আমির খানের চোখে আতঙ্ক, অমিতাভের বালিশের নীচে রিভলবার আর আমার প্রিয় মুম্বাইয়ের জন্য ভালোবাসা
০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪১
মুম্বাইয়ের প্রতি আমার আলাদা একটা প্রেম আছে। সেটার কারন খুবই নগন্য ছিল ২০০৬ পর্যন্ত। নগন্য কারন,মুম্বাই হিন্দি ফিল্মের সূতিকাগার । কম দেখলেও হিন্দি ফিল্মের প্রতি আমার ভালোবাসা ভীষন। না থাকার কোন কারনও নেই। এই স্যাটেলাইটের যুগে অমিতাভ,শাহরুখ,আমির খানেরা এখন একেবারে ঘরের মানুষের মতই হয়ে গেছে। অমিতাভ অসুস্থ শুনলে যেমন আমাদের মন খারাপ হয়ে যায় তেমনি শাহরুখের কেনা ক্রিকট দল খেলা জিতেছে শুনলে মনটা ভালো হয়। অস্বীকার করার উপায় নেই আমরা কতটা আসক্ত তাদের উপর। তাই আনমনেই ফিল্মে দেখা মুম্বাইয়ের আন্ধেরী,সান্তাক্রুজ সহ এলাকাগুলো মনের ভেতর গেথে গিয়েছিল। মনের ভেতর গেথে গিয়েছিল নায়ক নায়িকাদের চলা লোকাল ট্রেন,ঘুরে বেড়াবার বীচ গুলো। যে বীচ শুধু আমার মনেই গাথেনি বহু বছর আগে মুম্বাইয়ের বিখ্যাত জুহু বীচ গেথেছিল রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দের মনেও। জুহু বীচ নিয়ে তিনি অসাধারন একটা কবিতাও লিখেছিলেন।
আমার এই আকর্ষন আরো বেড়ে যায়,এই মুম্বাই প্রীতি আরো তীব্র হয় গত বছর ২০০৭ এ। সুযোগ হয় মুম্বাই ঘুরে আসবার। তারপর থেকে মুম্বাই নামটাই আমাকে আরো ব্যাপকভাবে টানে। মুম্বাই শুনলেই কান খাড়া হয়ে যায়, মুম্বাই দেখালে চোখ চকচক করে উঠে...। এইতো মুম্বাই...প্রিয় মুম্বাই...।
গত কদিন ধরে মুম্বাইকে দেখলাম। ভয়ংকর বেদনায় নিয়ে দেখলাম, প্রিয় মুম্বাইকে। সন্ত্রাসের বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত মুম্বাই। রক্তাক্ত মুম্বাই। মানুষের রক্তে লাল হওয়া মুম্বাই।
মুম্বাইতে অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছিল। আমি জানিনা তারা কেমন আছে? কেমন ভীতির মধ্যে আছে? এখন যেখানে আমির খানের মত লোক আতঙ্কের মধ্যে থাকে, অমিতাভ বচ্চন তার বালিশের নিচে রিভলবার রেখে ঘুমায়, সেখানে সাধারন তাদের জন্য আমার মনটা এমনিতেই খারাপ হয়ে যায়। চাই,তারা ভালো থাকুক। যে শহরের মানুষ পৃথিবীকে ঘুম পারিয়ে ঘুমায় (ভারতে প্রচলিত)চাই সে শহরের মানুষ এবার একটু শান্তিতে ঘুমাক।
চাই তাদের চোখ থেকে হারিয়ে যাক ভয়,হারিয়ে যাক আতঙ্ক।
আর সঙ্গে তীব্রভাবে এটাও চাই পৃথিবী থেকে হারাক ধর্মের গোড়ামী। ধর্মের দোহাই দিয়ে এই সব যাবতীয় উগ্রবাদীতা।
লেখক বলেছেন: তোমাকেও ধন্যবাদ মুন্না।
টেকনো বলেছেন:
ধন্যবাদ সুন্দর ও গুছানো লেখার জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
হুমম
লেখক বলেছেন: ঠিক...
