somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমার প্রিয় গানঃ চলে যদি যাবি দূরে স্বার্থপর আমাকে কেন জ্যোৎস্না দেখালি?
হবি যদি নাও ভাসিয়ে দেশান্তর-
পাথরে বুকে ফুল কেন ফোটালি?

ও আমারই সীমানা সেত তোর ছায়া
সেখানে করে বিচরণ
দুঃখের নিবাস

রাখিস কি খবর--
তোর আঘাতে জমে গেছে
নীলাকাশটা জমিনে রি নীল বেদনীয়...

জানি না কোন প্রহরে হয়েছিল যে পরিচয়
কি পেলাম কি হারালাম
সেত এক সংশয়

নীরবে আড়াল থেকে করেছি যে সব অভিনয়
সেই তুমি হারালে ঠিকই
সে কি নয় বিস্ময়

আঁধারের অন্তরালে বসে যত বার ভেবেছি
শূন্যতারি হাহাকার একাকী শুনেছি।
তোমারই আঁখি পটে
আকাশের নীল এঁকেছি
সেই তুমি বিবর্ণ হবে
কখনো ভাবি নি...

ও আমারই সীমানা সেত তোর ছায়া
সেখানে করে বিচরণ
দুঃখের নিবাস

রাখিস কি খবর--
তোর আঘাতে জমে গেছে
নীলাকাশটা জমিনে রি নীল বেদনীয়...

চলে যদি যাবি দূরে স্বার্থপর-
আমাকে কেন জ্যোৎস্না দেখালি ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28806576 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28806576 2008-06-05 19:08:41
চমৎকার একটি সাইট টুইটার ডটকম টুইটার নিয়ে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আর দশজনের মতোই। পুরো কনসেপ্ট হাস্যকর আর ফালতু ভেবে প্রথমেই টুইটার বাতিল করে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের হাজার হাজার ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী মত আমিও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছি। টুইটার এখন আমার সবচেয়ে প্রিয় সাইটের মাঝে একটি।

টুইটার কি?
টুইটার একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। সারা পৃথিবী ছড়িয়ে থাকা আপনার বন্ধু এবং আগন্তুকদের নিয়ে একটা কমিউনিটি যেখানে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ছোট ছোট এক বা দুই লাইনের আপডেট দেয়। আপডেটগুলো ১৪০ শব্দ বা তার কম হয় তাই এটাকে মাইক্রোব্লগিং সাইটও বলা যায়।

টুইটার কিভাবে কাজ করে?
“তুমি কি করছ?” এই সহজ প্রশ্নটি টুইটার করে। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনের কখন কি করেন বা করবেন সেটা এখানে লিখবেন। অত্যন্ত সহজ করে ১৪০ শব্দের মাঝে। আপনাকে যারা ফলো বা অনুসরণ করবে তারা তাদের পেইজে আপনার আপডেট দেখতে পাবে। একই ভাবে আপনি চাইলে কাউকে ফলো করে তার আপডেট আপনার পাতায় দেখতে পারেন।

টুইটার নিয়ে উদাহরণ
নিজের পেইজ থেকেই একটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে হয়ত অনেকের কাছে পরিষ্কার হবে। আজ কিছুক্ষণ আগে আমি টুইটারে আপডেট করেছি আমি আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে নতুন টপিক লিখছি। সাথে সাথে আরো জানলাম রাসেল ভাই আজ সকালে চারুকলা একাডেমিতে ছবি প্রদর্শনী দেখতে যাচ্ছেন, হাসিন ভাই উবুন্টু রিজিল পার্টি আয়োজন করছেন, অমি আজাদ বাংলাদেশের কম্পিউটার মার্কেট নিয়ে নতুন ব্লগ লিখেছে এবং মৈথুনানন্দদা ঘুম থেকে উঠে গরম গরম কফি পান করছেন।

আমি কীভাবে শুরু করব?
টুইটার সাইটে গিয়ে প্রথমে সাইনআপ করতে হয়। এবং সেটা অবশ্যই ফ্রি। নিজের ইয়াহু , জিমেইল বা এমএসএন আইডিতে লগইন করে আপনার টুইটারে নিবন্ধিত বন্ধু খুঁজে নিতে পারেন। আবার নাম বা কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন। বারাক ওবামা থেকে শুরু করে সিএনএন ব্রেকিং নিউজ, লিনাক্স, ফায়ারফক্স সব কিছুই খুঁজে পাবেন। এরপর আপনি যাদের আপডেট জানতে আগ্রহী তাদের ফলো করবেন। পরে চাইলে যে কোন সময় ফলো করা বন্ধ করে দিতে পারেন। খুবই সহজ। চাইলে টুইটারে আমাকে ফলো করতে যাত্রা শুরু করতে পারেন ।


যা ভালো লেগেছে
১। মূল সাইটে লগইন না হয়ে মোবাইলে ফেসবুকে এমনকি ডেস্টটপ উডজেট দিয়ে আপডেট করা হয়।

২। মোবাইলে আপডেট সাবক্রাইব করতে পাবেন। ভয় পাবার কিছু নেই। মোবাইলে কোন বাড়তি বিল দিতে হয় না।

৩। আপডেটে কোন এইচটিএমএল গ্রহণ করে না। শুধু মাত্র ইংরেজী- বাংলা টেক্স দিয়ে আপডেট হয়। তাই পেইজ অনেক ফাস্ট খুলে।

৪। নিজের ব্লগের হিট এবং মন্তব্য বাড়ানো একটা ভালো পন্থা।

৫। ফেসবুক, মাইস্পেস বা অন্যান সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে টুইটার এপ্লিকেশন আছে। ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেসে যারা ব্লগ লিখেন তারা টুইটার কোড কপি করে সাইটে নিজের আপডেট দেখাতে পারেন।

এই ইউটিউব ভিডিওটা দেখতে পারেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28806376 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28806376 2008-06-05 07:54:09
আজ তুমি আসবে বলে টলটলে নীল আকাশটা ভরে গেছে সাদা মেঘে।
আজ তুমি আসবে বলে,
আগুন লেগেছে প্রিয় চট্টলার সবকটা কৃষ্ণচুড়ায়।

আজ তুমি আসবে বলে,
অসহ্য লাগছে না লোড-শেডিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
মন্দ লাগছে না বন্দর নগরীর গা চিটচিটে অতীষ্ঠ গরম,
হাজারো মানুষের ভিড়ে তীব্র যানজট,
রাস্তার পাশের ময়লা ডাস্টবিনের উপরের
বাদামী ঘাড়ের দাঁড় কাকের কর্কশ ডাকও আজ কি মধুর।

আজ তুমি আসবে বলে,
সকাল থেকেই গুনগুন করছি অর্নবের নতুন গান।
আজ তুমি আসবে বলে,
ফাল্গুনের সাজে আজ আমি সাজব।

আজ তুমি আসবে বলে,
ঈদে মামার দেওয়া নতুন কামিজটা পড়েছি।
আয়নায় দাঁড়িয়ে কপালে নীল টিপ দিয়েছি,
ঠোটে হালকা হালকা লিপস্টিক,
মেখেছি ভাবির দেওয়া বিদেশি সেন্টের সুগন্ধ।

আজ তুমি আসবে বলে,
এলোমেলো লম্বা কলো চুল পিছনে ফেলে,
সুন্দর করে বেনী করেছি।
ভাবি আমায় দেখে হেসে বলল,
‘তোকে যা সুন্দর লাগছে না
একেবারে কাজল মাধুরী।
তোকে দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে।’
দূর, আমার যে কি লজ্জা লাগছিল,
ইস তুমি যদি একবার দেখতে।

আজ তুমি আসবে বলে,
টিউশনি করে জমানো টাকায়
মুঠো ফোনে ক্রেডিট ভরিয়েছি।

আজ তুমি আসবে বলে,
মধ্য দুপুরে ছোট্ট গলি ধরে বেরিয়ে পড়েছি।
পাড়ার বকাটে ছেলেরা শিষ্‌ দিয়েছে,
কালো টিশার্ট পড়া গুন্ডা মত সেই ছেলেটা
পেছন থেকে নোংরা ইঙ্গিত করেছে।
না দেখার ভান করে হেঁটে গেলাম,
মাথা নিচু করে নিঃশব্দে,
না, আজ আমি মন খারাপ করব না।


আজ তুমি আসবে বলে,
তোমার জন্য উপহার নিয়ে এলাম
কবির একশ একটি নীল পদ্ম।
মনের অনেক অজানা কথা বলব আজ
বলব নিজের ভাল লাগার কথা,
ভালবাসার কথা।

আজ তুমি আসবে বলে,
লাইব্রেবীর সিড়িতে বসে থাকলাম সারাটা বিকেল
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম সামনের রাস্তায়।
এই বুঝি তুমি এলে, এই এলে।
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চারটা বাজল, পাঁচটা বাজল, ছয়টা বাজল,
আমার কেন জানি খুব কান্না পাচ্ছে।
দেখতে দেখতে পুরো শহরে অন্ধকার নেমে এল,
তুমি এলে না।


ছবি কৃতজ্ঞতা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28792852 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28792852 2008-04-30 14:30:20
আইপিএল ম্যাচ শেষে নাটকঃ হরভজনের থাপ্পর খেয়ে শ্রীশান্ত খেলার মাঠে কান্না করেছে
টিভিতে খেলা দেখছিলাম। আইপিএল টুয়ান্টি টুয়ান্টি ম্যাচ। খেলা ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান আর কিং অফ পাঞ্জাবের সাথে। খেলায় কিং অফ পাঞ্জাব অনেকটা হেসে খেলেই ৬৬ রানে জয় লাভ করে।

