somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে জিনিসগুলোর জন্য আমি আদেখলা :P

০৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা আসলে অনেকটা দোকানপাট বা বাজারঘাট রিলেটেড পোস্ট। নিত্যদিন আমরা তো কতকিছুই দেখি বাজারে বা দোকানে থরে থরে সাজানো, তার মধ্যে কিছু আছে দেখলে একেবারে হামলে পড়তে ইচ্ছে করে , আবার কিছু আছে যেগুলো দেখলে কিছুই মনে হয় না! একটা উদাহরণ দিই। ঘর সাজানোর জন্য বা উপহার হিসেবে শো-পিস জাতীয় বস্তু মানুষ কত সাধ করে কেনে, অথচ আমার ওগুলো দেখলে একটুও আগ্রহ হয় না (আমি আসলে ঠিক শৌখিন টাইপের না)। বন্ধুবান্ধবরা অনেকেই চাইনিজ ফুডের ভক্ত, আমি চাইনিজ রেস্তোঁরার একেবারে পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও আমার গায়েই লাগে না। ওষুধের দোকান দেখলে নিশ্চয়ই ওষুধ কিনতে ইচ্ছে করে না, আর স্টুডিও দেখলেও নিশ্চয়ই ছবি তুলতে ইচ্ছে করে না! এই পোস্টটা হচ্ছে সেইসব জিনিস নিয়ে যেগুলো বাজারে দেখামাত্রই একেবারে কেড়ে নিতে ইচ্ছে করে। আচ্ছা, প্যাঁচাল আর না বাড়িয়ে একে একে বলতে শুরু করি।

১.



বিভিন্ন ধরণের নিত্যনতুন কম্পিউটার,ল্যাপটপ, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের প্রতি আমার অসম্ভব লোভ। এই বস্তুটির দোকানে (বিশেষ করে আইডিবি ভবনে) খুব নিয়মিত যাওয়া হয় না, কিন্তু কখনও গেলে একেবারে মাথা খারাপ হওয়ার মত অবস্থা হয়। শুধু কম্পিউটার বা ল্যাপটপ বলে নয়, এখানে অন্যান্য আরও যত রকমের টেকি জিনিসপত্র পাওয়া যায় যেমন বিভিন্ন ধরনের ক্যামেরা, হেডফোন, ব্লুটুথ ডিভাইস, এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক, আইপড, প্রিন্টার সবকিছুই আমার অসম্ভব ভালো লাগে। দেখলেই এত লোভ হয়, মনে হয় সব বস্তা বেঁধে বাসায় নিয়ে যাই। :D

২.



অনেকদিন আগে বিপাশা হায়াতের একটা সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম, দুটো ব্যাপারে তিনি খুবই শৌখিন--- একটা হলো ব্যাগ এবং স্যান্ডেল (ভুলেও শাড়ির সাথে রঙ ম্যাচ না করে পরেন না), আর আরেকটা হলো বিভিন্নরকম ক্রোকারীজ সামগ্রী (অর্থাৎ থালা বাসন ঘটি বাটি ইত্যাদি)। প্রথমটা নিয়ে আমার তেমন কোনও মাথাব্যথা নেই, মোটামুটি একটু ভদ্রস্থ চেহারার টেকসই কিছু একটা হলেই চলে যায়,কিন্তু ২য়টার প্রতি ভয়ঙ্কর নেশা।



কিভাবে যে এই নেশাটা শুরু হলো বলা মুশকিল। ছোটবেলা থেকেই মায়ের সাথে বাসন কোসনের দোকান ঘোরা হয় বলেই হয়তো... এইসব ইত্যাকার প্লেট চামচ গ্লাস কাপ খুন্তি হাতা বয়াম জাম বাটি হাঁড়ি কড়াই ফ্রাইংপ্যান সসপ্যান (সম্ভবত এর ভেতরে ঝাড়ু বেলচা বালতি বদনাও অন্তর্গত) :| দেখলেই আমার কেমন যেন মাথার ভেতরে প্যাঁচ লেগে যায়। ভয়ঙ্কর লোভ... এবং শুধু যে ভয়ঙ্কর লোভ তাই না, দিন দিন এটা চাঁদের কলার মত বাড়ছে। যতক্ষণ আমি বাজারে বাসন কোসনের সামনাসামনি থাকি, ততক্ষণ আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা, এই গ্রহের কোনও কিছুর সাথে আমি আর নিজের কোনও সম্পর্ক খুঁজে পাই না! ঠিক না... কোনও কিছু নিয়েই এত অস্বাভাবিক লোভী হওয়া ঠিক না। অনেকবার ভেবেছি, সামান্যই তো কিছু জিনিস, এ নিয়ে এত পাগলামি করার কি আছে? কিন্তু পারি না। একেবারেই পারি না।

৩.



শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি, এই জিনিসগুলোর জন্য আমি একেবারে ফিকিন্নী! এইসব বিবিধ প্রকার স্টেশনারী আইটেমের জন্য আমার এত পাগলামি যে ক্যামনে হইলো! দুনিয়ার যত কাগজ, সুন্দর সুন্দর বল পেন, জেল পেন, পেন্সিল (উড হোক আর লিড হোক আর রঙ পেন্সিলই হোক), ডায়রী, নোটবুক, হাইলাইটার, বোর্ড মার্কার, গ্লু স্টিক, স্লিপ পেপার, স্টিকার পেপার, কাঁচি, ক্লিপবোর্ড, স্ট্যাপলার, স্কচ টেপ + ডিসপেন্সার, পেন হোল্ডার... ইয়া খোদা! দেখলেই পুরা মাথা খারাপ লাগে। এই অফিসে যখন প্রথম চাকরি করতে আসি, তখন অ্যাডমিন থেকে খুব সুন্দর হরেকরকম স্টেশনারী জিনিসপত্র দিতো (এখন আর দেয় না :()। আমি পুরা আদেখলার মত একেবারে ঝুড়ি ভরে একগাদা করে নিয়ে আসতাম। থাকলেও, না থাকলেও। কি করবো, দেখলে খুবই লোভ হয় যে! /:)

৪.



এই জিনিসটার প্রতিও আমার (মনে হয় শুধু আমার না আরও অনেকেরই) খুব লোভ, কিন্তু এখানে একটা শর্ত আছে। আসলে বইয়ের কালেকশনটা সেরকম হওয়া চাই, নইলে কেন যেন ভালো লাগে না। গুমোট আবহাওয়াওয়ালা একগাদা বইয়ে ঠাসা কিছু অনেক পুরনো লাইব্রেরী দেখি, অনেক পুরনো পুরনো লেখকের নাম না জানা বই আছে সেখানে... এই লাইব্রেরীগুলো আমার কাছে অনেক ছিমছাম সাজানো গোছানো বইয়ের দোকানের চেয়েও অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়। সেই হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সবগুলো ভ্রাম্যমান লাইব্রেরীই আমার কাছে হীরার খনি। দেখলেই মনে হয় পুরো বাসটা যদি ঘাড়ে করে তুলে নিয়ে চলে যাওয়া যেত, কি ভালোই না হতো!

অনেক আগে, খুব ছোটবেলায়, খুলনা উমেশ্চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীর আমি ছিলাম সর্বকনিষ্ঠ সদস্য (ক্লাস ওয়ানে বা টুতে পড়তাম)। আমার এখনও মনে পড়ে, বাবা একদিন নিয়ে গিয়ে ভর্তি করিয়ে দিলেন, তারপর শিশু সাহিত্য নামে যে একমাত্র আলমারিটা ছিলো সেটার সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড়া করিয়ে দিলেন। সেদিন বইয়ের প্রতি যে প্রবল লোভটা বোধ করেছিলাম এখনও তার কিছুমাত্র কমেনি। কখনও কমবে তা আশাও করি না।

৫.



আজকাল এই দোকানগুলোতে গেলে একেবারে ভ্যাবলা মেরে যাই। কত মুভি দেখার আছে,কত গান শোনার আছে, কিন্তু কিনতে গেলে চট করে একটা নামও মনে পড়ে না। অথচ বাসায় বসে বসে কত প্ল্যান করি, একবার হাতের কাছে পেলে এইটা নিবো ঐটা নিবো সেইটা নিবো খালি নিতেই থাকবো, কিন্তু সামনে এসে পড়লে সব লবডঙ্কা! প্রায়ই মুভির বা গানের সিডির দোকানগুলোতে ঘোরা হয়, লোভাতুর চোখে তাকিয়েও থাকা হয় কিন্তু ঐ যে, ভ্যাবলা মেরে যাই বলে আর কেনা হয়ে ওঠে না। দোকানদার দাঁত বার করে জিজ্ঞেস করে, "আপা কি লাগবে?" কি বলবো, তোতলাতে থাকি। কিন্তু পরে আবার ঠিকই চৌদ্দ রকমের প্ল্যান প্রোগ্রাম শুরু হয়, এটা নেবো ওটা নেবো টাইপের। সময়ের অভাবে আজকাল এগুলোর প্রতি লোভ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে (নিত্যদিন রাত ৯টায় বাসায় ফিরলে এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক), কিন্তু লোভগুলো যখন নতুন করে মাথাচাড়া দিতে শুরু করে তখন তো আমার খবর হয়ে যায়!

৬.



এইটার কথা কি আর বলবো! এর প্রতি লোভ সকল বঙ্গনারীর চিরন্তন। অনেক আগে এই নিয়ে একটা পোস্টও দিয়েছিলাম, তখন জনগণের সাড়া দেখেই বুঝেছিলাম খুব ভুল করিনি। এই লোভটাকেও প্রায় নেশার পর্যায়ে ফেলা যায়। আমি যে কোন শ্রেণীর আদেখলা তা আমি শাড়ির দোকানে গেলে পরিষ্কার বুঝতে পারি।

৭.



এই জিনিসের জন্য আমি সিম্পলি লুল! সবাই খেতে মানা করে,বলে এগুলো খুব বিশেষ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরী করা হয় না, প্রচুর কোলেস্টেরল থাকে, আর এতে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়াউপযোগী :-/ শর্করা/কার্বোহাইড্রেট তো আছেই, তাই বলে খাওয়া ছেড়ে দেবো? নেভার! মাঝেমাঝে মনে হয় আচ্ছা, বুড়ো বয়সে যদি কখনও ডায়াবেটিস বাধিয়ে ফেলি তখন না খেয়ে থাকবো কি করে! তারপর আবার ভাবি, আরে সে তখন দেখা যাবে। আসলে আমি ইচ্ছে করে খাই তা তো না, না খেয়ে থাকতে পারি না আর কি! আমার কি দোষ! :P
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১১ বিকাল ৩:৪৭
৭৭টি মন্তব্য ৭৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×