somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পরিণতি (গল্প)
রফিক সাহেব অনেকদিন থেকে অসুস্থ। অসুস্থতার প্রথম দিকে তাকে দেখতে যেতাম। কিছুদিন আগে অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় উনাকে উত্তরার একটা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। তার এখন অন্তিম সময় চলছে। অনেকটা সেই কারণেই, আমাকে অনেক করে যেতে বললেন ভাবী।

রফিক সাহেব আর আমি একই সাথে বিমানবন্দরের চাকুরীতে জয়েন করি। দুজনেরই তখন তরুণ বয়স। অনেক মজার মজার স্মৃতি আছে তার সাথে। মাসের আয় তত বেশি না হলেও ব্যাচেলর হওয়ার কারণে ভালই চলে যেত আমাদের। অনেকবারই রফিক সাহেবের গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছি। আপনি আপনি করে কথা হলেও আমাদের বন্ধুত্ব ছিল স্কুলের বন্ধুদের মতোই ঘনিষ্ঠ।

রফিক সাহেব বিয়ে করলেন, আমিও। দুইজনের বাসা খুবই কাছাকাছি। দুইজনেরই ছেলে সন্তান হয়েছে। ওরা পড়াশুনা করছে। ওদের জন্য প্রাইভেট টিউটর রাখতে হয়। কম বেতনের চাকরীতে পোষাতে পারছি না। তখনও রফিক সাহেব আমার কাছে আপন ছিল। দুই জনে অফিস শেষে রাস্তায় হাঁটতে যেতাম । বিভিন্ন ধরনের কথা বলতাম। কি করা যায়? এতো অল্প পয়সা দিয়ে তো আর চলা যায় না।

এরপর অনেকটা হঠাৎ করেই রফিক সাহেব বদলে গেলেন। তার সাথে আমার সেই সুন্দর সম্পর্কটাও পাল্টে গেল। আমার কাছের মানুষটি আমার থেকে দুরে সরে গেল। প্রিয় বন্ধুর সাথে আর দেখা হয় না। রফিক সাহেব এখন অনেক ব্যস্ত। চোরাচালানী দলের লোকদের সাথে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন। এতে তার কিছু উপরি ইনকাম হয়। আর আমি আছি আমার আগের অবস্থাতেই। তিনি উত্তরায় বাড়ি কেনেন। ছেলেকে রাজউক কলেজ মোটা বেতনে ভর্তি করান। আর আমি টাকার অভাবে সরকারী কলেজে আমার ছেলেকে পাঠাই। দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াতটা কোনও অংশে কম ছিল না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ করে বিভিন্ন ঈদে তাদের বাসায় পুরো পরিবার নিয়ে যাওয়া হত।

আমার মিসেসকে দিয়ে রফিক সাহেব এর মিসেস কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই টাকা উৎস নিয়ে উনাদের মতামত কি? অবৈধ টাকা ইনকাম করা তো ঠিক না। তার মিসেস যে উত্তর দিলেন তা হল এই রকম - আমার হাজব্যান্ড বিভিন্ন কর্মচারীর রোষ্টারিং এর দায়িত্ব পালন করেন। এই রোষ্টারিং এ কেউ যদি খুশি হয়ে কিছু দেয়, সেই টাকা নেয়াটা দোষের কিছু না। আর আমার হাজব্যান্ড কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করছেন না।

আমার ছেলে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তি কোচিং করতে থাকে আর রফিক সাহেব এর ছেলে কোন কোচিং না করে টো টো করে ঘুরে বেড়ায়। আমি দেখি কিছুই বলি না, বলতে পারি না। ওনাদের টাকা আছে তারা ছেলেকে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করাবেন। আর আমার এত কম টাকা পয়সা যে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি নাম নেওয়াও আমার জন্য অন্যায়।

বিভিন্ন সময় বিপদে আপদে তার থেকে ধার নিয়ে আমি চলতাম। মানুষটি আজ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত । তাকে দুই বার ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছূ হয়নি। তার কাছে যেয়ে তার গত দিনের ভুলের কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেব। আমি রিক্সায় করে যাচ্ছি আর ভাবছি মানুষটির কথা।

রফিক সাহেবের ছেলে শাহীনের সাথে যখনই দেখা হত তখনই দেখতাম সে মাথার এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করছে। অনেকটা জড়তা নিয়ে বলত, আংকেল স্লামালাইকুম। তার বড় চুল আর হাতের ব্রেসলেট দেখে বোঝাই যেত, কতটুকু পেকে গিয়েছে ছেলেটি। একবার দেখলাম তার হাতে অনেক বড় একটি মোবাইল। আমি জিজ্ঞাসা করাতেই বলল, আংকেল এটা আইফোন। আমার ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। কি বলব নিজের ছেলেকে ভর্তি কোচিং এর জন্য ৮ হাজার টাকা দিতেই আমার খবর হয়ে গেছে সেখানে এই ছেলে ব্যবহার করছে অর্ধলক্ষ টাকা দামের মোবাইল!! নিজের ছেলে হলে কিছু বলা যেত, অন্যের ছেলে সহ্য করে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছুই করার নাই আমার।

উত্তরা মেডিক্যালে আমি রিক্সা থেকে নামলাম। কেবিন নাম্বার আগেই জেনে নিয়েছিলাম। চলে গেলাম সোজাসুজি তার কেবিনে। ভাবী আমাকে দেখে জায়গা খালি করে দিলেন। একটা চেয়ার টেনে বসলাম। রফিক সাহেব শুকিয়ে গিয়েছেন। বলা যায়, একবারে শুকনা কাঠ। তার রক্ত নিয়মিত পরিবর্তন করতে হচ্ছে। শাহীন তাই হাসপাতালের বাহিরে। বাবার জন্য রক্ত জোগাড় করছে। বিভিন্ন বিষয় এ তার সাথে কথা বলছি। কথায় কথায় জানতে পারলাম, তার ছেলের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাডমিশন এর ব্যবস্থা করছেন। বিশদিনের মধ্যেই ছেলে চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া। তার কাগজপত্র নিয়ে এত দিন টেনশানেই ছিলেন। আজকে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এই তো বিশ দিন পর চলে যাবে ছেলেটি।

কথা বলার মাঝামাঝি ভাবীর মোবাইলে কল আসল। ভাবী বাইরে চলে গেলেন । আমি রফিক সাহেব এর হাতটা ধরে বসে রইলাম। কত আপন মানুষ আজকে বিদায় এক বারে দ্বারপ্রান্তে। ভাবী ওপাশ থেকে মোবাইলে কান্নায় ভেংগে পড়লেন। আমি দ্রুত বাইরে চলে গেলাম। মোবাইলটি কানে দিয়ে জানতে পারলাম। শাহীনের বয়সী একজনের লাশ রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছেন পুলিশ। তার পকেটে ডাইরী থেকে তারা এই নাম্বারটি পেয়েছে। আমরা কেউ থানায় যেয়ে যেন লাশটি শনাক্ত করি। সম্ভবত ছিনতাইকারীর হাত থেকে দামী মোবাইল বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে ছেলেটি।

দ্রুত থানার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। আবারও রিক্সা নিলাম। যাওয়ার সময় ভাবছি, পুলিশের করা ফোনটি যেন মিথ্যা হয় । আল্লাহ আমি যেন লাশ ঘরে যেয়ে শাহীনকে না দেখি। আমি দেখতে চাই শাহীন বেঁচে আছে। রিক্সায় বসে থাকা আমার দু’চোখ দিয়ে অঝোরে ঝরছে অশ্রু। আমি বলছি আল্লাহ তুমি আমার সহায় হও..............

http://sonarbangladesh.com/article.php?ID=3762]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/29252627 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/29252627 2010-10-10 20:16:19
রুহ!(ছোট গল্প) ' style='border: 1px solid #ccc;align:center;clear:both' />
রুহ, তোমাকে আমাকে এভাবে হারাতে হবে আমি জীবনেও ভাবিনি। তুমি আমার জীবনে এসেছিলে একটি প্রদীপ হয়ে। সেই প্রদীপটি যে এভাবে নিভে যাবে তা তো আমি ভাবিনি। তারপরও আমি নিশ্চিত যে তোমার সাথে আমার দেখা হবেই।

মনে আছে রুহ, আমার সাথে তোমার কোথায় দেখা হয়েছিল। হ্যা, সেই বেইলি রোড এর চাইনিজ এর দোকানটাতে। তোমাকে দেখে আমার প্রথমেই ভাল লেগে গিয়েছিল। তোমার সাবলীল কথাবার্তা, সুন্দর শব্দচয়ন সবকিছুই আমাকে আকর্ষণ করেছিল। আমি তখন সুইডেন থেকে মাস্টার্স শেষ করে বাংলাদেশে ফিরেছি, পিএইচডির জন্য বিভিন্ন জায়গায় এপ্লাই করে যাচ্ছি। হাতে বলতে গেলে সময় তেমন একটা ছিলনা। বাবা মায়ের একান্ত চাপেই আমি বিয়ে করতে তখন রাজি হয়েছিলাম।

সেসময় তুমি ছিলে ঢাকা মেডিক্যাল এর ফাইনাল ইয়ার এর স্টুডেন্ট। তোমার পরিবার থেকে বিয়ের ব্যাপারে বিশাল রকমের তোড়জোড় চলছে। তোমার বিয়ে দিতে পারলেই মনে হয় উনারা মুক্তি পান! এদিকে আমি সারাক্ষন ব্যস্ত থাকি রিসার্চ প্রপোজাল লেখা নিয়ে। এর মাঝখানেই তোমার সাথে আমার দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

আমি সবসময় মনের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি, সেদিক থেকে তুমি ছিলে অনন্য। আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা করার সুবাদে অনেক অনেক মেয়ের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। আমি জানি মেয়েরা কেমন হয়। কিন্তু আমি একথা জোর দিয়ে বলতে পারি, তাদের থেকে তুমি ছিলে সম্পুর্ণই ভিন্ন। যেমন ছিল তোমার রূপ তেমনি মনের সৌন্দর্য।
আমার ব্যস্ততার কারণেই মূলত তোমার সাথে আমার বেশি কথা বলার সুযোগ হয়নি। এরই মধ্যে দুই পরিবার রাজি হয়ে বিয়ের ব্যবস্খা করে ফেলল। তখন হাতে সময় ছিল মাত্র সাতদিন। আমি তখন প্রচন্ড ব্যস্ত। এই ধরনের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে আমিও বিষয়টা নিয়ে এতটা ভাবিনি। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর দিন থেকেই আমার মাথায় তোমার সাথে বসে আমার ভেতরের কথাগুলো শেয়ার করার ভুত চেপে গেল।

এদিকে এ কথাটা আমার বোনকে বলাতে সে খেপে গেল। 'তোমার এতদিন কথা বলার সময় হয়নি, এখন কথা বলার মানে বোঝ? তুমি কথা বলার কারণে বিয়েটা ভেঙে গেলে আব্বা আম্মা খুব দু:খ পাবেন'। আমি চিন্তা করলাম, ভেঙে গেলে আসলেই আব্বা আম্মা দু:খ পাবেন। কিন্তু এই বিয়ে হওয়ার পর যদি ঝামেলা হয় তখন সবাই আরো বেশি দু:খ পাবেন। সুতরাং, যা করার আমাকেই করতে হবে। তাই আমি চুপি চুপি তোমাকে ফোন দিলাম। সেই চাইনিজ এর দোকানটাতে তোমাকে আসতে বললাম। তুমিও হয়ত তখন ভড়কে গিয়েছিলে। কিন্তু হু কেয়ারস! আমি তোমার সাথে দেখা করে আমার জীবনের গল্পগুলো এক এক করে বলতে লাগলাম। সব গুলোই তুমি শুনলে। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনলে। বললে, এগুলো কোন ব্যাপার না। সবার জীবনেই এই রকম কিছু ঘটনা আছে। আমার ওই কথাগুলো শোনার পর আমার প্রতি তোমার দুর্বলতা আরো বেড়ে গেল।

বিয়ের দিন তোমার সাথে আমার দেখা। সত্যিই অপূর্ব লাগছিল সেদিন তোমাকে। বিয়ে মানেই হল একসাথে পথ চলা। এই পথ চলাটা অপার্থিব জীবন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাইছিলাম আমরা দুজনে। অনেক হাসিকান্না দুজন দুজনের হয়ে ভাগাভাগি করে নেব এটাই ছিল আমাদের একমাত্র প্রত্যয়।

