জীবন নিয়ে জুয়া খেলায় পরাজিত (আংশিক ঘোষিত ফলাফলে) এক ব্লগারের সামহোয়ার ইনে এক বছর
যারা যারা শোনে তারা প্রথমে কিছুক্ষণ চুপ থাকে তারপর নানা খুটিনাটি প্রশ্ন করে, ক্লাশ থ্রিতে তোমার রোল কত ছিল? ক্লাশ ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষায় তুমি কত নাম্বার পেয়েছিলে?
এতো আগের স্মৃতি মনে না থাকলেও আশেপাশের একটা কিছু বলি। তারপর দেখি প্রশ্নকর্তাও নিজের সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন। তো তখন শুরু হয় দু'জনের রেজাল্টের তুলনামূলক বিচার। এবং এই ফলাফলের যে ফলাফল দাঁড়ায় তাতে দেখা যায় ওই জন আমার চেয়ে ভালো ছাত্র ছিলেন।
আমি পরাজয়ের গ্লাণি নিয়ে সেখানে আর কথা বাড়াই না।
একটা সময় বয়সের নতুন মোড় এলো। মেয়েদের সম্পর্কে সচেতন হলাম। সতর্ক দৃষ্টি নিয়ে মহল্লায়, স্যারের ব্যাচে মেয়েদরি দিকে তাকাতেই ভালো লাগতো। মেয়েরাও ভুল করে তাকিয়ে ফেললে নিজেকে বলিউড নায়কদের লেভেলে কল্পনা করতে পিছপা হতাম না। অতি আত্মবিশ্বাসে তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতাম। দিনভর পথেঘাটে নারী দেখা আর রাতভর আয়নায় নিজেকে দেখে পুলকিত হতাম। আরে আমিতো যথেষ্ট হ্যান্ডসাম আছি। মেয়েরা তো তাকাবেই।
আমার যাবতীয় আত্মবিশ্বাস আমার কাছেই গচ্ছিত রেখে বাড়ী'অলার মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায় জনৈক পৌঢ়ের সাথে। আর ব্যাচের সুন্দরী মেয়েটা 'দিল তো পাগল হ্যা'র অডিও ক্যাসেটটা তুলে দেয় অন্য আরেকজনের হাতে।
আমি পরাজয়ের গ্লাণি নিয়ে সেখানে আর দাঁড়াতাম না।
একটা সময় লেখালেখি শুরু করি। শুরু করি পত্রপত্রিকায় চাকরী। লেখালেখির শুরুর দিকেই রবীন্দ্রনাথরে নিচে নিজেকে ভাবতেই পারতাম না। নিজের ছাপা হওয়া লেখা নিজে পড়েই মুগ্ধ। আমি এতো ভালো লেখি কী করে? মানুষ কিনে পড়েনা তাই নিজের টাকা খরচ করে একাধিক কপি কিনে বিলাই। ফোন করে জিজ্ঞাসা করি, কী কেমন লিখলাম? কেউ কেউ বলতো এখনো পড়ি নাই, পড়ে জানাচ্ছি। আবার কেউ কেউ ভূয়সী প্রসংশা। প্রশংসা পেয়ে আমিও আপ্লুত। জিজ্ঞাসা করতাম, কোন অংশটা ভালো লেগেছে। তখন আর জবাব পাওয়া যেতো না।
এভাবে দিনের পর দিন কেটে যাবার পর একসময় বুঝলাম ঘটনা কী। কেউ আসলে পড়ে না। সেখানেও পরাজয়ের নিদারুন বেদনায় আমি কুণ্ঠিত হয়ে চুপসে যাই।
লেখালেখির একটা সময় এলাম ব্লগে। ভালো সিষ্টেম তো। পাঠক রেডি। এমন লেখা লিখবো, না পড়ে কই যাবে? শুরু করলাম, এখানে পোষ্টের পর পোষ্ট। কিন্তু ফলাফল জামানত বাজেয়াপ্ত হবার অবস্থা। এক দুজন হয়তো ভুল করে ঢুকেন। আমি কিছক্ষেণ পর পর ঢুকি। এই বুঝি একটা কমেন্ট এলো। কিন্তু সকল আমায় ছাই ঢেলে, সব চুপ।
এখন এমন অবস্থা আমি অনলাইন হলে বোধ হয় কোনো ভূয়া লেখার আশংকাতে অনেকে অফলাইন হয়েও যাওয়া শুরু করেছেন। অনলাইনে আছেন ৯০ জন দেখে জলদি কিছু লেখে যেই লগ ইন করি। মুহুর্তেই শেয়ার বাজারের মতো ধ্বস। সেটা ৩০-৩৫ এর কাছাকাছি চলে যায়।
তাই এখানে সমুহ পরাজয়ের গ্লাণিতে পোষ্ট করা দিয়েছি বন্ধ করে।
যাই হোক, যেভাবেই হোক আমার ব্লগ জীবনের এক বছর হয়ে গেছে। কম্পিউটার সম্পর্কে নিতান্ত অগত্যার কারনে একাউন্ট খুলে, আমাকে নিয়ে লিখে সহযোগিতা করার জন্য রবি ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা আমার খুব কাছের দুয়েকজন ভাই ব্রাদার, যাদের নাম না নিলেও মাইন্ড করবেন না।
কৃতজ্ঞতা সেই কম সংখ্যকদর যারা আমার ব্লগে তাদের মাউস ধুলি দিয়েছেন।
ধন্যবাদ ব্লগার স্বপ্নজয়কে, ধন্যবাদ শূণ্যআরন্যক, মনির হাসান, নকীবুল বারী, তায়েফ আহমেদ এবং আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখা বিদ্রোহি রণকান্ত সহ যারা যারা দিনের পর দিন আমার সাথে থেকেছেন। ধন্যবাদ অমি রহমান পিয়ালকেও আমার যে কোনো ফান পোষ্টের পর যিনি এসে এক ধরনের ভয় দেখিয়ে যান। যে কোনো ফান পোষ্ট করার আগে আমি নিশ্চিত হয়ে নিই তিনি অফলাইন কিনা?
যার সিরিজ লেখাগুলো অসম্ভব আকর্ষনীয় মনে হয়।
আকর্ষণীয় মনে হয় আরো কয়েকজনের লেখা। যে লেখাগুলোও আসলে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্লগে বসে থাকাকে হালাল করে দেয়।
ধণ্যবাদ এই এক বছরে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তালি দিয়ে উৎসাহিত করার জন্য এবং গালি দিয়ে সতর্ক করার জন্য। যাদের নাম উল্লেখ করতে পারলাম না স্মৃতি শক্তির নিদারুণ প্রতারণায়।
আর শেষবারের মতো আর্শীবাদ প্রার্থী সকলের কাছে, জীবনের এই জুয়ার বোর্ডে একদিন যেনো এক পর্বে হলেও জয়ের মুখ দেখা হয়। জীবনের স্কোর বোর্ড খালি নিয়ে ফিরে যাওয়াটা বড় বেশি বেমানান হবে। একটা জীবন অযথাই কাটিয়ে এলে- সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হয়ে এসে ওপারে ফেরেশতাদের এমন কমেন্ট পেতে চাইনা। তাদের কমেন্ট করার স্কোপ ব্লক করে দিতে চাই।
সবাই ভালো থাকুন।
অফ সংযোজন::: আমার ব্লগে ৫০০০০ হিট হবার পর দেয়া পোষ্টটি সংযোজন করে দিলাম।
Click This Link
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।