড়সুড়ি মার্কা নাচ নিয়ে ব্যস্ত। এই প্রথম আমি আমার আগের জীবনকে একজন বহিরাগতের দৃষ্টিতে দেখলাম এবং বুঝলাম আমার আগের জীবনে আমার আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি কৃতজ্ঞ যে আমি মুক্তি খুজে পেয়েছি। এই তো সত্যিকারের আমি, যে পাচবার নামাজ এবং স্থানীয় মসজিদের ক্লাস নিয়ে সুখী। আমি আর এই ভেঙ্গে যাওয়া সমাজের দাসী নই।"

ক্রিস্টিন বেকার, যে কিনা নিজের আত্মিক যাত্রা নিয়ে "এমটিভি থেকে মক্কায় ডাক" নামে একটি বই লিখেছেন, বিশ্বাস করেন যে এই আধুনিক স্বাধীন মুসলিম নারীরাই একযোগে পৃথিবীকে দেখাতে পারবেন যে, আমি (ইভ আহমেদ) যে নারী অধিকার হরনকারী ইসলামী দুনিয়ার বড় হয়েছি সেটা প্রকৃত পৃথিবী নয়।

তিনি (ক্রিস্টিন) বলেন, "মুসলিম সমাজে জন্ম নেয়া নারীরা হতাশা গ্রস্ত হয়ে যায় এবং এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠে। কিন্তু গভীরে গেলে বোঝা যায় যে এটা বিশ্বাস নয়, বরং সংস্কৃতির প্রতি অনাস্থা।" .. "কিছু নিয়ম যেমন, যেমন নিজেদের মধ্যে বিয়ে করা কিংবা মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাবে তাই নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব হীন ভাবা - এগুলো কোরানে কোথায় রয়েছে। না, সেরকম কিছু নেই।".... "প্রচুর মুসলিম এসব বাজে ভার্সনকে পরিত্যাগ করে আত্মিক এবং বুদ্ধিবাদী এপ্রোচ নিয়েছে যা পূর্বেকার সময়ের অবস্থার বিপরীত। এভাবেই, পৃথিবীকে ইসলামের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে, আমি আমার জীবন কাটাতে চাই।"

যদিও আমি তাদের আবেগকে লালন করিনা, তবুও আমি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই সেসব নারীদের যাদের ইন্টারভিউ আমি এ লেখায় নিয়েছি। এরা সবাই বুদ্ধিদীপ্ত ও শিক্ষিত, এবং প্রচুর চিন্তা ভাবনা করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন - এখনও তাদের ধর্মকে ভালবাসেন। তাদের প্রতি শুভ কামনা। লরেল বুথের প্রতিও শুভ কামনা। কিন্তু একটি শব্দ দিয়ে তাদের এবং আমার অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য করা যায় - "পছন্দ"।

যদি আমি নিয়ন্ত্রিত হবার বদলে স্বনিয়ন্ত্রিত হতাম, কুক্ষিগত হবার বদলে আত্ম ক্ষমতায়নের অনুভূতি সম্পন্ন হতাম - হয়তবা আজও আমি একজন প্রাকটিসিং মুসলিম থাকতাম। সেই সাথে বাবার ধর্মকে পরিত্যাগ করার দংশন থেকে মুক্তি পেতাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29270477 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29270477 2010-11-11 21:25:33
দুঃখ বিলাস : কাটাকুটি ব্লগ
আজকেও আমার খুব মন খারাপ। আমার মেয়ের একমাত্র পোষা প্রানীর অকাল প্রয়ান হয়েছে। চোখের জল নিয়ে এতদিনের আদরের প্রানীকে কবর দিয়ে এসে কিছুক্ষন পর পর সে তারস্বরে কাদছে। তার দুঃখ যেন আমার মধ্যেও সংক্রামিত হয়েছে। আমিও ভুলতে পারছি না এ পরিবারের একজন সদ্য মৃত অমানুষ সদস্যকে। হোক না অমানুষ, কাছের জন তো বটে।

বড় বেলায় আর খাতা নিয়ে বসা হয় না। আম্মার নির্দেশ শোনার বাধ্য বাধকতাও নেই। কিন্তু মন খারাপের সিকুয়েন্সটা বাসি হয় নি। তাই ব্লগে এসে কাটাকুটি করছি - একবার একটা পোস্ট লিখতে শুরু করে আবার সেটা ডিলিট করে দিচ্ছি। চক্রের মত চলছে।

নাহ, কিছুতেই মন ভাল হচ্ছে না।

একবার ভাবলাম গান শোনার চেষ্টা করে দেখি ভুলে থাকতে পারি কিনা। ছোট বেলায় অনেক বাংলা সিনেমা দেখতাম। সেখানে নায়ক দুঃখ ভুলতে ইয়া বড় পেট মোটা মদের বোতল নিয়ে ঢুলতে ঢুলতে গান গাইত। এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি কেন একা বয়ে বয়ে বেড়াও। এভাবে নাকি দুঃখ ভুলে থাকা যায়।

কিন্তু তা কি উচিত হবে। আমাদের সংসারে এতদিন যে আমাদের সাথে সুখ দুঃখ ভাগ করে নিল, তার মৃত্যুতে তো দুঃখ বোধ হওয়াই স্বাভাবিক। আর সে দুঃখকে বয়ে বেড়ানোই তো আমার জন্য উচিত। তার স্মৃতি অম্লান করে ধরে রাখার প্রয়াসে অভাব অনুভবের দুঃখটুকু হৃদয়ে থাক ।

থাক, মন না হয় বিষন্নই থাকুক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29260433 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29260433 2010-10-24 12:43:16
ধর্ম নিরপেক্ষতা ও আমেরিকা বোরখা সংক্রান্ত পোস্টটিতে প্রসংগ ক্রমে আমেরিকায় ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে কিছুটা কথা উঠেছিল, আলোচনা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এ পোস্টে এ নিয়ে আরো কয়েকটি লাইন লিখছি।


আমেরিকা কি একটি সেক্যুলার দেশ?

অবশ্যই। আমেরিকার সংবিধানের প্রথম দশটি সংশোধনী "বিল অব রাইটস" নামে পরিচিত, যার প্রথমটিই হচ্ছে ধর্ম নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত।

প্রথম সংশোধনী:

কংগ্রেস কোন আইন করবে না যা কোন ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করে, কিংবা কোন ধর্মের স্বাধীনভাবে পালনকে বাধা দেবে।

প্রথম অংশটি হল "এস্টাবলিশমেন্ট ক্লস", যার ফলে কংগ্রেস কোন জাতীয় ধর্ম মনোনয়ন করতে পারবে না কিংবা কোন ধর্মকে অন্য ধর্মের উপর প্রাধান্য দিতে পারবে না।

সোজা কথা, রাষ্ট্র ধর্ম বলে কোন কিছু থাকতে পারবে না।

দ্বিতীয় অংশটি হল: "ফ্রি এক্সারসাইজ ক্লস"। যার ফলে ব্যক্তি তার নিজের ধর্ম পালনে পুরো স্বাধীন।

একদিকে রাষ্ট্র কোন বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাত দেখাবে না, অন্যদিকে রাষ্ট্র কোন ব্যক্তির ধর্ম পালনকে বাধা দেবে না।

এই দুইয়ে মিলে প্রথম সংশোধনীর ধর্ম সম্পর্কিত অংশটুকু [১]।


উল্লেখ্য এই "ফ্রী এক্সারসাইজ ক্লস" আছে বলে বিশ্বখ্যাত ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান আইকিয়া তাদের নির্ধারিত ইউনিফর্মে মুসলিম মেয়েদের জন্য হিজাবের অনুমোদন রেখেছে। এই হিজাবের কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল "দ্য হিজাব শপ ডট কম" নামে একটি প্রতিষ্ঠান। আইকিয়া হিজাব নামে পরিচিত স্কার্ফের ছবি নীচে দেখুন [২]।



প্রথম সংশোধনীর প্রেক্ষাপট: যেভাবে হল প্রথম সংশোধনী

১৮০২ সালে থমাস জেফারসন (সংবিধান প্রনেতাদের একজন এবং আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট) ড্যানবারি বাপটিস্টদের কাছে একটি চিঠি লিখেন যাতে তিনি বলেন যে, বাপটিস্টদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তাদের কোন ভয় নেই। বাপটিস্টরা তখন নির্যাতিত হচ্ছিল কারন কানেক্টিকাটের সংবিধান তাদের সুরক্ষা দিচ্ছিল না। এই প্রেক্ষাপটেই সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে বলা হয়, সবাই নিজেদের ধর্ম পালনে স্বাধীন এবং রাষ্ট্র কোন বিশেষ ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করবে না।

জেফারসন তার চিঠিতে লেখেন:

"তোমাদের মত আমিও বিশ্বাস করি ধর্ম শুধু মানুষ ও তার স্রষ্টার মধ্য সম্পর্কিত একটি বিষয়। মানুষ তার বিশ্বাস ও প্রার্থনার জন্য শুধু তার স্রষ্টার কাছেই দায়বদ্ধ। আইনের আওতায় শুধু মানুষের কর্মকেই ফেলা যায়, বিশ্বাসকে নয়। ......... যার ফলে সংবিধানের এই "কোন আইন হতে পারবে না জাতীয় ধর্ম মনোনয়ন করে কিংবা কোন ধর্মকে অন্য ধর্মের উপর প্রাধান্য দিয়ে" বাক্যটি চার্চ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদকারী দেয়াল হয়ে থাকল।"

এই চিঠিটি জেফারসন পাঠানোর আগে এটর্নি জেনারেলকে দিয়ে রিভিউ করিয়ে নেন [৩]।


আমেরিকার জনগন ও রাজনীতিবিদদের অভিমত:


এখন দেখা যাক এ বিষয়ে আমেরিকানরা কি ভাবেন।

একটি জরিপে দেখা গিয়েছে শতকরা ৫৫ ভাগ আমেরিকান মনে করেন সংবিধান খ্রীষ্টান জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এ বিষয়ে সিনেটর জন ম্যাককেইন কে জিজ্ঞেস করা হল, তিনি কি ভাবেন? তিনি জবাব দিলেন:

আমি সম্ভবত "হ্যা"ই বলব যে সংবিধান আমেরিকাকে একটি ক্রীশ্চান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু তা আমি ব্যপক অর্থে বলি। যে নারী স্বর্ন দুয়ারের সামনে বাতি জ্বেলে আছে, সে এটা বলে না, "আমি শুধু ক্রীষ্টানদের স্বাগতম জানাই।" আমরা স্বাগতম জানাই গরীবদের, ক্লান্তদের এবং গন মানুষকে। কিন্তু তারা যখন আসে তখন জানে তারা এমন একটি জাতির মাঝে যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্রীশ্চান মূল্যবোধ দিয়ে।[৪]


এ বিষয়ে সিনেটর হিলারী ক্লিনটন বলেন:

আমাদের এই জাতি বিশ্বাসীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি জাতি। আমাদের ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্ববহ সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলন, যেমন দাসপ্রথার উচ্ছেদ, সমস্ত আমেরিকানদের জন্য নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা, এসব বিশ্বাসীদের সাহায্যে সংঘটিত হয়েছে। [৫]

এ বিষয়ে একজন ইতিহাসবিদ ম্যাক ক্লে বলেন:
"প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্য এটা ছিল না যে প্রশাসনকে ধর্ম থেকে মুক্ত করবে। বরং এটা ছিল ধর্মীয় গোত্রের সংঘাত থেকে মুক্তি এবং চার্চের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমিয়ে দেবার উপায়।"[৬]

অন্যান্য রাষ্ট্র:

অন্যদিকে ইংল্যান্ডে রয়েছে রাষ্ট্র ধর্ম। ইউরোপের অনেক দেশেই ক্রিশ্চিয়ানিসমকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে তবে প্রায়গুলোই বিভিন্ন শাখাকে করে থাকে। যেমন ডেনমার্ক করেছে লুথারিয়ান বিশ্বাসকে।

মুসলিম রাষ্ট্রগুলো সবগুলোতেই প্রায় রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলাম রয়েছে। ব্যতিক্রম হল তুরষ্ক এবং আলবেনিয়া। [৭]

এখন সম্ভবত বাংলাদেশ এই কাতারে সামিল হবে বা হয়েছে।


ধর্ম নিরপেক্ষতা বিষয়ে কয়েকটি রিলেটেড পোস্ট:

ধর্মনিরপেক্ষতা : সন্ধ্যাবাতি/আস্তমেয়ে
ধর্ম ও রাষ্ট্র : নূরুজ্জামান মানিক
সেক্যুলারিজম ও তুরষ্ক : ত্রিভুজ
সেক্যুলারিজম বিপ্লবে বাংলাদেশ : বাংগাল


১।http://en.wikipedia.org/wiki/First_Amendment_to_the_United_States_Constitution
২। Click This Link
৩।http://en.wikipedia.org/wiki/Separation_of_church_and_state_in_the_United_States
Click This Link
৪।http://atheism.about.com/od/johnmccainonreligion/a/McCainSecular.htm
৫।http://atheism.about.com/od/hillaryclintonreligion/a/PeopleFaith.htm ৬। Click This Link
৭। http://en.wikipedia.org/wiki/State_religion]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29254320 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29254320 2010-10-13 19:47:11
বোরখা ও হাইকোর্টের রায়
ডেইলী স্টার থেকে তুলে দিচ্ছি:
"The court also directed the authorities to immediately issue a circular asking all educational institutions not to compel students to wear religious clothes"

হাইকোর্ট তার এই রায়ে "ধর্ম নিরপেক্ষতা"কে মূলনীতি হিসেবে দেখিয়েছে। হাইকোর্টের এই অবস্থান সঠিক। ধর্ম নিরপেক্ষতা হচ্ছে ধর্মকে প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক করে ব্যক্তির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

হাইকোর্টের এই রায় ধর্মনিরপেক্ষতার প্রথম ধাপ। এর চূড়ান্ত রূপ হল পাবলিক প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় চিহ্ন যুক্ত যে কোন পোশাক বা আইকন নিষিদ্ধ করা। যা তুরষ্ক ও ফ্রান্সে হয়েছে। যদিও তুরষ্কের জনগন ইতিমধ্যেই ধর্ম নিরপেক্ষতা থেকে পিছিয়ে আসছে। ফলে তুরষ্কে ধর্ম নিরপেক্ষতার মৃত্যু সাময়িক বিষয় মাত্র। অন্যদিকে সমাজবাদী রাষ্ট্রগুলোতে ধর্ম একেবারেই নিরুৎসাহিত যার প্রকাশ দেখা যায় পল পটের কম্বোডিয়ায় যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের রোব নাকি অনেক সময়েই খুলতে বাধ্য করা হয়েছে।

বোরখার বা ধর্মীয় পোশাকের প্রাতিষ্ঠানিকীকরন সেসব দেশে সম্ভব যেসব দেশে পুরো মাত্রায় ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। যেমন, আমেরিকা বা বৃটেন। আমেরিকার ইসলামিক স্কুলে ইউনিফর্ম হিসেবে জিলবাব দেখা যায়। বৃটেনের তিনটি স্কুল নাকি অনেক এগিয়ে গিয়ে বোরখাসহ মুখ ঢাকা নিকাবকে পর্যন্ত ইউনিফর্ম করেছে যদিও এ নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে। টেলিগ্রাফ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে দাবী করেছে এটা মগজ ধোলাই করে দিতে পারে। ছোট মেয়েদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা থাকার মানসিকতা তৈরী করে দিতে পারে। Click This Link স্কুল তিনটি হল পূর্ব লন্ডন, ল্যান্কাস্টার এবং লেইসেস্টারে। মজার বিষয় হল যারা সমালোচনা করছেন তারা কেউ এটা দাবী করছেন না স্কুল কর্তৃপক্ষের হাত থেকে এসব অধিকার কেড়ে নেয়া হোক। তারা দাবী করছেন পুরোদস্তুর বোরখা নেকাব সহ থাকলে এসব স্কুল থেকে সরকারী ফান্ড প্রত্যাহার করা হোক। বলা বাহুল্য এসব স্কুল সরকারী ফান্ড পেয়ে থাকে। প্রশ্নটা শুধু সরকারী ফান্ডিং নিয়ে, তাও আবার নিকাব ইস্যুতে। সাধারন হেডস্কার্ফ ইস্যুতে নয়। সাধারন হেডস্কার্ফ সব মহলই গ্রহন করেছে।

নেট একটু গন্ডগোল করছে বলে ছবি দিতে পারছি না। থাকলে পশ্চিমের বহু ইসলামিক স্কুল যে ধর্মীয় পোশাক ইউনিফর্ম হিসেবে নিয়েছে তার কয়েকটি ছবি দিতে পারতাম। এখন যে কয়েকটি পারলাম সেগুলো দিচ্ছি। পরে নেট ঠিক হলে আরো বহু ছবি দেব আশা করি।




ইসলামিক স্কুলটি আমেরিকাতে যেখানে হেডস্কার্ফ ইউনিফর্ম। বলতে গেলে কেজি ক্লাস থেকেই এসব স্কুলে হেডস্কার্ফ ইউনিফর্ম। একদম ছোট ক্লাস থেকেই মেয়েরা হেডস্কার্ফকে তাদের প্রাত্যাহিক জীবনের অংশ হিসেবে নিয়েছে।

http://muslimcenter.org/images.asp



এটি সিংগাপুর ইসলামিক স্কুলের।




এটি ইরিত্রিয়ার ইসলামিক স্কুল।
Click This Link


এখানেই ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার পার্থক্য নিহিত।

এই প্রথম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম যে বাংলাদেশ/তুরষ্কের মত কোন ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বাস করছি না। যার ফলে এখানকার স্কুল গুলোতে ধর্মীয় পোশাক ইউনিফর্ম হতে পারে। যাকে বাকা চোখে দেখাটাই বরং অন্যায়। ধর্মীয় স্বাধীনতা অনেক বেশী স্বস্তিদায়ক।

সবাইকে ধন্যবাদ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29249618 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29249618 2010-10-05 01:28:34
ইবন রুশদ - ৩

রেনেসা শিল্পীদের তুলিতে ইবনে রুশদ:

গত পর্বে ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স বিষয়ে ইবনে রুশদের অসামান্য দখল নিয়ে আলোচনা করেছি। এ পর্বে ব্যাখা করছি ইবনে রুশদ কি করে রেনেসা চিত্রকরদের দ্বারা অমর হয়ে রয়েছেন।

উপরের বিখ্যাত ছবিটি দেখছেন তার নাম "দ্য স্কুল অব এথেন্স"। রেনেসার অগ্রদূত শিল্পী রাফায়েলের অমর সৃষ্টি। শিল্পী রাফায়েল মাত্র ২৭ বছর বয়েসে এ ছবি আকে। এ ছবিতে তিনি সেই সব জ্ঞানী গুনীদের ঠাই দিয়েছেন যারা গ্রীক চিন্তাধারাকে যুগের পর যুগ ধরে প্রবাহিত করার মাধ্যমে ইউরোপে রেনেসার স্ফুরন ঘটিয়েছেন। ১৫০৯ ক্রীষ্টাব্দে পোপ জুলিয়াসের লাইব্রেরীর জন্যে আকা এই বিখ্যাত ছবিটি এখনও ঝুলছে ভ্যাটিকানের প্রাসাদে। এই ছবিতে যে দেয়াল গুলো রয়েছে তা জ্ঞানের শক্তিকে প্রকাশ করছে। অন্যদিকে একটার পরে একটা ক্রমহ্রাসমান যে অর্ধবৃত্তগুলো রয়েছে সেগুলো প্রথমে ঈশ্বরের জ্ঞান এবং সেখান থেকে উদ্ভূত দার্শনিকদের জ্ঞানকে প্রকাশ করছে।

লিওনার্ডো দ্য ভিনসির "মোনালিসা"র মত এ চিত্রকর্মটিও রহস্যে ঘেরা। ছবির সবচেয়ে মাঝের দু'জন প্লেটো এবং তার ছাত্র এরিস্টটল, কেননা এরাই গ্রীক চিন্তাধারার মূল ব্যক্তিত্ব। প্লেটো কিছুটা বৃদ্ধ যা তাকে জ্ঞানী হিসেবে প্রকাশ করছে। অন্যদিকে এরিস্টটল তারুন্য ও প্রান প্রাচুর্যে ভরপুর। ছবিটির মূল রহস্য হল শিল্পী রাফায়েল তার ছবির গ্রীক দার্শনিকদের নাম প্রকাশ করে যান নি। শিল্পী রাফায়েল নিজের মত করে গ্রীক দার্শনিকদের একেছেন, যার ফলে পরবর্তীকালে এই দার্শনিকদের পরিচয় উদ্ধার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়ায়। উদাহরন হিসেবে হাইপেশিয়ার কথা বলা যেতে পারে। এই ছবির একজন দার্শনিক হলেন আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত গনিতবিদ হাইপেশিয়া যিনি তখনকার আলেকজান্দ্রিয়াতে প্লেটোর দর্শন পড়াতেন। সেসময়টিতে প্লেটোর দর্শনকে "মূর্তিপুজারীদের চিন্তাধারা" হিসেবে আখ্যায়িত করে চার্চ এই দর্শনের বিরুদ্ধে আবস্থান নেয়। যার ফলে হাইপেশিয়া আলেকজান্দ্রিয়ার রাস্তায় আক্রান্ত হন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। রাফায়েল ভয় পান চার্চ হয়ত এ ছবিতে হাইপেশিয়ার অন্তর্ভূক্তির প্রতিবাদ করবে। "দ্য স্কুল অব এথেন্স" কে চার্চের কাছে গ্রহনযোগ্য করার জন্যে রাফায়েল তাই হাইপেশিয়াকে আকেন ফ্রেনসেসকো মারিয়ার ছদ্মবেশে। আর প্লেটোকে তিনি একেছেন নিজের শিক্ষক লিওনার্ডো দ্য ভিনসির বেশে। পুরো ছবিটি স্বর্গীয় ভাবধারায় আবদ্ধ যদিও নানা গ্রীক দেব দেবীর উপস্থিতি রয়েছে যা চার্চের শিক্ষার বিপরীত। এই ছবির মাধ্যমে রাফায়েল চার্চকে গোড়ামী মুক্ত হয়ে জ্ঞানকে সবার উপরে স্থান দেবার ইংগিত দিয়েছেন। এটাই ছিল গ্রীক গডেস দিয়ে "দ্য স্কুল অব এথেন্স" সাজাবার উদ্দেশ্য।

এই ছবির কোথায় রয়েছেন ইবনে রুশদ? দেখুন খুজে। পেয়েছেন কি? হ্যা মোটাসোটা পীথাগোরাসের পাশে রয়েছেন ইবনে রুশদ।



ইবনে রুশদকে কেন এভাবে একেছেন রাফায়েল তা জানা নেই। তবে ইবনে রুশদ যেহেতু রেনেসার ধ্বনি পৌছে দিয়েছেন, সেজন্যে তিনি স্থান পেয়েছেন ছবিটিতে। রেনেসা শব্দটির অর্থ পুনর্জাগরন, যার মাধ্যমে প্রাচীন গ্রীক সাহিত্যের অন্যতম দিক নির্দেশক যুক্তিবাদ এবং র‌্যাশনালিজম আবার ফিরে আসে চার্চ নিয়ন্ত্রিত ইউরোপে। পুরো ষোল শতক ধরে ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস এবং আরো অনেক স্কুলে ইবনে রুশদের ব্যাখায়িত এরিস্টটল ছিল পাঠ্যপুস্তক হিসেবে স্বীকৃত। সে কারনেই ইবনে রুশদ পশ্চিমে রেনেসার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত একজন হিসেবে সম্পৃক্ত ও পরিচিত হয়েছেন।

এরিস্টটলের ব্যাখায় ইবনে রুশদ কেন অনন্য? এর মূল কারন, জটিল এরিস্টটলিয়ানকে ইবনে রুশদই সঠিক ভাবে সহজ বোধ্য ভাষায় ব্যাখা করতে সমর্থ হন। ইবনে রুশদ তার ব্যাখায় নিজের মতামত চাপিয়ে দেন নি, বরং প্রকৃত এরিস্টটলকে তুলে ধরেছেন তার বইতে। সেখানেই ইবনে রুশদের স্বকীয়তা।

ইবনে রুশদ ছিলেন জ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক। তার জীবন ও কর্ম ছিল জ্ঞানের জন্যেই উৎসর্গীকৃত। একবার ধর্মান্ধদের হাতে কর্ডোভার লাইব্রেরী পুড়ে গেলে ইবনে রুশদ মন্তব্য করেন, "এই যাজকদের স্বৈরতার থেকে বড় স্বৈরিতা আর কিছু নেই।" ইবনে রুশদ দ্ব্যর্থ ভাষায় বলে গিয়েছেন, "যুক্তি এবং বিশ্বাস পরষ্পরের পরিপূরক, ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই।"

ইবনে রুশদকে নিয়ে রেনেসার শিল্পীদের আরো কিছু চিত্রকর্ম:

চিত্রকর্ম - ১:




উপরের ছবিটি আকেন রেনেসার সূতিকাগার ইতালীর ফ্লোরেন্সের চিত্রশিল্পী আন্দ্রে বনিটো ১৪ শত শতকে। ছবির একপাশের অর্ধ বৃত্ত প্রাচীন গ্রীক দর্শন এবং অন্য পাশের অর্ধবৃত্ত আধুনিক দর্শনকে প্রকাশ করছে। আর মাঝে চিন্তিত ইবনে রুশদ এই দুইয়ের সেতুবন্ধন।

চিত্রকর্ম - ২:



উপরের ছবিটি আকেন গিওভানি ডি পাওলো। ছবিতে ডায়াসে রয়েছেন থমাস একুইনাস - একজন প্রখ্যাত এভোরিস্ট বা ইবনে রুশদ বিশেষজ্ঞ। মাটিতে শুয়ে রয়েছেন ইবনে রুশদ। ছবিতে একুইনাসকে ইবনে রুশদকে সাধারনের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটির প্রেক্ষাপট ১২৫৫ সালে যখন ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসে থমাস একুইনাসকে ডাকা হয় ইবনে রুশদের অনুসারীদের সাথে আত্মার প্রকৃতি নিয়ে বিতর্কের জন্য।

চিত্রকর্ম - ৩:



উপরের ছবিটিও একজন রেনেসা শিল্পী কর্তৃক আকা। পরফেরী নামক এক দার্শনিক এবং ইবনে রুশদের মধ্যে কাল্পনিক বিতর্ক।

এই ছবিগুলো পশ্চিমে ইবনে রুশদের ব্যপক প্রভাবকে প্রকাশ করে।

ইবনে রুশদের নিগ্রহের কারন:

আগেই বলেছি ইবনে রুশদ তার শেষ জীবনে নির্বাসিত হন। ইবনে রুশদ এরিস্টটলের উপর কাজ করতে গিয়ে নিচের বিষয়গুলোকে প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে ধরে নেন:

১। আত্মার দুটো অংশ রয়েছে - একটি অবিনশ্বর, অন্যটি নশ্বর। সমস্ত মানবজাতি অবিনশ্বর অংশ ধারন করে থাকে।

২। মহাবিশ্ব শ্বাশত।

৩। শ্বাশত সত্য ধর্ম এবং দর্শন দুটোর প্রেক্ষিতেই সত্য, তবে একটি অবস্থান কখনও ধর্মের দৃষ্টিতে সত্য হয়ে দর্শনের দৃষ্টিতে ভুল হতে পারে। আবার উল্টোটাও হতে পারে।

এই সবই তখনকার সাধারন মানুষের মনে বিরক্তি ঊৎপাটন করে। তবে ইবনে রুশদের মত একজন একনিষ্ঠ মুসলিমকে ইসলাম অবমাননার দায়ে দায়ী করা চাট্টিখানি কথাও নয়। তাই ইবনে রুশদ লিখতেই থাকলেন। ইমাম গাজালীর জবাবে লিখলেন "তাহাফুত আল তাহাফুত"। এসময়টায় তুর্কী বীর সালাদিনের হাতে জেরুজালেম বিজিত হল এবং ইবনে রুশদের চিন্তাধারাও দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে তিনি বিখ্যাত হতে শুরু করলেন।

সবশেষে তিনি প্রকাশ করলেন তার সবচেয়ে বিতর্কিত বই প্লাটোর রিপাকলিক। যে বইতে তিনি তার স্পনসর আল মোহাদ সাম্রাজ্যের অধিকারী খলিফাদের স্বৈরাচার বলে দাবী করলেন। যার ফলে খলিফা ভীষন বিরক্ত হলেন। সব মিলিয়ে ইবনে রুশদের পক্ষে আর কেউ রইল না। তাকে প্রস্তরাঘাত করা হল, দেয়া হল নির্বাসন, পুড়ানো হল বই এবং বারন করা হল দর্শন, রাজনীতি কিংবা ধর্ম নিয়ে বই লিখতে। বলা চলে তার নিগ্রহের কারন মোটামুটি দুটো: এক। গ্রীক চিন্তাধারার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি থেকে ইসলামের অনেক বিষয়কে গ্রীক দর্শনের সাথে সম্পর্কিত করার চেষ্টা। এবং দুই। খলিফাদের তীব্র সমালোচনা করা।

(চলবে)

============================================

ইবনে রুশদ বিষয়ে কিছু কোট:


"এটা খুবই চমকপ্রদ যে প্লাটোর দিক নির্দেশনা ইবনে রুশদের কাছে ছিল গ্রহনযোগ্য ও আদরনীয়, কেননা ইবনে রুশদের জগত সীমিত ও শাসিত ছিল কোরান ধর্ম গ্রন্থ দিয়ে।" - দ্য ক্লাসিক্যাল আউটলুক (Click This Link)।

"ইবনে রুশদ শতক শতক ধরে মানুষের মনে আলোড়ন তুলেছেন। এভোরিজম ষোল শতক ধরে ছিল বিস্তৃত, প্রায় চার শতকের এই বিচরন প্রকৃতপক্ষে প্রাচীনত্ব থেকে আধুনিকত্বে উত্তরন"।
-- জর্জ সারটুন, প্রখ্যাত ইতিহাস বিদ।(http://en.wikipedia.org/wiki/Averroes)

=========================================

আগের পর্বগুলো:

ইবনে রুশদ - ১

ইবনে রুশদ - ২

=============================================

লিংক:


Click This Link

Click This Link


Click This Link

Click This Link

Click This Link

Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29249226 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29249226 2010-10-04 07:31:02
ইবনে রুশদ - ২ ইবনে রুশদ - ১


ভূমিকা বনাম অলস কথা:

আলসেমির কারনে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করতে অনেক দেরী হল। সেজন্যে ক্ষমাপ্রার্থী।

প্রথম পর্বের লেখায় ইবনে রুশদের জীবন ও অবদান নিয়ে অল্প স্বল্প ধারনা দিয়েছিলাম। সে ধারাবাহিকতায় এ পর্বে ইবনে রুশদের জুরিসপ্রুডেন্স/বিচারক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছি। আগেই বলেছি দর্শন, চিকিৎসা শাস্ত্রের পাশাপাশি ফিকহ শাস্ত্রে ইবনে রুশদের ছিল অসামান্য দখল এবং এ কারনে তিনি কর্ডোভা ও সেভিলে বিচারক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তৎকালীন কর্ডোভাতে মালিকি মতবাদে ইবনে রুশদের সমকক্ষ পান্ডিত্য আর কারো ছিলনা। আশ্চর্যের বিষয় হল, এতটা জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বে তার জুরিসপ্রুডেন্স খুব বেশী পরিচিত হতে পারেনি। বরং দার্শনিক পরিচয়টিই তাকে খ্যাতির শীর্ষে তুলে নিয়েছে। এর মূল কারন, ফিকহ শাস্ত্র বিশারদ হিসেবে ইবনে রুশদের ট্রাডিশনালিস্ট ভূমিকা। তিনি প্রচলিত কোন ব্যাখার বিপরীতে নিজস্ব কোন যুগান্তকারী ব্যাখা দাড় করান নি। বরং অন্যান্য ফকীহ/ইমামদের প্রচলিত ব্যাখাকে গুরুত্ব দিয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে বাদী বিবাদীর চলমান বিবাদ মীমাংসা করেছেন। তিনি যুগান্তকারী কোন ফতোয়ার প্রবর্তক নন, বরং ট্র্যাডিশনে চলে আসা ফতোয়ার বিশ্লেষক। বিচারক হিসেবে সে সীমারেখাটি তিনি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছেন।

ইবনে রুশদের কয়েকটি ইসলামী আইনের বিশ্লেষন দেখা যাক।

মুতা বিবাহ প্রসংগে ইবনে রুশদ:

