somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এই শেষ শীতে বইমেলায় এসেছে মাফলার ২০০৯ এ প্রথম শোনা গিয়েছিল মেলার একটা মাস একটা হোটেল এর সার্ভিস থাকবে। নাম ছিল, হোটেল বনলতা (আবাসিক)
২০১০ এ শোনলাম, মেলায় পাওয়া যাচ্ছে, নেইলকাটার
২০১১ তে ঘটনা আরো ভয়াবহ, মেলায় ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছিল।
এবার ঘটনা আরো করুণ, মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ফটপাথের মাফলার।
এসব দেখে শুনে অবাক হতে হয়। বাংলা অ্যাকাডেমি চালায় কারা? তাদের চোখের সামনে এসব কী?


যাই হোক ভাই আর নাটক করতে পারছিনা, প্রতি বছরের মতো এটা একটা ভং। কারণ হুমায়ূণ আহমেদের ফর্মূলা, ভং না করলে কেউ কথা শোনেনা।
প্রতি বছর ঐতিহ্য অনুযায়ি নিজের বইয়ের খবরটি এভাবেই জানান দিয়ে আসছিলাম।

বিশ্বাস না হলে ফেব্রুয়ারির ব্লগগুলো খুজে দেখতে পারেন।


মাফলার বইটি এনেছে ভাষাচিত্র
স্টল নাম্বার ২০৩-২০৪ (ক্যান্টিনের পাশে)
প্রচ্ছদ করেছেন, ধ্রুব এষ
গল্প আছে ১১ টি।
যার মধ্যে, বিয়ের কার্ড, শহারুখ খান, পাশের সিট, ইশতিয়াক ভাই প্লিজ, জুয়া, ..., যে শহরে তখনো ফেসবুক আসেনি, মাফলার অন্যতম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29538176 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29538176 2012-02-10 00:38:07
গল্প : ভাত রাজা জবাব দিত, পেটে?
কেন?
এই যে খালি ভাত খাইতে মন চায়। আর খিদা তো পেটেই লাগে।
রাজার কাছে মনে হয় পৃথিবীর শেষ কথা হচ্ছে, ভাত। সে লেখাপড়া করেনি বেশি। যতদিন ক্লাশে গিয়েছিল শুনেছে, পৃথিবী নাকি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। রাজার তা মনে হত না। তার মনে হত, সব ভাতরে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
তবে অনেকের কাছে শুনেছে বিদেশে ভাত খায়না।
রাজার সেসব মানুষের জন্য দুঃখ হয়। তাদের কথা মনে করে কষ্ট পায়, ভাত না খাইয়া থাকে ক্যামনে? খিদায় কী কষ্টইনা পায় তারা!
২.
রাজা সারাদিন গ্রামের এ মাথা থেকে ও মাথা ঘুরে বেড়ায়। ত্রিশ বছরের এই যুবক অজ্ঞাত কারণে ভাতের বিষয়ে এসে শিশুদের মতো হয়ে যায়। কেউ দুই প্লেট ভাত দিলে সে সব কাজ করে দেয়। সে অবশ্য দুই প্লেট একা খায়না। মায়ের জন্য নিয়ে যায় এক প্লেট। ছোটবেলায় রাজা মায়ের ভাতসহ খেয়ে ফেলতো। এখন মায়ের জন্য আনা ভাতের একটুও ধরেনা। উল্টো নিজের প্লেটের ভাতও মায়ের জন্য রাখে।
যেদিন গ্রামে কারো কাজ না থাকে সেদিন রাজার ভাত খাওয়া বন্ধ। ভাত খাওয়া বন্ধ তার মায়েরও।
তারা দুজনেই অবশ্য দিনের পর দিন ভাত না খেয়ে অনেক অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সমস্যা হয় না।
তবে যেদিন ভাত না থাকে সেদিন রাজা যেন কেমন হয়ে যায়। মাটির ঘরের বাইরের বারান্দায় শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখে। আর ঘরের ভেতরে একটা প্রায় ভাঙ্গা চৌকিতে শুয়ে থাকা অসুস্থ মা'কে নানা ধরণের প্রশ্ন করে। আইচ্ছা মা, বাবা থাকতে আমরা কী অনেক বড়লোক আছিলাম?
হ। মা জবাব দেয়।
তখন কী ঘরে অলটাইম ভাত থাকতো?
হ।
তুমি কী যখন ইচ্ছা ভাত খাইতা?
মা চুপ থাকে। জবাব দেয়না।
আমি থাকলেও খাইতাম। না মা?
ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পাওয়া যায়।
রাজা আর কথা বাড়ায় না। সে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকে। যদিও চাঁদ তার ভালোলাগেনা। এটা রুটির মতো। তার রুটি পছন্দ না। ভাত পছন্দ।
৩.
রাজা কাজ না থাকলে ধান ক্ষেতের সামনে বসে থাকে। এখানে বসে তার ভাবতে ভালো লাগে। একদিন এতোগুলো ধান ভাত হয়ে যাবে! ভাবতেই তার যে আনন্দ হয়, তা আর দেখে কে?
দুদিন ধরে এমন আনন্দ দেখেই রাজার মন ভালো রাখতে হচ্ছে। কেউ কাজও দিচ্ছেনা। ঘরে খাবারও নেই। আজাদ দোকানে বাকীতে চাল আনতে গিয়েছিল। ফেরত পাঠিয়েছে দোকানদার আলাউদ্দিন মুন্সী। সাথে কিছু গালাগলিও করে দিয়েছে, কোনও বাকী নাই। তুই ক্যামনে বাকীর ট্যাকা শোধ দিবিরে ফক্কিনীর পুত। যা ভাগ।
রাজা ভাগে না। তার ভাগলে হবেনা। চাল নিতে হবে। তার চাল দরকার। ভাত দরকার। গতকাল খাওয়া নাই। খাওয়া নাই তার মায়েরও।
রাজা ভেবে পায়না কী করবে? কোনও উপায়ও পাচ্ছেনা কিছু করার। অনেকসময় হয়ে গেল ভাতের গন্ধ নাকে আসেনা তার।
৫.
ঠিক দুদিন পর একটা কাজ পায় রাজা। সে পাগলের মতো কাজ করে। কাজ শেষে এক থাল ভাত গরম ভাত পায় সে। রাজা ধোঁয়া ওঠা ভাত নিয়ে দৌঁড়ায় বাড়ীর দিকে। দ্রুত দৌড়ায় সে। মাকে নিয়ে খেতে হবে। এক দৌড়ে পৌছে যায় বাড়ীতে। ঘরের কাছে আসতেই ঘটে যায় একটা দূর্ঘটনা অতি দ্রুত দৌড়াতে গিয়ে তার হাত থেকে দূরে ছিটকে পড়ে ভাতের থালা। পড়ে যায় সেও। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ভাত। ভাতের গন্ধ প্রচণ্ডভাবে নাকে আসছে রাজার।
রাজা এই প্রথম ভাতের গন্ধ নিতে চাচ্ছেনা। সে ভাতের দিকে তাকিয়ে আছে। ছড়ানো ভাতগুলোকে মনে হচ্ছে তার হৃদয়। ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সে নাক চেপে ধরে আছে। এ গন্ধ তার সহ্য হচ্ছেনা।
হঠাৎ তার কষ্টটা আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেল। মনে হলো ভুল জায়গা চেপে ধরে আছে সে। নাক নয়, তার কান চেপে ধরা উচিত ছিল। কারণ ভেতর থেকে তার তার মা ডেকে উঠেছে, রাজা। বাবা, গরম ভাতের গন্ধ আসছে কোথা থেকে রে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29537539 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29537539 2012-02-09 00:45:55
দ্রুক অথবা থান্ডার ড্রাগনের দেশে আচ্ছা, ভুটানে কী রিকশায় চড়ে যাওয়া যাবেনা?
ছয় সদস্যের হারাধনের পুত্রসম দল নিয়ে এয়ারপোর্টে যখন বোর্ডিং পাস নিতে এসেছি তখন আমার এক আত্মীয়কে অকৃতকার্য ঘোষণা করে দিল বিমান কর্তৃপক্ষ। তিনি যেতে পারবেনা। তার পাসপোর্টের মেয়াদ পর্যাপ্ত নেই।
এমন একটা সময়ে ঘটনা ঘটল যখন মন খারাপ করার মতো পর্যাপ্ত সময়ও আমাদের হাতে ছিল না।
এক প্রকার অমীংমাসিত বিদায় আমাদের মধ্যে হলো। আমি পাসপোর্ট আগে খেয়াল করিনি। হারাধনের একজন কমে যাওয়ার পর বাকীরাই বিষন্নতা নিয়ে বিমানে গিয়ে উঠলাম।
বিমানে ওঠার পর থেকে মন খারাপের সূচনা হলো এবং দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নিলো। সকলেরই মন খারাপ।
আমার মন খারাপটা কিছুক্ষণের মধ্যে মেজাজ খারাপে রূপ নিলো। কারণ আমার পাশে থাকা দুই বিদেশী। এশিয়ার অনেকগুলো দেশের চু মোবারক দৃশ্যমানের চেয়ে বেশি ছোট হওয়ায় ঠিক আন্দাজ করা যায়না তারা কোন দেশের? এমনকি এটা আন্দাজ করা যায় না কে কোণটা?
তাদের ব্যাপারে ধারণার উপর চলতে হয়। আমিও করলাম। যেহেতু এরা ট্রানজিট যাত্রী ব্যাংকক থেকে এসেছে তাই ধরে নিলাম তারা থাই সুপের দেশ থাইল্যান্ডের অধিবাসী।
থাই স্যুপ যত প্রিয় এরা ততই বিরক্তী কর ছিল। কিছুণ পর পর দাত কেলিয়ে হাসে আর ভাষার সুবিধা নিয়ে কি যেন বলে। আমি বুঝিনা বলেই বোধ হয় বেশি কথা বলে।
আমি তাদের হাসাহাসির ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিতেই জানলাম আমরা এসে গেছি।
মাত্র ৫০ মিনিটেই ভুটান। কিংডম অব রয়েল ভুটান।

২.
আমরা দ্রুক এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে নামলাম পারো এয়ারপোর্টে। পারো, তাদের একটি শহরের নাম। জানামতে এটা পৃথিবীর ছোট এয়ারপোর্টগুলোর অন্যতম। এখানে রানওয়ের দৈর্ঘ্য অনেক কম। বিশেষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত বৈমানিকরাই এই বিমানে চাকরী করেন। যাই হোক প্রতিদিনের মতো তাদের কারসাজিতে এবার আমরাও নিরাপদে নামলাম।
নেমেই চারদিকে তাকাতে যে শব্দ বেরিয়ে মুখ থেকে, অসসাধারণ।
মনে হলো ধনীর বাড়ির গোছানো ড্রইংরুম। যার উপরের দিকে আকাশের একটা অসামান্য চিত্রকর্ম ঝুলছে।
আকাশ এতো যে সুন্দর হতে পারে তা এই প্রথম জানা হলো।
আমাদের শরতের আকাশ দেখে আমরা এতো মুগ্ধতায় আবিষ্ট যে থাকি তার চেয়ে কয়েকগুন অসাধারণ আকাশ সেটা বলতে দ্বিধা নেই।
প্রকৃতির যত্ন নিলে প্রকৃতি যে তার নিজের ভালো চেহারাটাই যে দেখায় ভুটান তার বড় প্রমাণ।
আমরা বিমান বন্দরে নেমেই দেখলাম রাজা'রা দাঁড়িয়ে। পুরুষানুক্রমে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে বাস্তবে নয় বিলবোর্ডে। এরা হচ্ছেন, উগিয়েন ওয়াংচুক, জিগমে ওয়াংচুক, জিগমে দর্জি ওয়াংচুক, জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক শেষ জন বর্তমান ক্ষমতায় থাকা এবং সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া রাজা জিগমে খেচার নাগেয়াল ওয়াংচুক। বিগত ১০৪ বছর যাবত যারা এই দেশকে ক্রমে ক্রমে শান্তির দেশে পরিণত করে গেছেন।
তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা প্রদর্শনপূর্বক আমরা ইমিগ্রেশনে ঢুকলাম।
ভুটানের প্রকৃতির সাথে সাথে একটা বিষয় বারবার দৃষ্টিতে চলে আসছিল তাদের পোশাক। সবাই একই পোশাক পড়ে ঘুরছে। কে পুলিশ কে কাষ্টমকর্মকর্তা, কে কুলি মজুর কিছুই বুঝিনা। সব এক পোশাক। যে কারণে কুলিকে পুলিশ ভেবে ভুল করে ফেলার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম একবার।
যাই হোক আমরা বিমান বন্দরে সকল চেকআপ সেরে মূল ভুটানে পা রাখার জন্য ক্রমশ ব্যাকুল হয়ে উঠছিলাম।

৩.
আমি নরমালই রেডিমেড জামাকাপড়ই পড়ি। তাই দেশে খুব একটা পরিচিত দর্জি আমার নাই। বিদেশেও ছিলনা। ভূটান যাবার আগ পর্যন্ত। ভুটানের মূল মাটিতে পা রাখতেই এক দর্জির সাথে পরিচয় হয়। নাম, সেতেন দর্জি। অসম্ভব বিনয়ী নম্র ভদ্র এক চরিত্র। যার সাথেই পরের কয়েকদিন আমার সাথে গড়ে ওঠেছিল অসম্ভব সখ্যতা। সে আমাদের গাইড। ট্যুর অপারেটর।
দর্জির সাথে নিয়ে আসা গাড়ীতে করে আমরা প্রথমেই হোটেলে যেতে পারলাম না। আমাদের আজকের হোটেল এই পারো শহরে নেই। আমাদের হোটেল বুক করা থিম্পুতে। পারোতে আমাদের দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে এখানে দেখে যেতে হবে তাদের ন্যাশনাল মিউজিয়াম।
প্রথমে আমরা খেতে গেলাম। পারোর একটা হোটেলে আমাদের খাবার ব্যাবস্থা। খাবার ইন্ডিয়ান ঘরানার। খাবার দাবার নিয়ে আমার সমস্যা পুরোনো। খেতে পারিনা। তাই কোনোমতে মাছের জায়গায় আলু, ঝোলের জায়গায় ঢাল দিয়ে খাওয়া সারলাম। বাইরে গেলে মাংস খেতে সবচেয়ে সমস্যা হয়। তাই মাংশ অধরাই রয়ে গেলো।
কাওয়া দাওয়া শেষে আমরা গেলাম ন্যাশনাল মিউজিয়োমে। যাওয়ার যে পথ, তা সুন্দর কোনো কবিতার মতো। যেখানে যেমন হবার কথা তেমনই। পুরোটাই পাহাড়ী পথ। এই উচু নিচু। হঠাৎ বাক। আর পথের পাশ জুড়ে ছোট নদী। পুরো ভুটান জুড়েই নদী। দর্জি এই নদী নিয়ে বেশ বাহাদুরী ঝাড়তে চেয়েছিল। বলল, ভুটান জুড়ে প্রায় শতাধিক নদী আছে।
আমি দর্জির অহংকারকে পাহাড়ের চুড়ো থেকে ফেলে দিলাম। বললাম, আমাদের দেশে হাজার বারোশো নদী। এবং একেকটা সমুদ্রের মতো বিশাল।
দর্জি চুপশে গেলো। আমিও ভয়েছিলাম, ভাবছিলাম দর্জি যদি জিজ্ঞাসা করে বসে তোমাদের নদীর পানি কী এতোটাই স্বচ্ছ?
আমি কী করে অস্বীকার করতাম যে আমাদের কালো পানি না।
আমরা নদীর স্রোতের মতোই গাড়ীতে ভেসে ভেসে চলে এলাম ন্যাশনাল মিউজিয়ামে। ছোট্ট একটা মিউজিয়াম। পুরোটাই ঠাসা তাদের কৃষ্টি আর ঐতিহ্যের দ্রব্য সামগ্রীতে। দেখে দেখে কোথাও অবাক। কোথাও মুগ্ধও হলাম। জানলাম তাদের পোশাকের রহস্য। রাজা থেকে পিয়ন পর্যন্ত একই ড্রেস পড়লেও পার্থক্য তাদের কাপড়ের রঙে।

সব দেখে দেখে এবার রওয়ানা হলাম থিম্পুর দিকে। ঘন্টা তিনেকের পথ। পুরোটাই আমাদের হোটেল অপেক্ষা করে আছে সেখানে। আবার আমরা গাড়ীতে। পাশাপাশি দুটো মাইক্রোবাস দর্জির তত্ত্বাবধানে চলছে একই সাথে। মসৃন রাস্তায় গাড়ীগুলো থেকে তেমন কোনো ইঞ্জিনের শব্দ না আসলেও কিছুন পর পর শুধু শব্দ আসছিল, বাহ বাহ।
বুঝলাম, ভুটানে মুগ্ধ বাঙালী সমাজ।

(চলবে)

১.ভুটান সুন্দীররা
২. ভুটানী শিশু প্রথমে ফটোশেসনে রাজী হলেও শেষ সময়ে অজ্ঞাত কারণে মুখ ঢেকে ফেলে
৩. পাহাড়ী রাস্তা
৪. গৌতম বুদ্ধের মূর্তি
৩.
৪.









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29521978 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29521978 2012-01-14 00:16:30
কবর রির্টান (জসিমউদ্দনের দাদুর ক্রসফায়ারে মৃত আত্মীয়ের স্মরণে) এই সে লোকের কবর এটা তোর দাদীমার ভাইয়ের
যে লোক দাদু একটা সময় ছাত্র ছিল ভালো
যার কারণে ভাবছি সবাই, দুনিয়া চমকালো
সেই ছেলে তরুণ সময় কাদের সাথে চলে
নামখানা তার লিখিয়েছিল সন্ত্রাসীদের দলে
আজ একে সে মারে এতো কাল সে তা খায় নিজে
এসব দেখে এই আমাদের কষ্ট ছিল কি যে
যে ছেলেটা একটা কালে নেইনি হাতে সুইও
কত্ত কি যে বুঝিয়েছিলাম জানতি যদি তুইও
তার হাতে সব অস্ত্র কিযে নামের কত ধরন
এসব ডেকেই এনছিল তার ললাটে মরণ

এক ভোরে সে নিজের ছবি আনতে গেল ল্যাব-এ
আচমকা সেই ষ্টুডিওতে হামলা করে -এ
তাকে ধরে হাতে নাতে অস্ত্র ছিল গোজাই
কোমর থেকে সেখানে হায় গুলিও ছিল বোজাই।

তারপর আর কাহিনী কি লাগবে বলা আরো
অন্য হাজার কাহিনতে মিলিয়ে নিতে পারো
অস্ত্র উদ্ধারে তাকে সঙ্গে নিয়ে গেলে
সেইখানে তার অনেক নাকি সঙ্গি সাথী মেলে
তারা নাকি চেষ্টা করেছিল ছিলনাই নেবে
সেই কারণে বাঁচতে গুলি করেছিল -এ
সেই খানেই আরো কারো না লাগলে গুলি ঠিক
লেগেছিল গুলি আবুল হাইয়ের বুকের দিক।

তার মরনে হাসলো সবাই, মিষ্টি করে বিলি
ক্যান যে দাদু এমন কথা স্মরণ করে দিলি?

