somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... “নির্বাসিত জীবনের কথা” ॥ মানবাধিকারের অন্তরালে! জাহাঙ্গীর আলম আকাশ (পেন-আকাশ) ॥ মানুষের অধিকার বা মানবাধিকার বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। এই ধারণাটি শতভাগ সার্বজনীন। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার অধিকার ছাড়া কী মানবাধিকার কল্পনা করা যায়? সকল বন্ধনাদি হতে মুক্ততার নামই মানবাধিকার। এটি মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা। যা সকল মানুষ সমভাবে পাবার বা ভোগ করার অধিকার রাখে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার সবকিছুই মানবাধিকার।
আইনের চোখে মানবাধিকারের উল্লেখযোগ্য শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে-বেঁচে থাকার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, কাজ করার স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের স্বাধীনতা, খাবারের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, এবং সমঅধিকার। কু-শাসন, বৈষম্য, অনাচার, অবিচার, অনিয়ম, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ তথা ধর্মের নামে চলমান চরমপন্থা, সন্ত্রাস, স্বৈরাচারী মনোভাবসহ নানাভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে মানব অধিকার। উল্লিখিত কারণে প্রতিনিয়ত দেশে দেশে অধিকারহারা হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে বিশ্বময় বাড়ছে খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাহীন, গৃহহারা, বস্ত্রহীন মানুষের মিছিল।
এশিয়া থেকে আফ্রিকা, আমেরিকা থেকে ইউরোপ পৃথিবীর প্রায় সবখানেই মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা লক্ষ্যণীয়। পার্থক্য শুধু এই-কোথাও কম আর কোথাও বেশি। মানবাধিকারের সূচকে এশিয়া-আফ্রিকার অবস্থান আমেরিকা বা ইউরোপের তুলনায় খুবই শোচনীয়। এশিয়া-আফ্রিকার বহু দেশ আপদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। যেসব দেশে নেই প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা। নেই বিজ্ঞানসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহার। তদুপরি আছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধকল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, হানাহানি, বিভাজনসহ নানান নেতিবাচক উপসর্গ। এর বাইরেও আছে স্বৈরশাসকদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা কিংবা মানবাধিকার রক্ষার নামে ধনী দেশ ও জোটগুলির মানবাধিকার লংঘন।
মানবাধিকার রক্ষার অন্তরালে আন্ত:শক্তি এবং বহি:শক্তি উভয় শক্তির মাধ্যমেই কেড়ে নেয়া হচ্ছে মানুষের অধিকার! এক্ষেত্রে অধিকার লংঘণকারিদেরকে নানান কৌশল ও ছলছুঁতোর আশ্রয় নিতে দেখা যায়। মানবাধিকার যেমন একটি সার্বজনীন ব্যাপার তেমনি আজকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ইস্যুটি একটি সার্বজনীন ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সুবিধাবাদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতাপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক এবং তাদের দোসরদের কাছে অবশ্য এর ভিন্ন অর্থ। এদের কাছে ক্ষমতা, পরিবার এবং নিজস্ব আরাম-আয়াশই মুখ্য কথা।
মানুষের অধিকারকে ঘিরে দুইটি পক্ষ সবসময় তৎপর। একটি পক্ষ অধিকার লংঘণকারি অন্য পক্ষটি অধিকার রক্ষাকারি। বাস্তবে আমরা দেখি, উভয়পক্ষই মানবাধিকার লংঘণ করে! একদিকে নির্যাতন, অনিয়ম, অবিচার এবং নানান কালো আইন খর্ব করছে মানুষের অধিকার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসহীনতা কিংবা গণতন্ত্রের চর্চা নেই এমন রাষ্ট্রগুলিতে চলছে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা। অন্যদিকে আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, গোলাবারুদের ব্যবহার কেড়ে নিচ্ছে নিরীহ মানুষের প্রাণ। নারী ও শিশুরাও এর থেকে রেহাই পায়না। যুদ্ধ-বিগ্রহের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নগর, বন্দর, সভ্যতা, সংস্কৃতি। বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন-যাপন প্রণালী। বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শান্তি, সৌহাদ্য। এর দায় কে নেবে?
আর যাই হোক, বোমা ও অস্ত্রের ব্যবহার কখনও অধিকার বা মানুষ কাউকেই রক্ষা করতে পারেনা। পারে শুধু শান্তি ও মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে। অথচ এই সহজ ব্যাপারটি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনাকারি ইনটেলেকচুয়ালরা বুঝতে চায়না বা বুঝতে পারেনা! মানবাধিকার ও মানুষ রক্ষার নামে তাদের কাছে কখনও কখনও অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আধিপত্যবিস্তার বড় হয়ে ওঠে। যতদিন স্বার্থের আদান প্রদান ততদিন কোন সমস্যা নেই। স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কই তখন ভালো! কিন্তু যখনই স্বার্থের টানাপোড়েন তখনই স্বৈরাচারি রাষ্ট্রনায়ক মানুষের জন্য, মানবাধিকারের জন্য বিপদজনক। এই তত্ত্বটা যে কোনভাবেই সার্বজনীন মানবাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তা কী তারা বোঝে না?
মানুষ জানে, স্বৈরাচারি ও মানবাধিকার লংঘণকারি রাষ্ট্রনায়করা আধিপত্যবিস্তারকারি কোন কোন রাষ্ট্রনায়কের একদা সুহৃদও বটে। তৃতীয়বিশ্বের দেশে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা জায়েজ বা বৈধ নয়! এই হত্যা হোক না কেন কোন দাগী সন্ত্রাসীকে। কিন্তু প্রথম বিশ্বের কোন রাষ্ট্র বিনাবিচারে কাউকে হত্যা করলে সেটা কিন্তু মানবাধিকার লংঘণের পর্যায়ে পড়েনা! এই স্ববিরোধী এবং বৈষম্যমূলক মতবাদ বা আচরণ কী সমাজে, বিশ্বে শান্তি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে? মজার ব্যাপার হলো-বিনাবিচারে মানুষ হত্যার ফরমুলা কিন্তু আবার একই। সেটা তৃতীয় বিশ্বেই ঘটুক আর প্রথম বিশ্বের দ্বারাই চলুক।
আজকের আলোচনার মূখ্য বিষয় মূলত: আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানবাধিকারচর্চা নিয়ে। সেখানে নানাভাবে মানুষের অধিকার পদদলিত, লংঘিত হচ্ছে। রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় বাহিনী, সন্ত্রাসী চক্র মানুষের মর্যাদা, অধিকার হরণকারির ভূমিকায়। এখানে মানবাধিকার সার্বজনীনতা পায়নি, রাজনীতির দ্বারা বিভক্ত মানবাধিকার। ব্যক্তি এবং তার রাজনৈতিক মতাদর্শের কাছে পরাজিত মানুষের অধিকার। আবার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেউ কেউ মানবাধিকারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত কারণে কেউ কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকার হলেও তাতে মানবাধিকারের রং লাগানো হয়। এমন একটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে বাংলাদেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁতে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের বিবেচনা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরছি। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান রাইটস (বিআইএচআর) এর নির্বাহী পরিচালক মো. শাহনুর ইসলাম (ওরফে সৈকত) ১০ জানুয়ারি, ২০১১ ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি লিখেছেন যে, “৯ জানুয়ারি দুপুর ১.৩০ মিনিটের সময় একটি মানবাধিকার লংঘনজনিত ঘটনার তথ্যানুসন্ধান করতে আমার দু’জন সহকারী মো. সোহেল রানা ও মো. উজ্জল হোসেন, তথ্যানুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া সংলগ্ন ঝারগাঁও/বানিয়া গ্রামে তথাকথিত ভিক্টিম ইউনুস ও জলিলের বাসায় যাই। ভিক্টিম ইউনুস ও জলিলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অস্ত্রের মুখে (রিভলভার জাতীয়) তাদের সঙ্গে থাকা একটি আসুস ব্যান্ডের ল্যাপটপ যার আনুমানিক মূল্য-১৪০,০০০/- টাকা, ১টি সনি ব্রান্ডের স্টীল ক্যামেরা যার আনুমানিক মূল্য-৩৫,০০০/- টাকা ১টি সনি ব্রান্ডের ভিডিও ক্যামেরা যার আনুমানিক মূল্য-৮৬,০০০/- টাকা ১টি সনি ব্রান্ডের গোপন ভিডিও পেন ক্যামেরা যার আনুমানিক মূল্য ২১,০০০/- টাকা ২টি নকিয়া ব্রান্ডের মোবাইল ফোন যাহার আনুমানিক মূল্য-২২,০০০/-টাকা, দুইটি স্যামসাং ব্রান্ডের মোবাইল ফোন যার আনুমানিক মূল্য ১৬,০০০/- টাকা, ১টি পেনড্রাইভ যার মূল্য ১৮০০/-টাকা, নগত আনুমানিক ১৭,০০০/-টাকাসহ আমার বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, ঢাকা বার এ্যাসোসিয়েশন ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাদের বাধা দিতে গেলে তারা শাহনুরসহ তার দুই সহযোগিকে মারপিট করে এবং হত্যা করার হুমকি দেয়।”
চাঞ্চল্যকর এই বিষয়টি আমার নজরে আসে গত মে মাসে। জার্মান পর্ব শেষ করে আমি তখন অষ্ট্রিয়ায়। নেদারল্যান্ডভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন “গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স” (জিএইচআরডি) এর হিউম্যান রাইটস অফিসার মিস. জেনি লুন্ডস্ট্রোম। সেই আমাকে জনাব শাহনুরের অভিযোগনামাটি পাঠিয়েছিলেন ইংরেজীতে অনুবাদ করে দেবার জন্য। যেখানে শুদ্ধ করে ইংরেজী বলতে, পড়তে বা লিখতেই পারি না সেখানে আবার অনুবাদ। আমার মতো করে আমি তা করার চেষ্টা করেছি। জেনিদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণী। বন্ধুবৎসল, মানবিক জেনি এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশের মানবাধিকারের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল পেন, রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারস (আরএসএফ), পেন-নরওয়ে, কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিষ্টস (সিপিজে), হামবুর্গ ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল হাউজ ডেয়ার আউটোরেন-গ্রাজ, অষ্ট্রিয়া, ইন্টারন্যাশনাল সিটিজ অফ রিফিউজি নেটওয়াক (ইকর্র্ণ), দোহা সেন্টার, ফ্রিডম হাউজ প্রভৃতির কাছে আমি ঋণী এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আরও কৃতজ্ঞ জিএইচআরডি’র প্রতি। জার্মান মানবাধিকারকর্মী সাংবাদিক বেনহার্ড হারলেইন, মানবাধিকারকর্মী-লেখক মিরিয়াম আলেকজোভিজ, পেন ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান শ্রদ্ধেয় মারিয়ান বোর্ডসফোর্ট, ইকর্ণের প্রিয় এলিজাবেথ ডিইভিক’র কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আমি আরও কৃতজ্ঞ বিসিডিজেসির মাঈনুল ইসলাম খান, সিডিএ’র উইলিয়াম গোমেজ এর কাছে।
যাহোক, জনাব শাহনুরের অভিযোগটি পড়েই আমার একটা খটকা লাগলো। এতবড় ঘটনা অথচ বাংলাদেশের মিডিয়া এড়িয়ে গেলো। বিআইএচআর’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশে বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। জনাব শাহনুরের রাজনৈতিক মতাদর্শও একই। দীর্ঘ দুই দশকের সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকা মন আমার। কোন বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান চালিয়ে সত্য অন্বেষণ করাই তো একজন সাংবাদিকের কাজ। পরিচিত সহকর্মী সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে সাহায্যে প্রার্থনা করলাম। তারাও হাত বাড়িয়ে দিলেন। সংগ্রহ করলাম সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার ফোন নম্বর। প্রথমেই ফোন করলাম ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব গোপাল চক্রবর্ত্তীর কাছে। জানতে চাইলাম শাহনুর ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি কোন পক্ষের হয়ে ফোন করেছি উনাকে। আমি সরাসরি জানিয়ে দিলাম সত্য জানতে এবং আমি সবসময় সত্যের পক্ষে। এই মামলা বিষয়ে (শাহনুরের অভিযোগ) অনেক চাপ রয়েছে। কিসের চাপ এবং কেন সেসবের কোন জবাব দিলেন না তিনি। বরং তিনি মামলার তদন্তকারি পুলিশ সদস্যের মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিলেন আমাকে। তদন্ত কর্মকর্তা কোমল মোহন চাকী বললেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। এর বেশি কিছু বলা যাবে না! ফলে আমার সন্দেহের ডালপালা বাড়তে থাকলো। সিদ্ধান্ত নিলাম বিষয়টির অনুসন্ধান করবো। আমার অনুরোধে সাড়া দিলেন ঠাকুরগাঁ ও তার পাশ্ববর্তী জেলা শহর পঞ্চগড়ের কয়েকজন সাংবাদিক বন্ধু। তারাই ঠাকুরগাঁও জেলায় কর্মরত দুইজন নামকরা সাংবাদিক এবং একজন আইনজীবী সমন্বয়ে একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করলেন।
কমিটির সদস্যরা সরজমিনে পুঙ্খানুপঙ্খু অনুসন্ধান করে প্রকৃত ঘটনাটি উৎঘাটনের চেষ্টা করেছেন। কমিটি যে রিপোর্ট পাঠিয়েছে আমার কাছে তাও হুবহু আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। “ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঝারগাঁও/বানিয়া গ্রামে মানবাধিকার লংঘনজনিত কোন ঘটনার কথা উক্ত এলাকার মানুষ অদ্যাবধি অবহিত নয়। তারা জানেন না মানবাধিকার লংঘনজনিত কোন ঘটনার কথা। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার এক পর্যায়ে এ বিষয়টি পরিস্কার হয় যে, উক্ত এলাকাটিতে একটি চক্র জাল ডলার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই জাল ডলার ব্যবসার সংগে জড়িতরা বিভিন্ন জনকে বিভিন্নভাবে প্রতারিত করে। এই প্রতারনার অংশ হিসেবে বাজার মূল্যের চাইতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম মূল্যে আমেরিকান ডলার ক্রয় করার প্রলোভনে দুর দুরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। এখানে অনেকের কাছ থেকে টাকা পয়সা সহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার গল্প লোকমূখে প্রচলিত আছে। পুলিশের নথিতেও এধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা গত ২/৩ বছরে পরিলক্ষিত হয়। শাহনুর ইসলামের ঘটনা জানতে চাইতে উক্ত গ্রাম সংলগ্ন ফুটানি বাজারে ঔষুধের দোকানে অবস্থানরত পল্লী চিকিৎসক বিশ্বনাথ রায় (৩০), পিতা-কটকু রাম রায় তদন্ত দলকে বলেন, মানবাধিকার লংঘনজনিত কোন ঘটনা এই গ্রাম সহ আশপাশের গ্রামে ঘটে থাকলে এটা আমাদের জানার কথা ছিল। কারণ চিকিৎসার বাইরেও অবসর সময়ে এই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে এমনকি তাদের পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা হয়। এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় এ অঞ্চলে ঘটে থাকলে এটা অবশ্যই জানা যেত। তিনি আরো বলেন, তবে এই বাজার থেকে ৫০০/৭০০ মিটার দুরে জাল ডলার নিতে এসে কে বা কারা দুর এলাকার মানুষকে প্রতারনা করেছে বলে তিনি এলাকাবাসীর কাছে শুনেছেন। একই এলাকার কবিরুল ইসলামের পুত্র ২১ বছর বয়সী পিয়ার আলী বলেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত এই এলাকা এবং এর নিকটস্থ কয়েকটি গ্রামে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে ডলার কিনতে এসে প্রতারিত হয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি এটা তিনি লোকমুখে শুনেছেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রতারনার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক কোমল মোহন চাকি হামিদুল ইসলাম নামে মধ্য বয়সী এক মানুষকে ঝারগাঁও গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে আনে। গ্রেফতারকৃত হামিদুল ইসলামের সঙ্গে তদন্ত দল কথা বলেন। তিনি জানান, উক্ত ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। যেহেতু তার বাড়ি সেদিন সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল সেহেতু তার বাড়িকে প্রতারনার স্থান হিসেবে কেউ ব্যবহার করে থাকলে সেটা তিনি বলতে পারেন না। একই এলাকার মকসেদ (৩০), পিতা-কালু মিয়া, তারা মিয়া (৬০), পিতা-ফালু শেখ সহ আরো অনেকে বলেন, মানবাধিকার লংঘনজনিত কোন ঘটনা এই অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে তা তারা জানেন না। তবে গত ২ বছরে জাল ডলার ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় বিভিন্ন মানুষ প্রতারিত হয়েছে এমন গল্প লোকমুখে তারা শুনেছেন। জনাব শাহনুরের অভিযোগে ঐ গ্রামের ইউনুস ও জলিল নামে যে দু’টি লোককে আসামী করা হয়েছে বাস্তবিক অর্থে তারা প্রত্যন্ত একটি গ্রামের সত্তরোর্দ্ধ বৃদ্ধ। যাদের স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা নেই বললেই চলে। তাদের দ্বারা ছিনতাই কিংবা সেই জাতীয় কোন অপরাধ সংঘটনের কোন সামর্থ্য তাদের আছে বাস্তবে তা পরিলক্ষিত হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁও থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক কমল মোহন চাকি তদন্ত দলকে বলেন, ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন ডলার ব্যবসার জন্য খ্যাত সেই এলাকায় কম দামে ডলার কিনতে এসে এর আগে অনেকেই অর্থ সহ দামি দ্রব্যাদি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, শাহনুর ইসলামকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ও মিথ্যা ঘটনা বর্ণনা করে এ এলাকায় কোন দুষ্টচক্র আনতে পারে!”
এই হলো বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মী বা নেতার কর্মকান্ড! জনাব শাহনুর ইসলাম শুধু একটি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী প্রধানই নন তিনি সুইজাল্যান্ডভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন কর্তৃক “জাষ্টিজ মেকার” খেতাবে ভূষিত। বিবেকবান, শ্রদ্ধেয় পাঠক উপরিল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে আমি আর কোন মন্তব্য করতে চাই না। আপনারাই বিচার-পর্যবেক্ষণ করুণ প্রকৃত সত্যটা কী হতে পারে? আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, এই ‘তথাকথিত’ জাষ্টিজ মেকার ব্যক্তিটি মিথ্যা বলতে বেশ পটু! মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হবার আগে জার্মানিতে আসার পূর্বে আমি তার মিথ্যাচার প্রত্যক্ষ করেছি। সেব্যাপারেও আলোকপাত করা দরকার মনে করছি।
২০০৭ সালে আমি অন্যায়ভাবে যখন গ্রেফতার হই। ওই সময় আমি সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিআরসিটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারির দায়িত্ব পালন করছিলাম। জনাব শাহনুর আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রচার করলেন যে, তার সংগঠন বিআইএইচআর বা বিআরসিটিই আমাকে আইনগত সহায়তা দিচ্ছেন। একেবারেই ডাহা মিথ্যা কাহিনী। সত্যটা একেবারেই উল্টো। আমার বিরুদ্ধে রাজশাহীতে সিরিজ রাজনৈতিক হয়রাণিমূলক মামলা চলছিল। এগুলির বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে লড়াই করার জন্য সকল প্রকার কাগজপত্র বিআরসিটির আইনজীবী জনাব রুবেলের হাতে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ ফাইল করবো, কাল করবো এমন করতে করতে কালক্ষেপণ হতে থাকলো। আমার শংকা, উদ্বিঘ্নতা বাড়ছেই। এই অবস্থায় আমি রাজশাহীর আইনজীবী সুশান্তর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে ঢাকা হাইকোর্টে প্রাকটিস করেন এমন একজন আইনজীবীর সন্ধান জানালেন। ওই আইনজীবীর বাড়ি বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে। অ্যাডভোকেট জাহিদ আমার কাছ থেকে ৬০০০ টাকা নিলেন। তিনিও আমাকে ঘুরাতে থাকলেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেননি। দুই সপ্তাহ পরে তিনি আমাকে তিন হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন। অন্যদিকে দেশের একজন নামকরা আইনজীবী মানবাধিকারকর্মীর কাছে গিয়েছিলাম আইনগত সাহায্য নিতে। তিনিও আমাকে নিরাশ করেছিলেন। তিনিই আবার ইউরোপ-আমেরিকায় এসে মানবাধিকারের কথা বলেন। এই হলো বাংলাদেশের আইনজীবী! এই দেশে আবার মোহাম্মদ হোসেন ও সৈয়দ মামুন মাহবুবদের মতো দরদী আইনজীবীরাও আছেন।
দেশজুড়ে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্যাডারদের নানান অপকর্ম। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তাদের অপকর্মের তালিকায় যুক্ত হয় নারী ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু-আদিবাসি নির্যাতন। পেশাদার একজন সাংবাদিক হিসেবে ঘটনার পেছনের সত্য তথ্য তুলে ধরেছি দেশবাসির সামনে। আমার রিপোর্টিংয়ে মুগ্ধ হয়ে বিআরসিটির প্রতিষ্ঠাতা আকরাম হোসেন চৌধুরী ২০০২ সালে আমাকে প্রস্তাব দেন বিআরসিটির সঙ্গে কাজ করার। বাংলাদেশে একটি পত্রিকা মাধ্যমে কাজ করে সংসার চালানোটা কঠিন। সেইকারণে আমি উনার প্রস্তাবটা লুফে নিলাম। যদিও আমি তখন ব্যাচেলর ছিলাম। বিআরসিটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারির দায়িত্ব পালন করার জন্য আমাকে প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা সম্মানি দেয়া হবে। পাশাপাশি বিআরসিটি কর্তৃক পরিচালিত টাস্কফোর্স এগেইনেষ্ট টর্চার (টিএফটি)’র জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি কার্যালয় থাকবে। যার একটিতে টিএফটির কার্যক্রম চলবে এবং অন্যটি আমার থাকার জন্য। এই শর্তে চুক্তিনামা সই হলো বিআরসিটির সভাপতি ডা. খলিলুর রহমান ও আমার মধ্যে।
বিআরসিটির কাজ হলো রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ঘটনাগুলির তথ্যানুসন্ধান করা। সাংবাদিকতার সঙ্গে মানবাধিকারের একটা মিল খুঁজে পাই আমি। তাইতো যথাযথভাবে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করতে থাকি। এরই মধ্যে ঘটে গেলো আমার জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাবিদ্ধ ঘটনাটি। আমাকে গ্রেফতার, নির্যাতন ও জেলে পুরে দিলো সরকার। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলির প্রচেষ্টায় ২৮ দিন পর জেল থেকে ছাড়া পেলাম। কিন্তু মুক্তি পেলাম না ষড়যন্ত্র আর হয়রাণি থেকে। ফলে রাজশাহী ছেড়ে পালিয়ে গেলাম রাজধানী ঢাকায়। সেখানে বিআরসিটি কর্তৃক পরিচালিত হাসপাতালে ভর্তি হলাম। সেখানে ভর্তির পরপরই বিআরসিটির পক্ষ থেকে আমাকে নির্যাতিত সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিচারপতি কে এম সেবহান, আকরাম চৌধুরী, তার স্ত্রী মাহফুজা আকরামও উপস্থিত ছিলেন।
বিআইএইচআর এবং বিআরসিটি মূলত: মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। উভয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আকরাম চৌধুরী। বিআরসিটির মাসিক প্রকাশনা “মানবাধিকার অনুসন্ধানী”। আমি যদি সহায়তা করি তাহলে এই পত্রিকাটি পুনরায় নিয়মিত প্রকাশ করা সম্ভব। এই মন্তব্য করলেন আকরাম চৌধুরী। এজন্য তিনি আমাকে প্রস্তাব দিলেন এটি নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার। এর প্রকাশনা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। কি কারণে তা জানি না। প্রস্তাবমতো তিনি আমাকে বিআরসিটি অফিসে থাকার জন্য একটা জায়গা দিলেন। এবং সেখানেই আমার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হলো অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মতো। পারিশ্রমিক বা সম্মানি হিসেবে মানবাধিকার অনুসন্ধানীর সংখ্যাপ্রতি ১৫০০০ টাকা দিবেন বলে আকরাম চৌধুরী অঙ্গিকার করলেন। এই প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতির অবশ্য লিখিত কোন রুপ ছিল না। আমি সেখানে দিন রাত পরিশ্রম করে মাসিক অনুসন্ধানীর চাকা সচল করলাম। রিপোর্ট, ফিচার তৈরী করা, সম্পাদীয় লেখা খেকে শুরু করে কম্পোজ ও প্রুফ দেখা সবকিছুই আমাকে করতে হতো। আমি ঢাকায়, আমার পরিবার (স্ত্রী ও শিশু সন্তান) রাজশাহীতে। মাসিক অনুসন্ধানীর মোট ৫টি সংখ্যা প্রকাশ করে দিয়েছিলাম। বিআরসিটির তরফ থেকে আমাকে ২১২০০ টাকা প্রদান করা হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫৩৩০০ টাকা এখনও আমি পাই। তবে এই টাকার বিষয়ে আমার কোন দাবি নেই। কষ্ট শুধু একটাই সেটা হলো-একটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান হয়ে কী করে একজন নির্যাতিত-নিষ্পেষিত সাংবাদিককে মিথ্যা অভিযোগে অপমান ও অপদস্ত করা যায়?
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। বিআরসিটির সুনিরাপদ ঢাকা অফিসের ভেতর থেকে চুরি হলো আমার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো “জঙ্গিবাদ” এর ওপর লেখা আমার বইয়ের মূল পান্ডুলিপি। এছাড়া আমার ব্যবহার করা মোবাইল সেটটিও হারালো। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক ও রহজ্যজনকভাবে এই ডাকাতি’র! কাজটি ঘটে গেলো। বিষয়টি জানানো হলো বিআরসিটির কর্ণধার আকরাম হোসেন চৌধুরী, তার পত্নী মাহফুজা আকরাম, শাহনুর ইসলামসহ বিআরসিটি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সবাইকে। কে এই ঘটনার নায়ক কী তার উদ্দেশ্য? সবাই পরিস্কার ছিল সবার কাছেই। কিন্তু বিআরসিটি কর্ণধারের দক্ষিণহস্ত এক নারীর খুবই প্রিয় সেই চোরটির কিছুই হলো না। উল্টো অভিযোগ করেই ফেসে গিয়েছিলাম প্রায়। নোয়াখালির সেই ব্যক্তিটি শেষ পর্যন্ত আমার জীবন কেড়ে নেয়ার হুমকি দিলো। বললো কাগজপত্র চুরি যাওয়ার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলো আমার নাকি লাশ পড়ে যাবে! কাজেই জীবন বড় নাকি গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি বড়? স্বভাবত:ই জীবনের মায়ার কাছে পরাজিত হলো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস’র প্রিয়তা বা প্রয়োজনীয়তা। আজও আমি সেই ডকুমেন্টসগুলি পাইনি। শুধু যে আমার জিনিসপত্রই হারিয়েছিল তা নয়। আমার ঘটনার ক’দিন পরেই এক বিদেশীনির দামী মোবাইল সেটটিও চুরি হয় সেই বিআরসিটি অফিসের ভেতর থেকেই। সেটিও পরবর্তীতে পাওয়া গিয়েছিল বলে শুনিনি।
রাজশাহীর আদালতে আমার বিরুদ্ধে প্যারামিলিটারি এলিট ফোর্স র‌্যাব (rab) ও রাজশাহীর মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের করানো রাজনৈতিক হয়রাণিমূলক মামলাগুলি চলছে। এরইমধ্যে বিআরসিটির চেয়ারম্যান ডা. খলিল আদালতে আরেকটি মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, আমি কয়েক বছর ধরে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করিনি এবং বাড়িও ছাড়ছি না। অথচ আমাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য কখনই কিছু বলা হয়নি। এখানে বলে রাখা ভালো যে, ডা. খলিল হলেন জনাব আকরাম চৌধুরীর মামাশ্বশুর। যে সংগঠনের হয়ে আমি ছয় বছর ধরে জীবনের ওপর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলাম যেসই সংগঠনের সভাপতি আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন আদালতে। সরকারি স্ট্যাম্পের ওপর ডা. খলিলের সঙ্গে আমার যে লিখিত চুক্তি হয়েছিল তা কপি আদালতে দাখিল করা হয়। এরপর আদালতের কাছে পরিস্কার হয় যে, ডা. খলিলের অভিযোগটি কতটা অসাঢ়! শেষ পর্যন্ত টিএফটির কার্যালয়ের আবাসস্থলটি ছেড়ে দেয় আমার স্ত্রী ও শিশুসন্তান। এই হলো দেশের মানবাধিকার নেতাদের আচরণ!
