somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আবদ্ধ শাহেনশাহ
গুলশানের পুরনো আমলের এক হাইরাইজ বিল্ডিং এর রুফটপে দাড়িয়ে যখন নীচের দিকে তাকাই, মনে হয় বসুন্ধরার ক্যাফে সোসাইটির ছাদে; সেই একই আমি; হাতে কফি, মুখে হাসি...কিন্তু মাথায় বিল্টইন টার্গেট এর চিন্তা, প্রেমিকা নয়-আড্ডা নয়।

নাহ হতাশা নয়; নস্টালজিয়া! এটাই বোধহয় ভবিতব্য। সব কিছু ভুলে দৌড়াও, ইদুর দৌড়। সব ছাড়ো, সব। ছুটির দিনটাকেও ব্যস্ততার শিডিউল দাও; সব কিছুই যে করতে হবে! অলরাউন্ডার! এভাবেই চলে যাবে আগামী কয়েক দশক। সময়ের আগে দৌড়ানো, সাফল্য; আর প্রফেশনাল জেলাসির বরমাল্য।

শাহেনশাহ! তুমি আটকে গ্যাছো..তুমি জালে ফেসেছো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28723173 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28723173 2007-07-29 09:21:14
কাক হায় কাক!
কুচকুচে কর্কশ কালো কাক
বসে আছো টেলিফোনের তঁারে ।।

তোমার পায়ের নীচ দিয়ে
কত কথা যায়,
কত ব্যথা যায়।
কত আশা যায়
কত ভালোবাসা যায়।
কত কাজ যায়
কত ক্রিয়া যায়, কত পরকীয়া যায়!

তুমি তো তার বাল ও জানো না!!!(খাইয়ালামু) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28717341 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28717341 2007-06-24 02:13:57
আমরা বোধহয় পাথর হয়ে গেছি।
ভিতরে গেলাম। মুরুব্বি স্থানীয়রা বসে হাসি ঠাট্টা করছেন। ছোট একটা মেয়ে মাথায় ওড়না দিয়ে বসে তার মায়ের ঝাড়ি খাচ্ছে। 'তোমাকে বলেছি ঠিকমতো কাউন্ট করতে, তুমি কাউন্ট করছো না কেনো?' কি ব্যাপার! আজকেও কী পরীক্ষা নাকি? পরিচিত কাউকে দেখচি না। নাহ, শালার বন্ধু কোথায়?

দিলাম বন্ধুকে ফোন। 'দোস্ত, আমি মহাখালি। ক্লিয়ারেন্সে দেরী। একটু অপেক্ষা কর'। অপেক্ষা! বন্ধু সমাজ চাকর সমান। 'জ্বী হুজুর'।

বন্ধু আসলো। হ্যান্ডশেক। শালা আমি কী সৌজন্য সাক্ষাতে আসছি পামর? নাহ, নিজেকে সামলানোর অপচেষ্টা একটা শুরু হয়েছে। কিন্তু বেচারা, তার চাচা কয়েকটা কাগজ নিয়ে দাড়ালো আমাদের সামনে। 'সাচ্চু ভাই এর উইল মোতাবেক....' আর রুচিতে কুলালো না। খেকিয়ে উঠলাম, চাচাকে দাফন টা করে করলে হয় না?'

দাফন হলো, তবে রাত ৯টায়। তার আগে সম্পত্তির ভাগ, খাওয়া-দাওয়া, পারলে গানবাজনা.....মানুষের ই কী আজ মৃত্যু হয়েছে?

আমরা সবাই বোধ হয় পাথর হয়ে যাচ্ছি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28715208 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28715208 2007-06-09 02:57:50
রাতের গপ্পো
পূর্বা স্মার্ট মেয়ে। ছেলেদের সাথে অতি ঘনিষ্ঠতাকে ও বন্ধুত্ব মনে করে। কবিতা বেশ পছন্দ।

ব্যস সাইফ পেয়ে গেলো লাইন। এক রাতের কথোপকথনঃ

পূর্বা- আপনার ভাব এতো বেশী কেনো?

সাইফ- আমি? ভাব নেই? কী যে বলেন!

পূ- এইযে আপনার ব্যপারে জানতে চাই, কিন্তু কিছুই বলেন না

সা- জেনে কী হবে। আমি সমাজের এক প্যারাসাইট (দীর্ঘশ্বাস)। আপনি সূখী মানুষ, এসব জেনে কী হবে?

পূ- তাই বুঝি? কীসে এতো কষ্ট আপনার?

সা(মনে মনে লাইনে আসছে দেখী)- বুঝলেন, রক্তক্ষরন একবারই হয়, তা হৃদয়ের ক্ষরন ই হোক, বা অন্যকোথাও।

পূ- হেহে, আপনি তো বেশ দুষ্টু! আপনার কবিতা শুনবো আজ, মানা কিন্তু করতে পারবেন না!

সা (সরাসরি কবিতায়)-
সবাই বলে, তোমাকে আমি পাইনি,
তোমাকে
আমার ছেয়ে বেশী কেউই পায়নি।
কেন?
আমার চেয়ে বেশী কেউই ভালোবাসেনি।
হাসছো এই ভেবে,
ভাবছো, কী ভাবে!
জিগ্গেস করো-
নিজেকে
আর ভাববেনা, আর হাসবে না।
কঁাদবে!
কারন তুমি আমাকে পাওনি ।।

(কিছুক্ষন চুপচাপ)

পূ- আপনার কবিতা.....এতো কষ্ট মনে আপনার? কিন্তু কি সুন্দর কবিতা! কে সে
-
-
-
-
সা (মনে মনে)- এই তো তুমি ঘাছে উঠার জন্য রেডি হয়েছো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28713360 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28713360 2007-05-30 02:52:05
বিচ্ছিন্ন আবেগ (শেষ র্পব)
তায়েফের সাথে দেখা করলাম বনানীর 'হেলভেশিয়াতে'। সরাসরি কথা শুরু করলাম!
 সুমিত আর মিতুল সুন্দরবনে কেন এসেছিলো?
 এমনিই।
 এমনি তো না। ডেইলি ঝগড়া, ভাংচুর, পরে বোঝানো, লাস্টে আবার একসাথে ফেরা, বিষয়টা কি?
 আসলে, এই কিছু প্রব্লেম ছিলো।
 ওটা কী পূজার সময়ে?

তায়েফ একটু স্মিত হাসি দিল। বুঝলাম, কিচছু বলবে না।
 মিতুল কি বলছে?
 মানে?
 রিলেশন কেমন? বিয়ে করছিস না?
 শিগগিরি করবো।
 শুভস্য শীঘ্রম।

এরূপ অন্যান্য বিষয় নিয়ে কিছু কথা। বাড়ী ফিরছি। সেপ্টেম্বর মাস। তাও হালকা শীত লাগছে আজ। তায়েফ কিছুই বললো না। না হয় জীবনের কিছু কথা গোপন-ই থাকল। একান্ত গোপনে, সবার আড়ালে। সব রহস্য, সব জল্পনার অবসান হতে নেই।


পরিশিষ্ট

সুমিত কানাডায় চলে গেছে। ওখানেই সেটল্ড। জার্মানির যে মেয়েটিকে বিয়ে করেছিল, তার সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে। এখন এক কানাডিয়ান বাঙালি মেয়ের সাথে 'লিভ টুগেদার' করছে।

ফুয়াদ অনেক ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে অবশেষে একদম মুক্ত (!) সবকিছু থেকে। সূচীর সাথেই বিয়ে হয়েছে ওর। ও এতটাই বদলেছে যে, চিন্তা করছে সামনের বছর হজ্বে যাবে।

তানিয়া আর মেহেদী সম্পূর্নই বিচিছন্ন আমাদের থেকে। কোনরূপ যোগাযোগ নেই। শুনেছি ওদের আরেকটি মেয়ে হয়েছে।

সম্রাট আগামী ইলেকশনের নমিনেশন পেয়েছে একটি বিশেষ দল থেকে। দল ক্ষমতায় আসলেই ও মন্ত্রী হবে। অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়েছিলো আগেই। ওর বিজনেস ইউনিটের লিস্ট খুবই লম্বা। দু'পুত্রের জনক সেদিন আমাকে বললো: আমিও পলিটিশিয়ান হয়ে গেলাম। মানুষের দুঃখ খেতে পারবনা।

পাপ্পু বাংলাদেশের সেরা শিল্পী-এক নম্বর শিল্পী-সবই। সত্যিই খুব ভালো মিউজিক করছে সে। কিন্তু নাফিসার সাথে ওর ছাড়া ছাড়ি হয়ে গেছে। এটা ভূলতেই বোধ হয় ও মিউজিকের সাথে চুড়ান্ত সম্পর্ক গড়েছে।

সাইফের কোন খোঁজ নেই। মেইল করলে রিপ্লাই আসে 'ব্যস্ত আছি'।

তায়েফের গত বছর বাইপাস সার্জারি হয়েছে। বেচরার বয়স মাত্র চল্লিশ। মিতুল অবশেষে ওকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। ওর ব্যবসাও ভালোই চালাচেছ।

এবং আমি ............. ভালোই আছি। চাকরি, সাধারন ও ফরমায়েশী লেখালেখি নিয়েই আজকাল দিন কাটছে। মাঝে মাঝে আবারো প্রতিবাদি হতে ইচেছ হয়। কিন্তু পারি না। শুধু একলা ঘরে চিৎকার করে বলি 'আমি ভালো আছি'।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28710528 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28710528 2007-05-14 13:04:58
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-১০)  কী বস? কই চললেন।
 যাচ্ছি অফিসে, এই সাতাশে।
 লিফট দাও।
 চলে আয়, শুনলাম চাকরি ছেড়েছিস?
 হ্যা, দু'মাস একটু ঘুরবো ভাবছি। তারপর দেখা যাবে।
 হুম! আংকেল কী বলে?
 কিস্যু না। দু'মাসই তো। চুপ হয়ে গেলাম, আচ্ছা সুমিতের ওখানে দুপুরে খাবো। তারপর কি করব?

সম্রাট ভাই আর আমি ঘুরছি রাস্তায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম; প্রব্লেম শেষ না আছে।
 ওইসবের কী শেষ আছে? মিউজিক ছেড়ে দিলাম একদম। বাদ দে, শুনেছিস, পাপ্পু নাকি বিয়ে করছে?
 হ্যা। নাফিসাকেই তো, শুনলাম বেশ জব্বর আয়োজনে নাকি নামাবে?
 হ্যা, আফ্টার অল, দেশের এক নম্বর শিল্পী ও। ও নয়তো কে এই রকম জম্পেশ বিয়ে করবে?

মনটা খারাপ হয়ে গেল একটু। সেদিন বিকেলে দেখা হয়েছিলো শায়লার সাথে। শায়লার সাথে কী গভীর কামঘন সম্পর্ক ছিল! আমরা আরেকটু হলে বোধ হয় বিয়েই করে ফেলতাম! কিন্তু সেদিন বিকেলে ওর আর ওর বরের সাথে যে দেখা হলো, আর আমি কোনো রকম দুঃখ জেলাসি বা মন খারাপ করলাম না। আমি নিজেও কিছুটা আশ্চর্য। সুন্দর মতো গেলাম, স্বাভাবিক কথা-কেমন আছো,বাচ্চা কেমন আছে, অনেক বড় হয়েছে দেখছি বাড়ি যাবো-এসব টাইপের বলে চলে গেল। নীলাও আমাকে মনে রাখেনি। আরো যাদের সাথে সম্পর্ক ছিলো, কোনটাই বেশীদিন টিকেনি। আবার দু'একজন তো বলল এখনই বিয়ে, নইলে কখনো না; আজব কিসিমের সব ঝামেলা, কত্তো যে অশ্রুপাত-মেইলে, ই-মেইলে, সেলে; একদম বিরক্তি লেগে গেল একটা সময়। মূলতঃ ভালবাসাটাই আমি পাইনি, যা ছিল সবই লোভ লালসা। কিংবা ওদের ভালবাসাটা উপলদ্ধি করার মত মতা আমার নেই। ভেজিটেবল হয়ে গেলাম কী?