লাল দরজা বলেছেন:
আবেগী লেখা, দরদ দিয়ে লিখছেন।
লেখক বলেছেন:
দরদ দিয়ে লিখেছি কিনা জানিনা। আমি আসলে এখনো মুম্বাইয়ের প্রেমে বুদ হয়ে আছি। অজানা কারনে শহরটা মনে গেথে আছে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
জাতেমাতাল বলেছেন:
চমৎকার লিখা, আমি যদিও মুম্বাইয়ের ছবির ভক্ত না, তবু মুম্বাই নিয়ে আমিও অনেক প্যাশনেট। আমার অন্যতম প্রিয় শহর, এক সময় এর মত নিরাপদ শহর ভুভারতে আর ছিল না। জানি না এরপরে মুম্বাই গেলে আগের সেই অনুভুতি ফিরে পাব কিনা।
আপনার আবেগ আমারও হৃদয় ছুয়ে গেল......।
লেখক বলেছেন: লেখাটা আপনাকে স্পর্শ করেছে জেনে ভালো লাগলো...
নামহীনা বলেছেন:
যে কয়টা জায়গায় হামলা হয়েছে প্রত্যেকটা জায়গায় ঘুরেছি, কাজেই মনে ভাসে ঐ সব জায়গাগুলির কথা।
লেখক বলেছেন: ফিলিংসটা হয়তো আপনার আরো বেশি হবে...
আ. শিপন বলেছেন:
লেখাটি খুব ভাল হয়েছে। লেখাটি পড়ে বুঝা যায় পাকা হাতের দরদ দিয়ে লেখা। আরেকটি কথা গতকাল টিভি পর্দায় দেখলাম আবারো কিছু উগ্রবাদী/মৌলবাদী গোষ্টি আরেকটি ভাষ্কর্য (বলাকা) ভাঙ্গার চেষ্টা করে একে অনেকাংশে নষ্ট করে ফেলেছে। আমাদের দেশও মুম্বাইয়ের মত নিরাপদ নয় এদেরকে নির্মূল করতে হবে। এই সব ছোট ছোট ঘটনাই একদিন বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। এখনই আমাদের সচেতন হতে হবে। আপনার লেখাটির জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মুম্বাইয়ের কথা বলছি... সে কথাই বলেন। আমাদের দেশের কথা আর টাইনেন না। এখানে যতই চেচান লাভ হবেনা। কোন অ্যাকশন নাই। লালনের ভাস্কর্য ভাঙ্গলো কি হলো? ওইটার বিরুদ্ধে অ্যাকশন হলে হয়তো বলাকা ভাঙ্গার সাহস পেতনা। অথচ মুম্বাইয়ের ঘটনায় দেখেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেছে...ন্যাশনাল সিকিউরিটির কর্মকর্তা এবং মূখ্যমন্ত্রী বিলাস রাও দেশমুখেরও খবর হয়ে যাচ্ছে। আর এই বক্তব্যনির্ভর দেশের কর্তাদের... রাত ফুরাইলে সব শ্যাষ...
আর আমরা!!!
লালন নিয়া একটা লেখায় লিখছিলাম...
নিস্প্রাণ রক্তে সাহসের ঢালও নেই
উগ্রবাদের দিন আমরাতো ভালো নেই...
আন্দালীব বলেছেন:
লেখাটা ভালো হয়েছে। বম্বের ঘটনা হিন্দি ফিল্মকেও হার মানালো যেন। এতগুলো প্রাণ! তাদের আত্মা শান্তি পাক...
লেখক বলেছেন: তাদের আত্মা শান্তি পাক...



















চাই তাদের চোখ থেকে হারিয়ে যাক ভয়,হারিয়ে যাক আতঙ্ক।
আর সঙ্গে তীব্রভাবে এটাও চাই পৃথিবী থেকে হারাক ধর্মের গোড়ামী। ধর্মের দোহাই দিয়ে এই সব যাবতীয় উগ্রবাদীতা।"
ধন্যবাদ ইশতিয়াক ভাই।