আমার প্রিয় পোস্ট

আমি একজন নিরাপদ ব্লগার

পিলখানাঃ চায়ের কাপ থেকে জাতীয় সংসদ

০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৪১

শেয়ারঃ
0 1 0

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে রাস্তার পাশের ছোট্ট চায়ের দোকান থেকে দেশের সর্বোচ্চ স্থান সংসদের আলোচনার পর আলোচনা হচ্ছে। প্রথম দিন সেনা মোতায়েন করলে এত সেনা কর্মকর্তাকে হারাতে হতো না। কোন যু্দ্ধেও এত পরিমান সেনা অফিসার মারা যাওয়ার নজির নেই। যে মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপ্তি ছিল দীর্ঘ নয় মাস সেই যু্দ্ধেও সেনা অফিসার মারা গেছে পঞ্চাশের নিচে। আর মাত্র চব্বিশ ঘন্টার ব্যবধানে আমরা ১৬৮ জন সেনাকর্মকর্তাকে হারালাম। আলোচনা চলছে ,চলবে। ঘটনাটা সত্যই জাতির জন্য দুঃখজনক।

বাংলাদেশের মানুষগুলোর অন্যতম একটা দোষ । তারা অল্পতেই অনেক কিছু ভুলে যায়। ঘটনার বর্তমান নিয়ে চিন্তা করে। সুদুর প্রসারী কোন চিন্তা করতে পারে না। শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া সব কিছুতেই রাজনীতির গন্ধ পান। রাজনীতি ছাড়া যে অনেক কিছুই পৃথিবীতে ঘটতে পারে তারা তা চিন্তা করতে পারেন না।
২৫ ফেব্রুয়ারীর পর গত দশ দিনে অনেক কিছুই আমাদের কাছে পরিস্কার হয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মিটিং এর ভাষ্যগুলো আমাদের সামনে পৌছে গেছে। অনেকেই অনেক কথা বলছেন। আমি মনে করি না শত আলোচনা পর্যালোচনা করে এর সমাধান সম্ভব।

সেনা কর্মকর্তারা সহ অনেকেই দাবী করছেন। ২৫ তারিখ সাড়ে আটটার কিছুক্ষন পরেই কেন সেনা মোতায়েন করা হলো না।তাহলে এত পরিমান সেনা কর্মকর্তাকে আমাদের হারাতে হত না। আচ্ছা, সেনা মোতায়েন কেন করা হলো না। সেই দিনের ঘটনাটা একটু মনে করার চেষ্টা করুন। সেইদিন সকালে যখন বিডিআর জোয়ানরা সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করল। তখন মিডিয়া সহ সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে বিডিআর প্রধান শাকিল দরবার হলে সবার প্রথমে বিডিআর এর এক সৈনিককে গুলি করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিডিআর জোয়ানরা সবাইকে তাদের দাবী দাওয়া আদায় করার জন্য জিম্মি করে। বিডিআর জোয়ানরা এমনকি রাস্তায় বেড়িয়ে এসেও ব্রাশ ফায়ার করে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ তিন জন পথচারী নিহত হন। বিডিআর জোয়ানরা সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করতে থাকেন । তখন সারা বাংলাদেশের সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্ট ছিল সম্পূর্ণ রূপে বিডিআর এর পক্ষে। সেই সময় যদি সেনা বাহিনীকে আক্রমনের জন্য বলা হত তাহলে পুরা বাংলাদেশে বিডিআর আর সেনাবাহিনীর মধ্যে মারাত্মক একটা যুদ্ধ হওয়ার সম্ভবনা ছিল। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে পিলখানা বিদ্রোহের পর পরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিডিআর জোয়ানরা বিদ্রোহ ঘোষনা শুরু করে। সবচেয়ে বড় কথা সেনা বাহিনী বিদ্বেষী মিডিয়া এমনভাবে খবরটাকে উপস্থাপন করেছে যে, সাধারন মানুষরা বিডিআর এর পক্ষে চলে যেত। স্বাভাবিকভাবে বড় ধরনের একটা গৃহ যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।হ্যা, সেনা বাহিনীর কমান্ডো বাহিনীকে কেন কাজে লাগানো হলো না? চারদিক থেকে সেনা বাহিনী কর্ডন করে রাখতে পারত। আর সেনা বাহিনীর কমান্ডোরা ভিতরে যেতে পারত। সেনা বাহিনীর গোয়েন্দা টিমগুলো কোথায় ছিল?এমন অভিযোগও আছে গোয়েন্দাদের অস্রগুলোও ব্যবহৃত হয়েছে এই বিদ্রোহে। কেন তাদেরকে ধরা হচ্ছে না?
(চলবে)

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৪৬
বোতল কুমার বলেছেন: দয়া করে রাজনৈতীক উদ্দেশ্যপ্রণদিত চাঁপাবাজির সংক্রামন করিবেন না।

বরং বিদেশী দুষ্ট শক্তির পর্যালচনা করুন।
০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২১

লেখক বলেছেন: চাপাবাজি করার চেষ্টাও করব না।

২. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:০৬
রামন বলেছেন: চালান। বর্তমান সরকার বিডিআর ট্রাজেজী দমনে সঠিক ও সময়োপযোগী সির্ধান্ত নিয়েছেন। আর সে সময় ভুল সির্ধান্ত নেয়া হলে যারা মারা গেছেন তাদের সহ বহু নীরিহ লোকের প্রাণ দিয়ে হতো। বিদ্রোহ চলাকালীন বিডিআর সংলগ্ন এলাকাবাসীগণ যে বিভিষিকাময় সময় অতিবাহিত করেছে যারা এটি না বুঝেছে কেবল তারাই সেনা সেনা অভিযানের পক্ষে রায় দিয়ে রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে চাইছে।
০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২২

লেখক বলেছেন: একমত।

০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:২৫
শান্তি প্রিয় বলেছেন: দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধেও ৫০ জনের নিচে সেনাবাহিনী নিহত হয়েছে। তাহলে যে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিশ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এ কথাটি কতটুকু সত্য..? আমার প্রশ্ন হলো সেনাবাহিনীরাই যুদ্ধে প্রধান ভুমিকা পালন করেছে, সেই ক্ষেত্রে তারাই মারা গেছে ৫০জনের নিচে। তাহলে সাধারণ মানুষ মৃতের সংখ্যা এত হয়া কি যুক্তি সংগত। আমি একবার পেপারে একটি প্রতিবেধনে পড়েছিলাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ২লক্ষ ৫৫ হাজারের মত লোক নিহত হয়েছে। কোনটি সঠিক..?
০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২৪

লেখক বলেছেন: আমি বলেছি (৫০ এর নিচে) সেনা অফিসার এর কথা। সেনাবাহিনীর কথা তো বলিনি।

৫. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯
তর্পন বলেছেন: @শান্তি প্রিয়

বেসামরিক লোকেরাই তো আক্রমণের শিকার হয়েছে বেশী । নয় মাসে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার লোকের মৃত্যু হলেও তা অনেক , তাই না?
০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২৫

লেখক বলেছেন: বেসামরিক লোকেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে বেশি আক্রমনের শিকার হয়।

 

মোট সময় লেগেছে ১.২৪৯৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ছোট্ট এই পৃথিবীতে আমার জানার পরিধি অনেক কম । আমি যাহা বুঝি তাহাই বলি। এতে আমার কাছের মানুষগুলো কষ্ট পেলেও...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