somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুমতি এবং কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা দীর্ঘ দিন পর এসে এই লেখা হঠাৎ চোখে পড়ল। বাংলাদেশ সরকার অবশেষে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুমতি দিয়েছে। কি চমৎকার মন ভালো করে দেওয়া একটি খবর। কিন্তু কিছু পাঠকের প্রতিক্রিয়া দেখে রীতিমত বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেলাম। (ভাগ্য ভালো হস্তরুদ্ধ হই নি, তা হলে ব্লগ লিখতাম কীভাবে?)

কারো কাছে বিদেশী ভাষায় ছবি আমদানী অনুমোদন দেওয়ায় আওয়ামী লীগের গভীর ষড়যন্ত্র। কারো মতে ভারতীয় চলচ্চিত্র দেশে প্রবেশ করলে আমাদের দেশের সংস্কৃতি বানের জলে ভেসে যাবে, দেশী চলচ্চিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে, শাহরুখ খান-আমির খান(দুইজন কিন্তু মুসলিম) দেশে হিন্দুয়ানি কালচার ঢুকিয়ে দিবে, তরুণ-তরুণী হিন্দিতে কথা বলা শুরু করবে, সমাজের অধঃপতন ঘটবে, লোকজন আস্তে আস্তে হিন্দু হয়ে যাবে এবং বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে।

এই ধরনের ছেলে মানুষী কথা শুনে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না। পাকিস্তান আমলে এক শ্রেণীর লোক বাংলাদেশ স্বাধীন হলে কি কি হবে বোঝাতে এই ধরনের আশঙ্কা করত। বিংশ শতাব্দীতে আমার আধুনিক বাংলাদেশ এই সব কথাবার্তা চরম কি চরম নির্বুদ্ধিতা পরিচয় দেয়।

আমাদের সংস্কৃতির দেয়াল কি এতই হালকা যে কয়েকটা ভারতীয় চলচ্চিত্র এতে ফাটল ধরিয়ে দিবে। দুই শত বছরে ইংরেজশাসন পারে নি, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ-আয়ুব খানরা পারে নি, জামাত ইসলামী পারল না, স্যাটেলাইট টিভি পাড়ল না, ইউটিউব-ফেসবুক পারে নি, মোস্তফা ফারুকির লিভ টুগেদার পারে নি, গুলশান এভেনিউ-নিমা রহমানরা পারে নি। কিন্তু শাহরুখ খান, আমির খান, রাণী মুখার্জী, এ আর রহমান, জাভেদ আখতার, ঋতুপর্ণ ঘোষরা মিলে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করে দিবে।


স্কুল, কলেজ জীবনে আমি ছিলাম বাংলা সিনেমার পোকা । সে সময়ে চলচ্চিত্র পেশায় থাকা অনেকেই ছিলেন মঞ্চ থেকে উঠে আসা, কষ্ট করে মেধা দিয়ে বড়ো হওয়া মানুষজন। ‘এক টিকিটে দুই ছবি’ অসুস্থ ধারণা তখনও কারো মাথায় আসে নি। ভালো বাংলা ছবি বলতে বুঝি অশ্লীলতা মুক্ত সামাজিক পারিবারিক ছবি। যেখানে নায়ক নায়িকার রোমান্টিক সংলাপ থাকবে, শ্রুতিমধুর গান থাকবে। প্রতি শুক্রবার সকালে বাসায় আসত কিংবদন্তিতুল্য চলচ্চিত্র সাপ্তাহিক চিত্রালী। বাসায় কে আগে চিত্রালী পড়বে এই নিয়ে মা খালা, বোনদের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করতে হত।

কলেজিয়েট স্কুল এর ছাত্র অবস্থা চুটিয়ে স্কুল পালিয়ে ছবি দেখতাম। সিটি কলেজে পড়া অবস্থায় নিউ মার্কেটে আড্ডা, ডায়মন্ড হোটেলে চা, সামুচা, আলুর চপ খেয়ে বন্ধুদের নিয়ে দল বেধে সালমান-শাবণুর, নাইম-শাবনাজদের সিনেমা দেখতে যাওয়া ছিল খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়।

এখনো মনে আছে ‘খুরশিদ মহল’ সিনেমা দেখতে গিয়ে সদ্য প্রেমে পড়া ফুপু সাথে দৈব ক্রমে(!) পাশের বাসার সফিক ভাইকে(এখন ফুপা) পাওয়া, বাবা-মার কাছে তথ্য গোপন রাখার সহজ সর্ত ঘুস হিসাবে জামানের কাচ্চি বিরানী আর লিবার্টির ফালুদা গ্রহণ। “রঙ্গম” সিনেমা হলে কলেজের এক সহপাঠিনী নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া কথা মনে আছে। মনে আছে নিজের ভুল বুঝতে পেরে সালমানের বিরহে শাবনুরের জ্বালাইয়া প্রেমের বাত্তি কোথায় তুমি থাক রে, দাও না দেখা বন্ধু আমারে” করুন গানে বান্ধবী অশ্রু বিসর্জন কথা। সাত বছর বাদে দেশে এসে দেখি আমার সেই ‘খুরশিদ মহল’ এখন গার্মেন্টস শিল্প মার্কেট আর সেই রঙ্গম’ এখন আবাসিক হোটেল।

ঢাকা বা অন্যান্য শহরের কথা জানি না কিন্তু আমাদের চট্রগ্রাম এর অবস্থা রীতিমত ভয়াবহ। নূপুর, মেলেডি, অলংকার, খুরশিদ মহল, রঙ্গম, উপহার, রিদম, জলসা, উজালা, আকাশ, সঙ্গীতা, বনানী কমপ্লেক্স, লায়ন, গুলজারসহ অনেক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রেক্ষাগৃহ ভেঙ্গে করা হয়েছে বহুতল মার্কেট, দোকান পাট, গার্মেন্টস, আবাসিক হোটেল, এপার্টমেণ্ট। এর ফলে শহরের উপর চাপ বেড়েছে, রাস্তায় যানজট বেড়েছে, দূষণ বাড়ছে। প্রেক্ষাগৃহ এর গরীব কর্মচারীর চাকরি গেছে। কিছু মানুষের রুটি রুজি পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হলে প্রেক্ষাগৃহ মালিকগণ অন্তত লাভের মুখ দেখবে। অক্সিজেন সিলেন্ডারের মুখোষ নিয়ে মুমূর্ষু চলচ্চিত্র প্রদর্শন ব্যবসা আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পাড়ব।


আমাদের দেশে বিনোদন খুবই অভাব। এত বড় একটা ঢাকা শহর অথচ সপরিবারে বেড়াতে যাওয়ার স্থান সীমিত, পার্কেও বেড়াবার উপায় নেই, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। বিদেশী ভাষায় ছবি আমদানী অনুমোদন দেওয়ায় চলচ্চিত্র প্রেমী দর্শক প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আনবে। নাগরিকরা বিদেশী চলচ্চিত্র দেখে কয়েক ঘণ্টা জন্য হলেও তাদের দৈনন্দিন জীবনের এক একঘেয়েমি দূর করে কিছুটা আনন্দ লাভ করবে।

স্যাটেলাইট চ্যানেলের বদৌলতে এখন ঘরে বসেই এদেশের দর্শকরা ভারতীয় ছবিসহ বিশ্বের বিখ্যাত ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছে। মার্কেটর দোকান, রাস্তার মোরে মোরে অলিতে গলিতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের পাইরেটেড ভিডিও বিক্রি হচ্ছে। আমির খান, শাহরুখ খানরা যদি সর্বনাশ করতে চায়, সেটা এর মাঝে হয়ে গেছে। নতুন করে আর কিছুই হবে না।

বরং আমরা উন্নত মানের রুচি সম্মত চলচ্চিত্র দেখবার সুযোগ পাব। অপসংস্কৃতি ধুয়া তুলে আমাদের দর্শকদের বড় পর্দায় সিনেমা দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছি।“মাই নেম ইস খান”, “ থ্রী ইডিয়টস”,“তারে জামিন পার” এসব ভারতীয় চলচ্চিত্র ঢালিউডের “প্রেম তুমি অবুঝ”, “রক্তের বদলা”,” আমায় ভালবাসা দাও” এই ধরনের চলচ্চিত্র থেকে লক্ষ কোটি গুন ভালো।


বিদেশী সিনেমার কারণে অন্য কোন দেশের চলচ্চিত্র ব্যবসা ধ্বংস হয়ে গেছে অতি হাস্যকর যুক্তি। পৃথিবীর বহু দেশে বিদেশী বা ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। আমাদের অষ্ট্রেলিয়ায় প্রতি সপ্তাহ দুই তিনটে ভারতীয় চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। মেলবোর্ণে “মাই নেম ইস খান” এর টিকিট দ্বিতীয় সপ্তাহের বুধবার গিয়েও আমি পাই নি। ভারতীয় ছাড়াও প্রচুর পাকিস্তানী, বাংলাদেশী, অজি এই সব চলচ্চিত্র দেখতে আসে। মুসলিম দেশ আরব আমিরাত, কুয়েত, পাকিস্তানেও ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

অস্ট্রেলীয় মাল্টিপ্লেক্সে একই সাথে হলিউডের ছবি, বলিউডের চলচ্চিত্র, চাইনিজ চলচ্চিত্র, তামিল চলচ্চিত্র সহ বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র মাল্টিপ্লেক্সে দেখানো হয়। “মনপুরা”, “থারড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার”, “ব্রিক লেন” আমি এই বিদেশে থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দেখেছি। অস্ট্রেলীয় জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল এসবিএস এ “মাটির ময়না” দেখেছি। এত বিদেশী চলচ্চিত্রের ভিড়ে দর্শক নিজেদের অস্ট্রেলীয় চলচ্চিত্র দেখতে টিকিট কাউণ্টারে লম্বা লাইন করে। মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে দেখি হলিউডের এভ্যাটার , ভারতীয় “থ্রী ইডিয়টস”, ব্রিটিশ ছবি “দ্যা বোট দেট রকস” সাথে পাল্লা দিয়ে স্থানীয় অস্ট্রেলীয় “ব্লাক বেলুন” দেখতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এভ্যাটার, হ্যারি পটারদের মত বিগ বাজ়েট এর ছবির সাথে পাল্লা দিয়ে স্বল্প বাজেটের স্থানীয় চলচ্চিত্র দেখতে যায় কেন জানেন? কারণ তাদের চলচ্চিত্রের অসাধারণ কাহিনী, চমৎকার অভিনয়, চলচ্চিত্রায়ণ এবং নির্মাণ শৈলী।


সরকার বিদেশী চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে প্রতি টিকিটে রাজস্ব আয় করতে পাড়বে। অনেকে হয়ত ভাবছেন কয়েকটা সিনেমার টিকেটে থেকে কি আর লাভ হবে? নিয়ম অনুসারে, সরকারকে সিনেমা হল মালিকদের শতভাগ রাজস্ব দিতে হয়। এর মানে আপনি যদি ১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেন তাহলে সরকারি খাতে জমা হয় ৫০ টাকা। তাহলে বুঝেন গরীব দেশে বছরে একটা বড় অঙ্ক রাজস্ব পেতে যাচ্ছি। এই ট্যাক্সের টাকায় বাজেট হবে, দেশের উন্নয়ন হবে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হলে যদি কারো ক্ষতি হয় তা হবে দেশের অসাধু চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের। আমরা যত চিৎকার করি না কেন ঢালিউডে অশ্লীল ছবি প্রদর্শনী কখনো বন্ধ হবে না। ভারতীয় চলচ্চিত্র এর কারণে এরা আর অশ্লীল ছবি করতে পারবে না। বিশ্বের বিখ্যাত ছবিগুলো দেখতে পেলে মানুষ বুঝতে পারবে মান সম্মত ছবি কি জিনিস। দেবাশীষ বিশ্বাস টাইপের কেউ আর হিন্দি সিনেমা নকল করে “শুভ বিবাহ” মানের সস্তা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র করে পার পাবে না। জাগা খিচুড়ি করে একি পুরান কাহিনী দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধ হবে। মানুষের রুচি ও চাহিদা এখন অনেক উন্নত। অশ্লীলতা, নোংরামি দিয়ে বোকা বানিয়ে পয়সা কামানি দিন শেষ। ভারতীয় চলচ্চিত্র সাথে পাল্লা দিয়ে গিয়ে বাংলা সিনেমার মান বাড়বে। নকল চলচ্চিত্র নির্মাণ না করে মনপুরা,চন্দ্রকথা, শাস্তি, নিরন্তর, আগুনের পরশমনি, মাটির ময়না মত ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মিত হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/29140016 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/29140016 2010-04-22 19:03:20
এ আর রহমান দুটি অস্কার পেলেন। স্লামডগ মিলিওনার পেল আটটি অস্কার।
তাকে অনেক অনেক অভিনন্দন।

Slumdog Millionaire সাতটি অস্কার পেল।

Best Film
Slumdog Millionaire

Best Director
Danny Boyle – Slumdog Millionaire: Winner

Adapted Screenplay
Slumdog Millionaire - Simon Beaufoy : Winner
The Reader - David Hare

Best Cinematography
Slumdog Millionaire - Anthony Dod Mantle: Winner

Best Original Score
Slumdog Millionaire - AR Rahman: Winner

Best Original Song
Jai Ho - Slumdog Millionaire - Music by AR Rahman; Lyric by Gulzar : Winner

Best Sound Mixing
Slumdog Millionaire - Ian Tapp, Richard Pryke, Resul Pookutty: Winner ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28915091 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28915091 2009-02-23 10:16:12
শহীদ জননী তোমাকে প্রণতি করি, হাজার সালাম তোমাকে।
আবুল বরকত মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে বুকের রক্ত দেওয়া এই বীর শহীদের মা হাসিনা বিবি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। হাসিনা বিবি বাড়ী ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ। পূর্ব পাকিস্তানে স্থায়ী ভাবে বসবাস না করলেও প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ মাতা ছুটে আসেন ঢাকায়। আজিমপুর কবরস্থানে ছেলের কবরের সামনে জানান বিনম্র শ্রদ্ধা । ৬৮-৬৯ সালে তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার পাসপোর্ট বাতিল করেন। এক অসহায় জননীকে তার শহীদ ছেলের জন্য প্রার্থনা করতে দেয়া হয় নি। দুঃখী মা ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ভাষা শহীদ আরমা গুনকে ধরার জন্য যখন মিলিটারির তাদের বাসা ঘিরে ফেলে তখন আরমা গুন তার মায়ের কাছে নতজানু হয়ে অনুরোধ করেন ‘ মা, আমাকে হয়ত ওরা এখনই গুলি করে মারবে। আমার জীবনের শেষ অনুরোধ, তোমরা আমার লাশ বারান্দায় ফেলে রেখো, যাতে সকলে আমার মৃতদেহ দেখে সবাই বিদ্রোহ করার সাহস পায়।’

যুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার রফিক অপারেশনের জন্য যাচ্ছিলেন। পাকিস্তান আর্মি হঠাৎ সাধারণ মানুষের উপর বোমা বর্ষণ করল। ভয়ে কোলে শিশু সহ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়চ্ছে। পথে একজন কিশোরের দ্বিখণ্ডিত দেহ পরে আছে। এক মা মৃত ছেলের লাশ কোলে নিয়ে শোঁকে পাথর হয়ে বসে আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের দেখে দুঃখী মা চোখ মুছে জিজ্ঞাসা করলেন ‘ তোমরা কারা? ’ সেক্টর কমান্ডার জবাব দিলেন, ‘ মা , আমরা আপনার ছেলে।’ ছেলের দ্বিখণ্ডিত দেহের সামনে শহীদ মাতা আল্লার কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করলেন, ‘ আল্লাহ তুই আমার সোনার মানিক নিয়ে গেছস সে জন্য আমার কোন রাগ নাই, আমার ছেলের প্রাণের বিনিময় আমি এই ছেলেদের জন্য দোয়া চাইছি যারা বাংলায় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে।’

ঢাকা শহরের মিরপুরে কবি মেহেরুনি্নসাকে তার বৃদ্ধা মায়ের সামনেই হত্যা করা হয়। পাকিস্তানিরা মায়ের সামনে তার স্নেহের দুই ছেলেকে এবং তরুণী মেয়েকে শক্ত করে রশি দিয়ে বাধে। বৃদ্ধা মায়ের আকুতি মিনতি, পায়ে ধরে বিলাপ কিছুতেই সেই পশুদের মন নরম করে নি। মায়ের চোখের সামনে সেই সব পিশাচীরা সন্তানদের ভয়ঙ্কর ভাবে তীক্ষ্ণ ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। অসহায় জননীর তীক্ষ্ণ আর্তনাদ সেদিন বুঝি মিরপুরের ধূসর আকাশের বুক চিরে গিয়ে ছিল , কিন্তু এতটুকু কাঁপেনি সেই প্রতিবেশী অবাঙালী পশুদের বুক।

রুমী মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্য মায়ের দোয়া চাইলে মা অবেগী কণ্ঠে বলে ছিলেন, ‘ যা, তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে দিলাম ’। মা জাহানারা ইমাম তার শহীদ ছেলেকে বলা এই শেষ উক্তি জন্য সারা জীবন আফসোস করেছেন। আল্লাহ মনে হয় অসহায় মায়ের কোরবানি কথাটাই কবুল করে নিয়েছেন। যদি বলতেন , যা রুমী যুদ্ধ করে বীরের বেশে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আয়। তাহলে হয়ত রুমী ১৬ ডিসেম্বর মায়ের কোলে ফিরে আসত ।

শহীদ আজাদ ঢাকায় গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। আজাদ ছিলেন ঢাকা শহরের সব থেকে ধনাঢ্য ব্যক্তি ইউনুস আহমেদ এর একমাত্র পুত্র। বিপুল অর্থ বিত্তের মাঝে বড় হলেও আজাদ তার মাকে নিয়ে জীবনে অনেক ত্যাগ করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ আর রাজারবাগ গেরিলা অপারেশনের অংশ নেয়া আজাদকে স্থানীয় রাজাকারদের সাহায্য নিজের বাসা থেকে আটক করা হয়। মায়ের সামনে মারতে মারতে তাকে থানায় নেয়া হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ আর রাজারবাগ অপারেশনের অংশ নেয়া সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা এবং অস্ত্র বোমা কোথায় লুকিয়ে রেখেছে সেটা জানার জন্য টর্চার সেলে মিলিটারিরা আজাদ, জুয়েল এবং তাদের বন্ধুদের উপর প্রচণ্ড অত্যাচার করে। । অমানুষিক অত্যাচারের মাঝেই শহীদ জুয়েল পাকিস্তান আর্মির সাথে ইংরেজিতে রসিকতা করে বলেন, ‘ আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক, হাত ভেঙ্গে দিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে উইকেট কিপিং করব কীভাবে ? ’ আধমরা রক্তাক্ত জুয়েলের সাহস দেখে হচকিত আর্মি অফিসার জুয়েলের হাত গুঁড়ো করে দেন।

আজাদ এবং তার বাকি সঙ্গিদের টর্চার সেলে সারা দিন ছাদের সিলিং ফ্যানে উলটা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সারা শরীরে নির্মম ভাবে বেল্ট দিয়ে পেটানো হয়। আজাদের সারা শরীর রক্তাক্ত। মুখ থেকে গল গল করে রক্ত পরছে। কিন্তু আজাদ- জুয়েলরা কিছুই ফাঁস করে নি।

আজাদের মনোবল ভাঙ্গার জন্য মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ( বর্তমানে জামাতের ঊর্ধ্বতন নেতা ) আজাদের মাকে ধরে রমনা থানায় টর্চার সেলে নিয়ে আসে। রাজাকার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আজাদের মাকে বলে , ‘ খালাম্মা, গাদ্দারদের নাম ঠিকানা আর অস্ত্র কোথায় আছে সেটা বললেই স্যার আজাদকে ছেড়ে দিবেন।’ কিন্তু অফিসারের সামনেই আজাদের মা রক্তাক্ত পুত্রকে সাহস দিয়ে বলেন, ‘ বাবা রে, যখন মারবে, তুমি শক্ত হয়ে থাক, সহ্য করো। কিন্তু কারো নাম যেন বলে দিও না।’

আজাদ সেই রাতে তার মাকে বলে, ‘ মাগো, ভাত খাইতে ইচ্ছা করে , দুই দিন ভাত খাই নাই। কালকে রাতে ভাত দিচ্ছিল, আমি ভাগ পাই নাই।’ মা পরের দিন টিফিন ক্যারিয়ারে করে সাদা ভাত , আজাদের পছন্দসই মাংস , আলু ভর্তা , বেগুন ভাজি নিয়ে রমনা থানায় যান। কিন্তু তাকে থানার ভিতরে যাবার অনুমতি দেওয়া হয় নি। টিফিন ক্যারিয়ার হাতে নিয়ে মা সারা রাত থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। শেষ রাতে বলা হয় আজাদ রমনা থানায় নেই । মা সারা রাত এক থানা থেকে আরেক থানা, এমপি হোস্টেল, কেন্টরম্যান্ট সব খানে আজাদকে খুঁজে বেরিয়েছেন। কিন্তু আজাদকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি।

আজাদের মা সাফিয়া বেগম স্বাধীন দেশে আরো চোদ্দ বছর বেঁচে ছিলেন। তার ছেলে বাড়ি ফিরে আসবে এই একটি মুহূর্তের আকাঙ্ক্ষা মৃত্যু মুহূর্ত পর্যন্ত তার সাথে ছিল। সারা দিন তিনি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ডাকপিয়ন আসলে দৌড়ে যান ছেলের চিঠি আছে নাকি জানতে। একটু শব্দ হলে বুক কাঁপত। এই বুঝি তার ছেলে স্বাধীন দেশে ফিরে এল। শেষ বার সেলে দেখেছেন তার পরান মানিক মাটিতে চিত হয়ে পরে আছে। পাষণ্ডরা আজাদকে রাতে ঘুমানোর জন্য কোন বালিশ দেয় নি। শক্ত মেঝেতে একটা পাটি দেওয়া হয়ে ছিল শুধু। এই দেখে আজাদের মা ওই দিনের পর আর কোন দিন বিছানায় ঘুমান নি। মাটিতে পাটি বিছিয়ে ঘুমাতেন। খালি পেটে ক্ষুধার্ত ছেলেকে মেরে ফেলেছে । মৃত্যুবরণ করার আগে মায়ের হাতে একটু সাদা ভাত খেয়ে যেতে পারে নি , তাই মা বাকি জীবনেও কোন দিন ভাত স্পর্শ করেন নি। সুদীর্ঘ চোদ্দ বছর শুধু মাত্র শক্ত রুটি খেয়েছেন। দুই বেলা কখনো একবেলা শুধু পানিতে চুবিয়ে। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, ৩১শে আগস্ট, ১৯৮৫ আজাদকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সেই একই দিনে এই রত্নগর্ভা নারী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার কবরের উপর খোদাই করা শিলালিপিতে লেখা হয়েছে শুধুমাত্র একটি লাইন, ‘ শহীদ আজাদের মা ’।

প্রতিটা শহীদ জননী এই দেশের রক্তাক্ত জন্ম প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই লাল সবুজ পতাকায় মায়ের অংশ আছে। জাতীয় সংগীতের প্রতিটা চরনে তাদের কণ্ঠ আছে। বাংলার মাটি এদের কাছে চির ঋণী। স্বাধীনতার আটত্রিশ বছর পরও বাংলার ঘরে ঘরে হাজার হাজার আজাদ, রুমী, জুয়েলদের মা নিভৃতে চোখের জল ফেলে। সব কষ্ট সময়ের সাথে সাথে প্রশমিত হয়, কিন্তু নিজের ছেলে হারাবার কষ্ট কি কোন দিন কমে? জীবনের প্রতিটা দিন, প্রতিটা রাত হারিয়ে যাওয়া সন্তানের স্মতি বুকে নিয়ে এরা বেঁচে আছে।

মাতৃকোল ছেড়ে সন্তানেরা বিদায় নিয়ে দূরে নক্ষত্রলোক মিলিয়ে গেছে। অনেক আদরের ছেলেটা বর্ষার তুমুল বর্ষণে মায়ের হাতের আদরে মাখা খিচুড়ি খাবে না, ঘোমটার ফাঁক গলে চেয়ে থাকা মায়ের দৃষ্টি নিয়ে শরতের আকাশে ঘুড়ি উড়াবে না, কনকনে শীতের রাতে মায়ের বুকের উষ্ণতা নিবে না, ক্লান্ত হয়ে বাসায় এসে মায়ের শাড়ির আঁচলে মুখ মুছবে না, গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দুপুরে মায়ের খোলা শীতল পিঠে কচি শরীর লেপটে ঘুমাবে না, কখনই প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন বাংলাদেশ দেখবে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28906426 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28906426 2009-02-04 02:59:48
মেলবোর্ণ শহরের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

আজকে মেলবোর্ণ শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৩ ডিগ্রি। গত ছয় বছরে ভিক্টোরিয়া স্টেটে সব থেকে উষ্ণতম দিন। দুঃসহতম গরমে এখন মধ্যরাত্রও আমি রীতিমত কাহিল।

বাসা থেকে রোজ ট্রেনে অফিস যেতে হয়। গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সব সময় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করি। এর মূল কারণ তিনটি। সিটিতে পার্কিং ঝামেলায় পড়তে হয় না, পেট্রল অপচয় হয় না এবং সব থেকে আসল কারণ ট্রেন, ট্রাম - বাস পরিবেশ বান্ধব। যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবার এগিয়ে আসতে হবে। আমি সামান্য মানুষ তারপরও যতটুকু সম্ভব নিজের গাড়ি ব্যবহার পরিমিত করে যদি কিছুটা অবদান রাখতে পারি তবে ক্ষতি কি?

