somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৫ বাঙ্গালী আর ৩০ পাহাড়ীর প্রেমাক্রান্ত খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে - ৪

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব: Click This Link
দ্বিতীয় পর্ব: Click This Link
তৃতীয় পর্ব: Click This Link

৫.
খাগড়াছড়ি ফিরেই হোটেলের খোঁজখবর নেব। জয় বলল, ভাই এক কাজ করি এখানে তো আর দেখার তেমন কিছু নেই। চলেন রাঙ্গামাটি চলে যাই। আমার কাছেও বিষয়টা খুব একটা খারাপ লাগেনী। বললাম, চলো। বাসের সন্ধানে গেলাম।
রাঙ্গামাটি যাবার কোনো বাস নাই। একটা বাস ছেড়ে যাচ্ছে, তাও যাবে চট্রগ্রাম। জয়কে বললাম, রাঙ্গামাটি পরে যাবো। চলো আজ চিটাগাং যাই। জয় রাজী হলো। ততক্ষণে ওই গাড়ী ভরে গেছে। ঠিক করলাম, এইটাতে না, পরেরটাতে যাই। গাড়ীর সুপারভাইজার জানালেন, পরেরটা যাবে দেড় ঘন্টা পর। আমাদের মাথায় হাত। এমনিতে লাগে ৫ ঘন্টা। তার মানে সাড়ে ছয়, সাত ঘন্টার মামলা। আমাদের অবস্থা দেখে সুপারভাইজার আবার এসে বলল, ভাই ওইঠা যান। যত আগে যাইতে পারবেন তত লাভ।
ভাবনায় পড়ে গেলাম। যাবো? জয়ের দিকে তাকালাম। তার মনোভাব বোঝার চেষ্টা করলাম। বললাম, চলো যাইগা।
জয় রাজী। কিন্তু বাসের ভেতরে ঢুকেই চক্ষু চড়ক গাছ! এইটা কি অবস্থা?
এতো ভীড়! সিট যদি তিরিশটা হয় সেখানে দাড়াইয়া-বইসা মোটমাট যাত্রী সংখ্যা ৭০-৮০জন। একজন সিটে বসে আছে তার আশেপাশে দাঁড়িয়ে দুতিনজন।
মনে হইলো ঢাকা ভাসির্টির ভর্তি পরীক্ষা চলছে। এক সিটের জন্য দাবীদার তিনজন চারজন।
সাথে সাথে নেমে গেলাম। সুপারভাইজার জিজ্ঞাসা করলো, যাইবেনা? ভেতরেতো জায়গা ছিল। আর না হয় একটা কাজ করেন। ছাদে ওইঠা যান।
কথাটা শুনে আতকে ওঠলাম। এই উথাল-পাথাল ঢেউয়ের পথে বাসেই বসে থাকা যায়না। আবার, ছাদে?
সুপারভাইজার বলল, সমস্যা কি? ওঠেন, ওঠেন ছাইরা দিবো।
হঠাৎ কি মনে হলো জয়কে বললাম, চলো ওইঠা যাই।
বাস ষ্টার্ট দিলো। প্রথম টানেই আত্মায় পানি শুণ্যতা দেখা দিল। হায়! কিসে ওঠলাম?
মাথায় তোয়ালে পেচিয়ে বসলাম। ধুলা থেকে বাঁচতে। তারপর টানা প্রায় পাঁচ ঘন্টার ননষ্টপ উথাল-পাথাল। তবে ভয় শঙকা প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল। ছাদে ওঠার পর মনে হয়েছিল কখন যেন ছিটকে পড়ি। তবে কিছুক্ষনের মধ্যে আমার আর জয়ের আশেপাশে গোটা দশেক মানুষ বসল। যাদের ভেদ করে আমার অথবা জয়ের ছিটকে পড়ে যাওয়ার সকল সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়া যায়। তাই কখনো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে, কখনো ঘুমানোর চেষ্টা করে করে পার করেছি সময়। তবে একটা মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম। এমনও অনেক জায়গা আছে যেখানে মাইলের পর মাইল একই রকম। পাহাড় আর গাছ। স্থানীয় লোকজন সেসব সেই দেখেই এলাকার নাম বলে দিত অকপটে। সন্ধ্যা নাগাদ চিটাগাং পৌছলাম। পৌছেই একটা হোটেলে ওঠে ফ্রেশটেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুম।
রাতে একবার অবশ্য পুরাতন স্বভাব অনুযায়ি মন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছিল, জয় চল রাতে চলে যাই।
জয়ের একই সাথে ক্ষোভাক্রান্ত, একই সাথে বিস্ময় যুক্ত, একই সাথে বেদনাহত, একই সাথে প্রশ্নাক্রান্ত চেহারা দেখে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। এমন একটা চেহরা করলাম যার অনেক বড় একটা অর্থ দাঁড়ায়, আরে ভাই এমনিই বললাম। রাগ করো ক্যান? মজা করলাম। না মজা করা যাইবো না? ঠিক আছে, তাইলে করমু না।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

ছবি: ১. মশাল হাতে গুহার ভেতরে জয়
২. বাসের ছাদে জনতার মাঝে আমি
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×