নাম শুনলে বুকের ভেতর কষ্ট আবুল হাই
ক্যন তুমি যে এমন হলা বলতে পারো ভাই? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29518523 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29518523 2012-01-08 12:49:22
গল্প : ঢাকা যেদিন নিউইয়র্ক হয়ে গিয়েছিলো -হুম
কই যাবা?
-ফ্লোরিডা
সেটা আবার কোন দিকে? কতদুর?
কতদুর বলে ছেলেটা ভাবনায় পড়ে যায়। সে অনেক দুর চলে যায়। অনেক দুর। ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম পেরিয়ে কক্সবাজার। না,তারও বেশি। টেকনাফ। এই ভাবনার পথ যেতেও ছেলেটার অনেক সময় লাগছে।
মেয়েটি জবাব দেয়,নিউ ইয়র্ক থেকে ৩০ ঘন্টা লাগে ড্রাইভ করে গেলে।
ছেলেটার ভাবনা ভেঙ্গে যায়। ছেদ পড়ে। সে টেকনাফ থেকে ফিরে আসে। কক্সবাজার চট্রগ্রাম পেরিয়ে ফিরে আসে যে পথ দিয়ে গিয়েছিলো সে পথ ধরেই। সে ভাবতে চায়। ৩০ ঘন্টার পথ কতদুর? সে কখনো এতদূরে যায় নি। ৩০ ঘন্টার পথ পাড়ি দেয় নি। তাই বোঝে না ৩০ ঘন্টা পার হতে হলে ঠিক কোথায় যেতে হয়? কোন শহরে শেষে পৌঁছতে হয়?
২.
মেয়েটা যাবে ফ্লোরিডায়। মেয়েটার আবেগ উচ্ছাস ছেলেটারও ভিতরেও সক্রমিত হলো। সে ডিজনিল্যাণ্ডে যাবে। ইউনিভার্সাল ষ্টুডিও দেখবে, মায়ামি বীচে যাবে।
ছেলেটা সবই দেখার চেষ্টা করে। ডিজনিল্যাণ্ড ভাবতে চায়। তার সামনে শিশু পার্ক চলে আসে। ইউনিভার্সাল ভাবতে চায়। তার সামনে বাংলাদেশের এফডিসি নামক একটা জায়গার প্রধান ফটক চলে আসে। মায়ামী বীচ অনুভব করতে চায়। সে আবারো ফিরে যায় কক্সবাজার। মেয়েটার সাথে সংযোগ ঘটে এমন কোনো ভাবনা আসে না ছেলেটার। তার ভাবনার জগৎ আটকে যায় পাসপোর্ট ভিসা আর না দেখা পৃথিবীর বেড়াজালে।
৩.
মেয়েটা আজ চলে যাবে। ছেলেটা ফোনে শেষ খবর পেয়েছে। সে রেডি হচ্ছে। ছেলেটা বিছানায় বসে আছে। তার বসে থাকার ভঙ্গিটা অদ্ভুত। বাংলাদেশের নাটকে দেখা যায় এমন দৃশ্য। সে কোন অসহায় স্বামীর মত বসে আছে। তার পাশে যেন কোনো মেয়ে বাবার বাড়ি চলে যাবার জন্য ব্যাগ গোছাচ্ছে। এতে ছেলেটার মন খারাপ সেটা দেখে। ছেলেটা বোধহয় শক্তিহীন হয়ে পড়ছে। মানুষের খুব বেশি মন খারাপ থাকলে শরীর অসাড় হয়ে পড়ে। ছেলেটার তাই হচ্ছে। সে শুয়ে পড়েছে।
হঠাৎ ফোন।
ছেলেটা ধরছে না।
ফোন বাজছে। রিংটোন হিসেবে গান বাজছে।
ছেলেটা ধরছে না।
হঠাৎ ধরলো। রিংটোন হিসেবে গান থাকায় ছেলেটা রিং শেষ হবার আগেই ধরে ফেললো। ও পাশ থেকে কি যেন বলছে। ছেলেটা এপাশ থেকে বললো, বের হচ্ছো?
আবার ওপাশ থেকে কিছু একটা বললো।
ছেলেটা এপাশ থেকে বললো, ঠিক আছে যাও। ভালো থেকো।
ছেলেটা আর কিছু বলতে পারলো না। হয়তো বলারও কিছু নেই। ছেলেটার মন খারাপ। আগের চেয়ে একটু বেশি হয়েছে। চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে। ছেলেটা বিছানা থেকে উঠে বারান্দায় গিযে দাঁড়ায়। তার সামনে ঢাকা শহর। অনেক কোলাহলের ঢাকাকে কেন জানি আজ ফাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে। খালি খালি মনে হচ্ছে। তার ভাবনায় আসলে তার সামনের এই বিস্তৃত শহরটা ঢাকা হয়ে ধরা দিচ্ছে না। তার কাছে এটা নিউইয়র্ক হয়ে গেছে। যে শহরে মেয়েটা নেই। সে সামনে তার চেনা ধানমণ্ডি, শাহবাগ দেখতে পাচ্ছে না। তার সামনে এখন নিউইয়র্ক...ম্যানহাটন। তার সামনে এখন জ্যাকসন হাইটস।
এই নামগুলো সে মেয়েটার কাছ থেকে শুনেছিলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29505622 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29505622 2011-12-19 01:10:53
ঈদ পরবর্তী একটি জরূরী টিভি সমালোচনা ঈদকে কেন্দ্র করে টিভিপাড়া সবসময়ই ব্যাপক সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে টিভিগুলো, ঈদের দিনগুলো। এবারও যার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারও ঈদ পরবর্তী অনেকগুলো দিন সরব ছিল টিভিগুলো।
আমার টিভি দেখা নিয়ে তাই না লিখে পারলাম না।
ঈদের দিন। গরু-টরুর ঝামেলা শেষ করে বসলাম টিভি দেখতে। আমাদের একুশ ইঞ্চি টিভিটার সামনে যেতেই মনটা হু হু করে উঠল কেন জানি। টিভি অনুষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শুনে টিভি দেখার আগে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। আমারও হতে পারে। কিন্তু টের পেলাম ঘটনা সে কারণে নয়। কিন্তু কারণটা কি তা তখনও ঠিক মতো শনাক্ত করতে পারলাম না। যাই হোক আমাদের টিভিটা ছেড়ে আমি গেলাম ঈদে বানানো খাবার-দাবার আনতে। মোটামুটি মিনিট দশেক সময় নিয়ে খাবার-দাবার এনে দেখি তখনও টিভির স্ক্রিন আসেনি।
বলে রাখা ভালো, আমাদের টিভিটা আর অন্য ১০টা টিভির মতো নয়। একটু অন্যরকম। সুইচ চাপলেই যে অন হয়ে যাবে তেমন না। একটা ভালো সময় নিয়ে সে রেডি হয়। তারপর হেলে দুলে অন হয়।
একটা সময় চিক করে শব্দ করে স্ক্রিন আসতে শুরু করল। এটাও বলে রাখা ভালো, আমাদের টিভিটাতে একবারে স্ক্রিন আসে না। মোড়ানো বড় পোস্টার খোলার উদ্দেশ্যে ওপর থেকে ছেড়ে দিলে যেভাবে ঘুরে ঘুরে পড়তে শুরু করে সেভাবে আমাদের টিভিটাও অন হয়।
আমি এ বিষয়টা পুরো উপভোগ করি। প্রথমে নায়িকার মাথা দেখা গেল। আস্তে চোখ, নাক, মুখ, গলা...। আর বর্ণনা এভাবে যাওয়া যাবে না, অশ্লীলতার দায়ে (দায় অথবা দায়ে, যা মনে করেন ) কাটা পড়ে যেতে পারে।
যাই হোক মিনিটে ১৫ কিমি. গতিতে চলতে শুরু করা নাটক পুরোটাই দেখতে শুরু করলাম। অনেকক্ষণ দেখে হঠাৎ উপলব্ধি করলাম না এভাবে হচ্ছে না। আমার টিভি মহোদয় আমার প্রিয় নাট্যশিল্পীদের বাকস্বাধীনতা হরণ করে নিচ্ছে। মানে সাউন্ড নেই।
আমি দৌড়ে গিয়ে টিভির সামনে দাঁড়িয়ে টিভি সাইডে প্রথমে হালকা করে এবং এরপর একটু জোর দিয়ে বাড়ি দিতে থাকলাম। অনেকক্ষণ বাড়ি-টাড়ি দেয়ার পর একবার কী মনে করে সাউন্ড এসে আবার দৌড়ে পালাল। আমি বিরতীহীন চড়, থাপ্পর বাড়ি-টাড়ি মেরেই যাচ্ছি। কোন কাজ হচ্ছে না।
আমি থামছিই না। শালা তোর একদিন কী আমার একদিন।
আকস্মিকভাবে কী হল বুঝলাম না। তবে বুঝলাম একটা জায়গায় আমি জেন্ডার নির্ণয়ে ভুল হয়েছে। টিভি আসলে শালা নয়। কারণ সে চড়-থাপ্পর খেয়ে অবিকল মেয়েদের মতো কান্না শুরু করে দিল। আমার নিজের অলক্ষ্যেই মন খারাপ হয়ে গেল।
আহারে হয়তো জোরে মেরেছি বলে সহ্য করতে পারেনি। কেঁদে দিয়েছে। তবে আমি তখনও খেয়াল করতে পারছি না যে টিভি কান্না করবে কেন?
এটা কী সম্ভব? ভূতের আছর পড়েছে নাকি?
আমি চড়-থাপ্পর মারতে মারতে টিভির পেছনে চলে গিয়েছিলাম, কান্না শুনে দৌড়ে সামনে এলাম। এবং নিশ্চিন্ত হলাম, না, ভৌতিক কিছুই ঘটেনি।
সাউন্ড ফিরে এসেছে, টিভিতে নায়িকা কাঁদছে।
আমি আবার টিভির সামনে বসলাম। কান্না ভালো লাগছে না। চ্যানেল চেঞ্জ করে দিলাম। চ্যানেল চেঞ্জ করতেই আমি মূল ভৌতিক নাটকে চলে এলাম। টিভির এক ঝাঁক পরিচিত মুখকে দেখলাম ভূত সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
মেজাজ খারাপ হল বাংলা নাটকের ম্যাকাপম্যানদের ক্ষমতা দেখে। নায়ক নায়িকাদের ভূত সাজিয়ে দিয়েছে। অথচ সবাইকে চেনা যাচ্ছে। কী বিচ্ছিরি অবস্থা।
আমি দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে গেলাম। কাহিনী কী। ভৌতিক নাটকে কী সবাই ভূত হয়? মানুষ না থাকলে ভূত ভয় পাবে কে? সবাইকে একই ম্যাকাপ, দূর।
আমি তাও দেখছি। এবং বিরক্ত হচ্ছি। দেখি মানুষ আসে কি না?
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও কারও পায়ের আওয়াজ পেলাম না। আমি নাছোড়বান্দা। আসতেই হবে কাউকে।
অবশেষে পায়ের আওয়াজ পেলাম। কেউ আসছে। আমি কঠিন দৃষ্টি নিয়ে টিভি পর্দার দিকে তাকিয়ে আছি। অবশেষে কাউকে পেলাম না। কিন্তু শব্দ আসছে।
অবশেষে বুঝলাম, টিভিতে না। আমার ঘরে কেউ আসছে।
আমার বোন এলো। সে এসেই ব্যাপক বিরক্তি নিয়ে বলল, কী দেখছ? দূর। টিভির রঙ চলে গেছে। টিভির উপরে ডানদিকে গিয়ে দুয়েকটা বাড়ি দাও। কালার ফিরে আসবে। কদিন ধরে হুট করে কালার চলে যাচ্ছে।
শুনে আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তাই রেগে রিমোটে চাপ দিলাম। অফ। শালার টিভি দেখবই না।
ঘটনা এখানে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হল না। টিভি বন্ধ হচ্ছে না।
তেরোবারের মাথায় রিমোট চেপে টিভি বন্ধ করতে সক্ষম হলাম।
এবং এখানে সমালোচনাও ষ করতে হল। এ টিভির সমালোচনা আসলে লিখে শেষ করা যাবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29487665 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29487665 2011-11-21 19:17:16
আজ, দেশলাই বুক সঞ্জীব চৌধুরীর প্রয়ান দিবস, দাদা আপনাকে ভালোবাসি দেশের মন ভাঙ্গলো ১৯ তারিখ।
সিডরের সেই রাতে আমাদের একজন প্রিয় মুখ, প্রিয় মানুষ, প্রিয় কণ্ঠ, আমাদের একজন নাগরিক লালন মস্তিস্কে রক্তক্ষরণে নিশ্চুপ হয়ে গেলেন।
তারপর দুদিন আগুন বুকের সেই মানুষ আইসিইউতে যুদ্ধ করলেন মৃত্যুর সাথে কিন্তু সেটা খুব দেরী হয়ে গিয়েছিল। চলে গেলেন তিনি।
আগুনের মৃত্যু নেই। তারও মৃত্যু হলনো।
মৃত্যুর যত দিন যাচ্ছে তিনি ততই জীবিত হয়ে উঠছেন। তিনি সঞ্জীব চৌধুরী, আমাদের ভালোবাসার নাম।



পুনশ্চ : আমি কখনো গান লিখবো, সে চিন্তা করেছি তার নামে। জীবনে একটা হলেও সঞ্জীবদা'র গান লিখবো। কিন্তু যে বছর প্রথম গান লিখা শুরু করলাম আমার দূর্ভাগ্য সে বছরই দাদা চলে গেলেন।
তবে দাদার জন্য না হোক দাদাকে নিয়ে গান লিখতে পেরেছি।
এবং এই গান লিখে আরো ভালো করে বুঝতে পেরেছি তাকে। এতো সাড়া তার ভক্ত এবং মিডিয়ার কাছ থেকে পেয়েছি যা বিরল।
এই গানের রেকর্ডিং এর নিউজকেই বাংলাদেশের সকল দৈনিক একই দিনে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল।

গানটা কেউ চাইলে শুনতেও পারেন ...
http://www.mediafire.com/?73fm7ec6bwsobob
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29486027 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29486027 2011-11-19 00:11:38
আমার 'ফ্রেন্ট' তোবাRoCk তোবার সঙ্গে আমার ফ্রেন্টশিপ বহু বছরের অনেক ছোটবেলা থেকেই। এত আগে থেকেই যে ছোটবেলায় তোবাকে কেমন দেখেছি তা-ই ভুলে গেছি।
তোবা প্রায়ই আমাকে ফোন দিয়ে চিৎকার করে ওঠে, হ্যালো ফ্রেন্ট ক্যামন আছো?
তার ফোনগুলো অজ্ঞাত কারণে এমন সময় আসে যখন আমার ১৫ সেকেন্ডও কথা বলার অবস্থা থাকে না। আমি যদি বলি, শোন আমি তোকে এই ১০ মিনিট পর ফোন দিচ্ছি। তখনই সে মেয়েদের মতো অভিমান করে ওঠে, আমি ফোন দিলেই তোর যত সমস্যা। গ্রামের বন্ধুগো তো আর মনে রাখবি না।
আমি তোবাকে সাত্ত্বনা দিয়ে বলি, আরে ব্যাটা সত্যি দিচ্ছি। আর এইটা তোর নাম্বার না? এই নাম্বারেই কল দেব।
এ কথা শুনে তার অভিমান আরেক দফা বেড়ে যায়। ও! নাম্বারও সেভ করস নাই? থাক লাগব না।
আমার এই আরেক সমস্যা সে ফোন দেয়ার পর চিরকালই ভেবেছি তার নাম্বারটা সেভ করে রাখব। আরও এক অজ্ঞাত কারণে এই কাজটাও আমার করা হয় না।
আমি তাকে ফোন দেব দেব করেও আর ফোন দিতে পারি না।
পরেরবার আবার একই নাটক মঞ্চস্থ হয়। তোবা অভিমান করে বোবা হয়ে যায়। তার সঙ্গে আমার ফ্রেন্টশিপ পড়ে যায় হুমকির মুখে।
২.
অনেকদিন পর আবার তোবারকের সঙ্গে দেখা ঈদের পর। তোবারক এখন প্রায় তোবা ছেড়ে পুরোই রক হয়ে উঠেছে। ব্যাপক পরিবর্তন তার চলনে-বলনে। ম্যাকাপে গ্যাটাপে। চেহারায় দুর্দান্ত স্মার্টনেস, একাধিক বান্ধবীর সঙ্গে প্রেম নিয়ে তোবা এখন শুধু রক নেই সে রকস্টার হওয়ার পথে।
ছোটবেলা থেকেই অবশ্য সে এমন ছিল। আমি তাকে কখনোই দেখিনি শার্টের 'কলার' নামানো। সে সব সময়ই শার্টের কলার তুলে রাখত। লুঙ্গি পরিহিত থাকলে সেটার এক কোনের অংশ হাতে ধরে কিছুটা এলাকার নেতার ভাব নিয়ে ঘোরে। এ সব কারণে তোবা এলাকায় স্টাইল আইকন হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলেছে।
আমাকে দেখেই দূর থেকে সে দৌড়ে এলো, হ্যালো ফ্রেন্ট কেমন আছিস? আমি মাথা নেড়ে বললাম ভালোই। সে ব্যস্ত হয়ে উঠল আমাকে আপ্যায়নের জন্য। কিন্তু ঘটনা ঘটল অন্যরকম। সে যাকেই অর্ডার দেয় সেই 'নাই' হয়ে যায়। সে অর্ডার দিয়ে বলে, দাঁড়া সবই আসবে।
কিন্তু তার অর্ডার শুনে মানুষ তো যায়ই অর্ডারসহ চলে যায়। একটা সময় দুনিয়ার মানুষের প্রতি বিরক্ত হয়ে সে নিজের কাজ নিজেই করা শুরু করে। আর মিনমিন করে বলে, নিজের কাজ নিজের করার মধ্যে এক ধরনের শান্তি আছে।
আমি তোবার বিরক্তমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে শান্তি খোঁজার চেষ্টা করি।
তোবারক এমন আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়েও শান্তিতে (!) আছে। যেমন, আমাদের বন্ধু সার্কেলে অজ্ঞাত কারণে বিশ্বাসের একটা ভালো জায়গা করে নিয়েছে। ঈদের পর আমাদের এক অনুষ্ঠান হল যেখানে চাঁদার পরিমাণ ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।
তোবা আমাকে ফোন করে জানাল, ফ্রেন্ট তোমাকে কিন্তু পাঁচ হাজার টাকা ধরেছি।
আমি সঙ্গে সঙ্গে দ্বিমত করে অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলাম। তোবারক আমাকে শান্ত করল। আচ্ছা তোমার যা ইচ্ছে পাঠাও।
আমি এক হাজার টাকা পাঠালাম।
অনুষ্ঠানে গিয়ে তোবা ব্যাপক তোপের মুখে আছে।
ঘটনা সামান্য।
সবার এক কথা আমি নাকি তাকে ৫ হাজার পাঠিয়েছি তোবা চার হাজার মেরে দিয়ে সেখানে এক হাজার টাকা জমা দিয়েছে।
তোবা তার ওপর এই দুর্নাম ঘোচাতে আমার পেছন পেছন অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করছিল, দ্যাখ তো ফ্রেন্ট কি সমস্যা, আমারে সবাই টাউট ভাবতেছে।
আমি পড়ে গেলাম দ্বিধায়। আমার ৫ হাজার টাকার ইমেজ ঠিক রাখব নাকি তোবার ৪ হাজার টাকা ইমেজ ফিরিয়ে দিব?
ভাবতে ভাবতে তোবাকে রেখে আমিই বোবা হয়ে গেলাম। আমার নীরবতায় তোবাও আঘাত পেয়ে আবার বোবা হয়ে গেল।
সে আঘাতে প্রথমবারের মতো ফ্রেন্ট না বলে ফ্রেন্ড বলে উঠল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29485498 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29485498 2011-11-18 01:28:13
শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ...স্যার, আপনার সঙ্গে আমাদের ভ্রমণ আরও দীর্ঘ হোক শেখালেন একজন, হুমায়ূন আহমেদ।
কোন কিছু দেখে সেটা কেমন করে গল্পের মতো বলা যায় তা হয়তো হুমায়ূন আহমেদ না পড়লে বোঝা যেত না। গল্পের মধ্যে তথ্যের যে মিশেল তিনি তার ভ্রমণ কাহিনীতে রাখেন তা এক কথায় অতুলনীয়। সেইসঙ্গে তার ভ্রমণ কাহিনীর মূল মজা হচ্ছে দেখার মতা। একই জিনিস আমরাও দেখি, তিনিও দেখেন। আমাদের বিষয়টা হয়ে যায় তাকিয়ে থাকা, তারটা হয় পর্যবক্ষণ। তার অনেক ভ্রমণ কাহিনীতে সেসব স্পষ্ট।
তিনি তার ত্রিপুরা ভ্রমণ কাহিনীতে এক জায়গায় লিখেছেন,
আমাদের এবারের ভ্রমণটা চখাচোখি ভ্রমণ। সবাই জোড়ায় জোড়ায় এসেছে। দেশের বাইরে পা দিলে চোখাচোখি ভাবের বৃদ্ধি ঘটে। আমাদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। স্ত্রীরা স্বামীদের নিয়ে নানা আহলাদি করেছে। স্বামীরা প্রতিটি আহলাদকে গুরুত্ব দিচ্ছে। খুব চেষ্টা করছে প্রেমপূর্ণ নয়নে স্ত্রীর দিকে তাকাতে। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে। মাজাহার এবং কমল দুজনকেই দেখলাম, স্ত্রীর মুখে তুলে প্যারা খাওয়াচ্ছে। স্ত্রীরাও এমন ভাব করছে যেন সারাজীবন তারা এভাবেই মিষ্টি খেয়ে এসেছে। এটা নতুন কিছু না। চখাচোখিদের মধ্যমণি অন্যদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক নাসের এবং নাসের-পত্নী তামান্না। এটা তাদের হানিমুন ট্রিপ। কিছুদিন আগেই বিয়ে হয়েছে। তামান্নার হাতের মেহেদির দাগ তখনো ম্লান হয়নি। আমরা কত না জায়গায় ঘুরলাম, কত কিছু দেখলাম। এই দুইজন কিছুই দেখল না। দু'জন দু'জনের দিকে তাকিয়ে রইল। চখাচখি গ্র'প থেকে বাদ পড়েছে মিলন ও আলমগীর রহমান। তারা স্ত্রীদের দেশে ফেলে গেছে। সবাই জোড়া বেঁধে ঘুরছে। মিলন-আলমগীরও জোড়া বেঁধে ঘুরছে। দু'জনের মুখই গম্ভীর। দু'জনই দু'জনের উপর মহা বিরক্ত। ভদ্রতার খাতিরে কেউ বিরক্তি প্রকাশ করতে পারছে না। মজার ব্যাপার।
হুমায়ূন আহমেদের ভ্রমণ কাহিনীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক অনবদ্য বিষয় থাকে, যা পাঠককে জমিয়ে রাখে। পাঠকের নড়াচড়ার মতা নষ্ট করে দেয়। বিষয়টা এমন দাঁড়ায় শব্দ শকটে করে পাঠকও তার ভ্রমণসঙ্গী। এটা একটা বিরাট ক্ষমতা তার। এমন ক্ষমতা খুব বেশি জনের নেই। কিছু ভ্রমণ কাহিনীতে তো লেখককে রেখেই পাঠক পেছন দিয়ে পালিয়ে বাঁচে। কারণ বিরস ভ্রমণ কাহিনীতে পাঠকের মন থাকে না। লেখক তখন বিমানে উঠে গেলেও পাঠক সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে বাঁচে। এদিক দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ভ্রমণের দিন তো পরে যদি ভ্রমণের আগের দিন থেকেও কাহিনী শুরু করেন পাঠক স্থির হয়ে লেগে থাকেন তার সঙ্গে। যেমন তার আমেরিকা ভ্রমণ
একটা ধাঁধা দিয়ে শুরু করি। চার অক্ষরের নাম এমন একটা দেশ, যে দেশের নাম শুনলেই বাংলাদেশের মতো অনেক দেশের মানুষের চোখ চকচক করতে থাকে। হিন্টস দিচ্ছি-আ দিয়ে শুরু। শেষ অক্ষর কা। হয়েছে- আমেরিকা। এই দেশে যাবার জন্য জীবনের শেষ প্রান্তে উপস্থিত হওয়া মানুষদের আতঙ্কে অস্থির হয়ে আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে বসে থাকতে দেখেছি। সঙ্গে দলিল দস্তাবেজ। বাড়ির দলিল, জমির দলিল, গাড়ীর ব্লু বুক, ব্যাংকের কাগজ। তারা প্রমাণ করবেন যে, দেশে তাদের যথেষ্ট বিষয় আশয় আছে। ভিজিট ভিসায় গেলেও তারা ফিরে আসবেন। আল্লাহর কসম ফিরে আসবেন। ভিসা রিজেক্ট হওয়ায় ভিসা অফিসে জনৈক বৃদ্ধ শোকে হার্টফেল করে মারা গেছেন। এই খবর প্রথম আলো পত্রিকায় পড়েছি। আমি একজনকে জানি যিনি দেশের সব মাজার যিয়ারত করে আজমির শরিফ যাচ্ছেন খাজা বাবার দোয়া নিতে। খাজা বাবার দোয়া পেলে ভিসা অফিসারের মন গলবে, তিনি স্বপ্নের দেশে যেতে পারবেন। আমেরিকা নামক এই স্বপ্নের দেশে আমাকে দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী কাটাতে হয়েছে। ছয় বছরের বেশি। পিএইচডি করলাম। পিএইচডি শেষ করে পোষ্ট ডক্টরেট করলাম। দেশে ফেরার পরেও আরো চার পাঁচবার যেতে হলো। আমেরিকা নিয়ে বেশ কয়েকটা বইও লিখলাম। হোটেল গ্রেভার ইন, যশোহা বৃক্ষের দেশে, মে ফ্লাওয়ার। শেষবার আমেরিকা গেলাম নুহাশকে নিয়ে। পিতাপুত্রের যুগলবন্দি ভ্রমণ। ফেরার পথে দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়লাম। নুহাশ ক্রমাগত বমি করছে, গায়ে জ্বর। আমার বুকে ব্যথা। আমি আতঙ্কগ্রস্ত। বুকের এই ব্যথা মানে হার্ট বিষয়ক জটিলতা নয়তো? যদি সেরকম কিছু হয়, দুজনকেই প্লেন থেকে নামিয়ে দেবে। আমাকে ভর্তি করবে হাসপাতালে। নয় বছর বয়েসি নুহাশ তখন কী করবে? দেশে গিয়ে ঠিক করলাম, আর না। অতি দূরের দেশে আর যাবো না। আমেরিকায় কখনো না। তারপরেও ব্যাগ সুটকেস গোছাতে হলো। আবার আমেরিকা। তবে এবার অন্য একজনের তল্পিবাহক হিসেবে। সেই অন্য একজনের নাম মেহের আফরোজ শাওন। সে চন্দ্রকথা ছবিতে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছে।
আরেকটা বড় বিষয় কাজ করে হুমায়ূন আহমেদের মধ্যে। তিনি কখনও বিদেশে গিয়ে দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেশকে লেখায় বড় করে তুলে ধরেন। তার সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের এক জায়গায় তিনি লিখেছেন,
আমার নানান সমস্যার একটি হচ্ছে, নিজের দেশ ছাড়া অন্য কোন দেশই আমার ভালো লাগে না। পাঠকের কেউ কেউ হয়তো চোখ কপালে তোলার মতো করে বলবেন, বাপরে ব্যাটা দেশপ্রেম ফলাচ্ছে। আমি কিন্তু আমার কথার প্রমাণ দিতে পারি। আমেরিকায় পড়াশুনা শেষ করে সেই দেশেই বিরাট বেতনের চাকরি নিয়ে থেকে যাবার সুযোগ আমার ভালো মতোই ছিল। আমার প্রফেসর বারবারই বলেছেন তোমার পরিবারের সবার জন্যই আমি সিটিজেনশিপের ব্যবস্থা করছি, তুমি থেকে যাও। দেশে ফিরে কী করবে! আমেরিকা ল্যান্ড অব অপরচ্যুনিটি। আমি থাকিনি। দু’শ ডলার সঞ্চয় নিয়ে আমি দেশে ফিরে এসেছি। আমার ঘনিষ্ঠজনরা জানে, আমাকে দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে রাজি করানো কত কষ্টের। কেন দেশের বাইরে যেতে চাই না? দেশের বাইরের কোন কিছুই আমাকে স্পর্শ করে না। মনে লাগে না। বাইরে কম সময় কাটাইনি। আমেরিকায় এক নাগাড়ে ছয় বছর কাটালাম। কত বৈচিত্র্যের সুন্দর দেশ। কিন্তু আমার এক দিনের জন্যও মনে হয়নি এই দেশ আমার হতদরিদ্র দেশের চেয়ে সুন্দর। পৃথিবীর কোন দেশে পাব আমি আমার দেশের উথালপাতাল জোছনা? কোথায় পাব আকাশভাঙ্গা বৃষ্টি? আমেরিকা থেকে একবার আমি মাকে চিঠি লিখলাম অনেকদিন বর্ষায় ব্যাঙের ডাক শুনিনি। আপনি কি আমাকে ব্যাঙের ডাক রেকর্ড করে ক্যাসেট করে পাঠাতে পারবেন? চিঠি পৌঁছানোর পর আমার সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা (আহসান হাবীব, সম্পাদক উন্মাদ) ক্যাসেট প্লেয়ার নিয়ে ডোবা ও খানাখন্দে ঘুরে বেড়াতে লাগল যথাসময়ে আমার কাছে ব্যাঙের ডাকের ক্যাসেট চলে এলো। এক রাতে দেশের ছেলেমেয়েদের বাসায় দাওয়াত করেছি। সবাই খেতে বসেছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যাঙের ডাকের ক্যাসেট ছেড়ে দিলাম। ভেবেছিলাম সবাই হাসাহাসি করবে। অবাক হয়ে দেখি, বেশির ভাগ ছেলেমেয়ের চোখে অশ্রু চকচক করতে লাগল।
এসব পড়ে পড়ে যখন একজন পাঠক মুগ্ধ হয় তখন আসলে সেই লেখকের ভ্রমণ কাহিনী পড়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে দমিয়ে রাখতে পারে না। বারবার ফিরে যায় তার বইয়ের কাছে। তার ভ্রমণের কাছে।
সম্প্রতি এসব পাঠক মানে আমরা এক ধরনের বিষন্নতায় আছি। আমাদের এই প্রিয় লেখক কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। প্রিয় লেখকের এই অসুস্থতায় প্রত্যাশা একটাই, সব অসুখকে জয় করে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন।
সঙ্গে এও প্রত্যাশা, তার সঙ্গে আমাদের ভ্রমণ আরও দীর্ঘ হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29482180 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29482180 2011-11-13 00:45:45
গল্প : উফ!
এই শোনো। কাল কী আমরা যাচ্ছি, জান? একটু ভালো করে বলোনা! এমনিতে আমার ভয় করছে। তার উপর যদি তুমিও এরকম রহস্য করো তাহলে তো আমি শেষ।