ইবনে রুশদ মুতা বিয়েকে অবৈধ বলে গন্য করতেন। একবার তার কাছে একটি মামলা আনা হল যেখানে একজন পুরুষ মোহর এবং অভিভাবক ব্যতিরেকে একজন নারীকে মুতা বিয়ে করেছিল। ইবনে রুশদ তাকে বললেন, "তুমি তো জান যে মুতা নিষিদ্ধ। সাথে সাথে তুমি অভিভাবক এবং মোহর ব্যতিরেকে বিয়ে করেছ। এমনকি সাক্ষী দুইজনও পেশাদার সাক্ষী নয়।"

"তা জানি। তবে আমি ইবনে আব্বাসের দেয়া ফতোয়া অনুযায়ী মুতা বিয়ে করি। আপনি জানেন, যারা মুতাকে স্বীকৃতি দেন তারা বলেন মুতার জন্য কোন ন্যুনতম মোহর নির্ধারিত নেই। মেয়েটি যেহেতু সামাজিক ভাবে আমার সমকক্ষ নয়, তাই আমার পিতা এ বিয়েতে মত দিচ্ছিলেন না। সেজন্যে বাধ্য হয়ে আমাকে মুতার আশ্রয় নিতে হয়।"

ইবনে রুশদ এ মামলার ফয়সালার এই ধরনের মুতাকে ব্যভিচারের সমকক্ষ বলে গন্য করেন। বৈধ বিয়ের জন্য যা যা শর্ত পূরন বাধ্যতামূলক ছিল, তার কোনটিই এই বিয়ে পূরন করে নি। ফলে পুরুষটিকে ব্যভিচারের শাস্তি প্রদান করেন। (Click This Link)। ইবনে রুশদের মতে ইবনে আব্বাস পরবর্তীতে তার পূর্বকৃত মুতা বিষয়ক ফতোয়া থেকে পিছিয়ে গিয়ে মুতাকে অবৈধ হিসেবে গন্য করেন।


নারীর ক্ষমতায়ন প্রসংগে ইবনে রুশদ:

ইবনে রুশদের সমসাময়িক কালে আন্দালুসিয়ার প্রশাসন ও বিচার বিভাগে কোন নারী নেতৃ্ত্ব ছিল না। যা অনেকটা তৎকালীন গ্রীসের অবস্থার অনুরূপ। এরিস্টটলের "পলিটিক্স" ইবনে রুশদের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে তিনি এই নারীর ক্ষমতাহীনতার প্রচন্ড সমালোচনা করেন। নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে ইবনে রুশদের দৃঢ় অবস্থান আজকের যুগেও প্রশংসিত। সৌদি আরবের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোয়াজেব আলজাহরানি বলেন, "আটশত শতক পূর্বের ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে রুশদ নারীকে ক্ষমতাহীন করার যে প্রচন্ড সমালোচনা করে গিয়েছেন, তা আজকের যুগেও প্রযোজ্য। নারীর মেধাকে অবমূল্যায়ন করার পরিনতি হিসেবে চলে আসবে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দৈন্যতা। ইবনে রুশদ দেখিয়েছেন যুক্তি এবং কার্যকরনের মাধ্যমেই জনসচেতনতা তৈরীর দ্বারা জীবন ও জগতের কল্যান সাধন সম্ভবপর হবে।"

Click This Link

দর্শন প্রসংগে ইবনে রুশদ:

ইতিমধ্যে আমি এটা উল্লেখ করেছি যে, ইবনে রুশদ বিচারকের পাশাপাশি ছিলেন একজন দার্শনিক। পরবর্তী ইতিহাসে এই দার্শনিক পরিচয়টিই তাকে খ্যাতির শীর্ষে তুলে ধরে। প্রশ্ন উঠতে পারে, ইবনে রুশদের মত একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম কি করে দর্শন অধ্যয়নকে নিজের জন্য কর্তব্য বলে সাব্যস্ত করলেন। যেখানে তখনকার মুসলিমরা তো বটেই, আজকের যুগের মুসলিমরাও দর্শন অধ্যয়নের বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখেন না।

নিম্নোক্ত আয়াতগুলো এক্ষেত্রে প্রাসংগিক মনে হতে পারে:
وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوْاْ مَا آتَاهُمُ اللّهُ وَرَسُولُهُ
"[কতইনা ভাল হতো] যদি তারা সন্তুষ্ট হত তা নিয়ে যা আল্লাহ ও তাঁর রসূল তাদেরকে দিয়েছেন।"

وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلاَّ ظَنًّا إَنَّ الظَّنَّ لاَ يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللّهَ عَلَيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ
বস্তুত এদের অধিকাংশই ধারণা অনুমানের অনুসরণ করে। আর সত্যের মুকাবিলায় ধারণা অনুমান কোন কাজে আসেনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তারা যা করে।" [১০:৩৬]

وَمَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا
এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নাই। তারাতো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেও ফলপ্রসূ নয়। [৫৩:২৮]

উপরের আয়াতগুলো থেকে মনে হতে পারে দর্শন অধ্যয়ন নিরর্থক। কিন্তু দর্শন অধ্যয়নের এ বিষয়টিকে অন্যভাবেও দেখা যেতে পারে। ইবনে রুশদ একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন বলেই দর্শন অধ্যয়নকে নিজের জন্য কর্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ইবনে রুশদ কিতাব ফসল আল মাকাব (অন দ্য হারমোনি অব রিলিজিয়ন এন্ড ফিলোসোফি) বইতে ব্যাখা করেছেন কেন দর্শন অধ্যয়নকে ইসলাম উৎসাহিত করে থাকে। নিম্নোক্ত আয়াত গুলোর প্রেক্ষিতে ইবনে রুশদ দর্শন শাস্ত্রের অধ্যয়নকে ইসলামের দৃষ্টিতে উৎসাহিত বলে দাবী করেছেন ।

"তারা কি উষ্ট্রের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে উচ্চ করা হয়েছে? এবং পাহাড়ের দিকে যে, তা কিভাবে স্থাপন করা হয়েছে? এবং পৃথিবীর দিকে যে, তা কিভাবে সমতল বিছানো হয়েছে? [৮৮:১৭-২০]"


"তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।"
[৬৭:৩-৪]
এরকম আরো বেশ কিছু আয়াত এবং হাদীসকে তিনি দর্শন শাস্ত্র অধ্যয়নের পক্ষে দাড় করান।

ইবনে রুশদ এবং গ্রীক দর্শন:

বহুমূখি প্রতিভাধর ইবনে রুশদের চরিত্রের যে দিকগুলো আমাকে সবচেয়ে বেশী আকর্ষন করে তা হচ্ছে বিনয়, সহিষ্ণুতা, উদারতা এবং জ্ঞানের প্রতি তীব্র অনুরাগ। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন প্লেটো এরিস্টটল সহ গ্রীক সাহিত্যের উপর গবেষনা করে। অথচ তৎকালীন গ্রীক সাহিত্য ছিল সমাকমিতায় ভরপুর। প্লেটোর সাহিত্যে নানাভাবে সমকামিতাকে উপস্থিত হয়েছে। একটি বইতে প্লেটো লেখেন:

"সমকামিতা বর্বরদের এবং যারা স্বৈরাচারী শাসকদের অধীনে থাকে - তাদের কাছে লজ্জাজনক। যেমনি করে দর্শন এদের কাছে লজ্জাজনক। এসব রাজারা তাদের প্রজাদের মাঝে চিন্তাধারার প্রসার ঘটুক তা চায় না। চায় না প্রজাদের মাঝে শক্তিশালী বন্ধুত্ব বা ভালবাসা তৈরী হোক।"

প্রশ্ন উঠতে পারে প্লেটো কি সত্যই সমকামী ছিলেন? কিংবা সমকামিতার পক্ষে ছিলেন? এ বিষয়ে ইতিহাসে নানান মত দেখতে পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন সমকামিতা বিষয়ক প্লেটোর এসব কথা আসলে তৎকালীন গ্রীক সমাজের চলে আসা সমকামিতার বহুল প্রচলিত রূপটিই তুলে ধরে। প্লেটো প্রকৃতপক্ষে সমকামিতার বিরুদ্ধে ছিলেন। এর প্রমান হল প্লেটোর দুটি বই - "ল'স" এবং "রিপাকলিক"। এই দুটি বইতেই প্লেটো প্রকৃতি বিরু্দ্ধ এবং বিয়ে বিরোধী হবার জন্যে সমকামিতার নিন্দা জানিয়েছেন। বিষেশত "ল'স" বইতে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এরকম সম্পর্ককে বেআইনী ঘোষনারও পক্ষপাতী ছিলেন।
Click This Link

Click This Link

http://www.newstatesman.com/199908230009

আগেই বলেছি ইবনে রুশদ প্লেটোর বিখ্যাত বই রিপাবলিকের সারাংশ ও মুখবন্ধ রচনা করেন। "রিপাবলিক" শব্দটি এসেছে "পাবলিক" থেকে। রিপাবলিক বইটিতে প্লেটো তার দার্শনিক গুরু সক্রেটিসের এক কাল্পনিক কথোকথন তুলে ধরেছেন। একটি আদর্শ নিখুত নগর রাষ্ট্রের রূপরেখা কি হতে পারে তার বিশদ বর্ননায় ঠাসা এই বই। রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার, নাগরিক দায়িত্ব, সমাজে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভূমিকা, সমাজে ন্যায় বিচার ও তার মাপকাঠি সহ নানা বিষয়ের আলোচনায় সমৃদ্ধ। রাষ্ট্রকে নিখুত হতে হলে যে যে উপকরন আবশ্যক তার রূপরেখার বর্ননা। সবশেষে বইটিতে তিনি টেনে এনেছেন সাংবিধানিক মূলনীতি। কোন ধরনের সাংবিধানিক মূলনীতির রাষ্ট্র এই নিখুত সমাজ ব্যবস্থাকে লালন করতে পারে? সে কি রাজতন্ত্র, অভিজাত তন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র নাকি গনতন্ত্র? মজার বিষয় হচ্ছে গনতন্ত্র, যা আজকের যুগের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্ট পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃত, প্লাটো তার সমালোচনা করে গিয়েছেন তীব্র ভাবে। তিনি দাবী করেছেন, গনতন্ত্র হচ্ছে দুর্বলের উপরে সবলের শাসন মাত্র। গনতন্ত্রকে তিনি নিখুত সমাজ ব্যবস্থার ধারক হিসেবে গন্য করেন নি।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে বেছে নেয়া উচিত কাকে - গনতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, নাকি একনায়কতন্ত্র? এর আসলে কোন ধরাবাধা জবাব নেই। পুরো বিষয়টি নির্ভর করে সমসাময়িক আর্থ সামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতির উপরে। আজকের এই পৃথিবী তথ্য প্রযুক্তিতে গ্লোবালাইজড এক পৃথিবী। শিক্ষা এবং সচেতনতার আধিক্যের কারনে "গনতন্ত্র" এখন সবচেয়ে আদরনীয় মতবাদ। যদিও গনতন্ত্রের ধারনা বহু পুরোনো সেই গ্রীক দার্শনিকদের কাছ থেকে পাওয়া, অথচ এটার একচ্ছত্র সাফল্য দেখছি আজ একবিংশ শতকে। এর চর্চা আগেও ছিল, তবে এতটা সফলভাবে নয়। রোমে নির্বাচিত রাষ্ট্রনায়ক সিজার যেদিন গনতন্ত্রের কবর খুড়ে রাজতন্ত্রকে পোক্ত করতে চেয়েছিলেন, সেদিন এই গনতন্ত্রকে রক্ষার জন্য সিনেটর ব্রুটাস তার প্রিয় নেতা সিজারের খুনে নিজের হাত রন্জ্ঞিত করতে একটুও দ্বিধা করেন নি। প্রিয় ব্রুটাসের সে বেইমানী সিজার সইতে না পেরে অস্ফূট স্বরে বলেছিলেন, "তুমিও, ব্রুটাস?" এত দেশপ্রেম সত্ত্বেও ব্রুটাস কি পেরেছিলেন রোমের জনতাকে গনতন্ত্রের পক্ষে নিতে? পারেন নি। ব্রুটাসের পতন ঘটে খুব দ্রুত। জনতা বেছে নেয় সিজারের উত্তরাধিকারকে। সেসময়টায় রোমের যুদ্ধপ্রিয় পরিবেশ গনতন্ত্রের জন্য খুব উপযোগী ছিল না, তাই রাজতন্ত্র বিজয়ীর বেশে ফিরে আসে। পৃথিবীর অতীত ইতিহাসে যে গনতন্ত্রের পদচারনা রয়েছে, তা বেশ নড়বড়ে - আজকের এত পোক্ত নয়। আমি একেবারেই অবাক হব না, যদি আগামী পঞ্চাশ বছরে গনতন্ত্র মুখ থুবরে পড়ে যায় এবং আবার সমাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্রের পুনরাগমন ঘটে।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের এই রূপরেখার সাথে ইবনে রুশদ অনেকটাই একমত পোষন করে দাবী করেন, এই আদর্শ রাষ্ট্র বাস্তবায়িত হতে পারে শুধু ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের মাধ্যমে। এখানেই ইবনে রুশদ ইসলাম ও গ্রীক দর্শনের সমন্বয় সাধন করতে চেয়েছিলেন। গ্রীক সাহিত্য থেকে ধার করেন নিখুত রাষ্ট্রের রূপরেখা এবং ইসলাম থেকে ধার করে নেন বাস্তবায়ন পদ্ধতি।

http://www.muslimphilosophy.com/ir/index.html

Click This Link

Click This Link rushd quotes&f=false

Click This Link rushd quotes&f=false


http://www.ghazali.org/works/taf-eng.pdf

Click This Link


Click This Link


Click This Link

Click This Link

Click This Link

http://www.friesian.com/plato.htm

Click This Link


চলতে থাকুক..............

[ইবনে রুশদের এই ছবিটি আকেন ইতালিয়ান আর্টিস্ট আন্দ্রে বনেটো ১৪ শত শতকে ।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29245257 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29245257 2010-09-25 23:27:59
ঈদ শপিং এর বিড়ম্বনা (গল্প)
"আসলে রোজা আসার সাথে সাথেই কেনাকাটা করে রাখা দরকার। এখন তো জামা কাপড় দেখারই কোন সুযোগ পাচ্ছি না। আমি কিন্তু আগেই তেমনটি বলেছিলাম। এখন দেখ, গত তিনদিন ধরে ঘোরাঘুরি করে কি নাজেহাল অবস্থা আমাদের। রোজা রেখে এত বেশী হাটা জঘন্য রকমের বিরক্তিকর।" মিলি জবাব দেয়, যদিও জানে ঝিলির কাছে এরকম শপিং খুব প্রিয়।

"তা তো বলেছিলি বুঝলাম। কিন্তু জামার ভ্যারাইটিস তো রোজার প্রথমে থাকে না। সেজন্যে না করেছিলাম। শেষ দিকে ঈদের আগ মুহুর্তে বাজার করতে চেয়েছিলাম। এখন দেখছি উল্টোটা বরং ঠিক ছিল। ভ্যারাইটিস দিয়ে কি হবে যদি দেখার সুযোগই না পেলাম।" হঠাৎ প্রসংগ ঘুরিয়ে ফেলে ঝিলি। "সামনের দোকানের ডিসপ্লের জামাটা তো চমৎকার! এদিকে আয় বরং। " বোনকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ধাই করে দোকানে ঢুকে যায়।

দোকানটার নাম অনিন্দিতা। ফিক্সড প্রাইসের দোকান।

"ঐ জামাটা কি দেখতে পারি?" ভিড় ভাট্টা ঠেলে সামনে এগিয়ে দোকানদারকে ঝিলি জিজ্ঞাসা করে।

"নিশ্চয়ই। কয়েকটা কালারও হবে।" দোকানী কাপড়গুলো বের করে ঝিলির দিকে এগিয়ে দেয়। এর পরপরই মনোযোগী হয়ে যায় পাশের কাস্টমারের দিকে।

বেশ কয়েকটা জামা নাড়াচাড়া করে তার মধ্যে দুটো জামা পছন্দ করে ঝিলি। জানতে চায়, "আপনাদের ট্রায়াল রুম কোথায়?"

পাশের কাস্টমারের সাথে কথা বলতে বলতে দোকানী ট্রায়াল রুম দেখিয়ে দেয়। ঝিলি ভিড় ঠেলে চলে যায় ট্রায়াল রুমের দিকে। জামা পছন্দের আনন্দে ভুলে গেল মিলির কথা।

এদিকে ভিড় ছাড়িয়ে মিলি এসে দোকানে ঢুকে এইমাত্র। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে খুজতে থাকে বোনকে। না পেয়ে একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায়। কোথায় গেল ঝিলি। অবশেষে বোনের খোজে ঢুকে পরে পাশের দোকানে। ভাবে, ওখানেই বোধকরি ঝিলিকে পাওয়া যাবে।

মিলি যখন ঝিলিকে খোজায় ব্যস্ত, ঝিলি তখন ট্রায়াল রুমে জামা পড়ায় ব্যস্ত। এপাশ ওপাশ করে আয়নায় নিজেকে দেখতে লাগল। অনেক চিন্তা ভাবনায় ঠিক করল গোলাপী রং এর পোশাকটা মেরুনের চেয়ে ভাল হবে। তবে সাইজ আর এক সাইজ বেশী হতে হবে। আবার একটু খুত খুত লাগল। হয়ত সবুজ রং হলে আরেকটু ভাল হত। যাক, অনেক খোজাখুজি হয়েছে - আর ঘোরাঘুরি সম্ভব নয়। এটাই কিনে বাড়ী যাওয়া যাক। ঈদের কেনাকাটায় সে যথেষ্টই ক্লান্ত।

"সবুজ কালারটা তো আপনাদের কাছে নেই?" আরেকবার শিওর হতে চাইল ঝিলি।

"না, শুধু গোলাপী আর মেরুনই রয়েছে।" দোকানী মাথা নেড়ে বলে।

"সাইজ একটু বড় দিন।" ঝিলি ব্যাগ থেকে টাকা বের করতে করতে বলে। অনিন্দিতায় ফিক্সড প্রাইস বলে দামাদামি নেই। তাই সেদিকে গেল না ঝিলি।

দোকানী প্যাক করতে করতে মিলি এসে দাড়ায় ঝিলির পাশে। এতক্ষনে সে বোনকে খুজে বের করতে পেরেছে। মিলিকে দেখে ঝিলি বলল, "কিনতে পারলাম শেষ পর্যন্ত। তুই কোথায় ছিলি এতক্ষন।"

"তোকে খোজায় ব্যস্ত ছিলাম। কি কাপড় কিনলে দেখতে পারি।"
মিলি প্যাকেটের ভেতরে উকি মারল।

"ওদিকে আয়।" একটু নিরিবিলি কোনের দিকে ঝিলি ডাকল মিলিকে।

জামাটা মেলে ধরল ঝিলি। "আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।"

"আপা, তুই এই জামা কিনেছিস!" বিষ্ময় ঝরে পরে মিলির গলায়।

"হ্যা। কেন তোর পছন্দ হচ্ছে না?" এবার ঝিলির অবাক হবার পালা।

" আপা, আমার বিশ্বাস হচ্ছে না তুই এটা কিনেছিস।" মিলির হতভম্ব ভাব কিছুতেই কাটছে না।

"মিলি, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না তোর কথা।" ঝিলি চেয়ে আছে মিলির দিকে।

"আপা, তোর কাজ কারবার আমিও বুঝতে পারছি না। আজ তিন দিন ধরে আমরা দোকানে দোকানে ঘুরছি তোর জামা পছন্দ হচ্ছে না বলে। আর তিন দিন পরে তুই যে জামা কিনলি সেটা তো আমরা প্রথমেই দেখেছিলাম ইস্টার্ন প্লাজায়।" মিলি বলতে থাকে।

"মনে পড়েছে আপা, এই জামাটা নেবার জন্য দোকানদার তোকে কত সাধল। তার কাছে নাকি সবুজ, হলুদ সহ আরো কয়েকটা কালার ছিল। সেদিন বলেছিলি ওটা তোর পছন্দ হয় নি।"

তাই তো। ঠিক, হুবহু একই জামা তারা ইস্টার্ন প্লাজায় দেখেছিল। একটু একটু করে ঝিলিরও মনে পড়তে থাকে।

"শুধু তাই নয় আপা। তুই এখন অনিন্দিতা থেকে যে দামে কিনেছিস, ইস্টার্ন প্লাজার ঐ দোকানদার কিন্তু তিনশ টাকা কমে দিতে চেয়েছিল।" মিলি বলতেই থাকে।

ঝিলি হতবাক হয়ে শুনতে থাকে মিলির কথা। চোখের সামনে যেন রিপ্লে হতে থাকে দৃশ্যগুলো। সেই ইস্টার্ন প্লাজা, সেই দোকানদার, সেই সাধাসাধি!! নিজের দোষে করা অহেতুক বিড়ম্বনায় ঈদ শপিং এর আনন্দই যেন মাটি হয়ে যায়।


বিষয়টা বুঝতে পারে মিলি। "থাক আপা, মন খারাপ করবি না। এখন তো জানলি ওটাই তোর জন্য সবচেয়ে ভাল জামা। না হয় এই জানার জন্য তিনদিন গেল, তিনশ টাকা গেল। সময় কিংবা টাকার চেয়ে বিশ্বাসের মূল্য কি বেশী নয়?" ফেরার পথে মিলি বোনকে সাত্ত্বনা দিতে থাকে।

মার্কেটিং এর বিড়ম্বনা শেষ হওয়ার হাফ ছাড়ছে মিলি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29237017 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29237017 2010-09-08 14:05:13
সামহোয়ার ব্লগের তিন বছর : স্মৃতিচারনের ব্যর্থ চেষ্টা
পোস্ট করেছেন: ৬৭টি
মন্তব্য করেছেন: ৪৯০৩টি
মন্তব্য পেয়েছেন: ২৭৫৮টি
ব্লগ লিখেছেন: ৩ বছর ৮ ঘন্টা
ব্লগটি মোট ১১১০৭৫ বার দেখা হয়েছে

৩ বছর ৮ ঘন্টা!!!!!!!!!!!!!


৩ বছর ৮ ঘন্টা!!!!!!!!!!!!!


৩ বছর ৮ ঘন্টা!!!!!!!!!!!!!


আমার ব্লগার স্ট্যাটিসটিক্সের সব পরিসংখ্যানের মধ্যে ৩ বছর ৮ ঘন্টার ঐ একটি লাইনই বোধ করি সত্য। পোস্ট অনেক মুছে ফেলেছি, ফলে পোস্ট/মন্তব্যের পরিসংখ্যান পুরোটাই ভুল, অন্যদিকে কাউন্টার জটিলতার কারনে ব্লগ কতবার দেখা হয়েছে সেটাও ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশী।

সামহোয়ারের ব্লগ স্ট্যাটাস প্যানেলের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনের ভেতরে গত তিন বছরের কত কথা আর কত স্মৃতি উকি দিয়ে গেল। যখন প্রথমে এসেছিলাম, তখন ভাবিনি এতটা আকড়ে ধরব ব্লগকে। কত জায়গায় কতদিন ছিলাম, কিন্তু এরকম আফিমের নেশা তো কোথাও ছিল না। আজ তিন বছর পরে আমি জানি, এই ব্লগের বাংলা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। ব্লগের হাসি কান্না আর সুখ দুঃখ যেন জীবনের সাথে ওতপ্রোত হয়ে মিশে আছে। এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে, ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে। "কবর" কবিতার এই দুই লাইন আমার ব্লগ জীবনে অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়ে মিলে গেল।

আমি যখন এখানে প্রথম আসি তখন সামহোয়ারের এলেক্সা র‌্যাংকিং ছিল ৫০০০০ এর মত। ২-১০ জন ব্লগারকে লগ ইন দেখতাম। সাম্প্রতিক মন্তব্য অনেকক্ষন ধরে ঝুলে থাকতো। মাঝে মাঝে আমি একাই সবগুলো সাম্প্রতিক মন্তব্য করে রাখতাম। ছিল টপ রেটেড পোস্ট এবং সর্বোচ্চ পোস্টদাতা ব্লগারদের তালিকা। এই সব ধীরে ধীরে বিদায় নিয়েছে, সাথে বেড়েছে সামহোয়ারের জনপ্রিয়তা। এখন এলেক্সা র‌্যাংকিং ১০০০০ এর মধ্যে, সাম্প্রতিক মন্তব্য চলে যায় ঝটিকা গতিতে। তিন বছরে কত পরিবর্তন!!

যাদের আমন্ত্রনে ব্লগে এসেছিলাম তারা কেউ এখন আর নেই। যত দিন যাচ্ছে পুরোনো পরিচিতরা বিদায় নিয়ে নূতন মুখ সব আসছে। যারা নূতন আসছেন তাদের সবাই প্রায় ছদ্ম নামে লিখছেন। মূল নামে লেখার অসুবিধা অনেক, কখনও যদি ব্লগ সাসপেন্ড হয়ে যায় তবে তা সামাজিক ভাবে নিগৃহীত হবার হাতিয়ারে পরিনত হয়। প্রকৃত পরিচয় নামে লেখা অনেকেরই ব্লগ বাতিল হওয়াতে, পরিচিত মহলে বিরূপ পরিস্থিতির শিকার অনেককে হতে হয়েছে। ছদ্মনামে লিখলে এই সমস্যা থাকে না। ছদ্মনাম ভার্চুয়াল লাইফে বোরখার মত কাজ করে, আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখে। ফলে স্বাধীনতা বাড়ে, কমে দায়বদ্ধতা।

ব্লগ লিখতে লিখতে মনে পড়ছে পুরোনো সেই দিনের কথা। কারা কারা আমার আগে এসেছিলেন। সর্বোচ্চ পোস্টদাতাদের ভিড়ে আলী ঢালীর সেই দৌড়ের কথা। সেসময়টাতে সে তালিকাতে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে রাগ ইমন, ত্রিভুজ, মাহবুব মোর্শেদ এখনও আছেন। ত্রিভুজ এবং রাগ ইমনকে সময় সময় সক্রিয় দেখা গেলেও মাহবুব মোর্শেদ তার ব্লগ কেন্দ্রিক তৎপরতা ইদানিং কালে অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। রাগ ইমন প্রথম দিকের গুটিকয়েক নারী ব্লগারের অন্যতম। ঝড় ঝঞ্ঝার মুখোমুখি তাকেও হতে হয়েছে। মেধা আর সাহস - এই দুটি গুন উনাকে প্রতিষ্ঠিত ব্লগার করেছে।

আমি আসার আগেই গঠিত হয় এ-টিম। আমি এসে এদের এসব তৎপরতা দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খাই। ভয়াবহ ত্রিভুজ বিরোধিতা তাদের কাজের অন্যতম দিক হলেও ত্রিভুজকে তাতে কখনও বিচলিত দেখা যায় নি। তার ব্লগ সবসময়েই সুপার হিট। জমিয়ে তোলার এক আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে ত্রিভুজের। আর কোন ব্লগার এ ক্ষেত্রে এতটা সফল ছিলেন না। পরবর্তী পর্যায়ে এই এ-টিমের অনেকে আমার ব্লগের সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় সামহোয়ার ব্লগে এদের তৎপরতা ভাটা পড়ে যায়। এ-টিম নিয়ে এই ব্লগে অনেক লেখা রয়েছে। এ-টিমের অবদান কি ইত্যাদি। আমার মতে, এ-টিমের মূল অবদান মডারেশন। এ-টিমের কারনেই সামহোয়ারে মডারেশন সক্রিয় হয়েছে, পরিবেশ ঠিক করার তাগিদ এসেছে।

আমি আসার প্রায় সাথে সাথে ব্লগে আসেন চতুরভূজ, মিরাজ এবং সারোয়ার চৌধুরী। চতুরভূজের প্রোফাইলের ছবি নিয়ে তখনটায় চলছিল তুঘলকী জাতীয় নানান কান্ড। ক্ষুরধার লেখনীর এই লেখক হঠাৎ করেই ব্লগ থেকে চলে যান। এরপরে অপ্রত্যাশিত ভাবে সারোয়ার চৌধুরী ব্লগ সাসপেন্ড হয়। মিরাজকেও আর ব্লগে দেখা যায় না। তাই এদের মাঝে আমি একাই এখনও সামহোয়ার ব্লগে রয়েছি।

সামহোয়ার ব্লগে আমার প্রথম ও একমাত্র ব্যান ঠিক কবে ছিল বলতে পারছি না। হয়ত আমারই পুরোনো পোস্টগুলো ঘাটলে বলা যাবে। এই ব্যানের ফলে বেশ অনেকদিন সামহোয়ার ব্লগের বাইরে ছিলাম। এর পরে আবার সামহোয়ারে ফিরে এলে নিক বাচিয়ে চলাই আমার মূল কাজ হয়ে যায়। যার ফলে খুব বেশী মন্তব্য না করা, কমেন্ট মডারেশন - এসব নীতি নিয়ে চলাটা ঠিক করি। দেখলাম কাজে দিল। নিভৃতচারীকে কেউ খুব ঘাটায় না। আমিও নিক নিয়ে আর কোন সমস্যার মুখোমুখি হইনি।

ক্যাচাল এই ব্লগের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত অনেকেই এসেছেন গিয়েছেন, কিন্তু যা রয়েছে তা হল ক্যাচাল। তার মাঝেও অনেক ভাল লেখা এসেছে। ত্রিভুজের বিপরীত বিশ্বাসের মানুষ অমি পিয়াল। তথ্য ভিত্তিক লেখা দিতেন যা অবশ্যই প্রসংশনীয়। এ-টিমের অন্যতম হিসেবে উনার হাজারো কীর্তিকলাপ ব্যালেন্স হয়ে যেত এসব ইতিহাসভিত্তিক পোস্টের মাধ্যমে। এরকমভাবে নানা মতের মানুষদের প্লাটফর্ম হতে পারাটাই ছিল সামহোয়ারের বড় সাফল্য। এটাই আবার সামহোয়ারের চ্যালেন্জ্ঞও বটে। কারন ব্যানের অধিকাংশ ঘটনার সাথে জড়িত পক্ষ প্রতিপক্ষের রাজনীতি। আমরা যে রাজনৈতিক ভাবে কতটা অসহিষ্ণু তা এতদিন বিদেশ থাকতে থাকতে ভুলেই গিয়েছিলাম। সামহোয়ার বাংলাদেশের সার্থক প্রতিচ্ছবি হয়ে তা মনে করিয়ে দেয়।

সামহোয়ার ব্লগে অনেকেই লিখে থাকেন এবং বেশ ভাল লিখে থাকেন। আমি অনেক ইনফরমেশন এই ব্লগে এসেই প্রথম পেয়েছি। সেরকম একটি প্রিয় পোস্ট ছিল, নাহিদ মাহমুদের "লিওনার্ডো দ্য ভিঞ্চি"
(Click This Link)।শিল্পীর সমস্ত কাজ নিয়ে চমৎকার একটি কম্পাইলেশন। নাহিদের সব পোস্টই আমি মনোযোগ দিয়ে পড়তাম। বেচারী ব্যান হয়ে যাওয়ায় তার লেখাগুলো এখন শুধুই স্মৃতি।

সব ভাল লেখককেই যে বিদায় দিতে হয়েছে, তা নয়। কেউ কেউ রয়ে গিয়েছেন। সেরকম আরেকজন হলেন ম্যাভেরিক ভাই। তিনিই সম্ভবত এই ব্লগের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল লেখক। ইতিহাসের ছোয়া দিয়ে লেখা উনার পোস্টগুলো শুধু তথ্যবহুলই নয়, বরং অসম্ভব সুখপাঠ্য। কি এক আবেশে যেন পাঠকদের ধরে রাখেন। সবশেষে তিন পর্বের "ভয়ঙ্কর এক সংখ্যার জন্ম, নিষ্ঠুর এক খুনের গল্প" (Click This Link) সম্ভবত আমার ব্লগ জীবনের সবচেয়ে সেরা একটি লেখা পড়া। কাহিনীর পাশাপাশি ভাষার ছন্দে ফুটে উঠেছে পুরোনো দিনের আবহ, যা পাঠককে টান টান করে ধরে রাখে গল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত। ছড়াকার হিসেবে পরিচিত হলাম বিবেক সত্যির সাথে। ছড়া পড়তে আমার ভাল না লাগলেও আবিষ্কার করলাম এক প্রতিভাধর ছড়াকারকে (Click This Link)। সেও আমার সমসাময়িক ব্লগার। যদিও এখন ব্লগে নিয়মিত নয়। যেমন অনিয়মিত আরো দুই জনপ্রিয় ব্লগার ফারহান দাউদ এবং মেহরাব শাহরিয়ার।

ফিউশন ফাইভের কথা না বললেই নয়। সেলিব্রিটি ব্লগারদের তিনিও একজন। তবে যেসব লেখা তিনি লিখে থাকতেন তা অনেকগুলোই বেশ চ্যালেন্জ্ঞিং। "১০০ কিংবা ১০০০ লাশের বিনিময়ে হলেও নিরাপদ থাকুক বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি" বা সেরকম লেখাগুলো মানুষের স্বাভাবিক বিশ্বাসের বহিপ্রকাশ হতে পারে, কিন্তু তা ন্যায় এবং বিবেচনা ভিত্তিক হতে পারে না। চ্যালেন্জ্ঞিং ব্লগিং এর কারনেই তিনিও সম্ভবত ব্যান ।

যাদের কথা বললাম তাদের বাইরেও অনেক লেখকের পোস্ট নিয়মিত পড়া হত। তায়েফ আহমেদ, ফারজানা মাহবুবা, কনা, সোহায়লা রিদওয়ন, নাজনীন১ - এদের অনেক পোস্ট শুধু পড়াই হত না, বরং নিয়মিত মন্তব্যও করতাম। হিউম্যানিট্যারিয়ান আপিল নিয়ে সোহায়লা এত চমৎকার পোস্ট দেয় যে না পড়লে বিশ্বাস হত না। তায়েফ ভাই তো মুসলিম বিজ্ঞানীদের নিয়ে মেগা সিরিজ দিয়েছেন। বলা বাহুল্য, আমি মূল পোস্টের চেয়ে উনার পোস্টের আলোচনাগুলোই বেশী এনজয় করি।

সামহোয়ার ব্লগে কিছু ব্লগারদের উদ্যোগে "অপরবাস্তব" নামে একটি সংকলন প্রকাশ হবার খবর বিভিন্ন সময় ব্লগে দেখেছি। এই সময়ে অনেকের লিংক ধরে কিছু লেখা পড়া হত। কেন যেন "অপরবাস্তব"কে সেরকম সফল মনে হয় নি। এর পেছনের মানুষেরা নিষ্ঠাবান, তবে পেশাদারিত্বের অভাব ছিল বড় প্রকট। তারপরেও এরকম উদ্যোগ প্রশংসনীয়।


তিন বছর অনেক লম্বা সময়। আমার আরো অনেক কথা হড়বড় করে বলে ফেলতে পারা উচিত। কিন্তু এতটুকু এসে দেখছি, স্মৃতি হাতড়ে আর খুব বেশী কিছু পাচ্ছি না। হয়ত বা, সাবধানে নিক বাচিয়ে চলতে গিয়ে নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছি বলে অনেক ঘটনার প্রতিক্রিয়া মাথায় কম গেথেছে।
জানি না এই ব্লগে কতদিন থাকব, তবে কর্তৃপক্ষ ঘাড় ধরে না তাড়িয়ে দিলে আদৌ যাব কিনা সেটা খুব সন্দেহজনক।

সে দিক দিয়ে বিচার করলে শুধু ছাগী নই, বরং একটা বেহায়াও বটে আমি।



=============================================

বি:দ্র: ফিউশন ফাইভ ব্যান বলে ভেবেছিলাম, কিন্তু আসলে তিনি ব্যান ছিলেন না। ব্যস্ত ছিলেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29220585 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29220585 2010-08-12 05:08:13
পল পট ও খেমার রুজ : ইতিহাসের একটি নৃশংস কমিউনিস্ট অধ্যায়


মানুষ হত্যা কিংবা জাতিকে হত্যা করার জন্যে আমি বিপ্লবে যোগ দেই নি। আমার দিকে তাকাও। আমাকে কি হিংস্র দেখায়?