খেলা শেষে এ্যাডের বিরতি হল। যখন আবার খেলার পুরষ্কার বিতরনি শুরু হল হঠাৎ দেখি মাঠের ভেতর শ্রীশান্ত কান্না করছে। সাঙ্গারাকারা, ব্রাট লী, প্রীতি জিনতা সবাই শ্রীশান্তকে শান্তনা দিচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়ত ম্যাচ জিতে খুশিতে শ্রীশান্ত কান্না করছে। কিন্তু এখন আসল ঘটনা জানলাম। খেলা শেষে নাকি হরভজন শ্রীশান্তকে সবার সামনে চড় থাপ্পড় মেরেছে। এখানে উল্লেখ্য হরভজন আজকে শচিন টেন্ডুলকারের অনুপস্থিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান দলের অধিনায়ক ছিল।

মোহালির অধিনায়ক যুবরাজ সিং পড়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বাজ়িকে মাপ চাইতে বলেছে।

সবাই ভাবছে বিসিবি বাজিকে পুরা আইপিএলের জন্য ব্যান কররে



ইঊটিউবের লিঙ্ক
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28791272 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28791272 2008-04-26 02:23:41
মাহবুব সুমন ভাই, শুভ জন্মদিন!!
কিন্তু সুমন ভাই উৎসাহ দিতেন সব সময়, “ ব্লগ লিখনা ক্যান? লেখার চেষ্টা অন্তত কর। তুমি ব্লগ লিখতে পার না এই কথাটাই ব্লগে লিখা পুষ্ট কইরা দাও”। শেষ পর্যন্ত তার ধমকে অনেকটা তাকে খুশি করতেই একদিন কি মনে করে একটু আধটু লিখতে শুরু করলাম।

সুমন ভাইয়ের মত আজকাল রাশেদকেও দেখি সবাইকে ভালো লেখার উৎসাহ দেয়। সেদিন তানভীর ((আ)গণিতিক) ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারে বলছিল সে নাকি কি একটা ব্লগ লিখছে। আমি হাই তুলে বোকার মত বললাম, হঠাৎ এতদিন পড়ে আজ কি মনে করে লিখছ? সে উত্তরে বলেছে, রাশেদ নামের কে নাকি তার লেখা খুব পছন্দ করেছে, তাকে নতুন ব্লগ লিখতে বলেছে। চিনে না, জানে না অপরিচিত একজন মানুষের দুই লাইন মন্তব্যে কার এত উৎসাহ উদ্দিপনা হয়, রাত জেগে কিবোর্ডে ঝড় তুলে লাইনের পর লাইন, পাতার পর পারা লিখে ফেলছে বিষয়টা আমি নিজেও ব্লগে না আসলে কোন দিনও বিশ্বাস করতাম না।

সুমন ভাই প্রসঙ্গে ফিরে আসি। তার সাথে প্রথমে জিটকে হাই হ্যালো টাইপের অম্প বিস্তর কথা বলতাম। এখন মুঠো ফোনে কল্যাণে মাঝে মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ হয়। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে ছোট মাছ কিভাবে রান্না করতে হয়, ভাত সিদ্ধ করতে কতটুকু পানি দিতে হয় অনেক কিছুই আমি সুমন ভাই বা ডক্টর স্বাতী ( বানান আশা করি ঠিক আছে) ভাবির কাছ থেকে জেনেছি। সময় অসময়ে খাজুরে আড্ডা মারতে তাদের রাত বিরাতে বিরক্ত করি। কেন জানি হাসি মুখে আমার সব অত্যাচার মেনে নিয়েছেন।

জন্মদিন হোক আর নাই হোক, সামনা সামনি কাউকে পছন্দের কথা, কৃতজ্ঞতার কথা বলতে আমার খুব লজ্জা-লজ্জা, বোকা-বোকা লাগে। এর থেকে সাদা কাগজে অথবা ব্লগে বোতাম টিপে টাইপ করা অনেক সহজ।

প্রিয় সুমন ভাই এবং স্বাতী ভাবী, আপনাদের মত বিশাল মনের মানুষ আমাকে ছোট ভাইয়ের স্থান দিয়েছেন। সেই গর্বে আমার পা মাটিতে পড়ে না। সব মানুষ কিন্তু আন্তরিক হতে পারে না, আপনারা পেরেছেন।

আপনাদের আন্তরিকতা, ভালোবাসার আকার টের পেয়ে রিতিমত হতভম্ব। আমার প্রতি যে স্নেহ মমতা দেখিয়েছেন তা আমৃত্যু মনে রাখব। দেখতে দেখতে প্রাই দুই- আড়াই বছর হয়ে গেল। সময়ে কত কি বদলায়- আকাশের রঙ বদলায়, গাছের পাতা বদলায়, নদীর পানি বদলায়, মানুষও বদলায়- কেবল বদলালেন না আপনারা। প্রার্থনা করি জীবনে প্রতিটা মুহুর্ত যেন আনন্দময় হয়। পরম করুনাময়ের করুনাধারা আপনাদের উপর বর্ষিত হোক।

শুভ জন্মদিন, ভ্রাতা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28790040 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28790040 2008-04-22 04:45:56
কিচেনের কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
২। আগুন গরম কফি খেতে খেতে শেষের দিকের চুমুকগুলো কেমন ঠান্ডা ঠান্ডা হয়ে যায়। টিপস হল আগে একটু গরম পানি দিয়ে কাপটি গরম করে নিন। অবশ্য ফরাসী কেউ বাসায় আসলে ভুলেও এমনটি করবেন না। ফরাসীরা কোন এক অদ্ভুত কারণে গরম কফিও ঠাণ্ডা করে খায়।

৩। এই টিপসটা আমি মাওয়া ফেরী ঘাটের একজন ফেরিওয়ালার কাছ থেকে পেয়েছি। অনেক সময় আমরা যখন ডিম সিদ্ধ করি তখন দেখা যায় ডিম কেমন ফেটে ফেটে গেছে। তখন খোসা ভেঙ্গে সাদা সাদা এ্যালবুমেন পানিতে বেড়িয়ে আসে। এরূপ পরিস্থিতি এড়াতে অর্থাৎ সিদ্ধ ডিমকে সুন্দর গোলাকার, নিখুঁত করার গোপন রহস্য তাহলে কি? পানিতে এক চিমটি লবণ দিয়ে দেখুন ডিম আর ফাটবে না।

৪। হাত পুড়ে গেলে ঠাণ্ডা পানিতে হাত ২০-২৫ মিনিট চুবিয়ে রাখুন বা ঠাণ্ডা পানির কলের নিচে হাত রাখুন। যে কোন মলম বা বরফের চেয়ে পানি বেশি কার্জ়করী। [আর ঘরে মলম না থাকলে টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। অব্যর্থ ঔষধ।]

৫। হাত কেটে গেলে প্রথমে কলের ঠাণ্ডা পানিতে হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে কিচেন টাওয়েলে পানি মুছুন তারপরে বান্ড এইড লাগান।

৬। আলু বেশি দিন রেখে দিলে নরম হয়ে যায়। সবুজ সবুজ গাছের জন্ম নেয়।। এখন উপায়? আলুর প্যাকেটে একটা আপেল রেখে দিন। আর হবে না।

৭। রান্নার সময় খাবার পুঁড়িয়ে ফেলেছেন। প্যান ঘষামাজা করে শক্তি অপচয় করতে চান না তো? প্যানটি সাবান মেশানো গরম পানিতে সিঙ্কে চুবিয়ে রাখুন ঘন্টা খানেক। প্যান পরিষ্কার সহজ হয়ে যাবে।

৮। পিয়াঁজ কাঁটতে চোখ তো জ্বালাতন করবেই । পিয়াঁজটি ছোলা ছাঁড়িয়ে গরম পানিতে ধুঁয়ে নিন কিংবা আমার মত চুইংগাম প্রেমী হলে মুখে চুইংগাম পুড়ে চিবুতে থাকলে পিঁয়াজ কাঁটলে চোখ জ্বলে না।

৯। পিঁয়াজ বা টমেটো কাঁটার পর আধা পিঁয়াজ অব্যবহৃত রয়ে গেলে তা এয়ারটাইট গ্লাডরাপ করে ফ্রিজে রাখুন। অনেক দিন থাকবে।

১০। পাস্তা, স্পাগিটি বা নডলস সিদ্ধ করার সময় অবশ্যই পানিতে এক বা দুই চিমটি লবণ দিবেন। আপনার জটিল পাস্তা মহা জটিল হবে।লবনের সাথে পানিতে দুই চামচ তেল দিন; দেখবেন পাস্তা, স্প্যাগাটি, নুডলস একটির সাথে আরএকটি লেগে যাচ্ছে না (ফুটন্ত অবস্থায় কিংবা পানি ঝরানোর পর আর আঠা আঠা হবে না)! ঠান্ডা পানিতে পাস্তা/নুডলস/ স্প্যাগাটি দেবেন না; পানি সম্পূর্ণভাবে গরম হলে তবেই ওগুলো দেবেন। লবন ও তেল পাস্তা দেবার আগে দেবেন, পরে নয়।

১১। বর্ষাকালে লবণ অনেক সময় পানি হয়ে যায়। তখন লবণে একটা বা দু’টো চালের দানা দিন আর হবে না।

