শাসক এবং তাদের সন্তানদের জীবন বৈচিত্রময়, রহস্যময়। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ইরাকের এই রাজকুমার এসব ছাড়িয়ে ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের অদ্ভুত একজন মানুষ।
কিন্তু তার জীবনধরণ ছিল অস্বাভাবিক। নারী নিয়ে রাতভর আমোদফূর্তি তার কাছে খুব সাধারণ। তিনি বাঘ পুষতেন। নিজের হাতে বাঘকে মাংস খাওয়াতেন। বাঘের সাথে খেলা করতেন।
তিনি সিগারেট খেতেন। কিন্তু যেনতেন সিগারেট না, সেই সিগারেট আলাদাভাবে তার জন্য তৈরী, সিগারেটের গায়ে তার নাম লেখা থাকতে হতো।
বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডসমূহের সর্বশেষ সংস্করণের গাড়িগুলো ছিল তার গ্যারেজে। তিনি সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন। তাতেও তার মন ভরতো না।
একবার তিনি চাইলেন, নিজের বাগানবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিবেন। সেই দাউদাউ আগুন দোলনায় বসে দেখবেন। তা-ই করা হলো। চারিদিকে দাউদাউ আগুন জ্বলছে, তিনি দোলনায় বসে শরাবের গ্লাস হাতে তা দেখছেন।
তিনি দেশটির অলিম্পিক কমিটির প্রধান ছিলেন। দেশটির কোন খেলোয়াড় কোথাও গিয়ে খেলায় হারলে তাদের জন্য কঠোর ও কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা। তিনি ছিলেন দেশটির একমাত্র প্রাইভেট টিভির মালিক। এর স¤প্রচারে কোন অসুবিধা হলে শিল্পী, সাংবাদিক ও কারিগরদেরকে ধরে শাস্তি দিতেন। এসব শাস্তির জন্য তার নিজস্ব কেন্দ্র ছিল। তার বাবার শাসন যখন শেষ হয়ে গেল, পরাজয় যখন সুনিশ্চিত, তিনি তার সবগুলো দামী দামী গাড়ি নিজের হাতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন।
এ অদ্ভুত চরিত্রের মানুষটির নাম উদাই সাদ্দাম। দেশটির নাম ইরাক। আমরা যাকে নিয়ে গর্ব করি, সেই সাদ্দাম হোসাইনের গুণধর বড় ছেলে তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলী বিদ্যায় স্নাতক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তিনি ডক্টরেট নিয়েছিলেন।
সাদ্দামের শাসনামলে ইরাকের মানুষ যখন থরথর করে কাঁপতো, তখন তার প্রমোদখানায় রাতভর চলতো নৃত্য-বাজনার ঢোল। তিনি নিজের কানে তুলা দিয়ে সেই উৎসবের মধ্যে হঠাৎ করেই গোলা ছুঁড়তেন আকাশে, বন্দুক দিয়ে বেলুন ফোটাতেন। তারপর আবার নাচে গানে মিশে যেতেন সুন্দরীদের হাত ধরে।
খেয়ালী জীবনের এ হচ্ছে সামান্য নমুনা। তার প্রাসাদ, বাড়ী ও বালাখানার কথা তো বাদ রয়ে গেল।
ভোগ বিলাস কি এর চেয়েও বেশি কিছু হতে পারে?
হাতে সময় থাকলে এবং ইউটিউব চালু থাকলে আরবী বুঝেন এমন যে কেউ এ ডকুমেন্টারীগুলো দেখতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


