somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আকাশ ও অতীতের বিক্ষোভ আমুদরিয়ার ঢেউ ভাঙার গানে সূর্যাস্ত আর কোলাহল
পৃথিবীর সকল অষ্টাদশী মহাকাশের হাতছানি মাড়িয়ে
এই ধুলি-বাতাস-কুয়াশা-কোলাহলের কুহক সন্ধ্যায়
মিকেল্যাঞ্জেলোর কারুকাজের মতো তুমি সুস্থির, বাঙময়

আমার বুক পকেটে কিংবা চোখের নোনতা উপকূলে
এখনও ধোঁয়াটে প্রত্ন-পথিক, উচ্ছ্বল শব্দ-সানাই
আর লাল মলাটে জড়ানো নির্ভুল কষ্টের স্বরলিপি
একদিন আকাশ আর আত্মার সমস্ত দুয়ার খুলে
হারিয়েছিলাম হেমলক-শরাবের একক মরুদ্যানে

তুমি হয়তো ভেসে আসো ভীষণ নিজস্ব সন্ধ্যায়
দরিদ্র ধুম্র-কুয়াশা-পৌষের গোপন কষ্টে চপেটাঘাত করে
আদিম অশরীরির মতো হেঁটে যাও নির্জন ভবিষ্যতে
তবু তোমাকে নিমন্ত্রণ আমুদরিয়ার দক্ষিণ জানালায়
প্রাচুর্য দেরাজ চষে এক ফোঁটা অবসর চুরি করে
তুমি দেখে যেও সমুদ্রের লবণাক্ত বিষাদের গান
কাব্যময় যুগল ইতিহাসের টুকরো আকাশ হাতে
আঁধার দুঃসময়েও জেগে আছি তোমার অপেক্ষায়]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28892049 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28892049 2009-01-02 16:07:48
হত্যাকান্ড দেখার তৃষ্ণা অথবা আতঙ্ক থেকে... কুয়াশার গর্ভ থেকে খুবলে আনে আকীর্ণ সড়ক, শেকল আর রক্ত
কাগজ-কালি-কার্বনের এই যে পিকাসীয় মনোলগ
শীতল জীবনবৃত্ত আর ছাপাখানার এই যে নির্দয় মিছিল
এখানেই ভেজা রক্তের মতো জমছে লাল লাল মানুষ

আমি, তুমি কিংবা নাজাফের বালকদের মতো
আকাশ ও ঘ্রাণহীন জৈবিক মিছিলে আজ কোন শব্দ নেই
যেখানে ঘাস আর কুয়াশার শবদেহ মৈথুনে নিরব
সেখানে কেবলই ছেড়া উত্তাপ আর বিক্ষু্ব্ধ চেতনার অক্ষর

শ্বেতকুয়াশা সূর্যের এই বধির পাতা উল্টে
জন্মান্ধ শামুকের মতো আমি চলেছি নীল রোদ্রের দেশে
যেখানে কেবলই নগ্ন পা, স্তন্যপায়ী বাতাস
আর তীব্র চন্দ্রালোকে দগ্ধ মাটিজ মানুষের ঘ্রাণ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28888234 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28888234 2008-12-26 15:07:47
দিন ও রাত্রির অভিসার কুয়াশা হয়ে গেলে... সেখানে বাতাসের তুমুল বৃষ্টি
আমাদের ভাপ-ওঠা উনুন, বিকেল আর কুয়াশার পাশে
কর্পূরের বিনীত ঘ্রাণ
মাত্রাবৃত্তের মতো জোরালো অথবা ঝুরঝুরে
মেমোরি, বিবেক আর পুরণো কৈশোর খুইয়ে এসে
কেউ কেউ দুমড়ানো ডলারের মতো জবুথবু
দাঁড়ায়, কাশে, এই সাদা আকাশের ২৪ ফ্রেমে ঘ্রাণ নেয়
প্লাস্টার খসা পিলার দিনলিপির চকচকে শবদেহ
কিংবা কানটুপি মাইক্রোফোন
কিংবা জলসার নামে একক মহাসমুদ্রে মৈথুন

আমি শুধু এক কাপ চায়ের খাসলতে
গুবড়ে পোকার মতো নিশ্চুপ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28885824 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28885824 2008-12-21 19:31:05
জেগে থাকা মানেই অদ্ভুত রক্তমাংসের পঙক্তি
নেপোলিয়ন অশ্বক্ষুরের মানচিত্র বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে আমরা মাড়িয়ে এসেছি সহস্র রক্তশরীর। শুঁড়িখানার সমস্ত ঘ্রাণ ছিঁড়ে ছিঁড়ে এই উত্তপ্ত উজ্জ্বল বালিয়াড়িতে এখন ঘুমোবো আমরা। শরাবের মুখর জোসনায় এইসব পরিশ্রান্ত শবদেহদের জাগিয়ে দিওনা আবার।

কোত্থেকে তুমি শিখে এসেছো ঠোঁট আর চোখের সমস্ত যাদুবিদ্যা? তোমার বজ্র আর বিজলীতে আরো একবার ঝলসে গেছে লাল সামিয়ানা, ক্ষুধার্ত শবদেহ আর সুগন্ধী পলেস্তারার মিছিল।

খসখসে অশ্মত্থের চাদর বেয়ে আমি নেমে আসি কখনও সখনও। অশ্রু আর বেদনা দিয়ে শুকনো খাবার কিনে হারিয়ে যাই আঁধারের কুয়াশায়। এই প্রত্ন-পান্ডুলিপির নির্জন কোটরে লুকিয়ে এবার তোমার ঘ্রাণ আর পুরনো শরাব নিয়ে গেলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28875293 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28875293 2008-11-28 10:25:29
আহ্লাদ ও অন্ধকারের সাজঘর
কংক্রিটের মেঘ চুষে আনা তীব্র জারক রসে তাহলে আর কি হবে? আমি চাইনা পিকাসোর স্বপ্নে আহ্লাদিত উজ্জ্বল চেহারাগুলি আবার আলোর ভয়ে কেঁপে উঠুক। শুধু পুরনো দেয়ালের চেয়ে খানিকটা সজিব হয়ে ওঠো। শুধু দেবদারুর পাতা খসার শব্দের দিকে তোমার অশ্রুদের একটুখানি ঝুঁকিয়ে দাও।

বধিরদের এক বর্ধিষ্ণু জনপদ দেখে এসেছি আমি। সেখানে কষ্টের আপেল, সেখানে পাথরের পাহাড়, সেখানে ধ্রুপদী স্বপ্নের স্ফটিক নিষিদ্ধ বাতাসে বারবার ফেটে গেছে। কয়েকটি জলঘড়ি আর হলুদ মগজ দিয়ে আমি উপন্যাস এঁকে দিয়েছি। আর আত্মপ্রতিকৃতির কণ্ঠ ছিঁড়ে পেরিয়ে এসেছি শীতল-স্বচ্ছ দেয়াল যেখানে কষ্টের প্রশ্বাস জমে জমে প্রতিনিয়ত ইতিহাস হয়ে উঠছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28869940 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28869940 2008-11-16 22:27:10
অবসাদ ও অস্তগামী মানবী অথবা শুধুই আঁধারের জন্য
এইসব প্রশ্নের প্রসাধন খসে পড়ে তোমার অশ্রুরিক্ত ভূগোল থেকে। তুমি কোন নক্ষত্রের গোলার্ধ ধরে আস্তিন গুটিয়ে হেঁটে যাও জানি না। তবু তোমার প্রশ্বাসের লবণে ধসে যায় প্রশান্ত কুটির।

আমি তো এক প্রলম্বিত স্বপ্নের টুকিটাকি তৈজস কুড়িয়ে জড়ো করেছি বহুদিন। এখন এই লাল পলেস্তারা আর সর্বশান্ত সমতটি গল্পের পাশে অপেক্ষার আসন পেতেছি। মরুভূমির ঢেউ বেয়ে সঙ্গিত অথবা কফিনের বহর আসলে আমিই তার গোপন সঙ্গী হবো।

বিবিধ পানপাত্র-কথামালায় একদিন হাশিশের তীব্র ঘ্রাণ এনেছিলে তুমি। বিভ্রম তৃণভূমির অন্ধকারে এত সহস্র রাত কিভাবে হারিয়ে গেছে, হদিস হয়না। কুয়াশা আর নক্ষত্রের পঙক্তির নিচে এখন শুধু লিখে চলা সেইসব নির্মোহ বাসরের গল্প।

