ধর্মের নামে অত্যাচার এবং আমাদের নাগরিক জীবন
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৬
আজ অনেকদিন পরে মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে সেনপাড়ায় একটা ঈদগাঁহ আছে। দেখলাম ঈদগাঁহ ময়দানে গোটা দশেক মাইক লাগিয়ে সেখানকার জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত করে ফেলেছে কিছু মানুষ। ধর্মীয় অনুষ্ঠান যে কেউই করতে পারে, তাতে কোন অসুবিধা নাই। কিন্তু এতগুলো মাইক লাগিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টি করে নাগরিক জীবনকে অতিষ্ট করে তোলার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
আমি এক সময় ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলাম। তখন দেখেছি শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই ঐ ঈদগাঁহে কোন না কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং এলাকাবাসীর শান্তি হারাম করা হয়।
কিছুক্ষন শুনলাম মাইকের শব্দ। মাইকে বাজছে কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতার প্যারোডি করে আবৃতি করা একটি ইসলামী কবিতা (?)। লাইনগুলো এরকম, ''বল ইসলামী বীর অক্লান্ত/ আমি সেইদিন হবো শান্ত.........আমি নাস্তিকের জিহ্বা করিব ছিন্ন''।
প্রথমত এদের রুচি অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে দূষিত। তাদের কোন সৃজনশীলতা নেই। নিজেরা উৎকৃষ্ট কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। অথচ একজন কবির উৎকৃষ্ট একটি সৃষ্টিকে ভয়াবহ নিকৃষ্ট রূপে প্যারোডি করেছে। এদের কোন আত্মমর্যাদাবোধও নেই।
দ্বিতীয়ত তারা হিংসা ও ঘৃনার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। কোন সুস্থ্ মানুষ কি বলতে পারে, ''আমি নাস্তিকের জিহ্বা করিব ছিন্ন''?
এটা কি কোন শান্তির ধর্মের মানুষের কথা হতে পারে?
এর ফলে কি সমাজে কোন শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে? নাকি এটা সমগ্র মুসলিম সমাজের অসহিষ্ণুতাকেই অন্যের কাছে তুলে ধরছে?
তৃতীয়ত উচ্চ মাত্রার শব্দ উৎপাদন কি খুবই জরুরী? শুধুমাত্র অনুষ্ঠানস্থলে মাইকের ব্যবহার সীমিত রাখলে কি কোন অসুবিধা হতো? এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাস্তার পাশে মাইক লাগিয়ে এলাকাবাসীকে অত্যাচার করতে হবে কেন?
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বিপ্লব কান্তি বলেছেন:
ইসলাম ধর্মের ভিত্তি কোথায় তা আপনাকে দেখতে হবে। প্রচার ও প্রসারই হল ইসলাম ধর্মের ভিত্তি । অতএব শুক্রবারে মসজিদে মাইকে অন্য ধর্ম বা মতের লোকেদের বিরুদ্ধে বলার জন্য একটি আয়োজন থাকেই। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে পা ফেলা দুরত্বে মসজিদ পাবেন। চারটি মাইকের চোঙ্গা থাকে প্রতিটিতে। দিনে ৫ টাইমস আওয়াজ করা হয় আরবিতে লোক জড়ো করার জন্য। বছরে দু-চারবার হলে কথা ছিলো না। কিন্তু প্রতিদিন ৫ বাঁর !!!!
লেখক বলেছেন: আজান নিয়ে আমার কথা নেই। অনেকেই মনে করেন যে তাদের আজান শোনা প্রয়োজন। আজানের শব্দ কানে না গেলে হয়তো অনেকেই টের পায় না যে নামাজের সময় হয়েছে। তাই আজান বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখতে চাই।
যদিও প্রয়োজনের তুলনায় বেশী শব্দ উৎপাদন কোনক্রমেই কাম্য নয়। বাংলাদেশে অজস্র মসজিদ রয়েছে। ফলে তাদের উচিৎ পার্শ্ববর্তী মসজিদের আজানের ধ্বনির সাথে যেন অন্য মসজিদের আজানের শব্দের 'ইন্টারফেরেন্স' না হয়, সেরকম মাত্রার শব্দ উৎপাদন করা।
শয়তান বলেছেন:
সন্ধা সাতটার দিকে গোলচক্কর ছিলাম । অশিক্ষিত ঐমোল্লাটার কিছু বেকুবমার্কা কথা তখন আমিও শুনেছি । একটা পর্যায়ে দেখলাম বলছে ইন্দিরা গান্ধী নাকি ওর মত মোল্লামার্কা সুর করে কবে কি বলেছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ।অশিক্ষীত এসবের কথা শুনলে হাসিই পায় ।
লেখক বলেছেন: শুধু যে বেকুবমার্কা কথা তাই নয়, তীব্রভাবে উস্কানিমূলক কথাও নিয়মিত বলা হয়।
লেখক বলেছেন: মাইক লাগিয়ে মানুষকে অত্যাচার করার কথা কিন্তু উপরওয়ালা কখনো বলেন নাই।
লেখক বলেছেন: বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে?