ওই শালা হারামজাদা। শুওরের বাচ্চা। টেহা নিছস কবে? কতবার ফোন করছি ফোন ধরসনা। আজকা তরে পাইছি। ক' কহন আমার টেহা দিবি? তুই আমারে চিনস নাই।

ভাইয়া। আপনি কাল এলেননা কেন ভাইয়া? আমি তো আপনার অপেক্ষায় বসে ছিলাম অনেকণ। ঠিক আছে আগামী কাল বিকেলে কিন্তু আসবেন।

ঐ মিন্টু কাল আমার পিসিতে উইণ্ডোজটা সেটআপ কইরা দিস। কাল থেকে কী হইলো হুট হাট কইরা পিসি অফ হইয়া যায়।

মতিন তোকে নিয়ে আমার সকল আশা ভরসা শেষ। তোর সাথে আমার বলারও ধৈর্য নাই।

এই তুমি কী করছো বলতো? আমার কিন্তু ভয় হচ্ছে। কেউ যদি টের পেয়ে যায়? মান সন্মাণ কিন্তু আর থাকবেনা।

ওই শালা। শুয়রের বাচ্চা। আমার কথা শোন আগে। আমার কথা শোন। শোন আমার কথা।

জ্বি ভাইয়া। জ্বি। জ্বি।

একটা একটা এন্টিভাইরাসের দাম কত রে মিন্টু? ভালো। কামের কাম যাতে হয়। কাও জিনিস কিন্যা দিসনা। আমি কিন্তু এসব একটু কম বুঝি।

২.
ওরে বাপরে...।
মানুষের ভাগ্যে কোনও চরম দূর্গতি লেখা না থাকলে এই সাউন্ডপ্রুফ এসি বাসে এতোগুলো মানুষের একসাথে ফোন আসে না।
মানুষ তো পাগল হইয়া যাইবো।
উফ!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29480423 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29480423 2011-11-09 23:49:21
একটি ব্যাক্তিগত চিরকুট প্রিয় ভূপেন হাজারিকা,
কোনো ঘটনার পর তা নিয়ে ষ্টেটাস আর পোস্ট এতো বেশি পড়ে যায় যার কারনে তা নিয়ে স্টেটাস বা পোস্ট দিতে সংকোচ লাগে। চর্বিত চর্বন মনে হয়। গতকাল থেকে তাই আপনাকে নিয়ে কিছু লিখবো না বলে ঠিক করেছিলাম। কিন্তু এই বারো পনের ঘন্টা চেষ্টা করেও না লিখে পারলাম না।
... আপনি আমার সেই কৈশরে জানা প্রথম কোনো শিল্পী যিনি বাংলায় গান করেন অথচ আমার দেশের ছিলেন না।
আপনি আমার কৈশরে শোনা সেই গায়ক যার গানগুলো কেনো যেন মুখস্থ করে ফেলছিলাম। যখন পড়া মুখস্থ করতে গিয়ে আমার নিজের মুখস্থ বিদ্যার উপর বিশ্বাস চলে গিয়েছিল।
আপনি সেই অসাধারণ শিল্পী যার 'দিল হুম হুম কারে' গানটি আমি প্রায় লাখখানেক বার শুনেছি।
একই গান লতাও গেয়েছেন। লতা গাওয়ার পর যেখানে অন্য যে কোনো শিল্পী ম্লান হয় যায় সেখানে আপনি আপনি দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রবল প্রতাপে। অসাধারণত্ব নিয়ে। স্বকীয়তায়।।

পুনশ্চ : প্রিয় ভুপেন হাজারিকা, আগে ফিতা-ক্যাসেটের যুগে সব ক্যাসেট শুনে সেটার ব্যবচ্ছেদ করে ফেলতাম। ফিতা দিয়ে মাথার চুল বানাতাম। আর চাকা দুটো দিয়ে বানাতাম গাড়ি। গান শোনার চেয়ে সেটা ছিল বেশি প্রিয়।
সেই ছেলেবেলায় ওই প্রিয় কাজে আপনার অ্যালবামও বলি হয়ছিল। কিন্তু তারপর আরেকটু বড় হবার পর কিছু অ্যালবাম তার প্রবল আকর্ষনের কারনে আমাকে পুনরায় কিনতে বাধ্য করেছিল। আপনারটা তার মধ্যে একটা।
এই ডাউনলোডের যুগে আপনার অ্যালবাম এখন কিনতে বাধ্য না করলেও প্রায়ই শুনতে বাধ্য করে।

পোস্ট আপডেট : এই লেখা লিখতে আপনার ওই গানটা এখন আরো তিনবার শোনা হলো। এক লাখ
তিন...


গানটা চাইলে শনুতে পারেন :

http://www.youtube.com/watch?v=jkNy7uPmxUA]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29478802 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29478802 2011-11-06 10:43:56
হাসিনা যখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন...আমি তখন কী করতেছিলাম??? ধুর...
ভিডিও লিংক : http://www.youtube.com/watch?v=IETcVYqNWOQ

বিঃদ্রঃ প্রিয় নেত্রী আপনি কী আরেকবার বাঁশিটা বাজাবেন, আমিও দৌড় দিতে চাই...পৃথিবী এতো সহজ হয়ে গেছে বাংলাদেশে না জন্মালে বুঝতাম না...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29468993 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29468993 2011-10-19 01:28:56
যে বিয়ের দাওয়াত আমি নিয়ে এসেছিলাম, যাওয়া হলোনা
সেই সখ্যতার সুবিধা নিয়ে আমি দর্জির কাছ থেকে একটি দাওয়াত চেয়ে নিয়েছিলাম। তাদের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের বিয়েতে আমি আসবো। আজ সেই বিয়ে চলে গেলো। আমার যাওয়ার কথা আজ ছিলনা। ছিল ১৫ তারিখ। সেদিন থিম্পুর ফুটবল ষ্টেডিয়ামে জনগনের সামনে আসবেন রাজা এবং তার নবপরিনিতা বধু জেটসান পেমা।


দর্জি আমাকে সেই ষ্টেডিয়াম এবং সেখানে অনুষ্ঠিত হবে এমন সম্ভাব্য সব বিষয়-আশয় জানিয়েছে খুটিয়ে খুটিয়ে। আমরা ১৫ তারিখ আগে আগে ঢুকে ষ্টেডিয়ামের কোনদিকে বসব এবং কোথা থেকে ভালোভাবে দেখা যাবে সব ঠিক করে রেখেছিলাম।

যদিও জানতাম যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই। গতকাল দর্জির সাথে কথা বলে সেটা জানালাম। মন খারাপ হলো।

দর্জির জানালো ভুটান সেজেছে রাজকীয় ঢঙে।

আমি বুঝি, না সাজার কোনো কারণও নাই। আমি মুগ্ধ তাদের দেখে। শাষক শ্রেনীর প্রতি এতো ভালোবাসা থাকতে পারে সাধারণ মানুষের, তা না দেখলে বিশ্বাস হবার না।


দোকানে দোকানে, ঘরে ঘরে যে আন্তরিকতায় রাজাকে সন্মাণিত করা হয় তা আমাদের চোখে আসলেই বিরল। না হলে এই সদ্য রাজা হওয়া কম বয়সী যুবরাজও হয়তো বিয়ের পর এই সাধারণের কাতারে আসতেন না।

রাজা, যুবরাজ দেখে অবাক হতে হয়। একই সঙ্গে ভাবণায় পড়ে যেতে হয়। কারণ আমরাও যুবরাজ দেখি।

