somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে ছাঁটাই করা কে এই জন বোল্টন?

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জন বোল্টন রিপাবলিকান নেতাদের কাছে রাজনৈতিক ফন্দি-ধান্ধাবাজির জন্য পরিচিত। ইরাকে যা খুঁজে পাওয়া যায়নি সেই ‘ওয়েপন অব মাস ডেসট্রাকশন’ বা গণবিধ্বংসী অস্ত্রের আবিষ্কারক হলেন বোল্টন। তিনি জর্জ ডব্লিউ. বুশকে এই ট্যাবলেট ব্যবহার করতে প্ররোচিত করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক পদে কাজ করলেও, বোল্টন মূলত কূটনীতি ও অস্ত্র-নিরোধ নীতিকেই অবজ্ঞা করে এসেছেন।

২০১৮ এপ্রিলের দিকে জন বোল্টনকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাকমাস্টারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এবং ১৮ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই দায়িত্ব পালন কনেন তিনি। তখন অস্থির ট্রাম্প ১৪ মাসের মধ্যে ৩ জনকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ পেতে বোল্টন ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন। এমনকি ট্রাম্প আগে এই পদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে তাকে প্রত্যাখ্যান করার পরও দমেনি বোল্টন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য প্রথমে তাকে বাদ দিয়েছিলেন তার বিপজ্জনক অবস্থানে নয়; বরং তার গোঁফ পছন্দ না হওয়ায়।

বোল্টন সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনল্ড রিগ্যান, সিনিয়র বুশ ও জর্জ ডব্লিউ বুশের অধীনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সময়ে জাতিসংঘে মার্কিন দূত ছিলেন বোল্টন। ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র থাকার সেই অবিস্কারক তথ্য ভুল প্রমাণিত হওয়ায় ১৫ বছর ধরে চলছে ইরাক যুদ্ধ। উত্থান ঘটেছে আইএস-এর। ইরান আর উত্তর কোরিয়াতেও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

ওভাল অফিসে অনেক বেপরোয়া ও ভীতি সঞ্চারকারী এসেছেন। বোল্টন যেন সবাইকে বাজিমাত করেন। এ মুর্হূতে হেনরি কিসিঞ্জারের কথা মনে পড়ছে, যার সময়ে ইন্দোচীনে ৩ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল। বুশ ২০০২ সালে ‘শয়তানের অক্ষ’ হিসাবে ইরাক, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার কথা বলেছিলেন। বোল্টন এই অক্ষের মধ্যে যোগসূত্রের সূত্র দিয়েছিলেন। অথচ এই দাবি নাকি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বোল্টন ইসরাইলে অগণিত ভ্রমণ করেছেন, মোসাদের প্রধান মীর দাগানের সঙ্গে তখন দেখা করতেন। এসব বিষয় সেক্রেটারি অব স্টেট ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে রুটিন মাফিক রির্পোট করতে হয়। কিন্তু বোল্টন এসব তোয়াক্কা করেন না।

ইরাকের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আলোচনার পরিবর্তে সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে সমাধান করাই বোল্টনের পছন্দ ছিল। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বোল্টন ইরানের ওপর বোমা ফেলার ওকালতি করেন। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে পরমাণু বোমা মেরে শেষ করার পক্ষেও মত দেন এই বোল্টন। কিন্তু ইসরাইল উত্তর কোরিয়ার আগে ইরানের বিষয়টি নিষ্পন্ন করার জন্য ট্রাম্পকে রাজি করাতে পেরেছেন বলে প্রতিভাত হয়। বোল্টন রক্ষণশীল ও গোঁড়া জাতীয়তাবাদী। পশ্চিমা মৌলবাদীর সকল উপাদান বোল্টনের শিরায় প্রবাহিত।

বর্তমান জন বোল্টনকে তার পদ থেকে ছাঁটাই করেছেন ট্রাম্প। বিবিসি ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) এক টুইটবার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ কথা জানান। বোল্টনের পদত্যাগের খবর জানিয়ে ট্রাম্প টুইটে লিখেছেন, গত (সোমবার) রাতে আমি জন বোল্টনকে বলেছি যে, হোয়াইটে হাউজে তার সেবার আর প্রয়োজন নেই। প্রশাসনের অনেকের মতো আমিও তার অনেক পরামর্শের বিষয়ে জোরাল আপত্তি জানিয়েছি। সে কারণে আমি জনকে পদত্যাগ করতে বলেছি।

মঙ্গলবার সকালে জন বোল্টন পদত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আগামী সপ্তাহে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করা হবে। আফগানিস্তানের তালেবান প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে বিভাজনের খবরের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে অপসারণ করা হল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না : পুুণ্যময় মুহররমের শিক্ষা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৭



কৈফিয়ত:
দশ মুহররম গত হয়ে চলে গেছে আমাদের থেকে। মুহররমের আজ ১৪ তারিখ। হ্যাঁ, সময় পেরিয়ে যাওয়ার কিছুটা পরেই দিচ্ছি এই পোস্ট। পোস্ট লিখে রেখেছিলাম আগেই। কিছুটা ব্যস্ততার জন্য কম্পিউটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটোপসি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩২

যে পাহাড়ে যাব যাব করে মনে মনে ব্যাগ গুছিয়েছি অন্তত চব্বিশবার-
একবার অটোপসি টেবিলে শুয়ে নেই-
পাহাড়, ঝর্ণা, জংগলের গাছ, গাছের বুড়ো শিকড়- শেকড়ের কোটরে পাখির বাসা;
সবকিছু বেরিয়ে আসবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব গাঁথা আমাদের ইতিহাস : ঘটনাপঞ্জি ও জানা অজানা তথ্য। [১]

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮


আমার এ পোষ্টটি সবার ভালো না ও লাগতে পারে । যাদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা সর্ম্পকে বিন্দু মাত্র শ্রদ্ধাবোধ বা আগ্রহ নাই তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার পথে পথে- ১৪ (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩



ঢাকা শহরের মানুষ গুলো ঘর থেকে বাইরে বের হলেই হিংস্র হয়ে যায়। অমানবিক হয়ে যায়। একজন দায়িত্বশীল পিতা, যার সংসারের প্রতি অগাধ মায়া। সন্তনাদের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা- সে-ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রলীগ নিয়ে শেখ হাসিনার খোঁড়া সমাধান!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫



Student League News

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, ছাত্র রাজনীতির দরকার ছিলো না; ছাত্ররা ছাত্র, এরা রাজনীতিবিদ নয়, এরা ইন্জিনিয়ার নয়, এরা ডাক্তার নয়, এরা প্রফেশালে নয়, এরা শুধুমাত্র ছাত্র;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×