আমার প্রিয় পোস্ট

আমি জবাব দিতে এসেছি, যারা জবাব চায়, তবে অবান্থর নয়।

"খেলাফতকালে হযরত ওমর (রঃ) এর বেতন নির্ধারণ এবং ফার্স্ট লেডির পিঠা খাওয়া"

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

পাইকারী কাপড়ের ব্যবসা করতেন হযরত ওমর (রঃ)।
ব্যবসায়ীরা একটু ভাল খাবার দাবার খায়। প্রতিদিন বাজার করে।

হযরত ওমর (রঃ) খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

প্রায় দু'বছর হতে চলল ঘরের মধ্যে আকাল পড়েছে। যবের রুটি তাও চালনি দিয়ে চালা নিষেধ।

আমিরুল মুমিনিনের স্ত্রী বললেন, "আপনি ও বাদশাহ হলেন, আর ঘরের মধ্যে আকাল নামল, আজকে দেড় বছরের উপর বাচ্চারা পিঠা খেতে পারে না, আগে কত পিঠা, অন্যান্য নাস্তা, ভাল খাবার দাবার খেত, দেখেন বাচ্চার কি রকম শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে"।

আমিরুল মুমিনিন বললেন, "ঐ পিঠা, নাস্তা এগুলো হবে না, ঐ আফ্রিকা থেকে শুরু করে ফোরাত নদীর কুল পর্যন্ত, এই অর্ধেক পৃথিবীর প্রতিটি পরিবার পিঠা খেতে পেরেছে কিনা আমি এখনো এটার খবর নিতে পারিনি। সুতরাং দুই দিরহাম এটাই আমার বেতন, এটা দিয়ে যা চলে, এটাই তোমরা চালাও"।

স্ত্রী দেখলেন এমন আমিরুল মুমিনিন রাষ্ট্রপ্রধান যার সাথে কথা বলে কোন কুল কিনারা পাওয়া যাবে না। প্রতিদিন দুই দিরহাম এটা থেকে পিপড়াঁর মত সিকি পয়সা, আধা পয়সা এভাবে জমিয়ে জমিয়ে দুই মাস পর কিছু পয়সা যখন জোগাড় হল, খাদেম আসলামকে বাজারে পাঠিয়ে নাস্তা বানানোর কিছু উপকরণ কিনে আনল। এবং কিছু নাস্তা তৈরী করা হল। আমিরুল মুমিনিন হযরত ওমর (রঃ) যখন নাস্তা করতে বসলেন তখন উনার সামনে নাস্তার প্লেট দেওয়া হল। নাস্তার প্লেট দেখে আমিরুল মুমিনিনের চোখ ছানাভরা হয়ে গেল।

স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, "আরে এগুলো কোত্থেকে? নিশ্চয় আমার অজান্তে বায়তুল মাল থেকে এনেছ?"

স্ত্রী বললেন, "আপনার বায়তুল মালের যে গর্ভণর, যে ঈমানদার, যে জিম্মাদার, কি পোস্টে যাদের দিয়েছেন, আমার মত একজন হতভাগী সারা জীবন বায়তুল মালের দরজায় গিয়ে দাড়িয়ে থাকলে ও আমাকে একটি চিনির দানা দেওয়া হবে না, যদিও আমি ফার্স্টলেডি, সেখানে আমার কোন গুরুত্বই নাই। সুতরাং তারা ও দেবে না, আর আপনি নিষেধ করার পর আমি যে আনতে যাব তা কি করে ভাবতে পারলেন।"

আমিরুল মুমিনিন বললেন, তাহলে এই পয়সা তুমি কোথায় পেয়েছ?

আমিরুল মুমিনিনের স্ত্রী বললেন, "আমি গত দুই মাসের বেতন থেকে কিছু পয়সা বাচিয়েছি, তা থেকে এই নাস্তা করেছি, আপনার বেতনের টাকা, হালাল, আপনি খান।"

আমিরুল মুমিনিন নাস্তার প্লেট সামনে ঠেলে দিয়ে মসজিদে নববীতে গেলেন। মিম্বরে বসে মুয়াজ্জিনকে ডাকলেন। বললেন, "আজান দাও"।

মুয়াজ্জিন একবার আমিরুল মুমিনিনের দিকে তাকান আর একবার বেলার দিকে তাকান। বেলা বাজে সাড়ে আটটা। ফজরের আজানের তো সময় না, জোহর তো অনেক দেরি। এই অসময়ে আজান দিতে বলে কেন?

