আমার প্রিয় পোস্ট

ইরতেজা আলী এর আন্তর্জাল খেরোখাতা http://www.petitiononline.com/1971war/petition.html

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে জন্য দায়ি পরিবেশ সন্ত্রাসীদের বিচার করতে হবে

১৩ ই জুন, ২০০৭ সকাল ১০:২৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

সোমবার চট্টগ্রামে বৃষ্টিজনিত ভূমিধ্বসে মৃতের সংখ্যা আজকের পত্রিকার মতে শতাধিক । ১.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ পানিতে আটকা পড়েছিল। দুই দিন পরেও অনেক নিচু এলাকা জলমগ্ন। এখনো নগরীর নিম্নাঞ্চলের পাঁচ লাখ মানুষ এখনো ৪ বা ৫ ফূট পানির নিচে।কালকে রাত অবধি আমাদের বাসায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ছিল না। অসহায় মানুষদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গেছে। এক পাহাড়ধসে কত কত নিরীহ মানুষদের স্বপ্ন চিরদিনের মত ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল। ২৯সে এপ্রিলের ঘুর্ণিঝড়ের পর এত বড় দুঃখের আর কখনো আসেনি আমাদের জীবনে।

১১১ উদ্ধার করা লাশের মধ্যে সবাই নিম্নবিত্ত । পুরুষদের কেউ রিকশাচালক, কেঊ দিন মজুর, কেউ শ্রমিক। নাড়ীদের কেউ কেউ মানুষের বাসায় থালা বাসন সাফ করে, ঘর পরিষ্কার করে, কোন গার্মেন্টস কারখানা গাধাখাটুনি খাটে জীবিকা নির্বাহ করে। চট্রগ্রামে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাহাড়ের পাদদেশে এরকম অনেক পরিবার থাকে।মাটির তাদের সল্প আয়ে ভাল বাসা ভাড়া নেবার সামর্থ নেই। তারা পরিবার নিয়ে ছোট্ট কাটা পাহাড়ের গা ঘেঁষে বস্তি বা ঘরবাড়িতে গাদাগাদি করে থাকে। মেঝে, উপরে চাল টিনের, কখনো খড়ের। ভাড়া কত জানেন? মাসে ১০০ টাকা ১৫০ টাকা মাত্র। আমরা যারা প্রবাসী তাদের জন্য এক কাপ চায়ের দামের থেকেও কম।

১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে তারা পাহাড়ের পাদদেশের মুত্যুফাঁদে বাস করত। পত্রিকায় ছবিতে দেখলাম কুসুমবাগ, লালখান বাজার,লেবুবাগান ও কাইছ্যাঘোনার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে তাদের লাশ তুলা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীর মতে এখনো অনেক লাশ চাপা পড়ে আছে। এখনো অসহায় মানুষগুল তাদের বাসার ধ্বংসস্তুপের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। নিজের হাত দিয়ে মাটি খুড়ছে, আহাজারি করে উদ্ধারকর্মীর কাছে ছুটে যাচ্ছে তাদের প্রিয়জনের খোঁজে। আরও কত হতভাগা কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, খোদাই জানেন। খুব মায়া হয় আমার ওদের জন্য। আমাদের দেশের গরিব মানুষদের জীবনের দাম এত সস্তা কেন?

আমর বাসা থেকে পাহাড়গুল খুব একটা দূরে নয়। প্রায় বিকেলে সাইকেলে করে সেই পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেতাম। সেই পাহাড়ের ঘেঁষে বস্তি বা বাসাগুলোর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম।হায়রে এই বস্তি বা ঘরবাড়ির মানুষগুল কি জানে তাদের বাসা এক একটা মুত্যুফাঁদ। কোন দিন না জানি কি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তাদের বাসার পিছেই ন্যাড়া পাহাড় মাথা তুলে কোন রকম দাঁড়ানো আছে। সারা পাহাড়ে কোন গাছপালা নেই। কোন ঝোপঝাড়ও নেই। নির্বিচারে সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সবুজের অভাবটা এত বেশি প্রকট। পাহাড়ের সামনে ট্রাকটার, সারি সারি ট্রাক ভর্তি মাটি আর মাটি। অনেক দূরে পর্যন্ত পিচের রাস্তায় ট্রাকের চাকার ছাপে পাহাড়ের মাটির দাগ।কুসুমবাগ, লালখান বাজার,লেবুবাগান, নাসিরাবাদ, খুলশি, ষোলশহর,কাইছ্যাঘোনা সবখানেই পরিবেশ সন্ত্রাসীদের আনাগোনা।