বিয়ের পর আমাদের হাতে সময় একেবারেই ছিল না। এদিকে তোমার ফাইনাল এগজাম এসে গেল। আর আমি প্রফেসরকে মেইল করতে বিজি। কোথাও যে তোমাকে নিয়ে যাব সে অবস্থাও ছিল না আমার। এত ব্যস্ততার পরও তোমার সাথে কথা বললেই মনটা ভাল হয়ে যেত। আমি যখনই বলতাম তোমাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছি না, তখন তুমি বলতে, পুরো জীবনটাই তো তুমি আমার সাথে থাকবে। নো প্রবলেম। নিজের কাজগুলো গুছিয়ে নাও।

এক মাসের ভেতর আমি আমার পিএইচডি এর যাবতীয় কিছূ রেডি করে ফেললাম। আমি ইংল্যান্ড এর একটা ভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলাম। এবার আমার যাওয়ার পালা। এদিকে তোমার ইন্টার্ণি, তোমাকে সাথে নেয়ার শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি তোমাকে সাথে নিতে পারছি না।আমি জানি, বিয়ের পর এভাবে আলাদা থাকা অনেক অনেক কষ্টের। তারপরও আমি তোমার থেকে আলাদা হলাম। সেদিন এয়ারপোর্ট এ বিদায় নিয়ে আসার সময় তোমার দুই চোখে যে কান্না দেখেছিলাম সেটা আজও আমার মনে পড়ে।

প্রবাসে দিন যায়, সময় আর কাটেনা। পাক্কা একটা বছর অপেক্ষা করতে হবে তোমার জন্য। এই একটা বছর আমার কাছে মনে হচ্ছিল একটা যুগ। আমি আসার পর আমার বাসায় বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছিল তোমাকে নিয়ে । কিন্তু তুমি একটা বারের জন্যও আমাকে বুঝতে দাওনি। তুমি শুধুই বলতে আমি ভাল আছি কিনা? আমি ভাল থাকলেই তুমি ভাল থাকবে।

সেদিন এর কথাটা মনে আছে, আমি তখন আমার থিসিস রিপোর্ট লেখার কাজে বিজি ছিলাম। সে সময় আমি ঠিকভাবে তোমার সাথে যোগাযোগও করতে পারছিলাম না। এক সপ্তাহ তোমার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। তারপরও আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল আজকে তোমার একটা কিছু আছে। তাই আমি তোমাকে চমকে দিয়ে তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, আজকে নিশ্চয়ই কোন বিশেষ দিন। হ্যা,আসলেই সেই দিন বিশেষ দিন ছিল । সেদিনটি ছিল তোমার জন্মদিন। আমি এতই ব্যস্ত যে তোমার জন্মদিন মনে রাখার সময়টুকু করে উঠতে পারিনি। তারপরও কোন এক অদৃশ্য কিছূর সুবাদে আমি জানতে পারলাম। আমি আসলেই সেইদিন আশ্চর্য হয়েছিলাম।

অবশেষে তোমার ইন্টার্নি শেষ করে তুমি আমার কাছে চলে এলে। আমার সংসারে কিছুই ছিলনা। শুধু তুমি আমি আর আমাদের স্বপ্ন। প্রচন্ড স্বপ্ন দেখতে ভালবাসতাম আমরা দুইজনই। নতুন দিনের স্বপ্ন, সোনালি দিনের স্বপ্ন। বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন।

বাংলাদেশ থেকে আনা তোমার লাগেজ দেখে আমি সত্যিই আশ্চর্য হয়েছিলাম। তোমার বইগুলোর অধিকাংশই ছিল খাতা। আমি এক এক করে বের করে পড়তে লাগলাম। তোমার লেখাগুলো পড়ে আমি অবাক হচ্ছিলাম। তোমার লেখা এত সুন্দর! এত সুন্দর ভাবনা তোমার! আমি তোমাকে উৎসাহ দিতে লাগলাম তোমার লেখার ব্যাপারে। তুমি তখন বলেছিলে, আমার জন্যই শুধু তুমি এত কষ্ট করে খাতাগুলো বয়ে নিয়ে এসেছো। তুমি ক্লাস এইট থেকে লেখালেখি শুরু করেছ। এগুলো হল তোমার লেখার পান্ডুলিপি। আমি তোমাকে বললাম, তুমি লিখে যাও। আগামীবার যখন আমরা দেশে যাব, একুশে বই মেলায় তোমার একটা বই ছাপাবো। আমি তোমার লেখা বই সবাইকে দেখিয়ে বলব, দ্যাখো! আমার রুহ এর লেখা বই!

সব সুখেরই মনে হয় শেষ আছে, তেমনি তুমি একদিন হারিয়ে গেলে আমার কাছ থেকে। একটা কার এক্সিডেন্ট তোমাকে আমার থেকে আলাদা করে দিল। তোমাকে আমি হারালাম। তাতে কি? তোমার স্মৃতিগুলো তো আমি হারাইনি। মনে আছে, তুমি বলতে, আমার যদি একে অপরের দোষগুলোকে ক্ষমা করতে না পারি তাহলে অন্যদের কিভাবে ক্ষমা করব? একটা চাদর যেভাবে আমাদের শরীরকে ডেকে রাখে সেভাবেই আমরা আমাদেরকে ঢেকে রাখবো।

রুহ, আমি জানি আমি তোমাকে কতটুকু ভালবাসি। সারাটি জীবন তোমার স্মৃতি নিয়েই আমি বেঁচে থাকতে চাই। আমি জানি তুমি কতটুকু পবিত্র ছিলে। আমি বলে দিতে পারি, তুমি জান্নাতে যাবে আর সেই জান্নাতে আমার সাথে তোমার দেখা হবে। সেই আশায় আমি দিন গুনছি, গুনেই যাচ্ছি প্রতিটি দিন...

(এইটা একটা গল্প। যা আমার আশেপাশের মানুষের জীবন থেকে নেয়া। আমিও স্বপ্ন দেখি এই রকম একটা মেয়ের যে শুধুই আমার স্ত্রী হবে না, হবে আমার চাদর.....)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/29044487 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/29044487 2009-11-16 18:32:43
শেরবিনিঃ হিজাবী শহীদ ও কিছু কথা আমার ভাবনাগুলো আমার মাঝেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ে। মানুষের মানবিকতা বোধ কি এতটাই নিচে নেমে গিয়েছে? কি করব, নিজেই বুঝি না। কিছু একটা লেখা উচিত এটাই বুঝি। ভাবনার অতলের অনেক কিছুকে বাদ দিয়ে নতুন করে লিখতে বসি।

একটু ভাবুন তো, একটি পরিবার মুসলিম একটি দেশ থেকে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে জার্মানীর মত উন্নত দেশে যায়। যেই দেশ মানুষের সমঅধিকার এর কথা বলে, মুক্তচিন্তার কথা বলে সেই দেশে মুসলিম পরিবারটি যায় । তিন জনের পরিবারের এক বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে জার্মানীর মত “ন্যাচারালিস্ট, গে-কাপড়ছাড়া ও কাপড়ওয়ালার” দেশে যায় সেই পরিবারটি। সেই পরিবারটি নিজেদেরকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। মুসলিম মহিলাটি নিজেকে হিজাবে আবৃত রাখেন। হিজাবকে তিনি ধারণ করেন অন্তরের অন্তঃস্থলে। শিশুপুত্রকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন।স্বপ্ন দেখেন তার বাচ্চাটি অনেক বড় হবে।সে নতুন করে গড়বে তার দেশকে, তার পৃথিবীকে। নোংরা মানুষগুলো থেকে আলাদা করে ভাবতে শিখবে তার কোলের শিশুটি।
সেইদিনকার ঘটনা, বাড়ীর বারান্দায় তিনি বাচ্চাটাকে নিয়ে দোলনায় খেলা করছিলেন । সেই দোলনাতে চড়ার জন্য এলেক্স নামের ভদ্রলোকটি(!) আসেন আরেকটি বাচ্চাকে নিয়ে। এই নিয়ে ঝগড়া হয় সেই
হিজাবী মহিলার সাথে এলেক্স এর। রাগের বসে এলেক্স তাকে অকথ্য বাসায় গালাগালি করে। এক পর্যায়ে মহিলাকে ‘টেররিস্ট’ বলে গালি দেয়। মহিলাটি হিজাবী হওয়ার কারণে তাকে শুনতে হয় ‘টেররিস্ট’ শব্দটি। যে ‘টেররিস্ট’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় লাদেন, মোল্লা ওমর, হরকত উল জিহাদ এর বিরুদ্ধে । শুধু মাত্র মুসলমান হওয়ার কারণে, হিজাব পড়ার কারণে মহিলাটিকে শুনতে হয় এই ধরনের গালি। মনের কষ্টে তিনি সমঅধিকার এর দেশে মামলা করেন এলেক্স এর বিরুদ্ধে। কোন দিন, কোথায় তিনি জঙ্গী বা টেররিস্ট এর কাজ করেছেন সেটার প্রমাণ দিতে হবে অথবা আদালতের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এলেক্সকে। বিচারের দিন তিনি তার স্বামী ও তিন বছরের
শিশুপুত্রকে নিয়ে আদালতে যান। নিশ্চয়ই তিনি আশা করছিলেন, আদালত তার পক্ষেই ফয়সালা করবেন। কিন্তু সেই আদালতে এলেক্সই তাকে আক্রমন করে বসে। ছুরি হাতে আদালতের বিচারক এর সামনে আক্রমন
করে তাকে। তার শিশুপুত্রর সামনে তাকে ছুরি দিয়ে একের পর এক আঘাত করে। তার স্বামী যখন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন, নিরাপত্তা কর্মীরা (ভুলবশত!!!) গুলি করেন তার স্বামীকে। আর এলেক্স ১৮টি স্টেপ করে হত্যা করে শিবরীনিকে(সেই মহিলাকে)।

হিটলারের দেশ, নাৎসীদের দেশ যতই নিজেকে যতই উন্নত দেশ হিসাবে উপস্থাপন করুক না কেন তারা আসলে আগের অবস্থানেই রয়েছে। তাদের কারণে আজকে হিজাব পড়ার অপরাধে প্রকাশ্য আদালতে খুন হলেন আমাদের বোন মারওয়া শিবরীনি । তার স্বামী তাকে রক্ষা করতে গিয়ে হলেন প্রহরীর গুলিতে গুলীবিদ্ধ। যেখানে অপরাধীকে গুলি করার কথা, সেখানে গুলি করা হল নিরপরাধ মানুষটিকে। এই হত্যাকে জায়েয করার জন্য কত রকমের বাহানাই না করছে পাশ্চাত্য। এলেক্সকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসাবে উপস্থাপন করছে। যুক্তির খাতিরে আমি ধরেই নিলাম এলেক্স একজন সাইকো । কিন্তু যেই আদালতে বসে এই ধরনের ঘটনা ঘটল সেই আদালতে উপস্থিত বিচারপতি ও আইনজ্ঞদের আমি কি বলব? তারাও কি সাইকো? যে দেশ এই ঘটনাটাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন, সেই দেশের মানুষগুলোও সাইকো? আমি বুঝি না, বুঝতে চাইও না, আমি শুধু এতটুকু বুঝি, আমি যদি আজ কথা না বলি, আগামীদিনে আমার হিজাব পরিহিত মা-বোন,স্ত্রী-কন্যা আক্রান্ত হবে এই সব সাইকোদের
দ্বারা। তারা যখনই রাস্তায় বের হবে তখনই শুনবে ‘টেররিস্ট’। যে টেররিস্ট বলা হয় আল কায়েদাকে,শুধু মাত্র মুসলিম পরিচয়ের একটি পোশাক পড়ার অপরাধে শুনতে হবে সেই একই গালি।

পশ্চিমারা যখন ন্যাচারালিস্ট অথবা গে-লেসবিয়ান এর কথা বলে, যখন অবাধ যৌনতার কথা বলে, তখন কই আমরা স্বাভাবিক মুসলমানরা তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রোপাগান্ডা করিনা। আমরা তাদের নিবৃত করিনা, তাদের উপর হামলাও করি না। আমরা তাদের মুক্তচেতনার কথাগুলোকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তারাই আমাদের উপর হামলা করে শুধু মুসলমান হওয়ার অপরাধে, শুধু হিজাব পরার অপরাধে আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের শুনতে হয় একই গালি ‘টেররিস্ট’ । আমি কি বলব, নিজে বুঝে পাইনা, শুধুই চেয়ে থাকি আকাশের দিকে , আর ভাবতে থাকি,“ হে আল্লাহ ! এই যদি হয় এদের মানবাধিকার ,এদের মুক্তচিন্তা, তুমি ধ্বংস কর এই মানবাধিকার ও মুক্তিচিন্তার ধ্বজ্জাধারীদের। আমাদের তুমি নতুন করে ভাবতে শিখাও।”

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28981018 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28981018 2009-07-20 18:46:15
You Are Not Alone মাইকেল জেকসান......... ..


