একটি ডিজিটাল রূপকথা
দিনভর নেট-এ বসে থাকা বজলুকে বাসায় সারাদিন-ই বকাঝকা শুনতে হয়। তাতেও বজলু টলে না। এ ব্যাপারে বাংলায় তার ধারণা নেই। হিন্দিতে একটা ধারণা আছে, কুছ পানে কে লিয়ে কুছ খোনা পারতা হে... তবে এই লাইনটা নিয়ে সে যথেষ্ট দ্বিধা দ্বন্দে আছে। লাইনটা ঠিক কিনা? এর উত্তর অবশ্য তার ছোট বোনের কাছে আছে। সারাদিন বসে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখা তার বোন-ই এই লাইনটা ঠিক আছে কিনা বলতে পারবে। কিন্তু পারলেও বলবে না। বজলুর ইন্টারনেট আসক্তি কারনে ঘরের অন্যদের মতো সেও বড় ভাই বজলুর ওপর যার পর নাই বিরক্ত। বজলু সারাদিনই নেটে বসে থাকে, সন্ধ্যার দিকে বের হয়। আজও বের হয়েছে। এই সময়ে সে এলাকার গলিতে ঘাপটি মেরে বিড়ি সিগারেটে দুয়েক টান মেরে কিছু ধোঁয়া টোয়া ছেড়ে যায়। আজও সে এই কাজ করেছে। হঠাৎ সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে মাটির কি এক জিনিস দেখল। এগিয়ে গিয়ে জিনিসটা ধরে হাতে নিতেই তার মাথা চক্কর খেয়ে গেল। আলাদিনের চেরাগ নাকি? সে দুয়েকবার ঘষাঘষি করতেই ধোঁয়া বের হওয়া শুরু হল। প্রথম যদিও তার খটকা লাগল। এটা কি সিগারেটের ধোঁয়া, না এখান থেকে বের হ?
শেষে অবশ্য নিশ্চিত হল এটারই। তার মাথা আরেকবার চক্কর খাওয়ার দশা। তাহলে কী সে আলাদ্দিনের চেরাগ পেয়ে ফেলল? এবার সে মুখ থেকে সিগারেট ছুড়ে ফেলে ব্যাপক শক্তি দিয়ে চেরাগটা ঘষাঘষি শুরু করে দিল। তার ঘষাঘষির ফলে ধোঁয়ার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গেল। তবে অনেকক্ষণ ধরে সেও ঘষছে; ধোঁয়াও বাড়ছে। কিন্তু চেরাগের দৈত্যের কোনও খোঁজ নেই। হটাৎ লক্ষ্য করল ধোঁয়া এমনভাবে আসছে যেটাকে মনে হচ্ছে অনেক ইংরেজি অক্ষর। সে ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখল আসলেই তো। আসলেই একঝাঁক ইংরেজি অক্ষর সারি বেঁধে আছে বাতাসে। শূন্যে। সে মনোযোগ দিয়ে পড়ল। ওরে বাবা এতো দেখি একটা ওয়েব এড্রেস!
সে এড্রেসটা ভালোভাবে পড়ে অবাক হল। http://www.cheragerdoitto.com সে দৌড়ে বাসায় গেল। হাতে চেরাগ, আর মুখে এড্রেস। বারবার এড্রেসটা বলছে যাতে ভুলে না যায়। ডব্লিউ ডব্লিউ ডট চেরাগের দৈত্য ডটকম... ডব্লিউ ডব্লিউ ডট চেরাগের দৈত্য ডটকম।
২.
বাসায় এসে কম্পিউটার ওপেন করে বজলু ইন্টারনেটে ওই এড্রেস দিয়ে ঢুকলো। ঢুকেই তার দাঁত কপাটি লেগে যাওয়ার জোগাড়। বিশাল এক দৈত্যের ছবি। সে পুরো মনিটরের চারপাশে চোখ বুলাল। অনেক কিছু লেখা। কোথাও লেখা দৈত্যেকে অযথা মাউস দিয়ে ক্লিক করবেন না। দৈত্যকে নিয়ে ফেসবুকে কিছু লিখবেন না। নিজে ঢুকেছেন ভালো কথা, অন্যকে এই এড্রেস দিতে যাবেন না। আর সবচেয়ে নিচে একদিকে আছে, তিনটি চাওয়া লিখে ক্লিক করেন। এটা দেখে বজলু আনন্দ ধরে রাখতে পারল না। তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। একি ডিজিটাল ইচ্ছে পূরণ। সে কি করবে? কোন তিনটা চাওয়া জানাবে? কত চাওয়া আছে তার তবুও সে ঠিক করল তার তিন ইচ্ছা তিন চাওয়া, সে প্রথমটা লিখল। ময়নাকে চাই।
হঠাৎ কোত্থেকে এক ময়না পাখি তার ঘরে এসে বসল। আজব কাণ্ড পায়ে শেকল। জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা। সে ভয় পেয়ে গেল, মেজাজও খারাপ হল। ময়না মানে ময়না পাখি তো নয়। সে পাশের বাসার ময়নাকে চেয়েছে। শিট। নিজের ভুলে একটা চাওয়ায় ধরা খেয়ে গেল সে। সে দ্বিতীয় অপশনে লিখল, পাশের বাড়ির ময়নাকে চাই।
কিছুক্ষণের জন্য স্কিন ধোঁয়ায় ভরে গেল। কম্পিউটারের বাইরেও ধোঁয়া ছড়িয়ে যেতে লাগল। বজলু আঁতকে উঠল কাহিনী কি? কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেল নাকি? না শট সার্কিটে আগুন? সে দৌড়ে পানি এনে কম্পিউটারের ওপরে ঢেলে টেলে একাকার। হঠাৎ আপনা আপনিই ধোঁয়া কমে গেল। স্ক্রিণ পরিষ্কার হয়ে গেল। দৈত্য এসে হাজির। সে লিখিতভাবে জানাল, বস! ময়না আরেক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে ছিল। ধরে এনেছি। দরজা খুলে ময়নাকে বরণ করে নেন।
বজলুর মন খারাপ হয়ে গেল। ময়না এত বড় প্রতারক! ফেসবুকে আমার সঙ্গে প্রেম করে আরেক ছেলের সঙ্গে পালিয়েছে!
