Mon, May 2nd, 2011 11:19
ওয়াশিংটন, মে ০২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- সৌদি আরবে জন্ম নিলেও পারিবারিক ধারার বাইরে গিয়েই আল কায়দার শীর্ষ নেতায় পরিণত হন ওসামা বিন লাদেন, যাকে এক নম্বর শত্র" হিসেবে দেখতো যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওসামা নিহত হন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিশ্চিত করেছেন।
ওসামার জন্ম ১৯৫৭ সালে, সৌদি আরবে। আবাসন শিল্পে যুক্ত মোহম্মদ বিন লাদেনের ৫০ সন্তানের এক জন তিনি।
১৭ বছর বয়সে ওসামা প্রথমবারের মতো বিয়ে করেন দূর সম্পর্কের এক সিরীয় বোনকে। তার মোট পাঁচ বার বিয়ে ও কমপক্ষে ২৩ জন সন্তানের কথা জানা যায়।
মুসলমানরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে বলে বিশ্বাস করতেন ওসামা। ১৯৯০'র দশকে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি।
এর পর তাকে পরিবার থেকে ত্যাজ্য করা হয়, বাতিল হয় সৌদি আরবের নাগরিকত্বও।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ১৯৮০'র দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় অংশ নেন ওসামা। ওই সময়ই 'আল-কায়েদা' গঠন করেন তিনি।
১৯৯০'র দশকে তিনি আবার আফগানিস্তানে ফিরে আসেন। এখানে তালেবান শাসনের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন ক্যাম্পে সারা বিশ্ব থেকে আসা ইসলামী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যান তিনি।
১৯৯৮ সালে পূর্ব আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বোমা হামলার পর আফগানিস্তানের ক্যাম্পে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অক্ষত ছিলেন ওসামা। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে তোড়া বোড়া পর্বতে জঙ্গি অবস্থানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত বোমা হামলার সময় অল্পের জন্য বেঁচে যান আল কায়দা নেতা।
বলা হয়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার অনুমোদন দেন লাদেন। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে লাদেন গোপন স্থান থেকে এক বক্তব্যে বলেন, এ হামলা তার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে।
এরপর গত এক দশক ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাকড়াও অভিযান চলেছে লাদেনকে ধরতে। ধরিয়ে দিলে আড়াই কোটি ডলার পুরস্কারের খাঁড়া মাথায় নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে ছিলেন ওসামা।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট গেটস বলেন, লাদেন কোথায় আছে তা যুক্তরাষ্ট্র জানে না এবং আগের কয়েক বছর ধরে লাদেনের অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কেও তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বর ১১'র ঘটনার পরে বিন লাদেন ও আল-কায়েদার দ্বিতীয় প্রধান আইমান আল-জাওয়াহিরির বক্তব্যসহ ৬০টির বেশি ভিডিও প্রকাশিত হয়।
২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হামলার ছয় বছর পূর্তিতে প্রকাশিত ভিডিওতে লাদেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনীতি ও সামরিক ভিত্তি সত্ত্বেও দেশটি বেশ ভঙ্গুর। আগের বিভিন্ন ভিডিওতে নানা হুমকি দেওয়া হলেও এ ভিডিওতে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