Another day has gone
I'm still all alone
How could this be
You're not here with me
You never said goodbye
Someone tell me why
Did you have to go
And leave my world so cold

Everyday I sit and ask myself
How did love slip away
Something whispers in my ear and says
That you are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay

But you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart
But you are not alone

'Lone, 'lone
Why, 'lone

Just the other night
I thought I heard you cry
Asking me to come
And hold you in my arms
I can hear your prayers
Your burdens I will bear
But first I need your hand
Then forever can begin

Everyday I sit and ask myself
How did love slip away
Something whispers in my ear and says
That you are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay

For you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart
For you are not alone

Whisper three words and I'll come runnin'
And girl you know that I'll be there
I'll be there

You are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay
For you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart

For you are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay

For you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart

For you are not alone...

Another day has gone
I'm still all alone
How could this be
You're not here with me
You never said goodbye
Someone tell me why
Did you have to go
And leave my world so cold

Everyday I sit and ask myself
How did love slip away
Something whispers in my ear and says
That you are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay

But you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart
But you are not alone

'Lone, 'lone
Why, 'lone

Just the other night
I thought I heard you cry
Asking me to come
And hold you in my arms
I can hear your prayers
Your burdens I will bear
But first I need your hand
Then forever can begin

Everyday I sit and ask myself
How did love slip away
Something whispers in my ear and says
That you are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay

For you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart
For you are not alone

Whisper three words and I'll come runnin'
And girl you know that I'll be there
I'll be there

You are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay
For you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart

For you are not alone
For I am here with you
Though you're far away
I am here to stay

For you are not alone
For I am here with you
Though we're far apart
You're always in my heart

For you are not alone...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28972996 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28972996 2009-07-03 12:11:11
আমাদের কি করার কিছুই নাই?
একটু ভাবুন, মেধাবী ছাত্রী নাহিদা এর জীবনের কথা । কত আশা, কত আশা নিয়েই না ভর্তি হয়েছিল সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। ডাক্তার হবে, রোগীদের দু:খ শুনবে । সব স্বপ্নই তার আজ মাটির সাথে মিশে যেতে বসেছে।

আপনার আমার একটু সহায়তা আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে পারে নাহিদাকে।


এই মেধাবীদের জন্য কি আমাদের করার কিছুই নাই?

অনেককেই তো এভাবে হাত পাততে হয় । জীবনের প্রয়োজনে, বেচে থাকার প্রয়োজনে আমরা, আপনারা সবাই এগিয়ে আসি এই মানুষগুলোর জন্য। আমরা কি পারি না, এমন একটা ফান্ড জেনারেট করতে যা দিয়ে এই অসহায় মানুষগুলোকে সহায়তা করা যাবে। আর হাত পাততে হবে না এই সব অসহায় মানুষগুলোকে।


আসুন, আমরা একটু ভাবী এই সব মানুষগুলোর জন্য......



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28965785 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28965785 2009-06-17 11:24:39
Reported Attack Site! সমস্যার সমাধান চাই
হোস্টিং কোম্পানী বলছে গুগুল এর সাথে কন্টাক্ট করার জন্য। কিভাবে কন্টাক্ট করা যায় কিছুই বুঝতে ছিনা।


কেউ সাহায্য করলে উপকার হত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28965354 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28965354 2009-06-16 13:57:18
আমার মা
মাকে নিয়ে লেখতে বসে কিভাবে যে শুরু করব সেটাই বুঝতে পারছি না। কোন দিক রেখে কোন দিকের কথা যে বলব সেটাই বুঝতে পারছি না। আমার মা, মায়ের সাথে আমার পরিচয় আমার জন্মেরও দশ মাস আগে। হা, তার গর্ভেই আমার জন্ম। তার মাধ্যমেই আমি এসেছি এই পৃথিবীতে। অজানা এই পৃথিবীতে তিনিই ছিলেন আমার একমাত্র আপন। তিনিই ছিলেন আমার একান্ত কাছে।

আমার নানার অজ পাড়াগায়ের বাড়ীতেই আমার জন্ম । মায়ের বিয়ের পর মা চলে গেলেন আমার দাদার বাড়ী। আমার দাদার বাড়ী ছিলো আরো অজ পাড়া গায়ে। বাড়ীর ছোট বউ হওয়াতে বিয়ের প্রথম দিকে মা বেশিই বাপের বাড়ী থাকতেন। বাবা থাকতেন সিলেটে। মাসে আসতেন আবার চলে যেতেন। মা একা একাই থাকতেন। এই অবস্থায় আমার নানা বাড়ীতে আমার জন্ম হয়।

মা যখন দাদা বাড়ী যেতেন তখন আমার নানা বাড়ীর জন্য সব সময়ই মন কাদত। আমার দাদা বাড়ী থেকে আসতে মাকে অনেক টাকার রিক্সা ভাড়া গুনতে হত। মা এই টাকা আস্তে আস্তে জমিয়েই তারপর আমার নানা বাড়ি আসতেন। আমার দাদা বাড়ী ছিল গ্রামের দক্ষিণ কোনায়। মার কাছে শুধুই মনে হত, ইস, তার শ্বশুর বাড়ীটা যদি উত্তর কোনায় হত তাহলে কতই না সহজে উনার বাপের বাড়ী যেতে পারতেন।

আমার মা, পড়াশুনা বেশি একটা করতে পারেননি। তিনি যখন ক্লাস এইটে তখন আমার মামা তার স্কুলে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তারপরও তিনি তার পড়াশুনা বন্ধ করা যায়নি তিনি লুকিয়ে লুকিয়ে ঠিকই স্কুলে যেতেন। মা একেবারেই খারাপ স্টুডেন্ট ছিলেন না। ক্লাস নাইনে উঠার পর মামা আমার মার বইগুলো লুকিয়ে ফেলেন । এরপর থেকে মার পড়াশুনা আর এগোই নি।সেই যে পড়া বন্ধ হল তা আর হয়ে উঠেনি। আমরা যখন ছোট ছিলাম মা আমাদের পাশে বসে আমাদের বইখাতাগুলো নাড়তেন আর দেখতেন কিভাবে আমরা পড়ি। মা সবসময়ই আমাদের পড়াশুনার ব্যাপারে কেয়ারফুল ছিলেন। সেই ছোট বেলা থেকেই দেখতাম আমার মা আমাদের স্কুলের জামা কাপড়গুলো কত যত্ন সহকারে ইস্ত্রি করে দিতেন।

আমরা যখন ঢাকায় আসি তখন আমার মামাই আমাদের ঢাকায় নিয়ে আসেন। মায়ের জমানো টাকা ভেংগে আমাদের গাড়ি ভাড়া দিতে হয়। আমাদের ছোট্ট বাসায় আমরা মাত্র চারজন মানুষ আমি, মা-বাবা আর আমার এক বছরের ছোট বোন। গ্রামের বাড়ি থেকে আসার কারণে মার খুব বাড়ীর জন্য মন কাদত। তিনি বিভিন্ন সময় বাড়ীর জন্য কান্না কাটি করতেন। নতুন সংসারে আমাদের কিছুই ছিল না। শুধু একটা খাট দিয়েই শুরু করতে হয় আমার মায়ের সংসার।

আমার মা বিভিন্ন সময় আমার মাধ্যমে পাশের বাসার খালাম্মাদের কাছ থেকে হাওলাত নিতেন। টানাটানির সংসার হাওলাত না করলে চলতই না। আমিও এনে দিতাম সেই টাকাগুলো। একবার আমি এক বিপদে পড়লাম। আমি এক বড় ভাইয়ের লাটিম হারিয়ে ফেল্লাম। সেই লাটিম কিনে দেওয়ার মত টাকা আমার নেই। আমি কি করি? অবশেষে বুদ্ধি করে মায়ের নামে মিথ্যে বলে দশ টাকা হাওলাত নিলাম। কিছু দিনের মধ্যে ধরাও খেয়ে গেলাম। সেই পিচ্চি বয়সেই আমাকে আমার মা অনেক মানুষের সামনে কান ধরে উঠবস করালেন। সেই শিক্ষাটা আমি আজও ভুলতে পারি না।

একবার আমার মায়ের সাথে আমার বাবার প্রচন্ড ঝগড়া হয়। মা রাগ করে বাসা থেকে বেড়িয়ে যান। আমি উনাকে খোজার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যাই। বাসার ছাদ, বিভিন্ন বাসা এমন কি আমি রেল লাইনে পর্যন্ত মাকে খুজতে যাই। তাকিয়ে তাকিয়ে খুজছি আমার মা কোথায় আছে? হ্যা, মাকে পাওয়া গিয়েছিল । আমার মা গিয়ে ছিলেন আমার এক দাদার বাসায়। অবশেষে দাদা আমার মাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাসায় দিয়ে যান।

আমার মা বেশী শিক্ষিত না হওয়ায় ভার্সিটি কি জিনিস, তিনি তা বুঝতেন না।ওনার এক বান্ধবীর কাছে শুনলেন যে ওনার ছেলে সিলেট ভার্সিটিতে পড়ে । আমার মা মনে করেছিলেন হয়ত উনার ছেলে অনেক বড়। তাই ভার্সিটিতে পড়ে। অথচ সেই মায়ের সন্তান হয়েই আমরা দুই ভাইবোন আজ ভার্সিটি পড়ছি। আমি ভার্সিটিতে চাকরিও করছি।

আমার মা সব সময়েই আল্লাহর উপর ভরসা করার কথা বলতেন।আমি তখন ইন্টার পাশ করার পর ভার্সিটি এডমিশন দিচ্ছি। কোন জায়গায়ই আমার হচ্ছিল না। কি যে খারপ অবস্থা? তারপরও মা আমার জন্য দোয়া করতে থাকলেন। হ্যা, তারপরই কম্পিউটারের মত ভাল সাবজেক্ট এ আমার চান্স হয়। শুধু মাত্র মায়ের দোয়ার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছিল।

আরেকটি ঘটনা, আমার তখন অনার্স ফাইনাল এক্সাম হচ্ছে। সেই সময়ে আমি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে গেলাম। হাসপাতালে ভর্তি করানো ছাড়া কোন উপায় ছিল না। এইদিকে আমার বন্ধুরা ছাত্রজীবনের শেষ পরীক্ষা দেয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠল। তখনও দুইটা ফাইনাল এক্সাম বাকী। আমার জন্য তিনবার পরীক্ষা পিছানো হল। আমার বন্ধুরা আর আমার জন্য ওয়েট করতে রাজী না। এইবার পরীক্ষা না দিলে একেবারে ইয়ার লস। পাক্কা এক বছর বসে থাকতে হবে। আমি এতই অসুস্থ যে পড়াশুনা কি জিনিস সেটাই ভুলে গেছি। আম্মাকে পরীক্ষা কথা বলাতে তিনি বললেন আল্লাহর উপর ভরসা কর। আল্লাহ যেন তোমাকে তোমার মঙ্গলটা দেন। সেইসময় মায়ের দোয়ার কারণেই আমি রক্ষা পেয়েছিলাম পুরা একবছর শিক্ষা জীবনের লস থেকে। আমি সুস্থ হয়েই পরীক্ষা দিতে পেরেছিলাম সেই সময়ে।

আমার মা একে বারেই কোন কিছুর প্রতিশোধ নেওয়া পছন্দ করেন না। কিছুদিন আগের ঘটনা, একটা পরিবার আমার সাথে বিশাল রকমের গাদ্দারী করল । আমি এই দিকে বলতেও পারছি না কাউকে বিষয়টা। মাকে শুধু ফোন করে বললাম আমার জন্য দোয়া করো, আমি বিশাল এক বিপদের মধ্যে আছি। আমার মা আমার জন্য দোয়া করলেন। তারপরও আমার কান্নাকাটি থামছে না দেখে আমার মা আমার পাশে বসে আমার মাথায় হাত দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন , কি হয়েছে বাবা? তুই আমাকে বল। কাউকে কিছু না বলার শর্তে আমি আমার মাকে সব ঘটনা খুলে বললাম। তিনিও আমার সাথে কাদলেন। অবশেষে বললেন, আল্লাহ যা করে ভালর জন্য করে।তুই ওদের কোন ক্ষতি করবি না। শুধু আল্লাহর কাছে বিচার দে যেন আল্লাহ তাদের শাস্তি দেন।

আচ্ছা, আমি আমার মার কাছে কখন যাই। আমার যখন খুব সমস্যা আমি তখনই ছুটে যাই মায়ের কাছে। জ্বরাক্রান্ত হলে মা যদি পাশে বসে গায়ে হাত বুলিয়ে দেয় তখন কতই না ভাল লাগে। মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে কতই না ভাল লাগে। আমার বিপদের দিনগুলোতে তিনি থাকেন আমার পাশে। একান্ত পাশে।