 কী রে কি ভাবছিস?
 সম্রাট ভাই, তুমি সম্প্রীতিকে ছাড়া কাউকে আর ভালবেসেছে?
 নাহ, এক সাথে কত সাইকেল চালামু?
 তাহলে ঐ যে তোমার সাথে এত্তোগুলি মেয়ে, ওদের সাথে তোমার আবেগ; কারো সাথে love making... এগুলো?
 কিস্যুনা, শুধু মাত্র আনন্দ।
 তাহলে তোমাদের মধ্যেকার সম্পর্কটা?
 ওটা আসল, অন্যান্যগুলো চেঞ্জ, এই তো।
 ভালোই তো, মনে হয় তোমার মতো যদি সার্কাস্টিক ম্যানেজমেন্টে আমিও নামতে পারতাম তবে জোশ হতো। confusing লোকজন।

বাড়ীতে আজ বোধ হয় কোন প্রোগ্রাম, আব্বা-আম্মা বেশ ছোটাছুটি করছে, আমার মনে হচেছ ভাগি, নয়তো প্রব্লেম হবে, কিন্তু একটু পর পর আম্মা বলে কেক কাটতে, ভাইয়া বলে গাজর কাটতে, বিচ্ছিরি। সমস্যাটা যে কোথায়, মোবাইলে কল আসছে দেকচি। কে?
 কীরে সুমিত? কি হইছে?
 আজ পাপ্পু ডাকছে, ব্যাচেলার'স নাইট।
 বেশ তো, সবাইরে বলছিস? আমি তো ভুইলাই গেসিলাম!
 আমি, তুই, পাপ্পু, তোর ভাই, তায়েফ-আর কে?
 সম্রাট মেহেদি সবাইরে বলে দে। আসলে পাইলো, নাইলে মিস। ঐ রাখি মা ডাকে।

দোকান থেকে ডিম নিয়ে মাকে দিলাম।

এবার রাতের প্রস্তুতি।

একটু আগে হাল্কা বৃষ্টি হলো, গরম আরো বেড়েছে। ভ্যাপসা অবস্থা, প্রায় পচিশজন এসেছে। সম্রাট ষ্ট্রিপটিজের ব্যবস্থা করেছে। আমি দেখছি। হঠাৎ ইশতিয়াক ভাইকে বললাম: তোমার কাছে বিশ টাকা হবে?

তায়েফ আর আমি যাচ্ছি সুমিতের বাসায়। তিনজন মিলে যাব বিয়েতে। পাপ্পু ও বিয়ে করছে! ভালোই লাগছে। তানিয়া আর মেহেদী আসবে না! ওদের একটা ছেলে হয়েছে বছরখানেক হলো। অথচ মনে হচ্ছে মাত্র কয়েক দিন আগের ঘটনা যে ওরা বিয়ে করলো। খুবই সুখে আছে ওরা, সবকিছু বাদ দিয়ে!

বিয়েতে সবাই ফূর্তি করছি। আমি বহুদিন পর আবারও জম্পেশ আড্ডা পেলাম। ভালই লাগছে । এ ফাঁকে সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম আজ আড্ডা হবে কিনা? সুমিতের অফিস, সম্রাটের ক্লাস নিতে হবে (ও এক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক), ফুয়াদের আর তায়েফের কাল অফিসে জরুরী মিটিং আছে, নয়তো থাকতো। এমনই হয়, আমি মনে মনে বললাম।

সকাল থেকে গাটা খুব ব্যাথা করছে। গতকাল রাত থেকেই শুরু। হঠাৎ গা ম্যাজ ম্যাজ কেন করছে বুঝতে পারছি না। শুক্রবার। ভেবেছি ঘুমাবো চুটিয়ে। নাহ, ¯স্লিপিং পিল ছাড়তে হবে দেখছি। সকালে একটু লিখি আজকাল। নতুন চাকরি নিয়েছি। শুক্রবার ছাড়া সময় পাচ্ছি না। নতুন গল্প লিখছি, শুরু করেছিলাম এভাবে;
‘ ছেলেদের সাথে মিশতে হবে না হলে মেয়েরা বোকাই থাকে। ত্ক্ষেত্র বিশেষে অশিক্ষিত ও। শুধুই হেঁসেল ঠেললে তো মানুষ হিসাবে বিকাশ হবে না-মেয়ে মানুষ-ই থেকে যাবে‘।

লাইনটা লিখে বসে আছি। কেমন যেন স্কুলের কোন মহান শিক্ষক অথবা এনজিও সেমিনারের কথা। কিন্তু কী করব এ দিয়ে? যতসব ফালতু পুরীষ বের হচেছ, লেখা নয়। আজ কী আর লেখা হবে? মন টানছে অন্য কিছুর দিকে। চিন্তায় ডুবে যাই একটু। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুন্দরবন! কী ব্যাপার? মানে কী এর? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28709830 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28709830 2007-05-09 18:25:32
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-৯)
তায়েফ
সুন্দরবন থেকে।

প্রিয় মিতুল,
কেমন আছো? এখন বিকেল ঠিক পাঁচটা তেত্রিশ, পশুর নদীর ঠিক মাঝখানে বসে লিখছি। অবশ্যই নৌকাতে আছি। আর চিন্তা করো না; নৌকা ডুবির ভয় নেই। চিন্তা না করলেও রাগ যে আছে, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, বিশেষত: অফিসের চাপে সময় দিতে না পারায়তো এমনিই রাগ করে আছো, উপরন্তু এই ছুটিতেও আমি তোমার কাছে নেই। কিন্তু কী করব বলো, বন্ধু সেবা বলেও তো একটা ব্যাপার আছে। ফুয়াদের ব্যাপারতো জানোই। রিহ্যাব থেকে ফেরার পর প্রত্যেকেই বন্ধু সঙ্গ একটু বেশী চায়। তাই ওকে নিয়ে সুন্দরবনে আসা just for a little change! প্রায় দশদিন হলো এখানে এসেছি। এ ক'দিন প্রচুর মজা করেছি। ক্যাম্পিং, সাঁতার, মাছ ধরা ...অন্য রকমের নিজেকে জানছি যেন। তবে কয়েক দিন আগে নদীতে সাতার কাটতে গিয়ে প্রায় ডুবেই গিয়েছিলাম। পানির নীচে দম আটকে আসছিল। মৃত্যুকে হঠাৎই যেন খুব কাছে পেলাম। ফুয়াদ টেনে উঠালো। সাথে নেপো ছিল আমাদের গাইড। তবে এই ডুবে যাওয়াটা কিন্তু এখন খুবই উপভোগ করছি। একেকবার একেক রকমের অনুভুতি হয়; ঠিক যেমন নেশাগ্রস্থ মানুষের মতো। একটা জিনিস ল্ক্ষ্য করেছো? ফুয়াদ এখন আমাকে বাঁচাতেও পারছে পানি থেকে তুলে, যে কীনা ক'দিন আগেও নিজেকে চালাতে পারতো না। সত্যিই আনন্দ লাগছে আমার।

এখানে সব সময় আনন্দ করছি। নিস্তব্ধতায় নিজেদের মিশিয়ে দিচিছ, তারপরও কিন্তু ঠিক পরিতৃপ্তি পাচিছ না। মনে হচেছ তোমায় পাশে পেলেই সবকিছু পরিপূর্ণতা পেত। শুধু তুমি আমি আর ঘন বনানী - কেমন মনে হয়? এখানে থাকব আরো প্রায় পঁচিশ দিন। চলে আসোনা মিতুল, আসবে? যা একা করছি সব সাথে করতাম। আসবে? আজ সকালে আমার শরীরটা বেশ খারাপ ছিল। এ ক‘দিনের অতিরিক্ত সিগারেট আর তোমার শাসনহীতায় অ্যালকোহলের মাত্রাতিরিক্ততার ফলাফলই বোধ হয়। তোমার কাছে করা প্রমিসের এরকম ভরাডুবি হয়তো মার অযোগ্য। কিন্তু প্রকৃতির এই নিবিড় কোলে সভ্যতার জড়বদ্ধ মুখোশটা একটানে ছিড়ে ফেলার ব্যর্থ প্রয়াসই এটাকে বলা যায়। যা বলছিলাম, হঠাৎ করে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল, চোখ ঝাপসা বুকে প্রচন্ড ব্যথা। হঠাৎ করে মাটিতে পড়ে গেলাম। শুয়ে থাকলাম কিছুন। শরীরটা প্রচন্ড কষ্টে ছিল আমার। তারপর ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক। তখনই দেখলাম সবচেয়ে আশ্চর্য দৃশ্য। একটু দূরে একটা বাঘ জ্বল জ্বলে চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমিও। একটু পরে অবশ্য মামা চলে গেলেন। আমি তখনও স্তম্ভিত। নিজেকে যেন সবচেয়ে ভাগ্যবান মনে হচিছল।

একটা কথা ছিল। সামনে বলার সাহস বা দৃঢ়তা কখনোই পাবোনা। তাই চিঠির আশ্রয় আজ নিলাম। এর মাধ্যমেই হয়তো আমাদের জীবনের একটা ঝড় কে আমরা মোকাবেলা করতে পারব। প্লীজ একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ো।

দিন কয়েক আগে আমরা নেপোর এক পরিচিতের বাসায় যাই। সেখানে আমরা যথেষ্ট স্ফুর্তি করলাম। তারাও সাধ্য মতো আমাদের খাতির করলো। রাতে একটা ছোট খাটো ভোজ দিল। আগুনের কুন্ডলীর পাশে দাড়িয়ে আমি, তখনই হঠাৎ বন্দনার সাথে আমার দেখা। বন্দনা, দেখতে যথেষ্ট আকর্ষনীয় দুঃখী বঞ্চিত একটা মেয়ে? বিধবা, প্রায় চার বছর হতে চলল। ওর সাথে আমার ভালই গল্প জমে উঠেছিলো। ওর সবই আমাদের বলল। পরবর্তীতে আমাকে বলেছিলো ওর জীবনের একাšত কষ্টকর অভিজ্ঞতার কথা।

