somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টির ঘ্রাণ মাঝেমধ্যে লাগে নাকে এসে

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঝিলমিল আর অনিকেত, দুইটা ফিকশনাল কারেক্টর।

অনিকেত, এই চরিত্রটার স্বত্বাধিকারী রাবেয়া রাহীম বুবু আর ঝিলমিল এই চরিত্রটর স্বত্বাধিকারী আমি।

বেশ কিছুদিন আগে অনিকেতকে একটা চিঠি লিখেছিল ঝিলমিল। সেই চিঠিটার জবাব থাকছে আজকে অর্থাৎ আজকের চিঠিটা লিখছে অনিকেত।


অনিকেত ও ঝিলমিলের সাথে একটু পরিচিত হতে চাইলে যাওয়া যাবে এই লিংক দুটিতে।

১) অনিকেত এর পরিচয়ঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/su15/30107847

https://www.youtube.com/watch?v=ROIpzt3yJCc

২) ঝিলমিল এর পরিচয়ঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/jahidonik/30204786



অনিকেত-কে লেখা ঝিলমিলের চিঠিটা পড়া যাবে এখানে

http://www.somewhereinblog.net/blog/su15/30205511



শুরু হচ্ছে অনিকেতের লেখা ঝিলমিলের চিঠির প্রতিউত্তর।



ঝিলমিল,

ভাদ্র মাসের শেষের দিকে আজকাল বৃষ্টি খুব একটা হয় না বললেই চলে। গ্রামে থাকলে যা একটু টিনের চালে রিনঝিন আওয়াজ পেলে বুঝতে পারতাম বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু শহরে !
এই শহরে কে দেবে আমায় বৃষ্টির খবর ?

অনেকদিন বাদে তোকে লিখছি তা ঠিক নয়, তোকে প্রায়শই লিখি কিন্তু ডাকবাক্সে করে পাঠানো হয় না। কতদিন পরে পাঠাচ্ছি, তিন সাড়ে-তিন বছর তো হবেই।
কেমন আছিস রে ? একেবারে পুরাদস্তুর সংসারী হয়ে গেছিস নাকি সেই আলাভোলা মেয়েটাই রয়ে গেছিস?
এতদিন পরেও তোকে তুই করেই লিখছি, অনভ্যস্ততায় তুই আবার ভিরমি খেয়ে পড়িস না।

খুব ইচ্ছে করে জানিস, তোকে দেখতে চল্লিশ সের কাঁচাগোল্লা নিয়ে একদিন তোর জামাই বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হই। তোদের মহল্লার সবাইকে কাঁচাগোল্লা খাওয়াই। চল্লিশ সের কেন চল্লিশ মেট্রিক টন কাঁচাগোল্লাও আমার কাছে এখন আর কোন ব্যাপার না। অনেক টাকা হয়েছে আমার এখন। এত এত টাকা দিয়ে আমি কি করব সেটাই মাঝেমাঝে ভেবে পাই না। কিভাবে এত টাকার মালিক হলাম নিজেই জানি না। মনে হয় আলাদীনের প্রদীপ-ট্রদীপ পেয়েছিলাম, রুনুটা তো তাই বলে !

তোর বিয়ের পরপরই আমি চলে গেলাম কাশ্মীর। সেখান থেকে থেকে মিডল ইস্ট। শুনতে যতটা সহজ আর আরামদায়ক মনে হচ্ছে আদতে এর চেয়ে হাজারগুণ কঠিন আর কষ্টের। বৈধ-পথে যে বিদেশ যাব সে উপায় ছিল না। পুঁজি যা ছিল লাখ দুইএক সেটাকে সম্বল করেই গিয়েছিলাম বর্ডারে। সেখানে এক দালাল ধরে ১৬ দিনে পৌঁছে যাই কাশ্মীর। কাশ্মীর, বাইরে থেকে শুনতে যতটা ভাল আদতে অতটা না। তার উপর আমি ছিলাম লুকিয়ে লুকিয়ে। দিনের বেলা বের হওয়া যেত না, রাতের বেলা বের হতাম। একটা ছোটখাটো কজা জোটালাম। সেখানে ছিলাম একুশ দিন। এই একুশটা দিন যে কি অমানুষিক পরিশ্রম করে কাটিয়েছি সেকথা আজ এতদিন পরে আর মনে করতে চাই না। গা শিউরে ওঠে।
সেখান থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে চলে গেলাম মিডল ইস্ট। আড়াইটা বছর সেখানে পার করে গত মার্চে দেশে ফিরেছি। সেখানে কি করতাম, কিভাবে ছিলাম সেসব কথা দেখা হলে তবেই বলব।