আর আমি! আমার অফিসের ব্যস্তার কারণে মাকে ঠিক মত সময় দিতে পারি না। মা হয়ত বললেন আমার আজকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়া দরকার সেইসময় বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে আমি যেতে পারি না মায়ের সাথে। মায়ের অভাব গুলো বুঝতে পারি না।মাকে বিভিন্ন সময় বুঝে না বুঝে কষ্ট দেই। সেই মাই আমার পাশে থাকেন সারাক্ষণ, আমার দু:খের দিনগুলোতে তিনিই আমার সাথী। সুখের দিনগুলোতে আমি এই আমি একেবারেই ভুলে যাই আমার মাকে। মার সেই ক্লান্তি মাখা মুখের কথা একেবারেই মনে করতে পারি না। মনে থাকে না আমার মায়ের কষ্টগুলো। মাকে যখনই ফোন করে জিজ্ঞাসা করি মা কেমন আছ? তিনি কখনও শরীর খারাপ থাকলেও বলেন না যে তিনি খারাপ আছেন।

কিছু্দিন পরেই হয়ত বাংলাদেশ ছেড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে আমাকে চলে যেতে হবে। আমার মা, আমার একান্ত কাছের মা থেকে চলে যাব অনেক দুরে। হয়ত আবার দেখা হবে দুই তিন বছর পর। এইদিন গুলো আমার মা কেমন থাকবেন? হয়ত আমি ফোন করে কথা বললে অসুস্থ অবস্থায়ই বলবেন তিনি ভাল আছেন। আমার জন্য জায়নামাজে বসে বসে দোয়া করবেন। নিষ্ঠুর দুনিয়ায় আমার মা থেকে আমি আলাদা হব। আমার বউ হবে, বাচ্চা হবে। তাদের নিয়ে আমি দেশে দেশে ঘুরে বেড়াবো।আর আমার মা অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকবেন এই বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মাটিতে। হয়ত আমার মা আরো অসুস্থ হবেন, একদিন মারাও যাবেন।দেশের মাটিতে এসে তার কবরের পাশে দাড়িয়ে শুধু আমি কান্নাই করে যেতে পারব।

[এই লেখাটি উৎসর্গ করলাম বর্তমান ও আগামী দিনের মা দেরকে।]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28946253 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28946253 2009-05-04 16:46:16
ধিক্কার তোমাদের, ধিক্কার!
তোমাকে এভাবে হারাতে হবে আমি জীবনে ভাবতেও পারিনি। মনে আছে, এই মাসের আটাশ তারিখেই তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল। তুমি লাজুক লাজুক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে । তোমার তিন বছরের মেয়ে আজও তোমার কথা ভাবে। ওর সামনে তোমার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে।বলে, আব্বুর কথা আমার সামনে বলবানা, আমার খুব খারাপ লাগে। তোমার মনে আছে, যেদিন শান্তার জন্ম হল সেদিন তুমি ছিল লাইবেরীয়াতে জাতিসংঘ মিশনে । আমার বাবার বাসায় ওর জন্ম হল। তোমাকে ফোন করে আমাদের নতুন অতিথির কথা জানানো হল। তুমি সেইদিন আমার সাথে কথা বলার পরেই শান্তার কথা শুনতে চাইছিলে। আমি বললাম, ও তো কথা বলতে পারে না। ও শুধু কাদতে পারে। তুমি বললে তাহলে ওকে কান্দাও আমি কান্দার আওয়াজই শুনতে চাই।

তুমি বলতে শান্তা বড় হয়ে মেজর হবে।তুমি ওকে দুষ্টামি করে মেজর শান্তা বলেই ডাকতে। আমার দুষ্ট মেয়ে তোমার সাথে অনেক খেলাই করত। তুমি নেই ও কারো সাথে কথাও বলে না। মন মরা হয়ে বসে থাকে। আচ্ছা, তোমার মনে আছে। আমি যখন বললতাম আমাদের একটা সন্তানই যথেষ্ট। তখন তুমি আমাকে বলতে আমরা দুইটা সন্তান নিব। দুটোকেই আর্মির অফিসার বানাব।

গত ১৫ তারিখ তুমি আসলে আমাদের বাসায়। স্বাভাবতই তোমার আসার কখা ছিল না। তোমাকে অনেকটা ফোর্স করেই বিডিআর এর কুচকাওয়াজ এ অংশ নিতে আনা হল। আচ্ছা, তোমার মনে কি একটু সন্দেহ জাগেনি? তুমি আসাতে আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম। এমনিতে আমি মাস্টার্স এর পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তোমার আসাতে আমার মধ্যে আলাদা পুলক অনুভব করলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারী আমাদের ৮ম বিবাহ বার্ষিকী আমরা অনেক সুন্দর করে পালন করব।

তুমি জান, সেই দিন, ইতিহাস পরীক্ষার দিন ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ এর বর্ণনা লিখতে যেয়ে আমার বার বারই কান্না পাচ্ছিল।সেই ইপিআর এর বিদ্রোহের কথা লেখতে যেয়ে বার বার আমাদের বিডিআর এর কথাই মনে পড়ছিল। যে সব নরপশু এই হত্যাকান্ড চালিয়েছে তাদের প্রতি বার বার ধিক্কার আসছিল। ২৫ মার্চ নিয়ে লেখতে যেয়ে আমার বার বারই মনে হচ্ছিল যেন আমি ইতিহাস লিখছি। নতুন করে আবারো লেখা হচ্ছে ২৫ মার্চ এর ইতিহাস।

তুমি তো আমার অনেক কাছেই ছিলে। ২৩ তারিখে তোমার সাথে আমার শেষ দেখা হয়। আমি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তোমাকে বেশি সময় দিতে পারিনি। তুমি খেলা করছিলে আমার মেয়ে সাথে। স্যরি, ভুল বললাম তোমার মেয়ের সাথে। তুমি সেইদিন ওর জন্য একটা পুতুল কিনে এনেছিলে। সেটা নিয়ে ও যে কি পরিমান ছুটাছুটা করছিল তা নিশ্চয়ই তোমার মনে আছে। আজ তোমার দেয়া পুতুলটা ও ধরেও দেখে না।

তুমি বার বার বলতে “জান দিব তাও মান দিব না”। এই কথাটা যে তোমার জীবনে এই ভাবে প্রতিফলিত হবে সেটা আমি নিজেও ভাবতে পারিনি। তুমি বিডিআর বদলী হওয়াতে অনেক বিডিআর সদস্য তাদের চোরাকারবারী বন্ধ করতে বাধ্য হয়। অনেকে তোমাকে প্রাণ নাশের হুমকিও দিয়েছিল। তুমি এই সবের কোন তোয়াক্কা না করেই বিডিআর এ তোমার ভূমিকা অক্ষুন্ন রাখছিলে।

তোমার সাথে আমার শেষ কথা হয় ২৪ তারিখ রাতে । পরের দিন সকালে তুমি ফোন দিয়েছিলে আমি ঘুমে থাকায় ধরতে পারিনি।তুমি জানতে আমি সকালে ঘুমাই তারপরও তুমি ফোন দিয়েছিলে। হয়ত তোমার মন বুঝতে পারছিল এটাই তোমার সাথে আমার শেষ কথা।

আচ্ছা, প্রধানমন্ত্রী আজকে বলছে তারা নাকি সফল হয়েছে। এত গুলো অফিসার মারা যাওয়ার পরও তারা কিভাবে সফল হয় এটাই আমার বুঝে আসে না। দশহাজার এর মত বিডিআর জোয়ান সেইদিন পিলখানা থেকে পালিয়ে গেল । আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন তিনি সফল। আচ্ছা ওনার কন্যা পুতুল যদি আজকে বিধবা হত তাহলে কি এই কথা বলতে পারতেন। তিনি কি পারতেন এত হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসে থাকতে। জান, তোমাদের হত্যা কান্ডের তদন্ত নিয়েও বিভিন্ন ধরনের তাল বাহানা চলছে। এক এক মন্ত্রী এক কথা বলছে। অভিযুক্ত তোরাব আলী আজকে বেকসুর খালাস পাচ্ছে। কিভাবে এত সব হয় আমি কিছু্ই বুঝি না, আমি শুধু তোমার তোমার হত্যাকান্ডের বিচার চাই। যদি এই জাতি বিচার না করতে পারে তাহলে ধিক্কার জানাই এই দেশকে, এই জাতিকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28939443 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28939443 2009-04-17 23:11:18
ডাক্তার! ইদানিং পত্রিকা পড়া হয় না। পড়ি না, পড়তে ভাল লাগে না। ভাল কোন সংবাদ নেই। পত্রিকাগুলোর কাজই হচ্ছে খারাপ সংবাদগুলো আগে দেয়া। কালকে পত্রিকাটা পড়তে যেয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। ডাক্তার এর হাতে ডাক্তার খুন!!

মানুষ রাজনীতি করবে। তাদের স্বাধীন মতামত দিবে । একজনের সাথে আরেক জনের সাথে মতের অমিল হবে, কথা কাটাকাটি হবে। আবার তারা ভাল হয়ে যাবে। নতুন করে সব কিছু শুরু করবে। নতুন ভাবে ভাবতে শিখবে। কিন্তু রাজনীতির জন্য একটা ছাত্র আরেকটা ছাত্রকে খুন করবে! এটা কিভাবে সম্ভব!

ছোট বেলা থেকে আমার ডাক্তার হওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা ছিল। মেডিক্যাল, ডাক্তার, হসপিটাল এগুলো আমাকে মারাত্মকভাবে টানে। ডাক্তার হতে গিয়ে হয়ে গেলাম কম্পু ইঞ্জিনিয়ার। কিছুদিন আগে আমার এক বোনের বিয়ে হল ডাক্তার এর সাথে। ওয়াও, ডাক্তার মেয়ের ডাক্তার জামাই ! এক ডাক্তার দিয়ে আরেক ডাক্তার নিয়ে আসা। আমার এক ছাত্রী সাদিয়া(আমার বোনের নামে নাম) কম্পু বিজ্ঞান ছেড়ে দিয়ে প্রাইভেট মেডিক্যাল এ ভর্তি হল। এতেও আমি খুশি কারণ অন্ততঃ আমার আরেকজন ছাত্রী ডাক্তার হচ্ছে।

বিন্দু আপুর কথাই ধরুন। আপুটা বাংলাদেশ মেডিক্যাল থেকে এম.বি.বি.এস নিয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে বের হল। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ তাকে এক টাকাও টিউশন ফি দিতে হয়নি।রেজাল্ট এর জোরে সম্পূর্ণ ফ্রি পড়েছে। বের হয়ে কয়েকদিন এ্কটা প্রাইভেট মেডিক্যালে প্র্যাকটিস করল। তারপর আমেরিকা প্রবাসী বরের হাত ধরে আমেরিকা। এখন পরোপুরি সংসারী। প্রাকটিস ট্রেকটিস করে না। হায়রে! এত কষ্ট করে পড়াশুনা কোথায় কাজে লাগানো হচ্ছে!

বাইরে বাংলাদেশে পাশ করা ডাক্তারদের প্রাকটিস করতে হলে দুইটা বিষয় লাগে। ভাল ইংরেজী জ্ঞান আর ভাল ডাক্তারী জ্ঞান। ভাল ইংরেজী জ্ঞান না থাকলে এক জন ডাক্তার তার পেশেন্টকে বুঝতে পারবে না। আর বুঝতে না পারার কারণে সে ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগী মেরে ফেলতে পারে। আর আমরা রোগী বাঁচানোর পরিবর্তে নিজের সহপাঠীকে খুন করছি!