এই পদশব্দ, নিশ্বাস আর বিভ্রান্ত অক্ষরমালা আমি ভেঙে দিতে চাই। আমার ক্রুদ্ধ সটান তর্জনি থেকে নিক্ষিপ্ত শরের মতো গোধুলির লালিমায় ফিরে যাও তুমি। নিজস্ব বিষাদ অন্ধকারে আবার আমি তীব্রভাবে বাঁচতে চাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28869554 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28869554 2008-11-15 22:51:31
কয়েক জোড়া হাত ও অশ্রুর মৈথুন নেমে আসে গজবের সামিয়ানা
আজকাল

অপ্রাপ্তবয়স্করা
হাসে আবার, মুখ টিপে
আর বন্দুকের গল্পে গল্পে নামিয়ে আনে মৃতদেহ
মুঠোফোনের সঙ্গীতের মতো
আনন্দে

জানতে চাই
চিন্তায় জমছে কি না মুহূর্তের পারদ
নিশানা খূঁজছি, খুঁজছি

মেরুদন্ডের নিচতলায় ক্লেদের পাহাড়
যাতনা বলা যায় তারে
মাদুরের শিরোনামে ত্রিভুজেরা নীল হয় খুব

আসছে
সময়ের সংলাপ
কী করে শিল্প হয় নির্যাতন

ভয়
সব বুঝি শেষ হয় হয়
ভয়
কিছুই যে ফুরোবার নয়]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28864215 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28864215 2008-11-03 22:50:57
বকুলগন্ধী চঞ্চলতা হারিয়ে যাওয়ার পর
এই সুরযন্ত্রের পাঁজরে কয়েকটি বোবা পান্ডুলিপি সাজিয়ে এখন ঝলসানো চিত্রকলার মতো বধির তুমি। শ্যাওলার অন্ধকারে বরং ঘ্রাণ নিয়ে দেখো-- নিশ্চিত মিলে যাবে দু-মুঠো লালচে বাতাস।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28862663 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28862663 2008-10-31 21:16:32
লাল মাটি আর শান্তিকামী যোদ্ধার দিনলিপি মাটি, বৃক্ষ আর পড়শি বদলের কালে
অসহিষ্ণু ঘোড়ার শাবক লাফিয়ে উঠেছিল সেদিন
এই লাল পাহাড় আর নরম পলিমাটির গাঁয়ে
আর অসমাপ্ত ক্যানভাস বিছিয়ে রেখে অশ্মত্থের উঠোনে
আমরা প্রতীক্ষায় ছিলাম উজ্জ্বল সবুজ রঙের

অপেক্ষায় ছিল পঞ্চাশ হাজার পিঁপড়ের জ্বলন্ত সেনাবাহিনী
রাইফেল কাঁধে ইটের শুঁড়িখানা পেরিয়ে গিয়েছিল তারা
নেপোলিয়ন আর ওয়াশিংটনের সন্ত্রস্ত বাহিনীর মতো
ভেষজ পাতার আড়ালে সেদিন মুখর করতালি ঝরেছিল
আফ্রিকার নৃত্য আর উন্মত্ত যুদ্ধবাজনার তালে

ছুটির আইল ধরে কেবলি গ'লে যাচ্ছিল আগুন
সমতট ইতিহাসের সবচে' প্রবল সে দাবানল
জ্বালিয়ে দিয়েছিল ভাড়া করা স্পার্টান নৌবহর
নৌযান পাটাতনে দগ্ধ খড়ি হয়েছিল লবণের ঘ্রাণ,
প্রশান্ত ঘুর্ণি আর প্রবাল দ্বীপের প্রশস্ত দীর্ঘশ্বাস
সমুদ্র-পুরাণের পাতায় পাতায় হতবাক দাঁড়িয়ে গিয়েছিল
উত্তর গোলার্ধের বিবস্ত্র নাবিকেরা

পদ্মার সূর্যাস্তে একদিন যে শান্তির শ্লোগান উঠেছিল
তার প্রতিধ্বনী বেজেছে রাইন আর ভলগায়
দানিয়ুব বাড়িয়েছে সমর্পিত ডানার মাস্তুল
লাল সেনাদের ভিড় থেকে শুধু তোপধ্বনি কেঁদেছিল একবার
লাল ফানুসে ভেসে ভেসে বলে গেছে সফেদ স্বর্গদূত
গ্রীক কিংবা ব্যবিলন, যা পাও দৃষ্টির নাগালে
নির্দ্বিধায় জড়িয়ে নিও বুকের গহিনে
ওরা সব এক অবিমিশ্র পূর্বপুরুষের চিত্রময় উপাখ্যান ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28860251 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28860251 2008-10-26 23:34:48
পোড়াবালির চিম্বুক পাথুরে সিংহের আড়ালে অভিমান তোমার
গুচ্ছ গুচ্ছ ঝর্ণার মতো ভেঙে গ'লে টুকরো হয়
নীল নদের আখ্যান শরীরে জড়িয়ে পেঁচিয়ে
ইতিহাসের রঙমহল ফুঁড়ে উত্থিত হয় অবাক ভাস্কর্য
তুমি আবার হাসো, হাশিশের মাতাল উত্তাপে
আর ক্ষুব্ধ বিদ্যুতের আগুনে ঝলসে যায় চোখ

হাবশিদের নির্বাক ভিড়ে বহুদিন আমিও থমকে ছিলাম
বোবা পিরামিডের মতো, ক্রুদ্ধ বিস্ময়ে
লোবানের মেঘ ভেঙে দুর্লঙ্ঘ্য কফিন থেকে
বেরিয়ে এসেছিলে তুমি, মরুর উদ্ধত যাদুকর!
কালো মাংসের নিরেট প্রাকার
দৃষ্টির তীর্যক দাবানলে পুড়িয়ে খাক করে
তুমি হেঁটে গিয়েছিলে নীল জলের হাম্মামে

কোমরের কোটরে লুকানো উন্মাদ খঞ্জরের কসম
বিষাক্ত কর্কট, ক্যাকটাস আর যাদুময় আকাশের নিচে
এখনও যেসব রক্তকাতর যুদ্ধ হবে,
আমি তার উন্মত্ত অপেক্ষায় নির্ঘুম থাকি
কাতারে কাতারে হত্যার খেলা শেষ হ'লে
হয়তো নরম বালিতেই ঘুমিয়ে নেয়া যাবে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28860164 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28860164 2008-10-26 20:12:22
পাশাপাশি গন্ধম-আগুন ক্রুদ্ধ ভঙ্গিমায় কাঁপছে কারাগার কিংবা ধোঁয়াচ্ছন্ন নরম দিন
আগুনের মাতাল গন্ধেই বারবার সাঁতার হয় নিরব গল্পের দেশে
গোল হয়ে হয়ে বাদামী অ্যাশট্রে আর দুর্বল সময়ের পাশে
যে একাকি পঙক্তি নিজস্ব অশ্রুর কথা বলে, হেসে হেসে,
সেখানে ছন্দ বাজে বজ্র আর বাতাসের মতো

এখনও তোমার ঘ্রাণ মাতাল ভীষণ, অচেনা, চকিত
গরান কাঠের বুকে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছে তামাটে কৈশোর
একগ্লাস ধোঁয়ার আকাশ অথবা ক’ফোঁটা উষ্ণ গরল
তুমি বিলিয়ে দাও বিকেলের ক্যানভাসে, নিজস্ব ক্ষিপ্রতায়

সাঁঝের বাগানে ঝরছে বিকারগ্রস্থ ফড়িংয়ের গান
বিজলীর মুখর ছায়ায় নেশার শব্দ আঁকছে গুটিকয় আর্তচিৎকার
চোখ আর বুক-পকেটে পোড়া প্রাসাদের আস্বাদ নিয়ে
হঠাৎ ঘুমিয়ে যাই পুরনো গন্ধের বুকে
বিলবোর্ড থেকে আরেকটি প্রকান্ড দিন খসিয়ে নিয়ে
মেলে দিই কষ্টের বারান্দায়, স্মৃতি ঝরে টুপটাপ
পথের ধুলিকন্যারা বাস্তুহারা পথিকের মতো থিকথিকে ঘন হয়ে
একঘেয়ে মমতায় ঘিরে ফেলে স্বপ্ন-স্বদেশ
বয়োজ্যেষ্ঠ বিভ্রম সূর্যালোকে মুগ্ধ মগ্ন হয়ে
গুটি গুটি মেঘের ছায়ায় পথে নামি আমিও আবার]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28859081 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28859081 2008-10-24 15:57:00
মৃত্তিকাপুরাণ ইটের ছায়াপথে কতদিন বলো হাঁটবে তুমি আর
ইতিহাসের ঝড়ের পরে শান্ত হয়েছে অনেক পুরণো নিঃশ্বাস
তারা আজ অন্ধকারে, মহাকালের পরম স্বজন
পুরানের এক ঝাঁপি ওরা একদিন খুলেছিল এখানেই
এই ফুটপাতের গহীন কষ্ট থেকে এখনও উথলে ওঠে
সেই পুরাণ, অপক্ক বকুল আর সোঁদা কাগজের ঘ্রাণ
সন্ধ্যার এই রেল, বিজলিবাতি, বাতাবিনেবু
ঝাউবাগানে দুলে দুলে হারিয়ে যাওয়া নাটাইছেঁড়া স্বপ্ন
সবই তো বাস্প হয়েছে ফিনাইলের ঘ্রাণের সাথে
তবু, পায়ের আওয়াজ তোমার বাতাসের ডানায় ভেসে
আজো ঠিক থমকে থাকে পুরনো সেই মাঠের শিয়রে

