somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পুলওভার
বন্ধুদের হাসিঠাট্টা সত্ত্বেও বঙ্গবাজার থেকে সস্তা এই পাতলা পুলওভারটা কিনতে মন টেনেছে এর আজব ডিজাইনের জন্যেই। বুকের মাঝ বরাবর সোনালী এক জ্যামিতিক নকশা, সেটা আবার একটা ছোট্ট পকেট! যাই হোক পুলওভারটা আরামদায়ক। সেবার হাসিঠাট্টার ঐ ছোট্ট পকেটে থেকে ভাইব্রেশন মোডে মুঠোফোনটা প্রায়ই বাজতে থাকত, রাতে ইচ্ছে করেই রিসিভ করা হতো না। শেষে টেক্সট আসতো কিবা অনেক বারংবারের পর রিসিভ করতেই ধমকি - "এ্যাই ফোন ধরো না কেনো?"

কোন একটা নাটকে দেখা দৃশ্যে ছিলো - কাছে এসে বসা ছেলেটাকে মেয়েটা বলছে "কইছি না হইরা বহো, তুমি কাছে আইয়া বইলে ভাইব্রেশন মোড আহে!!!" দৃশ্যটার চেয়ে বিপরীতভাবে, রাত নিঝুমে পুলওভারের ওই পকেটে ক্রমাগত বাজতে থাকা মুঠোফোনের ভাইব্রেশন মূহুর্তে নিয়ে আসতো ওকে কাছে। তিরতির করে পুরো আবেশ জুড়ে বইতো ও। আকাঙ্খিত চিঠি হাতে পেয়েও না পড়ে, তারিয়ে তারিয়ে চিঠির অনুভূতি অনুভবে নেয়া, স্পর্শ করে থাকা, ভাবখানা এমন যেন পড়ে ফেললেই শেষ। হাসি দিয়ে ওর ধমক খেতেও মোটেই খারাপ লাগত না। কখনো বলা হয়নি ওকে এই ছেলেমানুষি ব্যাপারটা, হাস্যকর ওই মূহুর্ত একান্তই নিজের।

ছেলেবেলা না বুঝে ভেঙে ফেলা চড়ুইয়ের বাসাটা ঠিক করা, গাছ থেকে হাড়ি ভেঙে খেজুরের রস খাওয়া,কলেজে ওঠার আনন্দ, সুনির্দিষ্ট কারোর হাসামাখা মাড়াকাড়া চোখ - কিছুই রয়ে যায় না হাতের মুঠোয় কিন্তু মনের মনিকোঠায় থাকে তাদের ঘিরে থাকা সুখস্মৃতিরা, শতকষ্টেও অটুট থাকে। ছোট্ট কোন ইশারাতেই তারা জ্বলজ্বল হয়ে মনকে খানিকের জন্যে হলেও সুখের ভেলায় ভাসায়। তেমনি অবহেলার এই পুলওভার ভাসিয়েছে সেইসব ছোট্ট একান্ত আপন হাসিতে। বিরক্তি, দু:খকে বিস্মৃত করে এই চটজলদি আনন্দটাই বড়, হোক না আজ দু'জনের চলা ভিন্ন পথে ভিন্ন ভিন্নজনের সাথে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28884122 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28884122 2008-12-18 01:46:16
কলি'র কনিষ্ঠ(!) কাহিনী প্রথম ভালোলাগা

বৃষ্টি ভেজা নায়িকা দেখে অহরহই নায়ক ধুপ করে প্রেমে পড়ে, সত্যিকার জীবনেও যে তেমনি খুবই সাধারন দর্শন ছেলেকে দেখে এমনটা হবে তা চিন্তাই আসেনি কলি'র। জ্বর ছিলো বলে মন ভার করে ওদের আড্ডার বারান্দায় বসে বসে ঝুমবৃষ্টিতে দলবলে বন্ধুদের ছোটাছুটি দেখছিলো আর সব্বার প্রয়োজনীয় জিনিষ আগলে বসেছিলো। কোথা থেকে চোখ ঝাপসা করা বৃষ্টির মাঝ দিয়ে অনু যখন এগিয়ে আসছিলো ওর দিকে, কি ঘোর যে চোখে লাগল আশপাশ সব সিনেমা স্টাইলে স্লো মোশনে চলতে লাগল। কাছে এসে হাত বাড়িয়ে কি কি সব বলছিলো ও পুরোটা মাথায়ই ঢুকেনি, অবাক হয়ে ভাবছিলো স্লো মোশনের ব্যাপারটা ঘটলো কি করে!! সেদিনের পর থেকে মনটা ধপাস করে আছাড় খেলো ওঠার আর নামই নাই।
মনের কথা আছে মনে, সেদিনের জ্বর কেটে গেছে কিন্তু সেই ঘোর আর কাটেনা। বন্ধুদের আড্ডায় লতায়পাতায় পরিচয় হয় অনেকের সাথে তবে বন্ধুত্বতা হবার মতো চেনাজানা হয়ে ওঠে কমজনের সঙ্গেই। কেউ যেন বুঝতে না পারে তাই ধীরস্হিরে খোজঁখবর করতে লাগল, কার মাধ্যমে ওদের আড্ডায় যোগ দিয়েছে, মানুষটা কেমন - ইত্যাদি।

বাড়ী থেকে আজ বের হয়েছে অনুকে মনের কথা জানাবে স্হির করে। কলি'র জন্মদিনের হই-হুলোড়ের আয়োজনে আজ আড্ডা সরগরম, কিন্তু‌ অনু'র দেখাই নেই। অন্যদের সাথে নানান কথায় সবার ব্যাচ নিয়ে কথা উঠতেই জানলো অনু ওর কয়েক ব্যাচ ছোট!! বন্ধুদের জানানো জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিচ্ছিলো আনমনে, হতবাকের নাকি কষ্টের ঘোর কাটছিল না ওর, এরই মাঝে কখন অনু পাশে বসেছে টেরই পায়নি। ঘোরটা কাটল যখন ধাক্কা দিয়ে বলল - "কিহে খালাম্মা, কততম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবো তোমাকে?"


প্রেম


- "কিরে, তোর এখনও কারো গলা কাটতে পারলি না?? হবে না তোরে দিয়া কিচ্ছু হবে না"।
অনেকদিন পর সব বন্ধুদের গেটটুগেদার চলছে। প্রানের বন্ধুগুলো দৈনন্দিন ব্যস্ততায় দেখা সাক্ষাতের সুযোগই পায়না, কত জমানো সুখ, হাসি কান্না, এক ফুৎকারে সামনে আসছে। গ্রুপের প্রেম বিশারদ(!!) মুনিমের পুরানো অভিজ্ঞতার ঝুলি ঝাড়া শুরু করলো।
- "শোন কলি, তোরে কিবা যাদের এখনো কোন সম্পর্ক নাই, তাদের দিয়ে আর প্রেমভালোবাসা হবে না। তোরা হলি ডেট এ্যাক্সপায়ার্ড"।
সবাই তেড়ে এলো, - "ওই, আমরা কি মেডিসিন নাকি জুস, যে ডেট এ্যাক্সপায়ার্ড ?"
- "দোস্তরা রাগিস না। আমার কথার মানে হলো, ভার্সিটি লেভেলের সময় যে আগপাশ চিন্তা না করে কারো জন্য বেতাল হই আমরা, ওটা হলো সত্যিকার কিছু। ওই লেভেল পার করার পর এখন যেটা হবে, তা কিন্তু অনেক বিষয়আশয় বিবেচনা করে, ওটা কি অনেক কিছুর সঙ্গে
সমঝোতার সম্মেলন না? "
- " তোদের দিয়েও হবে না, কারন একটা এ্যাফেয়ার হবার জন্য দুই বেহায়ার প্রয়োজন। ভালোবেসেছি- এই কথাটা জানানোর জন্য নানান ভাব করতে লাগে, কে আগে বলবে বসে না থেকে নিজে সরাসরি বলতে হয়। এক বেহায়ার বেহায়াপনার ফ্রিকোয়েন্সির সাথে অন্য আরেকজনেরটা মিলে গেলেই একটা সফল এ্যাফেয়ার হয়। কি পারবি তোরা?"

মুচকে হাসি নিয়ে ভাবছিলো কলি, তার কিছুই যেন প্রচলিত ধ্যান-ধারনার সাথে চলে না। সারাজীবনে নাক উচাঁ বলে পরিচিত সে, মুনিমের থিউরীর উল্টো মতে হয়ে, ও আকাশ পাতাল ওল্টানো প্রেমে পড়ল কোন সমঝোতা কিবা বিষয়আশয় ভেবে না। "পৃথিবী"'র কথার মমতা যে কি মায়ার বাধঁনে কলিকে জড়িয়েছিলো। চালচুলোহীন, বয়সে মিলে না, স্ট্যাটাসে মিলে না - মানুষটার অন্যের প্রতি মমত্ববোধটা যে তিরতির অনুভূতি এনে দিয়েছিলো, তাতে কোন কিছু চিন্তা না করেই একদিন হুট করে বলে বসেছিলো ওকে। বেহায়াপনার চুড়ান্তই করেছিলো, কিন্তু নিতান্ত ভদ্রলোকের সামনে!


অত:পর ...


