আমরা বেঁচে আছি আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়। আমাদের জন্যে আল্লাহ্‌র দানের শেষ নেই।

আমাদের সংগ্রামের উজ্জ্বল পুরুষ- হাজী শরীয়তউল্লাহ (শুরু পর্ব)

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:২৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

সতেরো শো সাতান্ন সাল।
মীর জাফরদের চক্রান্তে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হলেন বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলাহ।
পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলার মুসলমানদের ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক ভয়ংকর সর্বনাশের ঘনঘটা।
ইংরেজ এবং উগ্র হিন্দুদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে বাংলার মুসলমান। রাজনৈতিক, ঐতিহ্যিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মুসলমানরা এ সময়ে যেমন ইংরেজ ও হিন্দুদের উৎপীড়নের শিকার হয়, তেমনি তাদের নির্মমতার শিকার হয়ে অর্থনৈতিকভাবেও তারা দুর্বল ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
মুর্শিদকুলী খানের আমল থেকেই হিন্দুরা মুসলিম শাসন উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো। ইংরেজ ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিলো অত্যন্ত নিবিড়।
সতেরো শো ছত্রিশ সাল থেকে সতেরো শো চল্লিশ সালের মধ্যে ইংরেজ কোম্পানী কলকাতায় বায়ান্নজন ব্যবসায়ী নিয়োগ করেছিলেন। তাদের সবাই ছিলো হিন্দু। সতেরো শো ঊনচল্লিশ সালে কাশিম বাজারে তারা পঁচিশজন ব্যবসায়ী নিয়োগ করে। তারাও ছিলো হিন্দু।
এ সময়ে মুসলমানদের কোথাও স্থান ছিলো না। না ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। না চাকরির ক্ষেত্রে। যাদের আগে থেকেই চাকরি ছিলো, তাদেরকেও বাদ দেয়া হলো।
এই চরম দুঃসময়ে লাখ লাখ মুসলমান বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে যাত্রা করলো গ্রামের দিকে। উদ্দেশ্য ছিলো, কৃষিকে আঁকড়ে ধরে কোনো রকমে বেঁচে থাকা।
গ্রামের অবস্থা তখন ছিলো আরো ভয়াবহ।
শাসন ক্ষমতা হস্তগত করার সাথে সাথে ইংরেজ বণিকরা বাংলার প্রাচীন গ্রামের ভিত্তি ভূমিকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছিলো। ভেঙ্গে দিয়েছিলো তারা গ্রামের সমাজ কাঠামোকেও। এ কাজে তারা প্রধানত দু’টি অস্ত্র ব্যবহার করলো ভূমি রাজস্বের নতুন ব্যবস্থা ও ভূমি রাজস্ব হিসেবে ফসল বা দ্রব্যের পরিবর্তে মুদ্রার প্রচলন।
এই দুই অস্ত্রের প্রচণ্ড শক্তির আঘাতে স্বল্পকালের মধ্যে প্রাচীন গ্রাম-বাংলার ভিত্তি একেবারে ধূলিসাৎ হয়ে গেলো। শ্মশানে পরিণত হলো হাজার হাজার গ্রাম।
বহুমুখী শোষণ-উৎপীড়নের চাপে পড়ে বাংলার অসহায় কৃষক সমাজ নিঃস্ব হয়ে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়ালো।
বাংলার দরিদ্র কৃষক মানেই মুসলমান। আর জমিদার এবং বিত্তবান মানেই হিন্দু।
মুর্শিদকুলী খানের আমল থেকেই এ দেশের রাজস্ব আদায়কারী গোমস্তাদের অধিকাংশ ছিলো হিন্দু।
ক্ষমতা হারিয়ে, চাকরি খুইয়ে মুসলমানরা যখন দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে হতাশাগ্রস্ত, তখন ইংরেজ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বস্তরে ক্ষমতা ও সম্পদের অধিকারী হলো হিন্দু দেওয়ান, গোমস্তা, বেনিয়ান, মুৎসুদ্দিরা। সকল ক্ষেত্রে তখন হিন্দুদেরই একচ্ছত্র দাপট।
কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বদৌলতে জমির মালিকরূপে পরিগণিত হলো হিন্দুরাই। শুধুমাত্র অর্থগুণে দেব, মিত্র, সিংহ, মল্লিক, শীল এমন কি তিলি আর সাহা-রাও রাতারাতি জমিদাররূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করলো।
পুরনো জমিদারদের অনেকেই নানা কারণে জমিদারী বিক্রি করেছিলো। সেই জমিদারী কিনে নিয়েছিলো সম্পদশালী হিন্দু ব্যবসায়ীরা।
নব্য জমিদারদের খাজনা ও বহুবিধ করের চাপে এবং জমিদারদের নিয়োগকৃত নায়েব গোমস্তাদের রোষে পড়ে গরীব চাষীরা হলো এবার ভিটেছাড়া।
একদিকে জমিদার মহাজনের শোষণ-পীড়ন আর অমানুষিক অত্যাচার, অপরদিকে কুশিক্ষা, অশিক্ষার অভিশাপ। তার ওপর আছে রোগ, মহামারী ও দুর্ভিক্ষ। এ সবকিছু মিলিয়ে মুসলিম চাষীরা এমন এক করুণ ও ভয়াবহ অবস্থার শিকার হলো যার পরিণতি ছিলো অনিবার্য ধ্বংস।
সরকারী চাকরি পাওয়ার সকল দরোজা বন্ধ হয়ে গেলো মুসলমানদের জন্যে। তাদের মধ্যে যারা ইংরেজী শিখে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করলো তারাও চাকরি পেলো না। কেননা চাকরির বিজ্ঞাপনে তখন স্পষ্ট উল্লেখ থাকতো কেবল হিন্দু প্রার্থীদেরই আবেদন গ্রহণযোগ্য।
‘দূরবীন’ নামক কলকাতার একটি ফারসী পত্রিকা ছিলো।
আঠারো শো ঊনসত্তর সালের জুলাই মাসে চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমানদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ‘দূরবীন’ পত্রিকাটি লিখেছিলোঃ
“উচ্চস্তরের বা নিম্নস্তরের সমস্ত চাকরি ক্রমান্বয়ে মুসলমানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে, বিশেষ করে হিন্দুদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সরকার সকল শ্রেণীর কর্মচারীকে সমান দৃষ্টিতে দেখতে বাধ্য, তথাপি এমন সময় এসেছে যখন মুসলমানদের নাম আর সরকারী চাকুরিয়াদের তালিকায় প্রকাশিত হচ্ছে না, কেবল তারাই চাকরির জায়গায় অপাংক্তেয় সাব্যস্ত হয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন কমিশনার অফিসে কতিপয় চাকরিতে লোক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, কিন্তু অফিসারটি সরকারী গেজেটে কর্মখালির যে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন তাতে বলা হয় যে, “শূন্য পদগুলিতে কেবলমাত্র হিন্দুদের নিয়োগ করা হবে।”
তখনকার দিনে অফিস আদালত ও পুলিশ বিভাগেও কেবলমাত্র হিন্দুদেরকে নিয়োগ করার নির্দেশ দেয়া হতো।
শুধু চাকরি নয়। শিক্ষা ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও মুসলমানদের অবস্থা ছিলো দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংকটময়।
অপরদিকে ধর্মীয়ভাবেও মুসলমানরা ছিলো অনগ্রসর। ইসলাম থেকে, ইসলামের মূল শিক্ষা ও আদর্শ থেকে তারা অনেক অনেক দূরে
সরে গিয়েছিলো।
হিন্দুদের পাশাপাশি দীর্ঘকাল বসবাস করার কারণে এবং অসচেতন থাকার ফলে তারা শিরক ও বিদআতের মতো বড়ো বড়ো গুনাহের কাজে লিপ্ত থাকতো। হিন্দুয়ানী অপসংস্কৃতির জোয়ারে ভেসে গিয়েছিলো তখনকার অধিকাংশ মুসলিম পরিবার।
ঠিক এমনি এক ক্রান্তিকালে, এমনি এক অস্থির দুঃসময়ে জন্মলাভ করলেন এই উপমহাদেশের সংগ্রামী নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহ।