মেলবোর্ণ শহর থেকে সাউথ ইয়ারা মাত্র আট মিনিট ট্রেন যাত্রা। সকাল ট্রেনে উঠে দেখি কিছু অল্প বয়সী কিছু ছেলে সাইকেল নিয়ে দরজার সামনে তুলে বসেছে। কাণ্ডজ্ঞান বোধ লোপ পেলে যা হয়। পিক আওয়ারে ট্রেনে গরমে একজন সাইকেল নিয়ে উঠে পাশের দশ জন যাত্রী অসুবিধা করল। Connex এর উচিত পিক আওয়ারে ট্রেনে সাইকেল উঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।



গত মাস খানেক ধরে দেখছি Connex আবার তার পুরোনো লক্কড় ছক্কড় বাতিল ট্রেনগুলো ঘষে মেজে আবার লাইনে চালাচ্ছে। গত সপ্তাহ সন্ধ্যায় প্যাকেনহাম লাইন ট্রেনে এয়ার কন্ডিশন চালু ছিল না। অথচ বাহিরে ৩৯ ডিগ্রী তাপমাত্রা। গরমে ঘেমে ট্রেনের ভেতর শ্বাস নিতে পারছিলাম না।

প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফুটি ফাইনাল এসব এলে ট্রেন-ট্রামে পা ফেলার কোন জায়গা থাকে না। মেলবোর্ণ এমন একটা শহর যেখানে সারা বছর কিছু না কিছু ইভেন্ট লেগেই থাকে। অসি রুলস ফুটবল, অস্ট্রেলিয়ান‌ ওপেন টেনিস, ফরমুলা ওয়ান, মেলবোর্ণ কাপ, গ্রান্ড প্রিক্স, এ লীগ ফুটবল, রাগবি, বক্সিং ডে টেষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রতিবার খেলার শুরুর আগে এবং পড়ে শহরের ট্রেন ট্রামে বিরাট এলাহি কাণ্ড হয়। মেলবোর্ণ কীভাবে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ২০২৪ সালের অলিম্পিক আয়োজক হবার স্বপ্ন দেখে? বিশ্বকাপ ফুটবল এবং অলিম্পিক আয়োজক হবার প্রধান শর্ত হচ্ছে উন্নত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। বেইজিং শহর অলিম্পিক আয়োজক হবার জন্য যাতায়াত ব্যবস্থাও আমূল পরিবর্তন করেছে।

অহেতুক টাকা কীভাবে নষ্ট করতে হয় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ Connex-Yarra Trams। গত বছর Connex সকল ট্রাম আর ট্রেন স্টেশনে সবুজ রঙ দিয়ে বোর্ড বানিয়েছে। অথচ কিছু দিন আগে আবার সব ট্রাম স্টপ এবং ট্রেন স্টেশনের নামের বোর্ড নীল রঙ করে লেখা হয়েছে।

একটি কার্যকরী টিকিট ব্যবস্থা থাকার পরেও বিলয়ন ডলার খরচ করে Myki চালু করার কি দরকার? বর্তমান প্রচলিত টিকিট ব্যবস্থা Metcard কি ক্ষতি করল?



আজকে বিকালে ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশনে এই ৪৩ ডিগ্রী তাপমাত্রাতেও আধা ঘণ্টার উপর বসে ছিলাম এর জন্য দায়ী কে? Connex নাকি জন ব্রাম্বি সরকার ? মেলবোর্ণ পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর শহর। এই তাহলে Most Livable City on Earth এর দশা।

প্রিমিয়ার জন ব্রাম্বি বিলয়ন বিলয়ন ডলার খরচ করে হলেও আমাদের উন্নত ট্রেন, ট্রাম, বাস সেবা দিন। সব পুড়ানো ট্রেন- ট্রামকে আস্তাকুড় নিক্ষেপ করে নতুন নতুন আধুনিক ট্রেন- ট্রাম দিতে হবে। আমাদের সাধারণ যাত্রী চাওয়া শুধু তিনটি। সঠিক সময়ে ট্রেন চলুক, উন্নত মানের আধুনিক ট্রেন ও ট্রাম সেবা এবং পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রেন ট্রাম সুবিধা। টিকিট বাবদ মাসে ১০৯ টাকা খরচ করি, শ্রমলব্ধ টাকা থেকে এত এত ট্যাক্স দিচ্ছি তারপরও কি খুব কি বেশি দাবি করে বসলাম?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28903702 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28903702 2009-01-28 23:35:06
বৃষ্টিস্নাত এই সব দিবারাত্রি ছুটির দিন, অলস দুপুর। বৃষ্টি দেখতে দেখতে গরম চা খাচ্ছি। খোলা জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি ছিটা এসে লাগে। ছিটাছিটি ফোঁটাগুলো আমার টেবিল, ল্যাপটপ, এলোমেলো বইপত্র ভিজিয়ে দিচ্ছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দেখলেই কেমন জানি আনমনা হয়ে যাই।

বৃষ্টি-বাদল দিনে আমাদের বাসা থেকে থেকে ইয়ারা নদী দেখতে খুব সুন্দর লাগে। ইয়ারা নদী সর্পিল ভাবে মেলবোর্ন শহরের উপর দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে বয়ে গিয়ে পোর্ট ফিলিপ সাগরে পরেছে।

এখন আইপডে একটা হালের হিন্দি গান শুনছি। “ রাব নে বানা দি জরি ” ছবির এই গানটা বেশ পছন্দ হয়েছে। হাম হে রাহি পেয়ার কে ,ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে

গত কয়েক দিন ধরে ভিক্টোরিয়া স্টেটে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এখানে হঠাৎ ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয় কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবার থেমে যায়। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার নামে। দূর! বৃষ্টি-বাদলেও আজকাল কেমন যেন ভেজাল, দুই নম্বরী। পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর বৃষ্টি হয় বাংলাদেশে। আহা! কি সুন্দর ঝুমঝুম বৃষ্টি।

এখানে লোকজন বৃষ্টি একদম পছন্দ করে না। লন্ড্রী রুমে আমাকে দেখে পাশের বাসার বুড়ি নাক সিট্‌কে বলল, “দেখছ? কি বাজে আবহাওয়া।” আমিও তার সাথে গলা মেলালাম। আহত গলায় বলি, “আসলেই খুব জঘন্য আবহাওয়া।” সীড়িতে স্বর্ণাকেশী স্টেসি বলল, “ উফ! বাহিরে কি বৃষ্টি, আজ ভেবেছিলাম ওকে নিয়ে একটু বাহিরে হাঁটব, তুমি কি দেখেছ বাড়িতে থাকতে থাকতে থাকতে বেচারী্র চর্বি জমে গেছে।” আমিও ওর পিচ্চি তুলতুলে সাদা কুকুরের দিকে তাকিয়ে বলি, “আহারে! আসলেই ত।”

কিন্তু আমার মনে আজ অনেক ফুর্তি। আহারে কি আনন্দ! কি সৌন্দর্য, বৃষ্টি হচ্ছে। আজ সব কিছু ভেসে যাক। বান ডাকুক ইয়ারা নদীতে...


গত রাতে মেলবোর্ণ সেন্ট্রালে প্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খানের নতুন ছবি এর প্রিমিয়ার শো দেখে বাসায় ফির ছিলাম। মাল্টিপ্লেক্স থেকে বের হয়েই দেখি প্রচণ্ড বৃষ্টি। স্টেট লাইব্রেরীর সামনে ট্রামে উঠবার পর মনে হল বৃষ্টি বোধ হয় একটু কমতি দিকে । বোটানিকাল গার্ডেন আসতে আসতেই দেখি আবার আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি পড়ছে। রাত দেড়টা বাজে। আসে পাশে কোন কফি শপও খোলা নেই যে বসে বসে গরম গরম সয় মিল্ক ক্যাপাচিনো বা কফি ল্যাটে পান করতে করতে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করব। আশে পাশে কোন ছাঊনিও খুঁজে পেলাম না। কি আর করা । জিন্স হাঁটু অবধি গুটিয়ে নিলাম। শার্ট খুলে কোমরে শক্ত করে বাধলাম। ধুমিয়ে একটা দৌড় দিলাম ।

ঝড়-বৃষ্টির রাতে রাস্তার মাঝখানে একজন জগিং করতে করতে যাচ্ছে এই ফাজলামী অনেক বেরসিক গাড়ি চালকের পছন্দ হল না। আবাসিক এলাকা তারপরও কয়েক জন হালকার উপর পাতলা হর্ন দিয়ে আমার পাগলামীর তীব্র প্রতিবাদ জানাল। একজন ট্যাক্সি চালক গতি কমিয়ে গ্লাস নামিয়ে বলল “ ইউ অলরাইট মাইট”। আমি বললাম, “ আই এম ওকে মাইট, তুই তোর রাস্তা মাপ”। ভাড়া পাবার আশা নেই দেখে সেও একটু হতাশ হয়ে তুরাগ রোডের দিকে টার্ন নিয়ে চলে গেল। ভিজে ভিজে জবজব হয়ে বাসায় আসলাম।


বৃষ্টিতে ভিজলে এখন আমার ঠাণ্ডা লাগে না। সর্দি কাশিও হয় না। শৈশবের একটা কথা বলি। আমি আর আমার দিদি তখন নন্দন কানন ফুলকি স্কুলে পড়তাম। হয়ত চতুর্থ শ্রেণি পড়ি। দুপুরে মায়ের ক্লাস থাকলে বাসায় নেবার জন্য বাবা স্কুলে আসত। কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণেই হোক বা অন্য কারণেই হোক সেই দিন কোন রিকশা পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা আবদার করলাম আজ বৃষ্টিতে ভিজব। বাবা প্রথমে রাজি না হলেও পারে আমার বোনের কান্না থামাতে রাজি হয়ে গেল। আনন্দের লাফাতে লাফাতে ছোট বোন বলল, “কি মজা, কি মজা, আজ বিষতিতে দোছল কলবো।”

ফুলকি স্কুল থেকে লাভ লেইন বেশি দূরে না। কাকভেজা হয়ে বাসায় এসেই আমি আর আমার বোন ঠান্ডায় কাঁপুনি দিচ্ছি। ঘন ঘন হাঁচি দিতে লাগলাম। বাবা বুঝল সে একটা ভালো রকম ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেছে।

টাওয়েল দিয়ে আমাদের মাথা মুছতে মুছতে বাবা বলল, “ মা, বেশি শীত করতাছে?”
ছোট বোন আস্তে আস্তে মাথা নেড়ে বলল, “ না”
“মা, বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ভিজতে ঠাণ্ডা লাগে না। বরং বৃষ্টিতে ভিজলে আল্লার কাছে কিছু চাইলে সেটা পাওয়া যায়।”
বোকা বোন প্রশ্ন করে,“কবে পাওয়া যায়?’
বাবা একটু চিন্তা করে বললেন, “ ঈদের আগের রাতে পাওয়া যায়।”
“ যা চাব তাই পাব।“
“ অবশ্যই”
ছোট বোন হাত তালি দিয়ে বলল, “পেঙ্গুইন খেলনা চাইলে সেটা পাব।”
বাবা বলল, “ অবশ্যই, পেঙ্গুইন খেলনাও পাওয়া যাবে।”

আমি আর আমার বোন কিছু দিন আগে বাবা মার সাথে একজন কাস্টম অফিসারের বাসায় গিয়ে ছিলাম। সেখানে আমাদের সম বয়সী তার মেয়ের একটা খেলনা আমার বোনের খুব পছন্দ হয়েছিল। আমার যতদূর মনে পড়ে খেলনাটি ছিল কিছু ছোট ছোট পেঙ্গুইন। ব্যাটারি চালিত সিঁড়ী দিয়ে একবার পেঙ্গুইন উপরে উঠত আবার নিচে নামত। সাথে এক ধরনের মিউজিক বাজত। নিউ মার্কেটে পরে খেলনাটা খুঁজে পাওয়া গিয়ে ছিল। সেই আমলে ৩০০ টাকা অনেক টাকা। একজন মধ্যবিত্ত সাংবাদিক পরিবারের এত দামী খেলনা কেনার সামর্থ্য ছিল না।

বৃষ্টি স্নান আমরা মায়ের কাছ থেকে সিক্রেট রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শত চেষ্টার পরো কীভাবে মা সিটি কলেজ থেকে আসতেই পাঁচ মিনিটে আমাদের সিক্রেট জেনে গেল। আসলে ভাগ্য আমাদের সাথে ছিল না। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ভিজতে ঠাণ্ডা লাগে না বাবার সেই থিসিস ভুল প্রমাণ করেই আমার বোনের জ্বর এল। । মা বাবাকে আচ্ছা মত বকা দিল। পরের কয়েক দিন বাবা বসার ঘরের সোফায় ঘুমিয়েছিল। ইস্‌! মা খালি বাবাকে বকত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28900526 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28900526 2009-01-21 19:39:35
আজকে শহীদ আসাদ দিবস
শহীদ আসাদ এর পুরো নাম আমানউল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ। ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলা তার জন্ম । ছাত্র নেতা আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাষ্টার্স করছিলেন। আসাদ ছাত্র রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এর ঢাকা হল শাখা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আসাদ ছিলেন ছাত্র নেতা রাশেদ খান মেনন এর ঘনিষ্ঠ সহচর।

পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি তাদের ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে। ১৯৬৯ এ এই আন্দোলন চরম রূপ নেয়। ১৭ ই জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি মীটিং করে। মীটিং থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১১ দফা দাবিতে ২০ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের সকল স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকবে এবং হরতাল ডাক দেয়। গভর্নর মোনায়েম খান ২০ জানুয়ারি ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পাকিস্তান পুলিস থেকে বলা হয় শহরের কোথাও চার জনের বেশি লোক একসাথে হলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। ২০ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ বিভিন্ন কলেজে সহ প্রায় ১০ হাজার ছাত্র ছাত্রী জড়ো হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১১ দফা দাবিতে শহরে মিছিল বের করে।

মিছিল মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে সামনে এসে পোছলে সেখানে পুলিসের বাধার সম্মুখীন হন। পুলিস এর সাথে সংঘর্ষ প্রায় এক ঘণ্টা পর আসাদ সহ কিছু ছাত্র মিছিল আবার সংঘটিত করে ঢাকা হলের পাশে দিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। তখন একজন পুলিস অফিসার তাকে বনেট দিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে দেন এবং তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করা হয়। পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেলের বর্তমান জরুরী বিভাগের সামনে আসাদ শহীদ হন।

ছাত্রনেতা আসাদের মৃতুর খবর সারা শহরে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার ছাত্র জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছুটে আসেন। অসংখ্য শোক মিছিল বের হয়। শহিদ আসাদ হত্যা প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশাল মিছিল বের হয়। ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষ , নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মিছিলে যোগ দেন। দুই মাইল লম্বা সেই মিছিল ছিল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ মিছিল। শোক মিছিল শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল দেখে শামসুর রাহমান “আসাদের শার্ট” অমর কবিতা লিখেন। হেলাল হাফিজ লিখেন কালজয়ি কবিতা“নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়”।

পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি শহীদ আসাদের হত্যার প্রতিবাদে তিন দিনের শোক পালন করে। ২৪ তারিখ হরতাল দেওয়া হয়। সেই দিন আবারও মিছিল লক্ষ্য করে পুলিস গুলি করে। পুরো পরিস্থিতি গভর্নর মোনায়েম খানের বাইরে চলে যায়। তুমুল গণ আন্দোলনে প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বিক্ষিপ্ত জনগণ বিভিন্ন স্থানে আয়ুব খানের নামের স্থাপনা ভেঙ্গে সেখানে শহীদ আসাদের নাম লাগিয়ে দেন। সংসদ ভবনের ডান পার্শ্বে অবস্থিত লালমাটিয়ায় একটি তোরণ আইয়ুব গেট থেকে নাম পরিবর্তন করে আসাদগেট রাখা হয়। আইয়ুব এভেনিউ এর নাম হয় আসাদ এভেনিউ।

আজ তার ৪০ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে শহীদ আসাদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি

শহীদ আসাদকে নিয়ে লেখা দুটি কবিতা

আসাদের শার্ট - শামসুর রাহমান

আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র জলোচ্ছি্বত প্রতিধ্বনিময় মাঠে
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো, কিংবা সুর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়।
বোন তার ভাইয়ের অম্লান শার্টে দিচেছ লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম, কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতা।
বর্ষিয়সী জননী, সে শার্ট উঠোনের রৌদ্রে
দিয়েছেন মেলে স্নেহের বিন্যেসে।
ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দূর শোভিত
মায়ের উঠোন ছেড়ে, এখন সে শার্ট,
শহরের প্রধান সড়কে সড়কে,
কারখানার চিমনির চুড়োয়,
গমগমে অযাভিনুর আনাচে কানাচে
উড়ছে, উড়ছে অবিরাম,
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।
আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা,
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।


নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় - হেলাল হাফিজ

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয় ।

সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার
শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে
কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।

যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।

১.২.৬৯


গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শহীদ আসাদ



ছাত্রনেতা আসাদের লাশ


আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল


নিউইয়র্ক টাইমসে আসাদকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ


ওয়াশিংটন পোস্টে আসাদকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ



ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অমি রহমান পিয়াল এবংএম. এম. আর. জালাল
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28899743 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28899743 2009-01-20 01:56:51
ধন্যবাদ আশরাফুল। আপনি প্রমান করলেন আপনি ক্রিকেট বিশ্বের সব থেকে জঘন্য অধিনায়ক।

ধন্যবাদ আশরাফুল। আপনি প্রমান করলেন আপনি ক্রিকেট বিশ্বের সব থেকে জঘন্য অধিনায়ক।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28898310 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28898310 2009-01-16 16:52:00
যায়যায়দিন পত্রিকায় এ কোন বাংলা? <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_26.gif" width="23" height="22" alt=":-*" style="border:0;" />

আজকাল অনলাইনে বাংলা সংবাদ জানতে হলে আমি শুধুমাত্র বিডিনিউজ আর প্রথম আলো এ উকি মারি। আজকে একটা ব্লগ সূত্র ধরে যায়যায়দিন পত্রিকা অনলাইন সাইটে গেলাম।

যায়যায়দিন পত্রিকার সাইটের বাম দিকের কলাম দেখে চমকে উঠেছি। বাংলা ভাষার এই কি দুর্দশা। আমাদের প্রিয় ভাষা কি এতই দৈন্য যে এভাবে ইংরেজী শব্দকোষ বাংলা অক্ষর লেখা হয়েছে। আমি বার বছর দেশের বাহিরে। নাকি বাংলাদেশের আজকাল এভাবেই স্টাইল করে বাংলা লেখা হয়।

কভার স্টোরি , মার্কেট প্রাইস, সেল ম্যানিয়া, বিজ ইনফো, ওয়ার্ল্ড ইকনমি , অটোমোবাইল বিজনেস আরো নানা কিছু যায়যায়দিন পত্রিকার সাইটে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ এই সব ইংরেজি প্রতিটা শব্দের চমৎকার বাংলা আছে। যায়যায়দিন পত্রিকার একটি বাংলা ভাষার জাতীয় দৈনিক হবার পরো এই ধরনের ধৃষ্টতা নিন্দা জানাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28895654 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28895654 2009-01-10 21:05:03
জামায়াতে ইসলামী এর ইতিহাস ফিরে দেখি জামায়াতে ইসলামী এর ইতিহাস ও জন্মকথা

পাকিস্তানের লাহোর শহরে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট তারিখ জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিষ্ঠা। জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী।

উপমহাদেশ প্রায় দুই শত বছর ব্রিটিশদের কাছে পরাধীন থাকবার পর ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত স্বাধীনতা পায়। ১৯৪৭ এর আগে মুসলমান অধ্যুষিত এলাকার প্রায় সবাই (৯০ ভাগ বাঙালী সহ) দেশ বিভাগ এবং মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টি পক্ষে ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ছিল পাকিস্তান তত্ত্বের ঘোর বিরোধী। জন্মের শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামী চলেছে উল্টো স্রোতে। মাওলানা মওদুদী এমন একজন ইসলামী দলের রাজনৈতিক প্রধান যিনি সর্বপ্রথম বলেছিলেন মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের কোন প্রয়োজন নাই। (১)

১৯৪৭ সালে পাকিস্থান জন্মের পর জামায়াতে ইসলামী

পাকিস্তান জন্মের অল্প সময় পরেই জামায়াত হয়ে গেল চরম পাকিস্তান প্রেমিক। যেন গিরগিটী রঙ বদলানোর আরো একটি উদাহরণ। মাওলানা মওদুদী তার পার্টি জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করার জন্য ধর্মের নামে একাধিক দাঙ্গা লাগিয়েছেন । তার নির্দেশ এবং মদদে পাকিস্তানে হাজার হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে।

১৯৫৩ সালে মাওলানা মওদুদী তার বই “Qadiani Problem” তে আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করেন। তিনি পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকারকে আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমু্সলিম ঘোষণা করার জন্য চাপ দেন। মাওলানা মওদুদী সারা পশ্চিম পাকিস্তানে সুন্নি মুসলিম এবং আহমেদিয়া এর মাঝে রক্তাক্ত দাঙ্গা বাধিয়ে দেন। দুই হাজার আহমেদিয়া মারা যায় শুধু মাত্র পাঞ্জাব প্রদেশে। সারা দেশে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড জন্য তাকে পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্ট মৃত্যুদন্ড দেয়। কিন্তু পরে সেটা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং দুই বছর পড়ে তাকে ১৯৫৫ সালে জেল থেকে মুক্ত করা হয়। এত বড় গনহত্যার বীচ বপনকারী এবং উস্কানি দেওয়ার পড়ো এভাবে কোন শাস্তি না পেয়ে ছাড়া পেয়ে যাওয়া পৃথিবীর ইতিহাসের এক নজীর বিহীন ঘটনা। (২)

১৯৭০ -র সাধারণ পরিষদ নির্বাচন

পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ০৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। কট্টর মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামী এর জন্য ছিল এটা একটা বিরাট পরীক্ষা। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এর চরম ভরাডুবি হয়। সারা পাকিস্তানে মোট ভোটের মাত্র ৪% পায়। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে জামাত পাঞ্জাব প্রদেশে একটি, সিন্দ প্রদেশে দুটি, পেশাওয়ারে একটি আসন পায় সহ পায় মাত্র ৪টি আসন পায় ।