আমিতো দেখি, সবখানে শুধু পুরণো সৌম্য মিছিল
সার বেঁধে দাঁড়িয়েছে আত্মমগ্ন লাশের কাতারে
লোবাণের ঘ্রাণে উড়ে গেছে শৈশব, নিস্তব্ধতার কোলাহল
নির্জীব বিষণ্নতায় ঘরে ফিরছে যে নতমুখী সন্তান
আস্তিনে তার গহীন মাটির ঘ্রাণ, ভেজা, উষ্ণ
তবু ফের সকালের জানালায় পাখিরা আসছে উড়ে
দেখো মা! তোমার সবুজ আঁচলে সকালের রোদ এড়িয়ে
বাতাসের গভীর ঘ্রাণে উঠছে জেগে আশ্চর্য বিপুল জীবন...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28858466 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28858466 2008-10-23 04:41:46
নির্জনতার মানচিত্র কারিগর আঙ্গুলগুলো রক্তাক্ত হয় তাতে,
রক্তাক্ত হয় তালিকাভুক্ত বিকেল, গন্ডদেশ, নিজস্ব স্বজন
হেমন্তের শহরে শহরে পায়ে হাঁটা বালিয়াড়ি পেরিয়ে যাও তুমি
ঘ্রাণ নাও তীব্রভাবে, নিকোটিন আর দুর্বোধ্য দ্রবণের
হয়তো দৃষ্টি আর কল্পনা একান্তে কাঁদছে এখনও, থেকে থেকে
তুমি আর তোমার শরীর- কথা হয় পরস্পর..
ঠিক আছে আরেকটু হাঁটা যাক...

তুমি ভাবো- আবেগের সোনালী চপ্পলেই অনায়াসে পৌঁছে যাবে
ইতিহাস-দর্শনের ছাইচাপা বিবর্ণ যাদুঘরে
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে পারবে মৃত্যুর প্রত্যন্ত ভীষণ দুর্গ প্রাকার
কিন্তু মানচিত্রে মরুদ্যান নেই, নেই ছায়ার শরবত
এখনও প্রয়াত শব্দস্রোত নিত্য ভাঙছে দ্যাখো চেতনার ব্যরিকেড
পাহাড়, নদী আর দুর্বোধ্য দুর্গম গুহাচিত্রে উপচে পড়ছে কাগজের কার্ণিশ
বলি কি, দরপত্র-হ্যান্ডব্যাগ রেখে জিরোতে হবে তোমাকে,
আঁচল আর অলসতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে পড় এখানেই,
ঘন এই প্রাচীন অশ্মত্থের দাওয়ায়
তারপর যদি গাছের পাতা চুঁইয়ে তীব্র ঘুম নামে, ঘুমিও ভীষণ
গ্রামজ রসদ সব বিলিয়ে দিয়ে বাতাসের মিনারে মিনারে

আমি অপেক্ষায় আছি তোমার বৃষ্টিমাখা তীব্র ঘুমের
স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে তারপর যদি ঘুম ভাঙে কোন লালচে নগরে
তবে অন্তহীন পথ-হাঁটার সুযোগ হবে আরেকবার
মৃত্যুর লাল উত্তাপে গ'লে যাওয়ার আগে
সে মহাযাত্রার আর কোন যাত্রাবিরতি নেই...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28857887 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28857887 2008-10-21 22:54:29
অন্ধদিনের হায়ারোগ্লিফিক্স শহর আর শরাবের তীব্র ঘ্রাণে ঘুম ভাঙে আমাদের
পুরাণের গভীরে খোদিত চোখ, চোয়াল আর অন্ধ বাঁশিঅলা
আমাদের ডেকে নেয় বিভ্রম প্রমত্ত প্রান্তরে
জীবিকার চক্ররথে ভেসে যেতে যেতে
আমরা দেখতে থাকি বেশুমার কংক্রিট
আর সুলভ সত্যায়িত সন্তানের মিছিল

শিরিষের আলোর কান্না ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলে
উদ্বাস্তু ফেরিঅলা, কিশোরী, সন্ধ্যা-নক্ষত্র
সব ঠিক মেলে ধরে পরাবাস্তব গল্পজগৎ
প্রথম ইতিহাসের বয়স্ক অক্ষর নিয়ে
দিগন্তে ঝুলে থাকে রক্তগন্ধী ব্ল্যাকবোর্ড
চারদিকে তখন কেবল
পূর্বসূরীর মিথুন গল্পে থকথকে বিভ্রান্ত তামাটে অতীত

কখনও আবার যদি নিছক কাঁদতে শেখে
পাঁচশ’ রঙিন আঙুল, ভাস্কর, আর অসীম উষ্ণ বাতাস
তবে এক বিষণ্ন শহরতলী, একমুঠো মানুষ
আর কতক মন্থর মৃত্যুগাঁথা গভীর আচ্ছন্ন করে আমাদের
আর সৃষ্টির সমস্ত কুহক অ্যামাজন সাঁতরে
আমরা সহজেই নিমগ্ন হই এক স্পপ্নভ্রষ্ট নিষিদ্ধ তন্দ্রায়...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28825803 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28825803 2008-07-31 01:31:55
একক স্বপ্নের চৌকাঠ আমরা অপেক্ষায় থাকি অতঃপর
ভূমিকম্প, ভূগোল আর কয়েক গেলাস শুভ্র উষ্ণতার
ঔপনিবেশিক জলযান-হুইসেল ঘুমিয়ে তলিয়ে গেলে
শিরিষের আড়াল থেকে উৎক্ষিপ্ত হবে যে বিষাক্ত শর
তার তীব্র প্রতীক্ষায় থাকে বুকের আদিম কেশর
অপেক্ষায় থাকে
মোহগ্রস্থ সেই প্রত্নতাত্ত্বিক মৃত্যু-তৃষ্ণায়

পৃথিবীর সমস্ত অবরোহী সিঁড়ি চুঁইয়ে
অনন্তকাল নামতে থাকলে আরাধ্য অবয়ব
কিংবা তীব্র কুয়াশা-গর্ভে
দিক ভুলে বসে থাকা আরব্য মিকেল্যাঞ্জেলো
কৃষ্ণ ছায়াসকল, প্রেম, নতজানু পত্র-পত্রাবলী
সকলি খসে পড়ে চক্রাকার লালচে আঁধারে
সকল প্রশস্ত হাত অঝোরে ঝরতে থাকে
বাদামী বৃষ্টির মতো

একে একে লেখা হলে সমস্ত চন্দ্রগ্রহণের গল্প
হাত থেকে খসে পড়ে খড়িমাটি, টি-শার্ট, কনিষ্ঠের হলুদ কামিজ
আর প্রয়াত ইতিহাসের কব্জি কামড়ে তখন
শহরময় ঘ্রাণের জগতে গড়িয়ে যায় গাদা গাদা উচ্ছ্বল সময়
সন্ধ্যা, মিছেমিছি নেমন্তন্ন আর বিষদ-বিষাক্ত শব্দক্ষয়ে
মোহাবিষ্ট হয় কেউ, কেউ হয় তন্দ্রাহত
কেউ ফের বিষণ্ন অতীতভ্রষ্টতায় ডুবতে ডুবতে
বিচ্ছিন্ন তামাটে দ্বীপে একাকি দাঁড়িয়েই থাকে অনন্তকাল
প্রখর বিভ্রমে অযুত গ্রহণ-বলয় মহাকালে মিলিয়ে গেলেও
স্বপ্নের রোদ্দুর তবু ঝরতেই চায় না যেন আর..]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28825128 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28825128 2008-07-29 00:58:50
রোমন্থন অথবা অশ্রু শুকানোর কোশেশ... শিয়রের পাশ দিয়ে সমুদ্রে মিশেছে
গুনতে পারি না আর
দিন তো কমছে কেবলই...
দীর্ঘশ্বাস রাখবো কোথায় জানা হলো না আজও
তবু ক্ষুদ্র হাতের মুঠোয় লেখা হয়ে থাকে
সমুদ্র আর আকাশের প্রবীণ আখ্যান