১২। রান্নায় খুব বেশি লবণ হয়ে গেছে? আমি আছি ভাবনা কিসের! একটা আস্ত আলু খোসা ছাঁড়িয়ে দিয়ে দিন। অল্প কিছুক্ষণ পরে দেখবেন অতিরিক্ত লবণ আলুটি শুষে নিবে।

১৩। মোমবাতি ফ্রিজে রাখুন। মোমবাতি ভালো থাকবে এবং ক্ষয়ও হবে কম।

১৪। সব্জি, সেল্যারি, ধনিয়াপাতা বেশী দিন ধরে সতেজ রাখতে চান? টিস্যু পেপার কলের পানিতে ভিজিয়ে তারপর সব্জির নিচের অংশে জরিয়ে রাখুন। তারপড় ফ্রীজের ভেজিটেবল বক্সে রাখুন। ব্যস।

যাচাই করে দেখবেন। আপনার কিছু টিপসও আমাদের সাথে ভাগ করতে ভুলবেন না যেন। সবাইকে ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28788170 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28788170 2008-04-15 21:30:52
শুভ জন্মদিন রাগিব ভাই ২৯ তম জন্ম দিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782799 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782799 2008-03-26 22:31:46 যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জাফর ইকবাল স্যারের একটি অসাধারন লেখা এবারের স্বাধীনতা দিবসে যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় এই দিনটিতে কি আলাদা করে কারও মনে কিছু আছে? আমি লিখে দিতে পারি সবাই সমস্বরে একটা কথাই বলবে, সেটি হচ্ছে, ‘অবশ্যই আছে, আমরা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার চাই। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।’

এই দেশের মানুষের বুকের ভেতর বহুদিন থেকে এই ক্ষতটি রক্তক্ষরণ করছে, এই যন্ত্রণাটি বহুদিন থেকে মাথা কুটছে। যারা একাত্তরকে নিজের চোখে দেখেছে, শুধু তারাই জানে সেই সময়টিতে এই দেশে কী ভয়ঙ্কর আর কী পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছিল। একাত্তরে মানুষের সংখ্যা ছিল সাত কোটির মতো, তার মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষকে নিজের দেশ, নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল−এটা কি বিশ্বাস করার কথা? যদি তারা দেশ ছেড়ে না যেত, তাহলে যে প্রত্যেকটি মানুষকে এই দেশে হত্যা করা হতো, সেটা কি আমরা নতুন প্রজন্নকে বিশ্বাস করাতে পারব? একাত্তরে এই দেশে কি একটি পরিবারও ছিল যে তার কোনো একজন প্রিয়জনকে হারায়নি? যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই দেশে সেই পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালিয়েছে, তাদের ওপর জন্ন নেওয়া অসহনীয় ক্রোধের উত্তাপ কি নতুন প্রজন্ন অনুভব করতে পারবে? এই দেশের যে বিশ্বাসঘাতক পদলেহী সম্প্রদায় সেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে এই হত্যাকান্ড আর পৈশাচিক নির্যাতনে অংশ নিয়েছে, তাদের ওপর কী ভয়ঙ্কর ঘৃণার জন্ন নেয় সেটা কি আর কেউ কোনো দিন বুঝতে পারবে?

আমাদের দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক বীর সেক্টর কমান্ডারদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই যে তাঁরা আমাদের সেই ঘৃণার হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার একটা উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি এখন আর আনুষ্ঠানিক দাবি নয়, এখন এটি এই দেশের মানুষের একেবারে প্রাণের দাবি হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলাদলি, বিরোধ-বিভেদ, বিভাজনের মধ্যে সেক্টর কমান্ডারদের এই নেতৃত্বটি আমাদের জীবনে আনন্দের একটা ফল্গুধারা বয়ে এনেছে। আমরা কেমন করে কার কাছে এই দাবিটি করব বুঝতে পারছিলাম না, তাঁরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন। তাঁদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আমরা সবাই বলতে চাই, আমাদের আর পিছিয়ে যাওয়ার পথ নেই−যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমরা এই দেশটিকে গ্লানিমুক্ত করব। নতুন প্রজন্নকে বলব, একাত্তরে একবার এই দেশটিকে স্বাধীন করা হয়েছিল, তিন যুগ পর তার ভেতর থেকে যত পূজ-ক্লেদ সরিয়ে দেশটিকে আবার পূতপবিত্র করে তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তোমরা এই দেশটিকে গড়ে তোলো।

২১ মার্চের সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কনভেনশনটি এই দেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা শুধু এর বাইরের সাফল্যটুকু দেখেছি−যাঁরা এটি আয়োজন করেছেন, তাঁদের পরিশ্রমটুকু কি আমরা অনুভব করতে পারি? তাঁদের জন্য পুরো জাতির পক্ষ থেকে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।



আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা বেশ কিছুদিন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলার জন্য দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ রকম একটা ব্যাপার ঘটতে পারে বলে আমার মনে হয় না, এটি সম্ভব শুধু আমাদের দেশে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশ হলে তাঁদের এখন রাষ্ট্রীয় সম্মান উপভোগ করে, স্নৃতি রোমন্থন করে, লেখালেখি করে, কখনো কখনো সভা-সমিতিতে প্রধান অতিথি হয়ে দু-চারটি উদ্দীপনমূলক কথা বলে সময় কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বলে তাঁদের সেসব মুলতবি করে আক্ষরিক অর্থে পথে নামতে হয়েছে। যুদ্ধে যাদের পরাজিত করে দেশটাকে স্বাধীন করেছেন, সেই পরাজিত শত্রু আর তাদের পদলেহী অনুচরদের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য তাঁদের সভা-সমিতি করে ছুটোছুটি করতে হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে এক ধরনের বেদনা আছে। কিন্তু বেদনার থেকে অনেক বেশি আছে আশা ও উদ্দীপনা। যে ক্ষোভ আর ক্রোধ এই দেশের সব মানুষের বুকের ভেতর জমা হয়েছিল, সেটি বের হওয়ার একটি সত্যিকারের সুযোগ এসেছে−জাতি তাই তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের প্রথম কৃতজ্ঞতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটুকু সব মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের দ্বিতীয় কৃতজ্ঞতা।


মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা অনেক দিন থেকেই মতবিনিময় আর সভা করে আসছেন কিন্তু আমার খুব দুঃখ, আমি এখন পর্যন্ত তাঁর কোনোটাতেই উপস্িথত থাকতে পারিনি। কীভাবে কীভাবে জানি প্রতিবারই সেই সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এ মাসের ১৫ তারিখে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের জাতীয় কনভেনশনে আমার সেই দুঃখ উপশম হওয়ার একটা সুযোগ এসেছিল কিন্তু আমি আক্ষরিক অর্থে একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম যখন দেখতে পেলাম একেবারে শেষ মুহুর্তে সেই কনভেনশন করার অনুমতি দেওয়া হলো না। যাঁরা যুদ্ধ করে এই দেশটা স্বাধীন না করলে অনুমতি দেওয়ার কর্মকর্তারা এখনো তাঁদের পাকিস্তানি প্রভুদের পদসেবা করতেন, তাঁদের দুঃসাহসের সীমা দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। খবরের কাগজে দেখেছি, সেক্টর কমান্ডাররা উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টারা তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সৌজন্য দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। অন্যেরা ব্যাপারটা কীভাবে নিয়েছেন জানি না, আমার কাছে মনে হয়েছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। সেক্টর কমান্ডারদের কনভেনশন করার অনুমতি না দেওয়াটা হচ্ছে আইসবার্গের ভেসে থাকা অংশটুকু। কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি সেটা সম্ভবত আইসবার্গের আসল অংশ, বিশাল এবং চোখের আড়ালে থাকা ভয়াবহ একটা ব্যাপার।


প্রথমত, যাঁরা অনুমতি দেননি তাঁরা কারা আমি এখনো জানি না। অনুমতি না দিয়ে যাঁরা কাগজটিতে স্বাক্ষর করেছেন তাঁরা সম্ভব পুলিশ কমিশনার এবং তাঁদের চেপে ধরলে নিশ্চিতভাবেই তাঁরা মাথা চুলকে বলবেন, ‘উপরের নির্দেশ’। যে কারণটা দেখিয়ে তাঁরা দেশের সবচেয়ে সম্মানী মানুষদের কনভেনশনটি বন্ধ করে দিলেন, সেটি এক ধরনের ফিচেলমি। তাঁরা নাকি অনুমতির জন্য আবেদনপত্রে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা বলেছিলেন কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা নেই। এই গুরুতর অপরাধের জন্য কনভেনশনটি বন্ধ করে দেওয়া হলো−নিজের চোখে দেখে, নিজের কানে শুনেও কি কথাগুলো বিশ্বাস হতে চায়? জোট সরকারের আমলে আমরা নিয়মিতভাবে এ ধরনের ফিচেল বুদ্ধি দিয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র হতে দেখেছি−এখনো এই একই ধরনের ফিচেল বুদ্ধি দেখে পরিষ্ককার বোঝা যায়, জোট সরকারের প্রেতাত্মা এই সরকারের মধ্যে খুব ভালোভাবে রয়ে গেছে! (আমার অনেক দিনের শখ যে ধুরন্ধর মানুষগুলো তাঁদের ফিচেল বুদ্ধি দিয়ে ষড়যন্ত্র করে দেশের সর্বনাশ করে বেড়াচ্ছেন, একটা ওয়েবসাইট খুলে ছবিসহ তাঁদের সেই কীর্তিগুলো সেখানে তুলে রাখা। সেই তালিকার এক নম্বরে থাকবে সেই মানুষগুলোর কথা, যাঁরা দেশের তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাবে সেই যুক্তি দিয়ে আজ থেকে দুই যুগ আগে সাবমেরিন কেব্লের সঙ্গে আমাদের দেশকে যুক্ত হতে দেননি।)


