(২০০৭-এ গিয়ছিলাম প্রতিবেশি দেশ ইন্ডিয়াতে। সেখানকার ভ্রমণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে এই ভ্রমণকাহিণী। আমার প্রথম বিদেশ যাত্রা। ধারাবাহিকভাবে পোষ্ট করার চেষ্টা করছি। চোখের সামনে যেহেতু থাকবে, আশা করি সে কারনে হলেও পড়বেন)
সূচনা পর্ব
ভয়াবহ মুগ্ধ হবার প্রস্তুতি নিয়ে ঢুকেছিলাম ভারতের সীমানায়। গন্তব্য কলকাতা, গন্তব্য বোম্বে (মুম্বাই)। অত্যন্ত অবাক করা বিষয় সীমান্তে থাকা মানুষগুলো এবং খুব খারাপ ভাষায় বলতে গেলে ভ্রমনপিয়াসী বাংলাদেশীদের ব্যয় করা অর্থে জীবিকা নির্বাহকারী পরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকদের কিছু মন্তব্যে যাবতীয় মুগ্ধতা, মুগ্ধ হবার আকাঙ্খা ছাই হয়ে গেল। বাংলাদেশী যাত্রীদের সাথে সামান্য তর্কের এক পর্যায়ে বলে ওঠা, 'এই জন্যই তো তোমাদের দেশ উন্নতি করেনা, কী আছে তোমাদের দেশে' - জাতীয় মন্তব্য তাদের প্রতি ভালোবাসা মুহুর্তেই নষ্ট করে দিল। এই তাদের মনসিকতা? এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে? এমনই কথার ধরন? তাই এক ধরনের তিক্ততা নিয়েই প্রবেশ করলাম ভারতে।
আমার এক সাংবাদিক বড় ভাই আশীফ এন্তাজ রবি। তিনি এক সংগঠনের সাথে যুক্ত। নাম, হিউমেনিষ্ট মুভমেন্ট। তাদেরই এক সম্মেলনে বোম্বের উদ্দেশ্যে এই ভারত যাত্রা। সঙ্গে আরেক বড় ভাই, বন্ধু রাজীব। ভারতের এই যাত্রা রবি ভাইয়ের জন্য না হলেও আমার এবং রাজীব ভাইয়ের প্রথম বিদেশ যাত্রা। ভারতের মাটিতে প্রথম পা রেখেই একটা অন্য অনুভুতি পেলাম। জীবনে এইবারই প্রথম এমন এক মাটিতে পা রেখেছি যে মাটি আমার না। আমাদের না।
সীমান্ত থেকে মূল কলকাতার দিকে যেতে প্রায় দু'তিন ঘন্টা লেগে যায়। এই সময় দৃষ্টি উজাড় করে অন্য এক দেশ দেখেছিলাম। এক রকম প্রত্যন্ত গ্রাম মাঝে মাঝে মফস্বল শহর। এমনই সব পথ ধরে চলছিল আমাদের গাড়ী। প্রথম গন্তব্য কলকাতা। আগের রাতে প্রায় পৌনে বারোটায় রওয়ানা হওয়া আমরা কলকাতা পৌঁছলাম দুপুর ২টার দিকে। এই-ই কলকাতা। ভারত। অন্য একটা দেশ। এসে গেলাম। পেছনে পুড়িয়ে এসেছি কত কাঠ খড় ...।
পেছনের গল্প
রবি ভাই যখন বললেন, বোম্বে যাব। যাবে নাকি ? মুহুর্তেই রাজী হলাম। চলেন আমি এক পায়ে খাড়া। কিন্তু তখনও আমার দুই পা-ই ছিল শূন্যের উপরে। কারন সময় হাতে এক সপ্তাহ এবং আমার নেই পাসপোর্ট। সঙ্গে ছোট ছোট ঝামেলা। বাসায় ম্যানেজ, অফিসের ছুটি এবং মহাঝামেলা দুই মাস আগে শেষ হওয়া মার্ষ্টাস প্রিলীমিনারির 'ভাইবা' পরীক্ষার খোঁজ নেই। তারপরও নেমে পড়লাম। আল্লাহ ভরসা। প্রথম মিশন পাসপোর্ট। খোঁজখবর শুরু করলাম। কম সময়ে পাসপোর্ট করার রাস্তা কোন দিকে আছে? যোগাযোগ করলাম, একজন দালালের সঙ্গে। নাম তাহের। সে কথা শুনেই যেভাবে বলে দিল, কোন সমস্যা নাই। শুনেই আমার সমস্যা শুরু হলো। সে জানাল, তিন দিনেই সম্ভব। তাই অবিশ্বাসী মনে বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছু করার ছিলনা। তারপর থেকে পাসপোর্টের চিন্তার চেয়ে বেশী চিন্তা শুরু করলাম দালালকে নিয়ে। তার উপর তার কাজের ধরন দেখে এবং তার সাথে দু'দিন ঘুরে আরো জটিল ভ্রমন অভিজ্ঞতা পেলাম। তার সাথে প্রথম দেখায় তাকে দেখলাম, লোকাল বাস থেকে নামছে, রাস্তার চায়ের দোকান থেকে সাধারন পানিই বেশ তৃপ্তি নিয়ে পান করছে। কিন্তু যখনই আমার কাজে যুক্ত হলো, মিনারেল ওয়াটার ছাড়া পানি ছুয়ে দেখেন না। দুপুর না হতেই লাঞ্চের জন্য ঢুকে পড়েন হোটেলে। স্বল্প দুরত্বেও কোথাও যাবার সময় জিজ্ঞাসা করলে, ভাই বাসে উঠব? তার জবাব, না না 'ক্যাব' ডাকেন। সঙ্গে তো নানাবিধ ঝামেলা করছেন-ই। যেতে যেতে মিটার বাড়তে থাকা ক্যাব থামিয়ে বিভিন্ন অফিসে নেমে নেমে নিজের কাজ সারেন। পূরন করা ফরম ফেলে আসেন। আরো কত কিছু। শেষ পর্যন্ত তাকে দিয়ে কিছুই হয়নি। উল্টো তার টেনশনে অবস্থা শেষ। তার যেদিন পাসপোর্টের কাগজ জমা দেয়ার কথা ওইদিন দুপুরে ৭জন দালাল গ্রেফতারে আমি তো বটেই আমার আত্মীয়স্বজনও তাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। আমার এক মামা দুপুরে ফোন করলেন, ভাগিনা পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে ৭জন দালাল ধরা পড়েছে। তোমার ওই লোকের খবর কি ? আবার রাতে ফোন, ৬৯ জন ধরা পড়েছে। সে কই, কোথায়? আমিও প্রতি ঘন্টায় খবর নিতাম, ভাই কই আছেন?
আর ভিসার দিনের গল্পতো আরো কঠিন। সকাল ৬টায় মতিঝিলে। গুলশান যাবো। ১৫ নাম্বার বাস ছাড়া উপায় নেই। বাসে। উঠে হেলপারকে বললাম, গুলশান যাবো। শুনেই মনে হলো সে কিছুটা অবাক হয়েছে। কারনটা বুঝলাম না। কারন খোঁজার সময়ও পেলাম না, উঠে বসলাম। একটু ঘুমঘুমও লাগছিল। বাস ধীর গতিতে চলছে। এমন সময় শুনলাম কে যেন চেঁচাচ্ছে, এই ব্রেক কর, এমনে চালাস ক্যা ?
হেলপারের দিকে তাকালাম, সে কথা বলছেনা। অবাক হলাম কে বলছে তাহলে? হঠাৎ আবিস্কার করলাম ড্রাইভারের পেছনে চা হাতে বসে থাকা এক বৃদ্ধ চেচাচ্ছে। বুঝলাম ড্রাইভারের ট্রেনিং চলছে। পেছনে শিক্ষাগুরু। হায় আল্লাহ এ কোন বাসে উঠেছি। দ্রুত নেমে হাপ ছেড়ে বাঁচলাম।
(চলবে)
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।