আচ্ছা তুই কি দেখতে আগের মতই আছিস? আমি তোকে দেখে চিনতে পারব তো !
নাকের উপরে সেই ছোটবেলার হামের চিহ্নটা এখনো আছে তো ? নাকি স্বামীর আদর সোহাগে সেটা মুছে গেছে?


তোর বিয়ের দিন। বরযাত্রী এলো তিনটা মাইক্রো-বাস নিয়ে, আমি তখন পশ্চিমের ভিটায় কাঁঠাল বাগানে বসে। শুনেছিলাম আড়াই হাজার লোকের দাওয়াত ছিল বিয়েতে। দুপুরে খাওয়ার পরে সেই আড়াই হাজার লোকের তৃপ্তির ঢেঁকুর আর তিনটা মাইক্রো-বাসের বারোটা চাকার ঘর্ষণ সব যেন চলে যাচ্ছিলো আমার বুকের উপর দিয়েই। নীরবে সেসব সহ্য করা ছাড়া আমার মত কাপুরুষের করার আর কিছুই ছিল না।

তোর বাবা বোধহয় জানতেন না আমি তার বড় মেয়েকে পছন্দ করি। জানলে হয়ত বিয়ের দাওয়াতটা ওভাবে দিতে পারতেন না।

একদিন সন্ধ্যাবেলায় তোর বাবা আমাকে বলেছিল,

‘বাবা অনি, আগামী ২৭শে মার্চ ঝিলমিলের বিয়ে ঠিক করেছি সবাই মিলে। ছেলে উচ্চ বংশীয়, আর্মি অফিসার ! ঢাকায় নিজেদের বনেদি পরিবার। ঝিলমিলের তো রাজ কপাল।
শোন বাবা, বিয়ে বাড়ি বুঝতেই তো পারতেছ, অনেক কাজ। তুমি কিন্তু সব কাজে আমাকে সাহায্য করবা। তুমি আমার মেয়ের ন্যাংটা-কালের বন্ধু, তোমার উপর আমার ভরসা অনেক বেশি, তোমারে তো নিজের পোলার মতই দেখি। তুমি কিন্তু বিয়েতে অবশ্যই থাকবা। তুমি থাকবা, তোমার পুরো পরিবার যেন থাকে সেই দায়িত্বও তোমার।’


সত্যিই তো লম্বা,স্মার্ট,আর্মি অফিসার,বনেদী বংশ এসবের ধারেকাছেও ছিলাম না আমি ও আমার পরিবার। কোন সাহসে তোর বাবার কাছে মুখ-ফুটে কিছু বলি!


আজ এতদিন পরে আবারও যদি আকাশে মেঘ করে, বৃষ্টি বৃষ্টি হয় আমার সেই দিনের কথাটা খুব মনে পড়ে। সেদিন সন্ধ্যা, ঝুম বৃষ্টি। বিজলি নেই। দোতালার পড়ার ঘরে আমি একা। তুই এলি এক ঝুড়ি পাটিসাপটা পিঠা নিয়ে। লাজলজ্জা ফেলে সোজা উঠে গেলি আমার পড়ার ঘরেই। তুই হয়ত আশা করেই ছিলি অমন নিভৃতে অন্ধকারে আমি হয়ত একটু সাহসী হব।
কি করে হব বল ? আমার কাপুরুষত্ব যে তখন থেকেই আমাকে খাচ্ছিল। তুই হয়ত মনে মনে ভাল মেয়ের মতই মেনে নিলি অন্য সবার মত তোর অনিকেত নয়। সে সুযোগসন্ধানী নয়, সে ইমেজ সচেতন, লাজুক ও মুখচোরা।

