somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নৈশঃব্দ...

২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার কথা বলার কেউ নাই...
আমার কথা বলার কেউ নাই...
আমার কথা বলার কেউ নাই...
আমার কথা বলার কেউ নাই...
আমার কথা বলার কেউ নাই...
আমার কথা বলার কেউ নাই...

বাসায় এই মূহুর্তে আছি আমরা ৬জন মানুষ।
কিন্তু আমার সাথে কথা বলার মত কেউ নাই...নাই...নাই...

১।
নানাভাইয়া খুব অসুস্থ...আগামীকালকে ডায়ালাইসিস, উনি ঘুমাচ্ছেন...উনার জন্য যে কাজের ছেলেটা রাখা হয়েহে, মোবারক সেও ঘুমাচ্ছে...এখন অবশ্য নানাভাই কাউকে চিনতে পারেন না...আগে যখন এত বাড়াবাড়ি অসুস্থ ছিলেন না তখন প্রতিদিন একবার আমি নানাভাইয়ার সাথে গল্প করে আসতাম...একটু আধটু তর্কাতর্কিও হত...[একমাত্র আমিই নানাভাইয়ের সাথে তর্ক করতে পারি...আর কেউ পারেনা...কারণ সবাই যুক্তি দিয়ে কথা বলে আর আমি অতশত নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে সরাসরি ঝাড়ি দিয়ে তর্ক শেষ করে দিতাম...]...এখন নানাভাইয়ার রুমে যাই ঠিকই কিন্তু বেশীক্ষন থাকিনা...থাকতে ভয় লাগে...অসুখে বিকৃত হয়ে নানাভাইয়া পুরা কঙ্কালের মত হয়ে গেছেন...আমিযে উনার খুব ভক্ত ছিলাম তা নয় কিন্তু উনাকে এভাবে দেখতে খুব কষ্ট হয়...আহারে বুড়া মানুষটার কত কষ্ট।

২।
মোবারক মিয়া একটা বাচ্চা ছেলে...নানার আগের কাজের ছেলেটা খুব তালেবর ছিল...কয়েকমাস আগেও উনি ৫০০ ডলার মেরে দিয়েছেন[টাকা নয় ডলার...], নানাভাইয়ার জন্য ওকে কিছু বলা হয়নাই...মাত্র গত সপ্তাহেই উনি আর কিছু হাতাতে পারবেন না বুঝে পালিয়েছেন...

৩।
আমার আব্বু ভেরী বিজি মানুষ...জুট রিসার্চে আছেন...জুটের যা হালত তাতে উনার সারাদিন অফিসে থাকার কারণ পরিষ্কার করতে গেলে বলতেই হয় যে আমার আব্বাজান বিশিষ্ট ওয়ার্কোহোলিক...সন্ধ্যায় বাসায় এসে উনি খবরের কাগজের উপরে হুমড়ি খেয়ে পড়েন[সকালে যদিও একবার আগাপাশতলা পড়েই অফিসমুখো হন...কিন্তু তাতে কি?]...তারপর টিভির খবর...এবং আরো কত্ত কিছু...

৪।
আম্মুর মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই হার্ট এটাক হবে...অবস্থা কেরসিন...[আমাদের ছুটা বুয়ার হাবভাব দেখে মনে হয় উনি সার্ভিস টাকার বিনিময়ে দেননা...উনার সখ হইলে এই মানুষজনের বাসার কিছু কাজ আগায় দেন আরকি...]তো সকালে উঠেই আম্মুর কাজ বুয়াকে নিয়ে চিল্লাপাল্লা করা...তারপর ক্রমানুসারে আমাদের উপরেও মধুভাষণ শুরু হয়...আগে আমিও তর্ক করতাম...কোন কথাই মাটিতে পড়তে দিতাম না...এখন যত বড় হচ্ছি ততই ঝগড়া বিমুখ হয়ে যাচ্ছি...কথা কাটাকাটি ভাল্লাগেনা...আম্মু যাই বলুক নাস্তা খেতে খেতে চুপচাপ শুনি, খাওয়া শেষে রেডি হয়ে বের হয়ে যাই...[এতে একটা সুবিধা হইছে...আমার কথার একটু হলেও দাম বাড়ছে...আগে কেউ পাত্তা দিতনা...]...আম্মুর পরবর্তী এজেন্ডায় আছে আমার ভাই...আর আব্বু...তারাও যে যার গন্তব্যে চলে যাবার পর বাসা ঝাড়পোছ, রান্নাবান্না আর টিভি সিরিয়াল দিয়ে আম্মুর দিন কাটে...তাও কত টেন্সন...তরকারিতে লবন দেয়া হইছে কিনা...নানাভাইয়ার কিছু লাগবে কিনা...গাছে পানি দেয়া...মাছের খাবার দেয়া...বূয়ার তদারকী...আরো কতকি...কাজের কি আর শেষ আছে...?

