বাবর সাহেবের শার্ট-ই ছিল ছয়শ'র উপরে। মাথায় অলটাইম জেল। চোখে চিকন ফ্রেমের চশমা। 'উই আর লুকিং ফর শত্রুজ' বা 'ইনফ্যাক্ট ইটস অ্যা টোটাল ব্যার্থতা' টাইপ অনর্গল ইংরেজী চয়ন। একের পর এক নানারকম নাটক। আর সে কী অভিনয়। সততার অভিনয়, এক্টিভ মন্ত্রীর অভিনয়, সন্ত্রাস প্রায় দমন করে ফেলার অভিনয়। মোটকথা, কোনো বলিউড ষ্টারের চেয়ে কম না। ইদানিং জানা গেছে, দাউদ ইব্রাহীমের সাথেও লিংক ছিল।
বলা যায়, শের-এর উপর সোয়া শের ছিলেন।
মন্ত্রীদের হার্টথ্রব হওয়ার নিয়ম নেই বলে হয়তো কত তরুণী তার জন্য পাগল ছিল তা জানা যায়নি।
ক্ষমতার পালা বদলের সাথে সাথে আমরা হারিয়েছি এই তরুণ প্রজন্মের অহংকারকে।
তার দু'আড়াই বছর পরের কথা। আমরা মোটমুটি এক তারুণ্যের আলোয় উদ্ভাসিত মন্ত্রীর হারিয়ে যাওয়ার শোক সবে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। কিন্তু ততদিনে আবার তারুণ্যের ঝলক। সেই এক-ই স্থান। এক-ই চেয়ার। এ যেন শুধু কাকতালিয় নয়, কাক, বক, শালিক, চড়ুই সব তালিও-ই। আসলেন নতুন মাথায় তাজ নিয়ে এলেন নতুন একজন। ব্যাপক গেট-আপ, অসাধারণ ড্রেস-আপ, মাথায় একই ষ্টাইলে জেল মিক্সিং। তার উপর কদিনের মধ্যে আমরা দেখে ফেললাম, তার অভিনীত নাটক। সে কি অভিনয়। সে কী ডায়লগ থ্রোয়িং
...মা মা..মা..মায়ের মতো...
জনগন টাসকি!
জনগন মুগ্ধ!
আর কতো কী দেখতে হবে কে জানে?
তবে এইসব জিনিসগুলো আমাদের মনে অন্যরকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। আমাদের প্রত্যাশার লেভেল বাড়িয়ে দিচ্ছে। মন্ত্রীপরিষদে হিরো ইজম এবং ড্রামাটিক সিকোয়েন্স আমাদের এক্সট্রা বিনোদনের যোগান দিচ্ছে দুই সরকারের টার্মে।
এই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও হয়তো আমরা এই টাইপের নায়কোচিত এবং অভিনয় প্রতিভাসম্পন্ন মন্ত্রী চাইবো। সেক্ষেত্রে সামনের সরকারের টার্মে এই পোষ্টে মিনিমাম একটা সিনেমার নায়ককে জায়গা দিতে হবে-ই।
কারন, বাঘ একবার মাংসের স্বাদ পেয়ে গেলে যেমন বিপদ, তেমনি আমরা বিনোদনের অভাবে থাকা আমজনতা একবার বিনোদনের স্বাদ পেলে বারবার চাইবো এটাই স্বাভাবিক।
কারন, আমাদের বিনোদনের পর্যাপ্ত আয়োজন দেশে খুব-ই কম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



