বিচ্ছিন্ন আবেগ (শেষ র্পব)
১৪ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১:০৪
মেইল পড়ছি একটা। সুমিতের লেখা। ও আছে জার্মানীতে। ওর অফিস থেকে পাঠিয়েছে। ওখান থেকে এখন সিঙ্গাপুর। ওখানে প্রায় তিন বছর থাকতে হবে। মেইলে লিখেছে যে সুমিত ভালোই আছে। জার্মানীতে ট্রেনিং, অনেক কিছু নতুন জিনিস শিখছে (ট্রেনিং-এ কেউ শেখে?)। মোটামুটি ভাবে জার্মান ভাষাটা আয়ত্তে চলে এসেছে-এরকম আরো কিছু। তবে সবচেয়ে shocking কথা হচেছ 'দোস্ত, এখানে এক মেয়ের সাথে ভাল রিলেশন হয়েছে। একটু (বলার অযোগ্য) টাইপ, পশ লেভেলের অবশ্য। কিন্তু ভাবছি ওরেই বিয়ে করব। জীবনের বড় একটা ইচছা ছিল মিউজিক করবো। হলো নাহ! যাই হোক এখন অন্য ট্র্যাকেই দেখি কী করা যায়।' অন্য ট্র্যাক মানে কী? শালা!
তায়েফের সাথে দেখা করলাম বনানীর 'হেলভেশিয়াতে'। সরাসরি কথা শুরু করলাম!
সুমিত আর মিতুল সুন্দরবনে কেন এসেছিলো?
এমনিই।
এমনি তো না। ডেইলি ঝগড়া, ভাংচুর, পরে বোঝানো, লাস্টে আবার একসাথে ফেরা, বিষয়টা কি?
আসলে, এই কিছু প্রব্লেম ছিলো।
ওটা কী পূজার সময়ে?
তায়েফ একটু স্মিত হাসি দিল। বুঝলাম, কিচছু বলবে না।
মিতুল কি বলছে?
মানে?
রিলেশন কেমন? বিয়ে করছিস না?
শিগগিরি করবো।
শুভস্য শীঘ্রম।
এরূপ অন্যান্য বিষয় নিয়ে কিছু কথা। বাড়ী ফিরছি। সেপ্টেম্বর মাস। তাও হালকা শীত লাগছে আজ। তায়েফ কিছুই বললো না। না হয় জীবনের কিছু কথা গোপন-ই থাকল। একান্ত গোপনে, সবার আড়ালে। সব রহস্য, সব জল্পনার অবসান হতে নেই।
পরিশিষ্ট
সুমিত কানাডায় চলে গেছে। ওখানেই সেটল্ড। জার্মানির যে মেয়েটিকে বিয়ে করেছিল, তার সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে। এখন এক কানাডিয়ান বাঙালি মেয়ের সাথে 'লিভ টুগেদার' করছে।
ফুয়াদ অনেক ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে অবশেষে একদম মুক্ত (!) সবকিছু থেকে। সূচীর সাথেই বিয়ে হয়েছে ওর। ও এতটাই বদলেছে যে, চিন্তা করছে সামনের বছর হজ্বে যাবে।
তানিয়া আর মেহেদী সম্পূর্নই বিচিছন্ন আমাদের থেকে। কোনরূপ যোগাযোগ নেই। শুনেছি ওদের আরেকটি মেয়ে হয়েছে।
সম্রাট আগামী ইলেকশনের নমিনেশন পেয়েছে একটি বিশেষ দল থেকে। দল ক্ষমতায় আসলেই ও মন্ত্রী হবে। অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়েছিলো আগেই। ওর বিজনেস ইউনিটের লিস্ট খুবই লম্বা। দু'পুত্রের জনক সেদিন আমাকে বললো: আমিও পলিটিশিয়ান হয়ে গেলাম। মানুষের দুঃখ খেতে পারবনা।
পাপ্পু বাংলাদেশের সেরা শিল্পী-এক নম্বর শিল্পী-সবই। সত্যিই খুব ভালো মিউজিক করছে সে। কিন্তু নাফিসার সাথে ওর ছাড়া ছাড়ি হয়ে গেছে। এটা ভূলতেই বোধ হয় ও মিউজিকের সাথে চুড়ান্ত সম্পর্ক গড়েছে।
সাইফের কোন খোঁজ নেই। মেইল করলে রিপ্লাই আসে 'ব্যস্ত আছি'।
তায়েফের গত বছর বাইপাস সার্জারি হয়েছে। বেচরার বয়স মাত্র চল্লিশ। মিতুল অবশেষে ওকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। ওর ব্যবসাও ভালোই চালাচেছ।
এবং আমি ............. ভালোই আছি। চাকরি, সাধারন ও ফরমায়েশী লেখালেখি নিয়েই আজকাল দিন কাটছে। মাঝে মাঝে আবারো প্রতিবাদি হতে ইচেছ হয়। কিন্তু পারি না। শুধু একলা ঘরে চিৎকার করে বলি 'আমি ভালো আছি'।
রাহা বলেছেন:
উপন্যাস!!
রাগ ইমন বলেছেন:
শেষ ? তাহলে এই বার পড়া যায় । ঃ)
জানালা বলেছেন:
ভালো লিখেছেন তো। তবে শেষ টা কেমন তাড়াহুরো মনে হলো। সব কিছুর রেজাল্ট না দেখালে বোধহয় ভালো হতো। কিছু ছেলেমেয়ে তরুন থেকে যেতো
শাহেনশাহ বলেছেন:
হয়তো, তবে আমি এরকমই চেয়েছিলাম। অনেকটা পাওয়া-না পাওয়ার ব্যাপারটা একটু জ্বালানো আর কী।
শাহেনশাহ বলেছেন:
বড় গল্পই বলা যায় @রাহাপড়ে কেমন লাগলো, জানাবেন। না পড়লে অবশ্য অন্য কথা @ ইমন আপু
ধন্যবাদ সন্ধ্যাবাতি...পুরোটা সময় ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য।
আর এই লেখাটার পেছনে মামু অনন্তমৈথুন ও ভামা নজমূল আলবাব কে ইস্পিশাল থ্যানকু।
চোরাবালি বলেছেন:
এই বে ... লেখাটা দিলি তো আরেকটু বাড়িয়ে ... দিলে ভাল হত না?


















