যারা আমাকে কাছ থেকে বা দূর থেকে দেখেছেন খুব ভালো করে জানেন আমার মাথায় কি পরিমাণ জঙ্গল থাকে। আগামী পরশু ভাইভা পরীক্ষা থাকায় চুল কাটানোর মহৎ সিধান্ত নিলাম। যেই ভাবা সেই কাজ। এক সেলুনে ঢুকে মোটা-সোটা এক নরসুন্দরের হাতে নিজ মস্তক খানা সঁপে দিয়ে ঘূর্ণি-কেদারায় হেলে বসলাম। শুরু হল চুল ছাটা । বেশ সময় নিয়ে চুল ছাটলেন নরসুন্দর মহাশয়। (আমি খেয়াল করেছি- আমার চুল ছাঁটতে নরসুন্দরদের স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগে। আমার চুল কাটতে কাটতে পাশের চেয়ারের দুজন কাস্টমারের বিদায় তারই প্রমাণ।)
আমি ভাবলাম এই বিশাল জঙ্গল সাফের পর কাঠুরে মহাশয় বুঝি হাপিয়ে উঠেছেন। কিন্ত না। আমার চুল ছাটার মহান দায়িত্ব ঘারে নেওয়ার আগে বোধ হয় তিনি এক বোতল স্পিড খেয়ে এসেছিলেন। হাতে বেশ খানিকটা পানি নিয়ে আমার মাথায় মাখালেন। তার পর শুরু হল মাথা ঝাকানো । হায়রে ‘জীবন’ তোর বাংলাই তা হলে লাইফ !!! মনে হচ্ছিল এই বুঝি কানের ফুটো দিয়ে সাধের মস্তিষ্ক খানা বের হয়ে আসবে!!! আমি দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বসে রইলাম । হে রহমানুর রহিম ... রহম কর। থামাও এরে । কিন্তু ...
চোখের সামনে ভাসছিল ‘Rockstar’ মুভিতে ষণ্ডা মালিশম্যানের হাতে পরা ওই মিউজিক প্রডিউসারের করুণ মুখ।
এর আগে আমি কখনো এই মালিশ খাই নাই। আমার এক ছাত্র আছে Aadnan Habib তার খুব সখ সেলুনে গিয়ে মাথা মালিশ করায়। কিন্তু লজ্জাবশত কখনো বলতে পারে না। আমার ক্ষেত্রেও এমনই ছিলো ব্যাপারটা। আমারও এই মালিশের ব্যাপারে একটা চমক কাজ করতো। চমকের জবাব পাইলাম। এদিকে টাইনা-ওদিকে চাপরাইয়া- মাথার উপর চাটি মাইরা সেরাম ধুমধুমার কাণ্ড !! কিছুক্ষনের জন্য মনে হল, ‘এ কি আমারে মারে, না মালিশ করে!!!’ তারে না থামাইয়া আর পারলাম না। থামাইলাম ।
অফটপিক বলে রাখি, আমার ইচ্ছা আছে Aadnan Habib এর কোন এক জন্মদিনে তাকে সেলুনে নিয়ে গিয়ে মালিশ খাওয়াইয়া আনি। এটাই হবে তার জন্মদিনের গিফট ।
যাই হোক, সবচেয়ে বড় কথা, একটা নতুন অভিজ্ঞতা হল ।
তবে, দিল্লীকা লাড্ডু খেতে যে এমন হয় জানা ছিল না ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