পরিচিত ঘ্রাণের চৌকাঠ ভাঙবো বলে
হেঁটেছি যে জঙলার বিজন রাস্তায়
সেখানেও দেখি ধুম্র ধোঁয়ার ভিড়
লালচে চায়ের দোকান, মরচে আসবাব
আর কী অদ্ভুত!
এখানেও তীর্থযাত্রী কতক
হাশিশের নরম বোতল বাড়িয়ে ধরে বারবার

আমি তো এসেছি দূরের সবুজ থেকে
যেখানে তাল আর সুপুরির ভিড়ে সন্ধ্যাজোনাকি
ভেজা মাটির গভীরে লালনের ঘ্রাণ
আপন অতলে ডুবে সেখানে শুধু উড়তে শেখা...
উড়ে উড়ে কেউ রঙধনু হয়, কেউ হয় শঙ্খচিল
কেউ সূর্যের সাথে সাথে
নরম সন্ধ্যার পেটে হারিয়ে যায় চিরতরে

এসব উপাখ্যানই ঘুরে ফিরে চোখে পড়ে
নির্জিব করে দেয় স্বল্পায়ু চেতন
তৃষ্ণারা জমে জমে পাহাড় হয়
শীতল শরাবের লোভে পুরনো দেরাজ খুলি
মনে মনে বুঝি
এইসব স্মৃতির সাগরে পালিয়ে, লুকিয়ে
সহজ আয়েশে
পার করে দেয়া যায় দু-একটি অতিশয় তুচ্ছ জীবন...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28822227 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28822227 2008-07-20 15:27:21
যাহ! স্বপ্ন দ্যাখ গিয়ে... পেজমার্ক দিয়ে রাখি চোখের পাতায়
কী বলবো বলো-
এই দ্যাখো রোমশ হাত, দস্তানা, বোগদাদী হারুণ-রশিদ, দলিল-দস্তাবেজ
মুঘল শরবতে তকলিফ হলে
শেষে বাতিল হবে মসলিন জড়োয়া হাউজ, ফিনফিনে লেনিন, লিনেন সব
ফস করে মিথ্যে বলতে নেই সলিম
আজকাল তুমি হাঁটলেই পা গরম সকলের
তাতে বিয়োগান্তক স্যাঁক দিলে শীত, শরৎ, বিনোদবাবুর লাঠিয়াল- সবাই আরাম পায়
তারপর বিষ্টিতে চিৎ হয়ে উঠোনে ঝালমুড়ি আড্ডার মতো কত্তো মানুষ
মিনিট-সেকেন্ডেই লাল মঙ্গলে এ্যাসপ্যারাগাস, ক্রিকেট, সাইন্স ফিকশান, ইগলু
আর গাদা গাদা ম্যান্দা মারা পোস্ট-এডিটোরিয়াল
চায়ের নলকূপ স্ট্যান্ডবাই
একজন শুধু রেফারির মতো বেহায়া-
পৃথিবী দিয়ে বেসবল খেলে

অগত্যা পেজমার্ক আর নেপথলিনে জমা কেতাব খোলা
গান্ধীর দেউড়ি আর ট্র্যাঙ্কের খাঁজে নস্যির কৌটা, কোলকাতা রায়োটের ঝাঁঝ
টিভির পর্দায় হেসে-নেচে ফয়দা হয় না
বিরাট গ্যাপ
শেষে মহাত্মার ফোটোগ্রাফে কেবল এক গাদা নকিয়া এন-সিরিজ
বিশ বছরে এসএমএস একটা যদি মেলে
শাহবাগ মোড়ে বিধবা বিবাহ দেবে মুকুল আর তার দলবল
প্রতিশ্রুতি দিয়েছে- কোন হুজ্জত হবে না...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28821594 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28821594 2008-07-18 15:46:44
লাল তুলিতে ছবি আঁকাআঁকি প্রাগৈতিহাসিক দুর্বলেরা রুখে দাঁড়াতো ভীষণ
নরম গল্প সেসব আমরা শুনেছি বহু নিরব নিরন্নের কালে
সামরিক তর্জনিতে এখন রক্তাক্ত এক থালা ক্ষুধা
বিবিধ হাহাকার-অশ্রুর নির্যাস, মৃত্যু, এসাইলাম
ছড়ানো ছিটানো থাকে কালচে লাল ফুটপাতে
কৃষকায় পতঙ্গের মতো পৃথিবীতে গড়িয়ে যায়
যে নিরব নিরন্ন পশুর নড়বড়ে মিছিল, নিশিদিন
তাদের আকাশে নিঃশেষ বিশুষ্ক রাত আর রাত
অহংকারে থাবা হানে নবীন নীল নক্ষত্রের জাতক
ঘর্মাক্ত রাতের ওপারেও কেবলই বিষাক্ত বাতাস
অলস ছিন্ন আস্তিন বেয়ে গড়িয়ে পড়েনা কখনও
দিনের লালচে আগুন, যেখানে হাতড়ে পাবে উষ্ণতা

পলিজ মাতার মতো দীঘল নদীর দেশ, সাদা বালুচর
রূপোলি মাছের রূপকথা, কাজুবাদামের ঝোপ
সব লেখা থাকে যে মলিন পাঠ্যবইয়ের ভাঁজে
অলজ স্টেনগানের মতো কাঁধে নিয়েছি সেসব
কাঁধে নিয়েছি নতুন মুদ্রাকথা আর নতুন কথার ঘ্রাণ
সাবেকী শাসক আর শোষিতের তরতাজা লাশ
আর এই দেখো, জলবাইবাগান হাতড়ে হাতড়ে
আমরা বধ্যভূমি কিংবা সেমিট্রির ফটক খুঁজে ফিরছি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28819162 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28819162 2008-07-11 15:29:44
বরফকলে কান্নার ঘ্রাণ
অল্প বমি-ভাব নিয়ে মেয়েটা যেদিন ময়লা ট্রেনে চাপে, সেদিন তার হাত কাঁপে, পা কাঁপে। দুর্বল হাতে ব্যাগ টেনে পানের পিক-অলা জানালার পাশে বসলেও অনেক পুরনো শহর আর পরিচিত জনদের চেহারা অশ্রুতে ঝাপসা হয়। তারপর কুলিদের কোরাস দেখে ট্রেনের হুইসেল কেঁদে উঠলে মেয়ের হঠাৎ ভীষণ সব অন্যরকম কথা মনে পড়তে থাকে। সে দেখে তার যাদুর কাঠি টুকরো হয়ে জগৎ জুড়ে ছড়িয়ে গেছে। সেসব টুকরো কুড়িয়ে গুছিয়ে না নিতে পারলে সুয়োরানী-দুয়োরানীর নরম পুরনো খেলার সুখ সে আর কোনদিন খুঁজে পাবে না। এরকম বিষম চিন্তায় মায়ের নিজের হাতে গুঁজে দেয়া নাড়ু-মুড়কির ঘ্রাণটাও একসময় কেমন ফিকে হয় যেন।

শিক্ষক, বাবা-মা কিংবা শুভ্রকেশী গুরুজনদের চোখ এড়িয়ে যেসব নরম বিকেলে মাঠ, পুকুর পাড়, পাবলিক লাইব্রেরি চত্ত্বর, বিকেল-নদীর পাড় আর ফুচকার দোকানে টিন-এজ বন্ধুদের সাথে আড্ডা জমানো গেছে, সেসব উন্মাদ তারুণ্যের কালে কিভাবে যেন ফিরে ফিরে আসতো শ্যামল মেয়েটির রঙিন যাদুর কাঠি। সেই টুকরোটি কেবল জমে আছে থলেয়। এসব ভাবনায় সওয়ার হয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করলে রাজধানীর উষ্ণ হাওয়ায় গ্রামজ চোখের পানি অগত্যা শুকাতে থাকে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে রঙিন সোডিয়ামের মতো আলোয় জীবনের প্রমত্ত বছর ক’টি উজ্জ্বল সেলুলয়েড হয়ে যায় হঠাৎ।