হামদান বলেছেন:
কোন কিছুর নামেই এই অত্যাচার মানা যায় না। তবে, আমার দেখা মতে... কনসার্ট বা রাজনৈতিক সভা থেকে হলে লোকজন যত অত্যাচার মনে করে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলে বেশী অত্যাচার মনে করে।
লেখক বলেছেন: কনসার্ট বা রাজনৈতিক সভা কিন্তু প্রতিদিন বা একটা মওসুম জুড়ে হয় না। ধর্মীয় অনুষ্ঠানও একদিন হলে কেউ কিছু মনে করতো না। কিন্তু এই যন্ত্রনা তো শেষ হয় না।
আরেকটা ব্যপার, কনসার্টে কিন্তু মানুষ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে দেখতে আসে। অর্থাৎ এটার পেছনে অনেকের প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকে। কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেউ কি টাকা দিয়ে দেখতে যায়? যায় না। এই বিষয়ে জনগনের আগ্রহ কম। আর যে বিষয়ে জনগনের আগ্রহ নেই (বস্তুত বিরক্ত হয়) সেটা করে তো জনগনকে বিরক্ত করা অনৈতিক।
সবুজপএ বলেছেন:
আমার বাসার সাথেই লাগানো মসজিদ । কারনে অকারনে মাঝে মাঝেই টোটাল ৬/৭ টা মাইকে নানা কিসিমের বয়ান, গজল এইসব বাজনা বাজায়ে এলাকা গরম করে এই সব বজ্জাত লোকগুলা ।
লেখক বলেছেন: এদের গজল/গানগুলোও খুবই বিশ্রী।
আজ একটা শুনলাম, এইরকম......'' কবরের যন্ত্রনা অনেক কঠিন, আমি সইতে পারিব না/ মৃত্যুর যন্ত্রনা অনেক কঠিন, আমি সইতে পারিব না..........''
অক্টোপাস বলেছেন:
ডিজিটাল আজান দেয়ার সিস্টেম করলে কেমন হয়!বায়তুল মোকাররমে আজান দিলে সেটা ঢাকার সব মসজিদে ট্রান্সমিট হয়ে একসাথে আজান সম্পন্ন হবে!
লেখক বলেছেন: এই আইডিয়া তো ডিজিটাল না, এনালগ। বহু আগে থেকেই রেডিও, টিভি-তে আজান সম্প্রচার করা হয়।
বায়তুল মোকাররম থেকেই সম্প্রচার করেন আর যেখান থেকেই করেন, স্থানীয় মসজিদের মাইকে যদি উচ্চ ভলিউম দিয়ে রাখেন, তাহলে তো কাজ হবে না.........
পিচ্চি হুজুর বলেছেন:
বিপ্লব কান্তি এর পাছায় গদাম। আজান দেয়া হয় মুসলমান দের নামাজের দিকে ডাকার জন্য।
লেখক বলেছেন: আজান দেয়া হয় মুসলমান দের নামাজের দিকে ডাকার জন্য।
সহমত
ঝড়১২৩ বলেছেন:
এরা উগ্রপন্থী। এদের বিষয়ে কি বলব??? সব বলার পরেও মনে হবে কত কি যেন বাকি আছে..।যাইহোক..।কি আর করা??
লেখক বলেছেন: দেশে এত উগ্রপন্থী?
এদের কোনদিনও বোধোদয় হবে না? আমরা কোনদিনও মুক্তি পাব না?