অপর দিকে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে পায় ১৬৭টি আসন। । জামায়াতে ইসলামী সারা পাকিস্তানের মোট ভোটারের ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ৭৫% জনগণ আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিল। মাত্র ৬% জনগণ জামায়াতে ইসলামী কে ভোট দিয়েছিল। (৩)

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে দেবার পাঁয়তারা করল। বঙ্গবন্ধু সাত ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাংলার মানুষের সামনে গর্জে উঠলেন ‘ এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ’। সারা বাংলার ৭ কোটি মানুষ মুক্তি আন্দোলন ঝাঁপিয়ে পরল।

একজন মানুষ এই বাংলাকে কি পরিমাণ ভালবাসে নিজের পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যুদন্ড জেনেও বাংলার কোটি কোটি জনগনকে মুক্তি উল্লাসে জাগিয়ে দিলেন । মাত্র ১১ মিনিট একটা বক্তৃতা মনে হই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা। পাকিস্তানি হানাদাররা ২৫শে মার্চ গনহত্যা করল ঢাকা শহর আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। পরের দিন চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু অনুপুস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করল।


১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী এর ভুমিকা

মার্চ মাস থেকে শুরু হল জামায়াতে ইসলামী আসল খেলা। তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী ( কুখ্যাত সাকা চৌধুরীর পিতা) পাকিস্তানী হানাদারদের সাহায্য করার জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন শান্তি বাহিনী। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এর তাতে মন ভরল না। তারা চায় মানব ইতিহাসের সব থেকে বড় গন হত্যা । জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ প্রভৃতি বাহিনী গড়ে তোলেন। এরা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে কাজ করে।

বর্তমান জামাতের অনেক শীর্ষ নেতা ছিল রাজাকার। ৩০ জুন লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম আযম বলেন, "তাঁর দল পূর্ব পাকিস্তানে দুস্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) তৎপরতা দমন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এবং এ কারনেই দুস্কৃতকারীদের হাতে বহু জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে”। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি দলিলে সন্নিবেশিত তথ্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সব রকমের সহযোগিতা করতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দলীয় নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন নিজামী। তাদের দালালি তথ্য প্রমাণ সেই সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এসেছে। এই নিজামী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হবার পর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে ভারতীয় হানাদার এবং ভারতীয় এজেন্ট বলে আখ্যায়িত করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সব রাজাকার সেই সময় কোন না কোন সুবিধা নিয়েছে। তাদের ছিল সবুজ চাঁন তারা। মুখে পাকসারজমিনবাদ। রাজাকার- আল বদরদের মূল কাজ ছিল বের করা এলাকার কোন কোন বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে, কার টাকা পয়সা আছে, এলাকার কোন কোন বাড়িতে হিন্দু থাকে, কোন বাড়ির ছেলে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে, তালিকা করা আর পাকিস্তানী সেনাদের খবর দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধে তীব্র হলে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী এই সব রাজাকারদের বাঙ্গালী নিধন জন্য দিয়েছে থ্রি নট থ্রি রাইফেল। লুঙ্গি উপর খাঁকি ইউনিফর্ম পরে তারা পাকি হানাদারদের জন্য সব ধরনের সহায়তা করত।

এরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের মা বোনকে ধরে পাকিস্থানী ভোগের জন্য ব্যাঙ্কারে নিয়ে আসত। পাকি সেনারা ফুর্তি করত, তারা বাইরে পাহারা দেয়- আর অপেক্ষায় থাকে যদি তাদের একটু ঝুটা জুটে। হাজার হোক মালে গনিমত! শত্রু সম্পত্তি নাকি ইসলামে জায়েজ আছে! লাখ লাখ বাঙ্গালী বীরাঙ্গনা তাদের দালালিতে সম্ভ্রম হারিয়েছেন। লাখ খানেক যুদ্ধশিশুকে মুক্তিযুদ্ধের পর বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেকেই ফিরে এখন মাকে খোঁজে। কিন্তু কে স্বীকার করবে সেই অপমান! (৪)(৫)

স্বাধীন বাংলাদেশ

৩০ লাখ মুক্তিসেনার রক্তে ১০ লাখ বীরাঙ্গনা চোখের জলে প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় সহায়তায় অবশেষে আমরা পেলাম বাংলাদেশ। ১০ ই জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ফিরে এলেন। আমাদের পূর্ব পুরুষদের চোখে তখন কত স্বপ্ন। মুক্ত বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের নিজের একটা দেশ। ৩০ নভেম্বর ৭৩ সালে কুখ্যাত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা আগে মাত্র একজন রাজাকারে ফাঁসি হয়।

একাত্তরের পর জামাতদের গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী সহ অনেক নেতা এর পর প্রাণ ভয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। (৪)


স্বাধীন বাংলাদেশে জামাতের জন্ম

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন এনে ছাড়পত্র দিলেন আইডিএফকে। ইসলামীক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের ব্যানারে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতা বিরোধিতারা একে একে আত্মপ্রকাশ করল। গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী, আব্বাস আলী খান মিলে প্রতিষ্ঠা করল বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী।

স্বাধীনতার পর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়া ক্ষমতা মোহে পড়ে কত পরিবর্তন হয়ে গেলেন। যেই খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে পাক বাহিনী হেফাজতে ছিলেন বলে তাকে ঘরে তুলতে জোর আপত্তি ছিল মেজর জিয়ার। জিয়াউর রহমান একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তারপর তার গোঁড়ামি জন্য একজন বীরাঙ্গনাকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজের মেয়ে বলে চাপ দিয়ে জিয়ার মত বদলান। অথচ সেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াই জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করলেন।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী জামাতকে মেনে নিতে পারে নাই। গোলাম আজম নামাজ পড়তে গেলে বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের জুতাপেটা খান, মতিউর রহমান নিজামীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুতাপেটা খান, জাহাঙ্গিরনগরে থু থু খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রসংঘ (পরবর্তীতে ছাত্র শিবির) কর্মী পেলে অপরাজেয় বাংলার সামনে কানে ধরে উঠবস করতে বাধ্য করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বছর প্রকাশ্য মিছিল করতে পারে নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাতের ক্রমবিকাশ

আমাদের দেশে চরম ডান জামাতে ইসলামী বা চরম বাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা তাদের সমমনা দলগুলোর মধ্যে একটা দারুণ মিল আছে। চরম বাম আর ডান দলগুলো খুবই সুশৃঙ্খল এবং সংগঠিত হয়, সেই সঙ্গে আদর্শের ব্যাপারে আপোষহীন। এরা একটা নির্দিষ্ট আদর্শে বিশ্বাস করে থাকে সে থেকে এরা এক চুলও নড়ে না। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বা জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো নেতারা যেমন সুবিধা পাবার জন্য নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে অবলীলা ফুলের মালা নিয়ে অন্য দলে যোগ দিতে পারে। জামাত থেকে তা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি একবার জামাতে ইসলামী নেতা বনে যায় সে তার বাকি জীবন জামাতের নেতা হয়েই থাকবে। এ কারণেই তাদের কর্মী, সমর্থক একেবারে অঙ্কের মতো হিসেব করা- এক চুলও এদিক ওদিক হয় না।

বাংলাদেশে প্রথম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতে ইসলামী এর দিন দিন ক্রমবৃদ্ধি রীতিমত আশঙ্কাজনক। ১৯৮৬ সালে জামাতে ইসলামী একটি ছোট দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু তারপরও জামাত ৮৬ সালে ১০টি আসন পেয়ে সবাইকে চমকে দেয়। ৯১ সালের নির্বাচনে জামাতে ইসলামী পায় ১৮টি আসন।

নব্বই দশকের মাঝা মাঝি পর্যন্ত জামাতে ইসলামী আমির গোলাম আযম ছিল পাকিস্তানের নাগরিক। তারপরো গোলাম আযম স্বাধীন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতীক দল জামাতে ইসলামী এর কর্নধার ছিলেন। ভিন দেশী পাসপোর্ট নিয়ে অন্য আরেকটি দেশের রাজনৈতীক দলের প্রধান। জামাত বিশ্বের অনন্য নজ়ীর স্থাপন করেছেন।

জনতার আদালত এবং গোলাম আজম

খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনি জামাতের অসত রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও তোষামোদকারীদের দু হাত তুলে সাহায্য করলেন। গোলাম আজম এর নাগরিকতা দিলেন ১৯৯৪ সালে। যখন সারা দেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে উনি পুলিস বাহিনী দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের লাঠি চার্য করালেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জনতার মঞ্চ থেকে প্রথম বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের কথা বললেন। খালেদা জিয়া তার সকল শক্তি দিয়ে জামাতের পাসে এসে দাঁড়ালেন। সাধারণ মানুষ যেন জনতার মঞ্চে যেতে না পারে তাই পথে পথে বাধা দিলেন। সেই সময় বাংলাদেশে এত টিভি চ্যানেল ছিল না। ছিল মাত্র বিটিভি। সেখানে উত্তম সুচিত্রা অভিনীত ‘পথে হল দেরি’ বাংলা ছবি দেখালেন । কিন্তু পথে দেরি হয় নি। লাখ লাখ মানুষ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার আদালতে গোলাম আজম এর ফাঁসী রায় দিয়ে ছিল।

ইসলামী ছাত্র শিবিরের কুকর্ম

জামাতের ছাত্র সংগঠন হচ্ছে ইসলামী ছাত্র শিবির। জামাত ছাত্র শিবির ইসলামের দোহাই দিয়ে আর মুখোশ পড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের ক্যাডারদের ঢোকাচ্ছে তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় । এখানে শিবিরের সন্ত্রাসের চিত্র পত্রিকা খুললেই দেখা যাবে।

তার পাশাপাশি পরিকল্পিত ভাবে এখানে জামাত শিবিরের ক্যাডারের শিক্ষকরা স্থান করে নিচ্ছে। ছাত্র শিবির অত্যাচারে ছাত্রদলও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল করে। ছাত্র শিবির আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে আমাদের ক্যাম্পাস রগকাটার নানা রকম টেকনিক বের করছে। তাদের রগ কাটার অনেকগুলো লোমহর্ষ ঘটনা আমরা জানি । শিবির আমাদের চট্রগ্রাম চট্রগ্রাম কলেজ আর হাজি মোহাম্মদ মহসিন কলেজ দখল করে রেখেছে। সিটি কলেজ আর কমার্স কলেজ দখল করার পায়তারা চলছে ।


চার-দলীয় ঐক্য জোট গঠন

জামায়াতে ইসলামী হলো সুযোগ সন্ধানী। তারা সুযোগের ব্যবহার করবে এটা স্বাভাবিক একটি ঘটনা। জামায়াতে ইসলামী তাই ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্য জোট মিলিত হয়ে চার-দলীয় ঐক্য জোট গঠন করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি- জামাত জ়োট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে নির্বাচিত হয়। ১৯৯৬ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মাত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করলেও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন লাভ করে। বাংলাদেশ সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে তাদের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি দেশ হবার মাত্র এক দশক যেতে না যেতে দেশের শাসন ভার গ্রহণ করে।

চার দলের সরকারে জামায়াতে ইসলামী আমির মতিউর রহমান নিজামী পায় শিল্পমন্ত্রী , আলি আহসান মুজাহিদ পান সমাজকল্যান মন্ত্রী। এই দুই মন্ত্রী সরকারী গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে চলত। বুকের রক্ত দিয়ে অর্জন করা লাল সবুজ পতাকার কি অপমান । এই পতাকা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতেও তাদের হাত এতটুকু কাঁপবে না।

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ সৃষ্টিতে জামাতের ভূমিকা

বাংলাদেশে ইসলামের নামে প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদের সুরু ২০০৩ সাল থেকে। জামায়াতে ইসলামী ছাএ সংগঠন তৈরি করছে ভবিষ্যত জেহাদী। সারাদেশে এক যোগে বোমা হামলা চালিয়ে শোর ফেলে দেওয়া তথাকথিত ইসলামপন্থী দলগুলো যেমন জেএমবি নিঃসন্দেহে এ তালিকায় ওপরে। কিন্তু বেশ কজন জঙ্গী ধরা পড়ার পর 'আগে শিবির বা জামাত করতাম' জাতীয় স্বীকারোক্তি দেওয়ায় এটা মোটামুটি পরিষ্কার জামাত-শিবির তাদের ক্যাডার বাহিনী আর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত করেছে।

সিলেটের মাজারে কারা বোমা মারছে? আমাদের দেশে কারা মাজার দেখতে পারে না ? রমনার বটমুলে কারা বোমা মারছে? কারা আমাদের বাংলা নববর্ষ পালন করার সাংষ্কতি পছন্দ করে না? উদীচী কারা দেখতে পারে না? শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে করে কারা বোমা মেরেছে? আইভি রহমান, শাহ এস এম কিবরিয়া, আহসানুল্লাহ মাস্টারদের কে হত্যা করছে? বাংলাদেশে কারা আওয়ামী লীগকে দেখতে পারে না? এর প্রতিটা উত্তর নিজের বিবেকের কাছে করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়।

জামায়াতে ইসলামী চার দলের ঘাড়ে চড়ে ধর্মের নামে সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে মস্তিস্কবিহীন জলহস্তীদের উপলদ্ধি করার সময় হয়তো এখনও হয়নি।


২৮শে অক্টোবর সেই দিন

২৮ ই অক্টোবর ২০০৬ হল মুক্তাঙ্গনে জামাত আর ১৪ দলের মধ্য কি হয়েছে এটা ত আমরা সবাই জানি। অনেক আগে ১৪ দলের ডাকা সমাবেশের একই দিনে, একই সময়ে,একই পল্টন ময়দানে জামাত কেন সমাবেশ দিল? সেদিন সকালে তারা রাস্তার মোড়ে, মোড়ে অস্ত্র, বন্দুক নিয়ে কেন অবস্থান নিল? কীভাবে বন্দুক নিয়ে গুলি করা হল। শিবির নেতার সেই চিৎকার করে বলা ‘বন্ধুরা তোমরা বৃষ্টির মত গুলি বষর্ন কর, তোমরা মরলে শহিদ বাঁচলে গাজী “। জামাত সেদিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দখল করে সেখান থেকে নিরীহ মানুষদের গুলি করে হত্যা করেছে। সাধারণ মুসুল্লিদের নামাজ পরতে দেয় নাই। ইমামকে আজান দিতে দেয় নাই। এদের আসল কাজ হল কীভাবে ইসলামকে ছোট করা যায়। এরাই তারা যারা একাত্তুরে মসজিদে ঢুকে পবিএ কোরান শরিফ পরা অবস্থায় মুসল্লিদের গুলি করে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।

জামায়াতে ইসলামী এর স্পর্ধা

জামাতিদের এত বড় সাহস যে তারা কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক , শাহবিয়ার কবির বা মহাম্মদ জাফর ইকবালদের মত মানুষদের মুরতাদ ঘোষণা করেন। ওদের বিরুদ্ধে কিছু বললে মুরতাদ আর তাদের সাপোর্ট করলে সাচ্চা মুসলমান।

আজ ৩৭ বছর পরেও জামায়াতে ইসলামী কখনো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং গনহত্যা করার জন্য ক্ষমা চায় নি। ২৫ অক্টোবর ২০০৭ জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ সাংবাদিকদের বলেন “বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই, এটা কল্পনা প্রসূত, বানোয়াট, উদ্ভট চিন্তা”

আসন্ন ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামাত

বিশ্বের প্রথম ভাষাভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্রব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ করলেও আজ ধর্মভিত্তিক অপশক্তির কাছে হার মেনেছে এর থেকে দুঃখকর অপমান আর কি আছে?

আসন্ন নির্বাচনের জামায়াতে ইসলামী দেশের ৪০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। এরা হলেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী (পাবনা-১), সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (ফরিদপুর-৩), মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (শেরপুর-১), এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), মাওলানা মোহাম্মদ সুবহান (পাবনা-৫), মীর কাসেম আলী (ঢাকা ৮), দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (পিরোজপুর-১), আবু সালেহ মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মিয়া (গাইবান্ধা-১), মোহাম্মদ আবদুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), এম রিয়াসত আলী বিশ্বাস (সাতক্ষীরা-৩), শাহ্ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস (খুলনা-৬), মাওলানা আবদুল হাকিম। (ঠাকুরগাঁও-২), মাওলানা হাবিবুর রহমান (চুয়াডাঙ্গা-২), ফরিদউদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫), হাবীবুর রহমান (সিলেট-৬) এবং এনামুল হক মঞ্জু (কক্সবাজার-১)। এরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত। (৬)

আসুন এই মহান বিজয় মাসে আমরা আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিহত করি। দেশের যে কয়টি আসনে তারা নির্বাচনে লড়ছে সেখানেই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার জন্য যে যার অবস্থান থেকে কাজ করি। যেখানেই জামাত সেখানেই লড়াই।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই
যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী একই সাথে আমার মায়ের খুনী এবং হত্যাকারী। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা আমার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে স্বাধীন দেশটার সাথে বেঈমানী করার মতো। আমরা এই প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।

জামাতের কাছে জানতে চাই ইসলামে কোথায় হত্যা, ধর্ষণ উৎসাহিত করা হয়েছে। সেরা ধর্মে জন্ম নিয়ে জামাতীরা ইসলামকে বদনাম করল। আল্লাহ সারা দুনিয়া শ্রেষ্ঠ প্রাণী করে আমাদের পাঠাল কিন্তু জামাতিরা সেই জীব মানুষ না পশু আমার জানতে ইচ্ছা করে।

ক্ষমা করে মানুষ নাকি মহানুভব হয়। ওদের অনেকের নাকি এদেশী জন্ম । ভুল ত মানুষই করে। আমি এই সব সস্তা কথা আমি মানি না। ক্ষমা মহান গুন হতে পারে, কিন্তু সবাইকে এবং সব অপরাধী ক্ষমা করা যায় না।

যে আমার সাথে বেইমানি করে তাকে আমি হয়ত দুই দিন পরে মাপ করে দিতে পারব কিন্তু যে আমার আমার দেশের সাথে বেইমানি করে করে , যে আমার মায়ের সম্ভ্রমহানি করে, যে আমার ভায়ের রক্তে তার দুই হাত রঙ্গিন করে , যে আমার বোনের শাড়ি ধরে টান দেয়, তাদের কোন মাপ নাই। এই দুনিয়ার মানুষেরা তাদের ক্ষমা করে দিলেও আল্লাহ তাদের কোন দিন যেন ক্ষমা না করেন।


তথ্যসূত্র
(১) ঊকিপেডিয়া Click This Link
(২) ঊকিপেডিয়া http://en.wikipedia.org/wiki/Jamaat-e-Islami
(৩) Click This Link
(৪)অমি রহমান পিয়াল এর ব্লগ Click This Link
(৫) http://www.genocidebangladesh.org/
(৬)দৈনিক প্রথম আলো ডিসেম্বর ০৬, ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28887577 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28887577 2008-12-25 02:05:24
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

দুঃসহ এ বেদনার কণ্টক পথ বেয়ে
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
পদ্মা-মেঘনার কলতানে
বাউলের একতারাতে
আনন্দ ঝংকারে
তোমাদের নাম ঝংকৃত হবে।

নতুন স্বদেশ গড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে।
আমরা তোমাদের ভুলব না।

বাংলা ভাষায় লিখিত সর্বশেষ্ঠ এই গানটি লিখেছেন শ্রদ্ধেয় গোবিন্দ হালদার। তিনি ভারতের আকাশবানী বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে সম্প্রচারিত তার লেখা গানসমূহ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, লেফট রাইট লেফট রাইট, হুশিয়ার হুশিয়ার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চলো বীর সৈনিক, হুশিয়ার, হুশিয়ার বাংলার মাটি অন্যতম।

আয়কর বিভাগে কর্মরত অবস্থায় বন্ধু কামাল আহমেদের অনুপ্রেরণায় এবং উৎসাহে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর গান রচনা করেন। কামাল আহমেদ তাকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্ণধার কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার হাতে ১৫টি গানের একটি খাতা দেন। এ গান গুলোর মধ্যে স্বাধীন বেতারে প্রথম প্রচারিত হয় সমর দাসের সুরারোপিত পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে গানটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তার আরও কিছু গান স্বাধীন বেতারে সম্প্রচারিত হয়।

পাক বাহিনী আত্মসমর্থনের খবর পাওয়ার পর পর ই সন্ধায় ১৬ ই ডিসেম্বর প্রচারিত হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানটি যা সুর দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ এবং মূল কণ্ঠ দিয়েছিলেন স্বপ্না রায় আরও কণ্ঠ দিয়েছিলেন আপেল মাহমুদ এবং সহশিল্পীরা।

কামাল আহমেদের লেখা গোবিন্দ হালদারঃ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানের অমর স্রষ্টা পড়তে পারেন। এই গানটির অনেক আজানা ইতিহাস জানতে পারবেন।

ক্লোজআপ তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ ২০০৮ এ লিজার গাওয়া এই গানটির ইউটিউব ভিডিওটা দেখতে পারেন।

স্বপ্না রায় এর কোরাসে গাওয়া গানটি এখানে শুনতে পারেন।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ফ্লিকার থেকে নেওয়া।
তথ্য সুত্রঃ উকিপেডিয়া]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28883090 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28883090 2008-12-16 06:13:23
কেমন হয়েছে বলুন?<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> ব্লগ সাইট চালাই। আসলে আজকাল সবার নিজের আলাদা সাইট আছে। আমিই বা পিছিয়ে থাকব কেন?<img src=" style="border:0;" />

এই ব্লগার সাইটটি বানিয়ে ছিলাম ২০০৪ সালে। আজ অনেক দিন পর রাত জেগে কিছু আপডেট করলাম।

আপনাদের যাদের ব্লগার বা ওয়ার্ড প্রেসে আছে বা সাইট নিয়ে কাজ করেন..আপনাদের মতামত দেবার অনুরোধ রাখছি। কোন উপদেশ থাকলেও নিঃশঙ্ক হয়ে দিতে পারেন।

কেউ ব্লগার ডট কমে সাইট খুলতে চাইলে বা কোন প্রশ্ন থাকলেও করতে পারেন। আমি যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করব।

সাইটির লিঙ্ক http://www.irtejaali.com/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28882057 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28882057 2008-12-14 01:27:11
সেই দুইজন যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন অনুমোদন করে নি আওয়ামী লীগ।
ভালো খবর হল, মহাজোটের চূড়ান্ত তালিকা থেকে জাপার স্বাধীনতাবিরোধী সেই দুই নেতার মনোনয়ন অনুমোদন করেনি আ.লীগ। আওয়ামী লীগ গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টিকে চুড়ান্ত যে প্রার্থী তালিকা দিয়েছে, তাতে পিরোজপুর-৩ ও যশোর-৬ আসন নেই।

যশোর-৬ আসনে মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং পিরোজপুর-৩ আসনে আবদুল জব্বারের নাম বাদ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির (জাপা) এ দুই নেতা নিজ নিজ এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের মনোনয়ন বদলের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধারা নানা কর্মসুচিও পালন করেছেন।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জাতীয় পার্টির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন মহাজোটের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখানে উল্লেখ্য, সাখাওয়াত হোসেন একজন কুখ্যাত রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাখাওয়াত হোসেন কেশবপুরের মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন, লুট করেছেন।

একইভাবে পিরোজপুর-৩ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির মো. আবদুল জব্বার। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মঠবাড়িয়ায় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পরপর জব্বার এলাকা থেকে পালিয়ে যান। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলাও দায়ের করা হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28881303 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28881303 2008-12-12 03:15:17
ইশপের গল্প , অথবা সে রকম কিছু একটা
প্রায় দুই বছর ধরে এই ভাবেই বাহক প্রতিদিন তার বাসায় দেড় কলসী জল আনে। এই নিয়ে নিখুঁত কলসী খুব গর্ব। সে ভাঙ্গা কলসী দিকে ব্যঙ্গ করে বলে, “ দেখ আমাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আমি তা যথাযথ পালন করতে পেরেছি। আমার জন্ম সার্থক।”