আমাদের দেশেও দুইজন যুবরাজ আছে


ছবি : ১. ভূটানের এয়ারপোর্ট পারো'তে নামলে বরাবর ডানদিকে চোখে পড়বে এই বিলবোর্ড। কিংডম অব রয়েল ভূটানের রাজাদের ক্রমানুসার ছবি। গোল চিহ্নিত শেষজন বর্তমান রাজা।
২. দর্জি, ভূটানি বন্ধু
৩. রাজার বিয়েকে কেন্দ্র করে মাসখানেক আগে থেকেই চলছিল ঐতিহ্যবাহী অনুষ্টানের মহড়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29465545 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29465545 2011-10-14 00:16:17
শিমুল, নোবেল, মিলিন্দ সোমান, জন অ্যাব্রাহাম এবং আমাদের ফিরোজের গল্প আমি মহাবিরক্ত নিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে যাই। ব্যাটা, কম বয়সের প্রবীণ। তার ওপর নামটাও উচ্চারণ করতে পারে না। মেজাজ ভেতরে ভেতরে গরম হলেও মুখ সামান্য প্রসারিত করে হাসি। ফিরোজ দেখে আরও উৎসাহিত হয়। আবারও ময়না পাখির মতো ডেকে উঠে, ইস্টিক ভাইয়া। ইস্টিক ভাইয়া।
আমি মনে মনে বলি, চোপ।
উপরে হাসি দেই।
ফিরোজের নানা ধরনের বিরক্তে অফিসে থাকা কঠিন। আমি যে পিসিতে বসি। ফিরোজ বসে তার পাশেই। বসেই তার কাজের ফাঁকে ফাঁকে নানা বিষয়ে উত্ত্যক্ত করে। বিষয়টা 'কলিগ টিজিং' টাইপ। দেশে কলিগ টিজিংয়ের কোন শাস্তি নেই বলে ফিরোজ দিব্যি মাথা উঁচু করে এ সমাজে বাস করে যাচ্ছে।
সবাই এক পিসিতে কাজ করলেও ফিরোজ বহুগামী। তার একাধিক পিসিতে কাজ করতে হয়। নানান পিসিতে কাজ করার সময় তাকে হাতেনাতে ধরা যায়। এদিক থেকেও তার বিরক্ত সহনীয় পর্যায়ে নেই।
ফিরোজের অনেক কিছুকে মানুষ পছন্দ করে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ফিরোজ রাজনীতি সম্পর্কে অনেক বেশি ধারণা রাখে। অফিসে যখনই রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তখনই সে প্রতিপরে ওপর হামলে পড়ার মতো আলোচনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ফিরোজ যখনই রাজনৈতিক জ্ঞান জাহির শুরু করে তখন আমি প্রায়ই অবাক হই সে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে রাজনৈতিক সংকট সম্ভাবনা তুলে ধরতে পারে।
আমি তার ওপর কিঞ্চিৎ বিরক্ত হলেও এদিকটায় খুশি হই। না ব্যাটা জানে।
কিন্তু একদিন আমি নিজ থেকে দেশের পরিস্থিতি আলোচনা করতে গিয়ে বোকা হলাম। ভেবেছিলাম তার কাছ থেকে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে অন্য আলোচনায় চালিয়ে দেব।
কিন্তু প্রচণ্ড হতাশা নিয়ে সেদিন লক্ষ্য করলাম, ফিরোজ সেদিন কিছুই বলতে পারল না।
আমি বুঝতে পারলাম না ঘটনা। তার সেকশনে আলোচনায় সে যতটা অ্যাকটিভ আমার সঙ্গে তার সিকিভাগও কিছু বলতে পারল না। পরে আমি তক্কে তক্কে থাকলাম এ পার্থক্যের ঘটনা অনুসন্ধানে।
ভেবেছিলাম আমি গোপনে হিডেন ক্যামেরা ফিট করে দেব।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হিডেন ক্যামেরার আলোচনা দেখে সেদিকে গেলাম না। দেখা যাবে আবার কী হতে কী বেরিয়ে আসে।
তবে একদিন আমার চোখেই ধরা পড়ে গেল ফিরোজ।
বুঝতে পারলাম, তার জ্ঞানের গোপন রহস্য। সে আলোচনার সময় তার সামনে নানাভাবে পত্রিকা ভাঁজ করে রেখে দেয় এবং সেখান থেকে দেখে দেখে আলোচনা করে।
যার কারণে আশপাশের সবাইকে চুপ মেরে যেতে হয়। আমি ফিরোজের নকল প্রবণতা দেখে অবাক হই। ভাবি সেই কিশোর সময়ে সে নকলের রাজাই না ছিল!
একদিন আমি তার আলোচনার সময় এসে তার পাশ থেকে পত্রিকা সরিয়ে ফেলে তাকে স্মরণকালের সবচেয়ে বিপদে ফেলে দিয়েছিলাম।
এ লেখা যখন লেখা হচ্ছিল ফিরোজ তখন লাঞ্চে।
প্রতিদিন ফিরোজ এ কাজটা করে ব্যাপক আনন্দ নিয়ে। খাবারের আগে ৫ মিনিট এবং পরে ৫ মিনিট খাবার নিয়ে আলোচনা করে সময় কাটায়। সবচেয়ে মজার বিষয় খাবার খাওয়ার পুরোটা সময় তার সামনে দিয়ে যে যায় তাকেই ফিরোজ ডাকে। খাবার যখন আর এক মুঠ আছে তখনও সে ডাকে। এ জন্যও আমি তাকে ভালো ভাবতাম প্রথম দিকে। কিন্তু শংকায়ও থাকতাম, ফিরোজ তো এত ভালো না।
নিজের খাবার-দাবার রেখে মানুষকে ডাকে কেন সে?
এ ব্যাপারে তদন্ত করতে গিয়ে যা পেলাম তা আরও ভয়াবহ।
সে আগেই তরকারি শ্রেষ্ঠাংশ খেয়ে ফেলে। যার কারণে যে-ই খেতে আগ্রহী হয়, সে আর পা বাড়ায় না। সরি হাত বাড়ায় না।
গতকালও একজনকে দেখলাম, তার ডাকের প্রতারণার শিকার হয়ে তরকারিতে মাছ না পেয়ে বিরস মুখে শুধু ঝোল দিয়ে খেয়ে উঠল।
ফিরোজ সব মিলিয়ে খারাপ হলেও আমি তাকে ভালোই বলি। সে সময় তাকে আমি নানান ধরনের ভালো কথা বলি। তাকে বলি তুমি কিন্তু আসলে সেলিব্রেটি এটা বোঝ?
ফিরোজ বিষয়টা ঠাওর করতে না পেরে, কোন দিকেই মাথা নাড়ে না। আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি বলি, শোন ভাই আমি ফান করছি না। সিরিয়াসলি। তুমি হচ্ছ দেশে শিমুল, নোবেল, ইন্ডিয়াতে মিলিন্দ সোমান, জন অ্যাব্রাহামদের মতো। তারাও বিজ্ঞাপন নিয়ে কাজ করেন। তুমিও কর।
উল্লেখ্য, ফিরোজ আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ডিজাইনের কাজ করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29461892 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29461892 2011-10-08 01:20:19
মানুষ কত কী রেখে যায়? আর নাজমুল ভাই রেখে গেল ছবি, পন্নী ফোল্ডার আর আমি... দেখি আর হতাশ হই। আমার এই জীবনের কোন অর্জন নেই। এমন কিছু করতে পারিনি যে রেখে যাব। মানুষ কত কিছু করে। আমার বয়সী বন্ধু-বান্ধব দেখি দিব্যি ব্যাপক অর্জনের গর্জন দিচ্ছে আমি তখন আমার যা কিছু ছিল তাও বর্জনের দিকে। কারণ সেগুলোর মেয়াদ উর্ত্তীণের তালিকায়। মানুষের কত কিছু থাকে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সহায়-সম্পত্তি। সমবয়সীদের কথা কি বলব? আমার চেয়ে ছোটরাই এখন জায়গা-সম্পত্তি করে সেটা নিয়ে অলরেডি বছর দুই ধরে মামলাই লড়ছে। আর আমি এ রকম জায়গা-জমি করা নিয়ে যে কোথাও বসে ভাবব, সে জায়গাটুকুও নেই।
সেই ছোটবেলা থেকেই আমি এসব করতে পারা না পারা কিংবা রেখে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে পিছিয়ে ছিলাম। আমার ক্লাশমেটরা যখন নিজের শখের ঘর গোছাতে তাদের সংগ্রহশালা পূর্ণ করে চলছিল ডাকটিকিট বা বইতে, আমি তখন তাদের ডাকটিকিট আর বই গুণে দিই। ২৪৫...২৪৫...২৪৭...বাব্বা...!
মানুষ বিচিত্র কিছু করে যায় তার নিজের নামে। স্কুল, কলেজ, চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান, এলাকায় ক্লাব। সমাজের ধাপে ধাপে যাকে মনে রাখে মানুষ।
যাদের এত সামর্থ নেই তারা হয়তো নিজেকে মনে রাখার জন্য কিছু রেখে যেতে পারবে না, তবে আমাদের এলাকার নাজমুল ভাই একটা বিকল্প বুদ্ধি বের করেছেন। তিনি দিনে তিনটা (এনালগ ক্যামেরার সময়ে) করে ছবি তুলতেন। এখন ডিজিটাল ক্যামেরার সময়ে এসে তেরো থেকে পনেরোটা করে ছবি তুলছেন। তার ধারণা তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু রেখে যেতে পারবেন না।
মানুষ এসব ছবি দেখবে আর তাকে মনে রাখবে। যে কারণে এলাকায় তো বটেই, দেশের কোনায় এবং তার সামনে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিটি প্রোগ্রামে তার ছবি আছে। তিনি কেমন করে যেন সব প্রোগ্রামে ঢুকে যান। এলাকার ছোট্ট প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে জেলার ডিসির প্রোগ্রাম।
নাজমুল ভাই মানেই প্রেজেন্ট স্যার।
এ নিয়ে স্থানীয় পত্রিকাগুলো ভীষণ খ্যাপা। আমাদের কাছে নাজমুল ভাই হলেও পত্রিকার লোকদের কাছে তো তিনি আমজনতা। তারা তো আর তার মহৎ উদ্দেশ্যের কথা জানে না। তাই সম্প্রতি একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেছে। ভেতরের খবরে জানলাম, ওই পত্রিকার সম্পাদক সাহেব নানা জায়গায় নাজমুল ভাইয়ের ছবি দেখতে দেখতে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ ছবিতে নাজমুল ভাইয়ের ওপর কড়া কাঁচি চালিয়েছে।
যার প্রমাণ মিলেছে ছবিতে। দেখা গেছে, একটি গ্রুপছবিতে জনৈক ব্যক্তির শরীর আছে, মাথা নেই।
আমরা কাছের মানুষ শার্ট দেখে ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পেরেছি। আমাদের নাজমুল ভাই।
মাথা আলাদা করে দেয়ার এমন নির্মম ছবি দেখে আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।
কিন্তু নাজমুল ভাই হেসেছেন। যদিও এ হাসি তার উদারতা বা বিষয়টাকে গুরুত্ব না দেয়া তাচ্ছিল্যের হাসি না। এমনি হাসি। কারণ, বিগত কয়েক বছরে ছবির সামনে হাসিমাখা পোজ দিতে দিতে তার এ অবস্থা হয়ে গেছে। কোন দুঃখের সংবাদ শুনেও তিনি প্রথম স্পেলে হেসে নেন।
পরে অন্য রিয়েকশন।
নাজমুল ভাইয়ের এ রকম ব্যতিক্রমী রেখে যাওয়া চিন্তার মতো আরও বেশকিছু মানুষ পেয়েছি, যারা অনেক কিছুই রেখে যাওয়ার সিস্টেম করে ফেলেছেন। যেমন আমার বন্ধু শাওনের ই-মেইল আইডি ২৭টা, যা মেনটেইন করতে তাকে মাসে একটা কিছু কাগজ এবং কলমের কালি খরচ করতে হয়। আমার ছোট ভাই মুন্নার ফেক অ্যাকউন্ট ১২টা। সাতটা মেয়ের নামে। তাকে মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করি, এই ফেক অ্যাকাউন্ট কী মানুষ বোঝে না। সে বেশ বিজ্ঞের মতো জবাব দেয়, আমার ধারণা আজ এরিস্টেটল বেঁচে থাকলে এভাবেই বলত। মুন্না বলে, একটা সুন্দর চেহারার মেয়ের ছবিই পারে একটা ফেক অ্যাকাউন্টকে লিগ্যাল করতে।
আমার ছোট ভাই-কাম কলিগ পন্নীর হিসাব আবার অন্য রকম। তার রেখে যাওয়ার ব্যতিক্রমী প্রবণতা দেখে আমি বিস্মিত। সে বোধহয় এ জগতে লাখখানেক ফোল্ডার রেখে যাবে। কারণ গত দু'দিন আমি আমাদের অফিসে কম্পিউটারগুলোর নানা ড্রাইভে একটা ফাইল সার্চ করতে গিয়ে দেখি, প্রতিটি ড্রাইভের কোনায় কোনায় তার নামে অসংখ্য ফোল্ডার আছে। এর নব্বই ভাগ ফোল্ডার খালি।
শুধু রেখে দিয়েছে। জমির বায়না করে রাখা আর কী।
এবার নিজের কথা বলি। আমার বোধহয় একটা কালো পেনড্রাইভ ছাড়া আর কিছু রেখে যাওয়া হবে না। গত কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা এই পেনড্রাইভকে কোনভাবেই হারাতে পারছি না।
গত সপ্তাহেও একবার পেনড্রাইভটাকে না পেয়ে আনন্দে আমার চোখে জল চলে এসেছিল। এই বুঝি হারিয়েছে। কারণ কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
এর বাহাত্তুর ঘণ্টা পর অনেক দিন ধরে না পড়া এক প্যান্টের পকেট থেকে পেনড্রাইভ বের হয়ে এল।
মনে হল হাসছে।
সে চেহারা দেখেই আমার মেজাজ খারাপ। মনে হলো ভেঙে ফেলি।
কিন্তু এখন পেনের সাহায্যে লিখিনা বলে পেনড্রাইভটাকে কিছু বলতে পারলাম না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29453393 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29453393 2011-09-23 01:45:04
একটি ব্যাক্তিগত প্রেসবিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশে এই কথা পরিপূর্ণভাবে খাটে গ্রামীনফোনের বেলায়। যারা আমাদের সভ্যতা, দেশপ্রেম, আর কৃষ্টিকে পুজির লোকদেখানো আয়োজন দিয়ে আমদের শুষে নিচ্ছে। সেই পুরাতন কলরেটের কথা বাদ। তাদের বর্তমান আচরণেও কোনও পরিবর্তন নাই।
তাদের ইন্টারনেট সার্ভিস ব্যাবহার করছি। একটা ছোট পেইজ ওপেন করতে যে সময় লাগে, একটা ছবি আপলোড করতে যে কতবার ট্রাই করতে হয়। বলার না।
সেসব নিয়ে তাদের কাষ্টমার কেয়ারে ফোন দিলে শুরু হয় নাটক। প্রথমে নানান নাম্বারের পুলসিরাত পেরিয়ে তাদের মহামান্য কর্মকর্তাদের কাছে পৌছাতে হয়।
তারপর শুরু হয় ভন্ডামী।
আওয়াজ শোনায়, ষ্টার গ্রাহক হিসেবে আপনার কলটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে নেয়া হচ্ছে।
কিন্তু ঘটনা একই। লাউ আর কদুর গণিত সমানুপাতিক।
তারপর শুরু তাকে বোঝানোর কার্যক্রম। কথায় কথায় জ্বি, স্যার। জ্বি, স্যার আর অতি বিনয় নিয়ে কথা বলে বলে টাইম শেষ। এবং এ ব্যাপারে আপনাকে আমাদের ইন্টারনেটা ডির্পাটমেন্ট থেকে ফোন দিয়ে কথা বলা হবে।
সেই ফোন আসা নিশ্চিত করতে নিজেই বারবার ফোন করতে হয়। আর প্রতিজনকে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হয়।
শেষদিকে মূল কাজের কোনো বিহীত না করে বলে ওঠে , আর কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?
শুনে চুপ করে যেতে হয়।
যাই হোক, সকল ক্ষোভ ফেসবুকে ঝাড়তে হলো। কারণ, তারাই জিতে যায়। আমরা অসহায়। তবে ক্ষমতাবলে যা করার করছি, এই মাস থেকে গ্রামীণফোন আলো আসার ইন্টারনেটকে ছুড়ে ফেলছি অন্ধকারে...যা ভাগ!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29449512 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29449512 2011-09-17 01:14:01
ষ্টেডিয়াম-এ যাবার আগে এবং ষ্টেডিয়াম থেকে ফিরে ম্যারাডোনাকে নিয়ে এমন এসএমএস প্রাপ্ত হয়ে সার্পোটের মাত্রা আরো বেড়ে গিয়েছিল।
মনে হচ্ছিল মেসি ম্যারাডোনাকে গিয়ে সব জানাই। তারা যাতে একটু ভালো খেলে। বিশ্বকাপ জিতে যেন একটা শিক্ষা দেয় কিন্তু আর্থিক সল্পতা এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে তা আর করা হয়ে উঠেনা।
তার আগে আমাকেউ আত্মগোপন করতে হয়। কারণ ততদিনে আর্জেন্টিনা হেরে বিদায়।
তবে মেসি ম্যারাডোনার কাছে বিচার দেয়ার তীব্র ইচ্ছা মন থেকে যায়নি।
যে কারণে এবার মেসি আসছে শুনে লাফিয়ে উঠে অনেকক্ষণ শুন্যে ভেসেছিলাম। কিন্তু টিকেটের দাম শুনে আবার তারও অধিক গতিতে নিচে পড়েছি।
এ যেন ম্যারাডোনা বা মেসিকে করা ফাউল। নির্মমভাবে পড়ে যাওয়া আর কী।
কারণ, প্রতিবছর ঈদের পর যখন আমরা ঈদ শ্যাষ নাই ক্যাশ টাইপের জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত থাকি। তখন এ রকম ধাক্কা নেবার সামর্থ কঠিন হয়ে পড়ে।
তাও নানা হিসাব নিকাশ করতে করতে চলি।
দীর্ঘদিনের কনসার্ট, খেলা এবং নানান ধরণের বড় ইভেন্ট দেখার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকি।
তার ওপর সবচেয়ে আশার খবর টিকেটও বিক্রি হয়েছে কম। নিশ্চয় তার কিছু টিকেট খেলার আগে মাঠে চলে আসবে।
সেই আসাকে কেন্দ্র এক বুক আশা নিয়ে আমি এবং আমার এক ছোট ভাই ষ্টেডিয়ামের সামনে গিয়ে হাজির।
অবাক ব্যাপার তারও আগে হাজির টিকেট নিয়ে হাজারো বিক্রেতা। হাতে সাড়ে সাত এবং দশ হাজার টাকার টিকেট। চারপাশে লোকজন ব্যপক দাম হাকাচ্ছিল। ঠিক তখনই এক গাধা তার ১০হাজার টাকার টিকেট নিয়ে এসে বলল, আমার কাছে একটা ১হাজার টাকার টিকেট আছে ১২শ টাকা হলে বিক্রি করে দেবো। আমি ১সেকেন্ডের জন্য আমার সাথে থাকা এক ছোট ভাইয়ের দিকে তাকালাম এবং পরক্ষণেই চোখ বন্ধ করে টিকেটটি কিনে ফেললাম। ওই গাধাকে ধন্যবাদ যে আমাদের খেলা দেখার পথ সহজ করেছিল এবং চরম তিরস্কার সে মেসির দাম কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছে। পরের আরেকটি টিকেট কিনলাম সাড়ে তিন হাজার টাকায়। গড়ে দুই হাজার টাকার টিকেট কিনে মেসি দেখতে ঢুকলাম। এর চেয়ে কমে আমি নিজেও কিনতাম না। শত সাধাসাধি করলেও না। মেসিকে আমি এত কম দামী বানাতে চাই না কখনোই।
আহ! মেসি। সামনে থেকে তাকে দেখবো। সম্ভব হলে সেই বিচারটাও দিয়ে দেবো।

মাঠে ঢোকার পর সিট নাম্বার অনুযায়ি গিয়ে বসলাম। আশপাশের প্রচুর মেসি ভক্ত। সাথে চিরচেনা এদশের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খেলা বিশ্লেষক। আমাদের সামনে বসা ছিলেন তেমনই একজন। যিনি প্রথম এসেই ঘোষণা দিলেন। আজ আর্জেন্টিনা হারবে। মনে পড়ে গের বিশ্বকাপ চলাকালীন নানা বোদ্ধাদের কথা। যাদের অনেককে আমরা সেসময় চিনে গিয়েছিলাম। বুঝে গিয়েছিলাম তাদের প্রেডিকশন মতা।
অতীব লজ্জার বিষয়, যাদের কথাবার্তা শুনে লেখা পড়ে প্রতিদিন নানান গণিত করতাম। আর সেই বিশ্বাসে বাইরে গিয়ে তর্কে জড়াতাম। কারণ, ওমুক ভাই বলছে মানে সে জিতবে...।
সেই ভাই কইছে মানে সে ঘুড়ে দাড়াবেই।
কিন্তু তা আর হয়না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফলাফল উল্টো।
আমি যার সঙ্গে তর্কে জড়াই সেও দেখা যায় কোনো না কোনো বিখ্যাত বোদ্ধার কলাম পড়ে আসে বা টিভি ইন্টারভিউ দেখে আসে।
সেখানে ফল আরো করুণ। কেউ জিতিনা।
খেলা ড্র।
যে কারণে মনে হয়, ভাইয়েরা আন্দাজে একটা বলে দিতেন। মিডিয়া থেকে ফোন, ভাই খেলা নিয়ে কিছু তো জানালেন না?
বলেন কী? জানাইনি?
না
কন কি?
তাইলে কাগো জানালাম?
কি জানি?
আচ্ছা সমস্যা নাই। জার্মানীরে জিতাইয়া বিষয়টা সাজাইয়া দেন। সার্বিয়া তো দূর্বল টিম। ঠিক না?
জ্বি ভাই।
ওকে।
কিন্তু ফল :
সার্বিয়া ১ : জার্মানী ০।
মাঠেও সেরকম রেজাল্টই হলো। হারার কথা থাকা আর্জেন্টিনার জিতে গেল ৩-১ গোলে।

চারপাশে বোদ্ধা ছাড়াও কিছু যোদ্ধাও এসেছিল। যারা এতো কষ্ট করে এসেছে আর্জেন্টিনার বিরোধীতা করতে। ব্রাজিলিয়ান সমর্থক। নাইজেরিয়ার এক গোলে যেন তারা চার গোলের স্বাদ পেয়েছিল। বোদ্ধা, যোদ্ধা ছাড়াও এসেছিল কিছু মেসিদের ভাই ব্রাদার আত্মীয়স্বজন। পেছন থেকে চিৎকার শুনে অবাক হয়ে তাকাতে বাধ্য হচ্ছিলাম। কারন পেছন থেকে বারবার পেছন থেকে ভেসে আসছিল, ওই মামাতো ভাই মেসি বুইঝা খেল।
ওই দোস্ত আগুয়েরা দৌড়া, দৌড়া।
তবে সবচয়ে মজা পেয়েছি শেষ মূহুর্তে। একটু আগে যিনি মেসিকে বুঝে খেলতে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি চিৎকার চেচামেচি করে কান্ত হয়ে গেলেন চিপস আর কোক কিনতে। ২ লিটার কোকের দাম ৪০০ টাকা আর ১২ টাকার চিপসের দাম ৮০টাকা শুনে তার চক্ষু চড়কগাছ। মূহুর্তেই রেগে গেলেন, শালার ব্যবসা ভালোই পাইছস। চিনসত নাই, এক ঢিল দিয়ে ষ্টেডিয়ামের বাইরে ফেলে দেবো।
বলে লোকটা চলে যেতেই বিক্রেতা বলল, আপনারে চিনমু না কেন?
একটু আগেই তো চিনলাম। আপনি মেসির মামাতো ভাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29445103 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29445103 2011-09-09 01:21:44
গল্প : লুকিং গ্লাস সুলাইমানের কথা শুনে অন্যরা হাসে। টিটকিরি করে, মিয়া তুমি তো অনেক পাকনা কথা শিখ্যা গেছো। মাত্র এই লাইনে আইছ। একটু দেখো। শিখো। ক্যমনে কী? মাতব্বরি ফলানোর অনেক জায়গা আছে। ব্যাকরণ আবার কী জিনিস মিয়া? জাম ঠেলতেই দিন পার অয়। ব্যকারণ মানলে পেডে বাত দেওন লাগবো না।
সুলাইমান ভাবে তাদের কথাও ঠিক। কিন্তু তারপরেও ব্যাকরন বলেও একটা কথা আছে। ব্যাকরণ মানে হচ্ছে নিয়ম কানুন। সুলাইমান মাদ্রাসায় নানা ধরণের ব্যকরন পড়েছে। বাংলা। ইংরেজি। আরবি। সব কিছুতেই ব্যকরণ ছিল। বড় হুজুর বলেছিলেন, আদব লেহাজেও ব্যাকরন আছে। বড় হুজুর এটাও বলেছেন, ব্যাকরণ আছে এই হইজগতের সব কিছুতেই।
সুলাইমান এই সব ব্যকরণগত ভাবণা যখন ভাবছিলেন তখন গাড়িতে বসা পেছনের এক যাত্রী ব্যকরন না মেনেই গালি দিয়ে দিয়ে বসলেন, ওই হালারপুত। খেয়াল কইরা গাড়ি চালা। ঘুমাস নি?
সুলাইমান কথা বলে না। গাড়ীর গিয়ার পাল্টে, সামনে পেছনে করে জোরে টান দেয়।
২.
গাড়ি চালাতে গিয়ে সুলাইমানের অনেক ঝামেলা হয়। সুলাইমান হুজুর টাইপের লোক। কোরআণে হাফেজ। পাবলিক খুব খারাপ কথা বলে। আস্তে চালালে গালি দেয়। জোরে চালালেও ক্ষমা করেনা। মহাবিপদ তার। কিন্তু সুলাইমান কখনোই এসবের জবাব দেয় না। তার হেলপার আর কন্ডাক্টররা প্রায়ই তেড়ে যায়। সে থামায়। তার রাগ হয় না। কষ্ট পায়। সুলাইমান হুজুর টাইপের লোক হবার প্রথম অসুবিধা হচ্ছে, সবাই তার বেশভূষা নিয়ে কথা বলে। কোন কথার জবাব দিতে পারেনা। কঠিন কথা বলতে পারে না। বললেই শুনতে হয়, টুপি পইরা রইছেন মিয়া, আবার ত্যাড়া কথা কন!
সুলাইমান এসবের অর্থ বোঝেনা। তবে এটা বোঝে মানুষ যা খুশি, তাই বলে দেয়। কোনো ব্যাকরন মানেনা।
সুলাইমান আগে এমন কথা শুনলে কষ্ট পেতনা। এখন পায়। খারাপ কোনও কথা শুনলে তার এখন মেয়েটার কথা মনে পড়ে। মেয়েটা মানে ওই মেয়েটা। এক মাস হলো যে মেয়েটা তার সাথে থাকে। তার বউ হয়েছে। মেয়েটা জানলে কী কষ্টইনা পাবে! স্বামীকে মানুষ ধমকাচ্ছে।
নরম মনের মানুষ সুলাইমানের এই কথা ভেবে এখনই কষ্ট লাগা শুরু হয়ে যায়।
সুলাইমান তার ভাবণা এবং গাড়ীর দুইয়েরই হার্ড ব্রেক করে।
৩.
কাউন্টারে এসে গেছে সুলাইমান। কাউন্টার সার্ভিসের বাস চালায় সে। কাউন্টারে কাউন্টারে থামানো তার বাধ্যতামূলক কাজ।
সে থামিয়ে বসে আছে।
এই মুহুর্তে তার মনে অসম্ভব আনন্দ। এই কাউন্টার পার হলেই তার আনন্দের শুরু হয়। পরের কাউন্টারটা তার বাড়ির সামনে। এই ছোট মফস্বল শহরে সুলাইমান আগে দিনভর অনেকবার বাড়ির সামনে দিয়ে গেছে। কখনও এমন লাগেনি। ইদানিং লাগছে। কেন লাগছে? সে জানে। ওই একই কারণে। ধমক খেলে যে মেয়েটার জন্য কষ্ট লাগে, সেই মেয়েটার জন্য এইখানে আবার আনন্দ। কারণ পরের কাউন্টারের আশেপাশে কোথাও এসে সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে থাকবে। দিনের যে কোনো একটা সময় সে এসে দাঁড়ায়। সুলাইমানকে দেখার জন্য। সুলাইমানের দেখার জন্য। সুলাইমান এই পথটুকু খুবই লজ্জা নিয়ে গাড়ি চালায়। সুলাইমানের মধ্যে লজ্জা অনেক। যেমন এই আনন্দের কারণটা সে কারো কাছে বলতে পারেনা লজ্জায়। অনেককে বলবে বলবে ঠিক করেও বলতে পারেনা। অনেকবার চেয়েছে তার হেলপার আর কণ্ডাক্টরতে বলবে। কিন্তু তার আগেই যেন তারা কিভাবে টের পেয়ে গেছে। একদিন হেলপার তো বলেই ফেলল হুজুর এই জায়গায় আইলে এতো খুশি খুশি হইয়া যান ক্যান?
এই কথা শুনে আর বলার সাহস হয়নি। এমনিতেই বেশ লজ্জা পেয়েছে। বলে আবার নিজের লজ্জা বাড়াতে চায়নি।
আবার সুলাইমান গাড়ি চালাচ্ছে ধীরে। যত এগিয়ে যাচ্ছে ততই তার লজ্জা বাড়ছে। সুলাইমানের লজ্জা অনেক। আরো অনেক বিষয়েও। বউয়ের সামনে বেশিক্ষণ থাকতেও তার লজ্জা করে।
সুলাইমানের বউ অবশ্য এত লজ্জা নিয়ে থাকেনা। তার কাছে সুলাইমানের লজ্জা দেখতেই ভালো লাগে। তবে গত কদিন আগে সুলাইমান তার সব লজ্জা জলাঞ্জলী দিয়ে একটা কথা বলে ফেলেছে তার বউকে। কথা বলে সে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। বসে থাকতে পারেনি। বউ দরজার দিকে, সুলাইমানের বেরিয়ে যাওয়ার পথের দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল অনেকক্ষণ। এইটা কী খুব লজ্জার কথা? গাধা কোনানকার!
প্রত্যেকদিন কাউন্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়াইতে হইবো এইডা বলাতে লজ্জার কি আছে? বলছ, যামু।
৪.
সুলাইমান বাড়ীর কাছে কাউন্টারে এসে ব্রেক চাপলো। রাস্তায় সামনে এক গাছের আড়ালে তার বউ দাড়িয়ে আছে। সুলাইমান মন ভরে বউকে দেখছে। সামনাসামনি এমন করে দেখতে পারেনা। আহ! কী সুন্দর একটা মাইয়াই না বিয়ে করছি। সুলাইমান ভাবে। তার বউয়ের কথা ভাবে। তার বউয়ের রুপের কথা ভাবে। আরো কত কী ভাবে। তবে সুলাইমান অবাক হয় সে তার এই ভাবণাতে কোনো ব্যাকরণ মানছে না।
সে লজ্জিত হয়।
কাউন্টারের সুপারভাইজারের চিৎকারে সুলাইমানের সম্বিত ফেরে। তবে বউয়ের দিক থেকে চোখ ফেরায় না। সে দিকে তাকিয়েই পা দিয়ে ব্রেকটা ছেড়ে দেয়। ক্লাষও ছাড়ে। চাপ দেয় এক্সসেলেটরে। গাড়ি চলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বউয়ের সামনে দিয়ে চলে যায় সে। একটা সময় বউকে পেছনে ফেলে যায়। তবে তাও সুলাইমানের মন ভরেনা। সে লুকিং গ্লাস দিয়ে তাকিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে তার গাড়ির গতি বাড়ে। বউয়ের প্রতিবিম্বটা ক্রমশ ছোট ছোট হতে থাকে। তাও সে অনেক কিছু বুঝতে পারে। সে বুঝতে পারে তার বউয়ের সামনের চুল উড়ছে। চোখের পলক পড়ছে। তার বউ রাস্তা পার হয়ে অন্য পার দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে পা বাড়াচ্ছে।
৫.
প্রতিদিন খুব রাতে সুলাইমান বাড়ি ফেরে। গাড়ি সাইড করে আসতে হয়। তার আগে পরের দিনের জন্য গ্যাস ভরে রাখতে হয়। এগুলো করতে করতে রাত অনেক হয়ে যায়। আগে এতটা রাত মনে হতোনা। এখন হয়। আগে পাম্পে বসে গল্প করতে ভাল্লাগতো। এখন লাগে না। উল্টো অসহ্য মনে হয়। তার মনে শুধু একটাই চিন্তা। বাড়িতে যাব কখন?
বাড়িতে আসতেই কেমন জানি হয় তার মন। হরবর করে কত কথাও বলে ফেলে। সারাদিন কোথায় কী হল? কোথায় কী দেখল? সব।
তার বউও সব মনোযোগ দিয়ে শোনে। শুনে তার চোখ চকচক করে। স্বামীর কর্মক্ষেত্র নিয়ে সে খুবই উচ্ছসিত হয়। সাফল্যের কথা শুনে আনন্দিত হয়। ব্যার্থতায় মন খারাপ করে।
গত এক মাস ধরে এটাই হয়। এমনই হচ্ছিল।
৬.
সুলাইমানের বউ মৌসুমী। মেয়েটার এই এক মাসে অনেক বদলে গেছে। নতুন জীবন নিয়ে সে খুবই খুশি। তার স্বপ্ন একদিন স্বামীর বাসে সে একা একা চড়ে ঘুরবে। অনেক জায়গায় যাবে। তারও সুলাইমানের মতো ভাবাভাবির রোগ পেয়ে গেছে এই এক মাসে। সে এসব ভাবতে ভাবতে কেমন যেন হয়ে যায়। তার চোখে মুখে আনন্দ আর ধরে না।
সে প্রতিদিন একটা সময় পাগল হয়ে ছুটে যায়। বেশির ভাগ সময়ই দুপুরের দিকে যায় সে। তখন বেশিক্ষন দেখা যায়। মানুষের চাপ কম থাকে। গাড়ি অনেকণ কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকে। সে ওই সুযোগে অনেকক্ষণ স্বামীকে দেখে।
৭.
তাদের এই দেখাদেখির পর্ব পুরোনো হয়না। যখন মাস ছয়েক হয়ে গেলো তখনও পরিবর্তন ছিলনা। বছরখানেকে এসেও কমেনি। বরং বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যাও বেড়েছে অনেক। আগের মত এখন বেশি সময় পায়না দুজন। রাস্তায় ভীড় বেড়েছে। বেড়েছে গাড়িও। বেড়েছে অনেক কাউন্টার। এক কাউন্টারে বেশিণ দাঁড়ানো গাড়ি থাকেনা। অনেক অসুবিধা। অনেক অসুবিধা পার করে তাও মৌসুমি আসে। সুলাইমান দেখে। দুর থেকে দেখে। সামনে থেকে দেখে। পেছন থেকে লুকিং গ্লাস দিয়েও দেখে। মন ভরেনা সুলাইমানের। মন ভরেনা মৌসুমীরও। কী করবে? কিছু করারও নেই। অনেক রাতে সুলাইমান আসে। খুব ভোরে চলে যায়। এতটুকুতে কী আর চলে? মন ভরে?
যে কারণে সুলাইমান প্যাসেঞ্জারের গালি খেয়ে হলেও একটু বেশি সময় গাড়ি থামিয়ে মৌসুমিকে দেখে। মৌসুমিও এই কঠিন রাস্তা পার হয়ে প্রতিদিন আসে। ব্যাকরন না মেনে গাড়ী চালানো ড্রাইভারদের বিপদের সকল আশংকা উপেক্ষা করে।
৮.
প্রতিদিনের মত আজও এসে দাঁড়িয়েছে মৌসুমি। অপেক্ষায় আছে সুলাইমানের। সুলাইমান আসবে। একটু দেরী হলেই বুকটা কেমন যেন করে উঠে মৌসুমির। কোনো বিপদ হয়নি তো! আজও দেরি হচ্ছে। মৌসুমিরও খারাপ লাগা বাড়ছে। অন্য ড্রাইভারগুলি যেভাবে গাড়ি চালায়। মৌসুমি বহুবার সতর্ক করেছে। সাবধানে চালিও। সাবধানে থেকো। সুলাইমান হাসে। আরে না কিছু হবে না। উল্টো সে মৌসুমিকে সতর্ক করে। তুমি সাবধানে থেকো। প্রতিদিন রাস্তা পার হও আমার ভয় করে। আমি ভয়ে ভয়ে তোমার রাস্তা পার হওয়া দেখি। লুকিং গ্লাস দিয়ে তাকাইয়া থাকি।
হঠাৎ মৌসুমির সম্বিত ফিরে আসে। তার মন আনন্দে ভরে যায়। সুলাইমানের গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে কাউন্টারে। সুলাইমানকে দেখে মনটা ভরে যায়। তার মায়া লাগে। আহারে। কী কষ্টই না করে লোকটা!
৯.
সুলাইমানের মেজাজ আজ চরম খারাপ। আরেকটু হলে অন্য এক ড্রইভারের সাথে তার মারামারি হত। শুধু মৌসুমির জন্য সে দ্রুত চলে এসেছে। ব্যাটা বেঁচে গেছে। না হয় যে অপরাধ করেছে তার কোনো মা ছিলনা। ব্যাটা তার গাড়ি চাপাতে চাপাতে এনে সুলাইমানের লুকিং গ্লাস ভেঙ্গে দিয়েছে। সুলাইমান কোনো রকমে অর্ধেক বাঁচিয়ে এসেছে। অল্প দেখা যায়।
সুলাইমানের মন এখন কিছুটা ভালো। মৌসুমিকে কেন জানি অনেক সুন্দর লাগছে। সে তাকিয়েই আছে। বেশিক্ষণ পারলনা। পেছন থেকে যাত্রীরা চিৎকার চেচামেচি করছে। সুলাইমান গাড়ি ষ্টার্ট দেয়। মৌসুমির দিকে তাকিয়ে গাড়ি চালায়। ঠিক মৌসুমির পাশ কেটে এগিয়ে যায়।
১০.
মৌসুমি খুব সামনে থেকে সুলাইমানকে দেখে আতকে ওঠে। তার চেহারা এমন হয়েছে কেন? কোথাও কী কোনও ঝামেলা হল নাকি? কে জানে? মৌসুমির মন কেমন বিষাদে ভরে যায়। সে ভাবণায় পড়ে, কী হয়েছে। এমন লাগলো কেন? ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক মৌসুমি রাস্তা পার হয়। তার মনস্কতা আর দশ পনের সেকেণ্ডে ফেরেনা। ওদিক থেকে আবার প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসে ব্যাকরণ ছাড়া চালানো কোনও এক ড্রাইভারের গাড়ী। মৌসুমি কখনো গণিত পারেনি। গণিতকে ভয় পেতো। সে জন্যই কিনা কে জানে জীবনের এই সময়ে ছোট্ট একটা গণিত তার করা হয়ে ওঠে না। গাড়ীর গতির সমানুপাতিক হার তার রাস্তা পেরুনোর গতিতে ছিলনা।
তার আর রাস্তা পেরুনো হয়না।
১১.
সুলাইমান লুকিং গ্লাস দিয়ে তাকিয়ে আছে। ফ্রেমে অল্প পরিমান গ্লাস অবশিষ্ট আছে। সেই অল্পতেই সে মৌসুমিকে দেখার চেষ্টা করছে। মৌসুমির উড়ন্ত চুল দেখার চেষ্টা করছে। চেষ্টা করছে কখন মৌসুমির চোখের পলক পড়বে সেটা দেখার। দেখতে চেষ্টা করছে মৌসুমির নিরাপদে রাস্তা পেরুনো। কিন্তু সুলাইমান মৌসুমির রাস্তা পার হওয়া দেখতে চেয়েও পারছেনা। কেন যেন অনেক মানুষের জটলা হয়ে গেলো রাস্তায়। ভেঙ্গে যাওয়া লুকিং গ্লাসের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে তা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছেনা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29441949 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29441949 2011-09-02 01:53:49
কলকাতা ভ্রমণের উপকথা অথবা কফি হাউসের বিস্বাদ কফির গল্প শেষ পর্ব (লিংক সহ অখন্ড) Click This Link

