somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন হয় যদি আপনার মরিচ গাছে একসাথে পাঁচশত মরিচ ধরে, তাও একেকটি ছয় ইঞ্চি লাম্বা সারা বছর জুড়ে ।

২১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমে আসুন কোথায় পাবেন বীজ, দাম কত, কেমন করে চাষ করবেন।

চলে যান ঢাকার সিদ্দিক বাজারে মল্লিকা সীড কম্পানীতে ৫ গ্রাম (যমুনা) মরিচ কিনুন। দাম ২৫০ টাকা। এক গ্রামও আছে। মেয়াদ উত্তির্ণ কিনা দেখে নিন। নামধারী মালীক কম্পানীর এন, এস ১৭০১ ও কিনতে পারেন।
এখানে আপনার বাড়ীর আঙ্গিনায় বা ছাদে শোভাবর্ধনকারী অথবা আপনার বাৎসরিক চাহিদা মেটাতে পাঁচটি মরিচ গাছের উৎপাদন কৌশল বর্ননা করা হল।

প্রথমে বীজগুলী পত্রিকার উপর ছিটিয়ে ছয় ঘন্টা রোদে শুকান তারপর ছয় ঘন্টা ঠান্ডা করুন,
যেহেতু আপনি স্বল্প পরিসরে করবেন ২০/৩০ টি বীজ ৩০ ঘন্টা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন,

তার পর একটি চটের বস্তাকে ভাল করে পানিতে ভিজিয়ে নিন, পানি থেকে উঠিয়ে ভাল করে ঝেড়ে নিন। তার পর চটের বস্তাকে চার ভাজে ভাজ করুন , দুভাঁজের মাঝ খানে বীজ গুলো ছিটিয়ে দিন।
কোন এক নিরাপদ জায়গায় রাখুন , পিপড়ার আক্রমন থেকে বাচার জন্য ভাঁজ করা বস্তার চার পাশে পিপড়ার ঔষধ ছিটিয়ে দিন।

তিন দিন পর বস্তার ভাঁজ উল্টালে দেখবেন বীজ গুলির অধিকাংশ এর অংকুর উদ্গম ঘটেছে।

দশটি ৪ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি সাইজের পলি ব্যাগ সংগ্রহ করুন , দুই ভাগ মাটি ও এক ভাগ গোবর সার মিশ্রণ ঘটিয়ে ব্যাগ ভর্তি করুন। পলি ব্যাগের এক ইঞ্চি পরিমান যায়গা খালি রাখুন। অবশ্যই পলি ব্যাগ ছিদ্র যুক্ত হতে হবে নচেত নিজেই ছিদ্র করে দিন যাতে পানি জমে না থাকতে পারে।

এক মুষ্ঠি বালি , এক মুষ্ঠি শুকনো মাটি, এক মুষ্টি শুকনো গোবর সার মিশ্রণ ঘটিয়ে আলাদা করে রাখুন।
মাটি ভরাট পলি ব্যাগ গুলি সারি করে সাজিয়ে রাখুন , মাঝখানে দুটি করে বীজ ফেলুন , গোবরসার,বালি,মাটির মিশ্রণ দিয়ে আধা ইঞ্চি পুরত্ব করে ঢেকে দিন। হালকা পানি দিন, চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিন , চারদিকে পিপড়ার ঔষধ ছিটিয়ে দিন। প্রয়োজনে চটের বস্তার উপর পানি দিন।

তিন চার দিন পর বস্তা উল্টিয়ে দেখুন মাটি ভেদ করে বীজের অংকুর উদগম ঘটেছে কিনা। দুটি অংকুরিত বীজের দুটি চারা হলে একটি নস্ট করে ফেলুন বা অন্যত্র সরিয়ে কাজে লাগান। মাঝে মাঝে পানি দিন রৌদ্রে রাখুন। ১৫ দিন অপেক্ষা করুন।

পাঁচটি বড় সাইজের টব নিন অথবা ১৫ লিটার পানি ধারন সম্পন্ন প্লাস্টিক বালটি নিন, নিচে একটি ছোট ছিদ্র করুন।
ছিদ্রের উপর দেড় ইঞ্চি সাইজের ইটের টুকরা দিন।
প্রতিটি টবের জন্য অর্ধেক দোয়াশ মাটি অর্ধেক শুকনো গোবর সার অথবা কম্পোস্ট সার দশ গ্রাম টি,এস,পি, দশ গ্রাম মিউরিয়েট অব পটাশ সার,চায়ের চামচে এক চামচ ইউরিয়া ভাল করে মিশিয়ে টব ভর্তি করে দশ দিন রেখে দিন।

বি:দ্র: রুটেন নামক শিকড় বর্ধনকারী একজাতীয় পাউডার পরিমান মত ব্যবহার করুন, মাটিগুলোকে শোধন করতে কড়াইয়ে রেখে ভেজে নিতে পারেন অথবা ফরমাল ডি হাইড দিয়ে শোধন করুন।

দশদিন পর প্রতি টবের মাটি বের করে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে আবার ভরাট করুন , এক ইঞ্চি পরিমান খালি রাখুন।
এপর্যায়ে আপনার চারা বয়স ২৫ দিন অথবা ৩০ দিনের চারা রোপন উপযোগী হবে। অবশ্যই টবের নিচে ছিদ্রে এক টুকরা ইট দিয়ে ঢেকে দিন।

পলি ব্যাগ ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলে দিয়ে , প্রতিটি টবে একটি করে সতেজ , শক্তিশালী চারা টবের মাঝখান বরাবর লাগিয়ে দিন এবং তিন ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি করে বাঁশের খুঁটি পুটে দিন। প্রয়োজন মত হালকা পানি সেচ দিন।
পলিব্যাগ কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে চারা গোড়া হতে মাটি সরে না যায়।

আস্তে আস্তে পরিচর্যা করুন। গরু ছাগলের পাশাপাশী মুরগীর আক্রমন হতে রক্ষা করুন , কারন মুরগী পাতা খেয়ে ফেলতে পারে।
গাছের সতেজতার উপর নির্ভর করে ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে , এক্ষত্রে ইউরিয়া দ্রবণ দিতে পারেন ,
দেড় লিটার ¯স্প্রে মেশিনে এক টেবিল চামচ ইউরিয়া মিশিয়ে ¯স্প্রে করুন তবে মাটিতে প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায় । গাছের গোড়া হতে ছয় ইঞ্চি দুরে টবের মাটি খুড়ে এক টেবিল চামচ ইউরিয়া ভাগ করে দিতে পারেন।
প্রয়োজনে লিবরেল জিংক ও লিবরেল বোরন নির্দেশনা অনুযায়ী দিতে পারেন। ভাল ফলাফল পাবেন।
মরিচ গাছে ফুল আসা আরম্ভ করলে হরমন প্রয়োগ করুন মেগডোনাল্ড কম্পানীর (এগনল) নামক হরমন নির্দেশনা অনুযায়ী দিন , তাতে ফুল ঝরা কমে যাবে ফুল ফলে পরিনত হবে।

মাঝে মাঝে পানি সেচ দিন , গাছের অবস্থা বুঝে পরিমান মত সার প্রয়োগ করুন। বাশেঁর খুটির সাথে গাছকে বেধে রাখুন। পোকা মাকড়ের আক্রমন হতে রক্ষা পেতে নগজ বা সুমিথিয়ন নির্দেশনা অনুযায়ী মাঝে মাঝে প্রয়োগ করুন।

বি:দ্র: দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন কৃষি পেশায় শিক্ষিত নাগরিকের অংশগ্রহন।



সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:৫১
১০৫টি মন্তব্য ১০৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×