ঝড়১২৩ বলেছেন:
না ভাই মুক্তি পাবেন না। কেননা এরা আছেই বলে দুনিয়ায় এত রঙ্গ খেলা চলছে। সত্য এদের মাঝেই লুকিয়ে আছে, নয়ত সত্য প্রকাশ হয়ে গেলে সমস্যা। রাত আছে বলেইত ভাই দিনের আনন্দ পাই। এরা বলেই যাবে, যেমন আল্লাহ লুকিয়ে থাকে, ঢাকা থাকে কাফেরের মাঝে (সুরা বাকারাঃ১৯ এর শেষাংশ)। এইসবই ......।
লেখক বলেছেন:
এত অন্ধকার ভাল লাগে না......
একাকী বালক বলেছেন:
ভাই আমিতো আজকে রাত ১ টা পর্যন্ত বিয়া বাড়ির গানের জন্য কানে তুলা দিয়ে ছিলাম। শুধু ধর্ম কেন, বিয়া, সিটি গোল্ড, লটারী সবার জন্যই আমি বিরক্ত বোধ করি।
লাল সাগর বলেছেন:
"আরেকটা ব্যপার, কনসার্টে কিন্তু মানুষ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে দেখতে আসে। অর্থাৎ এটার পেছনে অনেকের প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকে। কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেউ কি টাকা দিয়ে দেখতে যায়? যায় না। এই বিষয়ে জনগনের আগ্রহ কম। আর যে বিষয়ে জনগনের আগ্রহ নেই (বস্তুত বিরক্ত হয়) সেটা করে তো জনগনকে বিরক্ত করা অনৈতিক।"
-- জ্ঞান বুদ্ধি মনে হয় এখনো পাকে নাইক্কা।
একজন ইতিবাচক মানুষ বলেছেন:
যে কাজে মানুষের আগ্রহ থাকে না তাতেই মানুষ বিরক্ত হয় । সেটা concert ও হতে পারে । আসলে পুরাটাই একটা আপেক্ষিক ব্যাপার।
বুশরা খাতুন বলেছেন:
কিছু লেখা আছে এই ব্লগে যা শুধুমাত্র ধর্মকেই ছোট করার জন্যই লেখা হয়ে থাকে। আর কিছু নাস্তিক এবং ভিন্ন মতাবলম্বীরা তাকে
সাপোর্ট করার জন্য উল্টা পাল্টা মন্তব্য করতে থাকেন। কোন মানুষের
সকল কর্মই যথাযথভাবে ধর্মীয় বিধি-বিধান অনুযায়ী হয়ে থাকে এ দাবী
করব না, কিন্তু সেজন্য ধর্মকে কটাক্ষ বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট করে মন্তব্য করা কতটা শালীন তা আপনাদের ধর্মকেই জিজ্ঞাসা করে দেখুন, যে আপনাদের ধর্ম এ ধরনের বক্তব্য প্রদানকে কতটা উৎসাহিত করেছে।
আসলে স্ব-স্ব ধর্মের আনুসরন ই নিজ ধর্ম মানার কৌশল না , ইসলাম ধর্মের বিরোধিতাই এদের কাছে মনে হয় তাদের নিজ ধর্মের বড় প্রচারক।
কারন যে মাইক ব্যবহার নিয়ে আপত্তি, এই মাইকের এরকম একাধিক ব্যবহার নামধারী মুসলিমরা করে থাকেন যা ধর্ম অনুমোদন দেয়নি,
যেমনঃ সিনেমার বিজ্ঞাপন প্রচার,বিয়ে বাড়ীতে , যে কোন লটারী বিক্রয়ে,
যেকোন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার,শিক্ষাসফরে , খেলাধুলার ধারাবর্ননা......বলতে গেলে এরকম আরও অনেক বলা যায়।
এরপর দেখেন প্রত্যেকের বাড়ীতে ব্যবহৃত রেডিও ,সিডি, টিভি যা
উচ্চ শব্দ করে বাজান হয়, যা তাদের প্রতিবেশীর যত অসুবিধাই হোক
কোন রকম আপত্তি তোলার সুযোগ দেযা হয় না।লেখকের দৃষ্টি এ ক্ষেত্রেও
সমান ভাবে থাকলে একসব কথার দরকার হতো না। ভিন্ন ধর্মের মাইকের ব্যবহারের কথা না হয় নাই বললাম।
মোঃ আনিছ বলেছেন:
বুশরা খাতুনের মন্তব্যের সাথে সহমত।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















