somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নমস্তে কলকাতা, সালাম বোম্বে- শেষ পর্ব

০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেরা
খাওয়া না খাওয়া, শহর ঘুরে দেখা, তারকার সন্ধান আর ভারত জয় করা বাংলাদেশীদের একজন হিসেবে দিনগুলো ভালোই কাটলো। অবশেষে চলে যাবার ঘন্টা বাজল। যাবো আমরা তিনজন। টিকেট কাটা হলো। ফিরতে হবে কোলকাতা। সেখান থেকে ঢাকা। তারপর নারায়ণগঞ্জ। সঙ্গে দ্রুত ফেরার চাপ কারন 'ভাইবা' পরীক্ষা। ইতিমধ্যে বেনাপোল, কলকাতা এবং বোম্বে থেকে যতবার আমি বাসায় ফোন করেছি তার চেয়ে বেশী করেছি কলেজের দপ্তরী জালালের কাছে। জালাল ভাই, পরীা কবে?
ফেরার সময় দাদার ষ্টেশন থেকে ট্রেনে উঠব রাত সাড়ে আটাটায়। শেষবারের মতো ভালোলাগার লোকাল ট্রেনে উঠে চলে যাচ্ছি। কেমন যেন একটু খারপই লাগছিল। খারাপটা আবার ভিন্ন মাত্রা পেল যখন ষ্টেশনে এসে শুনলাম, সাড়ে আটটার ট্রেন আসতে সামান্য(?) দেরী হবে। প্রায় সাড়ে বারোটা।
এক সময় ট্রেন এলো উঠলাম আবার ৩৫ঘন্টা। দেখতে দেখতে তাও ফুরালো। তবে এর মাঝে একটি গুজব আমাদের হাত পা ঠান্ডা করে দিয়েছিল। ট্রেনে কে যেন রটিয়ে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে 'বন্ দ' চলছে। শুনে আমাদের, বিশেষ করে আমার অবস্থা শেষ। পরে জানা গেলো মিথ্যে। গুজব। এ ঘটনায় একটু যেন দেশের ফিলিংস পেলাম। এখানেও গুজব জনপ্রিয়! কলকাতা এসেই একা টিকেট করলাম। রাজীব ভাই, রবি ভাই পরদিন আসবে। আমি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এর মধ্যে পরিচিত হওয়া দুজনের কথা না বললেই নয়, একজন কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত একসাথে আসা পলাশ। কঠিন ছেলে। দিল্লী থেকে এসেছে। ঢাকা গিয়ে, একদিন পড়েই প্যোলান্ড চলে যাবে। পলাশের সহযোগীতার কথা ভোলা যাবেনা। আসার সময় যাবতীয় ঝামেলাতে সাহস যুগিয়েছিল। ভারতীয় ইমগ্রেশনে এক কাষ্টম কর্মকর্তা আমার হাত ধরে লাইন থেকে আলাদা দাঁড় করালেন। ডলার আছে কিনা জানতে চাইলেন। চেক করার ভয় দেখালেন। সে সময় পলাশের পরামর্শ অনুযায়ি শক্ত ছিলাম। ডলার ফেরত নিয়ে আসার নিয়ম না থাকলেও পকেটে দু'শ ডলার নিয়ে ফিরেছিলাম।
আরেকজন, ট্রেনে পরিচয় নাম, কামাল হোসেন। কামাল ভাই। ভারত দশদিন ঘুরে যা জেনেছি তার চেয়ে বেশী জেনেছিলাম, কামাল ভাইয়ের কাছ থেকে। শোনালেন ভারতের কথা। বললেন তার বোম্বের কথা, এমন শহর বোম্বে যেখানে তাকিয়ে থাকা চোখ থেকেও সুরমা চুরি হয়ে যায়। এছাড়া বাংলাদেশ সম্পর্কেও তার যে ব্যাপক ধারনা তা শুনে অবাক না হয়ে পারিনি। দুদিনের ট্রেন যাত্রায় রীতিমত অভিভাবকের মতো হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে হিন্দিতে কথা বললেও পরে বাংলাতেই কথা বলেছেন। জানালেন সবার সঙ্গে বাংলা বলেননা। আমার সঙ্গে এসেছিলেন বেনাপোল পর্যন্ত। নিয়েছিলেন আমার নাম্বার। দিয়ে গেছেন তার ওই দেশের নাম্বারটিও। জানালেন, জটিল বোম্বে শহরে আমার জন্য তার দরজা খোলা।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
বাংলাদেশে এসে গেছি। অজানা ভালোলাগায় ভরে গেলো মন। মনে হলো, অনেকদিন পর নিঃশ্বাস নিলাম। ভারতে দামী খাবার মুখে নিতে না পারলেও মাওয়া ঘাটে ফেরীর কেন্টিনে বসে যখন মোটা চালের ভাত আর পদ্মার ইলিশের ঝোল দিয়ে ভাত খাচ্ছিলাম তখন চিন্তা হচ্ছিল, কতদিন ভাত খাইনা?
শেষ কথা
আমার শহর নারায়ণগঞ্জে এসে গেছি অনেক দিন হয়েছে। ভাইবাও শেষ। এর মঝে একদিন কামাল ভাই ফোন করেছিলেন, ইশতিয়াক ভাই ভালো আছেন তো?
তারপর আবার পুরোনো জীবন। জীবনের গতিতে ভেসে চলছি প্রতিদিন। এর মাঝেই মনের ভেতর হঠাৎ হঠাৎ ভেসে আসে সেই সব স্মৃতি। সেই হাওড়া মেইল, সেই ১৯০০ কিলোমিটার পথ, সেই বোম্বে, সেই জুহু বীচ, সেই লোকাল ট্রেন আর সেইসব ষ্টেশনগুলো দাদার, ভিলেপার্লে, সান্তা ক্রুজ, আন্ধেরী, গোড়েগাঁও ...। ভেসে আসে কামাল ভাইয়ের মুখও। দুদিন ট্রেনে যার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছি। তাই তার নাম্বারে না ঢুকলেও নিজের অজান্তে মাঝে মাঝে ভুল করে ফোন করে ফেলি কামাল ভাইয়ের ভারতীয় নাম্বারে, কামাল ভাই, ভাল আছেন তো?
কেমন আছে বোম্বে?

বিঃদ্রঃ অটোচালকের কথা যদি সত্যি হয় এখানে দেয়া ছবির দুটি বাড়ী ম্যাগাষ্টার অমিতাভ বচ্চনের। জুহু বীচ সংলগ্ন দুটি বাড়ীর একটির নাম প্রতিক্ষা ও অন্যটি জলসা।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×