
পিচ্চিকালে খুব স্বপ্ন দেখতাম সার্জন হওয়ার। তখন মাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছি, মাথায় তো কিছু ঢুকতো না, স্কুলে গিয়ে ঘুমাতাম খালি। মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের বহর দেখে একদিন টিচার মাকে বললো আপনার মেয়ে আসলে এখনও স্কুলের জন্য তৈরী হয়নি, একে বছরখানেক পরে নিয়ে আসেন। সেই এক বছর ফাও শুধু ঘুমাইসি বাসায় পড়ে পড়ে। এক বছর পরে আবার যখন স্কুলে দেয়া হলো তখন মহা ঘাড়ত্যাঁড়ার মত স্কুলে যেতাম ঠিকই কিন্তু এমনই গাধা ছিলাম যে পড়ার 'প'ও হতো না আমার দ্বারা (সেই গাধামি সারা জীবনেও ঘোচেনি)। সেই তখন থেকে ইচ্ছে করতো সার্জন হতে। 'সার্জন' শব্দটার সাথে তো আর পরিচয় ছিলো না, কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো বড় হয়ে কি হবা, বলতাম অপারেশনের ডাক্তার হবো। বড় হবার পর একটা পর্যায়ে এসে দেখলাম অপারেশনের ডাক্তার হওয়া সহজ নয়, এর জন্য আরও অনেক কিছু তো করতে হয় বটেই, তারচেয়েও বড় কথা হলো সবার আগে বায়োলজি পড়তে হয়। এটা চিন্তা করেই এমন বিরক্তি লাগলো যে অপারেশনের ডাক্তার হওয়ার চিন্তায় আগুন দিয়ে অন্য দিকে মন দিলাম। তারপর এত দীর্ঘসময় কেটে গেছে, ঐজাতীয় কোনও ভাবনাই আর অবশিষ্ট নেই তবু সার্জন দেখলে এখনও এত ভালো লাগে! খালি মনে হয় এই লোকগুলো মানুষের শরীরে এত কাটাকাটি করে তাও মানুষ বাঁচে কিভাবে? (শুধু যে বাঁচে তাই না আবার অসুখও ভালো হয়ে যায়, এটাই বা কিভাবে সম্ভব?)
আর দশটা শিশুর মত টিচার হওয়ারও বেশ শখ ছিলো একসময়। খুব ভাবতাম যে একগাদা ভ্যাবলা টাইপের ছাত্রছাত্রী আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে আর আমি ধুমসে চাপাবাজি (কিংবা চোপাবাজি!) করে যাচ্ছি। এই সুযোগ অবশ্য হয়েছিলো একবার, ছাত্রজীবনে আমি একটা কোচিং সেন্টারে পার্টটাইম পড়িয়েছি কিছুদিন। এসএসসি লেভেলের ম্যাথমেটিক্স বা ফিজিক্স কিংবা একেবারেই প্রাইমারী লেভেলের বিজ্ঞান, এগুলোই আমাকে পড়াতে দেয়া হতো আর আমিও বিনা বাক্যব্যয়ে পড়াতাম। ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের সাথে আমার ব্যাপক জমে গেছিলো, ওরা একটু তারছিঁড়া টাইপের ছিলো আর আমাকে দেখেই বুঝতে পারতো যে আমিও আসলে ঐ দলেরই।
তারপর একটা বয়সে এসে স্বপ্ন দেখতাম ব্রায়ান লারার বউ হওয়ার (বেশি বয়স না, এই ১৩-১৪ হবে)। :!> শুধু যে লারার বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম না তাই না, এই স্বপ্নটার অনেক হাত-পা-ডানা-লেজ ছিলো, যেমন ভাবতাম খুব ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছি, এত সুন্দর জায়গা দেখার লোভ সামলাই ক্যাম্নে? কিংবা ভাবতাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব প্লেয়ারদের সাথেই অনেক আড্ডা দিচ্ছি, হাসছি খেলছি গান গাইছি, এইসব আর কি। আমি আসলে ঐ টিমটার অনেক পাংখা ছিলাম। সেই যেবার '৯৬ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অল্পের জন্য সেমিফাইনালে এসে বাদ পড়ে গেলো, মন এত বেশি খারাপ হয়েছিলো যে একেবারে ভেউ ভেউ করে কাঁদার মত অবস্থা। এখন আর ঐসব চিন্তা নেই, তবে কখনও কখনও স্ক্রীনে ব্রায়ান লারার খোমা দেখতে পেলে ভালোই লাগে (আ রিয়াল গুডলুকিং গাই, মানতেই হবে)। তবে মাঝেমাঝে মনে হয় ভিভিয়ান রিচার্ডসের খেলা সেভাবে দেখার সুযোগ হয়নি তো, তাই বোধহয় লারাকে ভালো লাগতো, ভিভকে দেখলে হয়তো অন্য কারো দিকে নজরই যেতো না। আসলে চেহারার জন্য নয়, ভিভের খেলার এত সুনাম শুনেছি বলেই এরকম মনে হয় আর কি। পিঞ্চ হিটিং এবং পিঞ্চ হিটার, দু'টোই আমার খুব প্রিয় জিনিস কিনা!
[ম্যালাদিন কিছু লেখা হয় না। আজ মনে হলো কিছু একটা লিখি। আর কিছু এলো না মাথায়, তাই এসব হাবিজাবি লেখা। আবোল আর তাবোল, আগডুম আর বাগডুম...]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

