আমার প্রিয় পোস্ট

ইরতেজা আলী এর আন্তর্জাল খেরোখাতা . http://twitter.com/irteja

শহীদ জননী তোমাকে প্রণতি করি, হাজার সালাম তোমাকে।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৫৯

শেয়ারঃ
0 23 0

( বানান সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ)

আবুল বরকত মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে বুকের রক্ত দেওয়া এই বীর শহীদের মা হাসিনা বিবি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। হাসিনা বিবি বাড়ী ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ। পূর্ব পাকিস্তানে স্থায়ী ভাবে বসবাস না করলেও প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ মাতা ছুটে আসেন ঢাকায়। আজিমপুর কবরস্থানে ছেলের কবরের সামনে জানান বিনম্র শ্রদ্ধা । ৬৮-৬৯ সালে তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার পাসপোর্ট বাতিল করেন। এক অসহায় জননীকে তার শহীদ ছেলের জন্য প্রার্থনা করতে দেয়া হয় নি। দুঃখী মা ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ভাষা শহীদ আরমা গুনকে ধরার জন্য যখন মিলিটারির তাদের বাসা ঘিরে ফেলে তখন আরমা গুন তার মায়ের কাছে নতজানু হয়ে অনুরোধ করেন ‘ মা, আমাকে হয়ত ওরা এখনই গুলি করে মারবে। আমার জীবনের শেষ অনুরোধ, তোমরা আমার লাশ বারান্দায় ফেলে রেখো, যাতে সকলে আমার মৃতদেহ দেখে সবাই বিদ্রোহ করার সাহস পায়।’

যুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার রফিক অপারেশনের জন্য যাচ্ছিলেন। পাকিস্তান আর্মি হঠাৎ সাধারণ মানুষের উপর বোমা বর্ষণ করল। ভয়ে কোলে শিশু সহ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়চ্ছে। পথে একজন কিশোরের দ্বিখণ্ডিত দেহ পরে আছে। এক মা মৃত ছেলের লাশ কোলে নিয়ে শোঁকে পাথর হয়ে বসে আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের দেখে দুঃখী মা চোখ মুছে জিজ্ঞাসা করলেন ‘ তোমরা কারা? ’ সেক্টর কমান্ডার জবাব দিলেন, ‘ মা , আমরা আপনার ছেলে।’ ছেলের দ্বিখণ্ডিত দেহের সামনে শহীদ মাতা আল্লার কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করলেন, ‘ আল্লাহ তুই আমার সোনার মানিক নিয়ে গেছস সে জন্য আমার কোন রাগ নাই, আমার ছেলের প্রাণের বিনিময় আমি এই ছেলেদের জন্য দোয়া চাইছি যারা বাংলায় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে।’

ঢাকা শহরের মিরপুরে কবি মেহেরুনি্নসাকে তার বৃদ্ধা মায়ের সামনেই হত্যা করা হয়। পাকিস্তানিরা মায়ের সামনে তার স্নেহের দুই ছেলেকে এবং তরুণী মেয়েকে শক্ত করে রশি দিয়ে বাধে। বৃদ্ধা মায়ের আকুতি মিনতি, পায়ে ধরে বিলাপ কিছুতেই সেই পশুদের মন নরম করে নি। মায়ের চোখের সামনে সেই সব পিশাচীরা সন্তানদের ভয়ঙ্কর ভাবে তীক্ষ্ণ ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। অসহায় জননীর তীক্ষ্ণ আর্তনাদ সেদিন বুঝি মিরপুরের ধূসর আকাশের বুক চিরে গিয়ে ছিল , কিন্তু এতটুকু কাঁপেনি সেই প্রতিবেশী অবাঙালী পশুদের বুক।

রুমী মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্য মায়ের দোয়া চাইলে মা অবেগী কণ্ঠে বলে ছিলেন, ‘ যা, তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে দিলাম ’। মা জাহানারা ইমাম তার শহীদ ছেলেকে বলা এই শেষ উক্তি জন্য সারা জীবন আফসোস করেছেন। আল্লাহ মনে হয় অসহায় মায়ের কোরবানি কথাটাই কবুল করে নিয়েছেন। যদি বলতেন , যা রুমী যুদ্ধ করে বীরের বেশে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আয়। তাহলে হয়ত রুমী ১৬ ডিসেম্বর মায়ের কোলে ফিরে আসত ।