- পল পট, খেমাররুজ নেতা ও কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী


খেমার রুজ নেতা পল পট কম্বোডিয়ার প্রধান মন্ত্রী ছিলেন ১৯৭৫-১৯৭৯ পর্যন্ত। সেসময়টায় খেমাররুজদের গৃহীত নীতির ফলে প্রায় দুই মিলিয়ন কম্বোডিয়ান মারা যায়। খেমাররুজ গেরিলারা প্রকৃতপক্ষে ছিল সমাজবাদী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব কামপুচিয়ার সদস্য। কম্বোডিয়ার শাসনভার নেয়ার সময়ে খেমাররুজ গেরিলারা এই দেশের নাম পরিবর্তন করে রাখে "ডেমোক্রেটিক কাম্পুচিয়া"।


সমাজবাদের গোড়ার কথা:

১৮ শতকে শুরু হয় পশ্চিমে শুরু হয় শিল্প বিল্পব। সাথে সাথে চ্যালেন্জ্ঞ হয়ে দাড়ায় শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরী, তাদের কাজের পরিবেশ ইত্যাদি। এই চ্যালেন্জ্ঞ থেকে জনপ্রিয় হতে থাকে সমাজবাদ, যারা মনে করে শ্রমজীবী মানুষের সমস্যার সমাধান তাদের হাতেই নিহিত। কার্ল মার্কসের মতে সমাজ একটি একক সত্ত্বা এবং সমাজের নীতি-উৎপাদন হবে সমাজের সামগ্রিক কল্যানের সাথে সামন্জ্ঞস্যপূর্ন। সমাজকে হবে শ্রেনীহীন এবং সমাজের রাজনৈতিক/অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রতিটি মানুষের মতামত সমানভাবে গুরুত্ব পাবে। যার ফলে ব্যক্তি মালিকানা নয়, সম্পদের উপরে প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজের সামষ্টিক মালিকানা। কার্ল মার্কস সমাজবাদের একটি তাত্ত্বিক রূপরেখা দেন মাত্র, এর কোন বিস্তারিত প্রয়োগ দেখান নি। কার্ল মার্কসের দেয়া সমাজবাদের মূলনীতির মধ্যে রয়েছে উৎপাদনের হাতিয়ারের উপরে সমাজের সামগ্রিক মালিকানার প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তি মালিকানা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে নিরূৎসাহিত করা ইত্যাদি। সমাজের শ্রমজীবী মানুষ বা প্রলেটারিয়েত কর্তৃক শাসকশ্রেনী বুর্জোয়াদের উৎখাতের মাধ্যমেই এই সমাজ গঠন সম্ভব। কমিউনিজম এবং সোশালিজমের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে - কমিউনিজমের সাথে বিপ্লব বা রেভোলিউশন জড়িত। অন্যদিকে সোশালিজমের মাধ্যম হচ্ছে ইভোলিউশন বা বিবর্তন। কমিউনিজমের এই ধারনা বহু পুরোনো - গ্রিক বিজ্ঞানী প্লেটোর বিখ্যাত বই "রিপাবলিক" উল্লেখ করেছে যার প্রকৃতিকে।


একটু অপ্রাসংগিক ভাবেই আমার একটি পর্যবেক্ষন টেনে আনছি। আজকের বাংলাদেশেও কিছুদিন আগে পোশাক শিল্পে এক ধরনের অরাজকতা পরিলক্ষিত হল ন্যুনতম মজুরী নিয়ে। এই আমেরিকাতে এই বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা হয়ে থাকে। যারা ন্যুনতম মজুরী বাড়ানোর বিপক্ষে , তাদের কথা হচ্ছে, এটি এন্ট্রি লেভেল জবকে নিরুৎসাহিত করে থাকে। আমি নিজেও কিন্তু এরকম চিন্তাধারাকে যৌক্তিক মনে করি। ন্যুনতম মজুরী নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে বরং শ্রমিকেরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাপ্য মজুরী পাচ্ছে কিনা, কিংবা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কিনা - সেটা নিশ্চিত করা জরূরী। আরেকটি দিক যেমন, কাজের পরিবেশ। এ বিষয়ে মুক্তবিশ্বের অবস্থান মোটামুটি অনড় এবং এমপ্লয়ীদের সার্বিক নিরাপদ কাজের পরিবেশ দিতে মালিকপক্ষ বাধ্য। এদিকে বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায় গার্মেন্টস এ আগুন লেগে প্রচুর শ্রমিক মারা যায়। এক্ষেত্রে কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি যে উপেক্ষিত হচ্ছে - তা বলাই বাহুল্য। কিছুটা সতর্ক হলে এবং সঠিকভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করলে এসব দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।

যা হোক, এই সমাজবাদী ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে খেমাররুজদের আধিপত্য ও বিস্তার ঘটে থাকে ৭০ এর দশকে। সাথে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে আমেরিকা ও ভিয়েতনামের আগ্রাসন। নীচে যার কিছুটা বর্ননা রয়েছে।

খেমাররুজদের উথ্থান/পতন:

কম্বোডিয়া ছিল ফরাসী কলোনি। ১৯৫৪ সালে স্বাধীনতা লাভের পরে সেখানে ক্ষমতায় ছিলেন রাজা নরোদম সিহানুক। দমননীতির মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা এবং ১৯৫৫তে বিতর্কিত নির্বাচনের দ্বারা তিনি বিরোধী বামদের মনে এই ধারনা গেথে দিতে সমর্থ হন যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আসলে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও দুর্বল হবার কারনে কম্বোডিয়ার সমাজবাদী দলগুলো তখন রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোন তীব্র আন্দোলন কিংবা বিপ্লব গড়ে তুলতে পারে নি।

সে সময়টাতে আরো অনেকের মত "স্যালথ সার" নামে এক কম্বোডিয়ান যুবকও স্বপ্ন দেখত শোষিতের মুক্তির। একটি শ্রেনীহীন সমাজের, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের। ফ্রান্সে উচ্চ শিক্ষারত সময়েই তার মনে দাগ কাটে এই সমাজবাদী ধ্যান ধারনা। ১৯৫৪ সালে ফ্রান্স থেকে ফিরে স্যালোথ তখন স্বীকৃত কমিউনিস্ট পার্টি এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কমিউনিস্ট পার্টিদের নিয়ে কাজ করা শুরু করেন।

সরকারের দমননীতি বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, ১৯৬২ সাল থেকে কমিউনিস্ট দলগুলো আর নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করতে পারে নি। ১৯৬৩তে স্যালোথকে চলে যেতে হয় আত্মগোপনে, কারন তার উপরে নেমে এসেছে সরকারের খড়গহস্ত। ১৯৬৩তেই তিনি পার্টি সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। সরকারের স্বৈরাচার এবং অপশাসনের ফলে দ্রুত বাড়তে থাকে খেমাররুজদের তৎপরতা। একসময় খেমাররুজরা দখল করতে শুরু করে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন অংশ। খেমাররুজ নেতা স্যালথ সার ওরফে পল পট পরিচিত হন "ব্রাদার নাম্বার ওয়ান" নামে।

১৯৭০ সালে আমেরিকার সাহায্য নিয়ে জেনারেল লন নল উৎখাত করেন প্রিন্স সিহানুককে। যার ফলে সিহানুক এবং খেমাররুজদের মধ্য এক জাতীয় সমঝোতা তৈরী হয়। এদিকে আমেরিকার ক্রমাগত বোম্বিং এর ফলে প্রায় ১০০,০০০ কৃষক জীবন হারায়। লন নলের দমননীতি এবং তৎকালীন অস্থিতিশীলতার ফলে বাড়তে থাকে খেমাররুজ গেরিলাদের তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালে খেমাররুজ গেরিলারা দখল করে নেয় নমপেন এবং কম্বোডিয়া। [৫]

১৯৭২ সালে ক্ষমতা দখলের আগেই খেমাররুজ গেরিলারা সমাজ পরিবর্তনের দিকে জোর দেয়। খেমাররুজ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তারা পোশাক এবং অন্যান্য বিষয়ে নিজেদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। পল পট ভূমি সংস্কার বিষয়ে মনোযোগী হন। যার ভিত্তি ছিল সম আয়তনের ভূমির মালিকানা। এসময় তারা সমস্ত প্রাইভেট যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ১৯৭২ এ তাদের নীতি ছিল স্বাধীন এলাকাগুলোর দিকে মানুষ কমিয়ে দেয়া। এসব নীতি দরিদ্র কৃষকের জন্য সুবিধাজনক হলেও তা শহুরে রিফিউজিদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। ১৯৭৩ সালে পল পট ডিক্রি জারী করেন যাতে কৃষিভিত্তিক গ্রামগুলোতে সমিতি মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্যক্তি মালিকানা নিষিদ্ধ হয়। [৬]

পল পট মাওবাদী নীতি গ্রহন করেন যেখানে কৃষকরাই হচ্ছে সত্যিকার মেহনতী শ্রেনী। শহর থেকে আসা মানুষগুলোর অধিকার কমে যায়, কমে যায় তাদের রেশন। মার্চের ২০, ১৯৭৬ এর নির্বাচনে এরা ভোট দিতে পারেনি, যদিও কম্বোডিয়ার সংবিধান সবার অধিকার নিশ্চিত করেছিল। খেমাররুজ নিয়ন্ত্রিত রেডিও দাবী করত তাদের কৃষিভিত্তিক সমাজের স্বপ্নপূরনের জন্য এক থেকে দুই মিলিয়ন মানুষই যথেষ্ট। বাকীদের জন্য তাদের মেসেজ ছিল, "তোমাদের রেখে কোন লাভ নেই, তোমাদের বিনাশে কোন ক্ষতি নেই।"

পল পট বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার পরিবর্তে বেছে নেন চীনকে। ভিয়েতনাম ছিল রাশিয়ার বলয়ভূক্ত। ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বরে পট পট ভিয়েতনামকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষনা করে। ভিয়েতনামের সাথে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের পরে ভিয়েতনামের কাছে খেমাররুজ গেরিলারা ক্ষমতা হারায় ১৯৭৯ সালে। কিন্তু আমেরিকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে থাকায় খেমাররুজ গেরিলারা তখনও জাতিসংঘে কম্বোডিয়ানদের প্রতিনিধিত্ব করছিল। খেমাররুজ গেরিলারা এবং পল পট চলে যান আত্মগোপনে। ১৯৮৫ সালে তাদের এলাকাগুলোতে ভিয়েতনামের আক্রমন তীব্রতর হওয়ায় পল পট থাইল্যান্ডে পালাতে বাধ্য হন। ভিয়েতনাম ১৯৮৯ সালে কম্বোডিয়া থেকে যাবার পরে নূতন কম্বোডিয়ান সরকার খেমাররুজ গেরিলাদের সাথে শান্তি চুক্তি করতে আগ্রহী হন। পল পট তাতে রাজী হন নি। অন্যদিকে সন্দেহ করতে থাকেন তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোন সেনকে সরকারের পক্ষে কাজ করার জন্যে। তীব্র হয়ে যায় খেমাররুজদের অন্তর্কলহ। এরই এক পর্যায়ে সোন সেনকে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেন পল পট। কিন্তু এর পরে আরেক খেমাররুজ নেতা টা মক পল পটকে গ্রেফতার করে নির্বাসন দেন। পল পট সম্পূর্নরূপে হারান খেমাররুজদের সমর্থন। ১৯৯৮ সালে এই হাউস এরেস্ট অবস্থাতেই তার মৃত্যু ঘটে। [৬]

খেমাররুজ শাসনামলে কেন এত হত্যা, এত রক্ত:






খেমাররুজ কর্তৃক কম্বোডিয়ানদের এই রক্ত তাদের আদর্শের রক্ত। পল পট এবং খেমাররুজ গেরিলারা কম্বোডিয়াতে "ইয়ার জিরো" নামে একটি নূতন আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, যেখানে সভ্যতা আবার নূতন করে শুরু হবে। আগের সমাজের সমস্ত মূল্যবোধ এবং ট্রাডিশনকে ধ্বংস করে নূতন একটি সংস্কৃতি দিয়ে শুরু হবে কম্বোডিয়া। যার ফলে তাদের মূল টার্গেট হয়ে যায় বুদ্ধিজীবী এবং শিক্ষকরা। গ্রাম ও কৃষিভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে খেমাররুজ বাহিনী শহর থেকে বহিষ্কার করে এর অধিবাসীদের, বন্ধ করে দেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। [৩] ১৯৮৮ সালে থাইল্যান্ডে পল পট তার সময়কালের হত্যাকান্ডকে ভিয়েতনামী এজেন্টদের কাজ বলে দাবী করেন। তবে তিনি পরাজিত লন নল ও তাদের নেতাদের হত্যাকান্ডের দায় নেন। [৪]


খেমাররুজদের শাসনকালের জাতীয় সংগীতের কয়েকটি লাইনের ভাবানুবাদ নীচে দিলাম। পুরোটা পাওয়া যাবে এখানে:
Click This Link.

"উজ্জ্বল লাল রক্ত ছিটকে পড়েছে কাম্পুচিয়ার শহর এবং সমভূমির উপরে, আমাদের মাতৃভূমি আমাদের বিপ্লবী নারী ও পুরুষ যোদ্ধা, মজুর এবং কৃষকের রক্ত; তাদের রক্ত দিয়েছে প্রচন্ড ক্ষোভ এবং সাহস বীরত্বের সাথে লড়াই এর জন্য এপ্রিলের ১৭, বিপ্লবের ব্যানারে, তাদের রক্ত স্বাধীনতা দিয়েছে দাসত্বের রাষ্ট্র থেকে"




১।http://www.encyclopedia.com/topic/communism.aspx
২।http://news.bbc.co.uk/2/hi/asia-pacific/78988.stm
৩।http://www.dccam.org/Publication/Monographs/Monographs.htm
৪। Click This Link
৫। Click This Link
৬। http://en.wikipedia.org/wiki/Pol_Pot]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29217417 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29217417 2010-08-08 01:00:45
ফেইসবুক: একটি প্রতিক্রিয়াশীল পোস্ট
ফেইসবুক বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়েছে। এর পেছনে নানান কারন বলা হচ্ছে। নিষিদ্ধের বিষয়টি ফ্যাক্ট। আর কারনের বিষয়টি অপিনিয়ন। এর কারন এসব ক্ষেত্রে "প্রকৃত কারন" প্রায়শই উহ্য থাকে।

ব্লগে দেখছি ফেইসবুক নিষিদ্ধের বিষয়টি আম জনতা মানতে পারছেন না। ফেইসবুক নিষিদ্ধকে মানুষজন বাক স্বাধীনতার উপরে হস্তক্ষেপ হিসেবে নিয়েছেন। বাক স্বাধীনতা আজকের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত বিষয়। একে দলন করে টেকা যায় না, সে বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই, থাকার কথাও নয়।

আমি ফেইসবুক নিষিদ্ধের বিপক্ষে, যদিও আমি নিজে ফেইসবুক একেবারেই ব্যবহার করি না। আশা করি ফেইসবুক সরকার দ্রুত খুলে দেবে। এটা এজন্য যে, "পাকিস্তানের পরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হল ফেসবুক" জাতীয় কোন শিরোনাম আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে দেখতে চাই না। বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানী করে টিকে আছে। সে খাতটি পর্যুদস্ত হবার যে কোন পায়তারা প্রতিহত হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বিশ্বে, বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বে, বাংলাদেশীদের উদারপন্থী হবার সুনামটুকু (নাকি দুর্নাম?) রয়েছে। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলে সে সুনামটুকু ধরে রাখার পক্ষপাতী। অস্তিত্বের সংগ্রামে নিজেদের শেকড়কে শক্ত করা বাংলাদেশের এখন টপ মোস্ট প্রায়োরিটি হওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু তারপরেও দুটি কথা না বলে পারছি না। ফেইসবুক আমাদের কতটুকু প্রযুক্তি কিংবা সুবিধা দিচ্ছে, সে হিসেবটাও সবার রাখা উচিত। প্রকৃত সত্য হচ্ছে ফেসবুক মূল ইউজার ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়েসী ছেলেমেয়েরা। ৩৫ বছরের উপরের মানুষজনের ফেইসবুক আসক্তি খুবই কম। বিভিন্ন জরিপে এটা স্পষ্ট যে এই বিশেষ বয়েসী মানুষদের কাছে ফেসবুকের রয়েছে অত্যন্ত বেশীমাত্রার জনপ্রিয়তা। উপরে একটি চার্ট দিলাম ইউএস ফেইসবুক ইউজারদের।

কৃতজ্ঞতা:
Click This Link

যারা সেল ফোন বা মোবাইলকে ফেইসবুকের সাথে তুলনা করছেন, তাদের সবিনয়ে বলছি যে মোবাইল সব ধরনের বয়েসী মানুষদের কাছে আদৃত।
Click This Link

প্রযুক্তির বিরোধিতা করে এগোনো যায় না, তবে প্রযুক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়ভারও মানুষের কর্তব্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29165333 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29165333 2010-05-29 22:49:33
বাংলা বনাম ইংরেজী: ধন্যবাদ সামহোয়ার
ইংরেজী বিদেশী ভাষা। সেজন্যে একটা ঔন্যাসিকতা আমার ছোট বেলা থেকেই ছিল। তার উপর বাংলা মিডিয়াম থেকে পাশ করা বলে ইংরেজীর ভিত সবসময়েই নড়বড়ে। বুয়েটে প্রথম ইংরেজীর সাথে চলতে হল, তার আগ পর্যন্ত তেমন করে কখনও লাগে নি। টেক্সট বইতে ইংরেজী তো খুব কঠিন নয়, তাই মানিয়ে নিতে সময় লাগলেও বেশী কষ্ট হয় নি। কিন্তু এর পর থেকেই শুরু হয় বেশ কঠিন যাত্রা। বিদেশে আসার ফলে মোটামুটি দখলে নিতে হল এই বিদেশী ভাষাটি। সামলাতে হল শেখার ঝক্কি, বলার ঝক্কি।

চলনসই কথোপকথন আর মোটামুটি মাঝারি মানের লেখার ক্ষমতা - ভেবেছিলাম এখানেই বুঝি বা ক্ষান্ত হবে ইংরেজী শেখার পালা। আর হয়ত সময় কিংবা এনার্জি খরচ করতে হবে না। কিন্তু সে ধারনা আমার পুরো ভুল প্রমান হয়। ফাকিবাজ পুত্রকে ঘাড় ধরে পড়াতে চাই, সেজন্যে আমার নিজের শব্দ ভান্ডার বাড়াতে হয়। নূতন করে আমাকে পড়তে হয় গ্রামার, এবং বাক্য গঠন। "শেখার শেষ নেই" - আমি হাড়মাংস দিয়ে তা অনুভব করি। তাকে পড়াতে হয় বলে আমার নিজেরও পড়তে হয় নানা বই, নানা সাহিত্য। নূতন করে পড়তে হয় জুলভার্নের "এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেইস"। মনিব ফিলিয়াস ফগ যাবেন বিশ্ব ভ্রমনে, সাথে যাবেন ভৃত্য প্যাসপার্টাউট। প্রশ্ন থাকে, প্যাসপার্টাউট নামের মোজেজা কি? আমিও অভিধান খুজে টুজে বের করি, এই শব্দের মানে। নিজে শিখি, ছেলেকে শেখাই। ছেলে আমার যেন "হেলেন কেলার", পন করে বসে আছে কিছুই শিখবে না। অন্ধ, মুক, বধির হেলেনকে শেখানোটা যেভাবে চ্যালেন্জ্ঞ হিসেবে নিয়েছিল তার গভার্নেস এ্যান, আমিও তেমনি ভাবে আমার পুত্রের পেছনে অনড় হয়ে লেগে থাকি। তার সাথে সাথে আমিও পড়তে থাকি সাহিত্য, গ্রামার এবং শব্দভান্ডার।

এমনি করেই আমার ইংরেজীর জ্ঞান বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে বাড়ে দক্ষতা। অন্যদিকে চর্চার অভাবে ভুলতে শুরু করি আমার প্রিয় মাতৃভাষা। একসময় টের পাই মাতৃভাষার শব্দভান্ডার প্রায় অর্ধেক হয়ে এসেছে। খুজে হাতড়ে বেড়াতে হয় শব্দগুলোকে। হাল ছাড়ার মানুষ নই আমি, এত পরিশ্রম দিয়ে যে ভাষাকে আয়ত্ত্ব করেছিলাম তাকে কি করে হারাই। শুরু করি সামু ব্লগে লেখা। হাজারো প্রতিকূলতাকে প্রতিহত করে। আজ প্রায় পৌনে তিন বছর হয়ে গেল, দেখলাম সাবলীলতা সেই কৈশোর কালের মত না এলেও, মোটামুটি চলনসই পর্যায়ে এসেছে। তাই সামহোয়ারকে ধন্যবাদ জানানো কর্তব্যজ্ঞান মনে করলাম।

ভাল থাকুক সামহোয়ার। আমার বাংলাদেশী পরিবার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29146691 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29146691 2010-05-02 06:31:42
ইবনে রুশদ - ১ ইবনে রুশদ কর্তৃক ব্যাখায়িত এরিস্টটল" বিষয়ে নিজেদের পারঙ্গমতা দাবী করলেন। চমকে গেল পৃথিবী, পশ্চিমে এলো রেনেসার ঝড়। নড়বড়ে হয়ে গেল চার্চের আসন, শুরু হল সেক্যুলার ইউরোপের যাত্রা। মৌ পোকা যেমনি করে ফুল থেকে মধু আহরন করে, ঠিক তেমনি ইবনে রুশদের গ্রন্থ ভান্ডার থেকে পশ্চিম গ্রহন করতে শুরু করল এরিস্টটলীয় দর্শন। ইবনে রুশদের মাধ্যমে ইউরোপ পায় সভ্যতার জনক এরিস্টটলের চিন্তাধারার উত্তরাধিকার। দ্রুত বিস্তৃত হতে শুরু করল এরিস্টটল এবং সাথে সাথে ইবনে রুশদের আইডিওলজি। শেষ মরন চেষ্টায় চার্চ নিষিদ্ধ করতে চাইল রুশদের সমস্ত বই। কিন্তু সে বড় দেরী, চার্চের এই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইটালির বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য হয় এরিস্টটল এবং ইবনে রুশদ। পশ্চিমে তাই আজো সম্মানিত হয়ে আছেন, ইতিহাসের পাতায় অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে নিজের ঠাই করে নিয়েছেন কর্ডোভান এই দার্শনিক। যুগে যুগে যেসব দার্শনিক, বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অজ্ঞানতাকে জ্ঞান দিয়ে, নিষ্ঠুরতাকে সভ্যতা দিয়ে, অসুস্থতাকে স্বাস্থ্য দিয়ে, স্বৈরতাকে স্বাধীনতা দিয়ে, দারিদ্রকে প্রাচুর্য দিয়ে, সংকীর্নতাকে সুখ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন - "ওয়েস্টার্ন কালচার গ্লোবাল" কর্তৃক প্রকাশিত তাদের প্রথম একশত জনের তালিকায় ইবনে রুশদকে দেয়া হয়েছে ১১ নং স্থান (Click This Link)। ইবনে সিনা (৩৩ নং), লিওনার্ডো দ্য ভিনসি (৩৭ নং) কিংবা আর্কিমেডিসের (৪৫ নং) স্থানকে টপকে ইবনে রুশদের ১১ নং স্থানে যাওয়াটা বেশ বিষ্ময়কর, যার পেছনের মূল কারন সম্ভবত ইবনে রুশদের দর্শন, মানব ও রাষ্ট্র সভ্যতার বিকাশে যা ছিল অপরিহার্য। এই দর্শনকে লালন করতে জীবনে কখনও তিনি ছিলেন নির্বাসিত, কিংবা মৃত্যুর পরেও অবহেলায় পুড়েছে তার গ্রন্থভান্ডার। কেউ কি ভাবতে পেরেছিল, ক্রুসেডাররা গ্রানাডার যে গ্রন্থাগার ছাই ছাই করে পুড়িয়ে দেয়, তাতে নাম নিশানা নিশ্চিহ্ন হবার বদলে ফিনিক্স পাখীর মত আবার পৃথিবীর দূর দূরান্তে ছড়িয়ে যাবেন রুশদ?

কয়েকটি পর্বের এই সিরিজের লেখাটিতে আমি ইবনে রুশদের দর্শন, জীবন ধারা ও চিন্তাধারার পরিচিতি দেবার চেষ্টা করছি। এই প্রথম পর্বটি গল্পের আকারে লেখা, যা কিছুটা কল্পনা মিশ্রিত। পরের পর্বগুলো হবে তথ্যমূলক নিবন্ধ। সিরিজটির সাথে থাকার আমন্ত্রন রইল, তথ্য বা মন্তব্য দিয়ে সহায়তা করার ধন্যবাদ রইল।]

=============================================
এক.

খলিফা ইয়াকুবের দরবার। জ্ঞানী গুনী পরিবেষ্টিত খলিফা আজ বেশ চিন্তিত। চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে তার চেহারায়। তার উজিরদের মাঝে শুরু হয়েছে গুন্জ্ঞন। অবশেষে একজন শুরু করলেন:

"আমিরুল মুমিনীন। আমায় ক্ষমা করবেন। আপনাকে আজ বেশ পেরেশান মনে হচ্ছে।"

"ঠিকই ধরেছ ইবনে তুফায়েল। আমি আজ কিছুটা বিভ্রান্ত।"

"বেয়াদবী না নিলে জানতে পারি এর কারন?"

"ভাবছিলাম এরিস্ততলের বইগুলোর কথা। কি কঠিন, জটিল। সাধারনের বোধগম্যের বাইরে। কেউ যদি এর সারবত্তাটুকু সাধারনের জন্য সহজ ভাষায় লিখে দিত তবে তা আমজনতার জন্য কতই না কল্যানকর হত। তুফায়েল, সেরকম কারো সম্পর্কে তুমি কি কিছু জান?" খলিফা তার উজির তুফায়েলের দিকে চাইলেন।

"আমিরুল মুমিনিন। আমি আপনার উজির, আমার কাজ আপনাকে পরামর্শ দেয়া। সেরকম মানুষ একজনই আছেন এই আন্দালুসিয়াতে।" থামলেন ইবনে তুফায়েল।

"আছে সেরকম কেউ? অথচ আমি জানি না। কে তিনি আবু বকর?" উদ্বিগ্ন হয়ে খলিফা জানতে চান।

"তিনি অপরিচিত কেউ নন। স্বনামধন্য কাজী আবুল কাসিমের পুত্র। তার নাম আবু ওয়ালিদ।"

"আবুল কাসিম? যিনি মোরাবিতদের বিচারক ছিলেন?"

"জ্বি তিনিই।" ইবনে তুফাইল জানালেন।

"ঠিক আছে। তাকে আমার সাথে দেখা করতে বল।"

"তিনি এই দরবারেই আজ হাজির রয়েছেন, আমিরুল মুমিনিন। আপনি চাইলে তিনি আপনার সাথে একান্তে আলাপ করতে পারেন।" ইবনে তুফাইল ইংগিত করলেন নূতন আগন্তুকের দিকে। দরবারের তখন মনোযোগ সে আগন্তুকের প্রতি।

খলিফা দৃষ্টি দিলেন আগন্তুকের দিকে। একটু থেমে আচমকা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, "দার্শনিকরা এ বিশ্বের সৃষ্টির বিষয়ে কি বলে? তা কি শ্বাশত, নাকি সময়ের শুরুতে তৈরী করা।"

আগন্তুক বুঝতে পারলেন প্রশ্নটা তাকে উদ্দেশ্য করে করা। খুব খুশী বলে মনে হল না। তিনি জানেন এসব বিষয় আমজনতার মাঝে কতটা বিতর্ক তৈরী করেছে। আমতা আমতা করে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইল। খলিফা ফিরলেন ইবনে তুফায়েলের দিকে।

"দেখো তুফায়েল। প্লেতো কিন্তু আরিস্ততলের ঠিক উল্টোটা বলেছেন। আরিস্ততল যেখানে বিশ্বকে অনাদি দাবী করেছেন, প্লেতো দাবী করেছেন তা সৃষ্ট।" আগন্তুকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি কিছু জানেন?"

আগন্তুকের দ্বিধা কাটতে শুরু করল। খলীফাকে একজন সত্যিকারের সমঝদার বলে মনে হল তার। মহাবিশ্ব নিয়ে দার্শনিকদের এসব ধ্যান ধারনার সাথে আগন্তুক খুব ভালভাবেই পরিচিত। অনেকটা নির্ভয়ে শুরু করলেন আলোচনা। ধীরে ধীরে খুলতে লাগলেন দর্শনের নানা জট। নিবিষ্ট শ্রোতার ভূমিকায় খলীফা শুনতে লাগলেন।

খুশী হলেন খলীফা। "তুফায়েল আপনার বিষয়ে ঠিকই বলেছে। আপনার পক্ষেই আরিস্ততলের সারাংশ লেখা সম্ভব। আর প্লাতোর রিপাবলিকের মুখবন্ধ আপনি লিখুন, তাও আমি চাই। এ গুরু দায় আপনাকেই দেয়া হল। এছাড়া সেভিলে কাজীর পদ অলংকৃত করবেন। বংশ পরষ্পরার এ ধারায় আপনিই তার যোগ্য উত্তরসূরী। বংশ পরষ্পরায় মোরাবিতদের বিশ্বস্ত ছিলেন বলে ভাববেন না আমি আপনার উপর বীত শ্রদ্ধ। আপনি আপনার পেশাগত দায়িত্ব সম্পূর্ন স্বাধীন ভাবে পালন করবেন।" খলিফার আচরন আশ্বস্ত করল আগন্তুককে।

আগন্তুকের আশংকা কেটে গেল। উৎফুল্ল চিত্তে তিনি খলীফার দরবার ত্যাগ করলেন।

দুই.