যদিও প্রাকৃতিক বিপর্যয় তার পরও এই বিপর্যয়ের জন্য সেই সব দূর্নীতিবাজ অবশ্যই দায়ি। চট্রগ্রামে যেভাবে পাহাড় কাটা গত ১৫ বছর ধরে চলছে সেটা এক কথায় অবিশ্বাস্য। পাহাড় কাটা আইনত নিষিদ্ধ কিন্তু সেই আইন কেউ তোয়াক্কা করে বলে মনে হয় না।

মাঝখানে আন্দোলন করেছিলাম। বাবা পত্রিকার পাতা ভর্তি করে একটা পর একটা সংবাদ লিখে গেলেন, সম্পাদকীয় লিখলেন একাধিক বার, ঢাকা কুরিয়ারে একবার কভার স্টোরি করলেন। কিন্তু কি লাভ হল? কিছুই না। ওই সব রিয়েল এস্টেট, ডেভেলপার অনেক বড় বড় ভিআইপি। কেউ কেউ সংসদ সদস্য, অনেক বড় ব্যবসায়ী, সরকারি দলের রাঘব-বোয়াল। জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাজ হচ্ছে আমাদের চাহিদাগুল দেখা। আমাদের চট্টগ্রামের অপরৃপ সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তারাও দেখেও তা দেখার ভান করল। আমরা তাদের যেই বিশ্বাসে সাথে নগরটাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব তাদের দিয়েছিলাম তারাও আমাদের সেই বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। আমরা কার কাছে হাত পাতব? সবখানে সবাই যে সমান ভাবে দূর্নীতিবাজ।

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে জন্য দায়ি পরিবেশসন্ত্রাসীদের ওই সব রিয়েল এস্টেট, ডেভেলপার আর দূর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারিদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যাবস্থা নিতে হবে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যে আর কোনদিনও যেন না দেখি। আমাদের প্রানপ্রিয় শহরকে অর্থের লোভে ধ্বংসলীলা করতে যে সব লোক উঠে পড়ে লেগেছে তাদের শাস্তি কামনা করি। আমাদের পাহাড়ে যদি আজ থেকে আর একটাও কোদাল পড়ে সেই রিয়েল এস্টেট, ডেভেলপারদের আমরা আর মানুষ বলে বিবেচনা করব না। আমাদের গভির ধিক্কার আর ঘৃণা জন্য।

 

 

  • ১৩ টি মন্তব্য
  • ২৭৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৩ ই জুন, ২০০৭ সকাল ১১:২৮
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ইরতেজা, কালপ্রিটগুলার নাম প্রকাশ করে দেন
একটা বিহিত হওয়া দরকার, আর কত!!
২. ১৩ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:০৯
comment by: ইরতেজা বলেছেন: কালপ্রিটগুলাকে গন ধোলাই দিতে হবে
৩. ১৩ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:২১
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আগে নামগুলা লিখে দিন ... তারপর দেখবেন পাবলিকই গন দিবে
৪. ১৩ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৩০
comment by: মো: খায়রুল বাসার বলেছেন: দায়ী আরো অনেকে । যেমন : সরকার, সিটি করপরেশন, ওয়াসা, সি ডি এ । তারা রাস্তাঘাট উন্নয়ন করেছে, কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোন উন্নয়ন করে নাই । ৮৮ সনে আমি যা দেখেছি এখনো তাই আছে । পাহাড় কাটা হয়েছে দেদার্ছে । আমি যখন নাছিরাবাদ স্কুলে পড়ি, তখন দেখেছি কত কষ্ট করে স্কুলের সামনের পাহাড় কেটে হাউজিং করেছে । হাউজিং ও ভূমি দস্যুরা ছাড়াও ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ীরাও পাহাড় কেটে পরিবেশ তচনচ করে দিয়েছে । যেমন আবুল খায়ের । এদের প্রতিরোধ করা উচিত ।
৫. ১৩ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৩৩
comment by: কৌশিক বলেছেন: একদম অন দ্যা স্পট রিপোর্টিং। ব্লগিং এর একটা নতুন মাত্রা যোগ হলো নিঃসন্দেহে।
৬. ১৩ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ২:৪২
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: পুরো দেশ জুড়েই চলছে পাহাড় কাটার উৎসব... গত মাসে সিলেট গিয়ে দেখলাম পাহাড় কেটে ষ্টেডিয়াম বানাচ্ছে... সরকারী উদ্যোগে! কার কাছে বিচার দিবেন?


