আমার প্রিয় পোস্ট

ইরতেজা আলী এর আন্তর্জাল খেরোখাতা http://www.petitiononline.com/1971war/petition.html

স্বপ্ন কি বিক্রি করা যায়?(মুহম্মদ জাফর ইকবাল)

০৫ ই জুন, ২০০৭ ভোর ৬:১১

শেয়ার করুন:                   Facebook

উত্তর হচ্ছে ‘না’−স্বপ্ন বিক্রি করা যায় না। আমরা অবশ্য দেখতে পাচ্ছি যে নতুন একটা পৃথিবী তৈরি করা হচ্ছে যেখানে ভালো দাম পেলে নিজের মাকেও বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ম। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফের ফর্মুলা আর বিশ্বায়নের মতো বড় বড় দুর্বোধ্য শব্দ দিয়ে সেই নিয়মগুলো পৃথিবীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবাইকে বোঝানো হয়−এখন সবকিছুই পণ্য, সবকিছুই বিক্রি করে দেওয়া যায়। এখানে শিক্ষা বিক্রি হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিক্রি হয়। ধর্ম বিক্রি হয়, নীতি কথা বিক্রি হয়। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, এ দেশে স্বপ্নও বিক্রি হয়।
ভ্যালেরি এ টেইলরের একটা স্বপ্ন ছিল। তিনি এ দেশের দুস্থ-অসহায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষদের বিনামূল্যে সুস্থ করে তুলবেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন। সারা জীবনের পরিশ্রমে তিনি যখন এ স্বপ্নটাকে সত্যি করে তুলেছেন তখন কিছু বেনিয়া এসে ভ্যালেরি টেইলরকে ধাਆা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলেছেন, অনেক হয়েছে এখন তুমি যাও। আমরা এখন এ স্বপ্ন বিক্রি করব।
তারপর তাঁরা ভ্যালেরি টেইলরের স্বপ্নকে টুকরো টুকরো করে প্রতি টুকরো ১৮ হাজার ৫০০ টাকা করে বিক্রি করতে শুরু করলেন। বাংলাদেশের হতদরিদ্র দুস্থ পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষেরা এত দিন যে সেবাটুকু বিনা খরচে কিংবা নিজের সাধ্যের ভেতরে পেয়ে এসেছেন হঠাৎ করে তাঁরা আবিষ্ককার করেছেন ভর্তি হতেই তাঁদের লাগছে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা, এখান থেকে যাওয়ার সময় তাঁদের হাতে কত সহস্র টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হবে তার কোনো হিসাব নেই। খবরটা পড়ে আমার মতো মানুষেরই এত খারাপ লাগছে−যিনি তিল তিল করে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন সেই ভ্যালেরি টেইলরের কেমন লাগছে আমি কল্পনাও করতে পারি না।