না, বন্দনা স¤পর্কে বেশী কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত, স্বশিতি এই মেয়েটার খুবই দুঃখ, প্রায়ই সন্ধায় আসতো আমার কাছে। এ কথা সেকথা সময়টা প্রায়ই উড়ে যেতো। এক সময় বলল ওদের গোত্রের নিয়মের কথা, গোত্রের বাইরে ওদের বিয়ে হয় না। বিধবা হলে পুনঃ বিবাহের নিয়ম নেই। এরকম ভাবে কয়েকদিন গেল। গতকাল ছিলো ওদের পূজা। সে পূজাতে আমরা সবাই-ই তাদের সাথে সম্পূর্ণ মিশে গিয়েছিলাম। আয়োজন বলতে প্রচুর চোলাই মদ-ওরা বলে হাড়িয়া। আর লবন লাগানো সেদ্ধ ছোলা সাথে কাচা মরিচ। ছাতুও ছিল। কিন্তু খাওয়ার নিয়ম আমাদের বারের মত টাকা দিয়ে কিনে খেতে হয়। তবে দাম প্রচুর কম। মাত্র পঞ্চাশ টাকাতেই ওদের সব মদ আমি কিনেছিলাম। সবাই খেয়েছে- আমিও, মদ খেয়ে পুরো মাতাল। মনে হলো আমি এদেরই একজন। রীতি মতো নাচছি হেড়ে গলায় গাইছি। এক বুড়ো মদ খেয়েই যাচেছ, সারা শরীর নেশায় টলমল, কিন্তু ঢোলের তাল কাটছে না। সে সময়ই হঠাৎ নিজেকে কেন জানি প্রচন্ড অসহায় মনে হলো। মনে হলো অর্থহীন সব-বেঁচে থাকা, গান শোনা, সব। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে আসছে, নাচ ছেড়ে বনের ভেতরে ঢুকলাম, সিগারেটের আগুনে সামনেই দেখলাম বন্দনা। তার উষ্ণ অধর, কামনামদির চোখ আর অস্থির হাতে নিজেকে হারিয়ে ফেললাম আমি।

সে ঘটনার পর আমি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হইনি। মদিরা খেয়েই যাচিছ, সিগারেট টেনেই যাচিছ-অস্থিরতা কমছে না। নিজেকে ছোটো মনে হচেছ। আজকে সকালে বাঘটা দেখে আমরা মনে হয়েছিল এ কষ্টকর মৃত্যুই কী তবে আমার প্রায়শ্চিত্ত! এত সহজ! তাই বাঘটা যখন চলে গেল, নিজেকে ভাগ্যবান মনে হলো। ভাবলাম কারন আমি অন্তত কনফেস করতে পারবো, প্লীজ মিতুল চিঠিটা শেষ পর্যন্ত পড়ো, প্লীজ।

কী বলব আর আমি, তোমার তায়েফ আজ তোমার সমস— প্রতিজ্ঞা ভেঙ্গে হয়েছে বিশ্বাস হন্তা। নিজেকে নয় তোমার বিশ্বাসের মৃত্যু আমি কীভাবে সইবো? নিজেকে শয়তানের চেয়েও নিকৃষ্ট মনে হচেছ যার সব ওয়াদাই প্রতারনা ছাড়া কিছু না। নিজেকে মনে হচেছ জুডাস, যে কীনা প্রভু যিশুর সাথে চরম প্রতারনা করেছিলো। তবে কী জানো, আমি আজো ভাবি ফিরেই তোমাকে নিয়ে যাবো লং-ট্রিপ-এ। কেউ থাকবেনা। হারিয়ে যাব অনেক দূরে কোলাহল ছেড়ে একটু আড়ালে, তুমি আর আমি সাথে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা, ঘুট ঘুটে আধার, একটু হিমেল হাওয়া, সেখানে তোমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকব। নিরালায়, একাকী দু‘জনা। সবই স্বপ্ন, কোনদিনই হয়তো আর তোমায় পাবো না। কিন্তু তোমার জন্যই আমি ছিলাম তোমাকে মনে করেই থাকব। এটাই আমার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত। হয়তো কখনো বলবে কেন বলেছিলাম এ কথা। মনে পড়ে তোমার, একদিন আমাকে একটি বই দিয়েছিলে; 'চঁাদের অমাবশ্যা' ওটা পড়ে বলেছিলাম, একজন মানুষের সব সময়ই উচিৎ নিজেকে নিজের কাছে ওপেন রাখা। নিজের কাছে বিশ্বস্ত থাকা। কখনও যেন তাকে নিজের মুখোমুখি হলে চোখ ফিরিয়ে নিতে না হয়। নিজের কাছে যে হেরে যাবে, পৃথিবীর তাকে হারাতে কোন সমস্যাই হবে না, গ্রাম্য শিকের সেই চরিত্রটা সর্বদাই আমি মনে রেখেছি। আজ, এখন থেকে অন্তত এটুকু আমি বলতে পারবো যে, নিজেকে আমি ঠকাই নি। নিজের বিবেকের সামনে তো দাড়াতে পারবো! নিজের চোখে চোখ রেখে বলতে পারব, আমি অপরাধী কিন্তু spine less নই। অপরাধী যখন নিজেকে বুঝতে পারে তখন তাকে কী আর অপরাধী বলে? আমি তোমার কাছে ক্ষমার্হ কিনা জানিনা, কিন্তু নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো elementsআমার আছে।

আমি পরজম্মে বিশ্বাসী নই, কিন্তু আজ প্রচন্ড ভাবে চাইছি আমার নবজম্ম হোক। পরজম্মেও আমি তোমাকে চাই। চাই এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে। চাই সেখান থেকে বীর দর্পে বেরিয়ে তোমার কাছে ছুটে আসতে, তখন তো আমায় ক্ষমা করবে তুমি। করবে না?

তোমারই
তায়েফ


সিমন

বিজয় স্মরনীর বিশাল জ্যামে আটকে আছি। সময় দুপুর ৩টা, এখন যতদূর সম্ভব বসন্তকাল। কাঠফাটা গরমে সি.এন.জি'র ভেতরে ঘামতে ঘামতে দু'নটে কবির নাম হাতড়াচিছ, যারা বসন্ত নিয়ে বহু প্যাচাল পারছে; ইচছা কষে গালাগাল করবো, কিন্তু কোন (বলার অযোগ্য) নাম খুজে পাচিছ না। এখান থেকে যাব মীরপুর-ছোট ফুফুর বাসায়। উদ্দেশ্য মহৎ না কিছু কামাই, দুপুরের খাওয়া (বোধ হয় বিকেলে খেতে হবে) ইত্যাদি, ইত্যাদি। (বলার অযোগ্য) কিছু লোক দেশের শীর্ষ নেতা মন্ত্রী, ইচ্ছে করে লাথি মেরে ওদের (বলার অযোগ্য) গলিয়ে দিই। নাহ; সিমন, কুল ... বি কুল। কিন্তু কী ভাবে, নিজের সাথে বোধ হয় আবার শুরু হলো। 'ন তুমি নিজেকে নিয়ে ভাবো। দূরের ভিক্ষুকটার কথা ভাবো, যে কিনা রোদে...' চুপ থাক, বেতমিজ। চার পাশে একগাদা এ.সি গাড়ি, ভেতরে চিরায়ত বাংলার শাশ্বত নারী, কেউ কেউ প্রায় বিবসনা, ওদের না দেখে দেখব ভিক্ষুক? মজা নাও! নিজেকে নিয়ে হতাশ হচ্ছো'?সোনার জান, তুমি জানোনা, আমার চাকরি নাই। তোমার সাথে কথা বইলা ছাড়লাম চাকরিটা। সাতদিনে গিলে ফেললা?
'ওটা তোমার জন্য ছিল না'।
আমার জন্য তো জ্যামের মধ্যে বিবসনা নারী, দুজনের মধ্যে কাঁচের দেয়াল। একজন মেরুতে মরুভাবে, আরেকজন মরীচিকার কোপানলে, নাহ্ তেমার সেরিলাক-টা আজকাল জমছে না, অন্যকিছু ভাবো। অন্য কিছু।

রাতে ফুফুর বাসায় বসে আছি। বারান্দায় বসে সিগারেটটা মাত্র ধরালাম। দেখি জল্লাদ (বোন)।
 ও তুই! (টানতে টানতে) জানিস, যখন আমি তোর বাসায় আসি তখন প্রতিবারই ভাবি কোন একটা কেল্টুরে ধইরে আনব। তারপর তোর শাদী। আর আমার মহানন্দে ধোয়ার রিং, এই যে একটা।
 আহা, জানো না আমার বয়স হয়নি। দেশে কি আইন নাই? ক্যাক করে ধইরে.....
 আইন কানুন! কে? ঐ যে একটা সাদা মুর্তি, চোখে কালো পট্টি বাধা? হাতে পাল্লা! চিনিতো ওকে-কী বলে যেন-হ্যা হিন্দিতে 'আন্ধা কানুন', অমিতাভের ছবি, দেখেছি তো।
 উফ! তোমারে ধরে........
 কিছু হবে না কুনো লাভ নাই। এই যে সিগারেট শেষ। এবার ফোট, তোর বাপ আসলে বলবি যে আমি ঘুমোচ্ছি। গুড নাইট।

ব্যাংকে আছে ছ'হাজার মাসের বাকী বিশ দিন। পকেটে ফুফু'র টাকা সহ প্রায় পনেরোশ বিশ টাকা (বিশ টাকাটাই আমার)। এখন বারো দিন যাবে, আট দিনের মধ্যে দু'দিন যদি....... নাহ্। কাল সুমন ভাইয়ের কাছে যাব। হাতে তিনটা লেখা আছে গল্প, কলাম আর সমালোচনা, যেইটা নেয় ওইটার উপর টাকা, মাস গেলে চাকরি নেব। মোবাইলটা জ্যান্ত-ই আছে। আর মনে হয় কোন প্রব্লেম হবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28709647 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28709647 2007-05-08 15:28:09
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-৮)
 কীরে ফুয়াদ কই?
 দুপুর থেইক্যা আছি, ওরে তো দেখিই নাই।
 তা দেখবি কেমনে, নিজেরে দেখতাচোস তো?
 হে: হে:, শুনো জলদি ভাগো, রেইড হইবো আজ।
 কিন্তু ফুয়াদ?
 জাত ডাইল খোররে পুলিশ ধরে না, তুমি ভাগো।

এদিকে প্রিন্স টা যে কোথায় গেল! পেয়েছি, বের হলাম। গেটের কাছেই দেখি ছোট্ট মন্দির। গ্রিল দিয়ে ঘেরা। ভালই, মাজারে চলে গাঞ্জা আর মন্দিরের পাশে ডাইল। কে কয় হিন্দু-মুসলমানের গ্যাঞ্জাম আছে আমাদের দেশে?