সে ভয়ে ভয়ে দরজা খুলল। ভয়ংকর দৃষ্টিতে ময়না তাকিয়ে আছে। পেছনে তার পালিয়ে যাওয়া সঙ্গী প্রেমিক। দু'জনেই হই হই করে ঘরে ঢুকে বজলুকে মুখ চেপে ধরল। ঘরের কেউ যাতে টের না পায় এমনভাবে বজলুর ঘরে ঢুকল। ঢুকেই বজলুকে এলোপাথারি মার। শালা, এই ডিজিটাল যুগে দৈত্য পুষিস? জাদু টোনা করিস? বলেই আবারও মার। অবস্থা বেগতিক দেখে বজলু ময়নার পায়ে পড়ে গেল, খালাম্মা মাফ করে দেন। আর জীবনেও চামু না। হঠাৎ ময়নার চোখ পড়ল কম্পিউটার স্ক্রিণে। সব পড়ে বুঝল, ও এই কাহিনী। সাবাশ। এখনও একটা চাওয়া বাকি আছে। সে দ্র'ত তিন নাম্বার অপশনে গিয়ে লিখল, আমাকে তোমার দাস বানিয়ে নাও।
মুহূর্তেই সামান্য ধোঁয়ার মাধ্যমে ময়না ও তার প্রেমিকার কাছ থেকে বজলু হারিয়ে গেল।
৩.
বজলু এখন দৈত্য পাড়ায় থাকে। দৈত্যের সেবা করতে করতে অস্থির। দৈত্যকে মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করে, দৈত্য ভাই আপনারা বাঁচেন কত বছর?
দৈত্য হো হো করে হাসে। তার হাজার তিন চার তো হবেই। বজলুর মাথায় বাজ পড়ে।
সে এতো বছর এই কাজ করে যাবে?
একটা সময় সে দৈত্যের কাছে চেয়ে টেয়ে একটা ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার নেয়।
ফেসবুকে খোঁজ করে ময়নাকেও বের করে। তার সঙ্গে কথা বলে। আর মাঝে মাঝে ভয়ও দেখায়, দাঁড়াও ময়না তোমার খবর আছে। দৈত্য হওয়ার ট্রেনিং নিচ্ছি। তোমাকে আর তোমার প্রেমিককে একসঙ্গে খবর করব।
ময়না ওপাশ থেকে হাসে। ওরে বোকা বজলু এটা ডিজিটাল যুগ। আমার প্রেমিক আইটি স্পেশালিষ্ট। সে `ডব্লিউ ডব্লিউ ডট দৈত্য সাইজ ডটকম' থেকে একটা সফটওয়ার ডাউনলোড করেছে। ওই সফটওয়ার দিয়ে দৈত্যের নাম লিখে ডিলিট দিয়ে যে কোনও দৈত্যকে মেরে ফেলা যায়।
কথা শুনে বজলু চুপসে যায়। শালার কি দিন আইলো সবই মানুষের হাতের মুঠোয়। তবে কিঞ্চিৎ খুশিও হয়। সে এই দৈত্যকে মারার জন্য কত পানির নিচে কৌটায় ভোমরা খুঁজেছে। অল্প সাঁতার জেনে পানিতে নেমে ডুবে ডুবে কম পানি খায়নি। এমন সফটওয়্যার আছে জানলে তো অনেক আগেই দৈত্যকে মেরে ফেলা যেত।
বজলু তাই আপাতত ময়নাকে সাইজ করার চিন্তা ছেড়ে দৈত্যকে সাইজ করার জন্য গোপনে গুগলে সার্চ দিয়ে সেই সফটওয়্যার খুঁজতে লাগল।
নোট : দুঃখিত এখানে বজলুকে বোঝাতে আমি অভিনেতা মোশাররফ করিমের ছবি যুক্ত করেছি। এতে আমার কোনো দোষ না। দেশী নাটকের প্রভাব। একটা গল্প পড়ে যকন ভিজ্যুয়ালী চিন্তা করছিলাম তখন মোশাররফ করিমের চেহারায় কেন যেন ভেসে আসছিল। মোশাররফ করিমের ভক্তদের কাছে বিনীত ক্ষমাপ্রার্থী।
আমিও নিজেও তার ভক্ত।
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।