তখন কেবল স্বপ্ন কুড়িয়ে নেয়ার সময়। রমনা, সোহরাওয়ার্দী, নীলক্ষেতে মোড়া এই কাদামাটি দ্বীপেই কেন যেন স্বপ্নের প্যারাস্যুট ঝরে রাতদিন। এখানে সংস্কৃতির যৌথ ব্যঞ্জনা, বইমেলার ঘ্রাণ, মঞ্চ নাটক, ফার্স্ট ইয়ার, ফটোকপি-লাইব্রেরি, হঠাৎ বিস্ফোরিত শ্লোগান, চারুকলা, শর্ট-ফিল্ম, পেঁয়াজু, আলুর চপ, সস, চা, দেরিদা, ফুকো, সার্ত্র, গার্সিয়া মার্কেজ আর পাবলো নেরুদার শ্রমজীবি কবিতা বুকে নিয়ে নরম ঘাসে চিত হয়ে শুয়ে থাকার দিনগুলোতে আরেক টুকরো সোনার কাঠির দেখা মিলে যায়। কিন্তু তারপরেই জীবন কেমন যেন চুপসে যেতে থাকে হঠাৎ। জীবিকার জোয়ালের টানে উত্তপ্ত রাজপথ ছেড়ে বরফকলে ঢুকে পড়লে বিশাল আকাশ আর তুমুল বৃষ্টির গল্পগুলো আস্তে আস্তে শুকাতে থাকে যেন। তবু ঝকঝকে সোনার কাঠির খোঁজে একদিন যে ঘর ছেড়েছিল, সেই শ্যামল মেয়ের গোপন বেদনায় বরফকলের অন্ধকারে এক চাপা কান্নার কোরাস উথলে ওঠে আজও, এখনও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28814266 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28814266 2008-06-27 15:53:24
শহরে কতিপয় এটিএম বুথ
গল্পে গল্পে জানা গেলো বিত্ত-বৈভব নাকি ভীষণ ভার্চুয়াল অঙ্ক হচ্ছে দিন দিন। সালমান নামের লোকেরা এক এক মাসে কোন টাকা পয়সা নজরে না দেখলেও বেদম বিলাসে সময় কাটায়। বজলু মিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স সাইজের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এরা ট্রাম-মাস্ট ট্রামের যাদু দেখায়। অথচ খুচরা পয়সা থাকেনা ওদের আচকানের পকেটে। ওরা এসকেলেটর বয়ে ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে যাতায়াত করে, পাম-টপে মোটা অঙ্কের যোগ বিয়োগ করে, নীল আলোয় পিজ্জা-শরমায় সস-মেয়োনেজ ঢালে, বিদেশী সানগ্লাসে রঙিন বিলবোর্ড আর মেঘ মেঘ আকাশ দেখে। ওদের স্পোর্টস কার বর্ষার দিনগুলোয় গরিব পথিকদের বেশ কাদা ছিটিয়ে গেলেও ওরা কিন্তু সেই টাকা-পয়সা ছাড়া ক্রেডিট কার্ডটাই থেকে যায়।

এসব যাদু দেখে দেখে আমাদের সিদ্ধার্থ একদা বাউন্ডুলেদের ভীড় ভেঙে উঠে দাঁড়ায়। তারপর কিভাবে ঠিক জানা যায়না, মাল্টি ন্যাশনাল শীতাতপ ঘরে সিদ্ধার্থের যাতায়াত বাড়তে থাকলে একদিন তার হিপ পকেট থেকে বজলু মিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স সাইজের ক্রেডিট কার্ড বের হয়। সিদ্ধার্থের ওয়ালেটে তখন খুচরো কয়েনের চেয়ে ভিজিটিং কার্ডের ভিড় দেখে বাউন্ডুলেদের পুরনো জটলাটা অবাক হয় ভারি। এরকম অদ্ভুত অনাচার আর অবাক করা এক রাতে সিদ্ধার্থের মা স্বার্থপরের মতো কেমন অস্থির হয়ে ওঠেন। চিৎকার করে রাতের সৌন্দর্য ফাটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আসে। ট্রলি আর স্যালাইনে জড়িয়ে হাসপাতালে উড়াল দেয়া হয় নিশুথি রাতে। সিদ্ধার্থের সৌজন্যে আমরা খেয়াল করি অনেক হাসপাতালই কেমন মেঘ ছুঁতে চাইছে আজকাল। সিদ্ধার্থ অগত্যা লম্বা প্রেসক্রিপশান হাতে সাত তলা থেকে একরকম উড়ে নামে।

বজলু মিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স সাইজের ক্রেডিট কার্ড মধ্যবিত্তের ওষুধের দোকানে এসে ম্যান্দা মেরে চুপসে গেলে সিদ্ধার্থের টনক হঠাৎ যেন ভীষণ রকম নড়ে ওঠে। সোডিয়ামে ভিজছে রাস্তাঘাট, ট্যাক্সি-ফ্যাক্সি দেখা যায়না। করুণ অনুনয়ে অগত্যা ভাঙাচোরা এক মিশুক মিললে গহীন রাতে এটিএম বুথের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে সিদ্ধার্থ। ধানমন্ডির মতো নরম নিরব এলাকায় রাত-জাগা এটিএম বুথগুলো থেকে দরকার মতো বেছে নিতে হয় একটি। কিন্তু সিদ্ধার্থ জানেনা সেদিনের মতো শুকিয়ে গ্যাছে তার ক্রেডিট লিমিট। ২৪ ঘন্টার জন্য স্তব্ধ হয়ে গেছে বজলু মিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স সাইজের তুরুপের তাস। সিদ্ধার্থের অদ্ভুত প্রলম্বিত বেদনাদায়ক অনুপস্থিতিতে অগত্যা সেরাতেই খসে পড়ে তার মায়ের পেসমেকার। আর এককালের ডাকসাইটে বাউন্ডুলে সিদ্ধার্থকে খুঁজে পাওয়া যায় উজ্জ্বল মখমল আলোজ্বলা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিজন এক এটিএম বুথের ঠান্ডা মেঝেতে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28808549 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28808549 2008-06-11 17:31:25
সৈকতের বোন কাস্টমার ম্যানেজার
বিলবোর্ডে এর মধ্যে রোদ পড়ে, ছায়া পড়ে, বৃষ্টি পড়ে। রাজনৈতিক শ্লোগান, ভুইফোঁড় ব্যান্ডের বাদ্য-বাজনা আর বজ্রপাতের শব্দ প্রতিধ্বণিত হয়। নিয়নের আলোয় মধ্যরাতে হয়তো পরাবাস্তব স্ক্রিন হয়ে ওঠে বিলবোর্ড। তখন কেউ জরুরি প্রশান্তিতে পেচ্ছাব করে, নিষিদ্ধ নর-নারী হাঁটে, টাকা নিয়ে চোটপাট গালাগালির আওয়াজ বাজে, তবু জুতার ফিতা হাতে সৈকতের বোনের হাসি ঠিক বাসি হয়না।

যদিও লম্বাচুলো তারাশঙ্করের কথার গুরুত্ব দেয়ার ব্যপারে আমাদের সর্বসম্মত নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়ে আছে, তবু এসব বিজ্ঞাপন, মেকাপ আর তাবৎ দার্শনিক ব্যখ্যা ও আড্ডার ফোকর গলে ভিন্ন এক গল্পের জন্মশব্দ শুনতে পাওয়া গেলো একদিন। সে গল্পে সৈকতের বোনের মেকাপ থাকে না। ভীষণ রূক্ষ খটখটে রোদ্রে স্বপ্নভ্রষ্ঠ মেয়ের পাশাপাশি এক টিফিন ক্যারিয়ার হাঁটে হয়তো, ঝাঁকুনিতে হলুদ ডাল গড়ায় অগত্যা। সেসব রৌদ্রকাষ্ঠ দিনে সৈকতের জন্ম পর্যন্ত হয়নি। চাষাভূষা বাবা একদিন মারা গেলে সৈকতের বোন হিসেব করে দুইবেলা আকাশ দেখতে শুরু করে। ক্ষুধা কিংবা গর্ভমতী মায়ের হা-হুতাসনের চাপেই কি না কে জানে- একদিন এনজিওর মতো ভাল ভাল বিল্ডিংগুলোতে যাওয়ার সাহস হয় সৈকতের বোনের।

পরে ব্রোথেলের মতো লম্বা এনজিও-সুরঙ্গের অন্ধকারে পা গলায় সৈকতের বোন। তখন পুরনো এক স্বপ্নচোরা মেয়ের মেকাপ বাড়তে থাকে বৈকি। বাড়তে থাকে কর্কট ব্যস্ততা, শপিং, জৌলুসের মতো শহুরে কেসসা। সৈকতের জন্ম হয় নরম বিছানায়। ইংলিশ ফোনেটিক্স আর জামদানি শাড়িতে কুঁচি দিতে শেখে সৈকতের বোন। হামাগুড়ি দিতে দিতে স্কুলবয়সী হয়ে ওঠে সৈকত। তারপর একদিন ডাইসেলের ভারি সুন্দর ব্যাগ কাঁধে স্কুলে যাবে বলে জুতা হাতে বোনের দিকে হাঁটতে শুরু করে সৈকত। ততদিনে পুরুষালি পারফিউম আর ডিওডরেন্টে ডুবে ডুবে, শিডিউল ভাঙা কোন এক জোসনায় ভীষণ সুন্দর বিলবোর্ড হয়ে গেছে সৈকতের বোন। সৈকতের বোন এখন কাস্টমার ম্যানেজার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28806865 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28806865 2008-06-06 17:59:11
নিত্যগেইম পকেট আর পুণ্য ফুরালে
মুহূর্ত কয়েক শীতল বাতাস মেখে
ছুটি পাওয়া প্যারাসুটের মতো
বহুতল ভবন থেকে উড়তে শেখে অতঃপর...