সকাল হইলো, শরীরটা ম্যাজমেজ করছে। চারপাশে এক গাদা লোক বসে আছে। প্রিন্স পাশেই। সেলের বাইরে দেখি একটা ভুড়িওয়ালা লোক বইসা আছে। পুলিশ, গতকাল ধরা, পট্টির বাইরে বাইর হইলাম, অমনি পুলিশ- শালার ব্যাড লাক! তবে হাজতে রাতে ভালই মজা হইছে। প্রিন্স গান শুনাইছে একের পর এক, আর আমি রজনীরে খোচাই একটু পর পর, শালা জাত ডাইল খোররে পুলিশ ধরেনা না! রাতে রেচারা রজনী ভূঁড়িওয়ালার কাছে একটু খেয়েচে। তরে যে ডাইলগ দিছে...'দূই বিঁচির জন্যে দূই বাড়ি ওকে'। একটা ঠোলা দেখি আমারে আর প্রিন্সরে ডাকছে। এইবার কী আমরা না কি? ভূঁড়িওয়ালার কাছে গেলাম।
 বসেন,
 থ্যাংকস, (সাপ খেলতে হবে মামা। দেখি কেমুন খেলা তোমার। আমিও খেলি। খেলারাম খেলে যা।)
 আপনাদের দেখে তো ভদ্র ঘরের সন্তান মনে হয়।
 আমরা বেসিক্যালি ভদ্র ঘরেরই ছেলে।
 তো পট্টিতে যে?
 একজন বন্ধুকে খুঁজতে এসেছিলাম, একটু স্ক্রু ঢিলা তো; তাই.....।
 কী করেন আপনি?
 তেমন কিছুই না, (দিলাম চাল)
 তবে চলে কিভাবে?
 এই, আমার একটা কাপড়ের দোকান আছে, আর আমার ¯স্ত্রী ...... চাকুরে, আমাদের কিছু ছোট ভাই আছে। তারাও খাওয়ায়।
 তা বেশ, তো ঠিক আছে। যান আপনারা, আর আপনি ভালই গাইতে পারেন, এইসব খেয়েইকি ওরকম গলা?
 আসি স্যার আমরা, সালাম।

নাহ্, খেলাটা জমলো না। আরেকটু ইয়ে হলে ভালো হতো। যাই, সিমনের বাড়ীত যাই।

রেকর্ডিং ষ্টুডিও। এবার আমার হাফ শিফট, চার ঘন্টা। বেজটা টিউন করছি, হয়েছে। ষ্টুডিওর টেক রুম, শুরু করলাম বাজানো। আহ্ পারফেক্ট। Everything is so smooth! আমি বাজাচ্ছি, বাজাচ্ছি। চার ঘন্টা ...... বহুত সময়।


তায়েফ

সুমিত,
কেমন আছিস? আমি মানে আমরা ভালই। বেশ মজা করছি। সিমন বেশ শুকিয়েছে, ফুয়াদও নর্মাল হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালই, কি বলিস? এখানে এসে উঠেছি কাকুর বাসায়। জায়গাটা বনের একটু ভেতরে। বিদ্যুৎ নাই। তবে এই শীতে বিদ্যুতের কী ইউজ! বারান্দার পাশে, রাতে প্রায়ই হুংকার শুনি, কীসের বুঝতে পারছি না। বাংলোটার পাশেই একটা বিশাল মাচা, ওটার উপরে উঠে সিমন প্রায়ই বিকেলে দাড়িয়ে থাকে, আর সিগারেট খায়। বলে ধোয়াটা নাগালের বাইরে পাঠাচেছ। এখানে এসে ফুয়াদ ভালই ম্যাচ করে নিয়েছে। প্রতিদিন সকালে হেটে বেরিয়ে যায়। দুপুরে ফিরে জম্পেশ খায়। সিমন আর আমি যাই বাঘের পায়ের ছাপ খুজতে, সাথে নেপো নামের এক আর্দালি থাকে। এখনও খুঁজে পাইনি, বাঘ আছে কীনা তাও জানি না। আজ বেলা প্রায় দশটার দিকে আমরা চারজন মিলে একটা মৌচাক ভাংলাম, ওটার মধু বন মোরগের সাথে মিক্স করে পুড়ায়ে খেলাম। একটু নেশার মত লাগলো মনে হয়, ফুয়াদ আর আমি মাচায় উঠে সহজে নামতে পারি না। পরে কাকু নামালো। ও সময় ভার্সিটির ফায়ার সোহেলের কথা মনে হলো, ওদের ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ল্যাডার দিয়ে সহজেই বেয়ে নামতে পারতাম।

গত সাতদিনে কটকার বহু কিছুই দেখলাম। ভেবেছিলাম এখানে লাইফটা ইজি গোয়িং। কিন্তু না দলাদলি এখানেও আছে। কাঠ চোর, মাছ চোর - ওদের বিচার-সব মিলিয়ে ঢাকার চেয়ে এখানকার অবস্থার খুব বেশী ইতর-ভেদ নাই। দু'তিনটা স্থানীয় ফ্যামিলির সাথে দেখা হয়েছে, ওদের বাড়িতে রাত ও কাটিয়েছি। আতিথেয়তার কোন ত্রুটি নেই। ওরাই আবার এখানকার একটা নদী আছে, পশুর নদী, ওটাতে নৌকায় ঘুরালো। বলা যায় মৌজে আছি। দু'তিনদিন বাদে ওদের কী একটা পুজা আছে জানি, সিমন তো ওটার জন্য লাফাচ্ছে, ফুয়াদ সিমনের ক্যামেরা নিয়ে একের পর এক ছবি তুলে যাচেছ। ওর সিনেমার ভুত এখনো নামেনি। কী এক ডকুমেন্টারী বানাবে বলছে।

অফিসের ছুটি আছে, তাই নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছি। নো টেনশন, এক মাসের এই ট্যুরে বলতে পারিস লাইফের নতুন একটা ভিউ পাচ্ছি। খুব শিগগিরি একবার হিরণ পয়েন্টে যাবো। তবে আজকাল যে হারে লোক আসছে, তাতে কতদিন আর থাকবো বলাটা মুশকিল। সাইলেন্সির খোঁজে এসেছিলাম, কিন্তু এখানেও ক্রাউড। তবে একটা ফ্যামিলির সাথে পরিচয় হলো ক'দিন আগে। ওরাও ঢাকা থেকে। মেয়েটা দেখতে বেশ। দু'জন আছে। সিমন আর ফুয়াদ কামড়া কামড়ি লাগিয়ে দিয়েছে। তবে সিমন বোধ হয় খাতির ভালই জমিয়েছে। ওদের ছবি তুলেছি। রিলটায় আছে। দেখ, চিনতে পারিস কিনা। কাল ওদের বাড়িতে দাওয়াত, ওদের একজনের নাম শশী, আরেক জনের নাম শাম্মী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28709369 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28709369 2007-05-06 17:23:25
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-৭)  সম্রাট ভাই, আনছি, পাপ্পু ব্যাগ দেখায়ে বলে,
যাক আনলো, শালারে ধইরে....কিন্তু হাসিমুখে বল্লাম
 এনেছিস, চল তাহলে যাই আমরা।
 সম্রাট ভাই, আমি চইলা যামু।
 কেন মেহেদী সোনা, আমাদের কবিতার আসরের কী হবে?
 না, তানিয়া একা আছে। চিন্তা করবে।
 যা তইলে, সামনেই তোদের অ্যানিভার্সারী না?
 হ্যা এইতো ডিসেম্বরে।
 গুড, ভেরী গুড। আমরা বের হলাম, পাপ্পুর বাড়ী মালিবাগে। রওনা দিলাম সবাই।

ঝিম ধরে বসে আছি সবাই, সুমিতকে আর সিমনকে দেখছি, কত পরিবর্তন, একটার দাড়ি পাকছে আরেকটার ছোট্ট টাক, ভালই।
 সম্রাট ভাই, (সিমন জড়ানো গলায় আমাদের ডাকলো)
 কী ব্যাপার?
 বোতল আছে কয়টা আর?
 দুইটা, ক্যান এখুনি একটা খাবি নাকি?
 না, পাপ্পু গান ধরনা একটা।
 গান, কোনটা শুনবি?
 গা একটা।
পাপ্পু গান ধরলো, আমি গিটারে রিদম দিচিছ, টানা দুইটা গান বাজালাম। বাইরে হটাৎ বৃষ্টি শুরু হলো, ঝিম লাগছে, সবাইরে উঠাইলাম, বৃষ্টিতে ভিজবো। ছাদে উঠলাম, গোল হয়ে বসেছি সবাই, সুমিতের হাতে দু'টো বোতল, সিমন হঠাৎ বললো আমরা খেলব।
 এখন কী খেলবি?
 চার বছর আগের খেলাটা, আমার বার্থডেতে খেলেছিলাম, মনে আছে?
 কোনটা রে?
 আমরা নিজের সম্পর্কে বলবো, কোন কিছু লুকাবো না, অন্তত: আজ না। খেলবে আবার?

ফুয়াদটাও তো ছিলো, অবশ্য অনেক ইমপ্রুভ হয়েছে ওর। শিগগিরই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবে বেচারা।

বেশ, তো শর্ত আছে। কয়েকটা।
 কী শর্ত? কেন শর্ত?
 কারণ ............. আচ্ছা যা, নাই কোন শর্ত, পাপ্পু বল।
 আমি, আমি ভাল, কারণ আমি গিটার পারি, কী-বোর্ড পারি, গান গাই, আমি ভালো। তবে আমি কোন কিছুই ভাবি না। বোহেমিয়ান না, চিন্তা করে করি না। এই জন্য মন্দ। ঠিক যেন ডক্টর জেকিল এন্ড মিস্টার হাইড। ফ্যামিলি ভালো বাসি। কিন্তু বিয়ে করিনা, নাফিসাও ওয়েট করতেছে, কিন্তু সময়ই পাইনা, একটা ক্যাসেট বের করবো আবার, এইটা যদি চলে তো পাংখা। দেশের এক নম্বর শিল্পী পাপ্পু, হি: ... হি: (এক ঝটকায় গ্লাস শেষ)। তবে কী জানো সম্রাট ভাই, আমার যে বউটা আছে, ওরে কিন্তু আমি জটিল ভালবাসি। আর এখন অন্যমেয়ের সাথে কিছু করছি না, ভাল হয়ে গেছি। তাহলে আমি ভাল কী ভাল না? কী বলো?
 সুমিত, তুই বল।
 আমি কিছু বলবনা, আচছা একটা ঘটনা বলি শোন। সেদিন একটা সরকারী অফিসে ইন্টারভিউ দিলাম। প্রশ্ন করে, সিরাজ উদ দৌলার বাপের নাম কী? মনে মনে বলি.......... (বলার অযোগ্য) আর মুখে বলি জানি না, তবে প্রয়োজনে জেনে বলবো। তারপর জিগায় আকবর কার নাতি? বললাম বাবরের। তারপর জিগায়, হাসন রাজার জমির পরিমান কত ছিলো? বললাম, এই চাকরির সাথে ইতিহাসের সম্পর্ক কি? হাসন রাজার কোন জমির অধিগ্রহন লাগবে? বলে চাকরি হবে না। আমিও উঠলাম, দুইটা কইষ্যে গাইল দিলাম, তারপর গাইতে গাইতে ফিরলাম, হো: হো:। সবাই হাসছে, বৃষ্টি টিপ টিপ পড়ছে, আমাকে সিমন কী যেন বললো। বুঝলাম না, চিত হয়ে শুলাম, ঘুউম্ম্ম্।

সাউন্ড সেন্টারে আসলাম মাত্র। আজ ব্যান্ডের প্র্যকটিস, নতুন গান কম্পোজ করেছি, 'সব মিথ্যে হয়ে যায়'। প্রিন্স বসে আছে। রনি গিটারের তার লাগাচ্ছে। আশিক বলল পাপ্পু আজকে আসবে না, কিছুই বললাম না, সোজা প্যাডে ঢুকে গেলাম। কী বোর্ড ছাড়াই গান শুরু হলো, আশিক গাইছে। বাজাতে বাজাতে মনে করতে থাকলাম দুপুরের ঘটনা আজ সম্প্রীতি ওয়ার্নিং দিছে। এক মাসে বিয়ে করতে হবে। সমস্যা নাই, ওটাকে বারো মাসে নেয়া যাবে। নতুন কোটেশন পাঠাইছি তানজিম ভাইয়ের কাছে, ওদিকে আবার রুস্তমের কাছে টাকা পাই, কিন্তু হলের গ্যাঞ্জাম ছুটাইতে হবে, আজ শান্টু ওয়ার্নিং দিছে। ধ্যাৎ আবার বিট মিস করলাম,
 এ সম্রাট কি হইছে তোর?
 টিউনিং নাই বোধ হয়।
 সবই ঠিক আছে, ঠিক মতো বাজা। পরশু শো।
 মনে আছে।
 (বলার অযোগ্য), শালা ঠিক মতো ধর না, গীটারটা কি তোর বউয়ের (বলার অযোগ্য), না বাপের ....যে সাউন্ড বাইর হয় না।
 আইজকা মুড নাই বাজায়ে জুত পাইতাছি না।
 তইলে কী, ব্রেক।