অস্বাভাবিক-অনাকাঙ্খিত দুই বছরের জরুরি অবস্থার অবসান হলো ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে নিয়েছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় মানবাধিকার নেতা আকরাম ভাই (আকরাম চৌধুরী) সংসদ সদস্য। সবমিলিয়ে যখন আশা জাগছে এই ভেবে যে কালো মেঘ এবার বুঝি কেটে যাবে! কিন্তু না, ষড়যন্ত্রের কালোছায়া আবৃত করে ফেলছিল আমাকে ও আমার পরিবারকে। রাজশাহীর মেয়র এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা জনাব লিটন, একই দলের নমিনেশনে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আকরাম চৌধুরী এবং রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স র‌্যাপিড একশান ব্যাটালিয়ন ((rab) সবই কী একই সুতোয় বাঁধা? হায় বাংলাদেশ!
বিআরসিটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারি হিসেবে যোগদানের পরই আমার উদ্যোগে বিআরসিটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ব্যাপক কভারেজ পায়। নির্যাতিতদের জন্য ট্রিটমেন্ট ক্লিনিকের আয়োজন এবং নির্যাতিতদের সংগঠিত করে সমাবেশ করার দায়িত্বটিও আমিই পালন করেছি। কানসাটের সেই নির্যাতিতদের জন্য বিআরসিটির ট্রিটমেন্ট ক্লিনিক আয়োজন করতে হয় আমাকেই। ২০০৬ সালের ২৬ জুন ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নির্যাতিতদের একটি সমাবেশ হয়। সেই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্যাতিত নারী-শিশু ও পুরুষদের রাজশাহী অঞ্চল থেকে ঢাকায় আনা-নেয়ার গুরু দায়িত্বটিও কিন্তু এই অধমই পালন করেছিল। এই নির্যাতিতদের সংগঠিত করতে গিয়ে এই অভাগাকে মোটরসাইকেলে চেপে রাত-দিন ছুটে বেড়াতে হয়েছে সেই দূর্গম আত্রাই, রানীনগর, বাগমারা, নলডাঙ্গা এলাকায়। স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে ঘরে একা ফেলে চষে বেড়িয়েছি রাজশাহী অঞ্চলের নির্যাতিতদের ঘরে ঘরে। বিনিময়ে বিআরসিটি থেকে পেলাম মিথ্যা দুর্নাম আর বদনামের কালিমা। এতে আমার কোন রাগ কিংবা আক্ষেপ নেই। তবুও আমি তাদের ওপর কৃতজ্ঞ! তারাইতো আমাকে আশ্রয় দিয়েছিল, চিকিৎসা দিয়েছিল জেলখানার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার পর। হোক না সেটা তাদের তহবিল বা প্রকল্পের দায়িত্ব-কর্তব্য। দেশেতো আরও অনেক সংগঠন ছিল! যেকারণেই আর যেভাবেই হোক তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল! এটাতো আর অস্বীকার করতে পারি না। কিন্তু নিষ্পেষিত সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীদের ওপর থেকে যখন দুর্যোগের ঘনঘটা বন্ধ হয়ে যাবার কথা তখনই হতাশার কালো মেঘে ঢেকে যায় আমার আশার আলো।
বাংলাদেশের আরেকটি মানবাধিকার সংগঠনের নাম ‘অধিকার’। এই সংগঠনটি ডানপন্থি রাজনীতির সমর্থনকারি! আমার ধারণা ছিল, তারা মানবাধিকারের কাজ করে সার্বজনীনভাবেই। কোন বিশেষ ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলন হতে পারে? এমনটা কখনই আমার কল্পনায় ছিল না। কিন্তু অধিকারের কর্মকান্ডে আমার ভুল ভাঙে। আমি অধিকারের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম বন্ধু উইলিয়াম গোমেজকে সঙ্গে নিয়ে। অধিকারকর্মী জনাব এলান ও জনাব কোরবানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। আমাদের অনুরোধ ছিল, অধিকার যাতে আমার উপর আনীত অভিযোগ (রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত), র‌্যাবের বর্বর নির্যাতন বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। কিন্তু এজন্য উনারা আমাকে অধিকার বরাবর আবেদন করতে বলেন। তাদের কথানুযায়ী আমি আবেদন করি। আড়াই পার হতে চললো। আজও তারা আমার আবেদনের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
দেশে থাকতেই ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করি। অধিকারের অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়, ‘আপনার বিষয়টি এখন সাবজুডিশ, তাই আমাদের (অধিকারের) কিছু করার নেই’। পরবর্তীতে এই অধিকারই দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিষয়ে জিহাদী মনোভাবে ঝাপিয়ে পড়ে। জনাব রহমানের বিষয়টিও একই অর্থে সাবজুডিশ। কারণটা অবশ্য সেটা নয়, কারণ রাজনৈতিক! মাহমুদুর রহমানের যে রাজনৈতিক মতাদর্শ সেই একই রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারি অধিকার! যে কারণে মাহমুদুর রহমানের বেলায় সাবজুডিশ বিষয়েও রিপোর্ট করা জায়েজ!
বাংলাদেশের মানবাধিকার ফিল্ডের আরেকটি অমানবিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় আছে আমার। সেটি খুবই দু:খজনক। হাইকোর্টে প্রাকটিস করেন এমন একজন মানবাধিকারকর্মী যিনি একটি বিদেশী সংস্থার কাছ থেকে মাসিক সম্মানি পান। তিনি মানবাধিকার লংঘণের ঘটনার তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে ভিক্টিমের কাছ থেকে যাতায়াত খরচ হাতিয়ে নেন। একই অভিযোগ ঢাকার আরেক মানবাধিকারকর্মীর বেলায়ও পাওয়া যায়। ঢাকাভিত্তিক আরেক মানবাধিকারনেত্রী জার্মানির একটি সংস্থা থেকে নিয়মিত ফান্ড পান। যিনি সংবাদপত্রে প্রকাশিত মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলির ক্লিপিংস সংগ্রহ ও তার ওপর ভিত্তি করেই বুলেটিন প্রকাশ করেই দায়িত্ব সারেন। রাজশাহীর একজন সংবাদকর্মী, যিনি আমার নির্যাতন সংশ্লিষ্ট ষড়যন্ত্রের অন্যতম অনেকের মধ্যে একজন। সেই ব্যক্তি এখন ঢাকার একটি পুরনো দৈনিকে কর্মরত। তার স্ত্রী একটি নারী সংগঠনের সদস্য। মানবাধিকার লংঘণের বিশেষ করে ধর্ষণ ঘটনাগুলিকে পুঁজি করে স্বামী-স্ত্রী মিলে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করতো বলে অভিযোগ আছে। নির্যাতন ভিকিটিম ও অভিযুক্ত উভয়পক্ষের কাছ থেকে নানান কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিতো। ধর্ষণ ঘটনাগুলির মেডিক্যাল রিপোর্ট কেলেংকারীর মাধ্যমে এই অবৈধ-অমানবিক ব্যবসা চলতো। এই বিকৃত মানসিকতার যোগসাজশী পার্টনার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক। মানবাধিকার রক্ষার অন্তরালে এমন শত শত, হাজারো কাহিনী আছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে।
২০০৩ সালের ১৯ জানুয়ারি এই সংবাদকর্মীসহ অন্যান্যদের চাঁদাবাজির খবর ছাপা হয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে বার্তা সম্পাদকের হাত দিয়ে সেই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছিল তিনি আজ একই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। সেই ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকই এখন সেই ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলেন। সেই বিতর্কিত ব্যক্তিটি ২০০৩ সালের ওই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আমাকে ‘অবাঞ্ছিত‘ ও রাজশাহী ছাড়া করার দাবিতে নানান কর্মসূচীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়েছিল। প্রয়াত সাংবাদিক শাহ আনিসুর রহমান, রাজশাহী প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান এবং বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা এনামুল হক যার সাক্ষী। রাজশাহীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিকে আমার বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহবান জানিয়েও তাদেরকে মাঠে নামাতে ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ সেই রিপোর্টটি কোন বানানো বা মিথ্যা রিপোর্ট ছিল না। সেই প্রতিবেদনটি যেই ব্যক্তিকে ঘিরে রচিত ছিল সেই ব্যক্তি এবং তার এক দোসর সুবিধাবাদী এক সংস্কৃতিকর্মী (তথাকথিত) যৌথভাবে ষড়যন্ত্র করে জরুরি অবস্থার সময়ে র‌্যাব ও ডিজিএফআইকে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আমার নামে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং আমাকে বয়কট করার জন্য যে আহবান করা হয়েছিল তার কপিসমূহও ডিজিএফআইকে এবং ‌প্যরামিলিটারি ফোর্সকে সরবরাহ করে সেই সংবাদকর্মীই। সেই ডাহা মিথ্যা এবং কাল্পনিক অভিযোগের কথাগুলিই আবার জাতিসংঘেও পাঠানো হয় বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে। আমি অবশ্য আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছি বেশ আগেই। আজও সেই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করার মতো ‌সাহস দেখাতে পারেনি সরকার।
২০০৩ সালের সেই আলোচিত প্রতিবেদনটি নিয়ে আমার বিরুদ্ধে রাজশাহীতে ষড়যন্ত্রের ডালপালা গজাচ্ছিল। সেইসময়ে আমি একদিন ঢাকায় দৈনিক সংবাদ অফিসে যাই। সংবাদ এর ওইসময়ের সম্পাদক বজলুর রহমান আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। যিনি নিজেই বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের একটি প্রতিষ্ঠান! তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। আমি বিশ্বাস করি, তার আত্মা শান্তিতেই আছেন। প্রিয় বজলু ভাই প্রসঙ্গে অন্য সময়ে লেখা যাবে। তিনি (বজলু ভাই) আমাকে বলেছিলেন, “আকাশ গণশত্রুদের বিরুদ্ধে লিখলে সেই গণশত্রুরাই তোমাকে বলবে তুমিই গণশত্রু-দুশমন। কাজেই বিচলতি হয়ো না, ভয় পেয়ো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। এবং তুমিই জিতবে।” কী অসাধারণ প্রজ্ঞা, স্বজ্ঞা তার। সত্যিই বাস্তবে তাই ঘটেছে। অথচ সেই ব্যক্তিই (মূলত: সংবাদ এ প্রকাশিত ২০০৩ সালের ১৯ জানুয়ারির রিপোর্টটি ছিল যাকে ঘিরে) আজ বজলু ভাইদের গড়া প্রতিষ্ঠানে স্বদর্পে কাজ করছে। কী আশ্চর্য্য, দুর্ভাগ্য!
আরেকটি কথা বলে নেয়া দরকার। সেটা হলো এশিয়া বিশেষত বাংলাদেশের শিক্ষিত শ্রেণীর অধিকাংশের মাঝেই হিংসা বা জেলাসি ক্রিয়াশীল। এই হিংসা ব্যক্তিগত এবং রাজন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29425519 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29425519 2011-08-04 18:16:49
লিমন শুধু একজন নয় জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ লিমন শুধু একজন নয়। এমন হাজারো লিমন পঙ্গু হয়েছে। যাদের অধিকাংশই নিরীহ এবং নিরপরাধ। শত শত নিহত হয়েছেন। যাদেরকে বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, রাজনীতিক কেউই বাদ যায়নি ওদের নির্যাতনের হাত থেকে। সাধারণ মানুষ যাদের কণ্ঠস্বর চার দেয়ালের বাইরে পৌছোয় না তারাতো হরহামেশাই বর্বরতার শিকার হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিষ্ঠুরতায়। বেচারা লিমন কিভাবে যে জীবনে বেচে গেলো? যার কারণে কালো বাহিনী আজ গোটা জাতির প্রশ্নের সম্মুখিন।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতেই রাষ্ট্রীয় এই বর্বর বাহিনী কত অমানবিকতা দেখিয়েছে। তার একটা ছোট পরিসংখ্যান তুলে দেয়া যায়। এখানে জামায়াত সমর্থক এক মেজর বর্তমানে লে.কর্ণেল রাশীদুজ্জামান রাশীদ বহু বিচার বহির্ভূত হত্যা-নির্যাতনের সাথে জড়িত। এই স্বাধীনতাবিরোধী রাষ্ট্রীয় কর্মচারিটি তার অপকর্মের শাস্তিতো পায়নি, বরং পুরস্কৃত হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।
মেজর রাশীদ জল্লাদ বাহিনীর রাজশাহী অঞ্চলের তথাকথিত ক্রাইম প্রিভেনশন শাখার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তথাকথিত ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে এই বর্বর মানুষটি শুধু হত্যা-নির্যাতনের সাথেই নয়, আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও শোনা যায় তার বিরুদ্ধে। রাজশাহীর কোটিপতি ব্যবসায়ী আলী জাফর বাবু যিনি ল্যাংড়া বাবু বলেই সমধিক পরিচিত।
অভিযোগ আছে, সেই ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারে হত্যার নাটকের সফল প্রযোজনার পুরস্কার হিসেবে মেজর রাশীদ নাকি কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আলী জাফরের প্রতিপক্ষের কাছ থেকে। এই ভাগ অবশ্য মেজর রাশীদের ইমিডিয়েট বস এক লে. কর্ণেলও পেয়েছেন। রাজশাহীতেই আরও অনেক ঘটনার নায়ক এই মেজর রাশীদ। বাগমারার ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবীব বাবুকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করেন এই মেজরই। মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক আবদুর রাজ্জাককে হত্যার ঘটনায়ও জড়িত তিনি। স্ত্রী ও শিশুকন্যার সম্মুখে বেনজিরকে গুলি করে পঙ্গু করার নায়কও এই রাশীদই।
সাংবাদিক নির্যাতনে পটু এই মেজর রাজশাহীর পরিচিত এক সাংবাদিক আনু মোস্তফাকে রাজশাহী ছাড়া করার জন্য দায়ী। আনু মোস্তফা দৈনিক প্রথম আলোর রাজশাহীস্থ নিজস্ব প্রতিবেদক ছিলেন। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠে কর্মরত। মেজর রাশীদ এবং তার বস সাহসী সাংবাদিক আনু মোস্তফাকে সাইজ করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। শেষ পর্যন্ত জনাব আনুকে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে যেতে হয়। মেজর রাশীদই সাংবাদিক শফিককে নির্যাতন করেছিলেন। আমার কথাতো মিডিয়া জগতের প্রায় সকলেরই জানা।
অথচ মানবাধিকার লংঘনকারি মেজর রাশীদ এখনো চাকরিতে বহাল। তাকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আইভরিকোষ্ট পাঠানো হয়েছিল। জাতিসংঘ একজন মানবাধিকারলংঘনকারি আর্মি অফিসারকে কী করে শান্তিরক্ষা মিশনে অন্তর্ভূক্ত করলো তা একটা বড় প্রশ্ন বটে!
মানবাধিকার লংঘনকারি এই অভিজাত বাহিনীর নির্যাতনের আরও অনেক কাহিনী আছে। চট্রগ্রামে আরেক সাংবাদিক আহমেদ নূর বর্বর নির্যাতেনর শিকার হন। ইংরেজী দৈনিক নিজউ এজ এর রিপোর্টার এফ এম মাসুমের ওপর বর্বরতার কথা গোটা দেশের মানুষই জানেন। কিন্তু কই এই ভন্ড, বিষধর সর্পবাহিনীরতো কোন কিছুই হয়না। একের এক অসহায় লিমনদের পা কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। জনগণের দেয়া ট্যাক্সের টাকায় যাদের পোশাক, খাদ্য, পানি, বেতন হয় সেই রাষ্ট্রীয় বাহিনী জনগণের ওপর বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা, প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যেন অন্ধ হয়ে গেছেন। তাঁরা যেন এই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন এর কিছুই অবলোকন করেন না! হয় তারা সরাসির বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও নির্যাতনকে সমর্থন করেন নতুবা তারা জেগে থেকেই ঘুমানোর ভান করছেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনতো একজন বাচাল মানুষ হিসেবেই দেশের মানুষের কাছে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়ে গেছেন। জংলি শাসন, অসভ্য রাষ্ট্র আর বর্বর রাষ্ট্র নায়ক ছাড়া আইন রক্ষাকারিদের হাতে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা-নির্যাতন চলতে পারে-এমনটা বিশ্বাস করা যায় না, যদি না বাংলাদেশকে দেখতাম।
দুর্দান্ত ক্ষমতাশালী যে বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয় বিশ্বের মোড়ল আমেরিকা কিংবা ব্রিটেন। সেই বাহিনীর কী আর কাউকে পরোয়া করার কিছু আছে? হাসিনা-খালেদা অথবা চারদলীয় জোট সরকার কিংবা বর্তমান ব্রুট মেজরিটির মহাজোট সরকার কার সে ক্ষমতা আছে এদের রোখে? সরকারি হিসাবেই প্রায় হোজার মানুষ নিহত এই বাহিনীর হাতে। অন্ধ মিডিয়া দু’একজন লিমনের পক্ষে দাঁড়িয়ে জাতিকে বোঝাতে চায়, তারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিপক্ষে! হিসাবটা বেশ গোলমেলে। মিডিয়া তার সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে পেরেছে কি? আর দাঁড়াবেই বা কী করে? মিডিয়ারতো কত রং, কত রকমের ব্যবসা। এই রং ও ব্যবসাকে ছাপিয়ে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানোটাতো আর অত সহজ নয়। যেন ভাবটা এমন, সন্ত্রাসী কিংবা অভিযুক্ত খুনি হলেই যে কাউকে খুন করা জায়েজ বা বৈধ?
আইন-কানুন, কোট-কাছারি, সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এসবের অস্তিত্ব থেকেই বা লাভ কী? ওরাতো আর ভালো মানুষকে মারছে না! সন্ত্রাসী, খুনি মরলেই যেন দেশ সন্ত্রাস-দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত হয়ে যাবে? মানুষকে ধর আর হত্যা কর! জ্ঞানপাপী, তথাকথিত শিক্ষিত (মুর্খ) সমাজের জন্যই রাষ্ট্রীয় এই শয়তান বাহিনী যা খুশি তাই করার স্পর্ধা দেখাচ্ছে। মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করেই ক্ষান্ত নয় তারা। হত্যা-নির্যাতনের পর মিডিয়ায় মিথ্যা গল্প-কল্পকাহিনী পাঠিয়ে দেয়। আর সেই সাজানো কাহিনী মিডিয়ায় তোতাপাখির ন্যায় ছাপিয়ে বা প্রচার করে তারা দেশবাসির তথ্য জানার অধিকার সুরক্ষা করে চলেছে।
প্রিয় পাঠক, ব্লগার, সুহৃদ, শুভানুধ্যায়ী, সমালোচক আমিও একটি অভিযোগ পাঠালাম জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর। নিচে অভিযোগটির সারমর্ম আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।
“মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এখনই RAB কে ভেঙ্গে দিন। নির্যাতনকারি RAB কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও বিচার করুন।” RAB’র বর্বর নির্যাতনের শিকার একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এই দাবি জানিয়েছি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে লেখা ওই আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে আমি মানবাধিকার বিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র ইউরো বাংলা’র সম্পাদক। অষ্ট্রিয়া থেকে গত ১৩ মে, ২০১১ রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে একটি লিখিত অভিযোগটি পাঠানো হয়। অভিযোগের কপি পাঠিয়েছি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, আইন মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, তথ্য মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মহাসচিবকে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সকল সংবাদমাধ্যমে ই-মেইল করেছি।
অভিযোগে আমি জানিয়েছি, দৈনিক সংবাদ, সিএসবি নিউজ’র রিপোর্টার এবং রেডিও জার্মানের ফ্রি-ল্যান্স সংবাদদাতা হিসেবে আমি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করেছি। বিশেষত: বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, সংখ্যালঘু-আদিবাসি নির্যাতন, জঙ্গিবাদ, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমি রাষ্ট্রীয় বর্বরতার শিকার হই। আর এর পেছনের অন্যতম পরিকল্পনাকারি ছিলেন রাজশাহীর বর্তমান মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমি। আমার উপর নির্যানকারি RAB কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি অভিযোগে। অভিযোগে লিখেছি যে, আমাকে নির্যাতনের জন্য প্রধানত: RAB-৫ রাজশাহীর তৎকালিন কমান্ডার লে. কর্ণেল শামসুজ্জামান খান, মেজর রাশীদুল হাসান রাশীদ, মেজর হুমায়ূন কবির সরাসরি দায়ি। অভিযোগে আমি আরও জানিয়েছি, ২০০৭ সালের অক্টোবরে RAB আমার ভাড়া বাসায় আক্রমণ করে। এসময় আমার শিশুপুত্র, স্ত্রী এবং বাড়িওয়ালার সম্মুখে আমাকে নির্যাতন করা হয়। এরপর আমাকে RAB-৫ এর সদর দপ্তরের নির্যাতন সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমার চোখ কালো কাপড়ের টুপিতে ঢেকে দিয়ে আমাকে উপরে লটকিয়ে নির্যাতন করা হয়। এমনকি আমাকে ইলেকট্রিক শকও দেয়া হয়েছিল। এই বর্বর নির্যাতনের ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছি লিখিত অভিযোগে। নির্যাতন ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারি সকলের গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবি করে আমি অভিযোগে বলেছি যে, “আমি বিচার চাই”।
আমি আশাবাদী মানুষ। আমার প্রত্যাশা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আমার অভিযোগের একটি যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নেবেন। আমি আরও প্রত্যাশা করি তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে তুলে ধরবেন। এলিটফোর্স নামধারী রাষ্ট্রীয় খুনি-নির্যাতক বাহিনীকে যত দ্রুত সম্ভব ভেঙ্গে দিয়ে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশ ও মিযিয়ার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সরকার উদ্যোগী হবে বলে আমাদের আকাঙ্খা। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া কোন রাষ্ট্রকে সভ্য বা গণতান্ত্রিক বলা যায় না। আমার, আমাদের সোনার বাংলাকে আমরা বর্বরতা-অসভ্যতার অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে চাই। সকলপ্রকারের অসভ্যতা-বর্বরতা-দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অবিচারের হাত থেকে জাতি মুক্তি চায়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন। প্লিজ কথা নয় কাজে প্রমাণ করুন যে, মানবাধিকার কমিশন ঠুটো জগন্নাথ নয়। মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাগুলির তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে হাজির করুন। তারপরো যদি রাষ্ট্রের, রাষ্ট্র পরিচালকদের ঘুম না ভাঙে তখন জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবেন। আর এটাও যদি আপনি করতে ব্যর্থ হন তাহলে উনাদেরকে বলুন, আমাকেও যেন তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। যেটা ওরা করতে চেয়েছিল ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে।
আমি আশাবাদী মানুষ। আমার প্রত্যাশা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আমার অভিযোগের একটি যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নেবেন। আমি আরও প্রত্যাশা করি তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে তুলে ধরবেন। এলিটফোর্স নামধারী রাষ্ট্রীয় খুনি-নির্যাতক বাহিনীকে যত দ্রুত সম্ভব ভেঙ্গে দিয়ে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশ ও মিযিয়ার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সরকার উদ্যোগী হবে বলে আমাদের আকাঙ্খা। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া কোন রাষ্ট্রকে সভ্য বা গণতান্ত্রিক বলা যায় না। আমার, আমাদের সোনার বাংলাকে আমরা বর্বরতা-অসভ্যতার অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে চাই। সকলপ্রকারের অসভ্যতা-বর্বরতা-দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অবিচারের হাত থেকে জাতি মুক্তি চায়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন। প্লিজ কথা নয় কাজে প্রমাণ করুন যে, মানবাধিকার কমিশন ঠুটো জগন্নাথ নয়। মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাগুলির তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে হাজির করুন। তারপরো যদি রাষ্ট্রের, রাষ্ট্র পরিচালকদের ঘুম না ভাঙে তখন জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবেন। আর এটাও যদি আপনি করতে ব্যর্থ হন তাহলে উনাদেরকে বলুন, আমাকেও যেন তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। যেটা ওরা করতে চেয়েছিল ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে।
আমি আশাবাদী মানুষ। আমার প্রত্যাশা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আমার অভিযোগের একটি যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নেবেন। আমি আরও প্রত্যাশা করি তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে তুলে ধরবেন। এলিটফোর্স নামধারী রাষ্ট্রীয় খুনি-নির্যাতক বাহিনীকে যত দ্রুত সম্ভব ভেঙ্গে দিয়ে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশ ও মিযিয়ার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সরকার উদ্যোগী হবে বলে আমাদের আকাঙ্খা। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া কোন রাষ্ট্রকে সভ্য বা গণতান্ত্রিক বলা যায় না। আমার, আমাদের সোনার বাংলাকে আমরা বর্বরতা-অসভ্যতার অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে চাই। সকলপ্রকারের অসভ্যতা-বর্বরতা-দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অবিচারের হাত থেকে জাতি মুক্তি চায়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন। প্লিজ কথা নয় কাজে প্রমাণ করুন যে, মানবাধিকার কমিশন ঠুটো জগন্নাথ নয়। মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাগুলির তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে হাজির করুন। তারপরো যদি রাষ্ট্রের, রাষ্ট্র পরিচালকদের ঘুম না ভাঙে তখন জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবেন। আর এটাও যদি আপনি করতে ব্যর্থ হন তাহলে উনাদেরকে বলুন, আমাকেও যেন তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। যেটা ওরা করতে চেয়েছিল ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29381674 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29381674 2011-05-15 20:01:46
মানুষের অধিকার ও একজন লিমন-শেষ অংশ হয়রানিমূলক পরিকল্পিত মামলা ও আমার গ্রেফতার, নির্যাতনের সাথে কাকতালীয়ভাবে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে যায় ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবরের পূর্বে। ২০০৭ সালের ২১ আগষ্ট রাবি ক্যাম্পাসে একদল দেশপ্রেমিক শিক্ষক ঢাবির ঘটনার প্রতিবাদে মৌন র‌্যালী বের করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় একটি শায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা হয়। ঢাবির ঘটনার প্রেক্ষিতে মৌন প্রতিবাদ করা কোন দোষের কিংবা অন্যায়ের ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর সেনা সদস্যদের নির্যাতনের ঘটনার জের ধরে ২২ আগষ্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-বিক্ষোভকালে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির ক্যাডার ও ৫৪৪ খ্যাত কর্মচারীদের একটি অংশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর, ধ্বংসযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। সংঘর্ষকালে ক্যাম্পাসে রিকশাচালক আফজাল হোসেন নিহত হন পুলিশের গুলিতে। ক্যাম্পাসের ভেতরে যখন ধ্বংসলীলা চলছিল ঠিক তখন রাজশাহী ডিজিএফআইয়ের একটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করছিল। ভেতরে বিক্ষুব্ধ অবস্থা বিবেচনা করে এখন ভেতরে যাওয়া ঠিক হবে না বলে ডিজিএফআইয়ের সহকারী পরিচালককে বহনকারী গাড়িটিকে ভেতরে যেতে নিষেধ করেছিল সেখানে কর্মরত পুলিশ। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ওই কর্মকর্তা সেদিন পুলিশের অনুরোধের কর্ণপাত করেননি। ক্যাম্পাসের ভেতরে উপাচার্য ভবনে ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথাবার্তা বলে গাড়িতে ওঠে ফিরে যাচ্ছিলেন শহরে। এমন সময় উল্টো দিকে থেকে প্যারিস রোড দিয়ে নিহত রিকশা চালকের লাশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা উপাচার্য ভবনের দিকে আসতেছিল। উপাচার্য ভবনের মূল ফটক অতিক্রম করামাত্র ডিজিএফআইয়ের গাড়িটির স্টার্ট রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ওইসময়ই লাশ বহনকারী বিক্ষুব্ধরা ডিজিএফআইয়ের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পায় ডিজিএফআই তথা সেনাবাহিনী। জামায়াত নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা বাহিনী খুঁজে খুঁজে প্রগতিশীল শিক্ষকদের শায়েস্তা করতে ছাত্র-বিক্ষোভের ঘটনায় শিক্ষকদের বিরাট ষড়যন্ত্র আবিস্কার করতে সমর্থ হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাচিত উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল দলের তৎকালীন আহবায়ক অধ্যাপক আবদুস সোবহান ও প্রথাবিরোধী খ্যাতিমান নাট্যকার প্রগতিশীল শিক্ষকদলের অন্যতম নেতা মলয় ভৌমিককে তাঁদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা। এই গুণি শিক্ষকদের সেদিন কালো পোশাক পরা মানুষগুলো চোখ-মুখ ও হাত বেঁধে ধরে নিয়ে যায় সেনা ক্যাম্পে (র‌্যাবের টর্চার কেন্দ্র)। এরপর শিক্ষকদের সাথে সামান্য লে.কর্ণেল, মেজর ও ক্যাপ্টেন পদর্যাদার র‌্যাব সদস্যরা যে অসভ্য-অশোভন আচরণ করেছে তা ভাষায় বর্ণনা করার মত নয়। শুধু কি তাই? একাত্তরের সেই কঠিন দিনগুলোতেও পাক সেনারা যা করতে পারেনি তাই করেছে স্বাধীন দেশের র‌্যাব নামক এক দানব বাহিনী। যে বাহিনীর কর্মকান্ড মূলত: সরাসরি সংবিধান পরিপন্থি। গ্রেফতারকৃত তিন শিক্ষকের মধ্যে মলয় ভৌমিককে চরম অমানবিকভাবে নির্যাতন করে র‌্যাব সদস্যরা। তারা মলয় ভৌমিকের দু’পায়ের হাঁড় ফাটিয়ে দেয় লাঠি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নম্র-ভদ্র সবার প্রিয় অধ্যাপক সাইদুর রহমান খানকে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে ঘুরানো হয়েছে। এরপর তিনি যখন চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়েছিলেন তখন তিনি গল গল করে বমি করেন। কিন্তু তবুও হায়েনাদের মনে এতটুকুও ভালবাসার প্রকাশ ঘটেনি এই গুণি শিক্ষকের ওপর নির্যাতন চালাতে। মিষ্টভাষী অধ্যাপক আবদুস সোবহানকেও নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে র‌্যাবের নির্যাতন ক্যাম্পে। অথচ জনগণের টাকায় যাদের খাওয়া ও পোশাক পরা হয় সেই র‌্যাব সদস্যদের মধ্যে এমনকি সেনাবাহিনীতেও অনেক বড় বড় পদমর্যাদার কর্তাব্যক্তি আছেন যারা এই তিন শিক্ষকের সরাসরি ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৮ জন শিক্ষককে জেলে যেতে হয়। ক্যাম্পাসে চলমান আন্দোলনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশনানুযায়ী রাবির জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তা জনাব সাদেকুল ইসলাম সেদিন ভিডিও চিত্র ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু তার নামেও গোয়েন্দারা সেদিন ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পেয়েছিল। সাদেকুল ইসলামকেও গ্রেফতার করে ডিজিএফআইয়ের গাড়ি পোড়ানো মামলায কারাগারে বন্দী জীবন কাটাতে হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অপর দুই শিক্ষক চৌধুরী সারোয়ার জাহান সজল ও গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু যাঁরা ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী। ধারণা করা হচ্ছে, এই একটিমাত্র কারণে এই দুই শিক্ষককে ডিজিএফআই সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় গাড়ি পোড়ানো মামলায় জেলে ঢুকিয়েছিল। সবমিলিয়ে যে মনে হচ্ছে যে, সেই স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক জামায়াত-শিবির চক্রকে খুশি করতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকদের নামে মামলা চাপানো ও গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই ঘটনা ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক হারুন-অর রশিদ, অধ্যাপক সাদরুল আমিন, অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক প্রমূখের ক্ষেত্রেও। ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সেই অকুতোভয় দেশপ্রেমিক কর্ণেল আবু তাহেরের সহোদর।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মিক্ষকদের বিরুদ্ধে করা চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর তথাকথিত প্রহসনের বিচার শুরু হয়েছে। আদালতে উৎসুক মানুষের ভীড়। পেশাগত কারণেই মামলার বিচার কার্য চলাকালে অনেকের মত আমিও প্রতিদিনই আদালতে গিয়েছি। সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরার বিষয়গুলোর পুংখানুপুংখ নোট নিয়েছি। সম্ভবত এই ঘটনার রেশ ধরেই আমার গ্রেফতারের আগে আরও একটি ঘটনা ঘটে রাজশাহীর আদালতে। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আমি সকাল থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে মতিহার থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ফেরদৌস আহম্মেদের করা বহুল আলোচিত মামলার জেরার শুনানি ছলছিল। আমি শুনানিকালে নোট নিচ্ছিলাম। আদালতের ভেতরে ছিলেন রাবির শিক্ষক ও মহিলা পরিষদ রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবা কানিজ কেয়া, শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ নাসের, রাবির দর্শন বিভাগের শিক্ষক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এস এম আবু বকরসহ রাবির বেশকিছু শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ জনতা। বেলা সোয়া দু’টায় রাজশাহী মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে প্রকাশ্য বিচার কার্যক্রম চলাকালে আমাকে পুলিশ লাঞ্ছিত করলো। আদালত মূলতবি অবস্থায় আমাকে টেনে-হিঁচড়ে গলা ধাক্কা দিয়ে আদালতের কক্ষ থেকে বের করে দিল পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো. আফজাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলাম।