এটা ছিল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর সময় জরুরী তলব। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যদি নামাজের ওয়াক্ত ছাড়া কোন জরুরী প্রয়োজন পড়ে, তাহলে অসময়ে আজান দিয়ে সবাইকে ডাকা, আজানের ওয়াক্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে ন। পরামর্শ করার জন্য সবাইকে আসতে হবে। যে যেখানে আছে আমিরুল মুমিনিনের ভাষণ শোনার জন্য যেতে হবে। রাষ্ট্রীয় বিপদ।

সবাই আসল। আমিরুল মুমিনিন, হামদ ও সানা পড়লেন। তারপর বললেন, "দুই বছর আগে তোমরা যখন আমার বেতন নির্ধারণ করছিলে দৈনিক দুই দিরহাম। তখন বলেছিলাম আমার এত লাগে না, এত লাগে না, অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, আরো কম। এই দেড় থেকে দুই বছর পর দেখলাম এই দুই দিরহাম থেকে ও উদ্বৃত থেকে যায়। এই বেতন এখনই কমাও তা না হলে এখনই আমি খেলাফতের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিব"।

 

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ২১০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ৮ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৭
comment by: মিঠাই বলেছেন: জব্বর কিসসা শুনাইলেন ভাইডি;)
২. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০০
comment by: মইন বলেছেন: কিসু কিসু মানুষ সত্যকে কিসসাই মনে করে।

শেয়ার করা জন্য ধন্যবাদ।
৩. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭
comment by: সাহোশি৬ বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানআল্লাহ।

বায়তুল মোকাররম মসজিদেও আজান দেয়া হোক, খতিবের বেতন কমানো উচিৎ, ওনার নিশ্চয় কিছু উদ্বৃত্ত থেকে যায়।

গো আ আর মরনি এর বেতন কত? ওদের কিছু উদ্বৃত্ত থাকে না?
৪. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১
comment by: নির্বাক সুশীল বলেছেন:
এইটা হইলো ইসলামরে মহান দেখাইতে গিয়া ভূয়া ইতিহাসবিদদের গালগল্পের উদাহরণ।

উমরের বাচ্চাকাচ্চা কী দোষ করসিলো, যে দুনিয়ার লোক খাইতে পারে না বইলা তারা অভুক্ত থাকবে?
৫. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৮
comment by: রাজর্ষী বলেছেন: অনুসরনীয় মহত্বের দৃষ্টান্ত।
৬. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩২
comment by: রশীদ বলেছেন: নির্বাক সুশীল বলেছেঃ ''এইটা হইলো ইসলামরে মহান দেখাইতে গিয়া ভূয়া ইতিহাসবিদদের গালগল্পের উদাহরণ।''

ওহে সুশীল, তুমি একটা ইতিহাস বানাও দেখি চঁাদ।
৭. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৬
comment by: সিটিজি৪বিডি বলেছেন: ভাল লেগেছে। প্রিয় নবী ও রাসুলদের কথা শুনতে ভালই লাগে। তবে বর্তমান যুগে এই রকম ফাষ্ট লেডি পাওয়া খুব বিরল। জামাল সাহেব, কোরআন হাদিসের কথা অনেকের সহ্য হয় না। তাই বলছি কেউ যদি খারাপ মন্তব্য করে থাকে দয়া করে মুছে ফেলুন।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৯

লেখক বলেছেন: না, এসব মুছার দরকার মনে করিনা।
কারণ, তাদেরকে চেনা দরকার।

যুক্তি ছাড়া যারা কথা বলতে চায়, তারা বলুক।

ইসলাম সবাইকে স্বাধীনতা দেয়।
সব ধর্ম কে।

৮. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৩২
comment by: ধীবর বলেছেন: যিনি সংসার থেকে পয়সা বাচিয়ে সন্তানদের জন্য সামান্য নাস্তার আয়োজন করেছেন, তাকে ভুল প্রমান করতে হযরত ওমর (রাঃ) এমন পদক্ষেপ নেবেন, সেটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই পদক্ষেপে স্ত্রি সন্তানদের অধিকারকেও খর্ব করা হয়েছে, ইসলামে যা স্বীকৃত নয়।

ইসলামের মহিমা প্রচার করতে গিয়ে এই ধরণের অতি উৎসাহ, খোদ ইসলামকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে। যারা এ ধরণের কাহিনী ছড়ান, তারা ভুল বাণী প্রচার করছেন।
৯. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৪৩
comment by: আরিফ থেকে আনা বলেছেন: স্ত্রী বললেন, "আপনার বায়তুল মালের যে গর্ভণর, যে ঈমানদার, যে জিম্মাদার, কি পোস্টে যাদের দিয়েছেন, আমার মত একজন হতভাগী সারা জীবন বায়তুল মালের দরজায় গিয়ে দাড়িয়ে থাকলে ও আমাকে একটি চিনির দানা দেওয়া হবে না, যদিও আমি ফার্স্টলেডি , সেখানে আমার কোন গুরুত্বই নাই। সুতরাং তারা ও দেবে না, আর আপনি নিষেধ করার পর আমি যে আনতে যাব তা কি করে ভাবতে পারলেন।"

----------------

বাহ ! তখনকার আমলেও দেখি ফার্স্টলেডি ছিল। সুবহানাল্লাহ।

আপনার এই পোস্টের সোর্স উল্লেখ করলে আরো সমর্থন পেতেন। যেহেতু সোর্স উল্লেখ করেননি তাই বিশ্বাস করতে পারলামনা। :)

 

 


েলইটার
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৭২৮৬