তারপর এক নিরন্ধ্র সময়ে
মেগাসিটিগুলোতে ভীষণ এক খবর হয়
সবজান্তা উজ্জ্বল আলোয়
ঘিরে ফেলে নধর শরীর
বেয়োনেটের মতো উদ্ধত সন্ধ্যা নামে
আর ফিনাইল প্রাসাদের
অটোপসি উৎসব ফুরালে
এক পুরণো বাক্যের চাদরে মুড়ে
ওরা থরথর নেমে যায়
সোঁদা মাটির কুহক গহিনে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28802303 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28802303 2008-05-24 22:12:35
ঘর ছাড়ার মরশুম
অন্তরার চোখ মোছার গল্প অতঃপর বাড়তে থাকে। অল্প গা-গরম, পা মচকে ফেলা কিংবা হাতে গরম পানি ছলকে পড়ার মৃদু খবরগুলো অনিচ্ছায় বাবা-মায়ের কানস্থ হলে মিছে বকুনি আর বিপুল উৎকন্ঠার দুজোড়া চোখের কল্পনায় অন্তরার চোখ মোছাটা একরকম নিত্যনৈমিত্তিক হয়। ছোট বোনটাও ভীষণ বেকুব হয়ে অন্তরার বাড়ি ফেরার সংবাদে মিছেমিছি ছোট্ট ঘরটা সাজাতে থাকে। টেবিলে প্রিয় ফুলদানি, আয়নাটা ঝকঝকে হওয়া চায় আর সিডি প্লেয়ারের পাশে পছন্দের লোপামুদ্রা কিংবা রবীন্দ্র সঙ্গীত। এসব দেখে দেখে অন্তরা যমুনা হয়েছে প্রায়ই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ঘর ছাড়ার দিন অন্তরা বোঝেনা ঠিক, কিন্তু গোপনে অগোচরে বড় এক সত্যের রিহার্সেল হয়ে যায়। ক্যাম্পাসের নিয়ন রঙিন সময় জীবনের অনেকগুলো পাতাকে রঙে মাখামাখি করে খুব দ্রুত উড়িয়ে নিলে একদিন হঠাৎই ঘর ছাড়ার মরশুমের মুখোমুখি হয় অন্তরা। দিকবিদিক জুড়ে সুপাত্রের সন্ধান চলে। আর অবাক! ছোট্ট বোনটির আম ভর্তা আর হাজারো খুনসুটির গল্প ভুলে অন্তরাও কিভাবে যেন অচেনা এক পুরুষের জলরঙ পোর্টেট এঁকে চলে মনে মনে।

এরপর হয়তো কোন অঘ্রাণে, হয়তো কোন প্রচন্ড কৃষ্ণচূড়ার দিনে এক অনিবার্য ট্রাজেডির সময়-ক্ষণ নির্ধারণ হয়। সভ্যতার সঞ্জিবন প্রবাহ ঠিক রাখতে প্রকৃতিই যেন অদ্ভুত এই ট্রাজেডির পুণর্জন্ম দিয়ে চলে প্রতিদিন। পরিধান আর বান্ধবদের আনন্দ-গুঞ্জনে অন্তরা অতঃপর একদিন রঙিন হয়। বিপুল কোলাহল, রঙিন বাতি আর ঝাঁঝাল ঘ্রাণে বাতাস মৌ মৌ ভারি হয়। অন্তরার মায়ের আঁচল আর বাবার রুমাল গোপনে গোপনে ভিজতে থাকে দারুণ। অন্তরা কিন্তু কিভাবে কিভাবে দেখে সবই। অতঃপর নিঃসাড় অনুভূতির টিপসই আর খাবারের বিপুল উচ্ছৃষ্টের ঘ্রাণের ভেতর দিয়ে সূর্য অস্ত গেলে বেলিফুলের ঘ্রাণে ভারি এক ঝকঝকে গাড়ির সামনে এলোমেলো দাঁড়ায় কতক আধো-উদভ্রান্ত মানুষ। গাড়ির দরজা গলে অচেনা এক ভুবনে ঢোকার আগে নিঃসাড় মায়ের বুকে শেষবারের মতো ঢলে পড়ে অন্তরা। আর পাথর-মায়ের শাড়ি লবণ-জলে ভাসিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে এক মিথ্যা আশ্বাসই দিয়ে চলে শুধু--“দু-দিন পরেই তো চলে আসছি মা।”

[অদ্ভুত এক বিষাদ আর বেদনা নিয়ে লেখাটি আমার উপর চড়াও হয়েছিল। লিখে তবেই কিছুটা মুক্তি পেলাম। আসলে এই লেখাটি কোন নারীর হতে পারতো। কিন্তু মনে হয় কোন বিষাদময় সত্য তা কখনও হতে দেবে না।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28802280 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28802280 2008-05-24 21:28:59
কফিন
খবরাখবর বলতে গোরস্থানের রেজিস্ট্রেশন খাতা। এখানে যেসব কফিন আসে তাদের নাম পরিচয় লেখা থাকে এই খাতায়। কফিনের প্রানীটির পরিচয় খুঁজতে খুঁজতে একনাগারে নিচু গলায় কথা বলে গেলো বজলু মুন্সী। “কোফিন এইখানে রাইখা গ্যাছে সকাল সাতটার দিকে। লোক আসছিল মনে লয় সাতজন। এক লম্বা মোতোন লোক আমারে লাশের নাম-ঠিকানা কইলো। লোকটার শইলে মনে হয় কুষ্ঠু। মুখের চামড়ায় ফ্যাকাশে ধরছে। মাটির দিকে তাকায়া কতা কয়। নাম-ধাম কওনের পর কইলো তাড়াতাড়ি চইলা আইবো...।”

লাশের নাম-ধাম পাওয়া গেছে। অদ্ভুত!! কী ব্যপার বজলু মুন্সী? সিরিয়ালে না লিখে দুই পাতা বাদ দিয়ে লিখেছেন কেন? বজলু মুন্সী ফাঁকা দুই পাতা বারবার উলটায় কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না। বিড়বিড় করে ‘আমি তো সিরিয়ালেই লেখিচি...।’ তার কথা কেউ খেয়াল করে না। হুমড়ি দিয়ে নাম-পরিচয় দেখতে থাকে...

নাম: বাদাদা
পিতা: ইনিজা
পেশা: অবসরপ্রাপ্ত শিক, ধুনট কলেজ
ঠিকানা: ৪৩, কুতুবখালি রোড, ধুনট