২.
একটা সুন্দর গান শুনলে কিংবা একটা চমৎকার বই পড়লে যেমন বুকটা ভরে যায়, ভ্যালেরি টেইলরের জীবনের গল্পটাও সে রকম। শুনলে বুকটা ভরে যায়। এ দেশের সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার প্রকৃত বন্ধন শুরু হয়েছে একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর থেকে। তিনি প্রথমে এসেছিলেন ঊনসত্তরে, কিন্তু বেশি দিন থাকতে দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় নিজের দেশ ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে হয়েছিল, যুদ্ধের পর আবার ফিরে এসেছেন।
আমাদের মতো বয়সী মানুষেরা যারা ঠিক স্বাধীনতার পরবর্তী সময়টুকু দেখেছে শুধু তারাই জানে কী ভয়াবহ দুঃসময় ছিল সেই সময়টা। সহায়-সম্বলহীন যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটা দেশে সবচেয়ে অসহায় ছিল সম্ভবত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা (‘পঙ্গু’ বলে একটা শব্দ আছে, অন্যদের জন্য ব্যবহার করলেও একজন মুক্তিযোদ্ধার আগে আমরা কখনো এ শব্দটা বসাই না, তাঁদের তো আর কিছুই দিতে পারিনি, না হয় পঙ্গু শব্দের বদলে যুদ্ধাহত শব্দটাই উপহার দিই)। ভ্যালেরি টেইলর একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, তিনি এ দেশের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের পায়ে দাঁড় করানো বা অন্যান্য সহায়তা দিয়ে, পুনর্বাসনের কাজ দিয়ে তাঁর জীবনটুকু শুরু করলেন। শুধু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা নন, ভাগ্যাহত অন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষদেরও সেবা দেওয়া শুরু করলেন। প্রথম জীবনটি তাঁর খুব কষ্টে গেছে, মানুষকে সেবা করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থটুকুও নেই। শুনে কেউ বিশ্বাস করবে না, কিন্তু সত্যি সত্যি তিনি লন্ডনে গিয়ে বাসস্টেশনে, রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
১৯৭৯ সালের দিকে ভ্যালেরি টেইলর ভাবলেন পঙ্গু অসহায় মানুষকে সেবা দেওয়ার এ প্রক্রিয়াটাকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রৃপ দেওয়া দরকার। খুঁজে পেতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে দুটো পরিত্যক্ত সিমেন্টের গুদামে ভ্যালেরি টেইলর তাঁর প্রতিষ্ঠান সিআরপির (পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র) যাত্রা শুরু করলেন। এর পরে প্রায় এক যুগ একটা স্থায়ী ঠিকানার খোঁজে আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ালেন, শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালে সাভারে পাঁচ একর জমি কিনে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান নিয়ে স্থায়ী হলেন। এখন সেখানে কাজ করেন প্রায় ৫০০ মানুষ। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে এখন দেশি-বিদেশি ফিজিওথেরাপিস্টদের নিয়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক ফিজিওথেরাপি এবং অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ, আউটডোর চিকিৎসা, সেরিব্রাল পল্সিতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত শিশুদের চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এমনকি পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষদের চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বিনোদন, মানসিকভাবে শক্তি-সাহস দিয়ে পুনর্বাসনের সব ব্যবস্থা। বর্তমানে ১৪ একর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত এ প্রতিষ্ঠানটির বাজেট এখন বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা।
জন্নসুত্রে বাংলাদেশের না হয়েও ভ্যালেরি টেইলর ছিলেন পুরোপুরি বাংলাদেশের মানুষ। তাই তিনি জানতেন, এ দেশের দুস্থ-অসহায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষগুলোর আসলে চিকিৎসার খরচ দেওয়ার সামর্থয নেই। প্রায় সময়েই যে মানুষটি পুরো পরিবারের জন্য জীবিকা অর্জন করছেন তিনিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পুরো পরিবারকে পথে বসিয়েছেন, চিকিৎসার খরচ দুরে থাকুক কারও মুখে দুটো ভাত তুলে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাই ভ্যালেরি টেইলর এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের স্বপ্নের মতো গড়ে তুললেন। যার যেটুকু সামর্থয আছে সে ততটুকু চিকিৎসার খরচ দেবে, যার সামর্থয নেই সে একেবারেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবে। ভ্যালেরি টেইলরের একক প্রচেষ্টা, তাঁর কিছু সুযোগ্য সহকর্মী এবং এ দেশের অসংখ্য ভাগ্যাহত মানুষের ভালোবাসায় ধীরে ধীরে এ প্রতিষ্ঠানটি যখন একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছে, ঠিক তখন এর ভাগ্যাকাশে কালো মেঘ জমে উঠতে শুরু করল!