রাবির ঘটনায় ডিজিএফআই কর্মকর্তা শওকত আলী ও মতিহার থানার ওসি খোন্দকার ফেরদৌস আহম্মেদের করা মামলার চার্জ গঠনের দিন থেকেই আমি পেশাগত প্রয়োজনে প্রতিদিনই আদালতে যাই এবং সংশ্লিষ্ট মামলার সাক্ষী, জেরা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের ভেতরেই থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকালে আইন-শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতের বিচারক মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম ফজলুল করিম চৌধুরীর আদালতে গেলাম। সকাল থেকেই সাক্ষী তথা বাদী ওসি ফেরদৌসের জেরা চলছিল। এ অবস্থায় বেলা দু’টায় ম্যাজিষ্ট্রেট কুড়ি মিনিটের জন্য আদালত মূলতবি করেন। এসময় আমি আদালতেই বসেছিলাম। এক পর্যায়ে সিএসআই কামালউদ্দিনসহ চার/পাঁচজন পুলিশ সদস্য এসে আমাকে আদালত থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্র দেখালাম। কিন্তু তারপরও পুলিশ সদস্যরা আমি টেনে-হিঁচড়ে গলা ধাক্কা দিয়ে আদালতের ভেতর থেকে বাইরে বের করে দেন। (সূত্র: দৈনিক ভোরের কাগজ, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৭, “রাজশাহীর আদালতে পুলিশের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত”)।
২০০৭ সালের ২ অক্টোবর বোয়ালিয়া মডেল থানায় আমার বিরুদ্ধে জনাব লোটনের করা চাঁদাবাজি মামলা রেকর্ড হয়। আদালতে পুলিশ কর্তৃক লাঞ্ছনার ঘটনায় আমার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই দিনে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আফজাল হোসেন (স্মারক নং-সিএমএম/রাজ/গো/১-১/৯৭-১১০৯, তারিখ-০২/১০/২০০৭) আমাকে নোটিশ করেন। নোটিশে বলা হয়, ‘২৬ সেপ্টেম্বর জনাব এস এম ফজলুল করিম চৌধুরীর আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ কর্তৃক আদালত থেকে বের করে দেয়ার ঘটনার শুনানী ৪ অক্টোবর, ২০০৭ সকাল সাড়ে ৯টায় সিএমএম এর খাস কামরায় অনুষ্ঠিত হবে। আপনি আপনার সাক্ষীসহ উপস্থিত থাকবেন।’ ৪ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে আমি যথারীতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ নাসের, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাহবুবা কানিজ কেয়াসহ আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীসহ যথাসময়ে সিএমএম আদালতে হাজির হলাম। কিন্তু আদালতে পৌঁছেই খবর এলো যে, আমার নামে বোয়ালিয়া থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে, পুলিশ এখান থেকে (সিএমএম আদালত হতে) আমাকে গ্রেফতার করবে। এই পরিস্থিতিতে সিএমএম মহোদয়ের কাছে পরবর্তীতে সাক্ষী প্রদান করার জন্য সময়ের আবেদন জানিয়ে আমি দ্রুত আদালতস্থল ত্যাগ করি। ওইদিনই চলে আসি ঢাকায়। উদ্দেশ্য চাঁদাবাজি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়া। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টে চলছে অবকাশকালীন ছুটি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা এবং আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সৈয়দ মামুন মাহবুব এর শরণাপন্ন হই। উনাকে ফোন করলে তিনি আমাকে তাঁর বাসায় যেতে বললেন। কথানুযায়ী উনার বাসায় গিয়ে মামলার সমস্ত কাগজপত্র দিয়ে আসলাম। উনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমার জামিনের জন্য হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে ক্রিমিনাল মিসিলেনিয়াস কেস (নং-১৪৪৫৪/২০০৭) করেন। হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ (এ এফ এম আবদুর রহমান) এ এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৬ অক্টোবর, ২০০৭। শুনানি শেষে বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান আমার অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করলেন। অবশ্য তিনি শুনানিকালে প্রকাশ্য আদালতে বললেন যে, ‘তিনি (আমি) যে চাঁদাবাজি করেননি তার কি প্রমাণ আছে, আর সাংবাদিকরা কি সাধু চাঁদাবাজি করে না, সাংবাদিকদের উল্টাপাল্টা রিপোর্টের কারণেইতো দেশের আজ এই অবস্থা।’ মহামান্য বিচারপতি যখন উপরিল্লিখিত মন্তব্য করছিলেন তখন আমার ভীষণ লজ্জা পায়। ভেতরে ভেতরে ভীষণ রাগ হচ্ছিল আমার। আমিতো চাঁদাবাজি করিনি, তাহলে উনি এসব কথা কেন বলবেন? মনে মনে বলি, বিচারপতি মহোদয় কিভাবে বললে আপনি বিশ্বাস করবেন যে, আমি চাঁদাবাজ নই, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট। হয়ত বিচারপতি মহোদয়ের কথা ঠিক, কিন্তু সামগ্রিকভাবে কি এই মন্তব্যকে মেনে নেয়া যায়? তবে এটাতো ঠিক যে, আমাদের সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িতরা আমরা বুকে হাত দিয়ে ক’জনইবা বলতে পারি যে, আমি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, নীতিনিষ্ঠ, সত্যের পূজারী। এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, ২০০৩ সালের ১৯ জানুয়ারি দৈনিক সংবাদের পেছন পাতায় ‘রাজশাহীতে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় আমার নামে। এই রিপোর্ট করায় রাজশাহীর সব সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন। আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমারই জয় হয়েছিল। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার চার বছরের মাথায় নিজেই চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগের শিকার হলাম। তাই বিচারক মহোদয়ের কথায় শেষ পর্যন্ত আমার কোন রাগ হয়নি। কিন্তু গুটিকতক দুবৃত্তের জন্যতো আর গোটা পেশার মানুষদের অভিযুক্ত করা অনৈতিক। এই জবাবটা বিচার সাহেবকে দেয়ার সুযোগ ছিল না আমার।
হাইকোর্টে কেন আমার জন্য জামিনের আবেদন জানালেন তারজন্য শ্রদ্ধেয় সৈয়দ মামুন মাহবুবকে রাজশাহীর কৃতি সন্তান মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নাকি মোবাইল করে বলেছেন যে, ‘ওতো (আমি) আমাদের পক্ষের লোক নয়। তুমি কেন ওর জন্য জামিন চাইলে?’ সত্যিই দারুণ লজ্জা, কষ্ট আর বেদনার। একজন জনপ্রতিনিধি, জাতীয় নেতার সন্তান এত ছোট মনের হবেন কেন? এটা ভাবতেই আমার কষ্ট, ঘৃণার সৃষ্টি হচ্ছে। হাইকোর্টের আদেশে জামিনে থাকার পরও আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা। আমাকে যে রাতে গ্রেফতার করা হয় বাসা থেকে, সেই দিনে রাজশাহীর সার্কিট হাউসে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ বিষয়ক জরুরী এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করি আমি নিজেও।
দৈনিক সংবাদ এ ২০০০ সালের ৪ মার্চ ঘটনাস্থল রাজশাহী সন্ত্রাসীদের ভয়ে দুটি পরিবার ঘর থেকে বেরুতে পারছে না মামলা হয়েছে পুলিশ চুপচাপ শীর্ষক শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় আমার নামে। এরই প্রেক্ষিতে ঠিকাদার মাহফুজুল আলম লোটন তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আমাকে হত্যা প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে ভুলবশত অন্য একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করে। এ ঘটনায় আমি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করি। বোয়ালিয়া থানার জিডি নম্বর ৩১০, তারিখ- ০৭/০৩/২০০০। এই ঘঁনাই মেয়র লিটন ও উনার চাচা লোটনের সঙ্গে আমার শত্রতার সূত্রপাত। ২০০২ সালের ৯ এপ্রিল একই পত্রিকায় ’দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহীর দেলোয়ার হোসেন ওয়াকফ্ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী পরিবর্তন’ শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্ট। এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি মেয়র লিটনদের পারিবারিক। এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে মেয়র লিটনপক্ষই জড়িত। ২০০৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত হলো ’দেলোয়ার হোসেন ওয়াকফ্ এস্টেটের নয়া মোতাওয়াল্লীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ’ শীর্ষক শিরোনামে আরেক রিপোর্ট।
বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে রাজশাহীর পুঠিয়ায় মহিমা গণধর্ষণ ও আত্মহনন ঘটনা কারও অজানা নয়। সেই পুঠিয়ায় আবারও ধর্ষণ। ধর্ষণের ঘটনায় জনতার হাতে ধৃত ছাত্রদল ক্যাডার এই শিরোনামে ২০০২ সালের ২০ এপ্রিল প্রকাশিত হলো আরেক রিপোর্ট। রাজশাহীতে ধর্ষিতার পিতাকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের শিরোনামে আরেক রিপোর্ট প্রকাশিত হলো ২০০৫ সালের ৭ মে। রাজশাহীর পুঠিয়ার চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ মামলার বাদী আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুল হালিমকে জিলাপির মধ্যে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহত হালিমের ভাই হইদর আলী। ম্যাজিষ্ট্রেট পুঠিয়া থানার ওসিকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় মোট ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এরা হলো অভিযুক্ত ধর্ষক হারুনের পিতা আবদুল জলিল, তার চার ভাই জামাল, জহুরুল, জাফর ও জাহাঙ্গীর, নিহত হালিমের আত্মীয় জহিরউদ্দিন এবং আবদুল হামেদ, তাজুল ইসলাম ও মহাবুল ওরফে মোবুল। আবদুল হামেদ, মোবুল ও তাজুল সরাসরি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। এই হারুনের পিতাকে দিয়েই র‌্যাব আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করিয়েছিল। দৈনিক সংবাদেই বিভিন্ন সময়ে আমার পরিবেশিত একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয় রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও দলাদলির ওপর। ২০০৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় একটি রাজনৈতিক সন্ত্রাসের রিপোর্ট ’অভ্যন্তরীণ কোন্দল : দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা; সম্মেলন স্থগিত’ শীর্ষক শিরোনামে। ওইদিন তাজুল ফারুক হত্যাপ্রচেষ্টার জন্য মেয়র লিটনকেই দায়ি করা হয়েছিল। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগে পারিবারিকীকরণের প্রক্রিয়া শিরোনামে রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের ১৯ মে। ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাজারে প্রকাশ্যে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবিব বাবুকে। এখানেও ঘটনার নায়ক র‌্যাপিড একশান ব্যাটালিয়ান-র‌্যাব। এই ঘটনায়ও সাধারণ মানুষ র‌্যাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল। বাবু হত্যার ঘটনায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তথাকথিত জুডিশিয়াল তদন্তে জায়েজ করা হয়। অর্থাৎ র‌্যাবকে বাঁচিয়ে দেয় বিচার বিভাগ। আর মজনু হত্যা মামলাটি এখনও থানায় ফাইল বন্দি। ঘটনার চার বছর অতিক্রম হচেলও মামলায় পুলিশ চার্জশিট দেয়নি। অথচ অসহায় দরিদ্র নিরপরাথ লিমন হোসেনের নামে করা র‌্যাবের মিথ্যা মামলায় চটজলদি চার্জশিট দিলো পুলিশ।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫ এর ৫ অনুচ্ছেদে সুনির্দিষ্টভাবে নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে বলা আছে, ‘কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর দন্ড দেওয়া যাইবে না। কিংবা কাহারো সহিত অনুরুপ ব্যবহার করা যাইবে না।’ আন্তর্জাতিকভাবেও নির্যাতন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কাউকে নির্যাতন অথবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক অথবা অবমাননাকর আচরণ অথবা শাস্তি ভোগে বাধ্য করা চলবে না।’ শুধু যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে নির্যাতন নিষিদ্ধ তাই নয় পৃথিবীর সকল ধর্মেই নির্যাতন নিষিদ্ধ। নির্যাতন নিষিদ্ধ পবিত্র কোরআন, বাইবেল, ত্রিপিটকেও। নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ‘কনভেনশন এগেইনেস্ট টর্চার-ক্যাট’ এ বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর অনুমোদন করে ১৪ নম্বর ধারাটি ছাড়া। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রিজার্ভ করা ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দৈহিক নির্যাতনের শিকার কোন বন্দি যাতে আইনগত প্রতিকার এবং যতটা সম্ভব পরিপূর্ণ পুনর্বাসনের বন্দোবস্তসহ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের সুযোগ পান, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। দৈহিক নির্যাতনে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার পোষ্যবৃন্দ উক্ত ক্ষতিপূরণের অধিকারী হইবে। জাতীয় আইনের আওতায় নির্যাতিত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের কোন অধিকার এই ধারার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাধাগ্রস্ত হবে না।’
নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী সংসদে একটি প্রাইভেট বিল উত্থাপন করেন ২০০৯ সালে। সেটিকে আজও আইনে পরিণত করা হয়নি। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্ষীয়ান নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জলিল বারবার সংসদে ডিজিএফআইয়ের নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেছেন। তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু সংসদ তাঁর কথার কোন মূল্য দেয়নি আজও। এই হলো বাংলাদেশ!
আমার কী দুর্ভাগ্য দেখুন, শুধু আমার কর্মকান্ডের (রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নির্যাতন, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ আর দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী খবর পরিবেশন) কারণে আমার শ্বশুরকে বিগত ২৯ ডিসেম্বরের (২০০৮) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেন না। শুধু কী তাই, তিনি যাতে স্বতস্ত্রভাবে নির্বাচন করতে না পারেন তার পথটিও বন্ধ করা হয়েছিল। একজন কোটিপতি ব্যবসায়িকে নমিনেশন দিলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনে নামেন এবং আন্দোলনের মুখে তাঁকে নমিনেশন দেয়া হয়। কিন্তু ওটা যে ছিল একটা কৌশল তা বোঝা যায় তাঁকে চূড়ান্ত নমিনেশন না দেবার মধ্য দিয়ে। অথচ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে রাজশাহী জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক বিগত ৪৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রগণ করে আসছেন। তিনি তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক এবং খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদ বহুল আলোচিত মাগুড়ার উপনির্বাচনে কারচুপি জালিয়াতির প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন এবং একারণে রাজনৈতিক মামলায় হয়রাণির শিকার হন। আমার শ্বশুরই রাজশাহীতে প্রথম জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। একারণে তাঁকে এবং তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়ার্কাস পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাসহ রাজশাহীর চারজন সাংবাদিককে বাংলা ভাই ও তার বাহিনী প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু লোভনীয় অফার পেলেও কখনও আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাননি অন্য কোন দলে। যদিও যারা ফেরদৌস আহম্মেদ কোরেশীর সঙ্গে এবং ডিজিফআইয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংস্কারপন্থি হয়েছিলেন নিজের ব্যবসা রক্ষায়। তারাও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেয়েছেন এমন নজির আছে। শোনা যাচ্ছে, র‌্যাব, ডিজিএফআই, আর্মি এবং রাজশাহীর মাননীয় মেয়র মহোদয়ের চাপেই নাকি আমার শ্বশুরকে নমিনেশন দেয়া হয়নি। আমরা জানি না এটা সত্য কিনা। কিন্তু যদি সত্য হয় তবে এটা রাজনীতির জন্য শুভ নয়। যার লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের অনেকেই বলছেন, সংসদ নাকি ব্যবসায়িদের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এইতো গত ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস চলে গেলো। আজ থেকে চার বছর আগে ২০০৭ সালের এই দিনে (৩ মে) আমাকে র‌্যাবের মেজর রাশীদ হত্যার হুমকি দিয়েছিল। বিষয়টি তুলে ধরতে চাই। রাজশাহীর এক সময়ের টপ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ বেনজিরকে র‌্যাব সদস্যরা ২০০৭ সালের ২ মে বিকেলে তার বাড়ির শোবার ঘরের বিছানায় গুলি করে। আর র‌্যাব সদস্যরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার শিশুকন্যা ও স্ত্রীর সামনে। এতে তার দুই পা গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর তার বিছানায় পিস্তল রেখে তাকে অস্ত্র মামলায় চালান দেয়া হয়। এই মামলায় বেনজির এর দশ বছরের জেল হয়েছে। তিনি এখন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। বেনজিরের স্ত্রী মিনা জামান (২৬) বলেন, ‘গত ২ মে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সাদা পোশাকে RAB’র ৬ সদস্য আমাদের বাড়িতে আসে। তারা ড্রয়িং রুমে আধা ঘন্টা গল্প করে বেনজিরের সঙ্গে। আমাকে ডাইনিং টেবিলে আটকে রাখে তারা। তারা রান্নাঘর তল্লাশি করে। কিছুক্ষণ পর আরও ৮/৯ জন পোশাক পরা র‌্যাব সদস্য আসে। তারা আসার পরই বেনজিরকে শোবার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে বিছানায় বসিয়ে RAB সদস্যরা বেনজিরের দু’পায়ে গুলি করে। বেনজিরের ডান পায়ের হাটুতে একটি গোঁড়ালিতে একটি এবং বাম পায়ের হাটুতে একটি গুলি করা হয়। আর ঘরের মেঝেতে তিনটি গুলি করে তারা। এসময় বেনজিরের শিশু কন্যা প্রিয়াংকা (১০) দৌঁড়ে তার বাবার কাছে যেতে চাইলে র‌্যাব সদস্যরা তার গলা টিপে ধরে। আর আমার দুই হাত ধরে আটকে রাখে র‌্যাব সদস্যরা। স্ত্রী ও কন্যার সামনেই র‌্যাব তাদের পকেট থেকে পিস্তল ও গুলি বের করে বিছানায় বেনজিরের হাতের কাছে রেখে দেয়। এরপর কয়েকজন সাংবাদিককে দিয়ে সেই ছবি তোলানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেনজির আধাঘন্টা অচেতন ছিলেন। অন্যায় না করেও আমার স্বামীর ওপর এতবড় অত্যাচার করা হলো। আমি সহ্য করছি কিন্তু আল্লাহ সইবে না। র‌্যাবের বিরুদ্ধে কিছু করতে চাই না। কারণ ওরা অনেক ক্ষমতার অধিকারী।’
বেনজিরকে ২০০২ সালে গ্রেফতার করে অপারেশন ক্লিনহার্ট এর সময় যৌথ বাহিনী। বেশ কিছুদিন জেল খাটার পর বেনজির জামিনে বেরিয়ে আসেন। প্রায় সবক’টি মামলায় তিনি খালাস পান। মূলত: তখন থেকেই বেনজির তার অতীত কর্মকান্ড ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে আসন বলে বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যায়। এই সমাজ, রাষ্ট্র কাউকে ভাল হবার সুযোগও দেয় না। তার বড় প্রমাণ রাজশাহীর বেনজির। বেনজিরের গুলিবিদ্ধ হবার ঘটনাটি সিএসবি নিউজ এ প্রচারিত হলে ২০০৭ সালের ৩ মে রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে মেজর রাশীদুল হাসান রাশীদ সিএসবি নিউজ এর রাজশাহী ব্যুরো প্রধান তথা আমাকে মোবাইলে হুমকি দেন। সিএসবির রিপোর্টার ও ক্যামেরাকে RAB-৫ এর অপারেশনসহ সবধরনের কর্মকান্ডের আশেপাশে নিষিদ্ধ করা হলো বলে ঘোষণা দেয় ওই কর্মকর্তা। এই হুমকির বিষয়ে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন একটি আর্জেন্ট অ্যাপিল করে। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের জন্য রাজশাহী মহানগর পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আমাকে একটি চিঠি দেন (স্মারক নং-আরএমপি/মডেল থানা বোয়ালিয়া/২১২ (২)/১ তারিখ-২/৭/২০০৭) হুমকির বিষয়ে লিখিত বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এরপর ২০০৭ সালের ৩ জুলাই বোয়ালিয়া মডেল থানায় সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবানবন্দিতে বলি-“গত ২ মে (২০০৭) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমাদের কাছে খবর আসে যে নগরীর হোসেনীগঞ্জ বেতপট্রিতে মোহাম্মদ বেনজিরের বাসায় একটি ক্রসফায়ার এর ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি, আমার সহকর্মী তোফায়েল আহাম্মাদ এবং ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ মাসুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগহ করি। র‌্যাব সদস্যরা সেখানে বেনজিরের বাড়ির শোবার ঘরে তার স্ত্রী ও শিশু কন্যার সামনে তার পায়ে গুলি করে এমন তথ্য পাই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। ঘটনাস্থলে অপারেশন পরিচালনাকারী র‌্যাবের কোন সদস্য ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সন্ধ্যায় অফিসে ফিরে গিয়ে রিপোর্ট পাঠাই। যা রাত একটা থেকে প্রচারিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মে, ২০০৭ দিবাগত রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে আমার ০১৭২০০৮৪৯৪৪ মোবাইলে র‌্যাব কর্মকর্তা (তৎকালীন) মেজর রাশীদুল হাসান রাশীদ তার ০১৭১৪০৪৯৪৩১ মোবাইল নম্বর থেকে আমাকে ফোন করেন। ফোন রিসিফ করে সালাম দেয়া মাত্র তিনি জানতে চান যে, গতকাল রাতে দুবার রিপোর্টটি প্রচার হয়ে বন্ধ হয়ে গেল কেন? জবাবে আমি বলি সেটা হেড অফিসের ব্যাপার। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আপনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে রিপোর্টটি প্রচার করেছেন। আমি বলি, এটা আমার পেশাগত দায়িত্ব, অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। তিনি বলেন, আপনি বেনজিরের স্ত্রীর বক্তব্য এবং তার শিশুকন্যার ক্রন্দনরত ছবি প্রচার করেছেন কেন? জবাবে আমি জানতে চাই, আপনি কি অফিসিয়ালী জানতে চাচ্ছেন? এ পর্যায়ে মেজর রাশীদ রুঢ় এবং মুখে উচ্চারণ করা যায় না এমন ভাষায়প্রচন্ড রেগে গিয়ে বলেন, আপনি রিপোর্টটি কেন প্রচার করেছেন তার সঠিক জবাব দিতে না পারলে আপনার বিরুদ্ধে আমরাই ব্যবস্থা নেবো। আমি তাকে জনাই, আমি কোন অপরাধ করিনি।
মেজর রাশীদ আবারও জানতে চান এই বলে যে, অন্য কোন চ্যানেল এই রিপোর্ট প্রচার করেনি আপনি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই প্রচার করেছেন এবং আপনার এই কাজটি এন্টি ইস্টেট একটিভিটির পর্যায়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, আপনি এবং আপনার কোন সহকর্মী ও সিএসবির ক্যামেরা যেন র‌্যাব ও র‌্যাবের কোন কর্মকান্ড তথা চৌহদ্দীর মধ্যে না আসে। এরপরও যদি র‌্যাবের কোন কর্মকান্ডের কাছে আপনাকে এবং সিএসবির ক্যামেরা দেখা যায় তাহলে র‌্যাব আপনার বিরুদ্ধে একশান এ যাবে। এরপর তিনি ফোনের (মোবাইল) সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে জানতি পারি যে, এই রিপোর্টটি সিএসবি নিউজ এ প্রচারিত হবার পর র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা সিএসবি নিউজ এর প্রধান বার্তা সম্পাদক জনাব আহমেদ জোবায়েরসহ কয়েকজন সাংবাদিককে মোবাইল করে হুমকি প্রদর্শন করেন। আমি ওইসময়ই পুলিশের কাছে আশংকা করেছিলাম যে, আমাকে হয়ত ক্রসফায়ার নাটকের শিকার হতে হবে র‌্যাবের দ্বারা! তার পাঁচ মাস পরেই র‌্যাব আমার ওপর প্রতিশোধের আগুন জ্বালায় সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা মেজর রাশীদ শুধু শুধু হুমকিই দেননি তিনি যথাযথভাবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছেন আমার ওপর। আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে গ্রেফতার করে আমার ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়। চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী বাংলাদেশে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ সহসাই দেখে না। ঠিক একইভাবে আমাকে মেজর রাশীদের হুমকি প্রদানের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত রিপোর্টটিও আজও প্রকাশ্যে আসেনি। আমাকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে তদন্তে কি পাওয়া গেছে, কি সুপারিশ দেয়া হয়েছে, রাষ্ট্রের সামান্য একজন কর্মচারী হয়ে কেন বেআইনীভাবে একজন সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীর ওপর বর্বর নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে তার নামে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগের মামলা চাপিয়ে সমাজে হেয় করা হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর কি কখনও দেবে এই রাষ্ট্র, সমাজ।
মানবিকতা, নীতিবোধ, আইনের যথাযথ প্রয়োগ সবকিছুকে গিলে খাচ্ছে অসুস্থ্য রাজনীতি, অনৈতিকতা, সুবিধাবাদিতা ও তোষামদী সংস্কৃতি। এজন্য গুমাধ্যমও তার দায় এড়াতে পারেনা। গণমাধ্যম আছে তার নিজস্ব ব্যবসা ও রাজনৈতিক পছন্দ নিয়ে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। সব অন্যায়, অরাজকতা আর অনৈতিকতা হামলে পড়ছে জনগণ তথা সাধারণ মানুষের ওপর। জনগণের করের টাকায় লালিত রাষ্ট্রীয় বাহিনী হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছে জনগণকেই।
এখনও আমি কালোপোশাকধারী কোন কিছু দেখলেই আঁতকে উঠি। দুঃসহ যন্ত্রণা আর কষ্টের স্মৃতিগুলো এখনও আমাকে তাড়া করে ফেরে। অব্যাহত হুমকি ও আতংকের মুখে ২০০৯ সালে আমি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। আমার এই অবস্থার জন্য রাষ্ট্রই দায়ি। নির্যাতনকারিদের শাস্তি চাই। আমি বিচার চাই, ন্যায় বিচার। কিন্তু এটা আমি জানি যে, বিচার আমি পাবো না কোনদিনও। কারণ সেখানে বিচারতো অবিচারের হাতে বন্দি। আমার সোনার বাংলায় আইনের কোন শাসন নেই। আছে বিচার বহির্ভূত রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও হত্যার রাষ্ট্রীয় বৈধতা। সেখানে ন্যায় বিচার আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়।
লেখক: মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র ইউরো বাংলা'র সম্পাদক (http://www.eurobangla.org/, )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29376342 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29376342 2011-05-06 15:39:47
মানুষের অধিকার ও একজন লিমন আল কায়দা প্রধান মোস্ট ওয়ানটেড জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনকে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। এই কর্মটি আন্তর্জাতিক আইন সমর্থন করে কিনা সে বিষয়ে মত দেবেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এটা বলা খুব কঠিন নয় যে, নিরস্ত্র কোন মানুষকেই হত্যা কোনমতেই জায়েজ নয়। নীতিগতভাবে কোন হত্যাই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। আমেরিকা থেকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ভারত, লিবিয়া থেকে টিউনিশিয়া কোথাও শান্তি নেই? গণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রশ্নের সম্মুখিন। ন্যায়বিচারতো সুদূর পরাহত ব্যাপার।
যাক, আজকের প্রসঙ্গ আমার সেটা নয়। কথা বলতে চাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে। সংবিধানের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের মালিক জনগণ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এর অভ্যুদয় ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বৈষম্য-শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বা মূল উদ্দেশ্য। স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধস্ত এই দেশের অর্থনীতিকে সবল করতে এবং রাষ্ট্রের অবকাঠামো বিনির্মাণ ও প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে নানান পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এমনই সময় একাত্তরের পরাজিত শত্রু স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্র দেশী-বিদেশী চক্রান্ত এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সহায়তায় বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবাধিকার লংঘন ও নির্যাতনের ঘটনা বোধহয় আর কোথাও ঘটেনি। মূলত: এ ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশকে পাকিস্তানপন্থী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়।
রাষ্ট্র, সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত চক্র, মানবাধিকার ল্ঘংনকারি সেনা কর্মকর্তা এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীর যৌথ প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। কেন কি কারণে এবং কিভাবে কাদের মাধ্যমে আমি বর্বর নির্যাতন ও চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম তার ওপর কোন গবেষণা করা গেলে হয়ত বাংলাদেশের ভঙ্গুর গণতন্ত্র, শাসন ও বিচার ব্যবস্থা, মানবাধিকার লংঘন, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, দুর্নীতি, দায়মুক্তি ও দুর্বৃত্তায়নের একটা পরিস্কার চিত্র পাওয়া যেতো। নিশ্চিত ক্রসফায়ারের হাত থেকে বেঁচে আসার এক বাস্তব করুণ কাহিনী নিজের জীবনটাকে কিভাবে বদলে দিলো?