কনভেনশনটি ২১ তারিখে খুব ভালোভাবে শেষ হয়েছে কিন্তু ১৫ তারিখে না করতে পারার কারণে উদ্যোগটি নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবীর জন্য পরের দিন কোনো খবরের কাগজ বের হয়নি, তাই দেশের মানুষ কনভেনশনের খুঁটিনাটি খবর পেয়েছে একদিন পর। ১৫ তারিখের কনভেনশনে সারা দেশ থেকে অনেকের আসার কথা ছিল। কেউ কেউ হয়তো ঢাকায় চলেও গিয়েছিলেন; শেষ মুহুর্তে জানতে পেরেছেন এর অনুমতি দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় তারিখটিও প্রথমে ছিল অনিশ্চিত, যখন নিশ্চিত করা হয়েছে তখন অনেকের পক্ষে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি−আমি সেই আশাহত মানুষদের একজন−আমার মতো নিশ্চয়ই আরও অনেকেই আছেন।

যাঁরা কনভেনশনটি ১৫ তারিখে করতে দেননি, তাঁরা কিন্তু শুধু খানিকটা যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য সেটি বন্ধ করেছিলেন বলে মনে হয় না, তাঁদের ফিচেল বুদ্ধি সুদুরপ্রসারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করে জেলে আটকে রাখার কথা মনে আছে? সেই ঘটনার সঙ্গে এ ঘটনার একটা মিল আছে। দেশের মানুষের চাপে শিক্ষকদের যখন মুক্তি দিতেই হবে, তখন ঠিক করা হলো আগে তাঁদের খানিকটা অপমান করে নেওয়া যাক। অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়ে তারপর কোনো একজনকে দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়ে তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়া হলো, অপরাধীর সিলটি কিন্তু তাঁদের গায়ে ঠিকই দিয়ে দেওয়া হলো। এখানেও তাই দেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধের এত বড় বীরসেনানি, তাঁদের তুচ্ছ করে উড়িয়ে দিয়ে শেষে দয়া করে অনুমতি দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া−তোমরা যে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাইছ, তাদের প্রাণের বন্ধুরা সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে আছে, পদে পদে তোমাদের থামিয়ে দেওয়া হবে!


৩.
গত জোট সরকারের আমলে আমাদের দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে আমরা কেউ ভালো করে জানি না। আর্থিক দুর্নীতিটা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে এসেছে আর সেটা নিয়েই হইচই হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যারা আর্থিক দুর্নীতি করেছে, তাদের সবাইকে যে ধরা হয়েছে সেটাও সত্যি নয়। তারেক রহমানকে আটক করা হয়েছে কিন্তু মামা-ভাগ্নে জুটির মামা সাঈদ এস্কান্দারকে স্পর্শ করা হয়নি, কারণ তাঁর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ আছে−এই সহজ সত্যটা কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে? এ রকম উদাহরণ কয়টি প্রয়োজন?

যা-ই হোক আর্থিক দুর্নীতি থেকেও ভয়ঙ্কর দুর্নীতিটি হচ্ছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় মানুষ বসিয়ে দেওয়ার দুর্নীতি। জোট সরকারের আমলে সেটা একটা শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এই জঞ্জাল কত দিনে পরিষ্ককার হবে কে জানে। যে যেখানে আছে সেখানে এটা ঘটতে দেখেছে। আমি সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। জোট সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া ভাইস চ্যান্সেলররা ঘোষণা দিয়ে আগে থেকে বলে দেন, তাঁদের দলের স্বার্থের বাইরে যাবে সে রকম কিছু তাঁরা করতে পারবেন না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে একটা সমাবর্তন হয়েছে, সেই সমাবর্তনে সিলেটের মুক্তবুদ্ধির কোনো বুদ্ধিজীবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে আমন্ত্রণ দিয়ে সমাবর্তনে নিয়ে আসা হয়েছে। গতকাল (২২ মার্চ) খবরের কাগজে দেখেছি, এখন থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশে চাকরি-বাকরির খুব অভাব। এই খবরটি পড়ে দেশের বেকার সম্প্রদায় নিশ্চয়ই চাকরির জন্য আবেদন করার আরও একটি সুযোগ উন্নুক্ত হতে দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বগল বাজাচ্ছেন। আমি তাঁদের আগে থেকে সতর্ক করে দিই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের চাকরির চেয়ে খারাপ চাকরি এই দেশে আর কিছু হতে পারে না। সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পনা পাকাপাকি করে ফেলেছে বলে মনে হয়। কোনো রকম সাহায্য করতে রাজি নয়, তাই যাঁরা এই চাকরি করতে আসবেন, তাঁরা পুরো সময়টা কখনো কর্মচারী, কখনো কর্মকর্তা, কখনো শিক্ষক এবং বেশির ভাগ সময় ছাত্রদের দিয়ে ঘেরাও হয়ে থাকবেন। যদি তাঁদের চামড়া যথেষ্ট মোটা হয়, তাঁরা সময়টা পার করে নামের শেষে প্রাক্তন উপাচার্য লিখে রাষ্ট্রদুত হওয়ার জন্য ওপরের মহলে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন।


খবরের কাগজে ভাইস চ্যান্সেলরদের নিয়ে আরও একটা খবর দেখেছি, আপাতত নতুন কোনো ভিসি নিয়োগ হচ্ছে না−যার অর্থ এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দলীয় ভাইস চ্যান্সেলররা আছেন, তাঁরাই মহানন্দে সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের দলীয় কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন। আগে সেটা করার আগে তাঁদের খানিকটা ইতস্তত করতে হতো, এখন আর ইতস্তত করতে হবে না, সরকার তাঁদের আনুষ্ঠানিক ইনডেমনিটি দিয়ে দিয়েছে!


৪.
আজ থেকে অনেক বছর পর যখন বাংলাদেশের মানুষ এই দেশের ইতিহাস পড়বে, তখন যে চরিত্রটিকে তাদের কাছে সবচেয়ে বিচিত্র মনে হবে সেটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। জোট সরকারের সময় শেষ হওয়ার পর যখন নির্বাচন দিয়ে নতুন একটি সরকার গঠন করার কথা, তখন এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে কলুষিত করেছিলেন এই মানুষটি। সেনাবাহিনী ১/১১ এর পরিবর্তনটি করিয়ে এই মানুষটির মুখ দিয়েই পরিবর্তনের সেই কথাগুলো উচ্চারণ করিয়েছে। সেই সময়ে যারা অন্যায় করেছে, তাদের (প্রায়) সবাই জেলে−কিন্তু সবকিছুর মূলে থেকেও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এখনো রাষ্ট্রপতি! তিনি একই সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, যে মানুষটি নানা ফন্দিফিকির করে সংবিধানের বিধানের অপপ্রয়োগ করে অবলীলায় একটা দেশকে সর্বনাশের শেষ সীমায় নিয়ে যেতে পারেন, সেই মানুষটি আমাদের ছাত্রদের সুনাগরিক হওয়ার জন্য উপদেশ দেবেন, সেই দৃশ্যটি আমার নিজের চোখে দেখা সম্ভব নয় বলে আমি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ছিলাম না!
এই স্বাধীনতা দিবসে আমাদের সেই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ যুদ্ধাপরাধীদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য সবাই তাঁর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। কাজেই এই স্বাধীনতা দিবসটি নিশ্চিতভাবেই একটি অন্য রকম স্বাধীনতা দিবস। বঙ্গভবনে থাকবেন রাষ্ট্রপতি এবং যুদ্ধাপরাধীরা। বাইরে থাকবেন মুক্তিযোদ্ধারা!
বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রকম ব্যাপার আগে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে।


৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, মৃত্যুর পর তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না, মৃত্যুর আগে তাঁরা শুধু একটি জিনিস দেখে যেতে চান, সেটি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
এই দেশে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু দিতে পারিনি। তাঁদের এই শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করার জন্য আমরা কি একবার শেষ চেষ্টা করে দেখব না? এই স্বাধীনতা দিবসে সেটাই কি আমাদের শেষকথা হতে পারে না?




লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রথম আলো থেকে নেওয়া

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782539 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782539 2008-03-26 03:45:12
সামহোয়ারইনের নতুন ফিচার, নতুন রূপ এবং ব্যাক্তিগত কিছু মতামত অভ্যাস মত সামহোয়ারইন খুলতে গিয়ে একটু ধাক্কার মতন খেলাম। “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” এ নির্মাণ কাজ চলছে। অফিসে লাঞ্চের সময়ও একবার উঁকি-ঝঁকি দিয়েছি। আপডেট কয়েক করার জন্য ঘণ্টার খানেক বন্ধ থাকবে সে সম্পর্কিত কোন নোটিশ তখন চোখে পড়েনি। অবশেষে অপেক্ষার পর চিরচেনা “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” মহান স্বাধীনতা দিবসে নতুন পোষাক পড়ে, নতুন নতুন সব ফিচার নিয়ে আসল। ১০ মিনিট ঘুরে ঘুরে নতুন ফিচারগুলো একটু চোখ বুলিয়ে নিলাম। এখনো দেখি অনেক অনেক বাগ। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৬/৭ য়ে প্রথম পেইজের সব পোষ্ট নিচে বাম দিকে বেঁকা হয়ে যাচ্ছে। আবার দেখি আমার নাম অনলাইনে আছেন কিন্তু মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি লেখা “আপনার মন্তব্য লিখতে লগইন করুন”। আবার দেখলাম সংকলিত পোস্ট এ কমেন্ট করলে Get Away!!!! বলছে। আশা করি এই সব ছোটখাট বাগ কতৃপক্ষ আজ কালকের ভেতর ফিক্স করে ফেলবেন। নতুন ফিচার নিয়ে কিছু কথা কিছু ব্যক্তিগত মতামত দিলাম;

যে সব ফিচার ভালো লেগেছে

১ এখন থেকে প্রতি আধা ঘন্টায়(৩০ মিনিটে) একজন ব্লগারের সর্বোচ্চ দুইটি পোষ্ট প্রথম পাতায় দেখা যাবে। এটি একটি চমৎকার ফিচার। অনেক দিন ধরেই এমনটি চাচ্ছিলাম। আজ থেকে প্রথম পাতায় ফ্লাডিং দেখব না ভাবতেই ভালো লাগছে।

২ সংকলিত পোস্ট ফিচারটি ভাল লাগল, কিন্তু সংকলিত পোস্ট নির্বাচ্য করার পদ্ধতিটা কি? আমার মতে এই ক্ষমতাটা আমাদের কাছেই উচিত। পোস্টটি কত জনের ভাল লেগেছে সেটার উপর ভিত্তিক “সংকলিত পোষ্ট” নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করি।

২ “পোস্টটি আপত্তিকর” বা “রিপোর্ট এবিউজ” নামে একটি বাটন পাব যার মাধ্যমে কোন আপত্তিকর পোস্ট দেখলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে। এটাও ভাল উদ্যোগ। আশা করি এই বাটনের অপব্যবহার হবে না। তবে আমার মতে “আপত্তিকর পোষ্ট” বাটন থাকার পাশাপাশি “আপত্তিকর মন্তব্য” বাটনও থাকা উচিত। ইউটিঊবে এরুপ একটা ফিচার আছে। দেখতে পারেন।

যে সব ফিচার ভাল লাগে নিঃ

১ প্রথম পাতায় দেখতে পেলাম দুই দুইটি বিজ্ঞাপন। একটা আওয়াজের আরেকটি “সামহোয়ার ইন ঢাকা” । নিজের ব্লগ সাইটের নিচেও একটা বিজ্ঞাপন। এসবের বিরক্তিকর বিজ্ঞাপনের কোন দরকার ছিল না। এত দিন গর্ব করতাম “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” বিজ্ঞাপন মুক্ত সাইট। প্রথম পাতা থেকে এই বিজ্ঞাপন উঠিয়ে দেওয়ার জন্য কতৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ করছি।

২ ব্লগ থীম/টেমপ্লেট কি একটু বেশি রঙচঙে হয়ে গেল না? বিশেষ করে বাম দিকের প্যানেলে গোলাপী রঙ রীতিমত দৃষ্টিকটু। আমার আগের সহজ সাদামাটা থীম বরং অনেক ভাল লাগত। পছন্দ মত দুই তিনটে বাংলা ব্লগ থীম/টেমপ্লেট বাছাই করার সুযোগ দেওয়া যেত। বাংলাক্রিকেট সহ অনেক ফোরামেই এমন সুযোগ আছে। যেখান থেকে আমরা আমাদের নিজের একাউন্ট থেকে নিজের পছন্দ মত টেমপ্লেট বেছে নিলাম।

৩ যে ফিচারটি আমার একেবারেই পছন্দ হয় নি সেটা হল “অটো মডারেশন”। এই অটো মডারেশন চলাকালে প্রথম পাতায় কেবল “নিরাপদ তালিকা” ভুক্ত ব্লগারদের লেখা প্রকাশিত হবে এবং অন্য যেই ব্লগাররা “সন্দেহ তালিকায়” থাকবেন তাদের লেখা অপেক্ষায় থাকবে যতক্ষণ না লেখাগুলো মডারেটর দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন কে নিরাপদ তালিকাতে আছে আর কে সন্দেহ তালিকা তে আছে সেটা কিভাবে নির্ধারিত হবে? এটা বাক স্বাধীনতার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। সবাইকে পোষ্ট করার সামন অধিকার দিতে হবে। কারো সাথে আমার মতের পার্থক্য থাকতে পারে, চিন্তা আর্দশের পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে আমার অধিকার যতটুকু আজকের নতুন আইডি খোলা ব্লগারেরও সেটুকুই অধিকার ।

কতৃপক্ষ একটু ভেবে দেখবেন কি?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782486 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782486 2008-03-26 00:30:54
অকথ্য এই বিবরণ, ক্ষমাহীন এই অপরাধ (আনিসুল হক)
...শুধু ২৫ মার্চ রাতের ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসতা, চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা, কামান লাগিয়ে উড়িয়ে দেওয়া ছাত্রাবাস, ছাত্রাবাস থেকে বের করে এনে কাতারবন্দী করে দাঁড় করিয়ে ছাত্রদের ব্রাশফায়ারে মেরে ফেলা, যেন তারা পিঁপড়ার সারি...গণকবর খুঁড়ে মাটি চাপা দেওয়া সেই সব লাশ, এখনো মারা যায়নি কোনো গুলিবিদ্ধ ছাত্রের মাটি চাপা পড়ে তলিয়ে যাওয়ার আগে মা বলে কেঁদে ওঠা শেষ চিৎকার, শিক্ষক-আবাসে ঢুকে নাম ধরে ডেকে ডেকে হত্যা করা শিক্ষকদের, তার শিশুসন্তানের সামনে, তার স্ত্রীর সামনে.. আর আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া জনবসতি, ভেতরে পুড়ে যাচ্ছে মা আর তার স্তনবৃন্তে মুখ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া শিশু, ভেতরে পুড়ে যাচ্ছে বৃদ্ধ, তার মুখ থেকে এখনো শেষ হয়নি বিপদতাড়ানিয়া আজানের আল্লাহু আকবার ধ্বনি, মাংসপোড়া গন্ধে চনমনে হয়ে উঠছে বাতাস,..পুলিশ ব্যারাকে আগুন লাগিয়ে জীবন্ত দগ্ধ করে মারা বাঙালি পুলিশদের, ইপিআর ব্যারাকে হামলা চালিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে গুলি করে মারা বাঙালি ইপিআর সদস্যদের, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘেরাও করে ভেতরে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের নির্বিচারে পাখি-মারার মতো করে হত্যা করা, লাশে আর রক্তে ভেসে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা.. ঢাকার সবগুলো পুলিশ-স্টেশনে টেবিলের ওপর উপুড় হয়ে আছে বাঙালি কর্তব্যরত কর্মকর্তার গুলি খাওয়া মৃতদেহ, দমকল বাহিনীর অফিসে ইউনিফর্ম পরা দমকলকর্মীরা শুয়ে আছে, বসে আছে, গুলিবদ্ধি হয়ে দেয়ালে আটকে আছে লাশ হয়ে...।

পাতার পর শুধু এই পৈশাচিকতার, এই আগুনের, লাশের, হত্যার, আর্তনাদের আর মানুষ মারার আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়া সৈনিকের অট্টহাসির আর মদের গেলাস নিয়ে মাতাল কন্ঠে শাবাশ শাবাশ আরও খুন আরও আগুন আরও রেইপ বলে জেনারেলদের চিৎকারে ফেটে পড়ার বর্ণনা লেখা যাবে, শত পৃষ্ঠা, নিযুত পৃষ্ঠা, তবু বর্ণনা শেষ হবে না, তবু ওই বাস্তবতার প্রকৃত চিত্র আর ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে না। কে-ই বা সব দেখেছে একবারে, যে অধ্যাপক ভিডিও করেছেন জগন্নাথ হলের মাঠে সারিবদ্ধ ছাত্রদের গুলি করে মেরে ফেলার দৃশ্য, তিনিও তো ঘটনার সামান্য অংশই চিত্রায়িত করতে পেরেছেন মাত্র, যে সায়মন ড্রিং বিদেশি সাংবাদিকদের বহিষ্ককার এড়িয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের রান্নাঘর দিয়ে পালিয়ে গিয়ে লন্ডনের দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে পাঠিয়েছিলেন জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ, সাম উইটনেস অ্যাকাউন্টস, ‘হাউ ডেਆা পেইড ফর ইউনাইটেড পাকিস্তান’, তিনি নরকের বর্ণনার সামান্যই দিতে পেরেছিলেন।