আজকে বাংলাদেশের অবস্থা কি? ডিএমসির ছেলেমেয়েরা তাদের ডাক্তারী পড়া বাদ দিয়ে বাসায় গিয়ে বসে আছে। তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন আজ বিপন্ন। তাদের চোখের সামনে ডাক্তার হতে আসা সেই ভাই, সহপাঠী, বন্ধুর ছবি এখনো ভাসছে। কত আশা নিয়ে তার মা বসেছিল তার ছেলে ডাক্তার হবে, হবে অনেক বড়।

এইভাবে হাজারো মা তাদের আদরের সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে চিন্তামুক্ত থাকতে পারছে না। ডাকাতদের গ্রাম বলে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজও শুনা যায় মজলুম এর আর্তনাদ। যে ডাক্তার মানুষকে বাচানোর জন্য চেষ্টা করার কথা তার হাতেই আজকে খুন হচ্ছে তারই মতন একজন ডাক্তার। কিভাবে যে নিজেকে সান্ত্বনা দেব নিজেও বুঝি না।....... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28933417 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28933417 2009-04-04 09:19:24
মা! তুমি আমায় ক্ষমা করো।
দাড়াও! একটু দাড়াও!! আমার বিছানার পাশের টেবিল লাইটটা নিবিয়ে আসি। মা, এখানে এখন রাত দুইটা। আমার বিছানায় শুয়ে আছে আমার স্ত্রী রোজ। আমি যখন কম্পিউটারের কিবোর্ড এ কাহিনীগুলো লিখছি তখন আমার স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে অঘোরে ঘুমুচ্ছে।তারা ঘুমাক, তাদের না জানিয়েই আমি লেখে যেতে চাই আমার ভিতরের কথাগুলো।

দেশে আসার দিনই আমি ওকে বলেছিলাম। চল আমাদের বাড়ী যাই। না, তার এক কথা প্রথমে ওদের বাড়ী যেতে হবে। কি আর করব। তার ভাইয়ের উত্তরার বাড়ীতেই প্রথমে উঠলাম এবং সেইদিন দুপুরেই আমরা চলে গেলাম ছেলেমেয়ের নানা বাড়ীতে। অনেক দিন পর বাংলাদেশে আসার কারনে তুমি মনে করেছিলে আমি সবার আগে তোমার কাছেই যাব। কিন্তু আমি পারলাম না মা। শুধু ওদের মামার মোবাইল থেকে তোমার সাথে কথা হল। আমার কথাগুলো খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল। নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পারছিলে আমার পাশে আমার প্রাণের প্রিয়তমা রয়েছে। হায়রে দুনিয়া! ছেলে তার মায়ের কাছ থেকে পৃথক হয় তাও আবার এই ভাবে। মা, তুমি অসুস্থ ছিলে এটা আমি জানতাম। আমি বুঝতে পারছিলাম তোমার সাথে এটাই আমার শেষ দেখা । তোমাকে সারাজীবন তো আর সময় দিতে পারিনি। শেষ সময়টুকু তোমার পাশে থাকব এটাই ছিল আমার সুপ্ত ইচ্ছা।


আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাইছিলাম সেই প্রথম দিন থেকেই। দীর্ঘ চারদিন পর তোমার সাথে দেখা করার অনুমতি মিলল। একজন প্রবাসী হিসাবে আমি আমার পরিবার নিয়ে প্রাইভেট কার যোগে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আমার প্রিয়তমা সেটা হতে দিল না। তার একটাই কথা, এত দুরের রাস্তা যেতে হবে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এ। বাংলাদেশের নরমাল বাসে করেই আমি গেলাম আমার ছেলেমেয়েদের নিয়ে। আমাকে, আমার ছেলেমেয়ে কে দেখে তুমি যে কি পরিমান খুশি হয়েছিলে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সময় তুমি ছিলে শয্যাশায়ী। সেই অবস্থায় তুমি আমাকে দোয়া করলে। তুমি এতই অসুস্থ ছিলে যে, আমাদের সাথে কথা বলতেও তোমার কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু গতবার তোমাকে যখন দেখেছি তখনও ছিলে কতটুকু স্বাভাবিক। তুমি হেসে হেসে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলে। কিন্তু আজ, তুমি পারলে না।

মা, তোমার মনে আছে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময়ের কথা। সেই সময়গুলোতে আমি সারাক্ষন পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। খুব কমই বাড়ী আসতে পারতাম। যখনই বাড়ী আসতাম তখন তুমি তোমার সাধ্যমত আমার পছন্দের রান্নাগুলো করার চেষ্টা করতে। টিউশনি করেই আমাকে চলতে হত। পড়াশুনা আর টিউশনির ফাঁকে যখনই সময় পেতাম তখনই আমি তোমার কাছে ছুটে যেতাম। আমার মাস্টার্সের রেজাল্ট এর পর আমি জানি মা তুমি অনেক অনেক খুশি হয়েছিলে। আমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এর টিচার হয়েছিলাম। মা, এই টিচার হওয়াই কি আমার জন্য কাল হল?

মা, তোমার কাছে দুই দিন থাকার পরই আমাদের ফিরতে হল উত্তরার সেই বাসাতে। আমি নিজ দেশেই পরবাসী হয়ে গেলাম। ওর এককথা তোমাকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে মেয়ের বিয়ের জন্য, মায়ের সেবা করার জন্য নয়। আমি আমার একমাত্র কন্যার বিয়ের জন্য আমার পরিচিতদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে লাগলাম। জান মা, আমি এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে গেলাম। আমাকে ও এই অসুস্থতার মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় পাঠাত। আমার পুরানো বন্ধু বান্ধব থেকে শুরু করে ইউনির কলিগদের কাছে গিয়ে একটা পাত্রের জন্য বলতে লাগলাম। কিন্তু কোথাও থেকে সাড়া পাচ্ছিলাম না। এর মধ্যে তুমি বার বার আমাকে দেখা করতে বলছিলে ।আমি ওকে এটা বলতেই ওর কথা আগে মেয়ের বিয়ে তারপর অন্য কিছু। কি করব, কান্না ছাড়া অন্য কিছুই আমার করার ছিল না।

মা, তোমার মনে আছে যেইদিন আমি রোজ কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম? সেইদিন এটাকে তুমি ভাল চোখে নিতে পারোনি। আমি তোমাদের অগ্রাহ্য করেই বড়লোক হওয়ার আশায় বড় পরিবারে বিয়ে করলাম। আমার বড় হওয়ার আশা আজ আমাকেই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। মা, আমি তো আমার জীবনের শেষ দিনগুলো বাংলাদেশের মাটিতে কাটাতে চেয়েছিলাম। রোজ এর কারনে আমি আজ কানাডার সিটিজেন । অনেক কিছুই আমি পেয়েছি। কিন্তু সবুজ মাঠ এর ধানের ক্ষেত আমি এখানে পাইনি । হয়ত আমার শেষদিনগুলো কানাডাতে কাটাতে হবে। তুমি তো জান, আমি অনেক সহজ সরল ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় এর পড়াশুনা আর অন্য কোন কিছুর দিকে মনোযোগ দেয়ার সময় ছিল না আমার।

মা, অবশেষে আমরা আমার মেয়ের পাত্র পেয়ে গেলাম। ঢাকার এক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ওর সাথে আমাদের প্রথম দেখা হয়। মা, ছেলেটি ছিল আমার মত । একেবারেই সহজ সরল। টুকটাক কথা বলেই আমাদের ছেলেটিকে পছন্দ হল। এই ছেলে পেয়ে তো রোজ খুশিতে আদখান। আমার মেয়ের সাথে ছেলেটির কথা বলার ডেট ঠিক করলাম। ওরাও বসল একটি চাইনিজে । কিন্তু না, ছেলে তো আমার মেয়ের সাথে কথা বলে বেকে বসল। যাও একটি ছেলে পেলাম, সেও আবার বেকে বসল। এই দিকে তোমার কাছে যাওয়ার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে গেলাম। এবার ছেলেটির সাথে কথা বলার দায়িত্ব দেয়া হল ওদের মামাকে। তিনি সেই পরিবারের সাথে কথা বললেন। হা, আমাদের তাড়াহুড়া আর বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রাজি করানো হলো। যেদিন আমি, আমার ছেলে এবং ওদের মামা মিলে ওদের বাড়ী গেলাম সেদিন যাওয়ার সময় আমি দেখে গেলাম আমার মেয়ে কম্পিউটারে কি যেন লেখছে। আমি প্রচন্ড দু:খে শুধু এই টুকুই বল্লাম, আমরা বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে ভালটাই নিয়ে যাব।

জান মা, আমার মেয়ের জন্য অনেক অনেক পাত্র খুজেছি। কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, লন্ডন কোথাও আমরা ওর জোড়া মিলাতে পারিনি। এবারকার ছেলেটির সাথে আমি বেশি কথা না বললেও আমার ছেলে ও তার মামা কথা বলেছে। তারা যেকোন মূল্যে এই রকম সহজ সরল ছেলেকে চায়। যাতে আমার মত করে তাকে ডমিস্টিক করে রাখতে পারে। মা, আমি মনে করেছিলাম, আমার মেয়ে অন্তত আমার মত হবে। নিজেকে সৎ হিসাবে তার হবু বর এর কাছে উপস্থাপন করবে । তার সত্যগুলোকে তুলে ধরবে। কিন্তু মেয়েটিও তা পারেনি। অবশেষে অনেক কথা কাটাকাটির পর আমরা বিয়ে ঠিক করলাম। তাও আবার এক সপ্তাহ পর। এর মধ্যে যা কিছু করার সবই করতে হবে। সব আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত দেয়া। বিয়ের কেনাকাটা, কত কি কাজ? তোমার সাথে দেখা করার ছুটি তো আমি পাচ্ছি না।

হা, আমার মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলাম। সহজ সরল সেই ছেলের সাথেই আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিলাম। রোজ এতে যে কি পরিমান খুশি হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিয়ের পরের দিনই আমার ছুটি । আমি ছুটি পেয়েও গেলাম। তোমার কাছে এসে দেখি তোমার অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ হয়েছে। তুমি আগের মত একটু আধটু কথাও বলতে পারছিলে না। শুধু হাতে ইশারায় আমাকে কাছে টেনে নিয়ে চুমু খাচ্ছিলে। আমি তোমাকে ঢাকা নিয়ে আসব সেটা করারও সময় নাই। কিই বা করতে পারি আমি। আজ যদি রোজ এর মা অসুস্থ থাকতো তাহলে সে ঠিকই বড় কোন হসপিটালে তার মাকে ভর্তি করত। কিন্তু আমি তোমার পাশে বসে বসে গুলোকোজ এর পানি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারছি না। মা, তুমি হাতের ইশারায় আমার মেয়েকে আর তার জামাইকে দেখতে চাইলে। পরদিন সকালে ওদেরকে আমি নিয়ে আসলাম আমার বাড়ীতে। তুমি আমার নববধুর বেশে মেয়েকে দেখলে তার সাথে সাথে দেখলে আমার মেয়ের জামাইকে। তুমি আমার মেয়ের জামাইকে জড়িয়ে ধরলে। ধরার পাশাপাশি তোমার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছিল। তুমি বুঝতে পারছিলে, তোমার মত আরেক মায়ের বুক খালি হচ্ছে। হায়রে দুনিয়া, এভাবেই কি দিনের পর দিন মায়েরা তাদের সন্তানদের হারাবে!

তোমার অন্তীম সময়গুলোতে আমি তোমার কাছেই ছিলাম। কালেমা পড়ছিলাম আমি। তুমি শুধু চেয়েছিলে। হয়ত আমার মুখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমার ছোটবেলার কথাগুলোই ভাবছিলে। মা, তুমি চলে গেলে আমাকে ছেড়ে। আমার আত্মার সম্পূর্ণ আবেগকে উজার করে আমি কেদে উঠলাম।মা, আমি তোমাকে ভাল কিছু দেখিয়ে বিদায় দিতে পারিনি। আমার মত অযোগ্য ছেলে যেন কোন মা পেটে না ধরে। শুধু দুনিয়ার লোভে পড়ে কোন ছেলে যেন বিয়ে না করে।

মা, আজও আমি ঠিক হতে পারিনি। বাসায় বেশিক্ষন থাকতে পারি না। আমার মেয়ে বাংলাদেশে থাকা স্বামীর জন্য ছল ছল করে চেয়ে থাকে । আমি তার চোখে তোমার সেইদিনের কান্নাগুলো দেখতে পাই। আমি মসজিদে বসে বসে তোমার জন্যই দোয়া করি। রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা...