মাতৃভূমির মাটি, পানি, হাওয়া, প্রকৃতি এবং পরিবার-বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মীদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত এক হতভাগ্য সংবাদকর্মী আমি। ফি বছর দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ লড়াই করেন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, মঙ্গাসহ নানান দুর্যোগের সাথে। দেশের গরীব, নিরন্ন খেটে খাওয়া মানুষগুলোর জন্য আমার মন কেঁদে ওঠে। প্রিয় পাঠক, দেশবাসি দূর প্রবাস ইউরোপ থেকে বলছি। আজ আপনাদের এক গল্প শোনাতে চাই। না, এ কোন কল্পকাহিনী নয়। আমার জীবনের এক কঠিন বাস্তব সত্য ঘটনা। এক করুণ বেদনাজাগানো এই গল্প আমার জীবনের অন্ধকার সময়। যা আমার প্রতিটি মুহুর্তকে পীড়িত করে। শুধু আমি এই যন্ত্রণার শিকার তা নয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান চোখের জল মুছেই মানবাধিকার রক্ষার কাজ সম্পন্ন করছেন! লিমন আজ রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। এমন শত শত লিমন আছেন যাদের অনেকেই নিহত আবার অনেকে পঙ্গু জীবন নিয়ে এখনো সংগ্রাম করছেন।
রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড কিংবা নির্যাতন একের পর এক ঘটে চলেছে। এর পেছনে মিডিয়ার ভূমিকাও কম নয়। নিজস্ব ব্যবসা ও রাজনৈতিক পছন্দ থাকার কারণে মিডিয়া সত্যিকারের ভূমিকা নিয়ে সংগ্রাম করতে পারছেনা। বরং মিডিয়া বন্দুকযুদ্ধের নামে তথাকথিত ক্রসফায়ারে হত্যা নির্যাতনের সহযোগি বলা যায়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দেয়া সর্ম্পূণ মিথ্যা স্টেটমেন্ট হুবহু মিডিয়ায় তুলে ধরে মিডিয়া পুরো রাষ্ট্রীয় নির্যাতন-হত্যাকে বৈধতা দিয়ে আসছে শুরু থেকেই।
দুর্নীতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কাছে মানবিকতা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার কিংবা নৈতিকতা খুব একটা বড় বিষয় নয়। ক্ষমতা এবং লুটপাট ও পরিবার-দলতন্ত্রই প্রধান। জনগণ, মানবসেবা, জনগণের অধিকার কোন বিষয় নয়। তাইতো ক্ষমতায় থাকলে একরকম আবার ক্ষমতার বাইরে থাকলে অন্যরতম চেহারা দেখা যায় একইভাবে।
বিএনপি-জামাত জোট রাষ্ট্রীয় হত্যা-নির্যাতন সূচনা করেছিল একটি কালো বাহিনী তৈরী করার মধ্য দিয়ে। তারাই এখন বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে দারুণ বিচলিত। অন্যপক্ষে আজকের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীগ বিরোধীদলে থাকার সময় বলেছিল এক আর এখন করছে অন্যটা। বিচার বিহর্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের প্রতিজ্ঞা তারা এখন ভুলে গেছে। ফলে জনগণই অন্যায়-অত্যাচার-অবিচারের শিকার হচ্ছেন। সেটা বিএনপি হোক আর আওয়ামী লীগ হোক সবসময়ই মানুষের অধিকার পদদলিত।
২০০৯ সালে দেশ ত্যাগের পর সাংবাদিক বন্ধু এফ এম মাসুম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। নির্যাতনকারিরা বরাবরের মতোই দায়মুক্তি বা ইমপিউনিটি পেয়েছে। কেউ কেউ শুধু দায়মুক্তিই নয় পুরস্কারও পায়। খুলনার পাইকগাছায় আমার আরেক সাংবাদিক বন্ধু এফ এম আবদুর রাজ্জাকের চোখ তুলে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে। এরও আগে দরিদ্র কলেজ ছাত্র ঝালকাঠির লিমন হোসেনের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। দেশটিভির যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিয়াস আহমদ নির্যাতিতত হয়েছেন। এমন শত ঘটনা ঘটছে অহরহ। দেশের আর একটি মানুষও যেন এমন যন্ত্রণাকাতর না হন। সেরকম প্রত্যাশা নিয়েই আমার এই লেখা।
‘লুব্ধক’ একটি বাসার নাম। রাজশাহী মহানগরীর উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের ৫৫ নম্বর বাড়ি এটি। ২০০৭ সালের অক্টোবর মাস। আমি, আমার স্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ফারহানা শারমিন এবং আমাদের চার মাস বয়সী সন্তান (বর্তমানে ৪ বছর) ফিমান ফারনাদ এই তিনজন বসবাস করতাম এই বাসার নিচতলার বাম অংশে। ড. ফখরুদ্দীন-মঈন উ আহমদের নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে শিক্ষার্থী বনাম সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ বাধে। এই সঘর্ষে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নেন সাধারণ জনতা। জরুরি সরকারের নির্যাতনে অতিষ্ঠ দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসতে থাকেন শিক্ষার্থীদের সাথে। এরই জের ধরে সরকার দেশের প্রথম ২৪ ঘন্টার নিজ চ্যানেল সিএসবি নিউজ এর প্রচারণা বন্ধ করে দেয়। সিএসবির রাজশাহী ব্যুরো প্রধান দায়িত্বে ছিলাম। সিএসবি বন্ধ। তাই সিএসবি নিউজ এর রাজশাহী ব্যুরো অফিস (মহানগরীর কাদিরগঞ্জে) খোলা হয় না আগের মত। ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেলে কাজ করতে গিয়ে পরিবার এবং সহকর্মী কাউকেই তেমন সময় দিতে পারতাম না। সিএসবির স¤প্রচার বন্ধ হয়ে গিয়ে সময় কাটানোর মত কোন কাজ ছিল না হাতে। তাই প্রেসক্লাবে মাঝে-মধ্যে আড্ডা দিতাম অনেক রাত পর্যন্ত। তবে রাত ১০টার আগেই বাড়িতে আসতে হবে। ফারহানা শারমিন এটা চাইতো। কিন্তু তারপরও অনেক সময় যথাসময়ে বাড়ি ফেরা হতো না। বাসায় ফিরতে একটু দেরী হলে (রাত ১০টা অতিক্রম হলে) মোবাইলে রিং আসতো ফারহানার কাছ থেকে। এরপর ফারহানা আমাদের একমাত্র ফিমানের কণ্ঠ শুনাতো আমাকে। আমিও দ্রুত ফিরতাম বাসায়।
২০০৭ সালের গত ২৩ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত ছিলাম রাজশাহী প্রেসক্লাবে। এরই মধ্যে অন্তত: দুইবার ফোন পেয়েছি ফারহানার। রাত তখন ১১টা কি সাড়ে ১১টা ক্লাব থেকে চলে আসি বাসায়। ফিমান সেদিন ঘুমাতে বেশ বিলম্ব করছিল। তাই তার সাথে আমরা খেলছিলাম দুজনে (স্বামী-স্ত্রী)। তখন পর্যন্ত আমরা রাতের খাওয়া সম্পন্ন করিনি। টিভিটা আপনমনে চলছিল। ফিমানকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছি উভয়ে। এক পর্যায়ে ফিমান ঘুমিয়ে পড়ে। আমরাও খাওয়া-দাওয়া সেরে নিই। আমরাও ঘুমিয়ে যাই। রাত অনুমান দেড়টা আকস্মিক বিকট শব্দে বেজে ওঠে আমাদের বাসার কলিংবেল।
বিরামহীনভাবে কলিংবেল বাজতে থাকে। ফলশ্রুতিতে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি ও আমার স্ত্রী ঘরের দরজা খুলে বেলকুনীতে বেরিয়ে আসি। এসময় আমার কোলেই ছিল আমাদের ফিমান ফারনাদ। বুঝতে পারলাম একদল সশস্ত্র মানুষ পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। অপরিচিত লোকদের সবার হাতে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র। কিন্তু কেন? পরক্ষণেই মনে হলো আমার নামে যে মামলা রয়েছে তারজন্য হয়ত ধরতে এসেছে। ওই মামলায়তো হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছি আমি। আর পুলিশ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমার মত একজন নগন্য সাংবাদিককে ধরার জন্য গোটা বাড়ি ঘিরতে হবে কেন? আমি কি চোর না ডাকাত নাকি দাগী অপরাধী? আর পুলিশ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হলেতো পোশাক পরা থাকবে। সিভিল পোশাকে সবার হাতে অস্ত্র। এরা কি তবে সন্ত্রাসী নাকি ডাকাত দল? তাহলে কি ওরা ডাকাতি করতে এসেছে এই বাড়িতে ইত্যাদি নানা প্রশ্ন বাজতে থাকে নিজের মনের মধ্যে।
অপরিচিত লোকেরা ইতোমধ্যে গোটা বাড়ির সবক’টি কলিংবেল বাজিয়েছে। শুধু এই বাড়িরই নয় আশপাশের বাড়ির সব মানুষের ঘুম ভেঙ্গে গেছে। এরই মধ্যে তিনতলা বাড়ির একেবারে তিনতলা থেকে বাড়ির মালিক জনাব আবুল কাশেম ও তার পুত্র লিখন নিচে নেমে আসেন। সিভিল পোশাকধারী ১০/১২ জন সশস্ত্র লোক বাড়ির যে অংশে আমরা থাকি সেই অংশের বেলকুনীর দরজার কাছে আসেন। তারা নিজেদেরকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে আমার বাসা তল্লাশি করবেন বলে দরজা খুলতে বলেন। এসময় আমি এবং আমার স্ত্রী জিজ্ঞাসা করি যে, আপনারা কারা? আমি উনাদের উদ্দেশে বলি, আপনাদের পরিচয় নিশ্চিত না হলে আমি দরজা খুলবো না। তখন তারা বলেন, ‘তাড়াতাড়ি দরজা খুল, নইলে তোর খুব অসুবিধা হবে।’ আমি বলি কি ধরনের অসুবিধা হবে, এতো রাতে একজন নাগরিকের বাড়িতে এসে আপনারা ডিসটার্ব করছেন কেন, কিসের কি অসুবিধা হবে? তারা আমাকে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ বলে গালমন্দ করতে থাকেন।
সত্যি সত্যি প্রশাসনের লোক নাকি সন্ত্রাসী-ডাকাতদল হানা দিয়েছে আমার বাসায় তা জানার জন্য আমি বোয়ালিয়া মডেল থানায় মোবাইল করি। থানার ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, ‘থানা থেকে আমাদের কোন লোক যায়নি আপনার বাসায়। কে বা কোন বাহিনী গেছে তা আমাদের জানা নেই।’ এক পর্যায়ে সশস্ত্র লোকেরা বেলকুনীর গ্রিলের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। তখন স্পষ্ট মনে হচ্ছিল যে এরা তাহলে ডাকাতদল! কিছুক্ষণ পর তারা (সশস্ত্র লোকেরা) নিজেদেরকে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাবের লোক বলে পরিচয় দেন।
আমি বলি যে, আপনারা র‌্যাবের লোক কিন্তু দেখেতো মনে হচ্ছে না। তাছাড়া আমার বাসা সার্চ করবেন আপনাদের হাতে কি সার্চ ওয়ারেন্ট আছে। আমি এবং আমার পতœী সমস্বরে একথা বলি। এ পর্যায়ে তারা রেগে যায়। এসময় বাড়ির মালিকের ছেলে লিখন সশস্ত্র লোকদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা তাকে প্রহার করতে থাকেন। আমি মনে মনে ভাবি যে, সত্যিই যদি র‌্যাবের লোক হয় তাহলে কেন তারা মারধোর করছে বাড়ির মালিকের ছেলেকে। তখন আমি তাদের কাছে হাতজোড় করে অনুনয় করে বলতে থাকি, আপনারা উনাকে মারছেন কেন ? আপনারা কোন অন্যায় আচরণ করবেন না। আমি দরজা খুলে দিচ্ছি। আপনারা বাসা তল্লাশি করুন। কিন্তু আমার প্রতি কোন অবিচার করবেন না। আমার ঘরে আপনাদের হাতের অস্ত্র রেখে আমাকে অস্ত্রসহ ধরে নিয়ে যাবেন না, প্লিজ। এটা বলার কারণ আছে। আর তা হলো র‌্যাবের এটা পুরনো অভ্যাস। নিজেদের অস্ত্র যে কারও হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যাবার পর র‌্যাব বিবৃতি দেয় ‘ও বড় সন্ত্রাসী’।
যাহোক, আমার শিশুপুত্র ফিমানকে তার মায়ের কোলে দেই। আমি বেলকুনীর গ্রিলের দরজা খুলি। দরজা খোলামাত্র র‌্যাব সদস্যরা আমাকে টেনে-হিঁচড়ে দরজার বাইরে নেন। তারা আমার দু’ হাতে হ্যান্ডকাপ পরান। আমার দু’ চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে দেন। শুধু তাই নয়, আমার মাথা থেকে গলা পর্যন্ত কালো কাপড়ের টুপি পরিয়ে দেয়া হয়। শুনেছি এধরনের টুপি এশমাত্র ফাঁসির আসামিদের ফাঁসি মঞ্চে নেয়ার সময় পরানো হয়। আমার শিশুপুত্র, স্ত্রী ও বাড়িওয়ালার সম্মুখে র‌্যাব সদস্যরা আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ী কিল-ঘুসি ও লাথি মারতে থাকেন। একটি সভ্য দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন অসভ্য-বর্বর আচরণ করতে পারে, তা আমার জানা ছিল না।
সন্ত্রাসী কায়দায় র‌্যাবের লোকেরা আমাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি মাইক্রোবাসে ওঠায়। মাইক্রোর মধ্যে আমার সামনে দুজন, আমার পেছনে দুজন, আমার ডানে দুজন এবং আমার বাম পাশে দুজন সশস্ত্র লোক বসে শক্তভাবে ধরে থাকলো আমাকে। এদের একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করে বললো যে, ‘এই ব্যাটা এবার বল তোকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি’? আমি বলি তা কি করে আমি জানবো। তখন ওরা বলে আমরা র‌্যাব তুই জানিস না র‌্যাব কোথায় নিয়ে যায় মানুষকে। তখন আমি বলি তাহলে কি আমাকে আপনারা ক্রসফায়ারে হত্যা করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন? এসময় তারা আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এ অবস্থায় মাইক্রো চলতে শুরু করলো। রাস্তার বাঁক আর রাস্তার মাঝে স্পিড ব্রেকার অনুমান করে বুঝতে পারি যে, গাড়ি যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেট ক্রস করার পর স্পিড ব্রেকার ও তারপর মাইক্রোটি ডানে মোড় নিলে নিশ্চিত হই যে, আমাকে র‌্যাব-৫ রাজশাহীর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পথিমধ্যে গাড়ির ভেতরে আমাকে মারধোর করা হয়। আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে তারা। তারা আমাকে অস্ত্র মামলায় চালান দেয়া ও ‘ক্রসফায়ার’ করার হুমকি দেয়। গাড়ির ভেতওে একজন বলে যে, ‘আল্লাহর নাম ডাক, দোয়া-কালাম পড়, তোকে ক্রসফায়ার করা হবে’। তখন মনে মনে ভাবছি যে, আমিতো কোন অপরাধ করিনি, আমি খুনি নই। তারপরও আমাকে ক্রসফায়ার দেয়া হবে। এটা কি হয়? পরক্ষণেই আবার ভাবি সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা নতুন কিছু নয়। এখানে শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুনদের মত মানবতাবাদী মানুষদেরকে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন সইতে হয়। কিন্তু খুনি, যুদ্ধাপরাধী নিজামীরা গাড়ির সামনে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এসব ভাবতে ভাবতে একসময় নিশ্চিত হলাম যে, সত্যি সত্যি আমাকে র‌্যাব-৫ রাজশাহীর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়ার পর আমার দু’হাত বেঁধে আমাকে উপরে সিলিংয়ের সাথে টাঙ্গিয়ে রাখা হলো। এর আগে আমাকে এই ঘর ও ঘর সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো নামানো করা হলো বেশ কিছু সময় ধরে। রাতে আমার আশপাশে বুটের খট খট শব্দ করে ৪/৫ জন লোক আসতো। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আবার একই শব্দ করে হেঁটে চলে যেতো তারা। চোখ বাঁধা ও কালো টুপি পরিয়ে এবং আমাকে ঝুলিয়ে রাখা হয় সারারাত। এভাবে রাতভর আমার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সকাল আনুমানিক আটটার দিকে আমার হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে আমাকে নিচে নামানো হলো। একটি ছোট রুটি পাতলা ডাল দিয়ে খেতে দেয় তারা। রুটির সাইজ আর পানির ন্যায় ডাল অনুভব করে আবার ভাবি, তাহলে কি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবেক ভিসি সাইদুর রহমান খান, আবদুস সোবহান ও মলয় ভৌমিক এর ওপরও এমন আচরণ করেছে র‌্যাব সদস্যরা। এই তিন গুণি শিক্ষককেও র‌্যাব-৫ এর সদস্যরাই গ্রেফতার করেছিল। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের ওপর কি অমানবিক-বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে ‘পশুর দল’। জেলে গিয়ে জানতে পাই, বিশিষ্ট নাট্যকার মলয় ভৌমিকের দু’ পায়ে ব্যাপক টর্চার করে এই জানোয়ারের দল। সাইদুর রহমানের মতো শিক্ষককে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে সজোরে ঘুরিয়েছে।
রাতভর উপরে ঝুলে থাকার সময় মনে হচ্ছিল আমার শরীর থেকে বোধহয় হাত দু’টো আলাদা হয়ে গেছে। একটি গামছা দিয়ে আমার চোখ দু’টি শক্ত করে বেঁধে দেয়ার পর আবার মোটা কালো কাপড়ের একটি টুপি পরিয়ে দেয়ায় আমার যেন শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। বারবার অনুরোধ করেছি কিন্তু টুপি খুলে দেয়নি অমানবিক ওই ‘নির্যাতনকারি খুনির দল’। সকালে নাস্তা হিসেবে যে পাতলা রুটি আমাকে খেতে দেয়া হয় তা থেকে সামান্য একটু ছিঁড়ে মুখে দিয়েছি। পানি পান করে তৃষ্ণা মিটাই। এরপর আমাকে আবারও উপরে লটকানো হয় একইভাবে। আমাকে খেতে দেয়ার সময়ও টুপিটি খোলা হয়নি। শুধুমাত্র গোঁফ পর্যন্ত টুপিটি উঠিয়ে দেয়া হয়। আমার কাছে এসে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে র‌্যাব সদস্যরা।
সকাল অনুমান ১০টার দিকে দুই ব্যক্তি এসে আমার নাম জানতে চান। ওই দুইজনের কথোপকোথনেই বুঝতে পারি এরা আমার পরিচিত। গ্রেফতার হওয়ার আগে আগে পেশাগত কারণে এই দু’জনের সঙ্গে আমার পরিচয় এবং উনাদের সঙ্গে আমার একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে। এরা হলেন র‌্যাব-৫ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী (সিপিসি) মেজর রাশীদুল হাসান রাশীদ (বর্তমানে পদোন্নতিপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল) ও রাব-৫ এর সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর হুমায়ুন কবির। এরা এখন রাজশাহীতে নেই। মেজর রাশীদকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একজন সদস্য করে পাঠানো হয়েছিল আইভরিকোষ্টে। মেজর কবিরকে বান্দরবানে বদলি করা হয়েছে বলে শুনেছি। কথিত অপহরণের অভিযোগে ওয়ার্কাস পার্টির নেতা কামরুল ইসলাম ওরফে মজনু শেখকে র‌্যাব সদস্যরা পিটিয়ে হত্যা করে। ২০০৭ সালের ১৮ মে এ ঘটনা ঘটে। তখন পরিচয় হয়েছিল মেজর কবির এর সঙ্গে। আর সিএসবি নিউজ বন্ধ হবার এক সপ্তাহ আগেও মেজর রাশীদের সাথে তারই কার্যালয়ে কথা বলি পেশাগত কারণে। আমারসঙ্গে সিএসবি নিউজের ক্যামেরাম্যান মাসুদও ছিলেন।
পূর্ব পরিচিতি এই দু’জনের মধ্যে মেজর রাশীদুল হাসান রাশীদ এক পর্যায়ে নির্যাতন শুরু করলেন। নির্যাতনের শুরুতেই মেজর রাশীদ আমাকে বলেন, “এই ফকিরনির বাচ্চা, তোর এতো প্রেসটিজ কিসের? শালা চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী। তোর ‘পাছার ভেতর’ ঢুকিয়ে দেবো সাংবাদিকতা। এই শুয়োরের বাচ্চা তুই আর রিপোর্ট করবি না সিএসবি নিউজ-এ। লিচু বাগানের রিপোর্ট, বেনজিরের বউয়ের কথা, খায়রুজ্জামান লিটন সাহেবের (জনাব লিটন বর্তমানে রাজশাহীর মেয়র, আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার বাদি জনাব লোটনের ভাইপো) পারিবারিক ওয়াকফ্ এস্টেট নিয়ে রিপোর্ট করবি না ? হারামজাদা তুই র‌্যাব দেখেছিস, কিন্তু র‌্যাবের কাম দেখিসনি। তোকে ক্রসফায়ারে মারবো শালা।”
আবার ভাবতে থাকি যে, র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আমাদের জাতীয় নেতার সন্তান লিটন সাহেবের নাম বলছেন কেন? তাহলে কি র‌্যাব সদস্যরা জনাব লিটনের প্ররোচণাতে আমাকে ধরে এনে আমার ওপর নির্যাতন করছে? কিন্তু আমিতো লিটন সাহেবের কোন ক্ষতি করিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রিপোর্ট করেছি। এই রিপোর্ট করতে গিয়ে যদি লিটন সাহেব আহত-মর্মাহতও হয়ে থাকেন তাহলেওতো তিনি আমার ওপর এমন প্রতিহিংসা পরায়ন হতে পারেন না। তবে কি র‌্যাবের এই মেজর লিটন সাহেবের নাম ব্যবহার করে পুরো দোষটি তার (মেয়র সাহেবের) ঘাড়ে ফেলতে চাইছেন? পরবর্তীতে জানতে পারি, আমার বিরুদ্ধে যৌথ ষড়যন্ত্রের অন্যতম রুপকার মাননীয় মেয়র মহোদয় নিজেও। মেয়র লিটন, র‌্যাবের মেজর রাশীদুল হাসান রাশীদ, মেয়রের চাচা মাহফুজুল আলম লোটন, রাজশাহীর একজন নৃত্যশিল্পী যৌথভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। বলে রাখা ভালো, মেয়র লিটন, জামায়াত সমর্থক মেজর রাশীদ এবং গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের জামায়াতী কতিপয় সদস্যরা আমাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করতে চেয়েছিল।
নির্যাতনকালে আমি মেজর রাশীদকে বলি, আপনি রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী। আপনি আপনার দায়িত্ব-কর্তব্য ভুলে যাচ্ছেন? আপনি কিভাবে একজন নাগরিকের সাথে এমন অসভ্য আচরণ করছেন? রাষ্ট্র, সংবিধানতো আপনাকে কোন ব্যক্তিকে নির্যাতন করার অধিকার দেয়নি। এক পর্যায়ে তিনি (মেজর রাশীদ) আমার বাম গালে থাপ্পড় মারলে আমার ঠোট ফেটে রক্ত বেরোতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তিনি আমার বাম হিপে একটি গোল বলের ন্যায় বস্তু দ্বারা কঠিন জোরে এশাধিকবার আঘাত করেন। ওটা যে ইলেকট্রিক শক তা আমার জানা ছিল না। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে এই ইলেকট্রিক শক বিষয়ে জানতে পারি। এই শক যখন দিচ্ছিল তখন মনে হচ্ছিল যেন আমার গোটা শরীরে আগুন ধরেছে। ইলেকট্রিক শক দেয়ার পর আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তখন অনুমান সকাল সাড়ে ১০টা। এসময় আমার হাতের বাঁধন খুলে দেয়া হয়। আমাকে বসানো হয় ইলেকট্রিক চেয়ারে। এর প্রায় আধাঘন্টা পর টর্চার সেলের ফ্লোরে শুইয়ে দেয়া হয়। এরপর দুই মেজর রাশীদুল হাসান রাশীদ ও হুমায়ুন কবির একযোগে আমার ওপর হামলে পড়েন। এসময় আমার মনে হচ্ছিল, যেন এই দুই সেনা কর্মকর্তা তাদের ব্যক্তিগত জিঘাংসা মিটাতেই আমাকে নির্যাতন করছেন। আমার শরীরে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন মেজর রাশীদ ও হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে বুটের লাথি ও কিল-ঘুসি চলে সমানতালে।
প্রায় এক ঘন্টা ধরে সেনাবাহিনীর ওই দুই সদস্য আমার ওপর নির্যাতন চালান। তারা উভয়ে একটা মোটা বাঁশের লাঠি (গোলাকৃতির) দিয়ে আমার দুই পায়ের তালুতে বেধড়ক পিটিয়েছেন। নির্যাতন চালানোর সময় সেনা কর্মকর্তাদের উভয়ই ছিলেন উল্লসিত। এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার জ্ঞান ফিরলে আমি বুঝতে পারি যে, একটি পরিত্যক্ত রান্না ঘরে আমি খড়ের ওপর পড়ে আছি। যেখানে পোকা-মাকড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাকে ওরা গরু-ছাগলের ন্যায় আমার চোখ-মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে রাখে সেই ঘরের মধ্যে। দুপুর অনুমান দেড়টার দিকে আমাকে উঠে দাঁড়াতে বললো র‌্যাবের দুই সদস্য। কিন্তু নির্যাতনের ফলে আমি সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াতে পারছিলাম না। এসময় ‘অভিনয় করছে শালা’ এই মন্তব্য করে মেজর রাশীদ আমার দু’পায়ের উপরে তার পায়ের বুট দিয়ে খিচতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাটার মার হয়নি। শালা অভিনয় করছে। কুত্তার বাচ্চা উঠে দাঁড়িয়ে নিজে নিজে হাঁট। নইলে আরও মারবো। শালা তোকে ক্রসফায়ার দিলে ঠিক হবি।’ আমি বলি যে, আমি কোন অভিনয় করছি না প্রকৃতপক্ষে আমি সোজা হয়ে দাঁড়াতে এবং হাঁটতে পারছি না। কিন্তু কিছুতেই বিশ্বাস করতে নারাজ মেজর রাশীদ। মেজর রাশীদ বলছেন যে, তুই যতক্ষণ হাঁটতে পারবি না ততক্ষণ মারতে থাকবো। নির্যাতন থেকে সাময়িক রেহাই পাবার জন্য আমি কষ্ট করে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ানোর ও হাঁটার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।
মেজর রাশীদ তার বুট পরা পা দিয়ে আমার দু’পায়ে পায়ে খিচতে খিচতে আমাকে একটি রুমে নিয়ে যান। বেলা অনুমান দু’টায় আমার মাথা থেকে কালো কাপড়ের টুপি সরিয়ে চোখ থেকে গামছা খুলে দেয়া হয়। মনে হলো আমি যেন কবরের অন্ধকার থেকে আলোতে এলাম। শান্তিমত শ্বাস-প্রশ্বাস নিলাম। র‌্যাব সদস্যরা একটি ফরমে আমার দুই হাত ও দুই হাতের সব আঙুলের ছাপ নিল। আমার বুকে আমার নাম লিখে তা সেঁটে দেয়া হলো। এরপর ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা হয়। ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তোলার মহড়া শেষে পুনরায় গামছা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে আমার মাথায় কালো কাপড়ের টুপি পরিয়ে দেয়া হলো।