বের হলাম রুমে থেকে, একটা সিগারেট ধরালাম, নাহ্ কিছুটা কনসেনট্রেট তো করতেই হবে, এভাবে মিউজিক হয় না।
 হ্যালো সিমন।
 হ্যা সম্রাট ভাই বলো।
 আমার কামটা হইছে?
 হ্যা শেষ। কখন নিবা?
 রাতে আসতেছি, তুই থাকিস।
 ক্লাস কেমন নিচ্ছ?
 ওই গাধা-গরু তো! আমি পড়াই, ওরা চুপ। কোন কোশ্চেন নাই। মাঝে মধ্যে হাম্বা হাম্বা; স্যার বুঝি না। চলতেছে।
 গুড, রেকর্ডিং কবে গানের?
 শোয়ের পরে একটা ডেট নিছি। দেখি তিন শিফটে কয়টা নামে। ফোনটা রেখে বের হলাম। আমি আর প্রিন্স যাবো এখন কমলাপুরে। ডাইল পট্টিতে নাকি ফুয়াদকে দেখা গেছে। যত জোরে সম্ভব বাইক ছোটাচিছ। প্রায় দশ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম।
 প্রিন্স, ফুয়াদরে ঘাড়ে ধরবি। আমি ঠ্যাং।
 দৌড় দিলে?
 কই যাইবো। দেখতে পাস না কী ভীড়।

আমিও হতভম্ব, এত্তো ভীড় ডাইল পট্টিতে, পাশে দুইটা সার্জেন্ট দাড়ায়ে রিকশা চেক দিচেছ, যাতে ভীড় না হয়। যদ্দুর জানি, বৃষ্টির সময় বৃটিশরা বিয়ার খায়, আমাদের বোধ হয় নয়া কালচার শুরু হচেছ, বিয়ারের বদলে ডাইল। দু'তিন জেনারেশনের ভিতরেই বোধ হয় এইটা কাস্টম হয়ে যাবে, এ ব্যাপারে ল'এর জামান স্যারের সাথে কনসাল্ট করবো নাকি? কিন্তু ফদুটা কোথায়?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28708926 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28708926 2007-05-03 17:45:07
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-৬)  কিছু না, ঘুমোসনি?
 নাহ্ আমিও ভাবছিলাম। আজ তো ফুয়াদ বাড়ি ফিরেছে। ডাক্তারের বাপ ও কিছু করতে পারবে না ওর।
 বেচারা, ওর সিনেমার কী হবে?
 আরো ফেন্সিডিল খাক।
 ছেলেটা স্বপ্নবাজ ছিলো। ফুয়াদের সাথে আমার দেখা হয় সাইফের মাধ্যমে, প্রথমে ফুয়াদ, তারপর সিমন, সুমিত, সম্রাট, পাপ্পু-সকলে একে একে এসে আড্ডা জমাতে থাকে। হঠাৎ হঠাৎ তায়েফ আসে, এখানে এসে কোন কথা বলে না, চুপচাপ থাকে, পুরো জড়। ক'দিন আগে সবাই বাসায় আড্ডা দিচ্ছিলাম, শর্মিলী সবাইকে চা দিচ্ছিলো, তায়েফ বলে বসলো, আমি চা খাইনা। খাস না ভালো, নর্মালি বল! তা না এমন ভাবে বললো যেন শর্মি কোন পাপ করেছে। শর্মিও আজকাল ওকে দেখতে পারে না। নাহ্ ঘুম পাচ্ছে। কাল আবার ক্লাশ...।

আমি আর ফুয়াদ ডাক্তারের কাছ থেকে বের হলাম। ডাক্তার অদ্ভুত সব কথা বললো। ওর নাকি লিভারে হালকা সমস্য হয়েছে। সেই সাথে মাথায় মগজের সেলে কী যেন হয়েছে। আর এরকম চলতে থাকলে আর দেখতে হবে না, বদ্ধ উম্মাদ হয়ে যাবে। তবে ভয়ংকর হলো, ফুয়াদের যে মানসিক অবস্থা তাতে করে হঠাৎ রাস্তায় বেরিয়ে কাউকে মেরে ফেলাও অস্বাভাবিক নয়। আরো কী যেন হয়; কী যেন---হ্যা, ডিপ্রেশন, অমনোযোগিতা, আমি ডাক্তারকে থামিয়ে বল্লাম, 'রাস্তায় ট্রাফিক কন্ট্রোল করার সম্ভাবনা কতটুকু?' রাস্কেল! হঠাৎ ফুয়াদ বলে উঠলো।
 হঠাৎ একটা কবিতা মাথায় ঘুরছে, শুনবি ?
 তুই-ও কবি হয়েছিস? আমার ভাত গেল।
 তাহলে কেক খাবি, শোন:

'মাটির বন্ধু হয়ে চলে যাবো
সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে,
তখন এক ফোটা অশ্রু
রেখো আমার পরে।
একটি গোলাপ ফুল রেখে যেও
আমার কবরে‘!

মৃত্যুর ইঙ্গিত কি তবে ফুয়াদ পেয়ে গেলো! বুদ্ধিমান ছেলে! সেদিনই সিমনকে জানালাম ঘটনা, ওর কোন এক বড় ভাই আছে ডাক্তার। সিমনই এখন দেখছে কেসটা; মানুষ কেন ড্রাগস নেয়? 'এর কি নির্দিষ্ট কোন উত্তর আছে'? ভেতর থেকেই কে যেন কথা বললো। কে তুমি? 'বিবেক'। ও, ওটাতো কবেই চলে গেছে, 'আবার ফিরেছি যে'। বেশ করেছো! থাকো খাও; তবে মাথা খেয়ো না।

পাশের রুমে সম্রাট, মেহেদীরা বসে আছে, আজ সম্রাট খুবই আনন্দে আছে। এ ঘর গলার পর্যন্ত আওয়াজ আসছে। আমাকে না পেয়ে শর্মির কাছ থেকেই আমার লেখা গুলো শুনছে ওরা। শর্মি একটা লাইন বলছে, হেসে গড়িয়ে পড়ছে সবাই। মেজাজটা প্রচন্ড খারাপ লাগছে, প্রচন্ড খারাপ। উঠে গিয়ে সাইফের চিঠিটা খুললাম।

তানিয়া darling,
কেমন আছিস? তোকে সেদিন শিকাগোতে দেখলাম মনে হলো, তবে অবশ্যই তা তুই নোস। চিঠিটা যখন লিখছি তখন আমি আইওয়া সিটিতে, যদিও নাম সিটি, তবে আসলে নাকি গঞ্জ। অনেকটা নোয়াখালীর মত। মিশিগান থেকে এখানে এসেছি ঘুরতে আমরা ছ'জন। আইওয়া-টা দেখতে চেয়েছি মূলত; সুনীলের বই পড়ে, ওর কোন এক পরকীয়া হয়েছিলো এখানে। জায়গাটা কিন্তু বেশ সুন্দর। এখানে এক রাত থেকে গেলাম আরেক গ্রামে। নাম ষ্টোন সিটি। দু'দিন ছিলাম। মাছ ধরলাম, ক্যাম্প করলাম, অদ্ভুত লাগলো। তোরা কেমন আছিস? চিঠি পড়ে তো নিশ্চয়ই বুঝেছিস আমি ভাল আছি। সব কিছুই ফাস্ট কাশ। কুকুর গুলো ভাল? একটা কবিতা লিখেছি তোর জন্যে পাঠালাম, কাল আবার মিশিগানে চলে যাচিছ। ইচ্ছে আছে এখানকার কতগুলো বাঙ্গালীকে প্যাদাবো ------আর পড়তে ইক্রেছ হলো না, ছেলেটা অদ্ভুত, না ছেলেটা অদ্ভুত না । ফালতু, একদম ফাঊল। হঠাৎ ঘুম এসেছিলো। স্বপ্ন দেখছি, সুন্দর সরল একটা পথ উঠছে তো উঠছে। আমিও হেটে যাচ্ছি। উপরে কেমন কুয়াশা, কেউ নেই কোন শব্দ নেই, উঠছি উঠছি, হঠাৎ পা ফসকে গেল নাকি? না আবার উঠছি আমি। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। খুবই কান্না পাচ্ছে, কিন্তু আমি উঠেই যাচ্ছি, উপরে; অনেক উপরে।


সম্রাট

আমি, সিমন আর সুমিত হেটেল তিতাসে বসে গ্রীল চিকেন খাচিছ। মেহেদী টাকা দিয়েছে। ও আর পাপ্পু গেছে বোতল কিনতে। পাপ্পুর বাড়িতে আজ আসর বসাবো। আমরা আমরাই শুধু। আজ সিমনের জম্মদিন, জটিল হয়েছে চিকেনটা। বললাম:
 তারপর সুমিত নতুন কী প্রব্লেম বাধালি।
 আমি এখন প্রব্লেম মুক্ত। বলতে পারো একদমই একা।
 শর্মিলীটা বিট্রে করলো তাহলে অ্যা?
সুমিত একটু চিকেন গিললো।¯স্প্রাইটে চুমুক দিলো। তারপর বলল:
 বিট্রে না, বিয়ে করলো। আমার মতো ভ্যাগাবন্ডের সাথে কে থাকবে?
 আইচ্ছা, আটকাইলি না।
 কী হবে!
 বাদ দাওতো ভাই, সিমন বললো, মনে নাই, আমাদের সুমিত হচেছ সম্পূর্ন রাজহাস। রেনির কেসের পরও কিরকম নর্মাল।
 দেখ্ সিমন তোর তো সারা জীবনটাই getting things done by others!, আমার পেছনে লাগছিস, নিজে কী করেছিস আই!
 আমি, আমি ব্যারিয়ার মেথড ইউজ করেছি, তোর মত বলদ নাকী।
 তোরা বাদ দে তো, একটা মুরগির হাড় চাবাতে চাবাতে বললাম, জীবনটারে মুরগির হাড্ডি বানাইস না। যা হইছে, ফরগেট। সেদিন একটা কবিতা পড়লাম পেপারে। অনেকটা এরকম:

'মনে পড়ে এক সরাই খানা মিরান্ডা?
মনে পড়ে এক সরাই খানা?
মুঠি-মুঠি খড়কুটো-লুটোপুটি সেই বিছানা?'