৩.
এ প্রতিষ্ঠান থেকে কীভাবে ভ্যালেরি টেইলরকে ক্ষমতাহীন করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার বিস্তৃত বিবরণ দেশের অনেক পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। মানুষের কুটিল ষড়যন্ত্রের কথা লিখতে ভালো লাগে না, পড়তেও ভালো লাগে না। যে বিষয়গুলো পড়লে একেবারে চমকে উঠতে হয় সেটা হচ্ছে এ রকম: দুস্থ মানুষের সেবার জন্য তৈরি করা এ প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিইও শফি সামির বার্ষিক বেতন ছিল এ প্রতিষ্ঠানের পুরো বাজেটের ৩০ ভাগের এক ভাগ! এ দেশের একজন অবসরপ্রাপ্ত সেক্রেটারির পেনশনের টাকা দিয়ে চমৎকারভাবে সংসার চলে যাওয়ার কথা, তারপরেও যদি টাকার প্রয়োজন হয় তাহলে খুব সহজেই যেসব প্রতিষ্ঠান টাকা তৈরি করে, সে রকম প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারতেন। এখানে মোবাইল টেলিফোন কোম্পানি আছে, বহুজাতিক কোম্পানি আছে, ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল আছে, প্রাইভেট ব্যাংক আছে−সেগুলোর যেকোনোটাতে যোগ দিয়ে অনায়াসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করতে পারতেন। যে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য অল্প কিছু অর্থ দিয়ে চলছে সেই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে তার পুরো বাজেটের ৩০ ভাগের এক ভাগ নিজের পকেটে নিয়ে নেওয়ার মধ্যে যে এক ধরনের চরম দীনতা আছে সেটি কি জনাব শফি সামির চোখে পড়েনি?
খবরের কাগজে দেখেছি, এ পুরো ব্যাপারটি করা হয়েছিল গোপনভাবে। ভ্যালেরি শেষ পর্যন্ত যখন সেটা জানতে পেরেছিলেন তখন তিনি খুব ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। (দেশের মানুষও সেটা জানতে পেরে খুব ক্ষুব্ধ হয়েছে, শফি সামির দুই লাখ থেকে বেশি টাকা বেতনের বিপরীতে ভ্যালেরি টেইলরের বেতন ছিল মাসে সাত হাজার টাকা!) ভ্যালেরি টেইলর প্রতিবাদ করলেন এবং একসময় এ বেতন বন্ধ হলো কিন্তু ভ্যালেরি টেইলর এ দেশের অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু মানুষকে তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে গেলেন। সেখানে শফি সামির সঙ্গে সঙ্গে যাঁদের নাম উঠে এসেছে তাঁরা হচ্ছেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুহম্মদ নুরুল হক ও ভারপ্রাপ্ত সিইও আলবার্ট মোল্লা। ট্রাস্টি বোর্ডের মানুষেরা কায়দাকানুন করে তাঁর পদটি বাতিল করে একেবারে ক্ষমতাহীন করে বের করে দিলেন, তিনি এখন চেকে স্বাক্ষর করার ক্ষমতা পর্যন্ত রাখেন না। শুধু তা-ই নয়, এ রকম অবস্থায় যা করতে হয় তাও করতে শুরু করলেন, ভ্যালেরি টেইলরের বিরুদ্ধে অনিয়ম আর দুর্নীতির কথা ছড়িয়ে দিলেন।
যে মানুষটি নিজের দেশ ছেড়ে এসে ভিন দেশের দুঃখী মানুষকে আপন করে নিয়ে সুদীর্ঘ ২৭ বছর মমতাময়ী মায়ের মতো মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, যে মানুষটিকে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পদক দিয়ে এ দেশের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করেছে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার আগে একটু সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। যে মানুষ ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে সে বহু নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের মুখে থুথু দিতে পারে। কিন্তু কোনো মানুষ যদি অনেক ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে নিচে থেকে তার মুখে থুথু দেওয়া যায় না। যাঁরা সেই চেষ্টা করেছেন তাঁরা কি আবিষ্ককার করেছেন, তাঁদের ছুড়ে দেওয়া থুথু ভ্যালেরি টেইলরকে স্পর্শ করেনি? প্রকৃতির নিয়মে সেই থুথু চটাৎ চটাৎ শব্দ করে তাঁদের মুখে এসে পড়ছে!

