"আপনেগো রুচি নাইক্কা ধুরর.......
কি আমগো রুচি নাই? যান গেট ছারুম না"
টিভিতে বিজ্গাপনটা দেখতে দেখতে হেসে উঠে টুনি বলল - মানুষের বিয়েতে কত মজা হয় গেট ধরা নিয়ে, আর দেখলি ইনামভাইয়ের বিয়েতে কিছুই হলোনা ...
বাবু বলে উঠলো - আরে উনার শালীরা পার্লার থেকে পৌছানোর আগেই আমরা বরপক্ষ গেলাম, বেচারিরা টাইম পেলো কই গেটধরার ....
- হুহ! কিন্তু গেটমানি তো ঠিকই নিলো, আগেই ফিক্স করা ছিলো কতদিবে না দিবে,
ভাইবোনের কথাবার্তা শুনছিলো বিয়ে উপলক্ষে বেড়াতে আসা দাদী। এতক্ষনে বলে উঠলেন - শোন এখনকার দিনের ঘন্টাগুনে ভাড়া করা বিয়েবাড়ি (কমিউনিটি সেন্টার) তে এর বেশি আশা করা কি ঠিক? এখনকার ঐ বিয়েবাড়িতে হয় শুধু আনুষ্ঠানিকতা ... আসো, একটু ঢংঢাং করো, খাও-দাও আর জলদি জলদি আল্লাহ হাফেজ বলো ....
আগেকার দিনে গেটধরাতে চলতো বুদ্ধির খেলা, ধাধাঁর টক্কর .... কোনপক্ষ কত ধাধাঁর উত্তর দিতে পারবে তার উপর নির্ভর করতো গেটমানির পরিমান। এমনও হতো যতক্ষন উত্তর না দিতে পারতো ঢুকতে দিতেও দেরি হতো বিয়েবাড়িতে। গ্রাম্যভাষায় একে বলা হতো "বিয়ের শোল্লক ভাঙানী"। মজার একটা শোল্লক শোন তোরা -
কনেপক্ষ বলছে - "পান খাও পন্ডিতভাই, কথা কও সারে .....
পান-বুয়ার জন্ম কতা কওতো কোন অবতারে?
যে না কইতে পারে পান-বুয়ার জন্ম কতা
ছাগলের মতো চাবায় বনের হারবা পাতা"
চালাক বরপক্ষের উত্তর - "চালনিত কইরা আনেন পানি,
তয় ভাঙামু পানের মানি"
শহরের কথা বাদই দিলাম, ইদানিং গ্রামেও এই মজার ছড়ার খেলা হয়না, সবাই ব্যস্ত এখন সাজপোশাকের বাহাদুরিতে .......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