আমাকে উঠানো হলো একটি মাইক্রোতে। এসময় RAB’র কেউ আমাকে কানে কানে বললেন, ‘ব্যাটা আল্লাহ আল্লাহ কর তোকে বাগমারায় ক্রসফায়ার দেয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছি।’ বেলা আনুমানিক তিনটায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় বোয়ালিয়া মডেল থানায়। র‌্যাব, আওয়ামী লীগ নেতা জনাব লোটনের করা চাঁদাবাজি মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দিতে চেয়েছিল বোয়ারিযা মডেল থানার মাধ্যমে। কিন্তু বোয়ালিয়া থানার পুলিশ র‌্যাবকে জানায় যে, এই মামলা সে (আকাশ) জামিনে আছে তাকে গ্রহণ করা যাবে না। থানায় নেয়ার সময় র‌্যাব সদস্যরা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘থানায় গিয়ে পুলিশের সামনে সোজা হয়ে হাঁটবি। নইলে তোকে আবার ফিরিয়ে আনবো এবং ক্রসফায়ার-এ মারবো। পুলিশ জিজ্ঞাসা করলে বলবি আমাকে মারধোর করা হয়নি।’ মনে মনে ভাবি আমাকে মেরে ফেললেও কখনও আমি মিথ্যার আশ্রয় নেবো না। কিন্তু পরক্ষণেই আমার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে আমাদের সন্তান ফিমান ফারনাদের মুখখানি। মনটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে সন্তানের কথা ভেবে। দুই চোখ গড়িয়ে ঝরতে লাগলো পানি। চোখের জলে ভিজে গেল সেই ফাঁসির আসামিকে পরানোর কালো টুপির অংশ বিশেষ। আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকার কারণে থানার পুলিশ আমাকে গ্রহণ করতে অসম্মতি জানালে থানা থেকে র‌্যাব কার্যালয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায় র‌্যাব। এরপর র‌্যাব সদস্যরা বলাবলি করছে যে, আমাকে বাগমারায় নেয়া হবে সেখানে আমাকে একটি অস্ত্র মামলায় চালান দেয়া হবে। আরও শুনি যে, আমার নামে পুঠিয়াতে আরও একটি চাঁদাবাজির মামলা করানো হয়েছে, সেখানেও নিতে পারে। শেষ পর্যন্ত বিকেল অনুমান পাঁচটার দিকে র‌্যাব আমাকে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ৫৪ ধারায় হস্তান্তর করে। এরপর আমার মাথার টুপি সরিয়ে চোখের বাঁধন খুলে দেয়া হয়।
আমাকে থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব সদস্যরা থানা কম্পাউন্ড অতিক্রম করার পরপরই আমাকে বোয়ালিয়া মডেল থানা হাজতে নেয়া হলো। হাজতখানার ভেতরে বিড়ি-সিগারেটের মোথা, থু-থু, কফ, কলার ছালসহ নানান অস্বাস্থ্যকর দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ। এই পরিবেশে আমার বমি বমি ভাব হতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই থানার এসআই নূরুজ্জ্মান আসলেন আমার পাশে। তিনি রাজশাহীর বর্তমান মেয়র জনাব লিটনের চাচা ও আওয়ামী লীগ নেতা জনাব লোটনের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা। পুলিশের এই সদস্য আমার পূর্ব পরিচিত। আমি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র এবং জিয়াউর রহমান হলে থাকি তখন তিনিও (নূরুজ্জামান) রাবিতে পড়ালেখা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রদলের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আরও একটি পরিচয় আছে। তা হলো এই নূরুজ্জামান রাজশাহীর সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহীন শওকত এর ভাইপো। আমার ধারণা করতে আর বাকি রইল না যে, তিনি পুলিশের চাকরীতে কিভাবে এসেছেন। সে যাহোক, এসআই নরুজ্জামান আমাকে অশোভন ভাষায় গালমন্দ করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, ‘শালা তুই আওয়ামী-ঘাদানিক, হাসিনা লীগ করিস। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে তুই ছাত্রদল আর শিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর লিখেছিস। এইবার আমি তোকে রিমান্ডে নিয়ে আবার মারবো।’
বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ২৪ অক্টোবর, ২০০৭ এর সন্ধ্যায় আমাকে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ এর ১৬ (২) ধারায় রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চালান দেয়। এসআই নূরুজ্জামান পুলিশ পিকআপ এর সাইরেন বাজাতে বাজাতে আমাকে আদালত চত্বরে নিয়ে গেলেন। উদ্দেশ্য বোধহয় এই যে ‘এতবড় এবকজন দাগী অপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী’ কে গোটা রাজশাহী শহরের মানুষ (বোয়ালিয়া থানা হতে কোর্ট যাবার পথে) কে দেখানো! আমাকে যখন আদালতে নেয়া হয় তখন আদালতে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন না। আমাকে পুলিশ ভ্যান থেকে দুইজন পুলিশ ধরে নামালেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার পুলিশ ভ্যানে উঠিয়ে আমাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো।
কারা কর্তৃপক্ষ আমাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালের ইমার্জেন্সী ও সার্জিক্যাল ওয়ার্ড-৪ এ ভর্তি করে। পরদিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর, ২০০৭ খুব সকালে আমাকে দুইজন বন্দী দুই পাশে ধরে নিয়ে এলেন কেস টেবিলের (কারা বিচারাচালয়) সামনে। সেখানে আমার শরীরের বস্থা অবলোকন এবং আমার কাছ থেকে নির্যাতনের কাহিনী শোনার পরও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আমাকে সাধারণ ওয়ার্ডে রাখার নির্দেশ দিলেন। আমাকে নেয়া হলো আমদানি ওয়ার্ডে (একজন মানুষ প্রথম জেলে আসার পর এই ওয়ার্ডেই তাকে নেয়া হয়)।
আমদানি ওয়ার্ডের বন্দিরা আমার শারীরীক অবস্থা দেখে আমাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য কারা সুবেদারকে অনুরোধ করেন। এরপর কারা সুবেদার আমাকে কারা হাসপাতালে স্থানান্ত করে দেন। কারা হাসপাতালে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত আমি চিকিৎসা গ্রহণ করি। কিন্তু পরিপূর্ণভাবে সুস্থ্য হয়ে ওঠার আগেই কারা হাসপাতালের সার্জনকে ঘুষ না দেযার কারণে আমার ফাইল (সুস্থ্য বলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া) কেটে দেন। এরপর আমাকে সিভিল ৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই ২৮ দিনের অন্ধকার কারা জীবনের বাকি দিনগুলো কেটেছে আমার।
পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ নভেম্বর আমি জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার ১৬ (২) ধারা হতে অব্যাহতি পাই। ওইদিনই আমাকে (গ্রেফতারের মাত্র চার ঘন্টা আগে দায়ের করা) দ্বিতীয় চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিসকেস দায়ের করার মধ্য দিয়ে আমি ২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর এই মামলা থেকে জামিন লাভ করি। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৪ অক্টোবর, ২০০৭ থেকে ১৯ নভেম্বর, ২০০৭ পর্যন্ত রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকার পর গত ১৯ নভেম্বর, ২০০৭ রাত আটটায় কারাগার থেকে মুক্তি পাই। মুক্তি পাবার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আমার কাছে খবর আসে যে, আমাকে র‌্যাব আবার গ্রেফতার করবে এবং এবার ‘ক্রসফায়ার’ এ হত্যা করবে। এমন এক চরম হুমকির মুখে পরিবারের সদস্যদেরকে উদ্বিগ-উৎকণ্ঠা আর আতংকের মধ্যে রেখে আমি রাজশাহী ছেড়ে পালিয়ে আসি ঢাকায়। এরপর আমি বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ফর ট্রমা ভিক্টিমস এ ভর্তি হয়ে আমি মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার গ্রহণ করি। আমার জীবনের এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ, বোমা-গ্রেনেড হামলা নিয়ে চারটি বই লিখেছি। এগুলো হলো অন্ধকারে ১৫ ঘন্টা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং প্রতিহিংসা, জঙ্গি গডফাদার এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ এবং উদীচী থেকে পিলখানা। রাজনীতি ও মানবাধিকার বিষয়ক ইংরেজী ভাষায় তিনটি বই প্রকাশ হয়েছে। এগুলো হলো স্ট্রাগল ফর পিচ, এওয়ে ফ্রম হোম এবং পেইন। এরমধ্যে পেইন বা ব্যথা নামের বইটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকা থেকে। এই বইটি অ্যামাজনে পাওয়া যাচ্ছে (Click This Link)।
কেন এই রাষ্ট্রীয় নির্যাতন-ষড়যন্ত্র?
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পট পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে মূলত: সেনাবাহিনী দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। তাই সদ্য বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘সেনা নিয়ন্ত্রিত’ সরকার বলেই বেশি পরিচিতি পায়। দেশে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। জরুরি অবস্থার মধ্যেই রাজশাহীতে র‌্যাব-৫ এর একাধিক অপারেশন জনমনে নানান প্রশ্ন সৃষ্টি করে। ২ মে (২০০৭) রাজশাহীর এক সময়ের টপ সন্ত্রাসী বেনজিরকে তার নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্ত্রী ও শিশু কন্যার সম্মুখে র‌্যাব সদস্যরা গুলি করে এবং তার হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে চালান দেয় আদালতে। একই মাসের ১৬ মে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের (তৎকালীন) কক্ষে র‌্যাব সদস্যদের পিটুনিতে হা-পা ভেঙ্গে যায় কারারক্ষী সাহেবুল ইসলামের। এর দু’দিন পর ১৮ মে মহানগ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29376337 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29376337 2011-05-06 15:33:29
লিমন রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের প্রতীকমাত্র! http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29376316 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29376316 2011-05-06 14:55:51 আমার ওই গণমাধ্যম সহকর্মী বন্ধুটির কাছে কি উত্তর আছে? বাংলাদেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ নিদারুণ কষ্ট, সংগ্রাম চালিয়ে উপরতলার মানুষদের অন্ন-আহার যোগান দেয়। আর সেই সুবিধাবাদী স্তরের মানুষগুলির ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে দেশপ্রেমিকরা ক্রমশ: অসহায় থেকে অসহায়তর অবস্থায় গিয়ে ঠেকছেন। অন্যায়-অবিচার আর অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিতে গিয়ে সংগ্রামী মানুষ অসহায়ভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ন্যায় ও ন্যায্যতার পরাজয় ঘটছে অন্যায়-অবিচারের কাছে। তথাকথিত প্রগতিশীল শ্রেণীও সুযোগসন্ধানী সুবিধাবাদী শ্রেণীর হাতে নিজেদেরকে জিম্মি করে রাখছে। দেশপ্রেমিকদের রক্ষায় রাষ্ট্র-সমাজ, সুশিল সমাজ কেউই এগিয়ে আসছে না। “বিচার অবিচারের হাতে বন্দি। ন্যায় আর ন্যায্যতা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সুবিধাবাদীদের হাতে জিম্মি।”
বাংলাদেশের সবকিছুই যেন নষ্ট, ভন্ড, প্রতারক, বেঈমান, সুবিধাবাদী, দালালদের হাতে চলে গেছে। প্রিয় লেখক হুমায়ূন আজাদ অনেক আগেই এসব কথা লিখে গেছেন। জঙ্গি, মোল্লা ও ধর্মব্যবসায়ীদের সশস্ত্র হামলায় এই প্রথাবিরোধী লেখককে জীবন দিতে হয়েছে। কোন বিচার পাননি এই গুণি শিক্ষকের পরিবার। দেশপ্রেমিক সাংবাদিক মানিক সাহা, শামসুর রহমান কেবল, দীপংকর চক্রবর্ত্তী, গৌতম সাহা, হুমায়ূন কবির বালু হত্যার বিচার হয়নি আজও। জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে র‌্যাব-ডিজিএফআইয়ের নির্যাতনের নির্মম কাহিনী তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা আবদুল জলিলসহ অনেকে। সরকার এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেনি।
ধর্ম ব্যবসায়ী আমিনীর দল অবুঝ ছেলেদের হাতে কোরান তুলে দিয়েছেন মানুষ মারার জিহাদে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য। জঙ্গিগোষ্ঠী আবারও দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে গোয়েন্দাসূত্র রিপোর্ট দিয়েছে। বাংলা ভাই, শায়খ রহমান কিংবা জামায়াত-শিবিরের সমর্থকরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চাকরি পায়। আর সুবিধাবাদী-ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর অবিচারের শিকার মানুষগুলি বিচার পাবার আশায় দিন গুনে। বাংলা ভাইকে সমর্থনকারী এক সাংবাদিক এখন জার্মানির একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সম্পাদক। যিনি সম্প্রতি তার এক আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধার কাহিনীর প্রতিবেদন করে প্রগতিশীলদের বাহবা কড়াতে চাইছে।
তথাকথিত এলিটফোর্স র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব দরিদ্র বাবা-মায়ের কলেজপড়ুয়া সন্তান লিমনকে পঙ্গু করে দিল। বিনা কারণে তাকে গুলি করার পর র‌্যাব কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে আনন্দ প্রকাশ করেছে। অমানুষ ওই কর্মকর্তারা বলেছে, 'ছেলেটি মারা যায়নি তাতেই আমরা খুশি। অতবড় একটা বন্দুকযুদ্ধে যে কেউ মারা যেতে পারতো।' এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত আট হাজারের অধিক মানুষ মারা গেছে (গুপ্ত হত্যা, অপহরণসহ)। আহত ও পঙ্গু হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। কাপুরুষ বেকুবের দল, গোটা দেশের জন্য এক বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। অথচ সরকার যেন ঠুঁটো জগন্নাথ। তাদের যেন কিছুই করার নেই এই মানবাধিকার লংঘণকারিদের দমন করার বিষয়ে। হায় আমার সোনার বাংলা!
নারী নির্যাতন, যৌন হয়রাণি বা ইভটিজিং এক সামাজিক সংকট তৈরী করেছে সেখানে। আর্মির মেজর আখতার শিপলু ও তার স্ত্রী নিপার নিষ্ঠুরতার শিকার শিশু হাসিনা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ১১ বছরের এই শিশুর পিঠে গরম খন্তির ছ্যাকায় দগদগে ঘার সৃষ্টি করেছে। এই বর্বরতা-নৃশংসতা ক্ষমতাধর ওই স্বামী-স্ত্রীর মনে কি এতটুকুও সহানুভূতি জাগায়নি। একই অবস্থা যদি তাদের শিশুর ওপর কেউ ঘটাতো? কোন পশুর পক্ষেও হয়ত এভাবে কাউকে আক্রমণ করা সম্ভব নয়। যেটা করেছে এই দম্পতি নরপশু। কে করবে তাদের বিচার? আমাদের অথর্ব এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছে, 'ঘটনাটি অমানবিক। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো।' সূত্র-দৈনিক আমার দেশ, ১০ এপ্রিল, ২০১১। এতবড় একটা নিষ্ঠুর ঘটনার পর পুলিশেরই উচিত স্বতপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু সেটাতো আর সম্ভব নয় অবিচারের এই দেশে।
একটা পুরো রাষ্ট্র, সমাজ যখন অবিচারে ভরে যায় তখন সেই রাষ্ট্র বা সমাজে মানুষ কতটুকু নিরাপদ? এই প্রশ্নের কি জবাব দেবেন আমার ওই বিখ্যাত সাংবাদিক বন্ধু, আমি জানি না। একটা হ-য-ব-র-ল সমাজে দেশপ্রেমের তাড়নায় উদ্বুদ্ধ কিছু মানুষ ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করে। এই মানুষগুলি তখন সুবিধাবাদী-নষ্টদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমনই একটি ঘটনার কাহিনী তুলে ধরতে চাই। ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রিয় মাতৃভূমিতে দেশপ্রেমিক বা সংগ্রামী মানুষেরা দুর্বিষহ অসহায় অবস্থায় আছে। তারই একটি জলন্ত প্রমাণ হতে পারে রাজশাহীর ওই ঘটনা। একটি সংঘবদ্ধ সুবিধাবাদী চক্রের রোষানলে পড়ে কিভাবে একজন দেশপ্রেমিক শিক্ষককে একটি বিভাগীয় সভাপতির পদ থেকে সরে দাড়াতে হলো? আপনাদের সেই গল্প শোনাই এবার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের সদ্য পদত্যাগী সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মলয় ভৌমিক। প্রথাবিরোধী এই মানুষটি প্রায় তিন দশক ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। দীর্ঘ ২২ বছর দেশের প্রগতিশীল বাংলা জাতীয় দৈনিক 'সংবাদ' এ সাংবাদিকতা করেছেনে। প্রায় চার দশক যাবত যিনি দেশের নাট্যচর্চা তথা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। জীবনভর সংগ্রামী এই মানুষটি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বহু নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কখনও অন্যায়-অবিচারের কাছে মাথানত বা আপোষ করেননি। প্রগতিশীল নামধারী শিক্ষক সমাজ, প্রশাসন ও সরকার যখন ক্ষমতাসীন তখন এই মহান শিক্ষককে নষ্টদের কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে হলো। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে কেন এই আন্দোলন তার নেপথ্যের কথাগুলো সচেতন-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সম্মুখে তুলে ধরা কর্তব্য মনে করি।
মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে শিক্ষক-ছাত্রদের আন্দোলন চলছে। এ বিষয়ে একটি নোট পড়ি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে। যা লিখেছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের একজন তরুণ শিক্ষিকা। এরপর থেকেই অনুসন্ধান করতে থাকি বিষয়টি নিয়ে। যদিও নোটের লেখিকা নিজেই শিক্ষার্থীদের ক্লাশে ফাঁকি দেন নিয়মিত। না, এটা আমার কথা নয়। ফোকলোর বিভাগের দু'একজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেই জানতে পারলাম ওই শিক্ষকের অনৈতিক এই কাহিনী। এই শিক্ষিকার অভিযোগ মলয় ভৌমিক নাকি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন। স্বাধীনতা মানে নীতিহীনতা নয়। স্বাধীনতা মানে নয় ছাত্র-ছাত্রীদের ফাঁকি দেয়া। এই কথাগুলি বুললে চলবে না ম্যাডাম। যাহোক, মলয় ভৌমিকবিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যের কাহিনী তুলে ধরলেই এক বিরাট ষড়যন্ত্র ও সুবিধাবাদী চিত্র ফুটে উঠবে। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা দেশে জুড়েই এই ষড়যন্ত্র, সুবিধাবাদী, অনৈতিক কর্মকান্ডের জাল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগ খোলার দাবি দীর্র্ঘদিনের। সাংস্কৃতিক জোট ও প্রগতিমনা শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই এই বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভাগের শিক্ষকদের পারস্পরিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরপর দু'টি কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। যে কমিটি বিভাগে নানা অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ড শনাক্ত করে। বিভাগের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে কমিটি একটি সুপারিশমালা দেয়। সেই সুপারিশে বলা হয়, অন্য বিভাগ থেকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক এনে এই বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা। সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মলয় ভৌমিককে প্রেষণে নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিযোগ দেয় সিন্ডিকেট।
এরই প্রেক্ষিতে মলয় ভৌমিক ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর প্রথমে শিক্ষক হিসেবে এবং ৮ নভেম্বর সবঅপতি হিসেবে যোগ দেন। এই বিভাগে প্রেষণে যোগদানের আগে সরকারের তরফ থেকে তিনি আরও বড় পদ ও পদবীর অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা গস্খহণ করেননি। তবে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার প্রতি বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে তাঁর। আর সেই কারণেই মলয় ভৌমিক নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের ভেতরকার সমস্যা সমাধানের মানস আকাঙ্খা নিয়েই সেখানে যোগদান করেন।
সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম দূর করার ক্ষেত্রে এবং বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন তিনি। বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরে আসছিল এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছিল। এমনই অবস্থায় আকস্মিকভাবে বিভাগের কতিপয় শিক্ষক তথা দুর্নীতিবাজচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারই অংশ হিসেবে গত ৩১ মার্চ ২০১১ তারিখে বিভাগের অফিস থেকে কর্মচারীদের বের করে দিয়ে ঐ বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষকদের দ্বারা আইন হাতে তুলে নেওয়ার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। যা সম্পূর্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিধির পরিপন্থি। হঠাৎ করে শিক্ষকদের এ ক্ষোভের কারণ কি? আইন হাতে তুলে নেবার পর তাঁরা সভাপতির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করলেন। মলয় ভৌমিক এই বিভাগে যোগদানের কয়েকদিন আগে বিভাগের ছাত্ররা নাট্যকলার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ এনেছিল। ওই অভিযোগে তারা সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তখন বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ও তৎকালীন কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর মোঃ শাফী। তিনি একাডেমিক কমিটির সভায় এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যগণ তদন্ত রিপোর্টে ছাত্রদের আইন হাতে তুলে নিয়ে বিভাগে তালা লাগানোর ঘটনাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। ওই একই শিক্ষকরা মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগে স্বাক্ষরকারিও বটে। ৩১ মার্চ তদন্ত কমিটির ওই সদস্যগণই আইন হাতে তুলে নিয়ে বিভাগের কক্ষে তালা ঝুলালেন। তারা অবশ্য ছাত্র নন। তদন্ত কমিটির ওই শিক্ষকগণ এখন নিজেদের বিরুদ্ধে কি শাস্তির সুপারিশ করবেন? আমরা এটা দেখার অপেক্ষায় আছি।
খ্যতিমান কলামিষ্ট, নাট্যকার মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলির কোনটাই সুনির্দিষ্ট ও তথ্যবহুল নয়। আবার অনেকগুলিই স্ববিরোধী এবং সর্বোপরি এসব অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষকগণ কোন প্রকার তদন্ত দাবি করেন নি। হয়ত এটা ভেবে যে, তদন্ত হলে তাদেরই সমস্যা হতে পারে? অর্থাৎ অভিযোগগুলি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রসূত।
এখন বিভাগের অভ্যন্তরীণ কিছু অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ডের কেচ্ছা তুলে ধরতে চাই। ২০০৮ সালের এম.এ. (নাট্যকলা) পরীক্ষায় অনিয়মের কথা স্বীকার করে অভিযোগ পত্রে পরীক্ষা কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যগণ স্বাক্ষর করেছেন। ওই পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলেন কাজী শুসমিন আফসানা। কমিটির সদস্যগণ হলেন ড. শাহরিয়ার হোসেন, ড. ফারুক হোসাইন ও আবদুল হালিম প্রামানিক। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ওই কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরেই। গোপনীয়তার স্বার্থেই পরীক্ষা কমিটির সাথে বিধি অনুযায়ী একাডেমিক কমিটি বা অন্য কোন শিক্ষকের কোন ধরনের সংশ্রব থাকার কথা নয়। সুতরাং এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ পরীক্ষা কমিটির। পরীক্ষা কমিটির সদস্যগণ নিজেরা প্রকাশ্যে তাঁদের অনিয়মের দায় স্বীকার করে নিজেদের প্রতি এখন কি শাস্তির বিধান দেবেন? সেটাও দেখার অপেক্ষা করছি আমরা। উল্লেখ্য যে, মলয় ভৌমিক এই পরীক্ষা কমিটির সদস্য নন। এমনকি ওই বর্ষের ছাত্রদের কোন কোর্সও তিনি পড়াননি। বিভাগের নথিপত্র দেখলেই যার প্রমাণ পাওয়া যাবে।
২০০৯ সালের এম.এ. পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনার ক্ষেত্রেও মলয় ভৌমিকের ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে একজন সদস্যকে পরীক্ষা কমিটির সভার কথা অবহিতই করা হয়নি। অথচ উক্ত সদস্য ছুটি নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে দীর্ঘ সময় পরে বিভাগে ফিরে আসেন। যা তিনি হর হামেশাই করে থাকেন। শিক্ষার্থদের স্বার্থে ওই একজন শিক্ষকের জন্য বসে থাকার কোন উপায় আছে কি? অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা কমিটির সদস্য চারজন। কোরাম হয় দুই জনে। উক্ত কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনজন সদস্য। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল পরীক্ষা এগিয়ে আনার। গ্রীস্মকালীন ছুটি শুরু হতে দেরী নেই। এ অবস্থায় পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনাটাই ছিল যুক্তিযুক্ত। পরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত তিনজনের মধ্যে দুইজনই পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনার পক্ষে মত দেন, যা গণতান্ত্রিক রীতি এবং আইনসিদ্ধ। এছাড়া পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয় একাডেমিক কমিটির সভায়। ৩ এপ্রিল, ২০১১ আহুত একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচ্যসূচীভূক্ত করা হয়েছিল। এখানেও পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। কিন্তু এ সুযোগ গ্রহণ না করে উপস্থিত তিনজনের মধ্যে একজন সদস্য এই অভিযোগ কেন তুললেন? এ ব্যপারে পরিস্কার করে আর কিছু বলার দরকার আছে কি?