৫।
আমার ভাইটা পড়ে সেইন্ট জোসেফে...সামনে এস.এস.সি. এখন টেস্ট চলছে...আগে ওর সাথে কত্ত মজা হত...টুম্ব রেইডার, ইন্ডিয়ানা জোন্স, কমান্ডোজ, কোয়াক, ম্যাক্স পেইন...এইসব কত্ত গেইম নিয়ে কত্ত উত্তপ্ত আলোচনা...ফার্স্ট পার্সন শুটার গেইমগুলা একবার আমি একবার ও এইভাবে কত যে খেলেছি...তারপর বিভিন্ন বই নিয়ে কত্ত গবেষণা...আমি, দোলা, দিপ্ত আর মিঠি মিলে হ্যারী পটারীয় কুইজ বা হ্রদি সহ গানের কলি খেলা...একসাথে কতকিছু করা হত...হায়রে...আমার ভাইটাও এখন বড় হয়ে গেছে...স্কুল আর দুনিয়ার কোচিং এর পরে বোন যে বাসায় আছে কি নাই এই খবর নেয়ার কথা তার মনেই পড়েনা...

৬।
এবার আমি...আমি আজকাল কারো সাথে কথা বলতে পারিনা...ভার্সিটি থেকে বাসায় এসে সেই যে রুমে ঢুকি...রাতে খাবার সময়ছাড়া আর বের হইনা...খাবার পর্যন্ত টেবিলে বসে খাইনা...আমার ঘরে এসে কোন একটা সিনেমা দেখি বা গল্পের বই পড়তে পড়তে খাই...দোষ টা কি তাহলে আমার?...এই যেমন এখন আব্বু, আম্মু, দিপ্ত ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখছে, আমি কেন যাচ্ছিনা?...উত্তর তৈরীই আছে...টিভি আমার ভাল্লাগেনা...এছাড়া আমার কথা বলতে ইচ্ছা করছেওনা ওদের কারো সাথে...যাদের সাথে এই মূহুর্তে কথা বললে ভালো লাগবে তাদের ফোন করে আমার লোনলী লাগছে বলতে লজ্জা হছছে...আর ওরা তো আর কেউ আমার মত না যে আমাকে কোন কারণ ছাড়া ফোন করবে...তাহলে আমি কি করি বলত?...গান ছেড়ে আকাশ পাতাল ভাবা, একা একা নাচা, গল্পের বই পড়া, ব্লগানো, এমনকি কান্নাকাটি করা সব কিছুইতো করে ফেল্লাম...ইনসমনিয়াটাও আমারি হওয়া লাগলো?...নাহলে এতক্ষণে এক্সহশনে আমার ঘুমায় পড়ার কথা...একা থাকতে এতই খারাপ লাগছিল যে আমি এমনকি পড়াশোনাও শুরু করে দিয়েছিলাম...বুঝা যাছছে আমার অবস্থাটা?...কারও সাথে কথা বলতে খুব খুব খুব ইচ্ছা করছে...অনেক অনেক গল্প করতেও ইচ্ছা করছে...আজকে সারাদিন কি করলাম...পরীক্ষার মাঝে কোন মজার কিছু ঘটলো কিনা...[আমার কাছে সবসময় কিছু না কিছু মজা লাগে...], সব প্রশ্ন কমন পড়েছিল কিনা...হায়রে এসব ছোট্ট ছোট্ট একেবারেই সাধারণ কথা গুলা ঠিক এই মূহুর্তে আমার কাছে কতটা জরুরী...

আসলে কি জানো?...কথা বলার জন্য আমার মন কাইন্ড অফ আঁকুপাঁকু করছে...কিন্তু মজাটা দেখ...আমার সাথে কথা বলার মত কেউই নাই...

ইশশিরে...!!!

[এটা লেখার খানিকক্ষণ পরেই রকি ভাইইয়া ফোন করল...অনেক দিন পর ভাইয়ার সাথে কালকে অনেক গেজাইলাম...জয়তু রকি ভাইয়া...B-)]


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১
২৯টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×