এটার মানে কি জানিস? মানে হলো ধরে রাখতে চাইলে পুরানো আবেগের তীর ছুড়তে হবে। তীর ছুড়বি রিলেশন বাধবি- সোজা হিসাব। এখন এইসব বাদ দে। পাপ্পুটা কোথায়?
 আসবে শিগগিরি।
 তায়েফটার খবর কী? ওর কোন খবরই পাই না।
 ও ঝুলছে, মিতুল নাম।
 গুড, ভেরী গুড।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28708798 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28708798 2007-05-03 01:52:46
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-৫)  তানিয়া, এখানে কিস্যু পাবো না, চলো ডার্লিং আমরা বের হই।
 চলো ডার্লিং।
বাইরে প্রবল বৃষ্টিতে আমি আর তানিয়া বেরিয়ে পড়লাম। সোবহান মিয়া, তানিয়াদের রিক্সাওয়ালা আমাদের নিয়ে চলতে থাকলো। বৃষ্টি! আহ্! সম্রাটের ব্যাগ থেকে বোতলটা নিয়ে এসেছি। একটু খেলাম।
 ফুয়াদ, সিনেমা বানাচিছস কেন?
 তো কী করব? তোর মত কবিতা লিখব?
 অন্য কিছুও তো করতে পারিস।
 পারি। কিন্তু এটা মনে হয় সবচেয়ে ভাল পারব।
 তুই এটা করবি না।
 করতে হবেই। আমি সাইফের মতো মিশিগান যেতে পারবো না। আমাকে এখানেই থাকতে হবে। I have to fight! আমার ভেতরে যেটুকু ক্রিয়েটিভিটি আছে তা দিয়ে নিদেন পক্ষে দেশের মুভি ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়া দিতে পারবোই। হয়তো আমি সত্যজিৎ, গৌতম বা মৃণাল হতে পারবো না। হয়তো কেন, কোন দিনই আমি রোমান পোলানস্কি হতে পারব না। কিন্তু ঐ যে আছে না, শ্যাম বেনেগাল, খান আতা, এদের সমকক্ষ অন্তত হতে পারব। দেখ তানিয়া, আমার সামর্থ্য কম, কিন্তু ইচ্ছে প্রচুর। স্বপ্নটা আমার সবসময়ই হাতের মুঠোয় থাকে। আশাকে কখনই কাছ ছাড়া করি না, আকাঙখার কখনই বিশ্রাম নেই আমার কাছে।
 আর স্বপ্ন ভেঙে গেলে?
 আশা থাকবে। তানিয়া থাকবে। নতুন করে স্বপ্ন গড়বো।
 বোতলটা ফেলে দে, নেশাটা বেশী হয়েছে, এর জন্যই দেশের ফিল্মের এ অবস্থা, খালি বোতল আর বোতল। এটাই নাকি ক্রিয়েটিভিটি!

কিছু না বলে রিকশা থেকে নেমে পড়লাম। বৃষ্টিতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। কিছুই দেখছি না প্রায়, মনে হচেছ স্বপ্নটা ভেঙে পড়ছে। নিজেকে অˉি—ত্বহীন লাগছে, বহুদিন আগে, যখন সূচীর মামা আমাকে প্রায় খোঁড়া করে দিয়েছিল তখনও এত অসহায় হইনি। জানিনা কী হবে----------। ‘আকাস্খার কোন বিশ্রাম নেই‘ চেচিয়ে উঠলাম। সোডিয়ামের আলো আরো ঝাপসা হচেছ। বৃষ্টি কী বাড়ল নাকি? অন্ধকার কেন চারদিকে?

প্রায় সাতদিন পরে জ্ঞান ফিরলো আমার, নার্ভাস ব্রেক ডাউন, মদ, জ্বর-সব মিলিয়ে বিশ্রী অবস্থা শরীরের। সুমিত আর শর্মিলী সকালে ছিলো। সুমিতকে বললাম দোস্ত মাফ কর। আর তোরে জেলাস করমু না। সুমিত তার সেই মুচকি হাসিটা ছিল।

------তানিয়া-----

একটু আগে স্বপ্নটা আবার দেখলাম, সাদা ফুলে ভরে আছে কফিন, শুধু মুখটা বেরিয়ে আছে মুখটা চিনতে পারছি না কার। কয়েকটা ফুল লাশের রক্তে ঘেমো লাল হয়ে যাচ্ছে। কী দুর্বিসহ এই---- আহ্ প্রচন্ড তেষ্টা পাচেছ আমার শুধুই মনে হচেছ যে একটা ভুল করতে যাচিছ। নাহ্ : পানি খেতে হবে। এই হয়েছে এক সমস্যা আমার। পিরিয়ডের সময়টাতেই এই আজগুবি স্বপ্নগুলো দেখি। সাইফের সাথেও বহুদিন দেখা হচেছ না। মনে পড়ছে স্কুলে থাকতেই সিগারেট ওকে ধরেছিলো। খক করে কাশতো আর সিগারেটে টান দিতো, আবার কাশতো। হঠাৎ হঠাৎ কী পাগলামি উঠতো, বলতো নে দুইটা টান দে। পাগল! খিলগাঁতে ওরা আর আমরা পাশাপাশি থাকতাম। সে সময়, অর্থাৎ ক্লাস এইটে থাকতেই ও কবিতা লিখত। পরে দেখে দেখে আমিও চেষ্টা করলাম। মাঝেমাঝে ওর, আমার আর মেহেদীর লেখা একই পেপারে ছাপা হয়। ওরা যে কী লেখে তা বুঝি না। ওদের মতো দুর্বোধ্য লেখা আমার পক্ষে বোঝা সম্ভবও না। মাঝে মাঝে চিন্তা করতাম ওরা যে লেখে তাতে কী হবে? ম্যাট্রিকের সময় টেষ্টের পর পরই আমি আর সাইফ একসাথে পড়ালেখা করতাম, তখনও অবশ্য বাবা বেচে ছিলেন। হঠাৎই মনে পড়ল মায়ের কথা, মাকে ছোট বেলা থেকেই দেখছি শয্যাশায়ী। অবশ্য বাবার পরই মা মারা যান। তা-ও তো দু'বছর হয়ে গেল। অনার্সের পরীক্ষাটা দিলাম, তার পরপরই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28708069 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28708069 2007-04-27 01:44:18
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-৪)
একটু আগে সাইফ চলে গেল আমাদের ছেড়ে। মারা যায় নি, তবে মৃতই বলা যায়, গিয়েছে মিশিগানে। ফিরবে না। সিমন জিজ্ঞেস করছিলো তবে ওর কবিতার কী হবে। একটু হেসেছিল শুধু। 'কবিতা তোমায় দিলাম ছুটি, ক্ষুধার রাজ্যে .......' বলেই হাসল। বলল :
 দোস্ত, ভেবেছিলাম কবিতা লিখে পৃথিবীটা বদলাবো, নিদেন পক্ষে এ দেশটা। কিন্তু যেখানে মাঝারি মানের কবিরা-ই সব ভূলে পা চাটছে কবিতার মিছরি রেখে, সেখানে আমার কবিতারা যেন বড্ড কর্কশ, চিরতার মতো। জানিসই তো, মনে একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিলো, কবিতা লিখে যাবো, মৃত্যুর পরেও পাঠক পড়বে ওগুলো, হেমিংওয়ের মতো আমারও জম্মশত বার্ষিকী হবে, আগেরা ভাগেরা সব subliminal thoughts!; কিন্তু কী লাভ? সবচেয়ে বড় কথা হলো বেচে থাকতেই নিজেকে মারতে পারবো না। মোহ ছুটে গেছে। অমরত্বের খায়েশ আর নেই। তানিয়াকে বলিস, ওর ফীল্ড এখন খালি।

 ঠিক আছে বলবোখ'ন। আমি বললাম। পারলে ফোন দিস।

গাড়িতে উঠতে উঠতে ভাবলাম সাইফটা আসলেই স্পাইনলেস। নয়তো এভাবে কেউ পালায়? শালা এসকেপিস্ট! আজ অবশ্য তানিয়ার বাসায় আড্ডা আছে। ওখানেই এ বিষয়ে আলাপ করবোখন।

আজকের আড্ডাটা কেমন যেন ম্যাড় মেড়ে। সবাই ছাড়া ছাড়া কথা বলছে। তানিয়ার চোখ লাল, বেশ ফুলে আছে। বোধ হয় বিরহ জলের আছর। ভাবছি সুমিতকে খোচাবো। সম্রাট কে ইঙ্গিত করলাম, কিছু সাড়া দিল না ও। বুঝলাম ওরও মুড নেই। শর্মিলীকে চা দিতে বললাম, হঠাৎ সিমন বলে উঠলো আমার মনের কথাটাঃ

 ম্যাডি নাকি সিনেমা বানাবি? (ও আমাকে ম্যাডি বলে, কারণ আমি নাকি হিন্দি মুভির মাধবনের মতই স্মার্ট)
 হুঁ ; বাংলা সিনেমা, প্রচন্ড কমার্শিয়াল আর রোমান্সের মিশেল দিয়ে।
 কে বানাবে মুভি? ডিরেক্টরি কি তোর বাপ? কে হবে প্রযোজক-শ্বশুর!
আমি হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে গেলাম (কখনই হই না সাধারনত):
 কাজী মউৎ - এর সাথে কথা হয়েছে। আমার এক ফ্রেন্ড আছে লোটাস, ওরই দুলাভাই। তার সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছি। দেখে যাচ্ছি কী হয়। তবে প্রজেক্টটা পছন্দ করেছেন। আর উনিইfinancing and producing করবেন।
হঠাৎ সম্রাট বলে উঠলো
 স্ক্রিপ্টে কে? কাস্টিং কী?
 সবই ঠিক করছি, স্ক্রিপ্ট হলো এটা। (বের করে দিলাম) আর কাস্টিং- স্ক্রিপ্ট টা পড়লেই বুঝবে।

হঠাৎ-ই স্ক্রিপ্টের একটা অংশ চোখের সামনে ভেসে উঠলো। সুমিত চট্টলার গীর্জায় ঢুকলো। ঢং ঢং ঘন্টা। একটা বে›েচ বসলো। মাথা নিচু। শর্মিলী এসে ওর পাশে বসলো। পুরোদস্তুর নান্। জিজ্ঞেস করলো : কেন এসেছো?

সুমিত নিশ্চুপ।
 তুমি তো গড বিশ্বাস করো না। তবে কেন এলে?

 তোমার প্রতি যে বিশ্বাসটা এখনও আছে, তোমাকে পাবার বিশ্বাস।

 চলে যাও, আর এসো না।

 আসবো, যতদিন না ফিরে চলো। ততদিন আসতেই থাকবো।

হঠাৎ পুরো হল জুড়ে তালি, ওয়াহ; কী মুভি! সেলিব্রেট করা দরকার সিনটা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707813 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707813 2007-04-25 02:05:49
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-৩)
সম্রাট, পাপ্পু, সিমন আর ফুয়াদ বসে আছে আমার সামনে।
 সম্রাট ভাই, আমি কী করতে পারি বলো?
 এটা কোন ব্যাপার নাকি?
 বাহ! তুমি শুনেও বুঝলে না? চিঠিটা দেখনি?
 তাতে কী? তোর বাবাকে একজন বললো এই নেন আপনার নাতি, আর সে বিশ্বাস করবে? মাথা নষ্ট!