পুলিশ অফিসারের ওয়াকি-টকি কথা কয়। না স্যার, কুতুবখালি রোডে ৪৩ নম্বর কোন বাড়ি নেই। ৩৭ নম্বরের পরেই নদীর এমব্যাঙ্কমেন্ট। ওখানে ধাম-ধাম করে নদীর ঢেউ আছড়াচ্ছে। আর ধুনটে তো স্যার কোন কলেজই নেই। একটা প্রাইমারি স্কুল আছে শুধু।... পুলিশ অফিসার বিদ্বান হঠাৎ কিছু বুঝতে পারেন না। বোবা সময়ের পর পুলিশের ওয়াকি-টকি আবার সক্রিয় হয়-‘স্যার, এক গাড়ি সোলজার।’ বিশু ডোম মুখে কাপড় বেঁধে হাতে গ্লাভস পড়তে থাকলে পুলিশ ঘুরেন আমাদের দিকে। ‘আপনারা যান ভাই, পরে খবর পাবেন।’ ঘন হয়ে আসা রাতের ভেতর দিয়ে পুলিশের গাড়ির সাইরেন কানে বাজলে হঠাৎই জোরে জোরে শ্বাস নেয়া শুরু করে বিশু ডোম। অদ্ভুত বিকট গন্ধটা আমাদের নাকেও বাড়ি মারে। বালেশ্বরীর গোরস্থান মাঠ ছাড়ার আগে একবার শুধু ঘুরে তাকাই কফিনের দিকে। থই থই ঘন কালচে রক্তে ভেসে যাচ্ছে জনৈক বাদাদার কফিন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28801024 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28801024 2008-05-21 21:39:04
নন্দীগ্রামের গল্প
...সেবার আশ্বিনে হঠাৎ খুব একটা ঝড় হয়ে গেলো। মেয়েটার ওড়না যে আমগাছে পাওয়া গিয়েছিল সেই গাছে কোনদিন আর মুকুল ধরেনি। খড়ের চালার নিচে চাপা পড়েছিল সে। আর তার কাপড়-চোপড় ছড়িয়ে ছিল নদীর কূলে এখানে ওখানে। সে বছরই কোত্থেকে কে জানে অদ্ভুত লোকটা এসে উঠলো বাবু অবিনাশের বাড়ি। এত লম্বা কাউকে নন্দীগ্রামের কেউ আর কোনদিন দেখেনি। দিনে শুধু একবারই নদীতে গোসলে যাওয়ার সময় তার চেহারা দেখা যেতো। অদ্ভুত লম্বাটে ভাবলেশহীন চেহারা কিন্তু কী ভীষণ জ্বলজ্বলে চোখ। তার পরিচয় কেউ জানেনা আর কেউ তার সাথে কথাও বলেনি। সে আসার এক সপ্তাহের মধ্যে কলেরায় মারা গেল বাবু অবিনাশের ছেলেটা। পরের সপ্তাহে মারা গেলেন বাবু অবিনাশ। পরের সপ্তাহে তার স্ত্রী। বাবু অবিনাশের স্ত্রীর দেহ চাটাইয়ে মুড়ে একা একা শ্মশানে নিয়ে গিয়েছিল অদ্ভুত লম্বা লোকটা। আর কোনদিন তাকে দেখেনি কেউ। বাবু অবিনাশের বাড়িতে এরপর বছরখানিক পা পড়েনা কারো...। তারপর একদিন সেটা পাড়ার যুবকদের ক্লাবঘর হয়ে যায়...

বৃদ্ধ গুরুলি আকবরের এরকম সৌম্য গল্পের পর বাতাস বন্ধ হয়ে যায়। আগুনের ফুলকি ওড়া কমতে থাকে আর ভীষণ রকম স্তব্ধতায় নন্দীগ্রামের ছেলে-বুড়ো-নারী সবাই থমকে থাকে। নাড়ার গাদা পুড়িয়ে আগুনের কুন্ডলি একসময় কান্ত হলে ধীরে ধীরে খালি হয় নন্দীগ্রামের অদ্ভুত মাঠ। আগুন কুন্ডলির ভাপ-ওঠা তাপের পাশে একা বসে থাকেন শুধু বৃদ্ধ গুরুলি আকবর। তার হাতে কাগজের তৈরি ছোট্ট একটা নৌকো। নন্দীগ্রামের ছোট্ট শশি স্কুলের খাতার কাগজ ছিঁড়ে নৌকোটা বানিয়ে দিয়ে গেছে তাকে। দূর আকাশে এক অজানা তারা খসতে দেখে উঠে দাঁড়ান বৃদ্ধ গুরুলি আকবর। লালচে কাল ছাইয়ের আগুনে ছুঁড়ে দেন কাগজের নৌকোটি। মরতে বসা আগুন শেষবারের মতো তীব্র জ্বলে ওঠে শুধু।

পরদিন খুব সকাল সকাল শিশু গাছে ঘেরা নন্দীগ্রামের সবুজ পুকুরটার চারিদিকে ঘন হয়ে ওঠে মানুষের ভীড়। পুকুরের ঠিক মাঝখানে পানির ওপর শান্ত ঘুমিয়ে আছে নন্দীগ্রামের ছোট্ট শশি। ভোরের পুকুরের মতোই গভীর শান্ত নৈঃশব্দের মধ্যে হঠাৎ কারো তীব্র আর্তনাদ বেজে উঠলে আমাদের নন্দীগ্রামের গল্প এবারের মতো এখানেই শেষ হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28800550 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28800550 2008-05-20 19:49:07
ছোট্ট এক আগন্তুক
৬০০ বছরেও ঢাকা শহরে ভোডাফোনের প্রবেশ-ভিসা না হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়ে কুন্তলার ছোট্ট সাহসী কুকুর। সে অলি-গলি-রাজপথ, দুর্গন্ধ ডাস্টবিন, ভাঙা-চোরা রেলক্রসিং, স্পিডব্রেকার, ক্রাউডেড ওভারব্রিজ ভেঙে দিকবিদিক ছুটতে থাকে। লাল-সাদা টাইয়ের এক ছোট্ট কুন্তলাকে হারিয়ে ফেলেছে সে।

এরপর সপ্তাহ কয়েক বিপুল এই ক্রাউডেড শহরের বিভিন্ন জায়গায় এক হিন্দিভাষী কুকুরকে টাই মুখে দৌড়াতে দেখা যায়। ততোদিনে খাবারের দাম বাড়ে, ফিকে হয় জরুরী বিধির তেজ, তেল-গ্যাসের তীব্র দাম আর বৈশ্বিক উষ্ণতায় জ্বলে-পুড়ে যায় এই ছোট্ট দেশের দরিদ্র হোমোসেপিয়েন্স। জলপাই গন্ধের বিজ্ঞাপন দাঁড়িয়ে গেছে অনেক ততদিনে। ভোডাফোনের হিন্দি কুকুরছানাটি এইসব বিজ্ঞাপন সাইনে অভ্যস্ত হতে হতে দৌড়ে যায় কেবলই।

বোশেখ শেষের আগেই একদিন আবার দুম করে হারিয়ে যায় ভোডাফোনের কুকুরছানাটি। অনেক সন্ধানের পর একটা লাল-সাদা টাই শুধু খুঁজে পাওয়া যায় বঙ্গভবনের প্রধান ফটকে। পাশে কুকুরটির শুকে যাওয়া এক দলা মল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28800514 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28800514 2008-05-20 18:38:57
অস্থির শহরের বিষয়-আশয়
ট্রাফিক পুলিশ- ১০ জন
সিগন্যাল পোস্ট -১৫টি (তিনটি নষ্ট)
বিড়ি-সিগারেট অলা (সংখ্যা গোনা হয়নি)
কুকুর (৫/৬ টা)
মাতাল (১ জন)
বেশ্যা (১ জন)
রিক্সাঅলা (গোনা হয়নি। তবে একজন গান গাচ্ছিল এইটা মনে আছে। গানের শিল্পী কোজআপ ওয়ান সালমা)
সিএনজি, ট্যাক্সিক্যাব (গোনা হয়নি)
অ্যাম্বুলেন্স (১টা)
পুলিশের ভ্যান (১টা)
ফুটপাতে ঘুমানো মানুষ (৩৭ জন)

আমার লিস্ট দেখা শেষ হয়না। কুহু আর তার বন্ধুর বিজ্ঞাপন বিরতি শেষ হলে ওরা আবার লাল ব্যাগ কাঁধে এক গলিপথে অদৃশ্য হয়। এরপর অনেকগুলি দিন গেলেও আগ্রহ যায় না ঠিক। একদিন জমে থাকা আগ্রহ নিয়ে কুহুর মুখোমুখি দাঁড়ালেও লিস্টের বিশদ কোন হদিস দিতে পারে না কুহু। শুধু জানা যায় ওই রাতে রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে টোস্ট বিস্কিট হাতে প্রয়াত এক রাজনীতিককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল কুহু আর তার বন্ধু। আর ওই টোস্ট বিস্কিটের দিকে গড়িয়ে গড়িয়ে আসছিল আরও কতক প্রয়াত রাজনীতিক। কিন্তু একজন ছাড়া বাকিদের নাম মনে না আসায় তখন ওই চরিত্রদের নাম লিস্ট করা হয়নি।