[এই গল্পটা একান্তই আমার কল্পনার। এর সাথে কারো জীবনের কোন অংশের মিল থাকতেও পারে। কেউ এতে দু:খ পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। ]


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28926939 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28926939 2009-03-20 10:50:32
পিলখানাঃ চায়ের কাপ থেকে জাতীয় সংসদ(শেষ পর্ব) আগের লেখা:

অনেকেই আমার আগের লেখার পর বলতে চেয়েছেন, আর্মি যদি ঘটনার সাথে সাথে আক্রমন করত তাহলে এত পরিমাণ আর্মি অফিসারকে আমাদের হারাতে হত না? আমি আমার সাধারণ জ্ঞানে যা বুঝি তাই আপনাদের বুঝাতে চেয়েছি। আমি শুধু এই টুকু বলতে চাই, যারা পিলখানার হোতা তারা এই প্লানটা অনেক আগে থেকেই করে রেখেছিল। তারা অবশ্যই আর্মি এটাক হলে কি করবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল। বিদ্রোহীদের ছোট করে দেখার কোন কারন নাই। তবে এটা অবশ্যই ভুল হয়েছিল যে, আর্মির কমান্ডোদের ভিতরে পাঠানো হয়নি। অনেকেই মনে করতে পারেন, এতেও তো সংঘর্ষ হতে পারত। এই সংঘর্ষ হলেও তারা ভীত থাকত। এতজন সেনা কর্মকর্তাকে মেরে ফেলার মত ধৃষ্টতা দেখাতে পারত না।

অনেকের মতে, সাহারা খাতুন সেইদিন রাতে গোলাগুলির ভিতর দিয়ে পিলখানা গেলেন। তিনি শুধু সেনা পরিবারগুলোকে রক্ষা করলেন, তিনি সেনা কর্মকর্তাদের কোন খোজখবর কেন নেননি। দেখুন, সাহারা খাতুন ভিতরে ঢুকার অনুমতি পেয়েছিলেন এই শর্তেই যে, জিম্মি পরিবারগুলোকে উনি ও তার সংগের লোকজন বাহির করে নিয়ে আসবেন। তিনি সেনা কর্মকর্তাদের রক্ষার জন্য অথবা তাদের সাথে সাক্ষাতের কোন অনুমতি পাননি। এমন কি পিলখানা থেকে বের হয়ে উনাকে বলতে শুনা গেছে, উনি ভিতরে কোন গুলাগুলির শব্দ শুনতে পাননি। অথচ বাইরে থেকে অনেকেই এমনকি টিভি ক্যামরায় গুলাগুলির শব্দ শুনা যাচ্ছিল। আসলে তিনি গুলাগুলির বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সম্ভবত তাকে বলা হয়েছিল, আপনার কাজ পরিবারগুলোকে রক্ষা করা । ভিতরের অন্য কোন তথ্য আপনি বাইরে দিবেন না।

সেনা কর্মকর্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মিটিং এর অডিও বাইরে চলে আসাটা খুবই হতাশাজনক। নিজেদের ভুল বুঝাবুঝি নিয়ে বাইরে এভাবে বলে বেড়ানো আমাদের দেশের জন্যই ক্ষতিকর।

তিনটি তদন্ত টিম কাজ করছে পিলখানা ট্রাজেডি নিয়ে । নতুন নতুন তথ্য প্রতিদিন বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারছে। তিন তদন্ত আশা করি সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। দেশ ও মাটির শত্রুদের চিহ্নিত করবে।


মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, হে আল্লাহ! এ রকম অরক্ষিত অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মানুষকে তুমি হেফাজত কর। আমীন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28923217 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28923217 2009-03-12 11:35:13
পিলখানাঃ চায়ের কাপ থেকে জাতীয় সংসদ
বাংলাদেশের মানুষগুলোর অন্যতম একটা দোষ । তারা অল্পতেই অনেক কিছু ভুলে যায়। ঘটনার বর্তমান নিয়ে চিন্তা করে। সুদুর প্রসারী কোন চিন্তা করতে পারে না। শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া সব কিছুতেই রাজনীতির গন্ধ পান। রাজনীতি ছাড়া যে অনেক কিছুই পৃথিবীতে ঘটতে পারে তারা তা চিন্তা করতে পারেন না।
২৫ ফেব্রুয়ারীর পর গত দশ দিনে অনেক কিছুই আমাদের কাছে পরিস্কার হয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মিটিং এর ভাষ্যগুলো আমাদের সামনে পৌছে গেছে। অনেকেই অনেক কথা বলছেন। আমি মনে করি না শত আলোচনা পর্যালোচনা করে এর সমাধান সম্ভব।

সেনা কর্মকর্তারা সহ অনেকেই দাবী করছেন। ২৫ তারিখ সাড়ে আটটার কিছুক্ষন পরেই কেন সেনা মোতায়েন করা হলো না।তাহলে এত পরিমান সেনা কর্মকর্তাকে আমাদের হারাতে হত না। আচ্ছা, সেনা মোতায়েন কেন করা হলো না। সেই দিনের ঘটনাটা একটু মনে করার চেষ্টা করুন। সেইদিন সকালে যখন বিডিআর জোয়ানরা সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করল। তখন মিডিয়া সহ সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে বিডিআর প্রধান শাকিল দরবার হলে সবার প্রথমে বিডিআর এর এক সৈনিককে গুলি করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিডিআর জোয়ানরা সবাইকে তাদের দাবী দাওয়া আদায় করার জন্য জিম্মি করে। বিডিআর জোয়ানরা এমনকি রাস্তায় বেড়িয়ে এসেও ব্রাশ ফায়ার করে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ তিন জন পথচারী নিহত হন। বিডিআর জোয়ানরা সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করতে থাকেন । তখন সারা বাংলাদেশের সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্ট ছিল সম্পূর্ণ রূপে বিডিআর এর পক্ষে। সেই সময় যদি সেনা বাহিনীকে আক্রমনের জন্য বলা হত তাহলে পুরা বাংলাদেশে বিডিআর আর সেনাবাহিনীর মধ্যে মারাত্মক একটা যুদ্ধ হওয়ার সম্ভবনা ছিল। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে পিলখানা বিদ্রোহের পর পরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিডিআর জোয়ানরা বিদ্রোহ ঘোষনা শুরু করে। সবচেয়ে বড় কথা সেনা বাহিনী বিদ্বেষী মিডিয়া এমনভাবে খবরটাকে উপস্থাপন করেছে যে, সাধারন মানুষরা বিডিআর এর পক্ষে চলে যেত। স্বাভাবিকভাবে বড় ধরনের একটা গৃহ যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।হ্যা, সেনা বাহিনীর কমান্ডো বাহিনীকে কেন কাজে লাগানো হলো না? চারদিক থেকে সেনা বাহিনী কর্ডন করে রাখতে পারত। আর সেনা বাহিনীর কমান্ডোরা ভিতরে যেতে পারত। সেনা বাহিনীর গোয়েন্দা টিমগুলো কোথায় ছিল?এমন অভিযোগও আছে গোয়েন্দাদের অস্রগুলোও ব্যবহৃত হয়েছে এই বিদ্রোহে। কেন তাদেরকে ধরা হচ্ছে না?
(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28920638 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28920638 2009-03-06 09:41:34
কি আশ্চর্য!
কিছু দিন আগে ওরা যাবে সার্ক ট্যুরে ।ভাইয়া, আমাকে একটা স্পন্সর মেনেজ করে দাও না। আমি স্পন্সর পাব কোথায়? স্পন্সর না হলে তো যাওয়া যাবে না। তুমি তোমার বন্ধুদের বলে দেখ না, কি করা যায়? আমি আমার চেষ্টা করে গেলাম। কিন্তু স্পন্সর ম্যানেজ করতে পারলাম না। ওকে পাসপোর্ট করতে বল্লাম। কয়েকদিনের মধ্যে পাসপোর্ট হয়েও গেল। কিন্তু বিধিবাম, মোম্বাই এর বোমা হামলার কারণে ইন্ডিয়াতে ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া বন্ধ। দেশেই ট্যুর করতে হবে। কোন উপায় নাই। ডিপার্টমেন্ট থেকে ঠিক হল রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন যাবে । ওর একই কথা এই মেয়েগুলোর সাথে এক সপ্তাহ থাকতে হবে। আমি বল্লাম --মন চাইলে যাও। এ রকম সুযোগ আর পাবা না।

ও গেলও সেই ট্যুরে। ট্যুর থেকেই, সে কি গল্প। আমরা আজকে রাঙ্গামাটি যাচ্ছি। সারারাত জার্নি করেছি। খুব সু্ন্দর জায়গাটা। ভাইয়া জান, আমাদের এখানে লুডু ম্যাচ হচ্ছে। আমি এখনও টিকে আছি। ফাইনালে এক স্যারের সাথে খেলা হবে। সবাই বলছে খেলাতে হেরে যেতে ।তাহলে বিষয়টি নিয়ে আরও মজা করা যাবে। কিন্তু সে সেই স্যারকে হারিয়ে দিয়ে জিতে গেল। ভাইয়া জান, আমি লুডু খেলায় ফার্স্ট হয়েছি।পুরস্কার হিসাবে পেয়েছি একটি সুটকি মাছ আর লুডু খেলার ঘর। ভাইয়া, সুটকি মাছ তো আর এভাবে আনা যাবে না। তাই এটাকে কাটাকুটা করলাম। এটা করতে করতে আমার জান শেষ।<img src=" style="border:0;" />

ওরা সুন্দর ভাবেই ফিরে আসল ঢাকাতে। এখন ওর ভিতরে একি পরিবর্তন! ওকে একবার হলে সিট মেনেজ করে দেয়ার পরও সেই উত্তরা থেকে সে নিয়মিত ক্লাস করে । আর ও কিনা কালকে আমাকে ফোন করে বলছে, আমি হলে থেকে গেলাম। ঝুমু আমাদের রান্না করে খাওয়াবে। কোন চিন্তা করতে আম্মা কে নিষেধ করে দিও।শুধু সেটাই নয়, ও ট্যুর এর পর এক দিনের জন্য ইউনি মিস দেয়নি । সবাই তো অবাক! এই মেয়ে এত নিয়মিত হল কিভাবে!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28911574 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28911574 2009-02-15 13:37:24
আপনি, তুমি , তুই


সাধারনত সম্মানিত ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কের শুরু আপনি দিয়েই। অফিসিয়াল ভাষাও হয় আপনিতে। বাপের বয়সি লোকটিও আপনাকে অফিসিয়াল নিয়মের কারণে আপনি করে বলতে বাধ্য।

আর তুমি কথাটি আপনদের মধ্যেই হয়ে থাকে। বন্ধুত্বটা শুরু হয় তুমি দিয়েই। প্রিয়জন বড় হলেও তাকে অনেকে তুমি করে বলে আন্তরিকতা দেখিয়ে। বাপ-মাকেও অনেকে তুমি করে বলে আদর করে।

আর একান্ত আপন ভাই বোনদের তুই করে বলি আমরা। তুই শব্দ মনে হয় একান্ত আপনদের জন্য।

ভুল করলাম না তো। আর হ্যা, আমরা তুই শব্দটি ব্যবহার করি তুচ্ছ করার জন্য। রাস্তার টোকাইটাকে আমরা কি বলি? তুই না তুমি। তুই , তুই ই তো বলে থাকি। তাকে তুচ্ছ করার জন্য বলি। তাকে তুমি কি করে বল্লে, অসুবিধাটা কোথায়?


আমার বন্ধুদের দেখেছি রিক্সা চালককে তুই করে বলছে। "এই খালি, তুই যাবি।" "এই
কার্জন হল যাবি।" "তুই এত বাড়া চাস কেন?" ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকে বাপের বয়সি লোককেও তুই করে বলতে দ্বিধা বোধ করে না। সেদিন এক রিক্সা চালক দু:খ করে বলছিল, তাকে তার ছেলের বয়সি ছেলেরা তুই করে বলে। তিনি বললেন তার বয়স ৪৮ বছর। ইন্টার পর্যন্ত পড়াশুনা করেছিলেন। বিভিন্ন কারণে উনি আজ রিক্সাচালক। যাই হোক, উনি আক্ষেপ করলেন আজকের ছেলেদের নিয়ে। আমি তাকে আপনি করে বলার কারণে উনি খুব খুশি হলেন।

লোকজনদের একটু শ্রদ্ধা দিয়ে কথা বললে সমস্যা কোথায়?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28788813 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28788813 2008-04-17 22:59:14
আমার বোনটি অসুস্থ। দোয়া চাই?