পয়ত্রিশ বছর পরের কথা।

সেদিনের সেই আগন্তুক আজ বাহাত্তর বছরের বৃদ্ধ, যার জীবনী শক্তি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। স্মৃতিচারনে তিনি ভুলে যেতে চান তিক্তময় অতীত, তবু তা দুঃসহ যন্ত্রনা হয়ে বার বার বুকে আঘাত করে। ভেবেছিলেন ইসালার নির্বাসন থেকে ফিরে এসে হয়তবা মর্ম বেদনা কম হবে। কিন্তু তিল তিল করে গড়ে তোলা বইগুলো যে তার জীবনের আরেক পিঠ, সে ধ্বংসের বেদনা এই মৃত্যু প্রহরের বেদনার চেয়েও অন্তর্ঘাতী।

আপনি কাফের .............। মুসলমানের বাচ্চা এসব করতে পারে না, মুসলমান ভাবতে পারে না, লিখতে পারেনা .................। চাবুকের মত বাক্যগুলো বৃদ্ধকে আবারো আঘাত হানে। সব কি ভুলে যাওয়া যায়। কল্পনায় ভেসে উঠে সেই সালিশ ........। যে মানুষটি নিজেই সারা জীবন বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন, জীবনের শেষ আদালতে কিনা তারই বিচার হয়েছে....। ভাগ্যের কি পরিহাস। জীবনের ফোটা ফোটা ঘাম ঝরানো অতন্দ্র প্রহরের সাধনার সব লিপির আগুন পড়া ছাই মনের ভেতর আবার আগুন হয়ে দাউ দাউ জ্বলে। একটা জীবনের সাধনা ......। কতই না মূল্যহীন .............।

স্বপ্নের কর্ডোভাতে হাজারো মানুষের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে খলীফা তাকে একদিন সম্মানের সাথে কাছে ডেকে নিয়েছিলেন, সেই তিনিই কিছু উন্মত্ত অন্ধ মানুষের কাছে আত্ম সমর্পন করতে দ্বিধা করলেন না। হায়রে রাজনীতি .......। যে দর্শন ছিল গর্ব অহংকারের বিষয়, তাই শেষে হয়ে গেল গলার কাটা।

জিহাদ শেষ হয়েছে। রক্ষনশীলদের প্রয়োজন খলীফার কাছে ফুরিয়েছে ...। মনে হয়েছে সেই নির্বাসিত বৃদ্ধ দার্শনিকের কথা। হয়ত বা কিছুটা অনুতপ্তও............... নির্বাসন দন্ড স্থগিত করে আবার তাই ফিরিয়ে আনা হয়েছে মারাকেশে। সমাজে তার মুসলমানিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করার কেউ নেই। হারানো সম্মান আবার তার আপন ঠিকানা খুজে পেয়েছে।

তবুও শুধু হাহাকার। বিষন্নতা তার পিছু ছাড়ে না। হঠাৎ পড়ার ঘরটায় ঢুকলে যেন রাশি রাশি বই চোখে পড়ে। আবারো নেচে উঠে মন প্রান। ঐ তো তার সব লেখা বই......, নিজের হাতে লেখা......... দিনের পর দিন বছরের পর বছরের সাধনা। কিছুই নষ্ট হয় নি। সব অকৃত্রিম রয়েছে।

না কোথায়। হতাশ হন তিনি। সব ভুল, চোখের ধাধা। সে সব বই যে সব ছাই হয়ে গিয়েছে। বুক শেলফটা রয়েছে ঠিকই। নেই তাতে প্রান।

দূরে মসজিদের প্রাঙ্গন থেকে ভেসে আসে আজান। ভগ্ন প্রান বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে নামাজে দন্ডায়মান হবার প্রস্তুতি নেয়। দখিনের এক ঝাপটা বাতাস তাকে এলোমেলো করে দিয়ে যায়। সে বাতাসে যেন তিনি ফিসফিস শুনতে পান, "হতাশ হবে না। তোমার সব সম্পদ এই পৃথিবীতেই রয়েছে। পৃথিবী একদিন সে গুপ্তধন খুজে নেবেই।"




============================================

http://www.renaissance.com.pk/jagletf98.html



Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29137545 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29137545 2010-04-19 00:17:10
রোহিঙ্গা: অবহেলিত, নির্যাতিত তবু অপরাজিত এক জনপদ
রোহিঙ্গা ইস্যু: সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ

প্রথমেই আসুন দেখি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে কিভাবে এসেছে। নীচে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম থেকে অল্প কিছু অংশ দেয়া হল। পুরোটা পড়তে চাইলে সাথের লিংকে ক্লিক করুন।

১। রয়টার্স:

যেসব দেশবিহীন রোহিঙ্গা শরনার্থীরা তাদের নিজের দেশ মায়ানমারের শোষন থেকে মুক্তির জন্য প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদেরকে পিটিয়ে সেখান থেকে আবার ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আশ্রয়কেন্দ্র ভেংগে দিয়েছে এবং জোরপূর্বক বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একজন রিসার্চার ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, "গত ত্রিশ বছর ধরে রোহিংগারা বাংলাদেশে নানা রকম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের আচরনে এটা স্পষ্ট যে তাদের কাছে রোহিংগারা অনাকাংখিত।" রয়টার্স সংবাদটি প্রকাশ করে "Rohingyas reported beaten, evicted in Bangladesh" ("বাংলাদেশে রোহিংগারা প্রহৃত এবং বহিষ্কৃত") শিরোনামে।
http://www.reuters.com/article/idUSSGE61I066

২। নিউ ইয়র্ক টাইমস:

নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে দুটি আর্টিক্যালের উদ্ধৃতি দিচ্ছি। প্রথমটি ফেব্রুয়ারী ২০ তারিখের এবং দ্বিতীয়টি মার্চের ১৩ তারিখের।

"বার্মিজ রিফিউজিস পারসেকিউটেড ইন বাংলাদেশ" শিরোনামে ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশিত লেখায় বাংলাদেশে রোহিংগা শরনার্থীদের উপর নির্যাতনের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়। গত এক মাসে শুধু কক্স বাজারেই শত শত রেজিস্ট্রেশন বিহীন রোহিংগাদের গ্রেপ্তার করে হয় বার্মায় ফেরত পাঠানো হয়, নতুবা ইমিগ্রেশন আইনে জেলে ভরা হয়। রোহিংগাদের উপরে ডাকাতি, হামলা এবং ধর্ষন খুব বেড়ে গিয়েছে। অপুষ্টি এবং মৃত্যুহার সমস্ত সীমা পেরিয়েছে । এই জনবহুল ক্যাম্প রোগের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। রোহিংগারা এটা জানে যে, তারা সমাজের সবচেয়ে নীচের স্তরের মানুষ এবং তারা সব জায়গাতেই অনাকাংখিত। সর্বত্রই তারা নিরাপত্তাবিহীন এবং অধিকারহীন বহিরাগত মাত্র। ৬৯ বছরের আবদুল বলেন, "যদি বনের কোন প্রানীকে হত্যা করা হয় তবে তা হয় বেআইনী এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ। কিন্তু মানুষ হয়েও আমরা তার যোগ্য নই। আমরা তো পশুদের চেয়েও নিকৃষ্ট।" Click This Link


দ্বিতীয় লেখাটি "মায়ানমার রিফিউজিস ফেস গ্রিম ফিউচার ইন বাংলাদেশ", প্রকাশকাল ১৩ই মার্চ। যাতে আবারও রাহিংগাদের দুরবস্থার প্রতিধ্বনি করা হয়। কুটুপালং এর দিলদার বেগম স্বামীর গ্রেপ্তারের পর থেকে পাচ সন্তান নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। "আমার এবং আমার সন্তানদের মৃত্যু হলে ভাল হয়।" - পচিশ বছর বয়েসী এই নারী এভাবেই আক্ষেপ করলেন। মুসলিম হবার কারনে তারা বৌদ্ধ মায়ানমারে অনাকাংখিত। অন্যদিকে বিদেশী হবার কারনে তারা বাংলাদেশে অনাকাংখিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ রোহিংগাদের উপরে বেশ কঠোর হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করেছে এবং দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সীমান্তে বসিয়েছে অতিরিক্ত প্রহরা। সাথে সাথে এইড গ্রুপগুলোকে খাদ্য সাহায্য বিতরনে সতর্ক করেছে যাতে রোহিংগারা এদেশে আসতে উৎসাহিত না হয়। খাদ্য সাহায্য কমে যাওয়ায় রোহিংগারা অভূক্ত থাকছে। Click This Link rohingyas&st=cse

৩। ইসলাম অনলাইন:

বাংলাদেশে পুলিশ রোহিংগাদের নদী সাতরে মায়ানমারে ফিরতে বাধ্য করছে বলে ইসলাম অনলাইনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। "রোহিংগা'স টেস্ট বাংলাদেশ এবিউস" লেখাটিতে রোহিংগারা বাংলাদেশে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে দাবী করা হয়। বাংলাদেশে ধুকে ধুকে মরাই যেন তাদের নিয়তি।
Click This Link

৪। আল জাজিরা:

"রোহিংগা ক্রাকডাউন ইন বাংলাদেশ" লেখায় বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিংগারা প্রচুর সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে রোহিংগারা পৃথিবীর সবচাইতে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনপদের একটি। নির্যাতনের ফলে মায়ানমারের উত্তর রাখাইন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার রোহিংগা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২২০,০০০ রোহিংগা বাস করছে। Click This Link

৫। টাইম:

"ফর রোহিঙ্গা ইন বাংলাদেশ, নো প্লেস ইস হোম" শিরোনামের রিপোর্টে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে কুটু পালং ক্যাম্পে রোহিংগাদের উপরে নৃশংস ক্রাক ডাউন চলছে। তেইশ বছর বয়েসী জিয়াউর রহমান বলেন, "সীমান্ত রক্ষীরা আমার আংগুল ভেংগে দেয় এবং আমাকে নদীতে ফেলে দেয়। এবং বলে সাতরে ফেরত যেতে।" .....। স্থানীয় বাংলাদেশীদের সাথে রোহিংগাদের সম্পর্ক শীতল। চলছে কাজের প্রতিযোগিতা, যেখানে রোহিংগারা কম মজুরীতে কাজ করতে রাজী। আবার কেউ কেউ আশংকা করছেন জংগী গ্রুপগুলো এই নির্যাতিত এবং নেতাশূন্য জনপদকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেবে। Click This Link

৬। এএফপি:

"মায়ানমার রিফিউজিস স্টার্ভ টু ডেথ ইন বাংলাদেশ" লেখায় বাংলাদেশে রোহিংগাদের করুন অবস্থা বর্ননা করা হয়। হাইতির বিশাল ভূমিকম্পের পরে যেখানে শিশু অপুষ্টির হার শতকরা ছয় ভাগ, সেখানে রোহিংগা ক্যাম্পে তা ১৮ দশমিক ২ ভাগ। জাতিসংঘ কর্তৃক সবচেয়ে নির্যাতিত হিসেবে চিহ্নিত এই জন গোষ্ঠীর উপরে পুলিশ চড়াও হয়ে জেল বহিষ্কার সহ যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে তা সুষ্পষ্ট মানবাধিকার লংঘন।

(Click This Link )




ডেইলী স্টার ও ব্যাংকক পোস্টের প্রতিক্রিয়া:

আন্তর্জাতিক পত্র পত্রিকায় বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিংগাদের উপরে নির্যাতনের খবর প্রকাশ হবার পরে এ প্রেক্ষিতে ডেইলী স্টার মার্চের ২৮ তারিখে এই বিষয়ের উপরে একটি লেখা ছাপে [১০]। যেখানে রোহিংগাদের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিশ্বে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তার কিছু চিত্র স্থান পায়। সৌদি আরব সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গারা কি করে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুন্ন করছে, তার কিছু বর্ননা সমৃদ্ধ লেখা। লেখাটিতে যদিও রোহিংগাদের উপর নির্যাতনকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, তবুও তা একপেশে এবং অসম্পূর্ন। রিপোর্টের একটি অংশের সাথেই শুধু একমত হওয়া যায়। তা হল, রোহিংগারা বার্মার সন্তান এবং বার্মাকেই বাধ্য করতে হবে সে দায় নেবার জন্যে। অনেক অংশ, যেমন - রোহিংগারা সৌদি আরবে ক্রাইমের সাথে জড়িত, সে দায় বাংলাদেশ কেন নেবে - সত্য হলেও রোহিংগাদের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের ঠিক সেভাবে দায়ী করা যায় না। একটি জনগোষ্ঠীর সমস্ত অধিকার অস্বীকার করে তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা আশা করা যায় না। এছাড়া রিফিউজিরা সব দেশেই এরকম সমস্যা তৈরী করে থাকে। বরং সব পক্ষকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো উচিত ছিল। খাপছাড়া ভাবে সেসব কথা যে আসেনি তা নয়, তবে সামগ্রিক মূল ভাব সেরকমটি ছিলনা। বরং মূল বক্তব্য হচ্ছে দায় কাটানো। রিপোর্টের যে লাইন গুলো সবচেয়ে বিরক্তিকর তা হল:

Ironically, the MSF report on persecution of Rohingyas in Bangladesh was released on the day when the Prothom Alo carried the report on involvement of Rohingyas in criminal activities in Saudi Arabia. The MSF report has also been uploaded onto some websites in a bid to generate sympathy for Rohingya refugees

লেখকের সার কথা হল, আন্তর্জাতিক বিশ্বের এসব রিপোর্ট উদ্দেশ্য মূলক- রোহিংগাদের প্রতি সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা মাত্র। অথচ, ডেইলী স্টারের রিপোর্টের কোথাও উল্লেখ নেই আন্তর্জাতিক মাধ্যমের এসব রিপোর্ট আসলে "মিথ্যা"। তাহলে, ডেইলী স্টার কি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলোতে রোহিঙ্গা বিষয়ক সত্য প্রকাশ হোক, তা চায় না?

এখানে উল্লেখ্য, রোহিংগা অনুপ্রবেশকারীদের যে শুধু বাংলাদেশেই প্রতিহত করা হচ্ছে, তা নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের চেয়েও অনেক বেশী নিন্দা ও সমালোচনার মুখোমুখি যে দেশ হয়েছে, তা হল থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের নয়টি ক্যাম্পে ১১১,০০০ রোহিংগা রিফিউজি বসবাস করছে। থাইল্যান্ডে গত ২০০৮ এর ডিসেম্বরে প্রায় ১০০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিংগাদের সীমান্ত রক্ষীরা শারীরীক নির্যাতন করে এবং সাগরে নৌকা দিয়ে ভাসিয়ে দেয়। অপ্রতুল খাবার দিয়ে তাদের নৌকার ইন্জিন কেটে দেয়। যাদের বেশীর ভাগই সাগরে ভেসে যায় এবং বাকীরা ইন্দোনেশিয়র সুমাত্রায় কিংবা ভারতের আন্দামান দ্বীপে উদ্ধার হয়। ধারনা করা হয় পাচটি নৌকার শুধু একটিই বেচে যায়। এই ঘটনা সারা বিশ্বে "থাই বোট এবিউস" নামে পরিচিতি পায়। [৯] বিশ্বের চাপের মুখে থাইল্যান্ড এই ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দেয়। একজন থাই অফিসার ঘটনাটি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, "ইন্জিন না কাটলে ওরা আবার ফিরে আসত।" [৮] এ বিষয়ে ব্যাংকক পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে "থাই বোট এবিউস" নিয়ে সীমান্তরক্ষীদের এহেন অমানবিক আচরনের নিন্দা জানায়। সাথে সাথে এও লিখে:

"অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে থাইল্যান্ডের কোন দায়বদ্ধতা নেই। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে এবং ইমিগ্রেশন প্রত্যাশীদের সেসব নীতিমালা অনুসরন করতে হবে। রোহিংগারা দক্ষিনে নিরাপত্তা সমস্যা তৈরী করে থাকে, যেখানে তারা স্থানীয় মুসলিমদের সাথে খুব সহজে মিশে সরকার ও মুসলিমদের মাঝে সম্পর্কের ফাটল তৈরী করে।"

ব্যাংকক পোস্ট রোহিংগাকে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সব পক্ষের অংশ গ্রহনে সমাধানের উদ্যোগের প্রতি আহ্বান জানায়। [৭]

বার্মার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মত রোহিংগারা যে বাংলাদেশের জন্যেও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে, সে বিষয়ে দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই। ভারত, থাইল্যান্ড, পাকিস্তানের মত বাংলাদেশও ১৯৫১ এর শরনার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষর করা ১৪৭ টি দেশের একটি নয়। যার ফলে শরনার্থীদের বিষয়ে বাংলাদেশের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ১৯৯১ সালের পর থেকে তাই ঢাকা একজন রোহিংগাকেও শরনার্থী হিসেবে রেজিস্টার করেনি। [৬] সেজন্যে এসব অনিবন্ধিত রোহিংগারা বাংলাদেশের মানুষের সাথে মিশে যাবার সুযোগ পাচ্ছে। যা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

রোহিংগাদের উপরে বার্মার নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস:

বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে এত প্রতিকূলতার সম্মূখীন হলেও রোহিংগারা বার্মায় ফিরে যেতে আগ্রহী নয়। শতকের শতক ধরে চলে আসা নৃশংসতা ও নির্যাতনই এর মূল কারন, যা স্বল্প পরিসরে শেষ হবার নয়। আমি হাজারো ঘটনা থেকে উদাহরন হিসেবে অল্প কয়েকটি ঘটনা ও ইতিহাস তুলে ধরছি।

নবম শতক থেকে আরাকান প্রদেশে (যা এখন রাখাইন নামে পরিচিত) আরব, মোগল, তুর্কী, পর্তুগীজ এবং বাঙ্গালসহ নানান বিদেশী বনিক, সৈন্য প্রমূখ বসতি স্থাপন করে । পনের শতকের দিকে এই বসতি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে এবং নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতি গড়ে তোলে। এরাই রোহিঙ্গা নামে পরিচিত।


ছবি: ষোল শত শতকের আরাকানের মূদ্রা, যা বাংলার সুলতান শামস আল দীনের নামে নামাংকিত। (উইকি থেকে নেয়া)

আরাকানের এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপরে বার্মার সৈন্যদের আক্রমন ছিল খুবই সাধারন ঘটনা। ১৭৮৫ সালে প্রায় ৩০০০০ বার্মীজ সৈন্য আরাকান আক্রমন করে লাইব্রেরী, মসজিদ এবং বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে। সাথে সাথে ২০০০০ রোহিঙ্গাকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। রোহিঙ্গাদের উপরে এধরনের বহু ধ্বংস লীলা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাড়িয়ে যায়। এরকম একটি আক্রমনে জীবন্ত রোহিঙ্গাদের পুড়িয়ে মারার মত অমানবিক ঘটনাও ঘটে।

বার্মীজদের এ নৃশংসতা ভুলে যাবার নয়। তাই ১৮২৫ সালে বৃটিশদের স্বাগত জানায় রোহিঙ্গারা। বৃটিশ শাসনে তাদের অবস্থা অনুকূলে থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রোহিঙ্গারা বৃটিশদের অনুগত থাকে। যার জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হয়। ১৯৪২ সালে ঘটে যায় সবচেয়ে নৃশংস রোহিঙ্গা গনহত্যা। সেখানকার রাখাইন মগদের দ্বারা প্রায় ৫০০০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়। [৫] ২৮শে মার্চে শানবিলি গ্রামে শুরু হয় এই রোহিঙ্গা গনহত্যা। শানবিলির পরে এই ধ্বংস লীলা চলে লমবাইসর, রাইচাউং,পাঙ্খা গ্রামে। ১৯৪২ এর এই গনহত্যা এবং ধ্বংস লীলায় বিলুপ্ত হয় ৩০৭ টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম। কালাদান নদীর পূর্ব তীরে যা ছিল মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকা, তা হয়ে যায় মুসলিম সংখ্যা লঘু এলাকা। পরবর্তী সময়ে বৃটেন আবার দখল করে নেয় বার্মা এবং রোহিঙ্গারা তাদের স্বায়ত্বশাসন ফেরত পায়। কিন্তু তা বেশীদিন টেকেনা, কারন ১৯৪৮ সালে বৃটেন বার্মা ছেড়ে চলে যায়। স্বাধীন বার্মায় রোহিঙ্গাদের নিষিদ্ধ করা হয় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সরকারী পদে। রোহিঙ্গারা আবারও অস্ত্র হাতে নেয়। কিন্তু এরকম অবস্থার মধ্যেও সংসদে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি ছিল। ১৯৬২ সালে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল নি উইন, যিনি রোহিঙ্গাদের সর্বাংশে গুড়িয়ে দেন। ১৯৭০ এর পর থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কার্ড প্রদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৭৪ সালে কেড়ে নেয়া হয় ভোটাধিকার। এরপরে ১৯৭৮ সালে শুরু হয় অপারেশন ড্রাগন কিং। যার প্রেক্ষিতে ২৫০০০০ রোহিঙ্গা তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। আন্তর্জাতিক চাপের ফলে এদের বেশীর ভাগকেই তখন আবার বার্মা ফেরত নেয়। কিন্তু এখানে শেষ হয় না। ১৯৯১-৯২ সালে আরো এক সমুদ্র রোহিঙ্গা এসে হাজির হয় বাংলাদেশে। বর্তমানে বার্মার প্রতিবেশী দেশগুলো এই রোহিঙ্গা সমস্যায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়।[৪]

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনপদে সেনা অভিযান নিয়মিত হয়ে দাড়িয়েছে। এমনি এক অভিযানে যখন মংদুতে একটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন একজন রোহিঙ্গা বলছিল, "মারাকেশ মসজিদ এক বছর আগে বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের কেউ কেউ চেয়ে চেয়ে দেখছিলো। পুলিশ তাদের পিটিয়ে বের করে দেয়।" আরেকজন শরনার্থী বলেন, "আমার ২০ একর জমি এবং ৭টি গরু ছিল। সব কেড়ে নেয়া হয়েছে।" [৩]


এতকিছুর পরে রোহিঙ্গাদের উপর আরেকটি বড় আঘাত নেমে আসে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালের নাগরিকত্ব আইনে সব নাগরিক সমান সুবিধা ভোগ করত, যা ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনে নেই। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী বার্মান নাগরিক তিন ধরনের হতে পারে: পূর্ন নাগরিক, সহযোগী নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড নাগরিক। পূর্ন নাগরিক হচ্ছে তারা যারা ১৮২৩ সালে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে বার্মায় অবস্থান করছিল। মোট ১৩৫ টি জাতিসত্ত্বা এই নাগরিকত্বের অনুমোদন পায়, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গারা নেই। এই পূর্ন নাগরিকরা রাষ্ট্রের সব ধরনের নাগরিক অধিকার পাবেন। সহযোগী নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড নাগরিকদের অধিকার পূর্ন নাগরিক অধিকারের সমকক্ষ নয়। ১৯৮৯ সালে বিভিন্ন বর্নের নাগরিকত্ব কার্ড সবাইকে দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের কোন রকম কার্ড দেয়া হয় না। রোহিঙ্গারা হারায় নাগরিকত্ব, তারা বার্মা কিংবা অন্য কোন দেশের নাগরিক নয়। বার্মা রোহিঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গন্য করে। ভ্রমন, বিয়ে, সন্তান সহ অন্যান্য নানা বিষয়ে তাদের উপরে আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভ্রমনে কড়াকড়ি থাকায় অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেয়া একটি বিশাল সমস্যা হয়ে দাড়ায়। [১] ২০০১ থেকে আরাকানের আকিয়াব বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়ার সুযোগ সীমিত করা হয়। ফলে তারা অনেকটা অশিক্ষিত হয়ে বাড়ছে। মেডিসিন স্যান ফ্রন্টিয়ার্সের মতে রোহিঙ্গারা বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।[২]

শেষ কথা:

রোহিঙ্গাদের উপর দীর্ঘ নির্যাতনের ইতিহাস সত্ত্বেও তারা ঘুরে দাড়িয়েছে এবং বিশ্ব জনমতকে নিজেদের পক্ষে নিতে পেরেছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুত বার্মা তাদের নাগরিকত্ব এবং নাগরিক অধিকার প্রদান করবে। তবে সেরকম সমাধান আসার আগ পর্যন্ত সব পক্ষকে ধৈর্যশীল হয়ে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মানবিক ভাবে বিবেচনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হলেও, তাদের কেস অন্য অনুপ্রবেশকারীদের মত নয়। বরং এই রোহিঙ্গাদের এই অনুপ্রবেশকে আমি দেখি বাচার সংগ্রাম হিসেবে, জীবনের প্রতি মমত্ববোধের অংশ হিসেবে। যারা বাচতে চায়, জীবনকে গড়তে চায়।

১। Click This Link
২। Click This Link
৩।http://www.amnesty.org/en/library/asset/ASA16/006/1992/en/30e04c3e-f93d-11dd-92e7-c59f81373cf2/asa160061992en.pdf
৪। Click This Link
৫। http://en.wikipedia.org/wiki/Rohingya_massacre
৬।http://www.weeklyblitz.net/536/rohingya-persecution-in-bangladesh
৭। Click This Link
৮।http://www.bangkokpost.com/news/investigation/136770/rohingya-a-regional-problem

৯। Click This Link
১০। Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29130437 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29130437 2010-04-07 09:50:20
মেগা ওয়াট ও মিলি ওয়াটের ফাদে

Countrywide agitation: 200mw power diverted from Dhaka to meet demand


একটু বেখাপ্পা ঠেকল। কেন বুঝতে চেষ্টা করলাম। পরে বুঝলাম 200mw শব্দটা বেমানান লাগছে। সব সময়েই mw বলতে মিলিওয়াট আর MW বলতে মেগা ওয়াট বুঝতাম। আমার এই বুঝের কোন ভিত্তি আছে কিনা তা জানতে উইকিতে সার্চ দিলাম। তারাও দেখলাম তাই করেছে। http://en.wikipedia.org/wiki/Watt


নিউ ন্যাশন অবশ্য মূল সংবাদে মেগাওয়াট MW লিখেছে।


ফালতু এই বিষয়টি নিয়েও একটা পোস্ট দিতে ইচ্ছে হল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29124559 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29124559 2010-03-27 23:09:07
শুভ পাই দিবস ও আর্কিমেডিস


আজ মার্চের চৌদ্দ তারিখ। পাইয়ের মান ৩ দশমিক ১৪। ৩ হল মার্চ আর চৌদ্দ হল তারিখ। তাই মার্চের চৌদ্দকে "পাই দিবস" ডাকা হয়।

অনেকেই পাইয়ের মান বের করেন, তবে আর্কিমিডিসের পদ্ধতি সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় হয়। তিনি তার বই "Measurement of a Circle" এ প্রমান করেন:

বৃত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত (যা পাইয়ের সংজ্ঞা) ২২/৭ এর চেয়ে কম, কিন্তু ২২৩/৭১ এর চেয়ে বেশী।

আর্কিমিডিসের এই পাইয়ের মান নির্নয়, পাইয়ের প্রকৃত মানের খুব কাছাকাছি। আর্কিমিডিসের এই পদ্ধতি পাওয়া যাবে এখানে: Click This Link

যুগ শ্রেষ্ঠ গ্রীক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস সিসিলিতে জন্ম নিয়ে পড়াশোনা করেন মিশরের আলেকজান্ড্রিয়াতে। ধারনা করা হয়, সেসময় আলকজানড্রিয়াতে পড়াতেন আরেকজন স্বনামধন্য গ্রীক বিজ্ঞানী ইউক্লিড (আনুমানিক ৩০০ খ্রীষ্টপূর্ব শতক)। আর্কিমেডিস তার কাছে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতের আর্কিমেডিস তার বৈজ্ঞানিক অবদানের ক্ষেত্রে শিক্ষককে ছাড়িয়ে যান। Click This Link

আর্কিমিডিস বিখ্যাত হয়েছেন তার প্লবতা সূত্রের কারনে। রাজা হিরন একটি মুকুট নিয়ে সন্দেহ করেন যে, স্বর্নকার এতে ভেজাল মিশিয়েছে। আর্কিমিডিসকে এর তদন্তের দায়িত্ব দেন। আর্কিমিডিস গোসল করতে গিয়ে দেখেন তিনি নামলেই পানি উঠে যায়। অবশেষে তিনি প্রমান করলেন, যেটুকু পানি বেড়ে যায় তা আসলে বস্তুর হারানো ওজনের সমান। এমনি করে তিনি দেখালেন যে, প্রকৃত সোনার তৈরী মুকুট আরো বেশী ওজনের হবে। তাই রাজার অনুমান সঠিক এবং মুকুটটি ভেজাল যুক্ত।

আর্কিমেডিস তার শহর সিরাক্রুসকে রোমানদের হাত থেকে দখল মুক্ত রাখার জন্য আয়নার বিভিন্ন ব্যবহার দিয়ে আগত শত্রু জাহাজকে সূর্যের আলোয় পুড়িয়ে দেয়া সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কৌশল আবিষ্কার করেন। এভাবে তিনটি বছর রোমানদের হাত থেকে নিজের শহরকে রক্ষা করেন। ৭০ বছর বয়েসী গ্রীক বিজ্ঞানীর এই আবিষ্কার রোমান সৈন্যদের ধাধায় ফেলে দেয় রীতিমত।


নীচে সেই বার্নিং মিররের ছবিটি দেয়া হল"


আর্কিমেডিস বার্নিং মিরর ফিট করছেন।



ছবি কৃতজ্ঞতা:
Click This Link


বার্নিং মিরর শত্রু জাহাজকে আঘাত হানছে।



ছবি কৃতজ্ঞতা: Click This Link


জোয়ানেস জোনারাস, ১২ শত শতকের একজন বাইজেনন্টাইন ইতিহাসবিদ, তিনি লিখেন:

"শেষে, অবিশ্বাস্য উপায়ে তিনি পুরো রোমান জাহাজকে পুড়িয়ে দিলেন। একধরনের আয়নায় তিনি বায়ুকে উত্তপ্ত করলেন এবং বড় শিখা জ্বালালেন। যা তিনি জাহাজের দিকে তাক করলেন, পুরোটা পুড়িয়ে দেয়া পর্যন্ত। "


আর্কিমিডিস নিহত হন রোমান সৈন্যের হাতে। রোমানরা গ্রীস দখল করার পরে আর্কিমিডিসকে সারেন্ডার করতে বলে। আর্কিমিডিস তখন বালুতে বৃত্ত একে থিওরি প্রমানের চেষ্টায় রত। তিনি সৈন্যটির দিকে তার তরবারী তাক করে বললেন, আগে তিনি তার থিওরেম প্রমান করবেন, পরে সারেন্ডার করবেন। সৈন্যটি এতে ক্ষিপ্ত হয় এবং আর্কিমিডিসকে হত্যা করে।

শুভ পাই দিবসে সবার জন্য শুভেচ্ছা।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29116666 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29116666 2010-03-15 09:37:31
জিয়া বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন, রানী ইসাবেলা যে ধন্যবাদ পেতে পারেন


রানী ইসাবেলা।

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী শাসকদের একজন। মাত্র সতের বছর বয়েসে কাস্টিলের পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন পান এই রাজকুমারী। আঠারো বছর বয়েসে তিনি বিয়ে করেন এরাগনের রাজকুমার ফার্ডিনান্ডকে, যিনি পরবর্তীতে এরাগনের রাজমুকুট পরিধান করেন। এই বিয়ে এরাগন এবং কাস্টিলকে বন্ধু রাষ্ট্রে পরিনত করে, স্পেনে ক্যাথলিক শাসনকে পোক্ত করে এবং স্পেনকে পৃথিবীর বুকে একটি শক্তিশালী রাজত্বের মর্যাদা দেয়। নারীশিক্ষা সেসময়টাতে খুব আদৃত না থাকলেও তিনি নারী শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ছিলেন গরীব দুখীদের আশ্রয়। অতিশয় সাদামাটা ইসাবেলা নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। নিবেদিত প্রান এই ক্যাথলিক নারী তার পুত্রের মৃত্যর পর বলেন, "প্রভু আমায় তাকে দিয়েছিলেন, প্রভুই তাকে আমার কাছ থেকে ফিরিয়ে নিলেন। তার পবিত্র নামেরই প্রশংসা।" ইসাবেলার সাফল্য গাথায় রয়েছে রিকনকুয়েস্তা, বা গ্রানাডা বিজয়, কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার, চার্চের পুনর্গঠন। এছাড়া রয়েছে স্প্যানিশ ইনকুইজিশন, যার মাধ্যমে তিনি ধর্মের কুলাংগারদের শায়েস্তা করেছেন। মুসলিম এবং ইহুদীদের খুব দ্রুত তিনি কাস্টিল থেকে বহিষ্কার করেন, যদিও তার স্বামী ফার্ডিনান্ডের রাজ্য এরাগনে মুসলিমদের তখনও উপস্থিতি ছিল। তাকে "ইসাবেলা দ্য ক্যাথলিক"ও বলা হয়, তবে স্প্যানিশ ইনকুইজিশন এবং বিধর্মীদের স্পেন থেকে বহিষ্কার তার সেইন্ট হুড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়ায়। তিনি সেইন্ট হতে পারেন নি।

জ্ঞানের সাধক ইসাবেলা একজন সৃজনশীল মনের অধিকারী ছিলেন। মুরদের রেখে যাওয়া শিল্প স্থাপত্যের সৌন্দর্য তার মনকেও স্পর্শ করেছিল। যার ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি অনমনীয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি আল হাম্বরা কিংবা জিব্রাল্টারের নাম পরিবর্তন করেন নি। তিনি যদি চাইতেন তবে মুসলিমদের সেই নাজুক অবস্থায় স্পেনের প্রতিটি স্থাপনা থেকে মুসলিমদের চিহ্ন একেবারে মুছে ফেলতে পারতেন।

শেখ হাসিনা কতৃক জিয়া বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন আমাকে রানী ইসাবেলার কথা মনে করিয়ে দিল। বিএনপির অবস্থা মোটেই নাজুক নয়, তারা দেশের সর্ব বৃহৎ বিরোধী দল। তা সত্ত্বেও বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন হয়েছে। ইসাবেলা যা করেন নি, হাসিনা তা করেছেন।

ধন্যবাদ কাকে দেব? হাসিনা নাকি ইসাবেলা?