শহীদ আজাদ ঢাকায় গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। আজাদ ছিলেন ঢাকা শহরের সব থেকে ধনাঢ্য ব্যক্তি ইউনুস আহমেদ এর একমাত্র পুত্র। বিপুল অর্থ বিত্তের মাঝে বড় হলেও আজাদ তার মাকে নিয়ে জীবনে অনেক ত্যাগ করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ আর রাজারবাগ গেরিলা অপারেশনের অংশ নেয়া আজাদকে স্থানীয় রাজাকারদের সাহায্য নিজের বাসা থেকে আটক করা হয়। মায়ের সামনে মারতে মারতে তাকে থানায় নেয়া হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ আর রাজারবাগ অপারেশনের অংশ নেয়া সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা এবং অস্ত্র বোমা কোথায় লুকিয়ে রেখেছে সেটা জানার জন্য টর্চার সেলে মিলিটারিরা আজাদ, জুয়েল এবং তাদের বন্ধুদের উপর প্রচণ্ড অত্যাচার করে। । অমানুষিক অত্যাচারের মাঝেই শহীদ জুয়েল পাকিস্তান আর্মির সাথে ইংরেজিতে রসিকতা করে বলেন, ‘ আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক, হাত ভেঙ্গে দিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে উইকেট কিপিং করব কীভাবে ? ’ আধমরা রক্তাক্ত জুয়েলের সাহস দেখে হচকিত আর্মি অফিসার জুয়েলের হাত গুঁড়ো করে দেন।

আজাদ এবং তার বাকি সঙ্গিদের টর্চার সেলে সারা দিন ছাদের সিলিং ফ্যানে উলটা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সারা শরীরে নির্মম ভাবে বেল্ট দিয়ে পেটানো হয়। আজাদের সারা শরীর রক্তাক্ত। মুখ থেকে গল গল করে রক্ত পরছে। কিন্তু আজাদ- জুয়েলরা কিছুই ফাঁস করে নি।

আজাদের মনোবল ভাঙ্গার জন্য মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ( বর্তমানে জামাতের ঊর্ধ্বতন নেতা ) আজাদের মাকে ধরে রমনা থানায় টর্চার সেলে নিয়ে আসে। রাজাকার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আজাদের মাকে বলে , ‘ খালাম্মা, গাদ্দারদের নাম ঠিকানা আর অস্ত্র কোথায় আছে সেটা বললেই স্যার আজাদকে ছেড়ে দিবেন।’ কিন্তু অফিসারের সামনেই আজাদের মা রক্তাক্ত পুত্রকে সাহস দিয়ে বলেন, ‘ বাবা রে, যখন মারবে, তুমি শক্ত হয়ে থাক, সহ্য করো। কিন্তু কারো নাম যেন বলে দিও না।’

আজাদ সেই রাতে তার মাকে বলে, ‘ মাগো, ভাত খাইতে ইচ্ছা করে , দুই দিন ভাত খাই নাই। কালকে রাতে ভাত দিচ্ছিল, আমি ভাগ পাই নাই।’ মা পরের দিন টিফিন ক্যারিয়ারে করে সাদা ভাত , আজাদের পছন্দসই মাংস , আলু ভর্তা , বেগুন ভাজি নিয়ে রমনা থানায় যান। কিন্তু তাকে থানার ভিতরে যাবার অনুমতি দেওয়া হয় নি। টিফিন ক্যারিয়ার হাতে নিয়ে মা সারা রাত থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। শেষ রাতে বলা হয় আজাদ রমনা থানায় নেই । মা সারা রাত এক থানা থেকে আরেক থানা, এমপি হোস্টেল, কেন্টরম্যান্ট সব খানে আজাদকে খুঁজে বেরিয়েছেন। কিন্তু আজাদকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি।