তোকে আমি কি করে বুঝাই বল? আমার পিঠের মেরুদণ্ড তখন কতটা বাঁকা, কতটা নিচু!
আমার শিরদাঁড়াটা যদি আজকের মত এই অবস্থায় থাকত, তাহলে সেই সন্ধ্যায় তোকে আমি দেখিয়ে দিতাম আমার মত পাজি বজ্জাত সুযোগসন্ধানী আর একটাও ছিল না।

তুই অনেক স্বপ্ন নিয়ে সেদিন আমার ঘরে এসেছিলি। চেয়েছিলি তোর জীবনে একচ্ছত্র আধিপত্য কেবল হবে আমার।



ঢাকা শহরের চারতলা বাড়ির বদ্ধ ঘরের গুমট বাতাসে তোকে যখন এই চিঠিটা লিখছি বাইরে তখন গুড় গুড় মেঘের ডাক। বাইরের বাতসটা বেশ শীতল।
কিছুতেই বুঝতে পারছি না আজ হঠাৎ ভাদ্রের শেষে বৃষ্টি এলো কোন পরদেশি মেঘ থেকে......



ইতি,
অনিকেত
ঢাকা-১২০৬


পুনশ্চ:

তোর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে আর যে প্রেম আসেনি আমার তা নয়; প্রেম এসেছিল। তবে তাদের কারও চোখের আটলান্টিকই তোর চোখের আটলান্টিকের মত অতটা নীল ছিল না।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ২:০০
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোরান কি বিকৃত নাকি অবিকৃত (প্রশ্ন)

লিখেছেন স্বতু সাঁই, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৭

আসছে শীত। শুরু হবে মেলা। তবে আজ থেকে বিশ পঁচিশ বা পঞ্চাশ বছর আগে পশুর মেলা হতো। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য এসব মেলার আয়োজন করা হতো। গরুর দালাল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

** সবাই কি মরে গেছে **

লিখেছেন মোস্তফা সোহেল, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৫৫





সবাই কি মরে গেছে?
কতদিন কারও ফোন পাইনি
না একটা মেসেজ।
ফেসবুকের ইনবক্সেও এখন আর
কেউ বলে না হাই-হ্যালো।

একটা দিন শুরু হয়ে
কি অবলিলায় শেষ হয়ে যায়!
দিনের পেছনে দৌড়ানো
না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাসই অভ্যস্ততা

লিখেছেন ওমেরা, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:১২




২০০০ এর ৩১সে ডিসেম্বর থাই এয়ারলাইন্সে করে ষ্টকহোমের অরল্যান্ডা এয়ার পোর্টে যখন ল্যান্ড করি তখন ২০০১ এর ১লা জানুয়ারী সকাল ৮ টা। সব ফর্মালেটিস সেরে ভাইয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারী স্বাধীনতার নামে অশ্লীলতা

লিখেছেন রাসেল উদ্দীন, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২২

আসুন, সিনেমার নায়িকাদের জন্য ত্রাণ হিসাবে এক টুকরা কাপড় খয়রাত করি। উনারা কাপড়ের অভাবে ইজ্জত ঢাকতে পারছেন না!! দেশে যেন কাপড়ের দুর্ভিক্ষ চলছে। সিনেমা তেমন দেখি না ঠিক, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়ী (সিরিজ কাব্য)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৭

জন্ম-মরণ-জনম (তিন জনমের সন্ধানে)
১ম পর্ব
সাঁতার!

২য় পর্ব
গমন:


জলজ সন্তরনশীল জীবন
আহ! ঢাকার চেয়েও বেশি ঘনত্বেও
সব্বাই কি মূখোশে মিলেমিশে থাকা!
সত্যটা যেদিন প্রকাশ হল- উফফ

কি প্রচন্ড গতিতে ইচ্ছেয় অনিচ্ছেয়
সবাই ছুটছিলাম দিকবিদিক-হাশরের ময়দান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×