অন্য দিকে অসহায় ফাটল ধরা কলসী ভাবে তার জন্ম যে উদ্দেশে নিয়ে হয়েছিল আমি তার অর্ধেক কাজ করতে পেরেছি। দুর্ভাগা কলসী দুই বছর ধরে প্রতিদিন নিজের ত্রুটিবিচ্যুতি জন্য ভাগ্যকে দোষারোপ করল।

একদিন সে তার মালিকের সাথে কথা বলল, “আমি নিজেকে নিয়ে খুব লজ্জিত। আমার কলসী মাঝখান একটা ছোট ছিদ্র আছে। সেখান থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। বাসায় আসার আগেই আমি অর্ধেক খালি হয়ে যাচ্ছি । আমি তোমার কাছে ক্ষমাকারী।”


মালিক তখন বলল, “ তুমি কি খেয়াল কর নি, রাস্তার এক পাশে ফুল গাছের সারি , আর অন্য পাশে কোন ফুল গাছ নেই। ফুল গাছ শুধু মাত্র রাস্তার সেই পাশে যেখান দিয়ে রোজ তুমি আস। এর কারণ আমি সব সময় তোমার ফাটলের কথা জানতাম। তাই আমি যে দিকে তোমার বহন করি সেই দিকের পুরো রাস্তায় ফুলের বীচি বপন করেছি। আমরা প্রতিদিন যখন বাসায় আসি তুমি ফুল গাছগুলোকে পানি দাও। গত দুই বছরে আমি এই ফুল দিয়ে আমার টেবিল সাজিয়েছি। তুমি এখন যা আছ, যেভাবে আছ, এই আমার পছন্দ । তোমার এই অসম্পূর্ণতা না থাকলে আমার বাসা, আমার পরিবার এই সৌন্দর্য থেকে বাঞ্ছিত হত। ”

ঠিক একই ভাবে আমরা সবার একে অপরের থেকে ভিন্ন। কাউকে হয়ত আমাদের সফল বা কাউকে ব্যর্থ মনে হতে পারে। প্রতিটা মানুষ যে যেভাবে তাকে কি সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়? প্রতিটা মানুষের মাঝেই যেমন খারাপ দিক আছে তেমনি অনেক ভালো দিকও আছে। এই ভালো- মন্দ , সুখ-কষ্ট, প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি এই সব কিছু মিলে মিশে কিন্তু আমাদের জীবনকে সুন্দর এবং উপভোগ্য করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28878386 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28878386 2008-12-04 23:35:37
চমৎকার একটি সাইট টুইটার ডটকম টুইটার নিয়ে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আর দশজনের মতোই। পুরো কনসেপ্ট হাস্যকর আর ফালতু ভেবে প্রথমেই টুইটার বাতিল করে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের হাজার হাজার ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী মত আমিও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছি। টুইটার এখন আমার সবচেয়ে প্রিয় সাইটের মাঝে একটি।

টুইটার কি?
টুইটার একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। সারা পৃথিবী ছড়িয়ে থাকা আপনার বন্ধু এবং আগন্তুকদের নিয়ে একটা কমিউনিটি যেখানে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ছোট ছোট এক বা দুই লাইনের আপডেট দেয়। আপডেটগুলো ১৪০ শব্দ বা তার কম হয় তাই এটাকে মাইক্রোব্লগিং সাইটও বলা যায়।

টুইটার কিভাবে কাজ করে?
“তুমি কি করছ?” এই সহজ প্রশ্নটি টুইটার করে। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনের কখন কি করেন বা করবেন সেটা এখানে লিখবেন। অত্যন্ত সহজ করে ১৪০ শব্দের মাঝে। আপনাকে যারা ফলো বা অনুসরণ করবে তারা তাদের পেইজে আপনার আপডেট দেখতে পাবে। একই ভাবে আপনি চাইলে কাউকে ফলো করে তার আপডেট আপনার পাতায় দেখতে পারেন।

টুইটার নিয়ে উদাহরণ
নিজের পেইজ থেকেই একটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে হয়ত অনেকের কাছে পরিষ্কার হবে। আজ কিছুক্ষণ আগে আমি টুইটারে আপডেট করেছি আমি আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে নতুন টপিক লিখছি। সাথে সাথে আরো জানলাম রাসেল ভাই আজ সকালে চারুকলা একাডেমিতে ছবি প্রদর্শনী দেখতে যাচ্ছেন, হাসিন ভাই উবুন্টু রিজিল পার্টি আয়োজন করছেন, অমি আজাদ বাংলাদেশের কম্পিউটার মার্কেট নিয়ে নতুন ব্লগ লিখেছে এবং মৈথুনানন্দদা ঘুম থেকে উঠে গরম গরম কফি পান করছেন।

আমি কীভাবে শুরু করব?
টুইটার সাইটে গিয়ে প্রথমে সাইনআপ করতে হয়। এবং সেটা অবশ্যই ফ্রি। নিজের ইয়াহু , জিমেইল বা এমএসএন আইডিতে লগইন করে আপনার টুইটারে নিবন্ধিত বন্ধু খুঁজে নিতে পারেন। আবার নাম বা কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন। বারাক ওবামা থেকে শুরু করে সিএনএন ব্রেকিং নিউজ, লিনাক্স, ফায়ারফক্স সব কিছুই খুঁজে পাবেন। এরপর আপনি যাদের আপডেট জানতে আগ্রহী তাদের ফলো করবেন। পরে চাইলে যে কোন সময় ফলো করা বন্ধ করে দিতে পারেন। খুবই সহজ। চাইলে টুইটারে আমাকে ফলো করতে যাত্রা শুরু করতে পারেন ।


যা ভালো লেগেছে
১। মূল সাইটে লগইন না হয়ে মোবাইলে ফেসবুকে এমনকি ডেস্টটপ উডজেট দিয়ে আপডেট করা হয়।

২। মোবাইলে আপডেট সাবক্রাইব করতে পাবেন। ভয় পাবার কিছু নেই। মোবাইলে কোন বাড়তি বিল দিতে হয় না।

৩। আপডেটে কোন এইচটিএমএল গ্রহণ করে না। শুধু মাত্র ইংরেজী- বাংলা টেক্স দিয়ে আপডেট হয়। তাই পেইজ অনেক ফাস্ট খুলে।

৪। নিজের ব্লগের হিট এবং মন্তব্য বাড়ানো একটা ভালো পন্থা।

৫। ফেসবুক, মাইস্পেস বা অন্যান সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে টুইটার এপ্লিকেশন আছে। ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেসে যারা ব্লগ লিখেন তারা টুইটার কোড কপি করে সাইটে নিজের আপডেট দেখাতে পারেন।

এই ইউটিউব ভিডিওটা দেখতে পারেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28806376 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28806376 2008-06-05 07:54:09
আজ তুমি আসবে বলে টলটলে নীল আকাশটা ভরে গেছে সাদা মেঘে।
আজ তুমি আসবে বলে,
আগুন লেগেছে প্রিয় চট্টলার সবকটা কৃষ্ণচুড়ায়।

আজ তুমি আসবে বলে,
অসহ্য লাগছে না লোড-শেডিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
মন্দ লাগছে না বন্দর নগরীর গা চিটচিটে অতীষ্ঠ গরম,
হাজারো মানুষের ভিড়ে তীব্র যানজট,
রাস্তার পাশের ময়লা ডাস্টবিনের উপরের
বাদামী ঘাড়ের দাঁড় কাকের কর্কশ ডাকও আজ কি মধুর।

আজ তুমি আসবে বলে,
সকাল থেকেই গুনগুন করছি অর্নবের নতুন গান।
আজ তুমি আসবে বলে,
ফাল্গুনের সাজে আজ আমি সাজব।

আজ তুমি আসবে বলে,
ঈদে মামার দেওয়া নতুন কামিজটা পড়েছি।
আয়নায় দাঁড়িয়ে কপালে নীল টিপ দিয়েছি,
ঠোটে হালকা হালকা লিপস্টিক,
মেখেছি ভাবির দেওয়া বিদেশি সেন্টের সুগন্ধ।

আজ তুমি আসবে বলে,
এলোমেলো লম্বা কলো চুল পিছনে ফেলে,
সুন্দর করে বেনী করেছি।
ভাবি আমায় দেখে হেসে বলল,
‘তোকে যা সুন্দর লাগছে না
একেবারে কাজল মাধুরী।
তোকে দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে।’
দূর, আমার যে কি লজ্জা লাগছিল,
ইস তুমি যদি একবার দেখতে।

আজ তুমি আসবে বলে,
টিউশনি করে জমানো টাকায়
মুঠো ফোনে ক্রেডিট ভরিয়েছি।

আজ তুমি আসবে বলে,
মধ্য দুপুরে ছোট্ট গলি ধরে বেরিয়ে পড়েছি।
পাড়ার বকাটে ছেলেরা শিষ্‌ দিয়েছে,
কালো টিশার্ট পড়া গুন্ডা মত সেই ছেলেটা
পেছন থেকে নোংরা ইঙ্গিত করেছে।
না দেখার ভান করে হেঁটে গেলাম,
মাথা নিচু করে নিঃশব্দে,
না, আজ আমি মন খারাপ করব না।


আজ তুমি আসবে বলে,
তোমার জন্য উপহার নিয়ে এলাম
কবির একশ একটি নীল পদ্ম।
মনের অনেক অজানা কথা বলব আজ
বলব নিজের ভাল লাগার কথা,
ভালবাসার কথা।

আজ তুমি আসবে বলে,
লাইব্রেবীর সিড়িতে বসে থাকলাম সারাটা বিকেল
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম সামনের রাস্তায়।
এই বুঝি তুমি এলে, এই এলে।
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চারটা বাজল, পাঁচটা বাজল, ছয়টা বাজল,
আমার কেন জানি খুব কান্না পাচ্ছে।
দেখতে দেখতে পুরো শহরে অন্ধকার নেমে এল,
তুমি এলে না।


ছবি কৃতজ্ঞতা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28792852 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28792852 2008-04-30 14:30:20
আইপিএল ম্যাচ শেষে নাটকঃ হরভজনের থাপ্পর খেয়ে শ্রীশান্ত খেলার মাঠে কান্না করেছে
টিভিতে খেলা দেখছিলাম। আইপিএল টুয়ান্টি টুয়ান্টি ম্যাচ। খেলা ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান আর কিং অফ পাঞ্জাবের সাথে। খেলায় কিং অফ পাঞ্জাব অনেকটা হেসে খেলেই ৬৬ রানে জয় লাভ করে।

খেলা শেষে এ্যাডের বিরতি হল। যখন আবার খেলার পুরষ্কার বিতরনি শুরু হল হঠাৎ দেখি মাঠের ভেতর শ্রীশান্ত কান্না করছে। সাঙ্গারাকারা, ব্রাট লী, প্রীতি জিনতা সবাই শ্রীশান্তকে শান্তনা দিচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়ত ম্যাচ জিতে খুশিতে শ্রীশান্ত কান্না করছে। কিন্তু এখন আসল ঘটনা জানলাম। খেলা শেষে নাকি হরভজন শ্রীশান্তকে সবার সামনে চড় থাপ্পড় মেরেছে। এখানে উল্লেখ্য হরভজন আজকে শচিন টেন্ডুলকারের অনুপস্থিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান দলের অধিনায়ক ছিল।

মোহালির অধিনায়ক যুবরাজ সিং পড়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বাজ়িকে মাপ চাইতে বলেছে।

সবাই ভাবছে বিসিবি বাজিকে পুরা আইপিএলের জন্য ব্যান কররে



ইঊটিউবের লিঙ্ক
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28791272 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28791272 2008-04-26 02:23:41
মাহবুব সুমন ভাই, শুভ জন্মদিন!!
কিন্তু সুমন ভাই উৎসাহ দিতেন সব সময়, “ ব্লগ লিখনা ক্যান? লেখার চেষ্টা অন্তত কর। তুমি ব্লগ লিখতে পার না এই কথাটাই ব্লগে লিখা পুষ্ট কইরা দাও”। শেষ পর্যন্ত তার ধমকে অনেকটা তাকে খুশি করতেই একদিন কি মনে করে একটু আধটু লিখতে শুরু করলাম।

সুমন ভাইয়ের মত আজকাল রাশেদকেও দেখি সবাইকে ভালো লেখার উৎসাহ দেয়। সেদিন তানভীর ((আ)গণিতিক) ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারে বলছিল সে নাকি কি একটা ব্লগ লিখছে। আমি হাই তুলে বোকার মত বললাম, হঠাৎ এতদিন পড়ে আজ কি মনে করে লিখছ? সে উত্তরে বলেছে, রাশেদ নামের কে নাকি তার লেখা খুব পছন্দ করেছে, তাকে নতুন ব্লগ লিখতে বলেছে। চিনে না, জানে না অপরিচিত একজন মানুষের দুই লাইন মন্তব্যে কার এত উৎসাহ উদ্দিপনা হয়, রাত জেগে কিবোর্ডে ঝড় তুলে লাইনের পর লাইন, পাতার পর পারা লিখে ফেলছে বিষয়টা আমি নিজেও ব্লগে না আসলে কোন দিনও বিশ্বাস করতাম না।

সুমন ভাই প্রসঙ্গে ফিরে আসি। তার সাথে প্রথমে জিটকে হাই হ্যালো টাইপের অম্প বিস্তর কথা বলতাম। এখন মুঠো ফোনে কল্যাণে মাঝে মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ হয়। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে ছোট মাছ কিভাবে রান্না করতে হয়, ভাত সিদ্ধ করতে কতটুকু পানি দিতে হয় অনেক কিছুই আমি সুমন ভাই বা ডক্টর স্বাতী ( বানান আশা করি ঠিক আছে) ভাবির কাছ থেকে জেনেছি। সময় অসময়ে খাজুরে আড্ডা মারতে তাদের রাত বিরাতে বিরক্ত করি। কেন জানি হাসি মুখে আমার সব অত্যাচার মেনে নিয়েছেন।

জন্মদিন হোক আর নাই হোক, সামনা সামনি কাউকে পছন্দের কথা, কৃতজ্ঞতার কথা বলতে আমার খুব লজ্জা-লজ্জা, বোকা-বোকা লাগে। এর থেকে সাদা কাগজে অথবা ব্লগে বোতাম টিপে টাইপ করা অনেক সহজ।

প্রিয় সুমন ভাই এবং স্বাতী ভাবী, আপনাদের মত বিশাল মনের মানুষ আমাকে ছোট ভাইয়ের স্থান দিয়েছেন। সেই গর্বে আমার পা মাটিতে পড়ে না। সব মানুষ কিন্তু আন্তরিক হতে পারে না, আপনারা পেরেছেন।

আপনাদের আন্তরিকতা, ভালোবাসার আকার টের পেয়ে রিতিমত হতভম্ব। আমার প্রতি যে স্নেহ মমতা দেখিয়েছেন তা আমৃত্যু মনে রাখব। দেখতে দেখতে প্রাই দুই- আড়াই বছর হয়ে গেল। সময়ে কত কি বদলায়- আকাশের রঙ বদলায়, গাছের পাতা বদলায়, নদীর পানি বদলায়, মানুষও বদলায়- কেবল বদলালেন না আপনারা। প্রার্থনা করি জীবনে প্রতিটা মুহুর্ত যেন আনন্দময় হয়। পরম করুনাময়ের করুনাধারা আপনাদের উপর বর্ষিত হোক।

শুভ জন্মদিন, ভ্রাতা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28790040 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28790040 2008-04-22 04:45:56
কিচেনের কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
২। আগুন গরম কফি খেতে খেতে শেষের দিকের চুমুকগুলো কেমন ঠান্ডা ঠান্ডা হয়ে যায়। টিপস হল আগে একটু গরম পানি দিয়ে কাপটি গরম করে নিন। অবশ্য ফরাসী কেউ বাসায় আসলে ভুলেও এমনটি করবেন না। ফরাসীরা কোন এক অদ্ভুত কারণে গরম কফিও ঠাণ্ডা করে খায়।

৩। এই টিপসটা আমি মাওয়া ফেরী ঘাটের একজন ফেরিওয়ালার কাছ থেকে পেয়েছি। অনেক সময় আমরা যখন ডিম সিদ্ধ করি তখন দেখা যায় ডিম কেমন ফেটে ফেটে গেছে। তখন খোসা ভেঙ্গে সাদা সাদা এ্যালবুমেন পানিতে বেড়িয়ে আসে। এরূপ পরিস্থিতি এড়াতে অর্থাৎ সিদ্ধ ডিমকে সুন্দর গোলাকার, নিখুঁত করার গোপন রহস্য তাহলে কি? পানিতে এক চিমটি লবণ দিয়ে দেখুন ডিম আর ফাটবে না।

৪। হাত পুড়ে গেলে ঠাণ্ডা পানিতে হাত ২০-২৫ মিনিট চুবিয়ে রাখুন বা ঠাণ্ডা পানির কলের নিচে হাত রাখুন। যে কোন মলম বা বরফের চেয়ে পানি বেশি কার্জ়করী। [আর ঘরে মলম না থাকলে টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। অব্যর্থ ঔষধ।]

৫। হাত কেটে গেলে প্রথমে কলের ঠাণ্ডা পানিতে হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে কিচেন টাওয়েলে পানি মুছুন তারপরে বান্ড এইড লাগান।

৬। আলু বেশি দিন রেখে দিলে নরম হয়ে যায়। সবুজ সবুজ গাছের জন্ম নেয়।। এখন উপায়? আলুর প্যাকেটে একটা আপেল রেখে দিন। আর হবে না।

৭। রান্নার সময় খাবার পুঁড়িয়ে ফেলেছেন। প্যান ঘষামাজা করে শক্তি অপচয় করতে চান না তো? প্যানটি সাবান মেশানো গরম পানিতে সিঙ্কে চুবিয়ে রাখুন ঘন্টা খানেক। প্যান পরিষ্কার সহজ হয়ে যাবে।

৮। পিয়াঁজ কাঁটতে চোখ তো জ্বালাতন করবেই । পিয়াঁজটি ছোলা ছাঁড়িয়ে গরম পানিতে ধুঁয়ে নিন কিংবা আমার মত চুইংগাম প্রেমী হলে মুখে চুইংগাম পুড়ে চিবুতে থাকলে পিঁয়াজ কাঁটলে চোখ জ্বলে না।

৯। পিঁয়াজ বা টমেটো কাঁটার পর আধা পিঁয়াজ অব্যবহৃত রয়ে গেলে তা এয়ারটাইট গ্লাডরাপ করে ফ্রিজে রাখুন। অনেক দিন থাকবে।

১০। পাস্তা, স্পাগিটি বা নডলস সিদ্ধ করার সময় অবশ্যই পানিতে এক বা দুই চিমটি লবণ দিবেন। আপনার জটিল পাস্তা মহা জটিল হবে।লবনের সাথে পানিতে দুই চামচ তেল দিন; দেখবেন পাস্তা, স্প্যাগাটি, নুডলস একটির সাথে আরএকটি লেগে যাচ্ছে না (ফুটন্ত অবস্থায় কিংবা পানি ঝরানোর পর আর আঠা আঠা হবে না)! ঠান্ডা পানিতে পাস্তা/নুডলস/ স্প্যাগাটি দেবেন না; পানি সম্পূর্ণভাবে গরম হলে তবেই ওগুলো দেবেন। লবন ও তেল পাস্তা দেবার আগে দেবেন, পরে নয়।

১১। বর্ষাকালে লবণ অনেক সময় পানি হয়ে যায়। তখন লবণে একটা বা দু’টো চালের দানা দিন আর হবে না।

১২। রান্নায় খুব বেশি লবণ হয়ে গেছে? আমি আছি ভাবনা কিসের! একটা আস্ত আলু খোসা ছাঁড়িয়ে দিয়ে দিন। অল্প কিছুক্ষণ পরে দেখবেন অতিরিক্ত লবণ আলুটি শুষে নিবে।

১৩। মোমবাতি ফ্রিজে রাখুন। মোমবাতি ভালো থাকবে এবং ক্ষয়ও হবে কম।

১৪। সব্জি, সেল্যারি, ধনিয়াপাতা বেশী দিন ধরে সতেজ রাখতে চান? টিস্যু পেপার কলের পানিতে ভিজিয়ে তারপর সব্জির নিচের অংশে জরিয়ে রাখুন। তারপড় ফ্রীজের ভেজিটেবল বক্সে রাখুন। ব্যস।

যাচাই করে দেখবেন। আপনার কিছু টিপসও আমাদের সাথে ভাগ করতে ভুলবেন না যেন। সবাইকে ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28788170 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28788170 2008-04-15 21:30:52
শুভ জন্মদিন রাগিব ভাই ২৯ তম জন্ম দিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782799 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782799 2008-03-26 22:31:46 যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জাফর ইকবাল স্যারের একটি অসাধারন লেখা এবারের স্বাধীনতা দিবসে যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় এই দিনটিতে কি আলাদা করে কারও মনে কিছু আছে? আমি লিখে দিতে পারি সবাই সমস্বরে একটা কথাই বলবে, সেটি হচ্ছে, ‘অবশ্যই আছে, আমরা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার চাই। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।’

এই দেশের মানুষের বুকের ভেতর বহুদিন থেকে এই ক্ষতটি রক্তক্ষরণ করছে, এই যন্ত্রণাটি বহুদিন থেকে মাথা কুটছে। যারা একাত্তরকে নিজের চোখে দেখেছে, শুধু তারাই জানে সেই সময়টিতে এই দেশে কী ভয়ঙ্কর আর কী পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছিল। একাত্তরে মানুষের সংখ্যা ছিল সাত কোটির মতো, তার মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষকে নিজের দেশ, নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল−এটা কি বিশ্বাস করার কথা? যদি তারা দেশ ছেড়ে না যেত, তাহলে যে প্রত্যেকটি মানুষকে এই দেশে হত্যা করা হতো, সেটা কি আমরা নতুন প্রজন্নকে বিশ্বাস করাতে পারব? একাত্তরে এই দেশে কি একটি পরিবারও ছিল যে তার কোনো একজন প্রিয়জনকে হারায়নি? যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই দেশে সেই পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালিয়েছে, তাদের ওপর জন্ন নেওয়া অসহনীয় ক্রোধের উত্তাপ কি নতুন প্রজন্ন অনুভব করতে পারবে? এই দেশের যে বিশ্বাসঘাতক পদলেহী সম্প্রদায় সেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে এই হত্যাকান্ড আর পৈশাচিক নির্যাতনে অংশ নিয়েছে, তাদের ওপর কী ভয়ঙ্কর ঘৃণার জন্ন নেয় সেটা কি আর কেউ কোনো দিন বুঝতে পারবে?

