somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিয়া ছিলেন ’৭৫-পরবর্তী ঘটনার নেপথ্য নায়ক: লিফশুলজ নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৪-০৩-২০১১ ( প্রথম আলো )

১৪ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ বলেছেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরবর্তী ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন প্রক্রিয়ায় তিনি কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছিলেন। আজ সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর (জিয়া) সঙ্গে মোশতাক, ফারুক ও রশীদ গংদের যোগসূত্র ছিল। তবে তিনি (জিয়া) কখনো সামনে আসেননি।’
আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমানের কার্যালয়ে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
লরেন্স লিফশুলজ আরও বলেন, ‘লন্ডনে আমাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রশীদ বলেছিলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁর (জিয়া) সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল। এরপর জিয়া ৭ নভেম্বর স্বরূপে আবির্ভূত হন।’
‘লে. কর্নেল এম এ তাহেরের গোপন বিচার নিয়ে করা মামলাটি ঐতিহাসিক। নতুন প্রজন্মের এ বিষয়ে জানার আগ্রহ আছে। আমার প্রশ্ন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে কেন এ ঘটনার বিচার হলো না?’
আজ বেলা ১১টার দিকে লরেন্স লিফশুলজ কর্নেল তাহেরের গোপন বিচার নিয়ে করা রিটে বক্তব্য দিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আসেন। তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমানের কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে লরেন্স লিফশুলজের সঙ্গে লে. কর্নেল তাহেরের পরিবারের সদস্যরা ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু সাক্ষাত্ করেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, বেলা দুইটায় কর্নেল তাহেরের গোপন বিচার নিয়ে রিটের শুনানি হবে। এতে লরেন্স লিফশুলজ বক্তব্য দেবেন।
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তাহেরের গোপন বিচার-সংক্রান্ত রিট চূড়ান্ত শুনানির জন্য রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিফশুলজের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়।
জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১৭ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার তাহেরসহ ১৭ জনকে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালের গোপন বিচারে সাজা দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই ভোররাতে তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ১৯৭৬ সালে তাহেরসহ অন্যদের গোপন বিচার চলাকালে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তাঁর ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, তাহেরের স্ত্রী লুত্ফা তাহের এবং সামরিক আদালতের বিচারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফ খানের স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফ গত বছরের আগস্টে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৩ আগস্ট তাহেরের বিচারের জন্য সামরিক আইনের মাধ্যমে জারি করা আদেশ এবং এর আওতায় গোপন বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
একই আদালত তাহেরের সঙ্গে গোপন বিচারের মুখোমুখি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিন, হাবিলদার আবদুল হাই মজুমদার, করপোরাল শামসুল হক ও আবদুল মজিদের গোপন বিচার নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেন। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সহসভাপতি রবিউল আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও গোপন বিচার ও দণ্ড-প্রশ্নে রুল জারি করেন আদালত।
তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা প্রশ্নে রিটের চূড়ান্ত শুনানিকালে গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট এ সম্পর্কে বক্তব্য দিতে মার্কিন সাংবাদিক লিফশুলজকে অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও পররাষ্ট্রসচিবকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় লরেন্স লিফশুলজ ই-মেইলে রাষ্ট্রপক্ষের বরাবর তাঁর বক্তব্য পাঠান। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওই বক্তব্য আদালতে তুলে ধরা হয়।
লিফশুলজের ওই বক্তব্যে বলা হয়, মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিশ্চিতভাবে জানতেন যে কথিত ওই বিচার শুরু হওয়ার আগেই জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হবে। ওই সময় জিয়ার ঘনিষ্ঠ ছিলেন এমন দুজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাও এ বিষয়ে তাঁকে নিশ্চিত করেছিলেন।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×