***** আগামী পর্ব - জন্ম ও শৈশব

 

 

  • ৩০ টি মন্তব্য
  • ৩০৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৩৫
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
মীর জাফর কি হিন্দু ছিল?
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৩৮

লেখক বলেছেন: না ভাইয়া, তিনি মুসলমান ছিলেন।
তবে নামে মুসলমান কিন্তু কাজে মীরজাফর ছিলেন।

২. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪০
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
আর রায় বল্লভ? হিন্দু!

তাহলে বুঝেছেন! ধর্মের ঢাকনা থাকলেই হয় না! যে বেঈমান সে, হিন্দু হলেও বেঈমান, আর তাকে মুসলমানি করালেও বেঈমান।

সো, ধর্মের ভিত্তিতে বাঙ্গালীর চেতনাকে বিভক্ত করবেন না।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৩

লেখক বলেছেন: ভাইয়া, আপনি কি হিন্দু?
মাইন্ড কইরেন না প্লীজ।

৩. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪১
comment by: এম.এ.হামিদ বলেছেন: হাজী শরিয়ত উল্লাহকে জাতির পিতা ঘোষনার দাবী জানাই
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন: এত ইমোশনাল হয়ে যাবেন না ভাইয়া।
ইসলাম অতিরিক্ত পছন্দ করে না।

৪. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪২
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
(অফটপিক) কালাবিলাইকে মিস করতেসি
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন: কালাবিলাই কে ভাইয়া?