হয়ত বা ইসাবেলাকে।

ছবি : উইকিপিডিয়া

Click This Link
http://www.ctspanish.com/legends/isabella1.htm
http://en.wikipedia.org/wiki/Morisco]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29104910 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29104910 2010-02-24 22:55:23
এডিসন বনাম ওয়েস্টিংহাউস : এসি ডিসির যুদ্ধ


বিদ্যুৎ কথা: এসি না ডিসি?

বিদ্যুতের সাথে আমাদের জীবন পুরোপুরি জড়িয়ে গিয়েছে। আজকের দিনে বিদ্যুৎ না হলে আমাদের এক মুহুর্তও যেন চলেনা। দৈনন্দিন জীবনেই শুধু নয়, সাথে সাথে রাজনীতিতে বিদ্যুৎ নিয়েছে অন্যতম নীতি নির্ধারন ভূমিকা। বাংলাদেশে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের কিংবা ২০০৯ এর নির্বাচনে জোট সরকারের ভরাডুবির পেছনেও ছিল এই বিদ্যুৎ। দিন দিন এমনই গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে এই শক্তিটি।

দুই ধরনের বিদ্যুতের সাথে আমরা পরিচিত - এসি, বা অল্টারনেটিং কারেন্ট । এবং ডিসি, বা ডিরেক্ট কারেন্ট। ডিসি কারেন্ট সোজা সাপ্টা। নিরবিচ্ছিন্ন তার প্রবাহ, সময়ের সাথে এর মানের পরিবর্তন হয় না। টর্চ লাইটে পাচ ভোল্টের ব্যাটারী যে বিদ্যুৎ দিয়ে থাকে তা হল ডিসি কারেন্ট। অন্যদিকে এসি কারেন্ট এর উল্টো। সময়ের সাথে বাড়ে কমে। বাসা বাড়ীতে ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তা হচ্ছে এসি কারেন্ট। নীচের ছবিতে এসি ও ডিসি কারেন্ট।








ধরা যাক আপনার কাছে প্রশ্ন রাখা হল:
আপনি কোন ধরনের বিদ্যুতের সমর্থক? এসি না ডিসি?


বিদ্যুতের পেছনের ইতিহাস জানা না থাকলে আপনি অবাক হবেন। ভাববেন, এ কি কোন প্রশ্ন হল? প্রশ্নকারী কি পাগল নাকি? বিদ্যুত নিয়ে যুদ্ধ করার কি আছে!

না, প্রশ্নকারী পাগল নন, তিনি ইতিহাস ভালই জানেন। আজ বাসা বাড়ী কিংবা শিল্প কারখানায় যে এসি কারেন্ট সরবরাহ করা হয়, তার পেছনেও এক বড় যুদ্ধ আছে বৈকি। যা "কারেন্ট যুদ্ধ" নামে পরিচিত। আর এই যুদ্ধ যাদের মধ্যে সংগঠিত হয়েছিল তাদের এক পক্ষ ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন, এবং অন্যপক্ষ ছিলেন ওয়েস্টিংহাউস ও টেসলা। এডিসন নেতৃত্ব দেন ডিসি কারেন্টের পক্ষে, অন্যদিকে টেসলা-ওয়েস্টিংহাউস এসি কারেন্টের পক্ষে লড়েন।

এসি ডিসির এই যুদ্ধে কে জয়ী হন? যুদ্ধের ফলাফল আগে ভাগে বলে দিলে মজা ফুরিয়ে যায়। সেটা জেনেও বলছি, এই যুদ্ধে হেরে যান এডিসন, যার ফলে ওয়েস্টিংহাউস-টেসলা তাদের প্রস্তাবিত এসি কারেন্টকে জনপ্রিয় এবং বাজারজাত করতে পেরেছিলেন। এসি কারেন্টের এই জয় খুব সহজে আসেনি, এডিসন সর্বাত্মক চেষ্টা করেন ডিসির পক্ষে। তাহলে সে গল্পটাই আজ আপনাদের শোনাই।

যেভাবে এসি/ডিসির যুদ্ধ শুরু:

আজকের দিনে বাসা বাড়ীতে এসি কারেন্ট সরবরাহ করা হলেও প্রথমে পরিস্থিতি কিন্তু ছিল উল্টো। ডিসি কারেন্টই তখন সরবরাহ করা হত আমেরিকাতে। সেসময়টাতে কোন এসি-মটর উদ্ভাবিত হয় নি। ডিসি কারেন্ট দিয়ে বৈদ্যুতিক বাতি, স্টোরেজ ব্যাটারী এবং ডিসি মটর চালানো যেত। বৈদ্যুতিক বাতির নীতি বেশ সোজা - বাতির ভেতরের ফিলামেন্ট খুব বেশী গরম হয়ে যায় যদি কারেন্ট প্রবাহিত করা যায়। এই ফিলামেন্ট গরম হয়ে এরপর জ্বলতে থাকে। অর্থ্যাৎ বিদ্যুৎ শক্তি প্রথমে তাপ শক্তি এবং এর পরে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। ডিসির প্রবক্তা এডিসন তার এই ডিসি নেটওয়ার্ককে এগিয়ে নিতে থাকেন। এই ধারাবাহিকতায় ১৮৭৬ সালে টমাস আলভা এডিসন ডায়নামো এবং আরো কিছু ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্র পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য নিউ জার্সিতে একটি গবেষনাগার খোলেন। এর পরে ১৮৯০ সালে এডিসন প্রতিষ্ঠা করেন জেনারেল ইলেক্ট্রিক, যা আজকের পৃথিবী অন্যতম বৃহৎ মাল্টিন্যাশনাল বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। ফোরবস পত্রিকার র‌্যাংকিং অনুযায়ী ২০০৯ এ জেনারেল ইলেক্ট্রিক ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান।

সার্বিয়ান বিজ্ঞানী টেসলা কাজ করতেন এডিসনের সাথে। তিনি ঘূর্নায়মান চৌম্বক ক্ষেত্রের উপর কাজ করতে গিয়ে এসি কারেন্টের দেখা পান। সাথে সাথে তিনি এসি কারেন্ট কি করে উৎপাদন, সরবরাহ এবং ব্যবহার করা যায় - সেটার উপরেও কাজ করেন। দুভার্গ্য এডিসনের। তিনি টেলসার কাজকে যথাযথ মূল্যায়ন করেন নি। টেসলার এসি পাওয়ার ট্রান্সমিশনের আইডিয়া এক কথায় উড়িয়ে দিয়ে এডিসন বললেন, "আইডিয়া বেশ চমৎকার। তবে তা বাস্তবতার সাথে বেমানান।" টেসলা ক্ষোভে চলে যান এডিসনকে ছেড়ে ওয়েস্টিংহাউসের কাছে, যোগ দেন ওয়েস্টিংহাউসের সাথে। ওয়েস্টিংহাউস এসিকে বাজারজাত করতে থাকেন। টেসলার polyphase system, ট্রান্সফর্মার, এবং অন্যান্য আবিষ্কার দিয়ে শুরু হয় এসি সিস্টেমের যাত্রা। ওয়েস্টিংহাউস টেসলার গবেষনাকে সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করে এসি কারেন্ট সিস্টেমকে এগিয়ে নিতে থাকেন। ১৯৮৮ সালের মধ্যেই টেসলার সহায়তায় ওয়েস্টিংহাউস থ্রী ফেজ ৬০ হার্টয এসি কারেন্টের মোটামুটি একটি ডিজাইন চূড়ান্ত করে ফেললেন।

কেন এডিসন টেসলার এসি কারেন্টকে গুরুত্ব দেন নি? কারন, এডিসন আসলে ম্যাথমেটিশিয়ান ছিলেন না। ম্যাথমেটিকস এবং ফিজিক্সের উপর ভালো দখল না থাকলে এসি কারেন্টের মূলনীতি বোঝা অসম্ভব। পরবর্তীতে এডিসন অনুতপ্ত হন টেসলার কাজকে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হবার কারনে।

আগেই বলেছি, প্রথম দিকে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ছিল ডিসি কারেন্ট ভিত্তিক। তা যদি কেউ এসি কারেন্ট দিয়ে বদলে দিতে চায়, তবে আম জনতাকে প্রভাবিত করতে হবে যে এসি প্রকৃতপক্ষে ডিসির চেয়ে উন্নত। এসি প্রনেতাদেরকে সেরকম উদ্যোগ নিতে হল। তারা ডিসি কারেন্টের সমস্যা গুলো নিয়ে কাজ করে আমজনতাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হলেন যে, এসি কারেন্ট ডিসি কারেন্টের সব চ্যালেন্জ্ঞ মোকাবেলা করতে সক্ষম।

এসি যেভাবে ডিসিকে চ্যালেন্জ্ঞ দিল:

এডিসনের ডিসি ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে ডিসি পাওয়ার প্ল্যান্ট মানুষের বাসায় বাসায় ১০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ করত। মুশকিলটা হল মোটা কপার কনডাকটর বা লাইনের খরচ। সে খরচ বাচাতে তিন লাইনের ব্যবস্থা করা হল, ১০০ ভোল্ট, -১০০ ভোল্ট আর মাঝখানের নিউট্রাল বা গ্রাউন্ড ০ ভোল্টের লাইন। এতে কপার লাইনের খরচ কিছুটা কমে আসলেও বেড়ে যায় লাইন লস। যার ফলে ২ কিলোমিটারের বেশী দূরে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয় না। ডিসি কারেন্ট আবার কমানো বাড়ানো যায় না, ফলে প্রতিটা ভোল্টেজের জন্য আলাদা লাইন লাগে। যার ফলে একজন গ্রাহক বাতির জন্য বিদ্যুৎ নেন যে লাইন দিয়ে, সেই একই গ্রাহককে মোটরের জন্য অন্য লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ নিতে হচ্ছিল, কারন মোটর আর বাতি চলে দুই ভোল্টেজে। এসব নানা অসুবিধা ডিসির জন্য বড় চ্যালেন্জ্ঞ হয়ে দাড়ায়।

এসি কারেন্টের মূল সুবিধা ছিল ট্রান্সফর্মার, যা ভোল্টেজের মান বাড়াতে ও কমাতে পারে। ১০০০ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার দিয়ে খুব সহজে ১০০ ভোল্ট করা যায়। আবার উল্টোটাও সত্য - ১০০ ভোল্টের বিদ্যুতকে ট্রান্সফর্মার দিয়ে ১০০০ ভোল্ট করা যায়। এই ট্রান্সফর্মারের জন্যই ডিসি কারেন্টের সমস্যাগুলো এসি কারেন্টের ক্ষেত্রে রইল না। ট্রান্সফর্মার দিয়ে ভোল্টেজকে অনেক গুন বাড়িয়ে হাই ভোল্টেজ গ্রীড দিয়ে খাম্বা থেকে খাম্বায় পরিব হন করা হয়। অন্যদিকে গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয় আরেকটি ট্রান্সফর্মার দিয়ে, যাতে ভোল্টেজের মান কমিয়ে নিরাপদে গ্রাহকের বাড়ীতে সরবরাহ করা হয়। গ্রীড লাইনে হাই ভোল্টেজ থাকার ফলে কারেন্ট কম হয়। সাথে সাথে কমে আসে লাইন লস এবং কপারের পুরুত্ব। এই সুবিধাগুলো ডিসি কারেন্ট দিতে পারছিল না, কারন ট্রান্সফর্মারের মূল কার্যপ্রনালীর পেছনে রয়েছে এসি। ডিসি কারেন্ট এরকম পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরী করতে পারেনা, যা কিনা ট্রান্সফর্মারের মূল অপারেশন নীতি।

এডিসন এসির অগ্রযাত্রা ভালভাবে নিলেন না। তিনি দাবী করতেন, "ডিসি কারেন্টের তুলনা হচ্ছে নদী যে শান্তভাবে জলরাশিকে সাগরে ফেলে, অন্যদিকে এসির তুলনা হচ্ছে সেই ঘূর্নি যা বিপদের কিনারার দিকে ধাবিত হয়।" ১৮৮৭ সালে এডিসন নিউজার্সিতে এক জনসমাবেশে ১০০০ ভোল্টের এসি জেনারেটর থেকে প্রস্তুতকৃত বিদ্যুতে স্পর্শ লাগিয়ে বেশ কিছু প্রানীকে ইলেকট্রিফাইড করে হত্যা করেন। যা পরবর্তিতে "ইলেট্রোকিউশন" নামে পরিচিত হয়। এতে করে এসি কারেন্টের বিপদ তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য, যা ডিসি কারেন্টের ক্ষেত্রে নেই। জন নিরাপত্তাকে কারন দেখিয়ে এডিসন চেষ্টা করলেন ৮০০ ভোল্টের বেশী বিদ্যুৎ সরবরাহের বিরুদ্ধে আইন প্রনয়নের যায় কিনা। কিন্তু ব্যর্থ হলেন। ওয়েস্টিংহাউস সবাইকে আশ্বস্ত করলেন, বিপদজনক হলেও এসি তা মোকাবেলা করতে সক্ষম বিশেষত যেখানে এসির উপকারী দিকগুলো অনেক বেশী।

যুদ্ধ এগিয়ে যেতে লাগল এবং এসি কারেন্ট এই যুদ্ধে বিজয়ের দিকে যাচ্ছে। নায়াগ্রা ফলস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হল। এডিসনের বিপরীতে দরপত্র জিতে নেন ওয়েস্টিংহাউস।
এদিকে নিউ ইয়র্ক স্টেট প্রশাসন থেকে এডিসনের কাছে জানতে চাওয়া হল, মৃত্যুদন্ডের কোন পদ্ধতি সবচাইতে উৎকৃষ্ট। এডিসন শেষ বারের মত আশার আলো দেখলেন। তিনি স্টেটকে বললেন, মৃত্যদন্ডের সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা হল এসি কারেন্ট, কেননা তা এত মারাত্মক যে সাথে সাথে হত্যা করে। তার উজ্জ্বল ইমেজের কারনে স্টেট এই পন্থা গ্রহন করল। ডিসি কারেন্টের প্রবক্তারাই স্টেটকে ইলেক্ট্রিক চেয়ার সরবরাহ করল মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার জন্যে। এডিসন চেয়েছিলেন এই ইলেক্ট্রিক চেয়ারের মাধ্যমে "ওয়েস্টিংহাউস" নামটি মিলিয়ে দিতে। কিন্তু বিধি বাম। প্রথম কয়েদীকে ১৭ সেকেন্ড ইলেকট্রিক শক দেবার পরেও সে বেচে রইল। এদিকে এই ইলেক্ট্রিক চেয়ারের বীভৎসতা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং এডিসন সমালোচিত হন।

ডিসি আর টিকতে পারল না এসির সাথে। পরাজয় চূড়ান্ত হয়ে যায় ১৯০০ সালের মধ্যে, যখন এডিসনের জেনারেল ইলেক্ট্রিক এসি কারেন্ট উৎপাদন ও সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। সমাপ্তি ঘটে দশক ব্যাপী কারেন্ট যুদ্ধের।

============================================


এডিসনের কিছু কোট:

"আমার যদি এত বেশী উচ্চাভিলাস না থাকত এবং আমি যদি জীবনে এত বেশী কাজের চেষ্টা না করতাম, তবে হয়ত আমি অনেক বেশী সুখী থাকতাম, যদিও বা তাতে আমার মূল্য কম হত।"
-- এডিসন


"প্রকৃতি কি তা আমরা জানি। ধর্মের গড কি তা আমরা জানি না। প্রকৃতি দয়ালু, অমায়িক কিংবা প্রেমময় নয়। যদি গড আমাকে সৃষ্টি করে থাকেন, যিনি দয়াবান, অমায়িক কিংবা প্রেমময়তা গুনে ভূষিত - তাহলে তিনি তো মাছও সৃষ্টি করেছেন যাকে আমি ধরে খাই। তাহলে মাছের জন্য কোথায় তার দয়া, মায়া এবং ভালবাসা রইল? "

-- এডিসন (যে কথার জন্য তাকে নাস্তিক বলে সন্দেহ করা হত)

"আমি এজন্য গর্বিত যে আমি কখনও মারনাস্ত্র তৈরী করিনি।"
-- এডিসন

http://en.wikipedia.org/wiki/General_Electric
http://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_Edison
Click This Link
Click This Link
http://www.ge.com/company/history/edison.html
http://en.wikipedia.org/wiki/War_of_Currents
http://www.pbs.org/tesla/ll/ll_warcur.html


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29102167 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29102167 2010-02-21 03:11:13
ভুলে যাও, তারে ভুলে যাও একেবারে
কিন্তু হল। আমিই উৎসাহ নিয়ে বললাম, "এদিকে এসেছো আর দেখা হবে না, তাও কি হয়?"

"না, হয় না। আসছি তোমার বাসায়।" তুমি জানালে।

আমি ছুটলাম রান্নাঘরে। যদিও ইদানিং সে জায়গাটা বিষময় মনে হয়। আর কত? একটা জীবনের কতটা অংশ রান্নাঘরে থাকা যায়!!! শর্টকাটের উপর দিয়ে কিছু নাস্তা তৈরী করলাম।

তুমি এলে।

তোমাকে দেখে খুশী হলাম।

আড্ডা চলছিল জমজমাট। যদিও তোমার অস্থিরতা আমার চোখকে ফাকি দেয় নি। তুমি বেশ অদ্ভূত আচরন করছিলে। অসংলগ্ন কথা বার্তা, বার বার অন্য মনষ্ক হয়ে যাওয়া। এই সবই কারো নজর এড়াল না।

বলি বলি করে অবশেষে প্রশ্নটা করলাম, "আরিফ কি আবার বিয়ে করেছে?"

"হ্যা। গত সপ্তাহে।"

আমি বুঝলাম তোমার অস্থিরতার পেছনের কারন। হাজারো আইনী ঝামেলা মিটিয়ে যে মানুষটিকে ফেলে এসেছো, তার অদৃশ্য বাধন থেকে তুমি আসলে পুরো মুক্ত নও। অথচ, এক সময় দাবী করেছিলে ওটাই হবে তোমার সবচেয়ে বড় মুক্তি।

ভোলা কঠিন। স্কুলে পড়ার সময় থেকে পরিবারের চোখ রাংগানি অগ্রাহ্য করে বছরের পর বছর ধরে যে মানুষটিকে নিয়ে বিভোর হয়ে থাকতে, যে মানুষটিকে কাছে পেয়ে একসময় তুমি নিজেকে সবচেয়ে সৌভাগ্যবতী ভেবেছিলে - সে মানুষটি আজ আর তোমার কেউ নয়। কিন্তু কেউ না হলেও যে দাগ সে রেখে গেছে, তা কি তুমি মুছতে পারবে?

ডিভোর্সের আগেও সবাই এই প্রশ্নটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করেছে। তখন তোমাকে কেউ টলাতে পারেনি। আজ কেন তবে তুমি লতার মত নুয়ে পড়ছ? তোমার হৃদয়ের রক্তক্ষরন যে আমাদের সবাইকে কাদায়।

ভুলে যাও। যত কঠিনই হোক।

তাতেই তোমার মুক্তি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29090450 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29090450 2010-02-03 05:15:31
ইউরোপের মুসলিম অভিবাসীদের সাম্প্রতিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট এবং ইসলাম/মুসলিম বিষয়ে সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি

ইদানিং শেরবিনি হত্যাকান্ডসহ বেশ কিছু ঘটনায় মুসলিম সংখ্যালঘু বিষয়ে ইউরোপের ভাবমূর্তি চ্যালেন্জ্ঞের মুখোমুখি হয়েছে। এ লেখাটিতে ইউরোপের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ইমেজ সংকট, বিঘ্নিত নাগরিক অধিকার এবং হুমকিগ্রস্ত জীবনধারাসহ অল্প কিছু বিষয়ে আলোকপাত করছি।

স্ট্যাটিসটিকস বক্স: ইউরোপের মুসলিম জনপদ ও ইসলামোফোবিয়া

ইউরোপিয়ান মনিটরিং সেন্টার অন রেসিজম এন্ড জেনোফোবিয়ার প্রধান বিট উইন্কলার এর মতে ইউরোপ এখন ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত। এদের পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনকভাবে ফুটে উঠেছে। সংক্ষেপে এসব ইসলামোফোবিক কিছু ফ্যাক্ট নীচে উল্লেখ করা হল। স্বল্প পরিসরের লেখায় এর পুরো চিত্র দেয়া সম্ভব নয়, তবে নীচের কয়েকটি স্ট্যাটিসটিকস আপনাকে বর্তমান ইউরোপে মুসলিমদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা দেবে।

(ডাটা কৃতজ্ঞতা: [১], [২], [৩], [৪], [১০], [২৪])



(ছবি কৃতজ্ঞতা: Click This Link )

১। ইউরোপে বসবাস করে ৫৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন মুসলিম। যার মধ্যে ১৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন মুসলিম বাস করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে।

২। জরিপে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ পশ্চিমা ইউরোপিয়ান স্বীকার করেছেন ইউরোপের মুসলিমদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সুইডেনের ক্ষেত্রে এই হার শতকরা ৭৫ ভাগ এবং নেদারল্যান্ডস এর ক্ষেত্রে শতকরা ৭২ ভাগ।

৩। জরিপে অংশ নেয়া জার্মানীর ৭৮ ভাগ এবং স্পেনের ৮৩ ভাগ উল্লেখ করেছেন যে মুসলিমদেরকে তারা উগ্র বলেই জানেন।

৪। ২০০২ তে আয়ারল্যান্ডে নেয়া এক জরিপে দেখা যায় মুসলিমদের বেকারত্বের হার শতকরা ১১ ভাগ, যেখানে জাতিগত বেকারত্বের হার মাত্র চার ভাগ। চাকুরীর ক্ষেত্রে বিশেষত মুসলিমরাই বেশী বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে।

৫। ইউরোপের ৫৯% মুসলিম বিশ্বাস করেন মুসলিমদের প্রতি ঘটে যাওয়া বৈষম্যমূলক ঘটনা রিপোর্ট করে আদৌ কোন লাভ হবেনা। অন্যদিকে ৩৮% মুসলিম মনে করেন এসব ইসলামোফোবিক ঘটনা রিপোর্ট করা অর্থহীন কেননা এ ধরনের বৈষম্যমূলক ঘটনা প্রাত্যাহিক জীবনের অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।

৬। প্রতি তিন জন মুসলিমের একজন গত এক বছরের মধ্যে বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন। শতকরা ১১ ভাগ মুসলিম রেসিষ্ট অপরাধের স্বীকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশী বৈষম্যের স্বীকার হতে হয় চাকুরী ক্ষেত্রে। চাকুরী খোজায় ১৮ ভাগ বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন, আর চাকুরীতে থাকাকালীন সময়ে বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন ১৩ ভাগ। প্রায় ৭৯% ভাগ মুসলিম এসব ঘটনাকে রিপোর্ট করেন নি।

৭। ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসের ২০০৪ সালের এক স্টাডিতে দেখা যায় সেলস পারসনের জন্য পাওয়া ২৫৮ টি আবেদনের মধ্যে নর্থ আফ্রিকান ব্যাকগ্রাউন্ড কারো ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের থেকে পাচগুন কম।

৮। যদিও আমেরিকা এবং বৃটেনে তুলনামূলকভাবে এন্টিসেমিটিজম কম, তবুও এই দেশ দুটোর প্রতি চারজনের একজন মুসলিমদের প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন।

মুসলিম সংখ্যালঘুরা কেন এসব বৈষম্যকে রিপোর্ট করতে অনিচ্ছুক?
এ প্রশ্নের এসেছে বিভিন্ন জবাব:

১। ৫৯% মুসলিম বলেছেন রিপোর্ট করে কোন লাভ নেই।
২। ৩৮% মুসলিম বলেছেন এতো প্রাত্যাহিক জীবনের অংশ।
৩। ৩৩% মুসলিম বলেছেন কি করে রিপোর্ট করব তা জানা নেই।
৪। ২১% মুসলিম বলেছেন যদি উল্টো ফল হয়!!

নীচে এই প্রশ্ন ও তার জবাবের চার্ট সংযুক্ত করে দিলাম। (Click This Link)



আরো কিছু অভিমত, কথামালা:

ইইউএমসি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়ে লিখেছে, "মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের উৎস হচ্ছে ইসলামোফোবিক মানসিকতা, বা ইসলামের প্রতি ঘৃনা। ........। এত কিছুর পরেও দেখা যায় বৈষম্যের প্রকৃতি, বিস্তৃতি এবং মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া ইসলামোফোবিক ঘটনাগুলো খুব কম অংশই রিপোর্টেড হয়েছে। ......। সদস্য রাষ্ট্রদের মুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য হীন এবং সমতার নীতি গ্রহন করা উচিত, বিশেষত শিক্ষা, চাকুরী এবং অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রে।"

ইসলামোফোবিয়া এবং এন্টি-সেমিটিজমের সবচেয়ে বড় ঘটনা শেরবিনি হত্যাকান্ড ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সমালোচিত হয়েছে। ইউরোপের অনেক মুসলিম এসব ইসলামোফোবিক ঘটনা রিপোর্ট করতে ভয় পান কেননা তাদের সামনে রয়েছে মারওয়া আল শেরবিনির উদাহরন যিনি দেশের আইনী ব্যবস্থার উপরে আস্থা রেখে ঠকেছেন। তার চেয়ে এরকম বৈষম্যকে ললাট লিখন বলে মেনে নেয়াটাই কর্তব্য বলে ধরে নিয়েছেন মুসলিম কম্যুউনিটির বিরাট অংশ।

নেদারল্যান্ডের একজন মুসলিম অধিবাসী এ বিষয়ে লেখেন, "যদিও আমাদের সতীর্থ ইউরোপিয়ানবৃন্দ আমাদেরকে আগুনের মুখে ফেলছেন, তবুও আমি আমার ইউরোপিয়ান পরিচয় নিয়ে গর্বিত এবং আমি ইউরোপিয়ান গনতন্ত্রকে উপভোগ করি। যে গুটিকয়েক মানুষ আমাদের অধিকারকে সমর্থন করেন তাদের জন্য রইল শুভ কামনা।"

জার্মানের একজন তরুনী এ বিষয়ে লেখেন, "আমি খুব মর্মাহত এ কারনে যে প্রতিদিনই হিজাবের জন্য আমাকে নিগৃহীত হতে হচ্ছে। আমি আমার হিজাব দিয়ে কাউকে আঘাত করছি না, আমার হিজাব অন্যদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছি না। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে তা আমি আমার নিজের জন্য পছন্দ করেছি।"

একজন অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম তরুনী বলেন, "আমরা প্রতিদিনই ইসলামোফোবিক ঘটনার মুখোমুখি হই। কেউ কুকুর নিয়ে রাস্তায় যেতে যেতে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলে "এটাক"।"

"যে প্রশ্নটি আমি প্রায়ই শুনে থাকি তা হল, কখন তুমি ফিরে যাবে?', একজন মুসলিম ডাচ নারী তার অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন। "আমি তো এই রটার্ডামেই জন্মেছি, তাই কোথায় যাব? এ ধরনের প্রশ্ন খুব দুঃখজনক এবং মনে হয় আমি একজন বিদেশী।" [২৩]

ইউরোপের মুসলিম ইমিগ্রেশন প্রসংগে সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচির দৃষ্টিভংগি:



[ছবি: Click This Link

ইটালিয়ান সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি। আলোচিত, সমালোচিত, নিন্দিত কিংবা নন্দিত। ২০০৫ সালে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরলোকে চলে যাওয়া এই মানুষটি কখনো মৃত্যুর কথা শুনতে চাইতেন না। তারপরেও মৃত্যু তো নিয়তির এক অমোঘ বিধান। এগারই সেপ্টেম্বরে মুসলিম সন্ত্রাসীদের টুইন টাওয়ারে হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি "দ্য রেজ এন্ড দ্য প্রাইড" এবং "দ্য ফোর্স অব রিজন" দুটো বই লিখেছিলেন যা সেসময় ছিল বেস্ট সেলার। ইসলাম এবং মুসলিমদের সমালোচনায় তিনি ছিলেন উচ্চকন্ঠ। এ জন্য তাকে আদালতের ঝামেলাও পোহাতে হয়েছে। ওরিয়ানা ফালাচির ইসলাম/মুসলিম বিষয়ক দৃষ্টিভংগি হয়তবা আমাদেরকে ইউরোপের সামগ্রিক দৃষ্টিভংগি বুঝতে সাহায্য করবে।

"আমি মেক্সিকানদের পছন্দ করি না।", ফালাচি বলেন, "যদি আমার সামনে বন্দুক রেখে জানতে চাওয়া হয় কে বেশী খারাপ - মুসলিম নাকি মেক্সিকান, আমি কিছুটা হতবিহ্বল হব। তারপরে আমি মুসলিমদের কথাই বলব।" এই ছিল মুসলিমদের প্রসংগে ফালাচির অভিব্যক্তি। [২২]

ইউরোপে ক্রম বর্ধমান ইসলাম প্রসারে বিরক্ত হয়ে ফালাচি লিখেছিলেন:
"ইউরোপ এখন আর ইউরোপ নেই, তা হয়ে গেছে "ইউরেবিয়া", যেন ইসলামের কলোনী যেখানে ইসলামিক আগ্রাসন শুধু অবয়বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সংস্কৃতি এবং মানসিকতায় আঘাত হেনেছে।"[১৮]

মুসলিমদের প্রসংগে ফালাচি দাবী করেন, "তারা এসব মসজিদ সব জায়গাতেই তৈরী করতে চায়।" সিয়েনার প্রস্তাবিত মসজিদ প্রসংগে তিনি বলেন, "আমি যদি বেচে থাকি, আমি আমার কারারার বন্ধুদের কাছে যাব যারা সবাই এনার্কিস্ট (বা নৈরাজ্যবাদী)। তাদের সাথে করে আমি এক্সপ্লোসিভ নেব, উড়িয়ে দেব। আমি এই মসজিদ দেখতে চাই না, যা টাসকেনীতে আমার বাড়ীর খুব কাছে। তাদের দেশে তো আমি ক্রশ পড়তে পারিনা, কিংবা বাইবেলও নিতে পারি না। তাই আমি তা উড়িয়ে দেব।" [২২]