আমাদের দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক বীর সেক্টর কমান্ডারদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই যে তাঁরা আমাদের সেই ঘৃণার হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার একটা উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি এখন আর আনুষ্ঠানিক দাবি নয়, এখন এটি এই দেশের মানুষের একেবারে প্রাণের দাবি হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলাদলি, বিরোধ-বিভেদ, বিভাজনের মধ্যে সেক্টর কমান্ডারদের এই নেতৃত্বটি আমাদের জীবনে আনন্দের একটা ফল্গুধারা বয়ে এনেছে। আমরা কেমন করে কার কাছে এই দাবিটি করব বুঝতে পারছিলাম না, তাঁরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন। তাঁদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আমরা সবাই বলতে চাই, আমাদের আর পিছিয়ে যাওয়ার পথ নেই−যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমরা এই দেশটিকে গ্লানিমুক্ত করব। নতুন প্রজন্নকে বলব, একাত্তরে একবার এই দেশটিকে স্বাধীন করা হয়েছিল, তিন যুগ পর তার ভেতর থেকে যত পূজ-ক্লেদ সরিয়ে দেশটিকে আবার পূতপবিত্র করে তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তোমরা এই দেশটিকে গড়ে তোলো।

২১ মার্চের সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কনভেনশনটি এই দেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা শুধু এর বাইরের সাফল্যটুকু দেখেছি−যাঁরা এটি আয়োজন করেছেন, তাঁদের পরিশ্রমটুকু কি আমরা অনুভব করতে পারি? তাঁদের জন্য পুরো জাতির পক্ষ থেকে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।



আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা বেশ কিছুদিন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলার জন্য দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ রকম একটা ব্যাপার ঘটতে পারে বলে আমার মনে হয় না, এটি সম্ভব শুধু আমাদের দেশে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশ হলে তাঁদের এখন রাষ্ট্রীয় সম্মান উপভোগ করে, স্নৃতি রোমন্থন করে, লেখালেখি করে, কখনো কখনো সভা-সমিতিতে প্রধান অতিথি হয়ে দু-চারটি উদ্দীপনমূলক কথা বলে সময় কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বলে তাঁদের সেসব মুলতবি করে আক্ষরিক অর্থে পথে নামতে হয়েছে। যুদ্ধে যাদের পরাজিত করে দেশটাকে স্বাধীন করেছেন, সেই পরাজিত শত্রু আর তাদের পদলেহী অনুচরদের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য তাঁদের সভা-সমিতি করে ছুটোছুটি করতে হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে এক ধরনের বেদনা আছে। কিন্তু বেদনার থেকে অনেক বেশি আছে আশা ও উদ্দীপনা। যে ক্ষোভ আর ক্রোধ এই দেশের সব মানুষের বুকের ভেতর জমা হয়েছিল, সেটি বের হওয়ার একটি সত্যিকারের সুযোগ এসেছে−জাতি তাই তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের প্রথম কৃতজ্ঞতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটুকু সব মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের দ্বিতীয় কৃতজ্ঞতা।


মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা অনেক দিন থেকেই মতবিনিময় আর সভা করে আসছেন কিন্তু আমার খুব দুঃখ, আমি এখন পর্যন্ত তাঁর কোনোটাতেই উপস্িথত থাকতে পারিনি। কীভাবে কীভাবে জানি প্রতিবারই সেই সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এ মাসের ১৫ তারিখে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের জাতীয় কনভেনশনে আমার সেই দুঃখ উপশম হওয়ার একটা সুযোগ এসেছিল কিন্তু আমি আক্ষরিক অর্থে একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম যখন দেখতে পেলাম একেবারে শেষ মুহুর্তে সেই কনভেনশন করার অনুমতি দেওয়া হলো না। যাঁরা যুদ্ধ করে এই দেশটা স্বাধীন না করলে অনুমতি দেওয়ার কর্মকর্তারা এখনো তাঁদের পাকিস্তানি প্রভুদের পদসেবা করতেন, তাঁদের দুঃসাহসের সীমা দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। খবরের কাগজে দেখেছি, সেক্টর কমান্ডাররা উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টারা তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সৌজন্য দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। অন্যেরা ব্যাপারটা কীভাবে নিয়েছেন জানি না, আমার কাছে মনে হয়েছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। সেক্টর কমান্ডারদের কনভেনশন করার অনুমতি না দেওয়াটা হচ্ছে আইসবার্গের ভেসে থাকা অংশটুকু। কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি সেটা সম্ভবত আইসবার্গের আসল অংশ, বিশাল এবং চোখের আড়ালে থাকা ভয়াবহ একটা ব্যাপার।


প্রথমত, যাঁরা অনুমতি দেননি তাঁরা কারা আমি এখনো জানি না। অনুমতি না দিয়ে যাঁরা কাগজটিতে স্বাক্ষর করেছেন তাঁরা সম্ভব পুলিশ কমিশনার এবং তাঁদের চেপে ধরলে নিশ্চিতভাবেই তাঁরা মাথা চুলকে বলবেন, ‘উপরের নির্দেশ’। যে কারণটা দেখিয়ে তাঁরা দেশের সবচেয়ে সম্মানী মানুষদের কনভেনশনটি বন্ধ করে দিলেন, সেটি এক ধরনের ফিচেলমি। তাঁরা নাকি অনুমতির জন্য আবেদনপত্রে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা বলেছিলেন কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা নেই। এই গুরুতর অপরাধের জন্য কনভেনশনটি বন্ধ করে দেওয়া হলো−নিজের চোখে দেখে, নিজের কানে শুনেও কি কথাগুলো বিশ্বাস হতে চায়? জোট সরকারের আমলে আমরা নিয়মিতভাবে এ ধরনের ফিচেল বুদ্ধি দিয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র হতে দেখেছি−এখনো এই একই ধরনের ফিচেল বুদ্ধি দেখে পরিষ্ককার বোঝা যায়, জোট সরকারের প্রেতাত্মা এই সরকারের মধ্যে খুব ভালোভাবে রয়ে গেছে! (আমার অনেক দিনের শখ যে ধুরন্ধর মানুষগুলো তাঁদের ফিচেল বুদ্ধি দিয়ে ষড়যন্ত্র করে দেশের সর্বনাশ করে বেড়াচ্ছেন, একটা ওয়েবসাইট খুলে ছবিসহ তাঁদের সেই কীর্তিগুলো সেখানে তুলে রাখা। সেই তালিকার এক নম্বরে থাকবে সেই মানুষগুলোর কথা, যাঁরা দেশের তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাবে সেই যুক্তি দিয়ে আজ থেকে দুই যুগ আগে সাবমেরিন কেব্লের সঙ্গে আমাদের দেশকে যুক্ত হতে দেননি।)


কনভেনশনটি ২১ তারিখে খুব ভালোভাবে শেষ হয়েছে কিন্তু ১৫ তারিখে না করতে পারার কারণে উদ্যোগটি নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবীর জন্য পরের দিন কোনো খবরের কাগজ বের হয়নি, তাই দেশের মানুষ কনভেনশনের খুঁটিনাটি খবর পেয়েছে একদিন পর। ১৫ তারিখের কনভেনশনে সারা দেশ থেকে অনেকের আসার কথা ছিল। কেউ কেউ হয়তো ঢাকায় চলেও গিয়েছিলেন; শেষ মুহুর্তে জানতে পেরেছেন এর অনুমতি দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় তারিখটিও প্রথমে ছিল অনিশ্চিত, যখন নিশ্চিত করা হয়েছে তখন অনেকের পক্ষে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি−আমি সেই আশাহত মানুষদের একজন−আমার মতো নিশ্চয়ই আরও অনেকেই আছেন।

যাঁরা কনভেনশনটি ১৫ তারিখে করতে দেননি, তাঁরা কিন্তু শুধু খানিকটা যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য সেটি বন্ধ করেছিলেন বলে মনে হয় না, তাঁদের ফিচেল বুদ্ধি সুদুরপ্রসারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করে জেলে আটকে রাখার কথা মনে আছে? সেই ঘটনার সঙ্গে এ ঘটনার একটা মিল আছে। দেশের মানুষের চাপে শিক্ষকদের যখন মুক্তি দিতেই হবে, তখন ঠিক করা হলো আগে তাঁদের খানিকটা অপমান করে নেওয়া যাক। অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়ে তারপর কোনো একজনকে দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়ে তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়া হলো, অপরাধীর সিলটি কিন্তু তাঁদের গায়ে ঠিকই দিয়ে দেওয়া হলো। এখানেও তাই দেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধের এত বড় বীরসেনানি, তাঁদের তুচ্ছ করে উড়িয়ে দিয়ে শেষে দয়া করে অনুমতি দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া−তোমরা যে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাইছ, তাদের প্রাণের বন্ধুরা সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে আছে, পদে পদে তোমাদের থামিয়ে দেওয়া হবে!


৩.
গত জোট সরকারের আমলে আমাদের দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে আমরা কেউ ভালো করে জানি না। আর্থিক দুর্নীতিটা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে এসেছে আর সেটা নিয়েই হইচই হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যারা আর্থিক দুর্নীতি করেছে, তাদের সবাইকে যে ধরা হয়েছে সেটাও সত্যি নয়। তারেক রহমানকে আটক করা হয়েছে কিন্তু মামা-ভাগ্নে জুটির মামা সাঈদ এস্কান্দারকে স্পর্শ করা হয়নি, কারণ তাঁর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ আছে−এই সহজ সত্যটা কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে? এ রকম উদাহরণ কয়টি প্রয়োজন?

যা-ই হোক আর্থিক দুর্নীতি থেকেও ভয়ঙ্কর দুর্নীতিটি হচ্ছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় মানুষ বসিয়ে দেওয়ার দুর্নীতি। জোট সরকারের আমলে সেটা একটা শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এই জঞ্জাল কত দিনে পরিষ্ককার হবে কে জানে। যে যেখানে আছে সেখানে এটা ঘটতে দেখেছে। আমি সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। জোট সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া ভাইস চ্যান্সেলররা ঘোষণা দিয়ে আগে থেকে বলে দেন, তাঁদের দলের স্বার্থের বাইরে যাবে সে রকম কিছু তাঁরা করতে পারবেন না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে একটা সমাবর্তন হয়েছে, সেই সমাবর্তনে সিলেটের মুক্তবুদ্ধির কোনো বুদ্ধিজীবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে আমন্ত্রণ দিয়ে সমাবর্তনে নিয়ে আসা হয়েছে। গতকাল (২২ মার্চ) খবরের কাগজে দেখেছি, এখন থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশে চাকরি-বাকরির খুব অভাব। এই খবরটি পড়ে দেশের বেকার সম্প্রদায় নিশ্চয়ই চাকরির জন্য আবেদন করার আরও একটি সুযোগ উন্নুক্ত হতে দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বগল বাজাচ্ছেন। আমি তাঁদের আগে থেকে সতর্ক করে দিই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের চাকরির চেয়ে খারাপ চাকরি এই দেশে আর কিছু হতে পারে না। সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পনা পাকাপাকি করে ফেলেছে বলে মনে হয়। কোনো রকম সাহায্য করতে রাজি নয়, তাই যাঁরা এই চাকরি করতে আসবেন, তাঁরা পুরো সময়টা কখনো কর্মচারী, কখনো কর্মকর্তা, কখনো শিক্ষক এবং বেশির ভাগ সময় ছাত্রদের দিয়ে ঘেরাও হয়ে থাকবেন। যদি তাঁদের চামড়া যথেষ্ট মোটা হয়, তাঁরা সময়টা পার করে নামের শেষে প্রাক্তন উপাচার্য লিখে রাষ্ট্রদুত হওয়ার জন্য ওপরের মহলে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন।


খবরের কাগজে ভাইস চ্যান্সেলরদের নিয়ে আরও একটা খবর দেখেছি, আপাতত নতুন কোনো ভিসি নিয়োগ হচ্ছে না−যার অর্থ এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দলীয় ভাইস চ্যান্সেলররা আছেন, তাঁরাই মহানন্দে সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের দলীয় কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন। আগে সেটা করার আগে তাঁদের খানিকটা ইতস্তত করতে হতো, এখন আর ইতস্তত করতে হবে না, সরকার তাঁদের আনুষ্ঠানিক ইনডেমনিটি দিয়ে দিয়েছে!


৪.
আজ থেকে অনেক বছর পর যখন বাংলাদেশের মানুষ এই দেশের ইতিহাস পড়বে, তখন যে চরিত্রটিকে তাদের কাছে সবচেয়ে বিচিত্র মনে হবে সেটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। জোট সরকারের সময় শেষ হওয়ার পর যখন নির্বাচন দিয়ে নতুন একটি সরকার গঠন করার কথা, তখন এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে কলুষিত করেছিলেন এই মানুষটি। সেনাবাহিনী ১/১১ এর পরিবর্তনটি করিয়ে এই মানুষটির মুখ দিয়েই পরিবর্তনের সেই কথাগুলো উচ্চারণ করিয়েছে। সেই সময়ে যারা অন্যায় করেছে, তাদের (প্রায়) সবাই জেলে−কিন্তু সবকিছুর মূলে থেকেও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এখনো রাষ্ট্রপতি! তিনি একই সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, যে মানুষটি নানা ফন্দিফিকির করে সংবিধানের বিধানের অপপ্রয়োগ করে অবলীলায় একটা দেশকে সর্বনাশের শেষ সীমায় নিয়ে যেতে পারেন, সেই মানুষটি আমাদের ছাত্রদের সুনাগরিক হওয়ার জন্য উপদেশ দেবেন, সেই দৃশ্যটি আমার নিজের চোখে দেখা সম্ভব নয় বলে আমি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ছিলাম না!
এই স্বাধীনতা দিবসে আমাদের সেই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ যুদ্ধাপরাধীদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য সবাই তাঁর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। কাজেই এই স্বাধীনতা দিবসটি নিশ্চিতভাবেই একটি অন্য রকম স্বাধীনতা দিবস। বঙ্গভবনে থাকবেন রাষ্ট্রপতি এবং যুদ্ধাপরাধীরা। বাইরে থাকবেন মুক্তিযোদ্ধারা!
বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রকম ব্যাপার আগে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে।


৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, মৃত্যুর পর তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না, মৃত্যুর আগে তাঁরা শুধু একটি জিনিস দেখে যেতে চান, সেটি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
এই দেশে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু দিতে পারিনি। তাঁদের এই শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করার জন্য আমরা কি একবার শেষ চেষ্টা করে দেখব না? এই স্বাধীনতা দিবসে সেটাই কি আমাদের শেষকথা হতে পারে না?




লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রথম আলো থেকে নেওয়া

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782539 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782539 2008-03-26 03:45:12
সামহোয়ারইনের নতুন ফিচার, নতুন রূপ এবং ব্যাক্তিগত কিছু মতামত অভ্যাস মত সামহোয়ারইন খুলতে গিয়ে একটু ধাক্কার মতন খেলাম। “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” এ নির্মাণ কাজ চলছে। অফিসে লাঞ্চের সময়ও একবার উঁকি-ঝঁকি দিয়েছি। আপডেট কয়েক করার জন্য ঘণ্টার খানেক বন্ধ থাকবে সে সম্পর্কিত কোন নোটিশ তখন চোখে পড়েনি। অবশেষে অপেক্ষার পর চিরচেনা “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” মহান স্বাধীনতা দিবসে নতুন পোষাক পড়ে, নতুন নতুন সব ফিচার নিয়ে আসল। ১০ মিনিট ঘুরে ঘুরে নতুন ফিচারগুলো একটু চোখ বুলিয়ে নিলাম। এখনো দেখি অনেক অনেক বাগ। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৬/৭ য়ে প্রথম পেইজের সব পোষ্ট নিচে বাম দিকে বেঁকা হয়ে যাচ্ছে। আবার দেখি আমার নাম অনলাইনে আছেন কিন্তু মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি লেখা “আপনার মন্তব্য লিখতে লগইন করুন”। আবার দেখলাম সংকলিত পোস্ট এ কমেন্ট করলে Get Away!!!! বলছে। আশা করি এই সব ছোটখাট বাগ কতৃপক্ষ আজ কালকের ভেতর ফিক্স করে ফেলবেন। নতুন ফিচার নিয়ে কিছু কথা কিছু ব্যক্তিগত মতামত দিলাম;

যে সব ফিচার ভালো লেগেছে

১ এখন থেকে প্রতি আধা ঘন্টায়(৩০ মিনিটে) একজন ব্লগারের সর্বোচ্চ দুইটি পোষ্ট প্রথম পাতায় দেখা যাবে। এটি একটি চমৎকার ফিচার। অনেক দিন ধরেই এমনটি চাচ্ছিলাম। আজ থেকে প্রথম পাতায় ফ্লাডিং দেখব না ভাবতেই ভালো লাগছে।

২ সংকলিত পোস্ট ফিচারটি ভাল লাগল, কিন্তু সংকলিত পোস্ট নির্বাচ্য করার পদ্ধতিটা কি? আমার মতে এই ক্ষমতাটা আমাদের কাছেই উচিত। পোস্টটি কত জনের ভাল লেগেছে সেটার উপর ভিত্তিক “সংকলিত পোষ্ট” নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করি।

২ “পোস্টটি আপত্তিকর” বা “রিপোর্ট এবিউজ” নামে একটি বাটন পাব যার মাধ্যমে কোন আপত্তিকর পোস্ট দেখলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে। এটাও ভাল উদ্যোগ। আশা করি এই বাটনের অপব্যবহার হবে না। তবে আমার মতে “আপত্তিকর পোষ্ট” বাটন থাকার পাশাপাশি “আপত্তিকর মন্তব্য” বাটনও থাকা উচিত। ইউটিঊবে এরুপ একটা ফিচার আছে। দেখতে পারেন।

যে সব ফিচার ভাল লাগে নিঃ

১ প্রথম পাতায় দেখতে পেলাম দুই দুইটি বিজ্ঞাপন। একটা আওয়াজের আরেকটি “সামহোয়ার ইন ঢাকা” । নিজের ব্লগ সাইটের নিচেও একটা বিজ্ঞাপন। এসবের বিরক্তিকর বিজ্ঞাপনের কোন দরকার ছিল না। এত দিন গর্ব করতাম “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” বিজ্ঞাপন মুক্ত সাইট। প্রথম পাতা থেকে এই বিজ্ঞাপন উঠিয়ে দেওয়ার জন্য কতৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ করছি।

২ ব্লগ থীম/টেমপ্লেট কি একটু বেশি রঙচঙে হয়ে গেল না? বিশেষ করে বাম দিকের প্যানেলে গোলাপী রঙ রীতিমত দৃষ্টিকটু। আমার আগের সহজ সাদামাটা থীম বরং অনেক ভাল লাগত। পছন্দ মত দুই তিনটে বাংলা ব্লগ থীম/টেমপ্লেট বাছাই করার সুযোগ দেওয়া যেত। বাংলাক্রিকেট সহ অনেক ফোরামেই এমন সুযোগ আছে। যেখান থেকে আমরা আমাদের নিজের একাউন্ট থেকে নিজের পছন্দ মত টেমপ্লেট বেছে নিলাম।

৩ যে ফিচারটি আমার একেবারেই পছন্দ হয় নি সেটা হল “অটো মডারেশন”। এই অটো মডারেশন চলাকালে প্রথম পাতায় কেবল “নিরাপদ তালিকা” ভুক্ত ব্লগারদের লেখা প্রকাশিত হবে এবং অন্য যেই ব্লগাররা “সন্দেহ তালিকায়” থাকবেন তাদের লেখা অপেক্ষায় থাকবে যতক্ষণ না লেখাগুলো মডারেটর দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন কে নিরাপদ তালিকাতে আছে আর কে সন্দেহ তালিকা তে আছে সেটা কিভাবে নির্ধারিত হবে? এটা বাক স্বাধীনতার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। সবাইকে পোষ্ট করার সামন অধিকার দিতে হবে। কারো সাথে আমার মতের পার্থক্য থাকতে পারে, চিন্তা আর্দশের পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে আমার অধিকার যতটুকু আজকের নতুন আইডি খোলা ব্লগারেরও সেটুকুই অধিকার ।

কতৃপক্ষ একটু ভেবে দেখবেন কি?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782486 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782486 2008-03-26 00:30:54
অকথ্য এই বিবরণ, ক্ষমাহীন এই অপরাধ (আনিসুল হক)
...শুধু ২৫ মার্চ রাতের ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসতা, চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা, কামান লাগিয়ে উড়িয়ে দেওয়া ছাত্রাবাস, ছাত্রাবাস থেকে বের করে এনে কাতারবন্দী করে দাঁড় করিয়ে ছাত্রদের ব্রাশফায়ারে মেরে ফেলা, যেন তারা পিঁপড়ার সারি...গণকবর খুঁড়ে মাটি চাপা দেওয়া সেই সব লাশ, এখনো মারা যায়নি কোনো গুলিবিদ্ধ ছাত্রের মাটি চাপা পড়ে তলিয়ে যাওয়ার আগে মা বলে কেঁদে ওঠা শেষ চিৎকার, শিক্ষক-আবাসে ঢুকে নাম ধরে ডেকে ডেকে হত্যা করা শিক্ষকদের, তার শিশুসন্তানের সামনে, তার স্ত্রীর সামনে.. আর আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া জনবসতি, ভেতরে পুড়ে যাচ্ছে মা আর তার স্তনবৃন্তে মুখ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া শিশু, ভেতরে পুড়ে যাচ্ছে বৃদ্ধ, তার মুখ থেকে এখনো শেষ হয়নি বিপদতাড়ানিয়া আজানের আল্লাহু আকবার ধ্বনি, মাংসপোড়া গন্ধে চনমনে হয়ে উঠছে বাতাস,..পুলিশ ব্যারাকে আগুন লাগিয়ে জীবন্ত দগ্ধ করে মারা বাঙালি পুলিশদের, ইপিআর ব্যারাকে হামলা চালিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে গুলি করে মারা বাঙালি ইপিআর সদস্যদের, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘেরাও করে ভেতরে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের নির্বিচারে পাখি-মারার মতো করে হত্যা করা, লাশে আর রক্তে ভেসে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা.. ঢাকার সবগুলো পুলিশ-স্টেশনে টেবিলের ওপর উপুড় হয়ে আছে বাঙালি কর্তব্যরত কর্মকর্তার গুলি খাওয়া মৃতদেহ, দমকল বাহিনীর অফিসে ইউনিফর্ম পরা দমকলকর্মীরা শুয়ে আছে, বসে আছে, গুলিবদ্ধি হয়ে দেয়ালে আটকে আছে লাশ হয়ে...।

পাতার পর শুধু এই পৈশাচিকতার, এই আগুনের, লাশের, হত্যার, আর্তনাদের আর মানুষ মারার আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়া সৈনিকের অট্টহাসির আর মদের গেলাস নিয়ে মাতাল কন্ঠে শাবাশ শাবাশ আরও খুন আরও আগুন আরও রেইপ বলে জেনারেলদের চিৎকারে ফেটে পড়ার বর্ণনা লেখা যাবে, শত পৃষ্ঠা, নিযুত পৃষ্ঠা, তবু বর্ণনা শেষ হবে না, তবু ওই বাস্তবতার প্রকৃত চিত্র আর ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে না। কে-ই বা সব দেখেছে একবারে, যে অধ্যাপক ভিডিও করেছেন জগন্নাথ হলের মাঠে সারিবদ্ধ ছাত্রদের গুলি করে মেরে ফেলার দৃশ্য, তিনিও তো ঘটনার সামান্য অংশই চিত্রায়িত করতে পেরেছেন মাত্র, যে সায়মন ড্রিং বিদেশি সাংবাদিকদের বহিষ্ককার এড়িয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের রান্নাঘর দিয়ে পালিয়ে গিয়ে লন্ডনের দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে পাঠিয়েছিলেন জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ, সাম উইটনেস অ্যাকাউন্টস, ‘হাউ ডেਆা পেইড ফর ইউনাইটেড পাকিস্তান’, তিনি নরকের বর্ণনার সামান্যই দিতে পেরেছিলেন।