আজাদের মা সাফিয়া বেগম স্বাধীন দেশে আরো চোদ্দ বছর বেঁচে ছিলেন। তার ছেলে বাড়ি ফিরে আসবে এই একটি মুহূর্তের আকাঙ্ক্ষা মৃত্যু মুহূর্ত পর্যন্ত তার সাথে ছিল। সারা দিন তিনি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ডাকপিয়ন আসলে দৌড়ে যান ছেলের চিঠি আছে নাকি জানতে। একটু শব্দ হলে বুক কাঁপত। এই বুঝি তার ছেলে স্বাধীন দেশে ফিরে এল। শেষ বার সেলে দেখেছেন তার পরান মানিক মাটিতে চিত হয়ে পরে আছে। পাষণ্ডরা আজাদকে রাতে ঘুমানোর জন্য কোন বালিশ দেয় নি। শক্ত মেঝেতে একটা পাটি দেওয়া হয়ে ছিল শুধু। এই দেখে আজাদের মা ওই দিনের পর আর কোন দিন বিছানায় ঘুমান নি। মাটিতে পাটি বিছিয়ে ঘুমাতেন। খালি পেটে ক্ষুধার্ত ছেলেকে মেরে ফেলেছে । মৃত্যুবরণ করার আগে মায়ের হাতে একটু সাদা ভাত খেয়ে যেতে পারে নি , তাই মা বাকি জীবনেও কোন দিন ভাত স্পর্শ করেন নি। সুদীর্ঘ চোদ্দ বছর শুধু মাত্র শক্ত রুটি খেয়েছেন। দুই বেলা কখনো একবেলা শুধু পানিতে চুবিয়ে। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, ৩১শে আগস্ট, ১৯৮৫ আজাদকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সেই একই দিনে এই রত্নগর্ভা নারী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার কবরের উপর খোদাই করা শিলালিপিতে লেখা হয়েছে শুধুমাত্র একটি লাইন, ‘ শহীদ আজাদের মা ’।

প্রতিটা শহীদ জননী এই দেশের রক্তাক্ত জন্ম প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই লাল সবুজ পতাকায় মায়ের অংশ আছে। জাতীয় সংগীতের প্রতিটা চরনে তাদের কণ্ঠ আছে। বাংলার মাটি এদের কাছে চির ঋণী। স্বাধীনতার আটত্রিশ বছর পরও বাংলার ঘরে ঘরে হাজার হাজার আজাদ, রুমী, জুয়েলদের মা নিভৃতে চোখের জল ফেলে। সব কষ্ট সময়ের সাথে সাথে প্রশমিত হয়, কিন্তু নিজের ছেলে হারাবার কষ্ট কি কোন দিন কমে? জীবনের প্রতিটা দিন, প্রতিটা রাত হারিয়ে যাওয়া সন্তানের স্মতি বুকে নিয়ে এরা বেঁচে আছে।

মাতৃকোল ছেড়ে সন্তানেরা বিদায় নিয়ে দূরে নক্ষত্রলোক মিলিয়ে গেছে। অনেক আদরের ছেলেটা বর্ষার তুমুল বর্ষণে মায়ের হাতের আদরে মাখা খিচুড়ি খাবে না, ঘোমটার ফাঁক গলে চেয়ে থাকা মায়ের দৃষ্টি নিয়ে শরতের আকাশে ঘুড়ি উড়াবে না, কনকনে শীতের রাতে মায়ের বুকের উষ্ণতা নিবে না, ক্লান্ত হয়ে বাসায় এসে মায়ের শাড়ির আঁচলে মুখ মুছবে না, গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দুপুরে মায়ের খোলা শীতল পিঠে কচি শরীর লেপটে ঘুমাবে না, কখনই প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন বাংলাদেশ দেখবে না।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: বাংলাদেশমুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:১০
সুজনবাঙালী বলেছেন: এই মাটির সব মায়েদের সালাম জানাই।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:২৫

লেখক বলেছেন: লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪১
চয়ন বলেছেন: সালাম সালাম হাজার সালাম......
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৩২

লেখক বলেছেন: লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৩. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪২
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: বহুদিন চোখে পানি আসেনি...
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১৪

লেখক বলেছেন: লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৪. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫০
মার্ক জুবাবের বলেছেন: বাংলার শহীদ জননীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরন করি। রত্নগর্ভা বাংলাদেশ।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ জুবাবের ভাইয়া

৫. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:২৯
আরিফ থেকে আনা বলেছেন: সালাম সালাম হাজার সালাম
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: বিমা লেখা পড়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

৮. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৩৬
হাসান মাহবুব বলেছেন: এক বুক শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা....
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৫৫
নুভান বলেছেন: এক বুক শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা....
ইরতি ভাইয়া, আপনি কই? দেখা পাইনা যে আপনের?
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২

লেখক বলেছেন: আমি এখানেই আছি নুভান। তুই কেমন আছিস?