২৫ মার্চ রাতে শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে পাকিস্তানি মিলিটারি ব্যাপক গুণহত্যা চালিয়ে তোপের মুখে চিরকালের জন্য স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে। শুধু ২৫ মার্চ রাতে নয়, ২ এপ্রিল জিঞ্জিরায় যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, যেকোনো প্রত্যক্ষদর্শীর দোজখ-দেখার দুঃসহ স্নৃতি ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। প্রাণভয়ে ভীত আশ্রয়সন্ধানী প্রায় লাখখানেক ঢাকাবাসী আশ্রয় নিয়েছে বুড়িগঙ্গার ওপারে। তাদের কারও কারও কাছে দেশি অস্ত্র। একটা দুটো বন্দুক। পুলিশ কিংবা ইপিআরের ফেলে যাওয়া থ্রি নট থ্রি। ভোরবেলা হঠাৎ পাকিস্তানি আর্মি লঞ্চ আর স্টিমারযোগে চলে আসে নদীর এপারে, অতর্কিতে, বাচ্চুরা টের পেয়ে পেছাতে পেছাতে সৈয়দপুরে সরে আসে, আর পেছনে তাকিয়ে দেখতে পায় আকাশে হেলিকপ্টার জেট উড়ছে, আর হাজার হাজার মানুষ পালাচ্ছে দিগ্বিদিক, আর আর্মিরা কী একটা পাউডার নাকি পাইপ দিয়ে ফুয়েল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে, মানুষ পুড়ে যাচ্ছে আর ছুটে যাচ্ছে, ছুটন্ত মানুষ পুড়ছে, পুড়ন্ত মানুষ ছুটছে, ছুটন্ত মানুষ ফুটন্ত, জ্বলন্ত, হাজার হাজার ছুটন্ত অগ্নিকুন্ড, আর চিৎকার, পুরোটা জনপদ পুড়ছে, আর গুলি, রিকোয়েললেস রাইফেলের, আর হেলিকপটার জেট থেকে, ছুটন্ত মানুষ পড়ে যাচ্ছে, ধরাশায়ী হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ পড়ে গেল, মরে গেল, মরে গেল তো বেঁচে গেল, অন্তত ১০ হাজার মানুষ সেদিন মারা পড়েছে জিঞ্জিরায়।

স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র অষ্টম খন্ডে সুবেদার খলিলুর রহমান এসআইয়ের বিবরণে পাওয়া যায়, “কোতোয়ালী থানার বরাবর সোজাসুজি গিয়ে বুড়ীগঙ্গার লঞ্চঘাটের পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম বুড়ীগঙ্গার পাড়ে লাশ, বিকৃত, ক্ষত-বিক্ষত, অসংখ্য মানুষের লাশ ভাসছে, ভাসছে পুলিশের পোশাকপরা বীভৎস লাশ। দেখলাম বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধা-যুবা, যুবক-যুবতী, বালক-বালিকা, কিশোর-শিশুর অসংখ্য লাশ। যতদুর আমার দৃষ্টি যায় দেখলাম বাদামতলী ঘাট থেমে শ্যামবাজার ঘাট পর্যন্ত নদীর পাড়ে অসংখ্য মানুষের বীভৎস পচা ও বিকৃত লাশ, অনেক উলঙ্গ যুবতীর লাশ দেখলাম, এই পূত পবিত্র বীরাঙ্গনাদের ক্ষত-বিক্ষত যোনীপথ দেখে মনে হলো, পাঞ্জাবী সেনারা কুকুরের মত ওদের পবিত্র দেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওদেরকে যথেচ্ছভাবে ধর্ষণ করে গুলিতে ঝাঁজরা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। অনেক শিশুর ও ছোট ছোট বালক-বালিকাদের থেঁতলে যাওয়া লাশ দেখলাম। ওদেরকে পা ধরে মাটিতে আছড়িয়ে মারা হয়েছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অশ্রুভরা চোখে আমি লাশ দেখলাম−লাশ আর লাশ−অসংখ্য নিরীহ বাঙ্গালীর লাশ−প্রতিটি লাশে বেয়নেট ও বেটনের আঘাত দেখলাম, দেখলাম কারও মাথা চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে আছে, পাকস্থলি সমেত হূৎপিন্ড বের করা হয়েছে, পায়ের গিঁট হাতের কਲা ভাঙ্গা, ঝুলছে পানিতে। সদরঘাট টার্মিনালের শেডের মধ্যে প্রবেশ করে শুধু রক্ত আর রক্ত দেখলাম...দেখলাম মানুষের তাজা রক্ত এই বুড়ীগঙ্গা নদীর পাড়ে। এই টার্মিনাল শেড ছিল ২৫ মার্চের কালোরাত্রিতে ওদের জল্লাদখানা। ওরা বহু মানুষকে ধরে এনে ঐ টার্মিনালে জবাই করে বেটন ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে টেনে-হিঁচড়ে পানিতে ফেলে দিয়েছে। অসংখ্য মানুষকে এভাবে নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিষ্ককার ছাপ দেখতে পেলাম সেই রক্তের স্রোতের মধ্যে। শেডের বাইরের প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখলাম অসংখ্য কাক ও শকুন মানুষের সেই রক্তের লোভে ভিড় করেছে। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ভারাক্রান্ত হূদয়ে বের হয়ে পূর্বদিকে পাক সেনাদের সদর আউট পোষ্টের দিকে দেখলাম নদীর পাড়ের সমস্ত বাড়িঘর ভস্ন হয়ে ওদের নৃশংসতা ও বীভৎসতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখলাম রাস্তার পার্শ্বে ঢাকা মিউনিসিপালিটির কয়েকটি ময়লা পরিষ্ককার করার ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে, সুইপাররা হাত-পা ধরে টেনে হেঁচড়িয়ে ট্রাকে লাশ উঠাচ্ছে, প্রতিটি ঘর থেকে আমাদের চোখের সামনে বহু নারী-পুরুষ, বালক-বালিকা, কিশোর-শিশু ও বৃদ্ধ-বুড়ার লাশ সুইপাররা টেনে টেনে ট্রাকে উঠাচ্ছিল। পাঞ্জাবী সেনারা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে কুকুরের মত নির্মমভাবে প্রহরা দিচ্ছিল। ভয়ে সন্ত্রাসে আমি আর এগুতে পারলাম না। পূর্বদিকের রাস্তা দিয়ে আমি সদরঘাটের কাপড়ের বাজারের নীরব নিথর রাস্তা ধরে সদরঘাট বেপটিষ্ট মিশনের চৌরাস্তার সম্মুখ দিয়ে নওয়াবপুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। আমাদের কারো শরীরে পুলিশের পোশাক ছিল না...আমি এবং আমার সাথে আরও দু’জন সিপাহী সাধারণ পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করছিলাম। কাপড়ের বাজারের চারদিকে রূপমহল সিনেমা হলের সম্মুখে সর্বত্র বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষের ইতস্ততঃ ছড়ানো বীভৎস লাশ দেখলাম, বহু যুবতী মেয়ের ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখলাম। খৃষ্টান মিশনারী অফিসের সম্মুখে, সদরঘাট বাস ষ্টপেজের চারদিকে, কলেজিয়েট হাইস্কুল, জগন্নাথ কলেজ, পগোজ হাইস্কুল, ঢাকা জজকোর্ট, পুরাতন ষ্টেট ব্যাংক বিল্ডিং, সদরঘাট গির্জা, নওয়াবপুর রোডের সর্বত্র, ক্যাথলিক মিশনের বাইরে এবং ভিতরে আদালত প্রাঙ্গণে বহু মানুষের মৃতদেহ দেখলাম।

...রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যোগদান করার পর আমরা দেখেছি পাঞ্জাবী সেনারা মিলিটারী ট্রাকে ও জীপে করে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বালিকা যুবতী মেয়ে ও সুন্দরী রমণীদের ধরে আনতে থাকে। অধিকাংশ বালিকা, যুবতী মেয়ের হাতে বই ও খাতা দেখেছি। প্রতিটি মেয়ের মুখমন্ডল বিষণ্ন, বিমর্ষ ও বিষময় দেখেছি। মিলিটারী জীপে ও ট্রাকে যখন এভাবে যুবতী মেয়েদের রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আনা হতো তখন পুলিশ লাইনে হৈচৈ পড়ে যেত, পাঞ্জাবী, বিহারী ও পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশ জিভ চাটতে চাটতে ট্রাকের সম্মুখে এসে মেয়েদের টেনে হেঁচড়িয়ে নামিয়ে নিয়ে তৎক্ষণাৎ দেহের পোশাক-পরিচ্ছদ, কাপড়-চোপড় খুলে তাদেরকে সম্পুর্ণভাবে উলঙ্গ করে আমাদের চোখের সামনেই মাটিতে ফেলে কুকুরের মত ধর্ষণ করতো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও অঞ্চল থেকে ধরে এ সকল যুবতী মেয়েদের সারাদিন নির্বিচারে ধর্ষণ করার পর বৈকালে আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার বিল্ডিং-এর ওপর তাদেরকে উলঙ্গ করে চুলের সাথে লম্বা লোহার রডের সাথে বেঁধে রাখা হতো। রাতের বেলায় এসব নিরীহ বাঙ্গালী নারীদের ওপর অবিরাম ধর্ষণ চালানো হতো। আমরা গভীর রাতে আমাদের কোয়ার্টারে বসে মেয়েদের আর্তচিৎকার শুনে অকস্নাৎ সবাই ঘুম থেকে ছেলেমেয়েসহ জেগে উঠতাম। সেই ভয়াল ও ভয়ঙ্কর চিৎকারে কান্নার রোল ভেসে আসতো, ‘বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও, তোমাদের পায়ে পড়ি, আমাদের বাঁচাও, পানি দাও, এক ফোঁটা পানি দাও, পানি, পানি’।”

একই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায় মো. সাহেব আলী নামের সুইপার ইন্সপেক্টর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সুইপার রাবেয়া খাতুন প্রমুখের বর্ণনায়। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের আর যেসব মানুষের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে এই দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে, সবখানেই একই রকম বর্ণনা, অগণিত মানুষকে গুলি করে হত্যা, আগুন জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া জনপদের পর জনপদ, আর নারীদের ওপর অকথ্য অমানবিক নির্যাতন। সেই সব নির্যাতন কখনো হয়েছে পরিবারের সদস্যদের সামনেই, কখনো বা নির্যাতনের ক্যাম্পে দল বেঁধে নারীদের বন্দী রেখে। নীলিমা ইব্রাহিমের আমি বীরাঙ্গনা বলছি বই থেকে জানা যায়, মেয়েরা যাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে না পারে, সে জন্যে তাদের শাড়ি বা ওড়না দেওয়া হতো না।