২৫ মার্চ রাতে শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে পাকিস্তানি মিলিটারি ব্যাপক গুণহত্যা চালিয়ে তোপের মুখে চিরকালের জন্য স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে। শুধু ২৫ মার্চ রাতে নয়, ২ এপ্রিল জিঞ্জিরায় যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, যেকোনো প্রত্যক্ষদর্শীর দোজখ-দেখার দুঃসহ স্নৃতি ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। প্রাণভয়ে ভীত আশ্রয়সন্ধানী প্রায় লাখখানেক ঢাকাবাসী আশ্রয় নিয়েছে বুড়িগঙ্গার ওপারে। তাদের কারও কারও কাছে দেশি অস্ত্র। একটা দুটো বন্দুক। পুলিশ কিংবা ইপিআরের ফেলে যাওয়া থ্রি নট থ্রি। ভোরবেলা হঠাৎ পাকিস্তানি আর্মি লঞ্চ আর স্টিমারযোগে চলে আসে নদীর এপারে, অতর্কিতে, বাচ্চুরা টের পেয়ে পেছাতে পেছাতে সৈয়দপুরে সরে আসে, আর পেছনে তাকিয়ে দেখতে পায় আকাশে হেলিকপ্টার জেট উড়ছে, আর হাজার হাজার মানুষ পালাচ্ছে দিগ্বিদিক, আর আর্মিরা কী একটা পাউডার নাকি পাইপ দিয়ে ফুয়েল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে, মানুষ পুড়ে যাচ্ছে আর ছুটে যাচ্ছে, ছুটন্ত মানুষ পুড়ছে, পুড়ন্ত মানুষ ছুটছে, ছুটন্ত মানুষ ফুটন্ত, জ্বলন্ত, হাজার হাজার ছুটন্ত অগ্নিকুন্ড, আর চিৎকার, পুরোটা জনপদ পুড়ছে, আর গুলি, রিকোয়েললেস রাইফেলের, আর হেলিকপটার জেট থেকে, ছুটন্ত মানুষ পড়ে যাচ্ছে, ধরাশায়ী হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ পড়ে গেল, মরে গেল, মরে গেল তো বেঁচে গেল, অন্তত ১০ হাজার মানুষ সেদিন মারা পড়েছে জিঞ্জিরায়।

স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র অষ্টম খন্ডে সুবেদার খলিলুর রহমান এসআইয়ের বিবরণে পাওয়া যায়, “কোতোয়ালী থানার বরাবর সোজাসুজি গিয়ে বুড়ীগঙ্গার লঞ্চঘাটের পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম বুড়ীগঙ্গার পাড়ে লাশ, বিকৃত, ক্ষত-বিক্ষত, অসংখ্য মানুষের লাশ ভাসছে, ভাসছে পুলিশের পোশাকপরা বীভৎস লাশ। দেখলাম বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধা-যুবা, যুবক-যুবতী, বালক-বালিকা, কিশোর-শিশুর অসংখ্য লাশ। যতদুর আমার দৃষ্টি যায় দেখলাম বাদামতলী ঘাট থেমে শ্যামবাজার ঘাট পর্যন্ত নদীর পাড়ে অসংখ্য মানুষের বীভৎস পচা ও বিকৃত লাশ, অনেক উলঙ্গ যুবতীর লাশ দেখলাম, এই পূত পবিত্র বীরাঙ্গনাদের ক্ষত-বিক্ষত যোনীপথ দেখে মনে হলো, পাঞ্জাবী সেনারা কুকুরের মত ওদের পবিত্র দেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওদেরকে যথেচ্ছভাবে ধর্ষণ করে গুলিতে ঝাঁজরা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। অনেক শিশুর ও ছোট ছোট বালক-বালিকাদের থেঁতলে যাওয়া লাশ দেখলাম। ওদেরকে পা ধরে মাটিতে আছড়িয়ে মারা হয়েছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অশ্রুভরা চোখে আমি লাশ দেখলাম−লাশ আর লাশ−অসংখ্য নিরীহ বাঙ্গালীর লাশ−প্রতিটি লাশে বেয়নেট ও বেটনের আঘাত দেখলাম, দেখলাম কারও মাথা চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে আছে, পাকস্থলি সমেত হূৎপিন্ড বের করা হয়েছে, পায়ের গিঁট হাতের কਲা ভাঙ্গা, ঝুলছে পানিতে। সদরঘাট টার্মিনালের শেডের মধ্যে প্রবেশ করে শুধু রক্ত আর রক্ত দেখলাম...দেখলাম মানুষের তাজা রক্ত এই বুড়ীগঙ্গা নদীর পাড়ে। এই টার্মিনাল শেড ছিল ২৫ মার্চের কালোরাত্রিতে ওদের জল্লাদখানা। ওরা বহু মানুষকে ধরে এনে ঐ টার্মিনালে জবাই করে বেটন ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে টেনে-হিঁচড়ে পানিতে ফেলে দিয়েছে। অসংখ্য মানুষকে এভাবে নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিষ্ককার ছাপ দেখতে পেলাম সেই রক্তের স্রোতের মধ্যে। শেডের বাইরের প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখলাম অসংখ্য কাক ও শকুন মানুষের সেই রক্তের লোভে ভিড় করেছে। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ভারাক্রান্ত হূদয়ে বের হয়ে পূর্বদিকে পাক সেনাদের সদর আউট পোষ্টের দিকে দেখলাম নদীর পাড়ের সমস্ত বাড়িঘর ভস্ন হয়ে ওদের নৃশংসতা ও বীভৎসতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখলাম রাস্তার পার্শ্বে ঢাকা মিউনিসিপালিটির কয়েকটি ময়লা পরিষ্ককার করার ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে, সুইপাররা হাত-পা ধরে টেনে হেঁচড়িয়ে ট্রাকে লাশ উঠাচ্ছে, প্রতিটি ঘর থেকে আমাদের চোখের সামনে বহু নারী-পুরুষ, বালক-বালিকা, কিশোর-শিশু ও বৃদ্ধ-বুড়ার লাশ সুইপাররা টেনে টেনে ট্রাকে উঠাচ্ছিল। পাঞ্জাবী সেনারা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে কুকুরের মত নির্মমভাবে প্রহরা দিচ্ছিল। ভয়ে সন্ত্রাসে আমি আর এগুতে পারলাম না। পূর্বদিকের রাস্তা দিয়ে আমি সদরঘাটের কাপড়ের বাজারের নীরব নিথর রাস্তা ধরে সদরঘাট বেপটিষ্ট মিশনের চৌরাস্তার সম্মুখ দিয়ে নওয়াবপুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। আমাদের কারো শরীরে পুলিশের পোশাক ছিল না...আমি এবং আমার সাথে আরও দু’জন সিপাহী সাধারণ পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করছিলাম। কাপড়ের বাজারের চারদিকে রূপমহল সিনেমা হলের সম্মুখে সর্বত্র বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষের ইতস্ততঃ ছড়ানো বীভৎস লাশ দেখলাম, বহু যুবতী মেয়ের ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখলাম। খৃষ্টান মিশনারী অফিসের সম্মুখে, সদরঘাট বাস ষ্টপেজের চারদিকে, কলেজিয়েট হাইস্কুল, জগন্নাথ কলেজ, পগোজ হাইস্কুল, ঢাকা জজকোর্ট, পুরাতন ষ্টেট ব্যাংক বিল্ডিং, সদরঘাট গির্জা, নওয়াবপুর রোডের সর্বত্র, ক্যাথলিক মিশনের বাইরে এবং ভিতরে আদালত প্রাঙ্গণে বহু মানুষের মৃতদেহ দেখলাম।

...রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যোগদান করার পর আমরা দেখেছি পাঞ্জাবী সেনারা মিলিটারী ট্রাকে ও জীপে করে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বালিকা যুবতী মেয়ে ও সুন্দরী রমণীদের ধরে আনতে থাকে। অধিকাংশ বালিকা, যুবতী মেয়ের হাতে বই ও খাতা দেখেছি। প্রতিটি মেয়ের মুখমন্ডল বিষণ্ন, বিমর্ষ ও বিষময় দেখেছি। মিলিটারী জীপে ও ট্রাকে যখন এভাবে যুবতী মেয়েদের রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আনা হতো তখন পুলিশ লাইনে হৈচৈ পড়ে যেত, পাঞ্জাবী, বিহারী ও পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশ জিভ চাটতে চাটতে ট্রাকের সম্মুখে এসে মেয়েদের টেনে হেঁচড়িয়ে নামিয়ে নিয়ে তৎক্ষণাৎ দেহের পোশাক-পরিচ্ছদ, কাপড়-চোপড় খুলে তাদেরকে সম্পুর্ণভাবে উলঙ্গ করে আমাদের চোখের সামনেই মাটিতে ফেলে কুকুরের মত ধর্ষণ করতো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও অঞ্চল থেকে ধরে এ সকল যুবতী মেয়েদের সারাদিন নির্বিচারে ধর্ষণ করার পর বৈকালে আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার বিল্ডিং-এর ওপর তাদেরকে উলঙ্গ করে চুলের সাথে লম্বা লোহার রডের সাথে বেঁধে রাখা হতো। রাতের বেলায় এসব নিরীহ বাঙ্গালী নারীদের ওপর অবিরাম ধর্ষণ চালানো হতো। আমরা গভীর রাতে আমাদের কোয়ার্টারে বসে মেয়েদের আর্তচিৎকার শুনে অকস্নাৎ সবাই ঘুম থেকে ছেলেমেয়েসহ জেগে উঠতাম। সেই ভয়াল ও ভয়ঙ্কর চিৎকারে কান্নার রোল ভেসে আসতো, ‘বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও, তোমাদের পায়ে পড়ি, আমাদের বাঁচাও, পানি দাও, এক ফোঁটা পানি দাও, পানি, পানি’।”

একই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায় মো. সাহেব আলী নামের সুইপার ইন্সপেক্টর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সুইপার রাবেয়া খাতুন প্রমুখের বর্ণনায়। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের আর যেসব মানুষের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে এই দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে, সবখানেই একই রকম বর্ণনা, অগণিত মানুষকে গুলি করে হত্যা, আগুন জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া জনপদের পর জনপদ, আর নারীদের ওপর অকথ্য অমানবিক নির্যাতন। সেই সব নির্যাতন কখনো হয়েছে পরিবারের সদস্যদের সামনেই, কখনো বা নির্যাতনের ক্যাম্পে দল বেঁধে নারীদের বন্দী রেখে। নীলিমা ইব্রাহিমের আমি বীরাঙ্গনা বলছি বই থেকে জানা যায়, মেয়েরা যাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে না পারে, সে জন্যে তাদের শাড়ি বা ওড়না দেওয়া হতো না।

ড. মোজাম্মেল হোসেন নামের বিজ্ঞানী ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা যেসব বার্তা আদান-প্রদান করেছিল, সেটা রেডিওতে ধরে ফেলেন ও রেকর্ড করে রাখেন। পরে সেসব আকাশবাণী থেকে প্রচারিতও হয়। একটা কথোপকথন এই রকম:
কন্ট্রোল: বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আনুমানিক কতজন হতাহত হয়েছে? আনুমানিক সংখা বললেই হবে।
উত্তর আসে : তিন শর মতো।
কন্ট্রোল: চমৎকার। তিন শ-ই মারা গেছে, না কেউ বন্দী বা আহত হয়েছে?
উত্তর: আমি একটাই পছন্দ করি। তিন শ-ই মারা গেছে।
কন্ট্রোল: আমিও তোমার সাথে একমত। ওই কাজটিই সহজ। কিছুই জানতে চাইবে না। আবার বলছি, চমৎকার।

২৫ মার্চ ও তার কাছাকাছি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আরও অনেকের সঙ্গে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করে অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব, অধ্যক্ষ এ এন এম মনিরুজ্জামান, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. ফজলুর রহমান খান, এ মুকতাদির, শরাফত আলী, এ আর কে খাদেম, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য, সাদত আলী এবং এম এ সাদেককে।

অপারেশন সার্চলাইট নামের এই সেনা অভিযানের ভয়াবহতা, ব্যাপকতা, নৃশংসতার কোনো নজির নেই। এর একটাই লক্ষ্য ছিল। অস্ত্র আর আঘাত আর মৃত্যু দিয়ে জনগণের দাবিকে স্তব্ধ করে দেওয়া। পরবর্তীকালেও যে পোড়ামাটি নীতি, ঘরবাড়ি জ্বালানো, গণহত্যা ও ধর্ষণ চালানো হয়, তারও লক্ষ্য ছিল থমকে দেওয়া, ধমকে দেওয়া, গুঁড়িয়ে দেওয়া, নিশ্চিহ্ন করা, স্তব্ধ করা আর শেষতক বশীভুত করা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশ স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থেকে ঘোষণা করছে, অস্ত্রের মুখে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায় না।

আশ্চর্য যে, এত কিছুর পর যখন সমস্ত বাংলাদেশ প্রতিরোধের আর প্রতিশোধের ন্যায়যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন জামায়াত, মুসলিম লীগ আর নেজামে ইসলামী গড়ে তোলে আলবদর, আল শামস, মুজাহিদ বাহিনী আর রাজাকার বাহিনী। সমস্ত সাক্ষী অভিন্ন সাক্ষ্য দিচ্ছেন, এই বাহিনীর সদস্যরা কেবল মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের হত্যা, নির্যাতন, গ্রেপ্তার করেছে, পাকিস্তানিদের পথ দেখিয়ে দিয়েছে, তা-ই নয়, এরা মেয়েদের ধরে নিয়ে গিয়ে তুলে দিয়েছে মিলিটারিদের হাতে।

এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আবারও জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। ইতিহাসের এই দায়মোচন একদিন না একদিন আমাদের করতেই হবে।

লিখেছেন আনিসুল হক
আজকের প্রথম আলোথেকে নেওয়া
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782246 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28782246 2008-03-25 05:35:00
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করা সেক্টর কমান্ডার
এম এ জি ওসমানী (সর্বাধিনায়ক)
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার (উপ প্রধান সেনাপতি)
লে.কর্নেল আবদুর রব(উপ প্রধান সেনাপতি)


১নং সেক্টর
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) (এপ্রিল- জুন)
সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) (জুন - ডিসেম্বর)

২নং সেক্টর
নোয়াখালী জেলা, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.টি.এম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)

৩নং সেক্টর
সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর কেএম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.এন.এম নুরুজ্জামান (বীর উত্তম) (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)

৪নং সেক্টর
সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জে: সি আর দত্ত (বীর উত্তম)

৫নং সেক্টর
সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর মীর শওকত আলী (বীর উত্তম)

৬নং সেক্টর
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
উইং কমকান্ডার খাদেমুল বাশার

৭নং সেক্টর
দিনাজপুর জেলার দক্ষিনাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক ( অগাস্ট পর্যন্ত )
সেক্টর কমান্ডার মেজর কাজী নুরুজ্জামান (বীর উত্তম)

৮নং সেক্টর
সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ
সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মুঞ্জুর (বীর উত্তম) (আগস্ট-ডিসেম্বর)

৯নং সেক্টর
দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিনাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল মিঞা (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ),
সেক্টর কমান্ডার মেজর জয়নুল আবেদীন ( ডিসেম্বর এর অবশিষ্ট দিন)

১০নং সেক্টর
কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত।

১১নং সেক্টর
কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের (বীর উত্তম) (আগস্ট-নভেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার স্কেয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)

টাংগাইল সেক্টর
সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ
কাদের সিদ্দিকী।


সেক্টর কমান্ডার ফোরাম]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781661 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781661 2008-03-23 02:52:13
চিত্র সমালোচনাঃ ব্রিক লেন
ব্রিক লেন’ উপন্যাসের লেখক বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট মনিকা আলি। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৩ সালে। ম্যান বুকার পুরস্কারের শর্ট লিস্টে মনিকা আলি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেখক। ‘ব্রিক লেন’ নিয়ে বাংলাদেশে ও অন্য জায়গার বাংলাদেশি কমিউনিটির মাঝে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

২০০৬ সালের শুরুতে শুনেছিলাম সারা গেভরন ব্রিক লেন উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচিত্র রুপান্তরিত করছে। সেই বছরেই আগস্টে আমরা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে জেনেছিলাম ব্রিক লেন চলচিত্র তৈরীর প্রতিবাদে লন্ডনের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রতিবাদ করছে। তাদের অভিযোগটি ছিল গুরুতর, উপন্যাসটিতে নাকি বাংলাদেশের লন্ডনের কমিউনিটিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তথাপি উপন্যাসটি পড়ে আমার কখনও এমন মনে হয়নি। রাগান্বিত প্রতিবাদকারীর কয়জন প্রকৃতপক্ষে উপন্যাসটি পড়েছেন তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

যুক্তরাজ্যে ‘ব্রিক লেন’ প্রিমিয়ার হয়েছে ২৬ অক্টোবর, ২০০৭। প্রায় পাঁচ মাস পড় ব্রিক লেন গতকাল ২০শে মার্চ অষ্টেলিয়াতে প্রিমিয়ার হয়েছে। বাসা থেকে সিনেমা প্যালেস কোমো মাত্র সাত মিনিট হাটার পাথ। হলের দরজার সামনে বড় বড় পোষ্টারে বাংলাদেশের গ্রামের ধানক্ষেতে ছুটে চলা কিশোরিকে দেখেই নিজের শৈশবের কথা মনের পড়ল। গুড ফ্রাইডে ছুটি থাকায় কারনেই হোক আর প্রমিয়ার শো হবার কারনেই হোক মুভি থিয়েটার ছিল প্রায় পূর্ণ। দর্শকের অধিকাংশই অষ্ট্রেলিয়ান। হাতে গোনা তিন চারটে বাঙ্গালি পরিবারও দেখলাম।

আমি মাত্র কিছু দিন আগেই ব্রিক লেন বইটি পড়ে শেষ করেছি। কোন বই পড়ে মুভি দেখতে গেলে আমার একটা বড় সমস্যা হয়। কেন জানি নিজের কল্পনার জাল বুনে নিজের মনের মাঝেই একটা ছবি বানিয়ে ফেলি। নিজের মনের ছবির সাথে বাস্তবে মিল না পেলেই হতাস হই। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ছবির শুরুটা আমার একেবারেই ভাল লাগে নি।



অবশ্যই মুভি শুরু হয়েছে মুল চরিত্র নাজনিনের ( তানিস্থ চট্টোপাধ্যায়) বাংলাদেশের গ্রামের শৈশবের দৃশ্যাধারণ দিয়েই। নাজনীনের বেড়ে উঠা, ধানের ক্ষেতে ছুটে চলা, পুকুরে সাতার কাটা, বৃষ্টিতে ভেজা, বন্ধুদের সাথে খেলা করা, নাজনীনের মার পুকুড়ে ডুবে আতহত্যা, নাজনীনের বাল্য বিবাহ এত কিছু সব মাত্র ৪- ৫ মিনিটে দেখিয়েছেন। এভাবে তাড়াহুড়া করে দেখানোর কোন দরকার ছিল না। আমি জানি বড় একটা বইকে ১০১ মিনিটে দেখাতে গেলে কিছুটা কাটছাট করতেই হবে। কিন্তু পরিচালক সারা গেভরন হয়ত মুল কাহিনীর উপর অধিক মাত্রায় সিনেমাটিক লাইসেন্স নিয়ে ফেলেছেন। উপন্যাসের শুরুর দিকের ঘটনা, নাজনীনের বেড়ে উঠা, তার বিবাহ আরো বিস্তারিত করে দেখানো উচিত ছিল। নাজনীনের সাথে চানুর (সতিশ কৌশিক) বিবাহ যেভাবে দেখানো হয়েছে যারা বইটি পড়েন নি সে সব বিদেশীদের কাছে অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য লাগবে। নাজনীনের সাথে তার ছোট বোন হাসিনার সাথে তার সম্পর্কটা আরো গভীর ভাবে দেখানো জেত। হাসিনার চরিত্র মুল উপন্যাসে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন। নাজনীনের আবেগ, আদর্শ, বোনের প্রতি তার ভালোবাসা, নিজের ফেলে আশা গ্রামের প্রতি তার পিছুটান ইত্যাদি বইটি থেকে মুভিতে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অ্যাডাপ্ট করার জন্যই ৪-৫ মিনিটের স্থানে অন্তত ১৫- ২০ মিনিট ফুটেজ দাবী রাখে।

ছবির টাইটেল, অভিনেতাদের নাম দেখাতে দেখাতেই নাজনীন দুই টিনেজ মেয়ে সাহানা আর বিবির মা আর চানু আহমেদের আদর্শ পত্নি। চানু আহমেদ তার দুই মেয়ে আর পত্নি নিয়ে পুর্ব লন্ডনের ব্রিক লেনে বসবাস করেন। ব্রিক লেন ইস্ট লন্ডনের ঘিঞ্জি এলাকা। চানু তার আর্থিক দৈন্যতার কারনে একটা নোংরা অ্যাপার্টমেন্টের পুর্ব প্রান্তের সস্তা দুই রুমের ছোট ফ্লাটে থাকেন। চানু আহমেদ আর নাজনীনের বয়সের অনেক পার্থক্য। নিজের পরিবারের আয় বাড়ানোর জন্য নাজনীন বাড়িতেই মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। প্রতি কাপড় সেলাই করে সে এক পাউন্ড পায়। সে কল্পনা করে এভাবে অম্প অম্প করে পাউন্ড জমিয়ে যে তার প্রিয় বাংলাদেশে আসবে। তার ছোট বোন হাসিনাকে দেখতে যাবে। ১৭ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে আসার পর সে একবারের জণ্য হলেও হাসিনাকে দেখে নি। হাসিনার সাথে তার সব সময় চিঠিপত্র আদান প্রদান হয়। নিজের মনে সব কথা, সব স্বপ্ন নাজনীন হাসিনাকে লিখে পাঠায়।



সেলাইয়ের কাজ করতে গিয়ে দেখা হয় করিমের( ক্রিষ্টোফার সিম্পশন) সাথে। করিম ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী আধুনিক, হেন্ডসাম, পরিশ্রমি যুবা। নাজনীনের সমবয়সি ও স্থানীয় কাপড়ের ব্যবসায়ি। তাদের মাঝে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়। করিম স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির এখন উঠতি নেতা। করিম চায় নাজনীন চানুকে তালাক দিয়ে তার সাথে বাস করতে। এর মাঝেই ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলা হল। স্থানীয় সমাজে একটা দাঙ্গা হবার আশঙ্কা দেখা দিল। এর মাঝেই চানু সিদ্ধান্ত নিল সে আর এই দেশে থাকবে না পুরো পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত যাবে। বইটি না পড়ে থাকলে ছবির শেষ অংশটি অপ্রতাশিত মনে হওয়া খুবি স্বাভাবিক।



মুভিটির চিত্রায়ন হয়েছে ভারত ও লন্ডনের নানা স্থানে। মুভিতে নাজনীন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানিস্থ চ্যাটার্জি, চানু চরিত্রে অভিনয় করেছেন সতিশ কৌশিক। এই ছবিটি একেবারেই তানিস্থা চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। তানিস্থা ভারতীয় থিয়েটার গুনি অভিনেতা। শুনেছি সে দুই একটা হিন্দি মুভিও করেছে। সফল ভাবেই জটিল একটা চরিত্র আভিনয় করেছে। তার সাধাসিধে ইংরেজী উচ্চারন একেবারেই চরিত্রের নাজনীনের সাথে মিশে গেছে। ব্রিক লেন দেখে মনেই হয়নি সারা গেভরন পরিচালিত প্রথম ছবি। সারা গেভরন এত ঝড় ঝাপটার মাঝেও ছবিটি যত্নশীল হয়ে সমাপ্ত করেছে তার জন্য তার বাহাবা প্রাপ্য।



ভাল লাগে নি
১। নাজনিনের শৈশব আরো ফুটেজ দেওয়া উচিত ছিল। ( অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে)
৩। হাসিনার চিঠি পড়ার সময় ইংরেজীতে পড়ানো হয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশে থাকে তার ইংরেজ়ি চিঠি লেখার কোন কারন নেই। বাংলায় পড়ে নিচে ইংরেজী সাবটাইটেল দিলেই হত।
২। বিরতির আগের ১৫ মিনিটের গতি খুব ধীর ছিল।


ভালো লেগেছেঃ
১। কাহিনী এবং সংলাপ।
২। চমৎকার আবহ সঙ্গিত ( জোসেলিন পোককে এত দিন শুধুমাত্র প্রতিভাবান ভায়োলিন বাদক হিসেবেই চিনতাম।)
৩। তানীশা চট্টোপাধ্যায়, ক্রিষ্টোফার সিম্পশন,সতিস কৌশিকের অনবদ্য অভিনয়।
৪। অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি।

