শ্রদ্ধেয়/প্রিয় ব্লগার
বন্ধু পিটার আমাকে বলেছেন, আমি নাকি মাঝে মাঝে বিএনপির দালালী করি। ধন্যবাদ এমন সমালোচনার জন্য। কিন্তু বন্ধু আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আপনাকে জানাচ্ছি যে, আপনার অভিযোগ সত্য নয়, আমি কখনও দালালী করি না। তবে সত্য লিখতে গেলে কারও পক্ষে আবার কারও বিরুদ্ধে যায় এটাই যদি দালালী হয় তাহলে কিছু বলার নেই।
আপনি হয়ত জানেন না যে, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসের ওপর আমি অগণিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী করেছি দৈনিক সংবাদ এ। এজন্য শিবিরের গুন্ডাবাহিনী আমার রুম জ্বালিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। যা ১৯৯৭ সালের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিভিশনে রাত আটটার সংবাদের পর সম্প্রচার হয়।
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে তথাকথিত স্বঘোষিত বাংলা ভাই (আমার মতে পাকি ভাই) ও শায়খ আবদুর রহমানের নেতৃত্বে যে জঙ্গি হামলা, সন্ত্রাস-হত্যা-নির্যাতন চালানো হয় তার বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধ পরিচালনাকারীদের মধ্যে আমি প্রথম সারির একজন সৈনিক ছিলাম। এজন্য বাংলা ভাই আমাকে সারাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুর্নীতি-দুঃশাসন, হত্যা-সন্ত্রাস, লুটতরাজ, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণকালের দলীয়করণ-দুর্নীতি, নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমার ভূমিকা কি ছিল তা আপনি নিজেই অনুসন্ধান করুন। তবে একটা তথ্য জানিয়ে রাখি এজন্য আমাকে অন্ত:ত তিনবার হত্যা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল বিএনপি ক্যাডাররা। খোদ বিএনপি দলীয় সাংসদ নাদিম মোস্তফাও আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। আমার মোটরসাইকেল, ক্যামেরা একাধিকার ভাংচুর করে বিএনপির ক্যাডাররা।
২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্খার শেষ ভরসাস্থল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়। ওই ঘটনায় দেশপ্রেমিক নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ অন্ত:ত ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। আপনি জানেন কিনা তাও বলতে পারবো না। তবে শুনুন ওই গ্রেনেড হামলাসহ চট্রগ্রামে দৈনিক প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মৌলবাদী তৎপরতার প্রতিবাদে আমি একাই কাফনের কাপড় পড়ে রাজশাহী শহর পরিভ্রমণ করেছিলাম। যা ২০০৪ সালের ২৫ আগষ্ট দৈনিক প্রথম আলো ও দি ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয়।
বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আমার আদর্শ। তার মানে এই নয় যে, এই আদর্শের অনুসারী কেউ কোন অপরাধ, অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপকর্মের সাথে জড়িত থাকলে তাকে সমর্থন জানাতে হবে। এধরনের আদর্শ বিশ্বাস আমার চেতনায় কাজ করে না কখনও।
আপনি হয়ত এটাও জানেন না যে, একজন সাংবাদিক-মানবাধিকারকর্মী হিসেবে এই শেয়ারটেকার সরি কেয়ারটেকার (অনন্তকালব্যাপী যারা হয়ত ক্ষমতায় থাকতে চান বলে জনগণ মনে করছেন) সরকারের আমলে আমিই প্রথম নির্যাতনের শিকার, গ্রেফতার ও মিথ্যা অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি হয়েছি। কি দুঃসহ নির্যাতন চালানো হয়েছে আমার ওপর তা আপনি আমার লেখা বই 'অন্ধকারে ১৫ ঘন্টা' পড়লে বুঝতে পারবেন বলে আশা রাখি।
সদা সত্য, ন্যায়, সুন্দরের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-আন্দোলন গড়ে তোলার আদর্শ শিখিয়েছেন বঙ্গবন্ধুই। কাজেই কে কি মনে করলেন আর কার বিরুদ্ধে গেলো, কে খুশি হলেন, কে মারমুখী আচরণ করছেন তা দেখার কোন মানসিকতা নেই আমার। আমি আমার কলম অন্যায়-দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে চালিয়েই যাবো। একটি মানুষেরও সমর্থন না পেলেও, এটা চলবেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