ড. মোজাম্মেল হোসেন নামের বিজ্ঞানী ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা যেসব বার্তা আদান-প্রদান করেছিল, সেটা রেডিওতে ধরে ফেলেন ও রেকর্ড করে রাখেন। পরে সেসব আকাশবাণী থেকে প্রচারিতও হয়। একটা কথোপকথন এই রকম:
কন্ট্রোল: বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আনুমানিক কতজন হতাহত হয়েছে? আনুমানিক সংখা বললেই হবে।
উত্তর আসে : তিন শর মতো।
কন্ট্রোল: চমৎকার। তিন শ-ই মারা গেছে, না কেউ বন্দী বা আহত হয়েছে?
উত্তর: আমি একটাই পছন্দ করি। তিন শ-ই মারা গেছে।
কন্ট্রোল: আমিও তোমার সাথে একমত। ওই কাজটিই সহজ। কিছুই জানতে চাইবে না। আবার বলছি, চমৎকার।

২৫ মার্চ ও তার কাছাকাছি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আরও অনেকের সঙ্গে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করে অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব, অধ্যক্ষ এ এন এম মনিরুজ্জামান, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. ফজলুর রহমান খান, এ মুকতাদির, শরাফত আলী, এ আর কে খাদেম, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য, সাদত আলী এবং এম এ সাদেককে।

অপারেশন সার্চলাইট নামের এই সেনা অভিযানের ভয়াবহতা, ব্যাপকতা, নৃশংসতার কোনো নজির নেই। এর একটাই লক্ষ্য ছিল। অস্ত্র আর আঘাত আর মৃত্যু দিয়ে জনগণের দাবিকে স্তব্ধ করে দেওয়া। পরবর্তীকালেও যে পোড়ামাটি নীতি, ঘরবাড়ি জ্বালানো, গণহত্যা ও ধর্ষণ চালানো হয়, তারও লক্ষ্য ছিল থমকে দেওয়া, ধমকে দেওয়া, গুঁড়িয়ে দেওয়া, নিশ্চিহ্ন করা, স্তব্ধ করা আর শেষতক বশীভুত করা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশ স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থেকে ঘোষণা করছে, অস্ত্রের মুখে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায় না।

আশ্চর্য যে, এত কিছুর পর যখন সমস্ত বাংলাদেশ প্রতিরোধের আর প্রতিশোধের ন্যায়যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন জামায়াত, মুসলিম লীগ আর নেজামে ইসলামী গড়ে তোলে আলবদর, আল শামস, মুজাহিদ বাহিনী আর রাজাকার বাহিনী। সমস্ত সাক্ষী অভিন্ন সাক্ষ্য দিচ্ছেন, এই বাহিনীর সদস্যরা কেবল মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের হত্যা, নির্যাতন, গ্রেপ্তার করেছে, পাকিস্তানিদের পথ দেখিয়ে দিয়েছে, তা-ই নয়, এরা মেয়েদের ধরে নিয়ে গিয়ে তুলে দিয়েছে মিলিটারিদের হাতে।

এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আবারও জেগে উঠেছে বাংলাদেশ।

ইতিহাসের এই দায়মোচন একদিন না একদিন আমাদের করতেই হবে।


লিখেছেন আনিসুল হক
আজকের প্রথম আলোথেকে নেওয়া
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782246 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782246 2008-03-25 05:35:00
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করা সেক্টর কমান্ডার
এম এ জি ওসমানী (সর্বাধিনায়ক)
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার (উপ প্রধান সেনাপতি)
লে.কর্নেল আবদুর রব(উপ প্রধান সেনাপতি)


১নং সেক্টর
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) (এপ্রিল- জুন)
সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) (জুন - ডিসেম্বর)

২নং সেক্টর
নোয়াখালী জেলা, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.টি.এম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)

৩নং সেক্টর
সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর কেএম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.এন.এম নুরুজ্জামান (বীর উত্তম) (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)

৪নং সেক্টর
সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জে: সি আর দত্ত (বীর উত্তম)

৫নং সেক্টর
সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর মীর শওকত আলী (বীর উত্তম)

৬নং সেক্টর
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
উইং কমকান্ডার খাদেমুল বাশার

৭নং সেক্টর
দিনাজপুর জেলার দক্ষিনাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক ( অগাস্ট পর্যন্ত )
সেক্টর কমান্ডার মেজর কাজী নুরুজ্জামান (বীর উত্তম)

৮নং সেক্টর
সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ
সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মুঞ্জুর (বীর উত্তম) (আগস্ট-ডিসেম্বর)

৯নং সেক্টর
দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিনাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল মিঞা (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ),
সেক্টর কমান্ডার মেজর জয়নুল আবেদীন ( ডিসেম্বর এর অবশিষ্ট দিন)

১০নং সেক্টর
কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত।

১১নং সেক্টর
কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের (বীর উত্তম) (আগস্ট-নভেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার স্কেয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)

টাংগাইল সেক্টর
সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ
কাদের সিদ্দিকী।


সেক্টর কমান্ডার ফোরাম]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781661 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781661 2008-03-23 02:52:13
চিত্র সমালোচনাঃ ব্রিক লেন
ব্রিক লেন’ উপন্যাসের লেখক বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট মনিকা আলি। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৩ সালে। ম্যান বুকার পুরস্কারের শর্ট লিস্টে মনিকা আলি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেখক। ‘ব্রিক লেন’ নিয়ে বাংলাদেশে ও অন্য জায়গার বাংলাদেশি কমিউনিটির মাঝে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

২০০৬ সালের শুরুতে শুনেছিলাম সারা গেভরন ব্রিক লেন উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচিত্র রুপান্তরিত করছে। সেই বছরেই আগস্টে আমরা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে জেনেছিলাম ব্রিক লেন চলচিত্র তৈরীর প্রতিবাদে লন্ডনের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রতিবাদ করছে। তাদের অভিযোগটি ছিল গুরুতর, উপন্যাসটিতে নাকি বাংলাদেশের লন্ডনের কমিউনিটিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তথাপি উপন্যাসটি পড়ে আমার কখনও এমন মনে হয়নি। রাগান্বিত প্রতিবাদকারীর কয়জন প্রকৃতপক্ষে উপন্যাসটি পড়েছেন তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

যুক্তরাজ্যে ‘ব্রিক লেন’ প্রিমিয়ার হয়েছে ২৬ অক্টোবর, ২০০৭। প্রায় পাঁচ মাস পড় ব্রিক লেন গতকাল ২০শে মার্চ অষ্টেলিয়াতে প্রিমিয়ার হয়েছে। বাসা থেকে সিনেমা প্যালেস কোমো মাত্র সাত মিনিট হাটার পাথ। হলের দরজার সামনে বড় বড় পোষ্টারে বাংলাদেশের গ্রামের ধানক্ষেতে ছুটে চলা কিশোরিকে দেখেই নিজের শৈশবের কথা মনের পড়ল। গুড ফ্রাইডে ছুটি থাকায় কারনেই হোক আর প্রমিয়ার শো হবার কারনেই হোক মুভি থিয়েটার ছিল প্রায় পূর্ণ। দর্শকের অধিকাংশই অষ্ট্রেলিয়ান। হাতে গোনা তিন চারটে বাঙ্গালি পরিবারও দেখলাম।

আমি মাত্র কিছু দিন আগেই ব্রিক লেন বইটি পড়ে শেষ করেছি। কোন বই পড়ে মুভি দেখতে গেলে আমার একটা বড় সমস্যা হয়। কেন জানি নিজের কল্পনার জাল বুনে নিজের মনের মাঝেই একটা ছবি বানিয়ে ফেলি। নিজের মনের ছবির সাথে বাস্তবে মিল না পেলেই হতাস হই। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ছবির শুরুটা আমার একেবারেই ভাল লাগে নি।



অবশ্যই মুভি শুরু হয়েছে মুল চরিত্র নাজনিনের ( তানিস্থ চট্টোপাধ্যায়) বাংলাদেশের গ্রামের শৈশবের দৃশ্যাধারণ দিয়েই। নাজনীনের বেড়ে উঠা, ধানের ক্ষেতে ছুটে চলা, পুকুরে সাতার কাটা, বৃষ্টিতে ভেজা, বন্ধুদের সাথে খেলা করা, নাজনীনের মার পুকুড়ে ডুবে আতহত্যা, নাজনীনের বাল্য বিবাহ এত কিছু সব মাত্র ৪- ৫ মিনিটে দেখিয়েছেন। এভাবে তাড়াহুড়া করে দেখানোর কোন দরকার ছিল না। আমি জানি বড় একটা বইকে ১০১ মিনিটে দেখাতে গেলে কিছুটা কাটছাট করতেই হবে। কিন্তু পরিচালক সারা গেভরন হয়ত মুল কাহিনীর উপর অধিক মাত্রায় সিনেমাটিক লাইসেন্স নিয়ে ফেলেছেন। উপন্যাসের শুরুর দিকের ঘটনা, নাজনীনের বেড়ে উঠা, তার বিবাহ আরো বিস্তারিত করে দেখানো উচিত ছিল। নাজনীনের সাথে চানুর (সতিশ কৌশিক) বিবাহ যেভাবে দেখানো হয়েছে যারা বইটি পড়েন নি সে সব বিদেশীদের কাছে অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য লাগবে। নাজনীনের সাথে তার ছোট বোন হাসিনার সাথে তার সম্পর্কটা আরো গভীর ভাবে দেখানো জেত। হাসিনার চরিত্র মুল উপন্যাসে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন। নাজনীনের আবেগ, আদর্শ, বোনের প্রতি তার ভালোবাসা, নিজের ফেলে আশা গ্রামের প্রতি তার পিছুটান ইত্যাদি বইটি থেকে মুভিতে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অ্যাডাপ্ট করার জন্যই ৪-৫ মিনিটের স্থানে অন্তত ১৫- ২০ মিনিট ফুটেজ দাবী রাখে।