১০. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০
মাহবুব সুমন বলেছেন: এটো সুন্দর লেখা, চোখে পানি এসে গেলো ইরতি
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১

লেখক বলেছেন: সুমন ভাই আপনার বীরঙ্গনা নিয়ে একটা লেখা পড়েও কিন্তু আমার চোখে পানি এসে ছিল।

১১. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
ক-খ-গ বলেছেন: এক বুক শ্রদ্ধা এবং স্যালুট
১২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
টুশকি বলেছেন: শ্রদ্ধা, কষ্ট, আর গর্ব হল বাংলাদেশের মায়েদের প্রতি। তাঁদের হাজারো সালাম।
এত তথ্য কোথায় খুঁজে পেয়েছেন ভাইয়া?
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩১

লেখক বলেছেন: কিছুটা বই পড়ে কিছুটা বাবার কাছে , কিছুটা পত্রিকায় থেকে পড়েছি।

১৩. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৯
আটকুঁড়ে বলেছেন: আবেগময় লেখা। ভালো একটা লেখা পড়লাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
১৪. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১২
আটকুঁড়ে বলেছেন: প্রিয় পোষ্ট কিভাবে করব কেঊ কি দয়া করে জানাবেন।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪২

লেখক বলেছেন: খাম আর প্রিন্টারের মাঝের হলুদ তারায় ক্লিক করুন

১৫. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:১৪
স্বজন বলেছেন: "শহীদ আজাদের মা"
এক বুক শ্রদ্ধা।


আপনাকে ধন্যবাদ এত ভাল একটা লেখার জন্য।
১৬. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৫
নাহিন বলেছেন: অসাধারণ লিখসিস দোস্ত...
চোখে পানি চলে আসলো...
১৭. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:১৩
প্রলয় হাসান বলেছেন: স্বজন বলেছেন: "শহীদ আজাদের মা"
এক বুক শ্রদ্ধা।


আপনাকে ধন্যবাদ এত ভাল একটা লেখার জন্য।


প্রথমেই সরি বলে নিচ্ছি দেরীতে রিপ্লাই দেবার জন্য। এবার আপনার কমেন্টটার ব্যাপারে বলি। আপনি বলেছেনঃ

প্রলয় ভাই আপনার অসীম দয়ার শরীর। ভালো না লাগার পরও আমার পোষ্টে আপনার মাইনাস না দেওয়াতে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

হা হা। মাইনাস না দেয়াতে "অসীম দয়ার শরীর" বলে কি খোঁচা দিলেন নাকি আমাকে? এতো সহজেই অসীম দয়ার শরীরের অধিকারী হওয়া যায় জান্তাম না তো! আবার ধন্যও হয়েছেন!;)


তারপর বলেছেনঃ আর আমি আপনার পোষ্টে মাইনাস দিয়েছি সেটা আপনি নিশ্চিত হলেন কীভাবে? আমি খালি বলেছি ভালো লাগে নি।

বেশ ভালো কথা বলেছেন। কিন্তু জনাব, আমি কি একবারের জন্যেও কোথাও কি বলেছি যে আপনিই আমাকে সেই মাইনাসটা দিয়েছেন? আপনি হয়ত খেয়াল করেন নি যে আমি কারো নাম উল্লেখ করিনি।

তারপর বলেছেন, আপনি পুরানো ভিআইপি ব্লগার।

আরে বাপরে!! তাই নাকি? "ভেরি ইম্পটের্ন্ট পার্সন ব্লগার!" বাপস!! এইটাও জানতাম না!:| (এইটা কি পাম্প? না এইটাও খোঁচা? বুঝলাম না ঠিক:()

তারপর বলেছেনঃ আপনাকে ব্যান করলে আপনি অভিমান করে ব্লগ লিখেন, ব্যক্তি আক্রমণ করে কে কার বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেল তার হিসাব রাখেন।

