লিখিতেছি আমি
পাইতেছি ভয়
পুনরায় নাহি জানি
কী হয়! কী হয়!
কলমের ক্ষয়
না কি কাগজের লয়
অঙ্গুলি মচকানো
অসম্ভব নয়!
প্রতূষে জাগিয়াছি আজি
বিপুল আগ্রহে
করিব বিবিধ কর্ম
মহা সমারোহে
কার্যতালিকায় প্রথমেই আসিল
রন্ধনকর্ম
বাঙালী আমি, ডালভাত খাইব
এই মোর ধর্ম
অগ্নি সহকারে উনুন জ্বালাইয়া
দিলাম চারিটি ডাল বসাইয়া
ফিরিয়া আসিলাম ঘরে
অন্য কর্মের তরে
এইবার বস্ত্রধৌতকরণ
যাহা আমার নিকট
সাক্ষাত মরন!
পরিষ্কারক গুড়া সাবান লইয়া
ঢুকিয়া স্নানাগারে
উচ্চ স্বরে চালাইলাম বেতার যন্ত্র
যাহা মস্তিষ্ক চাঙ্গা করে
বেতাল নৃত্য শয়তানের ভৃত্য
কথা বড়ই সত্যি
এইখানে শুরু হইল
আমার যত বিপত্তি
নৃত্য করিতে গিয়া
নিমিষেই গুড়া সাবান পড়িল ছিটকাইয়া
আমি রহিলাম বিমূঢ় দাড়াইয়া
ছুটিলাম বিক্রয়কেন্দ্র পানে
খরিদ করিলাম গুড়া সাবান
ফিরিলাম খুশি মনে
কিন্তু এ কী!
নাসিকায় পৌছিল গন্ধের ঝাপটা
পড়িল মনে আমার কৃত পাপটা
উনুন নিকট গিয়া দেখি
ডাল পুড়িয়া কয়লা
সপ্ত দিবসব্যাপী ঘষিলেও
উঠিবে না তো ময়লা
আমারই ভুল, আমারই দোষ
ইহাই মনের সান্ত্বনা
এইখানেতে সাঙ্গ হইল
আমার আহার পরিকল্পনা!
অতঃপর, বস্ত্র!
লইয়া অস্ত্র শস্ত্র
নামিলাম যুদ্ধে
নিভৃতে, দ্বার রুদ্ধে
কত রকম পোশাক
তাহার কত রকম বর্ণ
দেখিয়া চক্ষে অশ্রু আসে
ঝাঁ ঝাঁ করে কর্ণ
চক্ষু বুজিয়া
দিলাম ভিজাইয়া
কক্ষে ফিরিলাম ঝাড়ু লইয়া হস্তে
উদাস মনে দিতেছিলাম ঝাড়ু আস্তে আস্তে
এইবার কক্ষ মুছিবার পালা
ভাবিতেই মনে করিতেছিল জ্বালা
মিটাইতে মনের ঝাল
উঠিল আবার তাল
ঝড়ের বেগে শুরু করিলাম পানি ঢালা
কী হইল হঠাত!
হইলাম আমি চিতপটাত!
ফুটিল কোমরের অস্থি কড়াত মড়াত!
জর্জরিত আমি দুঃখ ভারে
ক্রন্দন করিলাম অতি উচ্চস্বরে
তথাপি পাই নাই ছুটি
কর্ম বকেয়া এখনও কয়েক গুটি
পুনরায় বস্ত্রের সহিত আমার বোঝাপড়া
অতি দ্রুত কর্ম সারিলাম
যাহাতে নাহি খাই আর ধরা
কিন্তু হায়!
বস্ত্র শুকাইতে গিয়া
চক্ষু আমার হইল ছানাবড়া
ভাগ্যের লিখন
নাহি যায় খণ্ডন!
ঘটিয়াছে বস্ত্রে বর্ণের মিশ্রণ!
শ্বেত বর্ণ বস্ত্র
রঞ্জিয়াছে লোহিতে
এ কী লীলাখেলা
দেখিনু মহিতে!
সব হারাইয়া
ব্যর্থ হইয়া
সহকক্ষবাসী কর্তৃক অঘটন ঘটনপটিয়সী উপাধী পাইয়া
লিখিতেছি এই মহাপদ্যখানি
এখনও সমস্ত দিবস রহিছে পড়িয়া
পাঠকবৃন্দ করিবেন দোয়া
দেহে যেন মোর প্রাণটি রহে
নাহি যেন যায় খোয়া!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