"ইউরোপে কি কোন মসজিদ থাকতে দেয়া উচিত?", এ প্রশ্নের জবাবে ফালাচি লিখেন: তার কাছে যখন "ইউরোপে কোন মসজিদ থাকতে দেয়া উচিত কিনা" সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলো করা হয়, তখন তা বেশ অফেন্সিভ মনে হয়। কারন এতে করে যেন তাকে ফরাসী বিপ্লবের সেই সব উগ্র বিপ্লবীদের সমকক্ষ মনে করা হচ্ছে যারা যীশু, পবিত্র ভার্জিন এবং সেইন্টসদের মূর্তি ভেংগেছিল। কিংবা বলশেভিক বিপ্লবের বিপ্লবীদের তুল্য করা হয় যারা পাদ্রীদের হত্যা করেছিল এবং চার্চকে ওয়ারহাউস বানিয়েছিল। ফালাচি আরো বলেন, কোন সৎ ব্যক্তি এটা বলতে পারেনা আমার বিশ্বাস সেইসব বিপ্লবীদের সমতুল্য। আমি আমার এক জীবনে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ছিল যাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু স্বাধীনতার এই সংগ্রাম ইসলামের মত কোন ধর্মের জন্য নয়, যা অন্য ধর্মকে ধ্বংস করতে চায়। যারা নিজেদের বিশ্বাসকে পুরো গ্রহে চাপিয়ে দিতে চায়। যা গত ১৪০০ বছর ধরে হয়ে আসছে। তাদের হত্যা করে, যারা ভিন্ন ভাবে বাচতে চায়। যা অন্য ধর্মের মত নয়।" [২২]

মসজিদের বিষয়ে ফালাচির দৃষ্টিভংগি অনেককেই সম্ভবত প্রভাবিত করেছে। এর আরেকটি নমুনা দেখা গিয়েছে ইটালীতে ২০০৮ এ। নর্দার্ন লীগ নামের রাজনৈতিক দল "পিগ ডে" উদযাপন করে মসজিদের চত্ত্বরে শুকর চড়িয়ে। নর্দার্ন লীগ এরপরে মসজিদটিকে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয় এবং একটি পার্কের নাম মৃত সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচির নামে করতে চায়। [৮]

"মুসলিমরা ইদুরের মত বংশবৃদ্ধি করে থাকে" - এই ছিল মুসলিমদের প্রতি ফালাচির ক্ষোভের প্রকাশ। এই বাক্য অনুভূতিকে আহত করতে পারে, তবে ওটাই সত্য - দাবী করেন তিনি।

ওরিয়ানা প্রচুর ভক্ত পেয়েছেন তার ইসলাম সমালোচনার জন্যে।
"ব্রাভো ওরিয়ানা", একজন বলেন, "তোমার সাহস এবং অহমিকা রয়েছে বেশীর ভাগ ইটালিয়ানের পক্ষে কথা বলার জন্যে যারা তাদের সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিসর্জন দেয়নি। যদি এসব ইমিগ্রান্টরা আমাদের চিন্তাধারা গ্রহন করতে না পারে তবে তারা কেন ইটালীতে আসবে? আমরা কেন তাদের ঔদ্ধ্যত্ব এবং নাক গলানো সহ্য করব, যারা আমাদের সাথে মিশে যেতে ইচ্ছুক নয় এবং যারা পশ্চিমকে আসলে ঘৃনা করে। আমরা তাদের অতিথি হিসেবে স্বাগত জানাই, কিন্তু সাথে সাথে তারা মালিকের মত আচরন শুরু করে।" আরেকজন ফ্যান লিখেন, "এরকম ট্রাজিক এবং ঐতিহাসিক মুহুর্তে শুধু একটি গলাই উচ্চকিত হয়েছে পশ্চিমাদের জন্যে। একারনেই আমরা একটি সভ্যতার ক্ষয় দেখতে পাচ্ছি যার মূল্যবোধগুলো তাদের দ্বারাই লংঘিত হচ্ছে যারা তার রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। থ্যাক ইউ, ওরিয়ানা।" [২২]

ওরিয়ানা ফালাচিকে ইসলাম অবমাননার দায়ে আদালতে নিয়ে যান মুসলিম ইউনিয়ন অব ইটালীর প্রেসিডেন্ট আদেল স্মিথ। ২০০২ সালে ফ্রান্সের একটি গ্রুপ এবং ২০০৩ সালে সুইস একটি গ্রুপ চেষ্টা করে ফালাচির বিরুদ্ধে কোর্টে যাবার জন্য। কিন্তু সেবার ইটালী সে আবেদনে সাড়া দেয় নি। ২০০৫ এ নব্য মুসলিম আদেল শেষ পর্যন্ত সফল হন। আদেল বলেন ফালাচি ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃনার প্রসার ঘটাচ্ছেন - কখনও কখনও প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করার মাধ্যমে। "দ্য ফোর্স অব রিজন" বইয়ের আঠারোটি বাক্যকে তিনি উদাহরন হিসেবে টানেন। প্রাথমিক তদন্তে ইটালীর বিচারক আর্মান্ডো গ্রাসো বলেন, "দ্য ফোর্স অব রিজন বইয়ে কিছু কথা আছে যা অবশ্যই ইসলামের জন্য অফেনসিভ।" এবং তিনি ফালাচির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি দেন। [৭]

ফালাচির বইয়ের যে আঠারোটি বিষয়কে আদেল স্মিথ আপত্তিকর দাবী করেছেন তার কয়েকটি ছিল নিম্নরুপ [৫][৬] :

১। প্রশ্নবোধক ঐতিহাসিক বর্ননা: "নবম শতকে ইটালীতে মন্টিক্যাসিনো গীর্জা দখল করার পরে মুসলিম জিহাদী যোদ্ধারা প্রতি রাতে এই গীর্জার বেদীতে একজন করে নানের কুমারীত্ব উপভোগ করত। "- আদেল স্মিথ ফালাচির এই দাবীকে মিথ্যা দাবী করে এর ঐতিহাসিক সত্যতা জানতে চান।

২। প্রশ্নবোধক ঐতিহাসিক বর্ননা: ১৪৫৩ সালে মোহাম্মদের নেতৃত্বে তুর্কীরা কন্সটানটিনোপল দখল করার পরে শিশুদের হত্যা করা হয় - এমনকি তাদের ছোট মাথা দিয়ে আগুন নেভানো হয়। - ফালাচির এই দাবীর পক্ষেও ঐতিহাসিক সত্যতা জানতে চাওয়া হয়।

৩। বাজে প্রকাশভংগি: মুয়াজ্জিনের জঘন্য বিলাপ........

৪। বাজে প্রকাশভংগি: ইসলাম একটি পুকুর। জলাবদ্ধ পুকুর। যে পুকুর বিশুদ্ধ হয় না। যা সহজে দূষিত হয়। যে পুকুর জীবন ভালবাসে না, ভালবাসে মৃত্যু।

উপসংহার এবং শেষ কথা:
ওরিয়ানা ফালাচি যদি ইসলামকে অপছন্দ করে থাকেন সেটা তার নিজস্ব বিষয়। ইসলাম যেহেতু দ্রুত বর্ধমান ধর্ম, তাই এর বিরুদ্ধে প্রচারনা কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয়। যারা ইসলামের সমর্থক, তাদেরকে এটা তেমন বিচলিত করে না। তারা শুধু দেখতে চান বিরোধিতার ভিতটি আসলে কি এবং তা কতটুকু গুরুত্ব পেতে পারে। মজার বিষয় হল, অপপ্রচারনার কারনে উল্টো মানুষ ইসলাম ধর্মের প্রতি বেশী আকৃষ্ট হয়ে থাকে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে [৯] একজন ধর্মান্তরিত নারী মিসেস ডেভিস বলেন, "আমাকে বলা হচ্ছে সন্তানদের জন্য হলেও ইসলাম ত্যাগ করে ফিরে যেতে। কিন্তু আমি যাব না।" আমেরিকাতে বর্তমানে ইসলাম সবচাইতে ক্রমবর্ধমান ধর্ম, যার মূল কারন ইমিগ্রেশন, ধর্মান্তর এবং উচ্চ জন্মহার। প্রতি বছর প্রায় ২৫,০০০ মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে থাকেন। এদের এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে আফ্রিকান আমেরিকান। এগারই সেপ্টেম্বরের পরে ইসলাম গ্রহনের হার আরো বেড়েছে। তাই ইসলাম কোন অবস্থাতেই কোন ব্যক্তির আপত্তির কারনে হুমকিগ্রস্ত হয়ে যায় না। তবে ইসলাম বিরোধী ক্রমাগত প্রচারনা ইসলামোফোবিক ঘটনা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। যা স্বীকার করতেই হবে।

আশার কথা হচ্ছে ইসলামোফোবিক এসব ঘটনা সাধারন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়েছে অনেক বেশী। মুসলিমরা অনুভব করতে শিখেছে তারা ইউরোপেরই অংশ এবং এই ইউরোপের মূল্যবোধেই নিজেদের গড়তে হবে। তাই যখন কোন নারী-অবদমিত দেশের কালচারে অভ্যস্ত ইমিগ্রান্ট ইমাম ইউরোপে এসে অবাধ্য স্ত্রীকে প্রহার করে শাসন করার পক্ষে কথা বলেন, তখন প্রতিবাদ আসে ইউরোপের মুসলিমদের কাছ থেকেই। নিজের মুসলিম পরিচয়ের পাশাপাশি ইউরোপের জীবনধারা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে ধীরে ধীরে একাত্ম হয়ে যাওয়াতেই যে সমাধান নিহিত রয়েছে - তা আজকে ইউরোপের মুসলিমরাও স্বীকার করছে।

এই লেখাটি শেষ করার আগে ছোট্ট একটি ধন্যবাদ দিতে চাই বাংলাদেশের মুসলিম/অমুসলিম সম্প্রদায়কে। হাজারো বিভিন্ন সমস্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছে - যার জন্য মুসলিম/অমুসলিম সবাই ধন্যবাদ পেতে পারে। এটা স্বীকার করতেই হচ্ছে, মুসলিমদের সহিষ্ণুতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দায়িত্বপূর্ন আচরনের ফলেই এই কঠিনতম অর্জনটুকু সম্ভব হয়েছে।

[উৎসর্গ: আমার এই ছোট লেখাটি উৎসর্গ করলাম একজন সৎ, সাহসী, প্রতিবাদী এবং দায়িত্ববান নারী মারওয়া আল শেরবিনিকে। যিনি আর দশজনের মত বৈষম্যকে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না এবং সে আপোষহীনতার পরিচয় দিয়ে একজন ইসলামোফোবকে চ্যালেন্জ্ঞ ছুড়ে দিয়েছিলেন, "আদালতে দাড়িয়ে তুমি প্রমান কর যে আমি একজন টেরোরিস্ট"। তার এই আত্মদান আমাদের মাঝে সততা ও আপোষহীনতার চেতনা হিসেবে চির জাগরূক হয়ে থাকুক।]



মারওয়ার কিছুটা পরিচিতি রয়েছে সন্ধ্যাবাতির একটি পোস্টে:
Click This Link

এবং সেতু জোহরার আরেক পোস্টে:
Click This Link

আমি সম্ভবত এই সামহোয়ারেই মারওয়ার সংবাদটি প্রথমে পাই।

রেফারেন্স:
১। ইসলামোফোবিয়া এন্ড ইইউ মুসলিমস ইন্টিগ্রেশন, ইসলাম অনলাইন, Click This Link

২। মুসলিমস ইন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন: ডিসক্রিমিনেশন এন্ড ইসলামোফোবিয়া, ই ইউ এম সি, Click This Link

৩। ডাটা ইন ফোকাস রিপোর্ট ২: মুসলিমস: Click This Link

৪। ইসলামোফোবিয়া ইন ইউরোপ: Click This Link

৫। http://97.74.65.51/readArticle.aspx?ARTID=8334

৬। Click This Link

৭।http://news.bbc.co.uk/2/hi/4576663.stm

৮। Islamophobia: Fascist Italians Demolish Verona Mosque:
Click This Link

৯।http://www.nytimes.com/2001/10/22/national/22CONV.html

১০। Click This Link

১১। Click This Link

১২। http://thedailystar.net/story.php?nid=50600

১৩। http://www.giselle.com/oriana1.html

১৪। Click This Link

১৫। Click This Link

১৬। http://www.answers.com/topic/oriana-fallaci

১৭। Click This Link

১৮। Click This Link

১৯। Click This Link

২০। Click This Link

২১। Click This Link

২২।http://www.newyorker.com/archive/2006/06/05/060605fa_fact?currentPage=6#ixzz0cY20N4CN

২৩। Click This Link

২৪। Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29084495 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29084495 2010-01-24 01:15:57
বনু কুরায়জার হত্যাকান্ড বিষয়ে একটি লেখা
এখানে উল্লেখ্য রাসুল(সা) এবং সাহাবাদের জীবন খুব সুখকর ছিল না। আক্রমন, যুদ্ধের আশংকা ছিল নিত্য নৈমিত্যিক ঘটনা। প্রতিটি মুহুর্তে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন। সীরাত গ্রন্থ ইবনে ইসহাক আমার টাটকা পড়া নেই, তবে যা মনে পড়ছে তাতে ইবনে ইসহাকের বনু কুরায়জার ঘটনার বর্ননা ছিল অনেকটা এরকম (স্মৃতিচারনে ভুল থাকলে শুধরে দেবেন):


"বনু কুরায়জা সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল মুসলিমদের সাথে। মুসলিমরা আক্রান্ত হলে বনু কুরায়জা মুসলিমদের পক্ষে থাকবে এবং বনু কুরায়জা আক্রান্ত হলে মুসলিমরা তাদের পক্ষে থাকবে। কিন্তু কুরাইশরা যখন খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের আক্রমন করে তখন বনু কুরায়জা কুরাইশদের সাথে সহযোগিতা করে। খন্দকের যুদ্ধে আল্লাহর রাসুল (সা) পরীখা খনন করে রাখেন যাতে কুরাইশরা সহজে আক্রমন করতে না পারে। মুসলিমরা সেসময় বেশ অসহায় অবস্থায় পতিত হয়। কারন বহিঃশত্রু হিসেবে ছিল কুরাইশরা এবং ভেতরের শত্রু ছিল বনু কুরাইজা। আল্লাহর রাসুল(সা) দুঃখিত হয়ে আলী(রা)কে পাঠান আসল খবর নেবার জন্য। তিনি গিয়ে দেখলেন অবস্থা আসলেই মারাত্মক। বনু করায়জার তখন প্রকাশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এই বলে যে, " না, মুহাম্মাদের সাথে আমাদের কোন চুক্তি নেই।" এদিকে মুনাফিকরা মুসলিমদের টিটকারী ইয়ার্কি শুরু করেছে, "মুহাম্মদ তোমাদের কিসরার প্রাসাদ দখলের স্বপ্ন দেখায়, এদিকে এখন তো আমরা বাথরুমেও যেতে পারছি না।" হঠাৎ এসময় শুরু হয়ে যায় প্রবল শৈত্য প্রবাহ, ঝঞ্চাবায়ু, যার ফলে কুরাইশরা বাধা প্রাপ্ত হয়। বিরূপ প্রকৃতির বিরূপতার ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় সেবার কুরাইশরা আর মুসলিমদের আক্রমন করতে পারে নি। তারা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কুরাইশরা চলে যাওয়ার পরে মুসলিমরা এবার বনু কুরায়জার দুর্গ ঘেরাও করে। বনু কুরায়জা আত্ম সমর্পন করে। বনু কুরায়জার অনুরোধে রাসুল (সা) সাদ(রা)কে (যাকে তারা নিজেদের মিত্র ভাবত)তাদের ভাগ্য নির্ধারনের দায়িত্ব দেন। আল্লাহ রাসুল (সা) বনু কুরায়জার কাছে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি সাদের বিচার মেনে চলবেন। সাদ তখন এই যুদ্ধে আহত হয়ে শয্যাশায়ী। যুদ্ধের ভয়াবহতা তিনি দেখেছেন এবং তিনি তার ভূক্তভোগী। সাদ এদের সমস্ত পুরুষ যোদ্ধাদের হত্যার নির্দেশ দেন এবং নারী শিশুদের দাসত্বের নির্দেশ দেন।"

এই ছিল ইবনে ইশহাকের ভার্সন। কোরানে সুরা আহজাবে এই ঘটনা এসেছে এভাবে:

[33:9] হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্চাবায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।

[33:10] যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কন্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে।

[33:11] সে সময়ে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল।

[33:12] এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ ও রসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ নয়।

[33:13] এবং যখন তাদের একদল বলেছিল, হে ইয়াসরেববাসী, এটা টিকবার মত জায়গা নয়, তোমরা ফিরে চল। তাদেরই একদল নবীর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে বলেছিল, আমাদের বাড়ী-ঘর খালি, অথচ সেগুলো খালি ছিল না, পলায়ন করাই ছিল তাদের ইচ্ছা।

[33:14] যদি শত্রুপক্ষ চতুর্দিক থেকে নগরে প্রবেশ করে তাদের সাথে মিলিত হত, অতঃপর বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করত, তবে তারা অবশ্যই বিদ্রোহ করত এবং তারা মোটেই বিলম্ব করত না।

[33:15] অথচ তারা পূর্বে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। আল্লাহর অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

=============================================


এবারে আসা যাক ইবনে ইসহাকের বর্ননা প্রসংগে। নিম্নোক্ত সাইটের লেখাটিতে ইবনে ইসহাকের এই ভার্সনকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তথ্য সহ পুরো বর্ননা সেই সাইটে পাবেন। সময়ের অভাবে আমি অল্প কিছু শুধু অনুবাদ করে দিচ্ছি।


Click This Link




উপরোক্ত সাইটে ইবনে ইশহাকের বনু কুরায়জার ঘটনার বর্ননাকে নির্ভরযোগ্য নয় বলে দাবী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইমাম মালিক এবং ইমাম ইবনে হাজার দুজনেই ইবনে ইসহাকের বর্ননার বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সীরাত গ্রন্থকার যেখানে যেসব গল্প শুনেছেন তাই তুলে দিয়েছেন বলে দাবী করেন ইমামবৃন্দ। ইমাম মালিক ইবনে ইসহাক প্রসংগে বলেন, "মিথ্যাবাদী এবং জালিয়াত যে শুধু শুনে গল্প লিখে থাকে।" ইমাম মালিক ইবনে ইসহাকের সীরাত রচনার পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেন নি।

ইবনে হাজার পরবর্তীতে ইমাম মালিকের দৃষ্টিভংগিকে সমর্থন করেন। যতটা সতর্কতা সীরাত রচনায় স্থান পাওয়া উচিত ছিল, ততটা সতর্কতা ইবনে ইসহাকের ক্ষেত্রে অবলম্বন করা হয় নি। বিশেষত: বনু কুরায়জার হত্যাকান্ড বিষয়ে কুরানে বর্ননা শুধু এটুকু: "কিতাবীদের মধ্যে যারা অবিশ্বাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা কতককে হত্যা করছ এবং কতককে বন্দী করছ। [৩৩:২৬]", যা ইবনে ইসহাকের বর্ননার সাথে তা খুব বেশী খাপ খায় না। হুয়াই ইবনুল আখতাব, কাব ইবনে আসাদ সহ অনেককে মৃত্যদন্ড দিলেও এরকম ৯০০ লোককে হত্যা করার কোন ক্লু পাওয়া যায় না। সেজন্যই ইবনে ইসহাকের বনু কুরাইজার বর্ননা সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায় না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29074700 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29074700 2010-01-08 23:59:09
স্পেনের কিছু ইতিহাস, মুর মুসলিমদের সভ্যতা, উথ্থান/পতন এবং একটি পেন্ডিং এপোলজি স্পেন। ইউরোপের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংগ। এখানে একদিকে যেমন হয়েছে ইউরোপের প্রথম সভ্যতার উৎকর্ষ, অন্যদিকে ঘটেছে ইনকুইজিশনের মত বর্বরতা। সব মিলিয়ে স্পেনের ইতিহাস তাই বহুমাত্রিক, যা পাঠকদের আগ্রহী করে তোলে। নিতান্ত উদাসীন হলেও আপনি হারিয়ে যেতে চাইবেন স্পেনের বৈচিত্রময় অতীতে, মিশে যেতে চাইবেন সেখানকার মানুষদের জীবন ধারার সাথে। আমার এই সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে পঞ্চম থেকে পঞ্চদশতম শতকের কথাই মূলত স্থান পেয়েছে, যা সবচেয়ে বেশী বৈচিত্রময় বলে আমার বিশ্বাস।






পঞ্চম শতকের স্পেন: ভিসিগোথ শাসনে নির্যাতনে পিষ্ট প্রজাকূল

পঞ্চম শতকের কথা।

স্পেন তখন শাসিত ছিল ভিসিগোথদের দ্বারা। ভিসিগোথদের সংক্ষেপে "গোথ" বলা হত, যাদের মূল আবাস স্থল জার্মান। তারা ছিল আরিয়ান ক্রীষ্চান। বেদুইন এই জাতিটি বংশ পরষ্পরায় বিভিন্ন দেশ জয় করে তাতে বসতি স্থাপন করে, যাদের মাঝে স্পেন ছিল একটি। স্পেনে যতদিন আরিয়ান ভিসিগোথদের শাসন ছিল, ততদিন সেখানকার পরিবেশ ছিল ইহুদী অধিবাসীদের প্রতি সহনশীল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় যখন ৫৮৯ খ্রীষ্টাব্দে স্পেনের ভিসিগোথ রাজা রেকারেড ক্যাথলিক বিশ্বাস গ্রহন করেন। ক্যাথলিকদের বিশ্বাস আরিয়ানদের থেকে অনেকটাই আলাদা, যদিও দুটো গোত্রই ক্রীশ্চান। ভিসিগথ রাজাদের ক্যাথলিক হবার পর থেকে রাজকার্যে চার্চের প্রভাব বেড়ে যায়। সাথে সাথে ইহুদীদের উপর নেমে আসে অন্ধকার এবং নির্যাতন। কাট ছাট করে দেয়া হয় তাদের ধর্ম পালনের অধিকার। নাগরিক অধিকারও হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। যার ফলে প্রায় ৯০০০০ ইহুদী ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয়, তা স্বেচ্ছায়ই হোক, কিংবা জোরপূর্বকই হোক। নির্যাতনের এই ধারাবাহিকতায় ৬৩৩ খ্রীষ্টাব্দে স্পেনের সমস্ত ইহুদীদের ব্যাপটাইজড করার পরিকল্পনা হল [৮][১০]। পরবর্তী ভিসিগোথ শাসনে এসব বিষয়ে কিছুটা শিথিলতা এলেও ইহুদীরা নিষ্পেষনের যাতাকল থেকে আর মুক্ত হয় নি। ফলশ্রুতিতে ইহুদীদের অর্থনীতিতে নেমে আসে ব্যপক ধ্বস, কারন তাদের পক্ষে অন্যদের সাথে বানিজ্য করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

এভাবেই চলতে লাগল ৭১১ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত।

মুরদের স্পেন বিজয়, ভিসিগোথদের পরাজয়:

৭১১ সাল। স্পেনের ভিসিগোথ রাজা তখন রডারিক।

রডারিক খুব অল্প সময়ের জন্য স্পেন শাসন করতে পেরেছিলেন। তারপরেই পরাজিত হন মুরদের কাছে।


মুরদের হাতে রাজা রডারিকের পতন ঘটে কি করে?

মিশরীয় ইতিহাসবিদ ইবনে আবদুল হাকিম ভিসিগোথদের পতন প্রেক্ষাপটের যে বর্ননা দেন তা মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে যুগ যুগ ধরে গান, কবিতা গল্পের মাধ্যমে জনপ্রিয় লোকগাথা কিংবদন্তী হিসেবে প্রচলিত হয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।


স্থানীয় স্পেনিশ নেতা জুলিয়ান তার কন্যাকে পাঠান রডারিকের দরবারে পড়াশোনার জন্যে। কিন্তু রডারিক তাকে ধর্ষন করে। যার ফলে জুলিয়ান ক্ষিপ্ত হয়ে মুসলিম নেতাদের অনুরোধ করেন রডারিকের পতন ঘটানোর জন্য।


উপরোল্লিখিত লোকগাথা মুসলিমদের মাঝে জনপ্রিয় হলেও সার্বিক ভাবে তা ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি। রডারিকের পক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো অসম্ভব কিছু নয়, কিন্তু শুধু এই একটি ঘটনার কারনে রডারিক তার সমর্থন হারান নি। রডারিক তার আশে পাশের নেতাদের সমর্থন হারিয়েছিলেন অনেকগুলো কারনে। [১]

রডারিকের ক্ষমতা আরোহন ছিল বিতর্কিত। রডারিকের আগে রাজা ছিলেন উইটিজা, যার উত্তরাধিকার ছিল স্পেনের সিংহাসনের দাবীদার। কিন্তু ক্যাথলিক চার্চের বিসপবৃন্দ উইটিজার সন্তানদের পরিবর্তে মনোনীত করে রডারিককে। যা উইটিজার বংশধরদের ক্রুদ্ধ করে তোলে। উইটিজারা পালিয়ে জুলিয়ানের কাছে আশ্রয় নেয়। জুলিয়ান সব রকমের সাহায্যের অংগীকার দিয়ে তৎকালীন উমাইয়া গভর্নর মুসা ইবনে নুসায়েরকে অনুরোধ করেন রডারিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে। তার প্রেক্ষিতে মুসা তার জেনারেল তারিক বিন জিয়াদের উপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত করেন।

রডারিক একদিকে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার, অন্যদিকে প্রজা বৎসল না হবার জন্যে সাধারনের সমর্থন লাভে ব্যর্থ। যার কারনে তার বিপুল সৈন্যবাহিনী থাকলেও তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল পরিষ্কার। অন্যদিকে মুর জাতি ভিসিগোথদের মতই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা বেদুইন জাতি, তার উপর মুসলিম হবার ফলে আরবদের সহযোগিতা প্রাপ্ত। তাই জেনারেল তারিক বিন জিয়াদ মাত্র ৭০০০ সৈন্য নিয়ে রডারিকের লক্ষাধিক সৈন্যের বিরুদ্ধে লড়ে মোটামুটি অনায়াসে বিজয়ী হন এবং স্পেন দখল করেন। এভাবেই পতন ঘটে স্পেনের সর্বশেষ ভিসিগোথ রাজা রডারিকের।

জেনারেল তারিক ছিলেন একজন মুর নব্যমুসলিম। তিনি যেহেতু একজন অনারব, তাই ধারনা করা হয় আরবী "তারিক" নামটি তার প্রকৃত নাম নয়। [২] তবে তার প্রকৃত নাম যাই হোক না কেন, ইতিহাসে তিনি তারিক নামে পরিচিত হয়ে আছেন। মাত্র সাত বছর সময়কালের মধ্যে তারিক ও মুসার অন্যান্য জেনারেল বৃন্দ পুরো স্পেনকেই মুরদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসেন। তারিকের পরবর্তী জীবনকাল সম্পর্কে নিশ্চিত করে খুব বেশী কিছু জানা যায় না। কয়েকজন ইতিহাসবিদ তারিক ও তার সেনাদলকে আরব, মুর এবং সুদানীজদের মিশ্রন বলে অভিহিত করেছেন।

স্পেন বিজয়ী তারিকের বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক দিন:

৩০শে এপ্রিল, ৭১১ খ্রীষ্টাব্দ।

তারিক তার সৈন্যদের নিয়ে স্পেনে পৌছে প্রথমে একটি পাহাড়ের ধারে অবতরন করেন। যা পরবর্তীতে "জাবাল তারিক" বা "তারিকের পাহাড়" নামে পরিচিত হয়। এই "জাবাল তারিক" থেকেই "জিব্রাল্টার" শব্দটি এসেছে। অবতরনের পর পরই তিনি তার সব নৌকা জাহাজ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। হতবুদ্ধি হয়ে একজন সেনা জানতে চাইল, "এখন আমরা কি করে ফিরব?" তারিক শান্তভাবে জবাব দিলেন, " ফিরে যাবার জন্য তো আমরা আসিনি। হয় বিজয়, নতুবা ধ্বংস।"

সৈন্যদের উদ্দেশ্যে দেয়া তারেকের সেই ঐতিহাসিক বক্তিতার কিছু অংশ ছিল নিম্নরূপ:

"হে আমার যোদ্ধাগন। কোথায় তোমরা পালাবে? তোমাদের পেছনে সাগর, সামনে শত্রু। তোমাদের আছে কেবল সাহস এবং ধী শক্তি। মনে রেখো এদেশে তোমরা সেই এতিমদের চেয়েও হতভাগা যাদের লোভী মালিকদের সাথে টেবিলে বসতে হয়। তোমাদের সামনে শত্রু, যাদের সংখ্যা অগন্য। কিন্তু তোমাদের শুধু তলোয়ার ব্যতিরেকে কিছুই নেই। তোমারা বেচে থাকতে পারবে যদি শত্রুর হাত থেকে নিজেদের জীবনকে ছিনিয়ে আনতে পার। ভেবোনা আমি তোমাদের সাথে থাকবো না। আমিই সবার সামনে থাকব, এবং আমার বাচার সম্ভাবনাই সবচেয়ে ক্ষীন।"

এই বক্তিতায় উজ্জীবিত হয় তারেকের সেনাদল। প্রানপন যুদ্ধের দ্বারা স্পেনের মাটিতে রডারিকের অগনিত সেনাদলকে পরাজিত করে স্পেনের বুকে তারা স্থাপন করে মুরদের রাজ্য। মুরদের কাছে ভিসিগোথ সর্বশেষ রাজা রডারিকের পতন ঘটে। স্পেনের নামকরন হয় "আন্দালুসিয়া"।

এখানে দেখুন আন্দালুসিয়ার ম্যাপ:



(কৃতজ্ঞতা: Click This Link)

মুর জাতি আসলে কারা?