হা হা হা। ব্যান হবার কারনে আমি কবে ব্লগ লিখেছি, দয়াকরে মনে করিয়ে দিবেন কি? আমার কিন্তু মনে পড়ে না এইরকম কোন ঘটনা! তাছাড়া ব্যান হবার পরও কেউ যে কোন ব্লগ লিখতে পারে, এই তথ্যটাই তো জানা ছিল না আমার!:(

আর আমার পোস্টা কিন্তু ব্যক্তি আক্রমন করে লেখা ছিল না। পোস্টের শেষে দুটো্ লাইন লেখা ছিলো। সেটা পড়েছেন বলে মনে হয় না। পড়লে "ব্যক্তি আক্রমন" করেছি বলে অভিযোগ করতেন না।

তারপর বলেছেনঃ এইসব ভালো লাগে নাই।

এইসব কেউ করলে ভাল না লাগাটাই স্বাভাবিক। আপনার জাগায় আমি হলে আমিও তাই বলতাম। কিন্তু আমি এইগুলোর কোনটাই করি নাই ইরতেজা ভাই। সুতরাং, আশা করছি আমাকে আপনার ভাল লাগবে এখন থেকে!:)

তারপর বলেছেনঃ যদিও একজন অখ্যাত পাঠকের ভালো লাগা না লাগাকে আপনি খুব একটা পাত্তা দেন বলেও মনে হয় না।

কই দিয়েছি তো! না দিলে কি এই সাত সকালে ঘুম থেকে উঠেই এত বড় কমেন্ট-রিপ্লাই লেখতে বসি? কি যে বলেন আপনি!:(

তারপর বলেছেনঃ যাই হোক, অধমের মন্তব্য ঔদ্ধত্য না ভাবলে খুশি হব। আপনি মাত্র নিঊজিল্যাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসলেন, সে নিয়ে কিছু লিখলেন না। আশায় ছিলাম।


এইটা কি আপনার ৩ নম্বর খোচাঁ?:(

যাইহোক, আমি "অধমের" মন্তব্য ঔদ্ধত্য হিসাবে নেই নাই। তার প্রশ্নও আসে না। কারন আপনি আমার বড় ভাইর মত। তবে এটা ঠিক যে, আসলে চরম বিরক্ত হয়েছি আপনার কমেন্টে! চরম বিরক্ত! মাহবুব সুমনকে আপনি খুবই ভাল জানতে পারেন, তাই বলে তার পক্ষ হয়ে একতরফা সাফাই গাওয়াটা অন্ততঃ আপনার কাছ থেকে আশা করি নাই। আপনাকে একটা মেইল করেছিলাম কিছু দিন আগে, সেইটার রিপ্লাইটাও দেন নাই। এখন বলেন, ঔদ্ধত্যটা কে দেখালো?

নিউজিল্যান্ড যাওয়া হয়নি। একটি কারনে পেছানো হয়েছিলো। কাল যাবো ইনশাল্লাহ। ফিরব সোমবারে। তখন সব জানতে পারবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
১৮. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৪০
প্রলয় হাসান বলেছেন: এবার মাহবুব সুমনের প্রসঙ্গে বলি। :)


কিন্তু তার আগে আমাকে একটা কথা বলেন। ধরুন, উদাহরনসরুপ, একজন মুক্তিযুদ্ধের সন্তান বলে দাবী করা একজন লোক একটা মেয়েকে খুব ভাল জানে। তাকে ধর্ম বোন বলে ডাকে। কারন, তারা একই দেশে থাকে। একই সাথে একই সাইটে লেখালেখি করে, এর মধ্যে মেয়েটি আবার খুব ভাল লেখে। লোকটি প্রায়ই তার পোস্টে গিয়ে প্রসংশায় পন্চমুখ হয়। একপর্যাযে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। লোকটি এরই মাঝে জানে যে ঐ মেয়েটি এবং তার পরিবার ব্যাপাক জামাত ঘেঁষা। গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী এদেরকে প্রকাশ্যে আযম আংকেল, নিজামী আংকেল বলে পরিচয় দেয়, বাহবা দেয়, তার লেখায় মুক্তিযুদ্ধ একটি ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রমান করার চেষ্টা করে। এই সবই লোকটি আসতে আসতে জানতে পারে। তবু সে থেকে থাকে না বরং আরো এগিয়ে যায়। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধের সন্তান বলে দাবী করা সেই লোকটির সাথে সেই রাজাকার ধ্যান ধারনার মেয়েটির ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। লোকটি তার পোস্টে গিয়ে মেয়েটিকে তার আরো পোস্টের জন্য ইন্ধন যোগাতে থাকে। একসময় মেয়েটির বাসায় গিয়ে লোকটি তার পরিবারসহ দাওয়াত খেয়ে আসে। সেটা নিয়ে তারা আবার ব্লগে হাসি-ঠাট্টা করে। (অবশ্য পরে সেটা সে আবার নিজেই অস্বীকার করে, আমি প্রমান দিয়েছি, তারপরও!:(), তাদের ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়ে, ফোনে তার এবং তার স্ত্রীর সাথে মেয়েটির অনেকটা নিয়মিতই কথা হয়, সবই ঠিক থাকে। ভালো কথা। কিন্তু এর কিছুদিন পর সেই লোকটিই আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করে। এখন এই লোকটাকে আপনি কি বলবেন ইরতেজা ভাই?