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের পাঁচজন শিক্ষকের “অধিকারভূক্ত” শিক্ষাছুটি মলয় ভৌমিকের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা বলে নেয়া ভালো যে, শিক্ষাছুটি ঢালাওভাবে কোন শিক্ষকের অধিকার নয়। শিক্ষাছুটি কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এই ধাপের প্রথম প্রক্রিয়া শুরু হয় বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির মাধ্যমে। নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির সদস্য সংখ্যা সাতজন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মোট শিক্ষকের এক তৃতীয়াংশ। শিক্ষাছুটির বিষয়টি পরিকল্পনা কমিটিতে এসেছিল। এই কমিটির সাতজন সদস্যের মধ্যে পাচজন অর্থ্যাৎ ড. অসিত রায়, ড. শাহরিয়ার হোসেন, ড. মাফরুহা হোসেন, শায়লা তাসমীন ও মুহাম্মদ আলমগীর সভায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে তারা শিক্ষাছুটির সুপারিশ করেননি। এটা সভার সিদ্ধান্ত দেখলেই জানা যাবে। উল্টো হাস্যকর ভাবে তারা সভাপতি বা মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। নিজেদের এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে নিজেদের জন্য তারা কি শাস্তির বিধান করবেন? সেটাও দেখার ইচ্ছে করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভাগগুলোর সভাপতিগণ অতীতের মত বিভাগের প্রধান নন। কাজেই সভাপতি ইচ্ছে করলেই যা কিছু তাই করতে পারেননা। একজন সভাপতিকে সব কিছুই করতে হয় বিভিন্ন কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। একজন মুর্খও এই বিষয়টি বোঝেন। সুতরাং এখানে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবার কোনই সুযোগ নেই। এছাড়া মলয় ভৌমিকের ব্যক্তিগত আচরণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্ত: কারও অজানা নয়। তিনি অমায়িক, ভদ্র এবং মার্জিত স্বভাবের। তবে অন্যায় বা অবিযারের সাথে যিনি কখনও আপোষ করেননা।
মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ এসেছে। তিনি নাকি একাডেমিক কার্যক্রমকে স্থবির করে দিয়ে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে বিভাগকে ব্যস্ত রাখেন। ইতিপূর্বে তিনি (মলয় ভৌমিক) ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি ছিলেন। একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এনে সেশনজট দূর করায় তিনি কি ভূমিকা রেখেছেন তা ওই বিভাগের সকলেরই জানা। নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের অনেক শিক্ষকই নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। বিধি সম্মত অথবা বিধিবহির্ভূত নানা ছুটি ভোগ করেন। অনেকের বিরুদ্ধেই ক্লাশ না নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেও মলয় ভৌমিক যাওয়ার পর বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি এসেছিল।
বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির প্রায় প্রতি সভায় পাঠ দানের অগ্রগতি পর্যালোচনার রেওয়াজ তিনিই প্রথম চালু করেন। যা নথিতে সংরক্ষিত একাডেমিক কমিটির আলোচ্যসূচী দেখলে সহজেই জানা যাবে। অভিযোগের অন্য অংশটি হচ্ছে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকগণ জানেন না যে, আইন অনুযায়ী শিক্ষকদের কর্তব্য কি? শিক্ষকদের ছয়টি কর্তব্য ও দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হল শিক্ষা- আনুষঙ্গিক কার্যক্রম। এবারে দেখা যাক, মলয় ভৌমিক কি কি আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে বিভাগকে ব্যস্ত রাখতেন। আনুষঙ্গিক কার্যক্রমগুলি হল মহান স্বাধীনতা দিবস, মহান বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ ও বিশ্বনাট্য দিবস উদ্যাপন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এসব দিবস উদযাপন নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের মত একটি বিভাগের কাছ থেকে সকলেই প্রত্যাশা করে।
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগে মলয় ভৌমিক যাওয়ার আগে এসব গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপনের উদ্দ্যোগ ছিল না। তিনি এই বিভাগে যোগদানের পর একাডেমিক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সাব কমিটির মতামতের প্রেক্ষিতেই এই দিবসগুলি উদযাপনের উদ্দ্যোগ গৃহীত হয়। তবে এটা সত্য যে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীদের অনেকেই এ ধরণের উদ্দোগকে ভালো চোখে দেখেননি। যে কারণে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রায় কখনোই অংশ নেননি তারা। এমনকি তাদের কেউ কেউ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিরুর রহমান, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস সম্পর্কে কটুক্তিও করে থাকেন। এককথায় এরা স্বাধীনতাবিরোধী।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রগতিশীল শিক্ষকদের দল রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বিভাগের মাত্র দুইজন শিক্ষক ঐ দলের সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি আরও কয়েকজন শিক্ষক ভোল পাল্টে এই দলে যোগ দেয়। যা সুবিধাবাদিতার এক চরম নজির। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি আনুষঙ্গিক কাজ করার অভিযোগ যারা তোলেন তারা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ছয়দিন ধরে নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগে কি ধরনের আনুষঙ্গিক কাজে যুক্ত রেখেছিলেন ওই সুবিধাবাদীচক্র? তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
একজন শিক্ষকের প্রথম কাজ হলো শিক্ষাদান করা তিনি সভাপতিই হোন আর উপাচার্যই হোন। প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাইরে শিক্ষক হিসেবে মলয় ভৌমিক কেন কোর্স পড়াবেন- মুর্খের ন্যায় এমন প্রশ্নও তারা তুলেছেন। অথচ তাদের জানা নেই একজন শিক্ষকের কোর্স পড়ানোর চেয়ে প্রশাসনিক কাজ কখনই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব বিভাগের সভাপতি এমনকি উপাচার্য পর্যন্ত বিভাগের ক্লাশ নিয়ে থাকেন। এই জ্ঞানটুকুও যাদের নেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন কোন যোগ্যতায়? এছাড়া সিলেবাসে কোর্স রাখা না রাখা বিভাগীয় সভাপতির উপর নির্ভর করেনা। বিভাগের একাডেমিক কমিটি ও কমিটি অব কোর্সেস এন্ড স্টাডিজ-এর সভায় সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষরকারী সকল শিক্ষকই ঐ দুটি কমিটির সদস্য। সুতরাং তারা যেভাবে চান বিভাগের সিলেবাস সেভাবেই প্রণীত হয়।
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের তবলা শিক্ষকের শূণ্যতা বিষয়ে মলয় ভৌমিক উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। উপাচার্য বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী ড. অসিত রায়ের নেতত্বে সঙ্গীত শাখার শিক্ষকদের নিয়ে উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মলয় ভৌমিকই। প্রধান স্বাক্ষরকারী ড. অসিত রায় একজন শিক্ষক হয়েও এ ধরনের মিথ্যাচার কি করে করেন তা ভাবতে লজ্জা হয় আমাদের। তাছাড়া এ বিষয়ে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি থেকেও বারবার তাগাদা দিয়ে তবলা শিক্ষকের শূণ্যতা পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে এ বিষয়টিও বিভাগের নথি দেখলেই জানা যাবে।
বিভিন্ন সময়ে এই বিভাগের নানা অনিয়ম নিয়ে অনেক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সেসব তদন্তে বহু গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো- বিধি বহির্ভূতভাবে টাকা নিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করা। পরবর্তীতে তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ড. অসিত রায় বিগত জোট সরকারের আমলে ঐ বিভাগে তার স্ত্রী’র চাকুরীর ব্যাপারে নৈতিক স্খলনজনিত অন্যায়ের সাথে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়টিও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি তার একাডেমিক ডিগ্রীর ক্ষেত্রে এবং ভারত গমনের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন করেছেন। কোন ধরণের ছাড়পত্র বা এনওসি নেননি। বিধি বহির্ভূতভাবে ছাত্রদের নিয়ে উপদল পাকিয়ে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেছেন। বাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে কিভাবে কাজ করিয়ে নিয়েছেন? এসবেরও বিষদ বর্ণনা আছে তদন্ত রিপোর্টে।
বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. মাফরুহা বেগম। ২০০৩ সালে বিভাগের কাজে যোগদান না করে রেজিস্ট্রার দপ্তরে কাজে যোগদান করেছিলেন। এরপর থেকে দেড়মাস বিভাগেই যাননি তিনি। নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের তৎকালীন সভাপতি ড. সফিকুন্নবি সামাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার বরাবর যে পত্র দিয়েছিলেন তা থেকে বিষয়টি জানা যাবে। এছাড়া তিনি বিভাগের নথি থেকে গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক তথ্য সরিয়ে ফেলেছেন। তাও জানা যাবে রেজিস্ট্রার বরাবর প্রদত্ত বিভাগের সভাপতির ওই চিঠি থেকে। বিভাগীয় আরেক শিক্ষক মীর মেহবুব আলম। তিনি চাকরীতে যোগদানের পরপরই এক বছরের শিক্ষাছুটি নেন।বিভাগের কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার গবেষণা না করেই জনগণের করের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা অপচয় করেছেন। সবই জানা যাবে তার নথি খুঁজলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাংবাদিক (টেলিফোনে) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানবিরোধী শিক্ষকদের একটি গ্রুপ (উপাচার্য হতে চান এমন একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে) ও ক্ষমতাসীন দলের রাজশাহীর একজন প্রভাবশালী নেতা মলয় ভৌমিকবিরোধী আন্দোলনে সুবিধাবাদী চক্রটিকে ইন্ধন দিয়েছেন।
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছিল যে স্বপ্ন নিয়ে তা আজ ভঙ্গ হতে চলেছে। এটা বলা ভালো যে, কেবল সনদপত্র দেওয়ার জন্য এই বিভাগ খোলা হয়নি। এই বিভাগের শিক্ষা দেশ ও সমাজের কাজে লাগবে এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। অথচ এই বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষকেরই বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের সাংস্কৃতিক জগতে কোন অবদান নেই। দুর্নীতি ও সুবিধাবাজ চক্রের ষড়যন্ত্রের মুখে মলয় ভৌমিক শেষ পর্যন্ত ৬ এপ্রিল, ২০১১ সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিশবিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর তিনি যে পত্র দিয়েছেন তা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
বিশিষ্ট নাট্যকার মলয় ভৌমিক একজন পরীক্ষীত দেশপ্রেমিক শিক্ষক যিনি মুক্তি সংগ্রামের সময় অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন শত্রুর বিরুদ্ধে। ফখরুদ্দীন-মঈন উ আহমেদের সেনা শাসনামলে মলয় ভৌমিকের ওপর বর্বর নির্যাতনের কাহিনী নিচের লিকগুলিতে পাবেন।
http://www.youtube.com/watch?v=o2-q-o-OfkU
http://www.youtube.com/watch?v=cfcm9SdUVdc
http://www.youtube.com/watch?v=kz2H3o0_bXw

উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্রেও মলয় ভৌমিকের দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। মলয় ভৌমিক লিখেছেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপনি প্রগতিধারার কয়েকজন শিক্ষক নেতৃত্বকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। আমি তাঁদের আহবানে সাড়া দিয়ে বলেছি, আলোচনার আগে বিভাগের তালা খুলে দেয়া ও শিক্ষকদের বিধিবর্হিভূত কর্মকান্ড বন্ধ করা জরুরি, না হলে আইনের শাসন ভূলুষ্ঠিত হবে, এই প্রক্রিয়া রেওয়াজে পরিণত হবে এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি এই বিধিবর্হিভূত কর্মকান্ডের অংশীদার হতে পারিনা। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত ‘সুপারিশ প্রদান কমিটি’ -এর সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে আমি একই কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের তালা খোলার উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। বিধি অনুযায়ী এ ব্যাপারে কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। আমি আশা করি বিলম্বে হলেও কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। এ অবস্থায় নানা মহলের উস্কানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আমি আশংকা করছি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীল রাখার বৃহত্তর স্বার্থে নিজের বিবেকের তাড়নায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বিবেকবান সদস্যদের সাথে নিয়ে নিম্নলিখিত শর্তে আমি নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি এবং সেই সাথে আমার প্রেষণে নিয়োগ বাতিলের অনুরোধ জানাচ্ছি। শর্তসমূহঃ বিধি বর্হিভূতভাবে যেসব শিক্ষক আইন হাতে তুলে নিয়ে বিভাগে তালা লাগিয়ে অচলাব¯হার সৃষ্টি করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে এবং নেপথ্যে কোনো ইন্ধনদাতা থেকে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।ইতিপূর্বে সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি বিভাগের শিক্ষক ড. অসিত রায়সহ যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ঐ বিভাগে যেসব অনিয়ম হয়েছে তার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যব¯হা নিতে হবে। বিভাগের সকল দালিলিক নথিপত্রের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।”
কোন সমাজ বা রাষ্ট্রের সবকিছু যখন নষ্টদের-ভন্ডদের কিংবা অন্যায়কারিদের বা সুবিধাবাদিদের দখলে চলে যায়; বিচার যখন অবিচারের হাতে বন্দি হয়ে পড়ে তখন সেই সমাজ বা রাষ্ট্রের পতন অবশ্যম্ভাবী। আশাবাদি হয়েও, প্রিয় মাতৃভূমির চেহারায় মনে কোন আশার আলো জাগেনা। সৎ, সংগ্রামী ও দেশপ্রেমিকরা কি করে এই দেশে বসবাস করবেন? আমার ওই অগ্রজ সহকর্মী বন্ধুটির কাছে কি এর উত্তর আছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29361137 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29361137 2011-04-11 23:18:11
“সবকিছু সুবিধাবাদীদের দখলে : বিচার যখন অবিচারের হাতে বন্দি” বাংলাদেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ নিদারুণ কষ্ট, সংগ্রাম চালিয়ে উপরতলার মানুষদের অন্ন-আহার যোগান দেয়। আর সেই সুবিধাবাদী স্তরের মানুষগুলির ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে দেশপ্রেমিকরা ক্রমশ: অসহায় থেকে অসহায়তর অবস্থায় গিয়ে ঠেকছেন। অন্যায়-অবিচার আর অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিতে গিয়ে সংগ্রামী মানুষ অসহায়ভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ন্যায় ও ন্যায্যতার পরাজয় ঘটছে অন্যায়-অবিচারের কাছে। তথাকথিত প্রগতিশীল শ্রেণীও সুযোগসন্ধানী সুবিধাবাদী শ্রেণীর হাতে নিজেদেরকে জিম্মি করে রাখছে। দেশপ্রেমিকদের রক্ষায় রাষ্ট্র-সমাজ, সুশিল সমাজ কেউই এগিয়ে আসছে না। “বিচার অবিচারের হাতে বন্দি। ন্যায় আর ন্যায্যতা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সুবিধাবাদীদের হাতে জিম্মি।”
বাংলাদেশের সবকিছুই যেন নষ্ট, ভন্ড, প্রতারক, বেঈমান, সুবিধাবাদী, দালালদের হাতে চলে গেছে। প্রিয় লেখক হুমায়ূন আজাদ অনেক আগেই এসব কথা লিখে গেছেন। জঙ্গি, মোল্লা ও ধর্মব্যবসায়ীদের সশস্ত্র হামলায় এই প্রধাবিরোধী লেখককে জীবন দিতে হয়েছে। কোন বিচার পাননি এই গুণি শিক্ষকের পরিবার। দেশপ্রেমিক সাংবাদিক মানিক সাহা, শামসুর রহমান কেবল, দীপংকর চক্রবর্ত্তী, গৌতম সাহা, হুমায়ূন কবির বালু হত্যার বিচার হয়নি আজও। জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে র‌্যাব-ডিজিএফআইয়ের নির্যাতনের নির্মম কাহিনী তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা আবদুল জলিলসহ অনেকে। সরকার এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত একটি তদন্ত কমিটিও গান করেনি।
ধর্ম ব্যবসায়ী আমিনীর দল অবুঝ ছেলেদের হাতে কোরান তুলে দিয়েছেন মানুষ মারার জিহাদে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য। জঙ্গিগোষ্ঠী আবারও দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে গোয়েন্দাসূত্র রিপোর্ট দিয়েছে। বাংলা ভাই, শায়খ রহমান কিংবা জামায়াত-শিবিরের সমর্থকরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চাকরি পায়। আর সুবিধাবাদী-ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর অবিচারের শিকার মানুষগুলি বিচার পাবার আশায় দিন গুনে। বাংলা ভাইকে সমর্থনকারী এক সাংবাদিক এখন জার্মানির একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সম্পাদক। যিনি সম্প্রতি তার এক আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধার কাহিনীর প্রতিবেদন করে প্রগতিশীলদের বাহবা কড়াতে চাইছে।
তথাকথিত এলিটফোর্স র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব দরিদ্র বাবা-মায়ের কলেজপড়–য়া সন্তান লিমনকে পঙ্গু করে দিল। বিনা কারণে তাকে গুলি করার পর র‌্যাব কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে আনন্দ প্রকাশ করেছে। অমানুষ ওই কর্মকর্তারা বলেছে, 'ছেলেটি মারা যায়নি তাতেই আমরা খুশি। অতবড় একটা বন্দুকযুদ্ধে যে কেউ মারা যেতে পারতো।' এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত আট হাজারের অধিক মানুষ মারা গেছে (গুপ্ত হত্যা, অপহরণসহ)। আহত ও পঙ্গু হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। কাপুরুষ বেকুবের দল, গোটা দেশের জন্য এক বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। অথচ সরকার যেন ঠুঁটো জগন্নাথ। তাদের যেন কিছুই করার নেই এই মানবাধিকার লংঘণকারিদের দমন করার বিষয়ে। হায় আমার সোনার বাংলা!
নারী নির্যাতন, যৌন হয়রাণি বা ইভটিজিং এক সামাজিক সংকট তৈরী করেছে সেখানে। আর্মির মেজর আখতার শিপলু ও তার স্ত্রী নিপার নিষ্ঠুরতার শিকার শিশু হাসিনা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ১১ বছরের এই শিশুর পিঠে গরম খন্তির ছ্যাকায় দগদগে ঘার সৃষ্টি করেছে। এই বর্বরতা-নৃশংসতা ক্ষমতাধর ওই স্বামী-স্ত্রীর মনে কি এতটুকুও সহানুভূতি জাগায়নি। একই অবস্থা যদি তাদের শিশুর ওপর কেউ ঘটাতো? কোন পশুর পক্ষেও হয়ত এভাবে কাউকে আক্রমণ করা সম্ভব নয়। যেটা করেছে এই দম্পতি নরপশু। কে করবে তাদের বিচার? আমাদের অথর্ব এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছে, 'ঘটনাটি অমানবিক। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো।' সূত্র-দৈনিক আমার দেশ, ১০ এপ্রিল, ২০১১। এতবড় একটা নিষ্ঠুর ঘটনার পর পুলিশেরই উচিত স্বতপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু সেটাতো আর সম্ভব নয় অবিচারের এই দেশে।
একটা পুরো রাষ্ট্র, সমাজ যখন অবিচারে ভরে যায় তখন সেই রাষ্ট্র বা সমাজে মানুষ কতটুকু নিরাপদ? এই প্রশ্নের কি জবাব দেবেন আমার ওই বিখ্যাত সাংবাদিক বন্ধু, আমি জানি না। একটা হ-য-ব-র-ল সমাজে দেশপ্রেমের তাড়নায় উদ্বুদ্ধ কিছু মানুষ ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করে। এই মানুষগুলি তখন সুবিধাবাদী-নষ্টদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমনই একটি ঘটনার কাহিনী তুলে ধরতে চাই। ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রিয় মাতৃভূমিতে দেশপ্রেমিক বা সংগ্রামী মানুষেরা দুর্বিষহ অসহায় অবস্থায় আছে। তারই একটি জলন্ত প্রমাণ হতে পারে রাজশাহীর ওই ঘটনা। একটি সংঘবদ্ধ সুবিধাবাদী চক্রের রোষানলে পড়ে কিভাবে একজন দেশপ্রেমিক শিক্ষককে একটি বিভাগীয় সভাপতির পদ থেকে সরে দাড়াতে হলো? আপনাদের সেই গল্প শোনাই এবার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের সদ্য পদত্যাগী সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মলয় ভৌমিক। যিনি প্রায় তিন দশক ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। দীর্ঘ ২২ বছর দেশের প্রগতিশীল বাংলা জাতীয় দৈনিক 'সংবাদ' এ সাংবাদিকতা করেছেনে। প্রায় চার দশক যাবত যিনি দেশের নাট্যচর্চা তথা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। জীবনভর সংগ্রামী এই মানুষটি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বহু নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কখনও অন্যায়-অবিচারের কাছে মাথানত বা আপোষ করেননি। প্রগতিশীল নামধারী শিক্ষক সমাজ, প্রশাসন ও সরকার যখন ক্ষমতাসীন তখন এই মহান শিক্ষককে নষ্টদের কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে হলো। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে কেন এই আন্দোলন তার নেপথ্যের কথাগুলো সচেতন-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সম্মুখে তুলে ধরা কর্তব্য মনে করি।
মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে শিক্ষক-ছাত্রদের আন্দোলন চলছে। এ বিষয়ে একটি নোট পড়ি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে। যা লিখেছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের একজন তরুণ শিক্ষিকা। এরপর থেকেই অনুসন্ধান করতে থাকি বিষয়টি নিয়ে। যদিও নোটের লেখিকা নিজেই শিক্ষার্থীদের ক্লাশে ফাঁকি দেন নিয়মিত। না, এটা আমার কথা নয়। ফোকলোর বিভাগের দু'একজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেই জানতে পারলাম ওই শিক্ষকের অনৈতিক এই কাহিনী। এই শিক্ষিকার অভিযোগ মলয় ভৌমিক নাকি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন। স্বাধীনতা মানে নীতিহীনতা নয়। স্বাধীনতা মানে নয় ছাত্র-ছাত্রীদের ফাঁকি দেয়া। এই কথাগুলি বুললে চলবে না ম্যাডাম। যাহোক, মলয় ভৌমিকবিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যের কাহিনী তুলে ধরলেই এক বিরাট ষড়যন্ত্র ও সুবিধাবাদী চিত্র ফুটে উঠবে। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা দেশে জুড়েই এই ষড়যন্ত্র, সুবিধাবাদী, অনৈতিক কর্মকান্ডের জাল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগ খোলার দাবি দীর্র্ঘদিনের। সাংস্কৃতিক জোট ও প্রগতিমনা শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই এই বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভাগের শিক্ষকদের পারস্পরিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরপর দু'টি কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। যে কমিটি বিভাগে নানা অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ড শনাক্ত করে। বিভাগের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে কমিটি একটি সুপারিশমালা দেয়। সেই সুপারিশে বলা হয়, অন্য বিভাগ থেকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক এনে এই বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা। সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মলয় ভৌমিককে প্রেষণে নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিযোগ দেয় সিন্ডিকেট।
এরই প্রেক্ষিতে মলয় ভৌমিক ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর প্রথমে শিক্ষক হিসেবে এবং ৮ নভেম্বর সবঅপতি হিসেবে যোগ দেন। এই বিভাগে প্রেষণে যোগদানের আগে সরকারের তরফ থেকে তিনি আরও বড় পদ ও পদবীর অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা গস্খহণ করেননি। তবে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার প্রতি বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে তাঁর। আর সেই কারণেই মলয় ভৌমিক নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের ভেতরকার সমস্যা সমাধানের মানস আকাঙ্খা নিয়েই সেখানে যোগদান করেন।
সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম দূর করার ক্ষেত্রে এবং বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন তিনি। বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরে আসছিল এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছিল। এমনই অবস্থায় আকস্মিকভাবে বিভাগের কতিপয় শিক্ষক তথা দুর্নীতিবাজচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারই অংশ হিসেবে গত ৩১ মার্চ ২০১১ তারিখে বিভাগের অফিস থেকে কর্মচারীদের বের করে দিয়ে ঐ বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষকদের দ্বারা আইন হাতে তুলে নেওয়ার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। যা সম্পূর্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিধির পরিপন্থি। হঠাৎ করে শিক্ষকদের এ ক্ষোভের কারণ কি? আইন হাতে তুলে নেবার পর তাঁরা সভাপতির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করলেন। মলয় ভৌমিক এই বিভাগে যোগদানের কয়েকদিন আগে বিভাগের ছাত্ররা নাট্যকলার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ এনেছিল। ওই অভিযোগে তারা সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তখন বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ও তৎকালীন কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর মোঃ শাফী। তিনি একাডেমিক কমিটির সভায় এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যগণ তদন্ত রিপোর্টে ছাত্রদের আইন হাতে তুলে নিয়ে বিভাগে তালা লাগানোর ঘটনাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। ওই একই শিক্ষকরা মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগে স্বাক্ষরকারিও বটে। ৩১ মার্চ তদন্ত কমিটির ওই সদস্যগণই আইন হাতে তুলে নিয়ে বিভাগের কক্ষে তালা ঝুলালেন। তারা অবশ্য ছাত্র নন। তদন্ত কমিটির ওই শিক্ষকগণ এখন নিজেদের বিরুদ্ধে কি শাস্তির সুপারিশ করবেন? আমরা এটা দেখার অপেক্ষায় আছি।
খ্যতিমান কলামিষ্ট, নাট্যকার মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলির কোনটাই সুনির্দিষ্ট ও তথ্যবহুল নয়। আবার অনেকগুলিই স্ববিরোধী এবং সর্বোপরি এসব অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষকগণ কোন প্রকার তদন্ত দাবি করেন নি। হয়ত এটা ভেবে যে, তদন্ত হলে তাদেরই সমস্যা হতে পারে? অর্থাৎ অভিযোগগুলি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রসূত।
এখন বিভাগের অভ্যন্তরীণ কিছু অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ডের কেচ্ছা তুলে ধরতে চাই। ২০০৮ সালের এম.এ. (নাট্যকলা) পরীক্ষায় অনিয়মের কথা স্বীকার করে অভিযোগ পত্রে পরীক্ষা কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যগণ স্বাক্ষর করেছেন। ওই পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলেন কাজী শুসমিন আফসানা। কমিটির সদস্যগণ হলেন ড. শাহরিয়ার হোসেন, ড. ফারুক হোসাইন ও আবদুল হালিম প্রামানিক। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ওই কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরেই। গোপনীয়তার স্বার্থেই পরীক্ষা কমিটির সাথে বিধি অনুযায়ী একাডেমিক কমিটি বা অন্য কোন শিক্ষকের কোন ধরনের সংশ্রব থাকার কথা নয়। সুতরাং এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ পরীক্ষা কমিটির। পরীক্ষা কমিটির সদস্যগণ নিজেরা প্রকাশ্যে তাঁদের অনিয়মের দায় স্বীকার করে নিজেদের প্রতি এখন কি শাস্তির বিধান দেবেন? সেটাও দেখার অপেক্ষা করছি আমরা। উল্লেখ্য যে, মলয় ভৌমিক এই পরীক্ষা কমিটির সদস্য নন। এমনকি ওই বর্ষের ছাত্রদের কোন কোর্সও তিনি পড়াননি। বিভাগের নথিপত্র দেখলেই যার প্রমাণ পাওয়া যাবে।
২০০৯ সালের এম.এ. পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনার ক্ষেত্রেও মলয় ভৌমিকের ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে একজন সদস্যকে পরীক্ষা কমিটির সভার কথা অবহিতই করা হয়নি। অথচ উক্ত সদস্য ছুটি নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে দীর্ঘ সময় পরে বিভাগে ফিরে আসেন। যা তিনি হর হামেশাই করে থাকেন। শিক্ষার্থদের স্বার্থে ওই একজন শিক্ষকের জন্য বসে থাকার কোন উপায় আছে কি? অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা কমিটির সদস্য চারজন। কোরাম হয় দুই জনে। উক্ত কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনজন সদস্য। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল পরীক্ষা এগিয়ে আনার। গ্রীস্মকালীন ছুটি শুরু হতে দেরী নেই। এ অবস্থায় পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনাটাই ছিল যুক্তিযুক্ত। পরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত তিনজনের মধ্যে দুইজনই পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনার পক্ষে মত দেন, যা গণতান্ত্রিক রীতি এবং আইনসিদ্ধ। এছাড়া পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয় একাডেমিক কমিটির সভায়। ৩ এপ্রিল, ২০১১ আহুত একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচ্যসূচীভূক্ত করা হয়েছিল। এখানেও পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। কিন্তু এ সুযোগ গ্রহণ না করে উপস্থিত তিনজনের মধ্যে একজন সদস্য এই অভিযোগ কেন তুললেন? এ ব্যপারে পরিস্কার করে আর কিছু বলার দরকার আছে কি?
