জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি) পদে নিয়োগ পাবার লক্ষ্যে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা সরকারের উচ্চমহলে ব্যাপক লবিং-গ্রুপিং শুরু করেছেন। পদ-পদবি নিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষকদের মাঝে কোন্দল, দলাদলি, আঞ্চলিকতা, গ্রুপিংও বাড়ছে সমানতালে। সাধারণ শিক্ষকদের অভিমত, মৌলবাদী অপশক্তির গ্রাস থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও চেতনাগত পরিবর্তন আনতে চাইলে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে অত্যন্ত বিচক্ষণ বিবেচনার প্রমাণ দিতে হবে। নইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা জামায়াত-শিবির স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা এমন মন্তব্য করেছেন।
শিক্ষকরা জানান, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও তৎপরবর্তী দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কাউকে ভিসি বা প্রেভিসি নিয়োগ করা না হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ধকার অবস্থা দূর হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে মহাবিজয়ের পরপরই ভিসি ও প্রোভিসি পদে নিয়োগ প্রত্যাশী আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। এদের মধ্যে অন্তত: অর্ধ ডজন শিক্ষক আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। অনেকেই আবার ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সূত্র মতে, শিক্ষকদের মধ্যে আঞ্চলিকতা প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চল, রাজশাহী অঞ্চল, রংপুর অঞ্চল এবং যমুনার ওপারের অঞ্চলের কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক ভিসি হবার জন্য লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপকভাবে। লবিং চালিয়ে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের অতীত সুবিধাবাদী আচরণ আলোচিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষকদের মুখে মুখে।
কলা অনুষদভুক্ত একটি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একজন শিক্ষক, বিজ্ঞান এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের অধীন দু'টি বিভাগের প্রথম সারির দুইজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশি দিন আগের কথা নয় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেফতারের পর ভিসি ও প্রেভিসি হবার জন্য লবিংকারী অধ্যাপকদের ভূমিকা দারুনভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে। অথচ ওইসময় বিএনপি সমর্থক সিনিয়র অধ্যাপকরা গ্রেফতার হওয়া শিক্ষকদের প্রতি সহানুভুতিশীল ছিলেন। কিন্তু আওয়ামীপন্থি সিনিয়র অধ্যাপকদের অনেককেই প্রশাসনের সাথে লিঁয়াজো করে চলতে দেখা গেছে। এসব শিক্ষকদের একই ধরনের আচরণ ছিল বিএনপি-জামায়াত জোর সরকারের আমলেও। ভিসি প্রেভিসি হতে চাচ্ছেন এমন কতিপয় আওয়ামীপন্থি অধ্যাপক (যারা লবিং চালাচ্ছেন) বিএনপি-জামায়াত সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দহরম মহরম করে চলেছেন।
শিক্ষকরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুইটি পদ নিয়ে আওয়ামপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে কামড়া কামড়ি চলছে। এই অবস্থায় নিদেনপক্ষে হলেও বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক আবদুল খালেক ও অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান এর মধ্য থেকে যে কোন একজনকে ভিসির দায়িত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যেতে পারে। এই দুই অধ্যাপক তুলনামূলক বিচারে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য।
উল্লেখ্য, মূলত: ১৯৯০ সালের পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মৌলবাদী জামায়াত-শিবির চক্রের হাতে নিয়ন্ত্রিত। এখানকার সর্বস্তরে মৌলবাদী চরিত্র স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধেছে। এই অবস্থায় চেতনাগত পরিবর্তনের লÿ্যে যোগ্য এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের শীর্ষ দুই পদে না বকসালে জামায়াত-শিবিরের ভুত তাড়ানো সম্ভব হবে না বলে আওয়ামীপন্থি সাধারণ শিক্ষকরা মনে করছেন। #
http://www.humanrightstoday.info

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