কিন্তু তাকে একটা প্রশ্ন গিজেস করা হয়েছিলো। সে এটার কোন উত্তর তো দেয়ই নি, উল্টো প্রশ্নকর্তকে উপহাস করেছে। ( Click This Link )


পোস্টা পড়ে দেখুন তো, সে কোন অযৌক্তিক প্রশ্ন করেছে কিনা। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সেই লোকটির কিসের এত ভয় ছিলো? তার কি নূন্যতম বিবেক নাই যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবী করে জামাতি ফ্যামিলির সাথে দাওয়াত খায়?


কি উত্তর আশা করেন তার কাছ থেকে?


তাকে নিয়ে আমার কোন অভিযোগ ছিলো না। এরপরও তারসাথে আমি হেসে হেসে ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করেছি। রিপ্লাই দিয়েছি। অথচ আমার বর্ষপূর্তির পোস্টে সে নিজে এসে বিবাদের শুরু করে। তার কমেন্টের স্ক্রিনশট দেবার পরও মুখের উপর ডাহা মিথ্যা কথা বলে ফেলে। শেষ কবে তার ব্লগে কমেন্ট করেছিলাম সেটা আমার মনেই নেই। তার ব্লগে যাওয়াই হয় না। ওমা, সেদিন হঠাৎ গিয়ে দেখি ভয়ে সে ঘরে খিলঁ এটেঁ বসে আছে। কেন আটলোঁ? মূলত, এই প্রশ্নের উত্তর পেতেই তাকে উদ্দেশ্য করে পোস্টা লিখেছিলাম। ব্যক্তি আক্রমন করে নয়। আমি যদি তাকে সেটা করতে চাইতাম, তাহলে আমি আরো আট ঘাট বেধেঁ নামতাম। ঐরকম ফাউল ব্যক্তি আক্রমন, আর যেই হোক, প্রলয় হাসান করে না। :)
১৯. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৫৫
জেরী বলেছেন: শ্রদ্ধা ...........
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

লেখক বলেছেন: লেখা পড়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

২০. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৯
একরামুল হক শামীম বলেছেন: লেখাটা অনেক ভালো লাগলো ইরতেজা ভাই।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২৭

লেখক বলেছেন: শামীম তোকে ধন্যবাদ।

২১. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২৩
অক্ষর বলেছেন: শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা
২২. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:৪৮
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: মেলবোর্ণের বুশ ফায়ারে তোমরা কেমন আছ???
ভালো তো?
২৩. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:১২
মেহবুবা বলেছেন: শ্রদ্ধা সে সব মায়েদের তাদের ত্যাগে আজ আমরা স্বাধীন । ধন্যবাদ আপনাকে ।
২৫. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৪১
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: কিছু বলার মত খুঁজে পাচ্ছি না ....

অনেক ধন্যবাদ ইরতেজা ভাই

 

মোট সময় লেগেছে ২.২১৬৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ছেঁড়া ছেঁড়া ভালবাসা, দুই চোখ ভরা সীমাহিন স্বপ্ন, অদ্ভুত সব স্মতি, একরাশ বেদনা, কঠিন বাস্তবতা, নিদারুণ অলসতা, আড্ডাবাজি, সত থাকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