৪.
হতে পারে মমতাময়ী মায়ের মতো একজন মানুষের নিজের হাতে গড়ে তোলা একটা প্রতিষ্ঠান এত বড় হয়ে গেছে যে সেটা এখন তাঁর একার পক্ষে সামলানো সম্ভব নয়। এটাও হতে পারে, একটা বড় প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র কীভাবে সামলাতে হয় সেটা ভ্যালেরি টেইলর জানেন না। এটাও অবিশ্বাস্য নয়, কোনো দুর্বৃত্ত তাঁর সরলতার সুযোগ নিয়ে টু পাইস কামাই করে ফেলেছে। এ সমস্যাগুলোর সমাধানও খুব সহজ, ভ্যালেরি টেইলরের পাশে থেকে তাঁকে সাহায্য করা। যে কাজটি তাঁর জন্য করা কষ্ট অন্য কারও সে কাজটি করে দেওয়া। তিনি যে স্বপ্ন চোখে নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করার চেষ্টা করেছেন যারা সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করতে পারে না, তাদের কারও ভ্যালেরি টেইলরের ধারে-কাছে আসার কথা নয়। এটা টাকা উপার্জন করার জায়গা নয়, যাঁরা টাকা উপার্জন করতে চান তাঁদের জন্য এ দেশে এখন অনেক জায়গা আছে। যাঁরা ভ্যালেরি টেইলরের স্বপ্নকে বিশ্বাস করেন শুধু তাঁরাই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়।

৫.
ভ্যালেরি টেইলরকে এ প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাহীন করে রেখে দেওয়া কিংবা একেবারে বের করে দেওয়া থেকেও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর কাজ হচ্ছে তাঁর স্বপ্নটিকে ধ্বংস করে দেওয়া। ঠিক সেই কাজটিই শুরু হচ্ছে। আমরা দেখেছি একসময় যে প্রতিষ্ঠানে একজন মানুষ বিনা খরচে সেবা পেতে পারত এখন সেখানে ভর্তি হতেই আগাম দুই মাসের সিট ভাড়া ১২ হাজার টাকা আর হুইল চেয়ারের দাম ছয় হাজার টাকাসহ মোট ১৮ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে দিতে হয়। যাঁরা এখানে আসেন তাঁরা আগেই কোনো বড় দুর্ঘটনার শিকার, প্রাণ বাঁচানোর চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হয়ে এখানে এসেছেন একেবারে দুস্থ অবস্থায়। তাঁদের ওপর এ আর্থিক চাপের দুঃস্বপ্ন ভ্যালেরি টেইলর দেখেননি। তিনি বাণিজ্য করার জন্য এ প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেননি, এটাকে তিনি চকচকে প্রাইভেট ক্লিনিক বানাতে চাননি। টেলিভিশনে আমরা যে রকম চকচকে হাসপাতালের বিজ্ঞাপন দেখি, তিনি সে রকম একটা প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন দেখেননি। অত্যন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরি হাসপাতাল তাঁর কল্পনাতে নেই, একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়ে তিনি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এখান থেকে মুনাফা অর্জন করে বিশাল সম্পদ বৈভব তৈরি করে আরও বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য তৈরি করার তাঁর কোনো ইচ্ছে নেই। তাঁর স্বপ্ন একেবারে সাদামাটা মানুষ দিয়ে সাদামাটা ব্যবস্থাপনায় সাদামাটা মানুষের জন্য পুরোপুরি মানবিক একটা সেবা। তাঁকে সেই স্বপ্নকে আসলে এগিয়ে নিয়ে যেতে দিতে হবে−সেই দায়িত্ব এ দেশের মানুষের।
যে মমতাময়ী মহিলাটিকে আমরা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে গভীর ভালোবাসায় গ্রহণ করেছি, তাঁর স্বপ্নটিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের। আমরা চাইব এমন একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হোক যারা ভ্যালেরি টেইলরের স্বপ্নকে ধারণ করতে পারে, অনুভব করতে পারে। কোনো একদিন আমরা অথবা ভ্যালেরি টেইলর হয়তো থাকবেন না, কিন্তু তাঁর স্বপ্নটি যেন বেঁচে থাকে। সেই স্বপ্নকে কেটে টুকরো টুকরো করে কেউ বিক্রি করতে পারবে না।

( লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল ।আজকের প্রথম আলো থেকে নেওয়া। )

 

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ৩৩৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৫ ই জুন, ২০০৭ ভোর ৬:৩৪
comment by: ইরতেজা বলেছেন: লিখাটি পড়ে খুব ভালো লাগল তাই তুলে দিলাম
২. ০৫ ই জুন, ২০০৭ ভোর ৬:৪৯
comment by: আরশাদ রহমান বলেছেন: ভালো করেছেন! লেখার ইউআরএলটা দিয়ে আপনার আলোচনা থাকলে আরো ভালো হতো মনে হয়। ধন্যবাদ।
৩. ০৫ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৭:৩০
comment by: মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন: ধন্যবাদ ইরতেজা।
.
প্রথম আলো, সর্বাধিক পঠিত বলে স্ট্যাটিসটিকস দেখানোর জন্য এমন স্ক্রীপ্ট বানাইছে যে এক পৃষ্ঠা লোড হতে কম করে হলেও ৩ বার রিফ্রেস বা লোড করা লাগে (= ব্যক্তিগত মতামত) ... ... তার উপর ইউনিকোডও না। এইজন্য লিংক না দিয়া, বরং কনভার্ট করে দিয়েই ভাল করছেন।
৪. ০৫ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৭:৩৬
comment by: থার্ডআই বলেছেন: ভাই প্রথম আলোর বদনাম কইরেন না আমার একটু দূর্বলতা আছে। তবে খবরেরর কাগজের কোন সংবাদ ভালো লাগলে সেটি রেফারেন্স হিসাবে দিয়ে মন্তব্য দেয়াই ভালো। সহমত আরশাদ ভাই।
৫. ০৫ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৭:৫১
comment by: মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন: ঠিকাছে ... আসলে বিরক্ত হয়ে আর প্রথম আলোর সাইট পড়ি না (লিনাক্সে এবং মোজিলাতে ফন্টের গ্যাঞ্জাম, লোড হয় না ...... ... ... এর মানে এই না যে, পড়তে চাই না)। তাই কেউ ওখানকার খবর ইউনিকোডে দিলে ভালো লাগে @ থার্ডআই।
৬. ০৫ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৮:২৯
comment by: তারেক রহিম বলেছেন: ধন্যবাদ ইরতেজা।
৭. ০৬ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৯:৪৭
comment by: ইরতেজা বলেছেন: কালকের প্রথম আলো থেকে নেওয়া।
৮. ০৬ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১:১৮
comment by: হাসিব বলেছেন: ওরা গোড়ামী করে বংশী ফন্ট ব্যবহার করবেই করবে । এইধরনের মৌলবাদী আচরনের নিন্দা জানাই । যেখানে ফ্রি বেশ কিছু খুবই ভালো মানের ফন্ট পাওয়া যায় সেখানে এগুলো নিয়ে আকড়ে পড়ে থাকার কি মানে সেটা ওরাই বোঝে ।
৯. ০৬ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৩২
comment by: ফ্রুলিংক্স বলেছেন: মনির ভাইয়ের সাথে একমত। উনারা সবার শেষে পেপার আপলোড করে।পৃষ্টা লোড হতে রিফ্রেস করতে করতে বিরক্ত লাগে।
লেখাটা এখানে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
১০. ০৭ ই জুন, ২০০৭ রাত ১২:৩১
comment by: ইরতেজা বলেছেন: আপনাদেরও ধন্যবাদ

 

 


ছেঁড়া ছেঁড়া ভালবাসা, দুই চোখ ভরা সীমাহিন স্বপ্ন, অদ্ভুত সব স্মতি, একরাশ বেদনা, কঠিন বাস্তবতা, নিদারুণ অলসতা, আড্ডাবাজি, সত থাকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩১১৫৪