আজ কলির বিয়ে। বন্ধুমহলে বাজি ধরাধরি ছিলো, সবসময় বয়সে ছোট কারো না কারো সাথে জড়িয়ে পড়ে কলি, দেখা যাবে বিয়েও করবে ওমন কাউকে। বিয়ের কথাবার্তা যখন চলছিলো, এই ব্যাপারটা আগেই জেনে রেখেছে, নাহ, ছেলে ওর চেয়ে সাড়ে তিন বছরের বড়। তাই বাজিতে ওদের হার নিশ্চিত জানিয়ে বন্ধুদের সাথে অনেক হাসাহাসি।

বিয়েবাড়ির গেটধরাতে তুমুল হৈ চৈ-এর পর বরপক্ষ মাত্র আসতে পারলো স্টেজে। কাজী সাহেবের ভীষন তাড়া, এখানকার কাজ সমাধা করে তাকে আবার ছুটতে হবে অন্য কমিউনিটি সেন্টারে। বরপক্ষ একটু সুস্হির হয়ে বসতেই তিনি শুরু করলেন তোড়জোর। রেজিস্ট্রি খাতায় প্রয়োজনীয় তথ্যাদি লিখছেন, পাত্রেরটা পূরন করে মেয়েটা তথ্য লিখে কপাল কুচঁকে ফেললেন, তাড়াহুড়ায় কি ভুল লিখলেন? মেয়ের মামাকে জিজ্ঞাসা করলেন আবার। উনি বুঝিয়ে দিলেন বিষয়টা, মেয়ের বয়সে বড়ই পাত্র, তবে সার্টিফিকেট এজ অনুযায়ী ছ'মাসের ছোট!!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28868704 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28868704 2008-11-13 19:36:03
সিল-হট তাখিয়া.....
কিন-ব্রীজ।

হঠাৎ করেই দলেবলে সিলেট বেড়ানো হলো। সেই ছোটবেলা ট্রেনে করে নানু-দাদু'র বাড়ি যাওয়া হতো ঈদের সময় এমনি দলেবলে। অনেকদিন ট্রেনে চড়া হয়নি, ভাবলাম তেমনই মজা হবে। কোথায় কি, সিটে গিয়ে দেখি জানালা বন্ধ। খোলা জানালা ছাড়া ট্রেনের মজা আছে নাকি?
রাতে ভাতিজি বলছিলো - "সিলহট(!!) যাবো আমরা"। যতই বলি সিলেট, ও বলে সিলহট। স্টেশনে নেমে দেখি একটা রেস্টুরেন্টের নাম "সিল-হট রেস্টুরেন্ট" <img src=" style="border:0;" />


আলী আমজাদের ঘড়ি - শহরে ঢুকতেই ব্রীজের গোড়ায় নজরে আসে।


সুরমা নদী - ভোরে ঘুম ভেঙে নদীটা দেখে কিযে শান্তি লাগল।


ব্রীজের নীচ দিয়ে দারুন পায়ে চলার পথ, সাথে সুরমা নদীর ঘাট।


কানিশাইল ঘাট - শহরের নানান জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে এলাম এখানে। দারুন জায়গাটা।


শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার - উচুঁ এক টিলার উপর তৈরি করা হয়েছে এটা, নীচ থেকে শুধু সিড়িঁটা নজরে আসে। শান্ত, সুন্দর। তবে নির্জনতাটা অনেক বেশি। চারপাশের সৌন্দর্য্যটা দারুন দেখায় এই শহীদ মিনার থেকে।


জাফলং - অসাধারন। গাড়ি থেকে নামতেই ১০/১১ বছরের কয়েকজন দাড়িয়ে গেলো - "আই এ্যাম মিস্টার আক্তার হোসেন, টুরিস্ট গাইড। সবখান আমার মতোন আর কেউ ঘুরাইতে পারবো না"


পানি এতো ঝকঝক করছিলো, আমাদের সাথে থাকা বাচ্চারা অনবরত ধমক খাচ্ছিল পানি ধরার জন্য, ওদের কি দোষ আমারতো ইচ্ছে করছিলো ট্রলারে পা ঝুলিয়ে বসি।


জাফলং-এ রঙ-বেরঙের পাথর তোলা।


জাফলং-এ ট্রলার করে এপাড়ে আসার সময় ব্রীজটা দূর থেকে যত ভালো লাগছিল কাছে এসে তেমনটা লাগেনি।


বালি আর পানি একসঙ্গে পাবার আনন্দে পিচ্চিদের ফিরিয়ে আনা ক্ষ্টকর হয়ে পড়েছিলো।


সিলেট সার্কিট হাউস - এককথায় দারুন। বিশাল জায়গা জুড়ে তৈরী করা হয়েছে। সুরমা নদী'র তীরে, তবে শহরের ব্যস্ততা অনেকটা দূরেই থাকে এখান থেকে। ভোরে দলবেধেঁ নামায পড়ে বাড়ি ফেরত মুসুল্লি দেখা যেত, তেমনি কাছের কোন মন্দির থেকে শাখেঁর আওয়াজ শোনা যায়। তবে আশ্চর্য লেগেছে যে, রিক্সাওলা'রা থুক্কু ড্রাইভারদের যদি বলতাম "সার্কিট হাউজ যাবেন?" বলতো চিনি না। পরে স্হানীয় একজন বুঝিয়ে দিলেন, "কিন-ব্রীজ , বড়ব্রীজে'র গোড়ায় যাবে", তখন রিক্সা পেলাম।

কোথাও বেড়াতে গিয়ে আয়োজন করে দাওয়াত খেতে যাওয়া ভালো লাগে না। কিন্তু এখানে ভাইয়া-ভাবীর অনেক স্হানীয় বন্ধুরা ছিলো, তাদের কয়েক বাসায় যেতে হয়েছে। তেমনি একটা ছিলো সুপ্রভা'দি-মানস'দা। ছিমছাম, শান্ত ঘর তাদের। মানস'দা দারুন আন্তরিক। সিলেটের নানান পদ রান্না করেছিলেন দিদি। কিছু কিছু পরিচিতের মাঝে একেবারে নতুন ছিলো "লাই পাতা"। শাকটা'র স্বাদ অন্যরকম, পাওয়া যায় শুধু সিলেটেই।


ফিরে আসার দিন মেঘের কি দারুন খেলা দেখলাম। একই স্হানে দুই তিন স্তরে নানান রঙের মেঘের ভেলা।

আমাদের সবচেয়ে পিচ্চি যেটা ছিলো ওর অভ্যাস হলে যা কিছুই হাতের নাগালে পায় দু'তিনটা চাপড় দেয়া। আমরা বলি কি রে বাসের হেলপার হবি নাকি? ফিরে আসার সময় বাসে ওর সামনের সিটে বসেছিলেন যে ভদ্রলোক উনি যেই না রিলাক্স করার জন্য আধশোয়া হলেন, ও পেয়ে গেলো সুদৃশ্য টাক নাগালে, আর যায় কই ...... হেলপারি শুরু <img src=" style="border:0;" />
ভাইয়া সরি বলে সামলায় সেসময়টা, পরে আমরা আর খেয়াল করিনি কি হয়েছিলো। ঢাকা প‌ৌছে বাস থেকে নামার সময় শুনি লোকটা ওকে বলছে - "বরোই সাতাইছো তুমি আমারে"। পরে জেনেছি ওর যন্ত্রনায় বেচারা রুমাল দিয়ে টাক ঢেকেছিলেন, তাতে পিচ্চি ক্ষেপে গিয়ে দু'হাতে সজোরে হেলপারি শুরু করেছিল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28859390 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28859390 2008-10-25 09:09:02
"আফাগো মার্কেট" থেকে ব্যর্থ মনোরথে ...... <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif" width="23" height="22" alt=":(" style="border:0;" />
- আচ্ছা, এতো ক্যান ভিড় এখানে?
- আরে আফা, ভিড়তো হইবোই, জানেন না সামনেই তো আছে "আফাগো মার্কেট"। ঈদের আগ পর্যন্ত চলবো এইহানে জ্যাম, থামাথামি নাই।

অবাক হয়ে ভাবি কই এখানে অতোবড় মার্কেট, আর "আফাগো মার্কেট" কি জিনিষ!! ..... কিছু পরে সামনে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম ওনার কথার মানে, হাসতে হাসতে বললাম মামু আমিও তো যাচ্ছি ওই "আফাগো মার্কেট"-এ।

ইদানিং টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে মেহেদী'র মনে হয়, যেখানে বউয়ের পারলারে যাওয়াকে বর বলছেন "ঘষামাজা করন"। ঈদ উপলক্ষে সেই "ঘষামাজা করন" কাজে যাবো যাবো করে নানান কারনে যাওয়া হয়ে উঠছে না। আজ সকালে দুই বান্ধবীর ডাকল, ভেবে দেখলাম ভালোই তো লাভে লাভ, "ঘষামাজা করন" ও হবে আবার দোস্তদের সাথে মেলাদিন বাদে আড্ডা দেয়াও হবে।

সেই দ্বিগুন উদ্দেশ্যসাধনে দুপুরে যখন গিয়ে পৌছালাম, দাড়াঁবার জায়গা নাই, পুরো লোকালবাস - এ ঠেলা দেয়তো, ও ধাক্কায়। সেই মাছের বাজারে থুক্কু মৎসকণ্যাদের ভিড়ে বহু কষ্টে বন্ধুদের খুজেঁ বের করলাম, ভুলেই গেলাম বাকি কারনটা। কতো কতো আড্ডার বিষয়বস্তু বার করতে লাগলাম আমরা। আসলে নিশ্চিন্তে ছিলাম, কারন আমাদের অসুবিধা হবে না, কারন প্রতিষ্ঠানটার এ্যাডমিনে আছে আমাদের আরেক দোস্ত, ওকে সারপ্রাইজও দেয়া যাবে। সো নো টেনশন ডু আড্ডা।
আড্ডা আর চিত্র কি বিচিত্র পাবলিক দেখা, মেয়েরা, মেয়েদের সাথে আসা ওয়েটিং রুমে বসা গোবেচারা ছেলেরা। এর মাঝেই একটা মেয়ে হাজির ক্যামেরা নিয়ে, এপাশ ওপাশ, টেবিলের উপর উঠে কিবা ফ্লোরে বসে পড়ে ধমাধম শাটার টিপছে!!! আর আশপাশের সব এলেবেলেরাই নানান কিছিমের পোজ দেয়া শুরু!! খানিকক্ষন বাদে দোস্ত আসতেই কাহিনী কি জিজ্ঞেস করে জানলাম, ওদের ম্যাগাজিনে ছাপা হবে ঈদের ভিড়ের ছবি। ও আরো জানালো ওকে না জানিয়ে আসলাম কেন, আর এখন "ঘষামাজা করন" শুরু করা ঠিক হবে না, কারন এই সুবিশাল লাইনে দাড়াঁলে দৌড়াদৌড়ি করে ইফতারি ধরতে হবে। যেদিন করতে আসতে চাই যেন সকাল ৯টায় হাজির হই!!! কারন বেলা ১০টা থেকেই পিলপিল করে মৎসকণ্যাদের বিপুল আনাগোনা চলে।

সুতরাং ব্যর্থ মনোরথে "ঘষামাজা করন" বাদেই বাড়ি ফিরে আসলাম "আফাগো মার্কেট" থেকে .......<img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28847855 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28847855 2008-09-25 19:33:30
ইচ্ছাঘুড়ি'র শুভ জন্মদিন
৫ই সেপ্টেম্বর ....... ব্লগের বিষাক্ত মানুষ - এর জন্মদিন। ব্লগে ওনার আদুরে নাম বিমা, বিষু।