আমি ব্রিক লেন মুভিটিকে সাড়ে ৩ ষ্টার দিলাম ( ৫ এর ভিতর)

ব্রিক লেন অফিসিয়াল ওয়েব সাইট
ব্রিক লেন মুভি ট্রেইলার
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781360 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28781360 2008-03-22 02:48:11
আজ আমার জন্মদিন <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
আজ থেকে ২৮ বছর আগে এক তুমুল ঝড়ের রাতে বরিশালের একটা অজপাড়াগায়ের ছনের কূড়ে ঘরে আমার জন্ম। আজ বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে এই মেলবোর্ন বসে খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। ইস কত মজাই না করতাম ছোটবেলার এই দিনে। আপাতত কিছু করার নেই। অনেকক্ষন মা , বাবার সাথে ফোনে কথা বলে আসলাম।

মন উদাস উদাস লাগছে তাই লগ ইন করলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28779724 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28779724 2008-03-16 23:16:09
ভাষার জন্য ভালোবাসা ( মুহম্মদ জাফর ইকবাল )
২.
এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডাকটিকেট বের করছে−খবরের কাগজে তার ছবি দেখেছি! ডাকটিকেটের মাঝখানে আমাদের শহীদ মিনারের ছবি−দেখেই মনটা ভালো হয়ে যায়! (আমার পরিচিত যারা আমেরিকায় আছে, তাদের সবাইকে বলে রেখেছি বেশি করে সেই ডাকটিকেট কিনে বেশি করে সবাইকে চিঠি লিখতে।) আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি স্বদেশের সীমানা পার হয়ে একটা আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে−কী চমৎকার একটা ব্যাপার। কিছুদিন আগে জাপান গিয়েছিলাম, সেখানে গিয়ে দেখি টোকিও শহরের মাঝখানে একটা পার্কে আমাদের শহীদ মিনার; আকারে একটু ছোট, কিন্তু একেবারে একশ ভাগ বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার শহীদ মিনার। যখনই একুশে ফেব্রুয়ারি আসে, তখনই আমার বাংলাদেশের সেই তরুণদের কথা মনে পড়ে, যাদের আন্তরিক চেষ্টায় এটা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। তাদের জন্য আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি যত দুর জানি একুশে ফেব্রুয়ারি যেভাবে সারা পৃথিবীর জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়ে গেছে, ঠিক সেভাবে পঁচিশে মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা প্রতিরোধ দিবস হওয়ার একটা প্রক্রিয়া অনেক দুর এগিয়ে গিয়েছিল। জোট সরকারের আমলে সেই প্রক্রিয়াটা এগিয়ে নেওয়া যায়নি। কারণ, এসব ব্যাপারে সরকারের একটু সাহায্যের দরকার হয়। যারা গণহত্যায় সক্রিয় সহযোগিতা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামীই জোট সরকারের অংশ ছিল, কাজেই পঁচিশে মার্চকে একটা আন্তর্জাতিক দিবস করার চেষ্টা করাটাই তখন নিশ্চয়ই একটা বড় অপরাধ ছিল। সেই মানুষগুলো এখন ক্ষমতায় নেই; এখন কি আবার প্রক্রিয়াটা শুরু করা যায় না? আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক লোকজনই জেলে আছেন; জামায়াতে ইসলামীর প্রেতাত্মা এখনো এই সরকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না−তাহলে মনে হয় আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।


৩.
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হওয়ায় আমাদের সবার নতুন এক ধরনের আত্মোপলব্ধি হয়েছে, যার খুব দরকার ছিল। আগে আমরা ধরেই নিতাম একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই বাংলা ভাষার জন্য ভালোবাসা, এখন আমরা আমাদের ভাবনাটাকে আরও একটু বড় করেছি। এখন বলছি এবং ভাবছি একুশে ফেব্রুয়ারি মানে শুধু বাংলা ভাষা নয়, যার যার মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা। আমরা যারা বাংলায় কথা বলি তাদের জন্য কোনো পরিবর্তন হয়নি, এখনো আমরা বাংলার জন্যই মমতাটুকু ঢেলে দিই। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা স্বীকার করে নিই, এই দেশে সবাই বাংলায় কথা বলে না, অনেকেরই নিজের আলাদা মাতৃভাষা আছে এবং এখন অনেকটা আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়ে গেছে তাদের মাতৃভাষাটিকে তারা যেন ভালোবাসতে পারে, তার একটা সুযোগ করে দেওয়া। আমার ধারণা, আমরা অনেকেই চিন্তা করিনি যে আমাদের ছোট ছেলেমেয়েরা যখন প্রথম স্কুলে যায়, সেখানে অ আ ক খ শেখে, সেটা শিখে নিজের ভাষায়। কিন্তু যখন একজন চাকমা, মারমা, গারো কিংবা সাঁওতাল শিশু প্রথম স্কুলে যায়, সেখানে তার বর্ণপরিচয়টা মোটেও মাতৃভাষায় হয় না−সে একটা ভিন্ন অপরিচিত ভাষায় তার লেখাপড়া শুরু করে। সারা দেশের সব মানুষের জন্য এক ধরনের প্রমিত ভাষার দরকার আছে (এবং সেটা যেন গেসি, খাইসি, করসি টাইপের প্রমিত ভাষা না হয়), কিন্তু যাদের মাতৃভাষা বাংলা নয়, তারাও যেন নিজের ভাষায় অন্তত লেখাপড়া শুরু করতে পারে, তার একটা ব্যবস্থা করে দেওয়া দরকার। তাদের সেই অধিকার আছে, রাষ্ট্রকে প্রথমে সেই অধিকার স্বীকার করে নিতে হবে, তারপর প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শুরু করা যেতে পারে। ব্যাপারটার গুরুত্ব বোঝা কঠিন নয়, আমাদের ছোট বাচ্চারা পাংশু মুখে স্কুলে যাচ্ছে, সেই স্কুলে লেখাপড়া হয় হিব্রু ভাষায়−ব্যাপারটা অনেকটা সে রকম। আমরা কি সেটা সহজভাবে নিতে পারতাম? তাহলে কেমন করে আমাদের চাকমা, মারমা, গারো আর সাঁওতাল শিশুদের তাদের মাতৃভাষা থেকে ভিন্ন একটা ভাষায় লেখাপড়া শুরু করার জন্য পাঠাচ্ছি?

৪.
শুধু যে চাকমা, মারমা, গারো আর সাঁওতাল শিশুরা তাদের মাতৃভাষার বাইরে ভিন্ন একটা ভাষায় লেখাপড়া করে, সেটা কিন্তু সত্যি নয়; এই দেশের আরও অনেক শিশুকে কিন্তু মাতৃভাষার বাইরে ভিন্ন একটা ভাষায় লেখাপড়া করতে হয় এবং সেই ভাষাটার নাম ইংরেজি।
যে কারণেই হোক আমাদের দেশের অনেক মানুষের ধারণা হয়েছে, ইংরেজিতে লেখাপড়া না করলে এই দেশে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এখন অনেক মধ্যবিত্ত পর্যন্ত খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের ইংরেজি মিডিয়ামে লেখাপড়া করাচ্ছেন। ইংরেজির গুরুত্বটা মানুষের কাছে কত বেশি, সেটা বোঝা যায় কিছু কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে। সেখানে কেউ বাংলায় কথা পর্যন্ত বলে না। এর এক ধরনের ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশেই একটা প্রজন্ন তৈরি হয়েছে, যারা আসলে এই দেশের ঐতিহ্য ইতিহাস সংস্কৃতি বা ভাষা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।
বিত্তশালীদের জন্য যে রকম লেখাপড়াটা হয়েছে ইংরেজি মাধ্যমে, ঠিক সে রকম এই দেশের গরিব মানুষের লেখাপড়াটা হচ্ছে মাদ্রাসায়। (অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম আছে, পরকালে সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেক পরিবারই তাদের সব ছেলেমেয়েকে আধুনিক স্কুল-কলেজে পড়ান, একজনকে রেখে দেন মাদ্রাসায়।) আমাদের দেশের লেখাপড়ার মোট বিভাজন গুনে শেষ করা যাবে না, কিন্তু মূল বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি এই ইংরেজি মাধ্যম আর মাদ্রাসা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যত দিন পর্যন্ত আমরা এই তিনটা অংশের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয় করতে না পারব, তত দিন আসলে এই দেশের লেখাপড়ার বিষয়টা নিয়ে আমরা কেউ স্বস্তি পাব না।
এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে এই আধুনিক পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষার একটা গুরুত্ব আছে। আমাদের দেশের সফটওয়্যার শিল্পের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তাদের প্রধান অভিযোগ−বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়া ছেলেমেয়েদের ইংরেজির জ্ঞান খুব কম। তারা নিজেদের ঠিক করে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না, ই-মেইল পাঠাতে পারে না, সেমিনারে বক্তব্য দিতে পারে না, রিপোর্ট লিখতে পারে না। তাদের অভিযোগের সত্যতা আছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের যথাসাধ্য ইংরেজিতে পড়ানোর চেষ্টা করি, কিন্তু তারা যখন স্কুল-কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে, তখন তাদের ইংরেজির জ্ঞান থাকে খুব কম থাকে। প্রথম কয়েকটি সেমিস্টারে তাদের চোখের জল আর নাকের জল এক হয়ে যায় ইংরেজি টেক্সট বই পড়ে তার মর্মোদ্ধার করতে।
অথচ মোটেও এ রকমটি হওয়ার কথা ছিল না। তারা স্কুল ও কলেজে সব মিলিয়ে ১২ বছর ইংরেজি পড়ে। যে ছেলে কিংবা মেয়ে ১২ বছর ইংরেজি পড়ে এসেছে, তার আর যেকোনো সমস্যাই থাকুক না কেন, ইংরেজিতে তো সমস্যা থাকার কথা নয়। ১২ বছরে এ ভাষাটিতে তো তার একটা ভালো দখল হয়ে যাওয়ার কথা।
কিন্তু আমরা জানি তার ভালো দখল দুরে থাকুক, কোনো দখলই হয় না। শুধু ইংরেজি নয়, অন্য বিষয়গুলোতেও তার দখল হয় না। ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানো হয়, শেখার জন্য নয়। মুখস্থ করে, প্রাইভেটে পড়ে, কোচিংয়ে পড়ে ছেলেমেয়েরা ভয়ঙ্কর একটা নিরানন্দ জীবন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ালেখা করতে আসে, তাদের গড়েপিটে মানুষ করা কী সোজা কথা?
লেখাপড়া করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখা। একজন ছাত্র বা ছাত্রী সত্যিকার অর্থে ঠিকভাবে শিখতে পারবে তার মাতৃভাষায়। এটা বুঝতে তো কারও আইনস্টাইন হওয়ার দরকার নেই যে, বাংলাদেশে আমরা যদি ঠিকভাবে লেখাপড়াটা করাতে চাই, এই দেশের ছেলেমেয়েকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো শেখাতে হবে তার মাতৃভাষায়। যদি অন্য কোনো ভাষায় শেখাতে চাই−গোড়াতেই আমরা খুব বড় একটা ভুল করে বসে থাকি।
যেহেতু লেখাপড়া নিয়ে কথাটা উঠেই গেছে, অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটা ভিন্ন জিনিস সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া যায়। কিছুদিন আগে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবিষ্ককার করেছেন, মনে রাখার প্রতিযোগিতায় শিম্পাঞ্জিরা মানুষকে হারিয়ে দিয়েছে, যার অর্থ খুব সহজ: মানুষের মস্তিষ্কক মনে রাখার জন্য তৈরি হয়নি−মানুষের মস্তিষ্কক তৈরি হয়েছে সৃজনশীল কাজের জন্য। কাজেই আমরা যখন আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করার কথা বলে মুখস্থ করার একটি প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিই, আমরা তখন আসলে তাদের শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিই। আমরা চাই না আমাদের ছেলেমেয়েরা শিম্পাঞ্জির একটা বৈশিষ্ট্য অর্জন করার জন্য পরিশ্রম করুক, আমরা চাই তাদের পরিশ্রমটুকু ব্যয় করা হোক মানুষের একটা বৈশিষ্ট্য অর্জন করার জন্য। একটি ছেলে বা মেয়ে যখন পরেরবার কিছু একটা মুখস্থ করতে বসবে, সে যেন কথাটা মনে রাখে।

৫.
বাংলা ভাষায় কথা বলে এ রকম মানুষ বাংলাদেশে যে রকম আছে, ঠিক সে রকম পশ্চিম বাংলাতেও আছে। মানুষগুলো দুটো ভিন্ন দেশে থাকার কারণে তাদের ভাষার বিবর্তন হচ্ছে একটু ভিন্নভাবে−কিন্তু এখনো ভাষাটি এক। বানানের নিয়ম নিয়ে ছোটখাটো পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এক বাংলার মানুষের ভাষা ও অন্য বাংলার মানুষের ভাষার মধ্যে গুরুতর কোনো পার্থক্য নেই। তবে আমি কিছুদিন আগে পশ্চিম বাংলায় গিয়ে একটি সম্পুর্ণ ভিন্ন জিনিস দেখেছি। বাংলা ভাষাটি বাংলাদেশ নামে একটি রাষ্ট্রের ভাষা। এ ভাষাটি এখানে অনেক গৌরব আর অহংকার নিয়ে বিকশিত হচ্ছে। পশ্চিম বাংলায় বাংলা ভাষায় সেই গৌরব নেই, সেই অহংকারও নেই। সেই বায়ান্ন সালে ভাষাটিকে আমরা একটা মর্যাদার আসনে বসিয়ে ফেলেছি, ব্যাপারটা আমাদের জন্য এখন এত স্বাভাবিক যে আমরা এখন সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না। পশ্চিম বাংলার বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এখনো সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি। তাদের ভেতরে ভাষা নিয়ে এক ধরনের অপূর্ণতা, এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অনেক বেশি টাকা-পয়সা আছে যেসব মানুষের, তাদের ভাষা এসে সেখানে বাংলা ভাষাকে কোণঠাসা করে ফেলছে। আমাদের খুব সৌভাগ্য, বাংলা ভাষাটি এখন বাংলাদেশ নামের একটা দেশের ভাষা−এই ভাষাটিকে কেউ এখানে কোণঠাসা করে ফেলতে পারবে না।
সাধারণত বাংলা ভাষার কথা বললেই আমরা বাংলাদেশ আর পশ্চিম বাংলার কথা বলি। কিন্তু সেদিন একজন আমাকে বাংলা ভাষায় কথা বলে সে রকম তৃতীয় একটি জনগোষ্ঠীর কথা স্নরণ করিয়ে দিলেন−সেটা হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশি। আমি কিছুদিন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঠিক সংখ্যাটি বের করার চেষ্টা করছিলাম; কোনো একটি কারণে সেটা বের করতে পারিনি। অনুমান করা যায়, সংখ্যাটি ৬০ লাখ থেকে প্রায় ৮০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। সেটা শুনে আমার মাথা ঘুরে গেছে। বাংলা ভাষায় কথা বলে এমন যত মানুষ বিদেশে আছে, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে তত মানুষ নেই। আমার মনে হয়, প্রবাসীদের কথা মনে রেখে আমাদের সম্পুর্ণ নতুনভাবে চিন্তা করা উচিত। আমাদের মনে করা উচিত বাংলাদেশটিই এখন তার নিজের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে আরও বড় হয়ে গেছে। যেখানে বাংলাদেশের মানুষ আছে, যেখানকার মানুষ বাংলায় কথা বলছে, সেটাই হচ্ছে খানিকটা বাংলাদেশ!
সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এইসব ‘খানিকটা করে বাংলাদেশ’ আর আমাদের এই ভৌগোলিক বাংলাদেশের সব মানুষকে যে-জিনিসটা একটা পারিবারিক বন্ধন হিসেবে এক করে রেখেছে, সেটা হচ্ছে আমাদের বাংলা ভাষা। যে-দিনটিতে এই বাংলা ভাষার প্রতি গভীর মমতা দেখিয়ে এই দেশের মানুষ পৃথিবীর মানুষকে মাতৃভাষার মর্যাদা শিখিয়েছে, সেই দিনটিতে সবার জন্য রইল মাতৃভাষার ভালোবাসা!
ভাষার জন্য ভালোবাসা থেকে সুন্দর ভালোবাসা আর কী হতে পারে?


লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আজকের প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত।

লিঙ্ক]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28772854 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28772854 2008-02-21 22:55:34
শৈশবে একুশে ফেব্রুয়ারি

চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের মোহন লাল স্যার ক্লাসে এসে বললেন যারা যারা একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে সামনে আয়জিত কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় আগ্রহি তারা যেন আজকেই নাম জমা দেয়।জামাল, উপল আর শাওনের সাথে সাহস করে আমিও নাম জমা দিয়ে দিলাম। মা র কাছে গেলাম...


মা, আমাকে একটা কবিতা শিখিয়ে দেবে?

কবিতা তোর বাবা ভাল জানে। তোর বাবাকে বল। তোকে কবিতা বাছাই করে দিবে

কিন্তু বাবা যে লিখালেখি করছে?

তাতে কি ? তুই গিয়ে বল , দেখবি তোর বাবা কত খুশি হবে।


আমি উপর তালায় বাবার বিশাল রুমে গেলাম । রুম ভরতি বই, দেয়ালের উচূ তাকে তাকে ভরা বাংলা ইংরেজি ভাষার না না বই। রবিন্দ্রনাথ,নজরূল, বঙ্কিম চন্দ্র, মাইকেল, সুকান্ত থেকে সুরু করে হোমার,নেহেরুর লেখা বই সবই আছে। চারিদিকে অনেক কাগজ পরে আছে। রুম ভরতি পত্রিকা ম্যাগাজিন। বাবা মোটা চশমা পরে জানালার পাশের একটা বড় টেবিলে বসে কলম নিয়ে জানি কিসব লিখছে।


বাবা আসব?

আয়

বাবা আমাকে একটা কবিতা আবৃত্তি শিখিয়ে দেবে?

অবস্যই, কিন্ত হতাৎ কবিতা আবৃত্তি করতে চাচ্ছিস কেন?

বাবা আমি ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারের সামনে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছি।

খুবি ভাল । তোরা অনেক বড় হয়ে গেলি দেখতে দেখতে। তা ১৯৫২ সালেম ২১ শে ফেব্রুয়ারী কি হয়েছে তা তুই জানিস?

কিছুটা শিহ্মকদের কাছ থেকে শুনেছি । ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ২১ তারিখে বাংলা ভাষার জন্য মিছিলে গুলি করে পাকিস্তানিরা।তবে খুব একটা বিস্তারিত জানি না।

ঠিক আছে , একুশে ফেব্রুয়ারী তে কবিতা পড়ার আগে আমাদের জানতে হবে ১৯৫২ সালের এই দিনে কি হয়েছে। কেন আমরা সকালে উঠে খালি পায়ে তোদের হাত ধরে শহীদ মিনারে যাই। নাই না?

বাবা তুমি কি আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারির গল্প বলবে?

অবশ্যই বলব। তোদের বলব না ত কাদের বলব? তুই চট করে তোর দিদিকে দেকে আন । আর মাকে খুব সুন্দর করে এক কাপ চা দিতে বল।


সে রাতে বাবা মা আমাদের একুশের কথা বলেন। বাবা যখন সিকান্দর আবু জাফরের “মাগো, ওরা বলে সবার কথা কেড়ে নেবে।তোমার কোলে শুয়ে গল্প শুনতে দেবে না। বলো, মা, তাই কি হয় ?” শুনাল আমার দিদি তখন খুব মন খারাপ করল। একটি ছোট্ট কবিতা কারো চোঁখে জল এনে দিতে পারে, এটাও আমি প্রথম জানলাম।


একুশের কবিতা পরতে যাব । নিজের কাছেই অন্য রকম লাগছে।আমি এত লোকের সামনে কোন দিন মঞ্চে উঠি নাই। মঞ্চে থেকে যখন আমার ইরতেজা নাম তা বলা হল বুকের ভিতর কেমন জানি একটু ভয় ভয় করল। কিন্তু শহীদ মিনারের সামনে দাড়ালে আর ওর দিকে বড় লাল রঙের সূর্যটার দিকে তাকালে সাথে সাথে অন্য রকম একটা সাহসের জন্ম নেয়। আসলে শহীদ মিনারটাত আমাদের সাহসের আর অনুপ্রেরনার প্রতিক। পুরস্কার দিতে এসেছেন মহিউদ্দিন চাচা। উনাকে প্রায় দেখি আমাদের বাসায় বাবার সাথে গল্প করতে। লাল ফিতা মাথায় বাধা সাদা কামিজ পরা একটা মেয়ে খুব ভাল কবিতা আবৃত্তি করে প্রথম হল। আমি পেলাম বাকি সবার মত সান্তনা পুরস্কার । পুরস্কার নেবার সময় মহিউদ্দিন চাচা আমাকে বুকে জরিয়ে ধরল আর সবাইকে বলল, এ কার ছেলে তোমরা জান ত? এ হচ্ছে আমার ছেলে। মঞ্চে আমি মাথা নেরে মুচকি হেসে তাতে সম্মতি দিতাম।


২১ শে ফেব্রুয়ারি দিন সকালে সাদা পাঞ্জাবি পরে বাবার সাথে সকাল সকাল শহীদ মিনারে গেলাম। খুব ছোটবেলায় ৮ই ফাল্গুন কি ভাল করে বুঝতাম না।আমার কাছে আগে মত হত এমন একটা দিন বিদ্যালয়ে বন্ধ থাকে, বাসা ভরতি অনেক অনেক লোকজন আসে, সাংবাদিক, আর্মির লোকজন, সিটি কলেজ থেকে মামারা আসে , বুয়া বিরক্তি প্রকাশ করে চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলা “তয়ারা এক দিনত আর খত খত চা খাউন পরিব, এডে চা খাইবাড় লাই আয়ো নাকত”, লাভ লেইনের রাস্তায় টেনিস বলে ক্রিকেট খেলা, পাশের বাসার আপুদের শাড়ি পরা দেখে আবাক হওয়া, রাতে টিভিতে বিশেষ বিশেষ নাটক দেখা। আমার আগে খুব বিরক্ত লাগত সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে।আমার সব স্কুল ছুটিতে আমি দেরি করে ঘুমতে পারতাম। কিন্তু ২১ সে ফেব্রুয়ারী সেই সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতে হত। নাস্তা খেয়ে দাঁত মেজে বাগান থেকে ফুল তুলে বাবার হাত ধরে শহীদ মিনারে যেতে হত। কিন্তু গত দুইদিন আগে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শাফিকুর রাহমান, অহি উল্লাহ, আব্দুল আউয়ালদের আত্মত্যাগের কথা শুনে আমি এবার নিজের থেকেই উঠলাম। নিজের আলমারি থেকে সাদা পায়জামা পরতাম, মাথা সিতি করে আচরিয়ে বাবা কে বলাম “ চল বাবা, প্রভাত ফেরীতে যাই”।

আমাদের বাসা থেকে শহীদ মিনার খুব একটা দুরেও না। লাভ লেইন থেকে বের হয়ে ডিসি হিলের পাসের রাস্তা ধরে টিএনটি টাওয়ার পেরুলেই শহীদ মিনার। আহা কি সুন্দর দেখতে ।যত দেখি ততই আবাক হই। সামান্য একটা ইটের তৈরি ভাস্কর কিন্তু সামনে আসলেই মনের ভিতর কেমন জানি লাগে। সারা দুনিয়ায় আর কোন জাতি কি আছে যে গর্ব করে বলতে পারে আমাদের মত। কত রক্ত, বেদনা, আনুপ্রেরনা, আবেগ জরিয়ে আছে ৮ই ফাল্গুনে। আমার মায়ের ভাষা আমাদের রক্তের প্রতিটা শিরায় শিরায় মিশে আছে। মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা।



আজকে ৮ ই ফাল্গুন। একটু আগে আজান দিল। বাবা মা ফজরের নামাজ পরল।এখনও চারিদিকে অন্ধকার । সকাল হবার আগে আকাশ তা কেমন জানি লাল লাল হয়ে যায়। কি সুন্দর ঠান্ডা বাতাশ বহে। নানু বলছে সকাল বেলার বাতাশ নাকি বেহেস্তের বাতাশ। তাই সবার উচিত সকালে উঠে বেহেস্তের বাতাশ গায়ে লাগান। আমি ঘুম থেকে উঠে তারাতারি নাস্তা খেয়ে সাদা পায়জামা পরে তৈরি হয়ে এক দৌড়ে বাগানে গেলাম। আমাদের বাসার সামনের বাগানে কত কত গাছ। সকাল বেলা গাছগুলাও কত সবুজ সবুজ লাগে। আমাদের গোলাপ গাছে দেলোয়ার মামা পানি দিচ্ছে। আমারে দেখে খুশি হয়ে দেলোয়ার মামা কালকের রাতের কলিগুলো কি সুন্দর লাল লাল গোলাপ হয়ে ফুটেছে তা দেখাল। আমি বললাম আমি কিন্তু আজ বাগানের সবগুল ফুল ছিড়ব তুমি কিন্তু কিছু বলতে পারবা না।

ফুল ছিড়তে গিয়ে হাতে কাঁটা ফুটলে আফা বকা দিবে। আমি ছিড়ে দেই।

না ফুটবে না। আমি একাই ছিড়ব।

আমি ফুল তুলতে তুলতে দেখি দিদি ঘুম থেকে উঠে আসল। আমাকে দেখে ভেংচি কাটল। দিদি জিব্বা বের করে ভেংচি কাটলে ওর ফকলা দাঁত দেখা যায়। ফকলা বুড়ি।

আমরা শহীদ মিনারে যাচ্ছি। আমার এক হাতে লাল লাল গোলাপ ফুল আরেক হাতে বাবার হাত শক্ত করে ধরা। আমার পায়ে জুতা থাকলেও বাবা খালি পায়ে হেটে হেটে শহীদ মিনারে যাচ্ছে...
তোর হাটতে কষ্ট হচ্ছে নাকি।

না একদম না।

কিছু খাবি?