ক্লাসিক্যাল গ্রীক এবং রোমান ইতিহাসবিদগন কৃষ্ণ বর্নের পূর্ব আফ্রিকার যাযাবর জাতিকে "বারবার" নামে অভিহিত করেছেন। "বারবার" থেকে বাংলায় "বর্বর" এবং ইংরেজী "barbaric" শব্দ গুলো এসেছে, যা এই জাতির যুদ্ধপ্রিয়তাকে প্রকাশ করে। বারবারদের একটি অংশকে "মুর" বলেও সম্বোধন করা হয়, যারা মিশর থেকে মরক্কো পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এরা উত্তর আফ্রিকাতেও প্রভাবশালী হয়। গ্রীক "মোরস" শব্দের অর্থ কালো, যেখান থেকে "মুর" শব্দটি এসেছে। মুর নামকরনের প্রকৃত কারন তাদের কৃষ্ণকায় গাত্রবর্ন, যা এদেরকে ইউরোপিয়ানদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্টে্র অধিকারী করেছিল। মুরদের প্রসংগে ক্রীশ্চান সূত্র, বিশেষত আলফানসুর প্রিমেরা ক্রিকা জেনারেল লিখেছে, "তাদের মুখ যেন পিচের মত কালো।" বিভিন্ন সূত্রে এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে, পনের শতকের পূর্বের মুরদের গাত্র বর্ন বাদামী কালো, অথবা কৃষ্ণ কালো। আফ্রিকার এই যাযাবর জাতিটি ভিসিগোথদের মতই বারবার গোত্রীয় এবং বেদুইন যোদ্ধা জাতি। [৪] মুসলিম ইতিহাসবিদগন অবশ্য দাবী করেন, "মুর" নামটি আসলে হেয় অর্থে প্রচলন করা হয়েছে। সে যাই হোক, স্পেন বিজয়ী জাতিটিকে বর্ননার জন্যে "মুর" বর্তমানে প্রচলিত একটি শব্দ। বৃক্ষের পরিচয় যেমন করে থাকে ফলে, তেমনি মুররাও বিজ্ঞান সভ্যতায় তাদের অবদানের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে রেখে গেছে গৌরবময় চিহ্ন। মুরদের শাসনকালে স্পেনের সভ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে "when the moors ruled europe" নামের ১ ঘন্টার ভিডিওটি নীচের লিংক থেকে দেখতে পারেন। (Click This Link)। [৩]

মুর রাজ্যের বৈশিষ্ট্য:

মুর শাসিত স্পেনের সভ্যতা ও উন্নতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সামহোয়ারে বেশ কিছু পোস্ট বিভিন্ন সময়ে এসেছে। নীচের পোস্টটিতে যেসব বর্ননা দেয়া হয়েছে, তার কোন কিছুই অতিরন্জ্ঞিত নয়।
Click This Link

মুর শাসিত আন্দালুসিয়াতে ক্ষমতায় ছিল উমাইয়া রাজবংশ। এ সময়টাতে কর্ডোভা হয়ে উঠে ইউরোপের সবচাইতে মনোরম শহর। প্রায় ৫০০০ মিল ছিল শুধু কর্ডোভাতেই, যেখানে ইউরোপে একটিও ছিল না। ইউরোপের ৯৯ ভাগ লোক যেখানে ছিল অশিক্ষিত, সেখানে কর্ডোভাতে ছিল ৮০০ পাবলিক স্কুল। তৎকালীন ইউরোপে গোসলখানাকে হারাম বলে গন্য করা হত, অথচ কর্ডোভাতে ছিল ৯০০ পাবলিক বাথ। দশম শতকে কর্ডোভাতে ছিল ৭০০ মসজিদ, ৬০০০০ প্রাসাদ, ৭০ টি লাইব্রেরী যার সবচেয়ে বড়টিতে ছিল ৬০০০০০ বই। অন্যদিকে সে সময়কার ক্রীশ্চান ইউরোপে সবচেয়ে বড় লাইব্রেরীতে ৪০০ এর বেশী ম্যানুস্ক্রীপ্ট ছিল না। ১৪০০ শতকের শেষে ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসে ছিল মাত্র ২০০০ টি বই। তৎকালীন আন্দালুসিয়ায় প্রতি বছর ৬০০০০ পুস্তিকা, কবিতা, সংকলন ইত্যাদি প্রকাশিত হত, যেখানে স্পেন এখন প্রতি বছর ৪৬৩৩০ বই প্রকাশ করে থাকে (১৯৯৬ সাল পর্যন্ত)।
(সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Al-Andalus)


নীচে আন্দালুসিয়ার উইন্ডমিলের ছবি (উইকিপেডিয়া থেকে নেয়া) যা তৎকালীন মুর শাসিত স্পেন থেকে পরবর্তীতে ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রচলিত হয়:




এখানে উল্লেখ্য মুর জাতি বার্বার গোত্রভুক্ত হলেও তারা অন্যান্য বার্বারদের মত ধর্মীয় স্বাধীনতা দিতে অস্বীকার করে নি। এর মূল কারন ছিল তাদের ধর্ম ইসলাম। অমুসলিমদের প্রতি সহনশীলতার উৎস কোরানের দুটো আয়াত। "লা ইকরাহা ফিদ্বীন" (দ্বীনের বিষয়ে কোন জবরদস্তি নাই: বাকারা ২:২৫৬)। এবং "ওয়ালাও শাআ রাব্বুকা লা আমানা মান ফিল আরদি কুল্লুহুম জামিয়ান আফা আনতা তুকরিহুন্নাসা হাত্তা ইয়াকুনু মুমিনিন।" (আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?: ইউনুস : ৯৯)। যার ফলে পৃথিবীর বুকে সব ধর্মের মানুষের জন্য তৎকালীন স্পেন হয়ে রইল ধর্মীয় সহনশীলতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে।

মুর শাসনকাল ছিল ইহুদীদের স্বর্নযুগ। চিকিৎসক, দার্শনিক, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনীসহ নানান পেশায় ছিল তাদের গৌরবময় পদচারন। তার পেছনে ছিল কর্ডোভার আমীর আবদুর রহমানের ইহুদী কাউন্সিলর হাসদাই ইবনে শাপরুতের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা [৫]। হাসদাই ছিলেন চিকিৎসক এবং কুটনীতিক। আন্দালুসিয়ার ইহুদী দার্শনিকদের একজন ছিলেন কর্ডোভার বিখ্যাত মোসেস মাইমুনাইডস, যিনি একাধারে রাবাই, চিকিৎসক, এবং দার্শনিক হিসেবে স্পেন, মরক্কো এবং মিশরে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। অন্যান্য মুসলিম দার্শনিকদের মত তিনিও এরিস্টটল দিয়ে প্রভাবিত ছিলেন।
(http://en.wikipedia.org/wiki/Maimonides)। মাইমুনাইডস স্পেনের মুরদের শাসন প্রসংগে ছিলেন, "ইহুদীরা মুসলিমদের স্পেন দখলকে ৭১১ খ্রীষ্টাব্দে স্বাগতম জানায়। মুসলিমদের বিজয়ের সাথে সাথেই ইহুদীদের স্বাধীনতা ও স্বর্নযুগের সূচনা হয়। তারা সাফল্যের সাথে প্রশাসনে, চিকিৎসা শাস্ত্রে, সাহিত্যে ও বিজ্ঞানে অনুপ্রবেশ করতে পারে। [৬]" ।


স্পেনের তৎকালীন সভ্যতা, সংস্কৃতির সাথে যে মানুষটির নাম অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে রয়েছে, তিনি হলেন আবু আল ওয়ালিদ মোহাম্মদ ইবনে রুশদ, সংক্ষেপে ইবনে রুশদ। কর্ডোভান দার্শনিক ইবনে রুশদ তার যুক্তিভিত্তিক মতবাদের মাধ্যমে ইউরোপে রেনেসার বীজ বপন করে যান। ধর্ম বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত এবং যুক্তিবাদ দিয়ে প্রভাবিত দুই পক্ষের মধ্যেকার দৃশ্যমান পার্থক্য প্রসংগে তিনি বলেছেন, "ঐশীবানী এবং যুক্তি দর্শন - দুটোই সত্য, যদিও সত্য অনুধাবনের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। দার্শনিকরা যদি ঐশী বানী ব্যাখায় ভুল করে থাকেন, তবে তাদের সে ভুল ক্ষমার যোগ্য।" ইমাম গাজালীর বিখ্যাত বই "তাহাফুত আল ফালাসিফা" ("দার্শনিকদের আত্মঘাত") কে চ্যালেন্জ্ঞ করে তিনি রচনা করেন "তাহাফুত আল তাহাফুত আল ফালাসিফা" ("দার্শনিকদের আত্মঘাতের ধ্বস")। ইমাম গাজালীর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে তিনি ব্যাখা করে যান গাজালীর যুক্তির দুর্বলতা। তিনি বলেন, গাজালী প্রসংগ না তুলে ধরে বিচ্ছিন্নভাবে দর্শনের কিছু অংশ বেছে নিয়ে তাকে অপব্যাখা করতে চেয়েছেন।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে রুশদের চিন্তাধারায় নারীবাদের প্রভাব দেখা যায়। ইবনে রুশদ বলেন, "নারীর মেধার বিকাশে আমাদের সমাজ কোন সহায়তা দেয় না। তাদের গন্তব্য যেন শুধু সন্তান জন্ম দেয়া এবং তার প্রতিপালন। দায়িত্ব সীমাবদ্ধ করে দেয়ার ফলে তাদের যোগ্যতার উপরে এসেছে আঘাত। এর ফলে দেখা যায় নারীদের মধ্যে নেই কোন দক্ষতা, তারা গাছপালার মত জীবন যাপন করে এবং তাদের জীবন শুধু স্বামীর জন্যই উৎসর্গীত। এটা সমাজের জন্য অনাকাংখিত, কেননা নারীর সংখ্যা পুরুষের দ্বিগুনেরও বেশী, অথচ তারা নিজস্ব শ্রমের মাধ্যমে জীবনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ।" ইবনে রুশদের মত দার্শনিকদের কারনে তৎকালীন আন্দালুসিয়া ছিল নারীর ক্ষমতায়নের কেন্দ্রবিন্দু। (Click This Link)

ইবনে রুশদের দর্শন চিন্তা সামগ্রিকভাবে মুসলিম সমাজে গ্রহন যোগ্য হয় নি। তিনি ঐশী বানীকে কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়াই সবার উপরে স্থান দিয়েছেন, এটা সত্য। ঐশীবানীর মহাত্ম্যকে সবার উপরে স্থান দিয়ে দার্শনিকদের অনুধাবনে ভুল থাকার বিষয়টিও মেনে নিয়েছেন। তবে ঐশীবানীর আক্ষরিক অর্থ না নেয়া সহ কিছু বিষয়কে তিনি স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিয়েছেন। তিনি "মহাবিশ্ব অসৃষ্ট" বিষয়ক এরিস্টটলের মতবাদকে ইসলামের দ্বারা ব্যাখা করার চেষ্টা করেন, যেখানে মুসলিম, ইহুদী আর ক্রীশ্চানরা বিশ্বাস করে বিশ্ব একটি সৃষ্ট বস্তু। গ্রীক দর্শনকে এভাবে ইসলামের আলোকে ব্যাখা করার প্রয়াস সাধারনের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে গ্রানাডার গ্রান্ড মসজিদের সামনে জন সমক্ষে তাকে পাথর মারা হয়। খলিফা রুশদের পৃষ্ঠপোষক হলেও জনতার চাপের মুখে নত হয়ে রুশদের কিছু বই পোড়ানোর নির্দেশ দেন। তখনকার আন্দালুসিয়াতে "মালিকি" মতবাদ ছিল জনপ্রিয়, এবং খলিফার প্রয়োজন ছিল মালিকি জুরিস্টদের সমর্থন। (Click This Link)।


মুরদের পতন এবং ফার্ডিনান্ড/ইসাবেলার গ্রানাডা বিজয়:

১৬ ই জুলাই, ১২১২ সাল।

স্পেনের বুকে এই দিনটি ছিল একটি গুরুত্ব বহ টার্নিং পয়েন্ট। পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো সব একত্রিত হয়ে মুর রাজ্যের সাথে চরম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে মুরের অধিপতি সুলতান নাসিরের পতন ঘটায়। তার আগের বছর, অর্থ্যাৎ ১২১১ সালে মুর অধিপতি সুলতান নাসির পার্শ্ববর্তী ক্রীশ্চান রাজ্যে এক হামলা চালান, যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষের সবাই ঐক্যবদ্ধ হন। পোপ ডাক দেন ক্রুশেডের। মুর সুলতানের পক্ষে ছিল আফ্রিকান বেশ কিছু অংশ: মরোক্কো, আলজেরিয়া, টিউনিসিয়া, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ আলফানসুদের পক্ষে ছিল পর্তুগাল ও স্পেনের উত্তরাংশের সমর্থন। এই বেদনাদায়ক যুদ্ধের ময়দান সিক্ত ছিল মুসলিমদের হাটুসম রক্তের মাধ্যমে। ১২১২ সালে আলফানসু এবং তার সহযোদ্ধাদের কাছে পরাজয়ের পরে আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি মুর রাজ্য। এর পরের ইতিহাস পরাজয়ের ইতিহাস। একের পর এক মুর মুসলিম অধ্যুষিত শহরগুলোর পতন ঘটতে থাকে। ১২৩৬ সালে বৃহত্তম রাজধানী শহর কর্ডোভার দখল নেন কাস্টিলের রাজা ফার্ডিনান্ড। ফার্ডিনান্ড সেভিল দখল করেন ১২৪৮ সালে এবং জেইন দখল করেন ১২৪৬ সালে।


২রা জানুয়ারী, ১৪৯২ সাল।

পরাজয়ের ধারায় সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৪৯২ সালের ২রা জানুয়ারী। গ্রানাডার শাসক আবু আবদুল্লাহ, যিনি ববদিল নামে স্পেনে পরিচিত,
ফার্ডনান্ড ও ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হন। সেই সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবসান ঘটে মুর সাম্রাজ্যের।

আমেরিকা বিজয়ী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন এই আত্ম সমর্পন অনুষ্ঠানে। তিনি লেখেন, "ইয়োর হাইনেস কর্তৃক মুরদের কাছ থেকে গ্রানাডা দখলের পর আমি শহরের দুর্গ আল হামরার টাওয়ারে রাজকীয় ব্যানার দেখেছি।"

ববদিলের এই আত্ম সমর্পন ছিল শর্তাধীন, বা চুক্তি ভিত্তিক যা "ক্যাপিচুলেশন অব গ্রানাডা" নামে পরিচিত। ১৪৯১ সালের ২৫ শে নভেম্বরের এই চুক্তিতে ৬৭ টি ধারা অন্তর্ভূক্তি হয়, যাতে গ্রানাডার মুসলিম ও অন্যান্য অধিবাসীদের ধর্মীয়, ভাষাগত, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার সুরক্ষিত হয়। চুক্তিটি দেখুন। Click This Link

কিন্তু হায়!! এর পরবর্তী ইতিহাস ছিল করুন। কুখ্যাত আল হামরা ডিক্রির মাধ্যমে ইহুদীদের চার মাসের মধ্যে স্পেন ত্যাগে বাধ্য করেন ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ড (http://en.wikipedia.org/wiki/Alhambra_Decree)। এই আল হামরা ডিক্রি শেষ পর্যন্ত ১৯৬৮ সালে ভ্যাটিকান কর্তৃক বাতিল হয়। চুক্তি শর্ত বাস্তবায়ন না করে উল্টো ১৫০১ সালের মধ্যে মুসলিমদের দুটো চয়েস দেয়া হয় : ব্যাপটাইজ, অথবা বহিষ্কার। প্রায় সবাই ক্রীশ্চান হল, যারা মরিস্কো নামে পরিচিত(http://en.wikipedia.org/wiki/Moriscos) । কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মরিস্কোদের বিশ্বাসঘাতকতা ধরা পড়ল যে এদের অনেকে উপর দিয়ে ক্রীশ্চান হলেও ভেতরে ভেতরে ইসলাম ধর্মের প্রতি বিশ্বস্ত। পরবর্তীতে মরিস্কোদেরকেও স্পেন থেকে বহিষ্কার করা হয়।


মুরদের পতনের কারন কি?

একজন রক্ষনশীল হয়ত বলবেন, "ইসলাম থেকে দূরে চলে যাওয়াই এর আসল কারন। তারিক তো স্পেনে ইসলামী মূল্য বোধ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এরপর সেখানকার রাজা বাদশারা যেভাবে বিলাসিতা, পাপাচারে মত্ত হয়ে যান, পর্দা উঠিয়ে দেন, তাতে পতনের কি বাকী থাকে?" আপনি যদি প্রগতিশীল হন তাহলে এই টিপিক্যাল কথা শুনে বিরক্ত লাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু রক্ষনশীলদের এরকম মনোভাব একেবারে অযৌক্তিক নয়। মুরদের পতনের মূল কারন ছিল জাতীয়তাবাদের বিলুপ্তি। একটি ভূখন্ডের অখন্ডতা রক্ষার জন্য জাতীয়তাবাদের আঠার কোন বিকল্প নেই। আন্দালুসিয়ার পরিবেশটি ছিল কিছুটা ভিন্নতর। এখানে ছিল আরব, অনারব মুর সহ বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মিশ্রন। যার ফলে জাতীয়তাবাদের মূল উপাদান ভাষা ও সংস্কৃতি ছিল দুর্বল গাথুনিতে গাথা। এদের ধর্ম ছিল এক, কিন্তু সে মূল্যবোধ ছিল উপেক্ষিত। যদিও আল্লাহর রাসুল (সা), অনারবের উপর আরবের কিংবা কালোর উপর সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই বলে ঘোষনা দিয়েছেন, বাস্তবক্ষেত্রে এই অধিবাসীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল। এছাড়া কেন্দ্রে ছিল আব্বাসীয় শাসন, যেখানে আন্দালুসিয়ায় চলছিল উমাইয়া শাসন। কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বারোয়ারী সংস্কৃতির আন্দালুসিয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী যারা পাশের ক্রীশ্চান শক্তিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম। কিন্তু উমাইয়া শাসক আবদের রহমান শিল্প সংস্কৃতি, বিজ্ঞানের উন্নতির দিকে খেয়াল রাখলেও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি মনোযোগী ছিলেন না। সব মিলিয়ে মুরদের পতন হয়ে উঠে অবশ্যম্ভাবী।

স্পেনের ক্ষমা প্রার্থনা:


স্পেনের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া বহিষ্কারের জন্য রাজা জুয়ান কার্লোস ইতিমধ্যে ইহুদীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। একবার ১৯৯২ সালে ইসরাইলের সংসদে এবং দ্বিতীয়টি টলেডোর সিনাগগে। কিন্তু মুসলিমদের দাবী সত্ত্বেও তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন নি। যদিও তিন মিলিয়ন মুসলিমকে বহিষ্কার করা হয়, যারা পার্শ্ববর্তী মরক্কোতে আশ্রয় নেয়। ইবনে হাকিম নামে একজন মরোক্কান বলেন, "আমার পরিবারে ১৪টি স্পানিশ নাম রয়েছে এবং আমরা স্প্যানিশ বলি। হারানো সে হোমল্যান্ডের জন্য আমরা এখনও ভালবাসা ধরে রেখেছি। আমি আশা করি না এত বছর পরে সে বাড়ী ও জমি ফেরত পাব। তবে আমাদের নৈতিক শক্তির বিজয় দেখতে চাই।" ইতিহাসবিদ গিবসন এ প্রসংগে লিখেছেন, "মুসলিমদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে সাড়া দেয়া প্রয়োজন। নাকি গ্রানাডার মুসলিমরা সেখানকার ইহুদীদের চেয়ে হীনতর?" (Click This Link)


===========================================

কিছু রেফারেন্স:

১। Click This Link

২। http://en.wikipedia.org/wiki/Tariq_ibn_Ziyad

৩। http://en.wikipedia.org/wiki/Moors

৪। গোল্ডেন এজ অব দ্য মুর: Click This Link ibn ziyad black&f=false

৫। Click This Link

৬। Click This Link

৭। ভিসিগোথ শাসনে ইহুদীদের ভয়ানক অবস্থার পুরো বর্ননা রয়েছে এখানে (সূত্র: http://libro.uca.edu/vcode/visigoths.htm) ।

৮। http://en.wikipedia.org/wiki/Visigoths

৯। http://en.wikipedia.org/wiki/Reccared

১০। Click This Link



১১। Click This Link



১২। Click This Link

১৩। Click This Link


১৪। Click This Link

১৫। Click This Link ibn ziyad black&f=false


১৬। Click This Link


১৭। Click This Link

১৮। Click This Link

১৯। Click This Link


২০। Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29060324 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29060324 2009-12-17 01:11:48
প্রাচীন রসায়নের জনক জাবির হাইয়ান ও তার অবদান এবং ইসলাম বিদ্বেষী ফেইথ ফ্রিডম কিমিয়া থেকে কেমিস্ট্রি:

গুপ্তবিদ্যার প্রতি আগ্রহ মানুষের চিরন্তন। "আল কেমি" হচ্ছে সেই রকম গুপ্তবিদ্যা, যার দ্বারা মানুষ "এলিক্সির" নামে এমন একটি যাদুকরী বস্তু তৈরী করতে পারবে। সে এলিক্সিরের ছোয়ায় লোহা হয়ে যাবে সোনা, তামা হয়ে যাবে রূপা, আর মানুষের আয়ু যাবে বহুগুন বেড়ে!! লোহা থেকে সোনা বানানো কিংবা জীবনকে দীর্ঘায়িত করার বাসনাই ছিল আল কেমী বিদ্যার মূল উদ্দেশ্য।

"আল কেমি" শব্দটি এসেছে আরবী আল কিমিয়া থেকে। "আল" হচ্ছে "the" এর আরবী এবং "কিমিয়া" এসেছে "কেম" থেকে, যার অর্থ "কালো মাটি"। মিশরের নীল নদের তীরের মাটি কালো হওয়ায় এ নাম, কেননা "আল কেমী"র ব্যপক চর্চা মূলত হয়েছে মিশরে। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, গ্রীক "কায়মা" থেকেও "কেমী" শব্দটি আসতে পারে। "কেমী" শব্দের এটিমোলোজি যাই হোক না কেন, "আল কেমি"র ব্যপক চর্চা তৎকালীন মুসলিম সমাজে হবার ফলে, "আল কেমী" শব্দটির আরবীতে আত্তীকরন হয়ে যায়।

আল কেমী বহু আগে থেকে চলে আসা একটি সাবজেক্ট, পৃথিবীর মানুষ লোহা থেকে সোনা বানানোর অসম্ভব চেষ্টা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই করছে। এরিস্টটলের দর্শন অনুযায়ী, সমস্ত বস্তুই আসলে একই জাতীয় সাবস্ট্যান্স দিয়ে তৈরী - শুধু অনুপাত ভিন্ন। অনুপাতের ভিন্নতার ফলেই একটি পদার্থ হয় লোহা, আর অন্যটি হয় সোনা। আরব বিজ্ঞানী জাবেরও ছিলেন একজন আলকেমিস্ট যিনি এরিস্টটলের এই দর্শনের দ্বারা প্রভাবান্বিত ছিলেন। আর আল কেমী বিদ্যাটি কিছুটা সুপ্ত হওয়ায় জাবেরের বইগুলোও অনেকটা রূপক ভংগিতে লেখা। আল কেমির উপরে লেখা তার বই "কিতাব আল জোহরা"তে তিনি লিখেছেন,
"আল্লাহ যাদের ভালবাসেন তারা ব্যাতীত বাকীদের হতভম্ব করা এবং ভুল পথে নেয়াই এর উদ্দেশ্য। " অন্য জায়গায় জাবের লিখেছেন, "আমার "মাস্টার" আমাকে শাসাচ্ছেন, যাতে এসব বিদ্যা কোন অবিবেচকের হাতে না পড়ে। " আলকেমীর বিদ্যা গুপ্ত রাখার মানসিকতায় বইগুলো লিখেন কঠিন ভাষায় এবং সাধারনের বোধগম্যের বাইরে।

আল কেমীর চর্চা থেকেই জাবের একসময় আবিষ্কার করে ফেললেন অনেক কিছু। আবিষ্কার করেন কি করে তরলের মিশ্রন থেকে একটি তরলকে আলাদা করা যায়, যা ডিস্টিলেশন নামে পরিচিত, আবিষ্কার করেন একুয়া রেজিয়া নামে একটি মিশ্রন যা সোনাকে গলিয়ে দিতে পারে এবং উদ্ভাবন করেন অগুনতি কেমিক্যাল সাবসট্যান্স - যা মরিচা প্রতিরোধ, স্বর্নের কারুকাজ, পোশাকের ওয়াটারপ্রুফ সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয়। আল কেমী থেকে তিনি সিস্টেমেটিক এক্সপেরিমেন্টেশনের দ্বারা শুরু করেন আরেকটি সাবজেক্ট, যা পরিচিতি পায় কেমেস্ট্রি হিসেবে। এ প্রসংগে তিনি বলেন, "কেমিস্ট্রির প্রাথমিক কর্তব্য হল, তুমি প্রাকটিক্যাল কাজ করবে এবং এক্সপেরিমেন্ট চালাবে। যারা প্রাকটিক্যাল কাজ করে না এবং এক্সপেরিমেন্ট চালায় না, তারা এ বিষয়ে কোন রকমের দক্ষতা অর্জন করতে পারে না।"

জাবের ইবনুল হাইয়ানের পরিচয় ও তার সংক্ষিপ্ত জীবনী:


৬৩৮ খ্রীষ্টাব্দে খলিফা উমর ইউফ্রেটিসের পশ্চীম তীরে কুফা শহর প্রতিষ্ঠা করেন। চারিদিক থেকে ইমিগ্রান্ট এসে কুফায় বসতি শুরু করে, একসময় কুফার জনসংখ্যা ২০০০০০ ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে কুফা উমাইয়াদের প্রধান শহরে পরিনত হয়। এই কুফা শহরেই আজদী নামের এক গোত্রের একজন ছিলেন হাইয়ান, যার নেশাগ্রস্ততা শহরে বেশ পরিচিত ছিল। তিনি গোপনে উমাইয়া খলিফাদের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত চলছিলো, তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ৭১২ শতকে উমাইয়া রাজবংশের জনপ্রিয়তায় এক বিশাল ধ্বস নামে। এছাড়া ব্যপক হারে অমুসলিমদের মুসলিম হওয়ার ফলে উমাইয়া রাজ্য অর্থনৈতিক মন্দার সম্মূখীন হয়। অমুসলিমদের কাছ থেকে আদায়কৃত জিজিয়া ট্যাক্সের পরিমান কমে যায়, যা রিভিনিউতে মারাত্মক ধ্বস নামায়। মুসলিমরা যাকাত দিলেও সে যাকাতের খাত নির্দিষ্ট, সর্বমোট আটটি। ফলে উমাইয়াদের পক্ষে অর্থনৈতিক ধ্বস সামলানো কঠিন হয়ে যায়।

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলীর নেতৃত্বে আব্বাসীয় নেতৃত্ব আসে ক্ষমতায়, যাদেরকে সক্রিয় সহযোগিতা করে শিয়া সম্প্রদায়। জাবেরের পিতা হাইয়ান, যিনি ছিলেন একজন শিয়া, এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। হাইয়ান এক পর্যায়ে উমাইয়াদের হাতে ধরা পড়ে যান এবং নিহত হন। ফলশ্রুতিতে ৭২১ খ্রীষ্টাব্দে জন্ম শিশু জাবের বড় হন পিতাকে ছাড়াই। কৈশোরে তিনি কোরান, গনিত সহ বেশ কিছু বিষয়ে পারংগমতা অর্জন করেন। আব্বাসীয় রাজবংশ অবশেষে প্রতিষ্ঠা পায়। কথিত আছে আব্বাসীয় জেনারেল আবদুল্লাহ একবার ৮০ জন উমাইয়া নেতাকে দাওয়াত করেন। উমাইয়া নেতারা যখন খেতে ব্যস্ত, তখন আবদুল্লাহ আদেশ দেন এদের হত্যা করার জন্যে। শুধু একজন জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে বেচে যান, যিনি পরে ইউফ্রেটিস পার হয়ে স্পেনে পৌছান। মোট কথা, ৭৫০ শতকের এর মধ্যেই উমাইয়াদের হঠিয়ে আব্বাসীয়রা ক্ষমতা সুদৃঢ় করে নেয়।


আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসার পরে জাবির এক সময় আব্বাসীয় উজির বার্মিকীর নেক নজর লাভ করেন, যার মাধ্যমে খলিফার সাথে দেখা করতে সমর্থ হন। ইয়াহিয়া বার্মিকীর একজন অতীব সুন্দরী দাসী অসুস্থ হয়ে গেলে জাবের তাকে এলিক্সির খাইয়ে পুরো সুস্থ করে দেন (যা ছিল এক ধরনের দ্রবন)। আব্বাসীয়দের কাছে হাইয়ানের সন্তান হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান দুভাবে: খলিফা হারুন অর রশিদের দরবারে তিনি আল কেমিস্ট হিসেবে নিয়োগ পান এবং অন্যদিকে বিখ্যাত শিয়া আলেম জাফর ইবনে আবি তালিব তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহন করেন। শিয়াদের কাছে আল কেমী সবসময়েই আদৃত একটি বিদ্যা ছিল। আলী (রা) বলেন, "আল কেমী হচ্ছে প্রফেসীর বোন।" খলিফার দরবারে তিনি অনেকদিন কাজ করেন। খলিফা হারুন অর রশিদ পরবর্তীতে বার্মিকীদের আচরনে মহা বিরক্ত হয়ে একজনের প্রানদন্ড ও বাকীদের বরখাস্ত করেন। তখন জাবের কুফাতে ফিরে আসেন। বার্মিকীদের সাথে সুসম্পর্ক থাকার মাশুল গুনতে হয় হাউজ এরেস্ট হয়ে। অবশেষে ৮১৫ সালে এ অবস্থাতেই তিনি মৃত্যু বরন করেন।


জাবেরের কিছু গুরুত্ববহ অবদান:

ডিস্টিলেশন হচ্ছে দুটি দ্রবনকে তাদের ভিন্ন স্ফুটনাংকের মাধ্যমে আলাদা করা। জাবির ইবনুল হাইয়ানের এই আবিষ্কার আলকেমী থেকে কেমিস্ট্রির পথে ছিল মাইলস্টোন উত্তরন। বিজ্ঞানী জাবির এক্সপেরিমেন্টেশনের উপর গুরুত্ব দেন এবং আল কেমীকে সাইন্স রূপ দিয়ে কেমিস্ট্রি হিসেবে দাড় করান। তিনি সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, ডিস্টিলেশন, ক্রিস্টালাইজেশন, লিকুইফ্যাকশন, অক্সিডাইজেশন, ইভাপোরেশন, ফিলট্রেশন সহ বেশ কিছু কেমিক্যাল এবং তার প্রসেস ব্যখা করে যান, যা আজকের কেমিস্ট্রির ভিত্তিমূল।

বিজ্ঞানী জাবের হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড আবিষ্কার করে তার মিশ্রন থেকে আবার "একুয়া রেজিয়া" আবিষ্কার করেন যা সোনাকে দ্রবীভূত করে। যার ফলে সোনার বিশুদ্ধিকরন এবং আহরন সহজ হয়ে যায়। এছাড়া তিনি সাইট্রিক এসিড, এসিটিক এসিড এবং টারটারিক এসিড আবিষ্কার করেন। জাবেরের এই রসায়নের জ্ঞান বিভিন্ন শিল্প কারখানায় সফলভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং তার ফলে অনেক ধরনের ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস উন্নত হয়। যাদের মধ্যে রয়েছে, স্টীল প্রস্তুতকরন, মরিচা প্রতিরোধকরন, স্বর্ন খোদাইকরন, পোশাকের ডাই তৈরী এবং চামড়ার ট্যানিং। তিনি গ্লাস তৈরীতে ম্যাংগানিজ ডাই অক্সাইড ব্যবহার বিধি দেখান, যা আজকের দিনেও ব্যবহৃত হয়। তার এসব আবিষ্কার আজকের কেমিস্ট্রি এবং কেমিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং এর ভিত্তিমূল।


জাবেরিয়ান করপাস:

জাবেরের গ্রন্থের পরিমান এত বেশী যে ধারনা করা হয় একা জাবেরের পক্ষে এতগুলো বই লেখা অসম্ভব। জাবেরের পরবর্তি কালে জাবেরের নামে ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় এসব বইয়ের কিছু অংশ লিখতে পারে বলে মনে করা হয়। জাবেরের গ্রন্থ সমগ্রকে চার ভাগে ভাগ করা যায়:

১। আত্মিক আলকেমি: এ বিষয়ে প্রায় ১১২ টি বই রয়েছে যা বার্মিকি উজিরদের উৎসর্গ করে লেখা।

২। দর্শন : ১০ টি বই রয়েছে পিথাগোরাস, সক্রেটিস, এরিস্টটল ও প্লেটোর দর্শনকে ব্যাখা করে। জাবের তার লেখায় গ্রীক ও মিশরীয় আলকেমিস্টদের প্রতি শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেছেন।

৩। ৭০টি বই রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে।

৪। আরো কিছু বই রয়েছে "ব্যালেন্স অব ন্যাচারের" উপরে।


কারো পক্ষে এত বই লেখা কি করে সম্ভব? তাই, ধারনা করা হয়, জাবেরের অনুসারীরা হয়তবা তার নামে কিছু বই লিখে রেখেছে। এ নিয়ে এখনো গবেষনা চলছে।

আগেই বলেছি, জাবেরের অনেক বই আল কেমির প্রথা অনুযায়ী খুব রহস্যের ভংগিতে লেখা। জাবেরের স্ক্রীপ্টের এই গুপ্ত ভাব থেকে ইংরেজীতে "gibberish" শব্দটি এসেছে। যার অর্থ "যা বোধগম্য নয়।"


জাবের প্রসংগে ফেইথ ফ্রিডমের ভন্ডামি:

ফেইথ ফ্রিডম সাইটের কথা আপনারা শুনেছেন কিনা জানিনা। ইসলামের উপর তিতা বিরক্ত হয়ে যারা ইসলাম পরিত্যাগ করেছেন, তাদের মিলন মেলা হল এই সাইট। কে ইসলাম ত্যাগ করল, এটা আমার কাছে খুব বড় কোন ইস্যু নয়। ইসলাম একই সাথে বিশ্বাস এবং আচার সমৃদ্ধ একটি ধর্ম। এই বিশ্বাসকে অস্বীকার করে কেউ ইসলাম ত্যাগ করতে চাইলে সে অধিকারটুকু তার থাকা উচিত। মানুষের বিশ্বাসের স্বাধীনতার এই বিষয়টি মুসলিমদের স্বীকার করে নেয়া উচিত। এতে ক্ষতির কিছু নেই, বিশেষত যেখানে পৃথিবীতে ইসলাম গ্রহনের হার তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশী। এছাড়া পবিত্র কোরানেও বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিষয়টি অনেকবার এসেছে।

তবে ফেইথ ফ্রীডমের ক্ষেত্রে কথা হল: যতটা না সত্য, তার চেয়ে বেশী বিদ্বেষ দিয়ে পরিচালিত এই সাইট। এই বিদ্বেষ শুধু সাধারন ভাবে ইসলামের বিশ্বাস এবং আচারের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিমদের গৌরবময় ঐতিহ্য বিচারের ক্ষেত্রেও। আমি রসায়নবিদ জাবিরকে নিয়ে লেখার সময় গুগলে একটা সার্চ দেই। অনেক সাইটের মধ্যে ফেইথ ফ্রিডম ছিল একটি, যেখানে জাবের প্রসংগে নীচের কথাগুলো রয়েছে:

"Muslim apologists claim that Jabir Ibn Haiyan was the father of chemistry though Chemistry was practiced from ancient ages. Egyptians used distillation process in 3000 years BC and the Greeks in 1000 BC. Zosimus of Panopolis wrote "The Divine Art of Making Gold and Silver", in the 4th century. Jabir Ibn Haiyan should not be called the founder of Chemistry, which is nothing but the usual deceiving technique of Muslim apologists."


মোদ্দা কথা, জাবেরকে কেন প্রাচীন রসায়নের জনক বলা হবে, সেটাই তাদের কাছে বিষ্ময়। এটা নাকি মুসলিমদের ভন্ডামির আরেকটি পরিচয়!!!!