মানুষটার আশপাশে যে দূর-দূরেও বিষ নাই, আর কি পরিমান মায়ায় ঘেরা ও, তা আর নাই বলি। আমার কাছে "বিমা", ব্লগের ইচ্ছাঘুড়ি, বন্ধুদের যার যার ইচ্ছাপূরনের জন্যে তরতর করে উড়ে বেড়িয়ে নতুন নতুন রুপে হাজির করে, চমকে দেয় মন ভরিয়ে দেয়। মজার ব্যাপার হলো ওর নামের একটা অংশের সমার্থ মনের আকাঙ্খা।

অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি জন্মদিনের ।


অনেকদিন আগে এক গানের আড্ডায়(মেসেন্জারে) সবাই যে যেই রিকুয়েশ্ট করছিল বিমা সব গাইছিল একের পর এক, আমি কিছু না বলায় ক্ষেপানো শুরু - "আফা দেখি তব্ধা খাইলেন"। আসলেই তাই, কারন অন্যরা গানের দু'এক লাইন গাইলেও বিমা গাইছিল পুরো গানটা, কেমনে যে সব কথা মনে রাখে!!
বিমা অনেকটা টান আর মায়া যে ছড়ায়, সেটা বোধকরি সবার সাথেই। "আমিই ওর সবচেয়ে আদরের দোস্ত/দুস্তি" - এই বোধটা সবার (যা সাথে কথা বলে) মাঝে আনার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এই ইচ্ছাঘুড়িটার।
যদিও সবার ইচ্ছাপূরনের (বিমার ভাষায় রিকুশট) দোস্তটা কখনো আমার চাওয়া কোন গান দেয় না, জটিল আমি(!!) নাকি আজিব আজিব গান চাই। <img src=" style="border:0;" />


অনেক স্বপ্নে ঘেরা ভাবুক ছেলেটা তার মায়ের ইচ্ছাপূরনে ব্যস্ত এখন, আর নিজেরটা পূরনের জন্য উদগ্রীব <img src=" style="border:0;" /> । সব আশা পূরনের পাশাপাশি আমাদের মায়ার বাধনে জড়িয়ে রাখুক আর অনেক অনেক ভালো থাকুক ইচ্ছাঘুড়ি।

........................শুভ জন্মদিন ....................

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28838851 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28838851 2008-09-04 23:09:26
মনসিন্দুকের এককণা
যাওয়ার পথের অসাধারন সকালটা উপভোগ করার পাশাপাশি স্কুল কেন্টিনে বিক্রীর জন্য রাখা গল্পের বইগুলো ফ্রি'তে পড়তে পাওয়া ছিলো বোনাস, এস্যাম্বলির আগে ফেরত দেবার শর্তে কতো কতো বই যে কেন্টিনের মামু'র কল্যানে পড়েছি!! আবার সবার আগে খেলার কোর্টগুলোর দখলও নিতাম আমরা বাসওলীরা। বাস্কেটবলের কোর্টটা থাকত খাঁ খাঁ, পিটিম্যাম জোর করে না আনলে তার ধারে কাছে ঘেষতো না কেউ, যদিও হাডুডু, চি-বুড়ি, কুতকুত- এর কোর্টগুলো দখল নেয়ার জন্য কত্তো কাড়াকাড়ি পড়ত।

বাসায় ফেরার সময়টা ছিলো দুনিয়ার মজার, গোমড়া মুখে সিট আকড়ে বসে থাকা নয়, সারাটা পথ সিট ধরাধরি মারামারি লেগেই থাকত, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল সিট আর মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী থাকত সবসময়। ছোটকালে খারাপ লাগত, দাড়িয়ে ঘুমাতে দারুন অপছন্দ আমার, কিন্তু ওই কাজটাই করতে হতো অগত্যা। সেই ভোর ছয়টায় উঠে সারাটা সময় হুটোপুটি (লেখাপড়া বললাম না) সেরে সাড়ে তিনটায় বাড়ি ফিরলে বাসে তো ঘুম আসাই স্বাভাবিক। অথচ এই সহজ ব্যাপারটা বুঝতো না সিনিয়র আপুগুলো, খোচাঁখুচিঁ চলত তুমুল। তাদের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে সুন্দর মন্তব্য হলো - "এই আসছে টাট্টুঘোড়া ম্যারাথনে নামতে"। অনেক বিরক্ত হতাম, তখন কি ছাই জানতাম ঘোড়া দাড়িয়ে ঘুমাতে পারে!!! ঘুমের ঘোরে কতদিন যে আমাকে নির্দিষ্টের চেয়ে পরের স্টপেজে নামতে হয়েছে। আমাদের বাস ড্রাইভার ছিলেন বিহারী একজন, যার মুখটাকে এখন আমি মেলাই হিন্দীছবির অভিনেতা ওমপুরি'র প্রথমকালের সাথে, যখন তার মুখে দেড়'দু কেজি মাংশ অনায়াসে লাগানো যেতো দাগ পূরন করতে। অনেক কড়া ছিলেন ভালোই ধমক দিতেন আমাদের। আমার উল্টোপাল্টা কান্ডে হুমকি দিতেন অহরহই - "আব্বে! এ কল্লামপুরিয়া, থোমার নামে হামি ম্যাডোমের কাছে রাপোট করিবো", যদিও সে রিপোর্টের কার্যকারিতা দেখিনি কখনও। আমাদের রুটটাতে বাসে কোন টিচার আসতেন না, তাই উনিই আমাদের শাসনে আদরে আগলে রাখতেন, "মেয়েরা এমন করে না! এই চেচাঁমেচি বেশি হচ্ছে! ওমুক সিটের ওমুক, জানালা দিয়ে আর ঝুকবে!!!"

আস্তে আস্তে বড় হলাম, বাসায় ফিরে আসার সময়টা তখন মজাই মজা। কতো কতো দুষ্টুমি, শেষের সিটগুলো দখল করে বেসুরো গানের হুল্লোড়। আমাদের খুব ইচ্ছে করতো বাসের দরজায় দাড়িয়ে হেলপারি করার, হেলপাররুপি বুয়াটাকে একটু সাহায্য করার। কিন্তু যতবারই বলতে যেতাম ধমক অনিবার্য ছিলো। তাও তাও জিজ্ঞাসা করতাম, আশা ছিলো একবার না একবারতো হ্যা বলতেই পারেন, আর আমরাও আদমজী'র ছেলেগুলোর মতো নিজেদের বাসের দরজায় ঝুলবো, ধমাধম বাসে চাপড় দিবো। আদমজী'র বাসের সাথে কিযে অদ্ভুত দ্বন্দ ছিলো! আমাদের বাস দেখলেই তাদের স্পিড হয়ে যেত তুমুল, আর আমাদের বেরসিক ড্রাইভার দিতো আমাদের বাসের স্পিড কমিয়ে। তবে একবার জাহাঙ্গীর গেটটার কাছে জ্যামে পড়ে আমাদেরটা ছিলো সামনে আর ওরা পেছনে আর জ্যাম ছাড়তেই দেখা গেল আমাদের বাস স্টার্ট হচ্ছে না, আমাদের প্রেস্টিজের চৌদ্দটা বেজে গেল, কিছুপরেই আমাদের খুশি দেখে কে যখন বুঝলাম ছেলেরা বাস না ধাক্কা দিলে সামনে যেতে পারবে না। অনেক গাইগুই করে রাগিমুখ নিয়ে ওদের বাসধাক্কা আর পেছনের জানালা দিয়ে আমাদের মুখ ভেংচি - অনেকদিনের মজার টপিকস ছিল আমাদের।


অনেকপরে জেনেছিলাম, আমার জীবনের সবচেয়ে অন্যতম বৃষ্টি ভেজার আর বাসের হেলপারি করার (ক্লাশ টেনের শেষদিন ওই সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা) স্মৃতিময় ওই বাসের ড্রাইভার ছিলেন আমাদেরই এক ক্লাশমেটের নানা। আমাদের প্রতি তার আদরের কারনও কি তাই ছিল কিনা কে জানে, তবে এখনও মনে পড়ে ওনার আদুরে ধমক - "আব্বে! এ কল্লামপুরিয়া, থোমার নামে হামি ম্যাডোমের কাছে রাপোট করিবো"।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28835772 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28835772 2008-08-27 23:16:50
কপি-পেষ্ট <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" />
শ্রমআইন সংক্রান্ত কোনএক সেমিনারে জাষ্টিস নির্মলেন্দু ধর'কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমাদের নতুন "বাংলাদেশ শ্রমআইন ২০০৬" -এর নানান ধারায় অসামন্ঞ্জস্যের কারন সম্পর্কে। সাধারনত নতুন আইনে নতুন নতুন সংযুক্তির সাথে সাথে পুরানো ভুলগুলোও শুধরে নেয়া হয়, আমাদের ক্ষেত্রে তা হয় না কেন?
মৃদু হেসে উনি বলেছিলেন, - একটা গল্প শোনেন, তারপর পাবেন উত্তর।


দেশের এক উচ্চপদস্হ আমলা, এক ধর্মগুরুর একনিষ্ঠ ভক্ত। গুরুর নিবাস নিউয়র্কে। অতিবৃদ্ধ গুরু শেষ বারের মতো সম্মেলন ডাকলেন, আমলা যাবতীয় কাজকর্ম ফেলে ছুটে গেলেন সম্মেলনে। সৌমক্রান্তি গুরু একটানা নানা বিষয়ে বানী দেয়ার পর হঠাৎ নিশ্চুপ হয়ে উদাস নয়নে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর চোখ বুজেঁ রইলেন, যেমনটা ভাব ধরে মাঝে মাঝে গুরুরা।
বেশ কিছুক্ষন পর চোখ মেলে বললেন - "অনেকদিন ধরে সবাইকে বলবো ভাবছি বলা হয়ে ওঠেনি কিছুকথা, যদিও মনে পড়ে সবসময়ই। এই যে আমার এই আমি হয়ে ওঠা, এতো সম্মান-প্রতিপত্তি, এই সবই সম্ভবপর হয়েছে এক নারীর কারনে, আমার অন্তরের কাছের সে, আমার জীবনে তার অবদান অনস্বীকার্য। ............তবে সেই নারী আমার স্ত্রী নন"।

