আমার নানার অনেক বয়েস ৮৫+...গত দেড় বছর যাবৎ উনাকে জোর করে আমাদের বাসায় এনে রাখা হয়েছে, এর আগে ইকবাল রোডের বাসাতে উনি একা এক কাজের ছেলেকে নিয়ে থাকতেন, এই সেই কাজের ছেলে যিনি মহান চোর, সম্প্রতি ৫০০ ডলার চুরি করে উনি ভেগেছেন[সবাই বলেন আলহামদুলিল্লাহ!] চুরিটা করেছেন কবে জানেন?...যেদিন রাত্রে আমার ছোটখালা আমেরিকা চলে যাচ্ছিলেন বলে শোকাহত নানাভাই হঠাৎ হার্ট এটাক করেন ভেবে দেখেন, যার জন্য কাজ করে, যার গ্রামের বাড়ির ছেলে তার এতবড় বিপদে ইনি অজ্ঞান মানুষটার পকেট হাতড়াতেও দ্বিধাবোধ করেননা...যাই হোক...
ইকবাল রোডের বাসা ডেভলপারকে দিয়ে দেয়ার পরও নানাভাই আলাদা বাসা নিয়ে একা থাকতে চেয়েছিলেন, আমরা জোর করে উনাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসি। নানাভাইয়ার কিডনী পুরাপুরি অকেজো, একদিন পর পর ডায়ালাইসিস করতে হয় আজকাল[যেটা আগে ৩দিন পর পর করলেই চলত...], এই ল্যাবেইডের চক্কর কাটতে কাটতে মনে হয় কিছুদিন পর ল্যাবেইডের কোন টয়লেটের ফ্ল্যাশ কোনদিকে ঘুড়ালে কাজ হয় তাও আমরা সবাই জেনে যাব। আগামীকাল নানাভাইয়ার ১৫০ তম ডায়ালাইসিস। আমার এক ফাজিল বন্ধু শুনে বলে তোরা তাহলে কালকে কেক কাটিস, শুনে ইচ্ছা করছিল চড়িয়ে হারামজাদার দাঁত ফেলে দেই। ভদ্রতা বশত কিছুই বলিনি। এই দেড় বছরে চোখের সামনে আস্ত একটা মানুষ কিকরে কংকাল হয়ে গেল সেটা দেখতে পেলে এই কথা ওর মুখ দিয়ে বের হতনা...আজকাল ডায়ালাইসিসের সময় প্রচুর ব্লিডিং হয়, হাতে যে স্টিকিং প্লাস্টার লাগানো হয় সেখান থেকেও চুইয়ে চুইয়ে রক্ত ঝরে, পুরানো প্লাস্টার খুলে নতুন ব্যান্ডেজ করে দেবার সময় আমার হাত রক্তে মাখা মাখি হয়ে যায়। আমি যে খুব আমার নানাভাইয়ের ভক্ত তা নয়...বরঞ্চ উনার ক্যাট ক্যাট শুনে আমি চরম বিরক্ত হয়ে আসছি সারা জীবন, কিন্তু এখন কার অবস্থা দেখলে খুব কষ্ট হয়, মনে হয় এত কষ্ট পাওয়ার চেয়ে কি মরে যাওয়া ভাল নয়?
আজকে সকাল থেকে নানাভাই তিনবার পড়ে গিয়েছেন, একবার বাথ্রুমে, আর দুবার রুমে এসে, নানাভাইয়ার জন্যে যে নয়া কাজের ছেলে রাখা হয়েছে তিনি ঈদের পরদিন সেইযে দেশে গিয়েছেন আর আসেননি, আম্মু নানাভাইয়াকে খাওয়ায় প্লেট রাখতে গেছিল, আমার ভাই ওর রুমে পড়ায় বিজি আর আমি আমার রুমে। বাসা বড় হবার কারনে কোনও শব্দও কেউ পায়নি। প্রথমবার আম্মু আর ভাই মিলে ধরে তোলে, দ্বিতীয়বার আমি কোলে তুলে বিছানায় শোয়াই, অজ্ঞান নানাভাইকে আম্মু ধরে তুলতে পারেনি...বাঁ কাত হয়ে পড়ে যাওয়ায় মুখে আর মাথায় খুব ব্যাথা পেয়েছেন নানাভাইয়া...আমি তুলে বরফ দিয়ে দিলাম...তার পর থেকে মনটা স্যাতস্যাঁতে হয়ে আছে...আমার জানা মতে নানা গ্রামের জমিজমা সব সামলায় আর বিলি ব্যাবস্থা করে তার বাড়ির কাজের লোকেরা...গ্রামে বড়মা ছাড়া কেউ থাকতেন না, বড়মা মারা যাবার পর সব বিলিব্যাবস্থা করে নানাভাই সব্বাইকে দিয়ে দিয়েছেন...জীবনে মানুষের জন্যেতো কম করেন নি...তাহলে উনাকে এত কষ্ট দিচ্ছে কেন আল্লাহ...আল্লাহ প্লীজ বেচারাকে এত কষ্ট না দিয়ে আমাকে কিছুটা দাও, বা আমি যদি কিছু করতে পারি উনার জন্য...এখন থেকে চেষ্টা করব ঠিকঠাক নামায পড়ার, সত্যি!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