৪.
পরদিন বন্ধুর সঙ্গে কিছুটা সময় ব্যবসায়িক কাজ করে আবার বেরোলাম। গন্তব্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। আমি আগে দেখলেও রিগ্যানের অদেখা। তাই রিগ্যান দেখছিল বিস্ময় ভরা চোখে আর আমি দেখছিলাম আগেরবার যা দেখেছি সব ঠিক আছে নাকি সেই দৃষ্টিতে। তবে আগেরবার ভেতরে ঢুকতে ব্যর্থ হলেও এবার হলাম না। বিদেশীদের এন্ট্রি ফি ৫০০ রুপি শুনে আমরা বাইরেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের স্মৃতি নিয়ে ফিরে এসেছিলাম। এবার তা করলাম না। এবার আমরা লোকাল ভাব নিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। অতি চালাকি হিসেবে রিগ্যান তার টিকিট চেকারদের সামনে নিজেকে ইন্ডিয়ান প্রমাণের জন্য 'নেহি' 'নেহি' করতে করতে ঢুকল। তাই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবার আমাদের কাছে ভিক্টোরের মেমোরি হয়ে রইল।
দুপুরে খাবার এবং বিশ্রামের জন্য আবার হোটেলে আমাদের ফিরে আসা। রাতের গন্তব্য কফি হাউস।
খাওয়া দাওয়া শেষে রিগ্যানের প্রশ্ন কফি হাউস কী? বললাম, এটা কলকাতার একটা বিখ্যাত জায়গা। কফি খাওয়া যায়। যেখানে সব বিখ্যাত লোকেরা কফি খেতে আসেন। রিগ্যান কী বুঝল কে জানে, সে বলল তাহলে তো সুটেড বুটেড হয়ে যেতে হবে। আমি বললাম, তা তো অবশ্যই। না হলে তো আমাদের সম্মান থাকে না। সে প্রকৃত অবস্থায় তা-ই করল।
আমরা অনেক খুঁজে কফি হাউসে গিয়ে বসলাম।
ইহা মান্না দে'র বিখ্যাত কফি হাউস। তবে এটা ক্রয়সূত্রে মান্না দে'র কফি হাউস নয়। গান রচনার সূত্রে। যেখানে চেয়ারের জন্য পাশে দাঁড়িয়ে কলকাতার নানা এলাকার পঞ্চায়েত বা তৃণমূলের আলোচনা থেকে শুরু করে বিদেশী বেনিয়া, সাম্রাজ্যবাদ, আগ্রাসনের আলোচনা হজম করতে হয়। সেটা ঠিক কতক্ষণ চলবে তা কেউ বলতে পারবেনা। একটা সময় চেয়ার পেলে পরিষ্কার টেবিল পেলাম না। চেয়ার ও পরিষ্কার টেবিল পেলে খাবার অর্ডার দেয়ার লোক পেলাম না। লোক পেলেও ডাক শোনাতে পারলাম না। ডাক শুনলেও 'দাদা বছুননা' টাইপ কথা ছাড়া বেশি কথা শুনলামন না। এত কিছুর পর একটা সময় গিয়ে তারা দেবতার মতো মুখ তুলে তাকালো এবং নিয়ে আসসো কাঙ্খিত সেই কফি। অনেকটা বিস্বাদ সেই কফি। আমার ধারণা, মান্না দে কফি হাউস নিয়ে গান রচনার মাধ্যমে কফি হাউসের প্রচারণা চালিয়ে কফির মান খারাপ করে দিয়েছেন। তবে কলকাতাবাসীকে দেখলে মনে হবে এর স্বাদ অমৃত। কারণ তারা এই এক কাপ কফি থেকে শুধু কফির স্বাদ নেয় না, নেয় শিল্পের স্বাদ, সাহিত্যের স্বাদ, চেতনার স্বাদ, বিপ্লবের স্বাদ,

আর আমরা নেই কষ্টের স্বাদ। শালা! এত নামডাক শুনলাম, টাকা খরচ করে আইলাম, দাম দিয়া কফিও কিনলাম, খাইতে স্বাদ হইব না কেন?
আমি আর রিগ্যান তাই বিস্বাদ এক কফি খাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে সেখান থেকে বেরোলাম।
রাতে আমাদের গন্তব্য আবার সিনেমা হল। ইচ্ছে না থাকলে ছবি দেখতে যাওয়া আমাদের। ভাবটা এমন, ইন্ডিয়া আসলাম অথচ বলিউড সিনেমার উন্নয়নে কিছু খরচ করে যাব না, তা কী করে হয়!
৫.
পরদিন আমাদের ছিল গন্তব্যহীন ঘোরাঘুরি। কোথায় যাব কোথায় যাব ভাবতে ভাবতে দিন শেষ হয়ে যাওয়া আর কী। রিগ্যানের সঙ্গে ঘোরার মজাই আলাদা। এক বাঁশিওলার কাছ থেকে বাঁশি কেনার কথা বলে যেভাবে বাঁশি বাজালো তা মুগ্ধ হওয়ার মতো। আবার এক কি বোর্ডের দোকানে ঢুকে যেভাবে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের সুর বাজালো তারও জবাব নেই।
জানতে চাইলাম এগুলো কোথায় শিখেছে?
জবাব না দিয়ে আধ্যাত্মিক ভাষায় বলল, আমারে দেইখা কি বোঝা যায় এই হুদয়ে কত আঠা?
এই ফেভিকলের দেশে আমি তাই নতুন আঠার সন্ধান করলাম না। তবে তার বাঁশি কি বোর্ড দুই বাজছিল কানে।
হঠাৎ সেসবকে ছাপিয়ে কোথা থেকে যেন ঘণ্টা বাজা শুরু হলো। বুঝতে পারছিলাম না ঘটনা কী? এটা কিসের ঘণ্টা এটা?
বুঝতে পারলাম, বিদায়ের ঘণ্টা এটা। বিদায়ের সময় হয়ে গেছে। দেশ ডাকছে। তার চেয়ে বেশি ডাকছে অফিস। কারণ ছুটি শেষ। পরদিন সকালের টিকিট করে রাতে আবার সিনেমা হলের দিকে রওয়ানা দিলাম। কারণ রাত হলেই মনে হয় কোত্থেকে যেন সালমান, শাহরুখ, ক্যাটরিনা, দীপিকারা ডাকে।

চার দিনের ভ্রমণ এবং নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরছি। পেছনে পড়ে রইল নিউমার্কেট, ফায়ার স্টেশনের গলি, মারকুইস স্ট্রিট, বিহারি হোটেল, মিষ্টি লাচ্ছি, শেখর আহমেদ আরও কত কত কিছু! দেশে এসেও কয়েকদিন সে স্মৃতি তাড়া করতো। তাড়া করতো সন্ধ্যের পর হিন্দী সিনেমা দেখার অভ্যাস। তাড়া করতো ক্যাটরিনা, দীপিকাদের ডাকও। যে
ডাক শুনে মন খারাপ হতো। দীর্ঘশ্বাস চলে আসতো। মনে মনে বললাম, একটু ওয়েট করো। আবার আসছি।

ছবি : ১. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
২. কফি হাউজ
৩. শেখর ভাই
৪.সায়েন্স সিটিতে রিগ্যান

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29436354 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29436354 2011-08-22 01:03:00
কলকাতা ভ্রমণের উপকথা অথবা কফি হাউসের বিস্বাদ কফির গল্প আমারও আগে থেকেই প্ল্যান চললেও অফিসের ছুটিটাই মোটামুটি বড় বিষয় ছিল। ছুটি পাওয়া মানেই বর্ডারের ওপাশে এক পা চলে যাওয়া।
তাই যখন ছুটি মঞ্জুর হলো তখন মূলত আমি অফিস থেকে বাইরে পা বাড়াইনি আমার পা তখন বেনাপোল পেরিয়ে পেট্রাপোলে।
তখনই বাসের টিকিট কনফার্ম করে নিলাম।
যে টিকিট নিয়ে পরদিন গভীর রাতে গিয়ে হাজির হলাম বাস কাউন্টারে। গন্তব্য কলকাতা। টিকিট কাউন্টার চিরকালই আমার কাছে প্রিয়। মানুষের বৈচিত্র্য এখানে খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। ভালো লাগে। বিচিত্র মানুষ সব। কাউন্টারে তাদের কত কাজ। কত ভাব। এমন অনেক কাজ করা একজন আমাদের সঙ্গে কলকাতা যাবার গাড়িতে উঠে এসে পান্থপথের মোড়ে জানতে পারলেন তার চট্টগ্রাম যাবার গাড়ি এটা না।
২.
আমার ভোর চিরকালই অন্য শহরের গল্প বলে। এখানেও ব্যতিক্রম নয়। এমনি এক ভোরে আমি যশোরে। যশোরের বেনাপোলে। একটু পরই আমাকে নো-ম্যান্সল্যান্ড পার হয়ে চলে যেতে হবে কলকাতা। তার আগে খাওয়া দাওয়ার একটা বিরতি। সেখানে পরিচয় হলো বরিশালের আঞ্চলিক টোনে কথা বলা এক যুবকের সঙ্গে। নাম, রিগ্যান। সাদাসিদে এই যুবকের ভেতর যে কত রঙ তা টের পেয়েছি কলকাতার বাকি দিনগুলোতে।
সীমান্তের যাবতীয় বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমি উঠে বসলাম কলকাতা যাওয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে। একটা সময় পৌঁছলাম ঐতিহ্যের শহর কলকাতায়। কলকাতাতে এটা আমার দ্বিতীয়বার আসা। যে কারণে পুরাতন প্রিয়মুখ অনেকদিন পর দেখার ফিলিংস পেলাম। মনে ভেসে এলো, অনেক পাল্টে গেছো- টাইপ নাটকের ডায়ালগ।
৩.
বিকেলের দিকে বেরোলাম। আমার বন্ধু নিখোঁজ। সে ব্যবসা ছাড়া যে কোন কিছুই কম বোঝে। তার দিন কাটে মালামাল সংগ্রহে। আমার দিকে তাকিয়েও সে তার জায়গাতেই থাকে। আনমনে বলে ফেলে ৩৫টা।
আমি আঁতকে উঠি। কাহিনী কি? ৩৫টা কী? আমার চোখ নাক আবার বেড়ে গেল নাকি!
পরে অবশ্য বুঝতে পারি, হোটেলের রুমে বসেও তার ব্যবসায়ী আত্মা ঘোরাফেরা করছিল কলকাতার বিভিন্ন মার্কেটে। সেখানকার জামা কাপড়ের প্যাকেটের হিসাবই করছিল সে মনে মনে। তাই বের হয়েই ফোন দিই রিগ্যান নামের সেই যুবককে। শুরু হয় আমাদের কলকাতা অভিযান।
কলকাতা এসে বাঙালিদের মূলত আবাসস্থল হয় নিউ মার্কেটের আশপাশের গলিতে। সবাই যে দিক দিয়েই তার হোটেলে ঢুকুক, নিউ মার্কেট দিয়ে বেরোনোর কাজটা সারে। আমরাও ব্যতিক্রম হলাম না। যখন যেখানে যাওয়ার জন্য বেরোই সামনে এসে দাঁড়ায় নিউমার্কেট। নিউ মার্কেটটির আরেকটা কারণ হল খুব সুন্দর আর অন্যরকম জায়াগাটা। বসার ব্যবস্থা এবং গোছানো সব কিছুই নিউমার্কেটের মূল সৌন্দর্য। সামনে দোকান। নিচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক মার্কেট আসলেই ভাবায়। কত এগিয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের এগিয়ে যাওয়ার খবর প্রতিটি জায়গাতেই। চার বছর আগে যখন এসেছিলাম, তখন বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল। এখন তাদের বিদ্যুৎ এক মিনিটের জন্যও যায় না। বেসরকারি খাতে চলে গেছে।
তাদের এই আলোর খবরের পাশে নিজের দেশকে রেখে ভাবলে চোখে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই আসে না। তাই সে ভাবনা বাদ দিয়ে বের হয়ে যাই। হাওড়ার দিকে। হাওড়া ব্রিজ আর হাওড়া স্টেশনের স্থান। তার আগে মোড়ের মিষ্টি লাচ্ছি আর মিষ্টি হাসির শেখর ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়টা আনন্দের ছিল। শেখর আহমেদ, বাংলাদেশী অভিনেতা। সেখানেই থাকেন। নিউ মার্কেটে একটি দোকানও আছে তার।

হাওড়া স্টেশনে গিয়ে ব্যাপক ফটোসেশন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে ফেললাম। যা পাই তার সঙ্গেই ছবি তুলি। সে তালিকা থেকে বাদ গেলেননা সদ্য মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মমতা ব্যানার্জিও। কলকাতা শহরজুড়ে তার বিশাল বিশাল প্রতিকৃতি দিয়ে তৈরি পোস্টার আর ব্যানারের ছড়াছড়ি। সেগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আমরা মমতার বিজয়ের আনন্দে আমরাও শরিক হলাম। তালিকা থেকে বাদ পড়ল না রাস্তায় বসে গল্প করা এক দল ঠেলাগাড়ি চালকও। যারা ব্যাপক ভাব নিয়ে আমাদের ছবিতে পোজ দিয়ে দিলেন। সেখান থেকে আমরা রওয়ানা হলাম সায়েন্স সিটিতে। মোটামুটি আন্দাজে ঢিল ছোড়ার মতো এই ভ্রমণ। ঠিক কোথায় এই সায়েন্স সিটি তা ঠিক করে না জেনেই আমরা একটা বাসে উঠে বসে পড়লাম। শুরু হল এক বিরক্তিকর যাত্রা। রাস্তা শেষ হয় না। রিগ্যান কিছুক্ষণ পরপর মাথা নিচু করে বাসের জানলা দিয়ে দেখে আর বিড়বিড় করে বলে, এখানেই তো মনে হয়। নাকি আরো সামনে। সেই সামনে যে কতদূর সেটা যদি আগে টের পেতাম তাহলে সায়েন্স কে কাজে লাগিয়ে বাস থেকেই হাওয়া হয়ে যেতাম।
কলকাতা থেকে রওয়ানা হয়ে মোটামুটি আমেরিকার কাছে এসে থামল আমাদের বাস। এত দূর! যাই হোক দূরত্বকে ক্ষমা করে ঢুকলাম। নানা বিজ্ঞানের আয়োজন নিয়ে বসে আছে। আমি আর রিগ্যান সব ঘুরে দেখলাম। আমি দেখে দেখে চলে গেলেও রিগ্যান তা করে না। সে সব চালিয়ে দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে, বিজ্ঞানরে ভাই বিজ্ঞান। দেখছেন কী কাহিনী কইরা রাখছে?
এসব দেখেতে দেখতে অনেক সময় হারিয়ে গেল আমাদের কাছ থেকে। শুধু সময়কে একা বললে ভুল বলা হবে। সময় আর রিগ্যানের একটা ছাতাও হারিয়ে গেছে সেই তোড়ে।
প্রতিদিন আমাদের রুটিন ঠিক হয়েছিল, দিনে যেখানে থাকি, রাতে গন্তব্য হবে সিনেমা হল। হলও তাই। স্বয়ং সালমান খান যখন তার সিনেমা নিয়ে অপেক্ষা করছে তখন কি চলে আসা সম্ভব?