এটুকু বলে গুরু চুপ হয়ে চোখ বুজলেন। চারপাশে জোর গুন্ঞ্জন, হতবাক সবাই। কি, বলছে কি গুরু? এতোদিনের শ্রদ্ধা, আসক্তি সব টলটলায়মান। প্রায় সবাই বীতশ্রদ্ধ। চোখ মেলে গুরু শান্তভাবে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া দেখলেন, ফিসফাসের মাঝে গুরু হাত তোলায় থেমে যায় সব।
ভাবধরা গলায় উনি বললেন - "না, তিনি আমার স্ত্রী নন, সে নারী আমার মা"।
হাহাকার পড়ে গেল চারিদিকে। নিজেদের ছোট মনের জন্যে নিজেরাই ধিক্কার দিতে লাগল। যারা বেশি উচ্চবাচ্য করছিল, তারা কান্নায় গড়াগড়ি, ছি: ছি: নিজেদের কুটিল পাপবোধের কারনেই কুটিল ভাবনা এসেছে মনে। গুরুর প্রতি মমতা বেড়ে গেল তাদের আরো বেশি।


আর যাই শিখুক না কেন সম্মেলন থেকে মানুষকে তাক লাগানো এই পদ্ধতি জানতে পেরে আমাদের আমলা সাহেব বেজায় খুশি। অল্পক'দিন পর কি এক কারনে তার সম্মানে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। আমলা ভাবলেন এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না, এটাতেই প্রয়োগ করবেন ওই ভাব লাগানো শিক্ষা। সুন্দর বক্তব্য দেবার পর, নাটকীয় ভাবে উনি গুরুর স্টাইলে শুরু করলেন, সবই ঠিকঠাক, প্রথমঅংশ বলে শেষ করার পর প্রতিক্রিয়াও পাচ্ছেন সেরকমই, চোখ বুজে উপভোগ করছেন মজা টুকু। তবে বাকিটুকু ভাবধরা গলায় বলার জন্যে যেই না চোখ মেলেছেন, সামনে পেলেন রণমূর্তিধারিনী সহধর্মীনি'কে। আমলা সাহেব ভুলেই গিয়েছিলেন যে অনুষ্ঠানে তিনিও উপস্হিত থাকবেন। বাকিটুকু বলার কিবা কোন সাফাই দেবার সুযোগ না দিয়েই সহধর্মীনি কাছে এসে শুধু - "এসো আজ বাসায়" বলেই চলে গেলেন। আর আমাদের আমলা সাহেব বারবার বলতেই লাগলেন - "না, তিনি আমার স্ত্রী নন, সে নারী আমার , সে নারী আমার ........"


সেমিনারে উপস্হিত সবার হাসি থামলে জাষ্টিস নির্মলেন্দু ধর বললেন, আমাদের বেশিরভাগ লোকেদের হাল কিছুটা আমলাসাহেবের মতোই, আমরা সবকিছু কপি করতে পারি কিন্তু পেষ্ট করার সময় খেয়াল করিনা পরিবেশ পরিস্হিতির সাথে তা খাপ খায় কিনা। তাই করেছেন আইন প্রণেতারা, নতুন সংযুক্তির সাথে পুরনোর যে সমন্বয় ঘটানোর কথা তা না করে পুরনোটা পেষ্ট করে দিয়ে "বাংলাদেশ শ্রমআইন ২০০৬" -এর নানান ধারার অসামন্ঞ্জস্যের সৃষ্টি করেছেন।


[এক অর্থে আমিও করলাম কপি-পেষ্ট, কতদূর গড়বড় করলাম আল্লাহ মালুম <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28828395 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28828395 2008-08-07 15:40:45
সুখ-দু:খ

একজনের পালা এলে উনি কোন ভূমিকা ছাড়াই শুরু করলেন।
"বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিছুদিন পর একজনকে ভালো লাগল, হাবে ভাবে বুঝালাম। কিছু সময় পর উনারও আমাকে ভালো লাগল। সুন্দর একটা সম্পর্কের শুরু, ধীরে ধীরে তা ৪/৫ বছরে গড়ালো। একটা সময় পোক্ত কমিটমেন্ট চেয়ে উনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম, আমাকে আশ্চর্য করে উনি কিছু না বলে চলে গেলেন। পরদিন সাধু ভাষায় একটি চিঠি পাঠালেন যার মূল কথা --- আপনার কোনই চাকুরি নাই বিধায়, আপনার প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করা সমীচিন ভাবিলাম না। এ বিষয়ে আপনার সহায়তার আশা রাখি।-----

প্রচন্ড হতাশায় মনভাঙ্গার বেদনায় নিজেকে কিছুতেই জড়াতে পারছিলাম না, চারিদিকে ব্যর্থতার দেয়াল আমি নিজেই তৈরি করতে লাগলাম। আমার অধ:পতন দেখে এগিয়ে আসলেন একবড়ভাই, চমৎকার কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে বুঝালেন, জীবনটা কি একটাই মানুষের জন্য? আর সারা জীবন যারা আগলে ছিলো ওরা কিছুই নয়? আর ওই মানুষটাই যদি সব হয়, তবে ওকে দেখিয়ে দাও তুমিও পারো, ব্যর্থতায় ঘরা নয় তোমার জীবন।

নতুন করে শুরু করলাম। একটা সময় দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানে চাকরি হলো। যেদিন জয়েন করলাম চাকরিতে বাসায় ফিরে পেলাম আর একটা সাধুভাষার চিঠি, যার মুল কথা ---- আমি ফিরিতে চাই----"


এতটুকু বলে ভদ্রলোক চুপ করে গেলেন। সবাইতো জানতে উদগ্রীব, কি হলো? তারপর কি হলো? উনাকে আপনি কি বললেন? দিছেন না ঝাড়ি? আরে মিয়া বলেন না?

মিটিমিটি হেসে উনি বললেন ''ওটাই তো দু:খ আর ওটাই দারুন সুখ, যে উনাকে নিয়ে অদ্যাবধি জীবনানিপাত করিতেছি" ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28822733 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28822733 2008-07-21 21:11:24
মানুষ আর মাদক
প্রথমআলোর এই খবরটা পড়ে Click This Link অনেক খারাপ লাগছিলো, অনেক। দু’টা অবুঝ বাচ্চার বাজে ধরনের মৃত্যু, কি নিদারুন কষ্ট পেয়েছে ওরা। কথাপ্রসঙ্গে ঐ এলাকার কাছে থাকা একজন জানালো পত্রিকায় যা এসেছে তার চেয়ে আরো আরো বিভৎষ ছিলো ওদের লাশ। তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মেরেও মৃতদেহগুলোকেও আশ্চর্য প্রতিহিংসার শিকার করে কেটেকুটে একসার করেছিলো হত্যাকারী মানুষদু’জন। কথাটা যে জানিয়েছে সে নিজে দেখেনি শোনা কথা, কানকথা। কানকথায় যে কখনোই বিশ্বাস করিনি তা নয়, কিন্তু এই কানকথাটা সত্যি হলেও বিশ্বাস করতে চাই না। বিশ্বাস করতে চাই না, যে শুধুমাত্র বিকৃত আনন্দের জন্যেই অবুঝ শিশুদু’টি বলি হলো।

মন আর হুশ’এর অধিকারী মানুষ, তার আনন্দ কেন বিকৃত হবে? আর বিকৃত কোন কিছুই আনন্দের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য? যখন হয়, তাতে মন আর হুশ কিছুর’ই উপস্হিতি থাকেনা।

কেউ কেউ বলছে - “আরে, কশাই বলেই পেরেছে ওমন জঘন্যভাবে কাজ করতে”। কিন্তু সব কশাই কি ওমন জঘন্য মানসিকতার? অবশ্যই না। লক্ষনীয় বিষয় এটাই যে হত্যাকারী লোকগুলি মাদকসক্ত ছিলো, ঘটনারকাল ছিলো তাদের মাদক নেবার সময়।

মাদক যা মানুষের স্বত্তাটাকেই বিনষ্ট করে দেয়। কোথাকার মানুষকে কোথায় নামায়। আমরা জানি, পাপকে ঘৃনা করুন পাপী নয়। তেমনি বলা হচ্ছে মাদককে দূরে রাখুন, মাদকাসক্তকে সারিয়ে তুলুন ভালবাসা দিয়ে, পরিচর্যা দিয়ে। বলা সহজ কিন্তু যারা তেমন কারো সাথে প্রতিনিয়ত থাকছে ওমন কারো অবস্হা আমরা বুঝবো না। শারীরিক কষ্ট কি ভীষন তুচ্ছ হয়ে মানসিক আতংকটাই প্রকট হয়ে উঠে তাদের কাছে।

৪/৫ বছর আগে ভালোবেসে মাদকাসক্ত জেনেও বাড়ির অমতে বিয়ে করেছিলো ছেলেটিকে। মেয়েটা ভেবেছিলো, ওদের গানের প্রতি, একের প্রতি অপরের ভালোবাসা সব ঠিক করে ফেলবে, নেশার অতল আহবানের আর কিইবা জোর। সময় গড়ায়, লেখাপড়া শেষ হতে মেয়েটা নামলো চাকরির পথে আর ছেলেটা নামলো মাদকাসক্তির আরো আরো গভীরে। ব্যান্ডের যে ক্যারিয়ার ছিলো তাও নেশার টানে নষ্টের পথের, পূর্নবাসন কেন্দ্রে যায় কিছুদিন ভালো থাকে, তবে আবার যেই কে সেই। ফ্যামিলি থেকে দূরে, করো সাহায্য ছাড়াই ছেলেটাকে ভালো করে তোলার চেষ্টায় পথচলা মেয়েটার। মেয়েরা টাকা জমায় শখের জিনিষ কেনার জন্য আর ও জমায় স্বামীকে আরো উন্নত কোন পূর্নবাসনকেন্দ্রে পাঠানোর ইচ্ছাপূরনের জন্যে।
কিন্তু আর পারছেনা ও। শারীরিক কষ্টগুলো নিজের নিয়তি মেনেছে ও, ওকে কষ্ট দেবার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি ছেলেটার নির্বিকারভাবে ব্লেড দিয়ে নিজের গা ফালাফালা করে ফেলা আর এসব মোকাবেলা করার মতো মন কিবা সার্মথ্য দু’টোই হারিয়েছে মেয়েটা। গতমাসে আলমারির কাপড়ের ভাজেঁ লুকানো চেকবইটার ৩টা পাতা খোয়া যাওয়া দেখেই বুকটা ছ্যাতঁ করে উঠেছে ওর। ব্যাংকে খোজঁ নিতেই জানলো, ও কপর্দকশূন্য। কয়েকধাপে তোলা হয়েছে টাকাগুলো। ব্যাগে থাকা ক’টা টাকা আর এমাসের আসন্ন বেতন ওর সম্বল।


সব মানুষের পরম শান্তির আধার মা। সেই “মা”শব্দটা দিয়ে শুরু হওয়া মাদকই হয়ে উঠে মারনাস্ত্র মানুষের জন্য।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28820146 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28820146 2008-07-14 13:38:42
জোড়া ইলিশ (জন্মদিন বন্ধু দু'জনার)

ব্লগের দু'টি মানুষ সবার চেনা নাদান Click This Link আর একেবারেই অচেনা আবু বরকত Click This Link আজ আমার এই দু'বন্ধুরই জন্মদিন। শুধু জন্মদিনে মিল নয় - মজা করায়, বন্ধুত্বতায়, প্রচন্ড আড্ডায়, রহস্যময়তায়, ফটোগ্রাফির প‌্যাশন, চাপা কষ্ট জিইয়ে রাখায়, হঠাৎ হঠাৎই লুকিয়ে থাকা আবার ফিরে এসে দারুন সব কথায় মাতানোর স্বভাবে এবং সবচেয়ে আশ্চর্য্যজনক ভাবে নামের কিছু অংশেও আছে ওদের দু'জনের কাকতালীয় মিল!!!