পাহাড় কেটে আমরা আমাদের পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনছি... এসবের বিরুদ্ধে এই ব্লগ থেকেই আমরা একটা আন্দোলন শুরু করতে পারি।


ধন্যবাদ কৌশিক দা।
৭. ১৩ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:০০
comment by: মো: খায়রুল বাসার বলেছেন: CDA(Chittagong Development Authority)
C for চোর
D For ডাকাতের
A for আড্ডাখানা
৮. ১৩ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৮
comment by: দৃশা বলেছেন: যেই পাহাড় কাটতাছে তার উপর থেইক্কা ধাক্কা মাইরা ফালায়ে দেওন দরকার নইলে অবশিষ্ট যেগুলা আছে সেগুলাতে আবার কৃত্রিম ভাবে ধবস নামানর ব্যবস্থা কইরা এগোরে মাটি চাপা দেওয়া দরকার।।
এগুলারে ঘৃণা করে সময় নষ্ট না কইরা ধইরা পুইতে ফেলাইলে কামের কাম কিছু হইব
৯. ১৩ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৪১
comment by: ইরতেজা বলেছেন: আপনারা নিজের চোখে না দেখলে বুঝবেন না। আমাদের কেঊ মানুষ বলে গন্য করে না...আল্লাহ আমার বাবা...মা...ভাই...বোন হত্যাকারীদের বিচার করুক।
১০. ১৩ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৫২
comment by: মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন: ইরতেজা:
এদেরকে পরিবেশ সন্ত্রাসী বলাই ভাল। কারো হত্যার জন্য দায়ী (যেমন দেখছি) বললে হুজুররা আপনারে মুরতাদ ঘোষনা করতে পারে।
.
কারণ হুজুরদের বলতে শুনছি হায়াত মউত রিজিক সবই আল্লাহর হাতে (রেফারেন্সটা আলেমগণ একটু বইলা দিয়েন)। ওভাবে মউত নির্ধারণ না থাকলে কেউ কাউকে হত্যা করতে পারে না। অবশ্য সেই হিসেবে সাহায্যকারীদের যাওয়ারও দরকার নাই -- রিজিকের মালিক আল্লাহ বলে কথা।
.
কাজেই হত্যাকারী কিভাবে হয়? আল্লাহ কি বিচার করবেন। তিনিই তো মৃত্যূ নির্ধারণ করেন।
১১. ১৩ ই জুন, ২০০৭ রাত ৯:০৮
comment by: ইরতেজা বলেছেন: শামিম ভাই আপনারাত বুয়েট এবং জাপাণে পরিবেশ নিয়ে লিখাপড়া করেছেন। আপনারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়টা কিভাবে দেখছেন একটু বিস্তারিত বলবেন কি?
১২. ১৩ ই জুন, ২০০৭ রাত ৯:৩৬
comment by: মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন: ইরতেজা:
.
মর্মান্তিক।
.
জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকী এরকম অবিবেচনাপ্রসুত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ --- সেটা তো কর্তৃপক্ষ রোধ করেইনি আবার এটার কারণে যে জীবনের হুমকীতে বসবাস করছে এ্যাতগুলো মানুষ ...তাদেরকে সরিয়ে নেয়া বা অন্য ব্যবস্থা (ড্রেইনেজ ও রিটেইনিং স্ট্রাকচার) করে নি। এটা সরাসরি একটি ক্রাইম।
.
এইসব অমানবিক তস্করদেরকে থুতু দিতেও ঘৃণা হয়।
...
জাপানে প্রচুর গাছ কাটা হয়, গাছ কেটে ঠকঠকে করে ফেলা হয়। পাশাপাশি সমান ভাবে আবার গাছও লাগানো হয় ... একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক সম্পদ আহরণ করা হয় ... এতে কখনই মোট গাছের সংখ্যা কমে না। এখানকার পাহাড়গুলো বেশিরভাগই একই রকম বড় বড় গাছে ভরপুর। দেখে বোঝা যায় যে পরিকল্পিতভাবে এগুলো লাগানো হয়েছে (প্রায় ৩০ বছর আগে-তথ্যসূত্র আমার প্রফেসর)।
.
আবার প্রতিনিয়তই পাহাড় কেটে সভ্যতা বাড়ছে এখানে। কিন্তু পাহাড় কাটলে সেটার ঢালটাকে সেভাবে সুন্দর করে রক্ষার ব্যবস্থা নেয়। মাটিকে যথাস্থানে আটকে রাখার জন্য বিভিন্ন রকম ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা নেয়। দেশে কাপ্তাই জলবিদ্যূৎ কেন্দ্রের আশেপাশের পাহাড়গুলো কিন্তু এভাবে রক্ষা করা হয়েছে (তথ্যসূত্র: আমার বউ)।
১৩. ১৪ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৪৬
comment by: ইরতেজা বলেছেন: যারা সহমত প্রকাশ করেছেন। আমাদের সাহায্য করছেন তাদেরকে আমাদের অনেক অনেক ভালোবাসা।

 

 


ছেঁড়া ছেঁড়া ভালবাসা, দুই চোখ ভরা সীমাহিন স্বপ্ন, অদ্ভুত সব স্মতি, একরাশ বেদনা, কঠিন বাস্তবতা, নিদারুণ অলসতা, আড্ডাবাজি, সত থাকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩১১৫৩