(চলবে)

ছবি : ১. হাওড়া ব্রিজ ২. ঠেলাওয়ালাদের সাথে রিগ্যান ৩. এই ছবিটি প্রমাণ করে, পৃথিবীর কোথাও প্রয়োজন আইন মানেনা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29435783 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29435783 2011-08-21 01:23:50
মানবকল্যাণে মান্নান এসএমএসের ধরন এরকম-
ডিয়ার ফ্রেন্ড আজ বিশ্ব অমুক দিবস। এই দিনে আমরা আসুন এই এই করি। বিশ্বকে আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাসের উপযোগী করে দেই।
মান্নান ভাইয়ের এই টাইপের এসএমএস পেতে পেতে আগামী প্রজন্ম তো দূরে, এই প্রজন্মের আমাদেরই বসবাসের অনুপোযুক্ত হয়ে উঠছে পৃথিবী।
এখনও মোবাইলে তার গোটা দশেক বিভিন্ন দিবসমূলক এসএমএসের জ্যাম হয়ে আছে।
আমি প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা হলে বলি ভাই, আমার জন্য বরাদ্দকৃত এসএমএসের টাকাটা নগদ দিয়ে দেন। কারণ দিবসগুলো একটু পর পত্রিকাতেই দেখা যায়। অথবা একই এসএমএস দিনের কোন না কোন সময় মোবাইল কোম্পানিই আমাদের পাঠায়। তাই টাকা অপচয় করে কি লাভ? মাসের হিসাব করে টাকাগুলো দিয়ে দিলে কিছু আয়ের সংস্থান হতে পারে। এর চেয়ে ভালোভাবে মানবকল্যাণ আর কী ভাবে হবে?
মান্নান ভাই এখনও এ ব্যাপরে কোন কিছু স্পষ্ট করে জানাননি। দেখি কী হয়?
২.
মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখলে মান্নান ভাইয়ের মন প্রায়ই কেঁদে ওঠে। তার চেয়ে বেশি কেঁদে ওঠে তিনি এখনও বড় নেতা হতে পারেননি সেই দুঃখে। তিনি বহু চেষ্টা করে এই জায়গাটায় অনেক পিছিয়ে আছেন। এজন্য তিনি চেষ্টাও কম করেননি। বিভিন্ন আমলে তিনি বিরোধী দলের হয়ে হরতালে অংশ নিতে গেছেন। তার কাছে মনে হয়েছে হরতালে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন, পুলিশ তাকে ধরেছে- এমন কোন ছবি সংবলিত পোস্টার যদি তিনি এলাকায় ছেড়ে দিতে পারেন তাহলে হয়তো একটা গতি হতে পারে।
এজন্য তিনি কয়েকবার অল্পের জন্য সফল হওয়াটা মিস করে গেছেন। একবার তিনি ধরা পড়তে গিয়েও পরেননি। আরেকবার তাকে ধরেও মিনিট দুয়েকের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক ছিল শেষবারেরটা। তিনি তার পাশে লোকও রেডি করে রেখেছিলেন পুলিশ ধরা মাত্রই ছবি তুলতে পারে এমন। ওইদিন প্রায় ষোলকলা পূর্ণ হতে হতে তেরো কলাতে এসে ঠেকে গেল। তিনিও বেশভাবে ছিলেন। পুলিশও তাকে ধরেছিল। কিন্তু ঘটনা ঘটল অন্য জায়গায়। পুলিশ তাকে ধরার সেকেন্ড তিরিশেক আগে ওই ফটোগ্রাফারের ‘ইয়ে’ ধরে যায়। ফলে মান্নান ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় তার পাশে অনেকে থাকলেও একজন ফটোগ্রাফার ছিল না।
যে হতাশার কথা বলতে গিয়ে মান্নান ভাই এভাবে বলেন, বিয়ে করলে আপনার ভাবিও যদি ওই দুঃসময়ে না থাকতো তবে এত কষ্ট পেতাম না। ফটোগ্রাফার না থাকায় যা পেয়েছি।
মানব কল্যাণের নিমিত্তে মান্নান ভাই সেসময় রাগে-দুঃখে হতাশায় রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে নিজের বাড়িতেই নির্বাসন নিয়ে নেন।
৩.
মান্নান ভাইয়ের এখন কর্মকাণ্ডের হিসাব তুলে ধরা যাবে না। কারেণ তিনি তার মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন স্পটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন। এলাকাজুড়ে কোথাও ঝুলছে তার সৌজন্যে দেয়া লোকাল ট্রেনের সময়সূচি, লোডশেডিংয়ের সিডিউল আরও কত কী?
তবে এবার একটি মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি এলাকায় নিজ খরচে তিনি গণবিবাহের আয়োজন করবেন। উল্লেখ্য, সেটা একটু পিছিয়েছে কারণ, তার হাতে টাকা-পয়সা এলে আগে নিজের বিষয়টা শেষ করে নেবেন। অথবা একসঙ্গে বেশি টাকা এসে গেলে অনেকের সঙ্গেই তিনিও সেই কাতারে শামিল হয়ে যাবেন বলে তার কল্যাণ প্রত্যাশী মানুষের কাছ থেকে গোপন সূত্রে জানা গেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29434683 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29434683 2011-08-19 01:24:36
তারেক মাসুদ, মিশুক মনির এবং আমাদের বিবেকের মৃত্যুতে আমি সমানভাবে শোকাহত আমার ধারণা, সড়ক পথ নিয়েও তার ধারণা নৌ-পথের মতোই।
আর আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রী মহোদয় নিশ্চয়ই দূর্ঘটনা অন্তে তদন্ত কমিটির লোক বাছাইয়ের জন্য নানান জনের সাথে যোগাযোগ ছাড়া আর কোনো কাজও করেননা।
দেখি নাই।
২.
আমার পেছনের সিটে একদিন দুই ড্রাইভার বসে তাদের ব্যাক্তিগত জিঘাংষা নিয়ে কথা বলছে।
: আমি যদি আর একদিন তারে পাই, সোজা চাক্কার তলে ফালামু।
: ফালানই দরকার। শালায় অনেক বাড়ছে। মাইরা জেল খাটমু।
: আরে ব্যাটা জেল কী ব্যাটা বড় জোড় তিনমাস না কয়দিন জানি লাগে।
: আমি শুনছি এহন কোর্টে হাজিরা দিলেই নাকি হয়?
আইনের প্রতি এদের অগাধ জ্ঞান দেখে আঁতকে উঠতে হয়। কী আর করা আমাদের আইনের রক্ষকরা টাকার বিনিময়ে এদের হাতে তুলে দিচ্ছেন মেরে ফেলার সার্টিফিকেট।
৩.
বাস নিয়ে আমার এই জীবনের বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। অনেক বাস ড্রাইভারদের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো। বহুদিন আমি তাদের সাথে দূর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেছি।
বিস্ময়কর বিষয়, তারা যখন ষ্টিয়ারিং এ বসেন। তখন শতকরা ৯০ জন তার সামনের বাসটিকে একটি বাস হিসেবেই দেখেন। বাসের ভেতরের মানুষগুলোকে দেখেননা।
সামনের মোটর সাইকেলকে দেখেন এর উপরে বসে থাকা দুজন মানুষ তাদের কাছে অজ্ঞাত কারণে অদৃশ্য হয়ে যায়।
যে কারণে তারা ধুম করেই চাপা দিয়ে যান চলমান জড় বস্তুতে।
ভেতরের এতোগুলো প্রাণের বিষয়টা জড় পদার্থের আড়ালেই চাপা পড়ে থাকে।

পুনশ্চ : একদল অনভিজ্ঞ, অশিক্ষিত, বেয়াদব আর বেপোরোয়াদের হাতে চলে যাচ্ছে আমাদের ষ্টিয়ারিং।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29431516 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29431516 2011-08-14 00:09:43
অ্যা জার্নি বাই ভেসপা
এখন ভেসপা দেখলেই মনির ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। এ পালসার, সিডিজেডের বাজারেও যিনি ভেসপা নিয়ে ঢাকার বাতাস দূষণ করে চলছেন নিয়মিত।

গত পরশু মনির ভাইয়ের ভেসপায় চড়ে একটা লং ড্রাইভ দেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। মনির ভাইয়ের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, তার কোন কিছুতেই সমস্যা নেই। রাস্তায় যে কেউ তার আগে চলে যায়। বাস, রিকশা, সিএনজি এমন কী পায়ে হাঁটা মানুষও আগে চলে যায়। এ ব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি মিনিমাম তিন থেকে চার গাল হেসে বলেন, আরে যাক। কোন সমস্যা নাই।

এভাবে দ্রুত গতিতে সবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিছিয়ে পড়ে চলছিল আমাদের ভ্রমণপথে এগিয়ে যাওয়া।
পিছিয়ে পড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও সম্যস্যাও তো আসছিল আমাদের সঙ্গে। সুন্দর গাড়ির কালো ধোয়া। বড় গাড়ির আকাশ ফাটানো আর্তনাদ। সঙ্গে ছোট গাড়ির নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় আমাদের ওপর এসে আছড়ে পড়া। এত সমস্যার মাঝে মনির ভাই ভদ্রলোক, এককথার মানুষ। বলেই চলেছেন, আরে ভাই কোন সমস্যা নাই।
আমিও কথা বাড়াই না। চলন্ত অবস্থায় চালকের সঙ্গে আর এ বিষয়ে কথা বলি না।
আমরা ধীর পদেক্ষেপে যতই এগিয়ে যাচ্ছি, দীর্ঘ যানজটে আমাদের গন্তব্য ধানমণ্ডির দূরত্ব ক্রমেই যেন বেড়ে চলছে। বারবার মনে হচ্ছে, সেই কবে মতিঝিল থেকে রওনা হয়েছি, মাত্র পল্টন।
কিন্তু পল্টন হলেও আমাদের মনোবল টনটন ছিল লক্ষে আমরা পৌঁছুবই।
আমরা এগিয়ে চলছি। চারপাশে দেখছিলাম নয়নাভিরাম রূপসী বাংলার (হোটেলের) দৃশ্যপট। আর মুগ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত। এরপর আবার আপাদমস্তক বাংলার (বাংলা মটরের) দৃশ্য দেখেও কম মুগ্ধ হয়নি। মুগ্ধ হতে হতে কারওয়ান বাজার, পান্থপথ পেরিয়ে আমরা পৌঁছলাম ধানমণ্ডি।

আহ্, কাক্সিত ধানমণ্ডি। মনির ভাইয়ের ভেসপার গতি এবং রোজার মাসের এ অসহনীয় যানজটে এত কাছের ধানমণ্ডিও স্বপ্নের জায়গায় চলে গিয়েছিল। ধানমণ্ডি আর আমেরিকার দূরত্ব প্রায় সমানুপাতিক হয়ে গিয়েছিল।
কাজ শেষে এবার ফেরার পালা।
আবার সেই জ্যাম। আবার সেই মনির ভাইয়ের কচ্ছপগতির ভেসপা। এবার মনির ভাইকে বললাম, ভাই গতি বাড়ান। বাসায় গিয়া ইফতার করতে হইব।
মনির ভাইয়ের সেই সহাস্য মুখ, কোন সমস্যা নাই। চলে যামু। আপনে খালি ওঠে বসেন।
ভালোভাবে গেলেও আসার পথে পথিমধ্যে শেষদিকে শুরু হল সমস্যাবিহীন মনির ভাইয়ের সমস্যা। তার দুই মিনিটের একটা কাজ এসে পড়ল পল্টনের। এতক্ষন ধরে নরমাল চালক হিসেবে থাকা মনির ভাই ভেসপা সাইড করে পার্কিং করতে গিয়ে ধুম করে একটা লোহার বস্তুর ওপর দিয়ে ফুটপাতে উঠিয়ে দিতে চাইলেন। যেমন ধুম করে তিনি উঠতে চাইলেন, তেমনি ধুম করে আটকে গেলেন।

ঘটনা কোথায় কী হল বুঝতে পারলাম না। ভেসপা আর আগে বাড়ে না। তিনি ভেসপা থেকে নেমে টানেন, ভেসপা আগে চলে না।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কী হয়েছে মনির ভাই?
তিনি বললেন, কোন সমস্যা নাই। এখানেই রাখি। আপনে একটু দাঁড়ান, কাজটা সেরে এসে সব ঠিক করছি।
বললাম, জলদি যান। ইফতার ধরতে হবে।
কোন সমস্য নাই বলে মনির ভাই হুটহাট কাকে যেন ফোন করে বিল্ডিং শনাক্ত করে উঠে গেলেন।
মনির ভাই কোন সমস্যা নাই বলে গেছেন। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। তাকে আর তার ভেসপাকে আমার একই রকম মনে হয়। আমি এসব ভাবতে ভাবতে যখন মিনিট দশেক সময় পার করে ফেললাম, তখন মনির ভাই এক বিল্ডিং থেকে নেমে হাসি দিলেন, সরি। ভুল বিল্ডিংয়ে ঢুকে গেছিলাম।
আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চরম হতাশ হয়ে মনির ভাইকে বললাম, যান ভাই, জলদি যান।
আবার মনির ভাই নিখোঁজ। আবারও পনেরো মিনিট পর কাকে যেন গালাগালি করতে করতে নামলেন। বুঝলাম, তার কাজ হয়নি।
এবার শুরু হল আসল যন্ত্রণা। সেই অবস্থা। ভেসপা স্টার্ট নিচ্ছে কিন্তু চলছে না। মনির ভাই টানেন। ভেসপা নড়ে না। ভেসপাকে ডানে-বায়ে কাত-চিত করে আরও মিনিট পনেরো পর তিনি আবিষ্কার করলেন, সাইলেন্সার পাইপের সঙ্গে চাকা আটকে গেছে।
শুরু হল সেটা বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা। প্রথমে এক লোহার খণ্ড, পরে ইট এবং সব শেষে স্থানীয় ফুটপাতের দোকান থেকে ওজন মাপার বাটখাড়া নিয়ে মনির ভাইয়ের সে কি প্রাণান্তকর চেষ্টা।
অন্যদিকে আমার চেষ্টা বাড়ি গিয়ে ইফতার করার সম্ভাবনা ক্রমেই বিলীন হতে দেখলাম। সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখেও অন্ধকার। মনির ভাইয়ের জবাব এই তো ভাই, আরেকটু। কোন সমস্যা নাই। ঠিক হয়ে যাবে।
একদিকে ভেসপায় মনির ভাইয়ের ঠুশ ঠাশ আঘাত এবং মানুষের মুখ চেপে হাসাহাসি দেখে আমি মুখ গোমড়া করে ফেলছিলাম, মনির ভাই তখন ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে বললেন, ভাই, ঠিক হয়ে গেছে।
শুনে আমারও একটা ভুবন ভোলানো হাসি দেয়ার প্রস্তুতিলগ্নে মনির ভাই বললেন, কোন সমস্যা নাই, তবে এইবার একটু সমস্যা আছে।
আমি বললাম, সেটা কি?
মনির ভাই জানালেন আঘাতে আঘাতে সাইলেন্সার পাইপ ফেটে গেছে। এখন একটু শব্দ হবে।
আমি বললাম, যাই হোক ভাই চলেন, আমাদের জার্নির ইতি টানানো দরকার। মনির ভাই বললেন, চলেন। কোন সমস্যা নাই।

পুনশ্চ : আসলেও আমাদের কোন সমস্যা ছিল না। মনির ভাইয়ের ভেসপা যে সাউন্ডে এগিয়ে চলছিল, বাকি পথ তাতে এলাকায় মুহূর্তেই ব্যাপক চাঞ্চচল্যের সৃষ্টি হয়ে গেল। সামনের বাস থেকে লোকজন যে যেভাবে পারছে দেখার চেষ্টা করছে, এত বিভৎস শব্দ করে কী যায়। কেউ কেউ আতঙ্কে রাস্তা থেকে ফুটপাতে উঠে গিয়ে দেখতে লাগল সড়কপথে স্টিমার এল কোত্থেকে?