একটু আগে না বাসা থেকে খেয়ে আসলাম।

হু তাও থিক, বাসায় আসার সময় রিক্সায় আসব

ঠিক আছে।

আজ তোকে একটা চকবারও কিনে দিব।

মা আইস ক্রিম খেতে মানা করছে

একদিন খেলে কিছু হবে না।

আসলেই, কি মজা

তোর কি ঠান্ডা লাগছে?

না বাবা

আমার চাদরটা গায়ে দিবি?

না আমি ত সোয়েটার পরে আছি

বাসা থেকে মাফলার তা নিয়ে আসা উচিত ছিল। কানটা ধেকে রাখতে পারতি

বললাম ত ঠান্ডা লাগছে না

তুই এক কাজ কর আমার ঘাড়ে উঠ। তাহলে অনেক দূর পযর্ন্ত দেখতে পাবি

বাবা এত বড় ছেলেরা বাবার ঘাড়ে উঠে না

কি এমন বড় হলি?।মাত্র ক্লাস ফোরে পরিস

অনেক বড় বাবা।

তুই যখন অনেক বড় হবি যখন আমি অনেক বুড়ো হয়ে যাব হাটতে পারব না

কেন বুড়ো হলে লোকজন হাটতে পারে না নাকি?

ধর আমি পারলাম না। হুইল চেয়ারে সারা দিন বসে থাকি। তখন তুই আমার হুইল চেয়াল ঠেলে ঠেলে একুশে ফেব্রুয়ারীর প্রভাত ফেরীতে নিয়ে যাবি

যাব বাবা জাব

সত্যি

বাবা তুমি এত দূর খালি পায়ে হেটে হেটে যাচ্ছ। তোমার পা বেথ্যা করে না?

না করে না। আমি তোকে একটা কৌশল শিখিয়ে দেই

কি কৌশল?
কৌশলটা হল তুই যখন হাটবি তখন তুই ওদের মত সুর করে করে বলবি

“আমার ভায়ের রক্তের রাঙ্গানো
একুশে ফেব্রুয়ারি- আমি কি ভুলিতে পারি?
ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু
গড়া এ ফেরব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি?
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙ্গানো ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?”

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28772462 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28772462 2008-02-20 22:43:03
সিডর দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান
অবর্ণনীয় এক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ উপকুলীয় অঞ্চল। দুর্যোগে বিপর্যস্ত লক্ষাধিক মানুষ এখন আশ্রয়হীন। খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এক মুঠো খাবার জন্য বুভুক্ষু। সবখানে খাবার পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সহায়-সম্বলহীন মানুষের ঘরের কোন কিছুই আজ আর অবশিষ্ঠ নেই। অসহায় শিশুরা রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। চারিদিকে মহামারি ছরিয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ ও আমাশয়ের প্রাদুর্ভাব। খোলা আকাশের নিচে বিপর্যস্ত মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। লজ্জা নিবারণের এক টুকরো বস্ত্র কোন রকম গায়ে জরিয়ে খোলা আকাশের নিচে শীতার্ত মানুষরা ঠাণ্ডায় কাপছে । স্বজনের লাশ দাফনের জন্য সাদা একটুকরা কাফনের কাপড়ও তাদের নেই। উপকূলীয় জনপদে চারদিকে শুধু হাহাকার আর শোকের মাতম। স্বজনহারা, আশ্রয়হীন ক্ষুধার্ত মানুষের গগনবিদারী করুণ আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ বিপর্যস্ত মানুষের পাশে এসে দাড়ান। দেশের এ মহা বিপদে নিয়ে এগিয়ে আসুন। নিচে আপনাদের জণ্য আর্থিক সাহায্য পাঠানোর কিছু লিংক দিলাম। প্রবাসী এবং দেশের সব মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য যে যা পারেন তাই নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। আপনার দেওয়া সাহায্যের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে অগণিত দুর্গত মানুষ।

বাংলাদেশ থেকে সাহায্য করতে চাইলে

জাতীয় ত্রাণ কমিটি
সঞ্চয়ী হিসাব নং: জাতীয় ত্রাণ কমিটি, নং-১১-৯৭৬৫,
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড,
সাতমসজিদ রোড শাখা,
ধানমন্ডি,
ঢাকা।


প্রধান উপদেষ্টা ত্রান ও কল্যান তহবিল
Chief Adviser’s Relief & Welfare Fund
Current Account No. 33004093
Sonali Bank, Prime Minister’s Office Branch
Tejgaon, Dhaka

ওয়েব সাইট

বাংলাদেশ রেড-ক্রিসেন্ট সোসাইটি
Bangladesh Red Crescent Society
A/C No. 01-1336274-01
Standard Chartered Bank
Dhaka Bangladesh
SWIFT Code: SCBLBDDX
ওয়েব সাইট


প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডে আর্থিক সাহায্য পাঠাতে চাইলে

The International Federation of Red Cross and Red Crescent Societies
ওয়েব সাইট

World Vision Bangladesh Cyclone Relief
ওয়েব সাইট


Support Save the Children's Response to the Cyclone in Bangladesh

ওয়েব সাইট


The Mahmood Memorial Fund
Association for Bangladeshi Students
Virginia Tech
Blacksburg, Virginia 24061
ওয়েব সাইট


অন্যান্য সরকারী ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা


Ministry of Food and Disaster Management, Government of the People's Republic of Bangladesh

ওয়েব সাইট


The UN Office for the Coordination of Humanitarian Affairs (OCHA)

ওয়েব সাইট


Oxfam
ওয়েব সাইট


CARE Bangladesh
ওয়েব সাইট
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28746327 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28746327 2007-11-19 11:37:08
একাত্তরের ঘাতক দালাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে অনলাইন পিটিশন
আমাদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ সকল ঘাতক দালাল যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ী দোষী ব্যক্তিকে ACT NO XIX OF 1973 ( provide for the detention, prosecution and punishment of persons for genocide, crimes against humanity, war crimes and other crimes under international law) অনুযায়ী বিচার করুণ।

Click This Link

অনলাইন পিটিশন লিঙ্ক এখানে

আসুন সাক্ষর করি
আমাদের পরিচিত সবাইকে সক্ষর করতে বলি
সব ই-মেইল গ্রুপে ছড়িয়ে দেই লিঙ্ক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28742413 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28742413 2007-11-03 22:21:11
ঘৃণা থেকে মুক্তি চাই (মুহম্মদ জাফর ইকবাল ) আমরা যারা একাত্তরকে নিজের চোখে দেখেছি, শুধু তারাই জানি ঘৃণা কাকে বলে। এই পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষ নেই, যারা আমাদের মতো করে সেই ঘৃণাকে অনুভব করতে পারবে। এই ঘৃণা শুধু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য নয়, এই ঘৃণা শতগুণে বেশি একাত্তরের রাজাকার-আল-বদর, আল-শামসদের জন্য, যার বেশির ভাগ ছিল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য। আমার কাছে কেউ যখন জানতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য তারা কোন বই পড়বে, আমি তখন তাদের শুরু করার জন্য যে চারটি বইয়ের নাম বলি তার একটি হচ্ছে পাকিস্তানি মেজর সিদ্দিক সালিকের লেখা উইটনেস টু সারেন্ডার বইটি। সেই বইয়ের এক জায়গায় লেখা আছে, পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদেরা সরাসরি মিলিটারি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিল যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করার জন্য রাজাকার-আলবদর-আল শামস নামে যে আধা সামরিক বাহিনী তৈরি করেছে, সেটা আসলে জামায়াতে ইসলামীরই বাহিনী। সেই একাত্তরেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীই নির্দেশ দিয়েছিল, ব্যাপারটা যেন এত খোলামেলাভাবে প্রকাশ না পেয়ে যায়।

সেই জামায়াতে ইসলামীর বদর বাহিনীর কমান্ডার এখন বলছে, এ দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই? রক্তস্মাত এই দেশে সেই মানুষগুলো এত বড় দুঃসাহস কোথা থেকে পায়?

২.
১৯৭১ সালে দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকদের নিয়ে যে আধাসামরিক বাহিনীগুলো তৈরি করা হয়েছিল, তার মধ্যে রাজাকার বাহিনী ছিল সমাজের একেবারে নিচু শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে। সেই একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এত হম্বিতম্বির পরও কোনো আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়নি। যারা যোগ দিয়েছিল, তারা ছিল ভীতু ও কাপুরুষ, একজন মুক্তিযোদ্ধা এক-দুজন নয়, একসঙ্গে এক-দুই শ রাজাকারকে বন্দী করে ফেলতে পারত। সেই তুলনায় বদর বাহিনী ছিল অনেক ভয়ঙ্কর। তার কারণ, এই বাহিনীর সদস্য ছিল জামায়াতে ইসলামীর সে-সময়কার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যরা। একজন সাধারণ মানুষ যত বড় অপরাধীই হোক, অন্য একজন মানুষকে হত্যা করতে ইতস্তত করে, অপরাধ বোধে ভোগে কিন্তু এই বদর বাহিনী ইতস্তত করত না, তাদের ভেতর কোনো অপরাধবোধ ছিল না। কারণ তারা হত্যাযজ্ঞ চালাত ইসলামের নামে, পাকিস্তানের নামে। একাত্তরে, সমগ্র পাকিস্তান আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামীর দেওয়া দুই-একটি ‘বাণী’ পড়লেই সেটা বোঝা যায়। যেমন যশোরে রাজাকার বাহিনীর সভায় বলা হয়েছিল, ‘আমাদের প্রত্যেককে একটা ইসলামি রাষ্ট্রের মুসলমান সৈনিক হিসেবে পরিচিত হওয়া উচিত এবং মজলুমকে আমাদের প্রতি আস্থা রাখার মতো ব্যবহার করে তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে ওই সব ব্যক্তিকে খতম করতে হবে, যারা সশস্ত্র অবস্থায় পাকিস্তান ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত আছে!’ (প্রথম আলো, ৩০ অক্টোবর ২০০৭) তারা সবাই মিলে এই দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ‘খতম’ করেছে। স্বাধীনতাযুদ্ধের একেবারে শেষমুহুর্তে যখন আবিষ্ককার করেছে সত্যি এ দেশটি স্বাধীন হতে যাচ্ছে, তখন যেন এই দেশটি মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে জন্য এই দেশের বুদ্ধিজীবীদের ‘খতম’ করেছে। স্বাধীনতাযুদ্ধের এত বছর পরও সেটি নিয়ে তাদের ভেতরে কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো অপরাধবোধ নেই। এখন দেখছি তাদের ভেতরে এক ধরনের অহঙ্কার আছে! পূর্ব পাকিস্তান আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়, এই দেশে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী নেই, ছিল না!

কেমন করে এটা ঘটেছে আমরা সেটা খানিকটা জানি, খানিকটা অনুমান করতে পারি। ১৯৯৪ সালে দেশে ফিরে এসে আমি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি; কিছুদিনের ভেতরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ আমাকে একটা তদন্ত কাজে লাগিয়ে দিল। ছাত্রদলের ছেলেরা তখন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের তেজস্বী কন্ঠস্বর। তারা কোনো একটা অনুষ্ঠানে রাজাকারদের গালাগাল করেছে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন ছাত্র তখন একজন ছাত্রনেতাকে চাকু মেরে দিয়েছে। আমি আমাদের তদন্ত কমিটি নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছি। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে শিবিরের ছেলেটিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্ককার করা হয়েছিল।

তারপর এই দেশে খুব বিচিত্র একটা ব্যাপার ঘটল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রাজাকারদের বিপক্ষে কথা বলার জন্য যে তেজস্বী ছাত্রটি চাকু খেয়েছিল, তার রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একটা জোট করল। আমি খবরটি একবার, দুইবার, একশবার পড়েও বুঝতে পারি না, যে জিয়াউর রহমান এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার, তার হাতে তৈরি দল স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করেছে? সেটা কীভাবে সম্ভব? নির্বাচনে জেতা কী এতই জরুরি? আদর্শ বলে কিছু নেই? দেশের জন্য মমতা বলে কিছু নেই?

এ রকম সময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নামকরণ নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা। একদিন আমি সবিস্নয়ে দেখি ছাত্রদলের চাকু খাওয়া সেই ছেলেটি ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিচ্ছে। বক্তৃতার বিষয় অত্যন্ত সহজ ও সরল−আমাকে কুৎসিত গালাগাল। আমি নিজের কানে শুনছি, অবিশ্বাস করি কীভাবে?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেটা ঘটেছিল, সারা দেশে সেটা ঘটতে লাগল। মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান ভুঁইয়া বদর বাহিনীর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামী আর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পাশে বসে দেশ শাসন করতে লাগলেন। আমি রাজনীতি বুঝি না, রাজনৈতিক বিশ্লেষকও নই, কিন্তু আমি ১৯৭১ সালের জামায়াতে ইসলামীকে দেখেছি, তাই আমি জানি এই দলটি কী! আমি খবরের কাগজে একদিন লিখেছিলাম, জামায়াতে ইসলামী একদিন বিএনপির হাড়-মাংস-মজ্জা শুষে খেয়ে তার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাবে।

বিএনপি ও তার হর্তাকর্তারা কি সেই ডুগডুগির আওয়াজ শুনছেন?

৩.
তবুও হিসাব মিলতে চায় না। জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপি যেভাবে দেশ শাসন করেছে, সেটা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময় দেশ শাসন। শুধু যে লুটপাট এবং লুন্ঠন তা নয়, জঙ্গি বাহিনীকে সারা দেশে পাকাপোক্তভাবে শিকড় গেড়ে বসিয়ে দেওয়া, দেশের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে নিজেদের মানুষ বসিয়ে দেওয়ার কাজটিও তারা ভালোভাবে শেষ করেছে। কিন্তু সেই পাঁচ বছরের শাসনামলেও বদর বাহিনীর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মুখ থেকে যে কথাগুলো বের হয়নি, এখন কেন সেগুলো বের হচ্ছে? প্রকাশ্য টেলিভিশনে সাবেক এক সচিবের মুখ দিয়ে সেগুলো কেমন করে সমর্থিত হচ্ছে? এই সময়টা কি বিশেষ একটা সময়?

আমার এখন মনের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে। গোয়েন্দা বাহিনী থেকে এই দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলে একটা কাগজ পাঠানো হয়েছে, সেখানে এই দেশের বিশেষ এক ধরনের বুদ্ধিজীবী আর তাদের টেলিফোন নম্বর দেওয়া আছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যখন কোনো টক শো করবে, তখন অবশ্যই এই তালিকা থেকে একজন বুদ্ধিজীবীকে রাখতে হবে। সেই বুদ্ধিজীবীর তালিকা দেখে আমার আਆেলগুডুম হয়ে গেছে, সাহস করে কোনো একটা পত্রিকা যদি সেই তালিকা প্রকাশ করত, তাহলে দেশের মানুষেরও আਆেলগুডুম হয়ে যেত। এর বড় অংশ হচ্ছে উগ্র ডানপন্থী, যদি এটাই এই দেশের বর্তমান রাষ্ট্রক্ষমতার মতাদর্শ হয়ে থাকে, তাহলে অনুমান করতে সমস্যা হয় না, শাহ আবদুল হান্নান বা মুজাহিদের ঔদ্ধত্যের শক্তিটুকু কোথায়।
তবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। এই মানুষগুলোর ধৈর্য ধরার ক্ষমতা অসাধারণ, কিন্তু যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন অবস্থার পরিবর্তন করে। মাইনাস টু, প্লাস ওয়ান, সিল দেওয়া সংস্কার, ঝড়যন্ত্র থিয়োরি−এই বিষয়গুলো কেউ বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই তারা বুঝে ফেলে। আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের এবারকার বক্তব্যটি এই দেশের মানুষের কাঁচা নার্ভকে স্পর্শ করেছে। যখন টেলিভিশনে এটা প্রচার করা হয়েছে তখনই আমার কাছে অসংখ্য টেলিফোন, এসএমএস এসেছে সেটা দেখার জন্য। এই দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী বদর বাহিনীকে আমি এত ঘৃণা করি যে তাদের যেন দেখতে না হয় সে জন্য আমি টেলিভিশনের কাছে পর্যন্ত যাই না। আমি জানি আমি একা নই, এই দুঃখী দেশটার জন্নপ্রক্রিয়া যারা দেখেছে, তাদের কারও পক্ষে এই মানুষগুলোর চেহারা দেখা সম্ভব নয়।

মনে হচ্ছে দেশের মানুষের হঠাৎ করে এক ধরনের আত্মোপলব্ধি হয়েছে, সবাই ভাবছে, এ কী হলো? যে মানুষগুলো এই দেশের স্বাধীনতাই চায়নি, যারা এই দেশের সোনার ছেলেদের আক্ষরিক অর্থে জবাই করেছে, তারা দাবি করছে, এই দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়নি? এই দেশে কোনো জেনোসাইড হয়নি? যে তথ্যগুলো আমাদের প্রজন্ন নিজের চোখে দেখে এসেছে, কয়েকদিন থেকে সেই তথ্যগুলো খবরের কাগজে আসতে শুরু করেছে। একাত্তরের পরের প্রজন্ন দেখতে শুরু করেছে পাকিস্তানের নামে আর ইসলামের নামে এই দেশে কত বড় নৃশংসতা করা হয়েছে। তারা কি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারবে?

৪.
আগামী ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ নিউইয়র্কের কিন ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশের জেনোসাইডেরে ওপর একটা সেমিনার হতে যাচ্ছে। এই সেমিনারটির জন্য খাটাখাটুনি করছে নতুন প্রজন্েনর কিছু তরুণ। আমার জানামতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে একটি সেমিনার এই প্রথম। সেমিনারে আলোচ্য বিষয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার পাশাপাশি এই দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যার কথাগুলো উঠে আসবে। সেনাবাহিনীর আজ্ঞাবহ রাজনৈতিক দল, তাদের তৈরি আধা সামরিক বাহিনী এবং সেই বাহিনী প্রধানদের নাম হিসেবে গোলাম আযম-নিজামী-মুজাহিদের নামও উঠে আসবে। সেই নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হবে, সেমিনারের পঠিত প্রবন্ধ হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে সারা পৃথিবীর তথ্যসম্ভারে সারা জীবনের জন্য সংরক্ষিত হয়ে যাবে। আমরা যখন বেঁচে থাকব না, তখনো আমাদের পরবর্তী প্রজন্ন সেই আনুষ্ঠানিক তথ্যের রেফারেন্স যুগযুগ ধরে ব্যবহার করতে পারবে। বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস রক্ষার জন্য এটি খুব বড় একটি উদ্যোগ, উদ্যোক্তাদের জন্য রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

৫.
খবরের কাগজে দেখেছি আমাদের বিজয়ের মাসে ডিসেম্বরের ৩ তারিখ মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশ হবে। এই দেশের নতুন প্রজন্ন যদি দেশকে ভালোবাসতে চায়, তাহলে তাদের দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানতে হবে। এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো গৌরবের বিষয় আর কী হতে পারে? আমরা তাই দেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানোর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। সেই অনুষ্ঠানে আমরা যখন যে মুক্তিযোদ্ধাকে অুনরোধ করেছি তারা তাদের শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দিয়ে ছোট বাচ্চাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলে আমি আবিষ্ককার করেছি, তাদের অনেকের বুকের ভেতর এক ধরনের অভিমান রয়ে গেছে। যে দেশকে রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছেন, সেই দেশে যুদ্ধাপরাধী গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাঁরা যদি অভিমান না করেন তাহলে কারা করবে?

আমার খুব ভালো লাগছে যে এবার এই দেশের মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের অভিমানের কথা ভুলে গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। সব সেক্টর কমান্ডার বলছেন, অনেক হয়েছে। আর নয়। তাঁরা এই দেশকে জঞ্জালমুক্ত করবেন। এই দেশের অবস্থা এমন হয়েছে যে সত্যি কথাটিও কেউ বলতে পারে না, তার মধ্যে একটা রাজনীতির গন্ধ খুঁজে বের করে সত্য কথাটিরও ভুল অর্থ করে ফেলা হয়। মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডারদের সেই ভয় নেই, তাঁরা এই দেশের সবচেয়ে সম্মানী মানুষ, তাঁদের নেতৃত্বে এই দেশে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম হয়েছে। তাঁদের মুখের কথা এই দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। আমরা চাই, তাঁরা আবার আমাদের একটুকু নেতৃত্ব দিন, এই দেশের ইতিহাস অনেক গৌরবের, কলঙ্কের অংশটুকু অপসারণ করার দায়িত্বটুকু তাঁরা গ্রহণ করুন। তাঁদের সঙ্গে এই দেশের সব মানুষ আছেন, থাকবেন। নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, তারাও নীতিগতভাবে মনে করে যুদ্ধাপরাধীদের এই দেশে নির্বাচনের অধিকার নেই। সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মোপলব্ধি, এক ধরনের জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে পরাস্ত করার যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল। স্বাধীনতার তিন যুগ পর তাঁরা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার শত্রুদের পরাস্ত করার নেতৃত্ব নেবেন, আমরা সেটুকু আশা করি। তাঁদের পাশে থাকার জন্য এ দেশের সব ছাত্র-শিক্ষক-জনতা প্রস্তুত হয়ে আছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই দিনগুলোর কথা স্নরণ করলে আমরা যেন এই দেশের মানুষের ত্যাগ বীরত্ব আর অর্জনের কথা মনে করার আনন্দটুকু অর্জন করতে পারি। স্বাধীনতাবিরোধীদের নৃশংসতার কথা মনে করে আমরা আর ঘৃণা, ক্রোধ আর ক্ষোভ অনুভব করতে চাই না−সেটুকু একবারের মতো আমরা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চাই।

লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আজকের প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত।

লিঙ্ক]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28742217 http://www.somewhereinblog.net/blog/irtejablog/28742217 2007-11-03 04:10:18