আমি এ বিষয়ে প্রথমে বলতে চাই যে, জনক শব্দটি কিছুটা আপেক্ষিক। জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির বিষয়টি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতে কেউ হয়ত কোন আইডিয়া প্রথমে দেন, আবার কেউ বা তার উপর ব্যপক কাজ করে পৃথিবীর কাছে তা পরিচিত করেন। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় দেখা যায়, যার কাজের মাধ্যমে পৃথিবী পরিচিত হয় একটি নূতন বিষয়ে, তাকেই "জনক" উপাধি দেয়া হয়। যার ফলে "জনক" শব্দটি নিয়ে রয়েছে ব্যপক বিতর্ক। তবে ফেইথ ফ্রিডম যে দাবীটা করেছে যে, জাবিরকে রসায়নের জনক বানানোটা মুসলিমদের আরেকটা ভন্ডামি - সেটা সম্পূর্ন অসত্য। জাবির তার অবদানের মাধ্যমেই পৃথিবীর সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয়েছেন। উইকিপিডিয়াতে (Click This Link) তাকে প্রাচীন রসায়নের জনক বলা হয়েছে তার কাজকে মূল্যায়ন করেই। জাবেরকে রসায়নের জনক স্বীকৃতি দিয়ে এরকম শত সহস্র লেখা পাওয়া যাবে যার উপর মুসলিমদের কোন প্রভাব নেই। সুতরাং ফেইথ ফ্রিডমের এসব কথা শুধুই বিদ্বেষ প্রসূত, মনের জ্বালা মেটানোর ব্যর্থ প্রয়াস মাত্র।


জাবিরের অবদান অবশ্য ফেইথ ফ্রিডম অস্বীকার করেনি। কিন্তু জাবিরকে তারা নন-প্রাকটিসিং মুসলিম বলে দাবী করে, প্রশ্ন উঠিয়েছে, "জাবেরের ধর্মীয় চেতনার সাথে একমত না হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমরা কেন জাবেরকে নিয়ে গৌরব বোধ করে এবং তাকে মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে দাবী করে?"

জাবেরকে নিয়ে মুসলিমরা গৌরব বোধ করার মূল কারন রসায়ন শাস্ত্রে জাবেরের অবদান। আর শুধু মুসলিমরাই গর্ব বোধ করেছেন, এই দাবীও পুরো সত্য নয়। যা হোক, মূল প্রসংগ হচ্ছে: ফেইথ ফ্রিডমের দাবী জাবের আসলে মূলধারার মুসলিম ছিলেন না - এটা কতটুকু সত্য?

জাবের ৮০০ শতকের একজন বিজ্ঞানী। খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার সম্পর্কে খুব নিশ্চিত করে কিছু জানা যায় না। জাবেরের বিষয়ে যে বিষয়টি ইতিহাসবিদদেরকে সন্দিহান করে তুলেছিল তা হল জাবেরের রেখে যাওয়া বিশাল গ্রন্থভান্ডার। এত গ্রন্থ একজনের পক্ষে লেখা কি আদৌ সম্ভব - এই প্রশ্ন থেকেই জাবের হয়ে থাকেন এক রহস্যাবৃত ব্যক্তি। ধীরে ধীরে নিরন্তর গবেষনার ফলে জাবের সম্পর্কিত রহস্যের জট খুলতে থাকে। জাবেরের গ্রন্থের পাশাপাশি ল্যাবরেটারী এবং সেখানে রাখা মর্টার পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদরা এসব নিদর্শন থেকে ঘটনাপ্রবাহের সূতো গাথতে থাকেন। কিন্তু সে ইতিহাস কখনই অনিশ্চয়তার ছাপমুক্ত ছিল না। যতটুকু জানা যায় তাতে জাবেরের মূলধারার ইসলামের প্রতি আসক্তি ও বিশ্বাস বেশ ভাল ভাবেই ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। জাবের ছিলেন প্রখ্যাত শিয়া ফকীহ এবং ইমাম জাফর সাদিকের শিষ্য (http://en.wikipedia.org/wiki/Ja'far_al-Sadiq)। জাবেরের লেখা গ্রন্থে ইমাম জাফর সাদিককে "মাস্টার" বলে সম্বোধন করা হয়েছে। জাফর সাদিক শিয়া হলেও সুন্নীদের মাঝে গ্রহনযোগ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব। জাফর সাদিকের শিষ্যের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু হানিফা, যিনি সুন্নীদের হানাফী মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা, মালিক ইবনুল আনাস, যিনি মালিকি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং ওয়াসিল ইবনুল আতা, যিনি মুতাজিলা মতবাদের জনক। ইমাম জাফর সাদিক মতবাদের উপরে সর্বস্তরের কাছে গ্রহনযোগ্য একজন ব্যক্তিত্ব। সেজন্য শিয়া মতবাদের হওয়ার জন্য কেন জাবের ইবনুল হাইয়ানকে সাধারন মুসলিমদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শের হতে হবে, তা বোধগম্য নয়। শিয়াদের বিভিন্ন বইতে জাবেরকে ইমামের একজন ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দেখানো হয়েছে। একজন নন-প্রাকটিসিং মুসলিম কেনই বা ইমাম জাফর সাদিকের মত একজন উচুস্তরের ইসলামী ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠ ও স্থায়ী সাহচর্য পাবে, সেটা মোটেও বোধগম্য নয়। সুতরাং ফেইথ ফ্রিডম কিসের উপর ভিত্তি করে জাবেরকে ভিন্ন চেতনাধারী দাবী করছে, তা বোঝা গেল না।

একটা ব্যাখা হতে পারে ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের দ্বারা জাবের ব্যবহৃত হয়েছেন। জাবেরের নাম করে ইসমাইলিয়ারা নিজেদের লেখা চালিয়েছে। সেজন্য মনে হতে পারে জাবের বুঝি ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের একজন। কিন্তু সেটা তো অসম্ভব, কারন ইসমাইলিয়া মতবাদের জন্ম হয়েছে জাবেরের পরবর্তী কালে। এছাড়া যেসব বই জাবেরের লেখা বলে ধারনা করা হয়, তাতে কোথাও ইসমাইলিয়া বা সে জাতীয় মতবাদের প্রভাব দেখা যায় না। জাবের শিয়া ছিলেন, যিনি ইমাম জাফর সাদিকের ঘনিষ্ঠ সহচর - ইতিহাস সেদিকেই জোরালো ইংগিত দেয়। কিছুটা সুফী ভাব জাবেরের মধ্যে ছিল, তবে এটাও সম্ভবত ইমাম জাফর সাদিকের প্রভাবে প্রভাবিত হবার জন্যে। তবে জাবেরের ধর্ম দর্শন নয়, ইসলামী জ্ঞানচর্চা নয়, বরং মূল অবদান রসায়ন শাস্ত্রে - সেটা অনস্বীকার্য।

=========================================
রেফারেন্সগুলো:


Click This Link


Click This Link ibn hayyan&f=false

Click This Link


Click This Link

Click This Link
http://en.wikipedia.org/wiki/Geber

http://www.statemaster.com/encyclopedia/Geber
http://www.absoluteastronomy.com/topics/Geber

Click This Link

Click This Link

Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29045940 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29045940 2009-11-19 09:22:00
ব্লগিং ও ব্যান বিষয়ে কিছু কথা (উৎসর্গ: নাহিদ)
বাংলা ব্লগকে সাধারন বাংগালীর কাছে জনপ্রিয় করতে যে প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতেই হয়, তা হল সামহোয়ার ইন। ব্লগিং প্লাটফর্মের সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে ধীরে ধীরে জয় করে সামহোয়ার এখন মোটামুটি স্থায়ীত্ব লাভ করেছে। এছাড়াও প্রথম আলো ব্লগ ও আমার ব্লগও মোটামুটি মানের জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে ব্লগ জগতকে একটি বিকল্প মিডিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আরো বহু সময় দিতে হবে। কিছুদিন আগে আমি আমার একটি লেখায় ব্লগের এই প্রাথমিক সাফল্যকে স্বীকৃতি জানিয়ে লিখেছিলাম:

"তবে আশার কথা এই যে প্লাটফর্মের সংখ্যা বাড়ছে। চাইলেও কারো কন্ঠরোধ করা আর সম্ভবপর হবে না। ইন্টারনেট এক বিশাল সমুদ্র। সেখানে "যে লড়ে সে টেকে" বা "survival of the fittest" মতবাদের সার্থক রূপ প্রতিফলিত হয়। আর এই "লড়া"টা হতে হবে বুদ্ধিভিত্তিক, নোংরামি ভিত্তিক নয়। প্লাটফর্মের সংখ্যা বেড়ে গেল আপনা আপনিই বুদ্ধি ভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরী হবে, নোংরামী দিয়ে তা বন্ধ করা যাবে না।"


ব্লগিং এর একটি চ্যালেন্জ্ঞ হচ্ছে ব্যান। ব্লগ একটি হালকা মেজাজের প্লাটফর্ম বিধায় এখানে অনেক সময় অনেকেই অনেক কথাবার্তা লিখে থাকেন। যার ফলে শুধু অস্থির মেজাজের নয়, বরং অনেক ভাল ভাল ব্লগারদের উপরেও ব্যানের তলোয়ার নেমে এসেছে। ব্লগের মূল প্রান হল তার ব্লগাররা। ডিসিপ্লিনারী একশনের তোড়ে যদি ব্লগাররাই ব্লগিং এর পরিবেশ না পায়, তাহলে ব্লগ আর জেলখানার মধ্যে কোন তফাৎ থাকে না। ব্লগিং এর ডিসিপ্লিনারী একশন হিসেবে ব্যান তাই খুব পছন্দনীয় কোন ডিসিপ্লিনারী একশন নয়। তা সত্ত্বেও "ব্যান" এখনও ব্লগিং প্লাটফর্মগুলোর মূল ডিসিপ্লিনারী একশন। কিছু দিন আগে প্রথম আলো ব্লগে ম্যাভেরিক ভাই ব্যান পরবর্তী উল্লাস জাতীয় কথাবার্তা নিরুৎসাহিত করতে অনুরোধ জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। কথা হচ্ছে, যাকে ব্যান করা হয়েছে সে কোন ভাবেই আর আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারছে না। যে ব্যান হয়, সে অনেকের কাছে অপ্রিয়, তবে কারো কারো কাছে সে প্রিয়। তাই, এ জাতীয় উল্লাস সূচক কথাবার্তা স্বভাবতই অনেককে আহত করে থাকে। সুতরাং এ বিষয়টির দিকে ব্লগ কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া জরূরী।

দ্বিতীয় ইস্যুটি হল "স্থায়ী ব্যান" কিংবা "লগ ইন" ব্যান। ক্রমাগত ব্লগ রুল ভংগ করা, কিংবা নিশ্চিত ভাবে ব্লগ পরিবেশকে বার বার উস্কানীর চেষ্টা ব্যতীরেকে কারো উপর এ ধরনের চূড়ান্ত শাস্তি না প্রয়োগ করাই ভাল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও দেখা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে সেরকম কোন অভিযোগ নেই, তাদের বিরুদ্ধেও এরকম শাস্তির খাড়া নেমে এসেছে। এই বিষয়টির নিয়েও কর্তৃপক্ষ নজর দেবেন আশা করি। এটি একজন "ভিকটিম" ব্লগার শুধু নয়, বরং পুরো ব্লগ কমিউনিটিকে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। ব্লগ রুল ভংগ করা যে ব্লগারের স্বভাব কৌশল নয়, তার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে "চূড়ান্ত ব্যান" কাম্য নয়। প্রতিপক্ষ ব্লগাররা হয়ত এতে সাময়িক আনন্দ লাভ করতে পারে, তবে এর প্রতিক্রিয়া সুদূর প্রসারী। যার ফলশ্রূতিতে ব্লগিং প্লাটফর্মগুলো এখনও তাদের পুরোনো ব্লগারদের ধরে রাখতে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতা ব্লগিং প্লাটফর্মের ব্যর্থতা, যার মুখোমুখি হওয়া জরূরী।

শেষ কথা হল, ব্লগারের লেখার ক্ষমতা, তার ব্লগ বয়স - এগুলোও ব্যানের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। তিন বছরের পুরোনো ব্লগার যে ইতিমধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, আর তিন দিনের ব্লগার যে এখনও প্রতিষ্ঠিত হয় নি -ব্লগ নীতিমালা দুজনের ক্ষেত্রে সমান ভাবে প্রযুক্ত হওয়া অন্তত আমি সমর্থন করতে পারছি না। পুরোনো ব্লগারদের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা কাম্য। তেমনি ভাবে, যেসব ব্লগারের লেখা সার্বিকভাবে সবার গ্রহনযোগ্যতা পায়, তাদের ক্ষেত্রেও কিছুটা শিথিলতা দেয়া হোক।

পরিশেষে সবার উদ্দেশ্যে শেষ একটি কথা বলে আজ ইতি টানছি। ব্যান বিষয়ে আমাদের মনোভাব হোক নীচের পংক্তি গুলোর মত:

দন্ডিতের সাথে দন্ডদাতা কাদে যবে সমান আঘাতে
সর্ব শ্রেষ্ঠ সে বিচার


(আমার এই লেখাটি সামহোয়ারে সদ্য ব্যান হওয়া নাহিদকে উৎসর্গ করে। তার ব্যানই আমাকে এ লেখাটি লিখতে উৎসাহী করেছে। তার আনব্যানের বিষয়টি সম্পূর্নভাবে কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়, তবে তাকে "আনব্যান" দেখলে আমি খুশী হই।)

হ্যাপি ব্লগিং।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29044167 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29044167 2009-11-16 01:47:14
শিক্ষা নীতি ব্যবচ্ছেদ - অসারের কিছু প্রলাপ
আমারও কিছু কথা বলতে ইচ্ছা করে। কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে বার বার ইচ্ছে করে ব্লগ সাইটে উকি দিতে। মাঝে মাঝে অন্যের পোস্টে মন্তব্য করি, তবে সবসময় সে অভিজ্ঞতা সুখকর হয় না। মানুষের সাথে মেলামেশায় আমার খুব সুনাম সমাজে নেই, ব্লগেও এটা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুই বছরের উপরে আমার এখানে বিচরন, অথচ শুভাকাংখী ব্লগার বলতে নাহিদ, সোহায়লা, কিংবা পারভেজ ভাই এর মত দুই চারজন হাতে গোনা। আমি তো কোনদিনও কারো আত্ম সম্মানে আঘাত করি না, ডেল কার্নেগীর বন্ধু বিষয়ক বই অনাগ্রহ, বিতৃষ্ণা নিয়ে পড়ি শুধুমাত্র বন্ধুবৎসল হবার জন্যে, কিন্তু তবুও আজতক বন্ধুহীন হয়েই রইলাম। যার নয়ে হয় না, নব্বইতেও সে না হবার দলেই থাকে।

শিক্ষা নীতি নিয়ে কথা বলতে এসে নিজের প্রসংগে এত গুলো কথার অবতারনার কারন একটিই। আমি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত শিক্ষা নীতি নিয়ে খুব বেশী কিছু জানি না, অথচ এ নিয়ে পোস্ট দিতে চাই। প্রেম ভালোবাসা টাইপ পোস্ট দেবার ক্ষমতা আমার নেই, তার জন্য রোমান্টিক মননশীলতার দরকার, যা আমার কোন কালেই ছিল না। কিন্তু শিক্ষানীতির বিষয়ে জ্ঞান না থাকলেও, শিক্ষার বিষয়ে আগ্রহটুকু আছে। যার ফলে পোস্টে হয়ত এ বিষয়ে নিজের এলোমেলো ভাবনাগুলো তুলে ধরা আমার পক্ষে অসম্ভব হবে না।

প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি নিয়ে কথা বলতে আমার আগ্রহের কারন আমার নিজের শৈশব বেলার অভিজ্ঞতা। জীবনের মেটামরফোসিস বিশ্লেষন করলে দেখা যায় মানুষের সবচেয়ে ভাবনাহীন আলোকিত সময়টি হচ্ছে তার শৈশব - যে সময়টা মানুষ থাকে সবচেয়ে বেশী স্বাধীন এবং উৎফুল্ল। সে সময়টাতে তাকে শেখাতে হয় আনন্দের সাথে। একবার যদি শেখার আনন্দ থেকে বিচ্যুত হয়ে সে নিরানন্দতার সাথে জুটি বাধে, তবে সে শিক্ষার সাথে পরবর্তীতে একাত্ম হওয়া তার পক্ষে কঠিন।

প্রথমেই বলে রাখছি, আমি বিভাজনমূলক শিক্ষার সমর্থক। আমেরিকার এই বিভাজন মূলক শিক্ষা ব্যবস্থার যে ভাল দিকটি আমার কাছে ফুটে উঠেছে তা হল, এর ফলে শিশুদের শিক্ষিত হবার সুব্যবস্থা অনেক বেশী থাকে। উদাহরন স্বরূপ বলা চলে, এদের একটি স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা হল হোম স্কুলিং। অনেক পিতামাতা পাবলিক স্কুলে সন্তানদের দিতে চান না, কিংবা দেবার অবস্থায় থাকেন না। তারা স্বচ্ছন্দে নিজেদের সন্তানদের হোম স্কুলিং করিয়ে থাকেন। পাবলিক স্কুল ফ্রী, তবে ডিসিপ্লিনের জন্য অনেকে প্রাইভেট স্কুলে অনেক টিউশন দিয়ে বাচ্চাদের পড়িয়ে থাকেন। ক্যাথলিক স্কুল কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় স্কুল গুলোও সগৌরবে টিকে আছে তাদের পরিবেশ ও ডিসিপ্লিনের কারনে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে বিষয়টি আমার কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে, তা হল পাশের হার। এখনও পাশের হার শতকরা ৫০ ভাগের বেশী নয়। তার মানে অর্ধেকেরও বেশী ছাত্র ছাত্রী তাদের কাংখিত লক্ষ্যে পৌছুতে সক্ষম নয়।

এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা নীতিতে জোর দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এই ৫০ ভাগ ছাত্র ছাত্রী কি জন্য পিছিয়ে আছে। এদেরকে কি করে সামনে এগিয়ে আনা যায়? এরা কি কারনে শিক্ষা কারিকুলামের মূল সুরটি ধরতে ব্যর্থ? পাশ্চাত্যের উদাহরন টানা যাক। পাশ্চাত্যে শিক্ষার মান মোটামুটি উন্নত। কোন সাবজেক্টে কোন ছাত্র ছাত্রী পিছিয়ে থাকলে, স্কুল থেকে তার জন্য আলাদা টিউটরিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়া তাদের টেক্সট বইগুলো সহজ ভাষায় লেখা, ছবি সমৃদ্ধ এবং সিলেবাস খুব একটা বিস্তৃত নয়। যার ফলে ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষে একটা ন্যুনতম মান অর্জন করা খুব কঠিন হয় না। বাংলাদেশে কেন তবে তা এত কঠিন? তার কারন, শিক্ষক ছাত্রের উচু অনুপাতের ফলে ছাত্রের জন্য একজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয় সময় প্রদানে অক্ষমতা, সিলেবাসের ব্যপকতা, টেক্স্ট বইগুলো দুর্বোধ্য ভাষা এবং সবশেষে একটি বিষয়কে সহজ ভাবে উপস্থাপনায় শিক্ষকের ব্যর্থতা। মূলত এই কারন গুলোই ছাত্র/ছাত্রীদের ব্যর্থতার জন্য দায়ী। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে শিক্ষাকে সহজবোধ্য আর আনন্দময় করে তোলা যে কোন শিক্ষা নীতিতে সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। যার অবধারিত কনসিকুয়েন্স হচ্ছে পাশের হার বেড়ে যাওয়া। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখেছি শিক্ষা নীতি যখন আলোচিত হয়, তখন এই বিষয়টিকে খুব একটা জোর দিতে দেখা যায় না। ধরে নেয়া হয়, ফাকিবাজ হলে তার পক্ষে অকৃতকার্য হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ফাকিবাজ হবার ছিদ্র গুলো বন্ধ করতে চাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আমাদের ছেলেমেয়েদের সবাইকে কেন এত এত বেশী বই পড়তে হবে, আর এত বেশী জানতে হবে? দিন না, জেনারেল সিলেবাস একটু কমিয়ে। টেক্স্ট বই গুলো হোক ছবি আর ব্যখা সমৃদ্ধ। ভূগোল ক্লাশে গ্লোব রাখা হোক। তারা যা জানবে, তা সঠিক ভাবে জানবে। আর যেসব ছাত্র ছাত্রীরা এগিয়ে, তাদের জন্য অতিরিক্ত কিছু অধ্যয়ন থাকুক। যা আমেরিকাতে ম্যাগনেট প্রোগ্রামে করা হয়ে থাকে। এগোনো পেছোনো সব ছাত্র ছাত্রীকে একই সিলেবাস অনুসরন করে চলার চেয়ে, বরং পিছিয়ে থাকদের জন্য ন্যুনতম সিলেবাস আর এগিয়ে থাকাদের জন্য বিস্তৃত সিলেবাস বেশী ফলদায়ক বলে মনে করি। যার ফলে, পিছিয়ে থাকা ছাত্র ছাত্রীরা একটা ন্যুনতম মান অর্জন করে এগোতে পারবে। আর এগিয়ে থাকা ছাত্র ছাত্রীরাও তাদের কাংখিত মানের লক্ষ্যে পৌছুতে পারবে।


শিক্ষা ব্যবস্থা বিভাজনমূলক হলে তার বিষয়ে নীতিমালা অনুসরন করতে হবে। এটা খুব স্বাভাবিক যে, মাদ্রাসায় ধর্ম বিষয়ে বেশী জোর দেয়া হবে, কিন্তু সাধারন শিক্ষায় তা দেয়া হবে না। তা সত্ত্বেও কিছু বিষয়কে সবার জন্য আবশ্যিক করে দেয়া দরকার। সেগুলো হতে পারে, ল্যাংগুয়েজ আর্টস, সাইন্স, ম্যাথ, সোশাল স্টাডিজ। যেমনটি আমেরিকাতে রয়েছে। ল্যাংগুয়েজ আর্টস আবার বিভক্ত হতে পারে কয়েকটি ভাগে: স্পেলিং, গ্রামার, রিডিং, রাইটিং। আমেরিকাতে এর বাইরে ইসলামিক স্কুল গুলো কোরান, এরাবিক, ইসলামিক স্টাডিস পড়িয়ে থাকে। আর সাধারন পাবলিক স্কুলগুলো সম্ভবত আর্টস, স্প্যানিশ -এসব পড়িয়ে থাকে। বিষয়গুলো অপশনাল হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্রতা চলে আসে।

বাংলাদেশে দেখলাম ফাইন আর্টসকে বাধ্যতামূলক করা হবে। এ বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। ড্রইং আর মাটির কাজ - এই দুটো সাবজেক্ট আমার প্রাইমারী স্কুলে ছিল। পাশ মার্কস জোগাড় যে কি কঠিন ছিল, তা মনে করলে আজো শিউরে উঠি। এসব ক্লাসে আমাকে কেউ কখনও ধরে ধরে শিখিয়ে দেয় নি। আমার মনে হয় না এসব বিষয় আবশ্যিক হিসেবে থাকা উচিত। যতদিন না ভালভাবে ছাত্র ছাত্রীদের শেখানোর ব্যবস্থা থাকবে, ততদিন সেলাই, মাটির কাজ কিংবা ড্রইং সাবজেক্টগুলো অতিরিক্ত হিসেবে রাখা প্রয়োজন।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল ধারার সাবজেক্ট হিসেবে বাংলা, ইংরেজী, সাইন্স, ম্যাথ এবং সোশাল স্টাডিজ আবশ্যিক হিসেবে থাকা প্রয়োজন। সাহিত্য ও সোশাল স্টাডিজ মাদ্রাসা বোর্ডের জন্য আলাদা হতে পারে। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন কিংবা শপথ - অন্ততপক্ষে একটিকে মাদ্রাসাগুলোর বেছে নিতে হবে।

সাধারন শিক্ষায়ও ধর্ম ও কোরান শিক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে সাধারন শিক্ষায় আরবী থাকার কোন দরকার নেই। ক্লাস এইট পর্যন্ত আমাদের আরবী পড়তে হয়েছে, অথচ তা থেকে কিছু শিখতে পারিনি। তাই আরবী আমার কাছে অহেতুক মনে হয়। আমেরিকার সাধারন স্কুলে ধর্ম পড়ানো হয় না। বাংলাদেশের সাধারন স্কুলে ধর্ম শিক্ষা স্বাধীনতার পর থেকেই চলে আসছে। এখনো অভিভাবকরা ধর্ম শিক্ষার পক্ষে রয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ গড়তে ধর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাহলেই কেউ আর ধর্মের নামে বিভ্রান্ত হবে না।

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার, যা অন্য দেশের জন্য মডেল হতে পারে। এই পরিবেশকে উৎসাহিত করতে সোশাল স্টাডিজে বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন উৎসব যেমন, ঈদ, পুজা, পূর্নিমা সহ বিভিন্ন উৎসবের বর্ননা যোগ করা যেতে পারে, কিন্তু সরাসরি অন্য ধর্মের খুটিনাটি শেখানোটা অপ্রয়োজনীয়।

যাক, অনেক কথা বলে ফেললাম। হয়ত বা অরন্যে রোদন। কিন্তু নিজের কথ গুলো বলার আনন্দ থেকে নিজেকে ফাকি দিতে চাইলাম না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29039104 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29039104 2009-11-07 08:38:16
মেহনাজকে মুক্তি দেয়া হোক
খুব অগোছালো ভাষায় যে পোস্টটি এখন লিখছি তা এক লাইনেই শেষ করা যায়। তা হল, "অনেক হয়েছে। এবার মেহনাজকে ছাড়ুন।"

মেহনাজকে যে কারনে গ্রেফতার করা হয়েছিল তা হল, সাংসদ তাপসের উপর হামলার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ। অথচ আজতক এই বিষয়ে কোন তথ্য উদ্ধার হয় নি। তদন্তকারী কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে প্রশ্ন করাটা জরূরী মনে করছেন না। বারীর সাথে তিনি কি করে হানিমুন কাটালেন সেটা জানাই যেন তাদের উদ্দেশ্য। অথচ সেটা হামলার সাথে মোটেই সম্পর্কিত নয়। তার ব্যক্তিগত জীবনের খুটিনাটি পত্রিকায় আসছে, অথচ এসব না জানলেও কারো কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না।

মেহনাজ সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যার জননী। এখনও তিনি সম্পূর্ন সুস্থ নন, বরং পোস্টপার্টাম পর্যায়ে আছেন। সাথে সাথে তিনি ব্রেস্ট ফিডিং করাচ্ছেন। একজনের এরকম ভংগুর একটি সময়ে খুব গুরুতর কারন ব্যতীত গ্রেপ্তার করা ঠিক নয়। তাই মেহনাজকে রিমান্ড থেকে অব্যহতি দেয়া হোক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29033784 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29033784 2009-10-29 00:54:20
ব্লগের নূতন প্লাস/মাইনাসের নিয়ম
আমি এই নিয়ম টেস্ট করতে গিয়ে একজনের ব্লগের একটি পোস্টে মাইনাস দিলাম (যার ব্লগে আমি ব্লকড বলে জানতাম)। অপেক্ষা করছি কি হয় সেটা দেখার জন্য। দেখি মাইনাস রেটিং কাজ করল। বিষয় কি? উল্টো হলো কেন? দেখলাম তার ব্লগে আমি আর এখন ব্লকড নেই - আনব্লক হয়ে গেছি। ধূর ছাই, অহেতুক মাইনাসটা পড়ল। যাহোক, আরেকজনের ব্লগে গিয়ে অবশ্য নিয়মটা ভেরিফাই করে আসলাম। তার ব্লগে এখনও আমি ব্লকড বলে মাইনাসের নিয়মটা টেস্ট করা গেল।


ব্লগার ফকির ইলিয়াস বলেছেন মাইনাসের এই নিয়মটির প্রস্তাব তিনি করেছিলান।

Click This Link

ফকির ইলিয়াসের জন্য যদি মাইনাসের এই নিয়ম চালু হয়ে থাকে তবে সেটা খুব একটা বড় অন্যায় নয়। কারন উনার এমন অনেক লেখায় মাইনাসের পাহাড় পড়ে যে সেটা খুব জঘন্য লাগে, নিজের কাছেই বিব্রত লাগে।

তবে এই নিয়মটির প্রস এন্ড কনস দুটো দিকই আছে।

প্রথমেই বলে রাখি আমি একজন মাইনাস খাওয়া ব্লগার। আমার পোস্টে মাইনাসের আধিক্য। কিন্তু সেটা আমি কি করে যেন ইগনোর করতে পেরেছি। আমার একটি পোস্টে আমি বিডিআর বিদ্রোহে সরকারের ঢালাও সাধারন ক্ষমার বিরোধিতা করেছিলাম। ব্যপক মাইনাস পড়ে সে পোস্টে। পরে দেখা গেল সরকার নিজেই পিছু হঠেছে সাধারন ক্ষমা থেকে। আবেগ দিয়ে যে দেশ চালানো যায় না, সেটা সরকার দেরীতে হলেও বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু আমি তখন ঠিক একই কথা বলায় আম ব্লগাররা তা পছন্দ করে নি। গনহারে মাইনাস সহ্য করতে হয়।


সামহোয়ারে মাইনাসের ব্যপক অপপ্রয়োগের অন্যতম সফল একটি দৃষ্টান্ত হল মাহবুব মোর্শেদের উপর কিছু ব্লগারদের প্রতিশোধ নেয়া। এই মাইনাস অস্ত্র উনার উপর সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়। উনি কাবু হন এই অস্ত্রে।

নূতন নিয়মে এসব পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাবে সম্ভবত। ভুয়া নিকের অধিকারী হয়ে যাকে অপছন্দ করি তাকে মাইনাসের আধিক্য দিয়ে অপদস্ত করতে চাওয়ার চলে আসা বিষয়টা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রিত হবে।

কিন্তু অপর পিঠও তো রয়েছে।

মাইনাস কি লেখককে কিছুই দেয় নি।

পোস্ট ভাল কি মন্দ তা বোঝা যায় মাইনাস রেটিং দিয়ে।

মানুষের সেন্টিমেন্ট কোনদিকে সেটা বোঝার একটি দিক নিদের্শনা হল মাইনাস/প্লাস রেটিং।

সাধারনের মাঝে ব্লগারের গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু সেটাও বোঝা যায় মাইনাস থেকে। অতিশয় খারাপ পোস্টও কোন প্রিয় ব্লগারের কাছ থেকে এলে আমরা মাইনাস দিতে কষ্ট পাই। আর অপ্রিয় ব্লগারের পোস্টে ছুতো খুজি মাইনাস দেবার।

এই তিনটি কারনের দ্বারাই একজন ব্লগার মাইনাস রেটিং পেয়ে থাকে। তাই মাইনাস একটি বড় শক্তিশালী ইনফরমেশন।

যেমন, আমার ব্লগে ইদানিং মাইনাস খুব বেশী আর দেখছি না। এর মানে ধরে নিচ্ছি, মানুষ এখন আর আমাকে ততটা অবিশ্বাস করছে না। আস্তে আস্তে আমার উপর মানুষের বিরক্তি কমে আসছে।

অথচ এই ইনফরমেশনটা সামনে থেকে জানতে হলে আমাকে এখন সবাইকে আনব্লক করতে হবে। কিন্তু গালিবাজ, আর ফ্লাডিং এর রিস্ক তাতে পুরোপুরি থেকে যায়।

সবশেষে:
ফকির ইলিয়াস তার পোস্টে বলেছেন:

"আমার বিশ্বাস প্রকৃত লেখক-লেখিকারা এই সংযোজনে মুক্তির নিঃশ্বাস
নিচ্ছেন।"

আমার কিন্তু বরং মনে হচ্ছে আমি অনেক কিছু হারালাম (উল্লেখ্য আমি নিজেকে প্রকৃত লেখিকার কাতারে ফেলে থাকি)। আগে মাইনাসের জন্য হলেও গালিবাজ ব্লগাররা (যাদের ব্লক করে রেখেছি) আমার পোস্ট পড়ত। এখন সে দায়টা তাদের আর নেই।

নিঃশ্বাস ফেললাম, তবে তা আক্ষেপের।



বি: দ্র: এই পোস্টটি লেখার পর বুঝলাম নিয়মটি শুধু মাইনাস নয়, বরং প্লাসের জন্যও প্রযোজ্য। ব্লগের কিছু পোস্ট পড়ে আমার মনে হয়েছিল, এটা বুঝি শুধু মাইনাসের জন্য প্রযোজ্য।

স্যরি ফর দ্য মিসটেক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29021748 http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/29021748 2009-10-07 07:03:47