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের পাঁচজন শিক্ষকের “অধিকারভূক্ত” শিক্ষাছুটি মলয় ভৌমিকের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা বলে নেয়া ভালো যে, শিক্ষাছুটি ঢালাওভাবে কোন শিক্ষকের অধিকার নয়। শিক্ষাছুটি কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এই ধাপের প্রথম প্রক্রিয়া শুরু হয় বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির মাধ্যমে। নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির সদস্য সংখ্যা সাতজন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মোট শিক্ষকের এক তৃতীয়াংশ। শিক্ষাছুটির বিষয়টি পরিকল্পনা কমিটিতে এসেছিল। এই কমিটির সাতজন সদস্যের মধ্যে পাচজন অর্থ্যাৎ ড. অসিত রায়, ড. শাহরিয়ার হোসেন, ড. মাফরুহা হোসেন, শায়লা তাসমীন ও মুহাম্মদ আলমগীর সভায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে তারা শিক্ষাছুটির সুপারিশ করেননি। এটা সভার সিদ্ধান্ত দেখলেই জানা যাবে। উল্টো হাস্যকর ভাবে তারা সভাপতি বা মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। নিজেদের এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে নিজেদের জন্য তারা কি শাস্তির বিধান করবেন? সেটাও দেখার ইচ্ছে করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভাগগুলোর সভাপতিগণ অতীতের মত বিভাগের প্রধান নন। কাজেই সভাপতি ইচ্ছে করলেই যা কিছু তাই করতে পারেননা। একজন সভাপতিকে সব কিছুই করতে হয় বিভিন্ন কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। একজন মুর্খও এই বিষয়টি বোঝেন। সুতরাং এখানে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবার কোনই সুযোগ নেই। এছাড়া মলয় ভৌমিকের ব্যক্তিগত আচরণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্ত: কারও অজানা নয়। তিনি অমায়িক, ভদ্র এবং মার্জিত স্বভাবের। তবে অন্যায় বা অবিযারের সাথে যিনি কখনও আপোষ করেননা।
মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ এসেছে। তিনি নাকি একাডেমিক কার্যক্রমকে স্থবির করে দিয়ে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে বিভাগকে ব্যস্ত রাখেন। ইতিপূর্বে তিনি (মলয় ভৌমিক) ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি ছিলেন। একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এনে সেশনজট দূর করায় তিনি কি ভূমিকা রেখেছেন তা ওই বিভাগের সকলেরই জানা। নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের অনেক শিক্ষকই নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। বিধি সম্মত অথবা বিধিবহির্ভূত নানা ছুটি ভোগ করেন। অনেকের বিরুদ্ধেই ক্লাশ না নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেও মলয় ভৌমিক যাওয়ার পর বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি এসেছিল।
বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির প্রায় প্রতি সভায় পাঠ দানের অগ্রগতি পর্যালোচনার রেওয়াজ তিনিই প্রথম চালু করেন। যা নথিতে সংরক্ষিত একাডেমিক কমিটির আলোচ্যসূচী দেখলে সহজেই জানা যাবে। অভিযোগের অন্য অংশটি হচ্ছে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকগণ জানেন না যে, আইন অনুযায়ী শিক্ষকদের কর্তব্য কি? শিক্ষকদের ছয়টি কর্তব্য ও দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হল শিক্ষা- আনুষঙ্গিক কার্যক্রম। এবারে দেখা যাক, মলয় ভৌমিক কি কি আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে বিভাগকে ব্যস্ত রাখতেন। আনুষঙ্গিক কার্যক্রমগুলি হল মহান স্বাধীনতা দিবস, মহান বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ ও বিশ্বনাট্য দিবস উদ্যাপন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এসব দিবস উদযাপন নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের মত একটি বিভাগের কাছ থেকে সকলেই প্রত্যাশা করে।
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগে মলয় ভৌমিক যাওয়ার আগে এসব গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপনের উদ্দ্যোগ ছিল না। তিনি এই বিভাগে যোগদানের পর একাডেমিক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সাব কমিটির মতামতের প্রেক্ষিতেই এই দিবসগুলি উদযাপনের উদ্দ্যোগ গৃহীত হয়। তবে এটা সত্য যে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীদের অনেকেই এ ধরণের উদ্দোগকে ভালো চোখে দেখেননি। যে কারণে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রায় কখনোই অংশ নেননি তারা। এমনকি তাদের কেউ কেউ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিরুর রহমান, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস সম্পর্কে কটুক্তিও করে থাকেন। এককথায় এরা স্বাধীনতাবিরোধী।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রগতিশীল শিক্ষকদের দল রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বিভাগের মাত্র দুইজন শিক্ষক ঐ দলের সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি আরও কয়েকজন শিক্ষক ভোল পাল্টে এই দলে যোগ দেয়। যা সুবিধাবাদিতার এক চরম নজির। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি আনুষঙ্গিক কাজ করার অভিযোগ যারা তোলেন তারা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ছয়দিন ধরে নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগে কি ধরনের আনুষঙ্গিক কাজে যুক্ত রেখেছিলেন ওই সুবিধাবাদীচক্র? তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
একজন শিক্ষকের প্রথম কাজ হলো শিক্ষাদান করা তিনি সভাপতিই হোন আর উপাচার্যই হোন। প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাইরে শিক্ষক হিসেবে মলয় ভৌমিক কেন কোর্স পড়াবেন- মুর্খের ন্যায় এমন প্রশ্নও তারা তুলেছেন। অথচ তাদের জানা নেই একজন শিক্ষকের কোর্স পড়ানোর চেয়ে প্রশাসনিক কাজ কখনই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব বিভাগের সভাপতি এমনকি উপাচার্য পর্যন্ত বিভাগের ক্লাশ নিয়ে থাকেন। এই জ্ঞানটুকুও যাদের নেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন কোন যোগ্যতায়? এছাড়া সিলেবাসে কোর্স রাখা না রাখা বিভাগীয় সভাপতির উপর নির্ভর করেনা। বিভাগের একাডেমিক কমিটি ও কমিটি অব কোর্সেস এন্ড স্টাডিজ-এর সভায় সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়। মলয় ভৌমিকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষরকারী সকল শিক্ষকই ঐ দুটি কমিটির সদস্য। সুতরাং তারা যেভাবে চান বিভাগের সিলেবাস সেভাবেই প্রণীত হয়।
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের তবলা শিক্ষকের শূণ্যতা বিষয়ে মলয় ভৌমিক উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। উপাচার্য বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী ড. অসিত রায়ের নেতত্বে সঙ্গীত শাখার শিক্ষকদের নিয়ে উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মলয় ভৌমিকই। প্রধান স্বাক্ষরকারী ড. অসিত রায় একজন শিক্ষক হয়েও এ ধরনের মিথ্যাচার কি করে করেন তা ভাবতে লজ্জা হয় আমাদের। তাছাড়া এ বিষয়ে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি থেকেও বারবার তাগাদা দিয়ে তবলা শিক্ষকের শূণ্যতা পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে এ বিষয়টিও বিভাগের নথি দেখলেই জানা যাবে।
বিভিন্ন সময়ে এই বিভাগের নানা অনিয়ম নিয়ে অনেক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সেসব তদন্তে বহু গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো- বিধি বহির্ভূতভাবে টাকা নিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করা। পরবর্তীতে তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ড. অসিত রায় বিগত জোট সরকারের আমলে ঐ বিভাগে তার স্ত্রী’র চাকুরীর ব্যাপারে নৈতিক স্খলনজনিত অন্যায়ের সাথে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়টিও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি তার একাডেমিক ডিগ্রীর ক্ষেত্রে এবং ভারত গমনের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন করেছেন। কোন ধরণের ছাড়পত্র বা এনওসি নেননি। বিধি বহির্ভূতভাবে ছাত্রদের নিয়ে উপদল পাকিয়ে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেছেন। বাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে কিভাবে কাজ করিয়ে নিয়েছেন? এসবেরও বিষদ বর্ণনা আছে তদন্ত রিপোর্টে।
বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. মাফরুহা বেগম। ২০০৩ সালে বিভাগের কাজে যোগদান না করে রেজিস্ট্রার দপ্তরে কাজে যোগদান করেছিলেন। এরপর থেকে দেড়মাস বিভাগেই যাননি তিনি। নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের তৎকালীন সভাপতি ড. সফিকুন্নবি সামাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার বরাবর যে পত্র দিয়েছিলেন তা থেকে বিষয়টি জানা যাবে। এছাড়া তিনি বিভাগের নথি থেকে গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক তথ্য সরিয়ে ফেলেছেন। তাও জানা যাবে রেজিস্ট্রার বরাবর প্রদত্ত বিভাগের সভাপতির ওই চিঠি থেকে। বিভাগীয় আরেক শিক্ষক মীর মেহবুব আলম। তিনি চাকরীতে যোগদানের পরপরই এক বছরের শিক্ষাছুটি নেন।বিভাগের কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার গবেষণা না করেই জনগণের করের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা অপচয় করেছেন। সবই জানা যাবে তার নথি খুঁজলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাংবাদিক (টেলিফোনে) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানবিরোধী শিক্ষকদের একটি গ্রুপ (উপাচার্য হতে চান এমন একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে) ও ক্ষমতাসীন দলের রাজশাহীর একজন প্রভাবশালী নেতা মলয় ভৌমিকবিরোধী আন্দোলনে সুবিধাবাদী চক্রটিকে ইন্ধন দিয়েছেন।
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছিল যে স্বপ্ন নিয়ে তা আজ ভঙ্গ হতে চলেছে। এটা বলা ভালো যে, কেবল সনদপত্র দেওয়ার জন্য এই বিভাগ খোলা হয়নি। এই বিভাগের শিক্ষা দেশ ও সমাজের কাজে লাগবে এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। অথচ এই বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষকেরই বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের সাংস্কৃতিক জগতে কোন অবদান নেই। দুর্নীতি ও সুবিধাবাজ চক্রের ষড়যন্ত্রের মুখে মলয় ভৌমিক শেষ পর্যন্ত ৬ এপ্রিল, ২০১১ সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিশবিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর তিনি যে পত্র দিয়েছেন তা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
বিশিষ্ট নাট্যকার মলয় ভৌমিক একজন পরীক্ষীত দেশপ্রেমিক শিক্ষক যিনি মুক্তি সংগ্রামের সময় অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন শত্রুর বিরুদ্ধে। ফখরুদ্দীন-মঈন উ আহমেদের সেনা শাসনামলে মলয় ভৌমিকের ওপর বর্বর নির্যাতনের কাহিনী নিচের লিকগুলিতে পাবেন।
http://www.youtube.com/watch?v=o2-q-o-OfkU
http://www.youtube.com/watch?v=cfcm9SdUVdc
http://www.youtube.com/watch?v=kz2H3o0_bXw

উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্রেও মলয় ভৌমিকের দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। মলয় ভৌমিক লিখেছেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপনি প্রগতিধারার কয়েকজন শিক্ষক নেতৃত্বকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। আমি তাঁদের আহবানে সাড়া দিয়ে বলেছি, আলোচনার আগে বিভাগের তালা খুলে দেয়া ও শিক্ষকদের বিধিবর্হিভূত কর্মকান্ড বন্ধ করা জরুরি, না হলে আইনের শাসন ভূলুষ্ঠিত হবে, এই প্রক্রিয়া রেওয়াজে পরিণত হবে এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি এই বিধিবর্হিভূত কর্মকান্ডের অংশীদার হতে পারিনা। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত ‘সুপারিশ প্রদান কমিটি’ -এর সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে আমি একই কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের তালা খোলার উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। বিধি অনুযায়ী এ ব্যাপারে কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। আমি আশা করি বিলম্বে হলেও কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। এ অবস্থায় নানা মহলের উস্কানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আমি আশংকা করছি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীল রাখার বৃহত্তর স্বার্থে নিজের বিবেকের তাড়নায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বিবেকবান সদস্যদের সাথে নিয়ে নিম্নলিখিত শর্তে আমি নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি এবং সেই সাথে আমার প্রেষণে নিয়োগ বাতিলের অনুরোধ জানাচ্ছি। শর্তসমূহঃ বিধি বর্হিভূতভাবে যেসব শিক্ষক আইন হাতে তুলে নিয়ে বিভাগে তালা লাগিয়ে অচলাব¯হার সৃষ্টি করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে এবং নেপথ্যে কোনো ইন্ধনদাতা থেকে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।ইতিপূর্বে সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি বিভাগের শিক্ষক ড. অসিত রায়সহ যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ঐ বিভাগে যেসব অনিয়ম হয়েছে তার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যব¯হা নিতে হবে। বিভাগের সকল দালিলিক নথিপত্রের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।”
কোন সমাজ বা রাষ্ট্রের সবকিছু যখন নষ্টদের-ভন্ডদের কিংবা অন্যায়কারিদের বা সুবিধাবাদিদের দখলে চলে যায়; বিচার যখন অবিচারের হাতে বন্দি হয়ে পড়ে তখন সেই সমাজ বা রাষ্ট্রের পতন অবশ্যম্ভাবী। আশাবাদি হয়েও, প্রিয় মাতৃভূমির চেহারায় মনে কোন আশার আলো জাগেনা। সৎ, সংগ্রামী ও দেশপ্রেমিকরা কি করে এই দেশে বসবাস করবেন? আমার ওই অগ্রজ সহকর্মী বন্ধুটির কাছে কি এর উত্তর আছে?
http://www.youtube.com/watch?v=o2-q-o-OfkU
http://www.youtube.com/watch?v=cfcm9SdUVdc
http://www.youtube.com/watch?v=kz2H3o0_bXw
লেখক: মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র 'ইউরো বাংলা (http://www.eurobangla.org/)'র সম্পাদক ( )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29360472 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29360472 2011-04-10 20:48:02
ঢাকার একুশে বইমেলায় পাবেন "শান্তির জন্য সংগ্রাম" ঢাকার একুশে বইমেলায় নির্বাসিত সাংবাদিক আকাশের বই
ইউরোপে নির্বাসিত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশের লেখা বই বেরিয়েছে ঢাকায় অমর একুশে বইমেলায়। "শান্তির জন্য সংগ্রাম" (Struggle for Peace) ও "জন্মভূমি থেকে দূরে " (Away from Home) বই দু'টি প্রকাশ করেছে আদর্শ প্রকাশনি। বইমেলার ২৯২ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ঘটনা ও তথ্যনির্ভর এই বই দু'টি। জাহাঙ্গীর আলম আকাশ রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য ছিলেন।
মানবাধিকার, শান্তি, গণতন্ত্র, জঙ্গিবাদ, পিলখানার গণহত্যা, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন, উদীচী-ছায়ানটের অনুষ্ঠান, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা এবং আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলাসহ বাংলা ভাই অধ্যায়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, ধর্মীয় সংখ্যালঘু-আদিবাসী নির্যাতন প্রভৃতি স্পর্শকাতর বিষয় স্থান পেয়েছে সাংবাদিক আকাশের লেখায়। এছাড়া রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের যাতাকলে পড়ে লেখক বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে কিভাবে মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হলেন তার বর্ণনা। বইগুলিতে আরও আছে
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা, জরুরি অবস্থা, কারা অভ্যন্তরের দুর্নীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে সাংবাদিক আকাশের মন্তব্যধর্মী বিভিনড়ব প্রবন্ধ।
এদিকে আমেরিকার Xlibris পাবলিকেশনস থেকে প্রকাশ হয়েছে আরও একটি বই। "ব্যথা" (PAIN) নামের এই বইটি এ্যামাজনের অনলাইনে পাওয়া যাবে (Click This Link)। বইগুলি ইংরেজী ভাষার।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ১৯৮৯ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। তিনি বিভিনড়ব সময়ে দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বাংলা, বাংলার বাণী, আজকের কাগজ, একুশে টেলিভিশন, সিএসবি নিউজ, নিউনেশন, দি এডিটর এর রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জার্মান বেতার ডয়েচেভেলের ফ্রি-ল্যান্স সংবাদদাতা হিসেবে দীর্ঘ চার বছর কাজ করেন বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে। আকাশ দর্শন বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি ও জনসাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০০৯ সাল থেকে তিনি ইউরোপে সপরিবারে (স্ত্রী ও পুত্রসহ) বসবাস করছেন। জাহাঙ্গীর আলম আকাশ বর্তমানে মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র ইউরো বাংলা'র (http://www.eurobangla.org/) সম্পাদক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29319270 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29319270 2011-02-02 23:25:41
বিচারপতি কে এম সেবহান ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ বিচারপতি কাজী মেহবুব সোবহান। যিনি কে এম সোবহান নামে সমধিক পরিচিত। স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা, যুদ্ধাপরাধ ও মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনের এক মহান নেতা। সংগ্রামী, আপোষহীন, স্বাধীন এক মানুষ ছিলেন তিনি। সৎ, সাহসী মহান মানবতাবাদী নেতার নাম বিচারপতি কে এম সোবহান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন তিনি। সততা ও নীতির কাছে তিনি ছিলেন সর্বদাই বিজয়ী। তাইতো দুর্নীতির শিরোমণি, স্বৈরাচার এরশাদ আমলে তিনি বিচারপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছিলেন। কিন্তু সমাজে, রাষ্ট্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই থেকে তিনি পিছপা হননি কখনও।
২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই মানুষটি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ফর ট্রমা ভিক্টিমস বা বিআরসিটিতে আমি তখন চিকিৎসারত। র‌্যাবের নির্যাতনের ফলে আমার যে শারীরীরক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছিল তা পুলিয়ে নিতেই এই চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। বিআরসিটি কার্যালয়ে সন্ধ্যায় খবর এলো বিচারপতি সেবহান মারা গেছেন। প্রত্যেহ বিকেলে তিনি রমনা পার্কে হাঁটতে যেতেন। সেদিনও তিনি প্রতিদিনের ন্যায় রমনা পার্কে গিয়েছিলেন হাঁটতে। হঠাৎ তিনি অসুস্থ্যবোধ করেন। এরপরই তাঁকে বারডেম হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। সংবাদ সম্পাদক বজলুর রহমান, কলামিষ্ট মোনায়েম সরকার, প্রাক্তন স্পীকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দীন সরকারসহ আরও অনেকে বিকেলে হ্টাতেন একইসাথে। হাঁটা শেষে সবাই মিলে জমাতেন মজার আড্ডা। প্রিয় বজলুর রহমানও আজ আর বেঁচে নেই। শ্রদ্ধেয় বজলু ভাইও বিচারপতি সেবহানের পথ ধরে দু'মাস পর ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চলে গেছেন অনন্তকালের জন্য। হয়ত রমনা পার্কের সেই হাঁটা আর আড্ডাও জমে না আগের মতো। বিচারপতি সোবহানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ৩১ ডিসেম্বর। তিনি জীবনভর জনগণের পক্ষে, দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ এক অবদান রেখেছেন। স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা ও যুদ্ধাপরাধীবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম সাহসী সংগঠক ছিলেন তিনি।
বিচারপতি সোবহানের মৃত্যুর পর সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই মহৎপ্রাণ মানুষটি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫২ সালে ব্যারিস্টার এট 'ল' ডিগ্রিপ্র্প্তা হন লিনকনস ইন থেকে। ঢাকা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন ১৯৫৬ সালে। একই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন ১৯৭১ সালে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর নিরাপদ কারাগারে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চার সহযোগি জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় তৎকালিন বিচারপতি সায়েম-জেনারেল জিয়া সরকার একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। সেই কমিশনের প্রধান করা হয়েছিল বিচারপতি সোবহানকে। যদিও সেই সরকার তদন্ত কমিশনকে কাজ করতে দেয়নি। কারণ সরকার ভালো করেই জানতো যে, বিচারপতি সোনবহানের মতো দক্ষ, ন্যায়পরায়ণ এবং সৎ মানুষ ঠিকই চার নেতা খুনের আসল রহস্য বের করে আনতেন। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট কলামিষ্ট মোনায়েম সরকার লিখেছেন, ৃসরকার জানত, তদন্ত কমিশনকে কাজ করতে দিলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে। বিচারপতি কে এম সোবহান এমন ধাতুতে গড়া যে, সামরিক সরকারের রক্তচক্ষুও তাকে সত্যের পথ থেকে একচুল নড়াতে পারবে না। কাজেই আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন বাতিল না করে জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্য এর কার্যকারিতা বাধাগ্রন্ত করে রাখা হয়েছিল। জনাব সোবহান এমন একটি দায়িত্ব পেয়েও সরকারের অসহযোগিতায় কাজ করতে না পারায় সারাজীবন মনোবেদনায় ভুগেছেন এবং এই কষ্টের কথা বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী মহলে বারবার প্রকাশ করে গেছেন।“
বিচারপতি সোবহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা সিটি ল কলেজের খন্ডকালিন শিক্ষক ছিলেন ১৯৫৬-১৯৭১ সাল পর্যন্ত। তিনি সিটি ল কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন একজন। ১৯৮০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে। এরপর ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রাগ ও বার্লিনে ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। ১৯৮২ সালের ১ জুনে তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের দ্বিতীয় জনক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জরুরিভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনেন। এবং একই বছরের ১৫ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতির পদ থেকে অপসারণ করেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯০ সালে ইতালীর রোমে স্থায়ী পিপলস ট্রাইব্যুনালের অন্যতম সদস্য হিসেবে ভূপাল গ্যাস মামলার রায় প্রদান করেন। একই ট্রাইব্যুনালের সদস্য হয়ে তিনি বিচার করেন ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে এজেন্ট এবং গ্যাস প্রয়োগের।
বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা অজয় রায় লিখেছেন, "বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতাসীন হন তখন অনেকেই এরশাদ আমলে তাঁর (বিচারপতি সোবহান) ওপর যে অবিচার করা হয়েছে তা তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো এবং তাঁকে পুনর্বহাল করা। কিন্তু বিচারপতি সোবহান সুহৃদদের সেই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।" বিচারপতি সোবহান জীবনে কোন অন্যায়ের কাছে মাথানত কিংবা ব্যক্তিগত কোন আবদার নিয়ে কারও কাছে নিজের আত্মমর্যাদা বিলীন হতে দেননি। শ্রদ্ধেয় অজয় রায়ের লেখা তারই প্রমাণ দেয়। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ভুটান রিফিউজি সংকট তদন্তে গঠিত আন্তর্জাতিক পিপলস তদন্ত কমিশনের সদস্য, কম্বোডিয়া ও নেপালের সংবিধান প্রণয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিটিসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য ছিলেন। শ্রীলংকা, নেপাল ও পাকিস্তানের বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর্যবেক্ষক ছিলেন বিচারপতি সোবহান। কম্বোডিয়ায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অধীনে আইন ও বিচার বিষয়ক কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৫-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। তিনি ১৯৯৭ সালে ভিয়েতনাম আইন ও বিচার বিভাগের স্বল্পকালীন পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।
দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু তাঁকে মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের পুনর্বাসন প্রকল্পের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছিলেন। বিচারপতি সোবহান ছিলেন মৌলবাদবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনী পরিষদের সহ-সভাপতি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণ আদালতের অন্যতম একজন বিচারক ছিলেন তিনি। সেই আদালত গোলাম আজমসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আদেশ দিয়েছিল। এজন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বরেণ্য ব্যক্তিদের নামে তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছিল। বিচারপতি সোবহান ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান রাইটস বা বিআইএইচআর'র চেয়ারম্যান। বিআইএইচআরের আঞ্চলিক সমন্বয়কারি হিসেবে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে ২০০১ সালে। ২০০১ এর ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট গোটা দেশজুড়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও সেই হত্যা-নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে থাকে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দলীয় ক্যডারদের হাতে কিশোরী মহিমা গণধর্ষণের কারণে আত্মহননের ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমি তখন দৈনিক সংবাদ এর রাজশাহীস্থ স্টাফ রিপোর্টার। ঢাকা থেকে সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা ছুটে গিয়েছিলেন মহিমাদের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়ায়। সেই দলের অন্যতম ছিলেন বিচারপতি সোবহান। বিচারপতি কে এম সোবহান শুধু একজন মানবতাবাদী মানুষই ছিলেন না, তিনি ছিলেন নারী স্বাধীনতা ও নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসেনানী। যেখানেই নারী নির্যাতন সেখানেই বিচারপতি সোবহান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মশাল জ্বালিয়ে দিতেন। সিরাগঞ্জের পূর্ণিমা শীল, রাজশাহীর মহিমা কিংবা শিউলী, রজুফার ওপর নির্যাতনকারি দুর্বৃত্তদের বিপক্ষে তার দীপ্ত ও দৃঢ় অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে। বাংলাদেশের নারী স্বাধীনতা ও নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রধান সংগঠন মহিলা পরিষদের আন্দোলন-সংগ্রামের সাহসী সংগ্রামী যোদ্ধা ছিলেন বিচারপতি সোবহান। বয়স তাঁকে কখনও দাবায়ে রাখতে পারেনি। বয়সে স্পষ্ট প্রৌঢ়ত্বের ছাপ পড়েছিল বটে কিন্তু মন-মানসিকতায় তিনি ছিলেন চির সবুজ, চির নবীন। আর এই তারণ্যকে আমৃত্যু কাজে লাগিয়েছেন নারী নির্যাতনবিরোধী কর্মকান্ডে সোচ্চার থেকে। রোদ, বৃষ্টি, শীত উপেক্ষা করে তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে পথ থেকে পথে ছুটি বেড়িয়েছেন নারীমুক্তি, নারী স্বাধীনতার পতাকা উড্ডীন রাখার লক্ষ্যে।
২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহীর পুঠিয়ায় কিশোরী মহিমাকে গণধর্ষণ করে তৎকালীন জোট সরকারের ক্যাডারবাহিনী। এতে লজ্জা-অপমানে আত্মহননের পথ বেছে নেয় মহিমা। এরপর ঢাকা থেকে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ছুটে যায় রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চল পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে। সেই কমিটির অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি সোবহান। রাজশাহীর পুঠিয়াতেই শিউলী নামে আরেক কিশোরী ছাত্রদল ক্যডার হারুনের লালসার শিকার হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান রাইটস (বিআইএইচআর) এর চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি কে এম সোবহান শিউলিদের বাড়িতে ছুটে যান তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন জানান। এটি ২০০২র অক্টোবর মাসের ঘটনা। একই দিনে শিউলিদের বাড়ি থেকে রাজশাহী শহরে ফেরার পথে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশ বিএনপি সমর্থকদের হামলার শিকার হন। সাংবাদিক আকাশই বিচারপতি সোবহান ও বিআইএইচআরের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব আকরাম হোসেন চৌধুরীকে শিউলিদের বাড়িতে যেতে সহায়তা করেছিলেন।
বিচারপতি সোবহান ছোট-বড় সকলকেই আপনি বলে সম্বোধন করতেন। মানবাধিকারের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করায় অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতন করায় বিআইএইচআরের পক্ষ থেকে আমাকে সংবধনা প্রদান করা হয় ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিচারপতি কে এম সোবহান। সেদিন তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মানবাধিকার ব্যক্তিত্বদের ইংরেজীতে বলেছিলেন যে, "অ্যারেস্ট অর বিটেন বাই দ্য র‌্যাব মিনস ইনড অব দ্য হোল থিংকস ইনড অব হোল লাইফ। বিকজ দে আর নট সাবজেক্ট টু দ্য ল ইন দ্য কান্ট্রি, উই হোপ হি উইল কনটিনিউ টু ওয়ার্ক।" এরপর তিনি আমার হাত ধরে বলেছিলেন, "আপনি একা নন, আমরা আছি আপনার সাথে। আপনার কোন ভয় নাই।" এর ঠিক এক মাস পরেই বিচারপতি সোবহান এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। মাত্র তিন বছরেই আমরা কি বিচারপতি কে এম সোবহানকে ভুলতে বসেছি?
মৌলবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বিচারপতি সোবহান দেশের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য লড়ে গেছেন। বাংলাদেশে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে তাঁর আত্মা শান্তি পাবে। বিচারপতি সোবহানের জীবনদর্শন আমাদের প্রজন্মের কাছে এক অনুকরণীয় আদর্শ। তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিচারপতি সোবহানের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
লেখক:-মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র ইউরো বাংলা'র সম্পাদক,
http://www.eurobangla.org/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29299735 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29299735 2010-12-31 23:16:35
'পজিটিভ বাংলাদেশ'র নামে দুর্নীতি ও অনৈতিকতার পক্ষাবলম্বন!
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস। পেশায় একজন অধ্যাপক। অর্থনীতি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। শান্তিতে নোবেল জয়ের পর তিনি গোটা দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি পান। ক্ষুদ্র ঋণের স্রষ্টা বলে স্বীকৃত ড. ইউনুস! ইউরোপ ও আমেরিকায় আছে যার শক্ত খুঁটি।
বাংলাদেশের এই 'শিক্ষিত ভদ্র সুশিল' মানুষটি মূলত: গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের দারিদ্র্যতা নিয়েই ব্যবসা করছেন! এই ব্যবসা চলছে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। দারিদ্র্যমুক্তির স্লোগান নিয়ে পরিচালিত এই ব্যবসার মাধ্যমেই যিনি ইউরোপ-আমেরিকার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন। বাংলাদেশে স্বাভাবিক নিয়মে ১৬ শতাংশের বেশি কোন সুদের প্রচলন নেই। অথচ নোবেলজয়ী ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার ৪০ শতাংশের অধিক। তবে কারও মতে, এই সুদের হার আরও কয়েকগুণ। এমনও খবর বেরিয়েছে যে, সুদের হার ১২৫ শতাংশ!
বাংলাদেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতা নিয়ে কামড়া-কামড়ি করতে গিয়ে ২০০৭ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই সুবর্ণ সুযোগে ডক্টর ইউনুস দেশ শাসনের স্বপ্নও দেখেছিলেন। অবশ্য তার এই অভিলাষ শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রুপ নেয়নি। বেশ কিছুদিন আগে এই 'মহান' ব্যবসায়ি বলেছিলেন যে, 'বাংলাদেশের দারিদ্র্যতাকে জাদুঘরে দেখতে হবে'। কিন্তু বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো। বরং দিন দিন দারিদ্র্যতা ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
নোবেল জয় করলেই অনৈতিকতা ও দুর্নীতির উর্দ্ধে উঠা যায়? ক্ষুদ্র ঋণের নামে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষকে দারিদ্র্যতা ও অনিশ্চয়তার জালে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই কাজটি অত্যন্ত সুচতুরভাবে করে আসছেন এই ইউনুস। দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তির নামে এই সামাজিক ব্যবসার কথা বলা হলেও দারিদ্র্যতাকে জিইয়ে রাখাই ড. ইউনুসদের মূল উদ্দেশ্য।
আর গ্রামের অতি সহজ-সরল দরিদ্র মানুষ তথা নারীদের দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসার ফাঁদে ফেলে সর্বশান্ত করা হচ্ছে। শত শত, হাজার হাজার পরিবার আজ নি:স্ব, সহায়-সম্বলহীন। এসব নারীদের অধিকাংশই জানেন না লেখাপড়া। শুধুমাত্র স্বাক্ষরজ্ঞান আছে। অথচ তাদের কাছ থেকে নেয়া হয় সিরিজ স্বাক্ষর ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে। ক্ষুদ্র ঋণদাতারা শুধু ঋণই দেয় না, ঋণগ্রহিতাদের সঞ্চয় গ্রহণ করে থাকে। অস্বাভাবিক আকাশচুম্বি চড়া সুদ আর সঞ্চয়ের টাকায় ঋণদাতারা চুটিয়ে ব্যবসা করছে। দরিদ্রদের ঘর খালি করে, সর্বশান্ত করে; ঋণদাতারা সেই দরিদ্র মানুষের টাকায় এসি বাড়ি, গাড়িসহ বিলাসবহুল জীবন-যাপন করে থাকে। এছাড়া দুর্নীতি আর অনৈতিকতা যাদের নিত্যসঙ্গী।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা টম হাইনমান। এই সাহসী সাংবাদিকই বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণের নামে যে দুর্নীতি ও অনৈতিকতা চলছে তার প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরেছেন। জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডের দেয়া ৭ কোটি ডলার ড. ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংক খেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ইউনুসের বিরুদ্ধে গুরুতর এই অভিযোগসহ বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসা ও দারিদ্র্যতার প্রামাণ্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন প্রায় ৫০ মিনিটের ডকুমেন্টারিতে।
ঈধঁমযঃ রহ গরপৎড় উবনঃ বা 'ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে' নামের এই ডকুমেন্টারিটি ৩০ নভেম্বর, ২০১০ নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (এনআরকে) এ প্রচারিত হয়। এরপরই বিশ্বময় ইউনুস ও তার দারিদ্র্য ব্যবসা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ব্যাপক হৈ-ছে পড়ে গেছে। যার ছাপ সামাজিক গণমাধ্যমেও লক্ষ্যণীয়। অবশ্য ইউনুস ভক্তরা দারুণভাবে মর্মাহত, মুষড়ে পড়েছেন এই কঠিন অনৈতিকতা ও দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়ে পড়ায়। কেউ কেউ রীতিমতো ইফনুসের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নরওয়েতে মিডিয়া সন্ত্রাসে ইউনুস 'নিহত' বলেও চিৎকার শুরু করে দিয়েছেন।
বাংলাদেশে একদল মানুষ আছেন, যারা পজিটিভ বাংলাদেশের নামে বা ভাবমূর্তি নষ্টের জিগির তুলে দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লংঘণ এবং অনৈতিকতার ঘটনাগুলিকে যেকোন উপায়ে ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লাগেন। এই পক্ষটি বিনা বিচারে মানুষ হত্যার পক্ষ নেয়। দুর্নীতিবাজ, ভন্ড, নীতিহীনদের সাফাই গাইতে সদা তৎপর। ড. ইউনুস নোবেল পেয়েছেন, তাই তার শত দুর্নীতি ও অনৈতিকতাতেও যেন দোষের কিছু নেই'। জ্ঞানপাপী এই মানুষগুলি পজিটিভ বাংলাদেশের নামে পরোক্ষভাবে দুর্নীতি ও অনৈতিকতার পক্ষেই দাঁড়িয়ে যায়।
একটা কথা স্মরণে রাখা দরকার। আর তা হলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দুর্নীতি ও সর্বগ্রাসী অনৈতিকতার সুতো ছিড়তে না পারলে সোনার বাংলার নাগাল পাওয়া যাবে না কোনদিনই। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা নিরাশাবাদি। শুধু দিন বদলের স্লোগান দিলেইতো আর রাতারাতি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে না। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাইলে সবার আগে বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দুর্নীতি আর অনৈতিকতাকে। অবশ্যই এটা রাজনীতিকদেরই কাজ। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় এই কাঙ্খিত ইতিবাচক পরিবর্তনটি সম্ভব কি করে তা আমরা বলতে পারি না?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
সম্পাদক, ইউরো বাংলা
http://www.eurobangla.org/

http://jaakash.wordpress.com/
http://youtube.com7user/jaakashbd ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29282046 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29282046 2010-12-02 04:42:57
আশির্বাদ নাকি অভিশাপ! বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বেপরোয়া গতি থামানোর কোন উপায় আপাত: নেই। কারণ সরকার চাইছে এধরণের হত্যাকান্ড চলুক। ফলে RAB দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যায়। আর এতে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে বহির্বিশ্বে। ২৩ অক্টোবর, ২০১০ বরগুনায় আরও দুইজনকে হত্যা করেছে র‍্যাব (RAB)। নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মানিক ডাক্তার (৪৫) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০)। সূত্র-বিডিনিউজ২৪। এনিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সংখ্যা দাঁড়ালো ২১৯ এ। একটি অসমর্থিত সূত্র মতে, ২০০৪ সালে RAB প্রতিষ্ঠার পর হতে এ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত হন র‍্যাবের হাতে। তবে এই তথ্যের সরকারি বা বেসরকারি কোন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্র জানায়, দেশে যত গুপ্ত হত্যা, অপহরণ, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয় বা হচ্ছে এসব হত্যাকান্ড ঘটছে র‍্যাবের হাতেই। এক্ষেত্রে বিএনপি নেতা ও র‍্যাব কর্তৃক ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের অপহরণ (অদ্যাবধি নিখোঁজ) ঘটনার উদাহরণ দেয়া যায়। এসব গোপন হত্যাকান্ড ঘটিয়ে র‍্যাব জাতির কাছে তাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানাতে চায় পরোক্ষভাবে। কিন্তু ধারাবাহিক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের পরও বাংলাদেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, মস্তানি, টেন্ডারবাজি, এসিড সন্ত্রাস কমেনি মোটেও। অন্যদিকে ইভটিসিং উদ্বেগজনকহারে বেড়েই চলেছে। বাড়ছে গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার কারণেই মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু তাই নয়, RAB এর বিরুদ্ধেও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে প্রতিনিয়ত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ, সহনশীলতা, সর্বস্তরে গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা ও জবাবিদিহতা ছাড়া বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির সর্বগ্রাসী সমস্যা সমাধানে আগে চাই রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এছাড়া সমস্যা-সংকট বাড়বে বৈ কমবে না। অনুগ্রহ করে আরও বিস্তারিতভাবে পড়ুন নিচের লিংকে: http://www.eurobangla.org/?p=1149]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29260020 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29260020 2010-10-23 17:33:16
প্রতিহিংসা-প্রতিঘাতের রাজনীতির শেষ কি নেই? তাঁর লেখার মন্তব্য করা ধৃষ্ষ্টতা ছাড়া কিছু নয়। তবে বাজিকর বিএনপি-জামায়াত সুষ্টি করেছে বা তাদের আমলে টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের আমলেও এসব হজম করতে হবে জনগণকে এটা বোধহয় ঠিক না। তাছাড়া দেশের ভেতরে যা ঘটাচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ তা কিন্তু তারেক জিয়ার হাওয়া ভবনকে ছঁতে আর বেশি সময় লাগবে না। মাহমুদুর রহমান না হয় রাজনৈতিক ভুঁইফোড় সম্পাদক, মতিউর রহমানতো তা নন। তাহলে তাঁকে সংসদে তলব করার মতো বক্তব্য প্রদান এটাতো সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি ছিল বলে নিজামী, খালেদা ও বাবর বলতেন। এখন শেখ হাসিনার উপদেস্টারা বলছেন "পাবনার প্রশাসনের কর্কর্তারা কেঁদেছেন বলে যে রিপোর্ট ছাপা বা প্রচার হয়েছে তা মিডিয়ার সৃষ্টি"। বিএনপি-জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্যটা কোখায়? দেশে যে নিয়োগ বাণিজ্য ও নিয়োগ কেন্দ্রিক সরকারদলীয় ক্যাডারদের তান্ডব তা কোন অংশে কম বিএনপি-জামায়াত আমলের তুলনায়। আহসানউল্যাহ মাস্টার, মমতাজউদ্দিন, ডা. আয়নাল, ড. হুমায়ুন আজাদ প্রভৃতি হত্যাকান্ড, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন, সংখ্যালঘু হত্যা-নির্যাতন, ২১ আগস্টের ঘটনাগুলি এবং জঙ্গিবাদ পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের। যার ফলতো জনগণই দিয়েছেন ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে। আর আমি করেছি বলেই আপনিও করবেন এটা ন্যায়পরায়ণ বা সুশাসনের লক্ষণ নয়। প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিএনপি-জামায়াত জ্যেষ্ঠতা লংঘণ করেছে তা আওয়ামী লীগকেও করতে হবে এটা কোন নীতির মধ্যে পড়ে। কেন হত্যা-খুন, রাহাজানি বেড়েই চলেছে? আসলে সমস্যাটা অন্যখানে। প্রকৃতঅর্থে গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া সুশাসন বিনির্মাণ করা যায় না। আর আওয়ামী লীগ বলি বিএনপি বলি কোখায় আছে প্রকৃতঅর্থে গণতন্ত্রের চর্চা? বুদ্ধি্জীবী, সাংবাদিক, ডাক্তার, আইনজীবী এবং অন্যান্য পেশাজীবী সর্বত্রই দলবাজি আর দলবাজি। এই দলবাজি, আর গণতন্ত্র চর্চাহীনতার সংস্কৃতি, প্রতিহিংসা-প্রতিঘাতের রাজনীতির শেষ কি নেই?]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29253976 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29253976 2010-10-13 02:53:58 ঘরের শত্রু বিভীষণ! পাবনায় অপমানিত লাঞ্ছিত হয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিরা যখন ন্যায়বিচার পাবার জন্য দেশবাসির সামনে চোখের জল ফেললেন তখন তারা আবার রাষ্ষ্ট্রীয় অবিচারের শিকার হলেন। হায় বাংলাদেশ, হায় গণতন্ত্র!। সরকার পাবনা জেলার প্রশাসক এএফএম মনজুর কাদির ও পুলিশ সুপার জামিল আহমেদকে প্রত্যাহার করলো। এছাড়া সদর থানার ওসি মতিয়ার রহমানকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।এর আগেই পাবনা সদরের ইউএনও আবদুল আলীমকে ভোলার মনপুরায় বদলি করা হয়। এই হলো গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচারের নমুনা! কাল্পনিক অভিযোগ এনে প্রথম আলো এবং প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন সংসদ সদস্যরা। এরপরই প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মামলা করলো সরকার দলীয়রা। এসব কিসের ইঙ্গিত?
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পঞ্চগড়ে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্ট পত্রিকার পঞ্চগড় প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে করেছে সরকারী দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের এক নেতা। ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০ পঞ্চগড়ের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন। বিচারক জাফরুল হাসান মামলাটি আমলে নিয়ে আগামি ১৫ অক্টোবর বিবাদীদের ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রথম আলোর শেষ পাতায় গত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১০ বাদিকে জড়িয়ে ‘পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যুবলীগ ছাত্রলীগের ভাংচুর’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে তার সম্মানহানি এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় মামলার আরজিতে। একই উদ্দেশ্যে এ সংবাদে স্থানীয় সংসদ সদস্য মজহারুল হক প্রধানের নাম উল্লেখ না করে তাকেও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ছিল পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা। ওই নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে সরকার দলীয়রা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়।
নিচের লিংকে আরও পড়ুন-বিস্তারিত-http://www.eurobangla.org/?p=1063
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29246864 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29246864 2010-09-29 03:06:30
মেয়র লিটনের কেলেংকারি!!! রাজশাহীর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এ এই এম খায়রুজ্জামান লিটন এবার মামলা করলেন দৈনিক আমার দেশ’র কারাবন্দি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। মামলায় আরও আসামি করা হয় পত্রিকাটির প্রকাশক হাশমত আলী ও রাজশাহীর প্রতিবেদক সরদার এম আনিছুর রহমানকে। ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাজশাহী মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির হয়ে তিনি মামলাটি করেন। হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরী শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আদেশ দিয়েছেন। সূত্র-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। এই মেয়র লিটন জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক আসাদুল্লাহ-আল গালিবের মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। একই দলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এক প্রবীণ নেতাকে তিনি ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হত্যার প্রচেষ্টা চালান বলেও অভিযোগ উঠেছিল। ওই সন্ত্রাসী হামলায় কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতাসহ কমপক্ষে ২৫ জন নেতা আহত হয়েছিলেন। খায়রুজ্জামান লিটনের ষড়যন্ত্রের কারণে রাষ্ট্রীয় বর্বর নির্যাতনের শিকার রাজশাহীর এক সাংবাদিক আজ মাতৃভূমি ছেড়ে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। আরও পড়ুন নিচের লিংকে:
http://www.eurobangla.org/?p=1048]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29244327 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29244327 2010-09-24 04:57:09
অর্ধসত্য রাজনীতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি-জামায়াত আমলে ১৪ সাংবাদিক হত্যাকান্ডের তথ্য তুলে ধরেন। এই তথ্য যেমন সত্য তেমনি মহাজোট সরকারের আমলে ৫ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, এটাও সত্য। কিন্তু তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অর্ধাংশ স্বীকার করে অর্ধেকটা অস্বীকার করেছেন পরোক্ষভাবে। বিএনপি-জামায়াতের আমলে জনপ্রিয় একুশে টেলিভিশন বন্ধ করা হয়েছিল। এটা যেমন সত্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে চ্যানেল ওয়ান, যমুনা টিভি ও আমার দেশ বন্ধ হলো। উভয়ই সত্য। আমরা অর্ধসত্য নয় পুরো সত্য জানতে চাই। বাংলাদেশের অর্ধসত্য রাজনৈতিক অবস্থান পুরো সত্যের জায়গায় আসতে পারবে কী?
আরও পড়ুন নিচের লিংকে: http://www.eurobangla.org/?p=917]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29243174 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29243174 2010-09-22 03:20:16
সংসদে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আলোচনা: টার্গেট প্রথম আলো যে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে সেই সরকার গণতান্ত্রিক হতে পারে না। আবার এটাতো সত্য যে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন আর দুর্নীতির জন্য রাজনীতিবিদরাই দায়ি বেশি। কাজেই আমরা বলবো গণমাধ্যমকে শায়েস্তা করার আগে নিজেদের দিকে একবার ভালো করে তাকান। নিজের বুকের ওপর হাত দিয়ে বলুন, মন্ত্রি-এমপি হওয়ামাত্রই কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায় কেমনে? গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে কেউ ক্ষমতায় বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। এটা বোঝা দরকার।
আরও পড়ুন নিচের লিংকে: http://www.eurobangla.org/?p=1020]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29243073 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29243073 2010-09-21 23:29:15
বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে হাসিনা সরকারের মিথ্যাচার! http://www.eurobangla.org/?p=997]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29240502 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29240502 2010-09-16 14:56:37 নারীর প্রতি সহিংসতায় বাংলাদেশ প্রথম!!! আরও পড়ুন নিচের লিংকে: http://www.eurobangla.org/?p=994
ইউরো বাংলা ভিজিট করুন, আপনাদের মতামত দিন।
http://www.eurobangla.org/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29240332 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29240332 2010-09-16 01:50:39
আরও পড়ুন... সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় থেকে বিভিন্ন বিষয়ে রুল ও নির্দেশনা জারির হিড়িক পড়ে গেছে। কিন্তু সেই রুল সরকার কার্যকর করছে কিনা কিংবা নির্দেশনা কাজে আসছে কিনা সেব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের কোন নজর আছে বলে মনে হয় না। বিচারপতিদের মাঝে আইন, নীতি-রীতি ও স্বচ্ছতা, সততার পরিবর্তে দলীয় মানসিকতার প্রতিফলনই বেশি লক্ষ্যণীয়। বিচারপতিরা যেন অন্ধ। বিচারালয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করলে তারা তথাকথিত আদালত অবমাননার দায় চাচিয়ে দিচ্ছে সাহসী সাংবাদিকদের ওপর। অথচ মেরুদন্ডহীন এবং সুবিধাবাদী এই গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় খুনিদের ব্যাপারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে না। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার মতো এদের ক্ষমতা নেই। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার বা আদেশ প্রদান এদের পক্ষে সম্ভব হয় না। বরাবরই ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদ গ্রহণকারি সুযোগসন্ধানী এই গোষ্ঠী যখন যে দল ক্ষমতা বা সরকারে থাকে তখন তাদের পক্ষে কাজ করে যায়। আরও পড়ুন...
http://www.eurobangla.org/?p=851]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29230755 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29230755 2010-08-27 18:17:37
তথাকথিত আদালত অবমাননা! http://www.eurobangla.org/?p=836]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29230463 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29230463 2010-08-27 04:27:43 একটি স্বপ্ন ও সংগ্রাম আরও পড়ুন ইউরো বাংলায়:
http://www.eurobangla.org/?p=473]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29187381 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29187381 2010-06-28 22:53:46
স্বরাষ্টমন্ত্রী সাহারা খাতুন অন্ধ! http://www.eurobangla.org/?p=470]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29187372 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29187372 2010-06-28 22:38:01 গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় মহাজোট সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29168124 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29168124 2010-06-02 06:51:33 মহাজোট সরকার মত প্রকাশ ও প্রেসের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে কি? মহাজোট সরকার মত প্রকাশ ও প্রেসের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে কি?

সম্পাদকীয় : মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রেসের স্বাধীনতায় এই সরকার বিশ্বাস করে কিনা তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ দানা বাঁধছে ক্রমশ:। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কথা ও কাজের মধ্যে বেশ ফারাক লক্ষ্যণীয়।
সরকারবিরোধী পক্ষের বলে পরিচিত সংবাদপত্র আমার দেশের সম্পাদক এক সংবাদ সম্মেলন করেন আজ। সেখানে গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই পত্রিকার প্রকাশকে এনএসআইয়ের লোকেরা ধরে নিয়ে যায়। এরপর তার কাছ থেকে সাদা দু'টি কাগজে সই নেয়া হয়।
মহাজোট সরকারের আমলে ৫ জন সাংবাদিক নিহত। বিনা বিচারে হত্যাকান্ড ঘটেছে ১৯৪টি। একটি টেলিভিশন পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে আসতে না আসতেই তার সম্প্রচার বন্ধ করে। এরপর বন্ধ করে চ্যানেল ওয়ান। গত বছরের মার্চে ইউটিউব ব্লক করা হলো। সর্বশেষ সাসপেন্ড হলো জনপ্রিয় সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুক।
মত প্রকাশ ও প্রেসের স্বাধীনতায় একের পর এক হস্তক্ষেপ। জনমনে সন্দেহ আর সংশয় বাড়ছে এই ভেবে যে, সরকার বোধহয় বিশ্বাস করে না মত প্রকাশ ও স্বাধীন গণমাধ্যমে। নতুবা এই সরকারের পরামর্শকরা সরকারের ভালো চায় না।
সরকারের ওপরে যে ভূত চেপে বসেছে বলে অনুমিত হচ্ছে। সেই ভূতকে তাড়ানোর দায়িত্বটাও কিন্তু সরকারেরই।জনগণের মাঝে সরকারের অবস্থান পরিস্কার করা জরুরি।

http://thehumanrightstoday.wordpress.com/
http://www.eurobangla.org/

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29167853 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29167853 2010-06-01 22:31:19
মহাজোট সরকারের ভেতরে ভূত!
মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রেসের স্বাধীনতায় এই সরকার বিশ্বাস করে কিনা তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ দানা বাঁধছে ক্রমশ:। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কথা ও কাজের মধ্যে বেশ ফারাক লক্ষ্যণীয়।
সরকারবিরোধী পক্ষের বলে পরিচিত সংবাদপত্র আমার দেশের সম্পাদক এক সংবাদ সম্মেলন করেন আজ। সেখানে গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই পত্রিকার প্রকাশকে এনএসআইয়ের লোকেরা ধরে নিয়ে যায়। এরপর তার কাছ থেকে সাদা দু'টি কাগজে সই নেয়া হয়।
মহাজোট সরকারের আমলে ৫ জন সাংবাদিক নিহত। বিনা বিচারে হত্যাকান্ড ঘটেছে ১৯৪টি। একটি টেলিভিশন পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে আসতে না আসতেই তার সম্প্রচার বন্ধ করে। এরপর বন্ধ করে চ্যানেল ওয়ান। গত বছরের মার্চে ইউটিউব ব্লক করা হলো। সর্বশেষ সাসপেন্ড হলো জনপ্রিয় সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুক।
মত প্রকাশ ও প্রেসের স্বাধীনতায় একের পর এক হস্তক্ষেপ। জনমনে সন্দেহ আর সংশয় বাড়ছে এই ভেবে যে, সরকার বোধহয় বিশ্বাস করে না মত প্রকাশ ও স্বাধীন গণমাধ্যমে। নতুবা এই সরকারের পরামর্শকরা সরকারের ভালো চায় না।
http://thehumanrightstoday.wordpress.com/
http://www.eurobangla.org/ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29167835 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29167835 2010-06-01 22:03:26
ফেসবুক আক্রমণ করলো হাসিনা সরকার!
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29165319 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29165319 2010-05-29 22:15:24
শাবাশ মুসা ইব্রাহিম! মুসা ইব্রাহিম। পেশায় একজন সাংবাদিক। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেষ্টের চূড়ায়। ২৩ মে, ২০১০ সকাল সাড়ে আটটায় এই মুসা এভারেষ্টের শিখরে পা রাখে। মুসাই প্রথম বাংলাদেশী বাঙালি। যে এভারেষ্ট জয় করলো। এভারেষ্টের শিখরে লাল সবুজের পতাকা উড়ালো। বাংলাদেশের সুনাম ও গৌরব বয়ে আনলো। ৩০ বছর বয়সী এই তরুণের এভারেষ্ট জয়ে গোটা দেশে বইছে আনন্দের ধারা। অভিনন্দন, শুভেচ্ছা, শাবাশ মুসা ইব্রাহিম।
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29162121 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29162121 2010-05-24 22:11:47
নতুন অনলাইন বাংলা সংবাদপত্র ইউরো বাংলা মানুষ ও মানবতার পক্ষে আমরা। সত্য ও ন্যায়ের জন্য লড়বো মোরা। অন্যায়-অবিচারের কথা তুলে ধরবো। সাফল্য ও সম্ভাবনার বাংলাদেশের কথাও বলবো একইসঙ্গে। প্রিয় মাতৃভূমি ও তার জনগণের সমস্যা-সংকট নিয়ে লিখবে ইউরোবাংলা। ইউরোবাংলা জানাবে প্রবাসী বাংলা ভাষা-ভাষীদের সংখ-দু:খ ও সাফল্যের কথা। সংগ্রাম-সংহতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য সবই থাকবে ইউরোবাংলায়।
আমাদের স্বপ্ন একটা দলনিরপেক্ষ, সত্যান্বেষী অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা এই প্রত্যাশা নিয়ে প্রবাসে থেকে শুরু করতে চাই ”ইউরোবাংলা”। আমাদের ওয়েব ঠিকানা (http://www.eurobangla.org/)। ইউরোবাংলা’র প্রাথমিক ওয়েব নকশা কেমন লাগছে? আপনাদের মতামত জানতে চাই আমরা। আপনার কোন পরামর্শ থাকলে, তা আমাদের লিখে পাঠান এই ঠিকানায়
ইউরো বাংলা ইউরোপ থেকে প্রকাশিত হবে।
নির্যাতিত-নির্বাসিত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশ। সে এখন জার্মান প্রবাসী। আকাশ এই ’ইউরোবাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক। ইউরোবাংলা’র সম্পাদক আকাশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে নিয়েছেন পোষ্ট গ্রাটুয়েড ডিপ্লোমা ইন সিভিক জার্নালিজম ডিগ্রি। বাংলাদেশে সংবাদপত্র, রেডিও ও টিভি সাংবাদিকতায় রয়েছে তার অভিজ্ঞতা।
দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বাংলা, বাংলার বাণী, আজকের কাগজ, নিউ নেশন, একুশে টেলিভিশন, সিএসবি নিউজ, দি এডিটরসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেছেন আকাশ। এছাড়া রেডিও জার্মান ডয়েচেভেলের ফ্রি-ল্যান্স সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
ইউরোবাংলা মূলত: মানবাধিকার মুক্ত গণমাধ্যম, সংখ্যালঘু-আদিবাসি ইস্যুভিত্তিক একটি বাংলা অনলাইন সংবাদপত্র। না বলা, অজানা ও অপ্রকাশিত সত্য আমরা তুলে ধরতে চাই ইউরোবাংলায়। মানবতা, শান্তি আর গণতন্ত্র। এই তিন আমাদের মূলমন্ত্র।
সকল ধর্মান্ধতা, কু-সংস্কার, অশিক্ষা, ক্ষুধা, দারিদ্র্যতা, অমানবিকতার বিপক্ষে ইউরোবাংলা। মানবতা, শান্তি, মুক্ত গণমাধ্যম, গণতন্ত্র, মানবাধিকারের পক্ষে আমরা আপোষহীন। মানুষ, মানুষ আর মানবতার জয়গান নিয়ে শিগগিরই আসবো আমরা আপনাদের সামনে।
আশা করি, আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। দলনিরক্ষে মানসিকতা আর মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে ইউরোবাংলায় আপনারাও লিখতে পারেন স্বাধীনভাবে।

বিনয়াবনত-
ইউরো বাংলা কর্তৃপক্ষ-

http://www.eurobangla.org/

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29150428 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29150428 2010-05-07 14:35:20
সবুজ-ভাই লজ্জাতো আমার-আমাদের আসলে সমাজটাকে যেভাবে কুপমন্ডুক, অন্তর্মুখী করা হচ্ছে তাতে ইভটিজিং বন্ধ হবে কী করে? বিজ্ঞান মনস্ক একমুখী শিক্ষার অভাব, আইনের শাসনাভাব, দারিদ্রতাসহ নানান কারণে ইভটিজিং বাড়ছে।
একটা গণবিপ্লব প্রয়োজন। যে বিপ্লব এই সমাজকে ভেঙ্গে এক নতুন সমাজ বিনির্মাণ করতে পারে। বিশ্বাস, আশা বলে-মানুষ একদিন জাগবেই জাগবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29147387 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29147387 2010-05-03 03:57:38
একই রুপ, গন্ধ আর রসে ভরা
বছর ঘুরে ফি বছর আসে মহান মে। মে দিবস এলেই বাংলাদেশের সংবাদপত্রে একটা শোরগোল পড়ে যায়। পড়াটাই স্বাভাবিক। গদ বাধা রিপোর্ট, কলাম। একই রুপ, গন্ধ আর রসে ভরা। কিন্তু যাদের জন্য এই দিন। সেই মহান শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের বদল ঘটে কী?
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প। এই শিল্পে কাজ করেন লাখো নারী। যাদের রক্ত-ঘাম ঝড়ানো শ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জন করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। শিল্পমালিক ব্যবসায়িদের আরাম-আয়াস বাড়ে। বাড়ে রাষ্ট্র নায়ক-পরিচালকদের ঠাটবাট। কিন্তু যে তিমিরে শুরু সেই তিমিরেই রয়ে যায় শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট আর হাহাকার।
মাত্র তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার মাসিক বেতন বা মজুরি। আজকের দুর্মূল্যের বাজারে কী হয় এই সামান্য ক'টা টাকায়? ভুক্তগোগী ছাড়া কারও সাধ্য নেই এই অভাবনীয় জালা যন্ত্রণার বর্ণন করা।
আমাদের অনেক এনজিও প্রধান মানব-মানবী আছেন। যাদের কথা ও লেখায় যেন মানবতার সুবাতাস ঝড়ে সর্বক্ষণ। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টো ছবিটা দেখা যায় সমাজের সর্বত্র। নামী-দামী নারী নেত্রী বা এনজিও নেতার ঘরের কাজের বোনটি বা মা'টির কি নিদারুণ কষ্ট? তা কি ভাবে এই সমাজ-রাষ্ট্র? কিংবা মহান মে দিবসের আলোচনায় যা স্থান পায় বাস্তবে কী আমরা সেটা দেখতে পাই?
এক বিরাট বৈষম্যপূর্ণ একটা সমাজ-রাষ্ট্র বা বিশ্ব। কী করে সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্ব পরিসরে একটা সুন্দর বৈষম্যহীন ব্যবস্থা চালু করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন কে? আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে এই উত্তর দেয়াটা খুব দুরুহ।
http://youtube.com/user/jaakashbd
http://jaakash.wordpress.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29146239 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaakashblog/29146239 2010-05-01 15:36:23