দু'জনকেই জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। দু'জনেই জীবনের দারুন বিরাট স্বপ্নপূরনের স্বপ্ন বুনছে ইদানিং। মন থেকে দোয়া করি স্বপ্নগুলো যেন সাফল্যমন্ডিত হয়ে পূরন হয়।

ভালো থাকো বন্ধুরা অনেক অনেক অনেএএএএএক।


~ ~ ~ ~ শুভ জন্মদিন ~ ~ ~ ~





পোষ্টের মজার নামটা দিয়েছেন - জোসিলা ব্লগার Click This Link<img src=" style="border:0;" />
আর ছবিটা উরাধুরা ব্লগার Click This Link <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28815061 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28815061 2008-06-29 20:16:23
আলো আধাঁরি জীবন মাঝে মাঝে অনেক লেখার কিছু অংশ খুবই ভালো লেগে যায়, বুদ্ধদেব গুহ -এর এই লেখাটুকু তেমনই কিছু, জানি না কোন গল্পের অংশ এটি


" জীবনের যে কোন সম্পর্কই পুরনো হলে একঘেয়ে হলে, তাতে ক্লান্তি আসে, বিরক্তিও। খুবই কম মানুষ জানে সম্পর্ক নতুন রাখতে। পৃথিবীটা এমনই তাই পথ চলতে চলতে যতটুকু ভালোবাসা ভালো ব্যবহার পাওয়া যায় সেটুকুই মনের কোনে জমিয়ে রাখতে হয়। কোন বর্ষার দিনে, একা জানালায় বসে, ঘরের ভিতরের অন্ধকারকে ভুলে গিয়ে ঘরের বাইরের একটা আলোকিত বারান্দার দিকি চেয়ে কেয়া ফুলের গন্ধ ভরা বাতাসে মুখ তুলে জীবনের গ্লানিকে ভুলতে হয়।
সবার জীবনেই অন্ধকার ঘরটাই বাস্তব, তার মাঝেই বছরের সবদিন গোনা তবু আবার সবার জীবনেই একটা করে আলোকিত বারান্দা থাকে, সে বারান্দার স্বপ্ন দেখেই আমাদের সবার দিন কাটে।
কখনো কখনো বা প্রত্যেকে কোন সুন্দর মহুয়ার গন্ধ ভরা চাদঁনীরাতে বা স্তব্ধ শীতের সোনালী দুপুরে পা টিপে টিপে সেই বাসমতি বারান্দায় এসে দাড়াই, এসে দাড়ালেই বুকের মধ্যে তোলপাড় করে, ইচ্ছে করে সমস্ত জীবন এই বারান্দাতেই আনমনে দাড়িয়ে থাকি, কিন্তু তা হয় না। সেই একঘেয়ে পুরনো সামাজিক চাহিদা বা কর্তব্য ভিতরপানে ডাক দেয়, আমরা সকলেই আবার ঘরের অন্ধকারে ফিরে আসি।
প্রত্যেকেই চোখের আড়ালে কান্না লুকিয়ে বেড়াই, কখনো সখনো, ছ'মাসে ন'মাসে, ঘুমে বা স্বপ্নে বা জাগরনে যখনই সেই আলোকিত বারান্দায় এসে দাড়াই একা একা, তখনই সেই কান্না বাইরে আসে, চোখে ঝাপসা হয়ে যায়। জীবনের সেই একফালি বাঙ্‌ময় ও আলোকিত বারান্দাটুকুর জন্যে বেচেঁ থাকি।

ঘরটা বড় অন্ধকার, বড় স্যাঁতসেঁতে।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28803440 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28803440 2008-05-27 18:06:19
আউলার জবাব<img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> তানজিলার কবিতার জবাব এটা, আউলার ইলেকট্রিসিটি নাই বলে, যাবার আগে মেইল করে পোষ্ট দিতে বলছে, এটার দায়-দায়িত্ব সব আউলার, আমার উপর খেপে না জানি কেউ


আউলা-জিলাপী জানি সখি, অন্তরঙ্গ বড়ই মাখামাখি
দু'জন শলা-পরামর্শ করে, এরে পচাঁয় তারে ধরে
কথাচ্ছলে আউলা বলে সখি,পারো কি করতে ছুনু-পাউডার মাখামাখি
জিলাপী - আমি এমনিই আহামরি তাই সাজুগুজুর ধার না ধারি<img src=" style="border:0;" />
আমি থাকি খুবই সাধারন, পছন্দ করিনা সাজতে অকারন
আউলা - জানাও তো তোমার একটা ইচ্ছা, বলোনা কথা মিছা
পাও যদি ফেয়ার এন্ড লাভলীর সাথে যা খুশি ফিইররিইই
চাইবা কি কি জানাও তো শিগগিররিইই
মুহুর্তেই এক নি:শ্বাসে বলে যায় জিলাপী
আইলাইনার-লিপলাইনার, কাজল-মাশকারা, আইশেডো গোলাপী<img src=" style="border:0;" />

মাথার নাট- স্কুরুবিহীন বালিকা আউলা দা গ্রেট
সদাই গরম থাকে যার পেট<img src=" style="border:0;" />
যেদিন আউলা খায় মুঠি মুঠি হরলিক্স
মানু, বিমা, রাশুরে নিশ্চিত লাগাতে হয় মাথায় ভিক্স
বীরেরা বেড়ায় যত্রতত্র করে নাচানাচি
আউলার প্যাচে পড়ে কয় - ছেড়ে দে মা কেদেঁ বাচিঁ<img src=(" style="border:0;" />

ফোননম্বর কালেক্টর মানু, ভাবে নিজেরে অতীব ঝানু
আউলার দেয়া অচেনা নম্বরে দেয় ফোন,ভাবে বলবো কথা চিকন-চাকন
অন্যপক্ষকে বলতে না দিয়ে কথা কোন
মানু বলে - কিছু বলো না, শুধু শোন
আগুন লেগেছে মনের ঘরে, তুমিই ত্রাতা এ অবস্হার
হায়!!! মানু কি জানতো নম্বরটা অগ্নি-নির্বাপন সংস্হার<img src=" style="border:0;" />

কান্ট সে নো টু এনি ওমেন "বিমা"<img src=" style="border:0;" />
সদাই জপে ওহ! ফিমা!, হিমা!, সিমা!
আউলা তারে বলে দেখাও তো হাত, যেটা দিয়া খাওনা ভাত
বিমা শুধায় - ক্যান হাত ক্যান?
আউলা - বলবো কিনবে কবে গাড়ি কিবা ভ্যান
হুমমম, অচিরেই আসবে মাথায় টাক, তাও হবে খুশিতে বাকুম বাক
পাইবা সেই সে নারী, যে টানিবে তোমার এলোচুল ধরি

বিয়াপাগল রাশু খালি হড়বড়ি, যারে দেখলেই ঘটকরা পালায় তরতরি
সবখানেই হুমাহুমি, কবিতায় শুধু তুমি-আমি, আমি-তুমি
সে মিচকা ড্যান্সার, প্যাচে পড়লে পালায় না দিয়া কোন এ্যানসার
কেউ যদি জিজ্ঞাসে- রাশু....আপুমনি ভালো??<img src=" style="border:0;" />
লজ্জায় ওর গালে ছড়ায় লালচে আলো:`>
কথায় না পেরে শুধু চেচাঁইতেছে
খুকী ডেট এক্সপায়ার্ড হরলিক্স খাইছে!!!!!
খুকী ডেট এক্সপায়ার্ড হরলিক্স খাইছে!!!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28801542 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28801542 2008-05-22 23:58:43
ফিরতি পথের যাত্রী
গায়েগতরে ৫'১১" হলেও তার বুদ্ধিবৃত্তি ৭/৮ বছরের বাচ্চাদের সারল্যমাখা। আশপাশে পাগল ছেলেটা বলে জানলেও কেউ কখনো বলতে পারেনি কারো কিছু অনিষ্ট করেছে ও। চুপচাপ আপনমনেই থাকত নিজ ঘরের গন্ডিতে। খিদে পেলে ঘরে ঘরে ঘুরতো আর বলে বেড়াতো নিজের নাম ধরে, "..র খিদে পেয়েছে, ..কে খাইয়ে দেও, দাও দাও "। অনেক দিন পরপর বাড়ি আসা ভাইদের, নিজের সমবয়সী খালাদের দেখলে ওর আনন্দটা ছিলো দেখার মতোন।

মুক্তিযদ্ধের অনেক ভূইফোড়দের কথা শুনে ওর মা হেসে বলত- "ওই দিক থেকে বলতে গেলে আমার "...."ও তোমাদের মতো একজন। '৭১ এ আজিমপুর কলোনিতে থাকতাম, এপ্রিলের প্রথম দিকে যখন বাসায় এলো সৈন্যরা, ওদের বাবাকে লাথিগুতা মেরে ক্যাডেট কলেজ ফিরত মেজছেলেকে আর্মির কেউ ভেবে ঘর থেকে ছাদে নিয়ে যাবার সময়, অন্য দু'ছেলে কোথায় কোথায় পালিয়ে ছিলো, তখন "...." বেলুচি একসৈন্যের পেটে দমাদম ঘুষি মারছিল বাচ্চাদের মতো আর চিৎকার করছিলো "ধ্বংস হোক!! ধ্বংস হোক!! "। রাইফেলের বাটের বাড়ি খেয়ে রক্তাক্ত হয়েই থেমেছে ও"

