somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নমস্তে কলকাতা, সালাম বোম্বে-২

০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলকাতার গল্প
প্রাচীন আর ঐতিহ্যের শহর কলকাতা। কলকাতা নেমে খুব একটা পার্থক্য পাইনি ঢাকার সাথে। যে জিনিসটা পার্থক্য করে দিয়েছে তা হচ্ছে ‘টাঙ্গা বা টানা জাতীয় কিছু একটা’। বাহনটা আমাদের রিকশার মতই। কিন্তু মানুষ হেটে চালায়। বিষয়টা আমার কাছে মানবিক লাগেনি। জীর্নশীর্ন মানুষগুলো কীভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আর উপরে মুঘল বাদশাহদের মত বসে আছে যাত্রী। তাদেরও দোষ দিয়ে লাভ নেই। কলকাতার হলে বোধ হয় আমারও এমনিভাবেই যেতাম। আমরা প্রথমে ‘গুলশান লজ’নামে এক হেটেলে উঠলাম। বলে নেয়া ভালো আমাদের সঙ্গী ছিল প্রায় আঠারো জন। তাই সাময়িকভাবে নেয়া দু'রুমের, দুই বাথরুমে ফ্রেশ হবার জন্য বিশাল লাইন পড়ে গেল। দুই রুম নেয়ার কারণ হচ্ছে, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল টিকেট পেলে রাতেই চলে যাবো বোম্বের উদ্দেশ্যে। আমাদের তিন চার জন গিয়েছে টিকেটের খোঁজে। এদিকে আমাদের মধ্যে ব্যাপক দ্বিধাবিভক্তি। ওই রাতেই বোম্বে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে। আমি মনে প্রানে যাওয়ার পক্ষে কারণ, আমারই পিছুটান বেশী। যদি ভাইবার ডেট হয়ে যায়!তাহলে আমাকে একা হলেও চলে যেতে হবে। তাই বোম্বে যতো দ্রুত যাওয়া যায় ততই মঙ্গল। কারণ কলকাতায় চাইলেই আসা যাবে। তাই চাইছিলাম আজই টিকেট হওয়া দরকার। আর তারও আগে দরকার ফ্রেশ হওয়া। কিন্তু যে সিরিয়াল,সেখানে ফ্রেশ হওয়ার আগে হয়তো বোম্বে-ই চলে যাওয়া যাবে। রাজীব ভাই বললেন,চলেন আমার এক বন্ধুর বোন আছে, সেখানে যাই। তার এড্রেস নিয়ে এসেছি। তার স্বামী বাংলাদেশ দুতাবাসের ফার্ষ্ট সেক্রেটারী। আমি আনন্দে রাজী হয়ে গেলাম। হয়তো আমার চোখ তখন চকচক করে উঠেছিল। না হবারও কোন কারণ নেই,আমার চোখে তখন ভেসে উঠেছিল একটি চকচকে বাথরুমের ছবি।
আমরা বেরিয়ে গেলাম।
রাস্তায় নেমে একটা ট্যক্সি ডেকে ঠিকানা বলতেই ট্যক্সি চালক রাজী হয়ে গেলো। আমরা উঠলাম। অচেনা এক শহরে কেমন যেন লাগছিল। অন্যরকম অনুভুতি। সঙ্গে, কলকাতা ভ্রমনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেকেই পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যে সতর্কবানী দিয়েছিলেন তাতে একটা আতঙ্কও ছিল। তাই কলকাতা শহর যেমন দেখছিলাম তেমনি ট্যক্সিওয়ালাকেও বারবার দেখছিলাম। তার চেহারা থেকে তার চরিত্র উদঘাটনের চেষ্টা করছিলাম। হঠাত রাজীব ভাই ট্যাক্সি চালককে চেচিঁয়ে বললেন,বামে যান। পেয়ে গেছি। এটাই বোধ হয় রোডটা। ট্যক্সিচালক তার কথার কোন পাত্তা না দিয়েই গাড়ী চালিয়ে গেল,'আরে দাদা বছুন। কলকাতা ছহরের অলিগলি ছব আমাদের চেনা। জায়গাতেই নামিয়ে দোব।' কিন্তু রাজীব ভাই তার কথা মানতে পারছিলেননা কারণ তিনি একটা বিল্ডিং ঐ ঠিকানার আশেপাশের একটা নাম্বার দেখেছেন। কিছুক্ষন ঘোরাঘুরির পর ‘চালক দাদা’ গাড়ী থামালেন বললেন,দাদা পাচ্ছিনে তো। ততক্ষনে মিটারে বিল উঠে গেছে ভালোই। তার উপর চালকের কথা শুনে মাথায় হাত,মিটারে বিল যা উঠে তার দ্বিগুন নাকি দিতে হয়। এদিকে তখনো আমার ডলার ভাঙ্গাতে পারিনি। পকেটে একশ ডলার। রাজীব ভাইয়ের কাছে যা রুপি ছিল ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে আর বিশ রুপি রইল। অর্থাত আমাদের হোটেলে ফিরতে হবে হেটে। আমরা ভাড়া মিটিয়ে হেটে হেটে বাড়ী বের করলাম। সেখানে গোসল,খাওয়া সারলাম। রাজীব ভাইয়ের বন্ধুর বোন যথেষ্ট আন্তরিকতায় আমাদের আপ্যায়ন করলেন। তার স্বামীও বেশ ভালো লোক। বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচিত হলেন আর সচারাচর যা হয় দেশের বিস্তর খোঁজখবর নিলেন। তার উপর আমি সাংবাদিক শুনে তা আরো ব্যাপক মাত্রা পেল। আর বের হবার আগে বললেন,বোম্বে যাচ্ছ,ফিল্ম ইন্ড্রাষ্ট্রিতে একটু ট্রাই করে এসো। শুনে বেশ পুলকিত হলাম এবং রাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গেই তা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। ফিরতে হবে হেটে। অথচ এই কলকাতাবাসী জানলোনা পকেটে একশ ডলার নিয়েও হেটে গন্তব্যে ফিরতে হলো বাংলাদেশী দুই তরুণের।
হোটেলে পৌঁছেই জানলাম অল্পের জন্য টিকেট করা সম্ভব হয়নি। অতএব আগামীকাল। তাই বাকী সময় কলকাতার পথ ঘাট বিশেষ করে নিউমার্কেট, কালিঘাট মন্দির ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে দেখে নিলাম। রাত সাড়ে আটটায় ট্রেন। ঘুরে বিকেলেই ফিরলাম হোটেলে। তৈরি হলাম এক মহাভ্রমনের। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯০০ কিলোমিটার। সময় প্রায় ৩৪ ঘন্টা।
যদিও বোম্বে দেখার আকাঙ্খার কাছে এই দৈর্ঘ্য,সময় কোনটাকেই বড় মনে হলনা।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×