তার লেখার হাত দারুন। ও প্লান পেগ্রাম করে রেখেছিল এ সুস্থ হয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর লেখা উপহার দিবে আপনাদেরকে। ব্লগে ও এসেছে বেশি দিন হয়নি। যা লেখে তাই দারুণ। অসম্ভব পরিছন্ন লেখা।

ডাক্তারের ওপর নয় আল্লাহর ভরসা করতে বলেছি তাকে। ডাক্তার বলেছে ওর একমাস লাগবে । আল্লাহ তুমি আমার বোনকে দেখ।

আপনারা সবাই দোয়া করবেন তার জন্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28787509 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28787509 2008-04-13 20:49:05
সংস্কার না সংশোধন--- কোনটির প্রয়োজন?
একটু ভাবুন তো, আপনার ছোট ভাইটি যদি আজ মাদকাসক্ত থাকত তাহলে আপনি তাকে নিয়ে কি করতেন।অবশ্যই আপনি তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যেতেন। আপনি নিশ্চয়ই চাইতেন, এই নিরাময়কেন্দ্র থেকে একজন ভাল মানুষ আপনার ছোট ভাইটি ফিরে আসুক।

কিন্তু রাজনীতিবিদদের সংস্কার এর নামে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি। তাদেরকে দলে দলে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। তাদের সংস্কার এর কথা বলা হলেও সংশোধন এর কথা বলা হচ্ছে না। কিন্তু নিরাময় কেন্দ্রের মত তাদেরকে যদি সংশোধন করা হত তাহলে কতই না ভাল হত।

আচ্ছা, দেশে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তো আকাশ থেকে ফেরেস্তা নেমে আসবে না। আমাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব দিবে কেউ না কেউ। আগামী নির্বাচনে জেলে থাকা বা বাইরে থাকা রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন আগামী দিনের নেতৃত্ব তাহলে কেন আমরা তাদের সংশোধন করার কথা ভাবব না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28787494 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28787494 2008-04-13 20:02:01
ম্যাক এর ওয়ার্ড ফাইল এক্সপিতে দেখব কিভাবে?
কারো কাছে কি এর কোন কনভার্টার আছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28785948 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28785948 2008-04-07 22:22:59
আমার ছোট বেলা

ছোট বেলায় অনেক দুষ্টু ছিলাম । অনেক বন্ধু বান্ধুব থাকলেও সাত জনের একটা গ্রুপ ছিল আমাদের। ক্লাস ওয়ানে পড়া অবস্থায় সাত জনের একটা গ্রুপ। <img src=" style="border:0;" /> শিশু আর ওয়ানের ছেলেদের তারা করে বেড়ানো। এক সাথে স্কুলে যাওয়া আর একসাথে ক্লাসে বসা। পড়াশুনা না মনে হয় দুষ্টামি করতেই যেতাম স্কুলে।

একবার ক্লাস থ্রী এর এক বড় ভাই আমাদের একজন কে মাইর দিল । আর যায় কোথায় সবাই মিলে সেই বড় ভাইকে মাইর। ছোট বেলার মাইর চড় থাপ্পর ছাড়া আর কিছু না।

দিদিমনি আপা আমাদের শিশু শ্রেনীতে পড়াতেন। খুব আদর করেই পড়াতেন আমাদেরকে। সেই দিদিমণি আপাকে আজও দেখি স্কুলে গেলে। কয়েক বছর আগে খবর পেলাম, বিখ্যাত সন্ত্রাসী বিকাশ এর সহযোগি দিদিমণি আপার ছেলে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। আপা এত কষ্ট করে বাচ্চাদের মানুষ করেন তার ছেলেই মানুষ হল না।


এখন আমার বন্ধুরা এক একজন একেক জায়গায়।এলাকায় গেলে অনেকের সাথে দেখা হয়। কারো সাথে কথা হয় আর কারো সাথে কথা হয় না। কিন্তু সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28777411 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28777411 2008-03-08 12:19:36
ল্যাপটপ কিনব। সাহায্য চাই।
আমার বাজেট ৪০০ থেকে ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ।

ইবে থেকে কিনতে হবে। ছোট ভাইয়ের হাতে সময় নাই । তাই আপনার সহায়তা দরকার।
(মোটামুটি মানের ল্যাপটপ হলেই চলবে।)
উল্লেখ্য, কোন ব্রান্ড ভাল আর কোনটা খারাপ আমি সেটা জানিনা।

সাহায্য করুন প্লীজ।

পারলে ওয়েব লিংক দিয়ে দিবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28777271 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28777271 2008-03-07 20:58:48
দেখার মত ক্যাম্পাস... " style="border:0;" /> । পাহাড় টিলার শহর চট্টগ্রাম। বিশাল পাহাড় কেটে কি সুন্দর করে রাস্তা বানানো হয়েছে। না দেখলে বিশ্বাস হবে না।


সবচেয়ে ভাল লেগেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এবারেই প্রথম চবি গেলাম। চমৎকার ক্যাম্পাস । পাহাড়ে ঘেরা ক্যাম্পাস। বিশাল বিল্ডিং এর ফ্যাকাল্টি আসলেই দেখার মত। ড. ইউনুস ফ্যাকাল্টি তো আছেই।

চট্টগ্রামের সাটল ট্রেন দেখার মত। একটার ট্রেনে উঠতে এসময় ফোন দিলাম জাহিদ ভাইকে। ওনার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি আর তার সাথে কথা হবে না তা তো হতে পারে না। ফোন করার সাথে তার জিজ্ঞাসা--- তার ছোট ভাই এর সাথে দেখা হয়েছে কিনা। ওমা একেবারে ভুলেই গিয়েছিলাম। পরে মানসুরকে ফোন দিয়ে তার সাথে দেখা করলাম রব হলে গিয়ে। খুব লাজুক ছেলে।খুব ভাল লাগল তাকে।

দুইটার দিকে আবার শাটল ট্রেনে। হেটে হেটে ট্রেনে ইস্টেশনে এলাম। এখানকার স্টুডেন্টরা হাটতে পারে বটে। বাংলাদেশে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে যাতায়াতের জন্য ট্রেন। ভালই লাগল ট্রেনে উঠে। ছেলেগুলো গান গুলো মন কেড়ে নিল। ঘুমাতে ঘুমাতে আর গান শুনতে শুনতে চলে এলাম চট্টগ্রম শহরে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28767356 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28767356 2008-02-05 21:37:55
কার্টুন ও পিচ্চিরা...
একটু বড় হওয়ার পর বাচ্চাদের অনেক খেলা করতাম। যাই হোক, গতকাল গিয়েছিলাম বড় ভাই এর বাসায় । তার কিউট বাচ্চাটার দেখলে খুব ভাল লাগে।

বাচ্চাটার কম্পিউটার নষ্ট । আসলে নষ্ট নয়, তার সিডিটা কাজ করছে না। তাই আমার ডাক পড়ল। বাচ্চাটার মন খারাপ। আমি কম্পিউটার নিয়ে নাড়াচাড়া করছি আর ও বলছে "হাতিম"। মানে ও হাতিম নামে বাচ্চা দের একটা সিডি আছে সেটা দেখতে চাচ্ছে । ১৮ মাসের বাচ্চা এবয়সে এ বি সি ডি শিখেছে শুধু সিডি দেখেই। খুব ভাল লাগল তার এ বি সি শুনে। কিন্তু তার হাতিম সিডিটি আর চালানো গেল না। ও ওইটাতে হাত দিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। খুব খারাপ লাগল তার জন্য । দোকান থেকে ওর জন্য সিডি নিয়ে আসব এই আশ্বাস দিয়ে বিদায় হলাম ওদের বাসা থেকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28762170 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28762170 2008-01-18 19:49:05
পড়াশুনা ...

কিন্তু ইউনিতে উঠে দেখি বিশাল মোটা মোটা ইংরেজী বই। আবার তার ফটোকপি ভার্সন। আর বাংলা বই পাওয়া দুরুহ। স্বশিক্ষিত হওয়া মনে হয় দুরুহ।

ভাষা বুঝতে বুঝতে ফাস্র্ট ইয়ার শেষ? ইংরেজীতে বই না হলেই কি নয়?

কম্পিউটার এর বাংলা বই যা পেলাম তা অনেকাংশেই অখাদ্য। কি করনীয় ইংরেজী ছাড়া উপায় নেই?

কয় দিন আগে সাইফুর'স এ ফনেটিকস এর ক্লাস করলাম।A,B,C... উচ্চারন শোখানো হলো প্রথম ক্লাসে।পুরো ক্লাসে প‌্রাকটিস করতে করতে মুখ ব্যথা হয়ে যেত। ক্লাস করার সময় আমার ছোট বেলার আরবী শেখার কথা মনে পড়তো । হলকের শুরু হইতে হামযা, হা .....। তারাও তো ফোন শেখায় । আরবী ফোন।

এখনও অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়তে বসি। অনেক শেখার আগ্রহ। প্রাকটিক্যাল শেখার আগ্রহ। কিন্তু বিধিবাম অনেক ধরনের ফোরাম পাওয়া যায় শেখার জন্য । কিন্তু কম্পিউটার শেখার বাংলা ফোরাম তেমন নাই। ফলাফল ইংরেজীর ধারস্থ হওয়া।
জাপানী, হিন্দি, জার্মানী বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন ফোরাম থাকলেও বাংলায় কোন ফোরাম নেই।

কিন্তু অনেক ভাল ভাল প্রোগ্রামার আছে বাংলাদেশের। আমরা এক হয়ে একটা বাংলা প্রোগ্রামিং ফোরাম করতে সমস্যা কোথায়?আসুন না একবার নতুন করে ভাবি... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28760040 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28760040 2008-01-11 15:05:23
বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলায় মানুষ কত কাজে আসে । কেউ কিছু কিনতে , আবার কেউ দেখতে আবার কেউ সুন্দরী মেয়েদের দেখতে। গেইটে ঢোকার সময় দেখলাম কিছু বখাটে ছেলেকে এ ধরনের কমেন্ট করতে।

যাই হোক,যার পর নাই ঢুকে গেলাম বাণিজ্য মেলায় । এখানে স্টলগুলো চমৎকারভাবে সাজানো।

সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করল ইরানী স্টলগুলো। মাগরিবের আযান পড়ায় নামাযের জন্য গেলাম মসজিদে। নামায পড়তে গিয়ে দেখলাম সেখানে মেয়েদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে ঢাবির মত জায়গায় মেয়েদের আলাদা ব্যবস্থা নাই সেখানে এ ধরনের ব্যবস্থা আসলেই প্রশংসার দাবিধার।

আমেরিকার চ্যালেঞ্জ শিরনামে ওয়েলকাম কসমেটিকস এন্ড ক্যামিক্যাল লিমিটেড এর আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন এর পাশাপাশি আছে এর সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা। তারা পণ্য বিক্রির চেয়ে কথা বলতে আগ্রহী। বাণিজ্য মেলায় সেলস ওম্যানদের দেখে বুঝার উপায় নাই বাঙালী নারীরা কনজার্ভিটিভ।

বাণিজ্য মেলায় থেকে তো কোন কিছু কেনা হল না। বাণিজ্য মেলা থেকেও বেরিয়ে গেছি। রাস্তায় একজন লোককে দেখলাম পাটি বিক্রয় করছে। তার কাছ থেকে ত্রিশ টাকায় একটা পাটি কিনে রওনা দিলাম বাসার দিকে। সস্তায় বাণিজ্যমেলার কেনাকাটা। হা হা হা....


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28759980 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28759980 2008-01-11 08:25:37
ঈদের এসএমএস
শুভেচ্ছা রাশি রাশি
গরু না খাসি?
টিক্কা না ঝালফ্রাই?
এনটিভি না চ্যানেল-আই?
রিলাক্স না বিজি?
শাড়ি না শার্ট?
Wishing from heart ...
EID MUBARAK
------------------------------------

Go out the room,
Trees r dancing,
Sun shining,
the environment want to say
TODAY IS EID DAY.
So "EID MUBARAK".
--------------------------------------------------

বাকা চাঁদের হাসিতে
দাওয়াত দিলাম আসিতে
আসবে কিনা বাড়িতে,
খেতে দিব হাঁড়িতে।
আসতে যদি নাও পার,
ঈদ মোবারক গ্রহণ কর।
অপ্রকাশিত: বাড়ির ঠিকানা দিব না।
------------------------------------------

আপনাদের গুলোও শেয়ার করতে পারেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28753420 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28753420 2007-12-23 20:07:51
বিবেক দংশিত একটি দিন
সেই দিন নীথর হয়ে বসে থাকলাম। নির্বোধ এর মত বসে থাকা ছাড়া আমার কোন উপায় ছিল না। উপায়হীনতার উপলব্ধি আমার জীবনে কম নয়। কিন্তু এ অন্য রকম উপলব্ধি। মানুষ এত নির্মম হতে পারে। মৃত প্রায় একজন মানুষের উপর লাফিয়ে উঠতে পারে। মানুষ এত নির্মম কিভাবে হতে পারে!


হাঁ, আমি আপনাদের ২৮ অক্টোবর এর কথাই বলছি। গত বছর এই দিন ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল এই দিন। কোন মানুষের অপরাধ থাকতে পারে তাই বলে প্রকাশ্যে এভাবে মানুষকে পিটিয়ে মারার ইতিহাস এই প্রথম। বনি আদমের রক্তে স্নাত হল বাংলাদেশের রাজপথ।


আজো চোখের সামনে ভাসে ফর্সা মুখের স্টার্মটোর্ড এর ছাত্র মুজাহিদ এর ছবি আর তার মার আর্তি --কেন আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে? নিহত মাসুম এর ছবি। হাবিবুর রহমান এর লাশ । লোকটিকে হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তারা লোকটিকে নিজেদের লোক বলেও চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। হায়রে, বাংলাদেশের আওয়ামী তথা চৌদ্দ দলের মানবতা!!