পল্টন ময়দানে একটা ছোট সভাকেও ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে দেখলাম এ শব্দের কারণে।
মোটামুটি রাস্তায় একটা তোলপাড় সৃষ্টি করে চলল মনির ভাইয়ের ভেসপা।
একটা সময় গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। আমি থামলাম। ভেসপা থামল কিন্তু ভেসপার শব্দ আর থামে না।
মনির ভাই আমাকে বিদায় দিয়ে বললেন, আপনি যান আমি এটাকে ঠিক করে নিয়ে আসি।
আমি বাসায় যাওয়ার জন্য বাসে উঠলাম। মনির ভাইও অমনক দূর চলে গেল। কিন্তু ভেসপার সেই তীব্র শব্দ একটুও দূরে সরল না। আমার ধারণা, আমাদের দূরত্ব এক কিমি. হয়ে যাওয়ার পরও আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে আমার কানে এসে ধাক্কা মারছিল মনির ভাইয়ের ভেসপার শব্দমালা, যা স্টিমারের শব্দের সমানুপাতিক ছিল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29430209 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29430209 2011-08-12 00:51:33
গল্প : প্রিয়াংকা চোপড়া ১০ টা না বাজতে ঘুমিয়ে পড়া বজলু সে সময়গুলোতে রাত ঠিক কটায় ঘুমাতো তা তার নিজেরও জানা ছিলনা।
২.
প্রিয়াংকা চোপড়ার সাথে বজলুর পরিচয় মনিরের বাসায়। অদ্ভুত পরির মতো একটা মেয়ে। সে চিনত না তাকে। মনিরই প্রথম পরিচয় করিয়ে দিল। তারপর সে সকল লজ্জা ভেঙ্গে তাকিয়ে রইলো। প্রিয়াংকার দিকে। বিষয়টা খুবই অবাক করার মতো। একটা সময় প্রিয়াংকাও বজলুর দিকে সেই যে তাকিয়ে রইলো। বিস্ময়কর। সবাই অবাক। ঠিক বজলু যেভাবে। প্রিয়াংকাও সেভাবেই।
৩.
এরপর থেকে বজলু কেমন যেন হয়ে গেল। সারাদিন প্রিয়াংকার ভাবণা তার মাথায়। এমন কী জীবনের একটা কঠিন সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলল সে। এই জীবনে যদি বিয়ে করে। প্রিয়াংকাকেই করবে। মা হাফপ্যান্ট পড়া মেয়ে মেনে না নিলেও করবে। মাকে বোঝাবে। কিন্তু প্রিয়াংকাকে তার চাই-ই।
৪.
আরেকবার রাস্তায় দেখা প্রিয়াংকার সাথে। প্রথমে দুর থেকে দেখে চিনতে পারেনি বজলু। শুধু মনে হচ্ছিল কোথায় যেন দেখেছে। কোতায় যেন দেখেছে? পরে ধীরে ধীরে সামনে গিয়ে বজলু বুঝতে পারে, নাহ! যা ধারণা করেছিলাম, তাই ঠিক। প্রিয়াংকাই। প্রিয়াংকা চোপড়া।
বজলু তার সামনে যাবে কিনা যাবেনা। ভাবছে হঠাৎ ঘটে গেল একটা দূর্ঘটনা। এতোদিন প্রিয়াংকাকে হাফপ্যান্ট পড়া দেখেও এতো কষ্ট পায়নি। আজ একি করছে সে? রাস্তায় সবার সামনে একজনকে জড়িয়ে ধরে...ছিঃ।
বজলুর মন খারাপ হয়। সে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। সে মেনে নিতে পারছেনা প্রিয়াংকা এমন!
৫.
অনেকদিন প্রিয়াংকার খোঁজ নেয়না বজলু। তবে প্রিয়াংকার প্রতি তার আকর্ষণ এতোটুকুও কমে যায়নি। সে আবার মনস্থির করে ফেলে প্রিয়াংকার সাথে দেখা করা দরকার। কিন্তু কোথায় দেখা হবে তা ভেবে ঠিক করতে পারেনা। প্রিয়াংকাকে ঘরে আনবার সামর্থতো তার নাই। কিছুই নাই তার ঘরে। লজ্জার একটা বিষয়। লাইট ফ্যান থাকলেই তো আর প্রিয়াংকাকে আনা যায়না। একটা টিভি নেই। একটা ভিসিডি নেই।
প্রথমবারতো মনিরের বাসায় দেখা হয়। বারবার কারো বাসায় গিয়ে দেখা কী সম্ভব?
আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে টিভি শো রুমে প্রিয়াংকাকে কতক্ষণ দেখা যায়? আর সবসময় তো তার সিনেমা চালায়ও না তারা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29427582 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29427582 2011-08-08 01:32:35
ফরগেইনার তপন তপনের কি খুব ভুল ছিল। সেতো চায়নি একটি ইংরেজি বর্ণকে অবহেলা করে যেতে। যার কারণে সে ফরেনার শব্দটা ফরগেইনার হিসেবে ভেবেছে। যার কারণে সে মারও খেল ম্যাডামের হাতে।
তবে এতে তপনের খুব বেশি তি হয়নি। উল্টো লাভই হয়েছে এরপর থেকে সে স্কুলে ফরেনার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।
বৈদশিক মুদ্রা না কামাতে পারলেও দেশে বাস করে 'ফরেনার' উপাধী পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে তপন আমাদের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে।
২.
তপন ফরেনার হলেও লোকাল জিনিসের প্রতি তার একটা দুর্বলতা ছিল। একটি লোকাল বাস। সে স্কুল থেকে হাঁটাপথে বাড়ি যেতে পারলেও সে ট্রাই করত বাস ধরার। প্রায়ই সে মিস করত। একদিন পেরে গেল। কিন্তু তারই কপাল খারাপ, লোকাল বাস মিনিটে বিশবার থামলেও সে ওঠার পর এমন টান দিল একেবারে বিশ মিনিটে একবার থামল। যার ফলাফল, যতটুকু হাঁটার পরিশ্রম বাঁচাতে সে বাসে উঠেছিল তার চেয়ে চারগুণ পরিশ্রম করে তাকে স্কুলে ফিরতে হয়েছিল।
এরকম ঘটনা তার অভাব নাই।
তপনের শারীরিক গঠন খুব একটা সুবিধার না। অস্বাভাবিকের চেয়েও ইঞ্চি দুয়েক চিকন সে। তার এ বডি নিয়ে সে প্রায়ই নানারকম ধাম্ভিকতার কথা শোনা গেলেও গোপন সূত্রে জানা যায়, সে প্রচণ্ড বাতাস, ঝড়, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা মোকাবেলা করার সাহস না থাকায় সে খুব একটা বাইরে বের হয় না।
তবে সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারের একটা বড় ধাক্কা তার ওপর দিয়ে গেছে। সেই ধাক্কায় তার যতটা তি হয়েছে তার চেয়ে বেশি টাকা খরচ করেছে সেসব নিয়ে ফোনে কথা বলে।
তপনের আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে সে অস্বাবাভিক দ্রুততায় কথা বলতে পারে। সেকেন্ডে দশের অধিক শব্দ সে বলে ফেলতে পারে। তার এই বলে ফেলায় নানারকম বিপত্তিও আছে। তার নতুন পরিচিতরা না বুঝেই হু হা করে গেলেও পুরনোরা তাকে একই কথা আবার বলায়। তাই তপনকে দিনে শ'খানেকবার এটাই বলতে হয়, এতোক্ষণ আমি বললাম যে...।
৩.
আরেকটা ঘটনা তপন তখন সবে খারাপ হতে শুরু করেছে। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে যায়। স্কুলের মাঠ শেষ করে কলেজ ক্যাম্পাস বলতে শুরু করেছে। ধোয়াতে অভিজ্ঞ হয়ে কোমল পানীয় অধ্যায়ও কিছুটা শেষ করে ফেলেছে। শক্ত পানীয় না খেলেও সেসব খেয়েছে বলে নানা জায়গায় চাপা মেরে বেড়াত। একবার কোন এক বিশেষ অনুষ্ঠানের দুপুরে আমাদের কাছে তপনের আগমন। আর সেকি চাপা। সে যে বড় হয়ে গেছে আমাদের আগে তা নিয়ে সেকি বড়াই। হঠাৎ তাকে জানানো হল, শক্ত কিছু আছে খাবে কি না?
সে দাম্ভিকতার সুরে জানিয়ে দিল, খাবে না মানে এগুলোর উপরই তো থাকে সে। শুনে আমাদের নিজস্ব রেসিপিতে কোক, চুন এবং সামনে পাওয়া একাধিক ঝাঁঝালো আইটেম গুলিয়ে তাকে দেয়া হল। খেয়ে তার কী ভাব। এটা সে আগেও খেয়েছে। ভালো। বিদেশী।
আমাদের তো মনে মনে হাসাহাসি। তপন তার চাপা চালাচ্ছেই। আর সেই চুনের পানি খেয়ে তার সে কি মাতাল মাতাল অবস্থা। দাঁড়াতে পারে না। মাথা ঘুরায় আরও কত কী?
দীর্ঘদিন পর তপনকে জানিয়ে দেয়া হল ওদিন আসলে চুনের পানি ছিল। তপন নিজের প্রতি এতো বেশি কনফিডেন্ট সে এখনও তার মাতালতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জানায়, ভাইরে আমরা তো খাই। বুঝি, কোনটা কী? এখন মিথ্যা বললে কী হবে? ওইটা আসলই ছিল।
আমাদের আর কিছু বলার থাকে না। আমরা তার কথা শুনেই মাতালের মতো হয়ে যাই।
৪.
সম্প্রতি তপন বন্ধুদের বিয়ে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলী হয়ে উঠেছে। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে যেখানে প্রশ্ন আসে, কী করছিস।
তপনের সঙ্গে দেখা হলে তার জিজ্ঞাসা বিয়ে করছিস?
আমরা যে যার মতো উত্তর দিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করতেই সে চুপ। কেন চুপ? তা এখনও কিয়ার হয়নি।
তবে গোপন খবরে জানা গেছে, তার ওজন বাড়ার আগে বিয়ে করবে না।
কারণ, তার অবস্থা এমনই মেশিনে এখনও সে টাকা ছাড়া ওজন মেপে থাকে।
কারণ মেশিনে চার্জ হতে যে পরিমাণ ওজন প্রয়োজন তা তার নেই। যে কারণে ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে বসা সদয়বান ব্যক্তিরা তার কাছে টাকা না নিয়েই তাকে ছেড়ে দেয়। বলে, আমাদের টাকা দিতে হবে না। এ টাকা দিয়ে আপনি কিছু কিনে খেয়ে ওজন বাড়ান। পরে না হয় রাখমুনে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29410816 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29410816 2011-07-11 01:16:01
গল্প : ছবি কারণ এসব জায়গা দেখলে চিত্রার মনে পড়ত ছবি তোলার কথা। হাটতে হাটতে কোথাও যাবার সময় হাটা বন্ধ রেখে হুট করে দাঁড়িয়ে যেত চিত্রা। রিকশায় কোথাও যাবার সময় রিকশাওয়ালাকে অনুরোধ করে রিকশা থেকে নেমে সেখানে দাড়িয়ে যেত চিত্রা। দাড়িয়েই বলতো ছবি তোলো। ছবি তোলার একটা ভালো রকম বাতিক ছিল চিত্রার।
জীবনে কোনওদিন ফটোসাংবাদিকতা করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও শাহেদ ফটোসাংবাদিকদের মতোই দ্রুততার সাথে চিত্রার ছবি তুলে ফেলতো শাহেদ। আর বলতো চিত্রা এইবারের ছবিটা যা এসেছে না। একেবারে পরীর মতো।
চিত্রা 'দেখি দেখি' বলে এগিয়ে এসে দেখার পর যে ভুবণ ভোলানো হাসি দিত এতেই শাহেদ তাৎক্ষনিক পরিশ্রমের এবং সামগ্রীক জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পেত।
সে সেটাকে আরো গভীর করে উপলব্দি করতে চাইতো। জিজ্ঞাসা করতো, কেমন হয়েছে ছবিটা পরীর মতো না?
সুন্দর। সুন্দর। চিত্রা আরেক দফা হাসি আর উচ্ছলতাসহ জানাতো।
শাহেদ কিছুটা অহংকারী হয়ে উঠতো তোমার জন্য দেখো আমি কত কিছু হতে পারি।
২.
শাহেদ চিত্রাকে প্রায়ই বলতো, চিত্রা আমাদের বিয়ের সময় তোমার ছবি আমি তুলতে পারবোনা ভেবে ভীষণ খারাপ লাগে।
শাহেদ মজা করছে, বিষয়টা বুঝতে পেরে চিত্রা মুখের মধ্যে এক ধরণের বিষন্নতার ছাপ আনার চেষ্টা করল।
এক সময় দুজনেই হেসে ফেলে। শাহেদ বলে, তবে যদি ওই শালা ফটোগ্রাফার তোমার ছবি ভালো করে তুলতে না পারে তার খবর আছে। সে যাতে জীবনে বিয়ে করতে না পারে সে ব্যাবস্থা করে দেবো। কোনও হারবাল প্রতিষ্ঠানে গিয়েও নিরাময় হবেনা।
চিত্রা চিৎকার দিয়ে ওঠে, ছিঃ। কী সব বলো, বাজে কথা।
শাহেদ বলে, না চিত্রা। তুমি দেখে নিও। কথা কিন্তু সিরিয়াস। সেটা করবোই।
চিত্রা বলল, সে ব্যাটা যদি বিবাহিত হয়?
শাহেদ চিন্তায় পড়ে যায়। সে তখন নতুন কোনও শাস্তির কথা ভাবতে শুরু করে। তাকে একটা ঐতিহাসিক শাস্তি দেয়া হবে। ইতিহাস তার কথা মনে রাখবে।
চিত্রা বলে, ওই তুমি কী মাস্তান হয়ে গেছো নাকি?
শাহেদ সবসময়ের মতো অহংকারী ঢংয়ে জবাব দেয়, তোমার জন্য আমি সব হবো।
৩.
শাস্তির ইতিহাস ছেড়ে চলে আসতে হয় ছবির ইতিহাসে। চিত্রার আর শাহেদের বিয়ে হবার সেই ঘটনা আর সম্ভব হয়নি। চিত্রা আর শাহেদের বিচ্ছিন্নতার ইতিহাসও এখন পুরণো। বিছানায় শুয়ে শুয়ে শাহেদ সেই ইতিহাসই ঘুরে ফিরে ভাবে। ভাবে একবার যদি ফিরে যাওয়া যেত। একবার যদি সে সুযোগ আসতো। শাহেদের জীবনের ইতিহাস এরকম হতো না। এরকম হতো না শাহেদ চিত্রা প্রেমের ইতিহাস। কী ভুলই না করেছিল সেদিন শাহেদ। সেদিনের কথা মনে না করতে চাইলেও বারবার মনে পড়ে পড়ে যায় শাহেদের।
ভার্সিটিতে সেদিন হুট করে একটা লোক এসে শাহেদের সামনে এসে দাঁড়ায়। একটা ছবি বের করে শাহেদের সামনে ধরে, এই মেয়েটা কে?
শাহেদ অপ্রস্তুত হয়ে যায়। চিত্রার ছবি দেখেও সে কেমন যেন ঘাবড়ে যায়। মুখ ফুটে বলা হয়না মেয়েটার নাম চিত্রা। অজানা আশংকায় তার কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেদিন। লোকটা অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলে, বিয়ে করবে তাকে?
শাহেদ এবার শক্ত হয়ে যায় আরো। শাহেদের তখনো তেমন কিছু ভাবণা আসে নাই। বাড়ীতেও জানানো হয়নি তখনো কিছু। বাবা কিভাবে নেবে চিত্রাকে সেরকম কোনও ধারণা নেই তার।
সে তাই সেদিকে না গিয়ে বলে, আপনি কে?
লোকটি জবাব দেয়, আমি যেই হই তোমাদের বিয়ে আমি ছাড়া কেউ করাতে পারবেনা। চিত্রার বাবা আজ চিত্রার বিয়ের কথা চিন্তা করা শুরু করেছে। তোমার ভাগ্য ভালো আমি এই সময় দেশে। তুমি জলদি বলো, তাকে বিয়ে করবে?
শাহেদ কোনও জবাব দেয়না।
লোকটি বলে, কালকের মধ্যেই তোমাকে জানাতে হবে। আমি পরশু চলে যাবো। এই সুযোগ আর পাবেনা।
আমি কাল পর্যন্ত সময় দিলাম। তুমি চিত্রার সাথে কথা বলে আজকের মধ্যে ঠিক করো।
এরপর শাহেদর জানা হয় লোকটি আমেরিকা প্রবাসী চিত্রার মামা। সে-ই পারে চিত্রা আর শাহেদের বিয়ে দিয়ে দিতে। কিন্তু চিত্রার আর জানা হয়না শাহেদের ইচ্ছাটা কী? শাহেদের ইচ্ছা না জেনে চিত্রা চলে যায় দুঃস্বপ্নের দেশে। আর মামা চলে যান স্বপ্নের দেশে।
আর শাহেদ তখনো ভাবছিল হুট করে বিয়ে করে দেশ ছাড়ার উপক্রম হবে তার। বাবা কী নেবে তার এই বিয়ে মেনে নিতে।
চিত্রা এসব শোনার কোনও সুযোগ ছিলনা। শুধু শেষ একটা কথা বলার সুযোগ ছিল। যা সে বলে দিয়েছিল সেদিন, আমার জন্য না সব পারো?
৪.
চিত্রার বিয়ে হয়ে গেছে আজ ছয় বছর। শাহেদের বিয়ে হয়নি এই ছয় বছরেও। বিয়ে হয়নি ঠিক না করেনি সে। সে চিত্রাকে খুঁজে বেরাচ্ছে। তাকে এক নজর দেখার জন্য। একবার ক্ষমা চাওয়ার জন্য। বিয়ের পর চিত্রা আর যোগাযোগ করেনি। সে চিত্রা সম্পর্কে একটা তথ্যই জেনেছিল চিত্রা বিয়ে অন্য কোনও এক জেলায় হচ্ছে। শাহেদ তার চাকরী সূত্রে যত জায়গায় গিয়েছে সে চিত্রাকে খুঁজেছে। চাকরী ছাড়া তার আরেকটা চাকরী ছিল চিত্রাকে খুঁজে বের করা।
দিনের পর দিন খুঁজেছে শাহেদ চিত্রাকে। শাহেদের চোখে চিত্রার অসংখ্য ছবি, আর হাতে একটা থ্রিআর সাইজের ছবি। সেটা নিয়েই শাহেদের চিত্রাসন্ধানে নামা। চিত্রাকে এ যাবৎ প্রায় দশ জেলা তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে শাহেদ। কোথায় মেলেনি চিত্রা। কেমন আছে চিত্রা? সে কী তাকে মা করবে। শাহেদ প্রতিটি জেলাতেই তার সংগ্রহে থাকা চিত্রার একটা মাত্র ছবি নিয়ে ঘোরে। বারবার ষ্টুডিও থেকে সেটা ওয়াশ করায়। শাহেদের চায় তার প্রেম যেমন পুরোনো হতে পারেনা। তেমনি চিত্রার ছবিও পুরোণো হতে পারেনা। তাই বারবার ওয়াশ করায় ঝকঝকে নতুন ছবি নিয়ে ঘোরে। যশোর এসেও সে চিত্রার ছবি ওয়াশ করিয়েছে একাধিকবার। কিন্তু কোন ষ্টুডিও তাকে ছবির ভালো আউটপুট দিতে পারেনি। সে বিষয়টা নিয়ে মহা বিরক্ত। এইবারের ষ্টুডিওতে যদি একই কাজ করে তাহলে সে ষ্টুডিও মালিকের মাথা ভেঙ্গে ফেলবে।
তার কাছে থাকা এখনকার ছবিটা বেশ ময়লা পড়ে গেছে। হাতে, পকেটে মানিব্যাগে রাখতে রাখতে আর কতইবা ভালো থাকবে? ছবি নিয়েই তো দিন কাটে। কিছুণ পরপর পকেট থেকে, অফিসে থাকলে ফাইলের নিচ থেকে বের করে আবার রেখে রেখে ছবি এবার বেশি ময়লা হয়ে গেছে।
সে তাই নতুন ছবি আনতে ষ্টুডিওর দিকে পা বাড়ালো। তিন দিন আগেই ছবি আনার কথা ছিল।
৫.
ষ্টুডিওর ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে শাহেদ। কাউন্টারে কাগজ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। পাশে আরেকজন সেও কাগজ হাতে দাড়িয়ে আছে। কাউন্টারের লোকটি মাথা নিচু করে পেছনের বক্স থেকে একের পর এক প্যাকেট উল্টে পাল্টে আবার সোজা হয়ে বসল। শাহেদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, এটা তিনদিন আগে ডেলিভারী দেয়ার কথা না?
শাহেদ হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো।
কাউন্টারের লোকটা কিঞ্চিত বিরক্ত হয়ে বলল, দাঁড়ান পাচ মিনিট সময় লাগবে।
বলেই পাশের লোকটির কাছ থেকে কাগজ নিয়ে আবার মাথা নিচু করে তার ছবি খুজতে লাগলো। দুয়েকটা প্যাকেট ঘেটেই তার ছবি বের করে এনে লোকটাকে দিল।
শাহেদ পাঁচ মিনিট সময় কাটানোর জন্য এদিক সেদিক দেখতে লাগলো ষ্টুডিওর। সব দেখা শেষ করে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে আনলো কাউন্টারে লোকটার দিকে। লোকটি তার ছবি খুজছে নিচু হয়ে। হঠাৎ তার চোখ গেল পাশের লোকটির দিকে। লোকটির মুখে অদ্ভুত সুন্দর হাসি। সেই হাসি নিয়ে ছবি দেখছে। শাহেদ এবার চোখ নামিয়ে আনলো ছবির দিকে।
শাহেদের চোখ যেন ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। ছবির একজনকে তার চেনা চেনা লাগছে। তার বিশ্বাস হচ্ছেনা এই কী সে-ই? শাহেদ কী করবে বুঝতে পারছেনা। লোকটাকে জিজ্ঞাসা করবে? যদি না হয়? হঠাৎ ঠিক করে যা হবার হবে। মেয়েটার নাম কী জানতে সে লোকটার দিকে হাত বাড়াতেই লোকটার হাত চলে যায় পকেটে। শাহেদ কথা বলার আগে লোকটি তার পকেট থেকে বের করা মোবাইলে কথা শুরু করে দেয়, চিত্রা আমাদের ছবিগুলো পেলাম। তোমার এবারের ছবিগুলো যা এসেছে না, একেবারে পরীর মতো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29395287 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29395287 2011-06-12 00:53:33
হায় নায়কেরা! হায় আমরা! নিজেকে অমিতাভ, শাহরুখ মনে করে যত সময় পার করেছি, বাজি ধরে বলতে পারব এতবার শাহরুখও নিজেকে শাহরুখ, অমিতাভও নিজেকে অমিতাভ মনে করেনি।
নিজের হাঁটা-চলা, খাওয়া-দাওয়া সবই হতো শাহরুখের মতো। কথা বলা নানা সংবাদের নানা ধরনের এক্সপ্রেশন দিয়ে মনে হতো এমন করেই শাহরুখ খান দেয়। আমিই তো শাহরুখ।
শুধু ঝামেলা হতো আয়নার সামনে দাঁড়ালে তখন মেজাজ খারাপ হতো। ধুর এইটা দেখি আমি। আমি দেখি এখন আমিই রয়ে গেছি। নায়ক নিয়ে ফ্যান্টাসি জীবনে কম করিনি।
তবে এটা ঠিক শুধু আমিই না সবার ভেতরেই একটা করে নায়ক বাস করে। যে নায়ক নামক পাত্রের মাঝে রাখা হয় তার রঙ ধারণ করে। যেমন আমাদের গ্রামের আলামিনের কথাই বলি। ছোটবেলা থেকে তার নাম জানতাম আলামিন। এক ঈদে গ্রামে গিয়ে তাকে আলামিন বলে ডাকি সে আর সাড়া দেয় না। মনটা খারাপ হয়। একটা সময় পাশ থেকে কে যেন বলল, ওরে এখন থেকে সালমান শাহ ডাকা লাগে না হলে কথা শোনে না।
কথা মতো সালমান শাহ বলে ডাক দিতেই সেকি পাল্টে যাওয়া তার। দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল। কেমন আছিস? বাড়ির সবাই ভালো? কদিন থাকবি? এ জাতীয় প্রশ্নে আকাশ-বাতাস ভারি করে ফেলল মুহূর্তেই। জানলাম তার কাহিনী নায়ক হিসেবে সালমান শাহ'র আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং সালমান শাহকে তার ভালো লাগার কারণে সে নিজেই নিজের নাম পাল্টে সালমান শাহ করে বসে আছে।
পরের দুই ঈদ পরে গিয়ে তাকে সালমান ডেকে সারা না পেয়ে কিছুটা চমকিত হলাম। পরে হিসেব করে এক এক করে শাকিল, ফেরদৌস, রিয়াজ বলে ডাকতেই রিয়াজে এসে সাড়া দিল।
বুঝলাম ঘটনা কী?