নিজের কোন চাওয়া বুঝানোর ক্ষমতা দেননি আল্লাহ তাকে, এমনকি কষ্টও পারত না বুঝাতে। মারও বয়েস হয়েছে, তাই দেখাশুনার ঘাটতি হচ্ছিল। দু'দিন যাবত হঠাৎ করে পেট ফুলে উঠা কিংবা সারাটাক্ষন বাচ্চাদের মতো খুনখুন কান্নাকে আমলে আনেনি তাকে দেখভাল করা লোক। যখন ক্লিনিকে নেয়া হলো, কিছুই করার ছিলো না ডাক্তারদের। পেটে নাড়ী প‌্যাচিয়ে, ২ দিন ধরে অসহ্য ব্যাথা নিয়ে ৫৭ বছর ধরে বয়ে বেড়ানো ৭ বছরের মনের মানুষটা চলে গেল।



-----ছোট্টকালে একবার কি যেন বিস্কিট কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম বলে খুশিতে জাপটে ধরে মাথায় মারছিলেন এক গাট্টা, তখন থেকে ভয়ে আমি কমই যেতাম কাছে। কিন্তু বুঝিনি এতোটা পছন্দ করি উনাকে, কিছুক্ষন পর পরই চোখ ভিজতেছে। আমার এই প্রিয় মানুষটা গতকাল মাগরিবের সময় চলে গেছেন, ওনার জন্যে সবাই একটু দোয়া করবেন, যেন যেখানেই যান অনেক ভালো থাকেন উনি -------- ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28800809 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28800809 2008-05-21 12:12:13
সেই তুমি (শেষ অংশ) Click This Link

নিজেকে মনামির এখন লাগছে ঐ ফুলের মতো, আপাতদৃষ্টিতে যা রংচটা কুকড়ে যাওয়া রুক্ষ ফুল কিন্তু যার গভীরে কোথাও রয়ে গেছে মিষ্টি সুবাস। চোখে চোখে তাকিয়েই দুজনের কত কথা বলা হয়ে যায়, মনে পড়ে নানান কিছু।

অনির সাথে কাটানো ঘন্টা দুয়েক, কোন বিশেষ আলাদা কিছু মনে হয়নি, মনামি তো জানেই ও কেমন, ওর কথা কেমন.... এতো শুধু সামনে দেখা ওর হাসি, চুপ করে এক ভাবে তাকানো ...
একসময় অনির সহজ স্বাভাবিক কথাগুলোর মাঝে ধীরে ধীরে হঠাৎই মনে দোলা দেয়া কিছু কথা আসতে লাগলো। আচমকাই বলা সেসব কথা দিয়ে যেন ও যাচাই করে মনামির অনুভূতি। মেয়েদের স্বভাবজাত অভ্যেস মতোই তারিয়ে উপভোগ করে মনামি, অনির এইসব টুং-টাং তরঙ্গ তোলা কথাগুলো, কিন্তু নিজে ঐসবের প্রতুত্তর করে না। চলছিল এমনই খুশনুটির মজার বন্ধুত্বটা।

"বন্ধুদের কেউ না, শ্রদ্ধার মানুষটাই হবে ভালবাসার মানুষ" - এই বিশ্বাসটার জন্য যতই বন্ধুরা বুঝাতো, আরে বন্ধু না হলে সে কিসের ভালোবাসা? মাথায় গেড়ে থাকাএই বিশ্বাসটা নিয়েই মনামি ছিলো। আস্তে আস্তে সেটাকে উবে যেতে দেখল, জানলো ভালোবাসার সাথেই শ্রদ্ধাটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, আর আসলেই বন্ধু না হলে ভালোবাসা আসবেই বা কি করে?

যদিও কেউ কিছু বলেনি তবে জানে ওরা অনেকটা জুড়ে আছে একে অপরের, তাও স্বীকৃতি ছাড়া যেন মন ভরে না। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে একদিন কথাটা তুলল মনামি। কোথায় যেন পড়েছিল কবিতাটা তার আদলে লিখে জানালো -
"ভালোবাসি আমি তোমায়
আমি জানি জানো তুমি
কিন্তু জানো কি কতটা করো?"

যতটা খুশির ছটা নিয়ে জানালো তার সহস্রগুন আশ্চর্য হয়ে জানলো যে, অনির নাকি সময় হবেনা এমন কিছুতে জড়াতে, ওর কাজ, ওর অভিষ্ট্ লক্ষ্যে পৌছানোয় বাধা হবে তেমনটি হলে!!! নিজেকে ওর অপরাধী লাগছে মনামিকে এমন পরিস্হিতিতে টেনে আনার জন্য, দু:খিত ও!!!

ঘরের ভ্যানটিলেটরে অনাহুতের মতো বাসা বানানো চড়ুই পাখিটা যে হুড়মুড় করে ঘর বানিয়ে নিজেকে গৃহস্হের কেউ একজন ভাবে, কিন্তু সেই ঘরে নিশ্চিন্তে উড়তে গিয়ে চলন্ত ফ্যানের আঘাতে ঘরের কোনে পড়ে থেকে রক্তক্ষরণ হয় যার, মনভাঙ্গার কষ্টে যার প্রতিবাদ করার ক্ষমতা কিবা ইচ্ছা কিছুই থাকেনা - নিজেকে তাই মনে হয়েছিলো মনামির। অনাহুত, অযাচিতভাবে অনির ভবিষ্যতে বাধা দেবার কেউ, এক লহমায় মনটা মরে গেল যেন ওর। নাহ্, এরপরও কথা চলতে লাগল দু'জনের তবে কোথাও একটু আড়ষ্টতা ভর করে। অনেকদিন বাদে মনামি যখন বিয়ের কার্ড তুলে দিলো অনির হাতে, কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে ও বলল - "ভুল করেছিলাম নিজেকে বুঝতে, কতোটা আছো তুমি অনুভবে, কিন্তু তুমিতো জানতে, কেন তুমি জোর করোনি, কেন জোর ঝটকা দিয়ে বলোনি সবই চলবে কিন্তু তোমায় ছাড়া আমার চলবে না....."

বুক ভাঙ্গা কষ্টেও স্মিত হাসি নিয়ে ওর দিকে চেয়ে রইলো মনামি ......

গতকাল বড় এলোমেলো চুলে বাতাস তুলেছে গ্রীবা
চুমু খেয়ে ঘেছে কৃষ্ঞচূড়ায় উজ্জল মধুরীমা
আমরা দু'জনে মাটি খুড়েঁ খুড়েঁ লুকিয়ে ছিলেম প্রেম
গতকাল বড় ছেলেবেলা ছিলো বুঝিনি কি হারালেম


"গুড ইভনিং, ড: আহমেদ। দেরি করার জন্য দু:খিত।" লোকটার কথায় সম্ভিত ফিরে পায় দু'জনেই। ছোট্ট করে যাই বলেই রওনা দিলো অনি। ওর যাওয়ার দেখতে দেখতে খেয়াল হলো এতোক্ষন কোন কথা না বলে অপলক চেয়ে ছিলো ওরা। কিই বা বলবে, সবইতো জানে, দু'জন দু'জনার এতো বছরের সবকথা। এইযে ও আসবে দেশে ১৫ দিনের জন্য তাও, যদিও কবে তা জানতো না। পাতার পর পাতা মেইল শেয়ার করে ওরা, তবে তাতে থাকেনা কোন সম্বোধন, বিদায় কিবা অন্যপক্ষ সম্পর্কে কিছু জানার আগ্রহ, জীবনে ঘটে যাওয়া খুটিনাটি বিষয়ে লিখে জানায় ওরা অনেকটা ডাইরী লেখার মতোন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28794574 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28794574 2008-05-05 21:02:26
সেই তুমি...(১)
"বাবুনসোনা ওমন করে না! লক্ষ্মী বাচ্চারা কম দুষ্টমি করে জানোইতো" - গোলাপী পরী সেজে লাউন্জ জুড়ে হুটোপুটি করতে থাকা মেয়েকে আদরের শাসনে বাধঁতে মনামি আবার ভাবে করুক না ছুটাছুটি, কিইবা আসে যায়। মেয়ের উচ্ছলতা, ছটফটানি, অহরহই মনে করিয়ে দেয় ওর নিজেকে।

অপেক্ষার প্রহরগুলো আনমনা করে তোলে ওকে, ভাবনার ঘুড়ির সুতো নাটাই ছেড়ে তরতর করে বেরিয়ে কোথা থেকে কোথায় যে যাচ্ছে ....। কত কথা, অনুভূতিগুলো এতদিন পর ভীড় করছে মনে। ...... খুব অল্পতেই খুশি হওয়া, বাধঁ-ভাঙা হাসি, সবকিছুতেই আনন্দ খুজেঁ নেয়া - নিজের ঐ বৈশিষ্ট্যগুলোকে ভীষন মিস করে ও, মনে হয় অন্যকেউ ছিলো অমন। সদা-সর্তক, পরিমিত হাসি,কম কথা বলা- এই মনামি ফেরদৌসকে ছাপিয়ে আগের সেই মনুকে ফিরিয়ে আনতে পারেনা ও নিজেই। আনমনে কখন যে সেই বহুপুরনো ভুলে যাওয়া অভ্যেস মতো দাতঁ দিয়ে নখ কাটছে বুঝেইনি।
"এতো দিনেও তোমার বদঅভ্যেস যায়নি?" চমকে মুখ তুলে যাকে দেখলো, তাকে দেখার কোন আশাই মনে ছিলোনা। নাহ্, ছিলো না বলা ভুল হবে, সযতনেই আশাটাকে মনে আনেনি। যার কথা কেউ জানে না, যাকে কারো সাথে শেয়ার করেনি, যাকে অন্তরের আবেশী সিন্দুকে রেখে চাবিটা ফেলে দিয়েছে, যেন ও সামনে না আসে, কিন্তু বুঝতো ও আছে অনন্য অনুভবে।


নিজেকে ধ্বংস করার যজ্ঞে মেতে ছিলো সবার বুঝানোর পরোয়া না করে, যখন হুশ ফিরল জীবন থেকে নষ্ট হয়ে গেছে ৩/৪ বছর। হতাশা কাটিয়ে চেষ্টা করতে লাগল উঠে দাড়াঁবার, কিন্তু বারবার না পাওয়ার বেদনা ঘিরে ধরছিলো ওকে। মনটাই ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যেতে লাগলো, যে কারোরই ক্ষুদ্র কথাগুলোও বিশাল হয়ে মনে বিধঁতে শুরু করলো। এমন একটা সময় কাকতালীয় ভাবে ফোনে আলাপ অনির সাথে।

