জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, যারা এতিমদের মুখের আহার কেড়ে নেয় আল্লাহ তাদের বিচার করবেন। আমরা এতিমদের মুখে আহার তুলে দিয়েছি। জাতীয় পার্টি আজ একতাবদ্ধ ওয়াদাবদ্ধ। কোন ষড়যন্ত্রই আজ জাতীয় পার্টিকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। যারা আমাকে জেলে পুরে মারতে চেয়েছিল তারাই আজ জেলে। এটা আল্লাহর বিচার। তিনি ৫ জুলাই ২০০৮ রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, আমরা একত্রে মানুষের পাশে দাঁড়াবো। আমাদের ল্য একটাই আমাদেরকে মতায় যেতে হবে। তবে এই মতা শুধু মতার জন্যই নয় আমরা দুর্নীতি ও পকেট ভরার মতা চাই না। আমরা নয় বছর মতায় ছিলাম। জাতীয় পার্টি সবচেয়ে বড় দল ছিল। কিন্তু আমাকে এবং আমার নেতা-কর্মীদেরকে জেলে পুরে রেখে ওরা ফাঁকা মাঠে নির্বাচন করে নিজেদেরকে বড় দল বলে জাহির করেছে। কিন্তু আজকে জাতীয় পার্টি সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে আজ মুক্ত। আমরা প্রমাণ করবো যে আমরা রাজশাহীর জন্য কী করেছি।
তিনি তার সরকারের আমলে করা রাজশাহীর বিভিন্ন উন্নমূলখ কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, আমিই সর্বপ্রথম রাজশাহীকে থেকে যমুনা ব্রীজের ঘোষণা দিয়েছিলাম, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প করেছিলাম। সেই কারণেই আজ মরুময় রাজশাহীতে আজ সবুজের সমারোহ। তিনি বলেন, রাজশাহীতে পোস্টাল একাডেমি, বিমান বন্দর, বাইপাস সড়ক, রাজশাহী সিটি করপোরেশন আমার অবদান, জাতীয় পার্টির অবদান। আমরাই প্রথম দেশে আন্ত:নগর ট্রেন সার্ভিস চালু করেছিলাম। এলজিইডি আমার সৃষ্টি।
এইচ এম এরশাদ বলেন, আমি রাজশাহীকে কখনও উপো করিনি। জাতীয় পার্টি মতায় গেলে রাজশাহী প্রাদেশিক রাজধানী হবে। তিনি বলেন, আমি যমুনা সেতু করেছিলাম রাজশাহীতে গ্যাস আসবে বলে। এটা ছিল একটা বহুমুখী প্রকল্প। এখানে গ্যাস থাকবে, বিদ্যুৎ থাকবে, রেললাইন থাকবে। কিন্তু বিগত সরকারগুলো রাজশাহিীতে গ্যাস আনেনি। জাতীয় পার্টি মতায় গেলে রাজশাহীতে গ্যাস আনবো। আমরা আর নির্বাচিত স্বৈরাচার দেখতে চাই না, হরতাল চাই না, সংসদ বর্জন দেখতে চাই না।
এরশাদ আরও বলেন, ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি ময়মসনসিংহে এক নেত্রী বলেছিলেন এরশাদের ঠিকানা হবে জেলখানা। এরশাদ সেখানে জীবিত যাবেন আর মৃত বের হয়ে আসবেন। কিন্তু আজকে কে জেলখানায়? যারা আমাকে জেল পুরে মারতে চেয়েছিল তারাই আজ জেলে, এটাই আল্লাহর বিচার। তিনি বলেন, জেলখানায় আমার অসুখ হয়েছিল আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল।
তিনি দুঃখ করে বলেন, আমার বেলায় সিংগাপুর, ব্যাংকক নয় এমনকি পিজিতেও নেয়া হয়নি আমাকে। আমার ওপর এমন অত্যাচার করা হয়েছে যেন আমি মরে যাই। কিন্তু এরশাদ মরে নাই। তিনি বলেন, যারা দেশের টাকা মালয়েশিয়ায় পাচার করেছে তাদের বিচার হতে হবে। তিনি বলেন, ওরা কাদের টাকায় মালয়েশিয়ায় গাড়ি-বাড়ি করলো? ওই টাকাতো জনগণের টাকা। ওরা রাজহনীতিকে কলংকিত করেছে। ইনশাল্লাহ আগামি দিনে রাজনীতি হবে সুন্দর, সুষ্ঠু এবং পবিত্র এবং আমরাই এ অবস্থার সৃষ্টি করবো।
তিনি বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাজশাহীতে বাংলা ভাইকে নামিয়েছিল। কিন্তু আমরা কোন মানুষকে গাছে টাঙ্গাতে দেইনি, জঙ্গিবাদ তৈরী করিনি। আমরা মানুষের নিরাপত্তা দিয়েছি। তিনি পার্টির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা যদি এক থাকি এবং আমাদের ল্য উদ্দেশ্য যদি এক থাকে তাহলে আগামি দিনে আমরা অবশ্যই মতায় যাবো এবং জাতীয় পার্টি আগামি দিনে এক নম্বর দল হিসেবে আবির্ভুত হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, বিগত নির্বাচিত দুই সরকার গনতন্ত্রকে কুলষিত করে স্বৈরশাসন চালিয়েছে। মতায় থাকার ষড়যন্ত্র করে দেশে অস্থিতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। এখন জনগণ এর পরিবর্তন চায়।
এরশাদ বলেন, উপজেলা সৃষ্টি করা হয়েছিল জনগনের জন্য, জনগনের স্বার্থের জন্য। কিন্তু হিংসা করে উপজেলা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা তখন এর প্রতিবাদ করেছিলাম। এখনো তারা উপজেলা নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচন করতে চায়। আমাদের কথা শুনে জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাচন করতে রাজি হয়েছে এ সরকার। তত্ত¡াবধায়ক সরকারের এই উদ্বোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চায় আমরা কারো চাইতে কম নয়।
জাতীয় পার্টির মহানগর সিনিয়র সহ সভাপতি ফাইমুদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য জাতীয় পার্টির মহানগর সভাপতি দুরুল হুদা, নওগাঁর সাবেক এমপি কফিলউদ্দিন সরকার, নওগাঁ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন, নাটোর জেলা সভাপতি মজিবুর রহমান সেন্টু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট একরামুল হক, রাজশাহী জেলার সাবেক সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান, রাজশাহীর সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ একরামুর রসুল, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর শিকদার, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, জাপা নেতা অধ্যাপক আবুল হোসেন, জোহা সরকার, যুব সংহতির নেতা সালাহউদ্দিন মিন্টু প্রমূখ।
উল্লেখ্য, খন্দকার হাফিজ ও জোহা সরকার গত বছরের ১০ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। গতকাল তারা আবার জাপাতে ফিরে আসেন আনুষ্ঠানিকভাবে। রাজশাহী, নওগা, নাটোর, চাপাইনবাগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন প্রতিনিধি সভায়।#

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