আমি আমার অনেক আওয়ামী বন্ধুকে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে দেখেছি। কিন্তু হাসিনা আপা তো সেইদিন এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন না। একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে অন্তত এর জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল।

মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকতে পারে তাই বলে এভাবে মানুষকে পিটিয়ে মারাকে কোন আদম সন্তান সমর্থন করতে পারে না।


ধিক্কার সেইদিনের নরঘাতক দের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28740242 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28740242 2007-10-27 11:51:46
একটি সমস্যা??Disk Knight F11চাপলে এটি Disable হয়। কিন্তু যখনই কোন পেন ড্রাইভ আমার কম্পিউটারে ঢুকানো হয় তখনই আমার কম্পিউটারে চলমান সব program বন্ধ হয়ে যায়।

কারো কি এর সমাধান জানা আছে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28734270 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28734270 2007-09-28 23:15:43
জিমেইল এ ঢুকতে পারছি না।
আপনারা কি মেইল চেক করতে পারছেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28730037 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28730037 2007-09-08 10:45:44
রাম আমার ভাই, রহিমও আমার ভাই। একটা সত্যি ঘটনা বলেই শুরু করি।
কোরবানীর ঈদ আমরা বন্ধুরা সবাই একত্রিত হলাম। বন্ধুদের মধ্যে হিন্দু মুসলমান সবাই আছে। সবাই মিলে একত্রিত হওয়ার সুযোগ কে হাত ছাড়া করতে চায়।
সোহেল, আমিনুল, সুমন ঘোষ, আনোয়ার আর আমি। সবাই গল্প করতে করতে গেলাম হুমায়ুন স্যারের বাসায়। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ।তিনি আমাদের আপ‌্যায়ন করতে ভুললেন না । কিন্তু সমস্যা হল, সুমন কে নিয়ে ? ও তো আর গরু খেতে পারবে না।
স্যার জানেন তাই খাবারটা পরিবেশন করলেন সেই ভাবে। কিন্তু বিপত্তি বাধালেন এক আংকেল। তিনি বললেন, গোস্ত খাবে না কেন? কোরবানীর সময় একটু গরুর গোস্ত খেলে কিস্যু হয় না।

অনেক কষ্টে সেই আংকেল থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। যাই হোক এবার আসি মূল আলোচনায়-

আমাকে অনেকেই একথা বলেছে হিন্দু তথা অমুসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না। আমি এ কথাকে যখন কোন পাত্তাই দিলম না তখন এ আয়াতটি আমার সামনে আনা হল।


"হে মুমিনগণ. ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলো সে তাদেরই একজন হবে। আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালনা করেন না।" সূরা মায়েদার ৫১ নং আয়াত

এর পরই আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তুমি কোরআন মান না। তবে, তুমি কিসের মুসলমান?
প্রথমে খুব কষ্ট হত এটা মানতে। আসলেই এটা হতে পারে না। তার সাথে মুসলমান কেউ না মিশলে সে বুঝবে কিভাবে মুসলমানরা কেমন?
অনেক দিন পর এর উত্তর পেলাম--
আল্লাহর এই নির্দেশ এমন সময় নাজিল হয়েছিল, তখন ছদ্মবেশী মুনাফিকরা ইহুদী-নাসারাদের সাথে ষড়যন্ত্র করছিল এবং কোন যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে যোগদানের ষড়যন্ত্র করছিল
এবং কোন যুদ্ধ-পিরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে যোগদানের ষড়যন্ত্র করছিল। মুসলমানদের যুদ্ধরত প্রতিপক্ষের সাথে সম্পর্কের নীতি হিসেবেই আল্লাহ এই আদেশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে এই নীতি অবশ্যই পালনীয়। এই নীতি সব সময় সব ক্ষেত্রে পালনীয় হবে না তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলে দিয়েছেন।

আল-কুরআনের সূরা 'মুমতাহানা'র ৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-
'আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, তারা দীনের (বিশ্বাস ও ধর্মের ) ব্যাপারে তোমাদের সাথে কোন যুদ্ধ করেছে, তোমাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তোমাদের বহিষ্কারে সাহায্য করেছে। তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে তারা তো জালিম।'

আল্লাহর এই আদেশে দেখা যাচ্ছে , মুসলমানদের ধর্ম এ বিশ্বাসের সাথে যারা যুদ্ধ করেনি, বৈরিতা করেনি এবং যুদ্ধ এ বৈরিতায় সাহায্য করেনি এবং যুদ্ধ এ বরিতায় সাহায্য করেনি, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়নি। আর কারো সাথে এবং কোন জাতির সাথে বন্ধুত্ব এ শত্রুতাকে আল্লাহ স্থায়ী বিষয়ও করেন নি।

আল্লাহ সূরা 'মুমতাহানা'র ৭ নং আয়াতে বলেছেন, 'যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে সম্ভবত আল্লাহ তাদের ও তোমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।'


আপনারা সবাই জানেন ,আল্লাহ দীনকে তার বান্দাদের জন্য সহজ করেছেন, কঠিন করেননি। আর আল্লাহ কুরআন নাজিল করেছেন ইহুদী নাসারাসহ সকল মানুষ এর জন্যে। কারও সাথে যুদ্ধমান পরিস্থিতি না থাকলে তার কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে। সুতরাং এ ধরনের সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন বা স্বাভাবিক সম্পর্ক অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

তাই আমি বলি-"রাম আমার ভাই, রহিমও আমার ভাই।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28725849 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28725849 2007-08-15 08:59:36
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য বরিশাল আসছি ফেরিতে করে। চুপচাপ বসে আছি বাসের ভিতর।হঠাৎ শোরগোল শুরু হল। পিছনে তাকিয়ে দেখি উত্তাল নদীতে একজন মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছে। মানুষটা ফেরীর একবারে কিনারে দাড়িয়ে ছিল। অসাবধনতা বশত ফেরী থেকে পড়ে গিয়েছে।

ফেরীটাকে পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হল। কিন্তু বিপদ হল, ফেরী যত কাছে যাচ্ছে লোকটি আরো দুরে সরে যাচ্ছে ।


অবশেষে একজন ছেলে সাহসীকতা দেখিয়ে নদীতে নেমে গেল। আর লোকটিকে নদী থেকে টেনে তুলল।

না লোকটি কোন পানি খায় নি। বুড়ো মানুষ একটু ভয় পেয়েছিল। আমি হলে পানি খেয়ে মরেই যেতাম!

আর ছেলেটাকে ঘিরে ধরল সবাই। কি নাম, কোথায় থাকে ইত্যদি ইত্যাদি।
ছেলেটি বরিশালেই বাসা ডাক নাম শাহিন। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে.......
(শেষেরটা শাহিনের ছবি )


ধন্যবাদ শাহিন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28725577 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28725577 2007-08-13 20:40:47
সুমি -- "আমি মুক্তিযুদ্ধার সন্তান, এটাই আমার বড় পরিচয়।"
সুমি আপু আপনাকে বলছি, আপনার মুক্তিযোদ্ধা ব্লগার(!) দের কথা অনুযায়ী না চলে, আমার পোস্টটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।


আপনার পোস্টটা পড়ে আমার মনে হয়েছে আপনি আমার মন্তব্যটি মনোযোগটি ভাল করে পড়েন নি।
তাই মন্তব্যটি আবার দিলাম।

"পাশা বলেছেন :
২০০৭-০৭-৩১ ১৭:২৮:৩৮

সুমি,
একাত্তর এর ছবি দিয়ে ব্লগ গরম করার মানে কি? আপনার কাছে কি বর্তমানের কোন ছবি নাই?
মুক্তিযুদ্ধা সার্টিফেকেটধারীরা যখন মা বোনদের ধর্ষন করে তখন কেন আপনি এধরনের পোস্ট দেন না?

৭১ ও বর্তমানের এর ভিতর কোনটি আপনার কাছে
গুরুত্বপূর্ন । আমার কাছে কোনটিই খাট নয়।

কোন মেয়েকে যখন ছাত্রদল অথবা ছাত্রলীগ এর সোনার ছেলেরা টিজ করে, তখন কেন আপনি কোন কথা বলেন না।

আবার শুনতে চাই না, সেঞ্চুরী হাকানোর গল্প।"

আপনি মনে হয়, সেঞ্চুরী করা মানিক(জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) এর কথা ভুলে গেছেন। "সেঞ্চুরী হাকানোর গল্প" বলতে এটাই বুঝাতে চেয়েছি। সে তো ছাত্রলীগের সোনার ছেলে(!) ছিল, তাই না?


এবার আসুন আপনার প্রশ্ন উত্তর গুলো নিয়ে আলোচনায় আসি---
"পাশা ভাই কে আমি বলেত চাই--
প্রথমে আপনাকে বলি এটা কোন গল্প নয়--
হয়তো আপনার মা খালারা আপনাকে বলেছে ৭১ মানে গন্ডোগোল ৭১ রূপকথা তাই না--

যদিও আপনি আমাদের মহান স্বাধীনতা কে গল্প ভাবতে পরেন। আমরা পারিনা---

২য় প্রশ্নটার উত্তর হল---
আমার লেখাটার বিষয় বস্তু হল যুদ্বাপরাধীরদের বিচার চাওয়া---

একটা বিষয় আমি লক্ষ করলাম আপনি ৭১ কে সম্পূন্য ভাবে এড়িয়ে গেলে খোড়া একটা যুক্তি দিয়ে--

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আড়াই লাক্ষ নারীকে লাঞ্ছিত করেছিল-সেই বিষয়ে তো আপনি কোন কথা বলেন না---
বলেন বর্তমানের বিচ্ছিন্ন কতেক ঘটনার কথ যা ৭১ এর চেয়ে কি আমাদের জন্য শোকের কিছু--
এ দেশে যদি কোন নারী লাঞ্ছনারকারীর বিচার হতে হয় তাহলে ---
আগে সেই পশুদের বিচার আগে হওয়া জরুরী---"

আমি মুক্তিযুদ্ধকে গল্প বল্লাম কোথায়(!) দেখান?

আমি আমার মুক্তিযুদ্ধা বাবার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি। আপনি হয়ত, গন্ডোগোলের গল্প শুনতে পারেন?

আপনি বলেছেন, "আপনার লেখার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার চাওয়া।"
ভাল কথা, আমি আপনার সাথে একমত। যুদ্ধ অপরাধীদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। কিন্তু যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে ব্যবহার করেছে, তাদের বিচার করবে কে?

৭১ থেকে বর্তমানকে খাট করে দেখার মানে কি? সুমির বোন অথবা আমার বোন আজ যদি ধর্ষিত হয়, তাহলে কোনটার আগে বিচার করা জরুরী?আজকের টা না ৭১ সালের টা?

কোন মেয়ে যদি নির্যাতিত হয় তখন আমার একটি কথাই মনে হয়, এই মেয়েটি তো হতে পারত আমার বোন।আপনারা কে কি ভাবেন সেটা আমি জানি না।
সুমি আপনার কাছে মেয়েদের ধর্ষিত হওয়াকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হতে পারে কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাবেশী রাজাকাররা যখন আমার বোনকে ধর্ষন করে, তখন আমি অন্তত তাদের বিচার আগে চাইব?


মহান মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পরও কেন আমার বোন রাতের বেলা নিশ্চিন্তে বাসায় ফিরতে পারে না। এটা কি রাজাকারদের ষড়যন্ত্র? নাকি সোনার ছেলেদের কাজ?

আপনি আবার বলেছেন---
""৭১ ও বর্তমানের এর ভিতর কোনটি আপনার কাছে
গুরুত্বপূর্ন । আমার কাছে কোনটিই খাট নয়।"

এ প্রশ্নটা করা আপনার সাজে কেননা আমি আপনার ব্লগে ঘুরে আসলাম--
৭১ অথবা বর্তমান বাংলাদেশ নিয়ে কোন লেখা পেলাম না---"

আপনি মনে হয় আমার এ লেখাটি পড়েন নি।

"তারাই বর্তমানের কথা বলে ৭১ এর স্বাধীনতার সংগ্রাম কে ঢেকে দিতে চায় য়ারা আমাদের স্বাধীনতার চরম শত্রু--
আজ না হউক শত বছর পর হলে এদর বিচার হবে--
বিচার না হলেও ক্ষতি নেই কেননা এদের কপালে যে কালিমা লেপে দেওয়া হয়েছে তা আর কখনো মুছার না-- তবে এদের বিচার না হওয়া টা দুঃখজনক--"

যারাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাণিজ্য করতে চায়, তারা দেশের শত্রু। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার। তাই বলে একটা ছবি আর কয়েকটি লেখা দিয়ে পোস্ট মারার মানে কী?
(পরে আবার উদাসী স্বপ্ন এর কথা শুনে ছবি পাল্টিয়েছেন।)

কয়েকজন ব্লগার আবার নিজেদের রাজাকারী চরিত্র ঢাকার জন্য আমাকে রাজাকার বলে গালি দিয়েছেন।
শুনুন-- "আমি মুক্তিযুদ্ধার সন্তান, এটাই আমার বড় পরিচয়।"





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28723968 http://www.somewhereinblog.net/blog/itispasablog/28723968 2007-08-03 00:07:46