কোন কিছুতে মিল না থাকা দু'টি মানুষ রাতের পর রাত, এমনকি দিনেরও ফাকঁতালে অনেক অনেক কথার ফুলঝুরি ছুটাতো। নিজেদের ভাবনাগুলো শেয়ার করা, একে অপরকে সাহস যোগানো নবউদ্দ্যমে কাজ করা - এমন হাজারও কথার মাঝে দুজন'কে এক করে কোন প্রসঙ্গ আসতো না কখনো। বছর খানেক পর অনি হঠাৎ বলল- "মনামি তোমাকে দেখতে চাই"





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28793063 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28793063 2008-05-01 00:46:33
চিকনামিয়ারে টিপস <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /><img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> কাহিনী জানা গেল, দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া লোকের সাথী মোবাইলে কথা বলছিলেন অন্যমনষ্ক হয়ে, ওই ফাকেঁ জানালা দিয়ে থাবা দিয়ে চ্যাংড়া ফুলবাবু মোবাইল ছিনিয়ে আরামসে আয়েসি হাটা দিছেন। ভাবছিলেন দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসতে আসতে উনি পগারপার হবেন, কিন্তু আলোচ্যব্যাক্তি আগেও দুবার এমন ঘটনার স্বীকার , তাই বুদ্ধি করে জানালা দিয়েই দে লাফ আর ক্যাকঁ করে ধরলেন বেচারাকে। কিন্তু ফুলবাবু পুরাই অস্বীকার - কই মোবাইল? কার মোবাইল?কি কন মিয়া আজাইরা কথা?
ততক্ষনে সাথের জন পৌছে গেছে, বুদ্ধি করে ছিনতাইকারীর গ্যাং এর হাতে নাস্তানাবুদ হবার আগেই দু'জন মিলে ওটারে ধরে বাসে উঠিয়েছে।

কাহিনী জানতে পারার পরের কাহিনী বড়ই জোসিলা<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /> ঘুমটুমের লেপখ্যাতা পুড়ে ফেলে জনগন ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজে নেমে পড়ছেন। পিছনের দিকে বসা যাত্রীদের হায় আফসোসে বাসের বাতাস ভারি হয়ে গেল, রব উঠল "সামনের ভাইরা আমাদেরও হাতের সুখ নেওয়ার সুযোগ দেন"<img src=" style="border:0;" /> কে শোনে কার কথা, আপা-খালাম্মারও বাদ নাই, হাতে না হোক, মুখ দিয়াই কথার ফুলঝুরি ঝরাতে লাগলেন<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

একসময় যখন মনে হলো হাতপা ছেড়ে দিছে ফুলবাবু, মায়া করে বাসের বের করে দিলো তাকে। মজার ব্যাপার হলো বের হতেই , একটু আগের আধমরা ছেলে সটাং দাড়িয়ে দে দৌড়:-*<img src=" style="border:0;" />


(চিকনামিয়া মোবাইলরে ভালা পায়, তাই তারে মোবাইল বাচাঁনের টিপস দিলাম এই কাহিনী দিয়া.........<img src=" style="border:0;" /> আর তার যেই বডি সে বাসের জানালা দিয়েই লাফ দিতে পারবেন<img src=" style="border:0;" /> )
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28788474 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28788474 2008-04-16 20:30:30
সারমর্মহীন গল্প?? (আবারও!!!)
ছাগলের পাল ধুমাইয়া পিটানি খাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে আবার , আবারও শুরু করছে একই কায়-কারবার!!!!!

কিছু কিছু মানুষ(!!!) এর হুশ এমনে আসে না, আনতে হয়। দেখা যাক কবে আসে হুশঁ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28783955 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28783955 2008-03-30 22:46:59
ভালোবাসার দল তবে অবারিত ভাবে দিতে আর পেতে পেতে আমরা আলসে হয়ে যাই, কাঙাল হয়ে পড়ি অন্যেরটা পাবার আশায় চিন্তা চেতনায় ভর করে কখন কে এসে ভালোবেসে যাবে। নিজেকে ভালোবাসতেই ভুলে যাই, ভুলে যাই নিজেদের জন্য কাজ না করে সমৃদ্ধ না করলে যে অন্যকে ভালোবাসা দেবার যোগ্যতাও থাকবে না।

গেল সিডর পরবর্তী একটা অবস্হার কথা তুলে ধরি। কোন একটা রিপোর্টে বলা হলো একটি গ্রামের কিছু লোকজন তাদের ভাঙা ঘরদোর মেরামত করছেন না, মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু তারা যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন নিজেদের পূর্বাবস্হায় ফিরিয়ে আনার মতো। তারা তা করছেন না, কারন সিডরের ত্রান রুপে তারা যা যা পেয়েছেন সেসব আশাতীত কাপড়চোপড়, শুকনা খাবার, অর্থসাহায্য আসা বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং আরো সাহায্য পাবার আশায় তারা এমনই থাকতে চান!!!!

ঐ গ্রামের মানুষ সিডর আক্রান্ত বরগুনার আমতলী উপজেলার মানুষদের মতো ভাগ্যবান নন। ঐওরা পেয়েছিলো ভালোবাসার সামগ্রী(!!) , আর আমতলীবাসীদের জন্য হাজির হয়েছিলো খোদ "ভালোবাসার দল"। খুব বেশি অর্থবিত্ত নিয়ে নয়, মনের অফুরান জোর সম্বল করে গ্রামবাসীদের সাবলম্বী করে তোলার প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে ওরা।

সাধারনত চারুকলার ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে সবাই ভাবে - ওরা ভাবের রাজ্যে ডুবে থাকে, কল্কেতে দম মেরে উড়ায় ওরা কল্পনার ফানুস। আমতলিতে যাওয়া চারুকলার ছেলেমেয়েতে গড়া ১৫ জনের দলটি মনের ফানুস উড়ালো কল্পনায় নয়, ঐ এলাকার মানুষের মনে, যার টানে প্রত্যন্ত এলাকাবাসী চিনল , জানলো নিজেদের ক্ষমতা।
শুধু দান দিয়ে নয়, গতক'টা মাস যাবত গ্রামবাসীদের নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গ্রামের পুকুর সাফ করা, সুপেয় পানির ব্যবস্হা করা, ভাঙা ঘরদোর মেরামত করার পাশাপাশি তাদের মনোবল বাড়াতে বিনোদন দিতে, জনসচেতনতা সৃস্টি করতে গানের আসর বসানো, ল্যাপটপ - ভাড়া করা প্রজেক্টর দিয়ে ছবি দেখানোর মতো কাজগুলো করে ঐ দলটা।ওদের অনুপ্রেরনায় স্বেচছাশ্রমেই গ্রামবাসী তৈরী করে ফেললো ২৬ কি.মি দীর্ঘ তিনটি রাস্তা, যা আগে ঐএলাকায় ছিলোই না, ক্ষেতের মধ্য দিয়ে চলাচল করতো তারা।

কিছুই না পাবার আশা নিয়ে যাওয়া ঐ দলটা ছিলো শুধুই একটা সাহায্যকারী দল, ভালোবাসা বিলাতে বিলাতে ক'দিনেই পরিচিত হলো ওরা "ভালোবাসার দল" হিসাবে।

অনেক ভালোবাসা জানাই ঐ ভালোবাসার দলকে, শুধুমাত্র অর্থ দিয়ে অচল না করে, ঐ মানুষ গুলোকে উদ্দ্যমী, আত্নবিশ্বাসী, সুসংঘটিত করে সচল করে তোলার জন্য।


[প্রথম আলো তে ২রা ফেব্রুয়ারী এবং ২রা মার্চ এ খায়রুল বাশার বুলবুল এর করা দু'টি ফিচার থেকেই যা কিছু জানা]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28783377 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28783377 2008-03-29 08:59:13
শোল্লক ভাঙানী....
"আপনেগো রুচি নাইক্কা ধুরর.......
কি আমগো রুচি নাই? যান গেট ছারুম না"

টিভিতে বিজ্গাপনটা দেখতে দেখতে হেসে উঠে টুনি বলল - মানুষের বিয়েতে কত মজা হয় গেট ধরা নিয়ে, আর দেখলি ইনামভাইয়ের বিয়েতে কিছুই হলোনা ...
বাবু বলে উঠলো - আরে উনার শালীরা পার্লার থেকে পৌছানোর আগেই আমরা বরপক্ষ গেলাম, বেচারিরা টাইম পেলো কই গেটধরার ....
- হুহ! কিন্তু গেটমানি তো ঠিকই নিলো, আগেই ফিক্স করা ছিলো কতদিবে না দিবে,

ভাইবোনের কথাবার্তা শুনছিলো বিয়ে উপলক্ষে বেড়াতে আসা দাদী। এতক্ষনে বলে উঠলেন - শোন এখনকার দিনের ঘন্টাগুনে ভাড়া করা বিয়েবাড়ি (কমিউনিটি সেন্টার) তে এর বেশি আশা করা কি ঠিক? এখনকার ঐ বিয়েবাড়িতে হয় শুধু আনুষ্ঠানিকতা ... আসো, একটু ঢংঢাং করো, খাও-দাও আর জলদি জলদি আল্লাহ হাফেজ বলো ....

