আমার প্রিয় পোস্ট

ইরতেজা আলী এর আন্তর্জাল খেরোখাতা . http://twitter.com/irteja

আজকে শহীদ আসাদ দিবস

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৬

শেয়ারঃ
0 1 0

আজ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস । ১৯৬৯ সালের এই দিনে স্বৈরাচারী আইয়ুব বিরোধী গণ অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এই অকুতোভয় কমরেড।

শহীদ আসাদ এর পুরো নাম আমানউল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ। ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলা তার জন্ম । ছাত্র নেতা আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাষ্টার্স করছিলেন। আসাদ ছাত্র রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এর ঢাকা হল শাখা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আসাদ ছিলেন ছাত্র নেতা রাশেদ খান মেনন এর ঘনিষ্ঠ সহচর।

পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি তাদের ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে। ১৯৬৯ এ এই আন্দোলন চরম রূপ নেয়। ১৭ ই জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি মীটিং করে। মীটিং থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১১ দফা দাবিতে ২০ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের সকল স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকবে এবং হরতাল ডাক দেয়। গভর্নর মোনায়েম খান ২০ জানুয়ারি ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পাকিস্তান পুলিস থেকে বলা হয় শহরের কোথাও চার জনের বেশি লোক একসাথে হলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। ২০ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ বিভিন্ন কলেজে সহ প্রায় ১০ হাজার ছাত্র ছাত্রী জড়ো হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১১ দফা দাবিতে শহরে মিছিল বের করে।

মিছিল মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে সামনে এসে পোছলে সেখানে পুলিসের বাধার সম্মুখীন হন। পুলিস এর সাথে সংঘর্ষ প্রায় এক ঘণ্টা পর আসাদ সহ কিছু ছাত্র মিছিল আবার সংঘটিত করে ঢাকা হলের পাশে দিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। তখন একজন পুলিস অফিসার তাকে বনেট দিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে দেন এবং তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করা হয়। পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেলের বর্তমান জরুরী বিভাগের সামনে আসাদ শহীদ হন।

ছাত্রনেতা আসাদের মৃতুর খবর সারা শহরে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার ছাত্র জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছুটে আসেন। অসংখ্য শোক মিছিল বের হয়। শহিদ আসাদ হত্যা প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশাল মিছিল বের হয়। ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষ , নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মিছিলে যোগ দেন। দুই মাইল লম্বা সেই মিছিল ছিল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ মিছিল। শোক মিছিল শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল দেখে শামসুর রাহমান “আসাদের শার্ট” অমর কবিতা লিখেন। হেলাল হাফিজ লিখেন কালজয়ি কবিতা“নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়”।

পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি শহীদ আসাদের হত্যার প্রতিবাদে তিন দিনের শোক পালন করে। ২৪ তারিখ হরতাল দেওয়া হয়। সেই দিন আবারও মিছিল লক্ষ্য করে পুলিস গুলি করে। পুরো পরিস্থিতি গভর্নর মোনায়েম খানের বাইরে চলে যায়। তুমুল গণ আন্দোলনে প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বিক্ষিপ্ত জনগণ বিভিন্ন স্থানে আয়ুব খানের নামের স্থাপনা ভেঙ্গে সেখানে শহীদ আসাদের নাম লাগিয়ে দেন। সংসদ ভবনের ডান পার্শ্বে অবস্থিত লালমাটিয়ায় একটি তোরণ আইয়ুব গেট থেকে নাম পরিবর্তন করে আসাদগেট রাখা হয়। আইয়ুব এভেনিউ এর নাম হয় আসাদ এভেনিউ।

আজ তার ৪০ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে শহীদ আসাদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি

শহীদ আসাদকে নিয়ে লেখা দুটি কবিতা

আসাদের শার্ট - শামসুর রাহমান

আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র জলোচ্ছি্বত প্রতিধ্বনিময় মাঠে
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো, কিংবা সুর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়।
বোন তার ভাইয়ের অম্লান শার্টে দিচেছ লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম, কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতা।
বর্ষিয়সী জননী, সে শার্ট উঠোনের রৌদ্রে
দিয়েছেন মেলে স্নেহের বিন্যেসে।
ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দূর শোভিত
মায়ের উঠোন ছেড়ে, এখন সে শার্ট,
শহরের প্রধান সড়কে সড়কে,
কারখানার চিমনির চুড়োয়,
গমগমে অযাভিনুর আনাচে কানাচে
উড়ছে, উড়ছে অবিরাম,
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।
আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা,
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।


নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় - হেলাল হাফিজ

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয় ।

সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার
শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে
কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।

যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।

১.২.৬৯


গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শহীদ আসাদ



ছাত্রনেতা আসাদের লাশ


আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল


নিউইয়র্ক টাইমসে আসাদকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ


ওয়াশিংটন পোস্টে আসাদকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ



ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অমি রহমান পিয়াল এবংএম. এম. আর. জালাল

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়রিবাংলাদেশমুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৩২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:১২
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ ইরতেজা ।

আসাদের জন্য একবুক শ্রদ্ধা
২. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:১৭
অক্ষর বলেছেন: শহীদ আসাদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি

আসাদ্গেট নাম জানলেও, কেন করা হয়েছে জানতাম না

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে
৩. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩০
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
শহীদ আসাদের জন্য প্রাণের গভীরতম শ্রদ্ধা ।

ধন্যবাদ ইরতেজা ।
৪. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৪৬
ক-খ-গ বলেছেন: শহীদ আসাদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি

আপনাকে ধন্যবাদ ইরতেজা।
৫. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:২৪
স্বাধিকার বলেছেন: শহীদ আসাদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি
৬. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:২৮
রাশেদ বলেছেন: থ্যাঙ্কস। কিছুই খেয়াল থাকে না। :(
৭. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫৬
মনজুরুল হক বলেছেন:

আমরা সেই রক্তমাখা শার্ট এর উত্তরাধীকার.................................................
৮. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৩১
মানুষ বলেছেন: দিন তারিখ কখনো মনে থাকে না আমার, শুধু শ্রদ্ধাটুকু থাকে সব সময়। ধন্যবাদ ইরতেজা দিনটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।
৯. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২১
পোকা বলেছেন: শহীদ আসাদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি
১০. ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৯
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: গুলিবিদ্ধ অব্স্থায় শহীদ আসাদ ক্যাপশনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দুঃখিত, এটি আসলে মতিউরের ছবি। নবকুমার ইনস্টিটিউশনের ক্লাস নাইনের ছাত্র, ২৪ জানুয়ারি পায়ে গুলি খেয়েছিলেন। পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় ধরে নিয়ে যায়, পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মতিউর মারা যান। আসাদ গুলি খেয়েছিলেন বুকে।

পোস্টে প্লাস

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫১৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ছেঁড়া ছেঁড়া ভালবাসা, দুই চোখ ভরা সীমাহিন স্বপ্ন, অদ্ভুত সব স্মতি, একরাশ বেদনা, কঠিন বাস্তবতা, নিদারুণ অলসতা, আড্ডাবাজি, সত থাকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