৫. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৫
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:

জ্বী না, মাইন্ড করিনি। আমি হিন্দু নই।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৬

লেখক বলেছেন: তাহলে কি ভাইয়া?

৬. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৮
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:

আপনে কথা বেশি বলে।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার নিক প্রশ্নোত্তর।
প্রশ্ন তাই একটু বেশী করছি।
প্লিজ বেশী করে উত্তর দিবেন।

৭. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৫৮
comment by: জয়নাব আল গাজালী বলেছেন: @ প্রশ্নোত্তর
আপনার একটা অশ্লীল মন্তব্য ডিলিট করলাম।
বিশ্রী কথা বলবেন না প্লিজ।
আপনি বড্ড বেয়াদব।
এমন কথা আবার বললে ব্যান করতে বাধ্য হবো।
৮. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৩:২০
comment by: জয়নাব আল গাজালী বলেছেন: আবারো একই ভাবে অশ্লীল মন্তব্য করায় মন্তব্য ডিলিট করে আপনাকে ব্যান করা হলো।
৯. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:০১
comment by: পলাশমিঞা বলেছেন: বইন আপনাকে হাজার সালাম।

কথিত আছে, একটা মেয়ে ধর্মজ্ঞান অর্জন করলে হাজার আরিফদের চেয়ে শ্রেষ্ট হয়।

আপনি হলেন সেই শ্রেষ্ট মেয়ে। দোয়া করি আরো ইলম অর্জন করে আলীমা হও।

আমার মেয়েদের জন্য দোয়া করবেন।
++++++++++++++++++++++ হাজারটা দিলেও কম হবে।

আপনাকে ধন্যবাদ।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১০

লেখক বলেছেন:

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

১০. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:২৮
comment by: রুহী বলেছেন: ভালো লাগলো।ভালো থাকবেন।বরণীয়দের জীবনগাথাঁ ইসলামের পথে চলতে প্রেরনা জুগায়।মা-আস্‌সালাম।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২০

লেখক বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ।
বোন আপনার কথা আমার পেরণা হিসাবে থাকবে।
সবাইকে যার যার যায়গা থেকে কিছু চেষ্টা করা দরকার।

১১. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:৩১
comment by: উম্মে হানী বলেছেন: ঘসেতী বেগম আর মীর জাফর ছিল শিখন্ডী। মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিল জগত শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, মানিকচাঁদ, দুর্লভ রাম, প্রমূখ।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২১

লেখক বলেছেন: বোন, আপনি সঠিক কথা বলেছেন।

১২. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: উম্মে হানির সাথে একমত..মূল ঘটনা এমনই..

লেখিকার প্রতি একটা রিকোয়েষ্ট, প্রফাইল পিকচার টা নরমাল কিছু একটা দেয়া যায় না :)

কারাগারে রাতদিন বইয়ের লেখিকা নাকি উনি? :):)


স্যরি, কিছু মনে করবেন না..
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬

লেখক বলেছেন: ভাইয়া এই ছবিটা আমার কাছে এবনরমাল মনে হয়নি।

১৩. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৪
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: আমি তা বলিনি । মানুষের চেহারা না দিলে হত । যাহোক আপনার পোষ্ট-আপনার ইচ্ছা :)

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:০৪

লেখক বলেছেন: থাকুকনা ভাইয়া।

১৪. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১২
comment by: সবুজ সাথী বলেছেন: জয়নাব, হাজী শরীয়তউল্লাহকে নিয়ে পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।

"প্রশ্নোত্তর" এর গা জলুনির কারন হলো হাজী শরীয়তউল্লাহ মুসলিম। প্রীতিলাতা, সু্র্যসেন নিয়ে লিখলে সমস্যা নাই। অত্যাচারী হিন্দু জমিদারদের প্রসংশা করলেও হয়তো তাদের গায়ে লাগবেনা।

"ঘসেতী বেগম আর মীর জাফর ছিল শিখন্ডী। মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিল জগত শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, মানিকচাঁদ, দুর্লভ রাম, প্রমূখ।"

উম্মে হানীর মন্তব্যে একমত।
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৬

লেখক বলেছেন: কে কি বললো তা আমি ভেবে সময় নষ্ট করিনা।
আমি আমার কথা বলবো।

১৫. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:৫৭
comment by: এম.এ.হামিদ বলেছেন: হাজী শরিয়ত উল্লাহকে জাতির পিতা ঘোষনার দাবী জানাই
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭

লেখক বলেছেন: এত ইমোশনাল হয়ে যাবেন না ভাইয়া।
ইসলাম অতিরিক্ত পছন্দ করে না।

 

 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৪৭০