আগেকার দিনে গেটধরাতে চলতো বুদ্ধির খেলা, ধাধাঁর টক্কর .... কোনপক্ষ কত ধাধাঁর উত্তর দিতে পারবে তার উপর নির্ভর করতো গেটমানির পরিমান। এমনও হতো যতক্ষন উত্তর না দিতে পারতো ঢুকতে দিতেও দেরি হতো বিয়েবাড়িতে। গ্রাম্যভাষায় একে বলা হতো "বিয়ের শোল্লক ভাঙানী"। মজার একটা শোল্লক শোন তোরা -

কনেপক্ষ বলছে - "পান খাও পন্ডিতভাই, কথা কও সারে .....
পান-বুয়ার জন্ম কতা কওতো কোন অবতারে?
যে না কইতে পারে পান-বুয়ার জন্ম কতা
ছাগলের মতো চাবায় বনের হারবা পাতা"

চালাক বরপক্ষের উত্তর - "চালনিত কইরা আনেন পানি,
তয় ভাঙামু পানের মানি"


শহরের কথা বাদই দিলাম, ইদানিং গ্রামেও এই মজার ছড়ার খেলা হয়না, সবাই ব্যস্ত এখন সাজপোশাকের বাহাদুরিতে .......
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28774556 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28774556 2008-02-27 16:32:53
বাংলাদেশ
ট্রেইনার বলে উঠলেন - আসুন একটা খেলা খেলি , ছোট্টকালে একটি শব্দের প্রতি অক্ষরের মানে বের করার খেলাটা। শুধু একটু অন্যরকম, এখানে আমরা একটি বাক্য তৈরি করবো ঐ অর্থগুলো দিয়ে। চলুন সবাই বের করি বাংলাদেশের মানে।

সবচেয়ে দারুন একটা বাক্য তৈরী করলো একজন-

B- Blood
A- achieved
N- national
G- golden
L- land
A- appluaded
D- democratic
E- evergreen
S- sanctified
H- habitation

রক্তে অর্জিত জাতীয় সোনালীভূমি সুপ্রশংসিত গনতান্ত্রীক চিরসবুজ পবিত্র আবাসস্হল আমার বাংলাদেশ

এতোক্ষন ঝিমানো, অমনযোগী সবাই অন্যরকম এক আনন্দে ঝলমল করছে। ট্রেইনার বললেন, আমরা শিক্ষার্থীদের মনযোগ ফেরানোর জন্য নানান কৌশল করি, কিছু কাজ দেয়, কিছু দেয় না। কিন্তু কি করে যেন এই একটা খেলা সব সময় কাজ করে। সব কোর্সের সবার রেসপন্স হয় একই .... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28771707 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28771707 2008-02-18 16:30:10
লাখ টাকার মেয়ে সোজা কথায় দালালি, স্বল্প আয়ের লোকদের কাছ থেকে কম হারে মুনাফার বিনিময়ে টাকা নিয়ে একদানে বেশি করে টাকা কোম্পানীর স্যারকে দিয়ে মাঝথেকে সহজেই ভালো মুনাফা কামিয়ে নেয়া। কষ্ট শুধু এতটুকুই, যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়, তাদের সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেয়া যেন প্রতিমাসে মুনাফার টাকা না তুলে নেয়, এই অল্পক'টা টাকা আর কিইবা উপকারে আসবে, জমুক না কিছু, একবারে মোটাদানে টাকা তোলাটাই ভালো। বেশ কাজে আসে এই বুঝানোটা। ঐ বাবুর্চীর বৌটাই শুধু টাকা তুলে নেয় প্রতিমাসে, নয়তো গার্মেন্টসের মেয়েগুলো, ভ্যানওয়ালাদের বৌদু'টা, পিঠাওয়ালা .... ভালোই বুঝাতে পারে ওদের। এমনকি এই বাড়িওলীও টাকা খাটায় রতনের কাছে, রতন না ঠিক বলা যায় মোমেনার কথায়ই আসে টাকা...

সপ্তাহখানেক যাবতই রতনের মনমেজাজ বুঝতে পারছে না, কিছু জিগ্গেস করলে ঠিকমতো উত্তর দেয়না। মনুটারও শরীর তেমন ভালো না, চার বছরের প্রায় হলো মেয়েটা কিন্তু দেখতে আরো ছোট লাগে, জ্বরজারি আছে লেগেই। আজ বাবুর্চীর বৌ ওর পাওনা চেয়ে গেলো, মনুর বাবাকে জানাতেই ও খবরটা দিলো। ঐ টাকা খাটানো কোম্পানীর স্যারই গায়েব হয়ে গেছে সাথে অনেকের টাকাও, শুনছে বিদেশে চলে গেছে বৌবাচ্চা নিয়ে। আকাশপাতাল উলটানো এই খবরে মোমেনা চোখে অন্ধকার দেখছে, ঐলোকতো বিদেশে পালিয়ে বাচঁলো, মেরে রেখে গেলো রতন-মোমেনার মতো লোকদের যারা না পারবে টাকা শোধ দিতে, না পারবে পালাতে। মানুষ রীতিমতো ছিড়ে ফেলবে ওদের, টাকা না পেলে। সারারাত ভেবে সিদ্ধান্ত নিলো দু'জন মিলে।

সকালে বাড়িওলীকে সব খুলে বললো, মহিলা রাগে চিৎকার করে লোক জড়ো করলো। যতই বুঝায় যে গ্রামের বাড়ি গিয়ে জমি বেচেই সবার টাকা ফেরত দিবে ততই আরো চেচাঁয়। এরওর তার সব্বার চেচাঁমেচিতে পুরো পাড়া সরগরম। হঠাৎ কিছু না ভেবেই রতন বলে উঠে, - "এই লন আমার কোলের মাইয়াটা থাহুক আপনেদের কাছে, জমি বেইচ্যা টাকা দিয়াই মাইয়া নিমু। অখন আপনেরাই বুজেন, আমারে কাটলেও টাকা আসবো না, কিন্তুক যাইতে দিলে একটা উপায় তো করমুই করমু।"

নির্বাক মোমেনা স্বামীর হাত ধরে পিছনে ফেলে রাখা মনুর পানে তাকাতে তাকাতে এগিয়ে যায় সামনের দিকে, মেয়ে তার দিব্যি বসে খেলতে থাকে।



এত্তোবড় ছিলে যাওয়া গালটায় অসুধ লাগাতে লাগাতে গল্পটা বলছিলো শিউলির মা, পাড়ায় নতুন আসা হানিফের বৌকে। অসুধ লাগানো শেষ হতেই কান মুচরে বললো, - "এমনিতেই থলকূল না থাকা মাইয়া, বাপমার হদিশ নাই, তার উপর যদি গাল কাইট্যা বইসা থাকিস বিয়া অইবো তোর? "

৭/৮ বছরের মনু যদিও গল্পটা শুনছিলো, তেমন কিছুই আসে যায় না ওর তাতে। মা-বাবা, তাদের আদর কিছুই টানে না ওকে। ওর মাথায় এখন ঘুরছে পাশের বাড়ির কাজ শেষ করতে হবে তাড়াতাড়ি নাহলে বাড়িওলী খালা বকবে।
খারাপ কাটে না ওর দিন, তবে হাপিয়ে উঠে একটু। এইবাড়ির কাজ শেষ করে পাশের বাড়ির কাজটা শেষ করতে করতে আলসেমি চলে আসে। মিনা কার্টুনটা দেখতে না পাবার জন্য কষ্ট লাগে বেশি। না করেও উপায় নাই মাস শেষে ওরা ২৫০ টাকা দেয় খালার হাতে। এখন কিছুটা হলেও কম শুনতে হচ্ছে আসতে যেতে - "লাক ট্যাকার মাইয়া আমার তুই, আজীবন খাটলেও শুধবো না ঐ ট্যাকা, এর উপর গুমুত ঘাইটা বড় করতাছি, খাও খরচের কতা নাই কইলাম।"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28768615 http://www.somewhereinblog.net/blog/jabinblog/28768615 2008-02-09 17:54:06
বন্ধুত্বের ভালবাসা (শেষ পর্ব) বন্ধুত্বের ভালবাসা (২)

বন্ধুত্বের ভালবাসা (১)



নীলাভের ঐদিনের বলা কথাগুলো মনে আসতেই আর কালকের ঘটনা মিলাতেই আজকের ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো নীলার কাছে।গাধাটা ভুলেই গেছে , ও নীলাকে বলেছে ঐসব। বাসায় গিয়ে ফোন দিয়ে সবগুলাকে জানালো - সবার দাওয়াত , নীলাভকে আনার দায়িত্ব ওদের ।

সবার সাথে নিলল্জ হাসি দেয়া নীলাভ আসতেই নীলা আহলাদি স্বরে "জানু এদিকে আসো" ডাক দিলো। নীলাভ বোকা চেহারা করে চেয়ে থাকলো। কাছে এসে নীলা ওর দু'কান মুচড়ে দিয়ে বলল .... "তোর কি জানি বলার আছেনা সবাইকে?? জলদি বল তোর প্রেমসাগরে পড়ার রহস্য। আমারে না ভালবাসো? বলো বলো ঠিক কবে, কখন থেকে? নাকি আমিই শুরু করবো বলা..."

অবাক হয়ে নীলাভ বলে - "ধরছিস কেমনে? তোর মাথায় তো এতো বুদ্ধি নাই? বুজছিস কেমনে?"
নীলা হাসতে হাসতে বললো - "নিজেই তুই সেদিন বললি, বলেছিলি না, ঐতিহাসিক কথাবার্তা .....কতজনই তো মনের আশপাশে থাকে, আসে যায়, কিন্তু যে ছুঁয়ে যায়,তাকে ছাড়া আর কাউকে কি দেখানো যায়, মনটা?, মন কি এতই ফেলনা ... ক্ষনে ক্ষনে যারে তারে দেখাবো?... কত কষ্ট করে ওরে বুঝালাম, এখন মাকে বুঝাতে পারছিনা। মা কেন ওরে ভুল বুঝে, দোস্ত মা কেন বুঝেনা তৃনাকে ছাড়া আর কাউকে এই মনের আঙিনায় বসতে দিবোনা "

সববন্ধুগুলা ততক্ষনে চেচাঁনো শুরু করছে - কি? হলোটা কি? নিজেরাই ঢং করবি তোরা, না কিছু বলবি? ঘটনা এই হলে নীলাভ ওমনটা বললি কেনো?

নীলাভ শয়তানি হাসি দিয়ে বলা শুরু করল - "কালকে ওর সাথে রিকসা করে যাচ্ছি, সিগারেটের জন্য জান যায় যায়, বললাম , দোস্ত একটা খাই, নাইলে দুইটান....প্লীজ। পাথ্থর-দিল বদ, জোর গলায় কয় না। ধুর! বলে অন্যদিকে ফিরে সিগারেট ধরাইয়া যেই দু'তিনটা টান দিলাম, হঠাৎ আমার ব্যাগ কেড়ে নিয়ে ধাক্কা দিয়া আমারে রাস্তায় ফেলে চলে গেলো..... জোস ব্যাথা পাইছি, তার চেয়ে বেশি, পাবলিক হাসছে অনেক....তাই ঠিক করলাম এটারে একটা শিক্ষা দেই"

সব্বাই আফসোস করলো - আহা, তুই আগে ঐসব না বললে একটা দারুন কাহিনী হতো ... আসলেই সিগারেট নিয়ে যা করে ও, ওরে শিক্ষা দেয়াই ঠিক হতো।
নীলাভ বললো - " অভিশাপ , অভিশাপ দিলাম, তোর এমন জামাই আসুক যার জন্য তুই মনমাতাল থাকবি, কিন্তু বেটা ঘাড়ত্যাড়া পুরা বিড়িখোর হোক, ভুরভুর করে তোর গায়ে সিগারেটের ধোয়াঁ ছাড়ব, তুই না পারবি সইতে না