পাপ্পু বলে বসলো, নারীরা হলো ফুলের মতো। একই ফুলতো একজন ফুলদানিতে সারা জীবন রাখতে পারে না। উপায় নাই! ওদিকে ফুয়াদ বললো, মহিলারা পর্দায় থাকার বস্তু। তারা বেপর্দা হলেই শয়তানের খপ্পরে পড়ে, Must!
 চুপ থাকতো তুই। সবাই কী তোর লাবনী, এসে বলবে 'ফুয়াদ তোমাকে পাবো না কিন্তু তোমার একটা স্মৃতি চিহ্ন তো থাকুক' বলে পেট হাতাবে।
 আহ সুমিত, খেপিস না। যা তোর ব্যবস্থা আমরাই করবো।
 তইলে করো। আর পরশু আমি রেনীর কাছে যাচ্ছি।
 আহা, যাচ্ছিস! গুড গুড, ইমপ্রুভ হচেছ।

পাপ্পুর খোঁচায় আমি একটু মুচকি হাসলাম।

লেকের বোটে বসে আছি আমি। গতকাল এখানেই রেনীর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। অনেকণ বসেছিলাম আমরা। রেনিই শুরু করেছিল কথা। জীবনে হয়তো দেখা হবেনা ---------- ইত্যাদি সব কথা। আমি শুধু বলেছিলাম যে বাচ্চার কী হবে। ওটাই ছিল শেষ কথা। কে জানে কখনও হয়তো বা এই লেকের বুক থেকে রেনির লাশ পাবো। না, ও বহাল তবিয়তেই আছে। তবে আজকাল ওর লাশের কথা ভাবতে আমার কিন্তু খারাপ লাগে না। ওর গরুর মত দু'টো চোখ -------স্থির --------- এক দৃষ্ট !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707521 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707521 2007-04-23 15:08:45
ভামা<img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif' /> মরন! কে জানে কী গ্রেড আইবো! তার উপর কালকে আছে পরীক্ষা। যেই সাবজেক্ট এ আমি আবার সুবিশেষ অগ্গ(বানান কী কে জানে!) ৩টা থেকে পড়তেছি আর পরতেছি। কান দিয়া নাক দিয়া মনে হয়, আর মুখ দিয়া আসলেই ধোয়া বাইর হইতাছে। ছোটবেলার মত অবস্থা.।যদি স্যার মইরা যায়! তাইলে পরীক্ষা হইবো না। তয় এইডা হইবো না জানা কথা!(আম্মাআআ)

এর মধ্যে বিকালে শুরু হইলো বৃষ্টি! আহ! ফোন আসে সুমির (ঈমানে কইতাছে, ব্লগের কেউ না)। বাইর আর হইতে পারি না, মেজাজ টা আরো খিচড়ায় গ্যালো।

তয় এর মইধ্যে ফোন আইলো একটা যেইটায় দিলডা গার্ডেন গার্ডেন হইয়া গ্যালো! মামু অনন্তমৈথুন এর ফোন। আড্ডা দিবো দিবো, এর মধ্যে ধাক্কা! আলবাব ভাই আমার সাথে কথা বলবেন! ভামা! আহ!

ভামা আসবো সিলেট অবশ্যই! আর মামু, রেডি থাইক্কো ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707430 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707430 2007-04-22 23:26:59
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-২)
গত দু'দিন ধরে লালনের আখড়ায় আছি। হঠাৎ বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার জন্য এর চেয়ে ভাল কোন উপায় পেলাম না। নির্জনতা আমার না-পছন্দ, ওদিকে বন্ধুদের সাথেও থাকতে ইচেছ হচেছ না। এই ভালো, সারাদিন বিভিন্ন লোকজন দেখা, অতিশয় করুন মুখ নিয়ে এসে দোয়া চায় 'বাবা কিছুই ভালো লাগে না'; বাবা দোয়া দিয়ে হাদিয়া নেন, তারপর চাল, ডাল কিনতে বের হন। রাতে তিনিই আবার কোন মহিলার; না মহিলা নয়, তার স্বামীর মনোস্কামনা পূর্ণ করে। শুনেছি সন্তান লাভের পর তারা নাকি আবার বাবার কাছে এসে ... ... ধ্যাৎ কি সব যে ভাবছি! উফ রেনি! কেন যে সেদিন ... ... (বলার অযোগ্য) করেছিলাম (হঠাৎ মোবাইলে ফোন, সিমন করেছে)।

 কোথায় তুই?
 মাজারে, লালনের।
 কবে ফিরবি?
 যেদিন নিজেকে.........
 বুঝলাম, জীবন মানেই অনিশ্চিত ভ্রমন, best of luck yaar!
 রেনির খবর কী রে?
 ছ'মাস হলো এখনও ভুলিসনি!
 বাই দোস্ত।

ছয়মাস। সত্যিই কী বিশাল সময়? একটা গাঁজা ধরিয়ে টানতে থাকলাম। নিজের সাথে বোঝাপড়াই করতে পারছি না। সেদিনের পর থেকে প্রতিটি দিন খালি মনে হচেছ একটা ভয় ........ ভয়টা আরো জাকিয়ে উঠলো, যখন আমাকে রেনি তার প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দেখালো। অথচ আমি জানি আমি এই ঘটনা...... মানে এই প্রেগন্যান্সির জন্য দায়ী নই। কী যে করব? সন্ধ্যা হয়ে আসছে, মাগরিবের আযান, আকাশের লালিমা সবই যেন মনে হচেছ ফালতু। বিশেষ করে আকাশের লাল রঙটা আজ যেন কোন বিশেষ স্থান হতে নিঃসৃত রক্তের কথা মনে করাচেছ। হঠাৎ দেখি এক হিপোক্রেট এসে বসল; বসুক আমার কী? কিন্তু শ্যালক দেখি কী যেন বলছে:

 খালি ধোয়া নিয়ে কী সব কিছুর সমাধান হয় বাবা? গত দু‘দিন ধরে দেখছি আপনাকে। কারো সাথে কোন কথা নেই। কিছুই করছেন না। খালি চত্বরের চার পাশ ঘুরে বেড়াচেছন?
 তাতে কী কারো কিছু ছিড়ছে?
 ছি. ছি. তা কেন? তবে কী বাবা জানেন? আপনাদের মতো অল্প বয়সীদের এরকম ভাবে শুধু গাঁজা টানছেন, মানায় না। বলছিলাম যে অন্য কী কিছুই করার উপায় নেই? নিজের প্রতি আস্থা রাখুন। আপ মহান তো সারে জাহান ভি মহান।
 তাই নাকি? হাইট টা ছোট বলে কথা একটা বলেই দিলেন দাদা?
 গান গাইতে পারেন বাবা (হেসে)?
 তা পারি। তবে ঠিক সাহস পাচিছনা আজকাল।
 (হাসতে হাসতে)এখানে তো আপনাদের সেই মাঠ ভর্তি উম্মাদ লোক নেই আর গুড়ূম গুড়ূম আওয়াজ করা বাজিয়েও নেই। আসুন বাবা, একটা কিছু গেয়ে যান। মনটা হাল্কা হবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707303 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28707303 2007-04-22 02:28:01
বিচ্ছিন্ন আবেগ (পর্ব-1) বই মেলার ভেতরে চক্কর কাটছি।
কোন খচচর (বন্ধুরা) এখনও আসেনি।
বস্তুতঃ আজ এসেছি বইয়ের কাটতি দেখতে, এবারই প্রথম বই বেরুলো তো, নামটাও হয়েছে জোশ, যজ্ঞানলে আত্তাহুতি, (আমার তো মনে হয় কোন কবিই এরকম নাম দিতে পারবেনা)। একটা বই বিক্রীও হয়েছে। গতকাল (মেলার দ্বিতীয় দিন) গুণদা কে এক কপি দিয়েছি। 'নামটা ভালো হয়েছে' বলেই ঝোলায় গেল বইটা। তিলে খচ্চর একটা; মনে মনে বলি। ওদিকে দেখছি আবার বকর স্যার এসেছেন। কলেজের বাংলা শিক্ষক এবং প্রখ্যাত 'বুড়ো কবি'। এগিয়ে গেলাম।

> আসসালাম স্যার!
> ওয়াইলাইকুম ফারুখ! (লোকটা আমাকে সাইফল্লাহে ফারুক নামেই ডাকে। মন ভালো থাকলে ডাকে ফারুখ। কোনটাই সঠিক নয়) কী ব্যাপার বাঁবু কেমন আছো?
> জ্বী স্যার, ভালো স্যার। (শালার তোরে দেখলাম, বুঝস না কেমন আছি!?)
> তোমার বইটা পড়েছি। নামটা তো বেশ দিয়েছো। তবে কী জানো, লেখা পারলেই হয় না, আরো কিছু লাগে। আর সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো। ----------(চুপ থাক শালা)। এই এক জ্বালা বুড়ো খোকাদের নিয়ে, উফ বাইচা গেছি মামা। পাপ্পু আসছে।
> স্যার আজ আমি তবে আসি?
> নিশ্চয় নিশ্চয়, তবে লেখা লিখে যাও। কী জানো, ওহ in the year of১৯৪৫, আমি আর মানিক যাচিছলাম ... ...
> স্যার খোদা হাফেজ। প্রায় দৌড় পাপ্পুর কাছে গেলাম। পাপ্পু বললো :
> দোস্ আর বলিসনে, হঠাৎ দেখা হয়ে গেল নাফিসার সাথে (পাপ্পুর হবু)। তারপর হেঃ হেঃ বুঝিস-ই তো!
> ................. (বলার অযোগ্য ) নিয়ে কোথায় ........... (বলার অযোগ্য)।
> দেখ, তুই হচ্ছিস গিয়ে যাকে বলে সাহিত্যিক। তা তোর উচিৎ একটু ভিন্ন কিছু বলা, আর (বলার অযোগ্য), কৃষ্ণ করে তো লীলাখেলা, আমি করি তো ক্যারেক্টর ঢিলা!
> তবে রে আকাশের লাউ..............
> শোন, আজ সম্রাট ভাইয়ের ওখানে আড্ডা হবে। যাবি?
> কেন নয়?

আমরা দু'জনে রওনা হলাম সম্রাট ভাইয়ের হলে। হল মানে একরুমের এক বাড়ি। উত্তরায়। কোন এক প্রসঙ্গ জানি দেখা হয়েছিল আমাদের মধ্যে। এখন অবশ্য প্রায়ই আড্ডা মারি। বিভিন্ন জনেরা মিলে এক হই। অবশ্যই সাথে কিছু চাট-লিকার থাকে। এদিকে পাপ্পু রসিয়ে রসিয়ে বলছে সারাদিন কী করেছে। ইচেছ হচেছ, লাথি মেরে রিকশা থেকে ফেলে দিই। কিন্তু বলতে শুরু করলামঃ জানিস একবার মহর্ষি আরনি শ্বেতকেতুকে বলেছিলেন, ত্বং হোবাচ ... ...।

সম্রাটের ঘরে ঢুকতেই মনে হলো মিলন মেলা। সুমিত, রজনীকান্ত, সিমন, ফুয়াদ, তানিয়া আর শর্মিলী বসে আছে। নতুন কুটুম এসেছে দেখছি, একদম ভেরনের মত দেখতে! চান্দিছিলা, ফ্রেন্চকাট আর হাফপ্যান্ট-স্লিভলেস পরে বসে আছে। একটু পরে দেখলাম তায়েফ আর রেনি আসলো। ওরা আবার ভেরনের সাথে ভালো খাতির জমিয়েছে। আমার সাথে পরিচয় হলো, মেহেদী নাম-কী বিসদৃশ! ওদিকে ফুয়াদ, সম্রাট রজনী কার্ডে বসলো। আমিও বসলাম। কিন্তু আজ ঠিক মন নেই। হঠাৎ দেখলাম সুমিত আর রেনি নেই। দু'জনের জুড়ি ভালোই জমেছে দেকচি! ভেরন গাঁজা টানছে। হঠাৎ সিমনের সঙ্গে দেখি ওর কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এদিকে ফুয়াদ শর্মিলীর কোলে মাথা রেখে কি বিড়বিড় করছে; বিসদৃশ্।

> এই ফুয়াদ, এক সাথে কটা সাইকেল চালাচিছস? সিমন হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো।
> তাতে তোর কী রে শ্বশুরের পোলা।
> জানিস-ই তো, এক সাথে দু‘টো চালাতে গেলে পা ভাঙ্গে।

