আপনারা কি কেউ অবিস্মরণীয় গাইড পড়েছেন?
আমাদের শিক্ষা সময়ের একটা ভালো অংশ জুড়ে এই গাইডটা চোখের সামনে ছিল। এই গাইডের সম্পাদক হিসেবে একজনের নাম পাওয়া যেত। নাম, সম্ভবত আব্দুস সালাম। মহাজ্ঞানী এক ভদ্রলোক। বই-তে লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতি পাতার নিচের অংশে থাকতো বিখ্যাতদের অমর সব বাণী। সালাম সাহেবের কাজ এটা। তার এ দূরদর্শীতা ইর্ষণীয়। সালাম সাহেবের এ চিন্তা প্রশংসার যোগ্য।
তবে, তিনি তার এই কর্মের 'বাড়া ভাতে ছাই দিতেনও দক্ষতার সাথে। তিনি মহাপুরুষদের বাণীর ফাঁকে ফাঁকে নিজের দুয়েকটা করে বাণী ঢুকিয়ে দিতেন। যা সচেতন ছাত্রছাত্রী মহলে বেশ হাস্যরসের যোগান দিত এই ভেবে যে ...কই শাহরুখ খান আর কই খিলি পান?
(উল্লেখ্য, সেখানে অবশ্য শাহরুখ খানের বাণী সংযুক্ত হয়নি। কাহিনীর প্রয়োজনে, সরি লেখার প্রয়োজনে একটা বিশেষ চরিত্রে শাহরুখ খানকে নিয়ে আসতে হলো।)
তার বাণী বেশ উচ্চমার্গীয় ছিল। ঠিক করে মনে নেই থাকলেও বাণীগুলো খুবই হৃদয়বিদীর্ণ করা এবং সুখপাঠ্য। 'মানুষকে জন্মালে মরিতে হইবে' অথবা 'মানুষকে আঘাত দিলে সে রকম আঘাত ফেরত পেতে হয়' টাইপ।
আর একটা বিশেষ বাণী ছিল। যা আমরা কালজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছিলাম। বাণীটা এরকম, আমি কি এমন করলাম মানুষ আমাকে আজীবন মনে রাখবে?
(এটাকে বাণী বললেও, সালাম সাহেবের ব্যাক্তিগত আক্ষেপ এখানে স্পষ্ট ছিল কিনা কে জানে?)
অসম্ভব হাস্যকর এই বাণীটি আমরা বন্ধুদের মধ্যে অফিসিয়াল বাণী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। কারন, কেউ কোন কাজে সফল হলে এই বাণীর আশ্রয় নিতাম। যেমন, কি এমন করলাম যে আমাকে ধন্যবাদ দিতে হবে?
এ থেকেই মনে হলো, সালাম সাহেবের মাধ্যমে ব্লগারদের কাছেও প্রশ্ন তোলা যায়, হে সন্মাণিত ব্লগার, আপনি ব্লগে কি এমন করলেন যে অন্য ব্লগারগন আপনাকে ভুলিয়া যাইতে পারিবেনা?
উল্লেখ্য, হাজারো পোষ্ট, লাখো কমেন্ট, প্রেমময় বাক্য বিনিময়, মন কষাকষি, গালাগালি যাই করেন যাহা বলিবেন সত্য বলিবেন। সত্য বহি মিথ্যা বলিবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


