somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবোল আর তাবোল, আগডুম আর বাগডুম...

০৮ ই মে, ২০১০ রাত ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পিচ্চিকালে খুব স্বপ্ন দেখতাম সার্জন হওয়ার। তখন মাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছি, মাথায় তো কিছু ঢুকতো না, স্কুলে গিয়ে ঘুমাতাম খালি। মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের বহর দেখে একদিন টিচার মাকে বললো আপনার মেয়ে আসলে এখনও স্কুলের জন্য তৈরী হয়নি, একে বছরখানেক পরে নিয়ে আসেন। সেই এক বছর ফাও শুধু ঘুমাইসি বাসায় পড়ে পড়ে। এক বছর পরে আবার যখন স্কুলে দেয়া হলো তখন মহা ঘাড়ত্যাঁড়ার মত স্কুলে যেতাম ঠিকই কিন্তু এমনই গাধা ছিলাম যে পড়ার 'প'ও হতো না আমার দ্বারা (সেই গাধামি সারা জীবনেও ঘোচেনি)। সেই তখন থেকে ইচ্ছে করতো সার্জন হতে। 'সার্জন' শব্দটার সাথে তো আর পরিচয় ছিলো না, কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো বড় হয়ে কি হবা, বলতাম অপারেশনের ডাক্তার হবো। বড় হবার পর একটা পর্যায়ে এসে দেখলাম অপারেশনের ডাক্তার হওয়া সহজ নয়, এর জন্য আরও অনেক কিছু তো করতে হয় বটেই, তারচেয়েও বড় কথা হলো সবার আগে বায়োলজি পড়তে হয়। এটা চিন্তা করেই এমন বিরক্তি লাগলো যে অপারেশনের ডাক্তার হওয়ার চিন্তায় আগুন দিয়ে অন্য দিকে মন দিলাম। তারপর এত দীর্ঘসময় কেটে গেছে, ঐজাতীয় কোনও ভাবনাই আর অবশিষ্ট নেই তবু সার্জন দেখলে এখনও এত ভালো লাগে! খালি মনে হয় এই লোকগুলো মানুষের শরীরে এত কাটাকাটি করে তাও মানুষ বাঁচে কিভাবে? (শুধু যে বাঁচে তাই না আবার অসুখও ভালো হয়ে যায়, এটাই বা কিভাবে সম্ভব?) :-/ এই ধারণা থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি, সার্জন মানেই আমার কাছে এখনও অতিমানবীয় কেউ, ধরাছোঁয়ার বাইরে কিছু।

আর দশটা শিশুর মত টিচার হওয়ারও বেশ শখ ছিলো একসময়। খুব ভাবতাম যে একগাদা ভ্যাবলা টাইপের ছাত্রছাত্রী আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে আর আমি ধুমসে চাপাবাজি (কিংবা চোপাবাজি!) করে যাচ্ছি। এই সুযোগ অবশ্য হয়েছিলো একবার, ছাত্রজীবনে আমি একটা কোচিং সেন্টারে পার্টটাইম পড়িয়েছি কিছুদিন। এসএসসি লেভেলের ম্যাথমেটিক্স বা ফিজিক্স কিংবা একেবারেই প্রাইমারী লেভেলের বিজ্ঞান, এগুলোই আমাকে পড়াতে দেয়া হতো আর আমিও বিনা বাক্যব্যয়ে পড়াতাম। ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের সাথে আমার ব্যাপক জমে গেছিলো, ওরা একটু তারছিঁড়া টাইপের ছিলো আর আমাকে দেখেই বুঝতে পারতো যে আমিও আসলে ঐ দলেরই। :P মজার ব্যাপার, যেসব ক্লাসে আমি পরীক্ষার হলে গার্ড দিতাম সেসব ছাত্ররা আমাকে দু’চোখে দেখতে পারতো না (এতই কড়া ছিলাম) আর যেসব ক্লাসে আমি পড়াতাম সেসব ছাত্ররা আমার দারুণ ভক্ত ছিলো! একদিন সবেমাত্র একটা ক্লাস শেষ করেছি, ক্লাসরুম থেকে বের হতে যাবো ঠিক সেই সময় হঠাৎ একজন স্টুডেন্ট উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে অবাক করে দিয়ে বললো, আপা আপনার পড়ানো আমার এত ভালো লেগেছে, আমি আগে যে ব্যাচে ছিলাম সেই ব্যাচ ছেড়ে দিয়ে এখন এই ব্যাচে জয়েন করতে চাই, প্লিজ আমাকে সাহায্য করবেন? এত অবাক হয়েছিলাম সেদিন, মাথায়ই আসেনি যে আমার মত অঙ্কে কাঁচা পাবলিকের অঙ্ক করানো কিভাবে কারও এত ভালো লাগতে পারে যে মাত্র দু’ঘন্টা ক্লাস করেই ব্যাচ বদলানোর ডিসিশন নিয়ে ফেলে!

তারপর একটা বয়সে এসে স্বপ্ন দেখতাম ব্রায়ান লারার বউ হওয়ার (বেশি বয়স না, এই ১৩-১৪ হবে)। :!> শুধু যে লারার বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম না তাই না, এই স্বপ্নটার অনেক হাত-পা-ডানা-লেজ ছিলো, যেমন ভাবতাম খুব ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছি, এত সুন্দর জায়গা দেখার লোভ সামলাই ক্যাম্নে? কিংবা ভাবতাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব প্লেয়ারদের সাথেই অনেক আড্ডা দিচ্ছি, হাসছি খেলছি গান গাইছি, এইসব আর কি। আমি আসলে ঐ টিমটার অনেক পাংখা ছিলাম। সেই যেবার '৯৬ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অল্পের জন্য সেমিফাইনালে এসে বাদ পড়ে গেলো, মন এত বেশি খারাপ হয়েছিলো যে একেবারে ভেউ ভেউ করে কাঁদার মত অবস্থা। এখন আর ঐসব চিন্তা নেই, তবে কখনও কখনও স্ক্রীনে ব্রায়ান লারার খোমা দেখতে পেলে ভালোই লাগে (আ রিয়াল গুডলুকিং গাই, মানতেই হবে)। তবে মাঝেমাঝে মনে হয় ভিভিয়ান রিচার্ডসের খেলা সেভাবে দেখার সুযোগ হয়নি তো, তাই বোধহয় লারাকে ভালো লাগতো, ভিভকে দেখলে হয়তো অন্য কারো দিকে নজরই যেতো না। আসলে চেহারার জন্য নয়, ভিভের খেলার এত সুনাম শুনেছি বলেই এরকম মনে হয় আর কি। পিঞ্চ হিটিং এবং পিঞ্চ হিটার, দু'টোই আমার খুব প্রিয় জিনিস কিনা! :)


[ম্যালাদিন কিছু লেখা হয় না। আজ মনে হলো কিছু একটা লিখি। আর কিছু এলো না মাথায়, তাই এসব হাবিজাবি লেখা। আবোল আর তাবোল, আগডুম আর বাগডুম...]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৩
৮৬টি মন্তব্য ৮৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×