হঠাৎ তানিয়া ফোঁস করে উঠলো, এতো জেলাস্ হোস নে, পরে তো ঠিকই পাবি।

> তোদের পেলেই বা নেয় কে? সবাই হাসলো। ফুয়াদ উঠে বসেই একটা লাথি দিলো সিমনকে। বেচারার পাটা বোধ হয় মচকেই গেলো। তখনই সম্রাট বললো:
> শো।
আমি একটু অবাক, চার তাশেই শো? আমি তাশ ওল্টালাম-টেক্কার পেয়ার, সম্রাটের কিছুই না, স্রেফ বিবি টপ।
> তুমি বস্! কী হইলো?
> ও কিছু না, হঠাৎ হঠাৎ এরকম হয়। আজ আর খেলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। পাপ্পু, তুই আর তায়েফ মেয়ে দু'টোকে বাসায় দিয়ে আয়। তার পর শুরু হবে আজকের রাত।

রাত প্রায় সাড়ে তিনটা
পাপ্পু গান গাচ্ছে। নদীর ঠিক মাঝখানে নৌকায় আমরা। চারদিকে অর্ধচন্দ্রের ঝাপসা আলো। সম্রাট গীটার বাজাচেছ, সিমন, ফুয়াদ, তায়েফ আর সুমিত বসে বসে তাল দিচেছ। সিমনটা একটু বেশীই টাল মনে হয়। তারপরও অদ্ভুত লাগছে, অদ্ভুত সুন্দর, অসাধারন! হঠাৎই ফুয়াদ পানিতে পড়ে গেল। সবাই হই হই করে তুলতে লাগলো ওকে, আমি আধ খাওয়া চাদের আলো দেখতে থাকলাম। হঠাৎ একফোটা পানি চোখ বেয়ে পড়লো।
> পৃথিবীটা সত্যিই খাসা; অস্ফুট গলায় বললাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28706905 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28706905 2007-04-19 14:07:45
বিচ্ছিন্ন আবেগ (প্রারম্ভিক)

মূলতঃ বন্ধুদের সাথে কাটানো সময় আর কিছু ফ্যান্টাসি নিয়ে এ লেখাটা। ঘটনা অনেকগুলোই সত্য। কিছু কিছু রংচড়ানো। এদের মধ্যে একজন আবার লেখার মধ্যে চলে গিয়েছিলো; কিন্তু গল্পে সেটি দেই নাই। বন্ধুটি না হয় নস্টালজিয়াতেই থাকুক বেচে! আর সময়ের ফ্রেমে একে আটকাতে চাইনি।

সর্বশেষ, লেখাটা হয়েছে উত্তম পুরুষে; অর্থাৎ চরিত্রের বর্ণনায় ঘটনা এগুবে।


(কনভার্ট করেই আপলোড করতাছি)(ক্লোজআপহাসি) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28706856 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28706856 2007-04-19 02:55:28
অনুসন্ধান করো.....পাবে!!

স্যারকে প্রথম দেখি কলেজের নবীনবরনে। ভারীক্কি গলার রাশভারী। সবাই বলেছিলো সাবধানে থাকিস। ধরলে খবর! ধরলো প্রথম ক্লাসেই। 'এই ছেলে, রোল নাম্বার 2! চুল এত্তো বড় কেনো?' ফাজলামী করে বল্লাম 'স্যার পয়সা নাই।' (ক্লোজআপহাসি) 20 টাকা ধরায় বল্লেন 'যাও কাটিয়ে এসো।' ঐ টাকাটা খেয়ে ফেল্লেম। তারপরের দিনের দৌড়ানি....রিসেস এর পর স্যারের সাথে দেখা....'স্যার চুলটা কাটিয়েছি।'

অথবা সুবর্ণ জয়ন্তী'র কথা। তিনদিনের জটিল, ঝলমলা সময়। সিনিয়রদের সাথে স্যার, 'how's the food boys?' একেকজনের কঁাচুমাচু চেহারা। আমার বড় বলেছিল, 'Food?! শালার গলায় আটকায় যে মরি নাই! স্যার এসে জিগায় খাবার কেমন?!' অথচ কলেজে থাকতে ভাইয়া টেরেন্স কে (আমরা সবাই ই বোধহয়) ডগ বলতাম।


ক্যান্টিনে প্রায়ই তাস-আড্ডা হতো। সমস্যা নাই, কিন্তু ক্লাস ফঁাকি! রুমে ঢুকাবে, বিভিন্ন রকমের আওয়াজ আসবে। ব্যস, ছাত্র মাথায় আলু, শার্ট ছেড়া আর খোড়াতে খোড়াতে বের হবে। এই ছিলেন টেরেন্স। শৃঙ্খলার ব্যপারে কঠোর। আট টার ক্লাস কখনো 7:59 এর পরে শুরু হতে আমি দেখি নাই। স্যারকে অপমান করেই কলেজ থেক বের করা হয়েছিলো। সেটার জন্যই কী তবে তার এই চলে যাওয়া? আত্তসম্মানের জন্য বোধ হয় ফিরেও চান নি।


সবশেষ স্যারের সাথে দেখা হয়েছিলো আমার গত মাসে। এম.বি.এ ক্লাসে যাচ্ছি বিকালে। হঠাৎ ডাক, 'রোল নাম্বার 2'! প্রচন্ড ভয়, প্রচন্ড কনফিউশন, এটা স্যার? আমাকে মনে রেখেছেন? ভয়, কেন তা জানি না। তাকে আমি অনেক ভয় পেতাম। স্যারের সাথে কথা, কেমন আছেন, কী করছি, এসব। বলেছিলাম ' পড়ছি, মানে কিছু করছি না, মানে একটা চাকরী করতাম, মানে এম.বি.এ করছি....' হুংকার 'কোনটা করছো?' 'স্যার, এমবিএ করছি স্যার'। হাহ্‌। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আমি বুঝলাম না এটা স্যার কীনা! মাথায় হাত বোলানো...টেরেন্স...মিল্লো না! জিগ্গেস করেন ক্লাস কখন? এইতো স্যার 6:00টায়। 'তা এখনো এখানে কী করছো? যাও ক্লাসে যাও।' আমি বুঝলাম না কী হলো! 'বল্লাম না ক্লাসে যাও(খাইয়ালামু) !' দৌড় দিলাম প্রায়। বুঝেছিলাম যে ওটা স্যার ই ছিলেন। কিন্তু বিদায় টা নেওয়া আর হলো না।। তবে এটা বলতে পারি যে স্যারের হঠাৎ করে ডাক, 'রোল নাম্বার 2' টা আমি খুব ই মিস করবো। স্যার আপনাকেও।

স্যারকে নিয়ে লিখতে গ্যালে ব্লগের পোস্টগুলো বিশালের চেয়েও বিশাল হবে। লেখাটা আজকের জন্য বেমানান। তারপরেও লিখছি, গুরুদক্ষিণা...হয়তো হবে! শিরোনামটা স্যার নবীনবরনের লেখায় সারাজীবন ই দিতেন। একটি লেখাই সবসময় ছিলো। তাই এটাই হোক এ লেখার শিরোনাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28706178 http://www.somewhereinblog.net/blog/jaanowarblog/28706178 2007-04-14 23:54:13
অনুসন্ধান করো.....পাবে!!

স্যারকে প্রথম দেখি কলেজের নবীনবরনে। ভারীক্কি গলার রাশভারী। সবাই বলেছিলো সাবধানে থাকিস। ধরলে খবর! ধরলো প্রথম ক্লাসেই। 'এই ছেলে, রোল নাম্বার 2! চুল এত্তো বড় কেনো?' ফাজলামী করে বল্লাম 'স্যার পয়সা নাই।' (ক্লোজআপহাসি) 20 টাকা ধরায় বল্লেন 'যাও কাটিয়ে এসো।' ঐ টাকাটা খেয়ে ফেল্লেম। তারপরের দিনের দৌড়ানি....রিসেস এর পর স্যারের সাথে দেখা....'স্যার চুলটা কাটিয়েছি।'

অথবা সুবর্ণ জয়ন্তী'র কথা। তিনদিনের জটিল, ঝলমলা সময়। সিনিয়রদের সাথে স্যার, 'how's the food boys?' একেকজনের কঁাচুমাচু চেহারা। আমার বড় বলেছিল, 'Food?! শালার গলায় আটকায় যে মরি নাই! স্যার এসে জিগায় খাবার কেমন?!' অথচ কলেজে থাকতে ভাইয়া টেরেন্স কে (আমরা সবাই ই বোধহয়) ডগ বলতাম।


ক্যান্টিনে প্রায়ই তাস-আড্ডা হতো। সমস্যা নাই, কিন্তু ক্লাস ফঁাকি! রুমে ঢুকাবে, বিভিন্ন রকমের আওয়াজ আসবে। ব্যস, ছাত্র মাথায় আলু, শার্ট ছেড়া আর খোড়াতে খোড়াতে বের হবে। এই ছিলেন টেরেন্স। শৃঙ্খলার ব্যপারে কঠোর। আট টার ক্লাস কখনো 7:59 এর পরে শুরু হতে আমি দেখি নাই। স্যারকে অপমান করেই কলেজ থেক বের করা হয়েছিলো। সেটার জন্যই কী তবে তার এই চলে যাওয়া? আত্তসম্মানের জন্য বোধ হয় ফিরেও চান নি।


সবশেষ স্যারের সাথে দেখা হয়েছিলো আমার গত মাসে। এম.বি.এ ক্লাসে যাচ্ছি বিকালে। হঠাৎ ডাক, 'রোল নাম্বার 2'! প্রচন্ড ভয়, প্রচন্ড কনফিউশন, এটা স্যার? আমাকে মনে রেখেছেন? ভয়, কেন তা জানি না। তাকে আমি অনেক ভয় পেতাম। স্যারের সাথে কথা, কেমন আছেন, কী করছি, এসব। বলেছিলাম ' পড়ছি, মানে কিছু করছি না, মানে একটা চাকরী করতাম, মানে এম.বি.এ করছি....' হুংকার 'কোনটা করছো?' 'স্যার, এমবিএ করছি স্যার'। হাহ্‌। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আমি বুঝলাম না এটা স্যার কীনা! মাথায় হাত বোলানো...টেরেন্স...মিল্লো না! জিগ্গেস করেন ক্লাস কখন? এইতো স্যার 6:00টায়। 'তা এখনো এখানে কী করছো? যাও ক্লাসে যাও।' আমি বুঝলাম না কী হলো! 'বল্লাম না ক্লাসে যাও(খাইয়ালামু) !' দৌড় দিলাম প্রায়। বুঝেছিলাম যে ওটা স্যার ই ছিলেন। কিন্তু বিদায় টা নেওয়া আর হলো না।। তবে এটা বলতে পারি যে স্যারের হঠাৎ করে ডাক, 'রোল নাম্বার 2' টা আমি খুব ই মিস করবো। স্যার আপনাকেও।

স্যারকে নিয়ে লিখতে গ্যালে ব্লগের পোস্টগুলো বিশালের চেয়েও বিশাল হবে। লেখাটা আজকের জন্য বেমানান। তারপরেও লিখছি, গুরুদক্ষিণা...হয়তো হবে! শিরোনামটা স্যার নবীনবরনের লেখায় সারাজীবন ই দিতেন। একটি লেখাই সবসময় ছিলো। তাই এটাই হ