তবে টোস্ট বিস্কিট আর প্রয়াত রাজনীতিক ছাপিয়ে একসময় শুধু অন্য কথা মনে পড়তে থাকে। রাত দেখতে বেরিয়ে কুহু আর তার বন্ধু অনেক কিছুই দেখেছে। শুধু রাতটাই দেখা হয়না তাদের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28796651 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28796651 2008-05-11 19:29:08
বোশেখ দেখবো ব’লে...
এর পরই পুরনো ক’লাইন কবিতা, হাবিজাবি কি কি গান আর হলুদ রঙের পানজাবিটা ঘোরাঘুরি শুরু করে চোখের সামনে। শ্যাল আই কম্পেয়ার দি টু আ সামার্স ডে...। একটা রঙচটা গানের দুলদুল কোরাস, ঘন দুধের মত মিউজিকের পরপরই বেদম আওয়াজ। লে বাবা! সপ্তাহ দুয়েকের অনেক আয়োজন, লাল-পেড়ে শাড়ি, বেলি ফুলের মালা, মাইক্রোফোন, বাদাম-ভাজা, আইসক্রিম, পান্তা-ইলিশ, একতারা-- সব কিছু দুম করে ভেস্তে গেলো।

রোদ্র অতঃপর ঘর ছেড়ে ঘন দুঃসময়ের মধ্যে বেরিয়ে পড়ে। সূর্যতাপের মধ্যে বিচিত্র গন্ধ। বাতাস ভারি অদ্ভুত রকম রঙিন। কোন আমপাতার উল্টা দিকে মাকড়সার জালের মত গুটি মেরে আছে কেউ--শুয়োপোকা। আর এই যে শহর এখানকার সব ধুলো আসে ইতিহাস থেকে। দক্ষিণ থেকে। প্রত্নপ্রাসাদের ছাদ আর ঘুলঘুলি থেকে। রোদ্র আমপাতা, মেহগনিপাতা, দেবদারুপাতায় মানচিত্র আঁকা প্রত্নপ্রাসাদের ধুলো দেখে আর বিচিত্র কিছু প্রাণীদের মিছিল ঠেলতে থাকে। এই প্রাণীদের ক্রোধ, লোভ, ক্ষুধা, লালসা, সবুজ রঙের মানিব্যাগ, পেতলের আঙটি, বিবিধ ডিজাইনের স্যান্ডেল, ঠান্ডা লাচ্ছির লোভ, গরমের অনুভূতি--ইত্যাকার অনেক কিছুই আছে বলে জানা যায়।

ঘ্রাণেই বোশেখ, রঙেই নাকি বোশেখ। তো রঙ দিয়ে গোসলের পর ভীষণ ভিন্নরকম এক ভাবনায় পেয়ে বসে রোদ্রকে। সে কোন মৃত্যুগামী আত্মার উরুর পাশে দাঁড়িয়ে এই রং-গন্ধ দেখবে। এরপর হঠাৎই থ্যালাসেমিয়া, রক্ত-ক্যান্সার কিংবা মৃত্যুখাদের কিনারে দাঁড়ানো হৃদরোগীদের খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে রোদ্র। সে পিজি দেখে, বারডেম দেখে, আবার পিজি দেখে। তারপর ফিনাইল মাখা ওষুধের এক গাদা দোকান হাতড়ে হাতড়ে এক ত্রস্তপদ ক্রেতার অস্থির পদশব্দ গুনতে গুনতে যেন মহাকালের দিকে হাঁটতে শুরু করে।

বোশেখের রঙ আর ঘ্রাণ তাকে দেখতেই হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28795868 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28795868 2008-05-09 16:55:05
বর্ণমালার গল্প তীরন্দাজ আর বন্দুকের নিষিদ্ধ উত্তাপে
সোমেশ্বরীর শীতল জল ঢেলে ঢেলে
আমরা যে লাল-নীল অক্ষর পেয়েছিলাম
সাদা-কালো রঙ্গমঞ্চের বয়েসী কাতিবেরা
তারই নাম রেখেছিলেন বর্ণমালা
তখন থেকেই শব্দ-বর্ণের বুদবুদ
বাতাসে বাতাসে, গাছের নবীনতম শাখায়
আর এক অপরিসীম বিক্ষিপ্ত ভূখন্ডের কর্ণকূহরে
জীবনের বীজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলো...

অক্ষরে-শব্দে গাঁথা হলো
অজস্র কবিতার মতো বিস্তীর্ণ স্বপ্নরাশি
গল্পের বাদামী ট্রেন ঝিক-ঝিক শব্দ তুলে
তিতাস নদীর কূল ঘেঁষে, পদ্মার ডুবোচর ছুঁয়ে
হাজার হাজার স্বাধীন লাল পদ্মের আলোয়
ইছামতি গ্রামের শিয়র দিয়ে এখনো চলেছে অবিরাম
আর লালনের মেঠো সুর চিলের ডানায় চড়ে
অনায়াস শুদ্ধতায় ছুঁয়ে আসে শঙ্খচূড় পাহাড়
পৃথিবীর উদ্ধত মাস্তুল অনেক
সে শঙ্খচূড়ের নীলাভ আলোয় খুঁজে নেয় পথ...

ভাটির এক ছেঁড়া ব-দ্বীপে যে ক'জন সাহসী নবীশ
জাহাজ ভাসাবে বলে সাগরে নামে
তারা পথ খোঁজে নক্ষত্রে, আকাশে
যে তারার আলোয় খুঁজে পায় সবুজ গন্তব্যের ঘ্রাণ
পাল উজার করে মৌসুমী হাওয়ার গান
সেসব নক্ষত্রের গায়ে রক্তের উষ্ণ স্বাদ
বায়ান্নর কোন এক বিষণ্ন সন্ধ্যায়
ফেব্রুয়ারির রাজপথ থেকে বাষ্পীভূত হয়ে
মহাকাশের অসীম ধাঁধাঁয় মিশে যায় ওরা...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28768364 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28768364 2008-02-08 21:10:50
ক'জন বিভ্রান্ত মানুষ তুমুল শিশিরের মতো স্বপ্ন ঝরে কেবলই
ক'খানা পুরনো মুখ, রঙচটা, অভিমানী
কফির ঝাঁঝাঁলো গন্ধে গোল হয়ে বসে
আর স্বপ্নের অজস্র পাতা অনায়াসে উড়ালপঙ্খী হয়
নিবিড় ঘন মিশে যায় কল্পলোকের গোপন সরোবরে

কেউ তবু মেঘের ফাটল থেকে শুধু হাত নেড়ে যায়
চকিতে লাল আলো খসে পড়ে বয়েসী চোখের কোনে
আলো পড়ে খয়েরি চশমা আর জীবনানন্দের ধুসর পাতায়
যেখানে কেবলই বিষণ্ন মাঠ, ভাঁটফুল আর
হেমন্তের অসম্ভব ধোঁয়াটে অসীম অসীম আকাশ
সেই বিষাদ আলোয় পথ খুঁজি আমরা
দেখি, পায়ে চলা লাল পথে পিঁপড়ের শ্রমিক বহর
ফড়িং, চড়ুই আর কাঠবেড়ালির গোপন অগোচরে
নিরবে বাড়ছে কেবল দলা দলা ঘাসের বয়স

বয়স বাড়ছে বিষণ্ন বিকেলের, দেওদারুর
অপুষ্ট বিজ্ঞাপনে সাঁটা বট-পাকুড়ের
অথবা হঠাৎ অবাক রকম বয়স বেড়ে গেলে
কারো হাত গ'লে পড়ে যাচ্ছে অন্তিম চায়ের ঘ্রাণ
এইসব গল্পের খুঁটিনাটি আমরা জেনেছি সঠিক
রহস্য আঁধারে বসে এই রিমঝিম দাবা খেলা
থামছেনা সহসাই, অথবা থামবার নয় যেন ঠিক

তবু হলুদ খামের ভাঁজে ধুলো-জমা কবিতা কয়েক
অভিমানে ঘুমিয়ে থাকে নিরব আঁধারে
স্বপ্নের পান্ডুলিপি কাঁধে কোন এক অচেনা ভোরে
পথে নামি আমরা আবার
আমাদের হাঁটা পথে ধুলো ওড়া উচ্ছ্বাসে
আলগোছে পেরিয়ে যায় ইতিহাসের বিবিধ সময়
পরিত্যাক্ত প্রত্নপ্রাসাদে কোন হয়তো কুড়িয়ে পায়
বাৎসল হাসি-গানের সাদা-কালো পুরনো স্বজন
জানিনা কিভাবে হঠাৎ এইসব ছায়াছবি
বিষম বাড়িয়ে দেয় ধুম্র কফির মেজাজ
আর অহরহ বয়স বাড়ার তীব্র গল্প ভুলে
আমরা অল্প ক'জন কবিতা-বিভ্রমী
লাল লাল প্রত্নভূমিতে মাদুর পেতে বসি...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28764751 http://www.somewhereinblog.net/blog/itiszulublog/28764751 2008-01-27 19:21:21