আমার এক সময়ের কলিগ ছিল শাকিল। আমীর খানের মহাভক্ত। আমীরের মঙ্গল পাণ্ডে মুক্তি পাবার পর সে আমীরখানের গেটআপ অনুযায়ী গোফ রেখে দিল। সেখানেই সে থেমে থাকেনি। আগের দিনও তাকে যেভাবে হাটতে দেখেছি, ছবি দেখার পর তাকে আর সেভাবে দেখা গেলোনা। তার হাটার ষ্টাইলে ব্যাপক মূঘল ভাব চলে আসলো। দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে রাস্তায় একটা বড় অংশের জায়গা দখল করে সে হাটে। এমনিতেই ঢাকায় ফুটপাত দখলের অভিযোগ বেশি। তারপরও যে দুইয়েকটাতে শাকিল হেটে যায় সেগুলোও দখল হয়ে যেত অনায়াসে। কদিন পর অবশ্য পাল্টে গেল হাত ছড়িয়ে দিয়ে হাটার প্রবণতা। আমীর খান থেকে আবার শাকিলে প্রত্যাবর্তনের কারণটা যদিও শেষ অবধি জানতে পারিনি।
তবে একটা বিষয় থেকে কিছুটা অনুমান করতে পারি কারণ, তখন সিটি কর্পোরেশন ঢাকা শহরে রাস্তা ও ফুটপাতের নানা অনিয়ম দুর করতে মোবাইল মেজিষ্ট্রেট নামিয়ে ছিল।

আমার এক ভাগিনা আছে। সেও আবার পছন্দের হিসেবে মাঝামাঝি একটা অবস্থান করে নিয়েছে। তার এই দেশে বা বলিউডে ক্রেজ সৃষ্টি করা কেউ নেই। সে গিয়ে নোঙর ফেলেছে কলকাতায়। কলাকাতার জিৎ, দেবের নামে সে অজ্ঞান। জিৎ বেশিদিন তার হৃদয়ে জিততে পারেনি। দেব নামক এক নায়কের সঙ্গে পরাজিত হয়ে গেছে। আমার ভাগিনা এখন দেবের জন্য অন্ধ। দেবের আচার-আচরণ তার মধ্যে চলে এসেছে। দেবকে না দেখলেও কলকাতার কিছু ছবি দেখে নায়কের চরিত্র মুখস্থ থাকায় বুঝতে পারি তার আচরণ দেবেরে মতোই। ব্যাপক সিনেমাটিক উচ্চারণে কথা বলে। এক কথাকে বলে তিনবার। হাতের মধ্যে শিকল-টিকল ঘোরানোর চেষ্টা করে দিনভর। আরও কত কিছু। সম্প্রতি সে সিদ্ধান্তও নিয়েছে কলকাতায় চলে যাবে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই।
আমরা ভয়ে আছি অসম্ভবের কিছু না। দেবের অনুকরণে সে নিত্যব্যস্ত থাকে। একলা ঘরে খাকলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ডায়ালগ থ্রো করে। ফাঁক পেলে কিঞ্চিৎ নাচানাচিও করে নেয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29388226 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29388226 2011-05-30 00:57:47
১০০% দেশি লেখা : বিদেশে থাকে নানা কারণে আমাদের কাছে বিদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ন। বিদেশে আত্মীয়স্বজন থাকার সূত্রে। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে। অথবা দেশের ওপর বিদেশীদের নাক গলানোর জন্যও। যেহেতু লেখাটা সাধারণ আম-লেখা টাইপ লেখা তাই বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বা বিদেশীদের নাকগলানোর বিষয়টি বাদ দেয়াই যুক্তিযুক্ত।
আমরা বরং বিদেশের আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশি নিয়ে কথা বলি। বিদেশে আত্মীয়স্বজন সবকিছুতেই একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে। দেশে থাকতে যার হাজার হাজার কথার মাঝে দুয়েকটা কথা কেউ গুরুত্ব দিতনা, সে বিদেশ থেকে এক রাউন্ড দিয়ে এলেই তার সূচক হতো ঊর্ধ্বমুখী। সেই শেষ সিদ্ধান্তদাতা হয়ে আবির্ভূত হয়ে যায়।
যার অবস্থা বিদেশে যাওয়ার আগে এমন ছিল-
চাচা : ভাবছি আমাদের উত্তর দিকের জমিটা বিক্রি করে দেব।
ভাতিজা : না চাচা এটা এখন বিক্রি না করে আর দুয়েকবছর সময় নেয়া উচিত। আমার ধারণা জায়গার দাম দ্বিগুণ হবে।
চাচা : তোমাকে মাতব্বরী ফলাতে হবে না। কী করতে হবে আমরা ভালোই বুঝি।
বিদেশ থেকে ফেরার পর-
চাচা : ভাবছি আমাদের উত্তর দিকের জমিটা বিক্রি করে দেব।
ভাতিজা : না চাচা এটা এখন বিক্রি না করে আরও দুয়েকবছর সময় নেয়া উচিত।
চাচা : ভাতিজা তুমিতো একটা লাখ টাকার কথা কইছো। এমন কইরা আসলে ভাইবা দেখি নাই। কথাটা কিন্তু আসলেও ঠিক। দেশে যে হারে জামিজমার দাম বাড়ছে দ্বিগুণ হতে কতণ? আসলে তোমার মতো করে ভাবতে পারি নাই।
বিদেশ থাকা মানুষের কথার দাম যেমন বেশি, মানুষটার দামও কিন্তু কম না। যদি সে অবিবাহিত হয় তাহলে তো কথাই নেই। বিদেশ ফেরত পাত্ররা ভরি হিসেবে বিবেচনা করলেও স্বর্ণের দামের থেকে দেড় দুইগুণ হবে। যে কারণে মেয়ের বাড়ি থেকে সেসব পুষিয়ে নিতে হয় পাল্টা স্বর্ণ গহনা দিয়ে।
বিদেশ ফেরত নিজের আত্মীয়স্বজন যতই মধুর হোক না কেন, বিদেশ ফেরত পাড়া প্রতিবেশি ব্যাপক পেইন। একবছর পর দেশে আসলেও এমন একটাভাব নেয় যে পনের বিশ বছর পর দেশে এসেছে তারা। যা কিছু দেখে বলে ওঠে, এটা তো দেখিনি কবে করল? যাওয়ার আগে এলাকায় মাঠ দেখে গেলেও এসে ভাব নেবে, ওওও! এইখানে না পুকুর ছিল? এইখানে না জঙ্গল দেখে গেছি।
আর মানুষের সঙ্গে দেখা হলে প্রথম কাজ হিসেবে যা করবে তা হলো, অবশ্যই তার নাম ভুল করবে। আরে আপনে রনি ভাই না?
দেখা গেল আসলে তার নাম রবিন।
আর ছোটদের দেখলেই ব্যাপক স্নেহাশিষভাব নিয়ে গালে ধরে নাড়াচাড়া দিয়ে বলবে, ওরে বড় হয়ে গেছো? কত ছোট দেখে গেছি।
আসলে আগের মতই আছে। একবছরে বাচ্চাকাচ্চা আর কত বড় হয়!
বিদেশ ফেরতদের নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়। সম্প্রতি আমার এক বিদেশ ফেরত বোন এসেছে। তার ছেলেকে নিয়ে চলছে মহাযন্ত্রনাকর পরিস্থিতি। দুই বছরের সে ছেলে হাঁটলে তার পেছনে থাকতে হয় তিনজন। একঘর থেকে আরেক ঘরে গেলে তার মা চেচিয়ে ওঠে। বাবুটা হারিয়ে গেল নাকি!
ঘুমালে সার্বণিক একজনকে পাশে থাকতে হয়। ভাবখানা এমন সে যাতে ঘুমের ঘোরে কোন ধরনের দুঃস্বপ্ন না দেখতে পারে। একটু নড়ে ওঠলেই টেনশনে থাকতে হয়, কি হল মশা কামড়ালো নাকি?
অথচ দেশী পোলাপানরে বাঘে কামড়ালেও এত টেনশন হয় তো করত না কেউ।
এ এক মহাযন্ত্রণা। ফিল্টারের পানিকে ফুটিয়ে খাওয়াতে হয়। ঝকঝকে ভাত, ননফ্যাট তরকারি আর বলতে গেলে মিনারেল ডালের আয়োজন রাখতে হয় খাওয়াতে। না হলে সহ্য করতে হয় কঠিন কথা, দেশের কোন কিছুই হল না সবকিছুতেই ভেজাল। অথচ 'মেরিকাতে এমন হলে...।
যাই হোক, বিদেশীদের নিয়ে কথা কম বলি। নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ থাকলে তাদের সম্পর্কে কিছু বলা উচিত নয়। কারণ বিদেশ থেকে কেউ আসলে আর কিছু না হোক একটা 'ডব' সাবান পাওয়া যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29385308 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29385308 2011-05-23 00:53:58
ভ্রমনের গল্প : দিন পেরিয়ে দিনাজপুরে
দৌড়ে গিয়ে অপর প্রান্তে দাঁড়ালাম। মোটামুটি আবার সেই লাইন। আবার আধঘণ্টা। কিচ্ছু করার নেই। তাই 'সবুরে টিকিট মেলে' জাতীয় একটা সান্ত্বনামূলক প্রবাদ নিজেই তৈরি করে নিলাম। মনে সুখ সৃষ্টি করে দাঁড়িয়ে রইলাম। একটা সময় মিলল টিকিট পেলাম। দুদিন পরে ট্রেন ।
ট্রেনের নাম একতা। নাম শুনে ভাবনায় পড়ে গেলাম, ট্রেনগুলো আর মানুষ হল না। বাসগুলো সবই প্রায় মানুষ হয়ে গেছে। মানুষের মতো নাম তাদের। হানিফ, এস আলম, রোজিনা, সোহাগ আরও কত কী!

বাসের কথা ভুলে আমার দুই ভাই, বন্ধুর কথা মনে হলো। যারা আজ চলে যাবে। আমি যাব পরে। দিনভর মন খারাপ, তাদের সঙ্গে যাওয়া হল না। দিনভর মন খারাপ থাকলে রাতভর ব্যাপক ভালো লাগা নিয়ে কাটালাম। যখন স্টেশন থেকে তারা একের পর এক ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে রেলওয়ের গুষ্টি উদ্ধার করে। ঘটনা খুবই করুণ। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫-এর ট্রেন। তারা ৭টায় এসে হাজির। এসে জানতে পারল ট্রেন আসতে দেরি হবে।
কত দেরি তা আর ফোন করে জানার সাহস পেলাম না। তবে ধারণা করলাম, রাত ৩টার পর এসএমএস বৃষ্টি যেহেতু থেমেছে, নিশ্চয় তখনই তারা ট্রেনে উঠেছে। পরে জানলাম সেটাই সত্যি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের 'সেবা' নিয়ে 'দ্রুতযান' নামক ট্রেনযোগে তারা এত দ্রুতই পৌঁছল যা দেখে আমি পরদিন সকালে গিয়ে ৯০ টাকা তি স্বীকার করে টিকিট ফেরত দিয়ে এলাম। টিকিট ফেরত দেয়া দেখে, কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রেতা কিছুটা অবাক হওয়ার অভিনয় করে বললেন, যাবেন না!

আমি বললাম, দ্রুতযানেরই যে অবস্থা, একতার তাহলে কী হতে পারে? একতা নামক ট্রেনটি যদি স্টেশনের সঙ্গে তার একতা প্রদর্শন করে তাহলে তো আর বাঁচা নাই।
দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টার পথ পার করে দিনের শেষে গিয়ে দিনাজপুর পৌঁছলাম। তবে ৭ ঘন্টা খুব বেশি মনে হলোনা, কারণ আমার সামনের সিটের এক শিশু সহযাত্রীর কার্যকলাপ আমাকে মুগ্ধ করে রেখেছিল। কখনো পেছনে তাকায়। কখনো মাথা বের করে দেয় রাস্তার দিকে। তার যা খুশি, সে করেই চলছে।
২.
অচেনা দিনাজপুর শহরে নেমেই ফোন দিলাম আমার বন্ধুদের। জানাল, আধঘণ্টা। আসছে।
এমনিতে 'আধঘণ্টা' আধঘণ্টায় শেষ হলেও অপেক্ষার 'আধঘণ্টা' প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে। যার শিক্ষা ইতিমধ্যে আমি বাসে পেয়ে ফেলেছি। দিনাজপুর পৌঁছতে আর কতক্ষণ লাগবে? এমন প্রশ্ন যাকেই জিজ্ঞাসা করেছি সে-ই বেশ বিজ্ঞের ভাব নিয়ে জবাব দিয়েছেন, এই তো এসে গেছি। আর বড় জোর আধঘণ্টা। যা প্রায় দুই ঘণ্টা পরে গিয়ে শেষ হয়েছিল।

তাই আমি অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহরকে দীর্ঘ না করে এক রিকশাচালককে নিয়ে রওনা হলাম শহরের ভেতরের দর্শনীয় কিছু দেখার ইচ্ছায়। চালকের নাম রফিকুল। মাস্টার্স পাস। আগে এসব শুনে বেশ অবাক হতাম। হায় আল্লাহ, আপনি এত লেখাপড়া করে রিকশা চালাচ্ছেন! এখন হই না। এমন অনেক ঘটনা দেখেছি। 'এ' গ্রেড পাওয়া, গ্রাজুয়েট রিকশাচালকদের রিকশায় উঠেছি বহুবার। শিক্ষিত রিকশাচালককে পেয়ে যে লাভ হল সে মোটামুটি গাইডেরও কাজ দিল। ঘণ্টাখানেক শহরের বিভিন্ন অলিগুলি ঘুরিয়ে দেখাল। সঙ্গে বিবরণও দিল। রাজবাড়ী, মন্দির, রেলস্টেশন, বড় মাঠসহ অনেক কিছুই দেখলাম।
বেশিক্ষণ দেখা হল না, কারণ যারা আমাকে অপেক্ষায় রেখেছিল, ইতিমধ্যে তারাই অপেক্ষায় বসে আছে। তাদের সঙ্গে অপেক্ষায় আছেন স্থানীয় উপজেলা নবাবগঞ্জের চেয়ারম্যান শিবলী সাদিক। সঙ্গে তার স্ত্রী ক্লোজআপ তারকা সালমা। তাই ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স করা রিকশাচালক রফিকুলকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলাম।
৩.

আমাদের থাকার আয়োজন ছিল স্বপ্নপুরী নামক বিনোদন কেন্দ্র। শিবলী ভাইয়ের গাড়িতে আমরা স্বপ্নপুরীতে গেলাম। চিরকালই চেয়ারম্যান সম্পর্কে আমার যে ধারণা ছিল তাতে মিনিমাম ৫০ ঊর্ধ্ব মানুষই হতে হবে চেয়ারম্যান। বয়সে তরুণ, স্মার্ট শিবলী ভাইকে দেখে আমার ধারণা ভেঙে কত টুকরো হল তা আর গোনা হল না, কারণ আমি তখন গুনতে ব্যস্ত গন্তব্য কতদূর! অবস্থা খারাপ আমার। দিনভর জার্নিজনিত যন্ত্রণায় শেষ।
একটা সময় না ঘুমিয়েই স্বপ্নপুরীতে পৌঁছলাম। তবে গিয়ে একটা ঘুম দিলাম। ঘুমে অবশ্য কোন স্বপ্নপুরীর দেখা পেলাম না। স্বপ্নপুরীতে ঘুমালে স্বপ্ন হয়তো আসে না।

পরদিন কাজ এবং স্বপ্নপুরী ঘুরে দেখেই দিন কাটল। সে এক জটিল জিনিস তৈরি হচ্ছে। মাঠ, দীঘি, পিকনিক স্পট ছাড়াও তিনটি অসাধারণ ওয়ার্ল্ড তৈরি হচ্ছে। ফিশ ওয়ার্ল্ড, আইস ওয়ার্ল্ড এবং আর্টিফিসিয়াল ওয়ার্ল্ড। যা এখনও প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু শেষ হলে যা দাঁড়াবে তা লিখে বোঝানো কঠিন। এগুলোর সবচেয়ে মজা হচ্ছে, এখানে সাপ-ব্যাঙ থেকে শুরু করে পরী, সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক প্রাণী এমনকি বিশাল বিশাল ডাইনোসর তৈরি করা হয়েছে কোন শিল্পীর স্পর্শ ছাড়াই। ছবি সংগ্রহ ও নকশা তৈরি করে দিয়েছেন শিবলী ভাই। তারপর অসাধারণ সব কাজ করেছে একদল রাজমিস্ত্রি। যা দেখে তাদের ধন্যবাদ না দিয়ে পারিনি।
৪.

আমাদের ভ্রমণের অনেক উল্লেখযোগ্য অংশ আছে। সবচেয়ে উলেখযোগ্য শিবলী ভাইয়ের অতি আন্তরিকতা। অসম্ভব জনপ্রিয় এ চেয়ারম্যানকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমরা চলে আসার দিন যা সবচেয়ে বেশি টের পেয়েছি। চলে আসার দিন আমাদের নিয়ে গিয়েছিলেন পিকনিকে। পথের মোড়ে মোড়ে তার গাড়ি থামিয়ে সাধারণ মানুষের অভ্যর্থনা দেখার মতো। মানুষের সঙ্গে তিনি নিজেও যেভাবে মিশে যান তাও মুগ্ধ করার মতো।
আমাদের পিকনিক স্পট ছিল একটা দীর্ঘ শালবনের ভেতরে। মাঝখানে সীতাকোট বিহার নামে একটা জায়গায় নামলাম। প্রচলিত আছে এখানেই নাকি মূলত সীতার বাসস্থান ছিল। বর্ণনা থেকে জানা যায়, এই প্রত্নস্থলটি স্থানীয়ভাবে সীতার বাসস্থান হিসেবে পরিচিত। খ্রিঃ ১৯৬৮ এবং ১৯৭২-৭৩ সালে এ প্রত্নস্থলে উৎখনন পরিচালনা করে ৬৫মিঢ৬৫মি বর্গাকৃতি পরিমাপের একটি বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষসহ বেশকিছু হস্তান্তরযোগ্য প্রত্নবস্তু আবিষ্কৃত হয়। এর উত্তরবাহুর মধ্যস্থলে রয়েছে ১.৮৩মি প্রশস্ত প্রবেশপথ। বিহারে মোট ৪১টি ভিক্ষুক আছে। কগুলো ৭মিঢ৩.৩৫মিঢ৩.৫০মিঢ৩.৩৫মি আয়তনবিশিষ্ট। পেছনে দেয়াল এবং সব করেই প্রবেশ পথ আছে। আছে বারান্দা, আঙিনাও। গঠনপ্রণালী অনুযায়ী ধারণা করা হয় এটি ৭ম-৮ম শতকে নির্মিত হয়ে থাকতে পারে।

সীতার আবাসস্থল দেখার পর আমাদের চলে যেতে হয়েছিল। কারণ এখানে থাকার খুব বেশি যৌক্তিকতা নেই। এ আবাসস্থল এখন ধ্বংসাবশেষ। এখানে কোন এককালে হয়তো রান্নাঘর থাকলেও থাকতে পারে যা এখন নেই এবং যাতে চুলো জ্বলে না। খাবার তৈরি হয় না। কিন্তু আমাদের খেতে হবে। আমাদের পেটে আগুন জ্বলছে। তাই দেরি না করে রওনা দিলাম শালবনের দিকে। যেখানে খাবার আছে।
শালবনে অসংখ্য নাম না জানা পাখির ডাক কানে নিয়ে ঢুকতে হয়। কে জানে আমাদের অভ্যর্থনাতে নাকি এমন ডাকাডাকি সবসময়ই করে। তবে মজার ব্যাপার শিবলী ভাই মানে চেয়ারম্যান সাহেব পাখির ডাক শুনে নাম বলে দিচ্ছেন। গায়ের রঙের বর্ণনাও দিচ্ছেন সঙ্গে সঙ্গে। অবাক হয়েছি শুনে।

শালবন পরিদর্শন এবং আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতা গায়ে মেখে নিলাম দীর্ঘক্ষণ ধরে। শালবনের স্থানে স্থানে পিঁপড়াদের সুরম্য অট্টালিকা দেখার মতো। দেখার মতো ছিল পাশের জমিতে কৃষকের ধানকাটা। অনেক দিন পর অসাধারণ দৃশ্য। সম্ভবত এ দেশে ধানকাটা এবং তা নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের চেয়ে সুন্দর দৃশ্য খুব বেশি একটা নেই। এসব দেখতে দেখতে কখন যে দিন শেষ হয়ে এলো। আমরা ফিরে গেলাম আমাদের আপাত বাসস্থানে।
রাতে বাস। চলে যেতে হবে। স্বপ্নপুরী ছেড়ে রুঢ়বাস্তব ইটের শহরে।
৫.
সান্ধ্যকালীন আরেকদফা স্বপ্নপুরী দেখে বিশেষ করে পানিতে ৭২ ঘণ্টা ডুবে থাকতে পারা নওশেরকে দেখে এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা নিয়ে রাতে রওনা হলাম। আমাদের পৌঁছে দিতে আবারও প্রস্তুত শিবলী ভাই। সঙ্গে তার স্ত্রী সালমা। বাসস্টেশনে পৌঁছে দিতে দিতে শিবলী ভাইয়ের আরও কিছু মুগ্ধ হওয়ার মতো কথা শুনলাম। তিনি ভরা পূর্ণিমায় তার স্বপ্নপুরীর সব লাইট বন্ধ করে দেন। মনে পড়ল সুনামগঞ্জের সাবেক পৌর মেয়রের কথা। মমিনুল ময়েজউদ্দিন ছিল খুব সম্ভবত ওনার নাম। যিনি ভরা পূর্ণিমার রাতে তার শহরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতেন। যিনি কবিও ছিলেন। তবে শিবলী ভাই কবি নন। শিল্পী। তিনি গান করেন। আসার পথে একটা চমকপ্রদ তথ্য দিলেন। রাস্তার দু'পাশে অসংখ্য মানুষ হেঁটে যাচ্ছিল, যাদের দেখিয়ে শিবলী ভাই জানালেন, তারা কোথায় যাচ্ছে জানেন?
আমরা না সূচক মাথা নাড়ালাম।

বললেন, আজ আমার এক জায়গায় গান গাওয়ার কথা। শুনে এবার আর মুগ্ধ হলাম না বরং মজা পেলাম এই উপজেলার অধিবাসীদের ভাগ্য দেখে, যাদের চেয়ারম্যান একজন শিল্পী।
একটা সময় সব কিছু পেছনে ফেলে বাসে ওঠে বসলাম। সালমা, শিবলী ভাইও চলে গেছেন।
শুধু টের পেলাম আমাদের পেছনে একটা সুর আসছে।
কোথা থেকে আসছে কে জানে?
শিবলী ভাই কি গাইছে নাকি?


ছবি : ১. বাসের সামনে পিচ্ছি ২.মন্দিরের গেটে সিংহের ভাষ্কর্যের লাইট জালানোর সময় ৩, ৪, ৫, ৭, ৯. স্বপ্নপুরীর ভেতরে ৬. পাচঁ পাওয়ালা গরু ১০ সিতাবিহার ১১. পানিতে ৭২ ঘন্টা ডুবে থাকতে পারা নওশের ১২. সালমা এবং শিবলী ভাই]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29381895 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29381895 2011-05-16 01:18:41
যে বিয়ের দাওয়াত পেয়েও যাওয়া হলোনা বেয়াদবী করতে হলো এতো রিকোয়েষ্ট করা রানীর সাথে...প্রত্যাখ্যান করতে হলো চালর্সের খাবারদাবারের অফার...
কারন, সিএনজি নিয়ে বড়জোর এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যাওয়া যায় এই অর্থনৈতিক অবস্থায়, বৃটিশ রাজপরিবারের সন্মানিত অতিথী হিসেবে বিয়ের দাওয়াত পেয়েও যাওয়া হলোনা...

ধারদেনা করে যাওয়া যেত, কিন্তু এই বিয়েতে উপস্থিতি নিজের বিয়ের আয়োজনকে ফেলতে পারে হুমকীর মুখে...তাই বাসায় বসে বিবিসিতে বিভিন্ন দেশের বন্ধুবান্ধবদের দেখলাম...

মন ভীষণ ভারাক্রান্ত...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29371891 http://www.somewhereinblog.net/blog/isteaque007/29371891 2011-04-29 18:09:16