ছবির টাইটেল, অভিনেতাদের নাম দেখাতে দেখাতেই নাজনীন দুই টিনেজ মেয়ে সাহানা আর বিবির মা আর চানু আহমেদের আদর্শ পত্নি। চানু আহমেদ তার দুই মেয়ে আর পত্নি নিয়ে পুর্ব লন্ডনের ব্রিক লেনে বসবাস করেন। ব্রিক লেন ইস্ট লন্ডনের ঘিঞ্জি এলাকা। চানু তার আর্থিক দৈন্যতার কারনে একটা নোংরা অ্যাপার্টমেন্টের পুর্ব প্রান্তের সস্তা দুই রুমের ছোট ফ্লাটে থাকেন। চানু আহমেদ আর নাজনীনের বয়সের অনেক পার্থক্য। নিজের পরিবারের আয় বাড়ানোর জন্য নাজনীন বাড়িতেই মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। প্রতি কাপড় সেলাই করে সে এক পাউন্ড পায়। সে কল্পনা করে এভাবে অম্প অম্প করে পাউন্ড জমিয়ে যে তার প্রিয় বাংলাদেশে আসবে। তার ছোট বোন হাসিনাকে দেখতে যাবে। ১৭ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে আসার পর সে একবারের জণ্য হলেও হাসিনাকে দেখে নি। হাসিনার সাথে তার সব সময় চিঠিপত্র আদান প্রদান হয়। নিজের মনে সব কথা, সব স্বপ্ন নাজনীন হাসিনাকে লিখে পাঠায়।



সেলাইয়ের কাজ করতে গিয়ে দেখা হয় করিমের( ক্রিষ্টোফার সিম্পশন) সাথে। করিম ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী আধুনিক, হেন্ডসাম, পরিশ্রমি যুবা। নাজনীনের সমবয়সি ও স্থানীয় কাপড়ের ব্যবসায়ি। তাদের মাঝে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়। করিম স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির এখন উঠতি নেতা। করিম চায় নাজনীন চানুকে তালাক দিয়ে তার সাথে বাস করতে। এর মাঝেই ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলা হল। স্থানীয় সমাজে একটা দাঙ্গা হবার আশঙ্কা দেখা দিল। এর মাঝেই চানু সিদ্ধান্ত নিল সে আর এই দেশে থাকবে না পুরো পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত যাবে। বইটি না পড়ে থাকলে ছবির শেষ অংশটি অপ্রতাশিত মনে হওয়া খুবি স্বাভাবিক।



মুভিটির চিত্রায়ন হয়েছে ভারত ও লন্ডনের নানা স্থানে। মুভিতে নাজনীন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানিস্থ চ্যাটার্জি, চানু চরিত্রে অভিনয় করেছেন সতিশ কৌশিক। এই ছবিটি একেবারেই তানিস্থা চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। তানিস্থা ভারতীয় থিয়েটার গুনি অভিনেতা। শুনেছি সে দুই একটা হিন্দি মুভিও করেছে। সফল ভাবেই জটিল একটা চরিত্র আভিনয় করেছে। তার সাধাসিধে ইংরেজী উচ্চারন একেবারেই চরিত্রের নাজনীনের সাথে মিশে গেছে। ব্রিক লেন দেখে মনেই হয়নি সারা গেভরন পরিচালিত প্রথম ছবি। সারা গেভরন এত ঝড় ঝাপটার মাঝেও ছবিটি যত্নশীল হয়ে সমাপ্ত করেছে তার জন্য তার বাহাবা প্রাপ্য।



ভাল লাগে নি
১। নাজনিনের শৈশব আরো ফুটেজ দেওয়া উচিত ছিল। ( অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে)
৩। হাসিনার চিঠি পড়ার সময় ইংরেজীতে পড়ানো হয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশে থাকে তার ইংরেজ়ি চিঠি লেখার কোন কারন নেই। বাংলায় পড়ে নিচে ইংরেজী সাবটাইটেল দিলেই হত।
২। বিরতির আগের ১৫ মিনিটের গতি খুব ধীর ছিল।


ভালো লেগেছেঃ
১। কাহিনী এবং সংলাপ।
২। চমৎকার আবহ সঙ্গিত ( জোসেলিন পোককে এত দিন শুধুমাত্র প্রতিভাবান ভায়োলিন বাদক হিসেবেই চিনতাম।)
৩। তানীশা চট্টোপাধ্যায়, ক্রিষ্টোফার সিম্পশন,সতিস কৌশিকের অনবদ্য অভিনয়।
৪। অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি।

আমি ব্রিক লেন মুভিটিকে সাড়ে ৩ ষ্টার দিলাম ( ৫ এর ভিতর)

ব্রিক লেন অফিসিয়াল ওয়েব সাইট
ব্রিক লেন মুভি ট্রেইলার
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781360 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781360 2008-03-22 02:48:11
আজ আমার জন্মদিন <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
আজ থেকে ২৮ বছর আগে এক তুমুল ঝড়ের রাতে বরিশালের একটা অজপাড়াগায়ের ছনের কূড়ে ঘরে আমার জন্ম। আজ বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে এই মেলবোর্ন বসে খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। ইস কত মজাই না করতাম ছোটবেলার এই দিনে। আপাতত কিছু করার নেই। অনেকক্ষন মা , বাবার সাথে ফোনে কথা বলে আসলাম।

মন উদাস উদাস লাগছে তাই লগ ইন করলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28779724 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28779724 2008-03-16 23:16:09
ভাষার জন্য ভালোবাসা ( মুহম্মদ জাফর ইকবাল )
২.
এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডাকটিকেট বের করছে−খবরের কাগজে তার ছবি দেখেছি! ডাকটিকেটের মাঝখানে আমাদের শহীদ মিনারের ছবি−দেখেই মনটা ভালো হয়ে যায়! (আমার পরিচিত যারা আমেরিকায় আছে, তাদের সবাইকে বলে রেখেছি বেশি করে সেই ডাকটিকেট কিনে বেশি করে সবাইকে চিঠি লিখতে।) আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি স্বদেশের সীমানা পার হয়ে একটা আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে−কী চমৎকার একটা ব্যাপার। কিছুদিন আগে জাপান গিয়েছিলাম, সেখানে গিয়ে দেখি টোকিও শহরের মাঝখানে একটা পার্কে আমাদের শহীদ মিনার; আকারে একটু ছোট, কিন্তু একেবারে একশ ভাগ বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার শহীদ মিনার। যখনই একুশে ফেব্রুয়ারি আসে, তখনই আমার বাংলাদেশের সেই তরুণদের কথা মনে পড়ে, যাদের আন্তরিক চেষ্টায় এটা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। তাদের জন্য আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি যত দুর জানি একুশে ফেব্রুয়ারি যেভাবে সারা পৃথিবীর জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়ে গেছে, ঠিক সেভাবে পঁচিশে মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা প্রতিরোধ দিবস হওয়ার একটা প্রক্রিয়া অনেক দুর এগিয়ে গিয়েছিল। জোট সরকারের আমলে সেই প্রক্রিয়াটা এগিয়ে নেওয়া যায়নি। কারণ, এসব ব্যাপারে সরকারের একটু সাহায্যের দরকার হয়। যারা গণহত্যায় সক্রিয় সহযোগিতা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামীই জোট সরকারের অংশ ছিল, কাজেই পঁচিশে মার্চকে একটা আন্তর্জাতিক দিবস করার চেষ্টা করাটাই তখন নিশ্চয়ই একটা বড় অপরাধ ছিল। সেই মানুষগুলো এখন ক্ষমতায় নেই; এখন কি আবার প্রক্রিয়াটা শুরু করা যায় না? আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক লোকজনই জেলে আছেন; জামায়াতে ইসলামীর প্রেতাত্মা এখনো এই সরকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না−তাহলে মনে হয় আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।


৩.
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হওয়ায় আমাদের সবার নতুন এক ধরনের আত্মোপলব্ধি হয়েছে, যার খুব দরকার ছিল। আগে আমরা ধরেই নিতাম একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই বাংলা ভাষার জন্য ভালোবাসা, এখন আমরা আমাদের ভাবনাটাকে আরও একটু বড় করেছি। এখন বলছি এবং ভাবছি একুশে ফেব্রুয়ারি মানে শুধু বাংলা ভাষা নয়, যার যার মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা। আমরা যারা বাংলায় কথা বলি তাদের জন্য কোনো পরিবর্তন হয়নি, এখনো আমরা বাংলার জন্যই মমতাটুকু ঢেলে দিই। কিন্তু একই সঙ্গে আ